Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • PM Modi Brigade Rally: ব্রিগেডমুখী বাস লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, আক্রান্ত বিজেপির একাধিক কর্মী-সমর্থক

    PM Modi Brigade Rally: ব্রিগেডমুখী বাস লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, আক্রান্ত বিজেপির একাধিক কর্মী-সমর্থক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডে সভার (PM Modi Brigade Rally) আগে বেলদায় বিজেপি সমর্থকদের বাসে হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা। শনিবার কলকাতায় ব্রিগেডে মেগাসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi)। তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেবেন, সেই নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। কিন্তু ব্রিগেড আসার পথেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। অভিযোগ, তাঁদের বাস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, মারধর করা হয়েছে চালককেও। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই কাজ করেছে, বলে অভিযোগ বিজেপির।

    বেলদায় বাসে ভাঙচুর

    ভোর ৫.৩০ মিনিট নাগাদ আহার মুণ্ডা এলাকার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। বেশ কিছু দুষ্কৃতী বাসটিকে আটকায় এবং চালককে জিজ্ঞাসা করে বাসটি কোথায় যাচ্ছে। তখন তিনি জানান, ব্রিগেডের সভায় যাওয়ার জন্য তাঁরা বাসটিকে নিয়ে এসেছেন। তখনই বাসটিকে অতর্কিতে ঘিরে ধরে বাইক-বাহিনী। চারদিকে এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ করে ভাঙচুর চালানো হয়। সেই সময় চালক ও খালাসির হাতে লেগেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ভাঙচুর চালিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, যেহেতু ব্রিগেডে সভা রয়েছে, সেই কারণেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাসটিতে হামলা চালিয়েছে।

    বাস থেকে খুলে নেওয়া হল দলীয় পতাকা

    অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশওয়াড়ি থেকে ব্রিগেডের দিকে আসা বাসেও আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, হামলা চালানোর পাশাপাশি চালককে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমনকি দলীয় পতাকাও খুলে ফেলতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের কয়েকজন চোট পেয়েছেন এই ঘটনায়। অভিযোগের তীর শাসক দল তৃণমূলের দিকেই। আজ, শনিবার, শহরে কার্যত বিজেপির মহাযজ্ঞ। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করবেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi Rally At Brigade)। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে এটাই বিজেপির শেষ সভা হতে চলেছে। তাই প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখছে না বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। এদিকে, মোদির সফরের আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার কলকাতার নানা প্রান্তে দেখা গেল ‘গো ব্যাক মোদি’ লেখা হোর্ডিং। শহরের অন্যতম ব্যস্ত উড়ালপুল মা ফ্লাইওভার-সহ আশপাশের এলাকায় টাঙানো এই পোস্টার দ্রুতই পথচলতি মানুষ এবং যাত্রীদের নজর কেড়ে নেয়। শহরের একাধিক জায়গায় টাঙানো ওই হোর্ডিংয়ে ‘বয়কট বিজেপি’ স্লোগানও চোখে পড়েছে। তবে কে বা কারা এই হোর্ডিং লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নাম সেখানে উল্লেখ নেই। ফলে বিষয়টি ঘিরে চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

  • PM Modi Brigade Rally: ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস! পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি

    PM Modi Brigade Rally: ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস! পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ বছর পর ফের ব্রিগেডে সভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Modi Brigade 2026)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম কলকাতার ঐতিহাসিক ময়দানে ভাষণ দিতে চলেছেন তিনি। শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে অসম থেকে সরাসরি কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সাজসাজ রব গেরুয়া শিবিরে। শেষ পর্বের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। এবারে ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন। প্রশাসনিক কর্মসূচির পর তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বার্তা দেবেন।

    বাঙালি অস্মিতায় জোর

    আজকের সমাবেশে বাঙালি অস্মিতায় জোর দিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ (PM Modi Brigade Rally) সেজে উঠছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে। ৮০ ফুট চওড়া মূল মঞ্চে থাকছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের ছবি। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ দক্ষিণেশ্বরের থিম হওয়ায় এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও চলছে জোরকদমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তকমার পাল্টা জবাব দিতেই ব্রিগেডের মঞ্চে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বাঙালিয়ানা’কে। মঞ্চের পটভূমিতে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রতিকৃতি থেকে শুরু করে বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা শিল্প, দার্জিলিঙের চাবাগান, পটের কাজ, এবং বাউল-কীর্তনের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, বাঙালি সংস্কৃতির মিশেল মুগ্ধ করবে বাংলার মা-মাটি-মানুষকে।

