Blog

  • Jharkhand Recruitment Row: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগে বড়সড় পদক্ষেপ, বাতিল ৪৪ পরীক্ষা; অনিয়মের মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট

    Jharkhand Recruitment Row: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগে বড়সড় পদক্ষেপ, বাতিল ৪৪ পরীক্ষা; অনিয়মের মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলনের জেরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়খণ্ড সরকার (Jharkhand Recruitment Row)। মঙ্গলবার রাতে একসঙ্গে আটটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যে ২০১৪ সাল থেকে হওয়া ৪৪টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলির মধ্যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর পাশাপাশি আউটসোর্সিং সংস্থা টিডিপিএল (TDPL)-এর মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষাও রয়েছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছে ড্রাগ ইনস্পেক্টর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ডেপুটি কালেক্টর, ডেন্টাল ডাক্তার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল জজ, অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ পরীক্ষা। সরকারি পলিটেকনিকের লেকচারার, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার-সহ আরও বেশ কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগ পরীক্ষাও এই তালিকায় রয়েছে।

    ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের আবেদন

    শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের কাছে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের আবেদন জানাবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি জেপিএসসি এবং জেএসএসসি—দুই কমিশনেই একটি করে অভ্যন্তরীণ ভিজিল্যান্স সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেপিএসসি এবং জেএসএসসি (JPSC ও JSSC)-র নিয়োগ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করার জন্য গঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশল। ওই কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

    চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত সোমবারের রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে। সেখানে জেএসএসসি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (JSSC Combined Graduate Level বা CGL) পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল এই পরীক্ষা বাতিল করা। একইসঙ্গে টিডিপিএল-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষা এবং ওই সংস্থার প্রকাশিত ফলাফলও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তেই নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জেএসএসসি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষায় সফল হয়ে ইতিমধ্যেই সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া ২,০০০-এরও বেশি প্রার্থী তাঁদের চাকরি নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁরা রাজ্য সচিবালয় থেকে রাঁচির বিরসা চকের দিকে মিছিল করে তাঁদের নিয়োগ যাতে বহাল থাকে, সেই দাবি জানান।

    কেন এই দোলাচল

    পরীক্ষা পরিচালনাকারী এক বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। সিআইডি (CID) তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জানা যায়, পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের হাজারিবাগ, বোকারো, আসানসোল এমনকি নেপালের মতো বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রায় ১৫০টির মধ্যে ১২০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর মুখস্থ করানো হয়। এই নিয়ে মামলা গড়ায় ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। গত ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্ট সন্দেহজনকদের বাদ দিয়ে বাকিদের নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শীর্ষ আদালতও পরীক্ষা বাতিলের আর্জি খারিজ করে দেয়। সেই আইনি সুরক্ষার ভরসাতেই চাকরিপ্রার্থীরা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে সেই স্বস্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেছে।

    নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম

    গত কয়েক মাস ধরে ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি এবং জেএসএসসি (JPSC ও JSSC)-র নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছিল। পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর। বছরের পর বছর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের কাছে এই অভিযোগ ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। অনেকেই একাধিকবার পরীক্ষায় বসেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। ফলে কোনও পরীক্ষা বাতিল হলে তাঁদের বহু বছরের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আন্দোলনে মাথা নোয়াল সরকার

    ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Recruitment Row) এই আন্দোলন জাতীয় স্তরে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই আরও বড় আকার নেয়। দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি (CJP)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলনও দেশের তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভকে সামনে এনেছিল। ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকারীরাও ওই আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। দুই আন্দোলনের ইস্যু আলাদা হলেও মূল দাবিতে মিল রয়েছে—স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা। ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের সূচনা হয় ২৯ জুলাই, রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে। জেপিএসএসসি ও জেএসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার দাবিতে সেখানে আন্দোলনে বসেন চাকরিপ্রার্থীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা

    পরবর্তীতে আন্দোলনে রাজনৈতিক সমর্থনও বাড়ে। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো ২ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন, যার ফলে সরকারের উপর চাপ আরও বাড়তে থাকে। অবশেষে ৪৪টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, জেপিএসএসসি-জেএসএসসি-তে ভিজিল্যান্স সেল গঠন এবং অনিয়মের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথে হাঁটল ঝাড়খণ্ড সরকার। তবে বাতিল হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত চাকরিপ্রার্থী এবং ইতিমধ্যেই চাকরিতে যোগ দেওয়া সফল প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষার নিরাপত্তা ও প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর নির্দেশের পর পরীক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র খতিয়ে দেখতে চালু করা হচ্ছে চার স্তরের যাচাই ব্যবস্থা, যাতে ভুলের সম্ভাবনা আরও কমানো যায়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) পর্যালোচনা বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী আধিকারিকদের পরীক্ষার নিরাপত্তা, পরিকাঠামো এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র ডিরেক্টর জেনারেল সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য দেন।

    ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ

    নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এনটিএ-তে ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে। সংস্থার আরও নিয়োগ ও নতুন কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও পেশাদার করতে এনটিএ ইতিমধ্যেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার নেতৃত্বের পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চিফ টেকনোলজি অফিসার, চিফ ফিনান্স অফিসার, চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার, জেনারেল ম্যানেজার (টেস্ট সিকিউরিটি) এবং জেনারেল ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও সাইকোমেট্রিক্স)-এর মতো পদ। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি, সাইকোমেট্রিক্স এবং প্রশ্নপত্র তৈরির মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রের ডোমেন বিশেষজ্ঞদের এনটিএ-তে যুক্ত করা হচ্ছে।

