Blog

  • Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ বিমানে শিলিগুড়িতে পৌঁছন তিনি। বাগডোগরা বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের কর্মসূচির কেন্দ্রে থাকছে সীমান্ত নিরাপত্তা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ এবং পাহাড়ের একাধিক সমস্যা।

    বিমানবন্দর থেকে অমিত শাহ সুকনার একটি হোটেলে যান। সেখানেই রাতে থাকার পর শুক্রবার সকালে তাঁর সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি-র সুকনা শিবিরে যাবেন। সেখানে ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পরপর দু’টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই বৈঠকগুলিতে বিএসএফ-এর শীর্ষ আধিকারিকদেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নজরে ‘চিকেনস নেক’, বাড়ছে নিরাপত্তার গুরুত্ব

    উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে এসএসবি শিবিরের বৈঠকগুলিকে। ভারতীয় ভূখণ্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কয়েক দশক কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডরই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। ফলে এই এলাকার নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কেন্দ্রের বিশেষ নজর রয়েছে। শুক্রবারের বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ করিডরের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উত্তরবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘চিকেনস নেক’-এর কৌশলগত গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কাওয়াখালি ময়দানে বিএনএস প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    এসএসবি শিবিরে বৈঠক শেষ করে অমিত শাহের শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে যাওয়ার কথা। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। আগামী ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। সাধারণ মানুষের কাছে নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ভারতীয় দণ্ডবিধি বা আইপিসি-র পরিবর্তে কার্যকর হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় কোন পুরনো ধারার পরিবর্তে কোন নতুন ধারা এসেছে, প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা তুলে ধরা হবে। নতুন আইন এবং তার বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    দলীয় বৈঠক, শনিবার পাহাড় নিয়ে পরপর দুই বৈঠক

    শুক্রবারের সরকারি কর্মসূচি শেষ করে ফের সুকনার হোটেলে ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের শেষ দিন শনিবারও ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সুকনার হোটেলেই পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা তাঁর। পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা এবং প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।

    সমস্ত বৈঠক ও কর্মসূচি শেষ করে শনিবারই দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা, অন্যদিকে পাহাড়ের সমস্যা এবং নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে জনসচেতনতা—সব মিলিয়ে অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একইসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য। ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলের কাছে পৃথক দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলি দখল করেছে সশস্ত্র জলদস্যুরা। দুই ঘটনায় মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক জলদস্যুদের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরপর এই দুই ঘটনায় পূর্ব আফ্রিকার ‘হর্ন অফ আফ্রিকা’ অঞ্চল সংলগ্ন এডেন প্রণালী জলসীমায় ফের সক্রিয় হয়ে ওঠা সোমালি দস্যুদের  নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কার দখল

    প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে এডেন প্রণালীতে। ইয়েমেন উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছয় সশস্ত্র জলদস্যু দখল করে নেয় ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী তেলজাত পণ্য পরিবহণকারী ট্যাঙ্কার এমটি সিবু ১। জাহাজটিতে মোট ২০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়, একজন সিরীয়, একজন সুদানি, একজন ইরাকি এবং আরও একজনের জাতীয়তা নিশ্চিত নয়। ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিএমএ) রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে জাহাজের সমস্ত কর্মী নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে জাহাজ ও নাবিকদের বর্তমান অবস্থান এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

    ঘটনার পর রিক্রুটমেন্ট ও প্লেসমেন্ট সার্ভিস লাইসেন্স-প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে ডিএমএ। পাশাপাশি ই-নাবিক অনলাইন মেরিন ক্যাজুয়ালটি রিপোর্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এসকেএস কৃষিভ মেরিন সার্ভিসের সুমিত কান্ত সিং জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা জাহাজটির চারজন কর্মীকে নিয়োগ করেছিল। সংশ্লিষ্ট চার কর্মীর তথ্যও ডিএমএ-র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

    সোমালিয়া উপকূলে দ্বিতীয় জাহাজ ছিনতাই

    অন্যদিকে, সোমবার সোমালিয়ার পন্টল্যান্ড অঞ্চলের আইল প্রদেশের মারায়া এলাকার কাছে দ্বিতীয় হামলাটি ঘটে। আট জলদস্যু ক্যামেরুনের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি লুতুফ  দখল করে নেয়। হামলার সময় জাহাজটি উপকূল থেকে মাত্র ৩.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।  এক সোমালি আধিকারিক সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, জাহাজটি দখলের পর জলদস্যুরা সেটিকে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।

    এমভি লুতুফ-এ মোট ১০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয়, একজন তুরস্কের নাগরিক, একজন জর্জিয়ার নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। জাহাজটির মালিক পোলার মুভমেন্ট শিপিং। জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সংক্রান্ত সরঞ্জামের পাশাপাশি অস্ত্রও ছিল। এগুলি মোগাদিশুতে একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন ওই সোমালি আধিকারিক।

    এপ্রিলেও একই ধরনের জাহাজ ছিনতাই

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এমভি লুতুফ ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত জলদস্যুরা সম্ভবত সেই একই গোষ্ঠীর সদস্য, যারা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এমভি স্বার্ড নামে একটি জাহাজ ছিনতাই করেছিল। এপ্রিলের ওই ঘটনায় জলদস্যুরা জাহাজটিকে পন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার অন্তর্গত গারমাল-এর কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এমভি লুতুফ, তার কর্মী এবং জাহাজে থাকা পণ্য ও অস্ত্রের বর্তমান অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনা নিয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    ফের কি বাড়ছে সোমালি জলদস্যুদের দাপট?

