Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • ED: রবি-সকালে ইডির হানা কলকাতা পুলিশ কর্তার বাড়িতে

    ED: রবি-সকালে ইডির হানা কলকাতা পুলিশ কর্তার বাড়িতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন হওয়ার কথা ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। তার আগে রবিবার সাতসকালে ইডির (ED) হানা কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (Kolkata Police DC) শান্তনু সিং বিশ্বাসের বাড়িতে। বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে এই পুলিশ কর্তার বাড়িতে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। তার পরেই শুরু হয় তল্লাশি। সূত্রের খবর, বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর মামলার জেরে ইডির এই অভিযান। এই শান্তনু একসময় কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন। রবিবার সকালে বেহালার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হানা দেন ইডির আধিকারিকরা।

    খোদ ডিসির বাড়িতেই অভিযান (ED) 

    বালিগঞ্জে অশান্তির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে প্রকাশ্যে আসতে এবং ‘লাইভ’ করতে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনায় এর আগেও এক আইপিএস আধিকারিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। আর এবার খোদ ডিসির বাড়িতেই চালানো হল তল্লাশি অভিযান। জানা গিয়েছে, বেহালায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতে এদিন হানা দিয়েছে ইডি। স্থানীয়দের দাবি, তিনি মূলত প্রোমোটিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সূত্রেই জয়ের নাম উঠে এসেছিল। বেশ কিছু নগদ অর্থ বেহালার এই বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই ব্যবসায়ীকে দু’বার তলবও করেছিল ইডি। কিন্তু দু’বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। তার পর ফের রবিবার তাঁর বাড়িতে অভিযান তদন্তকারীদের (ED)।

    বেহালায় ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তদন্ত ইডির আধিকারিকদের

    এদিন ভোরেই সিজিও কমপ্লেক্স থেকে রওনা দেয় ইডির একাধিক দল। সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বেহালায় ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। অভিযোগ, বার বার ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও বাড়ির দরজা খুলছিলেন না কেউ (Kolkata Police DC)। অনেকক্ষণ পরে দরজা খোলা হয়, এবং ইডি ঘরে ঢোকে। বালিগঞ্জেও ভোরেই পৌঁছে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থার আধিকারিকরা। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে দু’দফায় ভোট হবে। ফল প্রকাশ হবে ৪ মে। নির্বাচনী প্রচার বন্ধ হওয়ার আগেই জোরকদমে প্রচার করছে রাজনৈতিক দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মামলায় খাস কলকাতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইডি।

    প্রসঙ্গত, বেআইনি নির্মাণ মামলায় শুক্রবার শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। দিন কয়েক আগে নিয়োগ কেলেঙ্কারি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও হানা দিয়েছিল তারা (Kolkata Police DC)। রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর (ED)।

     

  • West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ যখন স্বাধীন হয়, সেই ১৯৪৭ সালেও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ছিল এই উপমহাদেশের অর্থনীতির ভরকেন্দ্র। তার পর থেকে যতই গড়িয়েছে (Twenty Fourth State) সময়ের জল, ততই একটু একটু করে পতনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মাথাপিছু আয়কে মানদণ্ড ধরে যদি ভারতের রাজ্যগুলিকে ক্রমানুসারে সাজানো হয় এবং সাত দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলেই বেরিয়ে আসবে ঝুলি থেকে বেড়াল। ১৯৬০-৬১ সালে, স্বাধীনতা যখন নিতান্তই শিশু, ভারত নামক দেশটি যখন সবেমাত্র একটু একটু করে গুছিয়ে উঠছিল, তখনও ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে ছিল বাংলা। সেই সোনার বাংলার আগে ছিল মাত্রই দুটি রাজ্য- এক, পাঞ্জাব ও দুই মহারাষ্ট্র।

    ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফল! (West Bengal)

    ভারতের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাই পরবর্তীকালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নয়া সংজ্ঞা দিয়েছিল। এহেন সোনার বাংলায় রাজ করে প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামফ্রন্ট এবং বর্তমানে তৃণমূল। এই ‘ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফলে ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ সমীক্ষায় দেখা যায় দেশটি চব্বিশতম স্থানে নেমে এসেছে। বঙ্গ নামক এই অঙ্গরাজ্যটির পতন ক্রমান্বয়িক ছিল না,  এমন কোনও সামান্য হ্রাসও ছিল না যা সামান্য আপেক্ষিক পতনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি আদতে ছিল কাঠামোগত, ক্রমবর্ধমান এবং সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপযোগ্য। মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ থেকে কমে হয় ৮৩.৭ শতাংশ। এটি কেবল গরিব রাজ্যগুলির এগিয়ে আসার গল্প নয়। এটি আসলে এমন একটি রাজ্যের গল্প, যা একসময় এগিয়ে থাকলেও, ধীরে ধীরে তার পেছনে থাকা ওড়িশা, তেলঙ্গনা এবং কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলির মতো ক্রমেই পিছিয়ে পড়তে থাকে। এই রাজ্যগুলি এখন জাতীয় গড়ের সমান বা তার চেয়েও বেশি এগিয়ে গিয়েছে, অথচ বাংলার পতন অব্যাহত রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়, যা একসময় জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৭.৫ শতাংশ বেশি ছিল, গত ছ’দশকে তা কমে ১৬.৩ শতাংশ নীচে নেমে এসেছে। বঙ্গের শুরুর দিকের অবস্থানটিই তার এই গতিপথকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ১৯৪৭ সালে, যখন রক্ত-কালি দিয়ে বাংলার সীমানা নতুন করে আঁকা হচ্ছিল, তখনও এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রভূমি। কলকাতা ছিল ব্রিটিশ রাজের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসন, ব্যাঙ্কিং এবং বাণিজ্যের এক মহানগরী। শহর কলকাতা থেকে উত্তরে বিস্তৃত হুগলি শিল্পাঞ্চল ছিল এই অঞ্চলের উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি—এক শতাব্দীর ঔপনিবেশিক বিনিয়োগে গড়ে ওঠা বিদ্যুৎ, ইস্পাত, পাট, কাগজ এবং রাসায়নিকের এক কেন্দ্রীভূত ভৌগোলিক এলাকা। ১৯৫১ সালে, যখন স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারি হয়, তখন বাংলায় ১,৪৯৩টি নথিভুক্ত কারখানা ছিল। এই সংখ্যাটি মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের সম্মিলিত কারখানার সংখ্যার চেয়েও বেশি।

