Blog

  • K Annamalai Quits BJP: মিলল না দৃষ্টিভঙ্গি! দল ছাড়লেন আন্নামালাই, তামিল রাজনীতিতে নয়া চমক

    K Annamalai Quits BJP: মিলল না দৃষ্টিভঙ্গি! দল ছাড়লেন আন্নামালাই, তামিল রাজনীতিতে নয়া চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনার অবসান। ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ছাড়লেন তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই (K Annamalai)। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেছে দল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্র গ্রহণের মাধ্যমেই দক্ষিণের রাজনীতিতে এক বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘ফ্যান’ কে আন্নামালাই ২০২০ সালে আইএএস পদ থেকে ইস্তফা দেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য। তবে ৬ বছরেই সেই যাত্রার ইতি হল।

    আন্নামালাইয়ের ইস্তফা গ্রহণ

    শুক্রবার বিজেপির তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাইয়ের দলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা গ্রহণ করেছেন। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারই দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন আন্নামালাই। উভয় সম্মতিতেই তিনি দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান বলে জানান। এরপরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের সঙ্গেও দেখা করেন। তখন দলের তরফে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। সূত্রের খবর, আন্নামালাইকে রাজ্যসভার সাংসদ পদও অফার করা হয়, কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় ছিলেন। আজ শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিলেন তিনি।

    নতুন দল গঠন আন্নামালাই-এর

    ইস্তফাপত্রে আন্নামালাই লিখেছেন, “জাতীয় দলগুলি কখনও এমন ভাষায় কথা বলে না যা তামিলনাড়ুর মানুষেরা বোঝেন। আমি এই ধারণা বদল করতে চেয়েছিলাম এবং ভিতরে-বাইরে নানা বাধা বিপত্তি সত্ত্বেএ বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছিলাম।” বিগত ১৮ মাস ধরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন আন্নামালাই। ইস্তফাপত্রে লিখেছেন, “আমি শীর্ষ নেতৃত্বের উপরে আর বোঝা চাপাতে চাই না তামিলনাডুর রাজনীতি নিয়ে। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে আমি এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে তামিলনাড়ু নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি মেলে না।” ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন দল গঠনের কথা প্রকাশ্যে জানান তিনি। পাশাপাশি, আগামী তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে নিজের নতুন দলের ব্যানারেই লড়াই করার ইঙ্গিত দেন আন্নামালাই।

    কেন দলত্যাগ আন্নামালাইয়ের

    ৪১ বছর বয়সী প্রাক্তন এই আমলার দলত্যাগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। সূত্রের খবর, বিজেপি ছেড়ে এবার আন্নামালাই নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করতে পারেন। ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্য়েই তাঁকে রাজ্য় বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়। এক বছর পরে বিজেপি তাঁকে রাজ্য সভাপতি করে। মাত্র ৩৭ বছর বয়সেই এত বড় পদ পান আন্নামালাই। এরপরে ২০২৩ সালে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে কো-ইনচার্জও করা হয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোট বাধা নিয়েই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আন্নামালাই যে আসনে লড়তে চেয়েছিলেন, সেই আসন না দেওয়াতেই আরও বিরোধ তৈরি হয়। এআইএডিএমকে-র ইকে পালানিস্বামীর সঙ্গে তাঁর বিরোধের জেরেই এই ইস্তফা বলে মনে করা হচ্ছে।

  • West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগের আওতায় জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA)-এ যোগ দিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বুধবার (৪ জুন) একটি ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শেষ রাজ্য হিসেবে এই ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju), আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal) তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান (L. Murugan) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস (Rathindra Bose)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    দেশের ৩৩টি আইনসভা একই প্ল্যাটফর্মে

    সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্তির ফলে দেশের ৩৩টি আইনসভা প্রতিষ্ঠান এখন নেভা (NeVA) প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং ২৮টি রাজ্য ও দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পুদুচেরি—এই তিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা এবং উত্তরপ্রদেশের ছয়টি বিধান পরিষদও ইতিমধ্যে নেভা-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এদিন সমঝোতা স্মারকে কেন্দ্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ড. সত্য প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পক্ষে প্রধান সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস এবং রাজ্যের সংসদ বিষয়ক দফতরের বিশেষ সচিব সম্পা ধর।

    পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই প্রকল্পে যোগ দিতে অনীহা দেখিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মতো ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগেও অংশগ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো বৃহৎ আইনসভায় এখনও কাগজের মাধ্যমে ভোটাভুটি হত। কোনও ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা বা কার্যবিবরণীর লাইভ স্ট্রিমিং চালু ছিল না। পূর্ববর্তী সরকার এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এর ফলে রাজ্যের মানুষ আধুনিক ও স্বচ্ছ ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন।

    কী এই ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন?

    ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA) হল সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের একটি মিশন মোড প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য দেশের সব আইনসভার কার্যক্রমকে ডিজিটাল ও কাগজবিহীন করা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর, বিল, নোটিস, আশ্বাস, কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যতালিকা ও বুলেটিনসহ আইনসভার সমস্ত কাজ ডিজিটালভাবে পরিচালনা করা যায়। পাশাপাশি আইনসভার নথিপত্রের একটি স্থায়ী ডিজিটাল ভান্ডারও তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল আইনসভায় রূপান্তরের জন্য কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই উদ্যোগকে রাজ্যের প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।

     

     

     

     

     

  • Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তিনি পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত সকল ব্যক্তি ও সংগঠনকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা সময়ের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একাধিক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী (Modi on World Environmental Day) উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং বহু বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর মতে, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, কার্যকর নীতি, বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্ভাবন পরিবেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

    ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতির গুরুত্ব

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য দেশের গর্ব। দেশের বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র অসংখ্য প্রাণী ও মানুষের জীবিকা রক্ষা করে চলেছে।’’ তিনি বিশেষভাবে গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড, স্নো লেপার্ড, স্লথ বিয়ার এবং চিতাবাঘ সংরক্ষণ কর্মসূচির সাফল্যের কথা তুলে ধরে জানান, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ‘এক পেড় মা কে নাম’ (Ek Ped Maa Ke Naam) উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১.১৯ লক্ষ হেক্টর নতুন বনাঞ্চল যুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতি সংরক্ষণের গভীর ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এই বার্তা ভারতীয় ঐতিহ্য ও জ্ঞানের এক অনন্য প্রতিফলন। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী দেশের নাগরিকদের পরিবেশ রক্ষায় আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

    কবে থেকে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস

    প্রতিবছর ৫ ই জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭২ সালে ইউনাইটেড নেশনস-এর উদ্যোগে এই দিবসের সূচনা হয়। পরিবেশ রক্ষা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই ছিল যাদের মূল উদ্দেশ্য়। অতিরিক্ত শিল্পায়ন, প্লাস্টিকের ব্যবহার, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। তাই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শাহি বার্তা

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশবাসীকে প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষা একটি যৌথ দায়িত্ব। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন এবং বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধিতে বিশ্বে শীর্ষ তিনটি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, পরিবেশ রক্ষা শুধুমাত্র সরকারের কাজ নয়, এটি সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ আজ একটি বিশ্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণে ভারতের পদক্ষেপের কথাও বলেন তিনি। সৌরশক্তি, ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন এবং লক্ষ লক্ষ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ভারত টেকসই উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ভারতের বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধির হার বিশ্বের প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে অন্যতম। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) প্রকৃতি রক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। গত ৬ বছরে তারা ৭.৫ কোটিরও বেশি গাছের চারা রোপণ করেছে এবং সেগুলির সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করছে। অমিত শাহ আরও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে একটি সবুজ, নিরাপদ এবং সুস্থ ভারত গড়ে তুলতে ভারত সরকার দায়বদ্ধ।

    পরিবেশ দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ

    আজ, শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বছরভর বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এ দিন সকালে সল্টলেকের নলবনে সেই কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ‘একটি গাছ মায়ের নামে ২০২৬’। নলবনে এ দিন বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাজির ছিলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা। বৃক্ষরোপণের পরে নলবন ভেড়িতে মাছের চারা ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যেও “এক পেড় মা কে নাম”

    প্রধানমন্ত্রীর “এক পেড় মা কে নাম” প্রকল্পের আদলে রাজ্যেও শুরু হচ্ছে বড়সড় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। ২০২৪ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, এবার সেই পথ অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গে গাছ লাগানোর বিশেষ অভিযান শুরু করতে চলেছে প্রশাসন। এই কর্মসূচির আওতায় রাজ্যে মোট প্রায় ১.১ কোটি চারাগাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষকেও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জেলা ও কলকাতা পুরসভা স্তরে প্রায় ৫ হাজার করে চারাগাছ রোপণ করা হবে। ব্লক স্তরে ১০০টি করে এবং পুরসভা এলাকায় ২০০টি করে চারাগাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি বরো স্তরে ৩০০টি করে চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এছাড়া প্রত্যেক বিধায়ককে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় ১ হাজারটি করে গাছ লাগানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি সমন্বয় টিমও গঠন করা হয়েছে। এই কর্মসূচি চলবে আগামী ৫ জুন থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণকে আরও বেশি করে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। বৈঠকে সঙ্গে ছিলেন জাহাজ মন্ত্রকের অন্যান্য আধিকারিকরাও। জানা গিয়েছে, রাজ্যের নতুন বন্দরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক। এ ছাড়াও রাজ্যের বর্তমান বন্দরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয় এই বৈঠকে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য সর্বাগ্রে প্রস্তুত ডাবল ইঞ্জিন সরকার, নবান্নে বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী।

