Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Pak Airstrike on Hospital: ‘সামরিক অভিযানের নামে গণহত্যা’, কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলার কড়া নিন্দা ভারতের

    Pak Airstrike on Hospital: ‘সামরিক অভিযানের নামে গণহত্যা’, কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলার কড়া নিন্দা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বর্বরোচিত’ এবং ‘কাপুরুষোচিত’-র মতো কাজ করেছে পাকিস্তান (Pak Airstrike on Hospital)। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর হামলার কড়া নিন্দা করল ভারত। এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই হামলার প্রতিবাদ করে ভারত বলেছে, ‘এই হামলা আদতে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপরে আঘাত যা আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করবে।’ নয়াদিল্লি জানিয়েছে, সোমবার রাতে পাকিস্তান যা করেছে, তা এক নৃশংস গণহত্যা। এখন সেই গণহত্যাকে ‘সামরিক অভিযান’ বলে চালানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

    কোনও যুক্তিতেই ‘সামরিক নিশানা’ নয়

    ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়, রমজান মাসে শান্তি এবং দয়া প্রদর্শন করে থাকেন গোটা বিশ্বের মুসলিমরা। কিন্তু রমজান মাসেই যেভাবে হামলা হয়েছে সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। হাসপাতালকে নিশানা করে হামলা চালানোটা কোনওভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। পাকিস্তান যেভাবে জঘন্য হামলা চালিয়েছে সেটা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত। অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে বারবার এভাবেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলার তীব্র নিন্দা করে নয়াদিল্লির তোপ, পাকিস্তান সামরিক অভিযানের নামে আফগানিস্তানে গণহত্যা চালিয়েছে। যে হামলায় এত জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়, সেটিকে কোনও যুক্তিতেই ‘সামরিক নিশানা’ বলে দেখানো যায় না। এই হামলাকে পাকিস্তানের ‘আগ্রাসী’ মনোভাব বলে বর্ণনা করেছে ভারত।

    পাকিস্তানের ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণ

    সোমবার রাতে ২০০০ শয্যার এই হাসপাতালে পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ্ ফিতরাত। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতালটিতে হামলা হয়েছে। হামলার জেরে হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ৪০০ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২৫০ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে বলেও প্রাথমিক ভাবে জানান ফিতরাত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই হামলা শুধু আফগানিস্তানের উপর নয়, গোটা এলাকার শান্তি এবং স্থিতাবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। এটি পাকিস্তানের ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণকেই ফের এক বার প্রকট করল বলে মনে করছে দিল্লি। প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। গতবছর ভয়ানক ভূমিকম্পের পর আফগানিস্তানকে বিপুল ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত। কাবুলে পুরোপুরি সক্রিয় হয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। ভারতে প্রথমবার নিযুক্ত হয়েছেন তালিবান রাষ্ট্রদূত। নানা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। দুই দেশই একযোগে বারবার তুলোধোনা করেছে পাকিস্তানকে।

  • NIA Arrests: ভারতবিরোধী কার্যকলাপে সাহায্য! ইউক্রেনের ৬ ও এক মার্কিন নাগরিককে ধরল এনআইএ

    NIA Arrests: ভারতবিরোধী কার্যকলাপে সাহায্য! ইউক্রেনের ৬ ও এক মার্কিন নাগরিককে ধরল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সাত বিদেশিকে গ্রেফতার করল এনআইএ (National Investigation Agency)। তাঁদের মধ্যে ছ’জন ইউক্রেনের নাগরিক। এক জন আমেরিকার। সোমবার দিল্লিতে এনআইএ জানিয়েছে, মায়ানমারে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে ইউরোপ থেকে বেআইনি ভাবে ড্রোন নিয়ে আসারও। আদালত তাঁদের ১১ দিনের জন্য এনআইএ হেফাজতে (NIA Arrests) পাঠিয়েছে।

    ড্রোন পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল মায়ানমারে

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, অভিযুক্তেরা সকলেই বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তার পরে কোনও অনুমতি ছাড়াই মিজোরামের দিকে চলে যান তাঁরা। দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা লুকিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারেও চলে গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতবিদ্বেষী কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। তদন্তকারীদের অনুমান, ইউরোপ থেকে নিয়ে আসা ড্রোনও তাঁরা পৌঁছে দিয়েছিলেন মিজোরামে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইউরোপ থেকে অবৈধ উপায়ে ভারতে নিয়ে আসা হয়েছিল ড্রোনগুলি। তার পরে ভারত থেকেই পাঠানো হয়েছিল মায়ানমারের ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে। এনআইএ-র বক্তব্য, অভিযুক্তেরা কোন পথে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অপরাধের কোথায় কোথায় টাকা ঘুরেছে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এবং এর জন্য অভিযুক্তদের মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখতে চান তদন্তকারীরা। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন এনআইএ আধিকারিকেরা।

