Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের অশান্ত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে। দুই দেশ আমেরিকা-ইরানের (US Iran Conflicts) মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত। মার্কিন হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। আর এই দুই মহাশক্তির ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন একজন ভারতীয় নাবিক (Indian Killed), আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা যেমন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই এক ধাক্কায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

    নিহত ১ ভারতীয়, আহত আরও ৬

    জানা গিয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় ‘মোমবাসা’ (Mombasa) ‘আল বাহিয়াহ’ (Al Bahiyah)নামে দুটি আমিরশাহির তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ‘মোমবাসা’ জাহাজেই নিহত ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দুই জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। যোগাযোগ করা হচ্ছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও।

    কড়া প্রতিক্রিয়া আরব আমিরশাহির

    আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সেনাবাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা ব্যবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে।

    কেন হামলা, জানাল ইরান

    ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, দু’টি ট্যাঙ্কার তাদের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেছিল। জাহাজগুলি নাকি নিজেদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে ‘মাইন পাতা রুট’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই ওই জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। আইআরজিসি-র অভিযোগ, আমেরিকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে একটি ভুল রুট ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হতে আরও দেরি হবে এবং বিশ্ব জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ঘটনার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮১.৯২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এটি যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ ১২০ ডলারের চেয়ে কম, তবুও বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আবার মার্কিন হামলা ইরানে

    পরপর তিনদিন ইরানের উপর হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরানও। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন পরিকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা খুব জোরালোভাবে আঘাত করেছি। ইরানের আক্রমণ করার ক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকবে এবং অবরোধও ফের কার্যকর করা হচ্ছে।” এদিকে হরমুজে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর করও আরোপ করেছে আমেরিকা।

    হরমুজের রক্ষাকর্তা আমেরিকা!

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবার নিজেদের হাতে নিতে চলেছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, এই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্প মার্কিন প্রশাসনকে এই জলপথের রক্ষাকর্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী এই প্রণালীটি পরিচালনা করবে এবং এর নতুন নাম দেবে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত চলছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারষ্পরিক দাবি-পাল্টা দাবি তুঙ্গে উঠেছে।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই, এই রুটে যেকোনও ধরনের সামরিক অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনার পাহারার কারণেই এতদিন এই রুট নিরাপদ ছিল, তাই বিশ্ববাসীর উচিত এর খরচ মেটানো। ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মার্কিন হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অনুমতি ছাড়া কোনও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সেনাদল হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও মার্কিন বাহিনীর পাশে না দাঁড়াতে সতর্ক করেছে তেহরান। বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনও ধরনের সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে গণ্য করা হবে। এই সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলি।

  • US Citizen Arrested: পাসপোর্ট ছাড়াই নেপাল সীমান্তে ধৃত মার্কিন নাগরিক, নিজেকে প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার বলে দাবি!

    US Citizen Arrested: পাসপোর্ট ছাড়াই নেপাল সীমান্তে ধৃত মার্কিন নাগরিক, নিজেকে প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার বলে দাবি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ছাড়াই অবৈধভাবে নেপাল সীমান্ত (Nepal Border) পার হওয়ার চেষ্টা! অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার (US Citizen Arrested) করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (SSB)। উত্তরপ্রদেশের মহরাজগঞ্জ জেলার সোনৌলি সীমান্ত এলাকা থেকে আটক জর্ডান ব্রাউন (৩৬) নামের ওই ব্যক্তি। ধৃত ব্যক্তি নিজেকে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর (US Navy) প্রাক্তন কর্মকর্তা বলে দাবি করেছেন। এসএসবি (SSB)-এর ২২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা মৈনিহাওয়া এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত (Border Security) পিলারের কাছে রুটিন টহল দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। জওয়ানেরা তাঁকে থামতে বললেই পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাঁকে ধরে ফেলে।

    থাইল্যান্ডে পাসপোর্ট হারিয়ে গোয়ায়!

    মহরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, জেরার মুখে জর্ডান ব্রাউন দাবি করেছেন, তিনি পর্যটন ভিসা নিয়ে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই কোনওভাবে তাঁর পাসপোর্টটি হারিয়ে যায়। এরপর তিনি সমুদ্রপথে প্রথমে শ্রীলঙ্কা এবং পরে ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর ভারতে প্রবেশ করেন। গত প্রায় সাত মাস ধরে তিনি ভারতের গোয়ায় কোনও নথিপত্র ছাড়াই বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তিনি গোয়া থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে নেপালে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। ইতিমধ্যেই তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩১,৪৬০ টাকা নগদ এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কোনও পাসপোর্ট বা ভিসা তিনি দেখাতে পারেননি। এরপর এসএসবি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের (UP Police) হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইনের (Immigration and Foreigners Act) ২১/২৩ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে সোনৌলি থানার পুলিশ।

    ধৃত ৫ ইউক্রেনীয় ও ১ মার্কিন নাগরিক

    অন্যদিকে, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে যুদ্ধ ও ড্রোনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ ইউক্রেনীয় এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার (US Citizen Arrested) করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ধৃতদের গত ৩ জুলাই পাতিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হয়। এনআইএ-এর অভিযোগ, এই বিদেশি নাগরিকেরা প্রথমে পর্যটন ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং এরপর মিজোরাম সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে যান। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে ওই গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে তাঁরা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

  • Vietnam Boat Capsized: ভিয়েতনামে ভয়াবহ নৌকোডুবি, ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের নিথরদেহ ফিরলো মুম্বইয়ে

    Vietnam Boat Capsized: ভিয়েতনামে ভয়াবহ নৌকোডুবি, ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের নিথরদেহ ফিরলো মুম্বইয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভিয়েতনামে নৌকোডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন ভারতীয় পর্যটক। এবার তাঁদের মরদেহ এসে পৌঁছলো মুম্বাইয়ে। মঙ্গলবারই ‘ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স’-এর বিশেষ বিমান ‘VN979’-এ করে মরদেহ নিয়ে আসা হয় মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Mumbai Airport)। সেখান থেকেই মৃতদেহগুলি নিজের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ভারত সরকার। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলোর হাতে শেষকৃত্যের জন্য মরদেহগুলো তুলে দিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে প্রশাসন। মৃতদেহগুলো মুম্বাই (Mumbai) থেকে সড়ক ও আকাশপথে চেন্নাই, হায়দরাবাদ, তিরুবনন্তপুরম এবং কোয়েম্বাটুরের মতো বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে স্বজনেরা তাঁদের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Vietnam Boat Capsized)?

    ১১ জুলাই, শনিবার। ভিয়েতনামের ফু কোক দ্বীপের কাছে ‘হোন মে রুত এনগোই’ দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল পর্যটক বোঝাই একটি নৌকো। নৌকোয় ছিলেন ৩২ জন ভারতীয় পর্যটকসহ মোট ৩৬ জন আরোহী। ঠিক যখন, বাকি পর্যটকেরা ছবি তোলায় ব্যস্ত, তখনই ঘটে গেল বিপত্তি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দ্বীপ থেকে খুব বেশি হলে ৩০০ মিটার পৌঁছতেই ঢেউয়ে বেসামাল হয়ে উল্টে পড়ে নৌকোটি (Vietnam Boat Capsized)। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, হঠাৎ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে পড়ে উল্টে যায় নৌকোটি। জলে ডুবে যান পর্যটকরা। দ্রুত ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে যায় উদ্ধারকারী দল। ৩৬ জনের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দুর্ভাগ্যবশত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটক প্রাণ হারান।

    নিহত ও আহতদের বিবরণী

    মৃত ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। ৩ জন অন্ধ্রপ্রদেশের এবং ২ জন কেরালার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত একমাত্র ভারতীয় পর্যটকের চিকিৎসা চলছে। ফু কোক দ্বীপে একটি জরুরি অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হো চি মিন সিটির একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

    তৎপর ছিল ভারতীয় দূতাবাস

    দুর্ঘটনার পর থেকেই ভিয়েতনামে (Vietnam) নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস এবং হো চি মিন সিটির কনস্যুলেট জেনারেল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। মৃতদের সনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তাঁরা ভিয়েতনাম সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন। সহযোগিতার জন্য ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

  • Pakistan Medicine Crisis: আর্থিক দেউলিয়াত্ব-প্রশাসনিক ব্যর্থতা! ওষুধ সঙ্কটে ভেঙে পড়ার মুখে পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থা

    Pakistan Medicine Crisis: আর্থিক দেউলিয়াত্ব-প্রশাসনিক ব্যর্থতা! ওষুধ সঙ্কটে ভেঙে পড়ার মুখে পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর্থিক দেউলিয়াত্ব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতায় জেরবার পাকিস্তান। এবার এক চরম স্বাস্থ্য সঙ্কটের মুখে পড়েছে পাকিস্তান (Pakistan Medicine Crisis)। জীবনদায়ী ওষুধের (Life-saving Medicines) তীব্র ঘাটতির কারণে সে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। ওষুধের দাম নির্ধারণ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের দীর্ঘসূত্রতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই সঙ্কটকে আরও গভীর করে তুলেছে। ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো মারণব্যাধির ওষুধ না পেয়ে সে দেশে হাহাকার শুরু হয়েছে। অথচ, এই একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত বিশ্বের ‘ফার্মেসি’ (Pharmacy of the World) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্বের দরবারে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে।

    পরিস্থিতি হাতের বাইরে (Healthcare Crisis)?

