Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Election Commission: তৃণমূল পার্টি অফিসে ক্যারাম খেলার মাশুল! কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড ৩ সিআরপিএফ জওয়ান

    Election Commission: তৃণমূল পার্টি অফিসে ক্যারাম খেলার মাশুল! কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড ৩ সিআরপিএফ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্তব্যে গাফিলতি এবং নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগে তিন সিআরপিএফ জওয়ানকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, রাজ্যে শাসকদল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই জওয়ানেরা ক্যারম খেলছিলেন। ভোটমুখী বাংলায় (West Bengal Assembly Election 2026) কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে যখন টানাপড়েন চলছে, ঠিক তখনই বীরভূমের এই ছবি ঘিরে দানা বাঁধল নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি এমনই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। উল্লেখ্য, এর আগে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) নিমতিতাতেও এক তৃণমূল নেতার (TMC Iftar) ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সাতজন বিএসএফ জওয়ান। তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন।

    ভাইরাল ভিডিওয় কী ছবি

    সূত্রের খবর, শনিবার বীরভূমের এক এলাকায় টহল দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কিন্তু ডিউটি চলাকালীন আচমকাই তিন জওয়ান ঢুকে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি স্থানীয় কার্যালয়ে। সেখানে বসে থাকা কর্মীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি শুরু হয় জোরদার ক্যারাম খেলা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে সেই খেলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একেবারে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ঢুকে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে ক্যারাম খেলছেন দুজন জাওয়ান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরিহিত একজন পাশেই একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন। কোনও দিকে মন না দিয়ে ক্যারামে ফোকাস করেছেন সকলেই। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকাকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানেরা কীভাবে শাসকদলের কার্যালয়ে ঢুকে আড্ডা জমালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

    কমিশনের কড়া বার্তা

    বিজেপির তরফে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। কমিশন সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্ত ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের পর ওই তিন জওয়ানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে আর কোনও ডিউটিতে থাকতে পারবেন না এই তিন জওয়ান। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন ‘উদাসীন’ ও ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণে ক্ষুব্ধ কমিশনের কর্তারা।এর আগেও বিএসএফ-এর কয়েকজন জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই ঘটনা থেকে যে কোনও শিক্ষাই নেওয়া হয়নি, বীরভূমের ঘটনা তারই প্রমাণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভাবমূর্তি যাতে কোনওভাবেই কালিমালিপ্ত না হয়, সে বিষয়ে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

  • West Bengal Assembly Election: এপ্রিলের শুরুতেই আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্র’, কী কী থাকতে পারে?

    West Bengal Assembly Election: এপ্রিলের শুরুতেই আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্র’, কী কী থাকতে পারে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জন্য তৈরি নির্বাচনী (West Bengal Assembly Election) সঙ্কল্পপত্র এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ করতে চলেছে বিজেপি (BJP)। নবান্নের ১৪ তলায় বিজেপি এলে কী কী করতে চায়, তা বিশদে ঘোষণা করা হবে ইস্তাহারে, যার পোশাকি নাম সঙ্কল্পপত্র। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, ওই সঙ্কল্পপত্রে সাতটি মূল বিষয়কে তুলে ধরা হচ্ছে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে। সঙ্কল্পপত্র প্রকাশের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনকালে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে বিজেপি। এবার করা হবে সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ। এই সঙ্কল্পপত্রে কী কী থাকতে পারে, তার একটা আভাস মিলেছে।

    দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ (West Bengal Assembly Election)

    • ক) গত ১৫ বছরে তৃণমূলের অপশাসন ও দুর্নীতির বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। শেষ করা হবে মাফিয়া-শাসন। কয়লা, বালি, পাথরের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের অবাধ লুটও বন্ধ করা হবে।
    • খ) পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যকে দুষ্কর করে তুলেছে যে সব মাফিয়া সিন্ডিকেট, তাদের প্রতি নেওয়া হবে জিরো টলারেন্স নীতি।
    • গ) তৃণমূল সরকারের ভ্রান্ত সংরক্ষণ নীতি বদলানো হবে। অবৈধভাবে যেসব সম্প্রদায়কে সংরক্ষণের বাইরে রাখা হয়েছে, তাদের সংরক্ষণের আওতায় আনা হবে।
    • ঘ) ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে মাসে দেওয়া হবে ৩,০০০ টাকা করে।
    • ঙ) ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় মাসে ৩,০০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে বেকার যুবক-যুবতীদের।
    • চ) ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হবে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ।
    • ছ) রাজ্য সরকারের সব শূন্য পদ পূরণ করা হবে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে (West Bengal Assembly Election)।
    • জ) বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ওপরে বেকারদের নির্ভরতা কমাতে এমন কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে এবং নীতি প্রণয়ন করা হবে, যা নতুন সংস্থা এবং সুযোগ তৈরি করবে।
    • ঝ) প্রত্যেক বছর রাজ্যের নানা প্রান্তে মোট চারটি করে ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগ করতে শিবির করা হবে।
    • ঞ) সেনাবাহিনীতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট তৈরির বিষয়ে সক্রিয় হবে বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার।
    • ট) ‘রামসর কনভেনশন’ মেনে রাজ্যের জলাভূমি এবং বনভূমি রক্ষা করা হবে।

