Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Thai Captives: ঘুঁচল বন্দিদশা, হামাসের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে দেশে ফিরলেন ৫ থাই নাগরিক

    Thai Captives: ঘুঁচল বন্দিদশা, হামাসের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে দেশে ফিরলেন ৫ থাই নাগরিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হামাসের হাতে বন্দি (Thai Captives) ছিলেন এক বছরেরও বেশি সময়। শেষমেশ ঘুঁচল বন্দিদশা। রবিবার গাজা (Gaza) থেকে দেশে ফিরলেন পাঁচ থাই নাগরিক। এদিন সকালে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে অবতরণের পর ওয়াচারা শ্রীয়াউন, পংসাক থায়েন্না, সাথিয়ান সুওয়ান্নাখাম, সারুসাক রুমনাও এবং বান্নাওয়াত সায়েথাওকে তাঁদের স্বাগত জানান পরিবারের সদস্যরা।

    থাই নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন (Thai Captives)

    এক বছরেরও বেশি সময় পরে দেশে ফেরায় প্রিয়জনকে কাছে পেয়ে আনন্দাশ্রু ফেলতেও দেখা গিয়েছে কয়েকজনকে। দেশের মাটিতে পা রাখার পর পংসাক বলেন, “জন্মস্থানে ফিরতে পেরে আমরা সকলেই গভীরভাবে মুগ্ধ। আমি আর কী বলব জানি না। আমরা সবাই সত্যিই কৃতজ্ঞ।” ছেলেকে আর বাড়ি থেকে দূরে রাখতে চান না সোমবুন। উত্তর থাইল্যান্ডের নান প্রদেশের এই প্রৌঢ় বলেন, “আমি আর আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে দূরে কোথাও পাঠাব না।”

    বন্দিদশা ঘুঁচল

    গত মাসে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসে মুক্তি পান থাইল্যান্ডের এই পাঁচজন। টানা ১৫ মাস ধরে চলেছে ইহুদি রাষ্ট্র ইজারায়েলের সঙ্গে গাজার মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের যুদ্ধ। পরে স্বাক্ষরিত হয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি। সেই চুক্তির কারণেই বন্দিদশা ঘুঁচল হামাসের হাতে বন্দি থাকা এই পাঁচ থাই নাগরিকেরও। থাইল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী মারিস সাংগিয়াম্পোংসা বন্দিদের ফিরিয়ে এনেছেন ইজরায়েল থেকে। নাগরিকরা দেশে ফিরে আসায় স্বস্তির শ্বাস ফেলেছেন তিনি। বলেন, “এটি একটি আবেগঘন মুহূর্ত … তাঁরা তাঁদের পরিবারে ফিরে এসেছেন। আমরা কখনও হাল ছাড়িনি। এটি (Thai Captives) তারই ফল।”

    প্রধানমন্ত্রী পায়োংটার্ন সিনাওয়াত্রা বলেন, “দেশের পাঁচ নাগরিক মুক্তি পাওয়ায় আমরা উল্লসিত। ধন্যবাদ ইজরায়েল, কাতার, মিশর, ইরান, তুরস্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। তাদের জন্যই আমাদের দেশের নাগরিকদের বন্দিদশা ঘুঁচল।” জানা গিয়েছে, থাইল্যান্ডে ফেরা পাঁচ নাগরিকই শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। সরকার আগামী কয়েক মাস ধরে তাঁদের ওপর নজর রাখবে। তাঁরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, তাই এই নজরদারি।

    ইজরায়েলে কাজের খোঁজে গিয়ে হামাসের হাতে বন্দি হন সব মিলিয়ে মোট ৩১জন থাই নাগরিক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাঁদের বন্দি করা হয়। এঁদের মধ্যে ২৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল ২০২৩ সালেই। গত মে মাসে বন্দি দশায়ই মৃত্যু হয় দুজনের (Gaza)। পাঁচজন ফিরলেন দেশে। থাই প্রশাসনের আশা, বাকিদেরও দ্রুত দেশে ফেরানো হবে (Thai Captives)।

  • Sheikh Haisna: ‘‘বেঁচে যখন গিয়েছি, জবাব নেব’’, বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙা প্রসঙ্গে বললেন হাসিনা

    Sheikh Haisna: ‘‘বেঁচে যখন গিয়েছি, জবাব নেব’’, বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙা প্রসঙ্গে বললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের দেখা যাচ্ছে বিগত অগাস্ট মাসের ছায়া। এই আবহে বুধবারের পরে ফের বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি ভাষণ দিলেন সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Haisna)। আওয়ামি লিগের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন হাসিনা। প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় মৌলবাদীরা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার নামে অকথ্য অত্যাচার করা হচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘বেঁচে যখন গিয়েছি, জবাব নেব।’’ এদিন বক্তব্য রাখার সময় কান্নায় গলা বুজে আসে হাসিনার। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ নীরব হয়ে পড়েন তিনি। এরপর তিনি বলেন, ‘‘আমি দেশবাসীর কাছে বিচার চাই। আপনারাই বিচার করুন।’’ হাসিনা বলেন, ‘‘আমি কী অপরাধ করেছি। কেন দেশে আমার মা-বোনেরা স্বামী হানা হচ্ছে। কেন নারীদের ওপর নির্যাতন চলছে।’’

    কী বললেন হাসিনা (Sheikh Haisna)

    বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটায় আওয়ামি লিগের (Awami League) অনলাইন অনুষ্ঠান ‘দায়মুক্তি’-তে যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘মানুষ একদিন ঠিক বিচার করবেন। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’’ আওয়ামী লিগ নেত্রী বলেন, ‘‘আমি দেশের জন্য কী না করেছি। এই ভাবে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধ্বংস করা হচ্ছে কেন? তিনি তো নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন এই দেশের জন্য। এই দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার এই কি পুরস্কার?’’ হাসিনা বলেন, ‘‘কী অপরাধ করেছি আমি? এই দেশ কী ছিল আর কী হয়েছে। কোন কাজটা আমি বাকি রেখেছি।’’ হাসিনা বলেন, ‘‘ধানমুন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক স্মারক। ওই বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই বাড়িতেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই মানুষটির বাড়িতে কেন আগুন দেওয়া হল? কেন ভেঙে ফেলা হল?’’

