Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ramakrishna 549: “যাই দেখি গৌরাঙ্গরূপ সামনে এসেছেন, যদি শাক্ত আসে, তাহলে শক্তিরূপ,—কালীরূপ—দর্শন হয়”

    Ramakrishna 549: “যাই দেখি গৌরাঙ্গরূপ সামনে এসেছেন, যদি শাক্ত আসে, তাহলে শক্তিরূপ,—কালীরূপ—দর্শন হয়”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    পূর্বকথা—ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—ঠাকুর সিদ্ধপুরুষ না অবতার?

    “ন্যাংটা বেদান্তের উপদেশ দিলে। তিনদিনেই সমাধি। মাধবীতলায় ওই সমাধি অবস্থা দেখে সে হতবুদ্ধি হয়ে বলছে, ‘আরে এ কেয়া রে!’ পরে সে বুঝতে পারলে—এর ভিতরে কে আছে। তখন আমায় বলে, ‘তুমি (Ramakrishna) আমায় ছেড়ে দাও!’ ও-কথা শুনে আমার ভাবাবস্থা হয়ে গেল; — আমি সেই অবস্থায় বললাম, ‘বেদান্ত বোধ না হলে তোমার যাবার জো নাই।’

    “তখন রাতদিন তার কাছে! কেবল বেদান্ত! বামনী বলত, ‘বাবা, বেদান্ত শুনো না! — ওতে ভক্তির হানি হবে।’

    “মাকে যাই বললাম, ‘মা, এ-দেহ রক্ষা কেমন করে হবে, আর সাধুভক্ত লয়ে কেমন করে থাকব!—একটা বড় মানুষ জুটিয়ে দাও!’ তাই সেজোবাবু চৌদ্দ বৎসর ধরে সেবা করলে!

    “এর ভিতর যিনি আছে, আগে থাকতে জানিয়ে (Kathamrita) দেয়, কোন্‌ থাকের ভক্ত আসবে। যাই দেখি গৌরাঙ্গরূপ সামনে এসেছেন, অমনি বুঝতে পারি গৌরভক্ত আসছে। যদি শাক্ত আসে, তাহলে শক্তিরূপ,—কালীরূপ—দর্শন হয়।

    “কুঠির উপর থেকে আরতির সময় চেঁচাতাম, “ওরে, তোরা কে কোথায় আছিস আয়।’ দেখো, এখন সব ক্রমে ক্রমে এসে জুটেছে!

    “এর ভিতর তিনি নিজে রয়েছেন-যেন নিজে থেকে এই সব ভক্ত লয়ে কাজ করছেন।

    “এক-একজনের ভক্তের অবস্থা কি আশ্চর্য! ছোট নরেন—এর কুম্ভক আপনি হয়। আবার সমাধি! এক-একবার কখন কখন আড়াই ঘন্টা! কখনও বেশি! কি আশ্চর্য!

    “সবরকম সাধন এখানে হয় গেছে জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ, কর্মযোগ। হঠযোগ পর্যন্ত—আয়ু বাড়াবার জন্য! এর ভিতর একজন আছে। তা না হলে সমাধির পর ভক্তি-ভক্ত লয়ে কেমন করে আছি। কোয়ার সিং বলত, ‘সমাধির পর ফিরে আসা লোক দেখি নাই।—তুমিই নানক’।”

    পূর্বকথা—কেশব, প্রতাপ ও কুক্‌ সঙ্গে জাহাজে ১৮৮১

    “চারিদিকে ঐহিক লোক—চারদিকে কামিনী-কাঞ্চন—এতোর ভিতর থেকে এমন অবস্থা! — সমাধি, ভাব, লেগেই রয়েছে। তাই প্রতাপ (ব্রাহ্মসমাজের শ্রীপ্রতাপচন্দ্র মজুমদার) — কুক্‌ সাহেব যখন এসেছিল, জাহাজে আমার অবস্থা (সমাধি-অবস্থা) দেখে বললে, ‘বাবা! যেন ভূতে পেয়ে রয়েছে’।”

    রাখাল, মাস্টার প্রভৃতি অবাক্‌ হইয়া ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের শ্রীমুখ হইতে এই সকল আশ্চর্য কথা শুনিতেছেন।

    মহিমাচরণ কি ঠাকুরের (Ramakrishna) ইঙ্গিত বুঝিলেন? এই সমস্ত কথা শুনিয়াও তিনি বলিতেছেন, “আজ্ঞা, আপনার প্রারব্ধবশতঃ এরূপ সব হয়েছে।” তাঁহার মনের ভাব, — ঠাকুর একটি সাধু বা ভক্ত। ঠাকুর তাঁহার কথায় সায় দিয়া বলিতেছেন (Kathamrita), “হাঁ, প্রাক্তন! যেন বাবুর অনেক বাড়ি আছে — এখানে একটা বৈঠকখানা। ভক্ত তাঁর বৈঠকখানা।”

  • Ramakrishna 548: “বেড়ার আর-একধারে টকটকে লাল সুরকির কাঁড়ির মতো জ্যোতিঃ, তারমধ্যে বসে নরেন্দ্র—সমাধিস্থ!

    Ramakrishna 548: “বেড়ার আর-একধারে টকটকে লাল সুরকির কাঁড়ির মতো জ্যোতিঃ, তারমধ্যে বসে নরেন্দ্র—সমাধিস্থ!

