Blog

  • Paris: ফ্রান্সে তৈরি হচ্ছে বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দির, ভারত থেকে প্রাচীন ঐতিহ্যের শিলা পৌঁছলো প্যারিসে

    Paris: ফ্রান্সে তৈরি হচ্ছে বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দির, ভারত থেকে প্রাচীন ঐতিহ্যের শিলা পৌঁছলো প্যারিসে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বিএপিএস (BAPS) স্বামীনারায়ণ মন্দির (Swaminarayan Mandir)। প্রাচীন স্থাপত্যের ঐতিহ্য বহন করে এমন ভারতীয় শিলা পাথর পৌঁছে গিয়েছে প্যারিসে (Paris)। ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে সুদৃঢ় সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে এই স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দির নির্মিত হতে চলেছে। মন্দির নির্মাণের জন্য এই পাথরগুলি ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য কৌশলে খোদাই করা।

    সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কেন্দ্র (Paris)

    ভারতের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য এবং অসাধারণ কারুকার্যমণ্ডিত এই পাথরগুলো প্যারিসে পৌঁছলে সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। প্যারিসের (Paris) উপকণ্ঠে বুসি-সাঁ-জর্জে (Bussy-Saint-Georges) এই মন্দিরটি নির্মিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষকরা মনে করছেন এই মন্দির কেবল মন্দির (Swaminarayan Mandir) নয়, এটি ভারত ও ফ্রান্সের ক্রমবর্ধমান বহুমুখী সম্পর্ক এবং বিশেষ করে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতিফলন। এই মন্দিরটি ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য জ্ঞান এবং কারিগরদের দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন। ভারতীয় শিল্পকলাকে বিদেশের মাটিতে ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ (Soft Power)-কে তুলে ধরবে। মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত এই বেলেপাথরগুলো ভারতের দক্ষ কারিগররা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে খোদাই করে তৈরি করেছে। মন্দিরের জন্য নির্মিত পাথরের শিল্পকলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতের এক সংরক্ষিত শিল্পকলার নিদর্শন।

    ভারত-ফ্রান্স স্থাপত্য সহযোগিতার প্রতীক

    প্যারিসের এই বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দির নির্মাণে ভারতীয় কারিগরদের পাশাপাশি ফরাসি পাথর-মিস্ত্রিরাও কাজ করবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ফরাসি দলে এমন কারিগররাও রয়েছেন যারা বিখ্যাত ‘নটর-দাম ক্যাথেড্রাল’ (Notre-Dame Cathedral) সংস্কারের কাজে যুক্ত ছিলেন। এটি দুই দেশের জ্ঞান ও দক্ষতার আদান-প্রদান এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ হতে চলেছে। নতুন এই মন্দিরটি (Swaminarayan Mandir) কেবল একটি উপাসনালয় হবে না, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, শিক্ষা এবং সামাজিক মেলবন্ধনের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রাচীন ভারতীয় দর্শনকে বিশ্বকল্যাণের কাজে ছড়িয়ে দিতেও এই মন্দির বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

    ভারত ও ফ্রান্সের দক্ষতাকে এক সুতোয় গাঁথা

    প্যারিস (Paris) মন্দির নির্মাণ প্রকল্পের সিইও এবং বিএপিএস ইউকে ও ইউরোপের ট্রাস্টি সঞ্জয় কারা বলেন, “ভারত থেকে প্রথম পাথরের আগমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রতিটি পাথর আমাদের ঐতিহ্য ও যত্নের প্রতীক। মহন্ত স্বামী মহারাজের সেবা, নম্রতা ও সম্প্রীতির আদর্শে অনুপ্রাণিত এই প্রকল্প ভারত ও ফ্রান্সের দক্ষতাকে এক সুতোয় গেঁথেছে।” ফ্রান্সে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সঞ্জীব কুমার সিংলা বলেন, “এই মন্দিরটি (Swaminarayan Mandir) একটি অনন্য সহযোগিতার ফসল। ভারতে দক্ষ শিল্পীদের হাতে খোদাই করা এই পাথরগুলো এখানে ফ্রান্সের দক্ষ কারিগররা সংযোজন করবেন। এটি পবিত্র স্থাপত্যের দুটি মহান ঐতিহ্যের মিলন।” ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত জঁ-ক্রিস্তফ পসেল মন্তব্য করে বলেন, “এই ধরনের মন্দির ফ্রান্সে এই প্রথম এবং এটি দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক ও মানবিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়।” ২০২৪ সালের জুনে এই মন্দিরের কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ভারত ও ফ্রান্সের চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

  • Board of Peace: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন দিল্লির! ‘বোর্ড অফ পিস’-এ পর্যবেক্ষক ভারত

    Board of Peace: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন দিল্লির! ‘বোর্ড অফ পিস’-এ পর্যবেক্ষক ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পিস বোর্ডের (Board of Peace) উদ্বোধনী সভায় পর্যবেক্ষক দেশ (India Attends As Observer) হিসেবে যোগ দিল ভারত। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গড়া শান্তি পরিষদ (বোর্ড অফ পিস)-এর সদস্যেরা প্রথম বৈঠক করল। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ন’টি সদস্যরাষ্ট্র— কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মরক্কো, বাহরিন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েতের তরফে বিধ্বস্ত প্যালেস্টাইনে মোট ৭০০ কোটি ডলার (প্রায় ৬৩৭৪১ কোটি টাকা) অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে। সদস্য এবং পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র মিলিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বৈঠকে মোট ৪৭টি দেশের প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন। পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন আমেরিকায় নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এনসি খাম্পা।

    বোর্ডে নেই প্যালেস্টাইন

    গাজার পুনর্গঠনের জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগেই গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে বোর্ড অফ পিস-এর (Board of Peace) সূচনা হয়েছিল। আমেরিকার তরফে ভারত-সহ প্রায় ৬০টি দেশকে এই শান্তিগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও সেই আহ্বানে বেশ কিছু দেশ এখনও সাড়া দেয়নি। বোর্ডের সদস্য হিসাবে হিসেবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এই দুই রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। প্যালেস্টাইন বোর্ডে আমন্ত্রণ না পাওয়াতেও প্রশ্ন উঠেছিল। এই আবহে বৃহস্পতিবার বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ট্রাম্পের দাবি, বৃহৎ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের সূচনা হল বৃহস্পতিবার।