    আওয়ামি লিগ কর্মীরা জানালেন অত্যাচারের কথা

    আওয়ামি লিগের (Awami League) আক্রান্ত নেতা-কর্মীরা একে একে নিজেদের কথা শোনাতে থাকে। ঢাকার এক মহিলা এই সময়ই হাসিনাকে আপা সম্মোধন করে জানান, গত বছর কীভাবে তাঁর স্বামীকে প্রকাশ্য রাস্তায় খুন করা হয়। দুই সন্তানের মা ওই মহিলা বলেন, তাঁর স্বামী বারে বারে মার্জনা চাইলেও দুষ্কৃতীরা ছাড়েনি।মাগুরার আওয়ামি লিগের অপর এক নেত্রী হাসিনাকে (Sheikh Haisna) প্রধানমন্ত্রী বলে সম্মোধন করেন। তিনি জানান কীভাবে ৫ অগাস্ট বিকালেই তাঁকে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়। ১৪ অগাস্ট চাকরি যায় তাঁর স্বামীর।

  • Darien Gap: এ যেন নরকের দ্বার! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাখ লাখ মানুষ পার হন ডারিয়েন গ্যাপ, কেন জানেন?

    Darien Gap: এ যেন নরকের দ্বার! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাখ লাখ মানুষ পার হন ডারিয়েন গ্যাপ, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডারিয়েন গ্যাপ (Darien Gap), একে নরকের দ্বারও বলা যেতে পারে। ফি বছর প্রাণের তোয়াক্কা না করে লাখ লাখ মানুষ পাড়ি জমান এই পথেই। কী কারণে বিপদসঙ্কুল, বিস্তৃত, দুর্ভেদ্য ঘন অরণ্যের মাঝ দিয়ে যেতে চান লাখ লাখ মানুষ? মূলত ভেনেজুয়েলা, গায়ানা, কলম্বিয়া, ব্রাজিলের মতো দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলি থেকে উত্তর আমেরিকার অভিবাসী হওয়ার জন্য জীবন বাজি রেখে এই পথে পানামা পৌঁছতে চায়। পুরোটাই চলে বেআইনি অনুপ্রবেশ।

    ১০৬ কিমির বিস্তৃত এই জঙ্গল (Darien Gap)

    প্রসঙ্গত, কলম্বিয়া-পানামার মাঝে বিপজ্জনক জঙ্গল হল এই ডারিয়েন গ্যাপ। এতটাই ঘন ও দুর্ভেদ্য যে বহু চেষ্টা করেও, ১০৬ কিমি এই জঙ্গল কেটে তৈরি করা সম্ভব হয়নি কোনও রাস্তা। নিস্তব্ধ, জনমানবহীন।অনেকে বলেন, উত্তর আমেরিকার আলাস্কা থেকে কোনও ব্যক্তি যদি গাড়ি চালিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা যেতে চান, তাহলে সেই যাত্রায় ছেদ টানতে হবে ডারিয়েন গ্যাপের কারণে। জঙ্গলের মধ্যে নেই যানবাহন চলার মতো কোনও রাস্তাই নেই। ভরসা একমাত্র জলপথ। এই অঞ্চলে তুরিয়া নদী ও তার সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলিতে ছোট ছোট পিরাগুয়া বোট চলে। এই দুর্গম অঞ্চল পেরোতে সেগুলিই ভরসা।

    মাদক পাচারকারী ও চোরাশিকারিদের ব্যাপক দৌরাত্ম্যও (Darien Gap)

    জঙ্গলে কী না নেই (Darien Gap Migrants)! যেন ঠিক চাঁদের পাহাড় উপন্যাসকেই তুলে ধরেছে ড্যারিয়েন গ্যাপ। বিষাক্ত সাপ, কাঁকড়াবিছে, আগুনে পিঁপড়ে, জাগুয়ার, বন্য শূকর এবং অন্য হিংস্র জীবজন্তু ছাড়াও এই এলাকায় রয়েছে মাদক পাচারকারী ও চোরাশিকারিদের ব্যাপক দৌরাত্ম্যও। এখান দিয়েই চলে মানব পাচার। প্রশাসনের সাধ্য নেই এই অঞ্চলে নজরদারি চালানোর। সঙ্গে রয়েছে তুরিয়া নদীর হড়পা বান, সামান্য বৃষ্টিতেই বনভূমি ভাসিয়ে নিয়ে যায় চোখের পলকে। ভরা বর্ষায় তো হড়পা বান রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। এত বিপদের হাতছানি সত্ত্বেও ডারিয়েন গ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠেছে (Darien Gap), লাখ লাখ মানুষ পেরতে চান উন্নত জীবন পাওয়ার আশায়।

    কী জানাচ্ছেন ইউনিসিফের কর্তা

    ইউনিসেফের এক শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিক টেড চাইবান জানিয়েছেন, ডারিয়েন গ্যাপ শিশুদের চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। এই কঠিন ও বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক শিশু মারাও গিয়েছে। এমনকি নারীরা এ পথে চলতে চলতে সন্তান প্রসবও করেছেন। পুরনো পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসেই ১ লক্ষ ১৭ হাজার অভিবাসী দীর্ঘ বিরামহীন যাত্রা পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেছে।

  • Hamas: পাক জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মেলাল হামাস, কাশ্মীরকে অশান্ত করার ছক?

    Hamas: পাক জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মেলাল হামাস, কাশ্মীরকে অশান্ত করার ছক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার পাক জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মেলাল প্যালেস্তাইনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস (Hamas)! বুধবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) পালিত হয়েছে ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’। সেখানে আয়োজন করা হয়েছিল ভারত-বিরোধী এক জঙ্গি সম্মেলনেরও। অভিযোগ, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন যোগ দিয়েছিল ওই সম্মেলনে। জানা গিয়েছে, সম্মেলনে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তইবার নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন হামাসের প্রবীণ নেতারাও।

    কাশ্মীর সংহতি দিবস (Hamas)

    এদিন রাওয়ালকোটের শহিদ সাবির স্টেডিয়ামে কাশ্মীর সংহতি ও হামাস অপারেশন আল আকসা বন্যা শীর্ষক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জইশের প্রধান মাসুদ আজহারের ভাই তালহা সইফ, জইশের কমান্ডার আসগর খান কাশ্মীরি ও মাসুদ ইলিয়াস। লস্করের শীর্ষ স্থানীয় নেতারাও ছিলেন। এই সম্মেলনেই যোগ দিয়েছিলেন ইরানে হামাসের প্রতিনিধি খালিদ আল কাদুমি।