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    পূর্বকথা—ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—ঠাকুর সিদ্ধপুরুষ না অবতার?
    শ্রীরামকৃষ্ণ, কেশব সেন ও তাঁহার সমাজে হরিণাম ও মায়ের নাম প্রবেশ 

    “কেশব সেনের (Ramakrishna) সঙ্গে দেখা হবার আগে, তাকে দেখলাম! সমাধি অবস্থায় দেখলাম, কেশব সেন আর তার দল। একঘর লোক আমার সামনে বসে রয়েছে! কেশবকে দেখাচ্ছে, যেন একটি ময়ূর তার পাখা বিস্তার করে বসে রয়েছে! পাখা অর্থাৎ দল বল। কেশবের মাথায় দেখলাম লালমণি। ওটি রজোগুণের চিহ্ন। কেশব শিষ্যদের বলছে—‘ইনি কি বলছেন, তোমরা সব শোনো’। মাকে বললাম (Kathamrita), মা এদের ইংরাজী মত,—এদের বলা কেন। তারপর মা বুঝিয়ে দিলে যে, কলিতে এরকম হবে। তখন এখান থেকে হরিণাম আর মায়ের নাম ওরা নিয়ে গেল। তাই মা কেশবের দল থেকে বিজয়কে নিলে। কিন্তু আদি সমাজে গেল না।

    নিজেকে দেখাইয়া “এর (আমার) ভিতর একটা কিছু আছে। গোপাল সেন বলে একটি ছেলে আসত—অনেকদিন হল। এর ভিতর যিনি আছেন গোপালের বুকে পা দিলে। সে ভাবে বলতে লাগল, তোমার এখন দেরি আছে। আমি ঐহিকদের সঙ্গে থাকতে পারছি না,—তারপর ‘জাই’ বলে বাড়ি চলে গেল। তারপর শুনলাম দেহত্যাগ করেছে। সেই বোধ হয় নিত্যগোপাল।

    “আশ্চর্য দর্শন সব হয়েছে। অখণ্ড সচ্চিদানন্দদর্শন। তার ভিতর দেখছি, মাঝে বেড়া দেওয়া দুই তাক। একধারে কেদার চুনি, আর আর অনেক সাকারবাদী ভক্ত। বেড়ার আর-একধারে টকটকে লাল সুরকির কাঁড়ির মতো জ্যোতিঃ। তারমধ্যে বসে নরেন্দ্র।—সমাধিস্থ!

    “ধ্যানস্থ দেখে বললুম, ‘ও নরেনদ্র!’ একটু চোখ চাইলে — বুঝলুম ওই একরূপে সিমলেতে কায়েতের ছেলে হয়ে আছে।-তখন বললাম, ‘মা। ওকে মায়ায় বদ্ধ কর।—তা না হলে সমাধিস্থ হয়ে দেহত্যাগ করবে।’—কেদার সাকারবাদী, উঁকি মেরে দেখে শিউরে উঠে পালাল।

    “তাই ভাবি এর (নিজের) ভিতর মা স্বয়ং ভক্ত হয়ে লীলা করছেন (Kathamrita)। যখন প্রথম এই অবস্থা হল, তখন জ্যোতিঃতে দেহ জ্বল জ্বল করত। বুক লাল হয়ে যেত! তখন বললুম, ‘মা, বাইরে প্রকাশ হয়ো না, ঢুকে যাও!’ তাই এখন এই হীন দেহ।

    “তা না হলে লোকে জ্বালাতন করত। লোকের ভিড় লেগে যেত — সেরূপ জ্যোতির্ময় দেহ থাকলে। এখন বাহিরে প্রকাশ নাই। এতে আগাছা পালায়—যারা শুদ্ধভক্ত তারাই কেবল থাকবে। এই ব্যারাম হয়েছে কেন?—এর মানে ওই। যাদের সকাম ভক্তি, তারা ব্যারাম অবস্থা দেখলে চলে যাবে।

    “সাধ ছিল (Kathamrita)—মাকে বলেছিলাম, মা, ভক্তের রাজা হব!

    “আবার মনে উঠল, ‘যে আন্তরিক ঈশ্বরকে ডাকবে তার এখানে আসতেই হবে! আসতেই হবে! দেখো, তাই হচ্ছে — সেই সম লোকই আসছে।

    “এর ভিতরে কে আছেন, আমার বাপেরা জানত। বাপ গয়াতে স্বপ্নে দেখেছিলেন,—রঘুবীর বলছেন, ‘আমি তোমার ছেলে হব।’

    “এর ভিতরে তিনিই আছেন। কামিনী-কাঞ্চনত্যাগ! একি আমার কর্ম। স্ত্রীসম্ভোগ স্বপনেও হলো না।

  • Ramakrishna 547: “মহামায়ার মায়া যে কি… ঘরের ভিতর ছোট জ্যোতিঃ ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগল! আর জগৎকে ঢেকে ফেলতে লাগল”

    Ramakrishna 547: “মহামায়ার মায়া যে কি… ঘরের ভিতর ছোট জ্যোতিঃ ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগল! আর জগৎকে ঢেকে ফেলতে লাগল”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট

    পূর্বকথা—ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—ঠাকুর সিদ্ধপুরুষ না অবতার?

    ঈশ্বরের সঙ্গে কথা—মায়াদর্শন—ভক্ত আসিবার অগ্রে তাদের দর্শন—কেশব সেনকে ভাবাবেশে দর্শন—অখণ্ড সচ্চিদানন্দদর্শন ও নরেন্দ্র—ও কেদার—প্রথম উন্মাদে জ্যোতির্ময় দেহ—বাবার স্বপ্ন —ন্যাংটা ও তিনদিনে সমাধি—মথুরের ১৪ বৎসর সেবা ১৮৫৮-৭১—কুঠির উপর ভক্তদের জন্য ব্যাকুলতা—অবিরত সমাধি। সবরকম সাধন।

    ঠাকুর (Ramakrishna) এই কথা বলিতে বলিতে নামিয়া আসিয়া মেঝেতে মহিমাচরণের নিকট বসিলেন। কাছে মাস্টার ও আরও দু-একটি ভক্ত। ঘরে রাখালও আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মহিমার প্রতি)—আপনাকে অনেকদিন বলবার ইচ্ছা ছিল পারি নাই—আজ বলতে ইচ্ছা হচ্ছে।

    “আমার যা অবস্থা—আপনি বলেন, সাধন করলেই ওরকম হয়, তা নয়। এতে (আমাতে) কিছু বিশেষ আছে।”

    মাস্টার, রাখাল প্রভৃতি ভক্তেরা অবাক্‌ হইয়া ঠাকুর কি বলিবেন উৎসুক হইয়া শুনিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—কথা কয়েছে!—শুধু দর্শন নয়—কথা কয়েছে। বটতলায় দেখলাম, গঙ্গার ভিতর থেকে উঠে এসে—তারপর কত হাসি! খেলার ছলে আঙ্গুল মটকান হল। তারপর কথা (Kathamrita)।—কথা কয়েছে!