    একই সময়ে ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যু হামলা এবং ২২ জন ভারতীয়ের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এডেন প্রণালী, সোমালিয়া ও আফ্রিকার হর্ন সংলগ্ন জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এই ধরনের হামলা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পরপর দুটি ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দুই জাহাজের কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

  • Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুরে (Jadavpur University) ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। গঠন করা হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আজ, ২১ অগাস্ট কমিটির ঘোষণা করা হবে। বুধবার রাত থেকেই উত্তপ্ত যাদবপুর। বৃহস্পতিবার সকালেও এবিভিপি (ABVP) ও বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অশান্তির রেশ পড়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ফলকেও। ফলক ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন একাধিক প্রাক্তনী এবং প্রাক্তন অধ্যাপক। গত দুই দিন ধরে চলা এই অশান্তির ঘটনারই তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির কী কী কাজ হবে, কোন কোন বিষয়ে তদন্ত করা হবে, সেই সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjib Bhattacharya)।

    কী কী জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য?

    • ১. উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ২১ অগাস্টের মধ্যে এই কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
    • ২. ১৯ অগাস্ট রাতে এবং ২০ অগাস্টের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে যাদবপুর থানায় পুলিশ অভিযোগ দায়ের করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
    • ৩. ক্যাম্পাসে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী সোমবার বিকেল ৩টায় সমস্ত স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।
    • ৪. ১৯ অগাস্ট রাতের ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। তদন্ত কমিটির হাতে সেই ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করা বাইরের ব্যক্তি-সহ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
    • ৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেটাও তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ঘটেছিল

    বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur Chaos) একাধিক ছাত্র সংগঠন সূত্রে খবর, ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই প্রাথমিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বাম ও দক্ষিণপন্থী ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষ চলে প্রায় সারা রাত। মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতেরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বুধবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি। দক্ষিণপন্থী ছাত্রদের দেখতে রাতেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন যাদবপুর এলাকার বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। রাতে যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। এবিভিপি-র কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী দাবি করেন, “অতিবাম ও দিমাগি নকশালেরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে আক্রমণ চালিয়েছে।” তাঁদের অভিযোগ, এবিভিপি-র ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।

  • Minor mothers: নাবালিকা মায়ের সংখ্যায় দেশে দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গ! ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে, নড়েচড়ে বসছে প্রশাসন

    Minor mothers: নাবালিকা মায়ের সংখ্যায় দেশে দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গ! ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে, নড়েচড়ে বসছে প্রশাসন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কেউ চোদ্দ বছর বয়সি আবার কেউ সতেরো! ইতিমধ্যেই তাঁরা মা! কেউ দুই সন্তানের আবার কেউ তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন! রাজ্য জুড়ে নাবালিকা মায়ের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে! তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রসবকালে মায়ের মৃত্যু! এই জোড়া বিপদে কপালে ভাঁজ স্বাস্থ্য মহলে! স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারোদ্বত মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন, দ্রুত পরিস্থিতি সামলানোর জন্য প্রশাসন সব রকমভাবে তৎপর হবে। নাবালিকা বিয়ে রুখতে হবে। নাবালিকা মায়ের সংখ্যা কমবে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই মা হওয়ার জেরেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে, প্রসূতি মৃত্যুর মতো ঘটনাও বাড়ছে। একাধিক সন্তানের জন্ম দেওয়ার জেরে মায়ের প্রাণ সংশয় বাড়ছে। নাবালিকা বিয়ে রুখতে প্রশাসন সব রকম ভাবেই তৎপর থাকবে।

    কী বলছে পরিসংখ্যান? কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে মারাত্মক হারে বেড়েছে নাবালিকা মায়ের সংখ্যা। দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ। ঝাড়খণ্ডের পরেই নাবালিকা মায়ের নিরিখে রাজ্যের স্থান দ্বিতীয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক জেলায় সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, প্রতি চারজন মায়ের মধ্যে একজন মা নাবালিকা। বিশেষত, কোচবিহার, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ জেলায় নাবালিকা মায়ের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেশি। কোচবিহারে নাবালিকা মায়ের সংখ্যা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ২৭.৩ শতাংশ নাবালিকা মা এই জেলায়! বীরভূম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৫ শতাংশ এবং মুর্শিদাবাদে ২০ শতাংশ।‌ এই পরিসংখ্যান দেখে উদ্বিগ্ন রাজ্য প্রশাসন।

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন প্রশাসন। একাধিক জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকেই প্রসূতি মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। কেন প্রসূতি মৃত্যু এই তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়েই জানা যাচ্ছে, প্রসূতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাবালিকা। তাই মায়ের মৃত্যুর ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। মা প্রাপ্ত বয়স্ক না হলে, মায়ের শারীরিক গঠন ঠিক মতো হয় না। এর ফলে সন্তান ধারণ করলে একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। প্রসবকালে অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায়। স্নায়ুর জটিলতা তৈরি হয়। সবমিলিয়ে মায়ের প্রাণ সংশয় তৈরি হয়। আবার স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সমস্যা হয়ে উঠেছে, একাধিক প্রসব। তাঁরা জানাচ্ছেন, একদিকে নাবালিকা মা, আরেক দিকে আট থেকে দশটি সন্তান প্রসবের চাপ, সব মিলিয়ে মায়ের স্বাস্থ্য চূড়ান্ত অবহেলিত হচ্ছে। এর ফলেই প্রসূতি মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    কেন রাজ্যের এই পরিস্থিতি?

