Bhagwati Devi Temple: ৩৪ বছর আগে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ফের খুলল কাশ্মীরের এই মন্দির

Uma_Bhagwati_Temple_anantnag

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনন্তনাগের শাঙ্গাসের ঐতিহাসিক উমা ভগবতী দেবীর মন্দির (Bhagwati Devi Temple) ৩৪ বছর পর রবিবার ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল। মন্দিরের দরজা খুলে দেবীর দর্শন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। এ সময় বিপুল সংখ্যক ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ এক সময় সন্ত্রাসের ঘাঁটি ছিল। ১৯৯০ সালে, সন্ত্রাসবাদের কারণে, ভগবতী উমা দেবী মন্দিরটি বন্ধ হয়ে যায়। মৌলবাদী জঙ্গিরা এই মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়েছিল।

২০১০ সাল পর্যন্ত জরাজীর্ণ ছিল (Bhagwati Devi Temple)

একসময় এখানে (Uma Bhagwati Temple) ভক্তদের থাকার জন্য দুটি যাত্রী নিবাস ছিল। এতে একসঙ্গে দেড় হাজার ভক্ত থাকতে পারতেন। এসব যাত্রী নিবাসও সন্ত্রাসের শিকার হয়। মন্দিরে স্থাপিত মাতার মূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। ২০১০ সাল পর্যন্ত এই মন্দিরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। এরপর থেকে এর সংস্কার শুরু হয়।

গর্ভগৃহে মায়ের মূর্তি স্থাপিত 

সংস্কার চলাকালীন মন্দিরের সমস্ত অংশ মেরামত করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর ধর্মীয় মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে গর্ভগৃহে মায়ের মূর্তি স্থাপন করা হয়। রাজস্থান থেকে নয়া মূর্তি আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দের উপস্থিতিতে রবিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্দিরটি ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। স্থানীয় মানুষ, মুসলিম সম্প্রদায় সহ কাশ্মীরি হিন্দুরাও (Bhagwati Devi Temple) মন্দির খুলে যাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

এক বছর পর মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন

স্থানীয় বাসিন্দা গুলজার আহমেদ বলেন, “আমরা এখানে আমাদের কাশ্মীরি হিন্দু ভাইদের সম্ভাব্য সব উপায়ে সাহায্য করতে এসেছি। ৩৪ বছর পর (Uma Bhagwati Temple) মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় আমরা খুশি। ১০ জুলাই, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য প্রাচীন রঘুনাথ মন্দির এবং অনন্তনাগ জেলার নাগবল গৌতমনাগ মন্দির প্রশাসনকে হস্তান্তর করেছে।

শান্তির অনুভূতি

মন্দির দর্শনে আসা ভক্তরা জানান, এখানে এসে তাঁরা শান্তি অনুভব করছেন। সব ধর্মের মানুষ এখানে পৌঁছেছেন। এখন অন্যান্য মন্দিরেরও সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে কাশ্মীরের সব মন্দির স্বাভাবিক হয়ে যাবে। উমা ভগবতী দেবী মন্দিরের দায়িত্বে থাকা উমা ভগবতী ট্রাস্টের সহ-সভাপতি পুষ্কর নাথ কৌল বলেন, “মন্দিরের দরজা খোলার আগে মন্দিরে হবন ও যজ্ঞ করা হয়।”

ইতিহাস (Uma Bhagwati Temple)

উমা ভগবতী দেবী মন্দিরের (Uma Bhagwati Temple) ইতিহাস সত্যযুগের সঙ্গে সম্পর্কিত। মা পার্বতী আবার মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তারপর তিনি হিমালয়ের গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণ করেন এবং উমা নামে ডাকা হয়। মা মীনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি মহাদেবের সন্ধানে ব্রায়াঙ্গন (শাঙ্গাস এলাকার সেই স্থান যেখানে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত) পৌঁছেন।

আরও পড়ুন: এই ধরণের সেতু ভারতের এই প্রথম, জানুন নতুন পামবান সেতুর বৈশিষ্ট্য

ভগবতী উমা এই স্থানে তপস্যা করেছিলেন। এরপর এই স্থানের নাম হয় উমা নগরী। এই স্থানে একটি মন্দির নির্মিত হয় এবং নাম দেওয়া হয় উমা ভগবতী দেবী মন্দির।

বছরে দুটি উৎসব পালিত হত 

এই মন্দিরে প্রতি বছর দুটি উৎসব পালিত হত। একটি হল উমা জয়ন্তী যা এপ্রিল মাসে পালিত হয় এবং অন্যটি হল শিবরাম সন্তের নির্বাণ দিবস (যিনি ১৭ শতকে উমা শহরের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন) যা পালিত হয় জানুয়ারিতে।

 

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

 

 

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share