    উন্নয়ন ও রাজনীতির যুগলবন্দি

    শুধু রাজনৈতিক জনসভা অবশ্য নয়, এ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর শেষ ছ’টি কর্মসূচির মতো এটির ক্ষেত্রেও প্রথমে প্রশাসনিক সভা, তার পরে জনসভা হবে। প্রশাসনিক সভাস্থল থাকছে মূল সভামঞ্চের একটু পিছন দিকে মাঠের এক পাশ ঘেঁষে। তার দায়িত্বে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, যে সব বিভাগের নানা প্রকল্পের শিলান্যাস বা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী শনিবার ব্রিগেডে দাঁড়িয়েই করবেন। এবারের ব্রিগেড সমাবেশ কেবল রাজনৈতিক ভাষণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একই রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দুটি বিষয়ের ওপর— প্রথমত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সরকারকে প্রধানমন্ত্রী কোন পথে আক্রমণ শানান এবং দ্বিতীয়ত, অমিত শাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতির পর প্রধানমন্ত্রী নিজে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন কোনও বড় ঘোষণা করেন কি না।

    সংঘাত ও রাজনৈতিক তর্জা

    প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলায় জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থেকে ব্রিগেডমুখী বাসে হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি বিজেপি কর্মীদের। এদিকে কলকাতা জুড়ে তৃণমূলের ‘বয়কট বিজেপি’ পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “তৃণমূল আসলে ভয় পেয়েছে। এই পোস্টারই ওদের আতঙ্কের প্রমাণ।” যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ১৪ মার্চ দিনটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে জমি আন্দোলনের ভূমি নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত দিনেই প্রধানমন্ত্রীর এই ব্রিগেড সভা বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় ঘোরায় কি না, সেটাই এখন দেখার।

    বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনসমাগম

    মোদীর সভার জন্য শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনসমাগম হবে ব্রিগেডে। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসবে মিছিল। বিজেপি সূত্রে খবর, হাওড়া, শিয়ালদার মতো স্টেশনগুলি থেকে মিছিল হওয়ার কথা। এ ছাড়াও, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্রিগেডমুখী মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সব মিছিল, জমায়েতের কারণে নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না-হয়, সে দিকে কড়া নজর থাকবে পুলিশের। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি ৫০টি পিকেট থাকবে। চেকিং হবে বিভিন্ন জায়গায়। পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা থাকবে মঞ্চ এবং সংলগ্ন এলাকায়।

    বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    শনিবার অসম থেকে মোদির বিমান নামবে কলকাতা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে চেপে তিনি আসবেন রেসকোর্সের মাঠে। সেখান থেকে গাড়ি করে তিনি পৌঁছোবেন সোজা ব্রিগেডের সভাস্থলে। ফলে ওই এলাকায় উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুলিশ। সূত্রের খবর, শনিবার মোদির সফরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কলকাতা পুলিশের তিন হাজার বাহিনী। পুরো এলাকা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে বলে খবর কলকাতা পুলিশ সূত্রে। জানা গিয়েছে, এই প্রতিটি সেক্টর বা ভাগের দায়িত্বে থাকবেন এক জন করে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার আধিকারিক। আবার এমন চার-পাঁচটা সেক্টর মিলিয়ে একটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক।

    শহরের রাস্তায় নিয়ন্ত্রিত যান-চলাচল

    শনিবার ভোটমুখী বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই কলকাতার বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে কলকাতা পুলিশ। সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে আজ রাস্তায় থাকলে, কোন কোন রোড এড়িয়ে চলতে হবে, বুঝে নিন। ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কলকাতা কলকাতা পুলিশ এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক বা লরি, গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। তবে ছাড় রয়েছে এলপিজি সিলিন্ডার, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল/লুব্রিকেন্ট, অক্সিজেন, শাকসবজি, ওষুধ, ফলমূল, মাছ এবং দুধের গাড়ির ক্ষেত্রে। শনিবার ময়দান সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় পার্কিং-ও নিষিদ্ধ করেছে কলকাতা পুলিশ। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের আশেপাশে, এজেসি বোস রোড (মাঝখানে হেস্টিংস ক্রসিং এবং ক্যাথেড্রাল রোড), খিদিরপুর রোড, হাসপাতাল রোড, কুইন্সওয়ে, ক্যাথেড্রাল রোড, ক্যাসুয়ারিনা অ্যাভিনিউ ও লাভার্স লেনে পার্কিং নিষিদ্ধ। উল্লেখ্য, জনসভায় আসা গাড়ির জন্য ময়দানের আশপাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কলকাতা পুলিশ, রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা অধিকরণ এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। পুলিশের অনুমান, শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই সভায় যোগ দিতে আসবেন। শিয়ালদা এবং হাওড়া থেকে অনেকেই পায়ে হেঁটে সভাস্থলের দিকে যেতে পারেন। ফলে ট্র্যাফিকে বিঘ্ন হতে পারে। এছাড়াও, কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এদিন প্রয়োজনে যানবাহন অন্যান্য রাস্তায় ডাইভার্ট করা হতে পারে।

