Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ramakrishna 274: “তুমি সাকারবাদীদের সঙ্গে মেশো!—তুমি পৌত্তলিক, সরল না কলে ঈশ্বরের কৃপা হয় না”

    Ramakrishna 274: “তুমি সাকারবাদীদের সঙ্গে মেশো!—তুমি পৌত্তলিক, সরল না কলে ঈশ্বরের কৃপা হয় না”

    শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে

    ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৪, ১৯শে সেপ্টেম্বর

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীযুক্ত রাধিকা গোস্বামী

    পূর্বকথা—কেশব সেনের বাটীতে নিরাকারের ভাব—বিজয় গোস্বামীর সঙ্গে এঁড়েদর গদাধরের
    পাঠবাড়িদর্শন—বিজয়ের চরিত্র

    “আবার কেশব সেনের বাড়ি গিয়ে আর এক ভাব হল। ওরা নিরাকার নিরাকার করে;—তাই ভাবে বললুম, ‘মা এখানে আনিসনি, এরা তোর রূপ-টুপ মানে না’।”

    সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এই সকল কথা শুনিয়া গোস্বামী (Ramakrishna) চুপ করিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে)—বিজয় এখন বেশ হয়েছে।

    “হরি হরি বলতে বলতে মাটিতে পড়ে যায়!

    “চারটে রাত পর্যন্ত কীর্তন, ধ্যান এই সব নিয়ে থাকে। এখন গেরুয়া পরে আছে। ঠাকুর-বিগ্রহ দেখলে একেবারে সাষ্টাঙ্গ!

    “চৈতন্যদেবের পটের সম্মুখে আবার সাষ্টাঙ্গ!”

    গোস্বামী (Kathamrita)—রাধাকৃষ্ণ মূর্তির সম্মুখে?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—সাষ্টাঙ্গ! আর আচারী খুব।

    গোস্বামী—এখন সমাজে নিতে পারা যায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—সে লোকে কি বলবে, তা অত চায় না।

    গোস্বামী—না, সমাজ তাহলে কৃতার্থ হয়—অমন লোককে পেলে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—আমায় খুব মানে।

    “তাকে পাওয়াই ভার। আজ ঢাকায় ডাক, কাল আর এক জায়গায় ডাক। সর্বদাই ব্যস্ত।

    “তাদের সমাজে (সাধারণ ব্রাহ্মসমাজে) বড় গোল উঠেছে।”

    গোস্বামী—আজ্ঞা, কেন?

    শ্রীরামকৃষ্ণ—তাকে বলছে, ‘তুমি সাকারবাদীদের সঙ্গে মেশো!—তুমি পৌত্তলিক।’

    “আর অতি উদার সরল। সরল না কলে ঈশ্বরের কৃপা হয় না।”

    মুখুজ্জেদিগকে শিক্ষা—গৃহস্থ, “এগিয়ে পড়”—অভ্যাসযোগ 

    এইবার ঠাকুর (Kathamrita) মুখুজ্জেদের সঙ্গে কথা কহিতেছেন। জ্যেষ্ঠ মহেন্দ্র ব্যবসা করেন কাহারও চাকরি করেন না। কনিষ্ঠ প্রিয়নাথ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। এখন কিছু সংস্থান করিয়াছেন। আর চাকরি করেন না। জ্যেষ্ঠের বয়স ৩৫/৩৬ হইবে। তাঁহাদের বাড়ি কেদেটি গ্রামে। কলিকাতা বাগবাজারের তাঁহাদের বসতবাটী আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে)—একটু উদ্দীপন হচ্চে বলে চুপ করে থেকো না। এগিয়ে পড়। চন্দন কাঠের পর আরও আছে—রূপার খনি, সোনার খনি!

    প্রিয় (সহাস্যে)—আজ্ঞা, পায়ে বন্ধন—এগুতে দেয় না।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—পায়ে বন্ধন থাকলে কি হবে?—মন নিয়ে কথা।

    আরও পড়ুনঃ “আবার সেই সমাধি! আবার নিস্পন্দন দেহ, স্তিমিতি লোচন, দেহ স্থির

    আরও পড়ুনঃ দেখিয়াই ঠাকুর উচ্চহাস্য করিয়া ছোকরাদের বলিয়া উঠিলেন, “ওই রে আবার এসেছে”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

  • Ramakrishna 273: “রঙের গামলার আশ্চর্য গুণ যে, যে রঙে কাপড় ছোপাতে চাইবে তার কাপড় সেই রঙেই ছুপে যেত”

    Ramakrishna 273: “রঙের গামলার আশ্চর্য গুণ যে, যে রঙে কাপড় ছোপাতে চাইবে তার কাপড় সেই রঙেই ছুপে যেত”

    শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে

    ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৪, ১৯শে সেপ্টেম্বর

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীযুক্ত রাধিকা গোস্বামী

    “তা ছাড়া ভেকের আদর করতে হয়। ভেক দেখলে সত্য বস্তুর উদ্দীপন হয়। চৈতন্যদেব গাধাকে ভেক পরিয়ে সাষ্টাঙ্গ হয়েছিলেন।

    “শঙ্খচিলকে দেখলে (Kathamrita) প্রণাম করে কেন? কংস মারতে যাওয়াতে ভগবতী শঙ্খচিল হয়ে উড়ে গিয়েছিলেন। তা এখনও শঙ্খচিল দেখলে সকলে প্রণাম করে।”

