Mamata Banerjee: জিট্টি ভাইয়ের সঙ্গে রয়েছে মমতার ভাতৃবধূ কাজরীর যৌথ সম্পত্তি! মিলল হদিশ

WhatsApp_Image_2023-02-11_at_947.15_AM

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার কয়লাপাচার দুর্নীতির সঙ্গে আরও জোরদারভাবে জড়িয়ে পড়ল মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) পরিবারের নাম। কয়লাপাচার কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত মনজিৎ সিং গ্রেওয়াল ওরফে জিট্টি ভাইয়ের সঙ্গে হরিশ মুখার্জি রোডেই মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। এই জিট্টি ভাইই ‘অতি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি’র হয়ে টাকা পার্কিংয়ের কাজ করতেন। 

এই সম্পত্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’ থেকে মাত্র আটটি প্লট দূরে। তদন্তকারী সংস্থার হাতে এসেছে সেই নথি। ইতিমধ্যেই কয়লা পাচারকাণ্ডে নাম জড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বেশ কয়েকবার তাঁকে দিল্লিতে ইডি দফতরের চক্করও কাটতে হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইডির ম্যারাথন জেরার মুখে পড়েছিলেন তৃণমূলের সেকন্ড ইন কম্যান্ড। একাধিকবার ইডি জেরার মুখে পড়েছেন অভিষেক-জায়া রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেকের শ্যালিকা মেনকা গম্ভীর, তাঁর স্বামী ও শ্বশুরও।  এবার সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে নাম জড়াল পরিবারের আরও কিছু সদস্যের। মিলল যৌথ সম্পত্তির হদিশ।

আরও পড়ুন: জটে জমি আটকে রেল-৩: প্রায় ৪০ বছরেও সম্পূর্ণ হল না উত্তর দিনাজপুর জেলার ৩ প্রকল্প   

কী জানা গেল? 

২০৪, হরিশ মুখার্জি রোড, কলকাতা-৭০০০২৬, কালীঘাট থানার ভেতরে কলকাতা কর্পোরেশনের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং ভাইপো সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঠিকানায় ৩ কাঠা ৩ ছটাক ১৪ বর্গফুটের নির্মাণ সহ জমি। গ্রাউন্ড ফ্লোরের স্ট্রাকচার ১৭১০ বর্গফুট। প্রথম তলা ১৫০০ বর্গফুটের, দ্বিতীয় তলা ১৫০০ বর্গফুটের, তৃতীয় তলা ৫৬৬ বর্গফুটের এবং ৬৮৩ বর্গফুটের ছাদ। সম্পত্তিটি কোনও এক সেন পরিবারের ছিল। এই গোটা সম্পত্তি যৌথভাবে কেনেন দুজন। তাও জলের দরে। একজন ক্রেতা, মনজিৎ সিং ওরফে জিট্টি ভাই। দ্বিতীয় জনের নাম কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের যৌথ সম্পত্তি হিসাবেই রয়েছে নথি। কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল  কাউন্সিলর। কাজরী, মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী।

 

সৌজন্য - গণশক্তি
সৌজন্য – গণশক্তি

   

কয়লা পাচারকাণ্ডে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে আগামী সপ্তাহেই দিল্লিতে ইডি দফতরে তলব করা হয়েছে চক্রবেড়িয়া লেনের বাসিন্দা, তৃণমূলের হিন্দি সেলের পদাধিকারী মনজিৎ সিং গ্রেওয়াল ওরফে জিট্টি ভাইকে। বুধবার ইডির তরফে রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, এক অতি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি তাঁর ঘনিষ্ঠ মনজিৎ সিং গ্রেওয়াল ওরফে জিট্টি ভাইয়ের মাধ্যমে কয়লা পাচারের টাকা নয়ছয় করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর এত বড় দুর্নীতির অভিযোগ যার বিরুদ্ধে, তাঁর সঙ্গেই যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলল মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) ভাইয়ের স্ত্রীর। তাও আবার হরিশ মুখার্জি রোডেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে। 

জানা গিয়েছে, সেন পরিবারের কাছ থেকে এই সম্পত্তি মাত্র ২৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছিলেন জিট্টি ভাই ও কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ছয় দফায় পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই সম্পত্তির দলিলেই উল্লেখ রয়েছে সম্পত্তির সেই সময়ে বাজার মূল্য ছিল ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪৮১টাকা। সম্পত্তি কেনার সময় স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়েছে ৮লক্ষ ৩২হাজার টাকা। অথচ এত টাকার সম্পত্তি মাত্র ২৪ লক্ষ টাকায় দখলে নিয়েছিলেন জিট্টি ও কাজরী। এখন সেখানে একটি থ্রি স্টার হোটেল তৈরি হয়েছে। 

মজার বিষয় হল, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) ফেসবুক পেজ থেকেই ২০২১ সালের ৪ অক্টোবর একটি লাইভ করা হয়েছিল। তাতে দেখা যাচ্ছে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি গুরুদ্বারে মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন এই জিট্টি ভাই। এরপরেও কি ‘আমরা  চিনি না’ বলে পার পেয়ে যাবেন এই পিসি- ভাইপো? 

তৃণমূলের ভোটের সময়ও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল এই জিট্টি ভাইকে। ভোটের খরচেরও অনেক দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। শুধু ৭৩ নম্বর অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ওয়ার্ডে এই জিট্টি ভাইয়ের তিনটি হোটেল রয়েছে, পাশের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে দুটি হোটেল। শরৎ বসু রোডে ‘জয় হিন্দ ধাবা’ তাঁর প্রথম হোটেল। ভিনরাজ্যেও একাধিক সম্পত্তি মিলেছে জিট্টি ভাইয়ের। ৩নম্বর রানি শঙ্করী লেনে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিকানাতেও রয়েছে তাঁর হোটেল। ভারতী সিনেমা হলের পাশে ‘জয় হিন্দ ব্যাঙ্কোয়েট হল’ও জিট্টি ভাইয়ের।  
 
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ইডি খবর পেয়েছিল শরৎ বোস রোডে চক্রবেড়িয়ায় ‘সালাসার গেস্ট হাউস’ নামে একটি সম্পত্তি কিনেছেন মনজিৎ সিং ওরফে জিট্টি ভাই। বুধবারই সেই সম্পত্তির রেজিস্ট্রি হয় আলিপুরে সাব রেজিস্ট্রারের অফিসে। ঐ গেস্ট হাউসের বাজার দর এখন ১২কোটি টাকা। ৯ কোটি টাকা নগদ দিয়ে সেই সম্পত্তি কেনা হয়। যদিও খাতায়-কলমে দলিলে সম্পত্তির মূল্য মাত্র ৩ কোটি টাকা দেখানো হয়। আর সেই নগদ টাকা লেনদেনের খবর মিলতেই ইডি হানা দিয়েছিল ৫এ, আর্ল স্ট্রিট ঠিকানায় গজরাজ গ্রুপ সংস্থার অফিসে যেখান থেকে উদ্ধার হয় নগদ ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।  

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

 

 
 
Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share