Author: suman-das

  • Women’s T20 World Cup 2026: মেয়েদের টি২০ বিশ্বকাপে রবিবার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

    Women’s T20 World Cup 2026: মেয়েদের টি২০ বিশ্বকাপে রবিবার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেয়েদের টি২০ বিশ্বকাপে রবিবার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। ক্রিকেটের মহাযুদ্ধের মঞ্চে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। মহিলা টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ (Women’s T20 World Cup 2026)-এর গ্রুপ-১-এর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে রবিবার বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী এজবাস্টন স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের (India-Pakistan) বিরুদ্ধে মাঠে নামছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। ‘উইমেন ইন ব্লু’-দের এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, আজ, শনিবার সন্ধে ৭টা ৩০টায় শুরু হবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ।

    বিশ্বজয়ের লক্ষ্য হরমনপ্রীতদের (Women’s T20 World Cup 2026)

    গত বছর ওয়ান-ডে বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘদিনের আইসিসি ট্রফির খরা কাটিয়েছে ভারত (India-Pakistan)। এবার সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই ২০ ওভারের বিশ্বমঞ্চে ট্রফি (Women’s T20 World Cup 2026) জয়ের অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে নামছেন হরমনপ্রীত কৌর এবং স্মৃতি মন্ধনারা। এর আগে ভারতীয় দল পাঁচবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলেও এবং একবার ফাইনালে খেললেও ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি। এবার সেই অপ্রাপ্তি ঘোচাতে মরিয়া দল।

    পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে ভারত এগিয়ে

    যদিও আইসিসি (Women’s T20 World Cup 2026) র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ নম্বরে থাকা ভারতের সাম্প্রতিক ফর্ম কিছুটা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তবুও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে তারা। হেড-টু-হেড রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা যাবে, দুই দলের মধ্যে হওয়া ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ১৩টিতে, আর পাকিস্তান জয় পেয়েছে মাত্র ৩টি ম্যাচে। তবে বিশ্বকাপে ভারতের ৬টি জয়ের বিপরীতে পাকিস্তানের (India-Pakistan) যে ৩টি জয় রয়েছে, তার মধ্যে ২টি-ই এসেছে এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে। ফলে র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে থাকা পাকিস্তানকেও হালকাভাবে নিচ্ছে না ভারতী।

    সরাসরি সম্প্রচার

    ভারতের (India-Pakistan) ক্রিকেট অনুরাগীরা এই টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি টেলিভিশনে স্টার স্পোর্টস (Star Sports) নেটওয়ার্কের বিভিন্ন চ্যানেলে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘জিওহটস্টার’ (JioHotstar)-এর মাধ্যমে সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে পাবেন। এই হাই-প্রোফাইল ম্যাচের (Women’s T20 World Cup 2026) মধ্যে দিয়ে ভারত বিশ্বকাপে সূচনা করতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ক্রীড়ামোদীরা।

  • Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চাপ বাড়ছেই, এবার মৌলবাদী হুমকির মুখে থমকে গেল রামের মূর্তি নির্মাণ

    Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চাপ বাড়ছেই, এবার মৌলবাদী হুমকির মুখে থমকে গেল রামের মূর্তি নির্মাণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের আরও এক উদ্বেগজনক ছবি চলে এল সামনে। কট্টরপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির তীব্র বিরোধিতা, উস্কানিমূলক বিক্ষোভ এবং হিংসাত্মক হুমকির মুখে একটি মন্দিরে শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি (Bhagwan Ram Murti) নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন উদ্যোক্তারা। ঘটনাটি ওপার বাংলায় হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

    উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ হিন্দুর জীবন অস্তিত্বের সঙ্কটে। লাগাতার মৌলবাদীদের আক্রমণের খাঁড়া নেমে এসেছে সে দেশের হিন্দুদের ওপরে। মন্দির, মঠ, সম্পত্তি, বাড়ি, দোকান সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে, আগুন লাগিয়ে হত্যা কিংবা ধর্ষণের মতো নানা ঘটনা ঘটানো হয়। এর জেরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক জিয়া চেয়ারে বসলেও, জামাতের মৌলবাদী কার্যকলাপ থেকে বাংলাদেশ এখনও মুক্ত হতে পারেনি।

    ঘটনার সূত্রপাত ও মৌলবাদী তৎপরতা (Bangladesh)

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের (Bangladesh) একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দিরের অভ্যন্তরে সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব উদ্যোগে এবং ধর্মীয় রীতি মেনে ভগবান রামের একটি মূর্তি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই নির্মাণকাজের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কোমর বেঁধে মাঠে নামে স্থানীয় বেশ কয়েকটি উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন। মসজিদ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই মূর্তি নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র উস্কানিমূলক প্রচার শুরু হয়।

    পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে যখন মৌলবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে মন্দির প্রাঙ্গনের (Bhagwan Ram Murti) বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হুমকি দেয় যে, যদি অবিলম্বে রামমূর্তির নির্মাণের কাজ বন্ধ করা না হয়, তবে মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মন্দিরের পুরোহিত এবং মূর্তি গড়ার কারিগরদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    প্রশাসনের ভূমিকা ও হিন্দুদের আতঙ্ক

    ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। যদিও উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে প্রশাসন মন্দির কমিটিকে রামমূর্তি (Bhagwan Ram Murti) নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। প্রশাসনের (Bangladesh) এই একতরফা সিদ্ধান্তে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর হতাশা, ক্ষোভ এবং তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক হিন্দু নেতা বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব উপাসনালয়ে, নিজেদের অর্থ ও জমিতে আরাধ্য দেবতার মূর্তি স্থাপন করতে পারছি না। প্রশাসনের এই নির্দেশ আসলে মৌলবাদীদের অন্যায় দাবির কাছে মাথানত করার শামিল। এভাবে চলতে থাকলে এ দেশে আমাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

    ধারাবাহিক হিন্দু-বিদ্বেষের প্রতিফলন

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে (Bangladesh) রামমূর্তি নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ওপার বাংলায় হিন্দু বিরোধী হিংসা, মঠ-মন্দির (Bhagwan Ram Murti) ভাঙচুর, উৎসব পালনে জোরপূর্বক বাধা দেওয়া এবং প্রতিমা অপবিত্রকরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কট্টরপন্থীদের এই ক্রমবর্ধমান দাপট এবং তাদের প্রতি প্রশাসনের পরোক্ষ নমনীয়তা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দার ঝড়

    এই ঘটনার নিন্দা করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সনাতনী সংগঠন বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু নাগরিকরা যদি নিজেদের ধর্মীয় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার এবং পূর্ণ নিরাপত্তা-সহ মূর্তির (Bhagwan Ram Murti) কাজ ফের শুরু করার দাবিও জানানো হয়েছে।

    ভবিষ্যতের অন্ধকার মেঘ

    বর্তমানে ওই মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হলেও, হিন্দুদের (Bhagwan Ram Murti) মন থেকে ভয় দূর হচ্ছে না। রামমূর্তির এই অসমাপ্ত কাঠামোটি এখন বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের বিপন্ন অস্তিত্ব এবং হারিয়ে যাওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার এক নীরব প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওপার বাংলার বর্তমান সরকার এই ক্রমবর্ধমান মৌলবাদ দমন করে হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কি না, আপাতত তা-ই তুলে দিয়েছে এক অতিকায় প্রশ্নচিহ্ন।

  • Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে রাজ্যে শিল্পায়নের খরা! বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হতেই হইহই করে শুরু হয়ে গেল শিল্পায়নের কাজ। পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধ শিল্পের হতশ্রী দশা ঘোচাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করল দেশের শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধ সমবায় সংস্থা ‘আমূল’ (Amul)। রাজ্যের শিল্প ও কৃষি অর্থনীতিতে বড়সড় গতি আনতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৭৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে (700-cr Dairy Plant) একটি অত্যাধুনিক ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরি করতে চলেছে তারা। ১৪ জুন, রবিবার এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস হবে। উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনিই এই প্রকল্পের সূচনা করবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। প্রথমে বাম জমানা এবং পরে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের রাজত্বে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যে দেখা দেয় শিল্পের খরা। বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার আসতেই কাটতে চলেছে হা-শিল্প দশা। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সূচনা বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    শিল্পের নয়া গন্তব্য হাওড়া (Amul)

    গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF), যারা ‘আমূল’ (Amul) ব্র্যান্ডের পরিচালক, তারা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় এই বিশাল প্ল্যান্টটি গড়ে তোলা হবে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হাওড়াকেই এই বিনিয়োগের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি কারখানা নয়, বরং এটি পূর্ব ভারতের দুগ্ধ বিপণন ব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র (Hub) হিসেবে কাজ করবে।

    উৎপাদন ক্ষমতায় বড় চমক

    আমূল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্ল্যান্টটি যখন পূর্ণ মাত্রায় কাজ শুরু করবে, তখন এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে ঈর্ষণীয়। ‘আমূল’ (Amul) জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ লিটার তরল দুধ প্রক্রিয়াকরণ করার ক্ষমতা থাকবে এই কেন্দ্রে। তবে শুধু তরল দুধ নয়, বাঙালির খাদ্যতালিকায় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখানে প্রতিদিন ১০ লাখ কেজি দই, মিষ্টি দই, ইয়োগার্ট, লস্যি এবং ঘোল বাটারমিল্ক (700-cr Dairy Plant) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের এই বিশাল পরিকাঠামো রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে টাটকা ও উন্নতমানের দুগ্ধজাত পণ্য পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।

    কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব

    এই ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ (700-cr Dairy Plant) পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে এক ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পটি সরাসরি কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন রাজ্যের হাজার হাজার দুগ্ধ খামারি ও পশুপালক। ‘আমূল’ (Amul)-এর সমবায় মডেল অনুযায়ী, স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা হবে, যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের জোগান বাড়বে এবং পশুপালকরা তাঁদের পণ্যের ন্যায্য ও সঠিক মূল্য নিশ্চিতভাবে পাবেন।

    প্রযুক্তির মেলবন্ধন ও ‘সরলাবেন’

    ‘আমূল’ (Amul) কেবল ইঁট-পাথরের কারখানা তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকছে না, দুগ্ধ চাষের আধুনিকীকরণে তারা নিয়ে আসছে এআই (AI) প্রযুক্তি। দুগ্ধ খামারিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে তারা ‘সরলাবেন’ (Sarlaben) নামক একটি এআই-চালিত ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেবা চালু করতে চলেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশুপালকরা পশুর স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং দুধের গুণমান (700-cr Dairy Plant) বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার সমাধান নিমেষের মধ্যে ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন।

    পূর্ব ভারতে আমূলের মাস্টারপ্ল্যান

    গত কয়েক বছর ধরেই ‘আমূল’ (Amul) উত্তর ও পূর্ব ভারতে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। পশ্চিমবঙ্গের এই ৭০০ কোটি টাকার (700-cr Dairy Plant) প্রকল্প সেই পরিকল্পনারই অংশ। এর মাধ্যমে তারা বিহার, ওডিশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তাদের সাপ্লাই চেন আরও মজবুত করতে পারবে।

    শিল্পায়নের পথে বড় মাইলফলক

    সব মিলিয়ে, ১৪ জুনের এই শিলান্যাস অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের পথে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে। একদিকে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ—এই দুইয়ের মিশেলে আমূল রাজ্যে এক নতুন দুগ্ধ বিপ্লবের ডাক দিয়েছে। রাজ্যে তৃণমূলের বিসর্জন হতেই একের পর এক বিনিয়োগ আসছে বলে মনে করছে বিজেপির একটা বড় অংশ। সিঙ্গুর থেকে টাটা বিতাড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে শিল্পায়নের কফিনে পোঁতা হয়ে গিয়েছিল শেষ পেরেকটি। তৃণমূলের আমলে বছর বছর ঘটা করে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মলেন হলেও, তার ছাপ বিশেষ পড়েনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বঙ্গে শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়ে ব্যাপক আলো দেখিয়ে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। টাটাকে বাংলায় এনে ফের কারখানা গড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে পদ্ম সরকার।

  • Elon Musk: বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক, রেকর্ড গড়ে শেয়ার বাজারে পা রাখল স্পেসএক্স, মূল্যায়ন ছাড়াল ২ লক্ষ কোটি ডলার

    Elon Musk: বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক, রেকর্ড গড়ে শেয়ার বাজারে পা রাখল স্পেসএক্স, মূল্যায়ন ছাড়াল ২ লক্ষ কোটি ডলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের শীর্ষ জায়ান্ট ‘স্পেসএক্স’ (SpaceX) বিশ্ব শেয়ার বাজারে তাদের প্রথম পা রেখেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার ইতিহাসের বৃহত্তম ‘আইপিও’ (Initial Public Offering) বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব সম্পন্ন করে নাসদাক (Nasdaq) এবং নাসদাক টেক্সাসে এসপিসিএস্ক (SPCX) টিকারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ইলন মাস্কের এই প্রতিষ্ঠানটি।

    শেয়ারের দাম ২২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১৬৫ ডলারে পৌঁছায় (Elon Musk)

    আইপিও-তে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩৫ ডলার। এর মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলার পুঁজি সংগ্রহ করে স্পেসএক্স (SpaceX), যার ফলে শুরুতেই কোম্পানির মোট বাজার মূল্যায়ন দাঁড়ায় প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

    শুক্রবার সকালে বাজার খোলার পর থেকেই স্পেসএক্সের শেয়ারের ব্যাপক চাহিদা দেখা যায়। প্রথম দিনেই শেয়ারের দাম ২২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১৬৫ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে কোম্পানির সামগ্রিক বাজার মূল্য ২ ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়, যা বিশ্বের একাধিক বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। আর এই অভাবনীয় সাফল্যের হাত ধরেই স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক (Elon Musk) বিশ্বের প্রথম অফিশিয়াল ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ (১ লাখ কোটি ডলারের মালিক) হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন।

    শুক্রবার সকালে শেয়ার বাজারের উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজিয়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করেন ইলন মাস্ক এবং স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট ও সিওও (COO) গোয়েন শটওয়েল। এ সময় মাস্ক টেক্সাস থেকে এবং শটওয়েল নিউ ইয়র্কের নাসদাক কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।