    প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, সব মহলের তৎপরতার অভাবের জেরেই রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকেই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক ছিলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিলো, নাবালিকা মায়ের নিরিখে দেশে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ। ১৬ শতাংশ নাবালিকা মা এই রাজ্যে। ২০২৪ সালের আরেকটি পরিসংখ্যানেও একই রকম পরিস্থিতি জানান দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফেও একাধিকবার রাজ্যকে এই নিয়ে সতর্ক করা হয়। কিন্তু সব মহলের তৎপরতার অভাব যে স্পষ্ট সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। গত এক দশকে এই রাজ্যে নাবালিকা বিয়ে রুখতে রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ ছিলো। তাই রাজ্য জুড়ে নাবালিকা মায়ের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    নয়া কোন পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্য জুড়ে প্রচার কর্মসূচি চালানো হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক মা দুটি সন্তানের জন্ম দিলে কী ধরনের সরকারি সাহায্য পেতে পারেন, সেই সম্পর্কে লাগাতার প্রচার কর্মসূচি নেওয়া হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশা কর্মীরা প্রসূতির স্বাস্থ্যের খবর রাখবেন। যাতে প্রসূতি মৃত্যু আটকানো সহজ হয়। তাছাড়া নাবালিকা বিয়ে রুখতে সচেতনতার পাশপাশি আইন মাফিক কড়া পদক্ষেপ যাতে নেওয়া হয়, সেটাও প্রশাসনের সব মহল দেখবেন। পুলিশের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে। স্কুল স্তর থেকেই নাবালিকা বিয়ে এবং নাবালিকা মা হওয়ার বিপদ সম্পর্কে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রশাসনের সব মহলের সমান তৎপরতা থাকলে নাবালিকা বিয়ে আটকানো সম্ভব হবে। তবেই নাবালিকা মায়ের সংখ্যা কমবে। রাতারাতি পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে না। কারণ, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি। নাবালিকা বিয়ে ও কিশোরী মায়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যা শুধু স্বাস্থ্য সঙ্কট নয়। বরং এটা জটিল সামাজিক সমস্যা। তাই এই সমস্যা সমাধানে সব মহলের সমান সমন্বয় এবং তৎপরতা জরুরি। তবেই রাজ্যের পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।

  • Suvendu Adhikari: অলিম্পিকে সোনা জিতলে ১ কোটি টাকা, প্রাক্তনদের মাসিক অনুদান! ক্রীড়ায় বাংলার উন্নতিতে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    Suvendu Adhikari: অলিম্পিকে সোনা জিতলে ১ কোটি টাকা, প্রাক্তনদের মাসিক অনুদান! ক্রীড়ায় বাংলার উন্নতিতে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালা বদলের পরই ক্রীড়াক্ষেত্রকে (West Bengal Sports Sector) আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার (Suvendu Adhikari)। ক্ষমতায় আসার পরই ময়দানে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলার ক্রীড়াবিদ এবং সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খেলোয়ারদের মোটিভেট করতে নানা পদক্ষেপ করছে সরকার। চালু হতে চলেছে “শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প”। এই প্রকল্পের আওতায় ক্রীড়াক্ষেত্রে জাতীয় ও রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতা আয়োজন ও অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এমনকি খেলাধুলায় পুরস্কার ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো নিয়েও বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।

    শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প

    জানা গিয়েছে, ক্রীড়াক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অলিম্পিক্সে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ জয়ী ক্রীড়াবিদদের জন্যও বিরাট অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার দেবে রাজ্য সরকার।‘শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প’ চালু করতে চলেছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের। জাতীয় গেমস বা জাতীয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলে প্রত্যেক দলকে এবং ব্যক্তিগত খেলার ক্রীড়াবিদকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা দেওয়া হবে। কেবল ক্রীড়াবিদ নয়, আয়োজক সংস্থাগুলিকেও আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে ১ কোটি, রাজ্য গেমস আয়োজনে ৫০ লক্ষ টাকা মিলতে পারে। এছাড়া অন্য রাজ্যে জাতীয় ও জোনাল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দলগত বিভাগে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ ও ২০ লক্ষ টাকা এবং ব্যক্তিগত বিভাগে ২০ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্য স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে দলগত ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২০ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলাস্তরে অন্তত ৬টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে দলগত খেলায় ১০ লক্ষ টাকা এবং ব্যক্তিগত খেলায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তা মিলবে ।