    বহু কর্মীকে সরানোর সিদ্ধান্ত

    জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-তে বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। একধাক্কায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে দেওয়া হল এনটিএ থেকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এনটিএ-র পরীক্ষার টিমে ইতিমধ্যেই পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে এনটিএ-তে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    অফিস স্থানান্তর

    এনটিএ-র অফিসও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা হবে। পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর দল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৭ অগাস্ট এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অডিট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুনে হওয়া ইউজিসি-নেট পরীক্ষার তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির জেরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপরই এই সংস্কারের উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়েছে।

    চারটি স্তরে যাচাই

    এছাড়া পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে চারটি স্তরের যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র যাতে নির্ভুল হয়, তা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে চার স্তরের স্ক্রুটিনি। বর্তমানে এনটিএ-তে একাধিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। নতুন পদ্ধতিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষাসচিব এবং স্কুল শিক্ষা সচিব-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানেই এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার নানা গলদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কাজের পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই সংস্থায় ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে।

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় পদক্ষেপ

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায়ও একাধিক কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এনটিএ-কে কনফিডেনসিয়াল অপারেশন (CONOPS) আর্কিটেকচার সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে পৃথক ও সুরক্ষিত কক্ষ, ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন এয়ার গ্যাপ সিস্টেম এবং পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মোবাইল-সহ অন্যান্য ডিভাইস নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অস্বচ্ছতা, কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস তো কখনও প্রশ্নে ভুল। দু’বার করে একই পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। ফলত ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই নিয়ে দেশ জুড়ে আন্দোলনের জেরে এবার বড় পরিবর্তনের পথে পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকায় নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিবদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তাঁর মন্ত্রক জানিয়েছে, এনটিএ-র কাজের ধারায় আমূল পরিবর্তন করা হবে।

    সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ

    প্রহ্লাদ যোশী এনটিএ-কে পরীক্ষার সমস্ত নির্ধারিত প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংস্থার গোটা পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার একটি সমন্বিত অডিট করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, নিরাপত্তা ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করে পরীক্ষার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা আরও শক্তিশালী করা।

    সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা!

    প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি এবং নিরাপত্তার ফাঁকফোকর রুখতে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। ইতিমধ্যেই এ জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।এনটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দু’বছরের জন্য একটি পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দিল্লির মিন্টো রোডে এনটিএ-র প্রধান কার্যালয়, ওখলার আঞ্চলিক অফিস, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের স্ট্রং রুম, সার্ভার রুম, গুদাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। লক্ষ্য একটাই, কোনওভাবেই যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অন্য কোনও ধরনের জালিয়াতির সুযোগ না থাকে।

  • Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পুরোনো আতঙ্ক কি ফের ফিরে আসছে? এই নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকদের একাংশ। দিন কয়েক আগে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে! আর তারপরেই ফের আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না থাকলে ফের বিপদ বাড়তে পারে‌।

    কেন আবার করোনা নিয়ে উদ্বেগ?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সন্দীপ বাগ মারা যান। জানা যায়, তাঁর শরীরে করোনা সদৃশ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ওই চিকিৎসক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই চিকিৎসকের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। ডেথ সার্টিফিকেটে অবশ্য মৃত্যুর কারণ হিসাবে, ম্যাসিভ অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন’ অর্থাৎ গুরুতর হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্রমণ থেকে হার্টের একটি বড় অংশে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই এই পরিণতি ঘটে। তবে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে করোনার মতো ভাইরাস সক্রিয় ছিল বলেই জানা যায়। তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর। হঠাৎ এই মৃত্যুতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যুর পরে বাড়তি সতর্কতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ।

    করোনা পরিস্থিতি কতখানি উদ্বেগজনক?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে অবশ্যই সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাছাড়া করোনা টিকা করণ হয়ে গিয়েছে। ফলে, ২০১৯ সালের মতো পরিস্থিতি আর হয়তো তৈরি হবে না। সংক্রমণ ঘটলেও রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মৃত্যু মিছিল আটকানো যাবে। কারণ এই ভাইরাসের প্রতিষেধক নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সম্পর্কেও এখন ধারণা রয়েছে। তাছাড়া রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এমন কোনো তথ‌্য নেই। তাই অযথা উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু অবশ্যই সচেতনতা জরুরি।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    করোনা মহামারির দাপট যাতে ফের ফিরে না আসে, তার জন্য প্রথম থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ রুখতে সচেতনতা জরুরি। করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা জারি রাখতে হবে।

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, ফের মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ করেই এই ভাইরাস মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই মাস্ক করোনা রুখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে‌। হাতে তালু দিয়ে করোনা নাক ও মুখে প্রবেশ করে। আর সেখান থেকেই এই ভাইরাস শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই করোনা সংক্রমণ রুখতে অন্যতম হাতিয়ার মাস্ক। নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরে তবেই বাইরে যাওয়া উচিত। বিশেষত বয়স্কদের অবশ্যই বাইরে ভিড় এলাকায় যাওয়ার আগে মাস্ক পরা প্রয়োজন। বয়স্কদের করোনা বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই ষাটোর্ধ্বদের বেশি সচেতন থাকতে হবে।

