Blog

  • Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি ঘিরে দেশটিতে (Pakistan) ফের একবার উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনীর তিন প্রবীণ আধিকারিক মনে করেন, জেলেই হয়তো ইমরানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সাংবাদিক নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর সূত্রগুলির কেউই ব্যক্তিগতভাবে ইমরানকে দেখেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাংবাদিক ওয়াজাহাত ১০ আগস্ট প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিওয় এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাবাহিনীর জেনারেল সদর দফতরে কর্মরত প্রবীণ আধিকারিকদের কাছ থেকেই এই তথ্য পেয়েছেন তিনি।

    সাংবাদিকের দাবি (Imran Khan)

    ওয়াজাহাতের দাবি, অন্তত তিনজন আধিকারিক আলাদাভাবে তাঁকে জানিয়েছেন যে ইমরান আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি কবুল করেছেন, তাঁর কোনও সূত্রই ইমরানকে নিজের চোখে দেখেননি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তথ্যটি নিশ্চিত নয় এবং তিনি আশা করছেন, দাবিটি সত্য নয়। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার, আইনজীবী, দলের নেতারা এবং চিকিৎসকরা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আসছেন। তাঁর বোনেরা এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়ে বারবার আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার চিকিৎসা মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছে দলটি। ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই তাঁদের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দলের সমর্থকরা সামরিক কাঠামোয় হামলা চালিয়েছিলেন।

    মৃত্যুর দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা সোহেল আফ্রিদির দাবি, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। আফ্রিদির বক্তব্য, তাঁদের দাবি অসাংবিধানিক নয় এবং ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হবে না। পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রা করার কথা ঘোষণা করেছে। ইমরানের পরিবার ও চিকিৎসকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হলে তার আগেই বিক্ষোভের হুমকিও দিয়েছে দলটি। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকায় নতুন এই দাবি ফের সেই প্রশ্নই সামনে (Pakistan) এনেছে—ইমরান কি সত্যিই মারা গিয়েছেন? তবে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাঁর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ নেই।

    এর আগেও ছড়িয়েছিল একই ধরনের গুজব

    ইমরানের মৃত্যুর গুজব এই প্রথম নয়। গত বছরের নভেম্বরেও তাঁর পরিবার এবং দলীয় কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সমস্যায় পড়ার পর একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ২ ডিসেম্বর সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ইমরানের বোন উজমা খানুম আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ইমরান শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে তাঁকে একাকী রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নভেম্বরেই ফের একটি বড় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। আফগানিস্তান টাইমস দাবি করেছিল, আদিয়ালা জেলের ভেতরে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জেলে নির্যাতনের পর ৭২ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, এবং তাঁর মরদেহ জেলের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পাক প্রশাসন এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, ইমরান জীবিত রয়েছেন (Imran Khan)।

    ভুয়া সরকারি বিবৃতিতেও ইমরানের মৃত্যুর দাবি

    ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি হিসেবে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিচারাধীন অবস্থায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে (Pakistan)। তবে নথিটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিল, যা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। “৪২৭/২০২৫” নম্বর উল্লেখ থাকলেও, এতে যথাযথ তারিখ ছিল না। পাশাপাশি নথিতে বানান, বিরামচিহ্ন, ভাষা ও বিন্যাসের একাধিক ভুল দেখা যায়। পাকিস্তানের বা আন্তর্জাতিক কোনও বড় সংবাদমাধ্যম, বিদেশমন্ত্রক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। পরে নথিটিকে প্রকৃত সরকারি বিবৃতি নয়, বরং এডিটেড ও বিকৃত ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জেলে ইমরানের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও কিছু দাবির মধ্যেই এটিও ছড়িয়েছিল। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বহর আরও বেড়ে যায়।

    কারাগারে হামলার দাবিও ছিল ভুয়া

    ইমরানের কারাবাসকে ঘিরে শুধু মৃত্যুর গুজবই নয়, আরও নানা দাবি ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথিত চিকিৎসা প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলে ইমরান যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন (Imran Khan)। পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালের নামে প্রচারিত ওই নথিতে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এইচআইভি, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য যৌন-সংক্রমণের পরীক্ষার কথাও বলা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া ইমরানের মুক্তি সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নথিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ছিল। এতে ২০২৫ সালের ৩ মে তারিখ উল্লেখ করা হলেও, সেটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তার আগের দিনই, ২ মে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসা পরীক্ষা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসকরা করেছিলেন, পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালে নয়।

    ভুয়া তথ্য!