    অটল খেল সম্মান পুরস্কার

    এদিনের বৈঠকে কৃতি ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘অটল খেল সম্মান পুরস্কার’ চালুর প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র, যুব, জুনিয়র, সাব-জুনিয়র এবং বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন (দিব্যাঙ্গ) বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদকজয়ীরা এই আর্থিক সুবিধা পাবেন। অটল খেল সম্মানের আওতায় অলিম্পিকে সোনা জিতলে ১ কোটি টাকা পুরস্কার দেবে রাজ্য। রুপো জিতলে ৭৫ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ীদের জন্য থাকবে ৫০ লক্ষ টাকার পুরস্কার। রুপোর জন্য ৩০ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জের জন্য ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ীদেরও দেওয়া হবে ৫০ লক্ষ টাকা। রুপোজয়ীরা ৩৭.৫০ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জজয়ীরা ২৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার পাবেন। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জজয়ীদের যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ১৫ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। জাতীয় গেমস এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ীরা পাবেন ১০ লক্ষ টাকা। রুপো এবং ব্রোঞ্জজয়ীরা পাবেন যথাক্রমে ৫ লক্ষ এবং ৩ লক্ষ টাকা।

    মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা

    বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি, অতীতের তারকাদের প্রতিও দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে রাজ্য। চালু করা হচ্ছে ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা’। অতীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজ্য বা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে গৌরব এনে দিয়েছেন, এমন যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সম্মানীয় পেনশন বা ভাতা দেওয়া হবে। তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিযোগিতা আয়োজনে বিপুল সরকারি অনুদানেরও অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলার ক্রীড়াবিদ এবং সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর স্বার্থে একগুচ্ছ যুগান্তকারী নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে সরকারের এক আধিকারিক জানান, রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা, তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভাদের তুলে আনা এবং ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। নয়া সরকারের এই সর্বাত্মক উদ্যোগ রাজ্যের ক্রীড়া পরিমণ্ডলে নতুন উদ্যম তৈরি করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি মোদির

    কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতির দিকে বিশেষ নজর দিয়েছিল মোদি সরকার। সম্প্রতি শেষ হওয়া কমনওয়েলথ গেমসে ভারত পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিল। গেমসে ভারতের এই সাফল্য ছিল মোদি সরকারের ক্রীড়ানীতির উজ্জ্বল উদাহারণ। গ্লাসগো যাওয়ার আগে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশ্বমানের কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওথেরাপি, পুষ্টিবিদ এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করেছিল ক্রীড়া মন্ত্রক। সাই-টপস প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য পদকজয়ীদের ব্যক্তিগত সহায়তা, বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ সাপোর্ট স্টাফের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানে লড়াই করার মতো প্রস্তুতি নিয়েই গ্লাসগোয় পৌঁছেছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছিলেন দেশে ক্রীড়া অন্বেষণের কথা। ৫-১৫ বছরের বালক-বালিকাদের জন্য বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি। গ্রামে গ্রামে প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে। লালকেল্লা থেকে ঘোষণা করেছিলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০৩০ সালে কমনওয়েলথ, ২০৩৬ সালে ভারতে অলিম্পিক হবে। যে খেলাগুলিতে ভারত কোয়ালিফাই করতে পারে না। আমরা সেখানে ছাপ রাখব।” প্রধানমন্ত্রী মোদির দেখানো পথেই এবার রাজ্য ক্রীড়ায় বিস্তর ফারাক আনতে চলেছে শুভেন্দু সরকার।

  • Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়া নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে আসছে এবং পুরো জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পরিবর্তে শুধু প্রথম দুই স্তবক (Vande Mataram Row) গাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই রাজনীতিরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শাহ বলেন, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তাঁর দাবি, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে দলের বর্তমান নেতৃত্ব বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছে।

    শাহি-কথা (Vande Mataram Row)

    সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ (Amit Shah) বলেন, “গতকাল (বুধবার) কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটি একটি বিস্ময়কর এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৩৭ সালের দলের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে তারা মহান গান বন্দে মাতরমের মাত্র দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” শাহের দাবি, ১৯৩৭ সালে রাজনৈতিক কারণে বন্দে মাতরমের পরিবেশন সীমিত করার সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে দ্বিজাতিতত্ত্বের ধারণা শক্তিশালী হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগের পথ প্রশস্ত হয়।

    শাহ বলেন, “আমি গোটা দেশকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৩৭ সালে মুসলিম তুষ্টিকরণের জন্য কংগ্রেস বন্দে মাতরমকে দুই ভাগে ভাগ করে দেশভাগের ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেখান থেকেই দ্বিজাতিতত্ত্ব শক্তিশালী হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগ হয়, পাকিস্তানের জন্ম হয়।” কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সমস্ত সরকারি দফতরে জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরম পরিবেশনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, কংগ্রেস তার পক্ষে না থাকায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, বন্দে মাতরমের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে এই গানকে সামনে রেখে লড়াই করা দেশপ্রেমিকদের ঐতিহ্যের প্রতিও কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অসম্মানজনক।

    কংগ্রেসের যুক্তি

    তবে কংগ্রেস তাদের অবস্থান থেকে সরেনি। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, সেই সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দলের কর্মীরা এখনও সেটিই অনুসরণ করবেন (Vande Mataram Row)। বেণুগোপাল বলেন, “আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। ১৯৩৭ সালের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেখানে মহাত্মা গান্ধী, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সর্দার প্যাটেল-সহ সেই সময়ের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমরা সেটিই মেনে চলব। আমাদের কংগ্রেস কর্মীরা সেই সিদ্ধান্তই অনুসরণ করবেন। এটাই আমাদের অবস্থান।”