    বাংলার অবদান

    ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশই ছিল এই বঙ্গের অবদান। এগুলি কোনও তাত্ত্বিক সুবিধা বা পরিকল্পিত সম্ভাবনা নয়, এটি আদতে ছিল চলমান, বাস্তব এবং কার্যকর সক্ষমতা, যেখানে নিরন্তর শোনা যেত শিল্প-কারখানার যন্ত্রের ঘরঘরানি শব্দ। ভোরের সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানার গেটে শ্রমিকদের ব্যস্ততা উঠত তুঙ্গে। শিল্প-কারখানার যন্ত্রের মতো আবর্তিত হচ্ছিল পুঁজিও। মুনাফা বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা নিচ্ছিলেন একের পর এক নয়া শিল্প-কারখানা স্থাপনের   সিদ্ধান্ত। বাংলার এই উত্তরাধিকারের কী হল, সেটাই আমাদের পরবর্তী আলোচনার বিষয়। একে ‘বেঙ্গল কার্ভ’ বলা যেতেই পারে। কারণ এটি কোনও একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা বা কোনও একটি সরকারের ভুল পদক্ষেপের ফল বলে মনে হয় না (West Bengal)। এটি সাত দশক ধরে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসন কালে নেওয়া ক্রমবর্ধমান কাঠামোগত সিদ্ধান্তের ফল, যার প্রতিটিই নিজস্ব সীমাবদ্ধতার স্তরকে যুক্ত করেছে এবং রাজ্যটিকে তার আগের অবস্থার চেয়ে দুর্বল করে রেখে গিয়েছে। এর হিসেব নির্মম। সর্বভারতীয় গড়ের তুলনায় এক দশকের দুর্বল পারফরম্যান্সের অর্থ হল অর্থনৈতিক গুরুত্বের এমন এক ক্ষতি, যাকে পুনরুদ্ধার করাই যায়। দু’দশক ধরে চলতে থাকলেও, পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, এটি একটি কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাত দশক ধরে চলতে থাকলেও, এটি ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রকেই নতুন করে লিখে দিয়েছিল বলেই মনে হয়।

    সঙ্কটে পাটশিল্প

    ১৯৪৭–১৯৭৭ বাংলার পতনের প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল নির্বাচনের ফল বা আদর্শগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়, বরং ভূগোল এবং দেশভাগের ধারালো ছুরির মাধ্যমে। যখন নয়া ভারতের সীমানা নির্ধারণ করা হল, তখন পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেল যার অর্থনৈতিক ভিত্তি কার্যত করুণ হয়ে গিয়েছিল। হুগলির কলকারখানাগুলিকে সচল রাখতে পাট আসত পূর্ববঙ্গের জেলাগুলি থেকে, যে অংশগুলি এখন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। স্রেফ একটিমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিল্পপুঞ্জ তার প্রধান কাঁচামালের জোগান হারাল (Twenty Fourth State)। পাটশিল্প, যা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছিল এবং বাংলার সমৃদ্ধি এনেছিল, পরবর্তী তিন দশক ধরে সেটাই এমন এক ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল যা তার অস্তিত্বকে আর সমর্থন করে না (West Bengal)। কলকারখানাগুলি থাকলেও, আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় তারা ক্রমশ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে লাগল এবং পুরানো শিল্পপুঞ্জগুলির অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ করতে লাগল। তবে, কাঁচামাল সরবরাহের এই ব্যাঘাত ছিল কেবল শুরু। ব্রিটিশ ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোটি কলকাতাকে কেন্দ্র করে একটি ঔপনিবেশিক শোষণ যন্ত্র হিসেবেই পরিকল্পিত হয়েছিল। রেলপথ, বন্দর, আর্থিক পরিকাঠামো—সবকিছুই সাম্রাজ্যের শোষণমূলক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বাংলা থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

    বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    যখন সেই সাম্রাজ্যের পতন ঘটল, তখন টিকে রইল কেবল কেন্দ্রাভিমুখী কাঠামোটি। অচিরেই সেটিও উধাও হয়ে গেল। স্বাধীনতার প্রথম বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা জাতীয় বণ্টনের দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক মনে হলেও, বাংলার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তা বিপর্যয়কর বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মালবাহী ভাড়া সমতাকরণ নীতি। এই নীতি অনুযায়ী দূরত্ব বা স্থানীয় সুবিধা নির্বিশেষে সারাদেশে একই মালবাহী ভাড়া ধার্য করার একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণকে উৎসাহিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী ঔপনিবেশিক কেন্দ্রগুলিতে শিল্পের কেন্দ্রীভবন রোধ করা। এটি ঠিক সেই লক্ষ্যই অর্জন করেছিল — কিন্তু তা করতে গিয়ে এটি বাংলাকে তার অবশিষ্ট কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার একটি থেকে বঞ্চিত করে, সেটি হল কাঁচামাল, বিদ্যুৎ এবং বন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্য। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার পুনর্বণ্টন করেছিল  তার করের ভাগ। ১৯৫০-এর শুরুর দিকে বিধানচন্দ্র রায় এবং জওহরলাল নেহরুর মধ্যে হওয়া পত্রালাপ এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন বিসি রায়। তাঁর আশা ছিল, দেশের প্রধান শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে তাদের অবদান অনুযায়ী তারা করের ভাগের একটা বড় অংশ পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, আয়কর ভাগে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ক্রমাগত কমেছে, প্রথমদিকে প্রায় ২০ শতাংশ থেকে ছ’য়ের দশকে সেটি নেমে আসে ১২ শতাংশে (West Bengal)।

    শরণার্থী সঙ্কট

    বস্তুত, এটি এমন একটি নয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করে, যেখানে রাজ্য সম্পদ উৎপাদন করলেও তার অনুপাতে কম অর্থ ফিরে পায়। পরিকাঠামো, শিক্ষা এবং শিল্পোন্নয়নের জন্য যে অর্থ ফেরত আসার কথা ছিল, তা দেশের অন্যান্য রাজ্যে শিল্পের ভিত্তি গড়তে ব্যবহার করা হয়। দেশভাগের ফলে শরণার্থী সঙ্কট এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ পূর্ববঙ্গ থেকে আসে পশ্চিমবঙ্গে, যা (Twenty Fourth State) আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসন। এদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত ও দক্ষ হলেও তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিপুল চাপ তৈরি হয়। শিল্পের জন্য নির্ধারিত জমি আবাসনের কাজে ব্যবহার করতে হয়। মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায়। ছ’য়ের দশকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়। এই সময়ের পরিসংখ্যান সংকোচনের গল্প বলে। ১৯৪৭ সালে ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ছিল ২৭ শতাংশ, ১৯৬০-৬১ সালে এটিই কমে দাঁড়ায় ১৭.২ শতাংশে। রাজ্যের জিডিপি অংশও কমে ১০.৫ শতাংশ থেকে হয় ৯.৭ শতাংশ। মাথাপিছু আয়, যা আগে জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ ছিল, কমে দাঁড়ায় ১১৪ শতাংশে।

    বাম জমানায়ও অব্যাহত পতন

    ১৯৭৭ সালে রাজ্যের কুর্সি দখল করে বামফ্রন্ট। তারা ক্ষমতায় আসার পরেও এই পতন থামেনি, বরং আরও দ্রুত হয়েছে। শিল্পের অংশ কমে দাঁড়ায় ১৩.৫ শতাংশ এবং জিডিপির অংশ ৯.৭ শতাংশ। এই প্রবণতা ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে স্থায়ী রূপ পায় (West Bengal)। ১৯৭৮ সালের শিল্পনীতি বড় পুঁজিকে নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। “ঘেরাও” আন্দোলন—যেখানে শ্রমিকরা মালিকদের ঘিরে রেখে দাবি আদায় করত—অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মদত জোগানো হত সরকারিভাবে। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গ একটি ঝুঁকিপূর্ণ লগ্নিস্থল।পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালে ধর্মঘট হয় ১৭৯টি। ১৯৭০-এ এটি বেড়ে হয় ৬৭৮টি। লকআউটও বাড়ে। ২০০১–২০০৬ সালে ধর্মঘট কমলেও, লকআউট বেড়ে দাঁড়ায় ২২৬৬-এ। ২০০৮ সালে দেশের মোট নষ্ট হওয়া কর্মদিবসের ৮৫.৬ শতাংশ একাই পশ্চিমবঙ্গের। এই পর্বে বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। শিল্পে বিনিয়োগ কমতে থাকে। ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ ২০০৭-০৮ সালে সপ্তম স্থানে নেমে যায়।

    শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি

    কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে হয় ৬৪ শতাংশ। অথচ গুজরাটে এই হার ১৩৫ শতাংশ এবং তামিলনাড়ুতে ২৩৩ শতাংশ। উৎপাদন খরচও বেশি হয়। ভূমি সংস্কার কিছুটা সাফল্য আনলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা ধোপে টেকেনি। ২০০৬ সালে ৪১.৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়ে। শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি (Twenty Fourth State)। ২০১০-১১ সালে রাজ্যের ঋণ রাজস্বের ৩৯৬ শতাংশ হয়, যা সবচেয়ে বেশি। পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। শুরুতে বিনিয়োগবান্ধব অবস্থান নেওয়া হলেও, পরিকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়নি। রাজ্যের জিডিপির অংশ ২০১১-১২ সালে ৬.৭ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৫.৬ শতাংশে নেমে আসে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থান থেকে ২৪তম স্থানে নেমে যায় পশ্চিমবঙ্গ। এখন তার পরিমাণ জাতীয় গড়ের ৮৩.৭ শতাংশ। কমে গিয়েছে বৃদ্ধির হারও। ২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯.৯১ শতাংশ। অথচ, এই পর্বে রকেটের গতিতে এগোতে থাকে (West Bengal) বিহার, তেলঙ্গনা এবং  ওড়িশা।