    জইশ এবং লস্কর

    বৈঠকে খালিদ ছাড়াও হামাসের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন প্যালেস্তাইনি নেতাও উপস্থিত ছিলেন। এই জঙ্গি নেতারা আলাদা করে বৈঠক করেন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলামের প্রধান মওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গেও। ভারতের (Hamas) মাটিতে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ এবং লস্করের সদস্যরা। ভারত-বিরোধী এই সব জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে হামাস নেতাদের বৈঠকে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এই হামাসই অতীতে একাধিকবার কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিল। সেই সময় জল্পনা ছড়িয়েছিল, দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে হামাসের যোগসূত্র থাকতে পারে। কাশ্মীর সংহতি দিবসের এই অনুষ্ঠানই ফের উস্কে দিল সেই জল্পনাই।

    কাশ্মীর সংহতি দিবস পালনের সূচনা

    ১৯৯১ সালে কাশ্মীর সংহতি দিবস পালনের সূচনা করেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সেই থেকে ফি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি পালন করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। পাকিস্তানের (POK) সব সরকারি প্রতিষ্ঠানেও ছুটি থাকে এদিন। সাম্প্রতিক অতীতে দিনটিকে ভারত বিরোধী প্রচারের কাজে ব্যবহার করছেন পাকিস্তানের রাজনীতির কারবারিরা। প্রতিবারই আপত্তি জানিয়ে আসছে ভারত। ভারতের সেই আপত্তি অগ্রাহ্য করে এবারও কাশ্মীর সংহতি দিবস পালন করেছে পাকিস্তানের সরকার। ভারতের হাতে নিপীড়িত কাশ্মীরবাসীর পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Hamas)।

    ‘আল আকসা ফ্লাড’-এর ব্যানারে সম্মেলন

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এবার যে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল, তা করা হয়েছিল ‘আল আকসা ফ্লাড’-এর ব্যানারে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর এই নামেই ইজরায়েলে অপারেশন চালিয়েছিল হামাস। প্যালেস্তাইনের এই জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭০০ জন নিরীহ মানুষ। আল আকসা হল জেরুজালেমের এক মসজিদ। এই মসজিদের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করেছে একই সঙ্গে মুসলিম ও ইহুদি দু’পক্ষই। হামাসের সঙ্গে ইজরায়েলের যে লড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল তার অন্যতম নেপথ্য কারণ এটিও। ইজরায়েল ইহুদি রাষ্ট্র। আর হামাস মুসলিম। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আল আকসা ফ্লাডের ব্যানারে সম্মেলন হওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত। কারণ এই নামকে হাতিয়ার করেই মুসলিম ভাবাবেগকে উস্কে দিতে চাইছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেটাকে কাজে লাগিয়েই পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঘাঁটি গাড়ছে বিভিন্ন দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলি (Hamas)।

    পাক চেষ্টা ব্যর্থ

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই চাইছে জম্মু-কাশ্মীরের ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে। যদিও সেই মঞ্চে মিথ্যাচার চালিয়েও বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি ইসলামাবাদ। এবার হামাস কমান্ডারকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নিয়ে এসে পাক (POK) প্রশাসন বিশ্বের দরবারে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চাইছে, প্যালেস্তাইন এবং কাশ্মীরের সমস্যা একই। মধ্য প্রাচ্যে গাজার মতোই কাশ্মীরে চলছে মুসলমানদের ওপর অত্যাচার। কাশ্মীর ইস্যুতে বিশ্বের মুসলমান দেশগুলিকে পাশে পেতে বহু কাঠখড় পুড়িয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। তবে বেশিরভাগ মুসলিম দেশই রয়েছে ভারতের সঙ্গে। সৌদি আরব, ইউএই, কাতার এবং কুয়েত তো রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর ইস্যুতে বরাবর ভারতের পাশেই দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও মালয়েশিয়া।

    তিনটি জঙ্গি সংগঠনের মাথারা

    বুধবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে যে সম্মেলন হয়েছে, সেখানে জড়ো হয়েছিলেন তিনটি জঙ্গি সংগঠনের মাথারা। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এই তিন জঙ্গি সংগঠনকে একত্রিত করে জম্মু-কাশ্মীরে বড়সড় নাশকতার ছক কষছে পাক সেনাবাহিনী এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। মোদি জমানায় শান্ত হয়েছে ভূস্বর্গ কাশ্মীর। সেই কাশ্মীরেই জেহাদের স্বপ্ন ফেরি করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি ফের রক্তাক্ত করে তুলতে চাইছে কাশ্মীরকে। সেই কারণেই সীমান্তের ওপারের জঙ্গি ঘাঁটিগুলির ওপর কড়া নজর রাখছে ভারত। সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

    ঘটনাচক্রে, এদিন যখন সম্মেলন চলছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরে, ঠিক তখনই মুজফফরাবাদে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ভাষণ শেষে তিনি স্লোগান দেন, ‘কাশ্মীর বনেগা পাকিস্তান’। আরও একধাপ এগিয়ে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির আহমেদ দাবি করেন, একদিন গোটা কাশ্মীর হবে পাকিস্তানের অংশ (POK)। পাক সেনা কাশ্মীরের স্বাধীনতা লড়াইয়ের সঙ্গেই আছে বলেও জানান তিনি (Hamas)।

  • Bangladesh: মেয়েরা ফুটবল খেলতে পারবে না! বাংলাদেশে কি তালিবানি রাজত্ব চলছে? সরব শেখ হাসিনা

    Bangladesh: মেয়েরা ফুটবল খেলতে পারবে না! বাংলাদেশে কি তালিবানি রাজত্ব চলছে? সরব শেখ হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে কি তালিবানি রাজত্ব চলছে! খোদ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে উঠে এল সেই আশঙ্কা। বাংলাদেশে (Bangladesh) মেয়েদের খেলার অধিকার নিয়ে সরব হলেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশবাসীর উদ্দেশে এক অডিওবার্তায় সেই প্রশ্ন তুললেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে কি মেয়েরা আর খেলতেও পারবে না? এ কোন পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ? -এমন প্রশ্নই তোলেন তিনি। প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার আওয়ামি লিগের সমাজমাধ্যমের পাতা থেকে তাঁর অডিওবার্তা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। হাসিনা বলেন, “আমাদের দেশে মেয়েরা (ফুটবল) খেলতে পারছে না। কেন? মেয়েদের খেলার অধিকার নেই কেন!”

