Blog

  • ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মেয়ে বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত আরও জোরদার করেছে ইডি(ED)। তদন্তে হাতে লেখা খাতা ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিন নথি থেকে বিপুল পরিমাণ হিসাব-বহির্ভূত অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য হাওলা কারবারের সূত্র মিলেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থার। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (FEMA Violations)।

    বড় দাবি ইডির (ED)

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সম্প্রতি বাজেয়াপ্ত করা হাতে লেখা খাতা এবং বৈদ্যুতিন নথিতে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি বৈধ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে একটি অভ্যন্তরীণ আর্থিক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। নথিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে ৩ লাখ ৪৯ হাজার দিরহাম, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫ লাখ টাকা, পাঠানোর উল্লেখ রয়েছে। এই অর্থের প্রকৃত উৎস কী এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় তা গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, বাজেয়াপ্ত নথিতে মোট ২০ কোটি ৫ লাখ টাকার দেশীয় আর্থিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, বীণার জানা ও বৈধ আয়ের উৎসের তুলনায় এই লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি। বীণার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতিতে একটি ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্র এবং ভুয়ো পরিচয়ে নথিভুক্ত একটি সিম কার্ডের ছবি পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হাওলা লেনদেনের সমন্বয় করতে অনুসরণ করা কঠিন এমন ইন্টারনেটভিত্তিক ফোনালাপের জন্য এগুলি ব্যবহার করা হতে পারে।

    সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়

    তদন্তে ওই সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়ও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি। কার্ডটি কোঝিকোড়ের ডিওয়াইএফআই নেতা নন্দুলালের নামে নথিভুক্ত ছিল। নন্দুলালের দাবি, বীণা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহম্মদ রিয়াসের অনুরোধেই তিনি সিমটি সংগ্রহ করেছিলেন। দু’জনের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় রয়েছে বলে স্বীকার করলেও, সিম কার্ডটি ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৪ সাল থেকে বীণা ওই সিম কার্ড ব্যবহার করছিলেন। হাওলা লেনদেন সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্যই এটি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তাঁদের মতে, সিমটি একটি বেতার ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্রে ঢুকিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফোন করা হত।

    বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত

    আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। মহম্মদ রিয়াস কেরলের পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন নন্দুলাল কোঝিকোড় জেলা পর্যটন উন্নয়ন পরিষদের গন্তব্য ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি নন্দুলালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ডটি সংগ্রহের সময় ব্যবহার করা পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। বীণার মালিকানাধীন এবং বর্তমানে বন্ধ তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থা এক্সালজিক সলিউশন্সকে ঘিরে ওঠা একটি কর্পোরেট জালিয়াতির মামলাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত। গুরুতর জালিয়াতি তদন্ত দফতরের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের কাছ থেকে এক্সালজিক সলিউশন্স প্রতি মাসে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করে বেআইনি অর্থ পেয়েছিল। অভিযোগ, বিনিময়ে সংস্থাটি কোনও প্রকৃত পরিষেবা দেয়নি।

    বীণার পরিবারের দাবি

    বীণার হাতে লেখা নথিতে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের কয়েকজনকে লক্ষ্য করে কোঝিকোড়ে সাম্প্রতিক তল্লাশি চালানোর পর তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছে ইডি। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন এবং বিদেশি মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। তদন্তের স্বার্থে বীণাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর (ED)। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযোগ ও তদন্তের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন সিপিআই(এম)-এর নেতারা এবং বীণার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে (FEMA Violations)। এদিকে বীণাকে ঘিরে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের অর্থপাচার তদন্তে ইডির নয়া তথ্য সামনে আসার পর পিনারাই বিজয়ন কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ থেকে ইস্তফা দিন – এমন দাবি তুলেছে বিজেপি।

    বিজেপির বক্তব্য

    পদ্ম শিবিরের রাজ্য সহ-সভাপতি শোন জর্জ বলেন, পিনারাই বিজয়নের উচিত তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো—এটাই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। তাঁর দাবি, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্ডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পিনারাই বিজয়ন যে ভাষায় তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন, তিনি সেই একই যুক্তি এবার বিজয়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করছেন। শোন জর্জ বলেন, “যদি তাঁর মধ্যে সামান্যও লজ্জাবোধ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে… যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে (FEMA Violations), তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকা (ED)।”