    লখনউ-দিল্লি-কলকাতা থেকে গ্রেফতার

    ভারতের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা মায়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে ধৃত সাত বিদেশির বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগেই সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হানা দিয়ে পাকড়াও করা হয়। অভিযুক্ত আমেরিকানকে ধরা হয় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে। বাকিদের মধ্যে তিন জনকে আটক করা হয় লখনউ বিমানবন্দর থেকে এবং তিন জনকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে। দিল্লির বাইরে যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁদেরও ইতিমধ্যে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক অভিযুক্তদের তিন দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরে হেফাজতের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করে ২৭ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।

  • India: আরএসএস, ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের, রিপোর্ট পত্রপাঠ খারিজ ভারতের

    India: আরএসএস, ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের, রিপোর্ট পত্রপাঠ খারিজ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF) ২০২৬-এর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করল ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক। ওই প্রতিবেদনে আরএসএস (RSS) এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছিল। সোমবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই কমিশন ধারাবাহিকভাবে বাস্তব তথ্যের বদলে মতাদর্শগত বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতের একটি বিকৃত ও নির্বাচিত চিত্র তুলে ধরছে।

    কী বললেন জয়সওয়াল? (India)

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা ইউএসসিআইআরএফের সর্বশেষ প্রতিবেদনটি লক্ষ্য করেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে এর পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারতের যে ছবি তুলে ধরা হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করছি। বহু বছর ধরে ইউএসসিআইআরএফ সন্দেহজনক সূত্র ও মতাদর্শগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে ভারতের একটি বিকৃত ও একপাক্ষিক ছবি তুলে ধরছে। বারবার এই একই ধরনের ভুল উপস্থাপন কমিশনের নিজের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুণ্ণ করে।” প্রতিবেদনটিতে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। কমিশনের অভিযোগ, ভারত সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও উপাসনালয়গুলিকে টার্গেট করছে এবং ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছে যেন বাণিজ্যনীতি ও অস্ত্র বিক্রিকে মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

    কী বলা হয়েছে প্রতিবেদনে?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, “ভারতের কয়েকটি রাজ্য ধর্মান্তর বিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে কঠোর কারাদণ্ডও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক আটক ও নাগরিক এবং ধর্মীয় শরণার্থীদের অবৈধ বহিষ্কারকে সহজতর করেছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণপিটুনি বা নজরদারি হামলাকে সহনীয়ভাবে দেখেছে (India)।” কমিশন ওয়াকফ সংশোধনী আইন এবং উত্তরাখণ্ড স্টেট অথরিটি ফর মাইনরিটি এডুকেশন অ্যাক্টের মতো আইনগুলির সমালোচনা করে। একই সঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার জন্য কাঠগড়ায় তোলা হয়। ইউএসসিআইআরএফের সুপারিশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার আর্মস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্টের ধারা ৬ প্রয়োগ করে ভারতের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করুক। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে এই সুপারিশ করা হয়েছে (USCIRF Credibility)।

    ভারতের ‘পরামর্শ’ আমেরিকাকে

    এই বাড়তে থাকা সুপারিশের জবাবে বিদেশমন্ত্রক (India) কমিশনকে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়। জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে একপাক্ষিক সমালোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইউএসসিআইআরএফের উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, ভারতকে বেছে নিয়ে টার্গেট করা এবং ভারতীয় প্রবাসীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাগুলির দিকে নজর দেওয়া, যা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।” বর্তমান কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন নয়। এর আগে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে ইউএসসিআইআরএফের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে এবং ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে তাদের সমালোচনার বিরোধিতা করেছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ২০২৫ সালের অনুরূপ বিতর্কে ভারতের বিদেশমন্ত্রক বলেছিল, বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা কমিশনের একটি পূর্বনির্ধারিত অ্যাজেন্ডার অংশ, প্রকৃত উদ্বেগ নয় (USCIRF Credibility)। তখনই মন্ত্রক ভারতের বহুত্ববাদী কাঠামোর ওপর জোর দিয়ে বলেছিল, ১৪০ কোটিরও বেশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এখানে সহাবস্থান করছে। তারা আরও বলে, “ভারতকে গণতন্ত্র ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে দুর্বল করার এই প্রচেষ্টা সফল হবে না। বরং ইউএসসিআইআরএফকেই একটি উদ্বেগজনক সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত (India)।”