    প্রথমে যোগ দেয়নি ভারত

    যদিও প্রথম পর্যায়ে ভারত গাজা উপত্যকার পুনর্নির্মাণের জন্য ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত পিস বোর্ডে যোগ দেয়নি । গাজা উপত্যকায় ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে ঘোষিত বোর্ডে যোগদানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে রাষ্ট্র নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ২২ জানুয়ারি দাভোসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প গাজায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য পিস বোর্ডের উদ্বোধন করেছিলেন। যদিও সেই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হাজির ছিলেন না ৷

    পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে যোগ

    ডোনাল্ড ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিসে সদস্যদের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী । প্রায় ৫০টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবারের বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এ পর্যন্ত ২৭টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড অব পিসে যোগ দিয়েছে। তবে জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য-সহ এক ডজনেরও বেশি দেশ বোর্ডে যোগ দেয়নি কিন্তু পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছে।

    সদস্য দেশ:

    আলবেনিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বুলগেরিয়া, কম্বোডিয়া, মিশর, এল সালভাদর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।

    পর্যবেক্ষক দেশ:

    ভারত, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ওমান, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

    রাষ্ট্রসংঘকে ‘শক্তিশালী’ করার দাবি

    দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে (World Economic Forum, Davos) গত মাসে ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ‘সবাই এই সংস্থার অংশ হতে চাইছে।’ শুরুতে লক্ষ্য ছিল ইজরায়েল-হামাস (Israel-Hamas) সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, গাজা পুনর্গঠন আর প্রশাসনিক সহায়তা। কিন্তু ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্য বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প ক্ষমতাকাঠামো হিসেবেও উঠে আসতে পারে এই বোর্ড। তবে, রাষ্ট্রসংঘকে পাশ কাটিয়ে নতুন শক্তি গড়ার অভিযোগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আবার রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে কাজ করব। ওদের সম্ভাবনা আছে কিন্তু কাজে লাগানো হয়নি। বোর্ড অব পিস রাষ্ট্রসংঘকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করবে।’ তাঁর দাবি, ‘কোনও দিন আমি থাকব না। তখন রাষ্ট্রসংঘ আরও শক্তিশালী হবে, আর বোর্ড অব পিস তার সঙ্গেই কাজ করবে। রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে আমরা অর্থও দেব।’

    ৯ দেশের ৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি

    বৈঠকের সূচনায় ট্রাম্প জানান, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মরক্কো, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েত—এই ৯টি দেশ গাজা পুনর্গঠনের জন্য সম্মিলিতভাবে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে জানান তিনি। যদিও এই অর্থ বরাদ্দের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে এবং অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। ফলে ঘোষিত অর্থ মোট চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

    গাজায় নিরাপত্তা ও সেনা মোতায়েন

    আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স জানান, গাজায় বড়সড় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াও জনবল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১২ হাজার পুলিশ ও ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত রাফাহ শহরে পুনর্গঠন শুরু হবে। মিশর ও জর্ডন পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে বলেও জানানো হয়েছে।

    ভারতের বার্তা স্পষ্ট

    দিল্লির তরফে এক সপ্তাহ আগেই জানানো হয়েছিল, আমেরিকার নতুন ‘বোর্ড অব পিসে’ (Board of Peace) যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ খতিয়ে দেখছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের কাছে আমন্ত্রণ এসেছে। আমরা প্রস্তাবটা রিভিউ করছি। ভারত সবসময় পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন করে।” সেই পর্যালোচনা এখনও চলছে। কিন্তু তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম বৈঠকে অবজারভার দেশ হিসেবে হাজির রইল ভারত। প্রতিনিধিত্ব করলেন ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নামগ্যা সি খাম্পা (Namgya C Khampa)। পূর্ণ সদস্য নয় কিন্তু আলোচনার টেবিলে ভারত অংশ নিল। কূটনৈতিক মহলের মতে, “যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, কিন্তু ভারত বোর্ডটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে—এই বার্তা এখান থেকে স্পষ্ট।”

     

     

     

  • Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ভারত সফরে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্র মিলিয়ে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। তার মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত একাধিক চুক্তি হয়েছে। ভারতে এইচ১২৫ হেলিকপ্টার তৈরির জন্য এয়ারবাস ও টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন কারখানার সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মাক্রঁ। এর পাশাপাশি, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্যেই দুই দেশের সংস্থার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে ভারতেই ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার পথও প্রশস্ত করা হল। চলতি সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে রাজনাথ সিং ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁর উপস্থিতিতে এই মউ স্বাক্ষরিত হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে কথা হচ্ছে। সম্প্রতি, এই মর্মে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফেও। সূত্রের খবর, এর মধ্যে অধিকাংশ যুদ্ধবিমান তৈরি হওয়ার কথা ভারতেই। তার আগে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ, রাফাল যুদ্ধবিমানেই এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ব্যবহৃত হবে। এর আগে, এই যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের জন্য বজড পরিমাণে স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল ও মিটিয়র এয়ার-টু-এয়ার বিভিআর মিসাইল কেনার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এবার, রাফালের জন্য ‘হাতুড়ি’ ক্ষেপণাস্ত্রও ভারতে তৈরি করার চুক্তি হয়ে গেল।