     

  • HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের আসন্ন মার্কিন সফর (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)-এর কয়েকজন সদস্যের প্রকাশ্য আপত্তির তীব্র সমালোচনা করল হিন্দু অধিকারকেন্দ্রিক সংগঠন হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)। সংগঠনটির দাবি, ইউএসসিআইআরএফ (USCIRF)-এর বক্তব্যে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। এই মন্তব্য আরএসএস (RSS) ও ভারতকে ঘিরে একটি ‘একপেশে’ প্রচারের অংশ।

    মার্কিন মুলুকে হিন্দু-বিদ্বেষ নিয়ে কেন বলে না ইউএসসিআইআরএফ

    এক বিবৃতিতে হিন্দু প্যাক্ট -এর (HinduPACT to USCIRF) অভিযোগ, ইউএসসিআইআরএফ -এর চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ এবং কমিশনার জিন মিলসের বক্তব্যে ভারসাম্যের পরিবর্তে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে অভিযোগকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু-বিদ্বেষ, মন্দিরে ভাঙচুর এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত সমস্যাগুলির প্রতি একই ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) আরও দাবি করেছে, আরএসএস-কে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ -এর অবস্থানের সঙ্গে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন (Council on American-Islamic Relations বা CAIR), ইন্ডিয়ান-আমরিকানমুসলি কাউন্সিল (Indian American Muslim Council বা IAMC)এর মতো সংগঠনের অবস্থানের মিল রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, এই গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একপেশে প্রচার চালিয়ে আসছে।

    আরএসএস-এর সামাজিক কাজ

    হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বিবৃতিতে আরএসএস-এর সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দু প্যাক্টের দাবি, শিক্ষা, ত্রাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবা এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অভিযোগের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-কে বিচার করা উচিত নয়। ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হিন্দু প্যাক্ট। তাদের দাবি, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ, প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত থাকা জরুরি। তাদের মতে, আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা ‘গিল্ট বাই অ্যসোসিয়েশন’ (guilt by association)-এর সমান।

    কেন হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

    মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিউ ইয়র্ক সফরের আগেই বড় অস্বস্তি। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন সেদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক উপদেষ্টা সংস্থার এক কর্তা। পাশাপাশি ওই সংস্থা ওয়াশিংটনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন- যেন আরএসএস নেতাদের কোনও কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানো না হয় বা তাঁদের সঙ্গে কোনও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করা হয়। এ প্রসঙ্গে হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) -এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অজয় শাহ বলেন, “ইউএসসিআইআরএফ তার নিরপেক্ষতার দায়িত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে। মোহন ভাগবত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সফরকে অপপ্রচারের মাধ্যমে বিতর্কিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণ, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে কাজ করেছে। মার্কিন মাটিতে হিন্দু সম্প্রদায়কে হেয় করার জন্য কোনও সরকারি অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকেও অসম্মান!

    এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। মিলস জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আরএসএস-এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরএসএস হল একটি মূল সংগঠন, যার সহযোগী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। পোস্টটিতে উল্লেখ, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সদস্য। এটি ভারতের এমন একটি মূল সংগঠন যার বিভিন্ন উপ-গোষ্ঠী খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আর এখন আরএসএস নেতা মোহন ভাগবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করছেন।” এর আগে মার্চ মাসে ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের সমালোচনা করা হয়েছিল এবং আরএসএস ও ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র)-সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর ‘সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের সুপারিশ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই মন্তব্যগুলো সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভারত এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-এর বিরুদ্ধে “প্রশ্নবিদ্ধ উৎস ও আদর্শিক বয়ানের” ওপর ভিত্তি করে দেশটির একটি “বিকৃত ও বাছাইকৃত” ছবি তুলে ধরার অভিযোগ এনেছে।

    নিরপেক্ষ আচরণের দাবি হিন্দু প্যাক্ট-এর

    ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’-এর আয়োজনে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশনস’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্ক সফরে যাবেন। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বক্তব্য, মোহন ভাগবতের মার্কিন সফর আমেরিকার জন্য কোনও হুমকি নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একতরফা অবস্থান নেওয়াই বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। সংগঠনটি মার্কিন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ নাগরিকদের ইউএসসিআইআরএফ-এর বক্তব্যকে সমালোচনামূলকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) জানিয়েছে, মোহন ভাগবতের সফরকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনাকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু সংগঠনগুলির প্রতি সমান মর্যাদা ও নিরপেক্ষ আচরণের দাবি জানাচ্ছে।

     

     

     

  • Shamik Bhattacharya: এবিভিপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুরের ঘটনায় কী বললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি?