    পাকিস্তানে জীবনদায়ী ওষুধের সাম্প্রতিক সঙ্কট ও উৎপাদন কমে যাওয়ার পিছনে মূল কারণগুলো অনুসন্ধান করেছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘ড্র্যাপ’ (DRAP)। ওষুধ তৈরির খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পিছনে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কারণ দায়ী। পাকিস্তানি রুপির রেকর্ড পরিমাণ মূল্যপতনের ফলে আমদানির খরচ আকাশচুম্বী। ওষুধ তৈরির আমদানিকৃত কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন এবং শ্রমিকদের মজুরি বা শ্রমের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া ও ব্যাংক ঋণ বা অর্থায়নের অতিরিক্ত খরচ ইত্যাদি এই সংকটের জন্য দায়ী।

    অন্যদিকে, দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারের বর্তমান মূল্য নির্ধারণ নীতি (Pricing policy) মেনে ওষুধ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই তোলা সম্ভব হচ্ছে না। লোকসান এড়াতে অনেক কোম্পানি বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ (Dawn)-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটের পিছনে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতাও বড় ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদন খরচ আকাশছোঁয়া হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ওষুধ তৈরি করা ফার্মা কোম্পানিগুলোর জন্য আর লাভজনক ছিল না। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ড্র্যাপ (DRAP) দুই বছরেরও বেশি সময় আগে ১০৫টি অতি প্রয়োজনীয় বা সঙ্কটকালীন ক্যাটাগরির (Hardship category) ওষুধের দাম পুনর্বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। দুর্ভাগ্যবশত, সেই প্রস্তাবগুলো এখনও পাকিস্তানের ফেডারেল ক্যাবিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।

    দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি সিদ্ধান্ত না আসায় এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ওষুধের উৎপাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলস্বরূপ, বেশ কিছু উৎপাদক সংস্থা বাজারে অতি প্রয়োজনীয় ও জীবনদায়ী ওষুধের জোগান পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং দেশজুড়ে তীব্র ওষুধ সঙ্কট (Pakistan Medicine Crisis) তৈরি হয়েছে।

    দেউলিয়া পাকিস্তানের ব্যর্থতা

    অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পাকিস্তান সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে ওষুধের দাম বাড়াতে দিচ্ছে না, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ফার্মা কোম্পানিগুলি ওষুধ তৈরি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে ইনসুলিন, ক্যানসারের কেমোথেরাপির ওষুধ, হেপারিন এবং সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের মতো জরুরি ড্রাগ।

    ধুঁকছে পাকিস্তান, বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে ভারতের ফার্মা সেক্টর

    পাকিস্তানের এই শোচনীয় পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাকিস্তান যখন সামান্য প্যারাসিটামল বা ইনসুলিনের জন্য অন্যান্য দেশের দিকে হাত পাতছে, ভারত তখন সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল হয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করছে। ভারত আজ বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ সরবরাহকারী দেশ। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত ভ্যাকসিনের ৬০ শতাংশের বেশি উৎপাদিত হয় ভারতে। ভারতের শক্তিশালী ফার্মা পরিকাঠামোর কারণে এখানে অত্যন্ত কম মূল্যে জীবনদায়ী ওষুধ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, যা পাকিস্তানের কাছে কল্পনা করাও অসম্ভব। পাকিস্তানের রোগীরা আজ নিজেদের দেশে ন্যূনতম চিকিৎসা না পেয়ে ভারতের উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

  • Nepal Protest: নেপালে পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ, নিজের তৈরি আগ্রাসী নীতিরূপী ‘ভস্মাসুর’-এর মুখে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

    Nepal Protest: নেপালে পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ, নিজের তৈরি আগ্রাসী নীতিরূপী ‘ভস্মাসুর’-এর মুখে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের রাজনীতিতে ফের বড়সড় অসন্তোষ। যে সরকারকে এক বছরও হয়নি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল দেশের যুবসমাজ , আজ সেই সরকারের বিরুদ্ধেই কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ (Nepal Protest) দেখাচ্ছেন তাঁরা। রাজধানী কাঠমান্ডুর সরকারি দফতর ‘সিংহদরবার সেক্রেটারিয়েট’-এর বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হয়েছেন শত শত মানুষ। ‘গরিবের উপর অত্যাচার বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান দাও’- স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এই গণবিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা।

    কেন এই জনরোষ (Nepal Protest)? 

