Blog

  • West Bengal STF: রানা রউফকে কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় আনল কে? তপসিয়া থেকে গ্রেফতার আরও এক

    West Bengal STF: রানা রউফকে কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় আনল কে? তপসিয়া থেকে গ্রেফতার আরও এক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি-যোগ এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। ধৃত পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে নেপালের কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা এবং তার জন্য ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরিতে সাহায্য করার অভিযোগে তপসিয়া থেকে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। ধৃতের নাম ইমরান হোসেন। এর আগে রানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে তপসিয়া থেকেই মহম্মদ ইজাজ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ফলে রানা-কাণ্ডে কলকাতা থেকে গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বাড়ল।

    কাঠমান্ডু থেকে রানাকে কলকাতায় আনার অভিযোগ

    গত ১২ অগাস্ট উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে কলকাতায় বসবাস করছিল সে। নেপালের কাঠমান্ডু হয়ে ভারতে ঢুকে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল রানা। তদন্তে উঠে এসেছে, ইমরান হোসেনই কাঠমান্ডু থেকে রানাকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিল। শুধু তাই নয়, রানার জন্য ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরিতেও ইমরান সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ। সোমবার তাকে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এসটিএফের ধারণা, ইমরানকে জেরা করলে রানা-যোগে আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে এসটিএফ।

    আইএসআই-যোগের অভিযোগ, তৈরি হচ্ছিল ‘সেল’?

    রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভারতে একটি ‘সেল’ তৈরি করার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ।অভিযোগ, সেনা ও বিএসএফের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল রানা। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি, ভিডিও এবং মানচিত্র সংগ্রহেরও চেষ্টা করেছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশের হাতে রানার পাকিস্তানি পাসপোর্টের নম্বর আসার পর তার আসল পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে। পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার ছক ছিল বলে অভিযোগ। বাংলাদেশ সীমান্তে রানার জন্য পাভেল নামে এক সহযোগী অপেক্ষা করছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। তবে এখনও তার সন্ধান মেলেনি। বাংলাদেশেও কোনও মডিউল তৈরির পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

    রানার ডায়েরিতে একাধিক দেশের নম্বর

    রানা নিজের মোবাইল নষ্ট করে দিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে তার কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই ডায়েরিতে নেপাল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই নম্বরগুলির সঙ্গে রানার কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ফলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    আল কায়দার মতাদর্শে জেহাদি মডিউল তৈরির অভিযোগ, ধৃত ২

    অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে আল কায়দার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জেহাদি মডিউল তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এবং বিড়লাপুরে অভিযান চালিয়ে জানাদুল বেগ ও সফিক শেখকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত দু’জনকে সোমবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে দেশবিরোধী ও সরকারবিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নোদাখালি থানায় মামলা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমে এসটিএফ তাদের সঙ্গে জেহাদি কার্যকলাপের যোগসূত্রের সন্ধান পায়।

    ‘মুঘলেজম’ ও ‘জেহাদ কি সবিবিল্লা’ নামে পেজ

    তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তেরা ‘মুঘলেজম’ এবং ‘জেহাদ কি সবিবিল্লা’ নামে দুটি সমাজমাধ্যমের পেজ খুলেছিল। ওই পেজগুলির মাধ্যমে উস্কানিমূলক ও দেশবিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। শুধু প্রচার নয়, সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে নিজেদের সংগঠনও বিস্তারের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সংগঠনে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জেহাদি মডিউল তৈরির পাশাপাশি অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টাও চলছিল। তবে এই অভিযোগগুলির বিস্তারিত প্রমাণ এবং মডিউলের পরিধি জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এসটিএফ।

    হামিম মণ্ডল-কাণ্ডের পর ফের বড় অভিযান

    এর আগে, বর্ধমানে অভিযান চালিয়ে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য এসটিএফ। তার সঙ্গে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর যোগাযোগ থাকার অভিযোগ উঠেছিল। তারপরই হাবড়া থেকে পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এবার একই ঘটনায় ইমরান হোসেনের গ্রেফতারি তদন্তকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। একই সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জেহাদি মডিউল তৈরির অভিযোগে জানাদুল বেগ ও সফিক শেখের গ্রেফতারি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, পশ্চিমবঙ্গে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা চলছিল কি না। রানা-যোগ এবং জেহাদি মডিউল— দুই মামলার তদন্তেই এখন নজর রয়েছে এসটিএফের। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

  • Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্যে চালু হয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা যোজনা আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat In Bengal)। এর আওতায় ১৯৫০ ধরনের রোগের চিকিৎসার সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগও। একই সঙ্গে রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর মূল মঞ্চ থেকে এই জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে ১৬ অগাস্ট দিনটিতে ‘খেলা হবে দিবস’ পালন করা হলেও বর্তমান সরকার মানুষের দীর্ঘায়ু কামনায় দিনটিকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প বনাম আয়ুষ্মান ভারত

    পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিষেবা ঘিরে প্রায়শই অভিযোগ উঠত। বেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হত রোগী এবং তাঁর পরিজনদের। এ বার সরকারবদলের পর রাজ্য এবং কেন্দ্রের জোড়া স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু হল পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকলেও তাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। একটি পর্যায়ে তা বন্ধও হয়ে যায়। পরে আবার শর্তসাপেক্ষে চালু হয়েছিল। এ বার আয়ুষ্মান ভারতের হাত ধরে সরকারি স্বাস্থ্যবিমায় ফিরছে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা।

    রাজ্যে আয়ুষ্মান দিবস-এর গুরুত্ব

    রবিবার বিকেলে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্তারা। যাঁরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার আওতায় পড়ছেন না, তাঁদের জন্য চালু করা হল মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনাও। পাশাপাশি রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলিতেও সুলভ মূল্যে ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র চালু করতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত তুলে ধরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“আজকের দিন ১৯৪৬: দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ডে। ১০ হাজার হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল কলকাতাতে। আগের সরকার খেলা হবে দিবস করত। আর বর্তমান সরকার আয়ুষ্মান ভব, আয়ুষ্মান দিবস পালন করছে আপনাদের শতায়ু প্রার্থনা করে।” তিনি কলকাতার ত্রাতা গোপাল মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রণাম জানান।

    চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু চিকিৎসা পরিষেবা নয়, এবার সরকারি সহয়াতায় মিলবে ওষুধও। রাজ্যের ১০টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’। এখান থেকে ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ পাওয়া যাবে। এর জন্য ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর (অপারেশনস) বেনি জোসেফের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর হয় রাজ্যের। ‘অমৃত ফার্মাসি’ গড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, এটি একটি ভাল উদ্যোগ। এর মানের সঙ্গে আপস করা হবে না, বলেও আশাপ্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। এ দিন ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করে রাজ্য। এই মউ-এর মাধ্যমে রাজ্যের ১০০টি সরকারি হাসপাতালে ‘অমৃত ফার্মাসি’ চালু করার বিষয়ে গাঁটছড়া বাঁধল সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া জানান, ইতিমধ্যে বেশ কিছু রাজ্যে এই অমৃত ফার্মাসি চালু হয়ে গিয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গেও তা চালু হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে কেনা যাবে। এখান থেকে ক্যানসার এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য ব্র্যান্ডেড এবং জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্টেন্ট, পেসমেকারের মতো সরঞ্জামও পাওয়া যাবে সস্তায়।