    ৪৪টি নতুন জেটি

    শুভেন্দু জানিয়েছেন, ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে। তার অনুমোদন এত দিন ঝুলে ছিল। তবে সম্প্রতি ৪১টি জেটির জন্য সরকার অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হবে। কপিল মুনির আশ্রম এবং সাগর দ্বীপ নিয়ে সার্বিক ভাবে রাজ্য সরকারের যা অনুরোধ ছিল, কেন্দ্র তা মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরের মেলায় রূপান্তরিত করতে কেন্দ্রের সব রকম সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বলাগড়েও বন্দর যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজ এবং ভাঙন রোধের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। রাজ্যে পৃথক জাহাজ দফতর তৈরি করতে চায় শুভেন্দুর সরকার। কেন্দ্রের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যোগ্য আধিকারিকদের এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।

    মমতা সরকারের অপরিকল্পিত ভাবনা

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০২২ সালে আদানি গোষ্ঠীকে লেটার অফ ইন্টেন্ট দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপর দু বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কাজ না শুরু হওয়ায় রাজ্য সরকার টেন্ডার বাতিলের চিন্তাভাবনা শুরু করে। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদানি গোষ্ঠীকে দেওয়া লেটার অফ ইন্টেন্ট বাতিল করা হয়। যার নির্যাস, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প (Tajpur Deep Sea Port) বিশবাঁও জলে। ২০২৩ সালের বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করবে রাজ্য সরকার। টেন্ডার মূল্য প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা। এরপর তাজপুর নিয়ে আরও কোনও আলোচনাই হয়নি। রাজ্যের প্রস্তাবিত ওই প্রকল্প নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয় বুধবার অর্থাত্‍ ৩ জুন আদানি পোর্টের এমডি করণ আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মিটিংয়ের পর।

    কেন দাঁড়ায়নি প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায়,‘‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে মুল্যায়ন করতে গিয়ে দেখেছি, সরকারের হাতে কোনও জমিই ছিল না। আমি তখন বিরোধী দলনেতা হিসেবেও বারবার বলেছিলাম, তাজপুর বন্দরের প্রকল্প কখনও দাঁড়াবে না, যতদিন না রেল, জাতীয় সড়ক যোগাযোগ ও ওয়্যারহাউসের জন্য কয়েক হাজার একর জমি না পাওয়া যায়। ফাইনালি সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে আমাদের আধিকারিকরা যা মূল্যায়ন করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, ওখানে পোর্ট সম্ভবই নয়। কারণ রাজ্য সরকারের হাতে কোনও জায়গাই নেই। কিন্তু মানুষকে আমরা আশাহত করছি না, আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি, তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়, যেখানে নুনের পুরনো ফ্যাক্টরি ছিল, সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্য সরকারের হাতে রয়েছে। আমরা এবার এই জমি নিয়েই এগোবো। ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেভিনিউ শেয়ারিংয়েও আমরা রাজি আছি।’’

    ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) আরও জানান, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা। শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি রপ্তানি ব্যবসার জন্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প সাগরমালা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পূর্বতন সরকার ‘অনিচ্ছা এবং অপদার্থতার’ জন্য এই প্রকল্পের অংশ হয়নি। তার ফলে সাগরমালা ১ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। এবার কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে বাংলা সাগরমালা ২-এর অধীনে এল। তার ফলে রাজ্যে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাংলায় হবে বলেই আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।

     

     

     

     

  • CBSE OSM Portal: সিবিএসই ওএসএম পোর্টালের দুর্বলতা ধরিয়ে তাক লাগালো তিন তরুণ ‘ভালো’ হ্যাকার, একজন বাঙালি

    CBSE OSM Portal: সিবিএসই ওএসএম পোর্টালের দুর্বলতা ধরিয়ে তাক লাগালো তিন তরুণ ‘ভালো’ হ্যাকার, একজন বাঙালি

    সুশান্ত দাস

    দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা বোর্ড সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)-এর নতুন চালু হওয়া ওএসএম (OSM) ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে গরমিল, এমনকি একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা দিতে টেন্ডারের নিয়ম পরিবর্তনের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাগুলির কেন্দ্রে রয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া তিন কিশোর— নিসর্গ আধিকারী, সার্থক সিদ্ধান্ত এবং বেদান্ত শ্রীবাস্তব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কুয়েট (CUET) পরীক্ষার প্রযুক্তিগত সমস্যার পর এই নতুন বিতর্ক দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

    কী এই অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা?