    এই সব অসঙ্গতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয় যে চিকিৎসা প্রতিবেদনটি আদতে ভুয়া। ইমরানের আইনজীবীরা যৌন নির্যাতনের দাবির স্বপক্ষে নিশ্চিত করে কোনও বিবৃতি দেয়নি। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকারি কোনও বিবৃতিতেও এই দাবির সমর্থন মেলেনি (Imran Khan)। ইমরানের মৃত্যু, স্বাস্থ্য এবং জেলে তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে বারবার গুজব ছড়িয়েছে মূলত তখনই, যখন তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে (Pakistan) পড়েছেন। ওয়াজাহাত সাঈদ খানের সর্বশেষ দাবিও সেই পুরনো প্রশ্নকে ফের একবার সামনে এনেছে (Imran Khan)।

  • Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে (Red Fort Blast) আল কায়েদা-যোগের অভিযোগ তুলল রাষ্ট্রপুঞ্জ। এই কথা আগেই উল্লেখ করেছিল ভারত। এ বার সেই একই কথা বলল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী দল। সম্প্রতি প্রকাশিত তাদের দ্বিবার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লায় হামলার সঙ্গে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর যোগ রয়েছে।

    আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা-ই দায়ী

    গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাস্তা থেকে ৪০ ফুট নীচে থাকা মেট্রো স্টেশনও কেঁপে উঠেছিল। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন আরও অনেকে। তদন্তে উঠে আসে ফরিদাবাদের ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর তথ্য। তবে গত বছরের নভেম্বরের ওই বিস্ফোরণের জন্য আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)-কেই দায়ী করল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। অভিযোগ, এই জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশেও তাদের শাখা (সেল) বিস্তারের চেষ্টা করছিল।

    এনআইএ-র দাবিই সত্য!

    গত মে মাসে ওই বিস্ফোরণ কাণ্ডে চার্জশিট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) জানিয়েছে, হামলার মূল অভিযুক্ত ছিলেন উমর উন-নবি, যিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বিস্ফোরণের সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে এনআইএ এই ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে বলা হয়, আনসার-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ) নামে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখার এক সহযোগী সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টেও উঠে এল দিল্লির গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ। চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাকশনস মনিটরিং টিম’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে হামলার নেপথ্যে ছিল আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখাই।

    দক্ষিণ এশিয়ায় আল কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের আশঙ্কা

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আল কায়েদা ধীরে ধীরে একটি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত সংগঠন থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়ানো সেলের মাধ্যমে তারা লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আল কায়েদার নেতৃত্বের একটি অংশ আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের কাছে আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি তালিবান ও আল কায়েদার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত হতে পারে। বাংলাদেশকেও আল কায়েদা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র নিয়েও সতর্কতা

    গত বছরের নভেম্বরে গুজরাতের আমেদাবাদ থেকেও তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক। ওই জঙ্গিরা প্রাণঘাতী রাসায়নিক ‘রাইসিন’ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। এই রাসায়নিক জৈব অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। ওই ঘটনার তদন্তেও জঙ্গিদের ‘আইএস’ যোগের কথা উঠে এসেছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থার উদ্বেগ, আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) অনেক দিন ধরেই রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত বাধার কারণে তারা এখনও সেই অস্ত্র তৈরি করে উঠতে পারেনি। এ প্রসঙ্গেই গুজরাতে ধৃত জঙ্গিদের কথা উল্লেখ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের দাবি, আইএসআইএল (দায়েশ)-এর একটি শাখাই ওই তিন ধৃতকে ‘রাইসিন’ তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল।

    ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নজরদারির সুপারিশ

    সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের ক্ষেত্রেও নতুন প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে। আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করতে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় একটি পৃথক ‘ডিজিটাল কারেন্সি অ্যাড্রেস’ সংক্রান্ত তথ্য রাখার সুপারিশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষক দল। একই সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থদাতা বা আল্টিমেট বেনেফিসিয়াল ওনার শনাক্ত করার জন্য ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর সুপারিশ কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার বৃদ্ধি

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও তাদের সমর্থকদের দ্বারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। পর্যবেক্ষক দলের তথ্যমতে, বোমা তৈরি এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য এসব সংগঠনের সদস্যরা চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-সহ বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’ (আইএসআইএল-কে বা ISIL-K) বিভিন্ন ভাষায় দ্রুত প্রচারমূলক বার্তা অনুবাদ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে এআই ব্যবহার করছে, যার ফলে তারা আরও ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে পারছে। লালকেল্লা বিস্ফোরণ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশের পর তদন্তে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (AQIS) ও তার সহযোগী সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • Annapurna Yojana: আগামী ১৭ তারিখ থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা! এক বাড়িতে একাধিক জন কি পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা?

