Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Bangladesh: দীপুর নির্মম হত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন জাহ্নবী, ইউনূসকে তোপ ‘বর্বরতার বাংলাদেশ!”

    Bangladesh: দীপুর নির্মম হত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন জাহ্নবী, ইউনূসকে তোপ ‘বর্বরতার বাংলাদেশ!”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই জ্বলছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের মতো নারকীয় ঘটনা গোটা বিশ্বে গভীর ভাবে দাগ কেটে গেছে। কট্টর মৌলবাদীরা এই হিন্দু যুবকের পোড়া মাথা এবং ধড় নিয়ে উল্লাসের নৃত্য করেছে। শুধু তাই নয় অন ক্যামেরায় ভিডিও করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াও হয়েছে। কট্টর ইসলামপন্থী মৌলবাদীদের নয়নের মণি মহম্মদ ইউনূসের ভূমিকায় সরাসরি তোপ দেগেছেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর (Janhvi Kapoor kajal Aggarwal)। সম্পূর্ণ ঘটনাকে “বর্বরতার বাংলাদেশ” বলে উল্লেখ করেছেন। একই ভাবে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী কাজল আগরওয়ালা, অভিনেত্রী জয়া প্রদা।

    ভিডিওগুলি সামাজিক মাধ্যমে এখনও ঘুরছে (Bangladesh)

    বাংলাদেশে (Bangladesh) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এবার এই বিবৃতির প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশের কট্টর মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর (Janhvi Kapoor kajal Aggarwal)। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যা ঘটেছে অত্যন্ত জঘন্য এবং বর্বরতার পরিচয়। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গণপিটুনি দিয়ে অমানবিক ভাবে খুন করা হয়েছে। ভিডিওগুলি সামাজিক মাধ্যমে এখনও ঘুরছে ভালো করে দেখুন। প্রশ্ন করুন। আর এই সব ঘটনা দেখে যদি আপনাদের বোধোদয় না হয়, তাহলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আপনাদের ভণ্ডামির জন্য সব ধ্বংস হয়ে যাবে।” তবে এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী।

    কেঁদেও কূল পাবেন না

    জাহ্নবী (Janhvi Kapoor kajal Aggarwal) আরও বলেন, “আমাদের ভাইবোনদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। গোটা বিশ্বকে এই সন্ত্রাস গ্রাস করবে। আর তখন কেঁদেও কূল পাবেন না। তাই পৃথিবীর বুক থেকে মানবতা মুছে যাওয়ার আগে যে কোনও রকম কট্টর মনোভাবকে উগ্রবাদকে গুঁড়িয়ে দিন।” বাংলাদেশের ঘটনা সারা বিশ্বের কাছে চরম অমানবিকতার পরিচয়বাহী। একটি ভার্চুয়াল প্রতিবাদে যোগদান করেছিলেন, কাজল আগরওয়াল, পবন কল্যাণ, মুনাওয়ার ফারুকী সহ আরও অনেকেই। ইতিমধ্যে দীপুর উপর প্রতিবাদ নিয়ে গান বেঁধেছেন নেহা, টনি কক্কর।

    জেগে ওঠো হিন্দুরা

    বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু হত্যার বিরুদ্ধে বলিউড অভিনেত্রী কাজল আগরওয়াল (Janhvi Kapoor kajal Aggarwal) নিজের সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন, “অল আইজ অন বাংলাদেশ হিন্দুস। প্রতিবেশি রাষ্ট্রে লাগাতার হিন্দুদের উপর নির্যাতন চলছে। ইসলামি উগ্রপন্থীরা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হিন্দুদের নির্মম ভাবে হত্যা করছেন। সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মীয় সন্ত্রাস দিন দিন মারাত্মক আকার নিয়েছে। একই ভাবে তিনি নিজের পোস্টে গণপিটুনি, গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ছবিও বিনিময় করেছেন। শুধু তাই নয় সেই সঙ্গে লিখেছেন, “জেগে ওঠো হিন্দুরা নীরবতা তোমাদের বাঁচাতে পারবে না।”

    আর কতক্ষুণ চুপ থাকবো!

    দীপু হত্যাকাণ্ডের (Bangladesh) বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ জয়া প্রদা। তিনি বলেন, “দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড গভীর ভাবে ব্যথিত করেছে। আমি খুবই দুঃখিত, আমার হৃদয় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। নিরীহ হিন্দু বলেই মৌলবাদীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। শুধু পিটিয়ে হত্যাই নয়, গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। এটাই কি নতুন বাংলাদেশ। প্রকাশ্যে গণপিটুনি মানেই হিংস্রতার চরম সীমায় পৌঁছে যাওয়া। মন্দির ভেঙে ফেলা হচ্ছে, হিন্দু বাড়িতে লক্ষ্য করে আগুন ধরিয়ে দেওয় হচ্ছে। মহিলাদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। আমরা আর কতক্ষুণ চুপ থাকবো। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা চুপ করে বসে আছি। আমাদের এবার আওয়াজ তুলতে হবে। সকল জায়গায় আক্রান্ত হওয়া হিন্দুদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকার দেশ রাষ্ট্র সকলের দায়বদ্ধতা রয়েছে।”

    গাজা নিয়ে তৎপর! বাংলাদেশে কেন নয়?

    আবার অভিনেতা মনোজ যোশী বলেন, “গাজা বা ফিলিস্তিনে কোনও কিছু ঘটলেই সকলে এগিয়ে আসেন। কিন্তু হিন্দু নির্যাতন হলে বাংলাদেশ (Bangladesh) নিয়ে বক্তব্য উঠে আসেনা। একজন হিন্দুকে যেখানে হত্যা করা হয়েছে কেউ কোনও কথা বলছেন না।” গায়ক টনি কক্কর তার নতুন গান ‘চার লগ’–এ দীপু দাসের গণপিটুনির কথা উল্লেখ করেছেন। গানে ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং বৈষম্যকে দূর করার আহ্বান জানান।

    এখনও পর্যন্ত এই হত্যা মামলায় ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে দীপুর বিরুদ্ধে কোনও রকম ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য বা কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলেনি। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, দীপুর বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও সাক্ষী পাওয়া যায়নি।

  • Amit Shah: “শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে ভারত, শুরু হবে রপ্তানি”, অমিত শাহ

    Amit Shah: “শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে ভারত, শুরু হবে রপ্তানি”, অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ধীরে ধীরে কেবল একটি বড় বাজার নয়, বরং একটি উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। সেই দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গোয়ালিয়রে অনুষ্ঠিত ‘অভ্যুদয় মধ্যপ্রদেশ গ্রোথ সামিট’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানালেন, সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductors) ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে ভারত দ্রুত এডেস্কঃ এবং অদূর ভবিষ্যতেই এই খাতে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে ভারত।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কেবল স্লোগান নয় (Amit Shah)

    অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রবেশ করতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রবেশটা হয়েছে খুব শক্ত ভিতের উপর। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত শুধু এই ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরই হবে না, বরং বিশ্বের বাজারে সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductors) রপ্তানি শুরু করবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এখন কেবল স্লোগান নয়, বরং প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে।

    মধ্যপ্রদেশের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যটির ভৌগোলিক অবস্থান ও উর্বর জমির বিশেষ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রদেশ এমন একটি রাজ্য যেখানে তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগেও বড় মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির রাজ্য থেকে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্যে রূপান্তর এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকেও তিনি ‘উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে তুলে ধরেন।

    এই গ্রোথ সামিটে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগমূল্যের একাধিক শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী-র ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে। বাজপেয়ীকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “অটলজি ছিলেন এক অসাধারণ বক্তা, সংবেদনশীল কবি, জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং রাজনীতিতে ‘অজাতশত্রু’ – যাঁর কোনও শত্রু ছিল না।”

    এদিন অমিত শাহ শ্রদ্ধা জানান সমাজ সংস্কারক পণ্ডিত মদন মোহন মালব্যের জন্মবার্ষিকীতে এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল সি রাজাগোপালাচারীর মৃত্যুবার্ষিকীতেও। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, আধুনিক ভারতের নির্মাণে এই মনীষীদের অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

    অটল মিউজিয়াম

    সামিট উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) গোয়ালিয়র মেলার উদ্বোধন করেন এবং অটল মিউজিয়ামের সংস্কার কাজ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। জানা গেছে, এই গ্রোথ সামিটে প্রায় ২৫ হাজার উপভোক্তা, পাশাপাশি হাজার হাজার উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী (Semiconductors) অংশগ্রহণ করছেন। সামিটে ঘোষিত ও উদ্বোধন হওয়া শিল্প প্রকল্পগুলির মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৯৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, এই সামিট কেবল একটি বিনিয়োগ সম্মেলন নয়-বরং তা ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আত্মনির্ভরতার দিকেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Ghar Wapsi in Bihar: বড়দিনে বিহারের পূর্ণিয়ায় ঘর ওয়াপসি, শতাধিক মানুষের সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন

    Ghar Wapsi in Bihar: বড়দিনে বিহারের পূর্ণিয়ায় ঘর ওয়াপসি, শতাধিক মানুষের সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের পূর্ণিয়া জেলার বনমনখিতে বড়দিনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দল-এর উদ্যোগে একটি ঘর ওয়াপসি (Ghar Wapsi in Bihar) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক মানুষ সনাতন ধর্মে ফিরে আসেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা হোম-যজ্ঞ, হাভন এবং তিলক গ্রহণসহ বিভিন্ন শুদ্ধিকরণ আচার সম্পন্ন করেন। এরপর প্রকাশ্যে তাঁরা জানান, তাঁরা আর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নন। অংশগ্রহণকারীরা বনমনখি ও বাইসি ব্লকের অধীন একাধিক গ্রামের বাসিন্দা।

    আর্থিক সাহায্য ও সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি

    ভিএইচপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই এর আগে আর্থিক প্রলোভন ও চাপের মাধ্যমে সনাতন ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন। ভিএইচপি’র বিহার-ঝাড়খণ্ড ধর্ম প্রসার প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা অভিযোগ করেন, খ্রিস্টান মিশনারিরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য ও সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্মান্তরে প্রলুব্ধ করেছিলেন। তাঁর কথায়, “এরা নিজেদের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন। সত্য বুঝতে পেরে তাঁরা স্বেচ্ছায় সনাতন ধর্মে ফিরে এসেছেন।” অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হরিনটোড় গ্রামের সুরেন্দ্র রাই, তাঁর স্ত্রী মীনা দেবী ও কালু হারিজন তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। মীনা দেবী জানান, ধর্মান্তরের পর তাঁদের হিন্দু দেব-দেবীর উপাসনা করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল এবং তাঁদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমাদের ঐতিহ্য মানতে দেওয়া হত না। সব কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।” পরে তিনি বাইসি থানায় যান এবং ভিএইচপি’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান।

    ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে আর প্রতিশ্রুতি পূরণ হয় না

    সুরেন্দ্র রাই বলেন, লোভ বা প্রলোভনের কারণে নিজের ধর্ম ত্যাগ না করার জন্য অন্যদের সতর্ক থাকা উচিত। তিনি বলেন, “আমরা ভুল করেছিলাম, আজ সেই ভুল সংশোধন করলাম”। কালু হারিজনও একই আবেদন জানিয়ে বলেন,“কেউ যেন আর্থিক প্রলোভন বা চাপে পড়ে নিজের বিশ্বাস ত্যাগ না করেন।” তাঁদের কথায়, ধর্মান্তরণের জন্য নিজেদের সমাজ ও আত্মীয়-স্বজন থেকেও দূরে সরে যাচ্ছিলেন তাঁরা। তাই এরা সকলেই হিন্দু ধর্মে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তাঁরা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ঘরে ফিরেছেন। এই এলাকার গ্রামবাসীদের মতে, ধর্মপ্রচারকারীরা ষড়যন্ত্র করে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও অভাবী লোকদের ধর্মান্তরিত করতে প্ররোচিত করে। মানুষকে ধর্মান্তরিত করার জন্য বাড়ি, টাকা, চাকরি এবং চিকিৎসার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এভাবেই গ্রামের একাধিক পরিবার খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের এই ষড়যন্ত্রে আটকে পড়ে বলে অভিযোগ। যাঁরা ধর্মান্তরিত হয়েছেন তাঁরা গ্রামবাসীদের দ্বারাও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। গ্রামবাসীরা তাঁদের কোনও কর্মসূচিতেই অংশ নেয় না, এমনকী বিয়েতেও এসব লোকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে না বলে অভিযোগ। ধর্মপ্রচারকরা এই নিরীহ লোকদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে আর পূরণ হয় না। ভিএইচপি নেতৃত্বের মতে, এই ঘর ওয়াপসি অনুষ্ঠান অঞ্চলটিতে তথাকথিত প্রতারণামূলক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দিয়েছে।

  • Veer Bal Diwas: তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে বীর বাল দিবস, জানেন এই দিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব?