    সুবিধা পাবেন ৬ কোটি রাজ্যবাসী

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার। অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি রাজ্যবাসী এর সুবিধা পাবেন। সত্তরোর্ধ্ব প্রত্যেক রাজ্যবাসীই এর সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ৮০ লক্ষ রাজ্যবাসী পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এ দিন যে দু’টি প্রকল্প চালু হল, তাতে সারা দেশের ৩৮,৬০৪টি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে ১৭০০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যেত। এখন ১৯৫০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, এর সঙ্গে ৪৬৭টি ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র’ এবং চোখের নিখরচায় চিকিৎসার জন্য ‘সুদৃষ্টি’ প্রকল্প রূপায়ণের কথাও।

    মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ

    রাজ্যে নতুন দুই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সূচনার সময়েই হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা— উভয় ক্ষেত্রেই এই সুবিধা মিলবে। শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে বলতে বারণ করেছিলেন। তা-ও বলে দিলাম।” বস্তুত, রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা ডিপার্টমেন্টে না থেকে নার্সিংহোমে গিয়ে হাঁটু প্রতিস্থাপন করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্বাস্থ্য ভবন হাঁটু অস্ত্রোপচারের বিল দেখে হতবাক হয়ে যায়‌। শুরু হয় তদন্ত। তার পর থেকে স্বাস্থ্যসাথীতে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শর্তসাপেক্ষে তা চালুও হয়েছিল। এ বার ফের তা পুরোদমে চালু হচ্ছে নতুন দুই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার হাত ধরে।

    গরিব মানুষ ভাল পরিষেবা পাবেন

    রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য তথা চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ভীষণ ভাবে উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, “এটা অনেক আগে হওয়ার কথা ছিল। আমরা জানি আয়ুষ্মান দিবস (কেন্দ্রীয় সরকারের) এপ্রিল মাসে। কিন্তু আজ প্রথম শুরু হল পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যে কালো দিন ছিল। কালো দিনটা এ বার ভাল দিন হল। এর মাধ্যমে অনেকে, বিশেষ করে গরিবেরা ভাল রকম পরিষেবা পাবেন।” বস্তুত, ২০১৮ সালে দেশে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। তবে পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে তা পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল্‌স অ্যান্ড নার্সিংহোমস-এর সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, “এটা আমাদের কাছে খুশির খবর। অন্য রাজ্যের রোগীরাও আমাদের কাছে আসতে পারবেন। এখানের বাসিন্দারা অন্য রাজ্যে গেলেও চিকিৎসা করাতে পারবেন।”

  • Fatty Liver: লিভারে চর্বি জমছে? প্রাতঃরাশের পাতে রাখুন এই খাবারগুলি, মিলবে উপকার

    Fatty Liver: লিভারে চর্বি জমছে? প্রাতঃরাশের পাতে রাখুন এই খাবারগুলি, মিলবে উপকার

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। বিশেষত নন অ্যালকোহল ফ্যাটি লিভারের বিপদ আরও বাড়ছে। একাধিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ফ্যাটি লিভারের সমস্যার ভুগছেন শিশু থেকে প্রৌঢ়! বিশেষত চল্লিশোর্ধ্বদের মধ্যে এই সমস্যা আরও বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি ফ্যাটি লিভারের সমস্যা শরীরের একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। লিভারের বড় জটিল সমস্যা, অন্ত্রের রোগ, হজমের গোলমাল এমনকি একাধিক হরমোন ঘটিত অসুখের নেপথ্যে থাকছে ফ্যাটি লিভার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগের প্রকোপ থেকে বাদ নেই শিশুরাও। ভারতীয় শিশুদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বয়স দশ কিংবা বারো বছর। কিন্তু তারাও এই ধরনের সমস্যায় ভুগছে। ফলে দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপন মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস থাকলেই ফ্যাটি লিভার হয়। কিন্তু গত এক দশকে সেই ভাবনা বদলে গিয়েছে। জীবন যাপনের ধরনের জেরেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হচ্ছে। যার নাম নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। তবে, এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে জলখাবার। এমনটাই জানাচ্ছেন, পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাতঃরাশে কী খাওয়া হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করছে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। বিশেষত ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের মোকাবিলায় প্রাতঃরাশ খুবই জরুরি।‌ এই ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রাতঃরাশের খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    প্রাতঃরাশের কোন খাবার ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে?

    মুগের ডালের ছিলা!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাতঃরাশে সুষম খাবার নিয়মিত খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার লিভারে অপ্রয়োজনীয় চর্বি তৈরি করে। ফলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। জলখাবারে মুগ ডালের ছিলার মতো খাবার খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে। তাঁদের পরামর্শ, মুগ ডালের পেস্ট বানিয়ে প্যানকেকের মতো তৈরি করতে হবে। তার মধ্যে কিছু সবুজ সব্জি যেমন ক্যাপসিকাম, বিনস কিংবা ভূট্টার মতো দানাশস্য ও দেওয়া যেতে পারে। তাহলে একসঙ্গে শরীরে প্রোটিন ও ভিটামিনের উপাদান পৌঁছবে। সকালে এই জাতীয় খাবার খেলে পেট ভরে থাকবে। অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার ঝুঁকি কমবে। আবার ভিটামিন ও ভালো প্রোটিন শরীরের ক্লান্তি কমাবে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা মোকাবিলা সহজ হবে।

    ডিম ও সব্জি দিয়ে রুটি!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিম, সবুজ সব্জি ও পরিমাণ মতো দানাশস্য একসঙ্গে নিয়মিত প্রাতঃরাশে থাকলে লিভারের কার্যক্ষমতা ভালো থাকবে। ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমবে। তাই তাঁদের পরামর্শ, নিয়মিত আটা, মিলেট বা বাজরার রুটি সব্জির পুর এবং ডিম দিয়ে বানিয়ে প্রাতঃরাশে খাওয়া যেতে পারে। সব্জির মধ্যে পালং শাক, গাজরের মতো সব্জি দেওয়া যেতে পারে। যেখান থেকে শরীর সহজেই ভিটামিন‌ সংগ্রহ করতে পারবে। আবার মাশরুম ও খাওয়া যেতে পারে।

    দই এবং বেরি মেশানো!

    টক দই লিভারের জন্য খুবই উপকারি।‌ তাই পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের মোকাবিলায় টক দই হাতিয়ার হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময় সকালের জলখাবার ভারি খেতে ইচ্ছে হয় না। কখনো কখনো হালকা খাবার খেতে ইচ্ছে হয়। এমন সময় বেরি মেশানো টক দই খাওয়া যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, টক দই অন্ত্রের জন্য উপকারি। এতে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। ফলে লিভার, পাকস্থলী, অন্ত্র ভালো রাখে। আবার বেরিও শরীরের জন্য উপকারি। এতে মেদ জমে না। বরং স্থুলতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে, ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ মোকাবিলা সহজ‌ হয়। তাই, ফ্যাটি লিভারের বিপদ রুখতে বেরি মেশানো টক দই খাওয়া যেতে পারে।

    সব্জি ও ডিম দেওয়া স্যান্ডুইচ!