    Annapurna Yojana: আগামী ১৭ তারিখ থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা! এক বাড়িতে একাধিক জন কি পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা মিলবে ১৭ অগাস্ট থেকে। যোগ্য প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে আসবে ৩০০০ টাকা, ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, কারা টাকা পাবেন না, অভিযোগ থাকলে কোথায় ও কীভাবে জানাবেন, তাও জানিয়ে দিলেন তিনি। এবার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মও শিথিল করেছে রাজ্য সরকার। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে আরও মহিলা এই আর্থিক যোজনার সুবিধা পান। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে এখনও ভেরিফিকেশন চলছে। আর যাঁদের নাম ভেরিফায়েড হয়ে যাবে, তাঁরা আগামীতেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে থাকবেন।

    কারা কারা এই টাকা পাবেন

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Annapurna Yojana) বলেন, “আমাদের যাঁরা যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে, আগেই বলা আছে। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোনও বিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকারি আন্ডার টেকিং, পঞ্চয়েত বা পৌরসভা, সরকারি বা সরকারি সাহাজ্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানএর শিক্ষক বা শিক্ষকর্মী, স্থানীয় সরকারি চাকরিতে যুক্ত বা পেনশন পান; এঁরা এর মধ্যে থাকবেন না।” তবে এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “যে পরিবার আয়কর দেয়, অর্থাৎ আয় বছরে ১২ লক্ষ টাকা সেই পরিবার এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন না। এবং যে মহিলা নিজে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাকেও এই বিবেচনার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে নিয়ে আসা হয়নি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যে পরিবারের পুরুষরা ক্যাজুয়াল বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন, সেই বাড়ির মহিলারা বিবেচিত হবেন।” যদি যোগ্যতার মাপকাঠি পূর্ণ হয়, তাহলে এক বাড়িতে একাধিক মহিলা টাকা পেতে পারেন। এক্ষত্রে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের একটি পরিবারের একাধিকজন এই যোজনায় আবেদন করতে পারবেন। এরপর সরকার সমস্ত তথ্য যাচাই করার পর টাকা দেওয়ার কথা বিবেচনা করবে।

    অভিযোগ পোর্টাল-এর ব্যবস্থা

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী ১৭ অগাস্ট বিকেলে মন্ত্রী মালতী রাভা রায় অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা প্রাপকদের সংখ্যা ঘোষণা করবেন। জুলাই মাসে এই ৩ কক্ষের বাড়ি কিংবা জমির পরিমাণ সংক্রান্ত ক্রাইটেরিয়ার কারণে যেসব মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পাওয়ার থেকে বিরত ছিলেন, অগাস্ট মাসে টাকা দেওয়া হলে তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ”৩ কক্ষ বিশিষ্ট বাড়ির ক্ষেত্রে অনেক মহিলার নাম আগে বাদ পড়ে গিয়েছিল। গ্রামীণ ক্ষেত্রে এই ৩ কক্ষের বাড়ির বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকার মহিলারা এবার আরও বেশি সংখ্যায় সুযোগ পাবেন।” এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান একটি অভিযোগ পোর্টালও রাখা হবে। তিনি বলেন, “ভেরিফিকেশনে যাঁরা যোগ্য, তাঁদের টাকা ১৭ তারিখ থেকে দেওয়া হবে। এর পরও একটা অভিযোগ পোর্টাল রাখব আমরা। যেখানে যে কেউ আগামীতে অভিযোগ করতে পারবেন। এই অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিওদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হবে।”

  • ISI agent Rana Rauf: হাবড়ায় ধৃত পাকিস্তানি চর রানার নোটবুকে ৬ পাক এজেন্টের নাম! স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ছক?

    ISI agent Rana Rauf: হাবড়ায় ধৃত পাকিস্তানি চর রানার নোটবুকে ৬ পাক এজেন্টের নাম! স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ছক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে ধৃত সন্দেহভাজন পাকিস্তানি চর রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। তদন্তকারীদের দাবি, রানার নোটবুক ও ডায়েরি থেকে অন্তত ৬ জন আন্তর্জাতিক স্তরের পাক এজেন্টের নাম মিলেছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জন নেপালের এবং ১ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সেনা ছাউনি, বিএসএফ ক্যাম্প, গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন, রেলপথ এবং সামরিক পরিকাঠামোর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বিদেশে থাকা যোগাযোগকারীদের কাছে পাঠাত রানা। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে ফোর্ট উইলিয়ামের ম্যাপ, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের অভিযোগও। বিএসএফ ও ভারতীয় সেনার গতিবিধি এবং ভারতীয় রেলের নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ।