    Veer Bal Diwas: তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে বীর বাল দিবস, জানেন এই দিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ইতিহাস কেবল তারিখ আর যুদ্ধের সংকলন নয়। এই ইতিহাসের মধ্যে মানবিক অভিপ্রায় এবং সংবেদনশীলতাও রয়েছে। ভারতীয়রা (Young Bharat) কীভাবে নিজেদের সাহস, নৈতিক দৃঢ়তা এবং আত্মিক শক্তিকে জীবন্ত করে রেখেছে তারও বাস্তব উদাহরণ রেখে গিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। প্রতি বছর ২৬শে ডিসেম্বর পালিত হয় বীর বাল দিবস (Veer Bal Diwas)। এই দিনটি ইতিহাসের পাতায় একটি অমর অধ্যায়। এই দিনেই দশম শিখ গুরু, গুরু গোবিন্দ সিং-এর কনিষ্ঠ পুত্রদ্বয়—জোরাবর সিং এবং ফতেহ সিং-আত্মবলিদান দিয়েছিলেন। না নিজের ধর্ম এবং রাষ্ট্রের জন্য বিদেশী শাসকের বশ্যতা স্বীকার করেননি। মাত্র নয় আর ছয় বছর বয়সে দুই বালক নিজদের বীরত্বের পরিচয়ে অমর হয়ে আছে। মুঘল শাসকদের সামনে তারা নিজধর্ম এবং আত্ম-সম্মান রক্ষার জন্য যে সাহস দেখিয়েছিল , তাদের সেই বলিদান আজও ভারতবাসীর কাছে অমর।

    দেওয়ালের মধ্যে গেঁথে হত্যা করা হয়েছিল (Veer Bal Diwas)

    তখন সময়টা ছিল ১৭০৫ সাল। মুঘল অত্যাচার তখন চরমে, এবং গুরু গোবিন্দ সিং জির পরিবারকে চরম কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল। গোবিন্দ সিং-এর দুই পুত্রের ঠাকুমা গুজরিকেও বন্দি করা হয়। মুঘল শাসক উজির খানের নির্দেশে তাদের ধর্ম ত্যাগ করার জন্য হুমকি, প্রলোভন এবং ক্রমাগত চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই শিশুরা অসাধারণ স্থিরতা ও সংকল্পের সঙ্গে মুঘলদের সবরকম দাবিকে নস্যাৎ করে। ফলস্বরূপ, তাদের জীবন্ত অবস্থায় একটি দেওয়ালের মধ্যে গেঁথে হত্যা করা হয়। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল না, এটি ছিল মানব আত্মার সর্বোচ্চ পরীক্ষা—যেখানে শরীরকে নিষ্ঠুর ভাবে আঘাত করলেও তাদের স্থির সিদ্ধান্ত ছিল অটুট। আর এই জন্যই গোবিন্দ সিং-এর দুই সন্তান কর্ম এতো মহৎ (Veer Bal Diwas) হয়ে উঠেছে।

    বয়স একটা সংখ্যামাত্র

    দেশের শিশু ও যুব সমাজ যাতে এই আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে, সেই লক্ষ্যে ২০২২ সালে ভারত সরকার ২৬ ডিসেম্বরকে বীর বাল দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই দিনটি শুধু স্মরণের জন্য নয়, দিনের সত্যতা, নৈতিকতা এবং আত্ম-সম্মানকে আমাদের জীবনের কেন্দ্রে যাতে রাখার মন্ত্র স্বরূপ ভাবা যায় সেই কথাকেই সরকারের তরফ থেকে প্রচার করা হয়। ফলে অনেক ইতিহাসবিদরাই মনে করছেন বয়স একটা সংখ্যামাত্র, মনের অভীষ্ট সিদ্ধান্ত কতটা সুদূর প্রসারী (Young Bharat) হতে পারে তা এই বাল দিবসের (Veer Bal Diwas) ভাবনায় স্পষ্ট।

    জেন জি-দের জন্য অনুপ্রেরণার

    বর্তমানে, এই বীর বাল দিবসের (Veer Bal Diwas) ভাবনা জেন জি (Gen Z)-এর জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। যারা গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্যের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তাদের জন্য ভীষণ ভাবে অণুপ্রেরণা দেবে। গবেষণায় দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজন ভারতীয় তরুণের মধ্যে প্রায় একজন উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা মানসিক কষ্টের লক্ষণ দেখায়। এই সময়ে, বীর বাল দিবসের গল্পটি একটি প্রতিবিম্বের মতো। সেই সঙ্গে একটি প্রদীপের মতও। এক দিকে যেমন প্রতিরূপ (Young Bharat) দেখায় ঠিক একই ভাবে আবার  উদ্যমতার আগুনও জ্বালিয়েও দেয়।

    বীরত্ব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়

    গুরু গোবিন্দ সিং-এর দুই সন্তানের জীবন আজকের তরুণ প্রজন্মের সমাজকে শেখায় আত্ম-সম্মান বাইরের অনুমোদন থেকে নয়, বরং ভেতরের বিশ্বাস থেকে আসে। চরম চাপের মধ্যেও তারা নিজেদের মূল্যবোধে অবিচল ছিলেন। তাদের গল্প আমাদের (Young Bharat) মনে করিয়ে দেয়, জীবনের মহত্ত্ব, তার দৈর্ঘ্যে নয়, বরং তার গভীরতা ও উদ্দেশ্যের মধ্যে নিহিত রয়েছে। মানসিক দৃঢ়তা বয়সের দ্বারা আবদ্ধ নয়। জীবনের পূর্ণতা কর্ম এবং আদর্শের মধ্যেই। আজকের জগতে, বীরত্ব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, মনের ভেতরের ভূখণ্ডেও সমানভাবে প্রয়োজন। পড়াশোনায় ব্যর্থ হওয়ার পর আবার উঠে দাঁড়ানো, মানসিক কষ্ট নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা, সাহায্য চাওয়া, ক্ষতিকারক অভ্যাস ত্যাগ করা এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, এই সকল ক্ষেত্রে বীর বাল দিবসের (Veer Bal Diwas) গুরুত্ব অপরিসীম।

    মানসিক স্বাস্থ্যের অগ্রগতি বৃদ্ধি পাবে

    ২০২৫ সালের এই বীর বাল দিবস (Veer Bal Diwas) আজকের তরুণদের এই আশ্বাস দেয় যে তারা একা নয়। তারা এমন এক উত্তরাধিকারের ধারক যা মানসিক শক্তি, আত্ম-সম্মান এবং উদ্দেশ্যের অনুভূতির ধারক বাহক। তাই বীর বাল দিবসে নিজেরা এবং পারিপার্শ্বিক বন্ধুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অগ্রগতি কিভাবে বৃদ্ধি পাবে তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা যেতে পারে। একে অপরের কথা শোনা এবং সাহস নিয়ে বাঁচতে শেখার সংকল্পও গ্রহণ করে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ সমাজকে মূল্যবোধের দ্বারা মনকে আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ ভাবে অনুপ্রেরণার সঞ্চার করে।

  • Dhruv Criticize Janhvi: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যা, জানভি কাপুরের পোস্টের পর ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

    Dhruv Criticize Janhvi: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যা, জানভি কাপুরের পোস্টের পর ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করেছেন বলিউড অভিনেত্রী জানভি কাপুর (Dhruv Criticize Janhvi)। তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পরপরই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির একটি পাল্টা পোস্ট করেন। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জানভি কাপুর একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাংলাদেশে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডকে “নৃশংস” বলে উল্লেখ করেন। তিনি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। হিংসার ঘটনায় বেছে বেছে প্রতিবাদ করার প্রবণতার সমালোচনা করেন জানভি।

    অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হিন্দুরা

    সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রতিদিনই অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে হিন্দুদের। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। নীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আক্রমণ করে। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এই ঘটনাকে নিষ্ঠুর, নৃশংস এবং অমানবিক অ্যাখ্যা দেন জানভি। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল যে ভৌগোলিক অবস্থান বা মতাদর্শ নির্বিশেষে সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধেই সমানভাবে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

    জানভি কাপুরকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট

    এই ঘটনার দিকে জানভি কাপুর দৃষ্টি আকর্ষণ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্রুব রাঠি তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে “ডার্ক সাইড অফ বিউটি” শিরোনামের একটি ইউটিউব ভিডিও প্রচার করেন। যার থাম্বনেইলে জানভি কাপুরের ছবি ব্যবহার করা হয়। পোস্টের সময় নির্বাচন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, জানভি কাপুরের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নিন্দাকে আড়াল করতেই ধ্রুব রাঠি ওই ভিডিওটি প্রচার করেছেন। যদিও ধ্রুব রাঠি নিজে এই হত্যাকাণ্ড বা বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।

  • Bharat Taxi: আসছে দেশের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’! যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য দাবি শাহের

    Bharat Taxi: আসছে দেশের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’! যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য দাবি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi) চালু হতে চলেছে দিল্লিতে। চালকদের আয় বাড়ানো এবং যাত্রী পরিষেবা উন্নত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার শীঘ্রই ‘ভারত ট্যাক্সি’ পরিষেবা চালু করতে চলেছে। সম্প্রতি এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিষেবা চালু করতে চলেছে। ট্যাক্সি পরিষেবার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রের খবর, চালকরা ভাড়ার লভ্যাংশ থেকে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। যার জন্য একটি মাসিক ক্রেডিট সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে।

    যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য

    হরিয়ানার পঞ্চকুলায় অনুষ্ঠিত সহকারী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, সমবায় মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হতে যাওয়া এই পরিষেবায় অর্জিত সমস্ত লাভই চালকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। অমিত শাহের কথায়, “আমরা খুব শীঘ্রই ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi) পরিষেবা চালু করব, যার প্রতিটি টাকার লাভ যাবে আমাদের চালক ভাইদের কাছে। এতে যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে এবং একই সঙ্গে চালকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।” দেশের অ্যাপ ক্যাব বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চলেছে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম ‘ভারত ট্যাক্সি’। সূত্রের খবর, নতুন এই পরিষেবাটি জানুয়ারি মাসে নয়াদিল্লিতে পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু হতে চলেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দিল্লি এবং গুজরাটের বেশ কিছু অংশে পরীক্ষামূলক ভাবে পরিষেবা শুরু হয়েছিল ভারত ট্যাক্সির। এই নতুন পরিষেবা ওলা, উবর এবং র‌্যাপিডোর মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলিকে টক্কর জোর টক্কর দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভারত ট্যাক্সি কী?

    ভারত ট্যাক্সি (Bharat Taxi) পরিচালনা করছে সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড। এই প্ল্যাটফর্মকে চালক-মালিকানাধীন দেশীয় মোবিলিটি পরিষেবা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সংস্থার দাবি এটি বিশ্বের বৃহত্তম ড্রাইভার-ওনড মোবিলিটি নেটওয়ার্ক। বর্তমানে দিল্লি এবং গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে গাড়ি, অটো-রিকশা ও বাইক ট্যাক্সি মিলিয়ে এক লক্ষের বেশি চালক এই প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত রয়েছেন। ভারত ট্যাক্সি অ্যাপে স্বচ্ছ ভাড়া কাঠামো, একাধিক ভাষা, রিয়েল-টাইম গাড়ি ট্র্যাকিং এবং ২৪ ঘণ্টার গ্রাহক সহায়তার সুবিধা রয়েছে। যাত্রী ও চালক—দু’পক্ষের নিরাপত্তার জন্য যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সংযোগ রেখে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

    জিরো কমিশন মডেল

    ভারত ট্যাক্সির (Bharat Taxi) সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিরো-কমিশন মডেল। এই ব্যবস্থায় চালকরা ভাড়ার পুরো অর্থ নিজেরাই রাখতে পারবেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত চালকদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ক্যাব অপারেটর। এ ছাড়াও রয়েছেন অটো-রিকশা এবং বাইক ট্যাক্সির চালকেরা। সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ ইতিমধ্যেই ভারত ট্যাক্সির মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস— দুই প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অ্যাপটি ৭৫ হাজারের বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে।

    ভাড়ার হার ও পরিষেবা

    এই প্ল্যাটফর্মে এসি, প্রিমিয়াম, নন-এসি এবং এক্সএল ক্যাবের অপশন মিলবে। সংস্থার দাবি, দু’মিনিটের মধ্যেই গাড়ি পাওয়া যাবে। ভাড়ার হারও তুলনামূলকভাবে অন্য সংস্থার থেকে কম থাকবে। এই অ্যাপে প্রথম ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ন্যূনতম ভাড়া ৩০ টাকা। ৪ থেকে ১২ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২৩ টাকা এবং ১২ কিলোমিটারের বেশি হলে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ টাকা ধার্য করা হবে। অন্যান্য অ্যাগ্রিগেটরদের মতোই ভারত ট্যাক্সি অ্যাপটি মেট্রোর মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পরিষেবার সঙ্গেও যুক্ত। ফলে ব্যবহারকারীরা একটি মাত্র অ্যাপের মাধ্যমেই যাতায়াতের একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করে পুরো যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারবেন। বর্তমানে দিল্লি ও গুজরাটে পরীক্ষামূলক পরিষেবা চালু রয়েছে। ব্যবহারকারীরা মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন আপ করতে পারবেন। পিক-আপ ও ড্রপ লোকেশন নির্বাচন করে পছন্দের রাইড বেছে নেওয়া যাবে। যাত্রার পুরো সময় রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং করা যাবে। ব্যবহার প্রক্রিয়া অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার অ্যাপের মতোই সহজ।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন জনমুখী নীতি

    হরিয়ানার ওই অনুষ্ঠানে অমিত শাহ দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন জনমুখী নীতি নিয়ে কথা বলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাজেট বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে অমিত শাহ জানান, ২০১৪ সালে যেখানে কৃষি বাজেট ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকা। একইভাবে, গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৮০ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা। দেশের উন্নয়নে হরিয়ানার অবদানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন শাহ। তিনি বলেন, “হরিয়ানা রাজ্যের কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও দুগ্ধ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অসংখ্য পদক এনে জাতীয় পতাকাকে গর্বিত করেছেন।” পাশাপাশি, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবকে দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর করার ক্ষেত্রে কৃতিত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় হরিয়ানা থেকেই সর্বাধিক সংখ্যক সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য দেশকে রক্ষা করছেন।

     

