Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • New Data Law: ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় আসছে নয়া আইন! মৌখিক ভাবে চাওয়া যাবে না ক্রেতাদের মোবাইল নম্বর

    New Data Law: ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় আসছে নয়া আইন! মৌখিক ভাবে চাওয়া যাবে না ক্রেতাদের মোবাইল নম্বর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার থেকে আর কোনও ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, শপিং মল বা নামী বিপণি মৌখিকভাবে ক্রেতাদের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর চাইতে পারবে না (New Data Law)। কেন্দ্রীয় সরকার এমনই এক নতুন আইনের পথে হাঁটছে, যার লক্ষ্য ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কেন্দ্রের মতে, মুখে মোবাইল নম্বর চাওয়া হলে সেই তথ্য গোপন থাকে না এবং তা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করে। আবার কেন্দ্রের তরফ সাফ জানানো হয়েছে, মোবাইল নম্বর না দিলেও পণ্য পরিষেবা দিতে হবে বিক্রেতাকে।

    ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট (New Data Law)

    ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট চালু হলে, জনসমক্ষে ক্রেতাদের মোবাইল নম্বর চাওয়া বেআইনি বলে গণ্য হবে। ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আইনের খসড়া তৈরি করেছে কেন্দ্র। অগাস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে ( Digital Personal Data Protection Act), প্রস্তাবিত বিধিতে কোনও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে প্রায় সব বড় দোকান, ওষুধের শোরুম বা শপিং মলে রশিদ দেওয়ার নাম করে বা ‘লয়্যালটি পয়েন্ট’ দেওয়ার অজুহাতে ক্রেতাদের মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি হয় মুখে জিজ্ঞাসা করে, যেখানে আশপাশের লোকজনও শুনে ফেলেন নম্বরটি। এতে ব্যক্তিগত তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ পায়, যা নিরাপত্তার পক্ষে হুমকি বলে মনে করছে সরকার।

    বিপণিগুলি সাধারণত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেই ক্রেতাদের তথ্য রেকর্ড করে রাখে (New Data Law)

    নতুন আইন বলছে, আর মুখে মোবাইল নম্বর চেয়ে নেওয়া যাবে না। বিকল্প কোনও পদ্ধতি অনুসরণ করতেই হবে। বিপণিগুলি সাধারণত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেই ক্রেতাদের ( Digital Personal Data Protection Act) তথ্য রেকর্ড করে রাখে। লয়্যালটি পয়েন্ট, ডিসকাউন্ট বা অফারের সুবিধা দিতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাদের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। ডিজিটাল ও সাইবার সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা এক আইন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ছোট কিছু বদলের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। যেমন, মুখে না বলে ক্রেতা (New Data Law) যেন কিপ্যাড বা স্ক্রিনে নিজে নম্বর টাইপ করেন। এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে গোপনীয়তা বজায় রাখা যাবে। ওই বিশেষজ্ঞ আরও জানিয়েছেন, নতুন আইনের অধীনে, কোনও তথ্য কেন নেওয়া হচ্ছে, কতদিন রাখা হবে এবং কবে মুছে ফেলা হবে — এসব বিষয়ে ক্রেতাকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে। শুধু তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে সম্মতি ধরে নেওয়া যাবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলাদা করে সম্মতি নিতে হবে।

    ইমেল আইডি ব্যবহার করে রশিদ পাঠানো যেতে পারে

    আইন অনুযায়ী, কোনও ক্রেতা যদি মোবাইল নম্বর না-ও দেন, তবু তাঁকে পরিষেবা দিতে হবে। তবে, মোবাইল রিচার্জ বা অনুরূপ যেসব পরিষেবায় মোবাইল নম্বর আবশ্যক, সেখানে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, শুধু মোবাইল নম্বর নয় — বিপণিগুলিকে বিকল্প চিন্তা করতেও হতে পারে। যেমন, ইমেল আইডি ব্যবহার করে রশিদ পাঠানো, অথবা কাগজে ছাপা রশিদ দেওয়া। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আইন, ব্যবসাতে বাধা দেওয়ার জন্য নয় বরং, ক্রেতার দেওয়া তথ্য যেন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই ব্যবহার হয় এবং সময়মতো তা মুছে ফেলা হয় — সেটাই মূল লক্ষ্য।

    ২০২৩ সালের অগাস্টে সংসদের দুই কক্ষেই এই বিল পাশ হয়

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অগাস্টে সংসদের দুই কক্ষেই এই বিল পাশ হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর তা আইনে পরিণত হয়। তবে প্রায় দু’বছর কেটে গেলেও আইনটি এখনও কার্যকর হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্র খসড়া বিধি প্রকাশ করে এবং এখন জানানো হয়েছে, এতে কোনও বদল আনার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ এবার থেকে আর ক্রেতাকে মুখে বলে ফোন নং দিতে হবে না।

  • Trumps Tariffs: ট্রাম্পকে ‘শিক্ষা’ দিতে ভারতীয় বস্ত্রের জন্য ৪০টি দেশের বাজার ধরার ভাবনা নয়াদিল্লির

    Trumps Tariffs: ট্রাম্পকে ‘শিক্ষা’ দিতে ভারতীয় বস্ত্রের জন্য ৪০টি দেশের বাজার ধরার ভাবনা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trumps Tariffs)। তার পরেই মার খেতে পারে ভারতের বস্ত্রশিল্প (Textile Exports)। এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লি বিশ্বের ৪০টি দেশে বিশেষ মার্কেটিং করার পরিকল্পনা করছে বলে খবর। সরকারি এক আধিকারিক জানান, এই ৪০টি দেশের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, পোল্যান্ড, রাশিয়া, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ব্রিটেন। তাঁর মতে, এই ৪০টি দেশে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা হল এমন একটি কৌশল গ্রহণ করা যেখানে নিজেদেরকে উচ্চমানের, টেকসই ও উদ্ভাবনী বস্ত্রপণ্যের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। অর্থাৎ, এক ঢিলে দুই পাখি! একদিকে ট্রাম্পের শুল্ক-নীতির মোকাবিলা করা হবে। অন্যদিকে, বিশ্বের দরবারে ভারতীয় বস্ত্রকে তুলে ধরাও হবে।

    সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য (Trumps Tariffs) 