    মোবাইল ভেঙেও রক্ষা হল না

    তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের তথ্য মুছে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল রানা। নেপালে গিয়ে ব্যবহৃত মোবাইলটি ভেঙে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে। তবে তার কাছে থাকা দুটি সিমকার্ড নষ্ট করতে পারেনি সে। সেই সিমকার্ড এখন তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। এদিকে রানার নোটবুক ও ডায়েরি পরীক্ষা করতেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে। সেখানে কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি এবং হারুণ সফদার নামে পাঁচ ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে বলে এসটিএফ সূত্রে দাবি। তাঁরা নেপালে অবস্থান করছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা পাভেল নামে আরও এক সন্দেহভাজন পাক এজেন্টের নামও উঠে এসেছে।

    নেপাল হয়ে বাংলাদেশ যাওয়ার ছক

    তদন্তকারীদের দাবি, কাঠমান্ডুতে একটি গোপন বৈঠকের পর বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। হাবড়া থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সেখান থেকে নেপালের কাঠমান্ডু যাওয়ার পরিকল্পনাও তার ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের যশোরে পাভেল নামে ওই সন্দেহভাজন এজেন্ট রানার জন্য একটি নতুন মোবাইল নিয়ে অপেক্ষা করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই ফোনে পুরনো সিমকার্ড ঢুকিয়ে ফের নেপাল ও পাকিস্তানে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা ছিল বলে এসটিএফ-এর অনুমান।

    ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে ভারতীয় নথি

    মঙ্গলবার রাতে হাবড়ার চোংদা মোড় থেকে রানাকে আটক করে এসটিএফ। তপসিয়ার বাসিন্দা ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে নিজের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণের জন্য আধার ও ভোটার কার্ডও দেখিয়েছিল সে। কিন্তু তার পরিচয়, এনআরসি এবং নথিপত্র সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। দীর্ঘ জেরার পর শেষ পর্যন্ত রানা নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক বলে স্বীকার করে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তার কাছ থেকে পাকিস্তানের পাসপোর্টও উদ্ধার হয়েছে। নগদ মাত্র ৩৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    আরও এক সঙ্গী গ্রেফতার

    রানাকে সাহায্য করার অভিযোগে কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতার পূর্ব দিকের আরও দুই বাসিন্দা রানার চরবৃত্তির কাজে সহযোগিতা করত। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রানা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকার ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে নেপালে থাকা যোগাযোগকারীদের কাছে অ্যাপের মাধ্যমে পাঠাত। পরে সেই তথ্য পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কাছে পৌঁছত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার আশঙ্কা?

    রানাকে ঘিরে তদন্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ১৫ অগাস্টকে কেন্দ্র করে। বারাসত আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রসেনজিৎ রানা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের দিন নাশকতার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আদালতে সরকারি পক্ষের তরফে এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, রানার মোবাইলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার একাধিক নম্বর ছিল। ওই নম্বরগুলির সঙ্গে চ্যাটও হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে গ্রেফতারের আগে বহু চ্যাট এবং নম্বর মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর দাবি, দুই পাকিস্তানি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে ভারতে ঢুকে কলকাতায় অবস্থান করছিল বলে তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের গতিবিধির মধ্যে কলকাতা ও আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানও ছিল। মুছে দেওয়া নথি ও ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

    আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত

    রানার নোটবুক থেকে নেপাল ও বাংলাদেশের সন্দেহভাজন এজেন্টদের নাম উঠে আসায় তদন্তের পরিধি এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছেছে। নেপাল ও বাংলাদেশে থাকা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে রানার যোগাযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তাঁরা কার হয়ে কাজ করত এবং সংগৃহীত তথ্য কোথায় পাঠানো হত—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে থাকা এই সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল ও বাংলাদেশ সরকারকেও তথ্য জানানো হচ্ছে। রানাকে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। তার জেরা এবং উদ্ধার হওয়া নথি, সিমকার্ড, ডিজিটাল যোগাযোগ ও নোটবুকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চক্রের আরও সদস্য এবং তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

  • Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে চালু হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। ২০১০ সালের পর জারি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে তৈরি হল অনিশ্চয়তা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের ফলে ২০১০ সালের পর জারি হওয়া সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রগুলির বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ২০২৪ সালের রায়েও হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং সেই সময়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের মূল নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি।

    সংরক্ষণ নিয়ে সমস্যায় চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ারা (Calcutta High Court)

    এই নির্দেশের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের উপর। বিশেষ করে যাঁরা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ বা ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্রের ভিত্তিতে চাকরি, নিয়োগ পরীক্ষা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের সামনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে আগের রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছিল, ইতিমধ্যে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন বা চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশের প্রভাব পড়বে না।

    ২০১০ সালের পর থেকেই বিতর্ক

    ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকাকে মূলত ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকা তৈরি এবং তার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া প্রায় ১২ লক্ষ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই শংসাপত্রগুলি যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে আইনি জট আরও জটিল হয়ে ওঠে (Calcutta High Court)।