    হাত পরিষ্কারের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের পরামর্শ, বাইরে থেকে ফিরলেই ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার খাওয়ার আগে এবং পরেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যাতে হাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না হয়। যাতে হাত থেকে শরীরের ভিতরে ভাইরাস সংক্রমিত না হতে পারে।

    তাছাড়া জ্বর, সর্দি-কাশি হলে একেবারেই অবহেলা করা উচিৎ নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে অনেকেই জ্বর-সর্দি-কাশিতে কাবু হচ্ছেন‌। অনেক সময়েই সেটা সাধারণ ভাইরাস ঘটিত জ্বর । কিন্তু দিন দুয়েক টানা জ্বর থাকলে সেটা অবহেলা করা যাবে না।‌ কারণ, তাতে করোনার মতো ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমেই রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলে বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে। পাশপাশি চিকিৎসা দ্রুত শুরু হলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।

  • Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের ধর্মীয় প্রচারক আল্লামা নাসির মাদনি। তাঁর দাবি, লস্কর-ই-তৈবার (LeT) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ কাশ্মীরে প্রায় ১০ হাজার জঙ্গিকে পাঠিয়েছিল। গত ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের বাহাওয়ালনগরে লস্কর-ঘনিষ্ঠ একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় মাদনি এই মন্তব্য করেন বলে জানা গিয়েছে। বক্তৃতায় মাদনি হাফিজ সইদকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেন, যে তথাকথিত ‘মাতৃভূমির’ জন্য আত্মত্যাগ করেছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সইদ হাজার হাজার জঙ্গিকে কাশ্মীরের দিকে পাঠিয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার ও নিয়োগের অভিযোগ বহু পুরনো। নাসির মাদনির সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককেই ফের উসকে দিল।

    পাকিস্তানের নজরে কাশ্মীর

    কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার, নিয়োগ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর মতো সংগঠনগুলি কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বাস্তবে এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক, নিরাপত্তারক্ষী এবং রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর উপর একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বারবার পড়শি দেশ পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে ভারত। পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী যে ভারতে ক্রমাগত নাশকতা চালাতে চাইছে তার ভুরি ভুরি প্রমান রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান কখনও জঙ্গিদের সঙ্গে যোগের কথা স্বীকার করেনি।

    ভারতের দাবিই সত্য প্রমাণিত

    একটা দেশ যারা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, সুযোগ সুবিধা দিয়ে, সবরকমের সাহায্য করে অন্য দেশে নাশকতার জন্য পাঠাচ্ছে, আন্তর্জাতিক চাপের ফলে তারা নিজেদের ভাল প্রমাণিত করার চেষ্টা করছে। কখনও বলছে, তাদের দেশই জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে। কখনও আবার কোনও জঙ্গিনেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বলছে। ইসলামাবাদের বিপক্ষে এই অভিযোগ বহুবার করেছে ভারত। সেই অভিযোগ যে সত্যি তা এই ধরনের ভিডিও বারবার প্রমাণ করে।

    হাসপাতালের শয্যা থেকে ফের প্রকাশ্যে

    নাসির মাদনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর শারীরিক অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। গত ৩ জুলাই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের জাহানিয়ানের একটি মসজিদে শুক্রবারের ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পাক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তাঁর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। পরে তাঁকে মুলতানের চৌধরি পারভেজ এলাহি ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজিতে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছিল। অসুস্থতার পর প্রকাশ্যে ফিরে এসে তাঁর এমন মন্তব্যই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

    হাফিজ সইদকে ঘিরে বিতর্ক

    লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত। ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিদের যোগ ছিল। ওই হামলায় ১৬০-রও বেশি মানুষ নিহত হন। পাকিস্তানের আদালতও সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় হাফিজ সইদকে দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে সে পাকিস্তানে কারাবন্দি রয়েছে, এমনই দাবি ইসলামাবাদের। তবে, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাফিজ এখন আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে। তার জীবন-যাপন আর পাঁচজনের মতোই। পাকিস্তান প্রশাসনের তরফে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এই জঙ্গির জন্য পাক সরকার ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত রক্ষীও রয়েছে হাফিজের। তাদের ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে রাখে সে।

    কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর দাবি

    নাসির মাদনির বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, তিনি সইদকে সন্ত্রাসবাদী নেতা হিসেবে না দেখিয়ে তথাকথিত জাতীয় স্বার্থে আত্মত্যাগকারী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর যে দাবি তিনি করেছেন, তা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের কার্যকলাপ নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। তবে ‘১০ হাজার জঙ্গি’ পাঠানোর দাবিটি নাসির মাদনির বক্তব্যের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে। এই নির্দিষ্ট সংখ্যার কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

    নাসির মাদনি কে

    নাসির মাদনিকে বিভিন্ন রিপোর্ট ও অনলাইন সূত্রে লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে মাদনির একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় বক্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতির কথাও উঠে এসেছে। ২০২০ সালে তাঁকে বন্দুকের মুখে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছিল। পরে এই ঘটনায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    সতর্ক ভারতীয় গোয়েন্দারা