    মহিলা সুরক্ষায় জোর

    • ক) মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে করা হবে সব রকমের পদক্ষেপ। পুলিশের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি, ফাস্ট ট্র্যাক আদালতগুলিকে সক্রিয় করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
    • খ) সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করে বন্ধ করা হবে অনুপ্রবেশ।
    • গ) জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গকে করা হবে জেহাদি-মুক্ত (West Bengal Assembly Election)।
    • ঘ) পাহাড়ে ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’ করা হবে।
    • ঙ) সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে।

    আসবে উন্নয়নের জোয়ার

    অগ্রাধিকার দেওয়া হবে উন্নয়নকেই।

    • ক) ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলেই পশ্চিমবঙ্গে বানানো হবে গভীর সমুদ্রবন্দর।
    • খ) দামোদর, রায়ডাক, ভাগীরথীর মতো নদ-নদী এবং গঙ্গাসাগরে সেতু তৈরি করে আন্তঃজেলা যাতায়াতের গতি বাড়ানো হবে।
    • গ) সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পাহাড় পর্যন্ত গোটা রাজ্যকে জাতীয় সড়কের মাধ্যমে জোড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই দূরত্ব যাতে সাত-আট ঘণ্টায় অতিক্রম করা যায়, তার জন্য তৈরি করা হবে উন্নত সড়ক পরিকাঠামো।
    • ঘ) উত্তরবঙ্গে উন্নতি করা হবে কৃষি, শিল্প এবং পর্যটনের (BJP)।
    • ঙ) মালদা এবং বালুরঘাটের বিমানবন্দরগুলি থেকে যাত্রী পরিবহণ শুরুর ব্যবস্থা করা হবে।
    • চ) জমিজটের গেরো কাটিয়ে রেল প্রকল্পগুলিকে ত্বরান্বিত করা হবে।
    • ছ) বিধানচন্দ্র রায়ের পরম্পরাকে সম্মান জানিয়ে রাজ্যে চারটি নতুন নগরী তৈরি করা হবে।
    • জ) শহরাঞ্চলে বস্তিবাসীদের জীবন যাতে ভালোভাবে কাটে, সেজন্য পরিকাঠামো বাড়ানো হবে বস্তি এলাকায়।

    সঙ্কল্পপত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে রাজ্যেই কাজের ব্যবস্থা করার। জীবন-জীবিকার তাগিদে যাঁরা ভিন রাজ্যে কাজে যান, তাঁদের যাতে ফের যেতে না হয়, তার ব্যবস্থা করা হবে।

    উন্নত গ্রামীণ অর্থনীতির পোক্ত ভিত

    উন্নত করা হবে গ্রামীণ অর্থনীতির ভিতও।

    • ক) কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে।
    • খ) সীমান্ত এলাকায় এমন কিছু বাজার তৈরি করা হবে, যাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দু’পারের মানুষই উপকৃত হন।
    • গ) কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়টিও মাথায় রাখা হবে।
    • ঘ) ধানচাষিরা যাতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা হবে। ফসল কেনাবেচায় দালালরাজ নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ করা হবে।
    • ঙ) আলুচাষিদের স্বার্থরক্ষার্থে পদক্ষেপ করা হবে।
    • চ) আইসিএআরের আলু গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গে একই রকমের সংস্থা তৈরি করা হবে। এটি রাজ্যের আলুচাষিদের কাজে লাগবে।
    • ছ) পশুপালন ও রেশম চাষ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া হবে।
    • জ) রাজ্যে হিমঘরের সংখ্যা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে (West Bengal Assembly Election)।
    • ঝ) মৎস্যচাষ ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থরক্ষা এবং উপার্জন বৃদ্ধির লক্ষ্যেও গুচ্ছের পদক্ষেপ করা হবে।

    রাজ্যে শিল্পের ভবিষ্যৎ

    সঙ্কল্পপত্রে থাকতে পারে শিল্পের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণের কথাও।

    • ক) সিঙ্গুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করার লক্ষ্যে স্থানীয় জমি মালিকদের অনুমতি নিয়ে ১,০০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
    • খ) রাজ্যে উন্নত পরিকাঠামো সম্বলিত চারটি বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করা হবে।
    • গ) খনি-সহ যে কোনও শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশ বিধি কঠোরভাবে মেনে চলা হবে (BJP)।
    • ঘ) রাজ্যের বিজেপি সরকার দুর্গাপুর এবং বার্নপুরে ইস্পাত কারখানার উন্নয়নে সক্রিয় হবে।
    • ঙ) আসানসোল, দুর্গাপুর, ব্যারাকপুর, হাওড়া এবং তারাতলার শিল্পতালুকগুলির পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
    • চ) চা এবং পাট শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটানো হবে।
    • ছ) প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা হবে। ইছাপুর গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি এবং গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স যাতে জাতীয় গুরুত্বের প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে, তার জন্য সবরকম চেষ্টা করা হবে।
    • জ) পশ্চিমবঙ্গে একটি সংহত সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা আবার ফেরানো হবে (West Bengal Assembly Election)।
    • ঝ) মহিলা ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি বাসে নিখরচায় যাতায়াতের বন্দোবস্ত হবে।
    • ঞ) কলকাতা-হাওড়া, বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং শিলিগুড়িতে ‘লজিস্টিক হাব’ তৈরি করা হবে।
    • ট) বিড়ি শ্রমিক উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে বিড়ি শ্রমিকদের উন্নয়ন করা হবে।
    • ঠ) বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো গৌরব ফেরাতে সচেষ্ট হবে বিজেপি সরকার। সিনে-জগতের ওপরে মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণ শেষ করে ছবির নির্মাতা, অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের উপহার দেওয়া হবে সৃজনশীলতার আবহ।
    • ড) পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি জগতকে রাজনীতিমুক্ত করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

    শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন

    সঙ্কল্পপত্রে শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

    • ক) পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাদীক্ষার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা হবে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষকের অভাব, নিম্নমানের পরিকাঠামো এবং জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের ছবি বদলে দেওয়া হবে।
    • খ) বামেদের দ্বারা হওয়া অতি রাজনৈতিকীকরণ এবং তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত কার্যকলাপের জেরে পশ্চিমবঙ্গে উচ্চশিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করায় ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হবে।
    • গ) পশ্চিমবঙ্গে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০’ কার্যকর করা হবে।
    • ঘ) স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সব শূন্যপদ পূরণ করা হবে।
    • ঙ) উত্তরবঙ্গে আইআইটি এবং আইআইএম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে (West Bengal Assembly Election)।
    • চ) রাজ্যে আরও একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে।
    • ছ) মেডিক্যাল পড়ার সুযোগ বাড়ানো হবে। সেজন্য কয়েকটি জেলা হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজ করে তোলা হবে।
    • জ) বাল্যবিবাহ রুখতে তৈরি হবে প্রশাসনিক বন্দোবস্ত।

    স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

    উন্নয়ন হবে স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতেরও (BJP)।

    • ক) প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যায় চিকিৎসক ও নার্স রাখা নিশ্চিত করা হবে। সুনিশ্চিত করা হবে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশের।
    • খ) স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে ২৪ ঘণ্টার পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে।
    • গ) রাজ্যে এমন স্বাস্থ্যনীতির প্রবর্তন করা হবে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় জোর দেবে।
    • ঘ) বিজেপি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করা হবে, যাতে বঙ্গবাসী ভারতের যে কোনও প্রান্তের হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসার সুযোগ পান।
    • ঙ) বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা হবে।

    উল্লেখ্য যে, এই সঙ্কল্পপত্র কবে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনের আলো দেখবে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে এপ্রিলের শুরুতেই কোনও একটি দিনে এটি প্রকাশ করা হতে পারে বলে একটি অসমর্থিত সূত্রের খবর।

    প্রসঙ্গত, এই ‘সঙ্কল্পপত্র’ তৈরি করতে বিশিষ্ট নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ নিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। নিজেদের রাজ্য দফতরে এবং প্রতিটি জেলায় ‘ড্রপ বক্স’ বসিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও লিখিত পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। সব ধরনের পরামর্শ দেখে এবং বিবেচনা করেই এই ‘সঙ্কল্পপত্র’ তৈরি করা হয়েছে বলেই দাবি পদ্ম-নেতৃত্বের (West Bengal Assembly Election)।

     

  • Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৮ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত পর্যন্ত ৪২ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে। আর ২০ লক্ষের মতো ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সেগুলি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এবার থেকে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করা হবে, বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেইমতো রবিবার কমিশন চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ করে। এদিন ২ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    ১৮ লক্ষের নাম বাদ

    গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়েছিল। এরপর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেইসময় ৫৮ লক্ষের নাম বাদ যায়। এর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে আরও সাড়ে ৫ লক্ষের মতো নাম বাদ যায়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন তালিকা রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে জুডিশিয়াল অফিসাররা বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখছে। গত ২৩ মার্চ প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ হয়। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ১৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে ধরলে এখনও পর্যন্ত ৮১ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। এখনও ১৮ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া বাকি। শেষপর্যন্ত কত নাম বাদ পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

    ট্রাইবুনালে আবেদন

    কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। জানা গিয়েছে, কলকাতাতেই ট্রাইবুনালের অফিস হচ্ছে। জেলা থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের জন্য কলকাতা আসার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে আবেদন জানানোর জন্য, https://voters.eci.gov.in/ ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। অফলাইনে জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে ফর্ম ফিলাম করে আবেদন জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কিন্তু ট্রাইবুনাল কবে কাজ শুরু করবে, স্পষ্ট করেনি হাইকোর্ট। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯।

  • Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে ফের পুলিশের একাধিক পদে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। রবিবার জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ১৭৩টি থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) ও ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ (আইসি) বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশের আওতাধীন ৩১টি থানাও রয়েছে। কমিশনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। এই বদলির তালিকায় রয়েছে কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পাশাপাশি কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই সব জেলার একাধিক থানার ওসি ও আইসি-দেরও সরানো হয়েছে।

    ভবানীপুর থানার নতুন ওসি

    কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এ কর্মরত সৌমিত্র বসু ভবানীপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। নির্বাচনের আগে এই ধরনের রদবদল যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের। সেই প্রেক্ষিতে ভোটের আগে এই থানার আইসি বদলি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    কলকাতায় বহু থানার ওসি বদল

    এছাড়াও কলকাতার আলিপুর, ইকবালপুর, হরিদেবপুর, এন্টালি, জোড়াসাঁকো, গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, বউবাজার, টালিগঞ্জ, অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট, তারাতলা ও বেহালা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন ওসি নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে, আরজি কর-কাণ্ডের সময় টালা থানর ওসি ছিলেন অভিজিৎ মণ্ডল। তাঁকে উত্তর কলকাতার মানিকতলা থানার ওসি করেছিল কমিশন। তবে, নোটিস জারির পরে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত ভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া অভিজিৎ মানিকতলা থানায় যোগদান করছেন না। তিনি পর্ণশ্রী থানাতেই আগের দায়িত্বে বহাল থাকবেন। মানিকতলা থানার ওসি করা হচ্ছে নিরূপম নাথকে।