    “তিনদিন করে কেঁদেছি, আর বেদ পুরাণ তন্ত্র—এ-সব শাস্ত্রে কি আছে—(তিনি) সব দেখিয়ে দিয়েছেন।

    “মহামায়ার মায়া যে কি, তা একদিন দেখালে। ঘরের ভিতর ছোট জ্যোতিঃ ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগল! আর জগৎকে ঢেকে ফেলতে লাগল!

    “আবার দেখালে,—যেন মস্ত দীঘি, পানায় ঢাকা! হাওয়াতে পানা একটু সরে গেল,—অমনি জল দেখা গেল। কিন্তু দেখতে দেখতে চার দিককার পানা নাচতে নাচতে এসে, আবার ঢেকে ফেললে! দেখালে, ওই জল, যেন সচ্চিদানন্দ, আর পানা যেন মায়া। মায়ার দরুন সচ্চিদানন্দকে দেখা যায় না,—যদিও এক-একবার চকিতের ন্যায় দেখা যায়, তো আবার মায়াতে ঢেকে ফেলে (Kathamrita)।

    “কিরূপ লোক (ভক্ত) এখানে আসবে, আসবার আগে দেখিয়ে দেয়। বটতলা থেকে বকুলতলা পর্যন্ত চৈতন্যদেবের সংকীর্তনের দল দেখালে। তাতে বলরামকে দেখলাম—না হলে মিছরি এ-সব দেবে কে! আর এঁকে (Ramakrishna) দেখেছিলাম।”

  • Kalpataru Utsav: সকাল থেকে ভক্তদের ঢল, কল্পতরু উৎসবে মিশল কাশীপুর-দক্ষিণেশ্বর-কামারপুকুর-বেলুড় মঠ

    Kalpataru Utsav: সকাল থেকে ভক্তদের ঢল, কল্পতরু উৎসবে মিশল কাশীপুর-দক্ষিণেশ্বর-কামারপুকুর-বেলুড় মঠ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন। প্রতি বছরের নিয়মে এই বছরও মহা সমারহের সঙ্গে পালিত হচ্ছে কল্পতরু উৎসব (Kalpataru Utsav)। আজকের দিনেই শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কল্পতরু হয়েছিলেন। কাশীপুর উদ্যান বাটীতে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুর কল্পতরু হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু ঠাকুরের অন্যতম কর্মভূমি লীলাভূমি হল দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মায়ের মন্দিরে। এই মন্দিরেই তিনি থাকতেন। প্রচলিত প্রথা মেনে কল্পতরু তিথিকে কেন্দ্র করে আজ রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে জনস্রোত উপচে পড়েছে কাশীপুর উদ্যানবাটি, দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দির, কামারপুকুর ও বেলুড় মঠ প্রাঙ্গণে।

    কাশীপুর উদ্যানবাটীতে কল্পতরু

    সূর্য ওঠার আগেই রাস্তায় লম্বা লাইন। কারও হাতে প্রসাদ, কারও হাতে শীতের কম্বল, আর সকলের মুখে এক প্রার্থনা— “ঠাকুরের আশীর্বাদে মঙ্গলময় হোক নতুন বছর।” কাশীপুর উদ্যানবাটীই আজকের কেন্দ্রবিন্দু। এখানেই স্মরণ করা হয় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর ভক্তদের উদ্দেশে অনুগ্রহ বর্ষণ করে মানবকল্যাণের চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছিলেন। সকালে বিশেষ পুজো, পাঠ ও কীর্তন দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানপর্ব। কাশীপুর উদ্যানবাটীর সাংগঠনিক অনুষ্ঠান আজ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভক্তিগীতি, প্রবচন, পাঠসভা—সব মিলিয়ে আবেগে পরিপূর্ণ পরিবেশ।

    দক্ষিণেশ্বরে মানুষের ঢল

    আজ ভোর সাড়ে পাঁচটায় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মূল ফটক খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য। এরপর মঙ্গল আরতির মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় কল্পতরু উৎসবের। আজকের এই বিশেষ দিন মা ভবতারিনীকে সাজানো হয় নতুন বেশে। মায়ের সেই রূপ দেখতে এবং সর্বোপরি প্রার্থনা জানাতে ভোর থেকেই পুজোর ডালি হাতে লম্বা লাইন দিয়েছেন ভক্তরা। পাশাপাশি কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়ছে মন্দির চত্বর। পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীর পাশাপাশি সিসিটিভি ক‍্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারের বন্দোবস্তও করা হয়েছে। যাতে তীক্ষ্ণ নজরদারির আওতায় যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।

    ঠাকুরের জন্মস্থান কামারপুকুরে উৎসব

    মঙ্গলারতি ও বিশেষ পুজোর মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কল্পতরু উৎসব উদযাপন চলছে ঠাকুরের জন্মস্থান কামারপুকুরে ৷ চলছে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবন ও বাণীকে স্মরণ করে পাঠ, ভজন ও ধর্মসভা। কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে মঠ সেজেছে ফুল, আলো ও আলপনায়। কামারপুকুর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকত্তরানন্দজী মহারাজ বলেন, বেলুড় মঠ ও কাশীপুরের মতো কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে ও এই কল্পতরু উৎসব পালন করা হয়। ঠাকুরের বাণী ‘যত মত তত পথ’ এর আদর্শে বিশ্বাসী হয়েই এই দিনটাকে পালন করা হয়। পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যেই তাঁর শরণাপন্ন হবে সকলেই মুক্তি লাভ করবে। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু মানুষ এই দিনে ভিড় জমান কামারপুকুরে। রীতি মেনে সকাল থেকেই মঙ্গল আরতি হোম যজ্ঞ এবং পূজা পাঠ সবকিছুই চলছে।