    খুন-ধর্ষণের হুমকি পাচ্ছেন মহিলা ফুটবলাররা

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে (Bangladesh) মহিলা ফুটবল দলে সম্প্রতি কোচের সঙ্গে কয়েক জন সিনিয়র ফুটবলারের মনোমালিন্য তৈরি হয়। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সে দেশের মহিলা ফুটবল দলের ১৮ জন ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছেন কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে। তাঁরা বাটলারকে কোচ হিসেবে চাইছেন না। অনুশীলনও ‘বয়কট’ করেছেন ওই মহিলা ফুটবলাররা। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে নিজেদের অবস্থানের কথাও জানিয়ে দিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ ওই ১৮ ফুটবলার। এই আবহে বাংলাদেশি মহিলা ফুটবলারদের হুমকির মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশি মহিলা ফুটবলার মাতসুশিমা সুমাইয়া সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, গত কয়েক দিনে কট্টরপন্থীদের থেকে অসংখ্যবার ধর্ষণ এবং খুনের হুমকি পেয়েছেন তিনি।

    নারী-পুরুষ সমানাধিকারের পক্ষেও সওয়াল

    এদিন নারী-পুরুষ সমানাধিকারের পক্ষেও সওয়াল করেন হাসিনা। তিনি বলেন, “আমাদের সময়ে ক্রিকেট, ফুটবল, হকিতে ছেলে-মেয়ে উভয়েই সুযোগ পেত। আমাদের সময়ে প্রাথমিক স্কুলে মেয়েদের জন্য বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট এবং ছেলেদের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট চালু করা হয়। ছোট্টবেলা থেকেই যাতে তারা খেলতে পারে সেই সুযোগ আমরা করে দিয়েছি।”

    মাতৃজাতিকে অপমান (Bangladesh)

    হাসিনার কথায়, “মায়ের পেটেই সন্তান জন্ম নেয়। সেই মায়ের জাতিকে অবমাননা কেন? খেলাধুলো, সাহিত্য, সংস্কৃতিচর্চা তো সকলের অধিকার। এতে তো নারীপুরুষের ভেদাভেদ থাকতে পারে না। ইসলাম কখনও সে কথা বলে না।” তিনি আরও বলেন, “আজ কী দুর্ভাগ্য আমাদের! মেয়েরা ফুটবল খেলে অনেক দেশে জয়ী হয়ে এসেছে। বাংলাদেশের সুনাম করে এসেছে। আজ আমাদের দেশে তাঁরা খেলতে পারছে না। কেন? মেয়েদের খেলার অধিকার নেই কেন!”

  • Bangladesh Crisis: মধ্যরাতে তাণ্ডব বাংলাদেশে, মুজিবের বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা!

    Bangladesh Crisis: মধ্যরাতে তাণ্ডব বাংলাদেশে, মুজিবের বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অশান্তির বাংলাদেশে ইতিহাস হয়ে গেল ‘ইতিহাস’! এবং সেটাও হল এমন সময় যখন বাংলাদেশের (Bangladesh Crisis) তদারকি সরকারের মাথায় যিনি রয়েছেন, সেই মহম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন শান্তির জন্য! ফেরা যাক খবরে। বুধবার রাতে ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় (Sheikh Hasina)। প্রথমে মুজিবের বাড়িতে তাণ্ডব চালায় উন্মত্ত জনতা। ভাঙচুর করার পাশাপাশি লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুন। গভীর রাতে বুলডোজার নিয়ে এসে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয় ‘ইতিহাস’।

    বাংলাদেশে তাণ্ডব (Bangladesh Crisis)

    এদিন বাংলাদেশবাসীর উদ্দেশে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর ভাষণ শুরুর আগেই তাণ্ডব চালানো হয় হাসিনার বাবার বাড়িতে। এই ধানমন্ডিতেই বাড়ি রয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও। বাড়ির নাম সুধা সদন। আওয়ামি লিগ সুপ্রিমোর সেই বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এদিন রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ভোলা সদরের গাজিপুর সড়কে প্রিয় কুটির নামে একটি বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এটি আওয়ামি লিগ নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ তোফায়েল আহমেদের বাড়ি। রাত ১টা নাগাদ কুমিল্লার মুন্সেফবাড়ি এলাকায় প্রাক্তন সাংসদ বাহাউদ্দিন বাহারের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুনও।

    অগ্নিসংযোগ শেখ হাসিনার বাড়িতেও

    হাসিনা-বিরোধী জনতার রোষের আগুনের হাত থেকে রেহাই পায়নি খুলনায় শেখ বাড়িও (Bangladesh Crisis)। এই বাড়িটি হাসিনার কাকার। এদিন রাত ৯টা নাগাদ তাণ্ডব শুরু হয় এই বাড়িতে। প্রথমে বাড়িটি ভাঙচুর করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। পরে সিটি কর্পোরেশনের দুটি বুলডোজার নিয়ে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কুষ্টিয়ায়ও বুলডোজার চলেছে প্রাক্তন সাংসদ মাহবুব উল আম হানিফের বাড়িতে। জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও মুজিব ও হাসিনার ম্যুরালও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি!