    Shamik Bhattacharya: এবিভিপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুরের ঘটনায় কী বললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর কাণ্ডে এবিভিপি-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্তের আশঙ্কা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অশান্তি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি প্রতীকটি ভেঙে পড়ে। শুক্রবার মেদিনীপুর কলেজেও যাদবপুরের আঁচ দেখা যায়। ক্যাম্পাসের মধ্যেই এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষ হয় বলে অভিযোগ। এই আবহে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত চক্রান্ত।

    অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর বিরুদ্ধে চক্রান্ত

    অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সরাসরি বিজেপির কোনও ছাত্র সংগঠন নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি কলেজে চলা গন্ডগোল এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহাসিক লোগো বা শতদল প্রতীক ভেঙে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, এবিভিপি-র মূল লক্ষ্য, আদর্শের সঙ্গে লোগো ভাঙচুরের মতো ঘটনা কখনওই মেলে না। এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকার আশঙ্কা করছেন তিনি। এছাড়া, যাদবপুরের সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে বিজেপির এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা সাফাই দেন। তিনি জানান, গেটের বাইরে বা সংলগ্ন এলাকায় কোনও গন্ডগোল বা পরিস্থিতি তৈরি হলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের সেখানে উপস্থিত থাকার অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। কোচবিহার হোক কিংবা পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও প্রান্ত—জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনে যেতেই পারেন।

    জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু হবে

    সাংবাদিকদের সামনে জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ টেনে শমীকবাবু বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একমাত্র কাজ হল প্রতি পদে কেবল বিরোধিতা করে যাওয়া। এ রাজ্যেও ঠিক একই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, শিক্ষানীতি নিয়ে অতীতে বহু বুদ্ধিজীবী ও পন্ডিত মানুষ নানা সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে ‘গৈরিকীকরণ’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেই সমস্ত বিতর্ক এবং অপপ্রচারকে উপেক্ষা করেই নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের সরকারে জায়গা করে দিয়েছে। তাই রাজ্যে এই নীতি রূপায়ণের ক্ষেত্রে আর নতুন করে বলার কিছু নেই বলেই তাঁর মত। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি অবশ্যই লাগু হবে এবং এই নিয়ে বিরোধীরা যে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে, তা কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে।

  • Eye Problems in Children: শুধু মোবাইল নয়, এই সব কারণেও ছোটদের চোখে বাড়ছে সমস্যা, জানুন চোখ ভালো রাখার সহজ উপায়

    Eye Problems in Children: শুধু মোবাইল নয়, এই সব কারণেও ছোটদের চোখে বাড়ছে সমস্যা, জানুন চোখ ভালো রাখার সহজ উপায়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা আর বয়সের চৌকাঠে আটকে থাকছে না। বরং, খুব ছোটো থেকেই বিপদ বাড়ছে। ফলে আগাম সচেতনতা না থাকলে জীবনভর ভোগান্তির আশঙ্কা থাকছে। ভারতে দৃষ্টিশক্তি নিয়ে সমস্যা সম্পর্কে এমনটাই জানাচ্ছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা। অগাস্ট মাসে দেশ জুড়ে ন্যাশনাল আই এক্সাম মান্থ পালন হয়। চলতি বছরের থিম, ‘হেলদি লাইফ, হেলদি আইস’! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক রোগের ঝুঁকির নেপথ্যে থাকে জীবনযাপনের ধরণ। আর সেই তালিকায় বাদ নেই চোখের সমস্যা।

    দেশ জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা। প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বাড়ছে। যার ফলে জীবনভর নানান ভোগান্তি হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যার পাশাপাশি চোখে নানান রকম ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনাও বাড়ছে। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, মোবাইল দেখার জেরেই কমবয়সীদের মধ্যে চোখের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, শুধুমাত্র মোবাইল বা ল্যাপটপের জন্যই চোখের সমস্যা হচ্ছে না। বরং নেপথ্যে থাকছে একাধিক কারণ।