    তাল কাটে কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে

    গত ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কংগ্রেসের সদর দফতরে বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কথাবার্তার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় গানের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তোলেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম (Vande Mataram Row) পরিবেশন নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি জানিয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস। এর পরেই বিষয়টি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নেয়। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দলের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

    কংগ্রেসের আত্মপক্ষ সমর্থন

    কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনেই বন্দে মাতরমের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ পরিবেশন করছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে গান্ধী, নেহরু ও প্যাটেলের মতো নেতাদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মতো বিষয়কে বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন খাড়্গে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম পরিবেশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিধি বা রীতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় গানটির মর্যাদা ও পরিবেশন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়েও সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন শুধু কতগুলি স্তবক গাওয়া হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় প্রতীক, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

    কংগ্রেসকে ‘মুসলিম লিগ’-এর সঙ্গে তুলনা গিরিরাজ সিংয়ের

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বন্দে মাতরমের বিরোধিতা আসলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরোধিতা। তিনি বলেন, “এটি শুধু বন্দে মাতরমের বিরোধিতা নয়, আমাদের বিপ্লবীদের বিরোধিতাও। এখন কংগ্রেস মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি গান্ধীজির কংগ্রেস নয় (Amit Shah), এটি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস।”

    ১৫ অগাস্ট কংগ্রেসের সদর দফতরে পুরো বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া, রাহুল এবং খাড়্গের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন গিরিরাজ। তিনি বলেন, “১৫ অগস্ট কংগ্রেস দফতরে পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গের মুখের দিকে তাকান। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাঁদের জোর করে বিষ পান করাচ্ছে (Vande Mataram Row)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা নিতিন নবীনেরও

    বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনও কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বন্দে মাতরমের মতো পবিত্র মাতৃভূমির বন্দনার প্রতি কংগ্রেসের অবস্থান দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া শহিদদের প্রতি অসম্মানের সমান। তিনি বলেন, “ভারতমাতার পবিত্র বন্দনার এই অসম্মান সেই হাজার হাজার শহিদের প্রতি অবজ্ঞা, যাঁরা এই গানকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ কংগ্রেস নতুন মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা নয়, বরং সেই ভোটব্যাঙ্কের প্রতি ক্ষুধার প্রমাণ, যার বেদিতে কংগ্রেস বারবার দেশের আত্মসম্মান বন্ধক রেখেছে (Amit Shah)।”

    ফলে বন্দে মাতরমের কতগুলি স্তবক পরিবেশন করা হবে, সেই প্রশ্নটি এখন নিছক সাংস্কৃতিক বা আনুষ্ঠানিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বিজেপি-কংগ্রেসের সংঘাত (Vande Mataram Row)।

     

  • Bengal ANTF-ATS: মাদক চক্র ও জঙ্গি কার্যকলাপে লাগাম! এএনটিএফ-এটিএস গড়ছে রাজ্য, হাজারের বেশি নতুন পদে অনুমোদন

    Bengal ANTF-ATS: মাদক চক্র ও জঙ্গি কার্যকলাপে লাগাম! এএনটিএফ-এটিএস গড়ছে রাজ্য, হাজারের বেশি নতুন পদে অনুমোদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাদক পাচার থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ—দুই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্যের পুলিশি পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অ্যান্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (ANTF) এবং অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই দুই বিশেষায়িত বাহিনীর কাজ পরিচালনার জন্য এক হাজারেরও বেশি নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, রাজ্যে মাদক পাচারের চক্র এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরও দ্রুত ও সমন্বিত অভিযান চালানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। নতুন পরিকাঠামোর ফলে তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আন্তঃজেলা অভিযান আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    চার জেলায় এএনটিএফ থানা, তৈরি হবে ৫৯১টি পদ

    রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তার তত্ত্বাবধানে অ্যান্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাহিনীর কার্যক্রমকে জেলা স্তরে আরও কার্যকর করতে দুর্গাপুর, মালদা, খড়্গপুর ও নদিয়ায় চারটি পৃথক এএনটিএফ থানা তৈরি করা হবে। এই চারটি থানাকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে মোট ৫৯১টি নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ফলে নিষিদ্ধ মাদকের প্রবেশ, আন্তঃরাজ্য পাচার এবং মাদকচক্রের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তা ভাঙার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

    জঙ্গি দমনে এটিএস, ৪৬১টি স্থায়ী পদ

    মাদকবিরোধী ব্যবস্থার পাশাপাশি জঙ্গি কার্যকলাপ মোকাবিলায় অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড বা এটিএস গঠনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার। এমন সময়ে এই বিশেষ বাহিনীর জন্য পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ৪৬১টি স্থায়ী পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে যখন পাক আইএসআই গুপ্তচর থেকে জঙ্গি মডিউলের খোঁজ মিলতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি এটিএস-এর তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কাজের জন্য আরও ৫ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। অর্থাৎ মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী দুই বিশেষায়িত কাঠামোকে শক্তিশালী করতে মোট এক হাজারেরও বেশি নতুন পদ তৈরির পথে এগোল রাজ্য।