    কোথায়-কখন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী মোদির মেগা সফর ঘিরে উৎসাহ বিজেপির। দুপুর ১টা ৪৫-এ কপ্টারে রেসকোর্সের হেলিপ্যাডে পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বেলা ১টা ৫৫-এ গাড়িতে ব্রিগেডে যাবেন মোদি। দুপুর ২টো-২টো ৩০ বিভিন্ন প্রকল্পর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, দুপুর ৩টে ৩৫- এ ব্রিগেডের সভাস্থল ছাড়বেন মোদি।

  • Election Commission: প্রতিটি বুথেই কি পুলিশ পর্যবেক্ষক? নজরদারি বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপের পথে নির্বাচন কমিশন

    Election Commission: প্রতিটি বুথেই কি পুলিশ পর্যবেক্ষক? নজরদারি বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপের পথে নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে বা পোলিং স্টেশনে একজন করে ‘পুলিশ পর্যবেক্ষক’ (Police Observer) নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে কমিশন। কমিশনের প্রশাসনিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল, ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, ডিজিপি পীযূষ পান্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।

    নজরদারিতে ৩ গুণ বৃদ্ধি (Election Commission)

    বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রতিটি বুথে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও কড়া নজরদারির পরিকল্পনা করা হয়েছে কমিশনের (Election Commission) তরফে। পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতিটি বুথকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতায় আনাই কমিশনের লক্ষ্য। এই পদক্ষেপর কারণ হল রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ এবং হিংসামুক্ত করা। নির্বাচনে যেহেতু পুলিশ প্রশাসনের একটা বড় ভূমিকা থাকে তাই যেকোনও কাজে যাতে ত্রুটি না থাকে এবং ভোট লুট বা হিংসার মতো কোন ঘটনা না ঘটে তাই কমিশন এখন থেকেই তৎপর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ১৬০ জন জেনারেল অবজারভার, ৩৭ জন পুলিশ অবজারভার (Police Observer) এবং ৮৪ জন এক্সপেন্ডিচার অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যাই প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বাড়বে বলে কমিশন সূত্রে খবর। বিশেষ করে যে সব বিধানসভা কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হবে, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ অবজারভার নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে ।

    পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ

    সাধারণত মহকুমা বা জেলা স্তরে পুলিশ পর্যবেক্ষক (Police Observer) নিয়োগ করা হলেও, এবার প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে একজন করে অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারকে পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে বুথের ভেতর বা সংলগ্ন এলাকায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

    কমিশনের ভাবনায় অন্য রকম প্রস্তুতির ছবি

    কমিশনের (Election Commission) উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, স্পর্শকাতর বুথগুলোর পাশাপাশি সাধারণ বুথগুলোতেও এবার বিশেষ নজর দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ের ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২৩ বছর পর রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) চালু হওয়া থেকে শুরু করে ভোট ঘোষণা পর্যন্ত কমিশন নির্বাচন নিয়ে ভীষণ ভাবে তৎপর। বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং সবরকম প্রস্তুতি মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে একেবারেই অন্যরকম প্রস্তুতির ছবি দেখা যাচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমার প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছিলেন—নির্বাচন পরিচালনায় কোনও ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্বকে রেয়াত করা হবে না। ভোট প্রক্রিয়ায় কোথাও যদি অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত ভুল প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই কমিশন এবার ভীষণ ভাবে অত্যন্ত তৎপর।

    শীঘ্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশিকা

    কমিশন (Election Commission) এই বক্তব্যও জানিয়েছে যে কোন কোন এলাকায় পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করা হবে তা কমিশনই ঠিক করবে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে। ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করতেই মূলত এই বিশেষ পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Presidential Protocol Issue: রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’! দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র

    Presidential Protocol Issue: রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’! দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির সফরে প্রোটোকল-স্থান (Presidential Protocol Issue) বদল বিতর্কে নতুন মোড়। বিতর্কের আবহেই ২ অফিসারকে চেয়ে রাজ্যকে চিঠি কেন্দ্রের। প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের সিপিকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির সফরের দায়িত্বে ছিলেন দার্জিলিংয়ের ডিএম মণীশ মিশ্র। তাঁকে ডেপুটেশনে চেয়েছে কেন্দ্র।