    কল্পতরুর কথা

    কথিত আছে, ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি অর্থাৎ আজকের দিনেই কাশীপুর উদ্যানবাটিতে কল্পতরু হয়েছিলেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব। সেদিনই ভক্তদের আশীর্বাদ করে রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘তোমাদের চৈতন্য হোক’। এরপর থেকেই প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে পালিত হয়ে আসছে কল্পতরু উৎসব।

  • Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নতুন বছরের পয়লা দিন বলে কথা। বাঙালি মেতেছে বর্ষবরণের আনন্দে। এ আর নতুন কী! তবে ফি বছর ১ জানুয়ারির গুরুত্ব বাঙালির কাছে অন্যভাবেও রয়েছে, এদিন কল্পতর উৎসব (Kalpataru Utsav)। এদিনই বিশ্ববন্দিত হিন্দু ধর্মের প্রচারক স্বামী বিবেকানন্দের গুরু, ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’। সকাল থেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে শুরু করে রাজ্যের সর্বত্র ভক্তরা পালন করছেন কল্পতরু দিবস। ভোর থেকেই ভক্তদের ঢল দক্ষিণেশ্বর-কাশীপুর উদ্যানবাটিতে। এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের (Sri Ramakrishna) স্মৃতি। ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি কল্পতরু রূপে ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ।

    ঠাকুরের সংক্ষিপ্ত জীবনী

    পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার কামারপুকুর গ্রামে ১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এক দরিদ্র বৈষ্ণব ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং চন্দ্রমণি দেবীর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কথিত আছে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে গয়া তীর্থ ভ্রমণে গিয়ে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়, গদাধর বিষ্ণুকে স্বপ্নে দর্শন করেন। তাই নিজের চতুর্থ সন্তানের নাম তিনি রাখলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়। দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে ১৮৫৫ সালে গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের কলকাতায় আগমন ঘটে। কারণ মাহিষ্য সমাজের জমিদার পত্নী রানি রাসমণি দক্ষিণেশ্বরে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন। রানিমা প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন কামারপুকুরের রামকুমারের হাতে। তরুণ গদাধর দাদাকে পুজোতে সাহায্য করবেন। ১ বছরের মধ্যে ছন্দপতন। আকস্মিকভাবেই ১৮৫৬ সালে মৃত্যু হল রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়।

    দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি। মন্দিরের ঠিক উত্তর-পশ্চিম কোনে তরুণ পুরোহিতের জন্য একটি ছোট্ট ঘর বরাদ্দ করা হল। শোনা যায়, এরপরেই রানি রাসমনির জামাতা মথুরামোহন গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের নামকরণ রামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) করেন, তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে, কেউ কেউ বলেন যে তাঁর এই নামকরণ করেন ঠাকুরের অন্যতম গুরু তোতাপুরী। প্রথাগত শিক্ষা তাঁর কিছুই ছিল না সেভাবে। কিন্তু মুখে মুখে বলে দিতেন হিন্দু শাস্ত্রের সমস্ত গূঢ়তত্ত্ব, অতি সরলভাষায়, একেবারে গল্পের ছলে। এজন্য তাঁকে গল্পের রাজাও বলা হয়। পরবর্তীকালে তাঁর এই বাণী সংকলিত হয় কথামৃত নামক গ্রন্থে। এরমধ্যে ঠাকুরের (Kalpataru Utsav) বিবাহ সম্পন্ন হয় কামারপুকুরের তিন মাইল উত্তর-পশ্চিমে জয়রামবাটী গ্রামের রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কন্যা সারদাদেবীর সঙ্গে। সেটা ১৮৫৯ সালে। এতদিনে বঙ্গীয় শিক্ষিত সমাজ তাঁকে গুরুর আসনে বসিয়ে ফেলেছে। শিষ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন কেশবচন্দ্র সেন সমেত অন্যান্য গন্যমান্যরা।

    ১ জানুয়ারী ১৮৮৬

    শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধলে, ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের নির্দেশে তিনি নিজেকে গৃহবন্দি রাখেন প্রায় এক মাস। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি কাশীপুর উদ্যানবাটিতে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ৩০জন মতো গৃহী ভক্ত। সকলে হাতে ফুল নিয়ে উপস্থিত। আজ ঠাকুরের দর্শন পাওয়া যাবে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর তিনটে। দোতলা ঘর থেকে তিনি নেমে এলেন বাগানে। পরনে সেই চিরাচরিত পোশাক। লাল পেড়ে ধুতি। উপস্থিত গৃহী ভক্তরা তাঁদের হাতে রাখা ফুল ঠাকুরের চরণে অঞ্জলি দিতে থাকেন। কথিত আছে, ঠাকুর তখন নাট্যকার গিরিশ ঘোষকে বলেন, ‘‘হ্যাঁ গো, তুমি যে আমার নামে এত কিছু চারিদিকে বলো, তো আমি আসলে কী?’’ গিরিশ ঘোষ উত্তর দিলেন, ‘‘তুমিই নররূপ ধারী পূর্ণব্রহ্ম ভগবান, আমার মত পাপী-তাপীদের মুক্তির জন্যই তোমার মর্ত্যে আগমন।’’ সবাই তখন ঠাকুরের চরণ স্পর্শ করলেন এবং ঠাকুর (Sri Ramakrishna) বললেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’।

    এদিনের উৎসবকে কল্পতরু (Kalpataru Utsav) কেন বলা হয়?