    নতুন তালিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এর পর রাজ্য সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় পরিবর্তন আনে। ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির তালিকায়ও রদবদল করা হয়। কিন্তু নতুন তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, সীমিত সংখ্যক মানুষের নমুনার ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে বহু জনগোষ্ঠীকে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন তালিকা নিয়েও আদালতে মামলা হয় এবং বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    বদলাতে চলেছে সংরক্ষণ কাঠামো

    সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণির ভিত্তিতে যে ব্যবস্থা এত দিন চলছিল, আদালতের নির্দেশে তার আইনি ভিত্তি নতুন করে (OBC) প্রশ্নের মুখে পড়ল। ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকার কীভাবে নতুন সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করে এবং বর্তমানে সংরক্ষণের আওতায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার (Calcutta High Court)।

     

  • Amit Shah: সংসদ চলতে দিন, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব শাহের

    Amit Shah: সংসদ চলতে দিন, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাত্র বিক্ষোভ এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে চলতে থাকা সরকার ও বিরোধীদের সংঘাতের মধ্যেই আলোচনার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা প্রস্তাব করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বুধবার বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, সংসদের কাজ স্বাভাবিক হতে দেওয়া হোক এবং ছাত্র বিক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হোক। সেই আলোচনায় সাংসদদের বক্তব্য শোনার পর তিনি নিজেই বিস্তারিত জবাব দেবেন (Student Protests)। বিরোধী দলগুলি বেশ কিছু দিন ধরেই দাবি করে আসছে, দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। বিশেষ করে পুলিশের বলপ্রয়োগের অনুমতি কে দিয়েছিল এবং অভিযানের সময় গুলি ছোড়ার অভিযোগের সত্যতা কী—এই প্রশ্নগুলির জবাব চাইছেন বিরোধীরা। এই দাবিতে বারবার সংসদের অধিবেশন অচল হয়েছে। এদিকে, সরকারের বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই আলোচনা করতে হবে। সরাসরি আলাদা বিবৃতি দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি সংসদের সামনে তোলা উচিত বলে মত কেন্দ্রের।

    ২৪ ঘণ্টা ধরে আলোচনার প্রস্তাব (Amit Shah)

    এই পরিস্থিতিতেই শাহ বুধবার সংসদে আলোচনার জন্য কার্যত এক দিনের সময় দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত আলোচনা চালানো যেতে পারে। পুরো আলোচনা পর্বে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন এবং সাংসদদের বক্তব্য শোনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় বিস্তারিত জবাব দেবেন। শাহ বলেন, “আলোচনা শুরু করা যাক। আমি সভায় থাকব এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় বিস্তারিত জবাব দেব।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আলোচনার আগে পৃথক কোনও বিবৃতি দেওয়ার দাবি তিনি মানতে রাজি নন। তাঁর যুক্তি, সংসদের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেই নিয়ম মেনেই আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “সংসদে আলোচনার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমি শুধু একটি বিবৃতি দিতে পারি না। আগে আলোচনা হোক, তারপর আমি বিস্তারিত জবাব দেব।” শাহের বক্তব্য, বিরোধী সাংসদরা যে প্রশ্নগুলি তুলতে চান, তার প্রত্যেকটির উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত। তবে তার আগে সংসদের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। তাঁর মতে, সংসদ অচল রেখে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় (Amit Shah)।

    পলাতক’ তকমা নিয়েও জবাব

    সংসদে না আসা এবং বিরোধীদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে শাহের বিরুদ্ধে। বিরোধী সদস্যদের একাংশ তাঁকে ‘পলাতক’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। সেই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের দফতরে উপস্থিত থাকছেন। কিন্তু বিরোধীরা সংসদের কাজ চলতে না দেওয়ায় তিনি সভাকক্ষে যেতে পারছেন না (Student Protests)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রতিদিনই আমার কক্ষে থাকি। আমি সভার ভিতরে যাই না। কারণ বিরোধীরা সংসদ চলতে দিচ্ছে না।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন বিরোধীরা ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা দাবি আরও জোরদার করেছেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, আন্দোলনরত ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বলপ্রয়োগের নির্দেশ কে দিয়েছিলেন? সেই নির্দেশের ভিত্তি কী ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যবহৃত পদ্ধতি কতটা আইনসঙ্গত ছিল?