    শশা, পিঁয়াজ, টমেটো, গাজর, লেটুস পাতার মতো রঙিন সব্জি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এগুলোতে শরীরে মেদ জমে না।‌ বরং এই ধরনের খাবার ক্যালোরি ক্ষয় করতে সাহায্য করে। ফ্যাটি লিভার রুখতে এই ক্যালোরি ক্ষয় করা জরুরি। তাই সকালের জলখাবারে পাউরুটির ভিতরে শশা, পিঁয়াজ, টমেটো, লেটুস পাতা দিয়ে ভরে স্যান্ডুইচ বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে এরসঙ্গে পাতে একটা বা দুটো সেদ্ধ ডিম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, ফাইবারের সঙ্গে প্রোটিন থাকা জরুরি। তাই সিদ্ধ ডিম থাকলে সুষম আহার হবে। ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও কমবে। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রাতঃরাশে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা খুবই জরুরি। ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে লুচি, পরোটা, অতিরিক্ত তেলেভাজা জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন বার্গার, পিৎজা এগুলো কখনোই খাওয়া যাবে না। কারণ এগুলো লিভারের ক্ষতিকারক চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Tarapith Hotel Fire: তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! পুড়ে-দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু অন্তত ৬ পুণ্যার্থীর

    Tarapith Hotel Fire: তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! পুড়ে-দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু অন্তত ৬ পুণ্যার্থীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল বীরভূমের তারাপীঠ। মন্দিরের অদূরে পাঁচতলা একটি হোটেলে আগুন লেগে অন্তত ৬ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মৃতদের মধ্যে কেউ আগুনে পুড়ে এবং কেউ ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গুরুতর জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার হওয়ায় এ দিন সকাল থেকেই তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ভিড় ছিল। বহু মানুষ পুজো দিতে এসে বিভিন্ন হোটেলে উঠেছিলেন। তার মধ্যেই ভোরের দিকে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

    ভোরে হঠাৎ আগুন, ঘন কালো ধোঁয়ায় আতঙ্ক

    তারাপীঠ থানার কাছেই পুকুরপাড়ে রয়েছে ‘বিদেশিনী’ নামে পাঁচতলা হোটেলটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ হোটেলের বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি হঠাৎ ফেটে যায়। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে হোটেলের নিচের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া। সেই সময় হোটেলের অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শিশু ও পুণ্যার্থীরাও ছিলেন। আচমকা ধোঁয়ায় ঘর ও সিঁড়ি ভরে যাওয়ায় অনেকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আটকে পড়েন। আতঙ্কে হোটেলের ভিতরে শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি।

    প্রাণ বাঁচাতে বেরোতে গিয়ে বিপত্তি

    হোটেল মালিক কল্যাণ পাল জানান, আগুন লাগার পর রাতপাহারার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিন্তু ততক্ষণে হোটেলের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারের সামগ্রীতে আগুন ধরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কল্যাণ পাল বলেন, ‘‘আমাদের এখানে রাতপাহারার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা উঠে সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন। বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন। কিন্তু তত ক্ষণে হোটেলসজ্জার সঙ্গে ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায়। আগুনটা আরও বেড়ে যায়।’’ তাঁর দাবি, দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ধোঁয়া হোটেলের উপরতলাগুলিতেও পৌঁছে যায়। ঘর ও সিঁড়ি ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় আতঙ্কে আবাসিকেরা বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। হোটেল মালিক আরও বলেন, ‘‘হঠাৎই ঘর ও সিঁড়ি ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে গেলে আবাসিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। আতঙ্কে ঘর থেকে আবাসিকেরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিলেন। তাঁরা বাইরে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পিছন দিক দিয়ে বেরোনোর দরজা রয়েছে। কিন্তু সেটা অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁরা রিসেপশন দিয়ে বেরোতে শুরু করেন। তখনই অনেকে ঝলসে যান।’’

    উপরতলাতেও আটকে ছিলেন অনেকে

    আগুন মূলত হোটেলের নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ায় উপরতলার আবাসিকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। নিচে আগুন থাকায় তাঁদের অনেকেই নিরাপদে বেরোতে পারেননি। আতঙ্কে কয়েকজন উপর থেকে জিনিসপত্র নিচে ফেলতে শুরু করেন। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, উপরতলায় থাকা আবাসিকদের মধ্যে বড় ধরনের আঘাতের খবর নেই।

    দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল

    হোটেলটি তারাপীঠ থানার কাছেই হওয়ায় খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারাপীঠ থানার পাশাপাশি রামপুরহাট থানার পুলিশও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। খবর পেয়ে দমকলের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। হোটেলের ভিতর থেকে আবাসিকদের একে একে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। আগুনে দগ্ধ এবং ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে তারাপীঠে যখন পুণ্যার্থীদের ভিড় তুঙ্গে, তখনই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা চলার পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ে কি না, সে দিকেও নজর রয়েছে প্রশাসনের।

  • Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাওয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর তথা পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক বিজেপির সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও যন্ত্রণা প্রকাশ করে তিনি সোনিয়ার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সুমিত্র ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নৈহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন। চিঠিতে সুমিত্র অভিযোগ করেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা থামানোর চেষ্টা আসলে “ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি”। তাঁর দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়ার সময় কংগ্রেস কর্মীদের থামানোর বারবার চেষ্টা তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ (Bankim Chandra)

    সুমিত্রর কথায়, “আজ, ১৫ আগস্ট ২০২৬, স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির এই পবিত্র সকালে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ ভারতমাতাকে শ্রদ্ধা জানাতে নিবেদিত, তখন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে যা ঘটেছে, তা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি।” তিনি এও বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ কংগ্রেস কর্মীরা যখন গাইছিলেন, তখন তাঁদের অস্বস্তি, অসন্তোষ এবং বারবার থামানোর চেষ্টা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক, দেশপ্রেমিক এবং সর্বোপরি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সরাসরি বংশধর হিসেবে গভীর বেদনা, শূন্যতা ও যন্ত্রণা নিয়ে আমি এই চিঠি লিখছি।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগও তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক। ১৯৩৭ সালে মুসলিম লিগের অধিবেশনে মহম্মদ আলি জিন্নার ‘বন্দে মাতরম’-কে মুসলিমবিরোধী আখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সেই আপত্তির জেরে কংগ্রেস সরকারি অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দু’টি প্রকৃতিবন্দনামূলক স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই আপসের ছায়া এখনও কংগ্রেসের মতাদর্শ ও আচরণে দেখা যায়।

    দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়

    চিঠিতে সুমিত্র লেখেন, “ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, আপনাদের কথিত দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৩৭ সালের অক্টোবরে আপনারাও মহম্মদ আলি জিন্নার অযৌক্তিক আপত্তির কাছে নতিস্বীকার করে এই চিরন্তন দেশাত্মবোধক গানকে খণ্ডিত করেছিলেন। সেই আপসের ছায়া এখনও আপনাদের মতাদর্শে দৃশ্যমান এবং আজ আপনাদের আচরণে তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।” ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগেও আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আজকের এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগ গভীরভাবে আহত হয়েছে। বিষয়টি আপনাকে জানানো আমার নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করি।” সোনিয়ার উদ্দেশে তাঁর আবেদন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের বংশধর হিসেবে অত্যন্ত বিনীত কিন্তু দৃঢ় ভাষায় আমি আপনাকে আত্মসমালোচনা করে আমার সমস্ত দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে, আপনার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যে নেতৃত্ব নিজের স্বাধীনতার মন্ত্রকেই সম্মান করতে ব্যর্থ হয়, ইতিহাসে তাঁর স্থান বিস্মৃতির অন্ধকারে।”

