India: ভেনেজুয়েলায় পালা বদলের সম্ভাবনায় কৌশলগত লাভের মুখে ভারত

indias Economic Strategic Interests Venezuela

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার (Venezuela) দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য আমেরিকার উদ্যোগ ভারতের (India) পক্ষে শাপে বর হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতকে একটি বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন তেলসমৃদ্ধ লাতিন আমেরিকার দেশটিতে শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে বিন্যস্ত করতে পারে। এখানে এতদিন কার্যত ছিল চিনের একচেটিয়া প্রভাব।

চিনের প্রভাব-বলয়ে আবদ্ধ (India)

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলা কার্যত চিনের প্রভাব-বলয়ে আবদ্ধ থাকায় ভারতের উপস্থিতি ছিল সীমিত। ভারতের মূল বিনিয়োগ ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসির মাধ্যমে। সংস্থাটি ভেনেজুয়েলার সান ক্রিস্টোবল তৈলক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী পাওনা অর্থ এখনও আদায় করতে পারেনি ভারত। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, শুধু সান ক্রিস্টোবল প্রকল্প থেকেই ভারতের বকেয়া প্রায় ৫৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার কাছে ভারতের পাওনা ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। মাদুরো-উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত নয়া সরকার ক্ষমতায় এলে নয়াদিল্লি এই বকেয়া আদায়ে বাস্তবিকই কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে (Venezuela) পারবে বলে ধারণা কৌশলগত বিশ্লেষকদের (India)।

চিনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য

ক্ষমতার পরিবর্তন হলে ভেনেজুয়েলায় চিনের দীর্ঘদিনের আধিপত্যও বড় ধাক্কা খেতে পারে। ভেনেজুয়েলায় অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক, সৌদি আরবের চেয়েও বেশি। অথচ দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অদক্ষ শাসন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশ। অথচ মোট প্রমাণিত তৈলভাণ্ডারের প্রায় ১৮ শতাংশ ভেনেজুয়েলার দখলে রয়েছে। এই সীমিত উৎপাদনের মধ্যেও চিন একাই প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করে, যা থেকে স্পষ্ট হয় দেশটির ওপর বেজিংয়ের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ (India)।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এবং বিদেশি বিনিয়োগ ফের শুরু হলে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে (Venezuela) পারে। এতে শুধু চিনের প্রভাব কমবে না, ভারতের মতো দেশগুলির জন্যও নতুন বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তার সুযোগ তৈরি হবে। ভেনেজুয়েলার বাস্তবতা একটি নির্মম বৈপরীত্যে ভরা। বিপুল তেল সম্পদের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করেন এবং প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হলে এই পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। ভারতের জন্য এটি কেবল বকেয়া অর্থ আদায়ের প্রশ্ন নয়, বরং লাতিন আমেরিকায় শক্তিশালী জ্বালানি উপস্থিতি গড়ে তোলার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা (India)।

ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন

ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব ভারতের শেয়ারবাজারে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সোমবার বাজারে এই ইঙ্গিত আগেভাগেই মূল্যায়ন করেছেন লগ্নিকারীরা (Venezuela)। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ওএনজিসির শেয়ার ২ শতাংশ বেড়ে ২৪৬.৮০ টাকায় পৌঁছয়। নিফটি সূচকে এদিন সবচেয়ে বেশি লাভ করা শেয়ারের তালিকায় শীর্ষে ছিল ওএনজিসি। একই সঙ্গে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ₹১,৬১১.৮০-এ পৌঁছয়, যা সংস্থাটির ৫২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর (India)।

জেফেরিজের প্রতিবেদন

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাঙ্কিং সংস্থা জেফেরিজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রভাবের অধীনে ভেনেজুয়েলার তৈল শিল্পে পুনর্গঠন হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে এমন সংস্থার তালিকায় রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ওএনজিসি-ও। ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈল সম্পদ ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন কাঠামোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই এই প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে (Venezuela)। এদিকে, এই ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলির তরফে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-সহ একাধিক বাম দল ভেনেজুয়েলায় মাদুরো সরকারের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন পর্যন্তও ভারত সরকারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করার ডাক দিয়েছেন (India)।

ভারতের অবস্থান

তবে এই ইস্যুতে ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে রয়েছে, কোনও বিদেশি দখলদারিত্বের পক্ষে নয় এবং একই সঙ্গে ব্যর্থ কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্রেরও সমর্থক নয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই অবস্থানের মাধ্যমে নয়াদিল্লি একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি বজায় রেখেছে। এদিকে, চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়াশীল কমিউনিস্ট গোষ্ঠী এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ ফের একবার আন্তর্জাতিক ইস্যুতে (Venezuela) ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলির রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শগত আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে (India)।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share