তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল
সকালের জলখাবারের মেনুতে কিংবা রাতে ভাত-রুটির সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে যায় ডিম! পরিবারের বড়রা তো বটেই, ছোট্ট খুদে সদস্যের ও ডিম অত্যন্ত প্রিয়। তাই নিয়মিত ডিম খেতে একেবারেই আপত্তি নেই। কিন্তু তীব্র ভ্যাপসা গরমে রোজ ডিম খাওয়া কি উচিত? অনেক মায়ের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে! নিয়মিত ডিম খেলে হজমের সমস্যা কিংবা পেটের অসুবিধা হবে না তো? এমন প্রশ্ন ও অনেকের! চিকিৎসকেরা অবশ্য জানাচ্ছেন, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। শিশু হোক বা বয়স্ক, গরমে ডিম খাওয়া নিয়ে কয়েকটি দিক খেয়াল রাখলেই, বিপদ কিছুই হবে না।
সন্তানের পাতে এই গরমেও কি ডিম দেওয়া যেতে পারে?
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের বয়স সাত মাস হোক বা সাত বছর, তাকে নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব ছোটো বয়স থেকেই নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। এতে শরীরে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। গরমে হজমের সমস্যার ভয়ে অনেকেই মনে করেন ডিম খাওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ডিম খেলে আলাদা ভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বরং, কীভাবে ডিম খাওয়া হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করছে, শরীর পুষ্টি পাবে নাকি অন্য সমস্যা তৈরি হবে!
প্রোটিন-ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে ডিম
তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত জলখাবার হোক কিংবা দুপুরে ভাতের পাতে ডিম দেওয়া যেতে পারে। এই গরমে ডিম সিদ্ধ করে খেলে কোনও অসুবিধা নেই। বরং এই গরমেও শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের এনার্জির জোগান বজায় রাখতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। ডিম নিয়মিত খেলে শরীর ভালো থাকবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ডিম খেলে শিশুর শরীরে প্রোটিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে। শিশুদের পেশির গঠন মজবুত হওয়া জরুরি। নিয়মিত ডিম খেলে পেশির গঠন ভালো হয়। তাছাড়া নিয়মিত ডিম খেলে প্রোটিনের ঘাটতি হয় না। প্রোটিন শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। গরমে অতিরিক্ত ঘামের জেরে অনেকেই সহজে ক্লান্তিবোধ করছেন। ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খেলে এই ক্লান্তি দূর হবে। সেই পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখা যেতেই পারে। আবার নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে একাধিক ভিটামিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হয়। তাই শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে। যে কোনও রোগের বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। গরমে নানান রোগের প্রকোপ বাড়ছে। রোগ থেকে বাঁচতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাই ডিম খাওয়া উচিত। নিয়মিত ডিম খেলে হাড় মজবুত হয়। শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটে। তাই গরমকালেও শিশুদের নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতেই পারে। এতে বাড়তি কোনো অসুবিধা নেই।
কোন দিকে নজর দিলে তবেই গরমে ডিম খেলে অসুবিধা হবে না?
গরমেও নিয়মিত ডিম খেলে বাড়তি অসুবিধা হবে না। তবে কয়েকটি দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম প্রাণীজ প্রোটিন। তাই ডিম হজম হতে সময় লাগে। শিশুদের দিনে একাধিক ডিম দেওয়া উচিত নয়। অনেক সময়েই তাদের অতিরিক্ত প্রোটিন হজম করতে অসুবিধা হয়। তাই পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে দিনে একটা ডিম দেওয়াই যথেষ্ট। গরমে হজমের সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। তাই শিশু ডিম বা অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিন খেলে অসুবিধা নেই। তবে হজমের গোলমাল এড়াতে শিশু পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, ডিমের মতো উপকারি প্রাণীজ প্রোটিন শিশুকে সকালে জলখাবারের সঙ্গে দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের প্রথম খাবার পুষ্টিসমৃদ্ধ হলে, তা শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারি হয়। তাছাড়া দিনভর শিশুর নানান শারীরিক কার্যকলাপ থাকে। ফলে হজম করতে সুবিধা হয়। আবার শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জিও জোগান দেয় ডিম। তাই তাঁদের পরামর্শ প্রাতঃরাশেই পাতে থাকুক ডিম।
সিদ্ধ ডিমে সবচেয়ে বেশি উপকার
তবে দুপুরে বা রাতের মেনুতেও ডিম রাখা যেতে পারে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, দুপুর বা রাতের মেনুতে ডিম থাকলে, তার সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি থাকা জরুরি। ডিম সিদ্ধের সঙ্গে গাজর, ব্রোকলি, বিনস কিংবা আলুর মতো সব্জি সিদ্ধ করে সামান্য পরিমাণ বাটারে নেড়ে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রাণীজ প্রোটিন সহজে হজম হবে। ভিটামিন ও প্রোটিনের ঠিকমতো ব্যালেন্স হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, শিশুদের ডিম সিদ্ধ দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন হজমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণীজ প্রোটিন অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। তাই মাছ ও মাংস খেলেও অনেকে হজমের সমস্যায় ভোগেন। ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেলে তার সম্পূর্ণ প্রোটিন শরীর পায়। আবার সিদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত তেল-মশলার সমস্যাও একদম থাকে না। ফলে শরীর সম্পূর্ণ পুষ্টি পাচ্ছে। ডিমের অমলেট হোক বা পোচ, অনেক সময়েই সেটা শিশুর পক্ষে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই গরমে শিশুকে নিয়মিত একটা সিদ্ধ ডিম দিলে শরীর ভালো থাকবে। উপকার পাওয়া যাবে।

Leave a Reply