Blog

  • Suvendu Adhikari: আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা না পেলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় মিলবে ৫ লক্ষ! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা না পেলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় মিলবে ৫ লক্ষ! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চালু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের কোনো নাগরিকই আর নিখরচায় চিকিৎসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সমস্ত নাগরিক নির্দিষ্ট কিছু সরকারি নিয়মের গেরোয় পড়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন না তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে চালু করেছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। এই নতুন প্রকল্পের অধীনে উপভোক্তারা বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন যা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয় বরং গোটা দেশের যেকোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতালে সমানভাবে কার্যকর হবে। রাজ্য সরকারের এই মানবিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা বিভ্রাট ও বিপুল খরচের হাত থেকে রেহাই পাবেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।

    কেন এই নতুন স্বাস্থ্য বিমা

    কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী মূলত নির্দিষ্ট দিনমজুর, গৃহহীন, কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী, ভিখারি, রিকশাচালক এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পান। এর পাশাপাশি আয়-নির্বিশেষে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী দেশের সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এবং অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ও বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ডিজিটাল রেশন কার্ডধারীরাও এই প্রকল্পের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ফর্ম তোলার কাজ জোরকদমে চললেও নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক মাপকাঠির কারণে কারা শেষ পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন আর কারা বাদ পড়বেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক তীব্র সংশয় ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। জনগণের এই দুশ্চিন্তা দূর করতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্পের কথা ভাবেন।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুরক্ষাকবচ

    মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নিয়মের জালে আটকে যারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবেন তাঁদেরকে সুরক্ষাকবচ দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এই সমপরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা চালু হওয়ায় রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা একশো শতাংশ নিশ্চিত করা সম্ভব হলো। নতুন এই ঘোষণার ফলে একদিকে যেমন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর থেকে চিকিৎসার খরচের মস্ত বড় বোঝা নেমে গেল, অন্যদিকে তেমনই দেশের যে কোনও প্রান্তে আপদকালীন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে উন্নত মানের চিকিৎসা পাওয়ার পথও সুগম হলো।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি

    রাজ্য জুড়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। জেলায় জেলায় ফর্ম পূরণ করছেন সাধারণ নাগরিক। তবে যাঁরা পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যবিমা স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পেতেন, তাঁরা সকলেই আয়ুষ্মান পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এর আগে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, জুলাই থেকে রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে। নাম নথিভুক্তিকরণের কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই মাস থেকেই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার কার্ড বিতরণ করাও সম্ভব হবে। যাঁরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। তবে ধাপে ধাপে এগোবে গোটা প্রক্রিয়া। তৃণমূল আমলে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক টানাপড়েনে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু জানান, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলি সরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। ভূমিহীন এবং দিনমজুর পরিবার, তফসিলি জাতি এবং জনজাতিভুক্ত পরিবার, যাঁরা কাঁচাবাড়ি কিংবা এক কামরার বাড়িতে বসবাস করেন, যে পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কোনও রোজগেরে পুরুষ সদস্য নেই, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এই প্রকল্পের আওতাধীন। বাকিদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

    একাধিক সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা

    শুক্রবার মুর্শিদাবাদে জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, যাঁরা আয়ুষ্মান পাবেন না, তাঁরা আলাদা প্রকল্পের অধীনে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার অধীনে ৫ লক্ষ টাকার সুবিধা মিলবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।মুর্শিদাবাদের সভায় তিনি বলেন, “আমরা সাড়ে ছয় কোটি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত দেব। যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার অধীনে ৫ লক্ষ টাকা করে বিমার সুবিধা দেব। শুধু রাজ্যে নয়, যাতে ভিনরাজ্যেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করবে আপনাদের সরকার।” শুধুমাত্র আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা রেজিনগর থেকে একাধিক সরকারি প্রকল্পের কথা শোনা গিয়েছে শুভেন্দুর মুখে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে জি রামজি প্রকল্প রাজ্যে সুষ্ঠু চালু হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান বিধি যোজনায় কেন্দ্রের ৬ হাজার টাকার সঙ্গে আরও ৩ হাজার টাকা যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যায় ‘বিদ্ধ’ মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনবে বিজেপি সরকার।

  • FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দাপট বজায় রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে (FIFA World Cup 2026) স্পেন। আরও এক বার দেশকে জেতালেন ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো। সংযুক্তি সময়ে গোল করে দলকে জেতালেন তিনি। সেমিফাইনালে স্পেনের সামনে ফ্রান্স (Spain vs France)। ফ্রান্স এবং স্পেন দুই দেশই যে এ বার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার, তা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই বলছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। তবে ইউরোপের দুই শক্তিধর দেশের দেখা ফাইনালে নয়, হচ্ছে সেমিফাইনালেই। মঙ্গলবার রাত ১২.৩০টা থেকে শুরু ম্যাচ।

    ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি ইয়ামালের

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি লামিনে ইয়ামালের। তাঁর দাবি, কিলিয়ান এমবাপেদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং ফ্রান্সেরই উচিত তাঁদের সমীহ করা। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক জয়গুলির কথা উল্লেখ করে ইয়ামালের দাবি, প্রতিযোগিতার দুই সেরা দলের লড়াই হবে। ইয়ামাল মনে করছেন সেমিফাইনালে চাপে থাকবে দিদিয়ের দেশঁর দলই। ১৮ বছরের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘‘আমরা সত্যিই খুব উত্তেজিত। বিশ্বকাপ শুরুর সময়েই আমরা এই ম্যাচটা খেলার আশায় ছিলাম। স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচের প্রত্যাশা ছিল। আমার মতে, প্রতিযোগিতার সেরা দুটো দল মুখোমুখি হতে চলেছে।’’ বিশ্বকাপে বেশ ভাল খেলছে ফ্রান্স। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্পেন কি খেলার ধরন বদল করবে? ইয়ামাল মনে করেন না, এমন কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলা পড়েছে, যারা নিশ্চিত ভাবে আমাদের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করবে। তবে গোটা ম্যাচ চাপে রাখতে পারবে না। আমরা আমাদের মতোই খেলব। ফ্রান্স যদি কোনও দলকে সমীহ করে, সেটা আমরাই। কারণ আমরাই ওদের আগের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছিলাম।’’

    সেমিফাইনালে চাপে ফ্রান্স!

    ২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁদের ২-১ ব্যবধানে জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইয়ামাল। যখন তাঁর বয়স ছিল ১৬। ইয়ামালের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দু’দলের ম্যাচের ফলাফলগুলিই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চাপে রাখবে। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটি গোল করেছেন ইয়ামাল। তবে সবচেয়ে বেশি ১৭টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। শেষ দু’টি ম্যাচে গোলে ন’টি শট মেরেছেন বার্সেলোনার স্ট্রাইকার। ইয়ামাল অবশ্য ব্যক্তিগত সাফল্যকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তিনি বলেছেন, ‘‘এটা হতাশার কোনও কারণ নয়। আমি তো ইউরো কাপেও একটা গোল করেছিলাম। দল যতক্ষণ এগিয়ে চলেছে, ততক্ষণ ভাবার বা হতাশার কোনও কারণ নেই। দলই আমার কাছে আগে। আশা করছি, আমরা আরও একটা ভাল জয় পাব।’’ ফ্রান্সে এমবাপের মতো ফুটবলার রয়েছেন। তাও সেমিফাইনাল নিয়ে দৃঢ়চেতা ইয়ামাল বলেছেন, ‘‘আমরা আত্মবিশ্বাসী। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আরে শেষ দুটো ম্যাচে আমরাই জিতেছি। ওদেরই বরং আমাদের ভয় পাওয়া উচিত। সেমিফাইনালে উঠে আমরা খুশি। আমরা বেশ ভাল খেলছি। অন্য দলগুলো আমাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। আমরা এখানে এসেছি ট্রফি জিততে। সেটাই আসল।’’

    সুপার-সাবের গোলেই বাজিমাত

    পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে আগের ম্যাচে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এবার একই নাটকের পুনরাবৃত্তি করে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুললেন লা রোজাদের। শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের হয়ে গোল করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলেয়েরে।

    গোলকিপারদের লড়াই, চোট কুর্তোয়ার

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফেরান তোরেসরা একের পর এক আক্রমণ শানালেও বেলজিয়ামের গোলপোস্টের নিচে যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন থিবাউট কুর্তোয়া। ৩০ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্পেন। ইয়ামালের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু খেলে পেদ্রো পোরো বল বাড়ান দানি ওলমোকে। ওলমোর নিচু শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন কুর্তোয়া। কিন্তু ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেননি ফাবিয়ান রুইজ। পাঁচ মিনিট পর আবারও ইয়ামালের দারুণ ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন কর্তোয়া। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের মাঝেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বেলজিয়াম। ৪১ মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগান চার্লস ডি কেটেলেয়েরে। কেভিন ডি ব্রুইনের নিখুঁত ক্রসে গোলমুখে হেড করে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন তিনি। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। এই গোলটা খেয়ে সিমন ৬৪৯ মিনিট পর গোল খেলেন। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। ৫৮ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ইয়ামালকে হতাশ করেন কুর্তোয়া। এরপর ৬১ মিনিটে ফের একক প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বেলজিয়ান গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করেন। অন্যদিকে, ডি ব্রুইনের শট দারুণভাবে আটকে দেন স্পেন গোলকিপার উনাই সিমন। দুই গোলকিপারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ৭১ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন থিবাউট কুর্তোয়া। চোখে জল নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সেনে লামেন্স। কর্তোয়ার বিদায়ের পরও বেশ কিছুক্ষণ বেলজিয়ামের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্পেন।

    মিকেল মেরিনোর ম্যাজিক

    ৮৪ মিনিটে দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো। মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ড পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন তিনি। ৮৮ মিনিটে পাউ কুবার্সির দূরপাল্লার শট প্রথমে ঠেকালেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি লামেন্স। সেই সুযোগ লুফে নিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন মেরিনো। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও একই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এছাড়া মাঠে নামার ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গোলটি বিশ্বকাপে স্পেনের কোনও বদলি ফুটবলারের দ্রুততম গোল। এতদিন এই রেকর্ড ছিল ১৯৮২ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে এনরিকে সাউরার (১৫৯ সেকেন্ড)।