    পূর্বকথা—চানকে কোয়ার সিং কর্তৃক ঠাকুরের পূজা—ঠাকুরের রাজভক্তি Loyality

    “চানকের পল্টনের ভিতর ইংরাজকে আসতে দেখে সেপাইরা সেলাম করলে। কোয়ার সিং আমাকে বুঝিয়ে দিলে, ‘ইংরাজের রাজ্য তাই ইংরাজকে সেলাম করতে হয়’।”

    গোস্বামীর কছে সাম্প্রদায়িকতার নিন্দা—শাক্ত ও বৈষ্ণব 

    “শাক্তের তন্ত্র মত বৈষ্ণবের পুরাণ মত। বৈষ্ণব যা সাধন করে তা প্রকাশে দোষ নাই। তান্ত্রিকের সব গোপন। তাই তান্ত্রিককে সব বোঝা যায় না।

    (গোস্বামীর প্রতি)—“আপনারা বেশ—কত জপ করেন, কত হরিনাম করেন (Kathamrita) ।”

    গোস্বামী (বিনীতভাবে)—আজ্ঞা, আমরা আর কি করছি! আমি কত অধম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে)—দীনতা; আচ্ছা ও তো আছে। আর এক আছে, ‘আমি হরিনাম কচ্ছি, আমার আবার পাপ! যে রাতদিন ‘আমি পাপী’ ‘আমি পাপী’ ‘আমি অধম’ ‘আমি অধম’ করে, সে তাই হয়ে যায়। কি অবিশ্বাস! তাঁর নাম এত করেছে আবার বলে, ‘পাপ, পাপ!’

    গোস্বামী (Ramakrishna) এই কথা অবাক্‌ হইয়া শুনিতেছেন।

    পূর্বকথা—বৃন্দাবনে বৈষ্ণবের ভেক গ্রহণ ১৮৬৮ খ্রী: 

    শ্রীরামকৃষ্ণ—আমিও বৃন্দাবনে ভেক নিয়েছিলাম;—পনর দিন রেখেছিলাম। (ভক্তদের প্রতি) সব ভাবই কিছুদিন করতাম, তবে শান্তি হতো।

    (সহাস্যে) “আমি সবরকম করেছি—সব পথই মানি। শাক্তদেরও মানি, বৈষ্ণবদেরও মানি, আবার বেদান্তবাদীদেরও মানি। এখানে তাই সব মতের লোক আসে। আর সকলেই মনে করে, ইনি আমাদেরই মতের লোক। আজকালকার ব্রহ্মজ্ঞানীদেরও মানি।

    “একজনের (Ramakrishna) একটি রঙের গামলা ছিল। গামলার আশ্চর্য গুণ যে, যে রঙে কাপড় ছোপাতে চাইবে তার কাপড় সেই রঙেই ছুপে যেত।

    “কিন্তু একজন চালাক লোক বলেছিল, ‘তুমি যে-রঙে রঙেছো, আমায় সেই রঙটি দিতে হবে।’ (ঠাকুর ও সকলের হাস্য)

    “কেন একঘেয়ে হব? ‘অমুক মতের লোক তাহলে আসবে না।’ এ ভয় আমার নাই। কেউ আসুক আর না আসুক তাতে আমার বয়ে গেছে;—লোক কিসে হাতে থাকবে, এমন কিছু আমার মনে নাই। অধর সেন বড় কর্মের জন্য মাকে বলতে বলেছিল—তা ওর সে কর্ম হল না। ও তাতে যদি কিছু মনে করে, আমার (Ramakrishna) বয়ে গেছে!”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “আবার সেই সমাধি! আবার নিস্পন্দন দেহ, স্তিমিতি লোচন, দেহ স্থির

    আরও পড়ুনঃ দেখিয়াই ঠাকুর উচ্চহাস্য করিয়া ছোকরাদের বলিয়া উঠিলেন, “ওই রে আবার এসেছে”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

  • Masan Holi: বারাণসীতে পালিত হয় মশান হোলি, এই উৎসব সম্পর্কে জানেন?

    Masan Holi: বারাণসীতে পালিত হয় মশান হোলি, এই উৎসব সম্পর্কে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এটাও হোলি। তবে রংয়ের উৎসব নয়। এদিন ভক্তদের সঙ্গে হোলি খেলেন দেবাদিদেব মহাদেব। হোলি খেলা হয় শ্মশানে, ভূতপ্রেত এবং তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনের সঙ্গে (Masan Holi)। উত্তরপ্রদেশের এই হোলি মশান হোলি নামে পরিচিত। এ বছর এই মশান হোলি পালিত হবে ১১ মার্চ। এতে অংশ নেন নাগা সন্ন্যাসীরাও (Naga Sadhus)। আরাধ্য দেবতার সঙ্গে তাঁরা ভস্ম নিয়ে খেলেন হোলি।

    হোলি খেলা হবে মণিকর্ণিকা ঘাটে (Masan Holi)

    তামাম ভারতের মধ্যে কেবল বারাণসীতেই পালিত হয় এই উৎসব। ভস্মের পাশাপাশি এদিন রং খেলাও হয়। তবে বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে ফি বছর যে হোলি খেলা হয়, সেখানে সাধু ও অঘোরীরা শিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ছাই দিয়েই হোলি খেলেন। এবার অনেক বেশি নাগা সন্ন্যাসীর ভিড় হবে বারাণসীতে। কারণ প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে চলছে মহাকুম্ভ। সেখানে স্নান সেরে নাগা সন্ন্যাসীরা আসবেন মহাদেবের সঙ্গে এই হোলি খেলায় অংশ নিতে।