    সরকারের লুকোনোর কিছু নেই’, দাবি শাহের

    নিজের প্রস্তাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ জানান, সরকার দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করতেও প্রস্তুত। সাংসদরা যে সব বিষয় তুলবেন, সেগুলির জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত আমরা সব ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমি নিজে সভায় বসব, প্রত্যেকের কথা শুনব এবং সব প্রশ্নের উত্তর দেব। সরকারের লুকোনোর কিছু নেই। আপনারা কেন আলোচনা চাননি, সেটাও আমি আলোচনা করব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকার সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।” তিনি এও বলেন, “শুধু সংসদ চলতে দিন। আজ বিভিন্ন মাধ্যমে আমি বিরোধীদের বলতে চাই, দুপুর ২টোর মধ্যে সভাধ্যক্ষকে একটি চিঠি দিন। আমরা দুপুর ৩টে থেকে আলোচনা শুরু করব এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টের মধ্যে আমি সব প্রশ্নের উত্তর দেব। সংসদে আলোচনার জন্য নিয়ম ও পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে। এখন কেউ যদি আমাকে শুধু একটি বিবৃতি দিতে বলে, এত গুরুতর বিষয়ে তা কীভাবে সম্ভব?” শাহের এই প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, সরকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে প্রস্তুত। যদিও বিরোধীরা সেই প্রস্তাব কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা স্পষ্ট নয়।

    দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরেই মূল বিরোধ

    সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ এবং তার পর পুলিশের পদক্ষেপ। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আন্দোলনরত ছাত্রদের দমন করতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে (Amit Shah)। বিরোধী দলগুলির নেতৃত্বে থাকা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক নেতা দাবি করেছেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অনুমোদন কে দিয়েছিল, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে স্পষ্ট করতে হবে। বিশেষ করে অভিযানের সময় গুলি ছোড়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Student Protests)। বিরোধীদের অভিযোগ, ছাত্রদের প্রতিবাদ দমনে পুলিশ যে পদ্ধতি নিয়েছে, তা নিয়ে সরকারের কাছ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, সংসদে এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ চলবে।

    সংসদের বাইরে বিরোধীদের বিক্ষোভ

    বুধবার সংসদের বাইরে বিরোধী নেতারাও বিক্ষোভ দেখান। সেখানে শাহের জবাব চেয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। “অমিত শাহ জবাব দাও”—এই স্লোগানে সরব হন বিরোধী দলের নেতা ও সাংসদরা। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল, ছাত্রদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি জবাব দিতে হবে। শুধু দিল্লি নয়, অন্যান্য রাজ্যেও ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রফাঁস, ছাত্রদের প্রতিবাদ এবং তার পর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সংসদেও।

    সরকার-বিরোধী সংঘাত মেটাবে কি আলোচনা?

    একদিকে বিরোধীরা চাইছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বক্তব্য দিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিন। অন্যদিকে শাহের বক্তব্য, সংসদের নিয়ম মেনে আলোচনা হলেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব। ফলে মূল বিরোধ এখন আর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, বরং আলোচনাটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় হবে, তা নিয়ে (Amit Shah)। শাহের ২৪ ঘণ্টার আলোচনার প্রস্তাব তাই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিরোধীরা সংসদের কাজ চালু করতে দিলে তিনি দীর্ঘ আলোচনা শুনতে এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের সংসদ অচল না করে নিয়ম মেনে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন (Student Protests)।

  • Jharkhand Recruitment Scam: ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি! নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    Jharkhand Recruitment Scam: ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি! নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (Jharkhand Recruitment Scam) পরীক্ষায় দুর্নীতি ঘিরে উত্তাল গোটা দেশ। প্রশ্নপত্র লিক, উত্তরপত্রে জালিয়াতি এবং গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাতেই গলদ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন সেই রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা। এবার ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-এর নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সরব হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় শেঠ (Union Minister Sanjay Seth)। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে তদন্তের অনুমতি না দেওয়ার জন্য হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।

    আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকি কেন

    সঞ্জয় শেঠের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর প্রশাসন দমনমূলক পদক্ষেপ করছে। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঁচির জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকি দেন এবং রাত ১টার সময় আন্দোলনস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। শেঠের বক্তব্য, নিজেদের খরচে পড়ুয়ারা জেনারেটরের ব্যবস্থা করে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করার চেষ্টা করলে পুলিশ সেটিও সরিয়ে দেয়। ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, জেপিএসসি হোক বা জেএসএসসি—সমগ্র ঘটনায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই অর্থের ভাগ কারা পেয়েছেন এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান তিনি।