  • Rajya Sabha Results 2026: রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়জয়কার, ১১-র মধ্যে ৯টিতে জয়ী এনডিএ প্রার্থীরা

    Rajya Sabha Results 2026: রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়জয়কার, ১১-র মধ্যে ৯টিতে জয়ী এনডিএ প্রার্থীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভা নির্বাচনে (Rajya Sabha Results 2026) প্রত্যাশামতোই সফল বিজেপি-সহ এনডিএ প্রার্থীরা। ২০২৬ সালের রাজ্যসভা নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতিতে এক বড় মোড় এনে দিল। ক্রস-ভোটিং এবং বহু বিধায়কের অনুপস্থিতিও লক্ষ্যনীয়। এনডিএ ১১টির মধ্যে ৯টি আসন জয়লাভ (NDA Wins in Rajya Sabha) করে। অন্যদিকে, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এবং বিজু জনতা দল মাত্র একটি করে আসন জিততে সক্ষম হয়েছে, যা বিরোধী জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের মোট ১০ টি রাজ্যে রাজ্যসভার ৩৭ টি আসন শূন্য হয়েছে৷ এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্রার্থীর সংখ্যা আসনের সমান থাকায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৬ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন ৷ বাকি যে ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন, তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণের জন্যই সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছিল ভোটগ্রহণ ৷ বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পর্ব চলে ৷ গণনা শুরু হয় বিকেল ৫টা থেকে ৷ এদিনের প্রার্থীদের মধ্যে ৫ জন বিহারের, ৪ জন ওড়িশার এবং ২ জন হরিয়ানার৷

    রাজ্যভিত্তিক ফলাফল

    বিহার: ৫টির মধ্যে ৫টি আসনই এনডিএর দখলে

    বিহারে নাটকীয় লড়াইয়ে এনডিএ সবকটি ৫টি আসন জিতে নেয়। বিরোধী শিবিরের একাধিক বিধায়কের অনুপস্থিতি এবং কৌশলগত ভোট ব্যবস্থাপনা এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    বিজয়ীরা:

    • নিতিন নবীন (বিজেপি)
    • শিভেশ রাম (বিজেপি)
    • নীতিশ কুমার (জনতা দল ইউনাইটেড)
    • রামনাথ ঠাকুর (জনতা দল ইউনাইটেড)
    • উপেন্দ্র কুশওয়াহা (আরএলএসএম)

    আরজেডির প্রার্থী অমরেন্দ্র ধারি সিং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় পরাজিত হন।

    ওড়িশা: বিজেপির উত্থান, একটি আসন ধরে রাখল বিজেডি

    ৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩টি আসনে জয় পায়, আর বিজেডি একটি আসন ধরে রাখে।

    বিজয়ীরা:

    • মনমোহন সামাল (বিজেপি)
    • সুজিত কুমার (বিজেপি)
    • দিলীপ রায় (স্বতন্ত্র, বিজেপি সমর্থিত)
    • সন্তরুপ্ত মিশ্র (বিজেডি)

    এখানে কংগ্রেস ও বিজেডির বেশ কয়েকজন বিধায়কের ক্রস-ভোটিং বিজেপির পক্ষে ফল ঘুরিয়ে দেয়।

    হরিয়ানা: বিতর্কের মাঝে ভাগাভাগি ফল

    হরিয়ানায় ভোট গণনা নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রায় ৬ ঘণ্টা দেরি হয়। শেষ পর্যন্ত একটি আসন বিজেপি এবং একটি কংগ্রেস পায়।

    বিজয়ীরা:

    • সঞ্জয় ভাটিয়া (বিজেপি)
    • করমবীর বৌধ (কংগ্রেস)