    কেন ভারতে চোখের সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে স্কুল পড়ুয়াদের চোখের সমস্যা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশ জুড়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মায়োপিয়ার সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট দেখতে না পারার সমস্যায় তারা ভুগছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাইরের জগতের সঙ্গে কম মেলামেশার সুযোগের জেরেই চোখের এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ ভারতীয় স্কুল পড়ুয়াদের এখন মাঠে খেলাধুলা করা কিংবা বাগানে ঘোরার জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ নেই। ফলে চোখের ক্ষতি হচ্ছে। খোলা মাঠ, বাগান, সবুজ গাছপালা চোখের জন্য খুবই উপকারী। সেখানে সময় কাটানোর সুযোগ না থাকার জেরেই দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত নানান সমস্যা তৈরি হচ্ছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে চোখে ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনাও বেড়েছে। যা অনেক সময়েই চোখের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে।

    পঞ্চাশ পেরোলেই বাড়ছে ছানির ঝুঁকি

    তবে ছোটোদের পাশাপাশি ভারতে পঞ্চাশোর্ধ্বদের মধ্যেও মারাত্মক হারে চোখের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত ছানির সমস্যা দেখা দিচ্ছে।চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখের নিয়মিত পরীক্ষা না করানোর জেরেই প্রৌঢ়দের মধ্যে চোখের সমস্যা জটিল হচ্ছে।ছানি হয়েছে কিনা, সেটা নির্ণয় করা জরুরি। বয়স চল্লিশ বছর পেরোলেই বছরে অন্তত একবার চোখের পরীক্ষা করা দরকার। কিন্তু অনেকেই নিয়ম মেনে তা করেন না। ফলে রোগ নির্ণয় হয় না এবং সমস্যা আরও বাড়ে। এমনকি কর্ণিয়ার ক্ষতি হয়, যা অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।

    স্ক্রিন টাইম কি চোখের সমস্যার একমাত্র কারণ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু শুধুমাত্র মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখার জন্যই চোখের ক্ষতি হচ্ছে, এমন ধারণা ভুল। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখলেই চোখ খারাপ হয় না। বরং দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, নানান সংক্রমণের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকে। বিশেষত শিশুদের চোখের সমস্যার নেপথ্যে নানান কারণ থাকে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই কারণকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

    শিশুদের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজন শিশু কতক্ষণ স্ক্রিন টাইম পাচ্ছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। দিনের অধিকাংশ সময়েই কি সেই শিশু মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখছে, নাকি মোবাইল দেখার পাশাপাশি সে বাইরে খেলাধুলা করছে, সেটা বোঝা জরুরি। পাশাপাশি কমবয়সীদের জীবনযাপনের ধরন কতখানি স্বাস্থ্যকর, সেটার উপরেও তাদের চোখের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অভ্যাসের উপরেও চোখের স্বাস্থ্য নির্ভরশীল।

    স্কুল পড়ুয়াদের কতটা স্ক্রিন টাইম কম ঝুঁকিপূর্ণ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতো, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের দিনে গড়ে ১ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম দেওয়া উচিত নয়।তবে একটানা এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম হলে তার মাঝে ২০ মিনিট অন্তর চোখকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। বহু স্কুল পড়ুয়াকেই এখন নানান অনলাইন ক্লাস করতে হয়। সেক্ষেত্রেও ২০-২৫ মিনিট অন্তর চোখ-মুখ ধোয়ার অভ্যাস রাখতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম থাকলে এক ঘণ্টা খেলাধুলার জন্যও বরাদ্দ করতে হবে। মাঠে বা বাগানে শারীরিক পরিশ্রম হয়, এমন খেলার সময় বের করতে হবে। তবেই চোখের সমস্যার ঝুঁকি কমবে।

    চোখ ভালো রাখতে খাবারে কী রাখবেন?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে নিয়মিত নানান রকমের সব্জি খেতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, গাজর, কুমড়ো, টমেটোর মতো সব্জি নিয়মিত খেলে চোখ ভালো থাকবে। কারণ এই ধরনের সব্জিতে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা ভিটামিন এ-র জোগান দেয়। এর ফলে চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    ডিম, ফল ও ডালেও নজর দিন