    হরিবংশ ইত্যাদি পুরাণে ‘কল্পতরু’র উল্লেখ রয়েছে। দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে সমুদ্র মন্থন হয়েছিল, পুরাণ অনুযায়ী সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত, লক্ষ্মীদেবী, ঐরাবত ইত্যাদির সঙ্গে উঠে আসে একটি বৃক্ষ-ও। যাকে পারিজাত বৃক্ষ বলা হত। পরবর্তীতে দেবরাজ ইন্দ্রের বিখ্যাত নন্দনকাননের স্থান পায় এই পারিজাত বৃক্ষ এবং সেখান থেকে স্ত্রী সত্যভামার আবদারে শ্রীকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) পৃথিবীতে নিয়ে আসেন এই বৃক্ষ। এই পারিজাত বৃক্ষকে-ই ‘কল্পতরু’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ সেই বৃক্ষ, যার কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। কল্পতরু উৎসবের (Kalpataru Utsav) দিন ঠাকুরের ভক্তরা তাঁকে অবতার রূপে মেনে নেন। কথিত আছে, সেদিন উপস্থিত সকল ভক্তের মনোবাঞ্ছা ঠাকুরের কৃপায় পূরণ হয়েছিল। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, এই দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব সকলের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

  • Ramakrishna 546: “শুধু পুঁথি পড়লে চৈতন্য হয় না—তাঁকে ডাকতে হয়। ব্যাকুল হলে তবে কুলকুণ্ডলিনী জাগেন”

    Ramakrishna 546: “শুধু পুঁথি পড়লে চৈতন্য হয় না—তাঁকে ডাকতে হয়। ব্যাকুল হলে তবে কুলকুণ্ডলিনী জাগেন”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—শ্রীরামকৃষ্ণ কি সিদ্ধপুরুষ না অবতার?

    “আবার কখনও পাখির মতো এ-ডাল থেকে ও-ডাল, ও-ডাল থেকে এ-ডাল,—মহাবায়ু উঠতে থাকে! সে ডালে বসে, সে স্থান আগুনের মতো বোধ হয়। হয়তো মূলাধার থেকে স্বাধিষ্ঠান, স্বাধিষ্ঠান (Ramakrishna) থেকে হৃদয়, এইরূপ ক্রমে মাথায় উঠে (Kathamrita)।

    “কখনও বা মহাবায়ু তির্যক গতিতে চলে—এঁকে বেঁকে! ওইরূপ চলে চলে শেষে মাথায় এলে সমাধি হয়।”

    পূর্বকথা — ২২/২৩ বছরে প্রথম উন্মাদ ১৮৫৮ খ্রী: — ষট্‌চক্র ভেদ 

    “কুলকুণ্ডলিনী না জাগলে চৈতন্য হয় না।

    “মূলাধারে কুলকুণ্ডলিনী। চৈতন্য হলে তিনি সুষুম্না নাড়ীর মধ্য দিয়ে স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর এই সব চক্র ভেদ করে, শেষে শিরিমধ্যে গিয়ে পড়েন। এরই নাম মহাবায়ুর গতি — তবেই শেষে সমাধি হয়।

    “শুধু পুঁথি পড়লে চৈতন্য হয় না—তাঁকে ডাকতে হয়। ব্যাকুল হলে তবে কুলকুণ্ডলিনী জাগেন। শুনে, বই পড়ে জ্ঞানের কথা!—তাতে কি হবে!

    “এই অবস্থা যখন হল, তার ঠিক আগে আমায় দেখিয়ে দিলে—কিরূপ কুলকুণ্ডলিনীশক্তি (Ramakrishna) জাগরণ হয়ে, ক্রমে ক্রমে সব পদ্মগুলি ফুটে যেতে লাগল, আর সমাধি হল। এ অতি গুহ্যকথা। দেখলাম, ঠিক আমার মতন বাইশ-তেইশ বছরের ছোকরা, সুষুম্না নাড়ির ভিতর দিয়ে যোনিরূপ পদ্মের সঙ্গে রমণ করছে! প্রথমে গুহ্য, লিঙ্গ, নাভি। চতুর্দল, ষড়দল, দশদল পদ্ম সব অধোমুখ হয়েছিল — ঊর্ধ্বমুখ হল।

    “হৃদয়ে যখন এল—বেশ মনে পড়ছে—জিহ্বা দিয়ে রমণ করবার পর দ্বাদশদল অধোমুখ পদ্ম ঊর্ধ্বমুখ হল, — আর প্রস্ফুটিত হল! তারপর কণ্ঠে ষোড়শদল, আর কপালে দ্বিদল। শেষে সহস্রদল পদ্ম প্রস্ফুটিত হল! সেই অবধি আমার এই অবস্থা।”

    ঠাকুর একটু পাশ ফেরার পর আবার কথা (Kathamrita) কহিতেছেন। মানুষের ভিতর তিনি অবতীর্ণ হইয়া লীলা করেন, এই কথা হইতেছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—তোমার ওই ঘর। আমার আগে রূপদর্শন হত না, এমন অবস্থা গিয়েছে। এখনও দেখছ না, আবার রূপ কম পড়ছে।

    মণি—লীলার মধ্যে নরলীলা বেশ ভাল লাগে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—তাহলেই হল;—আর আমাকে দেখছো!

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ কি বলিতেছেন যে, আমার ভিতর ঈশ্বর নররূপে অবতির্ণ হইয়া লীলা করিতেছেন?

  • Ramakrishna 545: “সমাধি পাঁচপ্রকার—তা তোমার সবই হয় দেখছি, পিপীলিকাবৎ, মীনবৎ, কপিবৎ, পক্ষীবৎ, তির্যগ্‌বৎ”

    Ramakrishna 545: “সমাধি পাঁচপ্রকার—তা তোমার সবই হয় দেখছি, পিপীলিকাবৎ, মীনবৎ, কপিবৎ, পক্ষীবৎ, তির্যগ্‌বৎ”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—শ্রীরামকৃষ্ণ কি সিদ্ধপুরুষ না অবতার?

    রাত্রি আটটা হইয়াছে। ঠাকুর (Ramakrishna) মহিমাচরণের সহিত কথা কহিতেছেন। ঘরে রাখাল, মাস্টার, মহিমাচরনের দু-একটি সঙ্গী,—আছেন।

    মহিমাচরণ আজ রাত্রে থাকিবেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, কেদারকে কেমন দেখছো? — দুধ দেখেছে না খেয়েছে?

    মহিমা — হাঁ, আনন্দ ভোগ করছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— নিত্যগোপাল?

    মহিমা — খুব! — বেশ অবস্থা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — হাঁ। আচ্ছা, গিরিশ ঘোষ কেমন হয়েছে?

    মহিমা (Kathamrita)— বেশ হয়েছে। কিন্তু ওদের থাক আলাদা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — নরেন্দ্র?