    ক্রস-ভোটিং- ওড়িশা, হরিয়ানায় বিতর্ক

    এই নির্বাচনে (Rajya Sabha Results 2026) কয়েকটি বড় বিষয় ফলাফলে নির্ধারক ভূমিকা নিয়েছে— বিহারে কংগ্রেস ও আরজেডির একাধিক বিধায়ক ভোট দেননি। ওডিশায় অন্তত ১১ জন বিধায়ক ক্রস-ভোটিং করেন। হরিয়ানায় ভোটের বৈধতা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। রাজ্যসভা নির্বাচনে এ বার ‘ক্রস ভোটিং’-এর সাক্ষী হয়েছে ওড়িশা। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্যে চারটি আসনে ভোট ছিল। তার মধ্যে তিনটিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। একটিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের দলের প্রার্থী। বিজেডি এবং কংগ্রেসের ১১ জন বিধায়ক বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে সে রাজ্যের দু’টি রাজ্যসভা আসনে বিজেপি প্রার্থীদের (NDA Wins in Rajya Sabha) জয় নিশ্চিত ছিল। আর একটি আসন থেকে নিজেদের প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠানো নিশ্চিত ছিল নবীনের দল বিজেডি-র। গোল বেধেছিল চতুর্থ আসন নিয়ে। এই আসনে বিজেপির জয় আটকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছিল বিজেডি। দুই দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই চতুর্থ আসনে প্রার্থী করেছিল ওড়়িশার বিশিষ্ট চিকিৎসক দত্তেশ্বর হোতাকে। অন্য দিকে, চতুর্থ আসনে বিজেপি প্রার্থী করেছিল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা শিল্পপতি দিলীপ রায়কে। ওই আসনে দ্বিতীয় পছন্দের ভোটে দত্তেশ্বরকে হারিয়ে জিতেছেন দিলীপ। ওড়িশার চারটির পাশাপাশি বিহারের ছ’টি এবং হরিয়ানার দু’টি রাজ্যসভা আসনেও ভোট হয়েছে সোমবার। হরিয়ানায় ভোটপর্ব শেষের পরে অনিয়মের অভিযোগ দুই কংগ্রস বিধায়কের ভোট বাতিলের দাবি তুলেছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির অনিল ভিজের ভোট বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে কংগ্রেসের তরফে।

    বাকি ২৬ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা

    রাজ্যসভার ৩৭ সাংসদের (Rajya Sabha Results 2026) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী এপ্রিল মাসে৷ এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, বিহার, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র এবং ওড়িশা৷ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যে সাংসদরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা হলেন বিজেপির সাত সাংসদ, কংগ্রেস পাঁচ, তৃণমূল কংগ্রেসের চার, ডিএমকে তিন এবং শিবসেনা, আরপিআই (এ), এনসিপি, এনসিপি (এসপি), এআইএডিএমকে, পিএমকে, ইউপিপিএল একজন করে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫ আসনের মেয়াদ শেষ হয়েছিল৷ তার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের চারপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন ৷ বিজেপির তরফে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন একজন৷

    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীরা: রামদাস আথাওয়ালে, বিনোদ তাওড়ে, শরদ পাওয়ার, রামরাও ওয়াদকুতে, মায়া ইভনাতে, জ্যোতি ওয়াঘমারে, পার্থ পাওয়ার, অভিষেক মনু সিংভি, বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামী, কোয়েল মল্লিক, রাহুল সিন‍্‍হা, জোগেন মোহন তেরশ, গোওয়ালা প্রমোদ বরো, ভেম নরেন্দ্র রেড্ডি, এম থাম্বুদাঁস, তিম্বুরা, তিম্বুরা সিনহা, রবীন্দ্রন এম ক্রিস্টোফার তিলক, এল কে সুদেশ, লক্ষ্মী ভার্মা, ফুলো দেবী নেতাম, অনুরাগ শর্মা৷

  • Vande Mataram:  তেলঙ্গানা বিধানসভায় ‘বন্দে মাতরম্’ চলাকালীন এআইএমআইএম বিধায়কদের ওয়াকআউট

    Vande Mataram: তেলঙ্গানা বিধানসভায় ‘বন্দে মাতরম্’ চলাকালীন এআইএমআইএম বিধায়কদের ওয়াকআউট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেলঙ্গানার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ বাজানোর সময় অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইতেহাদুল মুসলিমিন (All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen বা AIMIM)-এর বিধায়করা ওয়াকআউট করেন।

    জাতীয় গানের প্রতি সরাসরি অসম্মান

    ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া তেলঙ্গানা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সূচনায় ‘বন্দে মাতরম্’ বাজানো হয়। সেই সময় কংগ্রেস, ভারত রাষ্ট্রীয় সমিতি (BRS) এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র বিধায়করা দাঁড়িয়ে জাতীয় গানের প্রতি সম্মান জানান। তবে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইতেহাদুল মুসলিমিন-এর বিধায়করা সেই সময় বিধানসভা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “বন্দে মাতরম্ গাওয়ার সময় অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইতেহাদুল মুসলিমিন-এর বিধায়কদের বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়া লজ্জাজনক। এটি শুধু প্রতিবাদ নয়, জাতীয় গান ও দেশের আত্মার প্রতি সরাসরি অসম্মান। কেন তারা ভারতের প্রতীকগুলির প্রতি অ্যালার্জিক—আজ তা স্পষ্ট হয়ে গেল।”

