মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার টানা দু ঘণ্টা ধরে কংগ্রেসের (Congress) অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে (Sonia Gandhi) জেরা করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর। ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় (National Herald Case) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে। শাসক দল বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস। এদিন দিল্লিতে শশী থারুর, মল্লিকার্জুন খাড়গে সব ৭৫ জন কংগ্রেস সাংসদকে আটক করে পুলিশ।
ইডি সূত্রের খবর, এদিন সোনিয়াকে ঘণ্টা দুয়েক ধরে জেরা করেন ইডির আধিকারিকরা। পরে সোনিয়ার অনুরোধে এদিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে তার আগে রেকর্ড করা হয় সোনিয়ার বয়ান। ইডি সূত্রে খবর, ২৫ জুলাই ফের ডাকা হতে পারে তাঁকে। এদিন সমন যাচাইকরণ এবং উপস্থিতিপত্রে স্বাক্ষরের মতো কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ শুরু হয় জেরা। ছেড়ে দেওয়া হয় দুটো নাগাদ।
আরও পড়ুন : ইডির দফতরে হাজির সোনিয়া, কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল সংসদ থেকে রাস্তা
ন্যাশনাল হেরান্ড মামলায় জুন মাসেই ইডি তলব করেছিল গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে। তলব করা হয়েছিল সোনিয়া পুত্র তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকেও। বিদেশে থাকার জন্য নির্ধারিত দিনে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে পারেননি রাহুল। পরে অবশ্য হাজিরা দেন। প্রায় পাঁচ দিন পঞ্চাশ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করা হয় রাহুলকে। লিপিবদ্ধ করা হয় তাঁর বয়ান। প্রায় একই সময়ে ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল সোনিয়ারও। কিন্তু করোনা সংক্রমিত হওয়ায় নির্ধারিত দিনে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে পারেননি তিনি। হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়ই চেয়ে নেন বাড়তি সময়। সেই মতো বৃহস্পতিবার ইডি দফতরে হাজিরা দেন সোনিয়া। তারই প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লি। বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কংগ্রেস সাংসদরা।
প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্রটি অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হত। এর মালিক সংস্থা ছিল ইয়ং ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড। জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদপত্র নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে অনেক আগেই। তবে ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় হইচই। যার মূল হোতা ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। সেই মামলারই তদন্ত চলছে। জেরা করা হয়েছে রাহুলকে। এবার জেরা করা হচ্ছে সোনিয়াকে।
Leave a Reply