    কেন এই পদক্ষেপ

    গত ৭ মার্চ শিলিগুড়ির গোঁসাইপুরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জল গড়াল অনেক দূর। নিরাপত্তা ও স্থান পরিবর্তন সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা এবং ‘অসৌজন্যের’ অভিযোগ খতিয়ে দেখে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাজ্যের পাঠানো রিপোর্ট পর্যালোচনার পর দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। এই দুই আইপিএস ও আইএএস অফিসারই বেঙ্গল ক্যাডারে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই সমস্ত উচ্চ পদমর্যাদার অফিসারদের ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে তারাই এই দুই অফিসারকে ডেপুটেশনে চাইছে।

    যেতেই হবে ডেপুটেশনে

    রাষ্ট্রপতি যেহেতু দেশের সংবিধানিক প্রধান তাই তাঁর নিরাপত্তা বা প্রোটোকলে কোনও গাফিলতি হয়ে থাকলে সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র চাইলে রাজ্য সরকারকে কিছু না বলেও কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে তাঁদের তুলে নিতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট আইপিএস (ক্যাডার) রুলস, ১৯৫৪-এর রুল ৬(১)-এর বৈধতা নিশ্চিত করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী আইপিএস অফিসারদের ট্রান্সফার ও ডেপুটেশন নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র প্রয়োজনে অগ্রাহ্য করতে পারে। এখন কোনও রাজ্য সরকার যদি নির্বাচিত অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠাতে অস্বীকার করে, তবে সেই অফিসারকে ৫ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন থেকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। ২০১১ ব্যাচ বা তার পরের আইপিএস অফিসারদের জন্য কমপক্ষে ২ বছরের কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন বাধ্যতামূলক, নইলে তাঁরা ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে এমপ্যানেলমেন্টের জন্য যোগ্য হবেন না।

    অসন্তুষ্ট রাষ্ট্রপতি, কী ঘটেছিল

    সাঁওতালদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে মূল অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করা হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি। পরবর্তীতে ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে সন্তোষিনী বিদ্যাচক্রের মাঠ পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওই মাঠে আরও বেশি সাধারণ মানুষের সমাগম হতে পারত। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি বলেন, “উনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন। যে কারণে সভা করতে দিলেন না।” রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।” এরপর তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়তে থাকে। দুই দলেরই একাধিক নেতা এই নিয়ে পরস্পরকে তোপ দাগেন।

  • Assembly Election 2026: রিটার্নিং অফিসার হবে ন্যূনতম এসডিএম স্তরের আধিকারিক, বাংলায় কমিশনের নিয়ম মেনেই নির্বাচন

    Assembly Election 2026: রিটার্নিং অফিসার হবে ন্যূনতম এসডিএম স্তরের আধিকারিক, বাংলায় কমিশনের নিয়ম মেনেই নির্বাচন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে । যে কোনও মুহূর্তে নির্বাচনের (Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হতে পারে। তার আগেই রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনায় বড় বদল আনল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে এই প্রথমবার অন্যান্য রাজ্যের মতো রিটার্নিং অফিসার পদে জেলাশাসকদের বদলে মহকুমা শাসক বা সমমর্যাদার আধিকারিকদের এই পদে নিয়োগ করল কমিশন। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।

    উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের রিটার্নিং অফিসার

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নয়া বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের সবকটি অর্থাৎ ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্যই মহকুমা শাসক বা তার উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ন্যূনতম এসডিএম-দের এই পদে নিয়োগ করার কথা। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলিতে রাজ্যের অনুরোধ মেনে নিচুতলার কর্মীদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছিল কমিশন। তবে এবার আর নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম যে হবে না তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন। এবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের জন্য মহকুমাশাসক বা এসডিএম (সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট) পদমর্যাদার অফিসারদের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হল বলে জানানো হয়েছে। এখন থেকে সারা দেশের নিয়ম মেনেই পশ্চিমবঙ্গেও এসডিএম সমমর্যাদা বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এর থেকে নীচের পদের কাউকে নিয়োগ করা হবে না বলে জানান হয়েছে।

    তালিকায় জায়গা পেলেন কারা?