     

     

     

  • Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের (Christopher Luxon) সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ঘোষণা করলেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ড তাদের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    বৈঠকের পর এক্স (আগের টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, অকল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিয়েছিল। আর চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফর হিসেবে আমার এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করল। আমরা সম্পর্ককে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষ্য ও বাস্তব ফলাফলকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাব।’

    ২০৩০-এর মধ্যে ৩৫,০০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা

    দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৭০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ৩৫,০০০ কোটি) করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত কার্যকর করতে যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই বৈঠকে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল সামনে এসেছে, যার মধ্যে ১০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে আগামী চার বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তারের একটি রোডম্যাপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারের একটি কাঠামো এবং ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তি।

    বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় জোর

    প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি। পাশাপাশি কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে যৌথ সহযোগিতার একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থায় সহযোগিতার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আমাদের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে গভীর কৌশলগত আস্থার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’

    শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে আরও সহযোগিতা

    মোদির মতে, ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ। সেই কারণেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগ। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।’

    একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, ক্রীড়া এবং পশুপালন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে আলোচনা

    পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁরা অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে পুনঃস্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন দুই নেতা। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের উপর যে কোনও ধরনের বাধার বিরোধিতা করেছেন তাঁরা।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণে জোর

    এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপুঞ্জে (ইউএন) সাহসী ও কার্যকর সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণের প্রতিও নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও ক্রিস্টোফার লাক্সন।

    নতুন গতি পাবে ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক

    কূটনৈতিক মহলের মতে, চার দশক পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দুই দেশই এখন অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই সফরের মাধ্যমে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের সহযোগিতাও নতুন মাত্রা পাবে।

  • PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে পা পড়ল ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in New Zealand)। শুক্রবার অকল্যান্ডে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। ১৯৮৬ সালের পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেননি। এই দীর্ঘ বিরতির পর মোদির সফর দুই দেশের মধ্যে পুরনো বন্ধুত্বকে নতুন করে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে সফরের শুরু হয়। দুই নেতা হাত মিলিয়ে কথা বলেন এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    ‘ঐতিহাসিক’ সফর আখ্যা মোদির

    অকল্যান্ডে পা রাখার পরেই নিজের নিউজিল্যান্ড সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ দেন। তিনি লেখেন, “কিছুক্ষণ আগেই অকল্যান্ডে পৌঁছলাম। বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী লাক্সনকে ধন্যবাদ। এই সফর ঐতিহাসিক, কারণ চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে এলেন।” নিজের পোস্টের সঙ্গে সফরের কিছু ছবিও শেয়ার করেন মোদি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অকল্যান্ডে কমিউনিটি ভাষণ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বের সব দিক নিয়ে আলোচনার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। আগামী কাল অকল্যান্ডে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানেও ভাষণ দেব।” শুক্রবার অকল্যান্ডে বিমান থেকে নামার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। দুই নেতা একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। লাক্সনের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এটিই নিউজিল্যান্ডে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির কর্মসূচি

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অকল্যান্ডে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। গত দু’বছরে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি, বিশেষ করে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কতটা উন্নতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখবেন তাঁরা। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, অকল্যান্ডে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানকার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও কথা বলবেন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মজবুত সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশে ভাষণও দেবেন। এই বছরের এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) সই হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ক্রিস্টোফার লাক্সন যখন ভারত সফরে এসেছিলেন, তখন দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নয়াদিল্লিতে বৈঠক হয়েছিল।

    ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট

    সফরের সবচেয়ে বড় খবর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA) নিয়ে অগ্রগতি। দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ায় উভয় দেশই উচ্ছ্বসিত। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের বাণিজ্য অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে কৃষি পণ্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য, আইটি সেবা, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস লাক্সন বলেন, “ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর আমাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এফটিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জার হবে।” অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক নয়, সাংস্কৃতিক ও মানুষের মধ্যে সংযোগও গভীর। এই সফর সেই বন্ধনকে আরও মজবুত করবে।” দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের। ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে দুধ, মাংস, ফলমূল এবং ওয়াইন আমদানি করে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে ওষুধ, আইটি সেবা, টেক্সটাইল এবং মেশিনারি পায়। চুক্তির ফলে শুল্ক হ্রাস পাবে, যা উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক হবে। সফরের এজেন্ডায় শুধু বাণিজ্য নয়, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি সহযোগিতাও রয়েছে।

    বিনা শুল্কে বাণিজ্য

    ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ভারত–নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand Trade Deal) কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই নিউজিল্যান্ডের ভারতের উদ্দেশে রফতানির ৫৭ শতাংশ পণ্যের ওপর কোনও শুল্ক (ট্যারিফ) থাকবে না। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত–নিউজিল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।

    ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্ব

    নিউজিল্যান্ড সফরটি প্রধানমন্ত্রী মোদির তিন দেশব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্যায়। এর আগে তিনি ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন), উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার লক্ষ্যকেও এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদির নিউজিল্যান্ড সফর এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    সুশান্ত দাস

    ভারতের কাছ থেকে ‘ব্রহ্মস’ (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ (Astra) বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল (BVRAAM) ইন্দোনেশিয়ার কেনার সিদ্ধান্ত চিনের কপালেও ভাঁজ ফেলেছে। বেজিংয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রভাব পড়তে পারে গোটা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, বিশষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও ভূ-রাজনীতির ওপর। বিশেষ করে মালাক্কা-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা কূটনীতির বিস্তারকে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে চিন।

    চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যমে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সামরিক চুক্তি

    ভারতের তৈরি ‘ব্রহ্মস’ এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ কেনার সিদ্ধান্তে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করল চিন। আর সেই স্বীকৃতির পরই চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিল, বেজিং এই চুক্তিকে শুধু অস্ত্র রফতানি হিসেবে দেখছে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ব্রহ্মসের গ্রাহক হচ্ছে এবং একই সময়ে ভিয়েতনামের সঙ্গেও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করছে, তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা-অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, ভারত এখন শুধু অস্ত্র রফতানি করছে না, বরং আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কও গড়ে তুলছে।

    ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিকে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ বলছে চিন

    চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধে জড়িত দেশগুলির হাতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছে গেলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলেই মনে করছে বেজিং। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা এখন শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নয়াদিল্লির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রসারিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

    ব্রহ্মসের মোকাবিলা কীভাবে? ভাবনা শুরু চিনের!

    তবে একই সঙ্গে ব্রহ্মসের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছে চিনা প্রতিরক্ষা মহল। তাদের দাবি, রফতানিযোগ্য ব্রহ্মস সংস্করণের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (MTCR)-এর আগের রফতানি নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এই সংস্করণ মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষার জন্য বেশি উপযোগী, দীর্ঘ-পাল্লার আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য নয়। এছাড়াও চিনা বিশ্লেষকদের দাবি, পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির ‘টাইপ ০৫৫’ এবং ‘টাইপ ০৫২ডি’ ডেস্ট্রয়ারে থাকা বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় সক্ষম। যদিও এই মূল্যায়ন সম্পূর্ণরূপে তাত্ত্বিক এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

    মালাক্কা প্রণালি ঘিরে বাড়ছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব

    চিনা প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানকে। মালাক্কা, সুন্ডা এবং লম্বক প্রণালি—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। বিশ্বের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের বড় অংশ এই রুট দিয়েই সম্পন্ন হয়। চিনের আশঙ্কা, এই ধরনের কৌশলগত সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশগুলির হাতে যদি স্থলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়, তবে ভবিষ্যতের কোনও আঞ্চলিক সংঘাতে নৌ-অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াকে ঘিরে ভারতের যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠছে, তা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    ইন্দোনেশিয়াকে সরাসরি আক্রমণ নয়, সতর্ক বার্তা বেজিংয়ের

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ইন্দোনেশিয়ার সমালোচনা না করে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছে চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। সম্পাদকীয়গুলিতে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শক্তির বাইরের দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ালে নতুন ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, চিন এখনও ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার—এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের জন্য বড় মাইলফলক

    ভারতের দৃষ্টিতে এই চুক্তি প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সাফল্য। ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস ভারতের সবচেয়ে সফল প্রতিরক্ষা রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, চুক্তি কার্যকর হলে অ্যাস্ট্রা হবে ভারতের প্রথম স্বদেশে তৈরি বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, যা বিদেশে রফতানি করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ক্ষেপণাস্ত্রের রফতানি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরিণত সক্ষমতারও প্রমাণ। একই সঙ্গে ঐতিহ্যগত অস্ত্র-রফতানিকারি দেশগুলির উপর নির্ভরতা কমাতে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলির কাছে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করছে।

    ‘স্ট্রিং অব পার্লস’-এর জবাব দিচ্ছে ভারত, বলছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকরা

    ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এই চুক্তিকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল পিকে সেহগল (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়ার ব্রহ্মস কেনার সিদ্ধান্ত ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি এটি আত্মনির্ভর ভারত এবং মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগেরও বড় সাফল্য।’’ তিনি জানান, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে তা ৫০,০০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। মেজর জেনারেল সেহগল আরও জানান, ভারতের সঙ্গে ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের পর এবার ইন্দোনেশিয়ারও ব্রহ্মস চুক্তি প্রমাণ করছে যে, চিন যেভাবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, ভারতও তার কৌশলগত জবাব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়া শুধু ব্রহ্মসই নয়, ভারতের তৈরি অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রও নিচ্ছে, যা দেশটির বিমানবাহিনি ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সাবাং বন্দর-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।’’

    ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ কৌশলের ইঙ্গিত

    মেজর জেনারেল সঞ্জয় সোই (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস চুক্তি চিনের সম্প্রসারণবাদি নীতির কার্যকর জবাব। তাঁর মতে, চিন যেখানে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশলের মাধ্যমে ভারতকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেছে, সেখানে ভারত ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ নীতির মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত অংশিদারিত্ব আরও শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল ধ্রুব কাটোচ (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ব্রহ্মসের মতো কৌশলগত অ্যাস্ট্রা কোনও দেশের হাতে থাকলে সেটি শুধুমাত্র যুদ্ধের জন্য নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা (Deterrence) তৈরি করে। এতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সামরিক আগ্রাসনের আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হয়।’’

    ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি শুধু একটি প্রতিরক্ষা রফতানি নয়; এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ফিলিপিন্স, ভিয়েতনামের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ভারতের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উপর আস্থা দেখাচ্ছে, তখন স্পষ্ট হচ্ছে যে ভারত ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা রফতানিকারি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশিদার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করছে। একই সঙ্গে চিনের তীব্র প্রতিক্রিয়াও এই চুক্তির কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • BBL Opening Match in India: ক্রিকেটেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নয়া অধ্যায়! বিগ ব্যাশ লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ চেন্নাইয়ে, মেলবোর্নে ঘোষণা মোদির

    BBL Opening Match in India: ক্রিকেটেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নয়া অধ্যায়! বিগ ব্যাশ লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ চেন্নাইয়ে, মেলবোর্নে ঘোষণা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি এবার ক্রিকেটেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগ (BBL Opening Match in India)-এর উদ্বোধনী ম্যাচ। ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বিদেশি ক্রিকেট লিগ ভারতের মাটিতে ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা আরও গভীর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মোদি এবং আলবানিজ। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এটি যেমন বড় খবর, তেমনই দুই দেশের ক্রীড়া ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি এক নতুন মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।

    কবে হবে বিগ ব্যাশ লিগ (BBL)-এর ম্যাচ

    ঘোষণা অনুযায়ী, বিগ ব্যাশ লিগ (BBL)-এর ১৬তম মরসুমের উদ্বোধনী ম্যাচ ১২ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম (চিপক) স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস এবং পার্থ স্কর্চার্স। এটি হবে বিগ ব্যাশ লিগের ইতিহাসে বিদেশের মাটিতে আয়োজিত প্রথম ম্যাচ। ম্যাচটি ভারতীয় সময় দুপুর ২:৪০ মিনিটে শুরু হবে। এই বিশেষ আয়োজনের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)-এর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি ১০ জুলাই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (MCG) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যৌথভাবে ঘোষণা করেন। দুই দেশের সরকারই ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে।

    এমসিজিতে অন্য অনুভূতি

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi in Australia) বলেন, “এমসিজিতে প্রবেশ করলে একজন ভারতীয়ের মনে একসঙ্গে দুটি অনুভূতি জাগে। প্রথমত, ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের উত্তেজনা এবং দ্বিতীয়ত, এই উপলব্ধি যে আমাদের দুই দেশেই ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি এক অভিন্ন আবেগ। তবে আজ শেষ ওভারের চাপ নেই, রয়েছে শুধুই খেলার আনন্দ, আমাদের বন্ধুত্বের উষ্ণতা এবং ভবিষ্যতের চ্যাম্পিয়নদের অনুপ্রেরণা।” বিগ ব্যাশ লিগের জেনারেল ম্যানেজার অ্যালিস্টেয়ার ডবসন জানান, বিদেশে বিগ ব্যাশের ম্যাচ আয়োজন লিগের দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণের কৌশলের অংশ। ডবসনের কথায়, “বিগ ব্যাশের জনপ্রিয়তা অস্ট্রেলিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। নতুন বাজারে পৌঁছে আরও বেশি দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এর ফলে সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।” ভারতে বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনকে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি এটি বিশ্বজুড়ে বিগ ব্যাশ লিগের জনপ্রিয়তা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের কৌশলগত সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। দুই দেশ প্রথমবারের মতো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Defence Equipment) উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় প্রথম প্রকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইউনিকর্ন শিপবোর্ন কমিউনিকেশনস্ মাস্ট (UNICORN Shipborne Communications Mast)-র যৌথ উন্নয়ন ও লাইসেন্সভিত্তিক উৎপাদন। জাপানের এনইসি কর্পোরেশনের (NEC Corporation) তৈরি এই অত্যাধুনিক সমন্বিত মাস্ট (মাস্তুল) ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজে ব্যবহার করা হবে। ভারতে এই ব্যবস্থা উৎপাদনের দায়িত্ব পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), যারা জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে এটি তৈরি করবে।

    কী এই ভারত-জাপান চুক্তি?

    নতুন চুক্তি অনুযায়ী, জাপান অত্যাধুনিক নকশা, মূল প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্য সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ভারত স্থানীয়ভাবে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, উৎপাদন এবং নির্মাণের দায়িত্ব নেবে। এই প্রকল্পটি কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উচ্চ প্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের তড়িৎ-চৌম্বকীয় দক্ষতা (Electromagnetic ) বাড়াবে এবং রেডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা (Low Radar Cross Section) কমাবে। ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ক্ষমতা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

    কীভাবে ব্যবহার করবে ভারত?