    গত বৃহস্পতিবার, কাঠমান্ডুর রাস্তায় খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মোটরসাইকেলে যাত্রী বহনকারী চালক বছর ২৫-এর গণেশ নেপালি। নেপালি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেই সময় পুরসভার পুলিশ এসে আচমকা তাঁর মোটরসাইকেলের চাকায় লক (Wheel Clamp) লাগিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে নিরুপায় হয়ে ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই মর্মান্তিক মৃত্যুই নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা নেপালকে। বারুদের মতো জ্বলে উঠেছে জেন-জিদের ক্ষোভ (Gen Z Protest)।

    পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা আন্দোলনকারীদের

    গণেশ নেপালির মৃত্যুর বিচার চেয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যাসিবাদী নীতি’-র বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পড়ুয়া, চালক ও যুবসমাজ বীর হাসপাতালের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। ভদ্রকালী এলাকায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের পথ আটকালে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করতেই পুলিশ ও যুবকদের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়ে আন্দোলনকারীরাও।

    উত্তাল নেপালের সংসদও

    রাস্তার সংঘর্ষের আঁচ এবার পৌঁছেছে নেপালের সংসদেও। সরকারের শরিক দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP)-র সাংসদ আশিকা তামাং থেকে শুরু করে বিরোধী জোটের নেতারাও বালেন্দ্র শাহ-র সরকারকে তুলোধোনা করেছেন। বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, সরকারকে স্টান্টবাজি বন্ধ করতে হবে। এই প্রশাসনই সাধারণ দিনমজুরদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পুলিশের ডিআইজি (DIG) গোবিন্দ থাপালিয়ার নেতৃত্বে একটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পুরপুলিশের ক্ষমতা খর্ব না করা পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরতে নারাজ নেপালের লড়াকু জেন-জি প্রজন্ম।

    বালেন্দ্র শাহ-এর ‘আগ্রাসী’ শাসন নীতি

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই অত্যাচার নতুন নয়। ২০২২ সালে বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়ার পর থেকেই ওখানকার পুরপুলিশ অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। শহরের সৌন্দর্যায়ন ও ফুটপাত পরিষ্কার করার নামে বালেন্দ্র শাহ কড়া মনোভাব নেন। নদীপাড়ের বস্তি উচ্ছেদ এবং হকারদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার কারণে বারবার পুলিশের সঙ্গে গরিব মানুষের সংঘর্ষ বাঁধে। ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও গরিব মানুষদের উপর পুলিশের এই জুলুমের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভ (Gen Z Protest) জমছিল। যা এই তরুণ চালকের মৃত্যুর পর গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।

    আইন কী বলছে? 

    আইনজ্ঞদের মতে, বালেন্দ্র শাহ-এর প্রশাসন সংবিধানের তোয়াক্কা না করে পুরপুলিশকে ফেডারেল পুলিশের মতো আগ্রাসী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে। নেপালের ‘কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি মিউনিসিপ্যাল পুলিশ অ্যাক্ট ২০২৩’ অনুযায়ী, পুরপুলিশের কাজ পুরসভার সম্পত্তি রক্ষা করা, পার্কের দেখভাল করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় উৎসবে সাহায্য করা। নেপালের প্রাক্তন ডিআইজি পূর্ণচন্দ্র জোশী এবং প্রবীণ আইনজীবী রাজু চাপাগাইন জানিয়েছেন, পুরপুলিশের কোনো নাগরিককে আটক করার, লাঠিচার্জ করার বা বলপ্রয়োগ করার আইনি অধিকার নেই। ট্রাফিক বা রাস্তা অবরোধের সমস্যা হলে তাদের ট্রাফিক পুলিশ বা নেপাল পুলিশকে জানানো উচিত। কিন্তু আইন অমান্য করে এই পুরপুলিশ প্রতিনিয়ত হকারদের তাড়া করছে, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে এবং মারধর করছে—যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