    স্বাধীনতা দিবসের আগে ও পরে পাকিস্তান থেকে লস্কর জঙ্গিদের বিভিন্ন দাবিকে উড়িয়ে না দিয়ে সতর্ক রয়েছে ভারত। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) থেকে শুরু করে উপত্যকার প্রধান শহর ও সড়কগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সন্দেহভাজন গতিবিধির সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে শ্রীনগর, উধমপুর, পুঞ্চ, ডোডা এবং রিয়াসির মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে বড় ধরনের তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত এবং পাহাড়ি বনাঞ্চলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে জঙ্গি নিয়োগ রুখতে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (CIK) উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে।

     

     

  • RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির নয়া সাংগঠনিক দলকে নিছক নিয়মমাফিক রদবদল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টির তাৎপর্য ধরা পড়বে না। নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) নেতৃত্বে গঠিত নতুন দলে যাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যাঁদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং যাঁদের পদোন্নতি হয়েছে, তাঁদের তালিকা থেকে বিজেপির সাংগঠনিক অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট ছবি উঠে আসছে। দলের নতুন বিন্যাসে আরএসএসের (RSS) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর বাড়তি গুরুত্ব এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার প্রবণতা স্পষ্ট।

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা (RSS)

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাগুলির একটি হল রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন। তাঁকে দলের জাতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে। আরএসএসের দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুখ প্রায় এক দশক আগে বিজেপির সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসেছিলেন। সংঘের সঙ্গে বিজেপির সমন্বয় এবং দলের প্রচলিত হিন্দি বলয়ের বাইরে উত্তর-পূর্ব ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একজন সাংগঠনিক কৌশলবিদ হিসেবে রাম মাধব বিজেপির ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। এবার তাঁর প্রত্যাবর্তনের ফলে দলের জাতীয় কাঠামোর মধ্যে অভিজ্ঞ সংঘ-ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেল। ফলে তাঁর ফিরে আসাকে বিজেপি কিংবা সংঘ—কোনও পক্ষই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে দুই সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    সন্তোষ-তাওড়ে-বনসল

    রাম মাধবের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে বিএল সন্তোষকে বহাল রাখা এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনোদ তাওড়ে ও সুনীল বনসলকে দায়িত্বে রাখাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে এই তিন নেতাকেই বিজেপির সাংগঠনিক মেরুদণ্ডের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনজনেরই আরএসএসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে। বিনোদ এবং সুনীলের মতো নেতাদের উপস্থিতি বিজেপির নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও অভিজ্ঞ করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে নির্বাচনী সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন কমিটিতে সংগঠন পরিচালনা এবং ভোটের ময়দানে কৌশল প্রয়োগ—দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকেই একসঙ্গে কাজে লাগানোর চেষ্টা রয়েছে।সতীশ পুনিয়াকেও নতুন সাংগঠনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠন এবং আরএসএসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর পদোন্নতিও ইঙ্গিত করছে যে, বিজেপি শুধু জনসমক্ষে দৃশ্যমানতা বা নির্বাচনী জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নতুন সাংগঠনিক দল তৈরি করছে না। দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আদর্শগত ভিত্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Nitin Nabin)।

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নয়া সাংগঠনিক বিন্যাস

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসে বিশেষ নজর রয়েছে। স্বদেশ সিংহকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মৃগাঙ্ক দেও বর্মনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উন্নীত করা সেই দিকটিরই ইঙ্গিত। এঁরা এমন নেতা নন, যাঁদের নাম নিয়মিতভাবে টেলিভিশনের আলোচনাকেন্দ্রে বা বড় নির্বাচনী সমাবেশে সামনে আসে। কিন্তু সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দলের প্রচার-নির্ভর রাজনীতির বাইরে নিচুতলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে শিবপ্রকাশ ও সৌদান সিংহকে জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং সংঘের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে এমন নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেখে বিজেপি মূলত দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করতে চাইছে। নয়া তালিকায় বিপ্লব কুমার দেবের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে উন্নীত হওয়াও উল্লেখযোগ্য। ত্রিপুরায় বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এবং পরে জাতীয় স্তরের সংগঠনে ফিরে আসা—তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরকারের কাজের অভিজ্ঞতার একটি সমন্বিত উদাহরণ। তাঁর দায়িত্ববৃদ্ধি থেকে বোঝা যায়, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিতরে কাজ করার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে পদ্ম শিবির(RSS)। এদিকে, দলের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখগুলিকেও নতুন কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। স্মৃতি ইরানির প্রত্যাবর্তন এবং উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের দায়িত্ব পাওয়া সংগঠনের মধ্যে নির্বাচনী শক্তিকে আরও জোরদার করবে। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ। ফলে সেখানে সাংগঠনিক দায়িত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যুক্ত করা দলের নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে (Nitin Nabin)।

    রাজনীতি ও সংগঠনের মেলবন্ধন

    বিজেপির নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এখানেই। দলটি রাজনীতি ও সংগঠনের মধ্যে কোনও একটিকে বেছে নিচ্ছে না, বরং দুই ক্ষেত্রকে একসঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করছে। নিতিন নবীনের নেতৃত্বে দলের নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের প্রকৃত তাৎপর্য সম্ভবত এই জায়গায়ই।

    বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী সংগঠিত করা, আদর্শগত ঐক্য বজায় রাখা এবং বুথস্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরএসএসের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি ক্রমশ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভোটের লড়াইয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনাও আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এই পরিস্থিতিতে পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও নিখুঁত ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন বেড়েছে বিজেপির।

    নতুন দায়িত্ব বণ্টন সেই প্রয়োজনেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। শীর্ষস্তরে তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতৃত্ব, গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ নির্বাচনী ব্যবস্থাপক এবং সংগঠন বা সংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত নেতাদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এর ফলে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচার, নির্বাচনী কৌশল এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে (RSS)।

    আরএসএসের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সাংগঠনিক বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি ও সংঘের মধ্যে যে প্রাতিষ্ঠানিক সেতু দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, নতুন দল সেই সেতুকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে নিতিন নবীনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নতুন সাংগঠনিক দল গঠনের মাধ্যমে তিনি নিজের সাংগঠনিক পরিচয় ও নেতৃত্বের ধরন স্পষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বিজেপির বার্তা স্পষ্ট

    সব মিলিয়ে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক দলের বার্তা যথেষ্ট পরিষ্কার। সামনে যে নির্বাচনী পর্ব আসছে, তার আগে দল সংগঠনের ওপর আরও জোর দিতে চাইছে। শুধু জনপ্রিয় মুখ বা নির্বাচনী প্রচারের ওপর নির্ভর না করে বুথস্তর থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে দলের সমন্বয়ও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

    নিতিন নবীনের নেতৃত্বে এই নতুন বিন্যাস তাই কেবল কয়েকটি পদে পরিবর্তনের ঘটনা নয়। বরং এর মধ্যে দিয়ে বিজেপি আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য সংগঠন, আদর্শ, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনী ফল এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে (Nitin Nabin)। তবে নতুন সাংগঠনিক দল থেকে আপাতত যে বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্ট, তা হল—বিজেপি সংগঠনকে আরও আঁটসাঁট করছে এবং তার সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্কও হয়ে উঠছে আগের তুলনায় ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ (RSS)।

     

  • Supreme Court on Hanging: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল, ‘আরও মানবিক’ পদ্ধতির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    Supreme Court on Hanging: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল, ‘আরও মানবিক’ পদ্ধতির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড (Supreme Court on Hanging) কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে আপাতত ফাঁসিই বহাল থাকল। ‘আরও মর্যাদাপূর্ণ ও কম যন্ত্রণাদায়ক’ বিকল্প পদ্ধতির দাবি জানিয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পর্যালোচনা করার স্বাধীনতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ বিদ্যমান পদ্ধতিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই রায়ের ফলে কেন্দ্র সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক ও আইনি পর্যালোচনা করতে বাধাপ্রাপ্ত হবে না।

    ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে যন্ত্রণা

    আবেদনকারীদের মূল যুক্তি ছিল, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় যন্ত্রণা ও কষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও একজন বন্দির মানবিক মর্যাদা কতটা সুরক্ষিত থাকছে, সেই প্রশ্নই তাঁরা আদালতের সামনে তুলেছিলেন। ফাঁসির বিকল্প হিসেবে আবেদনকারীরা লেথাল ইনজেকশন, গুলি করে মৃত্যু এবং ইলেকট্রোকিউশন-সহ বিভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এর মধ্যে কোনও পদ্ধতিকেই বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট বা অনুমোদন করেনি। একইসঙ্গে কেন্দ্রকে ফাঁসির বদলে অন্য কোনও পদ্ধতি চালু করার নির্দেশও দেয়নি। বরং আদালত বিষয়টি কেন্দ্রের বিবেচনার উপর ছেড়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনও বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য সামনে এলে এবং তাতে যদি প্রমাণিত হয় যে অন্য কোনও পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির যন্ত্রণা ও কষ্ট কমানো সম্ভব, তাহলে বিষয়টি ফের পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।

    মৃত্যুদণ্ড নয়, প্রশ্ন ছিল কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে

    এই মামলায় মূল প্রশ্ন ছিল না মৃত্যুদণ্ডের সাংবিধানিক বৈধতা। আবেদনকারীরা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বাতিলের দাবি জানাননি। তাঁদের আপত্তি ছিল কীভাবে সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়ে। আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখা প্রয়োজন এবং এমন কোনও পদ্ধতি থাকলে, যাতে মৃত্যুর সময় যন্ত্রণা কম হয়, তা বিবেচনা করা উচিত। এই মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট রায় সংরক্ষণ করেছিল। সেই রায়েই আপাতত দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিকে বহাল রাখা হয়েছে। ফলে এখনই ফাঁসির পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে কেন্দ্র চাইলে চিকিৎসাবিজ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নীতিগত পর্যালোচনা করতে পারবে।

  • NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক একাধিক প্রশ্নের পর জাতীয় পরীক্ষা সংস্থায় (এনটিএ) বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল (NTA) কেন্দ্র। সংস্থার পরীক্ষা পরিচালনা এবং গোপনীয় কার্যক্রমে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ৫০-এর বেশি কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ অগাস্ট শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এনটিএর পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব, এনটিএ কর্তা-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সংস্থার নেওয়া পদক্ষেপ এবং সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ (NTA)