     

     

     

     

  • Atal Canteen: ৫ টাকায় পেট ভরে ভাত-ডাল-রুটি-সবজি, দিল্লিতে খোলা হল ১০০টি ‘অটল ক্যান্টিন’

    Atal Canteen: ৫ টাকায় পেট ভরে ভাত-ডাল-রুটি-সবজি, দিল্লিতে খোলা হল ১০০টি ‘অটল ক্যান্টিন’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবেলা দুমুঠো অন্ন সংস্থান করতে যাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়, তাদের জন্য বড় উপহার। এবার ভরপেট খাবার মিলবে, আর খরচ? মাত্র পাঁচ টাকা। কোথায় পাবেন এত সস্তায় খাবার? দিল্লি সরকার আজ, ২৫ ডিসেম্বর উদ্বোধন করল অটল ক্যান্টিনের। মাত্র পাঁচ টাকাতেই পাওয়া যাবে খাবার। দিল্লির ১০০টি জায়গায় এই খাবার পাওয়া যাবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে এই উদ্য়োগ নেওয়া হয়েছে।

    সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাবারের আশ্বাস

    দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, এই ১০০টি অটল ক্যান্টিনে গরিব, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের পরিবার দু-বেলা দুমুখো খাবার পেট ভরে খেতে পারবে। তিনি বলেন, “অটল ক্যান্টিন দিল্লির আত্মা হয়ে উঠবে। আর কেউ অভুক্ত থেকে ঘুমোতে যাবে না।” নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই শহরের বাসিন্দাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাবারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। দিল্লির নগরোন্নয়ন মন্ত্রী আশিস সুদ জানান, ক্যান্টিনগুলি বিশেষ করে দৈনিক মজুর, শ্রমিক এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির জন্য বানানো হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় হাজার জনকে খাবার সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কী কী খাবার থাকবে মেনুতে

    দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এদিন দিল্লির আর কে পুরম, জাংপুরা, শালিমার বাগ, গ্রেটার কৈলাশ, রাজৌরি গার্ডেন, নারেলা, বাওয়ানা-সহ বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি অটল ক্যান্টিনের দ্বার উন্মোচন করেন। দিল্লি সরকার সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে আরও বিভিন্ন এলাকায় বাকি ৫৫টি ক্যান্টিন খোলা হবে বলে জানিয়েছেন রেখা। দুপুরের খাবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এবং রাতের খাবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে। দিল্লি সরকার খাবার বিতরণের জন্য হাতে লেখা কুপনের পরিবর্তে একটি ডিজিটাল টোকেন ব্যবস্থা চালু করেছে। দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডের (ডিইউএসআইবি) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে সমস্ত কেন্দ্রগুলিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মাত্র পাঁচ টাকায় পাওয়া যাবে ভাত, ডাল, রুটি, সবজি ও আচার। এই প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাও-দমনে ফের বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। গত মাসেই নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারামারাজুতে নিহত হয়েছিলেন মাওবাদী শীর্ষনেতা মাডবী হিডমা। তার ঠিক এক মাসের মধ্যেই ওড়িশার (Odisha) কন্ধমলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে (Maoist Encounter) নিহত হলেন আরও এক মাওবাদী শীর্ষনেতা গণেশ উইকে। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। এই সংঘর্ষের ২৪ ঘণ্টা আগে মালকানগিরিতে ২২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। নিরাপত্তাবাহিনীর এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এটা আমাদের বাহিনীর জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। মাও নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। গণেশের মৃত্যুতে মাওবাদীদের সাংগঠনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে।’’

    রাতভর চলে এনকাউন্টার

    পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ ওড়িশার (Odisha) কন্ধমল জেলার জঙ্গলে মাওবাদীদের (Maoist Encounter) একটি দলকে ঘিরে ফেলে বিএসএফ এবং সিআরএফ জওয়ানরা। এরপর শুরু হয় ধুন্ধুমার গুলির লড়াই। তাতেই মৃত্যু হয় মোট চার জন মাওবাদীর। এই চার জনের একজন হলেন মাও সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য গণেশ উইকে। নিহত বাকি তিন জনের মধ্যে দু’জন মহিলা সদস্য বলে জানা গিয়েছে। তেলেঙ্গানার নলগোন্ডা জেলার চেন্দুর মণ্ডলের পুল্লেমালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন গণেশ উইকে। যদিও মাওবাদী সদস্যদের কাছে গণেশ পাক্কা হনুমন্তু, রাজেশ তিওয়ারি, চামরু এবং রুপা নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, গণেশের মাথার দাম ছিল এক কোটি দশ লক্ষ টাকা। হিডমার মৃত্যুর পর গণেশের খোঁজেও তল্লাশি চলছিল। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে কন্ধমলের বেলঘর থানায় খবর আসে ওই জেলার গুম্মার জঙ্গলে একদল মাওবাদী জড়ো হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শীর্ষনেতাও আছেন। সেই খবর পেয়েই রাতে অভিযানে যায় পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর যৌথ দল। রাতভর তল্লাশি অভিযান চলে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। ওডিশার ডিজিপি যোগেশ বাহাদুর খুরানিয়া জানান, প্রথম এনকাউন্টার হয় বেলঘর থানা এলাকার গুম্মার জঙ্গলে। বুধবার রাতে ওই জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন মাওবাদীদের দুই সদস্য। তাঁরা সংগঠনের ছত্তিসগড়ের সদস্য ছিলেন। জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে থ্রিনটথ্রি রাইফেল ও ইনসাস রাইফেল, প্রচুর কার্তুজ। দ্বিতীয় এনকাউন্টার হয় বৃহস্পতিবার ভোররাতে।

    সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা

    ঝিরাম ঘাঁটি হামলার অন্যতম অভিযুক্ত গণেশ প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (ডিকেএসজেডসি)-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তথাকথিত ‘রেড করিডোর’-এর বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ইউনিটগুলির মধ্যে মূল সেতুবন্ধন ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা সংস্থার মতে, পূর্বঘাটে মাওবাদী (Maoist Encounter) সংগঠন বিস্তারের ‘মস্তিষ্ক’ ছিলেন উইকে। বর্তমানে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির মাত্র তিনজন সদস্য অবশিষ্ট ছিলেন—গণেশ উইকে (ওড়িশা), মল্লারাজি রেড্ডি ওরফে সংঘম (ছত্তীসগঢ়) এবং আনন্দা ওরফে তুফান (ঝাড়খণ্ড)। এই অভিযানের ফলে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার কেন্দ্রের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব হল বলে মনে করছে প্রশাসন। চলতি বছরেই একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মে মাসে সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজ এবং নভেম্বরে কমান্ডার মাডভি হিডমার নিহত হওয়ার পর এবার গণেশ উইকের মৃত্যু সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা।

  • Cash Transfers: মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ, বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারত

    Cash Transfers: মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ, বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’দশক আগে মহিলাদের জন্য সরাসরি নগদ অর্থ হস্তান্তরকে (Cash Transfers) একটি পরীক্ষামূলক নীতি হিসেবে দেখা হত। একে অনেক সময় আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী উদ্যোগ বলে খারিজ করা হয়েছিল। কিন্তু আজ এই ব্যবস্থা ভারতের কল্যাণমূলক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগই এখন পরিণত হয়েছে তামাম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে (Bharat)।

    ভারতের মোট ব্যয় (Cash Transfers)

    ২০০৫ সালে এই ধরনের নগদ হস্তান্তরে ভারতের মোট ব্যয় ছিল আনুমানিক ১,৩০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে এসে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৪৬ লক্ষ কোটি টাকায়। রাজ্যস্তরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫টি রাজ্যের ১৩ কোটিরও বেশি নারী সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। এই দ্রুত বিস্তারই প্রমাণ করে, কীভাবে সরাসরি নগদ হস্তান্তর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি নতুন ধারণা থেকে স্বাভাবিক নীতিতে পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই পরিবর্তন বিশেষভাবে দ্রুত হয়েছে। ২০২০ সালে নারীদের জন্য বৃহৎ পরিসরের নগদ হস্তান্তর প্রকল্প ছিল মাত্র একটি রাজ্যে। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫। এই প্রবৃদ্ধি রাজ্যগুলির কল্যাণ ভাবনায় এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। খণ্ডিত ভর্তুকির ব্যবস্থা থেকে সরে এসে সরাসরি আয় সহায়তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা এখন স্পষ্ট। এই প্রকল্পগুলির মূল নীতিটি সহজ হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী। অর্থ সরাসরি একজন নারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। তাই তিনি নিজেই ঠিক করতে পারেন কীভাবে সেই অর্থ সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করবেন। তবে এর ফল শুধু পারিবারিক ভোগব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব বিস্তৃত অনেক দূর পর্যন্ত।

    পণ্যভিত্তিক ভর্তুকি

    সম্পদ, কর্মসংস্থানের অবস্থা বা পণ্যভিত্তিক ভর্তুকির সঙ্গে যুক্ত প্রচলিত কল্যাণমূলক কর্মসূচির তুলনায় সরাসরি নগদ হস্তান্তর পদ্ধতি বেশি পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বচ্ছ। সুবিধাভোগীদের কাছে এর অর্থ হল আয়ের সাহায্য পাওয়ার নিশ্চয়তা। সরকারের ক্ষেত্রে এটি পরিমাপযোগ্য ফল ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে, পাশাপাশি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমায়। নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়েও প্রমাণ বলছে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক ফল দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত নগদ হস্তান্তর পারিবারিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করে এবং গৃহস্থালির সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করে। বহু ক্ষেত্রে নারীরা জানিয়েছেন, সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ ব্যবস্থাপনায় তাঁদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে (Cash Transfers)।

    গড় মাসিক মাথাপিছু ব্যয়

    যে অর্থনীতিতে নিম্ন আয়ের পরিবারের গড় মাসিক মাথাপিছু ব্যয় ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে, সেখানে প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পারিবারিক সম্পদের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এটি কোনও প্রতীকী সহায়তা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থ মাসিক বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নগদ সহায়তা দানের মূল ধারণা এক হলেও, রাজ্যগুলি তাদের জনসংখ্যাগত বাস্তবতা ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলির নকশা নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। তেলঙ্গনার মহালক্ষ্মী প্রকল্পে যোগ্য নারীদের প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা দেওয়া হয়, যার জন্য বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯,২০০ কোটি টাকা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাডকি বহিন যোজনায় মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়, যার ফলে রাজ্যের বার্ষিক খরচ প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকা (Bharat)।

    গৃহলক্ষ্মী যোজনা

    কর্নাটকের গৃহলক্ষ্মী যোজনা পরিবারপ্রধান নারীদের প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা দেয়, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০,৬০৮ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প, যা ২০২১ সালে চালু হয়, মাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দেয়। এটি পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ নারী-কেন্দ্রিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের লাডলি বেহনা যোজনা, বৃহৎ পরিসরে শুরু হওয়া প্রাথমিক উদ্যোগগুলির একটি। এখানে মাসে ১,২৫০ টাকা দেওয়া হয়। এটি পরবর্তীকালে চালু হওয়া একাধিক প্রকল্পের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করেছে (Cash Transfers)।

    বার্ষিক এককালীন অর্থ

    বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ কিছু রাজ্য মাসিক অর্থ দেওয়ার বদলে বার্ষিক এককালীন অর্থ মঞ্জুর করার পথ বেছে নিয়েছে। অন্য রাজ্যগুলি গৃহস্থালির ব্যয়চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মাসিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেয়। যোগ্যতার মানদণ্ডও রাজ্যভেদে ভিন্ন। কোথাও শুধুমাত্র বিবাহিত নারীরা অন্তর্ভুক্ত, আবার কোথাও বিধবা, অবিবাহিত নারী বা পরিবারপ্রধান নারীরাও এই প্রকল্পের আওতায় পড়েন। এই ভিন্নতা সত্ত্বেও, সব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য একটাই, নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা।

    নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচি

    নারীদের জন্য নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচির আর্থিক প্রভাব নিঃসন্দেহে ব্যাপক। একাধিক রাজ্যে এই প্রকল্পগুলির ব্যয় এখন মোট রাজ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় দুই থেকে তিন শতাংশের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্নাটকে নারীকেন্দ্রিক নগদ হস্তান্তর খাতে ব্যয় সামগ্রিক কল্যাণ বাজেটের (Bharat) একটি প্রধান অংশ দখল করে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহ্যবাহী কল্যাণমূলক কর্মসূচির সম্মিলিত বরাদ্দকেও ছাপিয়ে গিয়েছে (Cash Transfers)। জাতীয় স্তরে, ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে এই নগদ হস্তান্তর ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ০.২ শতাংশের সমান ছিল। ২০২০–২১ সালে যেখানে এই হার ছিল মাত্র ০.০৪ শতাংশ, সেখান থেকে এই দ্রুত বৃদ্ধি নীতিটির দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রতিফলন।

    ব্যয়ের পরিমাণ

    অনেকের মতে, ব্যয়ের পরিমাণ বড় হলেও তা অযথা বা অপচয়মূলক ভোগে পরিণত হয় না। বরং এই নগদ হস্তান্তরগুলি আয়ের একটি স্থিতিশীল সহায়ক হিসেবে কাজ করে, যা পরিবারগুলিকে মূল্যবৃদ্ধি, মৌসুমি আয়ের ওঠানামা এবং আকস্মিক খরচ সামাল দিতে সাহায্য করে। রাজ্যস্তরের বিভিন্ন সমীক্ষায় একটি বিষয় ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে, নারীরা এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করেন। সন্দেহপ্রবণ ধারণার বিপরীতে, এই অর্থ খুব কম ক্ষেত্রেই বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হয়। বরং এটি পারিবারিক বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকই খাদ্য খাতে ব্যয় হয়, আর কর্নাটকে এই হার বেড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশে পৌঁছায়। ব্যয়ের অন্যান্য প্রধান ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ, বিদ্যুৎ ও জল বিল পরিশোধ, এবং অনানুষ্ঠানিক ঋণ শোধ।