    ৫০-৫০ অংশীদারিত্ব চুক্তি বেল-সাফরাঁর

    জানা গিয়েছে, ভারতে হ্যামার প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) গঠনে সম্মত হয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এবং ফ্রান্সের সাফরাঁ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর নেতৃত্বে হওয়া আলোচনার পর এই অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত হয়। এর লক্ষ্য ভারতের ঘরোয়া প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্র আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দেশের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা। এই যৌথ উদ্যোগে উভয় সংস্থার সমান অংশীদারিত্ব থাকবে। এটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি হস্তান্তর (technology transfer) সহজ করবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যৌথ উদ্যোগটির প্রাথমিক অনুমোদিত শেয়ার মূলধন হবে ১ লক্ষ টাকা, যেখানে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের ১,০০০টি ইকুইটি শেয়ার থাকবে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী এই মূলধন ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। শেয়ারহোল্ডিং সমানভাবে বিভক্ত থাকবে, অর্থাৎ বেল এবং সাফরাঁ— উভয়েরই ৫০ শতাংশ করে অংশীদারিত্ব থাকবে।

    জঙ্গি ঘাটিগুলিতে হাতুড়ির আঘাত

    ‘হ্যামার’ কোনও একক ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং একটি মডুলার কিট, যা সাধারণ আনগাইডেড বোমাকে অত্যাধুনিক প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্রে রূপান্তর করে। এতে থাকে একটি নোজ-মাউন্টেড গাইডেন্স ইউনিট, যা নেভিগেশন ও টার্গেটিংয়ের কাজ করে, এবং একটি টেল-মাউন্টেড রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট, যেখানে সলিড-ফুয়েল রকেট বুস্টার ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উইংলেট সংযুক্ত থাকে। ২০১১ সালে এর নামকরণ করা হয় হ্যমার। শব্দটি একটি অ্যাক্রোনিম, যার পূর্ণ অর্থ— ‘হাইলি এজাইল মডুলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ’। হ্যামার নামটি এসেছে “হাতুড়ির আঘাতে কোনও পৃষ্ঠ চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া”-এই ধারণা থেকে, যা লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার ক্ষমতার প্রতীক। একে মাঝারি-পাল্লার আকাশ-থেকে-ভূমি অস্ত্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। একে প্রায়ই “গ্লাইড বোমা” বলা হয়, কারণ এটি সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ২৫০ কেজি, ৫০০ কেজি ও ১,০০০ কেজি ওজনের স্ট্যান্ডার্ড বোমার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।

    কোন কোন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হবে ভারতে?

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে দুটি আধুনিক ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করা হবে—

    • হ্যামার ২৫০ এক্সএলআর (HAMMER 250 XLR) – ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি স্ট্যান্ড-অফ রেঞ্জ
    • হ্যামার ১০০০ এক্সএলআর (HAMMER 1000 XLR) – প্রায় ১৫০ কিলোমিটার রেঞ্জ

    এগুলি অত্যাধুনিক, সব ধরনের আবহাওয়ায় ব্যবহারের উপযোগী প্রিসিশন মিসাইল, যা যুদ্ধবিমান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিক্ষেপ করা যায়।

    বছরে ১০০০ ইউনিট উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগের (JV) অধীনে প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১০০০ ইউনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ কেবল অ্যাসেম্বলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এতে প্রযুক্তি হস্তান্তর (ToT) এবং দেশীয় দক্ষতা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রাফালের জন্য বড় শক্তি

    এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পার্বত্য অঞ্চলে এবং ভারীভাবে সুরক্ষিত বাঙ্কারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত অস্ত্র। বিশ্ব ইতিমধ্যেই হ্যামার সিস্টেমের কার্যকারিতা দেখেছে। সূত্রের খবর, অপারেশন সিদুঁর-এর সময় ভারতের যুদ্ধবিমানগুলো হ্যামার এবং স্ক্যাল্প মিসাইল ব্যবহার করে শত্রু ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালায়। এই অভিযানে ভারতের বায়ুসেনা নয়টি স্থানে মোট ২১টি সন্ত্রাসী শিবিরে আঘাত হানে। এই অভিযানে ব্যবহৃত নির্ভুল অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল রাফাল যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত হ্যমার সিস্টেম। ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্রটির স্বয়ংক্রিয় গাইডেন্স ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধ ক্ষমতা একে শক্তপোক্ত লক্ষ্যবস্তু—বিশেষ করে পাকিস্তানে অবস্থিত জৈশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী করে তুলেছে। একটি রাফাল একসঙ্গে ৬টি ২৫০ কেজির হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। ফলে, হ্যামার দিয়ে একসঙ্গে ৬টি পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম রাফাল।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    এই মিসাইল উৎপাদনের কৌশলগত গুরুত্ব হল, এটি ভারতের “আত্মনির্ভর ভারত” প্রতিরক্ষা অভিযানে বড় শক্তি জোগাবে। একই সঙ্গে ভারতের মতো বড় প্রতিরক্ষা বাজারে ফ্রান্সের উপস্থিতি আরও মজবুত হবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচিত হবে। ভারতে হ্যামার এক্সএলআর উৎপাদনকে দুই দেশের গভীরতর কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি বড় প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য সরবরাহের গতি বাড়বে, আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।

  • India Bangladesh Cricket: ভারতে খেলতে না আসার জন্য বাংলাদেশকে উস্কেছিলেন নকভি! বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন বিসিবি কর্তার

    India Bangladesh Cricket: ভারতে খেলতে না আসার জন্য বাংলাদেশকে উস্কেছিলেন নকভি! বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন বিসিবি কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভির উস্কানিতেই ভারত বিরোধিতায় সরব হয়েছে বাংলাদেশ (India Bangladesh Cricket)। এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন সচিব তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রাক্তন সিইও সৈয়দ আশরাফুল হক। রেভস্পোর্টজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশরাফুল জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে না আসার বিষয়ে উস্কেছিলেন নকভি। ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে আশরাফুল দাবি করেন, বিশ্ব ক্রিকেটের ভরকেন্দ্রই হল ভারত। নিজেদের উন্নতি করতে গেলে ভারত-বিরোধিতা কাম্য নয়।

    নকভির উস্কানিতে ভুল সিদ্ধান্ত

    আশরাফুল বলেন, “ক্রিকেট প্রশাসক হিসাবে আমি সততা ও দায়বদ্ধতায় বিশ্বাসী। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বর্তমান প্রধান মহসিন নকভির কথায় বাচ্চা ছেলের মতো প্রভাবিত হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। নকভিও ওঁকে বয়কটের সিদ্ধান্ত চালিয়ে যেতে বলেছিল। শেষ পর্যন্ত কী হল? দিনের শেষে কে জিতল?” তিনি বলেন, “আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি যে, সেই সময় ক্রীড়া উপদেষ্টার কথায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা ঠিক ছিল না। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া হয়নি বলে এত বড় সিদ্ধান্তের কোনও যুক্তি নেই।

    ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বে বাংলাদেশই কি বড় ক্ষতিগ্রস্ত?

    সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন ওঠে, ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। জবাবে আশরাফুল হক বলেন, “নিশ্চয়ই। এটা দুঃখজনক এবং অপরিপক্বতার পরিচয়। তখন সরকারবিরোধী ভারতবিরোধী আবেগ ছিল প্রবল।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনও যৌক্তিক কারণ ছিল না, শুধু এক ‘অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া’ ইস্যু ছাড়া। জগমোহন ডালমিয়ার সময় আমরা সম্মানজনক অবস্থানে ছিলাম, এখন কিছু ব্যক্তি ও সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা হাসির পাত্র হয়ে উঠছি।”

    ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই মূল চাবিকাঠি

    ভারতকে বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক কেন্দ্র উল্লেখ করে আশরাফুল হক বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। না হলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। নতুন সরকার গত তিন মাসের জটিলতা মেটাতে চেষ্টা করবে বলেই আমার বিশ্বাস।” তিনি জানান, জগমোহন ডালমিয়া-র সময় তিনি আইসিসি নির্বাচনে প্রচার ব্যবস্থাপক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং ১৯৯৬ বিশ্বকাপ আয়োজনেও সক্রিয় ছিলেন।

    টি২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। আইসিসির বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও অবস্থান বদলায়নি তারা। ফলে তাদের পরিবর্তে সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। অন্যদিকে, মুস্তাফিজুর রহমান-কে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders) ৯.২০ কোটি রুপিতে দলে নিলেও পরবর্তীতে তাকে ছাড়তে বলা হয় বলে দাবি ওঠে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিবেশী দেশের কিছু মন্তব্যকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় পাকিস্তান একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

    ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট

    আশরাফুলের মতে, “বাংলাদেশ সরকার ঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ভারতের। এই সিরিজ আগেও এক বার স্থগিত হয়েছে। যদি ভারত বাংলাদেশে খেলতে না যায়, তা হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় ক্ষতি হবে বলে দাবি করেছেন আশরাফুল। ভারত যদি সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে না আসে তো বাংলাদেশের ক্রিকেট ৫-১০ বছর পিছিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব, ভারতকে রাজি করিয়ে খেলতে নিয়ে আসা। আশা করছি সেই দৃশ্যই দেখতে পাব।”

    রাজনীতি বনাম ক্রিকেট

    খেলার জগতে, শিল্পের জগতে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। তবে এটা নতুন নয়। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার ২২টি দেশ অলিম্পিক্স বয়কট করেছিল। ১৯৮০ সালে আমেরিকা বয়কট করেছিল মস্কো অলিম্পিক্স। ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্স রাশিয়া বয়কট করে। এটা চলে যে খেলা আর রাজনীতি মিলে যায়। রাজনীতিকে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখার দাবি ওঠে মাঝেমধ্যেই। তবু রাজনীতি বার বার জড়িয়ে পড়েছে ২২ গজের লড়াইয়ের সঙ্গে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট সম্পর্ক একটা সময় পর্যন্ত ছিল দাদা-ভাইয়ের মতো। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রাক্তন সভাপতি জগমোহন ডালমিয়ার উদ্যোগে ২০০০ সালে টেস্ট খেলার মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। তার পরও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতিতে পাশে থেকেছে বিসিসিআই। গত কয়েক দশক ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট আবহে মৈত্রী, সৌজন্যের অভাব হয়নি। ভারত এবং বাংলাদেশ, দু’দেশেই জনপ্রিয়তম খেলা ক্রিকেট। যে কোনও জয়েই আনন্দে ভাসেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ২২ গজের একটা জয় বহু মানুষকে কষ্ট, যন্ত্রণা, অনাহার ভুলিয়ে দেয়। কয়েক ঘণ্টা মন ভাল করে দেয় তাঁদের। কিন্তু সুযোগ বুঝে বিশ্বের যে কোনও জায়গায় ভারত-বিরোধিতার জিগির তুলে দিতে ওস্তাদ পাকিস্তান। তাই বাইশগজেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বারবার চলে আসে পিসিবি। নিজেদের ক্রিকেটের উন্নতির কথা ভুলে ভারত-বিরোধিতাই তাদের মন্ত্র। তাতে অবশ্য ভারতের কিছুই যায় আসে না। কারণ বটবৃক্ষ হাজার ঝড় সামলেও অন্যদের ছায়া দেয়। এটাই ভারত…তা সে বাইশ গজ হোক বা বিশ্ব রাজনীতি।

  • Google: ‘বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠবে নয়া আন্তর্জাতিক আন্ডার-সি কেবল গেটওয়ে’, ঘোষণা সুন্দর পিচাইয়ের

    Google: ‘বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠবে নয়া আন্তর্জাতিক আন্ডার-সি কেবল গেটওয়ে’, ঘোষণা সুন্দর পিচাইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট” উদ্যোগ ঘোষণা করল গুগল। এটি একটি বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প, যার লক্ষ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ডিজিটাল ও এআই (AI) সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো। নয়াদিল্লিতে চলমান ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ এই ঘোষণা করা হয়।

    সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য (Google)

    গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “এর লক্ষ্য হল এআইয়ের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল বিভাজন যাতে এআই বিভাজনে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “আজ আমরা ইন্ডিয়া-আমেরিকা কানেক্ট উদ্যোগ ঘোষণা করছি, যা ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের একাধিক জায়গার সঙ্গে এআই সংযোগ বাড়াতে নয়া আন্ডার-সি (সমুদ্রতল) কেবল রুট স্থাপন করবে।” এই প্রকল্পটি ভারতে এআই পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য গুগলের পাঁচ বছর মেয়াদি ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক আন্ডারসি গেটওয়ে স্থাপন। মুম্বই ও চেন্নাইয়ের মধ্যে থাকা কেবল ল্যান্ডিং পয়েন্টগুলির পাশাপাশি এই নতুন সংযোজন বৈচিত্র্য ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াবে।

    সমুদ্রতলে নয়া ৩ কেবল বসানোর পরিকল্পনা

    গুগল তিনটি নতুন আন্ডার-সি কেবল বসানোর পরিকল্পনাও করেছে, যা ভারতকে সরাসরি সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্ত করবে। ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনম থেকে চেন্নাই হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে একটি সরাসরি ফাইবার-অপটিক সংযোগ গড়ে তোলা হবে। আর একটি সরাসরি রুট বিশাখাপত্তনমকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা সাবমেরিন কেবল ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এসব বিনিয়োগের ফলে ভাইজাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আন্ডার-সি কেবল গেটওয়ে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

    কৌশলগত ফাইবার-অপটিক রুট

    নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত ও দক্ষিণ গোলার্ধের বিভিন্ন গন্তব্যে চারটি কৌশলগত ফাইবার-অপটিক রুট গড়ে তোলা হবে। এগুলি গুগলের বৈশ্বিক আন্ডারসি কেবল ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত হবে—যার মধ্যে রয়েছে ইকিউয়ানো, নুভেম, বসান, টাবুয়া, তালয়ালিঙ্ক, অনোমোয়ানা, ব্লু, রামন এবং সল।  এসব সংযোগ একাধিক বিকল্প ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন পথ তৈরি করবে, যেমন আমেরিকার পূর্ব উপকূল থেকে আফ্রিকা ঘুরে ভাইজাগে সংযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর ও অস্ট্রেলিয়া হয়ে ভাইজাগে সংযোগ, এবং মুম্বই থেকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সহায়ক লিঙ্ক।

    উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র), এশিয়া (ভারত ও সিঙ্গাপুর), আফ্রিকা (দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং অস্ট্রেলিয়া/ওশেনিয়া—এই চার মহাদেশকে যুক্ত করে আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট ঐতিহাসিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলিকে আধুনিক শক্তিশালী ডিজিটাল রুটে রূপান্তর করতে চায়। উন্নত পরিকাঠামো ভারতের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেট পরিষেবা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে এটি দেশে ব্যাপক এআই গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট প্রকল্প আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এআইয়ের প্রবেশাধিকারও বাড়াবে।

     

  • Final Phase Of SIR: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বড়সড় সংশোধন! এপ্রিল থেকেই শুরু শেষ পর্যায়ের এসআইআর

    Final Phase Of SIR: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বড়সড় সংশোধন! এপ্রিল থেকেই শুরু শেষ পর্যায়ের এসআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আরও ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR)-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Final Phase Of SIR) সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি এই নতুন পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। কমিশন (Election Commission Of India) সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কোন কোন রাজ্যে শুরু হবে এসআইআর

    বৃহস্পতিবার কমিশন অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক, লাদাখ, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, দিল্লি, ওড়িশা, পাঞ্জাব, সিকিম, ত্রিপুরা, তেলঙ্গানা ও উত্তরাখণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, গত বছরের জুন মাসেই সারা দেশে এসআইআর চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে বিহারে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে এবং ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রায় ৬০ কোটি ভোটারকে নিয়ে কাজ চলছে। বাকি প্রায় ৪০ কোটি ভোটারকে এই ১৭টি রাজ্য ও ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অসমে এসআইআর-এর বদলে ‘বিশেষ সংশোধন’ প্রক্রিয়া ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।

    বাংলায় কোন পর্যায়ে এসআইআর

    এসআইআর-এর (Final Phase Of SIR) এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও কম নয়। তবে, বিহারে প্রস্তুতি চলাকালীনই কমিশনের কিছু আধিকারিক দাবি করেছিলেন, তৃণমূল স্তরে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশ, নেপাল ও মায়ানমারের কয়েকজন অনুপ্রবেশকারী নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধরনের নাগরিকের খোঁজ মিলেছে। সীমান্তে ভিড়ও চোখে পড়েছে। যদিও পরবর্তীতে কমিশন এই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সংখ্যা বা প্রমাণ প্রকাশ করেনি। পশ্চিববঙ্গ-সহ ১২ রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া। ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু তালিকা প্রকাশের দিন নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সূত্রের খবর, নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই তালিকা প্রকাশ নাও হতে পারে। বাড়তে পারে সময়সীমা। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘যদি অভিযোগ নিষ্পত্তি শেষ না হয়, যদি কাজ না শেষ হয় সেক্ষেত্রে সময় বাড়বে। আগে তো ইআরও এইআরও, জেলাশাসকরা বলুক কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সময় বাড়বে।”

  • Ram Mandir: ধর্মীয় নগরী থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে অযোধ্যা, কীভাবে জানেন?

