Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বারবার ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে রেল, সড়ক, শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নানা প্রকল্পে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক কারণে আপত্তির জেরে রাজ্যের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও রেলবোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ‘ডাবল ইঞ্জিন উন্নয়নের সূচনা’ হিসেবে তুলে ধরছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

    নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও দাবি তুলে ধরলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল কেন্দ্রীয় সরকারের বিপুল বিনিয়োগ, নতুন রেল প্রকল্প, অমৃত ভারত স্টেশন নির্মাণ এবং জমি সংক্রান্ত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি। রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শুভেন্দুর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার কখনও পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেনি। বরং জমি, অনুমোদন ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে বহু প্রকল্প বছরের পর বছর আটকে ছিল। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উন্নয়নমূলক সহযোগিতার নতুন পরিবেশ তৈরি হলে বাংলায় রেল অবকাঠামোয় নজিরবিহীন বিনিয়োগ, নতুন রেললাইন, অমৃত ভারত স্টেশন, ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

    নবান্নে রেলমন্ত্রী-রেলবোর্ডের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    শনিবার নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নেতৃত্বে রেল মন্ত্রক ও রেলবোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বিধায়ক এবং প্রশাসনিক কর্তারা। বৈঠকের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেলমন্ত্রীকে কালী মূর্তি উপহার দেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পশ্চিমবঙ্গে চলমান ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, জমি অধিগ্রহণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং রেল সংযোগ সম্প্রসারণ।

    ‘আগের সরকারের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন ১১ কোটি মানুষ’

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আগের সরকারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কখনও রেলের কাজে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেননি।” তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের রেল উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

    ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, রেলমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি স্টেশনকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পরিবহণ কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। তিনি জানান, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে নতুন রেললাইন, স্টেশন উন্নয়ন, সেতু, আন্ডারপাস এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রেল বাজেটে বিপুল বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

    শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল খাতে বরাদ্দ ছিল ৪,৩৮০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪,২০৫ কোটিতে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ৪০টির বেশি প্রকল্পে এনওসি দেওয়া হয়েছে

    রাজ্যে বিভিন্ন রেল প্রকল্পের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘদিন জমি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইতিমধ্যেই ৪০টিরও বেশি রেল প্রকল্পে প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জেলাশাসকদের নির্দেশ দেব যাতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া যায়। বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় রেল পৌঁছে দিতে যা যা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতা করা হবে।”

    ৬১টি প্রকল্পে গতি, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস

    বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলমান ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। রেলপথ ও সড়কপথের মধ্যে নিরাপদ সংযোগ গড়ে তুলতে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে নতুন এলাকা

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় নতুন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে এখনও রেল সংযোগ থেকে বঞ্চিত বা সীমিত পরিষেবা পাওয়া বহু অঞ্চল সরাসরি রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে। পর্যটন, শিল্প, কৃষিপণ্য পরিবহণ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে এই প্রকল্পগুলির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    উন্নয়নের বার্তা কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের

    নবান্নের বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক বছরে বড়সড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন, ৬১টি প্রকল্প, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস এবং ১ লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগের মতো ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়লে পশ্চিমবঙ্গের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নতুন গতি পাবে। আর সেই কারণেই নবান্নের এই বৈঠককে শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং বাংলার উন্নয়ন রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় তার উপর।

  • Saokat Molla Arrested: বাংলাদেশ পালানোর আগেই এনআইএ-র জালে! গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

    Saokat Molla Arrested: বাংলাদেশ পালানোর আগেই এনআইএ-র জালে! গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে পালানোর আগেই গ্রেফতার ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা (Saokat Molla Arrested)। পালিয়েও মিলল না রেহাই ৷ অবশেষে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র জালে ধরা পড়লেন শওকত। জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে কামালগাজি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে এনআইএ’র আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা অনেকদিন ধরেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শওকত এলাকা ছাড়া ছিলেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। শেষে গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয় বলে খবর। শওকত মোল্লার মেয়ে অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন যে তাঁর বাবা গ্রেফতার হননি, আত্মসমর্পন করেছেন৷

    বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা

    এনআইএ সূত্রে দাবি, তদন্তের চাপ বাড়তেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন শওকত মোল্লা। এমনকী, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলেও তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান। সীমান্তবর্তী কয়েকটি রুট নিয়েও খোঁজখবর নিচ্ছিলেন শওকত, এমনই দাবি এনআইএ-র (NIA Arrest Saokat)। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার এনআইএ তথ্য পায় যে শওকত আরও এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ বিএসএফ-কে সতর্ক করে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়। তবে শওকত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন বলে জানা যায়। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শওকত মোল্লা বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    কোথায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন শওকত

    এনআইএ সূত্রে খবর, দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা বাতিল হতেই কলকাতার কাছাকাছি একটি জায়গায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন শওকত। তদন্তকারীরা পরে জানতে পারেন, শওকত তৃতীয় এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছিলেন। তদন্তের স্বার্থে এনআইএ তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং সেই যোগাযোগের সূত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। সেই সূত্র ধরেই এনআইএ তাঁর গতিবিধি ট্র্যাক করে। শেষ পর্যন্ত কলকাতায় ফেরার চেষ্টা করার সময় এনআইএ শওকত মোল্লাকে আটক করে। সোনারপুরের কামালগাছি থেকে তাকে ধরা হয়েছে। এরপরই তাকে সরাসরি এনআইএ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ, ।

    কেন গ্রেফতার শওকত

    ভোটের আগে ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে তৃণমূল নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার ভোরে জীবনতলায় শওকত মোল্লার বাড়িতে পৌঁছন এনআইএ’র আধিকারিকরা। তবে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাড়িতে তালা ঝুলছে। এরপর তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালান। দীর্ঘ সময় ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ। তদন্তে সহযোগিতা না-করা এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারবার তলব করা হলেও হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ ওঠে দু’বারের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে। প্রথমে তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে জেরা করার পর সন্ধ্যায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শওকতের স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। এনআইএ-র এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করেছি। আজ, অর্থাৎ শনিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’

  • Firhad Hakim: ছোট লালবাড়িতেও তৃণমূলের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান! কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

    Firhad Hakim: ছোট লালবাড়িতেও তৃণমূলের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান! কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফিরহাদ। এর ফলে বিধাননগরের পর এবার ভাঙল কলকাতা পুরসভাও (KMC)। পালাবদলের রাজ্যে পদ ছাড়লেন কলকাতার মেয়র। তিনি এও বলেন, ‘অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেল’।

    কেন ইস্তফা ফিরহাদের

    ইস্তফা দেওয়ার কারণ জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “দাপটের সঙ্গে কাজ করেছি। যাঁরা পুরসভায় আসতেন, তাঁদের সমস্যার সমাধান করার কাজ করতাম। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। চেয়ারের সম্মানহানি করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকলাম অথচ ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। তাই আমি আজ ইস্তফা দিচ্ছি।” ইস্তফায় দলনেত্রী অনুমোদন দিয়েছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, “দলের তরফে আমি অনুমতি চেয়েছিলাম। সসম্মানে চলে যেতে চাই। উনি (মমতা) বলেছেন ঠিক আছে।” রাজ্যের নতুন সরকার ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে আবেদনও করেন তিনি। রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বললেন, “নতুন সরকারের কাছে ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য। আমরা সকলের এখানে মানুষের জন্য রয়েছি। আমরা মানুষকে সহায়তা করব। মানুষের জন্য কাজ করব। আর যে সর্বতকৃষ্ট কাজ করবে, মানুষ তাঁকেই নির্বাচিত করবে। তাই শুভেচ্ছা দিয়ে আমি এই চেয়ার আজ খালি করলাম।”

    মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস পাঁচেক আগেই ইস্তফা

    ফিরহাদ কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে এই ওয়ার্ড থেকেই তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে ফিরহাদ পুরভোটে লড়েননি। ২০১৫ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব বিশ্বাস। ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর কলকাতার মেয়র হওয়ার পর ওই ওয়ার্ড থেকেই উপনির্বাচনে জিতে আসেন ফিরহাদ। ২০২১ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস পাঁচেক আগেই ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ। ফিরহাদের ইস্তফার সঙ্গেই ছোট লালবাড়িতে (কলকাতার পুরসভার লালরঙা ভবন) তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান হল বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগের আওতায় জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA)-এ যোগ দিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বুধবার (৪ জুন) একটি ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শেষ রাজ্য হিসেবে এই ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju), আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal) তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান (L. Murugan) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস (Rathindra Bose)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    দেশের ৩৩টি আইনসভা একই প্ল্যাটফর্মে

    সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্তির ফলে দেশের ৩৩টি আইনসভা প্রতিষ্ঠান এখন নেভা (NeVA) প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং ২৮টি রাজ্য ও দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পুদুচেরি—এই তিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা এবং উত্তরপ্রদেশের ছয়টি বিধান পরিষদও ইতিমধ্যে নেভা-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এদিন সমঝোতা স্মারকে কেন্দ্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ড. সত্য প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পক্ষে প্রধান সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস এবং রাজ্যের সংসদ বিষয়ক দফতরের বিশেষ সচিব সম্পা ধর।

    পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই প্রকল্পে যোগ দিতে অনীহা দেখিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মতো ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগেও অংশগ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো বৃহৎ আইনসভায় এখনও কাগজের মাধ্যমে ভোটাভুটি হত। কোনও ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা বা কার্যবিবরণীর লাইভ স্ট্রিমিং চালু ছিল না। পূর্ববর্তী সরকার এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এর ফলে রাজ্যের মানুষ আধুনিক ও স্বচ্ছ ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন।

    কী এই ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন?

    ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA) হল সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের একটি মিশন মোড প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য দেশের সব আইনসভার কার্যক্রমকে ডিজিটাল ও কাগজবিহীন করা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর, বিল, নোটিস, আশ্বাস, কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যতালিকা ও বুলেটিনসহ আইনসভার সমস্ত কাজ ডিজিটালভাবে পরিচালনা করা যায়। পাশাপাশি আইনসভার নথিপত্রের একটি স্থায়ী ডিজিটাল ভান্ডারও তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল আইনসভায় রূপান্তরের জন্য কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই উদ্যোগকে রাজ্যের প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।

     

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। বৈঠকে সঙ্গে ছিলেন জাহাজ মন্ত্রকের অন্যান্য আধিকারিকরাও। জানা গিয়েছে, রাজ্যের নতুন বন্দরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক। এ ছাড়াও রাজ্যের বর্তমান বন্দরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয় এই বৈঠকে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য সর্বাগ্রে প্রস্তুত ডাবল ইঞ্জিন সরকার, নবান্নে বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী।

    ৪৪টি নতুন জেটি

    শুভেন্দু জানিয়েছেন, ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে। তার অনুমোদন এত দিন ঝুলে ছিল। তবে সম্প্রতি ৪১টি জেটির জন্য সরকার অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হবে। কপিল মুনির আশ্রম এবং সাগর দ্বীপ নিয়ে সার্বিক ভাবে রাজ্য সরকারের যা অনুরোধ ছিল, কেন্দ্র তা মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরের মেলায় রূপান্তরিত করতে কেন্দ্রের সব রকম সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বলাগড়েও বন্দর যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজ এবং ভাঙন রোধের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। রাজ্যে পৃথক জাহাজ দফতর তৈরি করতে চায় শুভেন্দুর সরকার। কেন্দ্রের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যোগ্য আধিকারিকদের এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।