    চোখ ভালো রাখতে নিয়মিত স্কুল পড়ুয়াদের ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিমে থাকে জিঙ্ক-সহ একাধিক মিনারেল, যেগুলো চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষত, ডিমের কুসুম চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বেশি প্রয়োজনীয়।কমলালেবু, পেয়ারার মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলও চোখের জন্য উপকারী। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন সি-র চাহিদা পূরণ হলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত এই ধরনের ফল খাওয়া জরুরি। এর পাশাপাশি বাদাম, ছোলা এবং বিভিন্ন রকমের ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ এবং ফাইবার থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

    পর্যাপ্ত ঘুমও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি

    খাবারের পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস পালন জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করতে হবে। দিনে অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমোনো জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম হলে চোখ বিশ্রাম পাবে এবং চোখের কার্যক্ষমতা বজায় থাকবে। তাছাড়া ভালো ঘুমের জন্য ঘুমোতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন টাইম বন্ধ করতে হবে। যাতে মস্তিষ্ক এবং চোখের স্নায়ু অতিরিক্ত উত্তেজিত না থাকে।

    প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটান প্রকৃতির মাঝে

    নিয়মিত বাইরে কিছুটা সময় কাটাতে হবে। বাগান, পার্ক কিংবা মাঠে খেলাধুলা করার জন্য সময় দিতে হবে। পরিবেশের মধ্যে কিছুটা সময় কাটালে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার হতে পারে। একটানা কাজ করাও যাবে না। বরং নির্দিষ্ট সময় অন্তর চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে।

    বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা জরুরি

    তবে সবকিছুর পাশাপাশি প্রতি বছর চোখের পরীক্ষা করানো জরুরি। তাহলে সমস্যা হলেও প্রাথমিক পর্বেই তা নির্ণয় করা যাবে। ফলে বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে। ছোটো থেকে বড়—প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এবং নিয়মিত পরীক্ষা ভবিষ্যতের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • SIM Cards Rule: আগামী সপ্তাহ থেকে সিম কার্ডের নতুন নিয়ম! সর্বোচ্চ কয়টি সংযোগ রাখতে পারবেন?

    SIM Cards Rule: আগামী সপ্তাহ থেকে সিম কার্ডের নতুন নিয়ম! সর্বোচ্চ কয়টি সংযোগ রাখতে পারবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একজন ব্যক্তি নিজের নামে সর্বোচ্চ কতগুলি মোবাইল সংযোগ রাখতে পারবেন, সেই নিয়ম কার্যকর করতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। আগামী ২৪ অগাস্ট থেকে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে নতুন সিম নেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিকম সংস্থাগুলিকে সংযোগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। কেন্দ্রের এই নির্দেশে গ্রাহকদের জন্য নতুন করে সিম নেওয়ার ক্ষেত্রে নজরদারি আরও বাড়তে চলেছে। টেলিকম সংস্থাগুলিকে পাঠানো ১৭ অগাস্টের নির্দেশিকায় কেন্দ্রীয় টেলিকম দফতর (DoT) জানিয়েছে, কোনও গ্রাহক নির্ধারিত সীমার বেশি মোবাইল সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে তা শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা করতে হবে। ওই গ্রাহককে জানাতেও হবে যে তাঁর নামে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ সংখ্যক সংযোগ রয়েছে।

    একজনের নামে সর্বোচ্চ কতটি সিম?

    এই সীমা অবশ্য নতুন নয়। এক দশকেরও বেশি সময় আগে কেন্দ্রীয় টেলিকম দফতর (DoT) একজন ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ ৯টি মোবাইল সংযোগ রাখার সীমা নির্ধারণ করেছিল। এই নিয়ম বিভিন্ন টেলিকম সংস্থা এবং সার্ভিস এরিয়া মিলিয়েই প্রযোজ্য। তবে জম্মু ও কাশ্মীর, অসম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে সর্বোচ্চ সীমা ৬টি সংযোগ। নতুন পরিবর্তন হল, এবার এই সীমা বাস্তবে কার্যকর করার জন্য টেলিকম সংস্থাগুলিকে আরও কঠোরভাবে গ্রাহকের আগের সংযোগ যাচাই করতে হবে।

    নতুন সিম নিতে কী তথ্য দিতে হবে?