    তিনি বলেন, “ভারতীয় শিল্পখাতের নেতৃত্বমূলক ভূমিকা (যার মধ্যে ইপিসিএস এবং ওই দেশগুলিতে অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলিও অন্তর্ভুক্ত) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। জানা গিয়েছে, ভারত ইতিমধ্যেই ২২০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে রফতানি সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তবে যে ৪০টি দেশের জন্য বিশেষ যোগাযোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেগুলিই বহুমুখীকরণের প্রকৃত চাবিকাঠি ধরে রেখেছে। প্রশ্ন হল, কেন এই ৪০টি দেশকেই বেছে নেওয়া হয়েছে? সরকারি ওই আধিকারিক বলেন, “এই ৪০টি দেশ একসঙ্গে টেক্সটাইল ও পোশাক আমদানিতে ৫৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব করে, যা ভারতের জন্য বাজার অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিশাল সুযোগ তৈরি করছে। বর্তমানে ভারতের অংশীদারিত্ব মাত্র প্রায় ৫-৬ শতাংশ (Trumps Tariffs)। বিষয়টি উপলব্ধি করে সরকার এই ৪০টি দেশের প্রতিটিতে বিশেষ মার্কেটিং করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হবে ঐতিহ্যবাহী বাজারের পাশাপাশি উদীয়মান বাজারকেও।”

    মার্কিন চড়া শুল্ক হার

    প্রসঙ্গত, ভারতীয় পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের শুল্ক, যা ২৭ অগাস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে, ৪৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রফতানিকে প্রভাবিত করবে। আধিকারিকদের মতে, ভারতের এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলস্‌ (ইপিসিএস) হবে বৈচিত্র্যকরণ কৌশলের মেরুদণ্ড (Textile Exports)। তারা বাজারের মানচিত্র তৈরি করবে, উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য চিহ্নিত করবে এবং সুরাট, পানিপথ, তিরুপুর ও ভদোহির মতো বিশেষ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে ৪০টি দেশের সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করবে। ইপিসিএসের কাছ থেকে আরও আশা করা হচ্ছে যে, তারা ভারতের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, বাণিজ্য মেলা এবং ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকে অংশগ্রহণে নেতৃত্ব দেবে। একইসঙ্গে ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’ ধারণার অধীনে বিভিন্ন খাতে প্রচারও করবে। কাউন্সিলগুলি রফতানিকারকীদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ব্যবহারের উপায়, টেকসই মানদণ্ড পূরণ এবং প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন পাওয়ার বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেবে। তিনি বলেন, “এই ভৌগোলিক অঞ্চলের সঙ্গে এফটিএ এবং আলোচনার ফলে ভারতীয় রফতানি প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং এই খাতে প্রবৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে (Trumps Tariffs)।”

  • Heavy Rains in Himachal-Jammu: শ্রীনগরে ফুঁসছে ঝিলম, মানালিতে বিয়াস! প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে পাঞ্জাব-হিমাচল

    Heavy Rains in Himachal-Jammu: শ্রীনগরে ফুঁসছে ঝিলম, মানালিতে বিয়াস! প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে পাঞ্জাব-হিমাচল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জম্মু ও কাশ্মীর। শ্রীনগরে ফুঁসছে ঝিলম নদী। জলস্তর বিপদসীমা ছুঁইছুঁই। মঙ্গলবারের ধসের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বৈষ্ণোদেবী যাত্রা। প্রবল বৃষ্টি এবং ভূমিধসে বিধ্বস্ত হিমাচল প্রদেশের জনজীবন। একটানা বৃষ্টি ও ভূমিধসের (Heavy Rains in Himachal-Jammu) জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। হিমাচল প্রদেশ রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (SDMA) তথ্য অনুসারে, এখনও পর্যন্ত উত্তর ভারতের ২ রাজ্য ও ১টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ৩৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুগুলির মধ্যে, বৃষ্টিপাতজনিত ঘটনা যেমন- ভূমিধস, হড়পা বান, মেঘভাঙা বৃষ্টি, ডুবে যাওয়া, বজ্রপাত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত কারণে হয়েছে। শুধু প্রাণহানিই নয়, বহু টাকার সম্পত্তিও নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টিতে ভাসছে পাঞ্জাবও। দিল্লি-কাটরা বন্দেভারত-সহ ১৮টি ট্রেন স্থগিত করা হয়েছে।

    বৈষ্ণোদেবী যাত্রা বন্ধ, ২৪ জনের দেহ শনাক্ত

    দুর্যোগে জম্ম-কাশমীরে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই পুণ্যার্থী। বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার জম্মুর রেইসি জেলায় অর্ধকুঁয়ারীতে ইন্দ্রপ্রস্থ ভোজনালয়ের কাছে ধস নামে। ওই ধসের জেরে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জম্মুর ডোডা জেলায় বৃষ্টি এবং হড়পা বানের জেরে চার জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বৈষ্ণোদেবীর পথে ধসে নিহতদের দেহ কাটরা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে জম্মুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে। সেখানে এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের দেহ শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঞ্জাব, দিল্লি, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য বৈষ্ণোদেবী যাত্রা বন্ধ রয়েছে।

    নিহতদের পরিবারপিছু ৯ লক্ষ আর্থিক সহায়তা

    ধস নেমে পূণ্যার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। বুধবার এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে মোদি লেখেন, ‘বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে যাওয়ার পথে ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুক। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত সকলকে সহায়তা করছে। সকলের নিরাপত্তা ও মঙ্গল কামনা করি।’ কাটরার এক হাসপাতালে ১৩ জন আহত পুণ্যার্থী ভর্তি রয়েছেন। বুধবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যান জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিং। আহতদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন তিনি। তাঁদের পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও দেন। এ ছাড়া নিহতদের পরিবারপিছু ৯ লক্ষ আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা করেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর।

    জম্মুতে রেকর্ড বৃষ্টি

    জম্মুতে গত ১১৫ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে মঙ্গলবার। আধিকারিক সূত্রে খবর, জম্মুতে মঙ্গলবার ৩৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ১৯১০ সালে জম্মুতে বৃষ্টিপাত পরিমাপের ব্যবস্থা শুরু হয়। তার পর থেকে সেখানে ২৪ ঘণ্টায় এত বৃষ্টি দেখা যায়নি। এর আগে ১৯৮৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ২৭০.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল জম্মুতে। জম্মুতে তাওয়ি নদীর উপর এক সেতু হড়পা বানে ভেঙে গিয়েছে। শ্রীনগরে ঝিলম নদী প্রায় কানায় কানায় ভরে গিয়েছে। নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছুঁইছুঁই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাশ্মীরে ২০১৪ সালের বন্যার কথা মাথায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করছে শ্রীনগরের প্রশাসনও।