    অমিত মালব্যর অভিযোগ

    এর আগে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছিলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের প্রথম স্তবকগুলি গাওয়ার পর সোনিয়া “অসন্তুষ্ট” হয়ে তা থামানোর কথা বলেছিলেন। রাহুলও (গান্ধী) গান শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন মালব্য। তবে পরে তাঁদের জানানো হয় যে গানটি চলবে এবং শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ পূর্ণাঙ্গ পরিবেশন করা হয়। এই ঘটনার নিন্দা করে মালব্য অভিযোগ করেন, গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও সভ্যতাগত শিকড়ে প্রতিষ্ঠিত ভারতের ধারণার সম্পর্ক বরাবরই অস্বস্তিকর। ঘটনা প্রসঙ্গে সুমিত্র বলেন, “তাঁর কাজ সত্যিই লজ্জাজনক। এটি দেশের প্রতি অপমান। গোটা ভারত এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রতি অপমান। আমার গোটা পরিবার এতে ব্যথিত হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, এত বছর ভারতে বসবাস করেও সোনিয়া গান্ধী তাঁর ইতালীয় সংস্কৃতিকে ভুলতে পারেননি।”

    সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি

    তিনি জানান, বিষয়টি জানিয়ে সরাসরি সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও তার প্রতিলিপি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “দেখা যাক, তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন কি না।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি বা অন্য কোনও সরকারি আধিকারিককে তিনি চিঠি দেননি, যাঁকে এই ঘটনার জন্য দায়ী মনে করেছেন, তাঁকেই সরাসরি জানিয়েছেন এবং দলের প্রধানকে প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন।

     

  • Yug Nirman Yojana: যুগ নির্মাণ যোজনার তিন দিনের শিবিরে হল যজ্ঞ-প্রবচন দান

    Yug Nirman Yojana: যুগ নির্মাণ যোজনার তিন দিনের শিবিরে হল যজ্ঞ-প্রবচন দান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুগলির ব্যান্ডেলে হয়ে গেল যুগ নির্মাণ যোজনার (Yug Nirman Yojana) তিন দিনের শিবির। শুক্রবার শুরু হওয়া এই শিবিরে কর্মকর্তারা ছাড়াও, যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৫০ জন ভক্ত। এঁদের অনেকেই গায়ত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত (Puja Pravachan)। তিনি দিনের এই শিবিরে হিন্দু সংস্কার মেনে হয়েছে পুংসবন সংস্কার-যজ্ঞ এবং প্রবচন দান। রীতি মেনে হয়েছে দীপ যজ্ঞও। সংস্থার তরফে শিবির পরিচালনা করেন গোকুল মুন্দ্রা এবং সঞ্জীব ব্যানার্জি।

    যুগ নির্মাণ যোজনার লক্ষ্য (Yug Nirman Yojana)

    যুগের পরিবর্তন ও মানবকল্যাণের লক্ষ্যে পণ্ডিত শ্রীরাম শর্মা আচার্য ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন যুগ নির্মাণ যোজনা। এটি শান্তিকুঞ্জ, হরিদ্বার এবং অল ওয়ার্ল্ড গায়ত্রী পরিবারের একটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক আন্দোলন। এর মূল লক্ষ্য মানুষের চিন্তা ও চরিত্রের উন্নতি ঘটিয়ে পৃথিবীতে শান্তি ও সদ্‌ভাব প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের মধ্যে দেবত্ব প্রতিষ্ঠা করাও এই সংস্থার লক্ষ্য। যুগ নির্মাণ যোজনা হিন্দুদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে বছরভর নানা অনুষ্ঠান করেন। প্রতিটি মানুষেরই যে গায়ত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে, সকলেই যে নিত্য গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করতে পারেন, সেই আন্দোলনের বীজই সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে প্রাণপাত করছেন যুগ নির্মাণ যোজনার কর্তারা।

    পরিপাটি ব্যান্ডেলের আশ্রম

    বাংলায় যুগ নির্মাণ যোজনার একাধিক কেন্দ্র রয়েছে। তবে সব চেয়ে বেশি পরিচিত কলকাতা ও ব্যান্ডেলের কেন্দ্রগুলি। কলকাতায় রয়েছে মা গায়ত্রীর অনিন্দ্যসুন্দর বিগ্রহ। আর ব্যান্ডেলের আশ্রমে সব মিলিয়ে রয়েছে পাঁচটি মন্দির। একটিতে রয়েছেন মা কালী, অন্যটির অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা দুর্গা। একটি মন্দির রয়েছে মহাকালের। এই মন্দিরে রয়েছে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের রেপ্লিকাও। এখানে মা গায়ত্রীর মন্দির রয়েছে দু’টি। একটি রয়েছে মায়ের এক মুখী মূর্তি, আর অন্যটিতে রয়েছে মায়ের পঞ্চমুখী বিগ্রহ। মন্দিরগুলিতে নিত্য অন্নভোগ হয়। সেই ভোগই প্রসাদ হিসেবে পরম শ্রদ্ধায় গ্রহণ করেন ভক্তরা। যুগ নির্মাণ যোজনার প্রধান কেন্দ্র হরিদ্বারে। সেখানে রয়েছে রাম আচার্য এবং তাঁর স্ত্রীর সমাধিস্থল। সেই সমাধিস্থলের অনুকরণেই ব্যান্ডেলেও বানানো হয়েছে হয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ। এই সৌধের মাঝেই রয়েছে অখণ্ড জ্যোতির রেপ্লিকা। এই নামে সংস্থার একটি মাসিক পত্রিকাও রয়েছে। দেশ-বিদেশের একাধিক ভাষায় নিয়মিত প্রকাশিত হয় এই পত্রিকা। ব্যান্ডেলের এই আশ্রমে রয়েছে বিরাট গো-শালা, যজ্ঞ-শালা, এবং সবজি খেত।

    কর্মকর্তাদের বক্তব্য  

    সংস্থার তরফে সঞ্জীববাবু বলেন, “প্রতি বছর চার থেকে পাঁচবার আমাদের শিবির হয়। শিবিরে হিন্দু রীতি মেনে যাগ-যজ্ঞ-সহ নানা অনুষ্ঠান হয়। হয় প্রবচন দানও (Yug Nirman Yojana)। শিবিরে যোগ দেওয়া ভক্তদের জন্য আশ্রমের তরফে নিখরচায় খাওয়া-দাওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ভক্তরা স্বেচ্ছায় প্রণামী হিসেবে যা দেন, তাই আশ্রম চালানোর পাথেয়।” গোকুলবাবু বলেন, “হিন্দু ধর্ম বাঁচাতে আমাদের ভরসা মা গায়ত্রী। আমরা তাঁরই নাম জপ-ধ্যান করি। ভক্তরা চাইলে আমরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দীক্ষা-সহ নানা শুভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে দিয়ে আসি। ভক্তদের সামর্থ্য না থাকলে আমরাই জিনিসপত্র নিয়ে (Puja Pravachan) গিয়েও দীক্ষা দান করে আসি। আমরা এভাবেই সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে চাই গায়ত্রী আন্দোলনের ঢেউ (Yug Nirman Yojana)।”

     

  • Hindus Under Attack:  হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, ভারতজুড়ে একাধিক ঘটনার অভিযোগ

    Hindus Under Attack:  হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, ভারতজুড়ে একাধিক ঘটনার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) ওপর হামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলেই অভিযোগ। বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন, ধর্মান্তরে বাধ্য করা, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি (Weekly Round up) অপবিত্র করা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবি, এই ঘটনাগুলির সামগ্রিক মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি।