    Ram Mandir: ধর্মীয় নগরী থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে অযোধ্যা, কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাম জন্মভূমি (Ram Mandir) মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি হয় এর উদ্বোধন। এই ঐতিহাসিক আয়োজন শুধু ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনাকেই পুনর্জাগরিত করেনি, বরং অযোধ্যাকে (Ayodhya) কেবল ধর্মীয় নগরী থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এর পেছনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিশেষভাবে অবদান রেখেছে।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ (Ram Mandir)

    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় মন্দিরগুলি শুধু আস্থার কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিকাঠামো বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিরুপতি, বৈষ্ণোদেবী ও শিরডির মতো তীর্থস্থানগুলি তার উদাহরণ। এখন অযোধ্যাও আধুনিক অগ্রগতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ের এক নতুন মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম), লখনউ “দ্য ইকোনমিক রেনেসাঁ অব অযোধ্যা, ইন্ডিয়া: এ কেস স্টাডি অন শ্রী রাম মন্দির” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে এই পবিত্র স্থানটি অযোধ্যার অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে (Ram Mandir)।

    মন্দির অর্থনীতি

    মন্দির অর্থনীতি বলতে মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সব অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে বোঝায়—দর্শনার্থীদের আগমন, তীর্থ পর্যটন, মন্দির পরিচালনা, প্রসাদ, ফুলের মালা, আবাসন, পরিবহণ-সহ অন্যান্য পরিষেবা। প্রাচীনকালে স্থানীয় অর্থনীতি যখন প্রধান ছিল, তখন মন্দিরগুলি আশপাশের জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করত। তীর্থযাত্রা দোকানদার, কারিগর, পুরোহিত, গাইড-সহ বহু মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করত। বারাণসী, মাদুরাই, পুষ্কর ও উজ্জয়িনীর মতো শহরগুলি বড় শিল্পনগরী হিসেবে নয়, বরং মন্দির ও তীর্থকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত (Ayodhya)। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই মন্দিরকেন্দ্রিক অর্থনীতি এসব শহরকে টিকিয়ে রেখেছে। প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থেও উল্লেখ রয়েছে যে মন্দিরগুলিকে সমাজের সব স্তরের, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হবে।

    কী বলছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা

    স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ভারতের মন্দির অর্থনীতি প্রতিবছর প্রায় ৩.০২ লক্ষ কোটি থেকে ৬ লক্ষ কোটি টাকা অবদান রাখে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২.৩ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ। একইভাবে রাম মন্দির অযোধ্যার অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে এবং শহরটিকে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ তীর্থস্থানগুলির তালিকায় লিপিবদ্ধ করেছে (Ram Mandir)। রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে সরকারকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা কর দিয়েছে। এর মধ্যে ২৭০ কোটি টাকা জিএসটি এবং ১৩০ কোটি টাকা অন্যান্য কর হিসেবে জমা হয়েছে। মন্দির থেকে সরকার প্রায় ৪০০ কোটি টাকা জিএসটি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে (Ayodhya)।

    অযোধ্যার অর্থনৈতিক প্রভাব

    মন্দির উদ্বোধনের পর অযোধ্যার অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় পর্যটন পরিবহণ, হোটেল, খাদ্য, ব্যবসা ও দান-খয়রাতিকে  বিশেষভাবে চাঙা করেছে। আইআইএম লখনউয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩.৭৭ কোটি ভক্ত অযোধ্যা পরিদর্শন করেছেন এবং বছরের শেষে এই সংখ্যা ১৬–১৮ কোটিতে পৌঁছায়। তুলনায় ইতালির ভ্যাটিকান সিটি প্রতিবছর প্রায় ০.৯ কোটি দর্শনার্থী পায়। মুসলমানদের পবিত্রতম তীর্থস্থান মক্কায় প্রায় ২ কোটি মানুষ যান। অযোধ্যাও অন্যান্য ধর্মীয় কেন্দ্রকে ছাড়িয়ে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি পর্যটন আয় অর্জন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে (Ram Mandir)।

    অর্থনৈতিক প্রভাব ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি

    এসবিআইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবর্ষে অযোধ্যায় তীর্থযাত্রা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অর্থনৈতিক প্রভাব ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এতে পর্যটন, আতিথেয়তা, খুচরো ব্যবসা ও পরিবহণ খাতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের পর একদিনেই দানের পরিমাণ ৩ কোটিরও বেশি হওয়ায় মন্দিরের জনপ্রিয়তা স্পষ্ট হয়। উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২৫ অর্থবর্ষে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব পেয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ছে (Ayodhya)। অযোধ্যায় হোটেল ও লজ খাতে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। ১৫০টির বেশি হোটেল ও লজ নির্মিত হয়েছে বা নির্মাণাধীন। তাজ হোটেলস, রেডিসন ও ওয়ো-র মতো ব্র্যান্ড সেখানে বিনিয়োগ করছে। সারা বছর হোটেলের গড় দখলের হার ৬০–৭০ শতাংশ, আর উৎসবের মরশুমে তা ১০০ শতাংশ (Ram Mandir)। ডোমিনোজ ও পিৎজা হাটের মতো আন্তর্জাতিক খাদ্যচেইনও শাখা খুলেছে।

    ব্যাপক কর্মসংস্থান

    মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনায় সরাসরি ১,০০০-এর বেশি মানুষ কাজ করছেন। মন্দির নির্মাণের সময় ৫০,০০০-এর বেশি শ্রমিক যুক্ত ছিলেন। মন্দির সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ১.২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। জমির মূল্য ২০২০ সালের আগে যেখানে প্রতি বর্গফুট ৪০০–৮০০ টাকা ছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৪,০০০–১০,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। অযোধ্যা মাস্টার প্ল্যান ২০৩১-এর আওতায় ৮৫,০০০ কোটিরও বেশি বিনিয়োগ ঘোষণা করা হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, স্মার্ট ট্রাফিক, বাস টার্মিনাল ও নগর সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়। ২০২৫ অর্থবর্ষে ১.১ কোটি যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছে। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণ ৪২৩ শতাংশ। ভবিষ্যতে বছরে ১০ কোটি যাত্রী পরিবহণের পরিকল্পনা রয়েছে (Ayodhya)।