    মশান হোলি

    নাগা সন্ন্যাসী রঘুনন্দন (Masan Holi) গিরি বলেন, “আমরা মশান হোলি পর্যন্ত বারাণসীতেই থাকব। তারপর রওনা দেব কেদারনাথের উদ্দেশে।” তিনি বলেন, “মশান হোলি বাবা বিশ্বনাথের একটি মহা আশীর্বাদ। আমরা এই প্রথা বজায় রাখব।” তিনি জানান, এটা কেবল বারাণসীতেই হয়, নাসিক, উজ্জ্বয়িনী কিংবা হরিদ্বারে হয় না।

    প্রতিবারের মতো এবারও মশান হোলির প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রাক্তন মহন্তের আশ্রম থেকে সূচনা হবে এই উৎসবের। ২৬ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রি। এদিন হবে শিব-পার্বতীর বিয়ে। ৮ মার্চ হবে শগুন। পরের দিনই পালিত হবে গৌনা। ১০ মার্চ বিশাল পালকি যাত্রা রওনা দেবে বিশ্বনাথ মন্দিরের উদ্দেশে। এদিন পালিত হবে রংভরি একাদশী। তার পরের দিনই মণিকর্ণিকা ঘাটে অনুষ্ঠিত হবে মশান হোলি (Masan Holi)। এদিন শিবের রৌপ্য নির্মিত মূর্তিতে তেল-হলুদও মাখানো হয়।

    বালক গিরি নেপালি। তিনিও নাগা সন্ন্যাসী। মশান হোলিতে যোগ দেবেন তিনিও। বলেন, “আমি কুম্ভস্নান সেরে বেনারস থেকে প্রয়াগরাজে এসেছি। এবারও আমি শিবরাত্রি এবং হোলি খেলব বিশ্বনাথের সঙ্গে। প্রতি বছরই আমরা (Naga Sadhus) ভোলেনাথের সঙ্গে হোলি খেলি (Masan Holi)।”

  • Maa Jayanti Mandir: মেঘালয়ের মা জয়ন্তী মন্দির, একান্ন শক্তিপীঠের অন্যতম, জানুন ইতিহাস

    Maa Jayanti Mandir: মেঘালয়ের মা জয়ন্তী মন্দির, একান্ন শক্তিপীঠের অন্যতম, জানুন ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেঘালয়ের (Meghalaya) পশ্চিম জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলায় রয়েছে বিখ্যাত একটি পুরোনো মন্দির (Maa Jayanti Mandir)। এর নাম নার্তিয়াং দুর্গা মন্দির। এই মন্দিরের বয়স ৬০০ বছরেরও বেশি বলে মনে করা হয়। ৫১ শক্তিপীঠের মধ্যে অন্যতম এই মন্দিরটি হিন্দু শাক্ত ভক্তদের কাছে অন্যতম পবিত্র স্থান। মেঘালয়ের জয়ন্তিয়া পাহাড়ের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই মন্দিরটিই দেবী দুর্গার স্থায়ী আবাসস্থল। দুর্গাপুজো উপলক্ষে সারা দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রী এই মন্দিরে এসে ভিড় জমান। এছাড়া সারাবছর ধরেই প্রচুর ভক্ত আসেন এই মন্দিরে। প্রসঙ্গত, নার্তিয়াং দেবী মন্দিরের আরাধ্যা দেবী শক্তি জয়ন্তী এবং ভৈরব কামাদিশ্বর।

    মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পৌরাণিক আখ্যান (Maa Jayanti Mandir)

    পৌরাণিক আখ্যান অনুসারে, রাজা দক্ষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মহাদেবকে বিয়ে করেছিলেন তাঁর কন্যা সতী। মহাদেবের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দক্ষ রাজা বৃহস্পতি নামে এক যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। যজ্ঞে সতী কিংবা মহাদেব কাউকেই আমন্ত্রণ জানাননি দক্ষ। মহাদেবের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সতী বাবার আয়োজিত যজ্ঞানুষ্ঠানে যান। সেখানে দক্ষ মহাদেবকে অপমান করেন। স্বামীর অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী দেহত্যাগ করেন। শোকাহত মহাদেব দক্ষর যজ্ঞ পণ্ড করেন এবং দেবী সতীর শবদেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। তাঁর তাণ্ডব বন্ধ করতে অন্যান্য দেবতাদের অনুরোধে বিষ্ণুদেব তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহচ্ছেদ করেন। সতীর দেহের ৫১ খণ্ড ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে এবং পবিত্র পীঠস্থান শক্তিপীঠ বা সতীপীঠ (Maa Jayanti Mandir) নামে পরিচিতি। নার্তিয়াং সেই শক্তিপীঠের অন্যতম।