    মোট রাজস্ব আয় ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার

    ২০০২ সালে যখন স্পেসএক্স যাত্রা শুরু করেছিল, তখন মানবজাতিকে বহু-গ্রহের বাসিন্দা (multiplanetary) করার স্বপ্নকে অনেকেই দুঃসাহসিক বা অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন। গত দুই দশকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি, লাখ লাখ গ্রাহকের কাছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া এবং মার্কিন সরকারের লাভজনক সব চুক্তি হাতিয়ে নিয়ে মহাকাশ শিল্পকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে এই সংস্থা (Elon Musk)। যদিও সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলোতে কোম্পানিটি কিছুটা পরিচালন লোকসানের মুখোমুখি হয়েছিল, তবুও মূলত স্টারলিংক এবং রকেট উৎক্ষেপণ সেবার অভাবনীয় বৃদ্ধির ওপর ভর করে গত বছর তাদের মোট রাজস্ব আয় ১৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।

    দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সম্পত্তির মালিক মাস্ক

    ১২ জুন শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই ইলন মাস্কের সম্পদ এক ধাক্কায় ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। স্পেসএক্সের (SpaceX) সিংহভাগ মালিকানার পাশাপাশি টেসলা এবং অন্যান্য লাভজনক সংস্থায় মাস্কের যে শেয়ার রয়েছে, তা মিলিয়ে বর্তমানে কাগজে-কলমে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এই বিশাল অঙ্কের সম্পদ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) চেয়েও বেশি। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ যার সম্পদ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে মাস্ক (Elon Musk) এখন দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সম্পদের মালিক।

    মঙ্গলে মানব অভিযান ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি প্রধান উদ্দেশ্য

    আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডের তুমুল আগ্রহের কারণেই স্পেসএক্সের আইপিও এতটা সফল হয়েছে। কোম্পানির শেয়ারের আবেদন বা সাবস্ক্রিপশন নির্ধারিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ছিল। এই লিস্টিংয়ের ফলে স্পেসএক্সের শুরুর দিকের কর্মকর্তা ও কর্মীরাও বিপুল আর্থিক রিটার্ন পেতে চলেছেন, যা কোম্পানির ভেতরেই হাজার হাজার নতুন মিলিওনেয়ার তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে ইলন মাস্কের (Elon Musk) লক্ষ্য কেবল বাণিজ্যিক মুনাফায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “মঙ্গলে মানব অভিযান এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির আরও আধুনিকায়নের জন্য বিপুল পুঁজি সংগ্রহ করতেই স্পেসএক্সকে শেয়ার বাজারে আনা হয়েছে। আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য মহাকাশের কক্ষপথে ১ লাখেরও বেশি স্যাটেলাইট স্থাপন এবং মহাশূন্যেই ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডেটা সেন্টার’ গড়ে তোলার মতো বড় সব পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় একদিকে যেমন স্পেসএক্সের (SpaceX) তহবিল শক্তিশালী হলো, অন্যদিকে পাবলিক কোম্পানি হিসেবে এখন থেকে তাদের ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও অনেক বৃদ্ধি পাবে।

  • Ramakrishna 668: “ভক্তেরা ফুল ও মালা আনিয়া দিয়াছেন, ঠাকুরের হৃদয়মধ্যে নারায়ণ, তাঁহারই বুঝি পূজা করিতেছেন”

    Ramakrishna 668: “ভক্তেরা ফুল ও মালা আনিয়া দিয়াছেন, ঠাকুরের হৃদয়মধ্যে নারায়ণ, তাঁহারই বুঝি পূজা করিতেছেন”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২২শে এপ্রিল

    ঠাকুরের আত্মপূজা—গুহ্যকথা—মাস্টার, হীরানন্দ প্রভৃতি সঙ্গে

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) অন্তর্মুখ। কাছে হীরানন্দ ও মাস্টার বসিয়া আছেন। ঘর নিস্তব্ধ। ঠাকুরের শরীরে অশ্রুতপূর্ব যন্ত্রণা; ভক্তেরা যখন এক-একবার দেখেন, তখন তাঁহাদের হৃদয় বিদীর্ণ হয়। ঠাকুর কিন্তু সকলকেই ভুলাইয়া রাখিয়াছেন। বসিয়া আছেন সহাস্যবদন!