    জেলাতেও বিপুল সংখ্যক আইসি বদলি

    জেলা স্তরেও একাধিক বদলি হয়েছে। দেবদুলাল মণ্ডল হালদিয়ার আইসি, কাজল দত্ত কোলাঘাটের দায়িত্বে, সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় এগরার আইসি এবং চন্দ্রকান্ত শাসমল পটাশপুরের ওসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শুধু পুলিশ নয়, প্রশাসনিক স্তরেও বদল এনেছে কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুরে নন্দীগ্রাম–১ ও নন্দীগ্রাম–২ সহ মোট ১৪ জন বিডিওকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভব্রত নাথকে। এর আগে তিনি চন্দননগর থানায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি, খেজুরি, চণ্ডীপুর, হলদিয়া, কোলাঘাট, তমলুক, এগরা ও পটাশপুর-সহ একাধিক থানার ওসি পদেও রবিবার বদল আনা হয়েছে। অন্যদিকে, শীতলকুচি থানার ওসি করা হয়েছে অভিষেক লামাকে, যিনি আগে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় এসআই পদে ছিলেন। এছাড়াও দিনহাটা, মাথাভাঙা, গোকসাডাঙা, রায়গঞ্জ, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, করণদিঘি, চোপড়া ও ইসলামপুর-সহ একাধিক থানার ওসি বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পিন্টু মুখোপাধ্যায়কে দার্জিলিঙের ডিআইবি পদে পাঠানো হয়েছে।

    কী বলছে কমিশন?

    দেখা যাচ্ছে, একই জেলায় যাঁরা দীর্ঘদিব ধরে রয়েছেন, মূলত সেইসব পুলিস আধিকারিকদেরও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আবার সাইবার সেল, ট্রাফিক বা পুলিসে বিশেষ শাখার কর্মরত অফিসারদের থানায় দায়িত্বে আনা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ভোটের সময় স্থানীয় প্রভাব কমানো। এর আগে কমিশন ১৮টি জেলায় ৮৩ জন বিডিও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকেও বদলি করেছিল। এদিকে, নির্বাচন ঘিরে এই ধরনের প্রশাসনিক বদলি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, এই বদলিগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নতুন করে পুলিশে এই রদবদল হওয়ায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

  • West Bengal Assembly Election: “একটাই রাস্তা বাকি…”, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে কোন দিশা দেখালেন অমিত শাহ?

    West Bengal Assembly Election: “একটাই রাস্তা বাকি…”, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে কোন দিশা দেখালেন অমিত শাহ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের বিরুদ্ধে (West Bengal Assembly Election) ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির হেভিওয়েট নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসন নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়েছে এই চার্জশিটের মাধ্যমে। মোট ৩৫ পাতার ওই চার্জশিটে তুলে ধরা হয়েছে মমতা জমানায় ওঠা একাধিক অভিযোগের কথা। তৃণমূলকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘আদিবাসী, মহিলা রাষ্ট্রপতিকে কীভাবে আপনারা অপমান করতে পারেন? দেশের প্রধানমন্ত্রীকে কীভাবে অপমান করতে পারেন?’’

    হা-শিল্প দশা প্রসঙ্গে শাহের বক্তব্য (West Bengal Assembly Election) 

    বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে নানা সময় অভিযোগ করেছে তৃণমূল। নিউটাউনের হোটেল থেকে সেই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন শাহ। বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে যাঁরা ঢোকেন, তাঁরাও বাংলা বলেন। এ রাজ্যের কাউকে চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু আমাদের দৃঢ় সঙ্কল্প, অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে দেশ থেকে বের করবই।’’ রাজ্যের হা-শিল্প দশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কাটমানি, সিন্ডিকেট, দুর্নীতির কারণে এ রাজ্যে শিল্প অন্ধকারে। তাই এখানে চাকরি নেই। কম রোজগার, অল্প বেতনের চাকরির কারণও সেই অনুপ্রবেশ।’’ বঙ্গে মহিলাদের সুরক্ষা নেই বলেই অভিযোগ বিরোধীদের (West Bengal Assembly Election)। বঙ্গ-ললনাদের রাত আটটার পরে বাড়ি থেকে না বেরনোর পরামর্শও দিয়েছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে। কে অপরাধ করছে, সেটা দেখা হয় না। আমাদের শাসন আছে, এমন সব রাজ্যেই এটা আমরা করে দেখিয়েছি। মহিলারা যাতে নিজেদের কথা নিজেরাই বলতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করবে বিজেপি সরকার (Amit Shah)।’’

    বদলি প্রসঙ্গে কী বললেন শাহ

    নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হওয়ার পরেই রদবদল করা হয়েছে প্রশাসনের আধিকারিকদের। এনিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। সে প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘সারা দেশেই ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন অফিসারদের বদলি করে। এটা নতুন কিছু নয়। এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) সব আধিকারিক সরকারের হয়ে কাজ করেন। তাই এখানে বেশি পরিবর্তন হচ্ছে। অফিসারদের পরিবর্তন হয়েছে বলেই এ বার রামনবমীতে এই রাজ্যে হিংসা কম হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘১৫ বছরে (তৃণমূল জমানায়) কাটমানির সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকার। আমি বিশ্বাস করি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। তাই আমাদের ভোট দেবেন। তৃণমূল সরকারকে সমূলে উৎখাত করুন।’’ শাহ এও বলেন, ‘‘আজকের বাংলা কবিগুরুর বাংলা আর নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাঙালি অস্মিতাকে পাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