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের কাছে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, জেলা পরিষদের সচিব, জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক, জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা তফসিলি জাতি-জনজাতি উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা পরিকল্পনা আধিকারিক স্তরের অফিসারেরা এ বার রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। অর্থাৎ, সব পদই উচুস্তরের। পশ্চিমবঙ্গে আগে নির্বাচনে ডিএমডিসি (ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ডেপুটি কালেক্টর) পদমর্যাদার আধিকারিকেরা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করলেও এ বার সেই প্রবণতা থেকে যে কমিশন সরে এল সদ্যপ্রকাশিত তালিকাতেই তা স্পষ্ট।

    রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে বাড়তি জোর কেন

    সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও সাফ বলেছিলেন ভোটের সময় রাজ্যে কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। সেই লক্ষ্যেই এবার নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে বাড়তি জোর দিল কমিশন। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে নিয়মের বাইরে গিয়ে যে একটিও কাজ হবে না, তা পদে পদে বুঝিয়ে দিচ্ছে কমিশন। এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকার সারা দেশের নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্ন পদমর্যাদারা অধিকারিকদের ইচ্ছামতো রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বেছে নিত। তারপর সেই তালিকা পাঠান হতো নির্বাচন কমিশনের কাছে। কিন্তু এবার থেকে আর সেই জিনিস চলবে না। বরং আইন মেনে চলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান অনেক বেশি কঠোর হয়েছে বলে খবর।

  • SIR: বৈঠকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও রাজ্য সিইও, কী কী বিষয়ে আলোচনা হল?

    SIR: বৈঠকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও রাজ্য সিইও, কী কী বিষয়ে আলোচনা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল হাইকোর্ট ও কমিশনের মধ্যে। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) এই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূ্র্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা সারেন। বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভোটার তালিকার স্বচ্ছতাকে নিশ্চিত করা এবং আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখা। অপর দিকে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বে থাকা বাঁকুড়া-পুরুলিয়া জেলার ১৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে বিভিন্ন জেলায় স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে (SIR)?

    ভোটার তালিকার পরিমার্জন (SIR) নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি (Calcutta High Court) এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিশেষ বৈঠক হয়। ভোটার তালিকায় নাম তোলা, মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং তথ্যের ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। আইনি পর্যবেক্ষণ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও প্রকার আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই কাজকে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এবং একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে এই প্রশাসনিক সমন্বয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৪ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই

    কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও  জানা গেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকার আংশিক অংশ ইতিপূর্বেই প্রকাশিত হয়েছে এবং বাকি অংশটি পর্যায়ক্রমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। বৃহস্পতিবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    ভোটারদের অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগ

    নির্বাচনী ব্যবস্থার (SIR) আধুনিকীকরণ, ভোটারদের অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বে থাকা বাঁকুড়া-পুরুলিয়া জেলার ১৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে বিভিন্ন জেলায় বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  হাইকোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। জানা যাচ্ছে, যে জেলায় ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে, সেখান থেকে বিচারকদের যাচাই বাকি থাকা জেলায় পাঠিয়েছে হাইকোর্ট। এই মর্মে, ৫ জন করে বিচারককে মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর জেলায় পাঠানো হয়েছে। রাজ্যে এখনও ৫০ লক্ষ নাম বিচারাধীন রয়েছে।

    কাজের ধারাবাহিকতা জরুরি

    সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা আদালতে (Calcutta High Court) নতুন দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছে। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই রদবদলের ফলে চলমান মামলাগুলোর (SIR) প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। নতুন আধিকারিকরা শীঘ্রই তাঁদের নিজ নিজ পদে যোগদান করবেন। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল, বিচার প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনা এবং দীর্ঘকাল একই পদে আসীন থাকা আধিকারিকদের নতুন অভিজ্ঞতা ও কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত করা। হাইকোর্টের এই নির্দেশিকা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

  • Governor RN Ravi: “৫৫০ কিমি বেড়া নেই, সীমান্ত দিয়ে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গারা আসছে,” রবিকে বললেন শুভেন্দু

    Governor RN Ravi: “৫৫০ কিমি বেড়া নেই, সীমান্ত দিয়ে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গারা আসছে,” রবিকে বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্প্রতি লোকভবনে গিয়ে রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল আরএন রবি-র (Governor RN Ravi) সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকার করেছেন। এই বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিরোধী দলনেতা রাজ্যের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে তাঁর সুচিন্তিত উদ্বেগ রাজ্যপালের কাছে ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে, বিরোধী কণ্ঠস্বরের নিরাপত্তা, জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অধিকার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

    আমার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে (Suvendu Adhikari)

    নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “মাননীয় রাজ্যপালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে দিল্লিতে থাকার কারণে আমার পক্ষে ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, নবনিযুক্ত রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আমি উপযুক্ত সময় প্রার্থনা করেছিলাম। তিনি আমার অনুরোধ গ্রহণ করে সাক্ষাতের অনুমতি দেন। আজ সেই নির্ধারিত সময়ে তাঁর সঙ্গে আমার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রায় ৩০ মিনিট চলা এই সৌজন্য সাক্ষাতে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছি।” বাংলার পরিস্থিতি যতটা সম্ভব পরিষ্কারভাবে রাজ্যপালকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। শাসক দলের লাগাম ছাড়া প্রশাসনের রাজনীতি করণের মতো বিষয় এদিনের বৈঠকে মূল বিষয়বস্তু ছিল বলে জানা গিয়েছে। বিরোধী দলনেতা রাজ্যের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা রাজ্যপালের গোচরে তুলে ধরেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের অংশ হিসেবেই এই আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষার আবেদন জানিয়েছি

    মমতা সরকারের নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক ও জনকল্যাণমূলক বিষয়ে বিরোধী দলনেতার পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র বা স্মারকলিপি রাজ্যপালের নিকট পেশ করা হয়েছে। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপাল বিষয়গুলো ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমি অত্যন্ত বিনম্রভাবে মাননীয় রাজ্যপালের কাছে রাজ্যের সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষার আবেদন জানিয়েছি। তাঁকে অবগত করেছি যে, গত পাঁচ বছরে বিরোধী দলনেতাকে প্রায় সাড়ে এগারো মাস বিধানসভার কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং পাঁচবার তাঁর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত (Suspended) করা হয়েছে। আমি তাঁকে বিনীতভাবে বলেছি যে, সংসদীয় গণতন্ত্রে এ জাতীয় নজিরবিহীন পরিস্থিতি অন্য কোথাও পরিলক্ষিত হয় না।”

    সীমান্ত থেকে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

    গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সরকারের পাশাপাশি বিরোধী পক্ষ এবং রাজভবনের মধ্যে এই ধরণের সমন্বয় একটি সুস্থ সংসদীয় রীতির পরিচয় বহন করে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর কথা মাথায় রেখে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “এখানে আমলারা কেউ অবসর নেন না। যেটুকু সুযোগ পেয়েছি প্রাথমিকভাবে বুঝিয়ে বলেছি। কিভাবে বিচারব্যবস্থাকে এরাজ্যে আক্রান্ত হতে হয়েছে, সেটা জানিয়েছি। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য তোষণ। ৫৫০ কিমি বেড়া নেই। সীমান্ত দিয়ে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গারা আসছে। ফলে জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। রাজ্যপালকে জানিয়েছি, বাংলাকে বাঁচান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা ক্লোজ চ্যাপ্টার হতে পারে না। এটা নিয়ে যা যা করার দরকার করব। পদক্ষেপ করা দরকার।”

    খামেনেই-র বাড়ির সামনে ধর্না দিক তৃণমূল

    রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, বেতন কাটলে আর আজ না আসার কারণে কারও উপর যদি কোনও জুলুম হয়, বিরোধী দলনেতা পাশে থাকবে। বেতন বৃদ্ধি হবে বিজেপি সরকার এলে।” একই ভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে তৃণমূলের আন্দোলন নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল ইরান চলে যাক। কেন্দ্রীয় সরকার টিকিট করে দেবে। খামেনেইয়ের বাড়ির সামনে ধর্না দিক।

    বিচার বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করছেন মমতা

    শুভেন্দু রাজ্য সরকারের এক নায়কতন্ত্রের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যে বর্তমানে সংবিধানের চারটি স্তম্ভই আঘাতের মুখে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যম-সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করলে রাজ্যে বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া যায়। রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা হয় পরিকল্পিত ভাবে। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টকেও বারবার অসম্মান করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” একই ভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলনেতা বলেন, “কোনও সংবাদমাধ্যম সরকারের পক্ষে বলুক বা বিপক্ষে – অনেক সময়ই তাদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন।”

  • President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সময় নেই”। ঠিক এই ভাষায়ই তৃণমূলের (TMC) এক প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Murmu) দফতর। এর আগে তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখে দলের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। প্রতিনিধি দলটি পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তবায়িত বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরতে চেয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে সময়ের অভাবের কারণ দেখিয়ে তৃণমূলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। প্রথমবার অনুরোধের পর দলটি নাকি পরের সপ্তাহে আর একটি সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই প্রস্তাবটিও নাকচ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃতীয়বার আবেদন করেছে তৃণমূল।

    রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ প্রকাশ (President Murmu)

    এই ঘটনা ঘটেছে রাষ্ট্রপতি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত আদিবাসী কল্যাণ সম্মেলনে মতবিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, প্রশাসন যে জায়গাটি অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন করেছে, তা আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসস্থানের থেকে অনেক দূরে। তাই সবাই আসতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি খুব দুঃখিত যে এখানে অনেক মানুষ সম্মেলনে পৌঁছতে পারেননি।  কারণ অনুষ্ঠানটি এত দূরে আয়োজন করা হয়েছিল।” রাষ্ট্রপতির (President Murmu) ইঙ্গিত, “প্রশাসন হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করেছে, যাতে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত হয়।”

    ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি এও জানান, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি যখন কোনও জায়গায় যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদেরও সেখানে থাকা উচিত।” নিজেকে ‘বাংলার মেয়ে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি কি ইচ্ছাকৃত ছিল?” বাংলা সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অসম্মান’ নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরব হন। এক্স হ্যান্ডেলে  প্রধানমন্ত্রী একটি পোস্টে শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির মন্তব্য দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে। তৃণমূল (TMC) সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির (President Murmu) পদকে যথাযথ সম্মান না দেখানোর অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

    মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির এহেন (TMC) মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই জাতীয় মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন মন্তব্য না করেন। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সমস্যা তুলে ধরলেও, অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিষয়গুলি উপেক্ষা করেছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় আদিবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এই বিতর্কে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।  বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। নবম  আন্তর্জাতিক সাঁওতালি সম্মেলনের ভেন্যু বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে  লিখেছেন, “সংবিধানিক মর্যাদা ও আদিবাসী সম্মানের প্রতি দৃষ্টান্তহীন আক্রমণ। স্পষ্টতই তৃণমূল সরকারের  শাসনের পতনের চিহ্ন।” বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি কী বলছেন সেটা আমরা সবাই দেখেছি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন দুটোকে পাশাপাশি রাখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কে দায়ী। বুঝতে পারবেন কে সংবিধানের এক্তিয়ারের মধ্যে বলেছে, আর কে সংবিধানের বাইরে গিয়ে বলেছে। ভারতবর্ষের মতো রাষ্ট্র বলে হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে যাচ্ছেন। অন্য দেশ হলে এতক্ষণে জেলের ভিতরে থাকতেন।” মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু তৃণমূলকে নিশানা করলেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি কত নম্রভাবে বলেছেন, মমতা আমার বোনের মতো। আর মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি করছেন।” রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানো হল না বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, “দ্রৌপদী মুর্মু যখন রাষ্ট্রপতি হন, তখন সবাই কত খুশি হয়েছিলেন। এ রাজ্যের আদিবাসীরাও আনন্দিত হন। আজ সবকিছু ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হল।”

  • BJP Candidate List: বঙ্গভোটে বিধায়ক ও পুরনো নেতাদের অগ্রাধিকার বিজেপির! মোদির বাসভবনে চূড়ান্ত ১৫০ প্রার্থীর নাম?

    BJP Candidate List: বঙ্গভোটে বিধায়ক ও পুরনো নেতাদের অগ্রাধিকার বিজেপির! মোদির বাসভবনে চূড়ান্ত ১৫০ প্রার্থীর নাম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election) জন্য অন্তত ১৫০টি আসনের প্রার্থী (BJP Candidate List) চূড়ান্ত করে ফেলল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব৷ এমনটাই খবর সূত্রের। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠকে বসেছিল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও এ দিনের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন৷ এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বিপ্লব দেব, সুনীল বনশল, সতীশ ধন্দ, অমতি মালব্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন৷

    ১৫০-র বেশি আসনে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত

    দলীয় সূত্রে খবর, বিজেপি-র এবারের প্রার্থী তালিকায় প্রত্যাশিত ভাবেই বর্তমান বিধায়কদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে৷ পাশাপাশি, দলের পুরনো কর্মী এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে এরকম নেতা কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যের ২৯৪টির মধ্যে ১৫০-র বেশি আসনে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে। বর্তমান বিধায়কদের সিংহভাগই আবার টিকিট পাচ্ছেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্যে এই মুহূর্তে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রার্থী তালিকায় পুরনো জয়ী প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। আগে কখনও বিধানসভা বা লোকসভার ভোটে লড়েননি, এমন কিছু নতুন মুখও টিকিট পাচ্ছেন। তবে তাঁরা সকলেই সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত।