    “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ

    বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পতন একটি দীর্ঘমেয়াদি “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ। প্রতি বছর একটু একটু করে পিছিয়ে পড়তে থাকা এই রাজ্য কয়েক দশকে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি করে। একসময় ভারতের ২৭ শতাংশ শিল্প উৎপাদনকারী রাজ্য এখন প্রায় ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয়ে তৃতীয় থেকে ২৪তম স্থানে পতন ঘটেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কেবলমাত্র অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়—এটি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষমতার সংকোচন (Twenty Fourth State)।

     

  • Suvendu Adhikari: ভুয়ো প্রেস কার্ড দিয়ে ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের বুথে ঢোকানোর ছক তৃণমূল, আইপ্যাকের! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ভুয়ো প্রেস কার্ড দিয়ে ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের বুথে ঢোকানোর ছক তৃণমূল, আইপ্যাকের! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, ভোটকেন্দ্রে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তৃণমূল কর্মীদের হাতে সুপরিকল্পিতভাবে ‘ভুয়ো’ প্রেস কার্ড বা সাংবাদিক পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে।

    বাহিনীর নজর এড়িয়ে স্পর্শকাতর বুথে ঢুকবে আইপ্যাক (Suvendu Adhikari)

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে দাবি করেছেন, “আইপ্যাক (I-PAC) সুসংগঠিতভাবে এমন ব্যক্তিদের সাংবাদিকের পরিচয়পত্র দিচ্ছে যারা প্রকৃতপক্ষে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত নন।” তাঁর আশঙ্কা, এই ‘ছদ্মবেশী সাংবাদিকরা’ প্রেস কার্ডের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজর এড়িয়ে বুথ এবং স্পর্শকাতর প্রশাসনিক দফতরে প্রবেশ করবে। সেখানে গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার মতো বেআইনি পরিকল্পনা রয়েছে শাসকদলের। তিনি একে তৃণমূলের একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল বা ‘প্লে-বুক স্ট্র্যাটেজি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    পরিচয়পত্র পুনরায় যাচাই

    এই বিষয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ECI) দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন। নতুন পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিকদের গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো উচিত বলে দাবি করেছেন। শুধুমাত্র স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদেরই ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র পুনরায় যাচাই বা ‘সেকেন্ডারি ভেরিফিকেশন’-এর (I-PAC) ব্যবস্থা করার কথাও বলেন।

    শাসকদলের ওপর বাড়তি চাপ

    ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ‘ভুয়ো প্রেস কার্ড’ ইস্যু রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের অন্যতম শীর্ষকর্তা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি (I-PAC) এবং সংস্থার অন্যান্য আধিকারিকদের ইডি-র তলব নিয়ে ইতিমধ্যেই চাপানউতোর চলছে। এই আবহে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন এই অভিযোগ শাসকদলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • Bengal Assembly Polls 2026: বিধাননগরের নতুন পুলিশ কমিশনার নিযুক্ত হলেন ত্রিপুরারি অথর্ব, ভোটের মুখে আবার বড় রদবদল

    Bengal Assembly Polls 2026: বিধাননগরের নতুন পুলিশ কমিশনার নিযুক্ত হলেন ত্রিপুরারি অথর্ব, ভোটের মুখে আবার বড় রদবদল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Assembly Polls 2026) প্রাক্কালে প্রশাসনিক রদবদলে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পদ থেকে মুরলীধরকে সরিয়ে সেই স্থলাভিষিক্ত করা হল প্রবীণ আইপিএস আধিকারিক ত্রিপুরারি অথর্বকে। শনিবারই তাঁর নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করার কথা। অপরদিকে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের কারণে পাঁচ বিএলও-কে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। দায়ের করা হয়েছে এফআইআর।

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রদবদল (Bengal Assembly Polls 2026)

    নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রদবদল শুরু করেছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মুরলীধরকে বিধাননগর থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে মুরলীধরকে অন্য রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁকে কমিশনার (Election Commission India) পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ত্রিপুরারি অথর্বকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হল।

    কে ত্রিপুরারি অথর্ব?

    আইপিএস ত্রিপুরারি অথর্ব পুলিশ মহলে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আধিকারিক হিসেবে পরিচিত। বিধাননগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Assembly Polls 2026) দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বদলি কার্যকর করেছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলার ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে কমিশন এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি (Election Commission India) গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই পরিবর্তন বিধাননগর এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ৫ বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ

    অপরদিকে নির্বাচন (Bengal Assembly Polls 2026) চলাকালীন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে সরাসরি প্রচার বা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে রাজ্যের পাঁচজন বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, তাদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ ওঠে যে, সরকারি দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন বিএলও (BLO) সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। কারো বিরুদ্ধে দেওয়ালে চুনকাম করা বা দেওয়াল লিখনের অভিযোগ উঠেছে, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক সভায় উপস্থিত থেকে দলীয় পতাকা হাতে প্রচার করেছেন বলে জানা গেছে।