    সিবিআই তদন্ত কেন নয়

    রাজ্য সরকার কেন সিবিআই তদন্তে সম্মতি দিচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সঞ্জয় শেঠ। তাঁর অভিযোগ, শাসক জোটের প্রভাবশালী নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম তদন্তে উঠে আসতে পারে বলেই সিবিআই তদন্তে আপত্তি জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে সিবিআই তদন্তের দাবিতে জেপিএসসি (JPSC) ও জেএসএসসি (JSSC)-এর পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সিবিআই তদন্তের দাবিতে রাঁচিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।  ইতিমধ্যেই বিতর্কিত জেপিএসসি (ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে সরকার রাজি বলে  ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। পরীক্ষার আয়োজনকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এমনকি, আইআইটি ও আইআইএমের সাহায্যে পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।তবে, পরীক্ষার্থীদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • Ram Mandir Scam: ‘রাম মন্দিরে কোনও বড়সড় দুর্নীতি হয়নি’! ৩,৩০০ কোটি টাকা অনুদানের হিসেব সম্পূর্ণ

    Ram Mandir Scam: ‘রাম মন্দিরে কোনও বড়সড় দুর্নীতি হয়নি’! ৩,৩০০ কোটি টাকা অনুদানের হিসেব সম্পূর্ণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাম মন্দিরের অনুদান (Ram Mandir Scam) ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক নানা জল্পনার মধ্যে সরকারি সূত্রের তরফে দাবি করা হয়েছে, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কাছে জমা পড়া প্রায় ৩,৩০০ কোটি অনুদানের পুরো অর্থই হিসেবভুক্ত এবং অডিট করা হয়েছে। বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগকে সরকারি সূত্রগুলি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। সূত্রের দাবি, স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের বহিরাগত অডিটর -এর মাধ্যমে ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা হয়েছে। মন্দির নির্মাণে প্রায় ১,৮০০ কোটি এবং জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৪০০ কোটি ব্যয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই বড় অঙ্কের লেনদেনে নগদ ব্যবহার করা হয়নি এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া মেনেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।

    মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগ নেই

    সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, যে চুরির ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি মেশিনে টাকা গণনার আগে ম্যানুয়ালি নগদ বাছাই ও গোনার সময় ঘটে যাওয়া একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ছয়জন বহিরাগত কর্মীকে চিহ্নিত করা হয়। তাঁরা সৈনিক সিকিউরিটি সার্ভিসের Sainik Security ServicesSSS)-এর মাধ্যমে নিযুক্ত ছিলেন। SSS আবার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) চুক্তিভিত্তিক পরিষেবা সংস্থা হিসেবে কাজ করছিল বলে সূত্রের দাবি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। সরকারি সূত্র স্পষ্ট করেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মন্দির প্রশাসন বা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না।

    সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত

    ঘটনার তদন্তের জন্য পুনর্গঠিত সিট (SIT) কাজ করছে। তদন্ত প্রক্রিয়াটি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে রয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকদের নেতৃত্বে তদন্ত চালানো হচ্ছে, যাতে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে। সূত্রের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এলাকায় জমির বাজারদর বেড়ে যাওয়া এবং জমির সঙ্গে থাকা বাণিজ্যিক কাঠামোর নিষ্পত্তির কারণে অধিগ্রহণের খরচ বেশি হয়েছে।

  • Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত সংশোধনী (Howrah Municipal Corporation) বিল ধ্বনিভোটে পাশ হওয়ার পাশাপাশি অসমের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক সেবাকেন্দ্র চালুর কথাও জানানো হয়েছে (West Bengal Assembly)। সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য শর্তসাপেক্ষে মাসিক ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

    পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল (Howrah Municipal Corporation)

    মঙ্গলবার বিধানসভায় পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল পেশ করা হয়। আলোচনার পর ধ্বনিভোটে দু’টি বিলই পাশ হয়ে যায়। বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বিধি বা নিয়ম সরিয়ে কোনও বিল পাশ করানো হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়েও এদিন আলোচনা হয়। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব আইন রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ নির্বাচন কমিশন করবে বলেও জানান তিনি। খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তা নিয়ে মতামত জানানোর জন্য ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়ায় দু’টি সর্বদলীয় বৈঠকও হবে। প্রথম বৈঠক হবে খসড়া প্রকাশের আগে এবং দ্বিতীয়টি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে।

    মানবিক সরকার

    অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বন্যায় ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অসমে বহু বাংলাভাষী মানুষ বসবাস করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে অসমের বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের পক্ষ থেকে অসমের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয় (Howrah Municipal Corporation)। প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষা এবং তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    প্রাক্তন বিধায়কদের পাশেও সরকার

    সততার সঙ্গে কাজ করেছেন এমন বহু প্রবীণ প্রাক্তন বিধায়ককে তিনি দেখেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক দীনবন্ধু রায় এবং বাসন্তীর প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্করের মতো বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে।” সেই দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছনোর পাশাপাশি বিধায়কদের কাজের সুবিধার জন্য প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে সেবাকেন্দ্র চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শাসকদলের শতাধিক বিধায়ক এই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালু করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    চালু হচ্ছে সেবাকেন্দ্র!

