Hanskhali Minor Rape: হাঁসখালি ধর্ষণ-কাণ্ডের তদন্তভারও পেল সিবিআই, প্রবল চাপে মমতা-প্রশাসন

hanskhali-cbi_2

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও বিড়ম্বনার মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য প্রশাসন। বগটুইকাণ্ড ও তপন কান্দু হত্যা-মামলার তদন্তভার আগেই সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বীরভূম গণহত্যা থেকে শুরু করে কংগ্রেস কাউন্সিলর খুন, সব ক্ষেত্রেই মুখ পুড়েছে রাজ্য পুলিশের। এবার নদিয়ার হাঁসখালির ধর্ষণ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবিতে উচ্চ আদালতে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা।

সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে এই মামলায় জনস্বার্থ মামলা দাখিল করেন জনৈক আইনজীবী অনিন্দ্য সুন্দর দাস। এদিকে এই ঘটনায় আরও একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। সেটি করেছেন আইনজীবী সুস্মিতা সাহা দত্ত। হাঁসখালির ঘটনার প্রতিবাদে মৌন মিছিল বের করে বিজেপি। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়ে এই মিছিলের ডাক দেয় বিজেপি। নেতৃত্বে স্থানীয় বিধায়ক আশিস বিশ্বাস। পাশাপাশি, বিজেপি মহিলা মোর্চা সভানেত্রীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল পৌঁছয় গ্রামে। তাঁরা থানায় তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন।

অভিযোগ, গত ৪ এপ্রিল ১৪ বছরের নাবালিকাকে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে মদ্যপান করায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য সমর গয়ালির ছেলে ব্রজগোপাল গয়ালি ওরফে সোহেল। এর পর সে ও তার বন্ধুরা মিলে গণধর্ষণ করে নাবালিকাকে। রাতে এক মহিলাকে দিয়ে নাবালিকা প্রেমিকাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সে। এর পর ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে নাবালিকা। কিন্তু নাবালিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেয় ব্রজগোপাল। পরে বাড়িতেই মৃত্যু হয় নাবালিকার। 

রাতারাতি ওই নাবালিকার দেহ জোর করে দাহ করানোর অভিযোগও উঠেছে ওই তৃণমূল নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, দ্রুত নাবালিকার দেহ সৎকারে বাধ্য করে ব্রজগোপাল। পুলিশকে এই বিষয় না জানাতে হুমকি দেয় নাবালিকার পরিবারকে। বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার, খুন করে ফেলার হুমকিও দেয় ব্রজগোপাল। জানা যায়, ওই নাবালিকার দেহ গত সোমবার রাতে দাহ করা হয়েছিল বিনা ডেথ সার্টিফিকেটে। ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া কীভাবে দেহ দাহ করা হল তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

পরিবারের দাবি, সোমবার রাতে নাবালিকাকে ধর্ষণের পর অসুস্থ অবস্থায় কোয়াক ডাক্তার অসিতকুমার বিশ্বাসের কাছে ওষুধ আনতে যান ওই নাবালিকার পরিবার। আর ফেরেননি। ধর্ষণের জেরে অত্যাধিক রক্তপাতে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় শ্মশানে দাহ করা হয় ওই নির্যাতিতা কিশোরীর দেহ। কেরোসিন ঢেলে দাহ করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার কয়েকদিন পর হাঁসখালি থানায় অভিযোগ দায়ের করে মৃত কিশোরীর পরিবার। এরপরই মূল অভিযুক্ত ব্রজগোপালকে গ্রেফতারির দাবি ওঠে। রবিবার তাকে গ্রেফতার করে হাঁসখালি থানার পুলিশ। পাশাপাশি অভিযুক্তের বাবা সমীর গয়ালি যিনি পঞ্চায়েত সদস্য, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদিয়া জেলা দক্ষিণের সভাপতি রত্না ঘোষ কর এ প্রসঙ্গে জানান, সমীর গয়ালিকে তৃণমূল দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে, সমরের ভাগ্নে দিবাকরকে আটক করেও পরে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। 

এদিন, শ্মশানকর্মী ও কোয়াক ডাক্তারকে রানাঘাট মহকুমা আদালতে পাঠায় পুলিশ। শ্মশানকর্মী করুণা বাউলি ও কোয়াক ডাক্তার অসিতকুমার বিশ্বাসকে পুলিশে আদালতে পাঠায় গোপন জবানবন্দির জন্য।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share