    কোচবিহারে বিয়ে করেন জয়ন্তিয়া রাজা জাসো মানিক

    হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, জয়ন্তিয়া পাহাড়ের নর্তিয়াংয়ে দেবীর বাম উরু পড়েছিল (Maa Jayanti Mandir)। তাই এখানে দেবী জয়ন্তেশ্বরী নামে খ্যাত। জয়ন্তিয়া রাজা জাসো মানিক (রাজত্বকাল ১৬০৬-১৬৪১) কোচবিহারের হিন্দু রাজা নর নারায়ণের কন্যাকে বিয়ে করেন। এর পরেই রাজ্যে হিন্দুধর্মের প্রভাব বিস্তার লাভ করে বলে জানা যায়। আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগে রাজা ধন মানিক জয়ন্তিয়া রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে নর্তিয়াংকে ঘোষণা করেছিলেন। জানা যায়, একদিন রাত্রে দেবী তাঁকে স্বপ্নে দেখা দেন এবং তাঁকে স্থানটির তাৎপর্য জানান এবং তাঁর সম্মানে একটি মন্দির তৈরি করতে বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় নর্তিয়াংয়ে জয়ন্তেশ্বরী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়।

    আলাদা রীতিতে পুজো করা হয় (Maa Jayanti Mandir)

    এই পাহাড়ি মন্দিরের আচার অনুষ্ঠান অন্যান্য জায়গার পুজোর থেকে বেশ খানিকটা আলাদা। এখানে অন্য রীতিতে দেবীর পুজো হয়। হিন্দু এবং প্রাচীন খাসি ঐতিহ্যের মিশ্রণে দেবীর পুজো হয়। স্থানীয় যিনি সর্দার থাকেন তাঁকে মন্দিরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মন্দিরে রয়েছে বলি প্রথা। আজও দুর্গাপুজোর সময় সাইয়েম ছাগল বলি দেন। দুর্গাপুজো এই মন্দিরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব বলে মনে করা হয়। দুর্গাপুজোর সময়, একটি কলা গাছকে দেবী (Maa Jayanti Mandir) হিসেবে পুজো করা হয়। ধুমধাম করে দুর্গাপুজোর শেষে গাছটিকে স্থানীয় মিন্টডু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিদায়কালে শূন্যে বন্দুকের গুলি ছুড়ে দেবীকে সম্মান জানানো হয়।

    বাংলার সংস্কৃতি এবং খাসি-জয়ন্তিয়া পাহাড়ের সংমিশ্রণে এখানে দুর্গাপুজো করা হয়

    বর্তমানে মেঘালয়ের হিন্দু সমাজের তরফ থেকে সরকারি এক প্রতিনিধি থাকেন। তিনিই কেন্দ্রীয় পুজো কমিটি মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক। মন্দিরের অর্থনৈতিক হিসাব নিকাশ, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদির দায়িত্বে রয়েছে এই কমিটি। প্রাচীন এই মন্দিরে দুর্গা পুজো অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাংলার সংস্কৃতি এবং খাসি-জয়ন্তিয়া পাহাড়ের সংমিশ্রণে এখানে দুর্গাপুজো করা হয়। তবে দেবীর মূর্তি এখানে থাকে না। দেবী মূর্তির (Maa Jayanti Mandir) পরিবর্তে খাসি প্রথা মেনে গাঁদা ফুল দিয়ে সজ্জিত একটি কলার কাণ্ডে মা দুর্গার চিত্র তৈরি হয়। সেটিই আরাধ্যা দেবী। এই মন্দিরের একেবারে কাছেই রয়েছে একটি শিব মন্দির। সেখানে রয়েছে একটি প্রাচীন কামানের ভগ্নাবশেষ। বর্তমানে এই মন্দিরের পাশে একটি হিন্দু মন্দির রয়েছে। সেখানে জয়ন্তিয়াপুর থেকে আগত আদি পুরোহিতদের সরাসরি বংশধররা পুজোর অনুষ্ঠান করেন।

    কীভাবে যাবেন এই মন্দিরে

    বিমানপথে যদি কোনও তীর্থযাত্রী যেতে চান তাহলে তাঁকে প্রথমে যেতে হবে মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে উমরোই বিমানবন্দরে। নার্তিয়াং দুর্গা মন্দির থেকে উমরোই বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ৬৭ কিলোমিটার। সড়কপথে এই শক্তিপীঠে যেতে গেলে নার্তিয়াং যেতে হবে। সেখান থেকে মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। শিলং বাসস্ট্যান্ড থেকে মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৬১ কিলোমিটার। গুয়াহাটি রেলস্টেশন থেকে এই মন্দির থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ১৫৩ কিলোমিটার।

  • Ramakrishna 271: “‘নারকেলের বেল্লো আপনা-আপনি খসে গেছে, জ্ঞান হলে উপাধি আপনি খসে পড়ে”

    Ramakrishna 271: “‘নারকেলের বেল্লো আপনা-আপনি খসে গেছে, জ্ঞান হলে উপাধি আপনি খসে পড়ে”

    শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৪, ১৯শে সেপ্টেম্বর

    “ও-দেশে যখন হৃদের বাড়িতে (কামারপুকুরের নিকট, সিওড়ে) ছিলাম। তখন শ্যামবাজারে নিয়ে গেল। বুঝলাম (Kathamrita) গৌরাঙ্গভক্ত। গাঁয়ে ঢোকবার আগে দেখিয়ে দিলে। দেখলাম গৌরাঙ্গ! এমনি আকর্ষণ—সাতদিন সাতরাত লোকের ভিড়! কেবল কীর্তন আর নৃত্য। পাঁচিলে লোক! গাছে লোক!

    “নটবর (Ramakrishna) গোস্বামির বাড়িতে ছিলাম। সেখানে রাতদিন ভিড়। আমি আবার পালিয়ে গিয়ে এক তাঁতীর ঘরে সকালে গিয়ে বসতাম। সেখানে আবার দেখি, খানিক পরে সব গিয়েছে। সব খোল-করতাল নিয়ে গেছে!—আবার ‘তাকুটী! তাকুটী!’ করছে। খাওয়া দাওয়া বেলা তিনটার সময় হতো!