    যদিও ইউনিকর্ন ব্যবস্থা মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন তৈরি করেছে, ভারতীয় নৌবাহিনী এতে নিজেদের সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অ্যান্টেনা সংযুক্ত করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজে বর্তমানে ব্যবহৃত প্রচলিত কমিউনিকেশন ও সেন্সর মাস্টের পরিবর্তে এই নতুন সমন্বিত মাস্তুল বসানো হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রযুক্তি পাওয়ার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ বহুদিনের। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ভারত ও জাপান ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট রফতানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতাতেই এবার যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথ খুলে গেল।

    কী এই ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট?

    ইউনিকর্ন, যার আরেক নাম নোরা-৫০ (NORA-50), যৌথভাবে তৈরি করেছে এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি। এটি মূলত জাপানের মোগামি শ্রেণির ফ্রিগেটের (Mogami-class Frigate) জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি একটি ইন্টিগ্রেটেড মাস্ট সিস্টেম (Integrated Mast System), যেখানে যোগাযোগ, নজরদারি (Surveillance) এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের (Electronic Warfare) একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি কাঠামোর মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধজাহাজের উপরের অংশে আলাদা আলাদা অ্যান্টেনার সংখ্যা অনেক কমে যায়, যা জাহাজের স্টেলথ বৈশিষ্ট্য বাড়ানোর পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণও সহজ করে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    ভারত-জাপানের এই প্রথম প্রতিরক্ষা সহ-উন্নয়ন প্রকল্পকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে—

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আরও আধুনিক ও স্টেলথ সক্ষম হবে।
    • ● ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আওতায় অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দেশীয় উৎপাদন বাড়বে।
    • ● ভারত-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে এই চুক্তি আগামী কয়েক বছরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

  • Abhishek Banerjee: অভিষেককে হাই কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে উঠতে পারে রক্ষাকবচ

    Abhishek Banerjee: অভিষেককে হাই কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে উঠতে পারে রক্ষাকবচ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বারবার কণ্ঠস্বরের নমুনা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁর জন্য দেওয়া আদালতের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সিআইডি চাইলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির ক্ষেত্রেও আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনে আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে সম্মত হন অভিষেক।

    তদন্তে সহযোগিতা না করলে রক্ষাকবচ থাকবে না

    শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কখন কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। তদন্তে সহযোগিতা না করলে আমি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করব। পুলিশের নোটিসে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করুন। না হলে মামলা খারিজ করে জরিমানা করব।” পরে অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির আরও মন্তব্য, “রক্ষাকবচের নির্দেশ প্রত্যাহার করব? হ্যাঁ কি না, উত্তর দিন। না হলে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে আসুন।”

    কেন কণ্ঠস্বরের নমুনা চাইছে সিআইডি?

    নির্বাচনী প্রচারের সময় ডিজে-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। আগেই আদালত জানিয়েছিল, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। সেই সঙ্গে নির্দেশ ছিল, তদন্ত চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে অভিষেকের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য তাঁরই— তা তিনি অস্বীকার করছেন না। তাই আলাদা করে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই।

    দ্বিতীয়বারও হাজিরা এড়িয়ে যান

    গত বুধবার বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল অভিষেকের। কিন্তু তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সেই হাজিরা এড়িয়ে যান। সিআইডি আধিকারিকেরা প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও তিনি উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আগামী ১৮ জুলাই ফের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার হাইকোর্টে মামলার শুনানি হয় এবং আদালত তদন্তে দেরি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।

    আইনজীবীর সওয়াল কী?

    শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, “আমার মক্কেল স্বীকার করছেন সেটি তাঁর কণ্ঠস্বর। গত ২৩ জুন কণ্ঠস্বর নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমার মক্কেল মন্তব্যের দায়বদ্ধতা স্বীকার করছেন। আমি একবারও দাবি করিনি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশে রক্ষাকবচ রয়েছে। এই নির্দেশ নিয়ে আমার দু’টি বক্তব্য রয়েছে। এক, নির্দেশ দেওয়ার সময় আমার মক্কেলের বক্তব্য শোনা হয়নি। দুই, ওই নির্দেশ জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।” পরবর্তীতে তিনি আদালতের কাছে স্বীকার করেন যে, আদালতের আগের নির্দেশ ব্যাখ্যা করতে তাঁর ভুল হয়েছিল। একই সঙ্গে মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতিও চান।

    বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

    বিচারপতি জানান, সংবিধানের ২২৬ ধারার অধীনে অভিষেককে যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা। তাই তদন্তকারী সংস্থা কণ্ঠস্বরের নমুনা চাইলে সেটিও সেই নির্দেশের আওতার মধ্যেই পড়ে। একই বিষয়ে একাধিক মামলা দায়ের করার বিষয়েও আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতির মন্তব্য, “একই বিষয়ে এই আদালত একটি নির্দেশ জারি করেছে। রক্ষাকবচ পেয়েছেন। অন্য দিকে, একই বিষয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন মামলা করলেন। এটা কী ধরনের আচরণ? বিচার পদ্ধতির অপব্যবহার করছেন। আমার নির্দেশে স্পষ্ট বলা ছিল, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ফলে তদন্তকারী সংস্থা যদি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চায়, সেটাও নির্দেশের মধ্যেই পড়ে।”