    প্রসঙ্গ যখন অনুপ্রবেশকারী

    অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, মমতাজির সরকার কি ঘুমোচ্ছে? প্রশ্ন তুলবেন, বিএসএফ কী করছে? বিএসএফ তখনই কিছু করতে পারবে, যখন আপনি সীমান্তে বেড়া লাগাতে দেবেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন‍্য প্রয়োজনীয় জমি কেন্দ্রকে দেবে এ রাজ্যের বিজেপি সরকার।’’ তিনি বলেন, “মমতা যা খুশি অভিযোগ আনতে পারেন, তবে অনুপ্রবেশকারীদের আমরা দেশ থেকে বের করবই।” তৃণমূল সুপ্রিমো ‘ভিক্টিম কার্ডে’র রাজনীতি করেন (West Bengal Assembly Election) বলে অভিযোগ শাহের। তাঁর দাবি, ভোট এলেই মমতা পা ভেঙে ফেলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনও না কোনও অসুস্থতা দেখিয়ে জনগণের সহানুভূতি চান। এ বার আর তা হবে না।” এ রাজ্যে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শাহ। তিনি বলেন, ‘‘অনেক বছর পরে বাংলা বিহার ওড়িশায় (অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ) একই দলের সরকার হতে চলেছে।’’

    ভয় থেকে মুক্তির ভোট

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ভয় থেকে মুক্তির ভোট বলে অভিহিত করেন শাহ। বলেন, ‘‘এই ভোট প্রাণনাশের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, স্বাধীনতা চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, জনবিন‍্যাস পরিবর্তনের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, রোজগার চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট। একগুচ্ছ ভরসার পক্ষে দাঁড়ানোর ভোট (Amit Shah)।’’ চার্জশিট প্রকাশ করতে গিয়ে রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকার কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেন শাহ। বলেন, ‘‘বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গোটা পশ্চিমবঙ্গ সফর করে বাংলার বেহাল দশার কথা জনতার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।’’ তাঁর দাবি, এবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি।

    একটাই রাস্তা বাকি, বললেন শাহ

    বঙ্গের নির্বাচনের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। এখন একটাই রাস্তা বাকি অনুপ্রবেশের (West Bengal Assembly Election)। তাই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন গোটা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে দেশের সুরক্ষা জড়িত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলের যে অরাজকতা এবং অপশাসন, তার কী সমাধান, তা-ও বলব। আগে চার্জশিট প্রকাশ করা হল। এর পরে আমরা জানাব যে, আমরা (Amit Shah) এর অবসানের জন‍্য কী করব।’’ প্রসঙ্গত, শুক্রবার গভীর রাতে ঝটিকা সফরে কলকাতায় এসেছেন শাহ। উঠেছেন নিউ টাউনের একটি হোটেলে। আজ, শনিবারই ফিরে যাওয়ার কথা তাঁর (West Bengal Assembly Election)।

     

  • Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন (Assembly Elections 2026)। ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে নিচু স্তরের কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে কমিশনের। সূত্রের খবর, গত নির্বাচনের সময় যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল সেগুলির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসডিপিও-দেরও। পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি দিয়েছে কমিশন। এসডিপিও-দের নিজের কর্মক্ষেত্রের পাশের মহকুমা ও জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই ভোট যেন হয় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ।

    এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশিকা

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরের তরফে কড়া নির্দেশিকা, আগেরবারের ভোটের (Assembly Elections 2026) সময় দায়ের হওয়া সমস্ত ফৌজদারি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। সমস্ত জামিন-অযোগ্য ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে হবে। কোনও ওয়ারেন্ট ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এছাড়া, থানায় থানায় সমস্ত ঘোষিত ‘পলাতক’ ও ‘ওয়ান্টেড’ আসামিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের তরফে সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতে যে সব জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বিক্ষোভ বা গোলমালের ইতিহাস রয়েছে সেখানে বিশেষ পদক্ষেপ করতে হবে। কারা সম্ভাব্য গোলমালকারী, তাও চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

    অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করতে হবে

    নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের এলাকা চিহ্নিত করে, সেখানে সারাক্ষণ টহল ও পিকেটিং চালাতে হবে। দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধীরা থাকতে পারে এমন সন্দেহজনক হোটেল, বার, ধর্মশালা ইত্যাদি জায়গায় নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে। নির্বাচনী অপরাধ বা আইনশৃঙ্খলার ঘটনার খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লুক আউট নোটিস জারি করতে হবে পুলিশকে।

    আন্তঃজেলাভিত্তিক নাকা চেকিং

    আন্তঃজেলাভিত্তিক বেআইনি কার্যকলাপ, বিশেষ করে অবৈধ মদের কারবারের তথ্য দুই জেলার পুলিশদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেইসঙ্গে আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে দিনরাত নাকা চেকিং চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে, সীমান্তবর্তী সমস্ত রাস্তা, একাধিক লিঙ্ক রোড ও কাঁচা রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে নজরদারি জারি রাখতে হবে, নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। থানায় থানায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, নাকা পয়েন্টে গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি জোরদার করতে হবে। নাকায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা সচল আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