    ৯ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে হিন্দুদের ওপর হামলা ও বৈষম্যের অভিযোগে ছ’টি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার সম্ভব হয়নি।

    অবৈধ অভিবাসনবিরোধী পুলিশের অভিযান (Hindus Under Attack)

    বেঙ্গালুরুতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী পুলিশের অভিযানে বৈধ নথিপত্র ছাড়া বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

    শনিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। ইলেকট্রনিক সিটি ও হোয়াইটফিল্ড বিভাগের অভিযানে যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২,৮৯৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারের পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করাই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।

    হিন্দুত্ববাদী কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    আহিল্যানগর পুরসভার বিদ্যুৎ দফতরের চুক্তিভিত্তিক কর্মী ধীরজ কাচারুসিংহ রাজপুত ওরফে পরদেশিকে মুকুন্দনগরে একদল মুসলিম মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    তাঁর স্ত্রী ও কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের অভিযোগ, মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় কপালে তিলক পরায় তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে মারধর করা হয়েছিল। ঘটনাটিকে তাঁরা পরিকল্পিত হামলা হিসেবে দাবি করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    কানওয়ার যাত্রা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বামপন্থী সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ নিয়মিতভাবে কানওয়ারিয়া ও কানওয়ার যাত্রাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। এর মাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার একটি বিশেষ রাজনৈতিক ব্যাখ্যা প্রচার করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দ্য ওয়্যারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হিন্দুবিদ্বেষী প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি লেখাকে তুলনামূলকভাবে পরোক্ষ পদ্ধতিতে একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেখক আকাশ জোশী প্রথমে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও গাড়ির মালিকদের দৃষ্টিতে কানওয়ারিয়াদের যানজট এবং নিরাপত্তার জন্য সমস্যা হিসেবে দেখিয়েছেন। পরে তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর, অর্থাৎ কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি কর্তৃপক্ষ কানওয়ার যাত্রীদের যাত্রা সহজ করার চেষ্টা করছে।

    বেঙ্গালুরুতে কৌতুক অনুষ্ঠান বাতিল

    বেঙ্গালুরুর চার্চ স্ট্রিটের দ্য কমেডি থিয়েটারে নাসিফ আখতারের প্রস্তাবিত কৌতুক অনুষ্ঠান “ডিসরাপ্টেড” অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। হিন্দু সংগঠনগুলির আপত্তির পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয় (Hindus Under Attack)।

    সংগঠনগুলির আশঙ্কা ছিল, অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। তাঁদের আপত্তির পরেই অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে খবর।

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এখন মতাদর্শের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের প্রতিষ্ঠাতা তথা মুখ্যমন্ত্রী বিজয় জোসেফ  সংবিধাননির্ভর ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা বলেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর দল রাজনৈতিক পরিসরে খ্রিস্টধর্মকে ক্রমশ বেশি করে জায়গা দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    দিল্লিতে কিশোরকে হত্যা, কানওয়ার যাত্রার যোগসূত্রের দাবি

    দিল্লির আদর্শনগরের লালবাগ বস্তিতে ১২ অগাস্ট বুধবার রাতে ১৬ বছর বয়সী নীরজকে প্রথমে ছুরি মেরে এবং পরে গুলি করে খুন করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আমান মুল্লার সঙ্গে বিবাদের পর এই হামলা ঘটে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীরজ একটি কারখানায় কাজ করতেন। ১১ আগস্ট কানওয়ার যাত্রা থেকে ফিরেছিলেন তিনি। তাঁর কানওয়ার যাত্রায় অংশগ্রহণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে হামলার সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে থাকা হিন্দুবিদ্বেষী মনোভাব থেকে বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক অপরাধের জন্ম হয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কেবল প্রকাশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, আপাতদৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে থাকা সূক্ষ্ম বৈষম্যও হিন্দুবিদ্বেষকে উৎসাহিত করতে পারে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের যুক্তি, নিষেধাজ্ঞার পেছনে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কারণ দেখানো হলেও, আদতে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বিষয়টি নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন উঠতে পারে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং মতামতকে তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আদালতের নথি এবং স্বাধীন সংবাদসূত্র দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন (Weekly Round up)। বিশেষ করে ধর্মীয় বিদ্বেষ, হত্যাকাণ্ড ও অবৈধ অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Hindus Under Attack)।

     

  • Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র (Direct Action Day) ৭৮তম বার্ষিকী মনে করিয়ে দেয়, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কত দ্রুত একটি সভ্যতাকে গ্রাস করতে পারে। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট মুসলিম লীগের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি অল্প সময়ের মধ্যেই উপমহাদেশের ইতিহাসে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহতম হিংসার অন্যতম ঘটনায় পরিণত হয় (Calcutta Horrors History)। আজ, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নতুন করে হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসায়, ১৯৪৬-এর সেই অন্ধকার দিনের স্মৃতি ফের আলোচনায় এসেছে।

    পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ (Direct Action Day)

    ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্টের ঘটনাকে আকস্মিক দাঙ্গা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—এমনটাই দাবি করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে। মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের আহ্বানকে হিন্দু সমাজের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পাকিস্তান গঠনের দাবি মেনে নিতে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    রমজানের ১৭তম দিনের সঙ্গে কর্মসূচিটির সময় মিলে যাওয়াকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে এই দিনের সম্পর্ককে সামনে রেখে দাবি করা হয়েছে, কর্মসূচিটির মধ্যে ধর্মীয় বিজয়ের ঐতিহাসিক বয়ানের রাজনৈতিক ব্যবহার ছিল।

    কলকাতায় কর্মসূচির আগে ব্যাপক প্রস্তুতির অভিযোগও উঠে আসে। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৬ অগাস্ট সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন এবং বিপুল সংখ্যক মুসলিমের সমাবেশ নিশ্চিত করেছিলেন।এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    কলকাতা ময়দানের বিশাল সমাবেশে প্রায় এক লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সমাবেশে যারা যোগ দিয়েছিল, তাদের হাতে ছিল লোহার রড, লাঠি এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর সংগঠিত দলগুলি কলকাতার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ নামে পরিচিত।

    ৭২ ঘণ্টার ভয়াবহতা

    পরবর্তী তিন দিনে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে হিন্দুদের দোকানপাট লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর আবাসিক এলাকাগুলিতেও হামলা শুরু হয়। আমহার্স্ট স্ট্রিট, বোরতলা ও জোড়াসাঁকোর মতো হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত কম হিসাবেও প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়, আবার কিছু সূত্রে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। মাত্র তিন দিনের মধ্যে এক লাখেরও বেশি হিন্দু গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন।

    হামলার নৃশংসতার বিবরণ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংসতা, হত্যা, অঙ্গহানি এবং মৃতদেহের ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিপ ট্যালবট সেই সময়ের কলকাতার রাস্তায় বিকৃত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ, ঠেলাগাড়িতে স্তূপ করে রাখা মৃতদেহ এবং নর্দমায় পড়ে থাকা মরদেহের ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা করেছিলেন (Direct Action Day)।

    হামলার লক্ষ্য শুধু মানুষ বা সম্পত্তি ছিল না। হিন্দু মন্দিরে হামলা, ধর্মীয় প্রতীক অপবিত্র করা এবং ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। কলকাতা ভবিষ্যতে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হতে পারে—এই ধারণা থেকেই হিন্দুদের উপস্থিতি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে হিন্দু প্রতিরোধ

    এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে পরিচিত, হিন্দুদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী, এবং ‘ভারতীয় জাতীয় বাহিনী’র নেতা ছিলেন। তাঁর সংগঠনে ৭০০ থেকে ৮০০ জন সদস্য ছিলেন (Calcutta Horrors History)।

    স্থানীয় কুস্তিগির ও মাংসের দোকানের মালিক হিসেবে পরিচিত গোপাল পরিস্থিতি বুঝে বিভিন্ন শ্রেণির হিন্দু যুবকদের সংগঠিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিবাসী শ্রমিক, দুধওয়ালা, কামার এবং মারওয়াড়ি ব্যবসায়ীরা। আর্থিক সাহায্যও মিলেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে সংগৃহীত অস্ত্র এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় জোগাড় করা অস্ত্র ব্যবহার করে তাঁর বাহিনী ১৮ অগাস্ট পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করে। প্রথমে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল তাঁদের কৌশল।

    এই পাল্টা প্রতিরোধের ফলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়। তিন দিনের মধ্যে মুসলিম পক্ষের হতাহতের সংখ্যা হিন্দুদের মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়। এরপর সোহরাওয়ার্দী গোপালের কাছে অভিযান বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে দূত পাঠান। ২১ অগাস্ট সোহরাওয়ার্দী সরকারকে বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক প্রশমিত হয় কলকাতার হিন্দু জনসংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিক হুমকি।

    সোহরাওয়ার্দী ও মুসলিম লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র ঘটনাপ্রবাহে সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর হাতে স্বরাষ্ট্র ও তথ্য দফতরের দায়িত্বও ছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলা এবং সরকারি প্রচারের ওপর তাঁর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ ছিল।

    জানা গিয়েছে, ভয়ঙ্কর হিংসার সময়ও পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়ে সোহরাওয়ার্দী কার্যত হামলাকারীদেরই সাহায্য করেছিলেন। দাঙ্গার সময় তিনি পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষগুলিতে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পরিচালনা করছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

    মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানকে অসম্ভব করে তুলে দেশভাগের পক্ষে বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করা। অর্থাৎ দ্বিজাতিতত্ত্বকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই হিংসার ভূমিকা ছিল।

    কলকাতার বাইরে বাংলার গ্রামাঞ্চলেও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ১৯৪৬ সালের অক্টোবরে নোয়াখালির ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড একই ধরনের সংগঠিত হিংসার উদাহরণ (Calcutta Horrors History)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ১৯৪৬-এর সঙ্গে তুলনা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দু’হাজারেরও বেশি হিন্দুবিরোধী হিংসার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৫২টি মন্দিরে হামলা এবং ২৩ জন হিন্দুর মৃত্যুও রয়েছে (Direct Action Day)।

    এই ঘটনাগুলিকে ১৯৪৬ সালের কলকাতার হিংসার সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে হিন্দুদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে সংগঠিত হামলার ধারা এখনও দেখা যায়।

    বাংলাদেশের জনসংখ্যায় হিন্দুদের অনুপাতের পরিবর্তনকেও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৪০ সালে যেখানে হিন্দুদের অনুপাত প্রায় ২৮ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং দেশত্যাগের মতো কারণ।

    ২০২১ সালে দুর্গাপুজোর সময় হামলা, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের রায়ের পর জামাত-সমর্থিত হিংসার অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের শেখ হাসিনা-পরবর্তী হামলাকে একই ধারার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এই ধরনের হামলা আরও দ্রুত সংগঠিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন

    হিন্দুদের ওপর হিংসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা হয়েছে বারংবার। পশ্চিমি সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি হিন্দুবিরোধী হিংসাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের নীরবতা হামলাকারীদের জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ করে দেয়।

    বীর সাভারকরের পুরনো সতর্কবার্তাকেও এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় আনা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, কংগ্রেসের তোষণনীতির পরিণতি শেষ পর্যন্ত হিন্দুদের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। পরবর্তী ইতিহাসের আলোকে সেই আশঙ্কাকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে (Direct Action Day)।

    ইতিহাসের শিক্ষা কী?

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখনও পুরোপুরি গ্রহণ করা হয়নি—এমনটাই এই বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য (Calcutta Horrors History)। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের সংঘাত যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন একটি সমাজে সহাবস্থান গুরুতরভাবে বিপন্ন হতে পারে।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা না করলে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন—এমন দাবিও করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে সক্রিয় আদর্শগত নেটওয়ার্কগুলির ভূমিকা নিয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে দিবস তাই শুধু অতীত স্মরণের দিন নয়, ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তাও বলে অভিমত প্রতিবেদন লেখকের। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট কলকাতার রাস্তায় সাম্প্রদায়িকতার যে আগুন জ্বলেছিল, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিধ্বনি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অতীতের ঘটনাগুলিকে স্বীকার করা, বিশ্লেষণ করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা (Direct Action Day)।

     

  • Ashish Banerjee: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা, কী বলছে পুলিশ?

    Ashish Banerjee: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা, কী বলছে পুলিশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রহস্যমৃত্যু বীরভূমের রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ashish Banerjee)। রবিবার সকালে বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় (TMC)। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। আশিস আত্মহত্যা করেছেন কি না, করলে তার কারণই বা কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় বাড়ি আশিসের। বাড়ি লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয়ও রয়েছে। রবিবার সকালে সেখানেই মেলে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশও। দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

    টানা বিধায়ক (Ashish Banerjee)

    ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন আশিস। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায়ও একাধিকবার ঠাঁই হয়েছিল তাঁর। রাজ্যের প্রাক্তন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী ছিলেন আশিস। মন্ত্রিসভায় বিরাট কোনও দায়িত্ব কোনওদিনই পাননি আশিস। মমতা সরকারের আমলে রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন তিনি। বীরভূমের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন আশিস। অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি থাকাকালীন তাঁর সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি। তবে জেলার রাজনীতিতে অনুব্রতের প্রভাবের কারণে আশিসের রাজনৈতিক উত্থানের সুযোগ সীমিত ছিল বলেও ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    বগটুই গণহত্যায় অস্বস্তিতে ছিলেন আশিস

    ২০২২ সালে রামপুরহাটের বগটুইয়ে গণহত্যার ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিতে পড়েছিল তৃণমূল। সেই সময় আশিসকেও নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও নিজের বিধানসভা এলাকায় ভোটের ফল নিয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন (TMC)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা। বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে ২৪ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যান তিনি (Ashish Banerjee)। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। একাধিক প্রাক্তন বিধায়ক ও কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। দলের অনেক নেতার সঙ্গে কালীঘাটের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলের খবর। ভোটে হেরে যাওয়ার পর আশিসকে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছিল না।

    মৃত্যুর কারণ

    তাঁর মৃত্যুর পিছনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে কী লেখা রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আশিসের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন অনুব্রত। বলেন, “এত ভালো লোক। কেন এই কাজ করলেন, বুঝতে পারছি না। ওঁর কোনও শত্রু নেই। কারও সঙ্গে ঝগড়া নেই। কোনও মানসিক চাপই ছিল না। উনি কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিতেই যেতেন না। আমি প্রচণ্ড দুঃখ পেয়েছি (TMC)। ওঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। খুব নিরীহ, শান্ত লোক ছিলেন। আশিস (Ashish Banerjee) কোনও দুর্নীতিতে ছিলেন বলে আমার মনে হয় না।”