    উদ্ধারে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী

    হড়পা বান এবং ভূমিধসের কারণে জম্মু-পাঠানকোট, জম্মু-শ্রীনগর এবং বাতোতে-ডোডা-কিশ্তওয়ার সংযোগকারী জাতীয় সড়কেও কিছু কিছু অংশে যান চলাচলও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। গত তিন দিনের ভারী বর্ষণের জেরে জম্মুর বেশ কিছু জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উদ্ধার অভিযানে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল, পুলিশ এবং সেনা। আটকে পড়া মানুষদের নৌকায় করে উদ্ধার করা হচ্ছে। জম্মুর বিভিন্ন নীচু এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাশ্মীরের সব স্কুল-কলেজও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    হিমাচলে হাহাকার

    এ বছর দেশের সর্বত্রই বৃষ্টি হয়েছে ভয়ঙ্করভাবে। প্রবল বৃষ্টি এবং ভূমিধসে বিধ্বস্ত হিমাচল প্রদেশের জনজীবন। একটানা বৃষ্টি ও ভূমিধসের জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি রাজ্যে রাজ্যে। মানালিতে প্রবল বর্ষণ, বন্যা পরিস্থিতি বিয়াসে। চরম বৃষ্টির জেরে দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছে। হাইওয়ে সব গিলে খেয়েছে নদী। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক ব্যবস্থা। কোথাও ভেঙে পড়েছে পাহাড়ের একাংশ। কোথাও দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে পাহাড়। হিমাচল প্রদেশ রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী সূত্রে খবর, সে রাজ্যের প্রায় ৩৭৪টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি, ৫২৪টি ট্রান্সফরমার এবং ১৪৫টি জল সরবরাহের পাইপলাইন অকেজো হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও, ভূমিধসের কারণে ৩০৫ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং ৫ নম্বর জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

    চলবে বৃষ্টি

    উত্তর ভারতে বৃষ্টির জেরে নানা ভাবে চলতি বছরে ৩৬৯ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুর্যোগে সরকারি সম্পত্তির মোট আনুমানিক ক্ষতি ২.৪৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, ৩২৪টি বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৩৯৬টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার দোকান, গোয়ালঘর এবং অন্যান্য কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিপোর্টে ১,৮৪৬টিরও বেশি গবাদি পশু এবং ২৫,৭৫৫টি হাঁস-মুরগির ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী দুই তিন দিন মানালি ছাড়াও আবহাওয়া দফতর কাংরা উপত্যকা, চাম্বা ও লাহুল-স্পিতি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। এছাড়াও উনা, হামিরপুর, বিলাসপুর, সোলান, মান্ডি, কুলু ও শিমলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের অন্য প্রান্তে জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা।

  • Mohan Bhagwat: “বিশ্বের সামনে থাকা আধুনিক সব সমস্যার সমাধান করতে পারে ভারত”, আরএসএসের শতবর্ষে দাবি ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: “বিশ্বের সামনে থাকা আধুনিক সব সমস্যার সমাধান করতে পারে ভারত”, আরএসএসের শতবর্ষে দাবি ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “উগ্রবাদ বাড়ছে। ওকিজম আজকের বিশ্বের অন্যতম বড় হুমকি। পরিবেশ ধ্বংসও মানুষের অশান্তি থেকে জন্ম নেওয়া একটি গুরুতর উদ্বেগ। এর সমাধান ধর্মে নিহিত, যা কোনও সংকীর্ণ অর্থে ধর্ম নয়। ধর্ম বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এর মধ্যে পরিবেশের প্রতিও শ্রদ্ধা অন্তর্ভুক্ত। ধর্ম ভারসাম্যের কথা বলে। আর ভারতই এই আধুনিক সমস্যার সমাধান করতে পারে, যা আজ বিশ্বের সামনে রয়েছে।” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বলে গেলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। সংঘ যাত্রার ১০০ বছরের (RSS Centenary) দ্বিতীয় দিনেও বক্তব্য রাখেন সরসংঘচালক ভাগবত। সেখানেই তিনি আরএসএসের ভারতের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। আরএসএস প্রধান বলেন, “আজ ইতিবাচক পরিবেশ রয়েছে। তবে একজন স্বয়ংসেবক ভাবেন, ইতিবাচকতা মানে থেমে যাওয়া নয়,  তাকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করা, এমনকি যদি মতবিরোধ থাকে, তাহলেও। সংঘে কোনও ব্যক্তিগত প্রণোদনা নেই, কিন্তু স্বয়ংসেবকরা আনন্দ নিয়ে কাজ করেন। কারণ তাঁরা জানেন তাঁদের কাজ বিশ্বকল্যাণের জন্য নিবেদিত।”

    হিন্দু ধর্ম (Mohan Bhagwat)

    হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “আমাদের ধর্ম হল বিশ্বধর্ম। এটি পৃথিবীতে শান্তি আনতে সক্ষম। ধর্ম কখনও অন্যকে জোর করে নিজের দিকে টানতে চায় না। ভারতীয় জীবনধারা সারা বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ হতে পারে।” তিনি বলেন, “ভারত সবসময় সাহায্য করেছে নিজের স্বার্থের কথা না ভেবেই। এমনকি তাদেরও সাহায্য করেছে, যারা ভারতের বিরোধিতা করেছিল। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পরিবেশগত সমস্যাগুলি পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় সমাজকে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে।”