    মহিমা — আমি পনর বৎসর আগে যা ছিলুম এ তাই।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — ছোট নরেন? কেমন সরল?

    মহিমা — হাঁ, খুব সরল।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — ঠিক বলেছ। (চিন্তা করতে করতে) আর কে আছে?

    “যে সব ছোকরা এখানে আসছে, তাদের—দুটি জিনিস জানলেই হল। তাহলে আর বেশি সাধন-ভজন করতে হবে না। প্রথম, আমি কে—তারপর, ওরা কে। ছোকরারা অনেকেই অন্তরঙ্গ।

    “যারা অন্তরঙ্গ, তাদের মুক্তি হবে না। বায়ুকোণে আর-একবার (আমার) দেহ হবে।

    “ছোকরাদের দেখে আমার প্রাণ শীতল হয়। আর যারা ছেলে করেছে, মামলা মোকদ্দমা করে বেড়াচ্ছে—কামিনী-কাঞ্চন নিয়ে রয়েছে—তাদের দেখলে কেমন করে আনন্দ হবে? শুদ্ধ-আত্মা না দেখলে কেমন করে থাকি!”

    মহিমাচরণ শাস্ত্র হইতে শ্লোক আবৃত্তি করিয়া শুনাইতেছেন — আর তন্ত্রোক্ত ভূচরী খেচরী শাম্ভবী প্রভৃতি নানা মুদ্রার কথা বলিতেছেন।

    ঠাকুরের পাঁচপ্রকার সমাধি-ষট্‌চক্রভেদ—যোগতত্ত্ব—কুণ্ডলিনী

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আচ্ছা, আমার আত্মা সমাধির পর মহাকাশে পাখির মতো উড়ে বেড়ায়, এইরকম কেউ কেউ বলে।

    “হৃষীকেশ সাধু এসেছিল। সে বললে যে, সমাধি পাঁচপ্রকার—তা তোমার সবই হয় দেখছি। পিপীলিকাবৎ, মীনবৎ, কপিবৎ, পক্ষীবৎ, তির্যগ্‌বৎ।

    “কখনও বায়ু উঠে পিঁপড়ের মতো শিড়শিড় করে কখনও সমাধি অবস্থায় ভাব-সমুদ্রের ভিতর আত্মা-মীন আনন্দে খেলা করে!

    “কখনও পাশ ফিরে রয়েছি, মহাবায়ু, বানরের ন্যায় আমায় ঠেলে—আমোদ করে। আমি চুপ করে থাকি। সেই বায়ু হঠাৎ বানরের ন্যায় লাখ দিয়ে সহস্রারে উঠে যায়! তাই তো তিড়িং করে লাফিয়ে উঠি (Kathamrita)।

  • Ramakrishna 544: “জোর করে আপনি কি বারণ করতে পারবেন? যার যা (সংস্কার) আছে তাই হবে”

    Ramakrishna 544: “জোর করে আপনি কি বারণ করতে পারবেন? যার যা (সংস্কার) আছে তাই হবে”

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    দক্ষিণেশ্বরে রাখাল, মাস্টার, মহিমাচরণ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    দ্বিজ, দ্বিজের পিতা ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ—মাতৃঋণ ও পিতৃঋণ

    “আমি (Ramakrishna) এদের বলি, সংসারও কর, আবার ভগবানেতেও মন রাখ।—সংসার ছাড়তে বলি না;—এও কর, ও-ও কর।”

    পিতা—আমি বলি, পড়াশুনা তো চাই,—আপনার এখানে আসতে বারণ করি না। তবে ছেলেদের সঙ্গে ইয়ারকি দিয়ে সময় না কাটে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—এর (দ্বিজর) অবশ্য সংস্কার ছিল। এ দুই ভায়ের হল না কেন? আর এরই বা হল কেন?

    “জোর করে আপনি কি বারণ করতে পারবেন? যার যা (সংস্কার) আছে তাই হবে।”

    পিতা—হাঁ, তা বটে।

    ঠাকুর (Kathamrita) মেঝেতে দ্বিজর পিতার কাছে আসিয়া মাদুরের উপর বসিয়াছেন। কথা কহিতে কহিতে এক-একবার তাঁহার গায়ে হাত দিতেছেন।

    সন্ধ্যা আগতপ্রায়। ঠাকুর মাস্টার প্রভৃতিকে বলিতেছেন, “এদের সব ঠাকুর দেখিয়ে আনো—আমি ভাল থাকলে সঙ্গে যেতাম।”

    ছেলেদের সন্দেশ দিতে বলিলেন। দ্বিজর পিতাকে বলিলেন, “এরা একটু খাবে; মিষ্টমুখ করতে হয়।”

    দ্বিজর বাবা দেবালয় ও ঠাকুরদের দর্শন করিয়া বাগানে একটু বেড়াইতেছেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নিজের ঘরে দক্ষিণ-পূর্ব বারান্দায় ভূপেন, দ্বিজ, মাস্টার প্রভৃতির সহিত আনন্দে কথা কহিতেছেন। ক্রীড়াচ্ছলে ভূপেন ও মাস্টারের পিঠে চাপড় মারিলেন। দ্বিজকে সহাস্যে বলিতেছেন, “তোর বাপকে কেমন বললাম।”

    সন্ধ্যার পর দ্বিজর পিতা আবার ঠাকুরের ঘরে আসিলেন (Kathamrita)। কিয়ৎক্ষণ পরেই বিদায় লইবেন।