    বাংলাদেশের ‘ইতিহাস’ যে এদিন ধুলোয় মিশিয়ে যাবে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। এদিন বিকেল থেকেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি (এটাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বাড়ি) গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে সোস্যাল মিডিয়ায়। সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহও সোস্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘আজ রাতে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে।’ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল (Sheikh Hasina) সংবাদ মাধ্যমকেও। বলা হয়েছিল, কোনও সংবাদমাধ্যম হাসিনার ভাষণ প্রচার করলে, সেই গণমাধ্যম হাসিনাকে সহযোগিতা করছে বলে ধরে নেওয়া হবে।

    ধুলোয় মিশল ইতিহাস

    ধানমন্ডির এই বাড়িটিই পাঁচ দশক আগে বাংলাদেশে রক্তাক্ত পালাবদলের সাক্ষী। সেই সময় গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের দেহ। হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর তাঁর পৈত্রিক বাড়িটিকে পরিণত করেছিলেন সংগ্রহশালায়। ইতিহাসের সেই সাক্ষীই এখন মিশে গেল ধুলোয়। গত ৫ অগাস্ট আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়েন হাসিনা। সেই সময়ও ভাঙচুর চালানো হয় মুজিবের ধানমন্ডির বাড়িতে। তার পর থেকে বাড়িটি ছিল পরিত্যক্ত অবস্থায়ই। এবার আগুন লাগিয়ে ভস্মীভূত করা হল সেই বাড়ি।

    কী বললেন হাসিনা

    পৈত্রিক ভবনের এই দুর্দশার প্রসঙ্গ এদিন উঠে এসেছে হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণেও। তিনি বলেন, “ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে জাতির পিতা (শেখ মুজিব) স্বাধীনতার (Bangladesh Crisis) কথা ঘোষণা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর পাকিস্তানি হানাদাররা তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছিল। তখনও এই বাড়িটিতে তারা লুটপাট করেছিল। কিন্তু আগুন দিয়ে পোড়ায়নি, ভাঙেনি।” স্মৃতির সরণী বেয়ে হাঁটতে গিয়ে হাসিনা বলেন, “শেখ মুজিব কখনও দেশের রাষ্ট্রপতি ভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকেননি। তিনি ছিলেন এই ছোট্ট বাড়িটিতেই। আমার মা অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটির প্রতিটি ইট নিজের হাতে গেঁথেছিলেন।” আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো বলেন, “এই বাড়িতে অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, বিশ্বের বড় বড় নেতারা এসেছেন। আজ এই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কেন? বাড়িটির কী অপরাধ? এই বাড়িটিকে কেন এত ভয় পাচ্ছেন (Sheikh Hasina)?”

    পাকিস্তানিদের পদলেহন করাটাই পছন্দ!

    এদিন বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের উদ্দেশে হাসিনার ৫২ মিনিটের অডিও বার্তায় বাংলাদেশবাসীর বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ করেন হাসিনা। তিনি বলেন, “আমরা দুই বোন যে স্মৃতিটুকু নিয়ে বেঁচেছিলাম, আজ সেই স্মৃতিটুকুও ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এর আগে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। আজ ভেঙে ফেলা হল।” গলা ধরে এল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর। হাসিনা বলেন, “লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে সংবিধান, স্বাধীনতা, পতাকা পেয়েছি – তা কয়েকজন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারবে না। এ শক্তি তাঁদের এখনও হয়নি। এটি তাঁদের দুর্বলতার প্রকাশ। তাঁরা দালান ভাঙতে পারে, কিন্তু ইতিহাসকে ধ্বংস করতে পারেন না। ইতিহাস যে প্রতিশোধ নেয়। এ কথা তাঁদের মনে রাখতে হবে। যাঁরা এ সব করছেন, তাঁরা হীনন্মন্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁদের হয়তো বাংলাদেশের স্বাধীনতা পছন্দ নয়। পাকিস্তানিদের অধীনে থাকা ও পদলেহন করাটাই হয়তো তাঁদের পছন্দ।”

    বাংলাদেশকে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে

    মুজিব কন্যা বলেন, “বাংলাদেশকে নিয়ে ধ্বংসের খেলা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল ছিল, উন্নয়নের বিস্ময় ছিল। সেই বাংলাদেশকে চরমভাবে ধ্বংস করে জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের দেশ হিসেবে পরিণত করা হয়েছে। এটিই হল সব চেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয়।” বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। হাসিনা বলেন, “কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। এদের ধ্বংসের খেলা, রক্তের খেলা বাংলাদেশকে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে।” তাঁর ধারণা, বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনও আসলে একটি ষড়যন্ত্র।

    ইউনূসকে নিশানা হাসিনার

    এদিন ইউনূসকেও নিশানা করেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৯৯০ সালে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের পদে ৬ হাজার টাকা বেতনের চাকরি পেয়েছিলেন। আমি ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পরে এই গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিই। গ্রামীণ ফোনের ব্যবসাও ইউনূসকে দিয়েছিলাম। আমার কাছে বারবার ধর্না দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সেখান থেকে লাভের অংশ গ্রামীণ ব্যাঙ্কে যাবে। কিন্তু তা যায়নি। তিনি আর্থিক দুর্নীতি করেছেন। তাঁর ক্ষমতার লোভ আজ বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে এসেছে (Bangladesh Crisis)।” তিনি বলেন, “কয়েকজন বুলডোজার দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ভেঙে ফেলবে, এই শক্তি তাদের হয়নি। তারা একটা দালান ভেঙে ফেলতে পারবে, কিন্তু ইতিহাস মুছতে পারবে না।” এদিন রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, শিলেট, বরিশাল এবং রংপুরেও হামলা চালায় উন্মত্ত জনতা। হামলা চালানো হয়েছে আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের বাড়িতেও।

    মধ্যরাতে মুজিবের স্মৃতিবিজড়িত যে বাড়িতে ভাঙচুর চালানো শুরু হয়েছিল, তা চলেছে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্তও। এদিন সকাল ৯টা নাগাদ বাড়িটির সিংহভাগ অংশই ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাড়িটির সামনে জড়ো হওয়া লোকজনের বক্তব্য, স্বৈরাচারের কোনও চিহ্ন তাঁরা রাখতে চান না। ভবনের বড় অংশ ভাঙার পর উল্লাসও করতে দেখা গিয়েছে তাদের।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ থেকে আওয়ামি লিগকে মুছে ফেলতে চায় ইউনূস প্রশাসন। তার জেরে ‘ইতিহাস’ ভাঙচুর শুরু (Sheikh Hasina) হলেও, গদি বাঁচাতে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন অন্তর্বর্তী সরকারের নোবেল জয়ী প্রধান (Bangladesh Crisis)!