    সংঘের দায়িত্ব

    সংঘের দায়িত্বের প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধান (Mohan Bhagwat) বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হল চরিত্র গঠন করা এবং আরও দেশপ্রেমিক সমাজ গড়ে তোলা। আমরা যা সংঘে করি, তা গোটা সমাজে বিস্তার করতে হবে।” তিনি বলেন, “দেশের সবচেয়ে দরিদ্র থেকে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, প্রত্যেক গ্রাম ও প্রতিটি পরিবারের মানুষ এর বাইরে নয়। তাদের সংঘ শাখার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। যারা সমাজের জন্য কাজ করছে, তাদেরও শাখার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।” তিনি বলেন, “আমাদের দেশে এত বৈচিত্র্য রয়েছে। অনেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও মতবাদ বাইরের দেশ থেকে এখানে এসেছে। তারা আজও আমাদের দেশে আছে। মতবাদ বাইরে থেকে আসতে পারে, কিন্তু সমাজে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে হবে, এবং দেশের ঐক্য আরও দৃঢ় করার পথ খুঁজে বের করতে হবে। আমরা যেখানেই বাস করি বা কাজ করি, সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং তাঁদের (RSS Centenary) আপনজন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। জল, শ্মশান ও মন্দির সবার জন্য, এখানে কোনও ভেদাভেদ চলবে না।” তিনি বলেন, “মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, হৃদয়ে-হৃদয়ে কথা এটা যখন হবে, তখনই প্রকৃত পরিবর্তন আসবে।”

    স্বদেশীর অর্থ

    সরসংঘচালকের মুখেও এদিন শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথার প্রতিধ্বনি। প্রধানমন্ত্রীর মতোই ভাগবতও বলেন, “স্বদেশীর অর্থ হল, যেসব জিনিস আমাদের দেশে আছে বা সহজেই তৈরি করা সম্ভব, তা বাইরে থেকে আমদানি না করা। বাইরে থেকে জিনিস আমদানি করলে দেশীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।” তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “সংঘ চায় ভারতীয় সমাজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছক, যা পৃথিবীতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে।” হিন্দুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, “হিন্দুত্বকে দুটি শব্দে বোঝানো যায় — সত্য ও প্রেম। মানবসম্পর্ক কেবল চুক্তি বা ব্যবসার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশের মানুষের উচিত জীবনের পাঠ ভারত থেকে শেখা।” তিনি বলেন, “হিন্দুস্থানের উদ্দেশ্য হল বিশ্বকল্যাণ। সংঘে যোগ দিলে কিছুই লাভ হয় না, বরং যা আছে তাও হারাতে হতে পারে। একজন স্বয়ংসেবক এই মনোভাব নিয়েই কাজ করেন – আত্মমুক্তি ও বিশ্বকল্যাণের জন্য।”

    আরএসএস হল হিন্দু জাতির জীবনমিশনের এক বিবর্তন

    ভাগবত বলেন, দাদরাও পরমার্থ একবার বলেছিলেন,  “আরএসএস হল হিন্দু জাতির জীবনমিশনের এক বিবর্তন।” তিনি বলেন, “ভোগবাদ ও বস্তুবাদের কারণে সাতটি সামাজিক পাপ বাড়ছে – সম্পদহীন কাজ, বিবেকহীন ভোগ, চরিত্রহীন জ্ঞান, নীতিহীন বাণিজ্য, মানবতাহীন বিজ্ঞান, ত্যাগহীন ধর্ম এবং নীতিহীন রাজনীতি।” সরসংঘচালক বলেন, “ধর্মে কোনও ধর্মান্তর নেই। ধর্ম হল শাশ্বত সত্য, যার ভিত্তিতে সবকিছু চলে। একে (RSS Centenary) বলা হয় স্বভাব ও কর্তব্য। ধর্ম কখনও দুঃখ সৃষ্টি করে না। ধর্ম সর্বদা আনন্দদায়ক এবং সামঞ্জস্য রক্ষাকারী। বিবেকানন্দ বলতেন, ভারত একটি ধর্মকেন্দ্রিক জাতি, সময়ে সময়ে তাকে বিশ্বকে ধর্ম দিতে হয়। সর্বজনের কল্যাণ – এটাই আমাদের দর্শনের সারমর্ম।” তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু ধর্মই সেই শক্তি, যা বিশ্বশান্তি আনতে পারে। শত্রুতা জন্মায় অহংকার থেকে। হিন্দুস্থান অহংকারের ঊর্ধ্বে। আমাদের অগ্রাধিকার হল পারিবারিক সংস্কৃতি রক্ষা করা। ভারতের অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশ একসময় ভারতেরই অংশ ছিল। মানুষ ও ভূগোল একই। আমাদের প্রথম কর্তব্য হল তাদের সঙ্গে ফের সম্প্রীতির বন্ধনে যুক্ত হওয়া।” তিনি বলেন, “আত্মনির্ভরতা হল সব কিছুর মূল। আমাদের জাতিকে আত্মনির্ভর হতে হবে। একজনকে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই বাঁচতে হবে জাতির জন্য। আমরা থাকি বা না থাকি, ভারতকে থাকতে (RSS Centenary) হবে, এবং বিশ্বকেও থাকতে হবে।”

    এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেপাল, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, ইজরায়েল, ডেনমার্ক, চিন, আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা (Mohan Bhagwat)।

  • PM Modi: “কার টাকা, তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই, কিন্তু উৎপাদনে যেন আমার দেশের মানুষের ঘাম থাকে”, বললেন মোদি

    PM Modi: “কার টাকা, তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই, কিন্তু উৎপাদনে যেন আমার দেশের মানুষের ঘাম থাকে”, বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কার টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে – সেটা ডলার হোক কিংবা পাউন্ড, কালো টাকা হোক বা সাদা – তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। কিন্তু সেই টাকায় যে উৎপাদন হবে, তার ঘাম যেন আমার দেশের মানুষের হয়।” এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দেশবাসীকে স্বদেশি পণ্য কিনতে আগেও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার ফের একবার গুজরাটের আমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভরতার চেতনার (US Tariffs) আহ্বান জানিয়ে নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের দেশীয় পণ্য কেনার আহ্বান জানান। এদিন হানসালপুরে মারুতি সুজুকির প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি ই-ভিটারা উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন এমন বৈদ্যুতিক গাড়ি চালাবে, যেগুলি তৈরি হবে ভারতে।” দেশবাসীকে স্বদেশি পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিনিয়োগ কারা করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আসল বিষয় হল, যে পরিশ্রম করে পণ্যটি তৈরি হচ্ছে, তা যেন ভারতীয়দের হয়।” এভাবে মারুতি সুজুকিও একটি স্বদেশি কোম্পানি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সুজুকি মোটরসের প্রতিশ্রুতি (PM Modi)