    দ্বিজের পিতার গরম বোধ হইয়াছে—ঠাকুর নিজে হাতে করিয়া পাখা দিতেছেন।

    পিতা বিদায় লইলেন—ঠাকুর (Ramakrishna) নিজে উঠিয়া দাঁড়াইলেন।

  • Mohan Bhagwat: ‘বিশ্বের প্রয়োজনেই ভারত বিশ্বগুরু’, হিন্দু জীবনধারা-র আদর্শ স্থাপনের আহ্বান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘বিশ্বের প্রয়োজনেই ভারত বিশ্বগুরু’, হিন্দু জীবনধারা-র আদর্শ স্থাপনের আহ্বান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে হিন্দু সমাজকে তাঁদের আচরণ, মূল্যবোধ ও জীবনযাপনের মাধ্যমে আদর্শ স্থাপনের আহ্বান জানালেন আরএসএস প্রধান (সরসংঘচালক) ড. মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, শক্তি বা সম্পদের মাধ্যমে নয়, বরং ধর্ম, করুণা ও নিঃস্বার্থ সেবার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ‘হিন্দু জীবনধারা’-র অনুপ্রেরণাই আজ বিশ্বের প্রয়োজন। তাঁর দাবি, ভারতকে অবশ্যই আবার ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার জন্য কাজ করতে হবে, কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং এটি বিশ্বের প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এখন এসেছে। হায়দ্রাবাদে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, মোহন ভাগবত এক শতাব্দী আগের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন যে প্রায় ১০০ বছর আগে, যোগী অরবিন্দ ঘোষণা করেছিলেন যে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান ঈশ্বরের ইচ্ছা এবং সেই পুনরুত্থানের জন্য হিন্দু রাষ্ট্রের উত্থান অপরিহার্য।

    ধর্ম থেকে বিচ্যুতি বিশ্ব সংকটের মূল কারণ

    হায়দ্রাবাদের নিকটবর্তী ভাগ্যনগরের কানহা শান্তি বনমে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সংঘ শিবির (VSS) ২০২৫-এর মঞ্চে মূল বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। পাঁচদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্তির সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ভাগবত তাঁর ভাষণে বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহু সংকটের মূল কারণ হলো ধর্ম থেকে বিচ্যুতি। তিনি বলেন, “ধর্মকে উপেক্ষা করার ফলেই ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, চরমপন্থা বেড়েছে, ইতিহাস ভুল পথে গিয়েছে এবং করুণা হারিয়েছে।” যদিও বিশ্বজুড়ে ভারসাম্য ফেরানোর আলোচনা চলছে, তবুও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কে শুরু করবে এবং কীভাবে। কলম্বাসের ‘ডিম দাঁড় করানো’ গল্প এবং ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধা’ উপকথার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভাবনা নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগই পরিবর্তনের সূচনা করে।

    ভারত বিশ্বগুরু, সারা বিশ্বের প্রয়োজনেই

    আরএসএস প্রধান বলেন, “সেই সময় এখন এসেছে, ১০০ বছর আগে, যখন যোগী অরবিন্দ ঘোষণা করেছিলেন যে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান ঈশ্বরের ইচ্ছা, এবং সনাতন ধর্মের পুনরুত্থানের জন্যই হিন্দু রাষ্ট্রের উত্থান।” ভাগবত আরও জোর দিয়ে বলেন যে ভারত, হিন্দু রাষ্ট্র, সনাতন ধর্ম এবং হিন্দুত্ব সমার্থক। “ভারত বা হিন্দু রাষ্ট্র, এবং সনাতন ধর্ম, হিন্দুত্ব সমার্থক। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমাদের এখন সেই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে… আমরা দেখছি যে ভারতে সংঘের প্রচেষ্টা এবং নিজ নিজ দেশে হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচেষ্টা একই: হিন্দু সম্প্রদায়কে সংগঠিত করা। সমগ্র বিশ্বে ধার্মিক জীবনযাপনকারী একটি সমাজের উদাহরণ স্থাপন করা, ধার্মিক জীবনযাপনকারী মানুষের উদাহরণ স্থাপন করা…” এরপর, আরএসএস প্রধান বলেন যে ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার জন্য সংঘের প্রচেষ্টা সহ বিভিন্ন ধারায় ক্রমাগত কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমাদের আবার ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার কাজ করতে হবে। ‘বিশ্বগুরু’ হওয়া আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। এটা বিশ্বের প্রয়োজন যে আমরা ‘বিশ্বগুরু’ হই। কিন্তু এটা এভাবে হয় না। এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এই কঠোর পরিশ্রম অনেক ধারা থেকে চলছে। তার মধ্যে একটি হলো সংঘ।”

    ব্যক্তি থেকেই জাতি গঠনের ভাবনা

    আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের দর্শনের কথা স্মরণ করে মোহন ভাগবত বলেন, জাতির কাজ শুরু হয় ব্যক্তিগত আত্মপরিবর্তন থেকে। তাঁর কথায়, “যাঁরা নিজের থেকে কাজ শুরু করেন, তাঁদের গড়েই তোলা হয়—তাঁরাই স্বয়ংসেবক। যাঁদের কাছে সেবাই চূড়ান্ত লক্ষ্য, তাঁরাই প্রকৃত স্বয়ংসেবক।” তিনি সেবার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন, ভয়, বাধ্যবাধকতা, পুরস্কারের প্রত্যাশা বা স্বীকৃতির লোভ থেকে করা কাজ প্রকৃত সেবা নয়। আরএসএস-এর বিস্তার বিশ্বজুড়ে হলেও স্বয়ংসেবকেরা হিন্দু সমাজের কল্যাণ ও হিন্দু ধর্ম রক্ষার প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভাগবত জোর দিয়ে বলেন, ভারত বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে সামরিক বা অর্থনৈতিক আধিপত্যের মাধ্যমে নয়, বরং জীবনধারার উদাহরণের মাধ্যমে। তাঁর কথায়, “আমরা অন্যদের দমন করতে চাই না। আমরা আমাদের জীবনযাপনের আদর্শ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।”