    আসনগুলিকে এ, বি এবং সি- এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ 

    ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত ১৫০ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে। জয়ের সম্ভাবনা বিচার করে রাজ্যের বিধানসভা আসনগুলিকে এ,বি এবং সি- এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। জয়ের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি, সেই আসনগুলিকে রাখা হয়েছে৷ এ ক্যাটেগরিতে৷ এই আসনগুলিতে ষোল আনা খাঁটি বিজেপি নেতা, কর্মী ছাড়া কাউকে টিকিট দেওয়া হবে না। বি ক্যাটেগরি মানে যেখানে জয় ও পরাজয়ের মধ্যে খুব বেশি ফারাক নেই। সি ক্যাটেগরি মানে যেখানে জয়ের আশা বিশেষ নেই, তবু লড়াই জারি থাকবে। কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশ এবং দার্জিলিং পাহাড়ের তিনটি আসন ছাড়া প্রায় সব আসন নিয়েই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সেরে নিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। সূত্রের খবর, অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল দক্ষিণ থেকে এবং দিলীপ ঘোষকে খড়্গপুর সদর থেকে প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

  • Assembly Elections 2026: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে দু’দফায়! জোর জল্পনা, ভোট ঘোষণা কবে?

    Assembly Elections 2026: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে দু’দফায়! জোর জল্পনা, ভোট ঘোষণা কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। দু’দিন আগেই বঙ্গ সফর শেষ করে নয়াদিল্লি ফিরে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (EC) ফুল বেঞ্চ। তার পরেই শুরু হয়েছে রাজ্যে নির্বাচন কবে এবং ক’দফায় হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা। জানা (Assembly Elections 2026) গিয়েছে, বঙ্গে নির্বাচন হতে পারে দু’দফায়। অন্তত নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক সূত্রেই এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হতে পারে দু’দফায়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই ভোট গ্রহণের দফা কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠক এবং রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এবং ভোট গ্রহণের দফার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে।

    বৈঠক রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে (Assembly Elections 2026)

    এ রাজ্যে এসে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠক করে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে, আলোচনা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গেও। বৈঠকে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি, বিশেষত বিজেপি, সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেস কমিশনের কাছে এক বা সর্বাধিক দু’দফায় নির্বাচন করানোর জোরালো দাবি জানিয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, বেশি দফায় নির্বাচন হলে দুষ্কৃতীদের এক কেন্দ্র থেকে অন্যত্র যাওয়ার সুযোগ থাকে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থে কম দফায় নির্বাচন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    হিংসার ঘটনা

    এর আগে রাজ্যে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলিতে প্রায়ই হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তাই নির্বিঘ্নে এ রাজ্যে ভোট সাঙ্গ করা কমিশনের কাছেও বড়ই উদ্বেগের। তাই এবার নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার অনেক আগে থেকেই রাজ্যে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে ভোটারদের আস্থা তৈরি করা যায়। প্রসঙ্গত, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন, ভোটের আগে ও পরে রাজ্যে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।

    রাজ্যে পৌঁছল নির্দেশিকা

    এদিকে, ইতিমধ্যেই নির্দেশ চলে এসেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে। নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যের সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছেও। তাতে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই সব বুথ তৈরি করে ফেলতে হবে। পানীয় জল, দরজা, জানলা, বিদ্যুৎ-সহ বয়স্কদের জন্য ঢোকা ও বেরোনোর জায়গা ঠিক করতে হবে। বুথের ভেতরে ক্যামেরা লাগানোর জায়গা ঠিক করতে হবে। যে গাড়িগুলি ভোটের দিন টহলদারির কাজে ব্যবহার করা হবে, সেই গাড়ির মাথায় এখনই ক্যামেরা লাগিয়ে টেস্ট করে রাখতে হবে (Assembly Elections 2026)। যেসব বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেগুলিকে দু’ভাগে ভাগ করে অক্সিলিয়ারি বুথ চিহ্নিতকরণ করতে হবে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হলে, তা এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। জাতীয় কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী একটুও খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন (EC)।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

    এবার বঙ্গ সফরে এসে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠক করে রাজ্যের ২৩টি জেলার জেলাশাসক, জেলা ও পুলিশ জেলার সুপার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্বয়ং। শুধু ভোটের সময় নয়, নির্বাচনোত্তর হিংসার ঘটনা নিয়েও রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেন জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ মনে করছে, ক্ষেত্রবিশেষে কোথাও কোথাও কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব খারাপ রয়েছে বলেও মনে করছে না কমিশন (Assembly Elections 2026)।

     

LinkedIn
Share