    অভিযুক্তদের নাম ও কাজের নমুনা

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রে অভিযুক্ত তিন বিএলও হলেন অভিজিৎ দে (পার্ট নম্বর ২৮১), তপন কুমার সাহা (পার্ট নম্বর ২৮২) এবং কুমারজিৎ দত্ত (পার্ট নম্বর ২০৫)। অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব ভুলে এঁরা তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে সক্রিয় প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। অপর দিকে দুবরাজপুরের ১১২ নম্বর পার্টের বিএলও মঞ্জুরি চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ভোটার স্লিপ বিলি করছেন। একই ভাবে ময়ূরেশ্বরের এক বিএলও ভোটার স্লিপ বিলি করতে বেরোন সাইকেলে চেপে। এই সাইকেলে লাগানো ছিল তৃণমূলের দলীয় পতাকা। এই ঘটনায় দুই ক্ষেত্রে কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

    ফৌজদারি মামলা রুজু করার নির্দেশ

    নির্বাচনী আচরণবিধি (Bengal Assembly Polls 2026) লঙ্ঘনের এই অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করেছে কমিশন। প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ার পরেই পাঁচজন বিএলও-কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী (Election Commission India) হয়ে কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থে কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই বার্তাকে কঠোর করতে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর (Bengal Assembly Polls 2026) দাবি, শাসকদল প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি কর্মীদের নিজেদের ভোটযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের আগে ভয় দেখাতেই কমিশন (Election Commission India) এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    প্রতিটি স্তরে কড়া নজরদারিতে ভোট করাবে কমিশন

    অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কমিশন যে বিন্দুমাত্র আপস করবে না, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা আবারও স্পষ্ট করে দেওয়া হলো। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন (Bengal Assembly Polls 2026) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে কড়া নজরদারি বজায় রাখতে কমিশন (Election Commission India) ইতিমধ্যেই একাধিক আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে বদলি বা অপসারণ করেছে।

  • West Bengal Elections 2026: বুথের ১০০ মিটারে চকের ‘লক্ষ্মণরেখা’ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি কমিশনের

    West Bengal Elections 2026: বুথের ১০০ মিটারে চকের ‘লক্ষ্মণরেখা’ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ করতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকারে আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোটগ্রহণের দিন বুথের বাইরের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার ১০০ মিটারের একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয় বা ‘লক্ষ্মণরেখা’ তৈরি করা হচ্ছে।

    বুথের ভেতর মোবাইল ফোনে না (West Bengal Elections 2026)

    কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের প্রবেশদ্বার থেকে ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের এলাকাকে ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’ বা নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এই সীমানার ভেতর ভোটার এবং অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। বুথের ভেতর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের কর্মী যাতে জমায়েত করে ভোটারদের (Election Commission) প্রভাবিত করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

    প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ

    এবারের নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি স্পর্শকাতর বুথে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি ওয়েবকাস্টিং-এর ব্যবস্থা থাকছে। এই প্রথমবার কমিশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনও বুথে নিয়মবহির্ভূত জমায়েত বা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেলেই এআই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেবে। এর ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।

    অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত

    নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের (Election Commission) মতে, ভোটদানের প্রক্রিয়া চলাকালীন বুথ চত্বরকে সম্পূর্ণ এজেন্টমুক্ত ও নিরাপদ রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। ১০০ মিটারের এই গণ্ডি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সাধারণ ভোটারদের (West Bengal Elections 2026) মনে আস্থা জোগাবে এবং নির্ভয়ে ভোটদানে উৎসাহিত করবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এই নতুন বিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কমিশন।

    সমন্বিত নজরদারি ও প্রযুক্তির ব্যবহার

    কমিশন সূত্রে খবর, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার প্রতিটি বুথেই ‘ওয়েবকাস্টিং’-এর ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন কমিশনের আধিকারিকরা। সেইসঙ্গে নজরদারিতে কোনও ফাঁক না রাখতে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণও কমিশনের হাতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এই ক্যামেরাগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হবে, যাতে কোনও গন্ডগোল বা অশান্তির খবর পাওয়া মাত্রই ফুটেজ খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    আরও ব্যবস্থা কমিশনের

    নিরাপত্তার পাশাপাশি ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে কমিশন বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন—

    মোবাইল রাখার সুব্যবস্থা

    • ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভোটারদের অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। এবার সেই অসুবিধা দূর করতে প্রতিটি বুথের বাইরে নিরাপদে মোবাইল ফোন জমা রাখার জন্য নির্দিষ্ট কাউন্টার বা জায়গার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    পরিকাঠামো উন্নয়ন

    • বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের কথা বিবেচনা করে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে ভবনের নিচতলায় (Ground Floor) রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    মৌলিক পরিষেবা

    • প্রতিটি বুথে পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের সুনিশ্চিত ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    কমিশনের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং এর ফলে নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় এবং ভোটার-বান্ধব এই উদ্যোগগুলো সচেতন মহলে বিশেষ ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

  • Weather Update: নির্বাচনের পারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা! প্রথম দফার ভোটের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?