    রাজনৈতিক সভায় নজরদারি

    রাজনৈতিক দলের সভা-জমায়েতও নজর রাখতে বলা হয়েছে। প্রার্থী, সভা, রোড শো, পথসভা ইত্যাদির নিরাপত্তা নিয়মিত খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটের প্রচারে আসা হুমকির মুখে থাকা ভিআইপি বা নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন আধিকারিকদের সফরেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে।

    কমিশনের নিয়ন্ত্রণে

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) স্পষ্ট বার্তা, ভোটের সময় সকল সরকারি কর্মচারী কমিশনের অধীনে কাজ করেন। তাঁরা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন। কমিশনের বার্তা, এই নির্দেশ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। যদি কেউ নিজের কাজ ঠিক ভাবে না করেন, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। শুধু ভোটের দিনেই নয়, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতেও সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। গণনা পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে ও প্রয়োজনে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে হবে কমিশনের কাছে।

    বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো

    ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা হয়েছে একাধিক নির্দেশ। প্রচারের উত্তাপে জমে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। ঠিক এই আবহেই ভোট প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও নিরপেক্ষ রাখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। বুথে পাঁচ মিনিট ক্যামেরা বন্ধ থাকলে রিপোল হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। সেই মর্মেই এবার বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

    বিশেষ পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব

    কমিশন সূত্রে খবর, সাধারণ নির্বাচন হোক বা উপনির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব থাকবে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের উপর। বিশেষ করে স্পর্শকাতর ও অশান্তি প্রবণ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। বুথভিত্তিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোটের দিন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে হবে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা অভিযোগের খবর মিললেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাও পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

     

     

     

     

  • Ram Navami Clash: রামনবমী শোভাযাত্রাকে ঘিরে রণক্ষেত্র জঙ্গিপুর, ছোড়া হল ইট-পাটকেল, দোকানে আগুন

    Ram Navami Clash: রামনবমী শোভাযাত্রাকে ঘিরে রণক্ষেত্র জঙ্গিপুর, ছোড়া হল ইট-পাটকেল, দোকানে আগুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামনবমীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে ফের ব্যাপক অশান্তি (Ram Navami Clash) তৃণমূল শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। গত বছর অশান্তির আঁচ ছড়িয়েছিল হাওড়া এবং হুগলির কয়েকটি পকেটে। এবার শহর এবং শহরতলিতে তেমন কোনও অশান্তি না হলেও, হিংসার আগুনে জ্বলে উঠল মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জঙ্গিপুর। শোভাযাত্রায় পাথরবৃষ্টি, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রঘুনাথগঞ্জ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা অনুযায়ী জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ (RAF)।

    তপ্ত জঙ্গিপুর (Ram Navami Clash)

    পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেল ৩টে নাগাদ রঘুনাথগঞ্জের জঙ্গিপুর পুরসভার ম্যাকেঞ্জি পার্কে রামনবমীর শোভাযাত্রা পৌঁছলে, শুরু হয় গোলমাল।  অভিযোগ, শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। তা নিয়েই আপত্তি তোলে এক পক্ষ। এর পরেই শুরু হয় দুপক্ষে বচসা। মুহূর্তের মধ্য়েই সংঘর্ষের রূপ নেয় বচসা। সেখান থেকে হাতাহাতি এবং ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি। খানিক পরে থামে অশান্তি। এগোতে থাকে শোভাযাত্রা। সিসাতলা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ফের একপ্রস্ত সংঘর্ষ হয়। উত্তেজনা চরমে ওঠে শোভাযাত্রা ফুলতলা মোড় এলাকায় পৌঁছলে। অভিযোগ, সেখানে প্রায় ২০০ দুষ্কৃতী শোভাযাত্রা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এর পরেই উত্তেজিত জনতা এলাকার কয়েকটি ফলের দোকানে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়।  খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছন মুর্শিদাবাদের ডিআইজি অজিত সিং যাদব। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় রুট মার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। বেশ কিছু দোকান এবং সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। চলছে ধরপাকড়ও।”

    বিজেপির বক্তব্য

    বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুবল চন্দ্র ঘোষ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই (Ram Navami Clash)।”  জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, “ফুলতলা মোড়ে আমি উপস্থিত ছিলাম। এই জাতীয় ঘটনা কাঙ্খিত নয়। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করব প্রশাসনকে।” এদিনের সংঘর্ষে ১০জন জখম হয়েছেন বলে দাবি বিজেপির। দলের রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, “তৃণমূলের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের দশজন কর্মকর্তা জখম হয়েছে। তৃণমূল হারছে জেনেই এই হামলার ছক কষা হয়। এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা করছে (Murshidabad)।”

    কী বললেন সুকান্ত মজুমদার

    বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজেপির সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘জঙ্গিপুরে এবার হয়তো এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে হাওড়ায় ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়, রামের অনুসারী লোকেদের বাদ দিয়ে…যেখানে রাবণ অনুসারী বা…এর পিছনে পুরোটা তৃণমূলের মদত আছে। যদি খোঁজা যায় তাহলে দেখা যাবে যারা ঢিল মারছে, তারা হয় তৃণমূলের নেতা, না হয় তৃণমূলের সমর্থক বা ভোটার। তার (Ram Navami Clash) বাইরে কাউকে খুঁজে পাবেন না।” গত বছর এপ্রিলে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদের সময় মুর্শিদাবাদেরই জাফরবাদ এলাকায় দুই ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। সেই ঘটনার জেরে সেই সময়ও অশান্ত হয়েছিল ‘নবাবের দেশ’। মুর্শিদাবাদবাসীর সেই দগদগে স্মৃতি এখনও ফিকে হয়ে যায়নি। তার মধ্যেই ফের একবার ঘটে গেল ব্যাপক অশান্তি। প্রসঙ্গত, হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি (Murshidabad)।

    রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা হয়েছে আগেও

    গত বছর এবং তার আগের বছরেও রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেবার অবশ্য অশান্তির আগুন জ্বলেছিল হাওড়া এবং হুগলির বিভিন্ন এলাকায়। সেবার বড় ধরনের কোনও অশান্তির খবর ছিল না মুর্শিদাবাদে।  এবার রাজ্যের অন্য কোথাও তেমন কোনও ঘটনা না ঘটলেও, অশান্তি ছড়িয়েছিল মুর্শিদাবাদে। ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে ঘিরে অশান্তির জেরে সেবার খুন হতে হয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই মৃৎশিল্পীকে। অশান্তির জেরে জেলা ছেড়ে রাতের অন্ধকারে নদী পার হয়ে মালদায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের হিন্দুদের একাংশ। সেই ঘটনার পর উত্তেজনা খানিক থিতু হলেও, ফের একবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল বঙ্গে (Murshidabad)। এবং সেটাও আবার সেই মুর্শিদাবাদেই (Ram Navami Clash)।

     

  • Assembly Election 2026: কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ! রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব কমিশনের

    Assembly Election 2026: কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ! রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরোক্ষে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি নকশালবাড়িতে জনসভা করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই সভার একটি বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনিয়ে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দিল্লি থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

    অভিযোগ, গত ২৫ মার্চ দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির নন্দপ্রসাদ গার্লস’ হাই স্কুলের মাঠে একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সভায় তিনি সিআরপিএফ জওয়ানদের উদ্দেশে পরোক্ষ ভাবে হুঁশিয়ারি দেন এবং মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলেন। প্রয়োজনে গৃহস্থালির রান্নার সামগ্রী ব্যবহার করার কথাও উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে, সিআরপিএফ জওয়ানেরা যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন, তবে তাঁরা আইনি জটিলতা বা ফৌজদারি অভিযোগের মুখে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, ওই মন্তব‍্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব

    উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দুপুরে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী শঙ্কর মালাকারের সমর্থনে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মা-বোনেদের ভোটকেন্দ্র পাহারার দায়িত্ব দেন তিনি। যত ক্ষণ না ইভিএম গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যাচ্ছে তত ক্ষণ হাতা-খুন্তি নিয়ে সেখানে পাহারা দেওয়ার কথাও বলেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার আশঙ্কা, ভোট লুট হতে পারে, কেউ ভয় দেখাতে পারে। তাই মা-বোনেদের কেউ ভয় দেখাতে এলে রান্না ঘরের নানা সামগ্রী নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলেছেন তিনি। এনিয়ে বিরোধীদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যেহেতু এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে বলা হয়েছে, বাহিনীর জওয়ানরা কোনও সংঘাতের পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিশন। সেই কারণে কমিশন ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। এই রিপোর্ট গেলেই বোঝা যাবে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়।

  • Amit Shah in Bengal: ঝেঁপে বৃষ্টি সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া, দুর্যোগের মধ্যে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমান

    Amit Shah in Bengal: ঝেঁপে বৃষ্টি সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া, দুর্যোগের মধ্যে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্যোগের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। খারাপ আবহাওয়া, দুর্যোগের কারণে বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা, মাঝ আকাশেই চক্কর খেতে হল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। দীর্ঘক্ষণ আকাশে পাক দেওয়ার পর অবশেষে রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে অমিত শাহের (Amit Shah in Bengal) চার্টার্ড বিমান। বঙ্গ সফরে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর চার্জশিট প্রকাশ করার কথা। এর আগে বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে কর্মসূচি সেরে কলকাতায় ফিরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমানও ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়েছিল।

    ৪৫ মিনিট মাঝ আকাশে চক্কর

    শুক্রবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ কলকাতায় শাহের বিমান অবতরণ করার কথা ছিল, তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে দেরি হচ্ছিল। রাত ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ কলকাতায় আসে বিমান, কিন্তু লাগাতার প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে অবতরণ করা যাচ্ছিল না। জানা গিয়েছে, মধ্যরাতে যখন কলকাতায় তুমুল ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে, সেই সময় ঠাকুরনগরের আকাশে চক্কর খায় অমিত শাহের বিমান। ঠাকুরনগরের কাছ থেকে ভীমপুরের আকাশে এক পাক ঘোরে বিমানটি। এরপর সেখান থেকে ধুবুলিয়ার দিকে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে বেথুয়াডহরির আকাশেও চক্কর খেতে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমানকে। অবশেষে রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিমানটি অবতরণ করে। দুর্যোগের কারণে প্রায় ৪৫ মিনিট মাঝ আকাশে চক্কর খায় বিমানটি।

    কেন সমস্যা হচ্ছিল

    সাধারণত বিএসএফের বিমানে যাতায়াত করেন শাহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে শুক্রবার তিনি সেই বিমানে আসেননি। এসেছেন ছোট আকারের একটি বেসরকারি বিমানে। সেই কারণেই দুর্যোগে তা অবতরণ করাতে সমস্যায় পড়েছিলেন পাইলটেরা। শাহের সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। বিমানবন্দরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বরা।