    অভিষেককে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    রীতিমতো ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন, “আপনি ভয়েস দিন। ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দেওয়ার পরেও যাননি কেন? কোনও মামলাই শুনব না। সম্পূর্ণ প্রটেকশন দেওয়া হয়েছিল। আপনি মামলা তুলে নিন।” বিচারপতি উল্লেখ করেন, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নমুনা দিতে যেতে হবে না, এ কথা বলা হয়নি। আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যেতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুনানির শেষে অভিষেকের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, এই মামলার জন্য নেওয়া কণ্ঠস্বরের নমুনা যেন অন্য কোনও মামলায় ব্যবহার করা না হয়। তবে এই বিষয়ে আদালত কোনও নির্দেশ বা মন্তব্য করেনি।

    ডিম ছোড়ার আশঙ্কা, রাজ্যকে নির্দেশ

    এর পর ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন তোলেন অভিষেকের আইনজীবী। তাঁর দাবি, ওই সময়ে কেউ যেন অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম না ছোড়ে, তার নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। এ বিষয়ে বিচারপতি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ডিম ছোড়ার ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত। জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে।” আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৫ জুলাই এমন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্যের।

  • Weather Update: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা! আগামী চার দিন দুর্যোগের সতর্কবার্তা হাওয়া অফিসের

    Weather Update: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা! আগামী চার দিন দুর্যোগের সতর্কবার্তা হাওয়া অফিসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতি থেকে শুক্র একটানা বৃষ্টিতে ভিজল শহর কলকাতা। মাঝেমধ্যে বৃষ্টির দাপট বাড়ছে। ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে একাধিক রাস্তাঘাট। খুব শীঘ্র এই পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনা নেই, জানিয়ে দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আরও অন্তত চার দিন কলকাতায় এমন বৃষ্টি চলবে। দক্ষিণের ছয় জেলায় ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি চলতে পারে। সকাল থেকেই বৃষ্টিতে শহরে যান চলাচলের গতি ধীর। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, হলদিরাম, সেক্টর ৫ মেট্রোর মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জমেছে জল।

    কেন এই অঝোরে বৃষ্টি

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। তার প্রভাবে আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। সঙ্গে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো বাতাস। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয়। এই দুইয়ের টানে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তাই উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

    বর্ষণমুখর রাত দেখল কলকাতা

    বর্ষণমুখর রাত দেখল কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। বৃষ্টির সতর্কবার্তা (Rain Alert) জারি করা হয়েছিল আগেই। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বেশ বোঝা গেল বৃষ্টির দাপট। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। তারপর কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে রাতভর মুষলধারায় বৃষ্টি চলতে থাকে। কলকাতা ও লাগোয়া জেলায় বৃষ্টির প্রবল দাপট জারি আছে সকালেও। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে শহরে। একই পূর্বাভাস হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে।  শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দমদমে বৃষ্টি হয়েছে ৯৬.৬ মিলিমিটার, আলিপুরে বৃষ্টির পরিমাণ ৩৬.৭ মিলিমিটার। শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.১ ডিগ্রি কম। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ২.১ ডিগ্রি কম।

    টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা

    রাতভর টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা (Kolkata)। শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙতেই শহরের একাধিক এলাকায় জল জমে যাওয়ায় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। স্ট্র্যান্ড রোড-সহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। অফিসযাত্রী থেকে স্কুলপড়ুয়া, সকলেরই নিত্যযাত্রায় বিঘ্ন ঘটেছে প্রবল বর্ষণের জেরে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, উল্টোডাঙা আন্ডারপাস ছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ও ঢাকুরিয়ার মতো এলাকাতেও গোড়ালি সমান জল জমেছে। এর ফলে শহরের প্রধান সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে গাড়ির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। সাঁতরাগাছিতে নতুন রেল সেতুর কাজের জেরে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে একটি ট্রাক খারাপ হয়ে যাওয়ায় হাওড়ামুখী লেনে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে ছিল। ইএম বাইপাস, মা ফ্লাইওভার ও এজেসি বোস রোডেও গাড়ির সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। আধ ঘণ্টার রাস্তা পেরোতে সময় লাগছে দেড় থেকে দু’ঘণ্টা। প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের জল নিকাশির জন্য পাম্পিং স্টেশনগুলিকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। ট্র্যাফিক পুলিশের দাবি, শহরে বড় ধরনের জলজমার কোনো খবর নেই এবং যান চলাচল মোটের ওপর স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বৃষ্টির তোড় না কমলে দিনভর এই দুর্ভোগের রেশ থাকতে পারে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে শুক্রবারের বৃষ্টিতে নাজেহাল মহানগরী।