    ভক্তেরা ফুল ও মালা আনিয়া দিয়াছেন। ঠাকুরের হৃদয়মধ্যে নারায়ণ, তাঁহারই বুঝি পূজা করিতেছেন। এই যে ফুল লইয়া মাথায় দিতেছেন। কণ্ঠে, হৃদয়ে, নাভিদেশে। একটি বালক ফুল লইয়া খেলা করিতেছে।

    ঠাকুরের যখন ঈশ্বরীয়ভাব উপস্থিত হয়, তখন বলেন যে, শরীরের মধ্যে মহাবায়ু ঊর্ধ্বগামী হইয়াছে। মহাবায়ু উঠিলে ঈশ্বরের অনুভূতি হয়,—সর্বদা বলেন। এইবার মাস্টারের সহিত কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) — বায়ু কখন উঠেছে জানি না (Kathamrita)।

    “এখন বালকভাব। তাই ফুল নিয়ে এই রকম কচ্ছি। কি দেখছি জানো? শরীরটা যেন বাঁখারিসাজানো কাপড়মোড়া, সেইটে নরছে। ভিতরে একজন আছে বলে তাই নড়ছে।

    “যেন কুমড়ো-শাঁসবিচি ফেলা। ভিতরে কামাদি-আসক্তি কিছুই নাই। ভিতর সব পরিষ্কার। আর —”

    ঠাকুরের (Ramakrishna) বলিতে কষ্ট হইতেছে। বড় দুর্বল। মাস্টার তাড়াতাড়ি ঠাকুর কি বলিতে যাইতেছেন একটা আন্দাজ করিয়া বলিতেছেন, “আর অন্তরে ভগবান দেখছেন।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ — অন্তরে বাহিরে, দুই দেখছি। অখণ্ড সচ্চিদানন্দ! সচ্চিদানন্দ কেবল একটা খোল আশ্রয় করে এই খোলের অন্তরে-বাহিরে রয়েছেন! এইটি দেখছি।

    মাস্টার ও হীরানন্দ এই ব্রহ্মদর্শনকথা শুনিতেছেন। কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর তাঁহাদের দিকে দৃষ্টি করিয়া কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টার ও হীরানন্দের প্রতি)—তোমাদের সব আত্মীয়বোধ হয় (Kathamrita)। কেউ পর বোধ হয় না।

  • Narendra Modi: ২০ জুন রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের নির্দেশ নবান্নের

    Narendra Modi: ২০ জুন রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের নির্দেশ নবান্নের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০ জুন রাজ্যে (Paschimbanga Diwas 20 June) আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে যোগদান করবেন বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি, সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং ঐতিহ্যগত গৌরবকে নতুন করে উজ্জীবিত করতে এক যুগান্তকারী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজ্যের সমস্ত স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের জন্য নবান্নের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর এবং শিক্ষা দফতরের যৌথ সমন্বয়ে প্রস্তুত এই নির্দেশিকাটি ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলার শিক্ষা আধিকারিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ গঠনমূলক ইতিহাস চেতনা জাগ্রত করা এবং রাজ্যের নিজস্ব আত্মপরিচয়কে সুদৃঢ় করা।

    প্রশাসনিক নির্দেশিকার মূল রূপরেখা (Paschimbanga Diwas 20 June)

    নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই বিশেষ দিনে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি, সরকার-পোষিত এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে বিশেষ কর্মসূচির (Paschimbanga Diwas 20 June) আয়োজন করতে হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, উদযাপনটি যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নিয়মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা যেন হয়ে ওঠে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা। এই লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা সভা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে দিনটির সূচনা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলার সমাজ গঠনে এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গের যে অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের সামনে সহজ ও আকর্ষণীয় উপায়ে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০ শে জুন বঙ্গবাসীর কাছে একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিনে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)।

    শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির পরিধি

    রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “২০ জুন (Paschimbanga Diwas 20 June) প্রধানমন্ত্রী আসছেন। যেহেতু তারকেশ্বরের সম্মেলন থেকেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলা ভাগ নিয়ে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন, তাই তারকেশ্বরকে বেছে নিয়ে সেখানেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে। অত্যন্ত সুচারুভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য, কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হলো, হিন্দু-বাঙালির শেষ হোমল্যান্ড হিসেবে ১৯৪৭-এ কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিয়েশন হয়েছিল—তা নিয়ে আলোচনা হবে।”

    শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বৌদ্ধিক বিকাশকে (Paschimbanga Diwas 20 June) উৎসাহিত করতে এই দিনটিতে নানাবিধ প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করেছে শিক্ষা দফতর। নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজগুলিতে নিম্নলিখিত কর্মসূচিগুলি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

    • আলোচনা সভা ও সেমিনার: বাংলার ইতিহাসবিদ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের গঠন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী বিবর্তনের ওপর বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন।
    • প্রবন্ধ ও কুইজ প্রতিযোগিতা: রাজ্যের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং মনীষীদের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রবন্ধ লিখন এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
    • সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী: বাংলার লোকসংস্কৃতি, যেমন— বাউল গান, ছৌ নাচ, এবং রবীন্দ্র-নজরুল- সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের মাটির কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