    প্রযুক্তি মানবতার প্রভু নয়, বিশ্ব কল্যাণের জন্য বিজ্ঞান

    ব্যক্তিত্ব বিকাশের ভূমিকার উপর আলোকপাত করে ভাগবত বলেন, সংঘ ব্যক্তিদের বিকাশ এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য তাদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে স্থাপন করার উপর মনোযোগ দেয়। তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপর মনোযোগ দিয়ে, আমরা মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ করি এবং সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য তাদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে পাঠাই। আজ সর্বত্র তাদের কাজের প্রশংসা করা হয়। তারা সমাজের বিশ্বাস অর্জন করে।” প্রযুক্তির প্রভাব তুলে ধরে আরএসএস প্রধান জোর দিয়ে বলেন যে সোশ্যাল মিডিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অগ্রগতি অনিবার্য হলেও, মানবতাকে নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। তিনি বলেন, “আজ আমাদের বিশ্বকে দেখাতে হবে যে প্রযুক্তি আসবে, সোশ্যাল মিডিয়া থাকবে, এআই আসবে, সবকিছু আসবে। কিন্তু প্রযুক্তির কোনো নেতিবাচক পরিণতি হবে না। প্রযুক্তি মানবতার প্রভু হয়ে উঠবে না। মানবতা প্রযুক্তির প্রভু থাকবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব কল্যাণের জন্য প্রযুক্তিকে পথ দেখাবে এবং এর অপব্যবহার রোধ করবে। তিনি আরও বলেন, “মানুষের বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশ্বের কল্যাণের দিকে পরিচালিত করবে। এটি আসুরিক প্রবৃত্তির দিকে যাবে না। এটি দৈব প্রবৃত্তির দিকে যাবে। এটা কীভাবে হবে? আমরা এটা কীভাবে করব? আমাদের কাজের মাধ্যমে এটা প্রমাণ করতে হবে। আমাদের জীবনযাপনের মাধ্যমে এটা দেখাতে হবে।”

    কৃষ্ণা এল্লার বক্তব্য

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ভারত বায়োটেক-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষ্ণা এল্লা ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। মোহন ভাগবতকে “সত্যের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের গণতন্ত্র কেবল প্রতিষ্ঠান নির্ভর নয়। তিনি বলেন, “ভারত গণতন্ত্রের চেয়েও বড়। এখানে মুক্তভাবে কথা বলা যায়, বিতর্ক করা যায়, তবুও ধর্মের ভিত্তিতে স্থির থাকা যায়।” ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের ইতিহাস অন্য দেশ আক্রমণ করতে শেখায় না। ভারতের ইতিহাস সাংস্কৃতিক গভীরতা ও সভ্যতার বিকাশকে ধরে রাখে।

  • Ramakrishna 543: “শুধু জলে দুধ রাখলে দুধ নষ্ট হয়ে যায়, মাখন তুলে জলের উপর রাখলে আর কোন গোল থাকে না”

    Ramakrishna 543: “শুধু জলে দুধ রাখলে দুধ নষ্ট হয়ে যায়, মাখন তুলে জলের উপর রাখলে আর কোন গোল থাকে না”

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    দক্ষিণেশ্বরে রাখাল, মাস্টার, মহিমাচরণ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    দ্বিজ, দ্বিজের পিতা ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ—মাতৃঋণ ও পিতৃঋণ 

    “অমি (Ramakrishna) বলি, অনাসক্ত হয়ে সংসার কর। হাতে তেল মেখে কাঁঠাল ভাঙ্গ—তাহলে হাতে আঠা লাগবে না। “কাঁচা মনকে সংসারে রাখতে গেলে মন মলিন হয়ে যায়। জ্ঞানলাভ কর তবে সংসারে থাকতে হয়। “শুধু জলে দুধ রাখলে দুধ নষ্ট হয়ে যায়। মাখন তুলে জলের উপর রাখলে আর কোন গোল থাকে না।”

    দ্বিজর পিতা (Kathamrita) আজ্ঞা, হাঁ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) সহাস্যে—আপনি যে এদের বকেন-টকেন, তার মানে বুঝেছি। অপনি ভয় দেখান। ব্রহ্মচারী সাপকে বললে, ‘তুই তো বড় বোকা! তোকে কামড়াতেই আমি বারণ করেছিলাম। তোকে ফোঁস করতে বারণ করি নাই! তুই যদি ফোঁস করতিস তাহলে তোর শত্রুরা তোকে মারতে পারত না।’ আপনি ছেলেদের বকেন-ঝকেন,—সে কেবল ফোঁস করেন।

    দ্বিজর পিতা হাসিতেছেন।

    “ভাল ছেলে হওয়া পিতার পুণ্যের চিহ্ন। যদি পুষ্করিণীতে ভাল জল হয়—সেটি পুষ্করিণীর মালিকের পুণ্যের চিহ্ন।

    “ছেলেকে আত্মজ বলে। তুমি আর তোমার ছেলে কিছু তফাত নয়। তুমি একরূপে ছেলে হয়েছ। একরূপে তুমি বিষয়ী, আফিসের কাজ করছ, সংসারে ভোগ করছ; — আর একরূপে তুমিই ভক্ত হয়েছ—তোমার সন্তানরূপে। শুনেছিলাম, আপনি খুব ঘোর বিষয়ী। তা তো নয়! (সহাস্যে) এ-সব তো আপনি জানেন। তবে আপনি নাকি আটপিটে, এতেও হুঁ দিয়ে যাচ্ছেন।

    দ্বিজর পিতা ঈষৎ হাসিতেছেন।

    “এখানে এলে, আপনি কি বস্তু তা এরা জানতে পারবে। বাপ কত বড় বস্তু! বাপ-মাকে ফাঁকি দিয়ে যে ধর্ম করবে, তার ছাই হবে!”

    পূর্বকথা—বৃন্দাবনে শ্রীরামকৃষ্ণের মার জন্য চিন্তা

    “মানুষের অনেকগুলি ঋণ আছে। পিতৃঋণ, দেবঋণ, ঋষিঋণ। এছাড়া আবার মাতৃঋণ আছে। আবার পরিবারের সম্বন্ধেও ঋণ আছে—প্রতিপালন করতে হবে। সতী হলে, মরবার পরও তার জন্য কিছু সংস্থান করে যেতে হয়।

    “আমি মার জন্য বৃন্দাবনে থাকতে পারলাম না। যাই মনে পড়ল মা (Kathamrita) দক্ষিণেশ্বরে কালীবাড়িতে আছেন, অমনি আর বৃন্দাবনেও মন টিকল না।

LinkedIn
Share