    তবে এই সেবাকেন্দ্র চালু করতে ইচ্ছুক বিধায়কদের জন্য দু’টি শর্তের কথা জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সেবাকেন্দ্রের নাম রাখতে হবে “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র”। পাশাপাশি কেন্দ্রের ভিতরে নেতাজির ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি রাখতে হবে। এই দু’টি শর্ত পূরণ করলে (West Bengal Assembly) সংশ্লিষ্ট বিধায়করা সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে (Howrah Municipal Corporation) অনুদান পাবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

     

  • Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে ১১ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করল বালুচিস্তান (Balochistan Independence Day)। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করল বালুচরা। বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ জানান বালুচিস্তান, পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা। মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট, ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনের মধ্যেই এক বার্তায় রাষ্ট্রসংঘ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে এই দাবি জানান তিনি। এরপরই দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা। বালুচদের স্বাধীনতা উৎসব পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি কারফিউ জারি করা হয়েছে ওই অঞ্চলে। শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়, বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

    আন্তর্জাতিক স্তরে সমর্থনের আহ্বান

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ প্রকাশিত বার্তায় মীর ইয়ার বালুচ বলেন, বালুচিস্তানকে আর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে উল্লেখ না করে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, বালুচ স্বাধীনতা আন্দোলন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জন। বালুচ নেতার বার্তায় পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়। বালুচিস্তানের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক ‘নৈতিক সমর্থন’ অব্যাহত রাখার আবেদনও জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ

    বালুচিস্তান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন মীর ইয়ার বালুচ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, গবেষক এবং বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁদের প্রচারের ফলে বালুচিস্তানের পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে। বার্তায় আরও বলা হয়েছে, বালুচ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশকে একত্রিত করার চেষ্টা চলছে। স্বাধীন বালুচিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে নিজস্ব পাসপোর্ট, মুদ্রা, সংবাদমাধ্যম, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক মিশন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। বিদেশনীতি, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও কূটনীতির দায়িত্বও স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    ১১ অগাস্টের ঐতিহাসিক দাবিকে সামনে রেখে প্রচার

    মীর ইয়ার বালুচের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের স্বাধীনতার দাবি ১৯৪৭ সালের ১১ অগাস্টের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের আগে ওই দিন বালুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। এবার সেই ঐতিহাসিক দাবির স্মরণে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দিকে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বালুচিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে সংঘাত তৈরি হয় এবং ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি বাহিনী কালাত দখল করে। অন্যদিকে, বালুচিস্তানে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ঠেকাতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বালুচ গোষ্ঠীর দাবি, বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও বালুচিস্তানের একাধিক এলাকায় সমর্থকেরা ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালন করেছেন। তাঁরা ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন না করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

    দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ

    তবে পাকিস্তান সরকার বরাবরই বালুচিস্তানকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে। প্রদেশটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবি নিয়ে ইসলামাবাদ ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে ১১ অগাস্ট ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনকে ঘিরে বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বালুচ জাতীয়তাবাদী নেতারা দিনটিকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার দাবির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তথাকথিত ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-কে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। বালুচ নেতাদের দাবি, পাকিস্তানি প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া নজরদারি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কোয়েটা, নৌশকি, কালাত, গওয়াদর, তুরবত ও খুজদারসহ একাধিক এলাকায় স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মিষ্টিও বিতরণ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ

    বালুচ মানবাধিকারকর্মী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ব্যাহত করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, বহু এলাকায় ভারী নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনসমাবেশ ও মিছিলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখারও অভিযোগ উঠেছে। তবে বালুচ নেতৃত্বের দাবি, এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্বাধীনতার দাবিতে কর্মসূচি থামেনি। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষের একাংশ স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

    ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর দাবি

    সম্প্রতি মীর ইয়ার বালুচ ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ নামে একটি নথি প্রকাশ করে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি আরও জোরদার করেছেন। ওই ঘোষণায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ‘বালুচি ফালুস’ নামে নতুন মুদ্রা চালুর দাবিও করা হয়েছে। মীর ইয়ার বালুচের পক্ষ থেকে বালুচিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বালুচ নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বালুচিস্তানকে না দেখে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, বালুচ জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, বালুচিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই স্বীকৃত। ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর স্বাধীনতার ঘোষণা মূলত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্বের রাজনৈতিক দাবি; এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, নিরাপত্তা অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বালুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। ১১ আগস্টের কর্মসূচি সেই দীর্ঘস্থায়ী স্বাধীনতার আন্দোলনকে ফের আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

LinkedIn
Share