  • Solo Trekking in Nepal: হিমালয়ে সোলো-ট্রেকিং বন্ধের নির্দেশ! একা পর্বতারোহণে না নেপালের

    Solo Trekking in Nepal: হিমালয়ে সোলো-ট্রেকিং বন্ধের নির্দেশ! একা পর্বতারোহণে না নেপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোলো ট্রেকিং (Solo Trekking in Nepal) বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল নেপাল। পর্বতারোহী বা অভিযাত্রীদের সুরক্ষার কথায় মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানায় নেপাল সরকার। মঙ্গলবার রাতে নেপাল গেজেটের মাধ্যমে সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা ৮,০০০ মিটার উচ্চতার সব পর্বত শৃঙ্গের একক অভিযান নিষিদ্ধ করছে। নতুন নিয়মাবলী অনুযায়ী, ৮,০০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার পর্বত শৃঙ্গের অভিযানে প্রতিটি দুই সদস্যের দলের সঙ্গে অন্তত একজন গাইড রাখতে হবে। এই বিধি এখন থেকে এভারেস্টসহ সব ৮,০০০ মিটার উচ্চতার পর্বতের জন্য প্রযোজ্য।

    কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?

    এভারেস্ট-সহ (Solo Trekking in Nepal) বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ৮টি পর্বত অবস্থিত নেপালে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষেরা নেপাল আসেন শুধু ট্রেকিংয়ের লোভে। এভারেস্ট ছাড়াও মাউন্ট লোৎসে, অন্নপূর্ণা ইত্যাদি পর্বত শৃঙ্গের ট্রেকিং শুরু হয় নেপাল থেকে। কিন্তু এবার নেপালে একা-একা পর্বতারোহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নেপালের পাহাড়ি পথ বেশ দুর্গম। হিমালয়ের কোলে একাধিক দুর্ধর্ষ ট্রেকিং রুট শুরু হয় নেপাল থেকেই। নেপালের হিমালয়ের বাঁকে বাঁকে রয়েছে রোমাঞ্চ। কিন্তু এই অ্যাডভেঞ্চারের মাঝে বিপদের মুখে কোনও পর্যটক পড়ুক, তা চায় না সে দেশের সরকার। তাই দুর্ঘটনা এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। হিমালয়ের আচরণ বোঝা কঠিন। অন্তত এ দেশে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ক্ষেত্রে। প্রতি বছর নেপাল ভয়াবহ ভূমিকম্প, তুষারপাত ও তুষারঝড়ের সম্মুখীন হয়। তাছাড়া উচ্চতায় দেখা দেয় অক্সিজেনের সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে বিপদের মুখে পড়লে কিংবা দুর্ঘটনা শিকার হলে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এই সিদ্ধান্ত নিল নেপাল সরকার।

    নয়া নির্দেশে কী কী বলা হয়েছে?

    নেপালের ট্যুরিজম (Solo Trekking in Nepal) বোর্ডের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। নেপালে ট্রেকিংয়ের জন্য এমন গাইড নিয়ে হবে যাঁর লাইসেন্স রয়েছে। গাইডরা দুর্গম পরিবেশ এবং পাহাড়ি পথের সঙ্গে পরিচিত। সুতরাং, এই গাইডদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে নেপাল সরকারের এই সিদ্ধান্ত। নতুন নিয়মের আওতায়, বিদেশি অভিযাত্রীদের জন্য এভারেস্টের দক্ষিণ রুটে বসন্তে ১৫,০০০ মার্কিন ডলার রাজস্ব ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১১,০০০ ডলার। এছাড়া, শরতে রাজস্ব ফি বেড়ে ৭,৫০০ ডলার হয়েছে, যা আগে ছিল ৫,৫০০ ডলার। শীতকালীন অভিযান ফি ২,৭৫০ ডলার থেকে বেড়ে ৩,৭৫০ ডলার হয়েছে।

  • Afghanistan: মেয়েদের পড়াশোনার পক্ষে সওয়াল, আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হলেন মন্ত্রী!

    Afghanistan: মেয়েদের পড়াশোনার পক্ষে সওয়াল, আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হলেন মন্ত্রী!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপরাধ’ বলতে তিনি মেয়েদের পড়াশোনার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তার জেরে তালিবান (Taliban) সরকারের মন্ত্রী মহম্মদ স্তানিকজাইকে বাধ্য করা হল আফগানিস্তান (Afghanistan) ছাড়তে। তালিবানরা যখন আফগানিস্তান দখল করে, তখন এই স্তানিকজাই হয়ে উঠেছিলেন তাদের মুখ। এখন দেশছাড়া হওয়ার পর তিনি দুবাইতে রয়েছেন বলে খবর।

     কী বললেন তালিবান সরকারের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী? (Afghanistan)

    ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জানুয়ারি। ওই দিন আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী খোস্ত প্রদেশে ‘গ্র্যাজুয়েশন’ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তালিবান সরকারের ওই মন্ত্রী। সেই সময় তিনি মেয়েদের পড়াশোনার ওপর তালিবানি নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তালিবান সরকারের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী স্তানিকজাই বলেছিলেন, “মেয়েদের শিক্ষার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষেত্রে কোনও অজুহাত দেওয়া যায় না। বর্তমানেও না এবং ভবিষ্যতেও না। আমরা দু’কোটি মানুষের প্রতি অন্যায় করছি। হজরত মহম্মদের সময়ও ছেলে-মেয়ে সবার জন্য খোলা ছিল জ্ঞানের দরজা। এমন কিছু অসাধারণ মহিলা ছিলেন, যাদের অবদান আমি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করলে তা যথেষ্ট সময় নেবে।”

    মহিলাদের জন্য শিক্ষা বন্ধ করেছিল তালিবান সরকার 

    ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তালিবান সরকার মহিলাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে নিষিদ্ধ করেছিল। আফগানিস্তানে তালিবান রাজত্বে মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার স্থগিত রয়েছে। আফগানিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াউল্লাহ হাশিমি কর্তৃক জারি করা একটি চিঠিতে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহিলা শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার স্থগিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল (Afghanistan)।

    ওই দিনই বক্তৃতার সময় স্তানিকজাই তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদারও সমালোচনা করেছিলেন বলে অভিযোগ। শিক্ষানীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে এই তালিবান নেতা সরাসরি আখুন্দজাদার কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, “আমরা নেতৃত্বকে আবার শিক্ষার দরজা খোলার আহ্বান জানাচ্ছি।” এরপরেই তাঁকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর। এর পরেই আফগানিস্তান ছাড়েন তিনি। যদিও স্তানিকজাইয়ের দাবি, শারীরিক সমস্যার কারণেই দেশ ছেড়েছেন তিনি।