    সম্প্রতি দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও ডিজিটাল করতে সিবিএসই চালু করে অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় পরীক্ষকদের কাছে উত্তরপত্রের স্ক্যান করা কপি অনলাইনে পাঠানো হয় এবং তাঁরা নির্দিষ্ট পোর্টালে লগ-ইন করে মূল্যায়ন করেন। বোর্ডের দাবি ছিল, এর ফলে মূল্যায়ন দ্রুত হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। কিন্তু চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

    শিলিগুড়ির নিসর্গ আধিকারীর হ্যাকিংয়ে সামনে এল একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি

    শিলিগুড়ির বাসিন্দা ১৯ বছরের ছাত্র এবং সাইবার নিরাপত্তা গবেষক নিসর্গ আধিকারী, যিনি এ বছরই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছেন, ২২ মে একটি ব্লগ পোস্টে ওএসএম (OSM) পোর্টালের একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ করেন। আধিকারীর দাবি, তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পোর্টালটি পরীক্ষা করে বেশ কিছু উদ্বেগজনক দুর্বলতা খুঁজে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে ভারতের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT-In)-কে বিষয়টি জানান। তাঁর ব্লগে উল্লেখ করা হয়েছে, পোর্টালের কোডে একটি ‘‘হার্ডকোডেড মাস্টার পাসওয়ার্ড’’ ছিল। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর আইডি এবং স্কুল কোড জানা থাকলে যে কেউ সেই মাস্টার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারত।

    নিসর্গ আধিকারীর দাবি অনুযায়ী—

    • ● ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা দুর্বল ছিল।
    • ● ওটিপি (One-Time Password) যাচাইকরণ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।
    • ● পরীক্ষকের পরিচয়ে লগ-ইন করা সম্ভব ছিল।
    • ● পোর্টালে প্রবেশের পর মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের সুযোগও তৈরি হতে পারত।

    তিনি জানান, এই তথ্য সার্ট-ইন-কে পাঠানোর পর একটি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া পেলেও পরবর্তী একাধিক অনুস্মারকের কোনও উত্তর পাননি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সিবিএসই প্রথমে অভিযোগগুলি অস্বীকার করলেও পরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানায় এবং অভিযোগ উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানায়।

    উত্তরপত্রে ভয়াবহ গরমিল, অন্য ছাত্রের খাতা পেলেন পরীক্ষার্থী

    ওএসএম ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরদার হয় ১৭ বছরের ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তবের ঘটনার পর। ২৩ মে ২০২৬-এ বেদান্ত সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দাবি করেন, তিনি নিজের উত্তরপত্রের ফটোকপি চাওয়ার পর দেখতে পান যে পদার্থবিদ্যার যে উত্তরপত্র সিবিএসই তাঁকে দিয়েছে, সেটি তাঁর নয়। পরিবারের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। এমনকি তাঁদের ‘‘দেশবিরোধী’’ ও ‘‘পাকিস্তানি’’ বলেও আক্রমণ করা হয়। বেদান্তের ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন নয়, তা-ও সামনে এসেছে। একাধিক পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি ও মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

    টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেন সার্থক সিদ্ধান্ত

    বিতর্কের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয় ৩০ মে, যখন ১৮ বছরের ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্ত একটি বিশদ ব্লগ পোস্টে অভিযোগ করেন যে সিবিএসই ইচ্ছাকৃতভাবে টেন্ডারের শর্ত পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা দিয়েছে। ওএসএম (OSM) অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ‘কোএমপ্ট্ এডুটেক’ (Coempt Edu Teck)। সার্থকের দাবি, সরকারি সংস্থা হিসেবে সিবিএসঅর কোনও নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP)-এর মাধ্যমে সংস্থা নির্বাচন করতে হয়। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছিল—

    ১. কোম্পানির অতীত ব্যর্থতার মূল্যায়ন সংক্রান্ত ধারা বাদ

    যেসব ধারা কোনও সংস্থার অতীত চুক্তিভঙ্গ, আর্থিক ব্যর্থতা বা প্রকল্প মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ দিত, সেগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ২. সফটওয়্যার মান নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড শিথিল

    সফটওয়্যার উন্নয়নের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কেপাবিলিটি ম্যাচুরিটি মডেল ইন্টিগ্রেশন (CMMI)-এর প্রয়োজনীয়তা লেভেল ৫ থেকে কমিয়ে লেভেল ৩ করা হয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, CMMI লেভেল ৫ সর্বোচ্চ মানের সফটওয়্যার প্রক্রিয়া নির্দেশ করে। লেভেল ৩-এ নামিয়ে আনা হলে নিরাপত্তা ও গুণগত মানের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩. স্ক্যানিং অবকাঠামোর মান কমানো

    সার্থকের দাবি, উত্তরপত্র স্ক্যান করার যন্ত্রপাতির মান সংক্রান্ত শর্তও শিথিল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনগুলি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে যোগ্য করে তুলতেই নিয়মগুলি সংশোধন করা হয়েছিল।