    মাসিক নগদ হস্তান্তর

    গ্রামীণ এলাকায় মাসিক নগদ হস্তান্তর প্রায়ই মাথাপিছু ব্যয়ের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের সমান হয়। এর ফলে এটি অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার হিসেবে কাজ করে—বিশেষত কৃষি বা অনানুষ্ঠানিক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলির জন্য। অনেক নারীর কাছে এই অর্থের পরিমাণের মতোই এর নিয়মিত ও পূর্বানুমেয় প্রাপ্তি সমান গুরুত্বপূর্ণ (Cash Transfers)। অর্থনৈতিক সূচকের সীমা অতিক্রম করে সরাসরি নগদ হস্তান্তর কর্মসূচিগুলি এখন পরিবারভিত্তিক সামাজিক সম্পর্কের ভেতরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। নারীদের কেবল গৌণ সুবিধাভোগী হিসেবে না দেখে সরাসরি প্রাপক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে (Bharat)। উপভোক্তা নারীরা জানাচ্ছেন, সংসারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাঁদের মতামতের গুরুত্ব বেড়েছে—নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা থেকে শুরু করে সন্তানের শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় নির্ধারণ পর্যন্ত। নিজের নামে নিয়মিত আয়ের একটি উৎস থাকার মানসিক প্রভাব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলে, যেখানে এতদিন নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা সীমিত ছিল।

    কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জবাবদিহি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নারীরা ক্রমশ আরও সোচ্চার হচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, নারী-কেন্দ্রিক নগদ হস্তান্তর কর্মসূচিগুলি একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী ভোটব্যাঙ্কের উত্থানে সহায়তা করছে, যা রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী কৌশলকে নতুন করে রূপ দিচ্ছে। তবে বিরোধীরা এই প্রকল্পগুলিকে ঘিরে বাড়তি আর্থিক চাপ এবং বিকল্প খাতে ব্যয়ের সুযোগ হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বাজেট সংক্রান্ত আপস বাস্তব হলেও বহু নীতিবিশেষজ্ঞের মতে, সরাসরি নগদ হস্তান্তরকে স্বল্পমেয়াদি অনুদান হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উন্নত পুষ্টি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা, স্বাস্থ্যসেবায় অধিকতর প্রবেশাধিকার এবং গভীরতর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো সুফলগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো ও প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর (ডিবিটি) ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচিগুলি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থাকেও আরও মজবুত করছে (Cash Transfers)।

    ভারত যখন কল্যাণমূলক পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছে, তখন নারীদের লক্ষ্য করে চালু করা এই নগদ হস্তান্তর প্রকল্পগুলি তাদের সরলতা, দক্ষতা ও মর্যাদাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। রাজনৈতিকভাবে সতর্ক এক পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে যার সূচনা হয়েছিল, তা আজ ধারাবাহিক (Bharat) ব্যাঙ্ক হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতের কল্যাণ রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

  • Atal Bihari Vajpayee: ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র, বিশ্বাস, আচরণ! জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভারতীয় রাজনীতির এক অবিচল নক্ষত্রকে

    Atal Bihari Vajpayee: ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র, বিশ্বাস, আচরণ! জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভারতীয় রাজনীতির এক অবিচল নক্ষত্রকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতরত্ন অটল বিহারি বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) ছিলেন ভারতীয় রাজনীতির এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যাঁর পরিচয় ক্ষমতা বা পদে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আদর্শ, মানবিকতা ও দেশভক্তির দ্বারা গড়ে উঠেছিল। তাঁর নামের মতোই ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র—দৃঢ় বিশ্বাস, শালীন আচরণ এবং সহমর্মিতায় ভরপুর এক রাষ্ট্রনায়ক। রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও বিরোধীরাও তাঁকে সম্মান করতেন। প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। আস্থা ভোটের আগে লোকসভায় এক অবিস্মরণীয় ভাষণ দিলেন অটলজি। অথবা, তাঁর কাব্যচর্চাকে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের তৎকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী বললেন, শুধু কবিতা লিখলে দেশ চলে না। একটুও মেজাজ না হারিয়ে ততোধিক তীক্ষ্ণ শ্লেষে তিনি বললেন, ঠিকই, শুধু কবিতা লিখলে দেশ চলে না, লিখে রাখা ভাষণ জনসভায় গিয়ে পড়লে দেশ দৌড়য়। তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এমন নানা মুহূর্তের কথা দেশবাসীর মুখে মুখে আজও ঘোরে।

    জন্ম-বড় হওয়া, রাজনীতিতে যোগ

    ১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর গ্বালিয়রে জন্ম অটল বিহারী বাজপেয়ীর (Atal Bihari Vajpayee)৷ অটল বিহারীর পৈত্রিক গ্রাম যদিও ছিল উত্তর প্রদেশের আগ্রা জেলার বটেশ্বরে। সেখান থেকে মধ্য়প্রদেশে গিয়ে বসবাস শুরু করেন অটল বিহারীর ঠাকুরদা শ্যামলাল বাজপেয়ী। তাঁর মা কৃষ্ণা দেবী, বাবা কৃষ্ণবিহারী বাজপেয়ী৷ বাবা ছিলেন কবি, পেশায় স্কুলশিক্ষক৷ কবিতায় হাতেখড়ি বাবার কাছেই৷ গ্বালিয়রের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক হন। পরে কানপুরের ডিএভি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তরে উত্তীর্ণ হন প্রথম শ্রেণিতে। ইংরেজি, হিন্দি, সংস্কৃত— বেশ তরুণ বয়সেই তিনটি ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন বাজপেয়ী। রাজনীতি বোধ হয় ছিল তাঁর মজ্জায়। ছাত্রাবস্থাতেই ‘আর্যসমাজ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। বাবাসাহেব আপ্তে-র অনুপ্রেরণায় ১৯৩৯ সালে যোগ দেন আরএসএসে। কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ে ওঠেন সঙ্ঘের প্রচারক।

    স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ

    দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও যোগ দিয়েছিলেন অটল বিহারী ((Atal Bihari Vajpayee)৷ ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন৷ জেল খেটেছিলেন ২৩ দিন। ১৯৫১ সালে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় অটল যোগ দেন ভারতীয় জনসঙ্ঘে৷ দলের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রিয়পাত্রও হয়ে ওঠেন শীঘ্রই৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্ধ ভক্ত ছিলেন অটলবিহারী। কাশ্মীরে যেতে বিশেষ অনুমতি পত্রকে বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতায় ১৯৫৩ সালে আমরণ অনশনে বসেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। একই সঙ্গে অনশনে বসেছিলেন অটল বিহারীও। এই আন্দোলন চলাকালীনই শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হলে ভেঙে পড়েন অটল বিহারী। ১৯৫৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর থেকে বাজপেয়ী প্রথম বার লোকসভায় নির্বাচিত হন৷ ১৯৬৮ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘের সর্বভারতীয় সভাপতি হন।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে প্রথম হিন্দিতে ভাষণ