    “রব উঠে গেল—সাতবার মরে, সাতবার বাঁচে, এমন এক লোক এসেছে! পাছে আমার সর্দিগর্মি হয়, হৃদে মাঠে টেনে নিয়ে যেতো;—সেখানে আবার পিঁপড়ের সার! আবার খোল-করতাল।—তাকুটী! তাকুটী! হৃদে বকলে, আর বললে, ‘আমরা কি কখনও কীর্তন শুনি নাই?’

    “সেখানকার গোঁসাইরা ঝগড়া করতে এসেছিল। মনে করেছিল, আমরা বুঝি তাদের পাওনাগণ্ডা নিতে এসেছি। দেখলে, আমি একখানা কাপড় কি একগাছা সুতাও লই নাই। কে বলেছিল ‘ব্রহ্মজ্ঞানী’। তাই গোঁসাইরা বিড়তে এসেছিল। একজন জিজ্ঞাসা (Kathamrita) করলে, ‘এঁর মালা তিলক, নাই কেন?’ তারাই একজন বললে, ‘নারকেলের বেল্লো আপনা-আপনি খসে গেছে’। ‘নারকেলের বেল্লো’ ও কথাটি ওইখানেই শিখেছি। জ্ঞান হলে উপাধি আপনি খসে পড়ে যায়।

    “দূর গাঁ থেকে লোক এসে জমা হতো (Kathamrita)। তারা রাত্রে থাকত। যে বাড়িতে ছিলাম, তার উঠানে রাত্রে মাগীরা অনেক সব শুয়ে আছে। হৃদে প্রস্রাব করতে রাতে বাহিরে যাচ্ছিল, তা বলে, ‘এইখানেই (উঠানে) করো।’

    “আকর্ষণ কাকে বলে, ওইখানেই (শ্যামবাজারে) বুঝলাম। হরিলীলায় (Ramakrishna)  যোগমায়ার সাহায্যে আকর্ষণ হয়, যেন ভেলকি লেগে যায়!”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “আবার সেই সমাধি! আবার নিস্পন্দন দেহ, স্তিমিতি লোচন, দেহ স্থির

    আরও পড়ুনঃ দেখিয়াই ঠাকুর উচ্চহাস্য করিয়া ছোকরাদের বলিয়া উঠিলেন, “ওই রে আবার এসেছে”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

  • Ramakrishna 272: “‘নেকো আমের গাছে নেকো আমই হয়, খারাপ আম হয় না, মাটির গুণে একটু ছোট বড় হয়”

    Ramakrishna 272: “‘নেকো আমের গাছে নেকো আমই হয়, খারাপ আম হয় না, মাটির গুণে একটু ছোট বড় হয়”

    শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে

    ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৪, ১৯শে সেপ্টেম্বর

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীযুক্ত রাধিকা গোস্বামী

    মুখুজ্জে ভ্রাতৃদ্বয় প্রভৃতি ভক্তগণের সহিত কথা কহিতে কহিতে বেলা প্রায় তিনটা বাজিয়াছে। শ্রীযুক্ত রাধিকা গোস্বামী আসিয়া প্রণাম করিলেন। তিনি ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে এই প্রথম দর্শন করলেন। বয়স আন্দাজ ত্রিশের মধ্যে। গোস্বামী আসন গ্রহণ করিলেন (Kathamrita)।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—আপনারা কি অদ্বৈতবংশ?

    গোস্বামী—আজ্ঞা, হাঁ।

    ঠাকুর অদ্বৈতবংশ শুনিয়া গোস্বামীকে হাতজোড় করিয়া প্রণাম করিতেছেন।

    গোস্বামী বংশ ও ব্রাহ্মণ পূজনীয়—মহাপুরুষের বংশে জন্ম

    শ্রীরামকৃষ্ণ—অদ্বৈতগোস্বামী বংশ,—আকরের গুণ আছেই!

    “নেকো আমের গাছে নেকো আমই হয়। (ভক্তদের হাস্য) খারাপ আম হয় না। তবে মাটির গুণে একটু ছোট বড় হয়। আপনি কি বলেন (Kathamrita)?”

    গোস্বামী (বিনীতভাবে)—আজ্ঞে, আমি কি জানি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna)—তুমি যাই বল,—অন্য লোকে ছাড়বে কেন?

    “ব্রাহ্মণ, হাজার দোষ থাকুক—তবু ভরদ্বাজ গোত্র, শাণ্ডিল্য গোত্র বলে সকলের পূজনীয়। (মাস্টারের প্রতি) শঙ্খচিলের কথাটি বল তো!”

    মাস্টার চুপ করিয়া আছেন দেখিয়া ঠাকুর আবার কথা কহিতেছেন—

    শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna)—বংশে মহাপুরুষ যদি জন্মে থাকেন তিনিই টেনে নেবেন—হাজার দোষ থাকুক। যখন গন্ধর্ব কৌরবদের বন্দী করলে যুধিষ্ঠির গিয়ে তাদের মুক্ত করলেন। যে দুর্যোধন এত শত্রুতা করেছে, যার জন্য যুধিষ্ঠিরের বনবাস হয়েছে তাকেই গিয়ে মুক্ত করলেন(Kathamrita)!