    অতীতেও বিতর্কে জড়িয়েছিল সংস্থাটি

    সার্থক তাঁর প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, কোএমপ্ট্ এডুটেক অতীতে তেলঙ্গানা রাজ্যের পরীক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত ২০১৯ সালের একটি বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত ছিল, যেখানে উত্তরপত্র স্ক্যানিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সরকারি তদন্তের ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।

    সিবিএসই-র প্রতিক্রিয়া

    ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মুখে সিবিএসই জানিয়েছে, তারা ওএসএম (OSM) পোর্টালের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়োগ করেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনও নাগরিক বা পরীক্ষার্থী যদি কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয় লক্ষ্য করেন, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    বড় প্রশ্নের মুখে দেশের ডিজিটাল পরীক্ষাব্যবস্থা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পোর্টালের প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয় নয়। এটি দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, কুয়েট-এর প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং এখন সিবিএসই ওএসএম বিতর্ক— এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করা ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থাগুলির ওপর আরও কঠোর প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা, স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে ছাত্র, অভিভাবক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নজর সিবিএসই-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তের ফলাফল এবং সম্ভাব্য সংস্কারই নির্ধারণ করবে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বোর্ড তার ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার উপর হারিয়ে যাওয়া আস্থা কত দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারে।

    নিসর্গ-সার্থকদের কাজকে সাধুবাদ সংসদের স্থায়ী কমিটির

    নিসর্গ, বেদান্ত ও সার্থকের মতো তরুণ এথিক্যাল হ্যাকারদের এই দলটি ছোট হলেও ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এরা নীরবে দেশের শিক্ষা-পরিকাঠামোর নানা ত্রুটি ও নিরাপত্তা দুর্বলতা উন্মোচন করেছে এবং কর্তৃপক্ষকে বহু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছে। সার্থককে সংসদের স্থায়ী কমিটির সামনে হাজির হতে সমন পাঠানো হয়েছিল। তিনিই এই কমিটির সামনে সাক্ষ্যদানকারী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। সেখানে তিনি যাবতীয় তথ্য পেশ করে, আমলা-কর্তাদের চোখ খুলে দেন। এর জন্য যথেষ্ট বাহবাও পেয়েছেন সার্থক। এথিক্যাল হ্যাকার নিসর্গ-সার্থকদের কাজ সংসদীয় কমিটি, সরকার এবং আমলাদের বাধ্য করেছে বিভিন্ন সরকারি পোর্টালের ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে ও পদক্ষেপ নিতে। তাঁরা দেশের সামনে এক নির্মম আয়না তুলে ধরেছেন— আর সেই আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনও উপায় ছিল না পদাধিকারীদের।

  • DMK: কংগ্রেসের সঙ্গে গোঁসা! ‘ইন্ডি’ জোটের অস্বস্তি বাড়িয়ে ৮ জুনের বিরোধী বৈঠকে গরহাজির ডিএমকে

    DMK: কংগ্রেসের সঙ্গে গোঁসা! ‘ইন্ডি’ জোটের অস্বস্তি বাড়িয়ে ৮ জুনের বিরোধী বৈঠকে গরহাজির ডিএমকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ‘ইন্ডি’ (India Bloc) জোটের অভ্যন্তরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত। আগামী ৮ জুন আয়োজিত হতে চলা বিরোধী দলগুলির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ুর ডিএমকে (DMK)। ডিএমকে-র এই আকস্মিক অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী ঐক্য সুসংহত করার প্রচেষ্টায় একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবার তামিলনাড়ুর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ ছাপ ফেলল সর্বভারতীয় স্তরের রাজনীতিতে। চিত্রতারকা-রাজনীতিক থলপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগম (টিভিকে)-এর সঙ্গে ভোট পরবর্তী জোট গড়ার কারণে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে আগেই কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিল। এবার তারা বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকও বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল।

    অনুপস্থিতির কারণ ও ডিএমকে-র যুক্তি (DMK)

    ডিএমকে (DMK) সূত্রের খবর, ৮ জুনের এই বৈঠকটিতে দলের সুপ্রিমো তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন (India Bloc) স্বয়ং উপস্থিত থাকতে পারছেন না। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত কিছু প্রশাসনিক কর্মসূচি এবং রাজ্যে চলমান কিছু জরুরি প্রকল্পের পর্যালোচনার কারণে তিনি চেন্নাই ছাড়তে পারছেন না। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অনুপস্থিতির পেছনে কেবল প্রশাসনিক ব্যস্ততা নয়, বরং আসন সমঝোতা এবং জোটের নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনও কাজ করে থাকতে পারে।

    বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা

    আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী ফ্রন্টকে শক্তিশালী করতে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বাম দলগুলির মতো শীর্ষস্থানীয় দলগুলির এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে ডিএমকে-র (India Bloc) মতো একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক দলের দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রূপায়ণে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের (India Bloc) প্রথম সারির শরিকদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতি যদি এখনই দূর করা না যায়, তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া বিরোধী শিবিরের জন্য বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী সোমাবার (৮ জুন) দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের বৈঠক। কংগ্রেস, তৃণমূল, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, উদ্ধব ঠাকরেপন্থী শিবসেনা, শরদ পওয়ারের এনসিপি (এস), ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং বাম দলগুলি তাতে যোগ দিতে পারে। স্ট্যালিনের দল ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য। তারা যদি বৈঠকে গরহাজির থাকে , তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটে ফাটল স্পষ্ট হবে।

  • Southwest Monsoon: তীব্র গরমের মধ্যে বর্ষার আগমন, তিন দিন বিলম্বে কেরলে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

    Southwest Monsoon: তীব্র গরমের মধ্যে বর্ষার আগমন, তিন দিন বিলম্বে কেরলে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন দিন পিছিয়ে অবশেষে ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon)। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করার কথা থাকলেও, এবার তা ৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কেরল উপকূলে এসে পৌঁছেছে।

    আবহাওয়া দফতরের (IMD) পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ

    একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বর্ষা এসেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আবহাওয়া দফতরের কিছু সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক মাপকাঠি রয়েছে। কেরলের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ হওয়ায় বর্ষা (Southwest Monsoon) আগমনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল-

    • বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি: কেরল এবং লাক্ষাদ্বীপের মোট ১৪টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ কেন্দ্রে টানা দু’দিন ২.৫ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত (Southwest Monsoon) নথিভুক্ত হয়েছে।
    • বায়ুর গতিপ্রকৃতি: পশ্চিমী বায়ুর গতিবেগ ভূপৃষ্ঠ থেকে নিম্ন-বায়ুমণ্ডল (প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার উচ্চতা) পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    • মেঘের ঘনত্ব: উপগ্রহ চিত্রে আরব সাগর এবং কেরল উপকূল সংলগ্ন এলাকায় গভীর মেঘমালার উপস্থিতি ও নিম্নমুখী বিকিরণের (Outgoing Longwave Radiation) মাত্রা উপযুক্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    বিলম্বের কারণ ও আগামী পূর্বাভাস

    আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের (IMD) মতে, সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব (Southwest Monsoon) আরব সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সামুদ্রিক পরিস্থিতির কারণে মৌসুমি বায়ুর মূল স্রোতটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে এই তিন দিনের বিলম্ব।

    দেশজুড়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা

    দক্ষিণে বর্ষা প্রবেশ করলেও দেশের মধ্য ও উত্তর ভাগে বর্ষা পৌঁছোতে আরও কিছুটা সময় লাগে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে উত্তরে এগোয়। দিল্লিতে ২৭ জুনের আগে বর্ষা প্রবেশ করে না। পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো রাজ্যে বর্ষা সাধারণত জুনের শেষে কিংবা জুলাইয়ের শুরুতে প্রবেশ করে।

    আবহাওয়া দফতর (IMD)  আশ্বস্ত করেছে যে, দেরিতে এলেও বর্তমানে মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon) বেশ শক্তিশালী। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে এটি সমগ্র কেরল, তামিলনাড়ুর কিছু অংশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে স্বাভাবিক নিয়মে অগ্রসর হবে।

    কৃষি ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব

    ভারতে কৃষিকাজ এবং সার্বিক অর্থনীতির জন্য এই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলম্ব হলেও বর্ষার এই আগমন তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Daily Horoscope 05 June 2026: কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন নিয়ে সমস্যার সম্ভাবনা এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 05 June 2026: কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন নিয়ে সমস্যার সম্ভাবনা এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) বাড়ির কোনও সদস্যের বিষয়ে আপনাকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

    ২) কাজের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছেমতো চলবেন না।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    বৃষ

    ১) পরিবারে কোনও বিবাদ চললে তা সমাধানের চেষ্টা করুন।

    ২) সন্তান কোনও কারণে রেগে গেলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

    ৩) নতুন গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।

    মিথুন

    ১) বন্ধুদের জন্য অশান্তি বাড়তে পারে।

    ২) আগুন থেকে বিপদের আশঙ্কা।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    কর্কট

    ১) কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন, যা আপনার জন্য ভালো হবে।

    ২) পরিবারে আপনার প্রিয়জনের কাছ থেকে পূর্ণ সমর্থন পাবেন।

    ৩) আপনার সম্মান বৃদ্ধি হতে পারে।

    সিংহ

    ১) যানবাহন ব্যবহার করার সময় আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।

    ২) বেশ কয়েকদিনের ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।

    ৩) পরিবারের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব চললে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করুন।

    কন্যা

    ১) বিতর্ক থেকে দূরে থাকুন।

    ২) স্বেচ্ছাচারী আচরণের জন্য আপনি অস্থির থাকতে পারেন।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে, আপনার বস আপনার উপর দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারেন।