    হিন্দিতে তাঁর দক্ষতার জন্য সংসদে বার বার প্রশংসিত হয়েছে বাজপেয়ীর বক্তৃতা। এমনকী, অটল বিহারী একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। প্রথম ব্যক্তি হিসাবে বাজপেয়ীই রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে হিন্দিতে ভাষণ দেন। হিন্দির প্রসারে সব সময় সক্রিয় ছিলেন তিনি। উত্তর প্রদেশের সঙ্গে আত্মার যোগাযোগ থাকলেও গোটা দেশে সমান জনপ্রিয় ছিলেন অটল বিহারী। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি গোটা জীবনে চারটি আলাদা রাজ্য থেকে ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন। উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট থেকে সাংসদ ছিলেন তিনি।

    বিজেপির প্রথম সভাপতি

    ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার অবসান। ইন্দিরা-বিরোধী ঐক্য জোরদার করতে চরণ সিং-এর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় লোক দল এবং মোরারজি দেশাইদের কংগ্রেস (ও) এবং বাজপেয়ী-আডবাণীদের জনসঙ্ঘ মিশে যায়, তৈরি হয় জনতা পার্টি। নির্বাচনে ভরাডুবি হয় কংগ্রেসের। মোরারজি দেশাইয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশে প্রথম অকংগ্রেসি মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) সে মন্ত্রিসভায় বিদেশমন্ত্রী হন। নানান মতাদর্শের ‘জগাখিচুড়ি’ জনতা পার্টি অবশ্য বেশি দিন ঐক্যবদ্ধ থাকেনি। ১৯৮০ সালে সাবেক জনসঙ্ঘীরা বেরিয়ে যান জনতা পার্টি থেকে। তৈরি হয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যার প্রথম সভাপতি হন বাজপেয়ী।

    প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী

    ১৯৯৬ সালে লোকসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। দেশের দশম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন অটলবিহারী৷ কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না দলের। ম্যাজিক ফিগার জোগাড়ও করতে পারেননি বাজপেয়ী। ১৩ দিনে পতন ঘটে বাজপেয়ী সরকারের। কিন্তু ইস্তফা দেওয়ার আগে যে ভাষণ অটল দিয়েছিলেন লোকসভায়, তা সংসদে প্রধানমন্ত্রীদের দেওয়া স্মরণীয় ভাষণগুলোর অন্যতম হয়ে রয়ে গিয়েছে। বাজপেয়ী সরকার টেকেনি ঠিকই। কিন্তু কংগ্রেস সমর্থন নিয়ে তৈরি হওয়া সংযুক্ত মোর্চা সরকারও বছর দু’য়েকের বেশি টিকতে পারেনি। ফলে ১৯৯৮ সালে ফের নির্বাচনের মুখোমুখি হয় দেশ। আরও বেশি আসন নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। ফের সরকার গঠন করে এনডিএ। কিন্তু সে বারও পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে পারেননি বাজপেয়ী। তেরো মাসে সরকার পড়ে যায়। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনের রায়ও ছিল বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের পক্ষেই। তৃতীয় বার সুযোগ পেয়ে প্রথম অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়েন বাজপেয়ী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় কার্যকালে অটলবিহারী বাজপেয়ী অনেকগুলি ক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। দেশের আর্থিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছিল। রাজকোষ দ্রুত ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। দেশ জুড়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন গতি পেয়েছিল।

    তাঁর মুখচ্ছবি সহাস্য

    এক টালমাটাল সন্ধিক্ষণে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন— এক দিকে জোট রাজনীতির উত্থান, অন্য দিকে দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় বদল আনার প্রক্রিয়া। কিন্তু হাজার ঝড়ঝাপ্টা সামলেও অধিকাংশ অবকাশে তাঁর মুখচ্ছবি সহাস্য। আর সর্বোপরি ছিল তাঁর অসামান্য বাগ্মিতা এবং পাণ্ডিত্য। ২৪টি দল নিয়ে গঠিত এনডিএ সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সমন্বয় ও সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর সময়েই জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও গোল্ডেন কোয়াড্রিল্যাটারালের মাধ্যমে দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসে।

    অসাধারণ কূটনীতিক

    রাজনীতির মতো, কূটনীতিতেও ভারসাম্যের পরিচয় দিতে চেয়েছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে বড়সড় পদক্ষেপ করেছিল ভারত। তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সঙ্গে নিয়ে ভারত-পাক বাসযাত্রার সূচনা করেছিলেন বাজপেয়ী। বলেছিলেন, ‘‘বন্ধু বদলানো যায়৷ কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না।’’ কিন্তু কার্গিলে পাক অনুপ্রবেশ ও দখলদারির খবর পেয়েই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিতে দ্বিধা করেননি তিনি। অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে পোখরানে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় ভারত। তাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় নয়াদিল্লিকে। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে ভারতের অভূতপূর্ব সুসম্পর্কের দরজাটাও খুলে দিয়ে যান অটলবিহারী বাজপেয়ী-ই। তাঁর আমলেই ভারত সফরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন। ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা হয়ে যায় ক্লিন্টনের সেই ভারত সফরেই।

    ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    জনসংঘ ও পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টিকে আদর্শিক শক্তি জোগানো এই নেতা সংসদীয় গণতন্ত্রে শালীনতা ও যুক্তিবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সংসদে তাঁর বক্তৃতা ছিল যুক্তি, রসবোধ ও সৌজন্যের অনবদ্য মিশ্রণ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাজপেয়ী লোকসভায় ১০ বার এবং রাজ্যসভায় ২ বার নির্বাচিত হন। জাতীয় স্বার্থকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি হয় যখন প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিংহ রাও বিরোধী দলের নেতা হয়েও অটল বিহারি বাজপেয়ীকে জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। কাশ্মীর ও মানবাধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর সংযত অথচ দৃঢ় বক্তব্য ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। মতাদর্শগত দিক থেকে বাজপেয়ীর চেয়ে অনেকটা দূরত্বে অবস্থান করা মনমোহন সিং বলেছিলেন, ‘‘অটল বিহারী বাজপেয়ী হলেন ভারতীয় রাজনীতির ভীষ্ম।’’ দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট নয়াদিল্লির এইমসে তাঁর মৃত্যু হয়। ‘সদৈব অটল’ নামে তাঁর স্মৃতিসৌধ আজও তাঁর অবিচল আদর্শের প্রতীক।

     

     

     

     

LinkedIn
Share