    অযোধ্যা ধাম জংশন আধুনিকীকরণ

    অযোধ্যা ধাম জংশন আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। লখনউ, বারাণসী, প্রয়াগরাজ ও গোরখপুরের সঙ্গে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ স্থাপন হয়েছে। ই-রিকশার সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭,০০০। হোটেলের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০০। ব্যাঙ্কের শাখা ১৫ থেকে ৬০ (Ram Mandir)। ইলেকট্রনিক্স দোকান ১০৮ থেকে ৪০১। পেট্রোল ও সিএনজি পাম্প ৫০-এর কম থেকে ৭৫-এর বেশি। ফুটপাতে বিক্রেতার সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ২,০০০। ফৈজাবাদ, বস্তি, সুলতানপুর, আমেঠি, লখনউ ও গোরখপুরেও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। হোটেল, গেস্ট হাউস, ধর্মশালা এবং লজিস্টিক সেবার সম্প্রসারণ ঘটেছে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে, মোদি ও যোগী সরকার শুধু রাম মন্দির নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অযোধ্যাকে বিশ্বমানের তীর্থনগরী (Ayodhya) হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনায় কাজ করছে (Ram Mandir)।

     

  • Daily Horoscope 20 February 2026: আটকে থাকা টাকা ফিরে পাবেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 20 February 2026: আটকে থাকা টাকা ফিরে পাবেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) আটকে থাকা কাজের কারণে সকাল থেকে ব্যস্ত থাকবেন।

    ২) কর্মক্ষেত্রে একাধিক উৎস থেকে অর্থ লাভ হবে।

    ৩) আবশ্যক চিন্তায় জড়িয়ে পড়বেন, যার ফলে আপনার কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন না, এর ফলে সমস্যা বাড়বে।

    বৃষ

    ১) আটকে থাকা টাকা ফিরে পাবেন।

    ২) অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হবে, তাঁদের সঙ্গে নিজের মনের কথা ভাগ করবেন না।

    ৩) প্রেমীর জন্য কোনও নতুন কাজ শুরু করতে পারেন।

    মিথুন

    ১) আজকের দিনটি কাজকর্মের দিক দিয়ে ভালো।

    ২) সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি বিবাদে জয় লাভ করবেন।

    ৩) সহজেই পরিবারের কোনও সদস্যের সাহায্য করতে পারবেন।

    কর্কট

    ১) আজকের দিনটি দুশ্চিন্তায় কাটবে।

    ২) জীবনসঙ্গীর স্বাস্থ্য দুর্বল হবে।

    ৩) বন্ধু আপনার জন্য কোনও উপহার আনতে পারে।

    সিংহ

    ১) আজকের দিনটি উন্নতিদায়ক।

    ২) চাকরিজীবী জাতকদের উন্নতি হবে।

    ৩) আমদানি-রফতানির ব্যবসা করেন যাঁরা, তাঁরা বড়সড় ডিল লাভ করতে সফল হবেন।

    কন্যা

    ১) আজকের দিনটি মাঝারি ফলদায়ী।

    ২)  অনাবশ্যক ব্যয় চিন্তায় ফেলবে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে শত্রুর ষড়যন্ত্র বুঝতে হবে।

    তুলা

    ১) আজকের দিনটি আনন্দে ভরপুর থাকবে।

    ২) পারিবারিক জীবনে সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

    ৩) নিজের চিন্তাভাবনার দ্বারা বরিষ্ঠদের প্রসন্ন করবেন।

    বৃশ্চিক

    ১) আজ আটকে থাকা কাজ সময়ের মধ্যে পুরো করতে পারবেন।

    ২) পরিজনদের সঙ্গে মনের কোনও ইচ্ছা ভাগ করে নিতে পারেন।

    ৩) পুরনো আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হতে পারে।

    ধনু

    ১) ব্যয় বাড়বে।

    ২) আমদানি ভালো হওয়ায় অবসাদমুক্ত থাকবেন।

    ৩) পরিবারের বরিষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে শুভ অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন।

    মকর

    ১) আজকের দিনটি অনুকূল থাকবে।

    ২) নিশ্চিত ভাবে নিজের ও অন্যান্যদের ভালো করবেন।

    ৩) সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে সুনাম অর্জন করবেন।

    কুম্ভ

    ১) আজকের দিনটি আনন্দে ভরপুর।

    ২) কোনও বন্ধুর কাছ থেকে সুসংবাদ পেতে পারেন।

    ৩)  সম্পত্তি ক্রয়ের আগে সমস্ত দিক ভালোভাবে খতিয়ে দেখে নিন।

    মীন

    ১) আজ মিশ্র ফলাফল লাভ করবেন।

    ২) কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাহায্য লাভ করবেন।

    ৩) দীর্ঘদিন ধরে কোনও কারণে চিন্তিত থাকলে তা দূর হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 585: “‘নাহং’ ‘নাহং’ ‘নাহং’ আমি কেহ নি, হে ঈশ্বর! তুমি কর্তা; আমি দাস তুমি প্রভু”

    Ramakrishna 585: “‘নাহং’ ‘নাহং’ ‘নাহং’ আমি কেহ নি, হে ঈশ্বর! তুমি কর্তা; আমি দাস তুমি প্রভু”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২২শে অক্টোবর
    যুগধর্ম কথাপ্রসঙ্গে—জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ

    “তিনি সাকার, তিনি নিরাকার। কিরকম জানো? যেন সচ্চিদানন্দ-সমুদ্র। কূল কিনারা নাই। ভক্তিহিমে সেই সমুদ্রের স্থানে স্থানে জল বরফ হয়ে যায়, যেন জল বরফ আকারে জমাট বাঁধে; অর্থাৎ ভক্তের কাছে তিনি সাক্ষাৎ হয়ে কখন কখন সাকাররূপ হয়ে দেখা দেন। আবার জ্ঞানসূর্য উঠলে সে বরফ গলে যায় (Kathamrita)।”

    ডাক্তার—সূর্য উঠলে বরফ গলে জল হয়; আবার জানেন, জল আবার নিরাকার বাষ্প হয়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—অর্থাৎ ‘ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা’ এই বিচারের পর সমাধি হলে রূপ-টুপ উড়ে যায়। তখন আর ঈশ্বরকে ব্যক্তি (Person) বলে বোধ হয় না। কি তিনি মুখে বলা যায় না। কে বলবে? যিনি বলবেন তিনিই নাই। তিনি তাঁর ‘আমি’ আর খুঁজে পান না। তখন ব্রহ্ম নির্গুণ (Absolute)। তখন তিনি কেবল বোধে বোধ হন। মন-বুদ্ধি দ্বারা তাঁকে ধরা যায় না। (Unknown and Unknowable)