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “আবার সেই সমাধি! আবার নিস্পন্দন দেহ, স্তিমিতি লোচন, দেহ স্থির

    আরও পড়ুনঃ দেখিয়াই ঠাকুর উচ্চহাস্য করিয়া ছোকরাদের বলিয়া উঠিলেন, “ওই রে আবার এসেছে”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

  • Ramakrishna 270: “দেখলাম গৌরাঙ্গ! এমনি আকর্ষণ—সাতদিন সাতরাত লোকের ভিড়! কেবল কীর্তন আর নৃত্য”

    Ramakrishna 270: “দেখলাম গৌরাঙ্গ! এমনি আকর্ষণ—সাতদিন সাতরাত লোকের ভিড়! কেবল কীর্তন আর নৃত্য”

    শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৪, ১৯শে সেপ্টেম্বর

    শ্রীমুখ-কথিত চরিতামৃত — ঠাকুরের নানা সাধ

    পূর্বকথা—প্রথম কলিকাতায় নাথের বাগানে—গঙ্গাস্নান 

    ওদের বর্তমানের সাধন—মানুষ নিয়ে সাধন। মানুষকে মনে করে শ্রীকৃষ্ণ। ওরা বলে ‘রাগকৃষ্ণ’ (Ramakrishna)। গুরু জিজ্ঞাসা করে, ‘রাগকৃষ্ণ পেয়েছিস?’ সে বলে ‘হাঁ, পেয়েছি।

    “সেদিন সে মাগী এসেছিল। তার চাহুনির রকম দেখলাম, বড় ভাল নয়। তারি ভাবে বললাম (Kathamrita), ‘হরিপদকে নিয়ে যেমন কচ্চো কর—কিন্তু অন্যায় ভাব এনো না।’

    “ছোকরাদের সাধনার অবস্থা। এখন কেবল ত্যাগ। সন্ন্যাসী স্ত্রীলোকের চিত্রপট পর্যন্ত দেখবে না। আমি ওদের বলি, মেয়েমানুষ ভক্ত হলেও তাদের সঙ্গে বসে কথা কবে না; দাঁড়িয়ে একটু কথা কবে। সিদ্ধ হলেও এইরূপ করতে হয়—নিজের সাবধানের জন্য,—আর লোকশিক্ষার জন্য। আমিও মেয়েরা এলে একটু পরে বলি, তোমরা ঠাকুর দেখগে। তাতে যদি না উঠে, নিজে উঠে পড়ি। আমার দেখে আবার সবাই শিখবে।

    পূর্বকথা—ফুলুই শ্যামবাজার দর্শন ১৮৮০—অবতারের আকর্ষণ 

    “আচ্ছা, এই যে সব ছেলেরা আসছে, আর তোমরা সব আসছো, এর মানে কি? এর (অর্থাৎ আমার) ভিতরে অবশ্য কিছু আছে, তা না হলে টান হয় কেমন করে—কেন আকর্ষণ হয় (Kathamrita)?

    “ও-দেশে যখন হৃদের বাড়িতে (কামারপুকুরের নিকট, সিওড়ে) ছিলাম। তখন শ্যামবাজারে নিয়ে গেল। বুঝলাম গৌরাঙ্গভক্ত (Ramakrishna)। গাঁয়ে ঢোকবার আগে দেখিয়ে দিলে। দেখলাম গৌরাঙ্গ! এমনি আকর্ষণ—সাতদিন সাতরাত লোকের ভিড়! কেবল কীর্তন আর নৃত্য। পাঁচিলে লোক! গাছে লোক!

    “নটবর গোস্বামির বাড়িতে ছিলাম। সেখানে রাতদিন ভিড়। আমি আবার পালিয়ে গিয়ে এক তাঁতীর ঘরে সকালে গিয়ে বসতাম। সেখানে আবার দেখি(Kathamrita), খানিক পরে সব গিয়েছে। সব খোল-করতাল নিয়ে গেছে!—আবার ‘তাকুটী! তাকুটী!’ করছে। খাওয়া দাওয়া বেলা তিনটার সময় হতো!

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “আবার সেই সমাধি! আবার নিস্পন্দন দেহ, স্তিমিতি লোচন, দেহ স্থির

    আরও পড়ুনঃ দেখিয়াই ঠাকুর উচ্চহাস্য করিয়া ছোকরাদের বলিয়া উঠিলেন, “ওই রে আবার এসেছে”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

  • Ramakrishna 269: “মন চল নিজ নিকেতনে’ আর ‘যাবে কি হে দিন আমার বিফলে চলিয়ে”

    Ramakrishna 269: “মন চল নিজ নিকেতনে’ আর ‘যাবে কি হে দিন আমার বিফলে চলিয়ে”

    শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৪, ১৯শে সেপ্টেম্বর

    শ্রীমুখ-কথিত চরিতামৃত — ঠাকুরের নানা সাধ

    পূর্বকথা—প্রথম কলিকাতায় নাথের বাগানে—গঙ্গাস্নান 

    পূর্বকথা—নরেন্দ্রের জন্য ক্রন্দন—নরেন্দ্রের প্রথম দর্শন ১৮৮১ 

    “ছোকরাদের ভালবাসি কেন?—ওদের ভিতর কামিনী-কাঞ্চন এখনও ঢুকে নাই। আমি ওদের নিত্যসিদ্ধ দেখি!