    সুজুকি মোটরস আগামী পাঁচ থেকে ছ’বছরে ভারতে ৭০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার প্রতিনিধি পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট তোশিহিরো সুজুকি। তিনি বলেন, “গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সুজুকি ভারতের চলাচলের যাত্রায় গর্বের সঙ্গে অংশীদার হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ভারতের টেকসই সবুজ পরিবহণের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করতে এবং বিকশিত ভারত (Viksit Bharat) নির্মাণে অবদান রাখতে।” এর ঠিক একদিন আগে সোমবার এই আমেদাবাদেই একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধনের পর এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সবার উচিত মেড ইন্ডিয়া পণ্য কেনার মন্ত্র অনুসরণ করা।” তিনি (PM Modi) বলেন, “ব্যবসায়ীদের উচিত তাঁদের দোকান বা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বড় বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া, যেখানে লেখা থাকবে যে তাঁরা শুধু স্বদেশি পণ্যই বিক্রি করেন।” এই অনুষ্ঠানে কংগ্রেসকেও নিশানা করতে ছাড়েননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের আমলে দেশকে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছিল শুধুমাত্র আমদানি কেলেঙ্কারিতে লিপ্ত হওয়ার জন্য (US Tariffs)।”

    মার্কিন শুল্কহারের চোখ রাঙানি

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য এল এমন একটা সময়ে, যখন আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর দু’দফায় মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, রাশিয়ান তেলের অব্যাহত আমদানির কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে, যা বুধবার ২৭ অগাস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (PM Modi) দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বাস্তবায়িত না হওয়ার একটি কারণ হল, আমেরিকান দুগ্ধজাত পণ্য এবং জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ফসল আমদানিকে ঘিরে দুই দেশের মতভেদ। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কাছে কৃষকদের স্বার্থই সর্বাগ্রে। তিনি বলেন, “মোদির কাছে কৃষক, পশুপালক এবং ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ওপর চাপ বাড়তে পারে, কিন্তু আমরা সবটাই সহ্য করব (US Tariffs)।”

    অপারেশন সিঁদুর

    অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে (এই অভিযানে ভারত পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের নটি ঘাঁটিতে আঘাত হানে) প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত আর জঙ্গি ও তাদের প্রভুদের ছেড়ে কথা বলে না। অপারেশন সিঁদুর আমাদের সেনাদের বীরত্ব এবং সুদর্শন চক্রধারী মোহনের ভারতের দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। আজ আমরা জঙ্গি এবং তাদের প্রভুদের ছেড়ে দিই না, সে তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন।”

    উন্নয়ন যজ্ঞ

    এদিন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) আমেদাবাদে ৫,৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে মহেসানা–পালানপুর রেলপথ ডাবল লাইন, কালোল–কাড়ি–কাটোশন এবং বেচরাজি–রানুজ রেলপথের গেজ পরিবর্তন, এবং কাটোশন রোড থেকে সবরমতী পর্যন্ত নতুন যাত্রিবাহী ট্রেন চালুর সূচনা। তিনি রামাপীর নো টেকরোয় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় বস্তি পুনর্নির্মাণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন এবং গান্ধীনগরে রাজ্য-স্তরের ডেটা স্টোরেজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও সারদার প্যাটেল রিং রোড প্রশস্তকরণের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন (US Tariffs)।

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে দিল্লির কুর্সিতে বসেই প্রধানমন্ত্রী ডাক দিয়েছিলেন ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র। প্রধানমন্ত্রীর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানি তাদের নানা প্রোডাক্ট উৎপাদন করছে ভারত থেকে। ফলে ক্রমেই জনপ্রিয়তা বাড়ছে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রোডাক্টের। মঙ্গলবার মারুতি সুজুকির ই-ভিটার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘মেড ফর ওয়ার্ল্ডে’র স্লোগানও দেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

  • Rajnath singh: ‘ভারতের আছে ভাসমান এফ-৩৫’, এক জোড়া স্টেলথ ফ্রিগেটের অন্তর্ভুক্তির দিনে আমেরিকাকে ‘খোঁচা’ রাজনাথের

    Rajnath singh: ‘ভারতের আছে ভাসমান এফ-৩৫’, এক জোড়া স্টেলথ ফ্রিগেটের অন্তর্ভুক্তির দিনে আমেরিকাকে ‘খোঁচা’ রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘আপনারা ভাসমান এফ-৩৫ তৈরি করে ফেলেছেন।’’ দেশে তৈরি ২ অত্যাধুনিক রণতরীর অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঠিক এই ভাষাতেই আমেরিকাকে বিঁধলেন রাজনাথ সিং (Rajnath singh)।

    কী বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী?

    মঙ্গলবার বিশাখাপত্তনমে নৌসেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদরে বাহিনীতে সরকারিভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ভারতে তৈরি এক জোড়া অত্যাধুনিক ফ্রিগেট শ্রেণির স্টেলথ রণতরী ‘আইএনএস উদয়গিরি’ (INS Udaygiri) ও ‘আইএনএস হিমগিরি’ (INS Himgiri)। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী (Rajnath singh)। সেখানেই তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘‘এটি হল ভারত সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সাফল্যের প্রতিফলন। দুটি ভিন্ন শিপইয়ার্ডে নির্মিত এই দুটি যুদ্ধজাহাজ এই প্রথমবার একই সময়ে কার্যকরী হল, যা জলপথে যুদ্ধ সরঞ্জামের আধুনিকীকরণের প্রতীক হয়ে উঠবে।’’ এদিন নিজের বক্তব্যে মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের ‘এফ-৩৫’ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে আমেরিকাকে হালকা খোঁচাও মারেন রাজনাথ (Rajnath singh)। বলেন, ‘‘আপনারা এফ-৩৫ যুদ্ধজাহাজ নিয়ে এলেন। একটা দেশের কাছে উড়ন্ত এফ-৩৫ আছে। আর আপনারা ভাসমান এফ-৩৫ তৈরি করে ফেলেছেন। সেটাও ভারতে তৈরি করা হয়েছে।’’ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্পূর্ণভাবে ভারতেই তৈরি উদয়গিরি এবং হিমগিরিতে যে অস্ত্রশস্ত্র এবং সেন্সর আছে, তাতে দুটি রণতরীই ‘সমুদ্রের অপরাজেয় রক্ষাকর্তা’ হয়ে উঠবে।

    ‘উদয়গিরি’ ও ‘হিমগিরি’