    মনীষীদের অবদান স্মরণ ও চেতনার বিকাশ

    নবান্নের আধিকারিকদের (Paschimbanga Diwas 20 June) মতে, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এবং কাজী নজরুল ইসলামের মতো যুগপুরুষদের জন্মভূমি এই বাংলা। বর্তমান যুগে বিশ্বায়নের আবহে তরুণ প্রজন্ম যাতে নিজেদের এই সমৃদ্ধ শিকড়কে ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশিকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে বলে আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    পরিকাঠামো ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি

    এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক (DM) এবং স্কুল পরিদর্শকদের (DI) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যাতে এই অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো আর্থিক বা পরিকাঠামোগত সমস্যার সম্মুখীন না হয়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই দিনটিতে ঠিক কী কী কর্মসূচি রূপায়িত হলো, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও আলোকচিত্র পরবর্তী সময়ে শিক্ষা দফতরের নির্দিষ্ট পোর্টালে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    রাজ্য সরকারের এই দূরদর্শী ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী মহলের সিংহভাগ। তাঁদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে এই ধরণের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মনে দেশপ্রেম ও রাজ্যপ্রেমের এক সুস্থ সমন্বয় ঘটায়, যা একটি আদর্শ সমাজ গঠনে অত্যন্ত জরুরি। নবান্নের এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রগুলিতে এক ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনার (Paschimbanga Diwas 20 June) পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

  • PM Modi: “নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান”, দ্বাদশ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন রাজ্য বাজেটে বড় চমকের ইঙ্গিত

    PM Modi: “নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান”, দ্বাদশ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন রাজ্য বাজেটে বড় চমকের ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) কেন্দ্রীয় সরকারের গৌরবময় ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মোদিকে ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি রাজ্যের আসন্ন বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষকে এক বড়সড় সুখবরের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

    ভারত ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠার পথে (PM Modi)

    কলকাতার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশেন হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) কেবল ভারতের নন, এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের দরবারে সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান। বিগত ১২ বছর ধরে তিনি দেশের আমূল পরিবর্তন ও প্রতিটি নাগরিকের ক্ষমতায়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন। নিজেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নয়, বরং প্রধান জনসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।” তিনি আরও যোগ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বেই আজ ভারত ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠার পথে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে তা সফল করবে।”

    রাজ্য বড় আর্থিক বরাদ্দ পেতে শুরু করেছে

    রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠার সুফলের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকা পশ্চিমবঙ্গ এখন থেকে দেশের অন্য উন্নত রাজ্যগুলির মতোই সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা পাবে। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বাংলার সার্বিক রূপান্তর ও উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছেন।” উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, জল জীবন মিশন সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ইতিমধ্যেই রাজ্য বড় আর্থিক বরাদ্দ পেতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ইঙ্গিত দেন যে, রাজ্যের আসন্ন বাজেটে সর্বস্তরের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী কিছু বড় ঘোষণা আসতে চলেছে। কেন্দ্রের সহযোগিতায় রাজ্য সরকারের এই বাজেট বাংলার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বদলে দিতে এবং সাধারণ মানুষকে সরাসরি স্বস্তি দিতে বড় ভূমিকা নেবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

  • Gouri Shankar Ghosh: সব সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, বড় ঘোষণা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের

    Gouri Shankar Ghosh: সব সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, বড় ঘোষণা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরে বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন নতুন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ (Gouri Shankar Ghosh)। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে কার্যভার গ্রহণ করার পরেই তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যের কোনও সরকারি বা সরকার-পোষিত সাধারণ গ্রন্থাগারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লেখা বই আর রাখা হবে না।

    পড়াশোনার মানোন্নয়নে যা সহায়ক নয় (Gouri Shankar Ghosh)

    গ্রন্থাগারগুলির আধুনিকীকরণ ও আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা স্পষ্ট করে মন্ত্রী (Gouri Shankar Ghosh) বলেন, “যে সমস্ত বই থেকে নতুন প্রজন্ম শিক্ষণীয় বা গঠনমূলক কিছু লাভ করতে পারবে না, সেগুলি গ্রন্থাগারে রাখার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।” উদাহরণ হিসেবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) লেখা বিখ্যাত ছড়ার বই ‘এপাং-ওপাং-ঝপাং’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় লেখা শিক্ষার্থীদের কোনও উপকারে আসে না। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে যা সহায়ক নয়, এমন সমস্ত বই দ্রুত গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলা হবে।”

    পরিবর্তে রাজ্য সরকার গ্রন্থাগারগুলিতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা, ভারতের প্রাচীন ইতিহাস এবং সংস্কৃতির ওপর বিশেষ জোর দিতে চলেছে। নতুন রূপরেখায় স্থান পাবে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং কাজী নজরুল ইসলামের মতো মনীষীদের জীবন ও কর্মভিত্তিক তথ্যসমৃদ্ধ বই। এছাড়া বিজ্ঞান ও আর্থ-সামাজিক বিষয়ের যেসব বই পড়ুয়াদের বৌদ্ধিক বিকাশে সাহায্য করবে, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরতা কমবে