    Weather Update: নির্বাচনের পারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা! প্রথম দফার ভোটের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৈশাখের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গে গ্রীষ্মের তীব্রতা (Weather Update) বাড়তে শুরু করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের তাপমাত্রা আরও কয়েক ডিগ্রি বৃদ্ধি (Temperature) পেতে পারে। তবে এই দহনজ্বালার মাঝেই কিছু কিছু জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। ২৩ তারিখ প্রথম দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওয়া অফিসের অধিকর্তা বলেন, “ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই। উত্তরবঙ্গের উপর দিকের পাঁচ জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা খানিকটা হলেও বেশি। সামগ্রিভাবে ঝড়বৃষ্টি বেশি হবে উত্তরবঙ্গে। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী বৃষ্টি ! তবে তার আগে শনিবার সারাদিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক৷”

    দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি

    হাওয়া (Weather Update) অফিস সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে শুষ্ক আবহাওয়ার দাপট বজায় থাকবে। আগামী দু-তিন দিনে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলোতে আবহাওয়া বেশ অস্বস্তিকর থাকবে। তবে আজ বিকেলের দিকে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং দুই বর্ধমানের দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। কলকাতায় আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থাকলেও আর্দ্রতাজনিত (Temperature) অস্বস্তি বজায় থাকবে।

    উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া

    দক্ষিণ যখন গরমে পুড়ছে (Weather update), উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে তখন ঝড়-বৃষ্টির দাপট অব্যাহত। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরের বাকি জেলাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে। মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গে (Temperature) বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি না তৈরি হলেও ভ্যাপসা গরম ও রোদের তেজ থেকে এখনই রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

    কলকাতায় কেমন আবহাওয়া?

    শুক্রবার কলকাতা এবং তার আশপাশের অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ৷ স্বাভাবিকের থেকে ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.০২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ৷ স্বাভাবিকের চেয়ে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৬২ শতাংশ।

  • West Bengal Malaria Threat: চলতি বছর রাজ্যে বাড়তে পারে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলাগুলি

    West Bengal Malaria Threat: চলতি বছর রাজ্যে বাড়তে পারে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলাগুলি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমে নাজেহাল বঙ্গবাসী। কিন্তু এর মধ্যেও ম্যালেরিয়ার চোখরাঙানি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চলতি বছরে বাড়তে পারে বিপদ। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি। মশাবাহিত রোগের দাপটে প্রত্যেক বছরেই রাজ্যবাসীর ভোগান্তি বাড়ে। চলতি বছরে ম্যালেরিয়া (West Bengal Malaria Threat) নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্যের কয়েকটি জেলার গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলতি বছরে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি (Health Alert West Bengal)।

    কোন কোন জেলায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের একাধিক জেলায় চলতি বছরে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, জঙ্গলমহল এলাকা অর্থাৎ— ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুরের কিছুটা অংশে বাড়তে পারে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো জেলায় চলতি বছরে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক অধিকর্তা জানাচ্ছেন, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ সালের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এবং চলতি বছরে সংক্রমণের হার দেখেই এই জেলাগুলোর জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ জানাচ্ছেন, ২০২৪-২৪ সালে রাজ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৪-২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি ছিল। চলতি বছরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার অধিকাংশই দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা। তাই চলতি বছরে এই জেলাগুলো নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হচ্ছে। তবে এর পাশপাশি কলকাতা নিয়েও উদ্বিগ্ন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতায় মশাবাহিত রোগের দাপট বেশি। প্রত্যেক বছর কলকাতায় কয়েক হাজার মানুষ ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখজনক। কলকাতা ঘনবসতিপূর্ণ শহর। তাই ম্যালেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

    কেন ম্যালেরিয়া নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ায় নির্দিষ্ট চিকিৎসা রয়েছে। ডেঙ্গির মতো ম্যালেরিয়া তাই প্রকট হতে পারে না। মৃত্যুর ঝুঁকিও কম থাকে। কিন্তু ম্যালেরিয়া সংক্রমণ হলে শরীরে একাধিক রোগের দাপট বাড়ে।‌ যা পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। তাই ম্যালেরিয়া উদ্বেগ বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম ধাপেই ম্যালেরিয়া চিহ্নিত না হলে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া আক্রান্তের শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। জ্বর, বমি, মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গের পাশপাশি শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস এমনকি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফুসফুস, লিভার এবং মস্তিষ্কের কার্যশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ফলে রোগীর প্রাণ সংশয় দেখা দিতে পারে। তাই ম্যালেরিয়া আক্রান্ত কিনা, সেটা প্রথম পর্যায়ে চিহ্নিত করা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    কীভাবে বিপদ রুখবেন?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া রুখতে হলে প্রথমে মশার দাপট কমানো জরুরি। বাড়ি এবং আশপাশের এলাকার পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজরদারি জরুরি। নিকাশি ব্যবস্থাও ঠিক থাকা প্রয়োজন। জমা জলেই মশার বংশবিস্তার হয়। জনসচেতনতার পাশপাশি তাই স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বারবার জ্বর হলে, জ্বরের সঙ্গে বমি, পেট ও মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো দ্রুত রক্ত পরীক্ষা জরুরি। তবেই রোগ চিহ্নিত হবে। রোগ মোকাবিলা সহজ হবে।

  • IT-ED Raids: ভোটের আগেই বড় ঝটকা! মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতে আয়কর হানা, জোড়া অভিযানে তোলপাড় কলকাতা

    IT-ED Raids: ভোটের আগেই বড় ঝটকা! মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতে আয়কর হানা, জোড়া অভিযানে তোলপাড় কলকাতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের এক সপ্তাহও বাকি নেই। তার মধ্যেই, জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ (Land Scam Kolkata) সংক্রান্ত মামলায় শহরের বিভিন্ন জায়গায় জোড়া অভিযান আয়কর দফতর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (IT-ED Raids)। নির্বাচনী আবহে শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে দুই কেন্দ্রীয় সংস্থা।

