WB Medical Council: মমতাকে সারদা মা বলার ‘পুরস্কার’ নির্মল মাজির, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে ছাপ্পা ভোট নিয়ে আদালতে বিরোধী শিবির 

1666235447_medical

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাময়িক দূরত্ব তৈরির ‘নাটকে’ আপাতত ইতি। ‘পুরস্কার’ পেয়ে গেলেন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। নির্মল মাজিকে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের মনোনীত সদস্য করার সিদ্ধান্তকে এমনি ব্যাখ্যা করছেন রাজ্যের চিকিৎসকদের একাংশ। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল গঠনে (WB Medical Council) বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। কাউন্সিলের নির্বাচনে ছাপ্পা ভোট, ব্যালট চুরি, এমনকি বিরোধী প্রার্থী চিকিৎসক অর্জুন দাশগুপ্তের নাম ব্যালট থেকে কারচুপি করে বাদ দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভোট গণনার দিন, একটানা গণনা না করে, সাত ঘণ্টার বিরতি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই রাজ্য সরকারের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সেই বিতর্ক আরও দানা বাঁধে। 

রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, নতুন কাউন্সিলে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়াও সরকার মনোনীত প্রতিনিধি থাকছেন। আর সেই মনোনীত প্রতিনিধি তালিকায় রয়েছেন নির্মল মাজি।তৃণমূলের বিধায়ক নির্মল মাজির বিরুদ্ধে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন চুরির অভিযোগ উঠেছিল কয়েক মাস আগে। তারপরেই নির্মল বাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা সারদা-র সঙ্গে তুলনা করেন মালদা মেডিক্যাল কলেজের এক সভায়। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক অন্য মাত্রা নেয়। সাময়িকভাবে নির্মল বাবুর সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করে তৃণমূল। তাকে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্বাচনে প্রার্থী হতেও নিষেধ করা হয়। 

আরও পড়ুন: নিপীড়িতদের স্বাগত জানায় ভারত, ধর্মীয় সম্মেলনে বললেন আরএসএস নেতা

যদিও এই সবটাই লোক দেখানো বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কালীপুজোর রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও নির্মল মাজি উপস্থিত ছিলেন। আর তারপরেই রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে জায়গা করে নেন নির্মল মাজি। অস্বচ্ছ নির্বাচনের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনের বিরোধী শিবির জয়েন্ট ডক্টর্স প্ল্যাটফর্ম। রাজ্যের শাসক দলের মদতে পেশি শক্তির জোরে মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচন হয়েছে বলেই অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। অধিকাংশ মেডিক্যাল কলেজে ব্যালট পৌঁছায়নি। চিকিৎসকেরা নিজেদের ভোট, নিজেরা দিতে পারেননি। এমনকি জাল ব্যালটের অভিযোগ করেছেন বিরোধী শিবিরের চিকিৎসকেরা। 

ভোট গণনার দিন জাল ব্যালটের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই গণনা কেন্দ্র থেকে বিরোধীদের বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, রিটার্নিং অফিসারকে নিয়ে শাসক দলের প্রতিনিধিরা কয়েক ঘণ্টা বন্ধ করে মিটিং করেন। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও একটানা গণনা প্রক্রিয়া চলে না। গণনায় বিরোধী শিবির এগিয়ে যেতেই সাত ঘণ্টা গণনায় বিরতি নেওয়া হয়। শাসক দলের প্রতিনিধিদের জয়ী ঘোষণা করা হয়। এই সব অভিযোগ নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধী শিবির। বৃহস্পতিবার তার শুনানি হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্য এই অভিযোগগুলো যথাযথ ভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি জানিয়েছেন। আগামী ১০ নভেম্বর বিষয়টির ফের শুনানি হবে। 

রাজ্যের চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, তা নজরদারির দায়িত্ব মেডিক্যাল কাউন্সিলের। রোগী ও চিকিৎসকের সম্পর্ক মজবুত করতেও কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রোগীর চিকিৎসা ও চিকিৎসক সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে, সে কাউন্সিলের দ্বারস্থ হবেন। কিন্তু কাউন্সিল যদি অস্বচ্ছ ভাবে তৈরি হয়, তাহলে সেই কাজ কি কাউন্সিল ঠিকমতো করতে পারবে? আর দায়িত্ব পালন না হলে তার প্রভাব রোগী পরিষেবাতেও পরবে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share