    তুলা

    ১) অর্শের যন্ত্রণা বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) কর্মক্ষেত্রে সুনাম বাড়তে পারে।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    বৃশ্চিক

    ১) ব্যবসায় অশান্তি হতে পারে।

    ২) চাকরির স্থানে উন্নতির সুযোগ পেতে পারেন।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    ধনু

    ১) জেদের কারণে কোনও ক্ষতি হতে পারে।

    ২) সম্পত্তির ব্যাপারে কোনও আত্মীয়ের সঙ্গে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মকর

    ১) শারীরিক কারণে ব্যবসায় সময় দিতে পারবেন না।

    ২) স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    কুম্ভ

    ১) চিকিৎসার জন্য খরচ নিয়ে চিন্তা।

    ২) বন্ধুদের সঙ্গে বিবাদের যোগ রয়েছে।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    মীন

    ১) স্ত্রীর কথায় বিশেষ ভাবে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    ২) খেলাধুলায় নাম করার ভালো সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

    ৩) ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 663: “ইন্দ্রিয়সুখের আনন্দ, আর-একদিকে ঈশ্বরকে পেয়ে আনন্দ, এই দুই কখন সমান হতে পারে? ঋষিরা এ ব্রহ্মানন্দ ভোগ করেছিলেন”

    Ramakrishna 663: “ইন্দ্রিয়সুখের আনন্দ, আর-একদিকে ঈশ্বরকে পেয়ে আনন্দ, এই দুই কখন সমান হতে পারে? ঋষিরা এ ব্রহ্মানন্দ ভোগ করেছিলেন”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২২শে এপ্রিল

    রাখাল, শশী, মাস্টার, নরেন্দ্র, ভবনাথ, সুরেন্দ্র, রাজেন্দ্র, ডাক্তার

    কাশীপুরের বাগান। রাখাল, শশী ও মাস্টার সন্ধ্যার সময় উদ্যানপথে পাদচারণ করিতেছেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পীড়িত—বাগানে চিকিৎসা করাইতে আসিয়াছেন। তিনি উপরে দ্বিতলের ঘরে আছেন, ভক্তেরা তাঁহার সেবা করিতেছেন (Kathamrita)। আজ বৃহস্পতিবার, ২২শে এপ্রিল ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দ, গুড ফ্রাইডে-এর পূর্বদিন।

    মাস্টার — তিনি তো গুণাতীত বালক।

    শশী ও রাখাল — ঠাকুর (Ramakrishna) বলেছেন, তাঁর ওই অবস্থা।

    রাখাল—যেমন একটা টাওয়ার। সেখানে বসে সব খবর পাওয়া যায়, দেখতে পাওয়া যায়, কিন্তু কেউ যেতে পারে না, কেউ নাগাল পায় না।

    মাস্টার—ইনি বলেছেন, এ-অবস্থায় সর্বদা ঈশ্বরদর্শন হতে পারে। বিষয়রস নাই, তাই শুষ্ক কাঠ শীঘ্র ধরে যায়।

    শশী—বুদ্ধি কত রকম, চারুকে বলছিলেন। যে বুদ্ধিতে ভগবানলাভ হয়, সেই ঠিক বুদ্ধি। যে বুদ্ধিতে টাকা হয়, বাড়ি হয়, ডেপুটির কর্ম হয়, উকিল হয় সে বুদ্ধি চিঁড়েভেজা বুদ্ধি। সে বুদ্ধিতে জোলো দইয়ের মতো চিঁড়েটা ভেজে মাত্র। শুকো দইয়ের মতো উঁচুদরের দই নয়। যে বুদ্ধিতে ভগবানলাভ হয়, সেই বুদ্ধিই শুকো দইয়ের মতো উৎকৃষ্ট দই।

    মাস্টার—আহা! কি কথা!

    শশী—কালী তপস্বী ঠাকুরের কাছে বলেছিলেন, ‘কি হবে আনন্দ? ভীলদের তো আনন্দ আছে। অসভ্য হো-হো নাচছে-গাইছে।’

    রাখাল—উনি বললেন, সে কি? ব্রহ্মানন্দ আর বিষয়ানন্দ এক? জীবেরা বিষয়ানন্দ নিয়ে আছে। বিষয়াসক্তি সব না গেলে ব্রহ্মানন্দ হয় না। একদিকে টাকার আনন্দ, ইন্দ্রিয়সুখের আনন্দ, আর-একদিকে ঈশ্বরকে পেয়ে আনন্দ। এই দুই কখন সমান হতে পারে? ঋষিরা এ ব্রহ্মানন্দ ভোগ করেছিলেন।

    মাস্টার (Ramakrishna)—কালী এখন বুদ্ধদেবকে চিন্তা করেন কিনা তাই সব আনন্দের পারের কথা বলছেন।

    রাখাল—তাঁর কাছেও বুদ্ধদেবের কথা তুলেছিল। পরমহংসদেব বললেন, “বুদ্ধদেব অবতার, তাঁর সঙ্গে কি ধরা? বড় ঘরের বড় কথা।” কালী বলেছিল, “তাঁর শক্তি তো সব। সেই শক্তিতেই ঈশ্বরের আনন্দ আর সেই শক্তিতেই তো বিষয়ানন্দ হয় —”

    মাস্টার—ইনি কি বললেন?