    “নরেন্দ্র (Ramakrishna) যখন প্রথম এলো—ময়লা একখানা চাদর গায়ে,—কিন্তু চোখ মুখ দেখে বোধ হল ভিতরে কিছু আছে। তখন বেশি গান জানতো না। দুই-একটা গাইলে,:

    ‘মন চল নিজ নিকেতনে’ আর ‘যাবে কি হে দিন আমার বিফলে চলিয়ে।’

    “যখন আসত,—একঘর লোক—তবু ওর দিক পানে চেয়েই কথা কইতাম। ও বলত, ‘এঁদের সঙ্গে কথা কন’,—তবে কইতাম।

    “যদু মল্লিকের বাগানে কাঁদতুম,—ওকে দেখবার জন্য পাগল হয়েছিলাম। এখানে ভোলানাথের হাত ধরে কান্না!—ভোলানাথ বললে, ‘একটা কায়েতের ছেলের জন্য মশায় আপনার এরূপ করা উচিত নয়।’ মোটা বামুন একদিন হাতজোড় করে বললে, ‘মশায়, ওর সামান্য পড়াশুনো, ওর জন্য আপনি এত অধীর কেন হন?’

    “ভবনাথ নরেন্দ্রের (Ramakrishna) জুড়ি—দুজনে যেন স্ত্রী-পুরুষ! তাই ভবনাথকে নরেন্দ্রের কাছে বাসা করতে বললুম। ওরা দুজনেই অরূপের ঘর।”

    সন্ন্যাসীর কঠিন নিয়ম, লোকশিক্ষার্থ ত্যাগ—ঘোষপাড়ার সাধনের কথা 

    “আমি ছোকরাদের মেয়েদের কাছে বেশি থাকতে বা আনাগোনা করতে বারণ করে দিই।

    “হরিপদ এক ঘোষপাড়ার মাগীর পাল্লায় পড়েছে। সে বাৎসল্যভাব করে। হরিপদ ছেলেমানুষ, কিছু বোঝে না। ওরা ছোকরা দেখলে ওইরকম করে। শুমলাম হরিপদ নাকি ওর কোলে শোয়। আর সে হাতে করে তাকে খাবার খাইয়ে দেয়। আমি ওকে বলে (Kathamrita) দিব—ও-সব ভাল নয়। ওই বাৎসল্যভাব থেকেই আবার তাচ্ছল্যভাব হয়।

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “আবার সেই সমাধি! আবার নিস্পন্দন দেহ, স্তিমিতি লোচন, দেহ স্থির

    আরও পড়ুনঃ দেখিয়াই ঠাকুর উচ্চহাস্য করিয়া ছোকরাদের বলিয়া উঠিলেন, “ওই রে আবার এসেছে”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

  • Ramakrishna 268: “এ বড় উত্তম স্থান, আপনি আসবেন,—ময়ূর-ময়ূরী সব নৃত্য করছে—আর নৃত্যগীত, সর্বদাই আনন্দ!”

    Ramakrishna 268: “এ বড় উত্তম স্থান, আপনি আসবেন,—ময়ূর-ময়ূরী সব নৃত্য করছে—আর নৃত্যগীত, সর্বদাই আনন্দ!”

    শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৪, ১৯শে সেপ্টেম্বর

    শ্রীমুখ-কথিত চরিতামৃত — ঠাকুরের নানা সাধ

    পূর্বকথা—প্রথম কলিকাতায় নাথের বাগানে—গঙ্গাস্নান 

    বলরামের সহিত রাখাল বৃন্দাবনে (Ramakrishna) আছেন। প্রথম প্রথম বৃন্দাবনের খুব সুখ্যাত করিয়া আর বর্ণনা করিয়া পত্রাদি লিখিতেন। মাস্টারকে পত্র লিখিয়াছিলেন, ‘এ বড় উত্তম স্থান, আপনি আসবেন,—ময়ূর-ময়ূরী সব নৃত্য করছে—আর নৃত্যগীত, সর্বদাই আনন্দ!’ তারপর রাখালের অসুখ হইয়াছে—বৃন্দাবনের জ্বর। ঠাকুর শুনিয়া বড়ই চিন্তিত আছেন। তাঁর জন্য চন্ডীর কাছে মানসিক করেছেন। ঠাকুর (Ramakrishna) রাখালের কথা কহিতেছেন—“এইখানে বসে পা টিপতে টিপতে রাখালের প্রথম ভাব হয়েছিল। একজন ভাগবতের পণ্ডিত এই ঘরে বসে ভাগবতের কথা বলছিল (Kathamrita)। সেই সকল কথা শুনতে শুনতে রাখাল মাঝে মাঝে শিউরে উঠতে লাগল; তারপর একেবারে স্থির!

    “দ্বিতীয় বার ভাব বলরামের বাটীতে—ভাবেতে শুয়ে পড়েছিল।

    “রাখালের সাকারের ঘর—নিরাকারের কথা শুনলে উঠে যাবে।

    “তার জন্য চন্ডীকে মানলুম। সে যে আমার উপর সব নির্ভর করেছিল—বাড়িঘর সব ছেড়ে! তার পরিবারের কাছে তাকে আমিই পাঠিয়ে দিতাম—একটু ভোগের বাকী ছিল।

    বৃন্দাবন থেকে এঁকে লিখেছে (Kathamrita), এ বেশ জায়গা—ময়ূর-ময়ূরী নৃত্য করছে—এখন ময়ূর-ময়ূরী বড়ই মুশকিলে ফেলেছে!