    আয়কর-ইডির জোড়া ফলা

    শুরুটা হয়েছিল রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা ওই কেন্দ্রেরই বিদায়ী বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়কর হানা দিয়ে। এর পর, ক্রমে বেলা যত বাড়তে থাকে, আয়কর অভিযানের ব্যাপ্তিও বাড়তে থাকে। দেবাশিস কুমারের শ্বশুর বাড়িতেও হয় আয়কর অভিযান। এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্রের অন্যতম প্রস্তাবকের বাড়িতেও হানা দেয় আয়কর। অন্যদিকে, শহরের এক পরিচিত বিল্ডার্স গোষ্ঠীর বাড়ি ও দফতরে হানা দেয় ইডি। পরে, কালীঘাটে এক দাপুটে তৃণমূল নেতার বাড়িতেও পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা।

    মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতে আয়কর

    তবে, সবচেয়ে উল্লেখোগ্য অভিযান আয়কর চালায় বেলার দিকে। দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মনোনয়নের অন্যতম প্রস্তাবক মিরাজ শাহের (Miraj Shah) বাড়িতে তল্লাশি চালায় আয়কর। শুক্রবার সকালে মিরাজ শাহের বাড়িতে হানা দেয় আয়কর দফতর। আধিকারিকদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও। বাড়ির ভেতরে চলতে থাকে তল্লাশি অভিযান—খতিয়ে দেখা হচ্ছে নথিপত্র, পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের খবর।

    কে এই মিরাজ শাহ?

    উল্লেখ্য, ভবানীপুর মনোনয়ন পর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট মিরাজ শাহ। ফলে ভোটের আবহে তাঁর বাড়িতে এই তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। শাসকদলের একাংশ ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দক্ষিণ কলকাতার একটি নির্মাণ সংস্থার জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি। যদিও গোটা ঘটনাকে ঘিরে আয়কর দফতরের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ইডির নজরে মার্লিন…

    এদিকে, আয়কর দফতরের পাশাপাশি এই একই মামলার তদন্তে সক্রিয় আরও এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-ও। ভোর থেকেই আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। এদিন ইডির নজরে মার্লিন গ্রুপ। মিডলটন স্ট্রিট, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে সংস্থার একাধিক দফতর ও কর্তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। সল্টলেক সিকে ব্লকে প্রোমোটারের বাড়িতেও হানা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। ওই ব্লকের আরও একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে ইডি। একটি প্রকল্পের নামে জাল নথি তৈরি করে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে সংস্থার বিরুদ্ধে।

    কালীঘাটের দাপুটে তৃণমূল নেতার বাড়িতে তল্লাশি

    এদিন মার্লিনের পাশাপাশি, দাপুটে তৃণমূল নেতা কুমার শাহার কালীঘাটের গ্রিক চার্চের কাছে বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। জানা গিয়েছে, ওই তৃণমূল নেতা দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ। জমি কেলেঙ্কারির মামলা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়ির পাশাপাশি কুমার সাহার অফিসেও এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের হানা। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে, দেবাশিস কুমারের বাড়ির কাছেই আরও এক নির্মাণকারী সংস্থা সান গ্রুপের বিভিন্ন দফতর ও বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। সেই সময়ে তল্লাশি চালানো হয়েছিল সমাজবিরোধী সোনা পাপ্পুর বাড়িতেও।

    শুরু রাজনৈতিক তরজা

    তবে, ভোটের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবক এবং দলের একাধিক নেতার বাড়িতে এই তল্লাশিকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে। তৃণমূলের দাবি, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে পেরে না উঠে বিজেপি এখন এজেন্সির ওপর ভরসা করছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই সক্রিয়তাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ একে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের বিকৃত ব্যবহার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের কাজ করছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুর তথা রাজ্য রাজনীতির পারদ আরও চড়ল।

  • West Bengal Elections 2026: ট্রাইবুনালে পাস করে ভোটার তালিকায় নাম উঠলে কীভাবে জানবেন ভোটাররা, বলল নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Elections 2026: ট্রাইবুনালে পাস করে ভোটার তালিকায় নাম উঠলে কীভাবে জানবেন ভোটাররা, বলল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাকে অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। কমিশনের (Election Commission India) তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে যদি কোনও আইনি জটিলতা থাকে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনাল যদি কোনও ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার অনুমতি প্রদান করে, তবে তিনি নির্বিঘ্নে নিজের ভোটাধিকার (West Bengal Elections 2026) প্রয়োগ করতে পারবেন।

    সিইও-র বক্তব্য

    রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘‘বিএলওদের দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। এছাড়া ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারবেন ভোটাররা, এছাড়া বিডিওর কাছেও সব তথ্য দেওয়া থাকবে। নির্বাচন কমিশনকে  সেতু বন্ধনের মতো একটা সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে যেখানে নামের নিষ্পত্তি হতেই ভোটারদের নাম তালিকায় যুক্ত হতে থাকবে।’’

    আদালতের নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার (West Bengal Elections 2026)

    সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ বা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাইবুনালের রায়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) জানিয়েছেন, যদি কোনও ভোটারের (West Bengal Elections 2026) নাম নিয়ে আপত্তি থাকে কিন্তু ট্রাইবুনাল তাকে ‘ক্লিয়ারেন্স’ বা ছাড়পত্র দিয়ে থাকে, তবে তাকে ভোটদান থেকে বিরত রাখা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে যাতে কোনও প্রকার বিভ্রান্তি না তৈরি হয়, সেইজন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এই বিষয়ে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মূলত আইনি লড়াইয়ে জয়ী বা ট্রাইবুনাল থেকে বৈধতা পাওয়া ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এটি যেমন আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তেমনি প্রকৃত ভোটারদের অধিকার রক্ষার একটি বলিষ্ঠ ধাপ। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা নতুন নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে অনেক সময় কৌতূহল ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও আইনি কাঠামো গঠন হয়েছে।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    ভোটার তালিকা সংশোধন করার প্রক্রিয়া একটি নিরবিচ্ছিন্ন কাজ হলেও, নির্বাচনের ঠিক আগে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার পর আর নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের পর ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলা বা কোনও বড় পরিবর্তন করা আইনত সম্ভব নয়।

    ভোটদানের অধিকার ও ট্রাইবুনাল

    যদি কোনও ব্যক্তির নাম নিয়ে ট্রাইবুনালে মামলা চলে এবং ট্রাইবুনাল তাকে বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে সেই নির্দেশের ভিত্তিতে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। আবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা (West Bengal Elections 2026) তৈরি করাই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। মৃত ব্যক্তি বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে একটি ত্রুটিমুক্ত তালিকা প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের তরফে সিইও মনোজ আগরওয়ালা  বলেন, “ট্রাইবুনাল স্বাধীনভাবে কাজ করছে, এরা নির্বাচন কমিশন (ECI) বা সিইও অফিসের অধীনে নয়। সুতরাং যতদিন না ড্যাশবোর্ড তৈরি হচ্ছে, তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।’’

    কতজনের নিষ্পত্তি সম্ভব?

    সূত্রের তথ্য জানিয়েছে, রাজ্যে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল কাজ করছে। ট্রাইবুনালগুলির মাথায় রয়েছেন ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি। প্রতিদিন ১০টি করে আবেদন যাচাই করে পোর্টালে তুলছে। ১০টি নাম নিষ্পত্তি হলে, আরও ১০টি আবেদন জমা পড়ছে। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে প্রতিদিন প্রত্যেক ট্রাইবুনাল ১০টি করে আবেদনের নিষ্পত্তি করছে, তাহলে একদিনে সংখ্যাটা হয় ১৯০। গত ১৩ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেছে ট্রাইবুনাল। প্রথম দফার ক্ষেত্রে সময় রয়েছে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। এই ৯ দিনের মধ্য তিনদিন ছুটি। ছুটির দিন কোথাও কাজ হয়েছে, কোথাও হয়নি। ফলে ৯ দিনের প্রতিদিন ১৯০টি করে নিষ্পত্তি হলেও সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১,৭১০। সুতরাং কোনও অবস্থাতেই প্রথম দফার আগে দু হাজারের বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেছে পরিসংখ্যান।  তাই ভোট কতজন দিতে পারবেন, সেই সংশয় রয়েই যাচ্ছে।

    কত নাম বাদ পড়েছে

    পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ হওয়া চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ পরে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম। এরপর ৬০ লক্ষের কিছু বেশি নাম ছিল বিচারাধীন তালিকায়। মূলত তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে এই ৬০ লক্ষ নাম সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরনোর পর আরও ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৯০ লক্ষের বেশি।

  • Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করালেও বাংলায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Shamik challenges Mamata)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল স্পষ্ট। এসআইআর মামলায় সুপ্রিম নির্দেশের পর সাফ জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court) জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রয়োগ করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ভোটের ২ দিন আগে ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হলেও দেওয়া যাবে ভোট।

    মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik challenges Mamata)। তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভোট করাতে চাইছেন সেভাবেই করুন। পুরোনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করুন। তাও চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। তৃণমূল চলে গিয়েছে। তৃণমূল শেষ।” এদিন কমিশনের বিরুদ্ধেও খানিক ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে শমীককে। বলেন, “আমরা এই প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নই। আমাদের ফর্ম ৭ এর শুনানি হয়নি। নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা পুরো শোনেননি। আমাদের অভিযোগ, আমাদের অভিমান কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটা সাংবিধানিক সংস্থা। আমরা তাঁদের আধিকারিকদের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি আমরা সন্তুষ্ট নই।”

    কী বলল দেশের শীর্ষ আদালত

    অবশেষে বাংলার এসআইআর মামলায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যে লক্ষ লক্ষ ভোটার, যাঁরা ট্রাইবুনালে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে যাঁদের প্রথম দফার ভোট (২৩ এপ্রিল) রয়েছে, এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যে যাঁদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং যাঁরা যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করবেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ভোটার লিস্টে উঠবে। তার জন্য সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে এবং ২৩ এপ্রিল তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোট হচ্ছে ২৯ এপ্রিল। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত, যাঁদের যাঁদের ভোটার লিস্টে নাম ওঠার জন্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করতে পারবেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। এই ২৭ এপ্রিল অবধি যাঁদের নাম উঠবে, তাঁদের জন্য আলাদা সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করা হবে।

LinkedIn
Share