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা

    এর একদিন আগেই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবানাথ রেড্ডি হায়দ্রাবাদে এক অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু কল্যাণ দফতরের আয়োজিত রমজানের ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ওই অনুষ্ঠানে এআইএমআইএম সভাপতি ও হায়দ্রাবাদের সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়েসি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছয় স্তবকের ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম্’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ একসঙ্গে পরিবেশিত হলে আগে ‘বন্দে মাতরম্’ বাজাতে হবে এবং সেই সময় উপস্থিত সবাইকে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

     

     

     

     

  • Shivalik LPG Tanker: কূটনৈতিক জয় ভারতের! হরমুজ পেরিয়ে গুজরাটে পৌঁছল ‘শিবালিক’, আসছে ‘নন্দা দেবী’

    Shivalik LPG Tanker: কূটনৈতিক জয় ভারতের! হরমুজ পেরিয়ে গুজরাটে পৌঁছল ‘শিবালিক’, আসছে ‘নন্দা দেবী’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ আবহে সোমবার এলপিজি বোঝাই ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’ (Shivalik LPG Tanker) পৌঁছে গেল গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে (Mundra Port LPG Tanker)। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে দু’দিন আগেই ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এই ট্যাঙ্কারটি। দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে গত শুক্রবার হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পেরিয়েছিল ওই জাহাজ। হরমুজ পেরিয়ে এলপিজি নিয়ে আরও একটি জাহাজ ‘নন্দাদেবী’ও এগিয়ে আসছে ভারতের দিকে। মঙ্গলবার ওই জাহাজটির মুম্বইয়ে পৌঁছোনোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে খবর। এর ফলে দেশে এলপিজি নিয়ে যে উদ্বেগ (India LPG Supply)তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই মিটবে, বলে অনুমান। গোটা বিষয়টিকে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক জয় হিসাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ভারতের জাহাজই হরমুজ পেরোল

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ দিয়ে মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করেছে। তিনটি-ই ভারতের পথে। তার মধ্যে শিবালিক এবং নন্দাদেবী হল যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয়। প্রথমটি ছিল লাইবেরিয়ার পতাকাধারী একটি ট্যাঙ্কার। সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে সেটি রওনা হয়েছিল। শিবালিক এবং নন্দাদেবী শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এসসিআই)-এর জাহাজ। সূত্রের খবর, শিবালিকে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি। নন্দাদেবীতেও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এলপিজি।

    ভারতের কৃটনৈতিক জয়

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল এবং আমেরিকা। প্রত্যাঘাত করে তেহরানও। তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল, এলপিজি আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব দিকে আসতে হলে হরমুজ পেরোনো বাধ্যতামূলক। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশ। তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে নয়াদিল্লি। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে চার বার জয়শঙ্কর কথা বলেন বলে খবর। গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার পরেই ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি আশ্বাস দেন, হরমুজ দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করবে ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজ। ফাথালির কথায়, ‘‘ভারত এবং ইরান বন্ধু। আমরা তাতে বিশ্বাস করি।’’ তার পরেই হরমুজ পেরিয়ে এল ভারতীয় জাহাজ।

    হরমুজের উভয় প্রান্তে রয়েছে ভারতের আরও জাহাজ

    সূত্রের খবর, হরমুজের উভয় প্রান্তে এখনও দু’ডজনেরও বেশি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের আটকে রয়েছে। সেগুলি যাতে নিরাপদে হরমুজ পেরোতে পারে তার জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “ভারতীয় পতাকাবাহী পেট্রোল ট্যাঙ্কার ‘জগপ্রকাশ’ ইতিমধ্যেই হরমুজের পূর্ব দিক থেকে যাত্রা শুরু করেছে।” রাজেশ কুমার জানান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাবিক নিরাপদে আছেন।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?

    হরমুজ প্রণালী কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ইরান অনানুষ্ঠানিকভাবে এই পথে অবরোধ তৈরি করার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর ফলে এই সরু জলপথ দিয়ে ক্রুড অয়েলের স্বাভাবিক প্রবাহে বড়সড় বিঘ্ন ঘটে। সাধারণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস বাণিজ্য এই পথ দিয়েই হয়। ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ করে। তার মধ্যে হরমুজ প্রণালী এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলিকেও লক্ষ্য করা হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথে জ্বালানি জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তাও দু’বার।

    গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমবে

    ভারত প্রতি দিনের ১৯.১ কোটি আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার) গ্যাস ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। মনে করা হচ্ছে, এলপিজি বোঝাই জাহাজ এসে পৌঁছোনোয় সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমবে। প্রসঙ্গত, দেশে গ্যাসের সংকটের মধ্যে ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’তে রয়েছে আনুমানিক ৯২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গ্যাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে এগুলি অমূল্য বললে ভুল বলা হয় না। জাহাজ মন্ত্রক সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই আনলোডিংয়ের কাজ শুরু হবে। আনলোডিং শেষ হলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এলপিজি সিলিন্ডার পাঠানো হবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এলপিজি সঙ্কট অনেকটাই দূর করা যাবে বলে মনে করছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। অন্য দিক, পেট্রল-ডিজেলের কোনও খামতি নেই বলে এ দিন জানিয়েছেন পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের স্পেশাল সেক্রেটারি সুজাতা শর্মা। সোমবার তিনি বলেন, ‘দেশে অপরিশোধিত তেল পর্যাপ্ত পরিমাণে সহজলভ্য। সমস্ত শোধনাগার তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের পেট্রল পাম্পগুলো স্বাভাবিক ভাবে চলছে। কোথাও তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি।’

     

     

     

     

  • UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর বা জাল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ জন ভারতীয়-সহ (Indians) মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন-ইজরায়েলি বাহিনী ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর  শুরু (UAE) হয় এই যুদ্ধ। ইউএইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিকৃত ভিডিও এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়েছে, যা বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের দ্রুত বিচার করা হবে। এই পদক্ষেপ করা হয়েছে দু’টি ধাপে। সর্বশেষ তালিকায় বিভিন্ন দেশের ২৫ জন রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৭ জন ভারতীয়। এর আগে শনিবার ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়।

    ইউএইর অভিযোগ (UAE)

    ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামস জানান, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তৈরি ভুয়ো তথ্য ও কৃত্রিম কনটেন্ট ছড়ানো রুখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সে দেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়ামের (WAM) উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছে। এর মধ্যে ছিল বর্তমান ঘটনাবলীর আসল ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা, আই ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা, এবং সামরিক আগ্রাসনে জড়িত একটি রাষ্ট্রের প্রশংসা করে প্রচার করা।

    প্রথম দলের ১০

    জানা গিয়েছে, প্রথম দলের ১০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ছিলেন ৫ জন ভারতীয়, ১ জন পাকিস্তানি, ১ জন নেপালি, ২ জন ফিলিপিনো এবং ১ জন মিশরীয়। তাঁরা দেশের আকাশসীমায় মিসাইল চলাচল ও প্রতিরোধের আসল ভিডিও প্রচার করেছিল। এসব ঘটনা দেখার জন্য জড়ো হওয়া মানুষের ভিডিও করে তাতে এমন মন্তব্য ও শব্দপ্রভাব যোগ করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় দেশে সক্রিয় হামলা চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এতে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল এবং দেশ বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারত (UAE)। দ্বিতীয় দলে ৭ জন ছিলেন। এঁদের মধ্যে ৫ জন ভারতীয়, ১ জন নেপালি এবং ১ জন বাংলাদেশি (Indians)।

    এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও

    তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও বা দেশের বাইরের ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে দাবি করেছিলেন যে এগুলি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ঘটেছে। এসব ভিডিওয় বিস্ফোরণ ও মিসাইল হামলার কৃত্রিম দৃশ্য দেখানো হয়েছিল এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সেখানে জাতীয় পতাকা বা নির্দিষ্ট তারিখ যুক্ত করা হয়েছিল। আর তৃতীয় দলে ৬ জন ছিলেন। এঁর মধ্যে ৫ জন ভারতীয় এবং ১ জন পাকিস্তানি। অভিযোগ, তাঁরা ইরানের প্রশংসা করে কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন, যেখানে সেই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ডকে সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ

    সরকারের বক্তব্য, এতে শত্রুপক্ষের প্রচারকে শক্তিশালী করা হয়েছে, ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ। এছাড়া আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সরকারি কৌঁসুলির দফতর তাঁদের আটক করে রাখার নির্দেশ দেয় (Indians)। অ্যাটর্নি জেনারেল আল শামস বলেন, “তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়েছিল, যেখানে ইউএইয়ের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা বা বড় অগ্নিকাণ্ড দেখানো হয়েছিল (UAE)। ইউএই আইনে এই ধরনের অপরাধের শাস্তি হল, কমপক্ষে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্তত ১,০০,০০০ দিরহাম জরিমানা। তিনি বলেন, “এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা দুর্বল করা।”

    নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণা

    কিছু ভিডিওতে শিশুদের আবেগকে ব্যবহার করে নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণাও তৈরি করা হয়েছে। কিছু ভিডিওয় আবার দেশের সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বা বিদেশের ঘটনাকে ইউএইয়ের ঘটনা হিসেবে দেখানো হয়েছে। রবিবার সকালে উপসাগরীয় দেশগুলি, যার মধ্যে ইউএইও রয়েছে, নতুন করে হামলার খবর জানায়। এর একদিন আগে ইরান ইউএইয়ের তিনটি বড় বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছিল (Indians)। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউএইয়ের বন্দর, ডক ও ঘাঁটি ব্যবহার করে খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এই দ্বীপেই রয়েছে ইরানের প্রধান তেল রফতানি টার্মিনাল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি ইরান (UAE)। এদিকে, যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি আশা করেন মিত্র দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।

     

  • RSS: হিন্দুত্ব শুধু ভাবনা নয়, এটা জীবনপদ্ধতি, বললেন দত্তাত্রেয় হোসাবলে

    RSS: হিন্দুত্ব শুধু ভাবনা নয়, এটা জীবনপদ্ধতি, বললেন দত্তাত্রেয় হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসের (RSS) বিস্তার মানেই জাতীয় ভাবনার বিস্তার—এমনটাই মন্তব্য করলেন সংঘের অখিল ভারতীয় সর কার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে। পানিপথে তিন দিনব্যাপী অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। তিনি আরও জানান, গত এক বছরে সংঘের সাংগঠনিক বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রায় ছয় হাজার নতুন শাখা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে শাখার সংখ্যা ৮৮ হাজারেরও বেশি হয়েছে। শাখা পরিচালিত হওয়া স্থানের সংখ্যাও বেড়ে ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক মিলন ও মণ্ডলীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ” হিন্দুত্ব শুধু একটি ভাবনা নয়, এটি একটি জীবনপদ্ধতি”।

    আন্দামান থেকে অরুণাচল বেড়েছে সংগঠন

    দত্তাত্রেয় হোসাবালে (Dattatreya Hosabale) বলেন, “সংগঠনের (RSS) বিস্তার শুধু সংখ্যায় নয়, ভৌগোলিক ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। আন্দামান, অরুণাচল প্রদেশ, লেহ এবং দূরবর্তী আদিবাসী এলাকাতেও এখন সংঘের শাখা চলছে।” সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলেও তিনি জানান। আন্দামানে নয়টি দ্বীপ থেকে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ একটি হিন্দু সম্মেলনে অংশ নেন। একইভাবে কম জনঘনত্বের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে ২১টি হিন্দু সম্মেলনে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ যোগ দেন।

    হিন্দুত্ব শুধু একটি ভাবনা নয়, এটি একটি জীবনপদ্ধতি

    তিনি (Dattatreya Hosabale) আরও বলেন, সংগঠনের বিস্তারের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সংঘ (RSS)। “পঞ্চ পরিবর্তন” ধারণার মাধ্যমে সামাজিক মান ও মূল্যবোধ উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ভারতীয়তা বা হিন্দুত্ব শুধু একটি ভাবনা নয়, এটি একটি জীবনপদ্ধতি। হোসাবালে জানান, জাতপাত বা সম্প্রদায়ের বিভেদ ভুলে মহান ব্যক্তিত্বদের অবদানকে সম্মান জানানো উচিত। সেই ভাবনা থেকেই ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর উদ্‌যাপন করা হয়েছে। আগামী বছরে সন্ত রবিদাসের ৬৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    গো-সেবা ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা

    তিনি জানান, আগামী বছরে সংঘের (RSS) পক্ষ থেকে মোট ৯৬টি প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হবে, যার মধ্যে ১১টি আঞ্চলিক এবং একটি নাগপুরে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে গো-সেবা ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নাগরিকদের বাড়ির ছাদে সবজি চাষ এবং দেশি গরুর গোবর থেকে তৈরি সার ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পলিথিন ব্যবহার কমানো ও জল সংরক্ষণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ‘সবুজ বাড়ি’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান ৪৬টি প্রান্তের পরিবর্তে ছোট ইউনিট ‘সম্ভাগ’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সম্ভাগের সংখ্যা ৮০-এর বেশি হতে পারে। এক প্রশ্নের উত্তরে হোসাবালে বলেন, নির্বাচনের সময় ভোটারদের কেবল জাতপাতের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সমাজের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকেও দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দেশের সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসাও করেন এবং বলেন, সংঘ বিশ্বে শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে।

    স্বয়ংসেবক কারা?