    “সেখানে বলরামের সঙ্গে আছে! বলরামের কি স্বভাব! আমার জন্য ওদেশে (উড়িষ্যায় কোঠারে) যায় না। ভাই মাসহারা বন্ধ করেছিল আর বলে পাঠিয়েছিল, ‘তুমি এখানে এসে থাকো, মিছামিছি কেন অত টাকা খরচ কর।’—তা সে শুনে নাই—আমাকে দেখবে বলে।

    “কি স্বভাব!—রাতদিন কেবল ঠাকুর (Ramakrishna) লয়ে;—মালীরা ফুলের মালাই গাঁথছে! টাকা বাঁচবে বলে বৃন্দাবনে চার মাস থাকবে। দুশ টাকা মাসহারা পায়।“

     আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “আবার সেই সমাধি! আবার নিস্পন্দন দেহ, স্তিমিতি লোচন, দেহ স্থির

    আরও পড়ুনঃ দেখিয়াই ঠাকুর উচ্চহাস্য করিয়া ছোকরাদের বলিয়া উঠিলেন, “ওই রে আবার এসেছে”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

  • Ramakrishna 266: “মলয় পর্বতের হাওয়া লাগলে সব গাছ চন্দন হয়; কেবল শিমূল, অশ্বত্থ, বট আর কয়েকটা গাছ চন্দন হয় না”

    Ramakrishna 266: “মলয় পর্বতের হাওয়া লাগলে সব গাছ চন্দন হয়; কেবল শিমূল, অশ্বত্থ, বট আর কয়েকটা গাছ চন্দন হয় না”

    শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে ও ভক্তগৃহে

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৪, ১৯শে সেপ্টেম্বর

    দক্ষিণেশ্বরে মহেন্দ্র, রাখাল, রাধিকা গোস্বামী প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    মহেন্দ্রাদির প্রতি উপদেশ—কাপ্তেনের ভক্তি ও পিতামাতার সেবা 

    “হরিলীলা সব যোগমায়ার (Ramakrishna) সাহায্যে!

    “গোপীদের ভালবাসা—পরকীয়া রতি। কৃষ্ণের জন্য গোপীদের প্রেমোন্মাদ হয়েছিল। নিজের সোয়ামীর জন্য অত হয় না। যদি কেউ বলে, ওরে তোর সোয়ামী এসেছে! তা বলে, ‘এসেছে, তা আসুকগে,—ওই খাবে এখন! কিন্তু যদি পর পুরুষের কথা শুনে,— রসিক, সুন্দর, রসপণ্ডিত,— ছুটে দেখতে যাবে,— আর আড়াল থেকে উঁকি মেরে—দেখবে (Kathamrita)।

    “যদি খোঁচ ধর যে, তাঁকে দেখি নাই, তাঁর উপর কেমন করে গোপীদের মতো টান হবে? তা শুনলেও সে টান হয় —

    “না জেনে নাম শুনে কানে মন গিয়ে তায় লিপ্ত হলো।”

    একজন ভক্ত—আজ্ঞা, বস্ত্রহরণের মানে কি?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—অষ্টপাশ,—গোপীদের সব পাশই গিয়েছিল, কেবল লজ্জা বাকী ছিল। তাই তিনি ও পাশটাও ঘুচিয়ে দিলেন। ঈশ্বরলাভ হলে সব পাশ চলে যায়।

    যোগভ্রষ্টের ভোগান্তে ঈশ্বরলাভ

    (মহেন্দ্র মুখুজ্জে প্রভৃতি ভক্তদের প্রতি)—“ঈশ্বরের উপর টান সকলের হয় না, আধার বিশেষ হয়। সংস্কার থাকলে হয়। তা না হলে বাগবাজারে এত লোক ছিল কেবল তোমরাই এখানে এলে কেন? আদাড়েগুলোর হয় না।

    “মলয় পর্বতের হাওয়া লাগলে সব গাছ চন্দন হয়; কেবল শিমূল, অশ্বত্থ, বট আর কয়েকটা গাছ চন্দন হয় না।

    “তোমাদের টাকা-কড়ির অভাব নাই। যোগভ্রষ্ট হলে ভাগ্যবানের ঘরে জন্ম হয়,—তারপর আবার ঈশ্বরের (Kathamrita) জন্য সাধনা করে।”

    মহেন্দ্র মুখুজ্জে—কেন যোগভ্রষ্ট হয়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—পূর্বজন্মে ঈশ্বরচিন্তা করতে করতে হয়তো হঠাৎ ভোগ করবার লালসা হয়েছে। এরূপ হলে যোগভ্রষ্ট হয়। আর পরজন্মে ওইরূপ জন্ম হয়।

    মহেন্দ্র — তারপর, উপায়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna)—কামনা থাকতে—ভোগ লালসা থাকতে—মুক্তি নাই। তাই খাওয়া-পরা, রমণ-ফমন সব করে নেবে। (সহাস্যে) তুমি কি বল? স্বদারায় না পরদারায়? (মাস্টার, মুখুজ্জে, এঁরা হাসিতেছেন)

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “আবার সেই সমাধি! আবার নিস্পন্দন দেহ, স্তিমিতি লোচন, দেহ স্থির

    আরও পড়ুনঃ দেখিয়াই ঠাকুর উচ্চহাস্য করিয়া ছোকরাদের বলিয়া উঠিলেন, “ওই রে আবার এসেছে”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

LinkedIn
Share