    বস্তি উচ্ছেদ বন্ধ ও বাসস্থানের দাবি

    রাইড-শেয়ারিং চালকের মৃত্যুর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা সরকারের অবৈধ গ্রেফতারি বন্ধ করার এবং নদীপাড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। কয়েক মাস আগে যে যুবসমাজ (Gen Z) পরিবর্তনের আশায় বালেন্দ্র শাহ-কে সমর্থন করেছিল, আজ তারাই দেশের গরিব মানুষের মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রশাসনের জবাবদিহির দাবিতে অনড়।

  • 56th International Physics Olympiad 2026: ভারতের ক্লিন সুইপ! ৫টি সোনা জিতে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস

    56th International Physics Olympiad 2026: ভারতের ক্লিন সুইপ! ৫টি সোনা জিতে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে ফের ভারতের জয়জয়কার! কলম্বিয়ার বুকরাম্যাঙ্গায় (Bucaramanga) আয়োজিত ৫৬তম আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (56th International Physics Olympiad 2026) ইতিহাস গড়ল ভারতীয় পড়ুয়ারা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পাঁচজন ভারতীয় ছাত্রই সোনা (Five Gold Medals) জিতে দেশবাসীকে গর্বিত করেছেন। এই দুর্দান্ত ‘ক্লিন সুইপ’-এর হাত ধরে রাশিয়া, চিন, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো হেভিওয়েট দেশগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করল ভারত। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই মেধা প্রতিযোগিতায় ভারতের এই জয় বিজ্ঞান শিক্ষায় দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই প্রমাণ।

    ৩৭৮ জন প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থানে ভারত

    এবারের অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ৮৭টি দেশ থেকে মোট ৩৮১ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। তাদের সবাইকে পিছনে ফেলে ভারতীয় দলের পাঁচ রত্ন ভারতের পতাকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। মেধা এবং নিখুঁত পারফরম্যান্সের জোরে পাঁচজনই সোনা পকেটে পুরে নেন।

    ভারতের সোনার ছেলেরা (Five Gold Medalist)

    দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই পাঁচ কৃতি ছাত্র হলেন, কনিষ্ক জৈন (পুনে), ঋদ্ধেশ অনন্ত বেন্দালে (ইন্দোর), ঋষিত গর্গ (দিল্লি), শ্রেষ্ঠ সুরাইয়া (মুম্বই), স্বৈয়ত জোশী (আমেদাবাদ)।

    মাসের পর মাস কঠিন পরিশ্রম

    বিশ্বের দরবারে এই সাফল্য কিন্তু একদিনে আসেনি। আন্তর্জাতিক স্তরের এই কঠিন প্রতিযোগিতার জন্য পড়ুয়াদের মাসের পর মাস কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অধীনে পদার্থবিদ্যার অ্যাডভান্সড থিওরি, ল্যাবরেটরির জটিল কাজ এবং নিয়মিত প্র্যাকটিস সেশনের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করেছিলেন এই তরুণ বিজ্ঞানীরা। এই পুরো যাত্রায় ভারতীয় দলের মেন্টর ও গাইড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন (HBCSE-TIFR)-এর অধ্যাপক অন্বেষ মজুমদার, ড. লীনা জোশী এবং বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত থাকা আইআইএসইআর (IISER) কলকাতার অধ্যাপক আনন্দ দাশগুপ্ত ও নিশা কেলকর। তাঁদের যোগ্য নেতৃত্বই ছাত্রদের এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

    আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কী?

    এটি প্রতি বছর আয়োজিত হওয়া স্কুল স্তরের বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও কঠিন পদার্থবিজ্ঞান প্রতিযোগিতা। এখানে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের কঠিন তাত্ত্বিক (Theoretical) এবং ব্যবহারিক বা পরীক্ষামূলক (Experimental) পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের পদার্থবিদ্যার গভীরতা, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং কঠিন সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

    শিক্ষামহলে খুশির হাওয়া

    ভারতীয় দলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে দেশের শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী মহলে খুশির হাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সেরা বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থার দেশগুলির সাথে প্রথম স্থান ভাগ করে নেওয়া প্রমাণ করে যে, ভারতীয় পড়ুয়াদের মেধা আন্তর্জাতিক স্তরেও কতটা শক্তিশালী। এই জয় দেশের হাজার হাজার তরুণ পড়ুয়াকে আগামীদিনে বিজ্ঞান চর্চা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

  • Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত মার্কিন সেনেটের দীর্ঘ দিনের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম (Lindsey Graham)। বারাক ওবামার আমল থেকেই ইরান-বিরোধী নেতা হিসেবেই পরিচিত তিনি। সেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘর্ষের আবহেই প্রয়াত হলেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বয়স হয়েছিল ৭১। বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন গ্রাহাম। রবিবার গ্রাহামের কার্যালয়ের তরফে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রবীণ নেতার মৃত্যু হয়েছে। প্রবীণ এই সেনেটর আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘‘লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকৃত আমেরিকাপ্রেমী ছিলেন।’’ তাঁর মৃত্যু ‘বড় ক্ষতি’ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পরামর্শ

    গ্রাহাম (US Senator Death) তাঁর কর্মজীবনে নানা সময়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর করা নানা মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে সর্বস্তরে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘উল্লেখযোগ্য ভাবে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে ভারত। আর ভারতের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের শুল্কনীতি। গ্রাহামের দাবি, কী ভাবে একটা নীতিগত পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে, তার ‘ভাল উদাহরণ’ দিল্লির উপর আরোপিত ট্রাম্পের শুল্ক। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বলেছিলেন গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প এমন একটি বিলে (গ্রাহাম-ব্লুমেন্থাল নিষেধাজ্ঞা বিল) অনুমোদন দিয়েছেন, যা নিয়ে তিনি কয়েক দিন ধরে কাজ করছিলেন। এই বিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেবে, যার বলে তিনি রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়কারী ভারত-সহ দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এই শুল্ককে ‘শাস্তি’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর গ্রাহাম।

    ইরান-বিরোধী বলে পরিচিত

    ইরানের আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন গ্রাহাম। ইরানে হামলার প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি যদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জায়গায় থাকতাম, তবে যাঁরা গণহত্যা করছেন, তাঁদের খুন করতাম।’’ গ্রাহাম এ-ও দাবি করেছিলেন, ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে। গ্রাহাম পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান অত্যন্ত সমস্যাজনক। ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের শত্রুতা অনেক দিনের। এটা স্বীকার করতেই হবে পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখা হচ্ছে।’’ প্রসঙ্গত, জুন মাসেই সেনেটে পঞ্চম বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গ্রাহাম। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘উনি আমার দেখা অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব এবং সেনেটর ছিলেন। লিন্ডসে একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ছিলেন, যিনি দেশের জন্য সবসময় কাজ করে গিয়েছেন। ওঁর কথা আমাদের সব সময়ে মনে পড়বে।’

  • Dhamrai Rath: পাক বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছিল ৫০০ বছরের ইতিহাস, তবু আজও স্বমহিমায় বর্তমান ধামরাই-এর রথযাত্রা

    Dhamrai Rath: পাক বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছিল ৫০০ বছরের ইতিহাস, তবু আজও স্বমহিমায় বর্তমান ধামরাই-এর রথযাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগুনে পুড়েও, ফুরিয়ে যায়নি ৫০০ বছরের ঐতিহ্য। প্রতি বছর রথযাত্রার সময় প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টানার উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা। পুরী বা আমেদাবাদের রথযাত্রার কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, একসময় পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও বিশাল রথযাত্রা হত বাংলাদেশের ঢাকার কাছে ধামরাইয়ে (Dhamrai Rath Yatra)। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই রথযাত্রার ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনই কষ্টেরও। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এর ওপর নির্মম আঘাত হেনেছিল। তার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল রথ, যদিও মুছে ফেলা যায়নি ভক্তদের মনের বিশ্বাসকে।

    ৫০০ বছরের পুরানো উৎসব

    ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ধামরাই জনপদ। এখানকার রথযাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ৫০০ বছর আগে (500 Year Old Rath Yatra Bangladesh)। পুরানো ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৬৭২ সালেও এই রথযাত্রা উৎসব হত খুব ধুমধাম করে। উৎসব দেখতে একসময় শুধু বাংলা নয়, ওড়িশা, অসম, মায় নেপাল থেকেও হাজার হাজার মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতেন। টানা এক মাস ধরে চলত মেলা। হত নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ধামরাইয়ের বিখ্যাত যশোমাধব মন্দির থেকে যাত্রা শুরু করত রথ। শেষ হত আধ কিলোমিটার দূরের গোপীনগর মন্দিরে গিয়ে।

    পুরীর রথের চেয়েও বড় ধামরাইয়ের রথ (Dhamrai Rath Yatra)!