    বৈঠকে জানানো হয়, যে সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তার অংশ হিসেবে এনটিএর ৫০-এর বেশি কর্মীকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থার পেশাদার নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এজন্য ১০টি নতুন উচ্চপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই পদগুলির মধ্যে রয়েছে প্রধান প্রযুক্তি আধিকারিক, প্রধান অর্থ আধিকারিক, এবং প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিকও। এনটিএর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে বেসরকারি ক্ষেত্র থেকেও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, মনোবৈজ্ঞানিক পরিমিতি এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁদের কাজে লাগানো হবে। পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সব নিয়ম ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষার পরিচালনা ও নিরাপত্তায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না—বৈঠকের নির্দেশনায় এমনই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।

    বড়সড় সংস্কার

    এনটিএর গোপন কার্যক্রমের কাঠামোয়ও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বড়সড় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও বিচ্ছিন্ন কক্ষের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, বহিরাগত নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কম্পিউটার ব্যবস্থা ব্যবহার এবং সংবেদনশীল পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজের জায়গায় ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিন যন্ত্র জমা রাখার নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা। এর লক্ষ্য, পরীক্ষার গোপনীয় প্রক্রিয়ায় অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। এছাড়াও এনটিএর সমস্ত পরীক্ষা পরিচালনা প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কী ধরনের ত্রুটি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে। এনটিএকে (NTA) ঘিরে পরীক্ষা পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হল। নতুন পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে সংস্থার অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং পরীক্ষা পরিচালনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে মূলত এনটিএর সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংশোধনমূলক পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংস্থাকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (NTA)।

     

  • Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তিস্তা নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে (Teesta Water Ties) কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ।” অন্তত এমনই বললেন বাংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনে।তবে একইসঙ্গে নিজেদের স্বার্থের কথাও নয়াদিল্লিকে (India Bangladesh) বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশী দেশ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। তাদের যেমন নিজেদের স্বার্থ রয়েছে, তেমনই আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে—এই বিষয়টি তাদের ভাবতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “একজন বন্ধু আর এক বন্ধুর স্বার্থ রক্ষা করবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কখনও নষ্ট হোক, আমরা তা চাই না।”

    তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের তৎপরতা (Teesta Water Ties)

    দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের নতুন করে তৎপরতার মধ্যেই জলসম্পদমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য সামনে এল। এর অংশ হিসেবে চিনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত তিস্তা নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করছে ঢাকা। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, উত্তর বাংলাদেশের বারবার দেখা দেওয়া বন্যা, নদীভাঙন এবং শুকনো মরশুমে জলসংকট মোকাবিলা করা। মন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে সরকার একাধিক সেমিনার ও পরামর্শ বৈঠকের আয়োজন করেছে। এসব আলোচনায় পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। সেই সমীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।তিস্তা প্রকল্পকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন-সহ নানা সমস্যায় বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের পাঁচ-ছ’টি জেলার মানুষের এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা যদি এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ওই এলাকার পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতি ও সমস্যার পরিমাণ আরও বাড়তে থাকবে। যে কোনও মূল্যে আমাদের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে (Teesta Water Ties)।”

    জলবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বিরোধ

    তিস্তা নদীর জলবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ রয়েছে। হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পরে বাংলাদেশের যমুনা নামে পরিচিত ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের কৃষি ও মানুষের জীবিকার জন্য তিস্তার জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই নদীর জল গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষের জীবন ও কৃষি নির্ভরশীল তিস্তার ওপর। আটের দশক থেকেই তিস্তার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ১৯৮৩ সালে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় তিস্তার জলের ৩৯ শতাংশ ভারতের জন্য এবং ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাকি ২৫ শতাংশ জল বণ্টন করা হয়নি (India Bangladesh)।

    তিস্তার জল বণ্টন চুক্তি জরুরি প্রয়োজন

    এরপর ২০১১ সালে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তাতে শুষ্ক মরশুমে তিস্তার জল ভাগাভাগির একটি সূত্র প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে জলের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই ব্যবস্থার বিরোধিতা করায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি (Teesta Water Ties)। জলসম্পদমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি “জরুরি প্রয়োজন” বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেটিকে তিস্তা চুক্তি বা অন্য কোনও ব্যবস্থার নামে অভিহিত করা হোক না কেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর

    জুন মাসে বেজিংয়ে সরকারি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিনের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (India Bangladesh)। তিস্তা প্রকল্পে চিনকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের এই জলবণ্টন বিরোধে নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ভারতের কাছে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ উত্তর বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন্স নেকের) কাছাকাছি। এই সরু স্থলপথই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে (Teesta Water Ties)। ভারত বরাবরই বলে আসছে, তিস্তা সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে।

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য

    জুলাই মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের মতামত বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সামগ্রিক অবস্থানের অংশ হিসেবে “সংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন” বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। তিস্তা জলবণ্টন বিরোধ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি থেকে আলাদা। ওই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ভারত ও বাংলাদেশের (India Bangladesh) মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এসব নদী ও জলসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে দুই দেশ প্রায়ই আলোচনা করে থাকে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে (Teesta Water Ties)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল’, ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: ‘কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল’, ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালা বদলের পর শিল্পায়নের আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো পুরুলিয়ায়। সোমবার ‘অমিত মেটালিকস’ কোম্পানির ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই কারখানা থেকে প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থান হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এদিন। রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আনতে বদ্ধপরিকর সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাংলায় শিল্পের জোয়ার আসবে বলেই আশা করনে শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যাবাসীর কাছে এক বছর সময় চেয়ে নেন। তার মধ্যেই কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় নিলেন