    ‘আইএনএস উদয়গিরি’ ও ‘আইএনএস হিমগিরি’ (INS Udaygiri INS Himgiri) হল নৌসেনার প্রজেক্ট ১৭ আলফা (পি-১৭এ)-র অংশ। এই যুদ্ধ জাহাজগুলির অন্তর্ভুক্তির পর, ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। আইএনএস হিমগিরি তৈরি করেছে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারস (জিআরসিই)। অন্যদিকে, আইএনএস উদয়গিরি তৈরি করেছে মুম্বইয়ের মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড। যে সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, তার ৭৫ শতাংশই দেশীয়। প্রায় ৬,৭০০ টন ওজনের ফ্রিগেটগুলি তাদের পূর্বসূরী শিবালিক-শ্রেণির ফ্রিগেটগুলির চেয়ে প্রায় পাঁচ শতাংশ বড়। আধুনিক ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধকে মাথায় রেখে এই দুই রণতরীকে নির্মাণ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই দুই স্টেলথ ফ্রিগেটে মোতায়েন রয়েছে বহু দূরে আঘাত হানতে সক্ষম সুপারসনিক সারফেস-টু-সারফেস ব্রহ্মস মিসাইল সিস্টেম, মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার বারাক-৮ মিসাইল সিস্টেম। রয়েছে রকেট লঞ্চার, টর্পিডো লঞ্চার, কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। এছাড়া, এই দুই রণতরীতে রয়েছে তিন ধরনের ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম যথা— ৭৬ এমএম এমআর (র‌্যাপিড ফায়ার) গান, ৩০ এমএম গান এবং ১২.৭ এমএম গান, যা এর মারণশক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই দুটি ফ্রিগেট (INS Udaygiri INS Himgiri) ভারতীয় নৌসেনার ইস্টার্ন ফ্লিটে যুক্ত হবে। যা বঙ্গোপসাগর এবং ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে নৌসেনার হাত আরও মজবুত করবে।

  • Landslide in Vaishno Devi: বৈষ্ণদেবী মন্দিরে পথে ধসে মৃত অন্তত ৩১, টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জম্মু-কাশ্মীর

    Landslide in Vaishno Devi: বৈষ্ণদেবী মন্দিরে পথে ধসে মৃত অন্তত ৩১, টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জম্মু-কাশ্মীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের (Landslide in Vaishno Devi) কাছে ভয়াবহ ভূমিধস। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তা ধসে গিয়ে বিপর্যয়। কমপক্ষে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত ২৩। তবে এখনও ধসের কবলে অনেকে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু বৈষ্ণোদেবীর যাত্রাপথ নয়, ভারী বৃষ্টির জেরে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে। রাস্তাঘাট বন্ধ। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। বুধবার সকালেও বৃষ্টি চলছে। হিমাচল প্রদেশেরও সব জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জারি রয়েছে হলুদ সর্তকতা। মেঘ-বাঙা বৃষ্টিতে কুলুতে ভেসে গিয়েছে বাড়ি-গাড়ি।

    বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের কাছে অর্ধকুঁয়ারীতে ভূমিধস

    গত তিন দিন ধরে জম্মু-কাশ্মীরে বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরে কোথাও কোথাও হড়পা বান, কোথাও আবার ধস নেমেছে। জম্মুর পরিস্থিতি বেশি খারাপ। ভেঙে পড়েছে সেতু। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, ক্ষতিগ্রস্ত মোবাইল টাওয়ারগুলি। রিয়াসির এসএসপি পরমবীর সিং জানিয়েছেন, বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরের (Landslide in Vaishno Devi) কাছে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সেই ধসের নীচে চাপা পড়ে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বহু মানুষ আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের কাজ চলছে সমানতালে। বিভিন্ন সংস্থা সেই উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে। মঙ্গলবার দুপুরে অর্ধকুঁয়ারীতে ইন্দ্রপ্রস্থ ভোজনালয়ের কাছে ধস নামে। আতঙ্ক দেখা দেয় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। ধসের পর পরই বৈষ্ণোদেবী মন্দির কমিটির সদস্যেরা, নিরাপত্তাবাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করে। যাত্রাপথে থাকা অন্য পুণ্যার্থীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এখনও ওই যাত্রাপথে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তার খোঁজ চলছে।

    সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হল

    মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করা হচ্ছে ক্যাম্পে। তবে যাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজও চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত বৈষ্ণোদেবী যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলের এক উচ্চপদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘অবিরাম বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ বার বার বাধা পাচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি সকলকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

    সহযোগিতার আশ্বাস কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-র

    অগাস্টের মাঝামাঝি মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান হয়েছিল কিস্তওয়ারে। তারপর কাঠুয়ায়ও মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ধস নেমেছিল। ২ জায়গাতেই প্রাণ গিয়েছিল অনেকের। এবার ভারী বৃষ্টির জেরে কাটরায় বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের যাত্রাপথে ধস নামে। ধসে মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। কেন্দ্রের তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। ধস নামার পরই উদ্ধারকাজে নামে এনডিআরএফ (NDRF) এবং সিআরপিএফ (CRPF)। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। আহতদের চিকিৎসায় সবরকম ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    উপত্যকায় আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস 

    পরিস্থিতি এখনই বদলের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আপাতত আরও দু’তিন দিন জম্মু-কাশ্মীরের আবহাওয়া এমনই থাকবে। আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কোনও কোনও জায়গায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাটরা, জম্মু, সাম্বা, রিয়াসি, উধমপুর, ডোডা এবং কিশতোয়ার জেলায় ভূমিধস এবং হড়পা বানের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। পাহাড় ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে বেরতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের (KU) সব পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার পরিবর্তিত তারিখ পরে জানানো হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে ব্যাহত জম্মুর ট্রেন চলাচলও। জম্মু শহরে একদিনেরও কম সময়ে ২৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে । জম্মু ও কাটরা রেলওয়ে রুটে ২২টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ব্যাপক সমস্যায় পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরা। একদিকে ধসে বন্ধ রাস্তা অন্যদিকে বাতিল ট্রেনও।