    “তাই বলে, ভক্তি—চন্দ্র; জ্ঞান—সূর্য। শুনেছি, খুব উত্তরে আর দক্ষিণে সমুদ্র আছে। এত ঠাণ্ডা যে, জল জমে মাঝে মাঝে বরফের চাঁই হয়। জাহাজ চলে না। সেখানে গিয়ে আটকে যায়।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—হাঁ, তা যায় বটে, কিন্তু তাতে হানি হয় না, সেই সচ্চিদানন্দ-সাগরের জলই জমাট বেঁধে বরফ হয়েছে। যদি আরও বিচার করতে চাও, যদি ‘ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা’ এই বিচার কর, তাতেও ক্ষতি নাই। জ্ঞানসূর্যেই বরফ গলে (Kathamrita) যাবে; তবে সেই সচ্চিদানন্দ-সাগরই রইল।

    কাঁচা আমি ও পাকা আমি—ভক্তের আমি—ভক্তের আমি—বালকের আমি

    “জ্ঞানবিচারের শেষে সমাধি হলে, আমি-টামি কিছু থাকে না। কিন্তু সমাধি হওয়া বড় কঠিন। ‘আমি’ কোন মতে যেতে চায় না। আর যেতে চায় না বলে, ফিরে এই সংসারে আসতে হয়।

    “গরু হাম্বা হাম্বা (আমি, আমি) করে তাই এত দুঃখ! সমস্ত দিন লাঙল দিতে হয়—গ্রীষ্ম নাই, বর্ষা নাই। কিম্বা তাকে কসাইয়ে কাটে। তাতেও নিস্তার নাই। চামারে চামড়া করে, জুতা তৈয়ারি করে। অবশেষে নাড়ীভুঁড়ি থেকে তাঁত হয় (Kathamrita)। ধুনুরীর হাতে পড়ে যখন তুঁহু তুঁহু (তুমি তুমি) করে, তখন নিস্তার হয়।

    “যখন জীব বলে, ‘নাহং’ ‘নাহং’ ‘নাহং’ আমি কেহ নি, হে ঈশ্বর! তুমি কর্তা; আমি দাস তুমি প্রভু—তখন নিস্তার; তখনই মুক্তি।”

    ডাক্তার—কিন্তু ধুনুরীর হাতে পড়া চাই। (সকলের হাস্য)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—যদি একান্ত ‘আমি’ না যাস, থাক শালা ‘দাস আমি’ হয়ে। (সকলের হাস্য)

  • Pakistan: “টয়লেট পরিষ্কার করার পর আমরা কীভাবে খেলতে পারি?” পাকিস্তান হকি ফেডারেশন সভপতির পদত্যাগ

    Pakistan: “টয়লেট পরিষ্কার করার পর আমরা কীভাবে খেলতে পারি?” পাকিস্তান হকি ফেডারেশন সভপতির পদত্যাগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান (Pakistan) হকিতে অত্যাশ্চর্য সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফেডারেশনের (Hockey Federation) সভাপতি তারিক হুসেন বুগতি বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক এফআইএইচ প্রোলিগ সফরে ফেডারেশনের পরিচালনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করার জন্য জাতীয় দলের অধিনায়ক আম্মাদ শাকিল বাটকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরপরই তিনি পদত্যাগ করেন। এই ঘটনায় শোরগোল পড়েছে।

    বুধবার পাকিস্তান পুরুষ হকি দল এফআইএইচ প্রো লিগের শেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে লাহোরে ফিরে আসার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সেখানে আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ডসের মতো শীর্ষ দলগুলির কাছে খুব খারাপ ভাবে পরাজয়ের শিকার হতে হয়। আটটি ম্যাচের সবকটিতেই হারে পাকিস্তান।

    হোটেলে থাকা খাওয়ার জন্য টাকা দেওয়া হয়নি (Pakistan)

    পাকিস্তান (Pakistan) স্পোর্টস বোর্ড পিএসবিকে তহবিলের অব্যবস্থাপনা এবং বিদেশে দলের অপমানজনক অভিজ্ঞতার জন্য দায়ী করে বুগতি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তারিক হুসেন বুগতি। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানে হকির জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও এই টাকা পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ডের কাছেই রয়েছে। টাকা ঠিক করে খরচ করা হয়নি। বোর্ডে (Hockey Federation) বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক সমস্যাও রয়েছে। পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ডের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে ব্যর্থ হয়েছে। দলের হোটেলে থাকা খাওয়ার জন্য সঠিক ভাবে টাকা দেওয়া হয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রো লিগ চলাকালীন ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করছি।”

    বিল পরিশোধ না করার কারণে হোটেল থেকে বের করা হয়

    অপর দিকে পাকিস্তান (Pakistan) দলের অধিনায়ক আম্মাদ শাকিল বাট সংবাদিক সম্মেলনে পিএইচএফে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে খেলোয়াড়দের মানসিক হয়রানিকে উল্লেখ করেছেন। হকি দলের অধিনায়ক (Hockey Federation) বাট বলেন, “বিল পরিশোধ না করার কারণে হোবার্টের হোটেল থেকে দলকে বের করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। খেলোয়াড়দের লাগেজ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তারপরে একটি নিম্নমানের গেস্ট হাউসে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে থালা-বাসন ধোয়া, টয়লেট পরিষ্কার করা সহ ম্যাচের আগে তুচ্ছ অনেক কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। খেলোয়াড়দের মনোযোগ এবং কর্মক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছিল এই সব ঘটনা। টয়লেট পরিষ্কার করার পর আমরা কীভাবে খেলতে পারি?”

LinkedIn
Share