Satyendar Jain: হাওয়ালা লেনদেন! ৯ জুন পর্যন্ত ইডি হেফাজতে সত্যেন্দ্র জৈন

satendra

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি (Delhi) সরকারের মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে (Satyendra Jain) ৯ জুন পর্যন্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate) হেফাজতে পাঠাল আদালত। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের (money laundering) অভিযোগে সোমবার তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি (ED)।

মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হয় সত্যেন্দ্রকে। ইডি-র তরফে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta)। তিনি বলেন, “কী ভাবে টাকা হাওয়ালায় (Hawala) লগ্নি করা হয়েছিল, অন্যত্র পাঠানো হয়েছিল, সে সব তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতের ১৪ দিনের হেফাজত চাইছে ইডি।” 

মেহতা জানান, ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন প্রায় ১.৬৭ কোটি টাকার সম্পত্তি করেছিলেন সত্যেন্দ্র। তদন্তে উঠে এসেছে, সেই দুর্নীতির টাকা তিনি কলকাতার ভুয়ো সংস্থার খাতায় পাঠিয়েছিলেন। কলকাতারই দুই ব্যক্তি ওই কাগুজে সংস্থাগুলি তৈরি করেছিলেন। একশো টাকায় ১৫-২০ পয়সা কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করার কথা তাঁরা স্বীকারও করেছেন। ইডি-র দাবি, আসলে সত্যেন্দ্রই ওই সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতেন।

আরও পড়ুন: আইনের ফাঁসে আরেক আপ নেতা! হাওয়ালাকাণ্ডে গ্রেফতার দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সূত্রের খবর, রাজনীতিতে আসার আগে সত্যেন্দ্র প্রথমে কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতরে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে নির্মাণ সংক্রান্ত একটি পরামর্শদাতা সংস্থা খোলেন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাজকর্মের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ইডি ইতিমধ্যেই জৈন পরিবার ও তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলির ৪.৮১ কোটি টাকার সম্পত্তি সাময়িক ভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে।

আদালতে ইডি জানায়, এই মামলায় প্রথমে সত্যেন্দ্রকে গ্রেফতার না করেই তদন্ত চালাতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু মন্ত্রী উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। সত্যেন্দ্রর আইনজীবী বলেন, ‘‘২০১৮ সালে এই মামলা দায়ের হয়েছিল। এখন ২০২২। এর মধ্যে অন্তত ছ’বার মন্ত্রীকে ডাকা হয়েছে এবং প্রত্যেক বারই তিনি সহযোগিতা করেছেন। তদন্তকারী সংস্থা শুধু বড় বড় কথা বলছে। মন্ত্রীর সঙ্গে কালো টাকার যোগের প্রমাণ কোথায়?’’

পাঞ্জাবের আপ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিজয় সিংলার (Vijay Singla) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সপ্তাহখানেক আগেই তাঁকে বরখাস্ত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান (Bhagwant Mann)। সত্যেন্দ্রর ক্ষেত্রে কেজরিওয়ালও (Kejriwal) কেন একই পথে হাঁটছেন না, বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া আজ সেই প্রশ্ন তুলেছেন।

কেজরিওআলের দাবি, ‘‘পাঞ্জাবের মন্ত্রীর একটি অডিয়ো রেকর্ডিং পাওয়া গিয়েছিল, যার কথা কোনও তদন্তকারী সংস্থা বা বিরোধীরা জানতই না। চাইলে আমরা সেটা ধামাচাপা দিয়ে দিতেই পারতাম। কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি, তাঁকে গ্রেফতার করিয়েছি। কিন্তু সত্যেন্দ্র নির্দোষ। মামলাটি পুরোপুরি জাল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিচার ব্যবস্থায় আমাদের আস্থা আছে। সত্যেন্দ্র জৈন সত্যের পথে হেঁটেই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন।’’

এদিকে, সত্যেন্দ্রকে সমর্থন করার জন্য কেজরিওয়ালের দিকে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি (BJP) নেত্রী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। সত্যেন্দ্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দিয়ে স্মৃতি বলেন, সত্যেন্দ্র দেশের সম্পদ লুঠ করেছেন তাঁকে শাস্তি না দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন আপ (AAP) নেতা।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share