    নতুন মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর (Gouri Shankar Ghosh) কেবল বই পরিবর্তনের কথাই বলেননি, গ্রন্থাগারগুলির সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করে নেন যে বর্তমানে গ্রন্থাগারগুলিতে তীব্র কর্মী সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কট দূর করতে দ্রুত কর্মী নিয়োগ, ই-লাইব্রেরি বা ডিজিটাল পাঠাগার ব্যবস্থার প্রসার এবং স্কুলের পাঠাগারগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করার আশ্বাস দেন তিনি। মন্ত্রীর মতে, স্কুল স্তরে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত বইয়ের জোগান নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং তারা বিদ্যালয়মুখী হবে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বই যে আগামী প্রজন্মের কাছে অপ্রাসঙ্গিক তা মনে করিয়ে দেন রাজ্যের মন্ত্রী।

  • Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ধৃত ডায়মন্ড হারবারের ১ নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan) নিয়ে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ তাঁকে হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় হেঁটে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলতার (Falta) একজন কুখ্যাত এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে এই অবস্থায় প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের চেয়ে বিরোধীমহলে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

    পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ (Jahangir Khan)

    গত শনিবার রাতে ডায়মন্ড হারবার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি অভিযানের সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গির খান (Falta) ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে জাহাঙ্গির সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। এরপর রবিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ করার সময় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। সাধারণত নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার খাতিরে ধৃতদের পুলিশের গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলেও, জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) ক্ষেত্রে পুলিশ তাঁকে থানা থেকে আদালত পর্যন্ত হেঁটে নিয়ে যায়। সেই সময় তাঁর পরনে ছিল একটি সাধারণ হাফ প্যান্ট এবং গেঞ্জি। ফলতার (Falta) নেতা গ্রেফতার হতেই ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

    আইন সবার জন্য সমান

    এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। বিজেপির অবশ্য দাবি, এইরকম দাগি দুষ্কৃতীকে প্রকাশ্যে এনে ভয় দেখানোর পরিবেশ থেকে জনসাধারণকে মুক্ত করাই একমাত্র কাজ। অন্যদিকে, একজন ব্লক স্তরের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে নিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত (Jahangir Khan) বা এর পেছনে কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিশেষ কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনার জেরে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় (Falta) রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

  • Ramakrishna 667: “১-এর পর শূন্য বসাইয়া, তুমিও আমি, আমিও তুমি, আমি বই আর কিছু নাই”

    Ramakrishna 667: “১-এর পর শূন্য বসাইয়া, তুমিও আমি, আমিও তুমি, আমি বই আর কিছু নাই”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    একবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২২শে এপ্রিল

    শ্রীরামকৃষ্ণ হীরানন্দ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে কাশীপুরের বাগানে

    ঠাকুরের উপদেশ—“যো কুছ হ্যায় সো তুঁহি হ্যায়”—নরেন্দ্র ও হীরানন্দের চরিত্র 

    কাশীপুরের বাগান। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) উপরের হলঘরে বসিয়া আছেন।

    হীরানন্দ — বেশ।

    ঠাকুর হীরানন্দকে ইশারা করিলেন, ইহার জবাব দাও।

    হীরানন্দ—এককোণ থেকে ঘর দেখাও যা, ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ঘর দেখাও তা। হে ঈশ্বর! আমি তোমার দাস (Kathamrita)—তাতেও ঈশ্বরানুভব হয়, আর সেই আমি, সোঽহম্‌ — তাতেও ঈশ্বরানুভব। একটি দ্বার দিয়েও ঘরে যাওয়া যায়, আর নানা দ্বার দিয়েও ঘরে যাওয়া যায়।

    সকলে চুপ করিয়া আছেন। হীরানন্দ নরেন্দ্রকে বলিলেন, একটু গান বলুন।

    নরেন্দ্র সুর করিয়া কৌপীনপঞ্চকম্‌ গাইতেছেন:

    বেদান্তবাক্যেষু সদা রমন্তো, ভিক্ষান্নমাত্রেণ চ তুষ্টিমন্তঃ।
    অশোকমন্তঃকরণে চরন্তঃ, কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ ॥ ১
    মূলং তরোঃ কেবলমাশ্রয়ন্তঃ, পাণিদ্বয়ং ভোক্তুমামন্ত্রয়ন্তঃ।
    কন্থামিব শ্রীমপি কুৎসয়ন্তঃ, কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ ॥ ২
    স্বানন্দভাবে পরিতুষ্টিমন্তঃ, সুশান্তসর্বেনিদ্রয়বৃত্তিমন্তঃ।
    অহনির্শ ব্রহ্মণি যে রমন্তঃ, কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ ॥ ৩