    উনিশ শতকের শুরুর দিকে ধামরাইয়ের জমিদাররা মিলে একটি বিশাল কাঠের রথ তৈরি করেন। এলাকার সেরা কাঠমিস্ত্রিরা প্রায় এক বছর ধরে এই রথটি বানিয়েছিলেন। রথটি ছিল প্রায় ৬০ ফুট উঁচু (60 feet tall Dhamrai Rath)। পুরীর বর্তমান রথটি ৪৪ ফুট উঁচু, অর্থাৎ ধামরাইয়ের রথটি ছিল তার চেয়েও ঢের বড়। রথে ছিল ৩২টি বিশাল কাঠের চাকা। রথটি টানার জন্য প্রায় ১,০০০ কেজি ওজনের মোটা দড়ি ব্যবহার করা হত।

    দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা ও ১৯৭১-এর কালো অধ্যায়

    ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর জমিদারি প্রথা লোপ পেলে রথযাত্রার আয়োজকরা পড়েন ঘোর সঙ্কটে। তখন গর্বের এই ঐতিহ্য বাঁচাতে এগিয়ে আসেন টাঙ্গাইলের বিখ্যাত দানবীর তথা সমাজসেবক রণদাপ্রসাদ সাহা (আরপি সাহা)। তিনি নিজের খরচে এই রথ ও উৎসবের সব দায়িত্ব নেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের (Bangladesh) মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সব ওলটপালট হয়ে যায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রণদাপ্রসাদ ও তাঁর ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর আর খোঁজ মেলেনি তাঁদের।

    রথ পুড়িয়ে দিল পাক বাহিনী

    পাক হানাদারদের অত্যাচারের জেরে যে কেবল রণদাপ্রসাদ ও তাঁর জওয়ান ছেলে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তা নয়, দুষ্কৃতীরা ইতিহাসখ্যাত এই রথে আগুন লাগিয়ে দেয়। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১০ জুন। রোষের আগুনে সপ্তাহখানেক ধরে ধিকধিক করে পুড়ে গিয়েছিল ধামরাই তথা তামাম বাংলার এই গর্ব। রথ পুড়ে যাওয়ায় ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে ধামরাইয়ে রথযাত্রা হয়নি। বাংলাদেশের ৫০০ বছরের এই রথযাত্রার ইতিহাসে (500 Year Old Rath Yatra Bangladesh) এটি ছিল একটি বড় আঘাত।

    নতুন করে পথ চলা ও ভারতের সাহায্য

    স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর ১৯৭৩ সালে একটি ছোট রথ বানিয়ে ফের শুরু হয় উৎসব। যদিও আগের সেই জাঁকজমক আর ছিল না। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের আসাও অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এরপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। ২০০৯ সালে ভারত সরকার (Indian govt) ধামরাইয়ের এই ঐতিহ্য বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় ২০১০ সালে একটি নতুন রথ নির্মাণ করে শুরু হয় উৎসব। এই নতুন রথটি ৪০ ফুট উঁচু, চাকা রয়েছে ১৬টি। সেই থেকে ফি বছর উৎসবে টানা হয় এই রথটিই। আজও ধামরাইয়ে প্রতি বছর রথযাত্রা হয়। বসে মেলাও। রথের রশি ছুঁয়ে পুণ্য অর্জন করে হাজারো ভক্ত। আগের সেই অতিকায় রথ আর নেই, ফুরিয়ে গিয়েছে সেদিনের সেই জাঁকও। তবে ধামরাইয়ের বাসিন্দাদের মন থেকে মুছে ফেলা যায়নি সেই ৬০ ফুটের কাঠের রথ এবং তাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহভর উৎসবের ছবি। বস্তুত, এটাই ধামরাইয়ের রথযাত্রার আসল শক্তি।

  • Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, ধর্মীয় স্থাপনায় চুরি এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)। আসুন, ৫ থেকে ১১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা (Hindus Under Attack)

    পুনের ঐতিহাসিক মহাত্মা ফুলে ওয়াড়ায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ মেধা কুলকার্নির ঐতিহ্যবাহী বট পূর্ণিমার আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তথাকথিত প্রগতিশীল মহলের একাংশের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইতিহাস ও জাতিভিত্তিক বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলায় জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে দুটি পৃথক মামলার জেরে উত্তেজনা বেড়েছে। প্রথম মামলাটি জুনের শুরুতে এক বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ীর ছেলেকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি সামনে আসে জুলাইয়ের শুরুতে, যেখানে একটি রাজপুত পরিবার তাদের ৩৫ বিঘা পৈতৃক জমি দখলের হুমকি এবং ধর্মান্তরের চাপের অভিযোগ তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা বাঘরার যোগ সাধনা আশ্রমের প্রধান স্বামী যশবীর মহারাজের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে প্রয়োজনে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন (Hindus Under Attack)।