     

  • Atal Bihari Vajpayee: অটলবিহারী বাজপেয়ী, রাজনীতিতে এক বিরল যুগের উপখ্যান

    Atal Bihari Vajpayee: অটলবিহারী বাজপেয়ী, রাজনীতিতে এক বিরল যুগের উপখ্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) ছিলেন একাধারে কৃতী সাংবাদিক, কবি, অসাধারণ বক্তা, নিষ্ঠাবান দলীয় কর্মী এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ স্বয়ংসেবক। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, স্নেহশীল ও (Death Anniversary) আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনওভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ফিরেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি হাজার নয়, লাখ লাখ মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় রাজনীতির এমন একটি অধ্যায়ের অবসান হয়েছে, যেখানে প্রতিযোগিতা বা সংঘাতের পরিবর্তে সমঝোতা, সৌহার্দ্য এবং ক্ষমতার প্রতি আসক্তির পরিবর্তে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা গুরুত্ব পেত।

    বহুরূপে বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)

    ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে, যে জন্মগ্রহণ করে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো রাষ্ট্রনায়কের প্রয়াণে পৃথিবী ও মানবসমাজ আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে। কেউ তাঁকে পিতৃসম ব্যক্তিত্ব বলেছেন, কেউ রাষ্ট্রনায়ক, কেউ প্রকৃত গণতন্ত্রী। কারও কাছে তিনি ছিলেন অসাধারণ বক্তা, আবার কারও কাছে স্নেহের ‘বাবজি’। প্রখ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকর তাঁকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করতেন। মার্কিন নাগরিকদের কাছে অটলবিহারী বাজপেয়ী স্মরণীয় ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে ‘স্বাভাবিক মিত্রতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার জন্য। চিনে তাঁকে স্মরণ করা হয় এমন একমাত্র ভারতীয় নেতা হিসেবে, যিনি মাও সে তুং থেকে দেং শিয়াওপিং এবং হু চিনতাও—চিনের নেতৃত্বের পরপর তিন প্রজন্মের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য স্মরণীয়। অনেকেই হয়তো জানেন না, তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারাও তাঁকে এমন এক নেতা হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি আন্তরিকভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। সমকালীন ভারতের কাছে অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণ তাই এক অপূরণীয় ক্ষতি।

    ক্ষমতার রাজনীতি নয়, দেশের প্রতি ভালোবাসা

    অটলবিহারী বাজপেয়ী এমন এক ধরনের রাজনীতির চর্চা করতেন, যা আজকের দিনে বিরল। তাঁর কাছে ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর রাজনীতিতে আবেগ, অনুভূতি ও মানবিকতার জায়গা ছিল—যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতির মধ্যেও সহমর্মিতা বজায় থাকত। তিনি প্রতিপক্ষকে অসম্মান করতেন না, অন্যের মতকে অগ্রাহ্য করতেন না এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তির রাজনীতিতেও বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁর জীবন ছিল খোলা বইয়ের মতো স্বচ্ছ। ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে তাঁর কোনও দ্বিচারিতা ছিল না। মহাত্মা গান্ধীর মতোই তাঁর জীবন ছিল সবার সামনে উন্মুক্ত (Atal Bihari Vajpayee)। সবাই তাঁকে ভালোবাসতেন, তাঁর প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং নিজের বিশ্বাসের প্রতি তাঁর দৃঢ়তার প্রশংসা করতেন। কিন্তু এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে কখনও দলের ঊর্ধ্বে ভাবেননি। একজন প্রকৃত স্বয়ংসেবক হিসেবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতেন। কোনও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মতের অমিল থাকলেও, একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী হিসেবে তিনি তা মেনে নিতেন। বিশিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ওয়াল্টার অ্যান্ডারসন একবার বলেছিলেন, রাজনীতি ও শৃঙ্খলা সাধারণত পাশাপাশি চলে না, অটলবিহারী বাজপেয়ী ছিলেন তার একমাত্র ব্যতিক্রম।

    রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সৌহার্দ্যের রাজনীতি

    সামাজিক জীবনে অস্পৃশ্যতার প্রথা আমরা অনেকটাই দূর করতে পেরেছি। কিন্তু তার পরিবর্তে রাজনীতিতে এক নতুন ধরনের অস্পৃশ্যতা তৈরি হয়েছে। দুই ভিন্ন দলের মানুষ যেন পরস্পরের মতের সঙ্গে একমত হওয়া তো দূরের কথা, একে অপরের সঙ্গে চোখে চোখ রেখেও কথা বলতে পারেন না।

    অটলবিহারী বাজপেয়ী এর সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষের প্রতিও ছিল সৌহার্দ্য। এমনকি পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মতো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতিও তিনি প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে দ্বিধা করতেন না।

    নেহরু একসময় বলেছিলেন, অটলবিহারী বাজপেয়ী একদিন তাঁর জায়গায় অধিষ্ঠিত হবেন। নেহরুর মৃত্যুর পর বাজপেয়ী তাঁর প্রতি যে আন্তরিক ও উজ্জ্বল শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেছিলেন, তাতেও তাঁর রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় পাওয়া যায়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই গুণ ধরে রেখেছিলেন।

    কর্মীদের প্রতি ছিল গভীর মমতা

    দলীয় কর্মীদের প্রতি অটলবিহারী বাজপেয়ীর ছিল বিশেষ মমত্ববোধ। তিনি যে পদেই থাকুন না কেন, কখনও অহংকার প্রকাশ করতেন না (Atal Bihari Vajpayee)।

    অযোধ্যার তথাকথিত ‘বিতর্কিত’ কাঠামো ভেঙে পড়ার কয়েক মাস পরে বাজপেয়ীর সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন এক সাংবাদিক। তিনি প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ওই সাংবাদিকের সমস্ত তিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন ঠান্ডা মাথায়, তাঁর আচরণ কিংবা অভিব্যক্তিতে রাগের লেশ মাত্র ছিল না (Death Anniversary)।

    সংবিধান নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজন

    অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল ২০০০ সালে সংবিধানের কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা। সংবাদমাধ্যমের একাংশ সেই কমিটিকে সংবিধান পুনর্বিবেচনার কমিটি হিসেবে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরেছিল। অথচ এর উদ্দেশ্য ছিল সংবিধান কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা খতিয়ে দেখা।

    বিআর আম্বেদকর সংবিধান প্রণয়নের সময় সতর্ক করে বলেছিলেন, সংবিধান যতই ভালো হোক, তা যদি খারাপ মানুষের হাতে পড়ে, তাহলে তার উদ্দেশ্য সফল হবে না। প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হলেন দেশের মানুষ।

    প্রাক্তন ব্রিটিশ কূটনীতিক কার্নে রস তাঁর ‘নেতৃত্বহীন বিপ্লব’ গ্রন্থে লিখেছেন, গণতন্ত্র ভোটদাতা অর্থাৎ জনগণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি অর্থাৎ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তির ব্যবস্থা করে। গণতন্ত্র আসলে ভোটদাতা ও নির্বাচিতের মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ সমঝোতা।

    সাধারণ মানুষ সাধারণত সংবিধানের সেই অংশটুকুই জানেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষকে সংবিধান সম্পর্কে শিক্ষিত করার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    সংবিধান সচেতনতা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ২০১৫ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস পালন করা হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সংবিধানের মূল্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন করা।