    হিমাচল প্রদেশেও দুর্যোগ অব্যাহত

    সবুজ পাহাড়ে ঘেরা উত্তর ভারতের রাজ্যে হিমাচল প্রদেশ। বছরভর যেখানে লক্ষ লক্ষ পর্যটক ভিড় জমান। সেই হিমাচল প্রদেশ চলতি বছরে প্রবল বৃষ্টির জেরে ‘মৃত্যু উপত্যকা’য় পরিণত হয়েছে। তছনছ হয়ে গিয়েছে একাধিক অঞ্চল। কোথাও ধস, কোথাও হড়পা বান, কোথাও আবার মেঘ ভাঙা বৃষ্টি। মানালিতে প্রবল বর্ষণ, বন্যা পরিস্থিতি বিয়াস নদীতে। কুলুতে মঙ্গলবার জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বাড়ি-গাড়ি। চলতি সপ্তাহেও হিমাচল প্রদেশে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে। মৌসম ভবন সূত্রে জানা গেছে, আজ বিলাসপুর, সোলান, হামিরপুরে সমস্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ রয়েছে। দুটি জাতীয় সড়ক সহ মোট ৪৮৪ টি সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র মান্ডি জেলায় ২৪৫টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। কুলুতে বন্ধ ১০২টি রাস্তা।

  • RSS: শতবর্ষে পা আরএসএসের, জেনে নিন এই সংগঠনের ইতিহাস

    RSS: শতবর্ষে পা আরএসএসের, জেনে নিন এই সংগঠনের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শতবর্ষ উদযাপন করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (সংক্ষেপে আরএসএস)। ১৯২৫ সালের বিজয়া দশমীর দিন এই সংগঠনের (RSS) প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন ড. কেশব বালিরাম হেডগেওয়ার। প্রধান লক্ষ্য ছিল, হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং হিন্দু সংস্কৃতি প্রচার করা (Mohan Bhagwat)। হেডগেওয়ার প্রাণিত হয়েছিলেন ভিডি সাভারকরের দ্বারা। সংগঠনের প্রথম কেন্দ্র খোলা হয়েছিল নাগপুরে। তখন থেকে মহারাষ্ট্রের এই শহর সংগঠনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। দেশের প্রতিটি রাজ্যে রয়েছে আরএসএসের কার্যালয়, ঐতিহ্যগতভাবে এগুলি “শাখা” নামে পরিচিত।

    নবজাগ্রত হিন্দু জাতির মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের পতন ঘটানো (RSS)

    সংগঠনের বহু সদস্যের মধ্যে কংগ্রেসের বেশ কিছু নেতাও ছিলেন, যাঁরা মহাত্মা গান্ধীর হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের আদর্শে হতাশ হয়েছিলেন। প্রথম দিকে আরএসএস ব্রিটিশ সরকারের বিরাগভাজন হতে চায়নি। তাই স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিল। যদিও হেডগেওয়ারের উদ্দেশ্য ছিল শেষ পর্যন্ত একটি নবজাগ্রত হিন্দু জাতির মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের পতন ঘটানো। পরবর্তীকালে আরএসএস যুবকদের নিয়োগ করে, তাঁদের যুদ্ধবিদ্যা শেখানো হত। ব্রিটিশ পুলিশের মতোই উর্দিও পরতেন তাঁরা। পরে ধীরে ধীরে আরএসএস নিতে শুরু করে এক আধাসামরিক সংগঠনের রূপ। গত একশো বছরে আরএসএসের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে একাধিক ঝড়, সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে চারবার – ১৯৪৭, ১৯৪৮, ১৯৭৫ এবং ১৯৯২ সালে।

    জনসংঘ থেকে বর্তমানে বিজেপি

    ১৯৫১ সালে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি তৎকালীন আরএসএস (RSS) সরসংঘচালক ‘শ্রী গুরুজি’র সহায়তায় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনসংঘ ৩.০৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনজন সাংসদ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মুখার্জি স্বয়ংও। এরপর জনসংঘ জাতীয় দলের মর্যাদা পায়। পরে বহু উত্থান পতনের পর ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল গঠিত হয় ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। এর প্রধান নেতারা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ও তাঁর ডেপুটি এলকে আডবাণী, প্রাক্তন মন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী ছিলেন আরএসএসের সদস্য। আজও বিজেপির প্রধান নেতা, মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত। এই তালিকায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রমুখ। মঙ্গলবার আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে তিন দিনব্যাপী বক্তৃতা সিরিজের মাধ্যমে শতবর্ষ উদযাপনের সূচনা করেছেন। শতবর্ষ উপলক্ষে সংগঠনটি সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এই বক্তৃতা সিরিজের মূল উদ্দেশ্য হল সমাজের সামনে সংগঠনের (RSS) একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপন করা (Mohan Bhagwat)।

  • Mohan Bhagwat: “নিজের বিশ্বাসের পথ অনুসরণ করার পাশাপাশি যিনি ভিন্ন বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল, তিনিই হিন্দু,” বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “নিজের বিশ্বাসের পথ অনুসরণ করার পাশাপাশি যিনি ভিন্ন বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল, তিনিই হিন্দু,” বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “যিনি নিজের বিশ্বাসের পথ অনুসরণ করেন এবং ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষদেরও সম্মান করেন, তিনিই হিন্দু।” রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ(সংক্ষেপে আরএসএস)-এর শতবর্ষ (RSS Centenary) উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত এক বক্তৃতা সিরিজে এমনই মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আমাদের প্রাকৃতিক ধর্ম সমন্বয়ের, সংঘাতের নয়।”

    ‘আরএসএস: শতবর্ষের পথচলা’ শীর্ষক এই বক্তৃতা (Mohan Bhagwat)

    মঙ্গলবার দিল্লিতে ‘আরএসএস: শতবর্ষের পথচলা’ শীর্ষক এই বক্তৃতা সিরিজে সরসংঘচালক আরএসএসের ইতিহাস, দর্শন এবং ভারতীয় সমাজে এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ভাবগত বলেন, “ভারতীয় সংস্কৃতি কখনও বিভেদ কিংবা সংঘাতের পক্ষে ছিল না। আমাদের ধর্ম শিখিয়েছে যে, সকল পথই সত্যের দিকে নিয়ে যায়।” আরএসএসের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সংঘের লক্ষ্য হল সমাজে ঐক্য ও সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রত্যেকে তাদের বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।”