    কৃষি উৎসবকে কেন্দ্র করে হিংসা

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার হাঙ্গাল তালুকের নরেগাল গ্রামে শতাব্দীপ্রাচীন সনাতনী কৃষি উৎসব কারা হুন্নিমে উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইসলামি সম্প্রদায়ের একদল দুষ্কৃতী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হিন্দুদের ওপর বিনা প্ররোচনায় হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তত আটজন জখম হন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। কর্নাটকেরই বেঙ্গালুরুর জিগানিতে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বছর তিরিশের অক্ষতা ইন্দরাগির দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের সঙ্গী জনৈক নানা সাব এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি। কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের কেশর আমদানি এবং তিলক পরার রীতি নিয়ে করা মন্তব্যকে ঘিরে (Hindus Under Attack) বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, বিশ্বের অধিকাংশ কেশর ইসলামি দেশগুলি থেকে আমদানি হয়, তাই হিন্দুদের তিলক পরা বন্ধ করা উচিত। সমালোচকদের মতে, অধিকাংশ হিন্দুই দৈনন্দিন তিলকের জন্য বিশুদ্ধ কেশর ব্যবহার করেন না, ফলে তাঁর বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন

    এদিকে, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় নিবন্ধন থাকলেই আর বিদেশি অর্থ নেওয়া সাধারণ অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না। এখন থেকে বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ আপত্তি জানিয়েছে (Roundup Week)। একই সঙ্গে ধর্মান্তর, রাজনৈতিক প্রচার এবং আন্দোলনে বিদেশি অর্থ ব্যবহারের ওপর সরকারের কড়াকড়িও চর্চায় এসেছে। চেন্নাইয়ের তাম্বরমে বছর ছাপ্পান্নর মহম্মদ ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে বছর বারোর এক নাবালিকাকে টানা চার মাস ধরে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে। নির্যাতিতার বাবা তাঁরই গুদামের কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে শিশু সুরক্ষা এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে (Hindus Under Attack)।

    বহির্বিশ্বের ছবি

    বহির্বিশ্বের ছবিটাও খুব একটা ভিন্ন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছেন স্বঘোষিত সাংবাদিক পিটার ফ্রিডরিখ। অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে তিনি আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ঘুরে সিটি কাউন্সিল-সহ বিভিন্ন জনমঞ্চে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। আটলান্টা, পালো অল্টো-সহ একাধিক শহরে তাঁর বক্তব্যের টার্গেট হয়েছে হিন্দুদের বিভিন্ন সংগঠন, যার মধ্যে কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির দাবি, তাঁর অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং হিন্দু সমাজের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ কেবল প্রত্যক্ষ হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন দেশে (Roundup Week) সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে, তামাম বিশ্বে (Hindus Under Attack) খুব একটা সুখে নেই হিন্দুরা।

     

  • Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ (Hormuz) প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে ঘিরে ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Launches Fresh Strikes)। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই হামলা শুরু হয় বলে জানিয়েছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় কমান্ড।

    বিবৃতিতে যা জানাল আমেরিকা (Hormuz)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের তরফে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’তে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায়, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইঞ্জিন রুম, নিখোঁজ হয়েছেন এক নাবিক। ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাহাজটি আর এগোতে পারেনি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলাগুলির জন্য জবাবদিহির পরে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার সুযোগ ইরানকে দেওয়া হলেও, তারা তা মানেনি। এর জবাবে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী অসামরিক নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান যাতে আর হামলা চালাতে না পারে, তাই এই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালী!

    কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওই পোস্টের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের তার মূল্য দিতে হবে।” এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়ে দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। তাদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই সময়ে কোনও জাহাজকে আর ওই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলে থাকা প্রতিপক্ষের আরও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা, ইজরায়েল এবং যেসব আঞ্চলিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে, তাদেরই দায়ী করেছে ইরান।

    অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতা

    অন্যদিকে, সামরিক উত্তেজনার আবহেই কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। উত্তেজনা কমিয়ে (Hormuz) আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ফের শুরুর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইরান ঘুরে গিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে ওমানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ বদর আলবুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ আব্বাস আরাগচি। বৈঠক শেষে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, বৈঠকে বিশেষভাবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে (US Launches Fresh Strikes) আলোচনা হয়। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা আরও একবার জানিয়ে দিয়েছে (Hormuz) ওমান।

     

LinkedIn
Share