    রাতেই ঝেঁপে বৃষ্টি, বিপর্যস্ত শহর

    দিনভর গুমোট গরমের পর রাতেই ঝেঁপে বৃষ্টি (Rain in Kolkata) নেমেছিল কলকাতা ও শহরতলিতে। সঙ্গে ছিল অনবরত মেঘের গর্জন। ঝড়ও ওঠে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর রাতে ছয় জেলায় লাল সতর্কতা জারি করে। সেই তালিকায় কলকাতাও ছিল। লাল সতর্কতা জারি করা হয় হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। শুক্রবার রাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে বেহালা, গড়িয়া, বরানগর, যাদবপুর, কালিকাপুর, নিউ টাউন, কালিন্দিতে। ডানকুনি, শ্যামনগরের মতো এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। ডানলপ, সিঁথির মতো এলাকায় বজ্রপাতের সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার শোঁ শোঁ শব্দও শোনা গিয়েছে। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর সামনে উত্তম কুমার সরণিতে একটি গাড়ির উপরে গাছ পড়ে যায়। শুক্র বার রাতে গল্ফগ্রিনেও গাছ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ঝড়বৃষ্টির জেরে এন্টালিতে একটি পাঁচিল ভেঙে গিয়েছে।

  • 2nd Supplementary Voter List: ১২ লক্ষ বিবেচনাধীনের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    2nd Supplementary Voter List: ১২ লক্ষ বিবেচনাধীনের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭ মার্চ গভীর রাতে, প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ এসআইআর-এর দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (2nd Supplementary Voter List) প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। আগের বারের মতো এবারও কতজন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার প্রথম তালিকায় প্রায় ১০ লক্ষ ভোটার, যারা বিবেচনাধীন ছিলেন, তাদের তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। গতকাল প্রকাশিত তালিকায় আরও ১২ লক্ষ বিবেচনাধীনের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে।

    দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। ৬৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল। আরও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিবেচনাধীন ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারপতিদের নিয়োগ করা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই দুই দফায় বিবেচনাধীন তালিকার অর্ধেকেরও বেশি নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (2nd Supplementary Voter List) থেকেই প্রায় ১০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। দুই তালিকা মিলিয়ে মোট প্রায় ২২ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম প্রকাশ হল। এখনও ২৩ লক্ষ ভোটারের নামের নিষ্পত্তি বাকি।

    শুক্রবার সন্ধ্যাতেই সিইও মনোজ আগরওয়াল (Election Commission) জানিয়েছিলেন, বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিচারকেরা যা তথ্য দিয়েছেন, তা ‘প্রসেস’ করে প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। সেক্ষেত্রে ঘণ্টা পাঁচেক সময় লেগে যেতে পারে বলে আগেই আভাস দিয়েছিলেন। সেই মতো, মধ্যরাতের কিছু আগে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর আগে, ২৩ মার্চ প্রথমে জানানো হয়েছিল রাত ৯টার মধ্যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (2nd Supplementary Voter List) প্রকাশ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গিয়ে সেই তালিকা প্রকাশিত হয় প্রায় রাত পৌনে ১২টা নাগাদ। প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় কত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সেখান থেকে কত জন ভোটার যোগ হয়েছেন, তা জানায়নি কমিশন। তবে জানা যাচ্ছে, দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৭৬ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে।

    কোথায়, কীভাবে নিজেদের নাম দেখবেন ভোটাররা?

    ভোটাররা সহজেই নিজেদের নাম যাচাই করতে পারেন নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ওয়েবসাইটে গিয়ে। এর জন্য voters.eci.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে। চাইলে সরাসরি নির্দিষ্ট লিঙ্কে গিয়ে ভোটার তালিকা ডাউনলোডের পাতাতেও পৌঁছে যাওয়া যায়। পাশাপাশি, জেলাশাসকের দফতর, এসডিও বা এডিএম অফিসে গিয়েও তালিকা দেখা সম্ভব। এছাড়া প্রতিটি বুথেও তালিকা টাঙিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। ওয়েবসাইটে (ECI Voter Portal) ঢোকার পর রাজ্যের নাম, তালিকা সংশোধনের বছর, রোলের ধরন, জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং ভাষা নির্বাচন করে ক্যাপচা পূরণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট তালিকা (2nd Supplementary Voter List) স্ক্রিনে দেখা যাবে। সেখান থেকে নিজের বুথ নির্বাচন করে ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করলে পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড হয়ে যাবে। নিজের নাম খুঁজতে ‘রোল টাইপ’ থেকে ‘Adjudication Supplementary List No. 2’ অপশনটি বেছে নিতে হবে। যদি সেখানে নাম না পাওয়া যায়, তবে ‘Adjudication Deleted List No. 2’-এ খুঁজে দেখা যেতে পারে।

    নাম বাদ গেলে কত তারিখের মধ্যে আবেদন করতে হবে?

    যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তারা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক-বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল (Voter List Appeal Tribunal) তৈরি করা হয়েছে। আবেদন করা যাবে অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই। অনলাইনে ইসিআই নেট অ্যাপ (ECI NET) বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে আবেদন করা যাবে। অন্যদিকে, অফলাইনে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরেও আবেদন করা সম্ভব। উল্লেখ্য, ২৩ মার্চ প্রকাশিত তালিকায় যাদের নাম ‘ডিলিটেড’ (2nd Supplementary Voter List) তালিকায় রয়েছে, তারা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। আর ২৭ মার্চের তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১১ এপ্রিল।

LinkedIn
Share