    জানা গিয়েছে, ভারতের দেরাদূনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমির ১৯৮২ ব্যাচ ছিলেন স্তানিকজাই (Taliban)। ব্যাচমেটদের কাছে ‘শেরু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন স্তানিকজাই (Afghanistan)।

  • Israel-Hamas Conflict: ‘গাজার দখল নেবে আমেরিকা’! নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে বড় ঘোষণা ট্রাম্পের

    Israel-Hamas Conflict: ‘গাজার দখল নেবে আমেরিকা’! নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে বড় ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীঘ্রই গাজা ভূখণ্ডের দখল নেবে আমেরিকা। এমনই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ওয়াশিংটনে ইজরায়েলের (Israel-Hamas Conflict) প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুয়ের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গাজাকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করে তোলা হবে। গাজা ভূখণ্ড থেকে প্যালেস্তিনীয়দের স্থায়ীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলিতে পুনর্বাসন করার কথাও ভাবা হচ্ছে, বলে জানান তিনি। তবে গাজায় ঠিক কী করবেন, কীভাবে গাজা দখল করবেন, সেইসব বিষয়ে বিস্তারিতভাবে অবশ্য কিছু জানাননি ট্রাম্প। গাজাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন সেনা নামানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

    কী বললেন ট্রাম্প

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এখন আমেরিকা সফরে। মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প (Donald Trump)। সেই বৈঠকে আলোচনার অন্যতম বিষয়ই ছিল ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ (Israel-Hamas Conflict) পরিস্থিতি। সেই বৈঠকের পর নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই গাজা দখলের হুঁশিয়ারি দেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমেরিকা গাজা ভূখণ্ডের দখল নেবে। আমরা ওই ভূখণ্ডের মালিক হব। সেখানে থাকা সমস্ত বিপজ্জনক বোমা এবং অন্যান্য অস্ত্র ধ্বংস করব। আমরা গাজাতে উন্নতি করব। সেখানে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এমন কিছু হবে, যার জন্য পশ্চিম এশিয়া গর্ববোধ করবে। বিশ্বের মানুষের বাসস্থল হবে গাজা।’’

    গাজায় আর্থিক উন্নয়ন

    পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অন্যতম কূটনৈতিক ‘সঙ্গী’ ইজরায়েল। হামাসের সঙ্গে ইজরায়েলের যুদ্ধে (Israel-Hamas Conflict) প্রথম থেকেই নেতানিয়াহু সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে। প্রসঙ্গত, কাতারের মধ্যস্থতায় এবং আমেরিকা ও মিশরের প্রচেষ্টায় গত ১৫ জানুয়ারি রাতে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইজরায়েল সরকার এবং হামাস। ১৯ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হয়েছে। তার পর থেকেই যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত হিসাবে শুরু হয়েছে বন্দি বিনিময়ের প্রক্রিয়া। সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিহতদের দেহের সন্ধানও শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ওয়াশিংটন থেকে ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেন, গাজায় যে সব আবাসন-বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তা পরিষ্কার করে সেখানে আর্থিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে আমেরিকা। যে আর্থিক উন্নয়নের কারণে গাজার মানুষের সামনে প্রচুর চাকরির দরজা খুলে যাবে। তবে হামাসকে কোনওভাবেই ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।

    হামাসকে রেয়াত নয়

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump) জানিয়েছেন যে জঙ্গি সংগঠনকে নিশ্চিহ্ন করার বিষয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামাস যদি থাকে, তাহলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আসবে না। যিনি ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে থাকা ‘সবথেকে বড় বন্ধু’ হিসেবে চিহ্নিত করে দাবি করেন যে হামাসকে হারিয়ে যে জয়লাভ করবে ইজরায়েল, সেটা আমেরিকারও জয় হবে। তিনি জানান, এ ব্যাপারে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘ট্রাম্প সাধারণ ধারণার খোলস ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন।’’

    হামাসের সঙ্গে নাৎজি বাহিনীর তুলনা

    হামাস নিধনে একমত আমেরিকা ও ইজরায়েল। এই জঙ্গি সংগঠনকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘যদি এই বিষাক্ত ও হত্যাকারী সংগঠন থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কথা বলতে পারবেন না।’’ বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে তিনি দাবি করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে নাৎজি বাহিনী যদি থাকত, তাহলে শান্তি ফেরানো যেমন কঠিন হত, হামাসের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সেরকম।

    হামাসের ‘টাকার পথ’ বন্ধ 

    হামাস-বিরোধী (Israel-Hamas Conflict) মনোভাবের রেশ ধরেই ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে প্যালেস্তাইনের উদ্বাস্তুদের সহায়তা করার জন্য রাষ্ট্রসংঘের ত্রাণ এজেন্সিকে অর্থপ্রদান করবেন না। কারণ সেই অর্থ হামাসের কাছে চলে যায়। যে জঙ্গি সংগঠন মানবতার প্রতি কলঙ্ক। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকেও আমেরিকা নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

    গাজায় মার্কিন সেনা!

    প্যালেস্তাইনের ভূখণ্ড গাজা স্ট্রিপ। আগে হামাসের ঘাঁটি ছিল এই জায়গা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইজরায়েল (Israel-Hamas Conflict) এই ভূখণ্ড দখলের লাগাতার চেষ্টা করে গিয়েছে। যুদ্ধের সবথেকে বেশি অভিঘাতও সয়েছে এই গাজা স্ট্রিপই। আমেরিকা গাজায় সেনা পাঠাবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “যা প্রয়োজনীয়, আমরা তাই করব।” ট্রাম্পের (Donald Trump) পাশে দাঁড়িয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও বলেন, “এমন কিছু হতে চলেছে যা ইতিহাস বদলে দেবে। ট্রাম্প গাজার জন্য অন্য এক ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছেন। চিরাচরিত ধারণার বাইরে ভাবনা রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।”

  • Criminal Organisation: ট্রাম্প জমানায় অতীত ইউএসএআইডি, স্বস্তির শ্বাস ফেলছে ভারত