    মমতা সরকারের অপরিকল্পিত ভাবনা

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০২২ সালে আদানি গোষ্ঠীকে লেটার অফ ইন্টেন্ট দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপর দু বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কাজ না শুরু হওয়ায় রাজ্য সরকার টেন্ডার বাতিলের চিন্তাভাবনা শুরু করে। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদানি গোষ্ঠীকে দেওয়া লেটার অফ ইন্টেন্ট বাতিল করা হয়। যার নির্যাস, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প (Tajpur Deep Sea Port) বিশবাঁও জলে। ২০২৩ সালের বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করবে রাজ্য সরকার। টেন্ডার মূল্য প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা। এরপর তাজপুর নিয়ে আরও কোনও আলোচনাই হয়নি। রাজ্যের প্রস্তাবিত ওই প্রকল্প নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয় বুধবার অর্থাত্‍ ৩ জুন আদানি পোর্টের এমডি করণ আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মিটিংয়ের পর।

    কেন দাঁড়ায়নি প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায়,‘‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে মুল্যায়ন করতে গিয়ে দেখেছি, সরকারের হাতে কোনও জমিই ছিল না। আমি তখন বিরোধী দলনেতা হিসেবেও বারবার বলেছিলাম, তাজপুর বন্দরের প্রকল্প কখনও দাঁড়াবে না, যতদিন না রেল, জাতীয় সড়ক যোগাযোগ ও ওয়্যারহাউসের জন্য কয়েক হাজার একর জমি না পাওয়া যায়। ফাইনালি সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে আমাদের আধিকারিকরা যা মূল্যায়ন করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, ওখানে পোর্ট সম্ভবই নয়। কারণ রাজ্য সরকারের হাতে কোনও জায়গাই নেই। কিন্তু মানুষকে আমরা আশাহত করছি না, আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি, তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়, যেখানে নুনের পুরনো ফ্যাক্টরি ছিল, সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্য সরকারের হাতে রয়েছে। আমরা এবার এই জমি নিয়েই এগোবো। ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেভিনিউ শেয়ারিংয়েও আমরা রাজি আছি।’’

    ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) আরও জানান, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা। শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি রপ্তানি ব্যবসার জন্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প সাগরমালা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পূর্বতন সরকার ‘অনিচ্ছা এবং অপদার্থতার’ জন্য এই প্রকল্পের অংশ হয়নি। তার ফলে সাগরমালা ১ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। এবার কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে বাংলা সাগরমালা ২-এর অধীনে এল। তার ফলে রাজ্যে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাংলায় হবে বলেই আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর! কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর! কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি না থাকার ফলে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর (Tajpur Seaport) হওয়া সম্ভব নয়। বিকল্প হিসেবে দাদনপত্রবাড়ে হতে পারে গভীর সমুদ্রবন্দর। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, তাজপুরের প্রকল্পটি সম্পর্কে আদানিদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। ওই প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি রাজ্য সরকারের কাছে নেই। তাই তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়কে কেন্দ্র করে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে সরকার। সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্যের মালিকানাধীন। বন্দর, উপকূলবর্তী এলাকা এবং কলকাতার নদী সংলগ্ন এলাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে একটি বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর

    পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমল থেকেই শোনা গিয়েছিল তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি হবে। তার ফলে বদলে যাবে তাজপুরের চেহারা। বাড়বে কর্মসংস্থান। তবে সে প্রকল্প আজও বাস্তবায়িত হয়নি। রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর এই বিষয়ে নজর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার করণ আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বাস্তব সমস্যা উপলব্ধি করেই শিল্পের জন্য বিকল্প পথ খুঁজলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু বলেন, “তাজপুরে সরকারের কাছে জমি নেই। তাই সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর হওয়া সম্ভব নয়। তার পরিবর্তে তাজপুর থেকে ১০ কিমি দূরে দাদনপাত্রবাড়ে যেখানে নুনের পুরনো কারখানা ছিল সেখানে ১ হাজার ৭০০ একর জমি রয়েছে। ওই জায়গাটির কথা করণ আদানিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।” পরবর্তীকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান তিনি।

    কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা

    কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গেও তাজপুর নিয়ে কথা হয়ে গিয়েছে শুভেন্দুর। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। তিনি অনুমতি দিয়েছেন। তাজপুরের বদলে দাদনপত্রবাড়ে আমরা বাস্তবসম্মত ভাবে এগোব।’’

    ওয়াটার মেট্রো কলকাতায়

    রাজ্য সরকারের পালাবদলের পরই কলকাতার জলপথ পরিবহণে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ভাবনাচিন্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এবার কলকাতায় চালু হতে চলেছে ওয়াটার মেট্রো। এখনও পর্যন্ত দেশের মোট ১৭টি জায়গায় এই পরিষেবা চালু রয়েছে। ১৮ তম শহর হিসাবে যুক্ত হল তিলোত্তমার নাম। প্রথম পর্যায়ে গুয়াহাটি, শ্রীনগর, বারাণসী, অযোধ্যা, প্রয়াগরাজ, পাটনায় চালু হবে ওয়াটার মেট্রো। তেজপুর এবং ডিব্রুগড়েও চালু হওয়ার কথা ওয়াটার মেট্রো। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী বলেন, এবার কলকাতাতেও (Kolkata) চালু হবে ওয়াটার মেট্রো। বলে রাখা ভালো, নদী, খাল, হ্রদ বা জলপথ ব্যবহার করে একটি আধুনিক নৌযান হল ওয়াটার মেট্রো। এটি কলকাতা মেট্রোর মতোই সময় ধরে চলাচল করবে। কলকাতা ও হাওড়ায় রয়েছে হুগলি নদী। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই জলপথে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হলে উপকৃত হবেন বহু যাতায়াতকারী। যন্ত্রচালিত হওয়ায় অতি দ্রুত এক স্থান থেকে অন্যত্র যাতায়াতে সম্ভব। তাই স্বাভাবিকভাবে ওয়াটার মেট্রোর মাধ্যমে যাত্রীরা অতি দ্রুত নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে পারবেন। তার উপর আবার এই ওয়াটার মেট্রো পরিবেশবান্ধব। তার ফলে পরিবেশেরও কোনও ক্ষতি হবে না। ভাড়ায় মানুষের নাগালের মধ্যে। তাছাড়া পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই ওয়াটার মেট্রো যথেষ্ট আকর্ষণীয়। তাই ওয়াটার মেট্রো চালু হলে কলকাতাবাসী যে যথেষ্ট উপকৃত হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

    সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা

    কেন্দ্রের ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সাগরমালা ১ প্রকল্পে আগের সরকার যুক্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু ‘সাগরমালা ২’ আবার শুরু হচ্ছে। আমরা তাতে যুক্ত হব। এই প্রকল্পের একটি প্রস্তাবনা আমরা প্রস্তুত করব। পাঁচ বছরের জন্য ২২৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব তৈরি করা হবে। তাতে বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূল অঞ্চলে মাছ ধরার পরিকাঠামো, সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, নয়াচর, খেজুরি থেকে শুরু করে ওড়িশার সীমান্ত পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের কষ্ট দূর করতে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হবে।’’

    কলকাতার সমস্ত ঘাটের সৌন্দর্যায়ন

    কলকাতা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। শহরের সমস্ত ঘাটের সৌন্দর্যায়ন এবং পুনর্নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, বাগবাজার ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, আহিরিটোলা ঘাট, মল্লিকঘাট, বাবুঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাট, বান্দা ঘাট নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দু’টি ঘাটের সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ। বাকিগুলির কাজও দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। দুর্গাপুজোর মধ্যেই ঘাটগুলির নবীকরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এবং মা সারদাদেবীর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যকে এই ঘাটগুলির সৌন্দর্যায়নে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

    কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট

    শহরে জমি জবরদখল এবং বিপজ্জনক বাড়িতে বসতি নিয়েও নবান্নের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, পুরসভাকে এই সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদি তাঁরা জমি দেন, সরকার আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেণিকে ঘর বানিয়ে দেবে। এ ছাড়া, কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট, তোলাবাজি রুখতে এ বার থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, পুলিশ, সিআইএসএফ, কাস্টম্‌স এবং গোয়েন্দা বিভাগ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

     

     

     

  • Krishna Chakraborty: বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদের অবসান, পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী

    Krishna Chakraborty: বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদের অবসান, পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে বিধাননগর পুরনিগমের (Bidhannagar Municipal Corporation) মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ তৃণমূল নেত্রী কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty)। ৪ জুন বৃহস্পতিবার, সল্টলেকের পুর ভবনে পুরকমিশনার রবি আগরওয়ালের কাছে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। একইসঙ্গে এই ইস্তফাপত্রের অনুলিপি পুরনগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকেও পাঠানো হয়েছে। ছোট লালা বাড়ির পর তৃণমূলের এবার হাত ছাড়া বিধাননগর পুরসভা।

    ইস্তফার কারণ ও তাঁর বক্তব্য (Krishna Chakraborty)

    যদিও মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী নিজে থেকে পদত্যাগের কারণ নিয়ে তেমন মন্তব্য করেননি। ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণকেই জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের যে যে বিষয় উঠে এসেছে তা হল-

    • ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty) জানান, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। কারও প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ বা অভিমান নেই।
    • পৌরপরিষেবায় ধারাবাহিকতা: মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেও গত ১৬ বছরের মতো আগামীদিনেও তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।
    • কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: বিধাননগরের (Bidhannagar Municipal Corporation) নাগরিকদের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও ভালোবাসার জন্য তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিদায়বেলায় তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

    কার্যকালের মেয়াদ

    ২০১৯ সাল থেকে দু’দফায় বিধাননগরের (Bidhannagar Municipal Corporation)  মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty)। বর্তমান বোর্ডে মেয়র হিসেবে তাঁর আরও প্রায় আট মাসের মেয়াদ বাকি ছিল।

    প্রশাসনিক প্রভাব

    রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বিধাননগর পুরনিগমের (Bidhannagar Municipal Corporation) প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তার ওপর সম্প্রতি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমেরও পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এই ইস্তফা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পর পুরনিগমগুলির রাশ ধরে রাখা শাসকদলের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছিল। কৃষ্ণা চক্রবর্তীর এই পদত্যাগ সেই ধারাবাহিক প্রশাসনিক সংকটেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশের মানুষ।

  • FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিতর্কিত মন্তব্য গুরুত্ব পেল না পদ্মাপাড়েই। উল্টে ফের মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পদ থেকে সরতেই কীভাবে দেশের অন্দরের তথ্য ফাঁস করলেন মমতা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের ভরা সভা থেকে নাম না করে বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেন মমতা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছুঁড়ে দেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

    কেন অভিযোগ দায়ের

    আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। হাদির হত্যাকারীরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এলে দুজনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের এসটিএফ। এরপর এই নিয়ে ২ জুনের ভরা সভা থেকে মমতা নাম উল্লেখ না করলেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ইঙ্গিত করেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা জড়িত তিনি জানেন। নাম জড়ান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই রিঙ্কি শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে করার প্রয়াস

    রিঙ্কি বলেন, “উনি মুখ্য়মন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যাই কথা হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন। পদে আসার সময় শপথ নিয়েছিলেন যে উনি কোনওদিন দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। যেই না পদ চলে গেছে অমনি উনি মৌলবাদীদের উস্কে দিলেন।” আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা যে উক্তি করেছেন তা সাংঘাতিক। বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা। এর ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বাড়বে।

    মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

    • ● ১৫২- দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)
    • ● ১৫৩-দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো
    • ● ১৫৩ এ- ধর্ম, জাতি, ভাষা, বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, হিংসা, বা ঘৃণা ছড়ানো
    • ● ১৯১ ও ১৯২ ধারা- দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা
    • ● ১৯৬ ধারা-ধর্ম,বর্ণ,ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং জনসম্প্রীতি বিনষ্ট করলে
    • ● ৩৫১- কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা
    • ● ৩৫২-ইচ্ছাকৃত ভাবে শান্তি ভঙ্গ করার উদ্দেশ্য

    পাত্তা দিল না বাংলাদেশ

    তবে, বাংলাদেশের মূলধারা রাজনৈতিক দলগুলি তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখায়নি। কোন দলই পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (West Bengal Ex CM) বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপি (BNP) সরকারিভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও সে দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সদ্য নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। একজন ব্যক্তি বিশেষের কথা নিয়ে সরকারের‌ তরফে প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত হবে না।

    কী বলেছেন মমতা

    মঙ্গলবার ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। হোম মিনিস্টার তখন আমাকে ফোন করে বলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যেন দেশের স্বার্থে এই ব্যাপারে মুখ না খোলে। তিনি আরও বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।’ তৃণমূল নেত্রীর ওই মন্তব্যের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশের ইসলামিক ঐক্য জোটের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দিন দুপুরে তাঁকে খুন করা হয়। তারই হত্যাকারীদের ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে অনেকেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ বলে ধরে নিচ্ছেন। হোম মিনিস্টার বলতে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি অমিত শাহের নাম মুখে আনেননি। ‌ উল্লেখ করেননি হাদির নামও।

    মমতার মন্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত

    মঙ্গলবার ধর্মতলার কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তাদের নাম যদি বলি তাহলে বাংলাদেশের তোলপাড় হবে। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকের মতে, মমতার কথায় বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। বাস্তবে সে‌ দেশের শাসক-বিরোধী কোনও দলই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর বিএনপি নেতৃত্ব একান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রে শাসকদল বিজেপিকে নিশানা করতে এই মন্তব্য করেছেন। বিএনপির এক বর্ষীয়ান নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সেখানে বিজেপি সরকার গড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার কোন মন্তব্য নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চায় না বিএনপি। ওই নেতার কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে একটি দেশ-বিরোধী পদক্ষেপ। ভারতের রাজনীতির এই অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে, তাই বিএনপি মাথা গলাতে আগ্রহী নয়। হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে আবেদন জানিয়ে রেখেছে। দুই দেশ যৌথভাবে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে।

  • BDO Shanu Bakshi: ফলতার জাহাঙ্গিরের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠতা, একাধিক বিতর্কের পর বিডিও পদ থেকে অপসারিত শানু বক্সী

    BDO Shanu Bakshi: ফলতার জাহাঙ্গিরের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠতা, একাধিক বিতর্কের পর বিডিও পদ থেকে অপসারিত শানু বক্সী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিশেষ নির্দেশিকায় ডায়মন্ড হারবার ২ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বিডিও (BDO Post) শানু বক্সীকে (BDO Shanu Bakshi) তাঁর বর্তমান পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে। অপসারিত নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বিডিও রঞ্জন সর্দারও। একাধিক প্রশাসনিক বিতর্ক এবং স্থানীয় স্তরে জনবিক্ষোভের জেরে অবশেষে রাজ্য সরকার এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

    নতুন পোস্টিং ও বর্তমান অবস্থান (Shanu Bakshi)

    • ● পদাবনতি ও নতুন দায়িত্ব: বিডিও পদ (BDO Post) থেকে সরিয়ে শানু বক্সীকে (Shanu Bakshi) তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে ‘গেজেটিয়ার্স’ (Gazetteers) অফিসের ওএসডি (Officer on Special Duty) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
    • ● প্রশাসনিক বার্তা: নবান্ন সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধারাবাহিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শানুর পাশাপাশি নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বিডিও রঞ্জন সর্দারকেও স্টেট গেজেটিয়ার্স দফতরের ওএসডি পদে পাঠানো হয়েছে একই নির্দেশিকয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন গার্গী দাস।