    মহিলা কমিশনেও বাড়ছে কর্মী

    শুধু মাদক ও সন্ত্রাস মোকাবিলা নয়, প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বুধবার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। নারী নির্যাতন ও হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬৮টি নতুন পদ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের আইন বিভাগের অধীনে ওয়েস্ট বেঙ্গল লিগ্যাল সার্ভিস ক্যাডারে ৬ জন ল’ অফিসার নিয়োগ করা হবে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁদের মোতায়েন করা হবে। আসানসোল ও দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জন্যও একটি করে, অর্থাৎ মোট ২টি ল’ অফিসার পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বিসিএস—একাধিক ক্ষেত্রে নতুন পদ

    প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে একাধিক ক্ষেত্রেও পদ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন গ্রামীণ পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ১৯টি পদ তৈরি করা হবে। কলকাতা হাইকোর্টের কার পুলের জন্য তৈরি হচ্ছে ১০টি চালক পদ। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC)-এর সদস্য সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

    এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, বন্যা কবলিত এলাকায় মন্ত্রী ও বিধায়কদের রাতেই পৌঁছে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল সার্কিট বাঁধ বরাবর নারায়ণী ও দুধের বাঁধ খালের মোহনায় দুটি পাম্প হাউস তৈরির জন্য ২৪.৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনে জরুরি নদীবাঁধ এবং স্লুইস সংস্কারের জন্য ৩.১০ কোটি টাকার জমি কেনার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

    ২,২৫০ কোটি টাকার কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের (ADB) সহায়তায় রাজ্যে ২,২৫০ কোটি টাকার ‘পশ্চিমবঙ্গ সমন্বিত চাষ, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন ক্রেডিট প্রকল্প’ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষি, পরিবেশ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে যুক্ত করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    শিল্প পার্কে জমি, ৬৮ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের দাবি

    শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ডব্লিউবিআইডিসিএলের অধীনে থাকা ৮টি শিল্প পার্কের ২৪টি ইউনিটে ৪৬৩.১৪ একর এবং ৬,৩৯৭.২৩ বর্গফুট জমি বিভিন্ন সংস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়ার অনুমোদন হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৬২,৭১২টি কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডব্লিউবিআইআইডিসি-র অধীনে থাকা ৪টি শিল্প পার্কের ৯টি ইউনিটে ৭৮.১৭ একর জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও ৫,৮৭২টি কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে শিল্পখাতে ৬৮ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা।

    চা-বাগানে পর্যটন ব্যবসার পরিসর বাড়ল

    চা শিল্পের সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও নীতিগত পরিবর্তন এনেছে রাজ্য। ‘চা পর্যটন ও আনুষঙ্গিক ব্যবসা নীতি, ২০১৯’ সংশোধন করে চা-বাগানের মোট জমির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ, তবে সর্বাধিক ১৫০ একর জমি পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একদিকে মাদক ও জঙ্গি দমনে বিশেষায়িত বাহিনী গঠন, অন্যদিকে প্রশাসন, বন্যা মোকাবিলা, শিল্পায়ন ও পর্যটনে একাধিক সিদ্ধান্ত—বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের পুলিশি ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর একাধিক পদক্ষেপের অনুমোদন মিলল।

  • Pak High Commission Delhi: ইসলামাবাদকে পাল্টা! দিল্লিতে পাক হাইকমিশনের বাইরে বুলডোজার, ভাঙা হল অনুমোদিত সীমানার বাইরের কাঠামো

    Pak High Commission Delhi: ইসলামাবাদকে পাল্টা! দিল্লিতে পাক হাইকমিশনের বাইরে বুলডোজার, ভাঙা হল অনুমোদিত সীমানার বাইরের কাঠামো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাল্টা পদক্ষেপের পথে হাঁটল নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের (Indian High Commission) বাইরে ব্যারিকেড সরানোর তিন দিনের মধ্যেই দিল্লিতে পাকিস্তানি (Pak High Commission Delhi) ভিসা বিভাগের বাইরের কাঠামোও ভাঙা হল। দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের (India Pakistan) অনুমোদিত সীমানার বাইরে তৈরি একাধিক কাঠামো ও ব্যারিকেড বৃহস্পতিবার ভেঙে সরিয়ে দিল প্রশাসন। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ওই কাঠামোগুলি হাইকমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে ছিল। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলি জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে হাইকমিশনের বাইরের রাস্তার ধারে তৈরি কাঠামো ও ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। ভিসা বিভাগের সামনে দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি কিউ-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাও এই অভিযানের আওতায় পড়ে।

    কূটনৈতিক প্রত্যাঘাত!