    হিন্দুত্বের সংজ্ঞা

    এর পরেই আরএসএস প্রধান হিন্দুত্বের সংজ্ঞা দেন। তিনি বলেন, “হিন্দুত্ব কোনও সংকীর্ণ ধর্মীয় ধারণা নয়। এটি একটি জীবনদর্শন, যা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়।” তিনি বলেন, “হিন্দু হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের বিশ্বাসে অটল থাকেন এবং অন্যের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” সরসংঘচালক বলেন, “১৯২৫ সালে ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার প্রতিষ্ঠিত আরএসএস গত ১০০ বছরে ভারতীয় সমাজে ঐক্য, সেবা এবং শৃঙ্খলার মাধ্যমে অবদান রেখেছে। আরএসএসের শাখাগুলি আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে গিয়েছে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে সেবা ও সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, “ভারতের অগ্রগতির জন্য আমাদের সমাজের প্রতিটি অংশকে একত্রিত করতে হবে। ধর্ম, জাত বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টি করা আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী।”

    আরএসএসকে ‘সমাজের মেরুদণ্ড’ আখ্যা দিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “সংঘ কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি সামাজিক সংগঠন, যার লক্ষ্য জাতীয় চরিত্র গঠন এবং সমাজে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।” তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল (RSS Centenary) এমন একটি ভারত গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেকে নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে (Mohan Bhagwat)।”

  • PM Modi: মার্কিন শুল্ক-যুদ্ধের আবহে চলতি সপ্তাহেই জাপান ও চিন সফরে নরেন্দ্র মোদি, কী কী কর্মসূচি?

    PM Modi: মার্কিন শুল্ক-যুদ্ধের আবহে চলতি সপ্তাহেই জাপান ও চিন সফরে নরেন্দ্র মোদি, কী কী কর্মসূচি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি সপ্তাহেই জাপান ও চিন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি মঙ্গলবার জানিয়েছন, ২৮ অগাস্ট সন্ধ্যায় জাপানের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ এই সফরে তাঁর সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার দেখা হবে ৷ জাপান সফর শেষে চিনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী ৷ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেরে প্রায় ২০ জন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দেখা হবে প্রধানমন্ত্রীর ৷ চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ৩১ অগাস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর তিয়ানজিনে সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (Shanghai Cooperation Organization) শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির অষ্টম জাপান সফর

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এর আগে সাতবার জাপানে গিয়েছেন মোদি৷ এটি তাঁর অষ্টম সফর৷ তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বদলের পর এই প্রথমবার সূর্যোদয়ের দেশে যাবেন মোদি৷ দীর্ঘদিন দেশের বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে আসার পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ইশিবা৷ তাঁর অনুরোধে ১৫তম ভারত-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতেই এবার জাপান সফরে যাচ্ছেন মোদি ৷ ২৯ ও ৩০ অগাস্ট হবে এই বার্ষিক সম্মেলন৷ বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ইশিবার সাথে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। প্রায় ৭ বছরের মধ্যে এটিই তার প্রথম জাপান সফর। তিনি শেষবার ২০১৮ সালে বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন।” তারপর থেকে, তিনি জাপান সফর করেছেন, তবে তা বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের জন্য। এই সফরটি সম্পূর্ণরূপে ভারত ও জাপানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিষয়সূচির প্রতি নিবেদিত। ভারত-জাপান বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ।”

    জাপানের সঙ্গে আলোচনা

    ভারত ও জাপানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার ব্যাপারে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে৷ প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, ব্যবসা, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দুটি দেশ একে অপরকে কীভাবে সাহায্য করতে পারে তা নিয়ে কথা বলবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী৷ এর পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন কয়েকটি বিষয় নিয়েও কথা বলবেন দুই নেতা৷

    চিনের পথে মোদি

    সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে চিনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর সমস্ত দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ৷ বাড়তি শুল্ক চাপিয়ে ভারতের উপর চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকা৷ এই পরিস্থিতিতেই চিনে যাবেন মোদি ৷ সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-র শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিনের শহর তিয়ানজেন শহরে যাচ্ছেন মোদি৷ কমপক্ষে ২০টি দেশের প্রধানরা এই সম্মেলনের অংশ নেবেন৷ এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বেশ কয়েকটি দেশের প্রশাসনিক প্রধানরা এই বৈঠকের অংশ হবেন ৷

    মোদির চিন সফরের গুরুত্ব

    আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধের আবহে তো বটেই গালোয়ান সীমান্তে হওয়া ভারত ও চিন সংঘাতের পর এই প্রথম সে দেশের মাটিতে পা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি৷ তাছাড়া ঠিক যেদিন মোদির চিন সফরের কথা সরকাররে তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হল ঠিক সেদিনই বেজিংকে ‘হুমকি’ দিয়েছেন ট্রাম্প৷ তিনি চাইলে চিনকে ধ্বংস করে ফেলতে পারেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প৷ এই ঘো৷ষণা আবশ্যিকভাবে মোদি-সফরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ৩১ অগাস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর চিনের তিয়ানজিনে এসসিও এর রাষ্ট্রপ্রধানদের ২৫তম বৈঠকে যোগদান করবেন মোদি। তিয়ানজিনে ৩১ অগাস্ট সন্ধ্যায় একটি স্বাগত ভোজের আয়োজন করা হয়েছে এবং ১ সেপ্টেম্বর প্রধান শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (SCO) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    পুতিন-মোদি-জিনপিং এক মঞ্চে!

    ভারত ২০১৭ সাল থেকে এসসিও-এর সদস্য দেশ হিসেবে অংশগ্রহণ করছে এবং ২০২২-২৩ সালে এসসিও রাষ্ট্রপ্রধান কাউন্সিলের সভাপতিত্বও পালন করেছে। এই সফর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কর্তৃক আয়োজিত হচ্ছে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন। এই শীর্ষ সম্মেলনের সময়, সমস্ত এসসিও দেশ একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে পারে। এর পাশাপাশি, সমস্ত সদস্য দেশ এসসিও উন্নয়ন কৌশল অনুমোদন করবে এবং নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার পদক্ষেপগুলি নিয়েও আলোচনা করবে। এই ঘোষণাপত্রে আমেরিকার শুল্ক নীতির উপযুক্ত জবাব দেওয়া হতে পারে। এই সম্মেলনে যোগ দেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও।

LinkedIn
Share