    ঠাকুর (Ramakrishna) যেই শুনিলেন—অহনির্শ ব্রহ্মণি যে রমন্তঃ—অমনি আস্তে আস্তে বলিতেছেন, আহা! আর ইশারা করিয়া দেখাইতেছেন, “এইটি যোগীর লক্ষণ।”

    নরেন্দ্র কৌপীনপঞ্চকম্‌ শেষ করিতেছেন:

    দেহাদিভাবং পরিবর্তয়ন্তঃ, স্বাত্মানমাত্মন্যবলোকয়ন্তঃ।
    নান্তং ন মধ্যং ন বহিঃ সমরন্তঃ, কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ ॥ ৪
    ব্রহ্মাক্ষরং পাবনমুচ্চরন্তো, ব্রহ্মাহমস্মীতি বিভাবয়ন্তঃ
    ভিক্ষাশিনো দিক্ষু পরিভ্রমন্তঃ, কৌপীনবন্তঃ খলু ভাগ্যবন্তঃ ॥ ৫

    নরেন্দ্র আবার গাইতেছেন:

    পরিপূর্ণমানন্দম্‌।
    অঙ্গ বিহীনং স্মর জগন্নিধানম্‌।
    শ্রোত্রস্য শ্রোত্রং মনসো মনো যদ্বাচোঽবাচং।
    বাগতীতং প্রাণস্য প্রাণং পরং বরেণ্যম্‌।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (নরেন্দ্রের প্রতি) — আর ওইটে “যো কুছ্‌ হ্যায় সব্‌ তুঁহি হ্যায়!”

    নরেন্দ্র ওই গানটি গাইতেছেন:

    তুঝ্‌সে হাম্‌নে দিলকো লাগায়া, যো কুছ্‌ হ্যায় সব্‌ তুঁহি হ্যায়!।
    এক তুঝ্‌কো আপ্‌না পায়া, যো কুছ হ্যায় সব্‌ তুঁহি হ্যায়।
    দিল্‌কা মকাঁ সব্‌কী মকী তু, কৌন্‌সা দিল্‌ হ্যায় জিস্‌মে নহি তুঁ,
    হরিয়েক্‌ দিল্‌মে তুনে সমায়া, যো কুছ্‌ হ্যায় সো তুঁহি হ্যায়।
    কেয়া মলায়েক্‌ কেয়া ইন্‌সান্‌, কেয়া হিন্দু কেয়া মুসলমান্‌,
    জায়্‌সা চাহা তুনে বানায়া, যো কুছ্‌ হ্যায় সো তুঁহি হ্যায়।
    কাবা মে কেয়া অওর্‌ দায়ের্‌ মে কেয়া, তেরী পারাস্তিস্‌ হায়গী সাব জাঁ,
    আগে তেরে সির সভোঁনে ঝুকায়া, যো কুছ্‌ হ্যায় সো তুঁহি হ্যায়।
    আর্‌স্‌ সে লে ফার্স জমী তাক্‌। আওর জমীন সে আর্‌স্‌ বারী তক্‌,
    যাহাঁ মায় দেখা তুহি নজর মে আয়া, যো কুছ্‌ হ্যায় সো তুঁহি হ্যায়।
    সোচা সম্‌ঝা দেখা ভালা, তু জায়সা না কোই ঢুঁড়্‌ নিকালা,
    আব ইয়ে সমঝ্‌ মে জাফার কী আয়া, যো কুছ্‌ হ্যায় সো তুঁহি হ্যায়।

    “হরিয়েক্‌ দিল্‌মে” এই কথাগুলি শুনিয়া ঠাকুর ইশারা করিয়া বলিতেছেন যে, তিনি প্রত্যেকের হৃদয়ে আছেন, তিনি অন্তর্যামী। “যাঁহা মায় দেখা তুহি নজর মে আয়া, যো কুছ্‌ হ্যায় সো তুঁহি হ্যায়!” হীরানন্দ এইটি শুনিয়া নরেন্দ্রকে বলিতেছেন, — সব্‌ তুঁহি হ্যায়; এখন তুঁহুঁ তুঁহুঁ। আমি নয়; তুমি!

    নরেন্দ্র — Give me one and I will give you a million (আমি যদি এক পাই, তাহলে নিযুত কোটি এ-সব আনায়াসে করতে পারি — অর্থাৎ ১-এর পর শূন্য বসাইয়া।) তুমিও আমি, আমিও তুমি, আমি বই আর কিছু নাই।

    এই বলিয়া নরেন্দ্র অষ্টাবক্রসংহিতা হইতে কতকগুলি শ্লোক আবৃত্তি করিতে লাগিলেন। আবার সকলে চুপ করিয়া বসিয়া আছেন (Kathamrita)।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— যেন খাপখোলা তরোয়াল নিয়ে বেড়াচ্চে।

    (মাস্টারের প্রতি, হীরানন্দকে দেখাইয়া) — “কি শান্ত! রোজার কাছে জাতসাপ যেমন ফণা ধরে চুপ করে থাকে!’

LinkedIn
Share