    পুরুলিয়ার সভা থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন মুখ্য়মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগামী ২০২৭ সালের ৯ মে আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হবে। মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হলে আপনাদের সামনে পরীক্ষায় বসব। পরীক্ষায় আপনারা আমাকে নম্বর দেবেন। ১০-এর মধ্যে ৯ না পেলে ক্ষমা চেয়ে নেব। বলব পারলাম না। আপনারাই বলবেন ভুল লোককে ঠিক করিনি। সঠিক লোককে সঠিক দলকে এনেছি। বিশ্বাস-ভরসা রাখুন। সময় দিন।” তিনি আবারও বলেন, “কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে মিলে আপনাদের কল্যাণ করব। আমরা বদ্ধপরিকর।”

    ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু

    সোমবার পুরুলিয়ায় পরপর দুটো কর্মসূচি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথমে মানবাজারে জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে রঘুনাথপুরে তিনি একটি ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস করেন। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে ওই ইস্পাত কারখানায় প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রায় ৫,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিল্পায়নের জন্য আমরা সবরকম সাহায্য করব।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, “আমরা জোর করে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু করেছি। ল্যান্ড পুলিং পলিসি চালু করেছি। চাষিদের থেকে জমি নিয়ে ল্যান্ড ডেভলপমেন্টও চালু করব।”  শিল্পায়নের লক্ষ্যে রাজ্যে নতুন শিল্প নীতির কথা আগেই জানানো হয়েছিল। তৈরি হবে ল্যান্ড ব্যাঙ্কও। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সরকার করবে। প্রয়োজনে সরকার সরাসরি জমি কিনে তা শিল্পের জন্য তুলে দেওয়া হবে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে ওয়ান উইন্ডো সিস্টেমে যাবতীয় কাজ হয়ে যাবে। গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ— কোথাও যেতে হবে না।

    ভিন রাজ্যে যাবেন না

    পেটের টানে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-সহ জঙ্গলমহলের প্রচুর মানুষ ভিন রাজ্যে কর্মসূত্রে চলে গিয়েছেন। তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তাঁর কথায়, “আপনারা ফিরে আসুন। শিল্পে ভরিয়ে দেব।” রাজ্যে শিল্পের উন্নয়নে রাজ্য সরকার কী কী করছে সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্য়মন্ত্রী। অমিত মেটালিকসের ইন্টিগ্রেড গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের মধ্যে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ফেরো এলয় এবং স্পঞ্জ আয়রন রয়েছে। ১৪৮ একর জমির উপর ওই প্রকল্প গড়ে উঠবে। এই প্রকল্প থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে।

    ৮০০ দিনের মধ্যে কারখানা চালু

    সংস্থাটি ইতিমধ্যেই রঘুনাথপুরে বৃক্ষরোপণ, স্কিল ট্রেনিং সেন্টার, অটোমোবাইল ক্ষেত্র এবং সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ১,০০০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৮০০ দিনের মধ্যে কারখানা চালু করার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অদক্ষ কর্মী হিসেবে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সিএসআর-এ স্থানীয়দের মধ্যে কাজ করতে হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমার কাছে কত টাকার বিনিয়োগ হলো সেটা বিচার্য নয়, কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল। শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের জমি রয়েছে, পরিকাঠামো রয়েছে, রঘুনাথপুরের পাশে জাতীয় সড়কের কানেক্টিভিটি আছে, চরৈবেতি মন্ত্রে আমরা এগিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছি।’

    আশার আলো দেখছেন বঙ্গবাসী

    গত দেড় দশকের তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্প স্থাপন নিয়ে যতটা প্রচার হয়েছিল, সে ভাবে শিল্প আসেনি। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে তিন মাসের মধ্যে এখানে লৌহ ইস্পাত শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ায় আশার আলো দেখছেন এলাকার মানুষ। এ দিনই মানবাজার ১ ব্লকের ধানাড়া পঞ্চায়েতের জামদা গ্রামের অদূরে গড়ে ওঠা পানীয় জল প্রকল্পটি উদ্বোধনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়ার মানবাজার ১, বরাবাজার, পুরুলিয়া ১, পুঞ্চা, আড়শা ব্লকে তীব্র সঙ্কট রয়েছে পানীয় জলের। এই এলাকাগুলি ছাড়া এই প্রকল্পের জল পৌঁছবে পুরুলিয়া শহরেও।

    ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল

    জামদা গ্রামের অদূরে গড়ে ওঠা এই জল প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ১,২৯৬.২৫ কোটি টাকার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে। যার মধ্যে ‘জাইকা’র ঋণ ৮৮৯.০৬ কোটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫৮ মৌজার ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০৬ জন মানুষ প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা নলবাহিত পানীয় জল পাবেন। জাপানের সংস্থা ‘জাইকা’-র আর্থিক সহায়তায় রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করেছে। মুকুটমণিপুর জলাধারের গভীর থেকে জল তুলে ১.২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তা অন্য একটি জলাধারে আনা হবে। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিশোধিত সেই জল ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ পরিবাহী নলের মাধ্যমে ৪২টি ওভারহেড ট্যাঙ্কে পৌঁছবে। এই ট্যাঙ্কগুলি থেকে দৈনিক ৬ কোটি ৮০ লক্ষ লিটার জল পৌঁছে দিতে পাতা হয়েছে ১,৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন। রাজ্যের মন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি বলেন, ‘জল জীবন মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মানুষের ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই কাজই করা হচ্ছে। আগামী দিনে জেলার বাকি অংশে একই ভাবে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’