    দিঘার সমুদ্রে নিষেধাজ্ঞা

    উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর জন্য রয়েছে বিশেষ সতর্কবার্তা। ১২ই জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের জন্য। মাইকিং করে সতর্ক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। দিঘার সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। তৈরি হতে পারে জলোচ্ছ্বাস। সমুদ্র ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দিঘা, দিঘা মোহনা, মন্দারমণি সহ উপকূল মাইকিং করা হচ্ছে।

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা 

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় প্রতি দিনই ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে এই জেলাগুলিতে। বৃষ্টি চলছে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামেও।

    জল বাড়ছে দক্ষিণের নদীগুলিতে

    টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে সুবর্ণরেখা নদী। জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুবর্ণরেখার প্রবল স্রোতে দেউলবাড় ও গড়ধরা গ্রামের সংযোগকারী ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল। ফলে নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া, কৃষক, ব্যবসায়ী-সহ হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা অন্যদিকে, অজয় নদীর জল বাড়লেই প্রত্যেকবার বর্ষায় প্লাবিত হয় গোটা গ্রাম। বিগত প্রায় ২০ বছরে বাঁধে নতুন করে মাটি পড়েনি। কোথাও বাঁধের উচ্চতা কমে গিয়েছে, কোথাও আবার ভাঙা অংশ আজও মেরামত হয়নি। ফলে বর্ষাকালে নদীর জল বাড়লেই বাঁধ উপচে বা ভাঙা অংশ দিয়ে জল ঢুকে প্লাবিত হয় গ্রাম। এবারও সেই আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

    অতি ভারী বৃষ্টি উত্তরবঙ্গেও

    অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গেও। কোচবিহারে ১৪৩ মিমি ও আলিপুরদুয়ারে ১১২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) চলতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও আগামী কয়েক দিনে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলিতে জল বাড়বে। ধসও নামতে পারে পাহাড়ি রাস্তায়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।

  • International Yoga Day: জার্মানির সংসদে যোগ-মেডিটেশন অধিবেশন, ভারতের বিশ্বজয়!

    International Yoga Day: জার্মানির সংসদে যোগ-মেডিটেশন অধিবেশন, ভারতের বিশ্বজয়!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জার্মানির সংসদ বুন্ডেসটাগে (Bundestag) এই প্রথমবারের মতো হল যোগ ও মেডিটেশন অধিবেশন (International Yoga Day)। ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত এই বিশেষ কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে জার্মানিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন ইন্দো-জার্মান পার্লামেন্টারি গ্রুপের (German Parliament) ডেপুটি চেয়ারম্যান হেনরি শ্মিট (Henri Schmidt)। উপস্থিত ছিলেন জার্মানিতে ভারতের রাষ্ট্রদূত অজিত গুপ্তে (Ajit Gupte), জার্মানির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যোগ অনুশীলনকারী এবং প্রবাসী ভারতীয়রা।

    স্বাস্থ্য ও সুস্থতা রক্ষায় যোগব্যায়াম (International Yoga Day)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অজিত গুপ্তে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা রক্ষায় যোগব্যায়ামের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি তিনি ট্র্যাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভারতের নেতৃত্ব এবং জার্মানিতে আয়ুর্বেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোকপাত করেন।প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলেই জার্মান সংসদে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই উদযাপন সম্ভব হয়েছে। সিডিইউ (CDU)-এর সাংসদ হেনরি শ্মিট, বার্লিনে ভারতীয় দূতাবাস এবং ভারতীয় কমিউনিটির সদস্যদের সহযোগিতায় উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়। হামবুর্গের সিডিইউ নেতা রাকেশ ভেউলি (Rakesh Veuli) ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    বিশ্বজুড়ে যোগচর্চার প্রসার

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওভারসিজ বিজেপি ইউরোপের ইন-চার্জ কুলদীপ শেখাওয়াত (Kuldeep Shekhawat) এবং প্রবাসী ভারতীয় সমাজের প্রতিনিধিরা। এই অনুষ্ঠানের (International Yoga Day) আয়োজনকে ভারত-জার্মানি সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে রাষ্ট্রসঙ্ঘে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে যোগচর্চার প্রসার আরও জোরদার হয়েছে। জার্মান বুন্ডেসটাগে এই প্রথম যোগ ও মেডিটেশন সেশন সেই বৈশ্বিক উদ্যোগেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। এদিকে, ২০২৬ সালের ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়েছে ‘যোগ ফর হেলদি এজিং’ (Yoga for Healthy Ageing)’ কনসেপ্ট সামনে রেখে। এর মূল লক্ষ্য ছিল জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সুস্থ (German Parliament), সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে যোগব্যায়ামের ভূমিকা তুলে ধরা। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যার বার্ধক্য বৃদ্ধি, অসংক্রামক রোগ এবং জীবনযাত্রাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকায় এখন শুধু আয়ু বৃদ্ধি নয়, বরং সুস্থ জীবনকাল (Health Span), জীবনমান এবং সামগ্রিক কল্যাণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (International Yoga Day)।

     

LinkedIn
Share