    অপসারণের পটভূমি ও মূল বিতর্কসমূহ

    শানু বক্সীর (Shanu Bakshi) কার্যকালে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় একাধিক সংঘাত ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, যা এই অপসারণের পিছনে প্রধান কারণ বলে করেছেন ওয়াকিবহাল মহল। এই কারণগুলি হল–

    জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সংঘাত

    স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানদের একাংশের সঙ্গে তাঁর তীব্র প্রশাসনিক মতবিরোধ তৈরি হয়। পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের অভিযোগ ছিল, বিডিও জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে একক সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন।

    উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা

    এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে উদাসীনতার অভিযোগ ওঠে তাঁর (BDO Post) বিরুদ্ধে।

    দলীয় ক্ষোভ ও বিক্ষোভ

    গত বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও তাঁর অপসারণের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

    প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ

    তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সমস্ত রকম অনৈতিক এবং অবৈধ কাজের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগিতা করতেন শানু বক্সী (Shanu Bakshi)। তাই সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি কাজের গতি বজায় রাখতে এবং স্থানীয় স্তরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভ প্রশমন করতেই রাজ্য সরকারের এই জরুরি বদলির সিদ্ধান্ত।

  • Maa Aahar: ‘মা ক্যান্টিন’ এবার থেকে ‘মা আহার’, সপ্তাহে ২ দিন মিলবে মাছ-ভাত, ঘোষণা দিলীপের

    Maa Aahar: ‘মা ক্যান্টিন’ এবার থেকে ‘মা আহার’, সপ্তাহে ২ দিন মিলবে মাছ-ভাত, ঘোষণা দিলীপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর মানুষের পুষ্টি সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সুলভ মূল্যের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য প্রকল্প ‘মা ক্যান্টিন’-এর পরিকাঠামো ও খাদ্যতালিকায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। উল্লেক্য মা আহার (Maa Aahaar) নামে এই পরিষেবা দেওয়া হবে। মিলবে মাছ (Fish Meal), ডিম ও সবজি ভাতের ব্যবস্থাও।

    নামকরণ ও পরিধি সম্প্রসারণ (Maa Aahaar)

    • ● নতুন নামকরণ: প্রকল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সর্বজনীন করতে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar)।
    • ● কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি: পূর্বে রাজ্যজুড়ে মোট ৩৯০টি কেন্দ্র পরিচালিত হতো। বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী এক ধাক্কায় আরও ১১০টি নতুন কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট ‘মা আহার’ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫০০-তে।

     মেনুতে পুষ্টির ছোঁয়া ও বৈচিত্র্য

    সাধারণ মানুষের প্রোটিন ও পুষ্টির চাহিদার কথা বিবেচনা করে খাবারের তালিকায় বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে পেটভরা মধ্যাহ্নভোজনের এই নতুন মেনু সাজানো হয়েছে নিম্নোক্তভাবে:

    • ● সপ্তাহে ২ দিন: ডিম-ভাত।
    • ● সপ্তাহে ২ দিন: মাছ-ভাত (Fish Meal) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে।
    • ● বাকি দিনগুলো: সম্পূর্ণ নিরামিষ, তবে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান।

    মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা যৌথভাবে ঘোষণা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

    রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ধারাবাহিকতা

    পূর্বতন সরকারের আমলে ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৫ টাকায় ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম দেওয়া হতো। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার আশ্বস্ত করেছিল যে, জনকল্যাণমুখী কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না; বরং সেগুলির পরিধি আরও বিস্তার করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক ও পুষ্টিকর করে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar) রূপে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে। বুধবারের ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে একদিকে যেমন রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সীমান্ত সুরক্ষার মতো কঠোর প্রশাসনিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই নবান্নের পক্ষ থেকে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা (Fish Meal) সুনিশ্চিত করার এই মানবিক বার্তাও দেওয়া হলো।

LinkedIn
Share