  • Free Treatment: সরকারি হাসপাতালে বেড না মিললে নিখরচায় চিকিৎসা হবে বেসরকারি হাসপাতালে! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর সরকারের

    Free Treatment: সরকারি হাসপাতালে বেড না মিললে নিখরচায় চিকিৎসা হবে বেসরকারি হাসপাতালে! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালে বেড না পেয়ে এ বার আর রোগী বা তাঁর পরিজনদের হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে বেড, ভেন্টিলেটর বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকলে সরকারি হাসপাতাল থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে রোগীকে পাঠানো হবে বেসরকারি হাসপাতালে (Private Hospital)। সেখানে নিঃশুল্ক চিকিৎসার (Free Treatment) ব্যবস্থাও করবে সরকার। এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

    নিঃশুল্ক চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালে (Free Treatment)

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকেই এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে কেপিসি হাসপাতালের সমন্বয় শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে না পারা রোগীদের দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। ধীরে ধীরে এই পরিষেবা শহর থেকে শহরতলি এবং বাংলার গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কম করে তিন থেকে চারটি বৈঠক করেছি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে। আমরা আগেই বলেছিলাম, প্রায় আড়াই হাজার বেড সংরক্ষণ করেছি, যেগুলি নাগরিকদের নিঃশুল্ক চিকিৎসা দেবে। আজকের মহড়া সফল হয়েছে। এ বার থেকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী যাবে। আর সেটা আজ থেকেই চালু হল—একেবারে শহর থেকে শহরতলি, বাংলার গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত।”

    কীভাবে মিলবে সুবিধা

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনও রোগী চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে গেলে এবং সেখানে বেড না থাকলে, কিংবা ভেন্টিলেটর খালি না থাকলে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানাবে। সেখান থেকে খবর যাবে স্বাস্থ্য দফতরের কন্ট্রোল রুমে। কোন বেসরকারি হাসপাতালে বেড খালি রয়েছে, তা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে জানা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে বেড সংরক্ষণ করে সরকারি হাসপাতালকে জানানো হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি হাসপাতাল থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে সরাসরি রোগীকে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে কেপিসি হাসপাতালকে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও রোগী এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হতে এসে বেড না পেলে, বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানানো হবে। কন্ট্রোল রুম বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে খালি থাকা বেডের খোঁজ করবে এবং বেডের ব্যবস্থা হলে এসএসকেএমের এমার্জেন্সি বিভাগকে জানাবে। এরপর সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে রোগীকে সরাসরি ওই বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে (Free Treatment)।

    আরও সরকারি হাসপাতাল যুক্ত হবে

    সব বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে এই সমন্বয় তৈরি হবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালকেই এই ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল এখনও এর আওতায় নেই। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকাও জানানো হবে।

    পর্যায়ক্রমে মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, আরজি কর, চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল এবং সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকেও শহরের সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালগুলির (Private Hospital) সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, সরকারি হাসপাতালে বেডের অভাবে কোনও রোগী যাতে ভর্তি হতে না পেরে ফিরে না যান। তবে এক দিনে সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। ধীরে ধীরে সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সুতো ছিঁড়তে পারে, আবার জুড়তে হবে।”

    সরকারি হাসপাতালে ‘অমৃত ফার্মেসি’

    এ দিন সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘অমৃত ফার্মেসি’ চালুর বিষয়েও বিস্তারিত জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রায় ১০০টি সরকারি হাসপাতালে এই ফার্মেসি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পাওয়া যাবে।

    সরকারি হাসপাতালে এই ফার্মেসি চালুর জন্য একটি সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের মৌ-চুক্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি। অমৃত ফার্মেসিতে স্টেন্টে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলবে। পাশাপাশি ক্যানসারের ওষুধ এবং চোখের লেন্সও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাবে।

    ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ১০০টি এমন ফার্মেসি চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। সাধারণত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলির আশপাশেই এই ধরনের ফার্মেসি চালুর জন্য জায়গা চিহ্নিত করা হচ্ছে। ছাড়ের সুবিধা পেতে রোগীর প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন পরিজনেরা (Free Treatment)।

    হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি

    রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির জন্য আরও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সরকারি হাসপাতালগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি হাসপাতালের পরিষেবার উপর নজরদারি রাখা হবে।

    হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে এবং মেডিক্যাল আধিকারিকরা সেই নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন। হাসপাতাল পরিষেবার কার্যকারিতা, নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে কি না, ফিল্ড লেভেলের ইউনিটগুলির সঙ্গে সমন্বয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মদক্ষতার সূচকগুলির উপরও নজর রাখা হবে (Private Hospital)।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেডের অভাবের কারণে যাতে কোনও রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে (Free Treatment)।

     

LinkedIn
Share