    দিল্লির কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পাকিস্তান হাইকমিশনের (Pakistan High Commission) বাইরে প্রশাসনের পদক্ষেপ ঘিরে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিল্লির চাণক্যপুরীতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা বেশ কিছু কাঠামো এবং ব্যারিকেড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, ওই নির্মাণ এবং ব্যারিকেডগুলির একটি অংশ পাকিস্তান হাইকমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে তৈরি করা হয়েছিল। সেই কারণেই সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই পদক্ষেপের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের আবহও জড়িয়ে রয়েছে। কারণ, মাত্র তিন দিন আগেই ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা ব্যারিকেড এবং পার্কিং পোল সরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। তার পরেই দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে একই ধরনের পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কোন কোন জায়গা ভাঙা হল

    বৃহস্পতিবার প্রশাসনের তরফে বুলডোজার ব্যবহার করে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের লেন বরাবর তৈরি করা বেশ কিছু কাঠামো ও ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই কাঠামোর মধ্যে পাকিস্তানি হাইকমিশনের ভিসা বিভাগের কাছে থাকা কিউ ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাও ছিল। ফলে হাইকমিশনের ভিসা সংক্রান্ত পরিষেবা নেওয়ার জন্য যে অংশে সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করতেন, সেই জায়গাতেও ভাঙার কাজ চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের পাকা জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা ধাতব রেলিং, গেট, ধাতব কাঠামোর বিভিন্ন অংশ, ছাদের শিট, ইট এবং কংক্রিট ও প্লাস্টারের টুকরো। বাইরের কাঠামোর বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা হয়েছে করুগেটেড বা ঢেউখেলানো ছাদ এবং সাদা ধাতব বেড়ার একাংশও। এর ফলে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা পরিধির একটি বড় অংশও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে থাকা ট্র্যাফিক বোলার্ড, ধাতব ব্যারিকেড এবং অন্যান্য অস্থায়ী কাঠামোও তুলে ফেলা হয়। এতদিন এগুলিই কার্যত হাইকমিশন চত্বরকে বাইরের রাস্তা থেকে আলাদা করে রেখেছিল।

    মূল গেটে কিছুই করা হয়নি

    ভিসা বিভাগের বাইরের অংশেও ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যায়। পরিষেবা দেওয়ার জানালাগুলির আশপাশের ফ্যাসাডের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও প্লাস্টার খসে পড়েছে, কোথাও আবার ইট ও গাঁথনির অংশ ভেঙে রয়েছে। ভিসা বিভাগের কাউন্টারগুলি অবশ্য এখনও দেখা যাচ্ছে। সেই কাউন্টারগুলির চারপাশেও ভাঙা বেড়া এবং নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল প্রবেশপথে কোনও বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়নি। সাদা দেওয়াল, গম্বুজের মতো নকশা এবং পাকিস্তানের প্রতীক-চিহ্ন লাগানো বড় ধাতব গেট-সহ প্রধান প্রবেশপথটি অক্ষত রয়েছে। হাইকমিশনের চৌহদ্দির কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়াও দেখা গিয়েছে।

    ‘টিট-ফর-ট্যাট’ নীতি

    এই পদক্ষেপের সময়কালও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র তিন দিন আগে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা ব্যারিকেড সরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বলে খবর। তার পরেই দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের কাঠামো সরানোর ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে ‘টিট-ফর-ট্যাট’ কূটনৈতিক পদক্ষেপের জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সীমান্তের ওপার থেকে সমানে ভারত-বিরোধী কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার জন্য ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি বাতিল করে। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বারবার কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে দুই দেশ।

    কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে আপত্তি

    এরই মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূ সার্জিও গোরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান বুধবার আমেরিকার কাছে আপত্তি জানিয়েছে। শ্রীনগর সফরের সময় গোর জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও প্রশংসা করেন তিনি। গোরের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ইসলামাবাদে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়। পাকিস্তান গোরের এই মন্তব্যকে “তথ্যগতভাবে ভুল” এবং কাশ্মীর বিরোধ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পরিপন্থী বলে অভিহিত করে। ইসলামাবাদের দাবি, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য করা হয়েছে। পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও ওই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের চাহিদা অনুযায়ী নিষ্পত্তি হওয়ার অপেক্ষায়। আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে আমেরিকার ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে গোরের মন্তব্যের মিল নেই। যদিও দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে কাঠামো ভাঙার সঙ্গে পাকিস্তানের ওই প্রতিক্রিয়ার সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লির পদক্ষেপের মূল কারণ ছিল অনুমোদিত সীমানার বাইরে নির্মিত কাঠামো এবং ব্যারিকেড তৈরি।

  • Biometric Verification: জাল সিম ও বার্নার ফোনে সাইবার জালিয়াতি রুখতে সিম যাচাই ব্যবস্থায় বড় বদলের প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    Biometric Verification: জাল সিম ও বার্নার ফোনে সাইবার জালিয়াতি রুখতে সিম যাচাই ব্যবস্থায় বড় বদলের প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাল সিম কার্ড ও বারবার বদলে ফেলা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সাইবার জালিয়াতি রুখতে দেশের সিম কার্ড (Fake Sim Cards) যাচাই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের টেলিযোগাযোগ দফতর (ডিওটি)।  নয়া ব্যবস্থায় প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে গ্রাহকদের ফিজিক্যাল সিম ও ই-সিম (eSIM) উভয়ই সংগ্রহের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক (Biometric Verification) বা আঙুলের ছাপ যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা হবে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রক একটি নতুন যাচাই ব্যবস্থা তৈরি করছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সিম কার্ড চালু করার আগেই গ্রাহকের পরিচয় ও নথিপত্র তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হবে। সিমের পাশাপাশি ই-সিম নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। বর্তমানে সিম চালু হওয়ার পর একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাই করা হতে পারে। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সিম দেওয়ার আগেই গ্রাহকের পরিচয় ও তথ্য যাচাই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের ধারণা, এর ফলে জাল বা চুরি করা পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বেআইনিভাবে নেওয়া সিমের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