    সমাজের বৃহৎ অংশের মধ্যে সংবিধান সম্পর্কে এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে দেশের ভিতরে ও বাইরে থাকা কিছু সংগঠন নানা ধরনের অপব্যবহার করছে। আম্বেদকর এই ধরনের অপব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা হারানোর পেছনে নিজেদের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতাও ছিল। ভবিষ্যতে যদি নিজেদের মানুষই আবার বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে এবং দেশকে ফের পরাধীনতার দিকে (Atal Bihari Vajpayee) ঠেলে দিতে পারে। তাই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

    সংবিধান পরিচালনার সামনে চার বড় চ্যালেঞ্জ

    সংবিধাননির্ভর শাসনব্যবস্থার সামনে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ বিচারব্যবস্থা। সংবিধানের তিনটি প্রধান অঙ্গের মধ্যে বিচারব্যবস্থা বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি, বিচার পেতে দেরি হওয়া মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া। আবার কেউ কেউ মনে করেন, অতিদ্রুত বিচার করাও কখনও কখনও ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করতে পারে।

    রাম জন্মভূমি মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত জমি তিন ভাগে ভাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায় বৈধ কি না, তা নির্ধারণের জন্য মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু বিরোধী পক্ষ মসজিদ ইসলাম ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ কি না, সেই প্রশ্ন তুলে রায় বিলম্বিত করার চেষ্টা করে।

    বিষয়টি যখন শুনানির জন্য ওঠে, তখন প্রধান বিচারপতি মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিয়ে জানান, এটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় নয়। এর ফলে মন্দিরপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় আকারের বিক্ষোভ দেখা দেয়। লাখ লাখ মানুষ সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দেখিয়ে দেন যে তাঁদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ আসে আমলাতন্ত্র থেকে। এখানে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, গোটা আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথাই বলা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা অনেক সময় উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। একটি ব্যবস্থা হিসেবে আমলাতন্ত্রের জবাবদিহির অভাব সাংবিধানিক শাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে (Death Anniversary)।

    আম্বেদকরের সতর্কবার্তা

    আম্বেদকর এই বলে সতর্ক করেছিলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলি যদি দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের মতাদর্শ বা দলীয় স্বার্থকে ওপরে স্থান দেয়, তাহলে দ্বিতীয়বারও দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে।

    অটলবিহারী বাজপেয়ীর কাছে দেশ ছিল মন্দিরের মতো। তিনি মনে করতেন, আমরা সেই মন্দিরের পুরোহিত এবং রাষ্ট্রপুরুষের সেবায় আমাদের জীবন উৎসর্গ করতে হবে। এটাই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন।

    ১৯৯৭ সালে ক্ষমতায় মাত্র ১৩ দিন থাকার পর পরাজিত হয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, “দল আসবে, দল যাবে, সরকার আসবে, সরকার যাবে, কিন্তু দেশকে থাকতে হবে এবং গণতন্ত্রকে চিরকাল থাকতে হবে (Atal Bihari Vajpayee)।”

    আজ পরিস্থিতি বদলেছে। জাতীয় রাজনীতিতে একটি দলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে এবং অধিকাংশ দলই আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির বিস্তার। জাত, ভাষা, অঞ্চল ইত্যাদির ভিত্তিতে তৈরি পরিচয় আজ রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। এটি শুধু ভারতের নয়, বিশ্বেরও একটি বড় রাজনৈতিক প্রবণতা। সংবিধানের পক্ষে এই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    বাইরের চাপও বড় চ্যালেঞ্জ

    তৃতীয় চ্যালেঞ্জ আসে বাইরে থেকে। এমন এক শ্রেণির উদারপন্থী বুদ্ধিজীবী ও সংগঠন রয়েছে, যারা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তাঁদের কাজকর্ম জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে সংবিধানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া মৌলিক সমঝোতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

    বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মধ্যে যেমন সত্যিই জনকল্যাণে কাজ করা সংগঠন রয়েছে, তেমনই কিছু সংগঠন ব্যবস্থার অপব্যবহারও করে।

    শবরীমালা মামলার কথাই ধরা যাক। শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে এমন ব্যক্তিরাও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, যাঁরা নিজেরাই সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুসারী নন। কেরলের মতো একটি মাতৃতান্ত্রিক সমাজকে বাইরে থেকে লিঙ্গসমতার শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ও এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তোলে বলে অভিযোগ।

    সংবিধানের ২৫ থেকে ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে, যার মধ্যে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে, নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পরিচালনার অধিকার দেয় (Atal Bihari Vajpayee)।

    রাফাল চুক্তির ক্ষেত্রেও আদালতে যাওয়া পক্ষগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অভিযুক্ত করা। আদালত অভিযোগগুলি খারিজ করে জানিয়েছিল যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তবে কিছু বুদ্ধিজীবী ও বেসরকারি সংগঠন নিজেদের স্বার্থে ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ।

    কবিতায় আশ্রয় খুঁজতেন অটলজি

    অটলবিহারী বাজপেয়ী শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন কবিও। রাজনীতির কোলাহল ও সংঘাতের মধ্যে তিনি কবিতার কাছে আশ্রয় নিতেন। তাঁর নিজের কথায়, তাঁর কবিসত্তা তাঁকে রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার শক্তি দিত, বিশেষ করে যেসব সমস্যা তাঁর বিবেককে স্পর্শ করত।

    তিনি ছিলেন গভীর আবেগপ্রবণ এবং বিনয় তাঁর চরিত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। রাজনীতিতে এমন বিনয়ী মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিজের কবিতায় তিনি ঈশ্বরের কাছে এমন উচ্চতায় না পৌঁছনোর প্রার্থনা করেছিলেন, যেখানে পৌঁছে তিনি নিজের মানুষের কাছ থেকেই দূরে সরে যাবেন।

    সাফল্য ও ব্যর্থতাকে কীভাবে সমানভাবে গ্রহণ করতে হয়, অটলজি নিজের জীবন দিয়ে তা দেখিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, জয় ও পরাজয়কে সমভাবে গ্রহণ করতে পারাই একজন প্রকৃত নেতার লক্ষণ।

    ‘অজাতশত্রু’

    আজকের কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশে সত্য কথা বলা সহজ নয়। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ী সততা, সহনশীলতা ও সমঝোতার রাজনীতি চর্চা করেছিলেন। রাজনীতিক হিসেবে তিনি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যে তাঁর ব্যক্তিগত শত্রু প্রায় ছিল না। তাই তাঁকে বলা হত ‘অজাতশত্রু’।

    তিনি নিজের কাছে সৎ ছিলেন এবং দেশের মানুষের কাছেও ছিলেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। তিনি কখনও মনে করতেন না যে তিনিই সবসময় সঠিক। কারণ, কেউ যদি মনে করেন তিনিই সর্বদা ঠিক, সেখান থেকেই বিদ্বেষের সূচনা হয়।

    অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁর জীবন ও রাজনীতির মাধ্যমে আমাদের সামনে একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে একটি যুগের অবসান ঘটেছে। সত্যিই তাঁর মতো আর একজন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু (Death Anniversary) তিনি যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছিলেন—ইতিবাচকতার রাজনীতি, সহমর্মিতা ও মর্যাদার রাজনীতি এবং বিনয়ের রাজনীতি—তা আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে (Atal Bihari Vajpayee)।

     

LinkedIn
Share