    তিনি আরও জানান, সংঘ (RSS) কোনও সম্প্রদায় বা উপাসনা পদ্ধতির বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার সংঘ প্রতিষ্ঠার সময় এমনই ভাবনা পোষণ করেছিলেন। পরবর্তীতে এম এস গোলওয়ালকরও বলেন, সব মানুষের পূর্বপুরুষ এক এবং উপাসনার পদ্ধতির ভিন্নতা বিভেদ সৃষ্টি করে না। তৃতীয় সরসংঘচালক বালাসাহেব দেওরসও মত দেন, যারা ভারতকে মাতৃভূমি হিসেবে মানেন এবং ভারতীয়তার চেতনায় জীবনযাপন করেন, তারাই হিন্দু। দত্তাত্রেয় হোসাবালে বলেন, সমাজের কল্যাণে যে কেউ কাজ করলে তাকে সংঘের স্বয়ংসেবক হিসেবেই দেখা হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরে সংঘের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলেও তিনি জানান। তিনি জানান, গুরু তেগবাহাদুরের ৩৫০তম শহিদ দিবস উপলক্ষে সারা দেশে দুই হাজারের বেশি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে সাত লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশ নেন।

  • Election 2026: ভোটের ঢাকে পড়ল কাঠি, রাজ্যে দু’দফায় নির্বাচন, মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট লাগু

    Election 2026: ভোটের ঢাকে পড়ল কাঠি, রাজ্যে দু’দফায় নির্বাচন, মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট লাগু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের (Election 2026) সূচি ঘোষণা করে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এই রাজ্যগুলি হল পশ্চিমবঙ্গ (২৩ ও ২৯ এপ্রিল), তামিলনাড়ু (২৩ এপ্রিল), কেরল (৯ এপ্রিল), অসম (৯ এপ্রিল) এবং পুদুচেরি (৯ এপ্রিল)। ভোট গণনা হবে ৪ মে। কমিশনের এই ঘোষণার মাধ্যমে একটি বড় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল, যার মাধ্যমে প্রায় ৮২৪টি আসনে ভাগ্য নির্ধারিত হবে প্রার্থীদের।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা (Election 2026)

    রবিবার বিকেলে দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, প্রায় ১৭.৪ কোটি মানুষ এই নির্বাচনে অংশ নেবেন। এর মধ্যে অসমে ২.৫০ কোটি, কেরলে ২.৭০ কোটি, পুদুচেরিতে ৯.৪৪ লাখ, তামিলনাড়ুতে ৫.৬৭ কোটি এবং পশ্চিমবঙ্গে ৬.৪৪ কোটি ভোটার রয়েছেন। তিনি বলেন, “২০টি দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে এবং তা থেকে শিক্ষা নিতে ভারতে আসবেন।” নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পাঁচটি ভোটমুখী রাজ্যে মডেল কোড অব কন্ডাক্ট (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়ে গেল বলেও জানান তিনি। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে। আর অন্যদিকে বিজেপি তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মরিয়া। রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে।

    নির্বাচন আরও তিন রাজ্যেও

    তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকের সেক্যুলার প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স মুখোমুখি হচ্ছে বিজেপি–এআইএডিএমকে জোটের। সেখানে মোট ২৩৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। কেরলে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) সরকার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (UDF)-এর বিরুদ্ধে (Election Commission)। অসমে বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসতে চাইছেন। পুদুচেরিতে মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গাস্বামীর এআইএনআরসির মুখোমুখি হচ্ছে ডিএমকে–কংগ্রেস জোট।

    কমিশনের কড়া বার্তা

    এদিকে, ভুয়ো তথ্য ও ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়ে রাখল কমিশন। জ্ঞানেশ জানান, এই বিষয়টি নজর রাখবেন নোডাল অফিসাররা। এই ধরনের ভুয়ো তথ্য বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় মুছে ফেলা এবং এফআইআর দায়ের করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন তাঁরা। রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আদর্শ আচরণবিধি এখন থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর পর এমন কোনও ঘটনা ঘটলে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে কমিশন।” অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন (Election 2026) বিচারকরা।  অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হলে, সেই তালিকার নামগুলি বর্তমান ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।” তিনি জানান, বিবেচনাধীন থাকা নামগুলি খতিয়ে দেখছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। তাঁরা যে নামগুলিকে অনুমোদন দেবেন, সেগুলি চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত করা হবে (Election Commission)।

    নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আপাতত ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ৪৪ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ৩ কোটি ২৮ লাখ, মহিলা ৩ কোটি ১৬ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১৫২জন। উল্লেখ্য যে, বঙ্গের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় নির্বাচন হবে ১৫২টিতে, দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় নির্বাচন হবে ১৪২টি আসনে (Election 2026)।

     

LinkedIn
Share