    রাখাল—ইনি বললেন (Kathamrita), সে কি? সন্তান উৎপাদনের শক্তি আর ঈশ্বরলাভের শক্তি কি এক?

    শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তসঙ্গে—“কামিনী-কাঞ্চন বড় জঞ্জাল”

    বাগানের সেই দোতলার ‘হল’ ঘরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। শরীর উত্তরোত্তর অসুস্থ হইতেছে, আজ আবার ডাক্তার মহেন্দ্র সরকার ও ডাক্তার রাজেন্দ্র দত্ত দেখিতে আসিয়াছেন—যদি চিকিৎসার দ্বারা কোন উপকার হয়। ঘরে নরেন্দ্র, রাখাল, শশী, সুরেন্দ্র, মাস্টার, ভবনাথ ও অন্যন্য অনেক ভক্তেরা আছেন।

  • Wipro: “বস জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন”, অভিযোগ উইপ্রোর প্রাক্তন মহিলা কর্মীর

    Wipro: “বস জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন”, অভিযোগ উইপ্রোর প্রাক্তন মহিলা কর্মীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বস ধর্মীয় কারণে আমায় হয়রান করেছেন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার (Forced religious conversion) চেষ্টা করেছেন। এই মানসিক চাপের কারণেই আমায় চাকরি ছাড়তে হয়েছে।” এমনই অভিযোগ করলেন পুনের উইপ্রো (Wipro) ক্যাম্পাসের এক প্রাক্তন মহিলা কর্মী। ওই বসের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা। অভিযোগ জানিয়েছেন রাজ্যের মানবাধিকার কমিশনের কাছেও। অভিযুক্ত বসও একজন মহিলা। তিনি থাকেন বেঙ্গালুরুতে।

    অভিযোগকারিণীর দাবি (Wipro)

    উইপ্রোর এক মুখপাত্র রীতিমতো বিবৃতি জারি করে জানান, সংস্থাটি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। পুনে পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি ও তথ্যও জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, পুনের হিঞ্জেওয়াড়ি এলাকার উইপ্রো ক্যাম্পাসে কাজ করার সময় কয়েকজন সিনিয়র ম্যানেজার ও টিম লিডার ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তাঁকে টার্গেট করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে এবং ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করতে নিরন্তর চাপ দেওয়া হত। চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় কর্মক্ষেত্রে হয়রানি আরও বেড়ে যায়। ম্যানেজার তাঁকে খারাপ পারফরম্যান্স রিভিউ দেওয়ার এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। অভিযোগকারিণীর দাবি, মানসিক চাপ ও হয়রানির কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয়। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না মেলায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি (Wipro)।

    পুলিশের বক্তব্য

    পুনে পুলিশের এক প্রবীণ আধিকারিক জানান, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বালাজি পান্ধারে নামের ওই পুলিশ কর্তা বলেন, “উইপ্রোর এক মহিলা প্রোজেক্ট ম্যানেজার অভিযোগ করেছেন যে তাঁর মহিলা বস, যিনি বিমা-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁর সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ওই বস তাঁকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বলেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বেঙ্গালুরুতে থাকেন এবং সেখান থেকেই কাজ করেন। আমরা এটাও খতিয়ে দেখব যে কোম্পানি এ পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে (Forced religious conversion)।”

    কী বলল উইপ্রো

    উল্লেখ্য, হিন্দু জনজাগ্রুতি সমিতি (Hindu Janajagruti Samiti) বুধবার পুনেতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। সেখানে ওই মহিলা ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উইপ্রোয় কাজ করার সময় তাঁর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। পুলিশ অভিযোগের প্রতিটি দিক এবং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথিপত্র খতিয়ে দেখছে (Wipro)। উইপ্রো তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, “উইপ্রোয় কর্মীদের কল্যাণ, মর্যাদা এবং সম্মান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। আমরা যে কোনও ধরনের অসদাচরণ, বৈষম্য, হয়রানি অথবা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা এই বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি এবং পুনে পুলিশের কাছে প্রাসঙ্গিক সমস্ত নথি ও তথ্য দিয়েছি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় আমরা মামলার নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। সকল কর্মীর জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সম্মানজনক কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইটি সংস্থাগুলিতে কর্মীদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে টিসিএসের (TCS) নাসিক ইউনিটে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হয়েছিল। একাধিক ভুক্তভোগী তাঁদের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ আনেন (Wipro)। সেই মামলায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (Forced religious conversion)।

     

LinkedIn
Share