    Criminal Organisation: ট্রাম্প জমানায় অতীত ইউএসএআইডি, স্বস্তির শ্বাস ফেলছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউএসএআইডি একটি অপরাধমূলক সংস্থা (Criminal Organisation)। এই সংস্থারই শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। এই বার্তা দিয়েছিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক স্বয়ং। তিনি এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে ডিওজিই-র নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত ২০ জানুয়ারি ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প।

    ট্রাম্পের পদক্ষেপ (Criminal Organisation)

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বিতর্কিত ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকজন কর্তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বরখাস্ত করা হয়েছে কন্ট্রাক্টরদের। ট্রাম্প প্রশাসন যখন বৈদেশিক সহায়তার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে, তখন স্বাধীন এই সংস্থার ওয়েবসাইটও অফলাইনে চলে যায়। রিপাবলিকান পার্টির নেতা ট্রাম্প ইউএসএআইডির সবচেয়ে বড় সমালোচক। তিনি বলেন, “এটি কিছু উগ্র পাগলদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। আমরা তাদের বের করে দিচ্ছি (USAID)।”

    হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

    ২০১৭ সালে হেরিটেজ ফাউন্ডেশন দ্বারা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বারাক ওবামা (প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট) প্রশাসনের সময় ইউএসএআইডি বামপন্থী বিলিয়নিয়ার জর্জ সরোসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল একাধিক দেশে তাদের চরমপন্থী অ্যাজেন্ডা প্রচার করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, “গত আট বছরে সরোস, তাঁর প্রতিষ্ঠিত ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন এবং তাদের বহু ছোট সহযোগী সংগঠন ইউএসএআইডির মাধ্যমে মার্কিন করদাতাদের অর্থ পেয়েছে এবং ইউএসএআইডি ওপেন সোসাইটিস ফাউন্ডেশনকে তার সহায়তা কার্যক্রমের প্রধান রূপায়ণকারী করেছে।”

    ভারত-বিরোধী প্রচারে অর্থায়ন

    অবশ্য এটি কোনও গোপন বিষয় নয়। সরোস বহু ভারতবিরোধী প্রচারে অর্থায়ন করেছেন। তিনি দেশে একটি “কালার রিভোলিউশন” (বর্ণ বিপ্লব) সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সরোস আদানি গ্রুপের উত্থান নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, মোদি এবং আদানি ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাদের ভাগ্য পরস্পরের সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও বলেছিলেন, আদানি স্টক মার্কেটে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও ব্যর্থ হন। তিনি আদানিকে শেয়ার মূল্য কারসাজির অভিযোগেও অভিযুক্ত করেছিলেন, যার জেরে আদানি গ্রুপের শেয়ারের দর ধসে পড়ে (Criminal Organisation)।

    মোদিকে কটাক্ষ সরোসের

    সরোস ইউএসএআইডির সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পুঁজিপতিদের ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “মোদি এই বিষয়ে নীরব। কিন্তু তাঁকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।” তাঁর আরও অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র তৈরি করছেন। তাঁর অ্যাজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে ভারতে তাঁর অনেক অনুগামী রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তাঁর অর্থায়নে থাকা শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন অমৃতা সিং। অমৃতা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মনমোহন সিংয়ের কন্যা (USAID)।

    প্রতিরক্ষা চুক্তি ব্যাহত

    ২০১৮ সালে সরোস একটি এনজিওকে অর্থায়ন করেছিলেন। তার জেরে ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তি একসময়ে বিঘ্নিত করার চেষ্টা হয়েছিল। ভারতে রাফাল যুদ্ধবিমানগুলির সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। এই রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন সোসিও-লিগ্যাল ইনফর্মেশন সেন্টারকে অর্থায়ন করেছে। এই সংস্থা দেশদ্রোহিতা আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। ইউএসএআইডির ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এই বছরই প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান “ভারত জরুরি খাদ্য সহায়তা আইন” স্বাক্ষর করেছিলেন (Criminal Organisation)। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ইউএসএআইডির কর্মসূচি দশকের পর দশক ধরে ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে—জরুরি খাদ্য সরবরাহ থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়ন, ভারতের প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির উন্মুক্তকরণে সহায়তা এবং আরও অনেক কিছু।”

    রাসায়নিক সার কারখানা

    ইউএসএআইডি ভারতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও টেকনোলজি কলেজ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিল এক সময়ে। তবে এই সহায়তা সবসময়ই এসেছে কিছু শর্তসাপেক্ষে। ১৯৬৫ সালে, ইউএসএআইডি চেন্নাই শহরে একটি রাসায়নিক সার কারখানা নির্মাণের জন্য ভারতকে ৬৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল। শর্ত ছিল, ভারত সরকারের পরিবর্তে একটি মার্কিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সার বিতরণের দায়িত্ব নেবে। ওই অঞ্চলে নতুন কোনও সার কারখানা নির্মাণও করা যাবে না (USAID)।

    বিপাকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ

    ২০০৪ সালে ভারত সরকার শর্তযুক্ত বিদেশি সাহায্য গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই এই ধরনের সহায়তার পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকে।  ২০০১ সালে ভারতে ইউএসএআইডির (Criminal Organisation) সাহায্যের পরিমাণ ছিল ২০৮ মিলিয়ন ডলার । ২০২৩ সালে তার পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১৫৩ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১৪১ মিলিয়ন ডলারে।

    তবে, ইউএসএআইডির সহায়তা স্থগিতের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে ভারতের দুই পড়শি – পাকিস্তান ও বাংলাদেশ (বিশেষ করে বর্তমান প্রশাসন)। তবে ভারত এনিয়ে আদৌ চিন্তিত নয়। অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের সহায়তা বন্ধ হলেও ভারতের কোনও বড় সমস্যা হবে না। যদিও এটি কিছু প্রকল্পে অর্থায়ন করে, তবে ভারতের সামগ্রিক সামাজিক (USAID) কল্যাণ ব্যয়ের তুলনায় তা অতি নগণ্য (Criminal Organisation)।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ইউএসএআইডি। এমনটাই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। তাঁর অপসারণের কয়েক মাস আগে, তিনি মার্কিন ষড়যন্ত্রের হস্তক্ষেপ সম্পর্কে সরব হয়েছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে মার্কিন প্রশাসন এবং এর সংস্থাগুলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল।

LinkedIn
Share