    নতুন ব্যবস্থায় জৈবিক পরিচয় যাচাই (Biometric Verification)

    নতুন সিম সংযোগ নেওয়ার সময় গ্রাহককে জৈবিক পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। গ্রাহক সিম নিন কিংবা ই-সিম নিন, উভয় ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

    ই-সিমকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট, ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল—দুই ধরনের সিম সংযোগের ক্ষেত্রেই একই যাচাই নীতি কার্যকর করতে চাইছে সরকার। এর ফলে ফিজিক্যাল সিম এবং ই-সিম চালুর প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা ফাঁকফোকর ব্যবহার করে প্রতারকদের জালিয়াতি করার সুযোগ কমবে (Biometric Verification)।

    জাল সিম ও বার্নার ফোনে নজর

    অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, ভুয়ো পরিচয়ে যোগাযোগ, প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানো, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধে জাল সিম ও বার্নার ফোনকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধীরা। অপরাধ করার পর নম্বর বা সিম ফেলে দিয়ে নতুন সংযোগ নেওয়াও তাদের পরিচিত কৌশল (Biometric Verification)।

    সরকারের প্রস্তাবিত কঠোর যাচাই ব্যবস্থার লক্ষ্য হল, অপরাধীদের পক্ষে সহজে এমন পরিচয়হীন মোবাইল সংযোগ পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা, যা অপরাধ করার পর দ্রুত ফেলে দেওয়া যায়।

    টেলিযোগাযোগ নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ এই উদ্যোগ। মোবাইল সংযোগের অপব্যবহার করে সাইবার অপরাধ ঠেকানো এবং দেশের টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামোকে আরও সুরক্ষিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

    নতুন যাচাই ব্যবস্থার কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর টেলিযোগাযোগ দফতর এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারে (Fake Sim Cards)।

     

  • Hockey World Cup: পাকিস্তানকে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, শাহী অভিনন্দন হরমনপ্রীতদের

    Hockey World Cup: পাকিস্তানকে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, শাহী অভিনন্দন হরমনপ্রীতদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ হকির (Hockey World Cup 2026) কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত (Indian Hockey Team)। ভারতের এই জয়ের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানান। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য টিম ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন। দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে ভারতীয় দল দেশের দীর্ঘদিনের আধিপত্য বজায় রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই নিয়ে পাকিস্তানকে ৭০ বার হারাল ভারত। বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেল পাকিস্তান।

    হকির টার্ফে ভারতীয়দের দাপট

    ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষ বার পাকিস্তানের (India vs Pakistan) কাছে হেরেছিল ভারতীয় হকি দল। তার পর থেকে হকির টার্ফে ভারতীয়দের দাপট। বিশ্বকাপেও অব্যাহত রইল হরমনপ্রীত সিংদের দাপট। ইংল্যান্ডের কাছে ওয়েলস আগেই হেরে যাওয়ায় ভারতীয় দলের জন্য ড্রই যথেষ্ট ছিল। ভারতীয় দল অবশ্য জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নেমেছিল। কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা। ভারতীয় শিবিরও হালকা ভাবে নেয়নি এই ম্যাচ। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে পাকিস্তানের রক্ষণকে ব্যস্ত করে রাখে ক্রেগ ফুলটনের দল। ফলও পায় দ্রুত। ৫ মিনিটেই পেনাল্টি কর্ণার থেকে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত। পিছিয়ে পড়ার পর পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণে ভারতের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করে। গোটা দুয়েক ভাল আক্রমণও করে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১১ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। অভিষেকের ক্রশ মনদীপ সিং-এর স্টিকে দিক বদলে গোলে চলে যায়।

    কোন গ্রুপে খেলবে ভারত?

    বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রথম পর্ব থেকে মোট আটটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। সেই আট দলকে চারটি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। এরপর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। পুল-ডি-তে দ্বিতীয় হয়ে শেষ করা ভারত দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে পুল-ই-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে থাকবে পুল-এ-র শীর্ষ দুই দল। অর্থাৎ, ভারতের পরবর্তী ম্যাচগুলিতে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পেলেও ভারতের সামনে পরীক্ষা আরও কঠিন হতে চলেছে।

    ভারতের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস

    পুল-এ-তে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, আর্জেন্টিনা, নিউজিল্যান্ড এবং জাপান। এই গ্রুপ থেকে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। ফলে ভারতীয় দল যে দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডাচদের মুখোমুখি হবে, তা নিশ্চিত। টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারতকে এবার নিজেদের সেরা হকি খেলতে হবে। ভারতের দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি প্রতিপক্ষ নিশ্চিত—নেদারল্যান্ডস। অন্য দলটি হবে আর্জেন্টিনা অথবা নিউজিল্যান্ড। এরপর পুল-ই-তে ভারতকে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য।

LinkedIn
Share