    নতুন সংযোগ নেওয়ার সময় গ্রাহককে কাস্টমার অ্যাপলিকেশন ফর্ম (Customer Application Form বা CAF)-এ নিজের নামে ইতিমধ্যে থাকা মোবাইল নম্বরগুলির তথ্য দিতে হবে। অন্য কোনও টেলিকম সংস্থা বা অন্য কোনও টেলিকম সার্ভিস এরিয়ায় নেওয়া সংযোগও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শীঘ্রই ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন (DoT) ফোটো বেসড আইডেন্টিফিকেশন ফিচার চালু করতে চলেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে যে একজনের নামে কতগুলি সিম আছে।

    কীভাবে গ্রাহককে শনাক্ত করা হবে?

    সিমের নির্ধারিত সীমা কার্যকর করতে টেলিকম সংস্থাগুলিকে সরকারের ডিজিটাল ইন্টিলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম (Digital Intelligence Platform বা DIP)-এর মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য যাচাই করতে হবে। বিভিন্ন টেলিকম সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য একত্রিত করে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনও ব্যক্তির নামে কতগুলি মোবাইল সংযোগ রয়েছে, তা যাচাই করা যাবে।  এছাড়াও ২৩ অগাস্ট থেকে ডিজিটাল ইন্টিলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম -এ নির্ধারিত সীমায় পৌঁছে যাওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে একটি ছবি-ভিত্তিক শনাক্তকরণ সুবিধা চালু করা হবে। নতুন সংযোগ দেওয়ার আগে অপারেটররা এই তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকের সংযোগের সংখ্যা যাচাই করতে পারবেন। কেউ নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে থাকলে তাঁকে আর নতুন সিম দেওয়া হবে না।

    ভুল করে অতিরিক্ত সিম দেওয়া হলে কী হবে?

    নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করার জন্য টেলিকম সংস্থাগুলিকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোনও গ্রাহকের নির্ধারিত সীমার বেশি সংযোগ ভুল করে সক্রিয় হয়ে গেলে, সেই সংযোগ এক দিনের জন্য অবিলম্বে স্থগিত করা হতে পারে। পরে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় টেলিকম দফতর (DoT)-এর বক্তব্য, এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য হল গ্রাহকদের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই মোবাইল সংযোগ ব্যবহার নিশ্চিত করা। নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স সার্ভিস এরিয়া (Licensed Service Area বা LSA)-এর মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে।

    কেন এই কড়া বার্তা?

    সিম কার্ড নিয়ে জালিয়াতি-প্রতারণা ক্রমশ বাড়ছে।  কখনও ভুয়ো নথি দিয়ে সিম কার্ড তুলে অপরাধমূলক কাজকর্ম করা হচ্ছে, কখনও আবার অন্যের সিম ব্যবহার করে অপরাধ ঘটানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার সরকার সিম কার্ড নিয়ে কড়া অবস্থান কেন্দ্রের। গত বছরের জুন মাসে নতুন টেলিকম আইন চালু করে কেন্দ্র। ওই আইন অনুসারে, ন’টির বেশি সিম ব্যবহার করা অপরাধ। প্রথম বার আইন ভাঙলে, সর্বাধিক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পরে একই অপরাধ করলে জরিমানার অঙ্ক বৃদ্ধি পেয়ে দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এমনকি তিন বছর পর্যন্ত জেলও হতে পারে এই অপরাধের কারণে।

  • Amit Shah on Chicken’s Neck: ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা! কীভাবে ওই করিডরকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলছে ভারত, স্পষ্ট করলেন শাহ

    Amit Shah on Chicken’s Neck: ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা! কীভাবে ওই করিডরকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলছে ভারত, স্পষ্ট করলেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নিরাপত্তায় শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই চিকেনস নেকের (Amit Shah on Chicken’s Neck) নিরাপত্তায় ত্রিকোণ সুরক্ষা গ্রিড বানিয়েছে ভারত সরকার। শুক্রবার শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৩ দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন তিনি। প্রথম দিন রয়েছেন শিলিগুড়িতে। সেখানে দাঁড়িয়েই বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার চিকেনস নেকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনেক ব্যবস্থা নিচ্ছে, বলে বার্তা দেন শাহ। শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, প্রশাসনিক পরিকাঠামো থেকে দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগ, শিলিগুড়িকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি ।

    চিকেনস নেকের সুরক্ষায় ত্রি-কোণ গ্রিড

    দেশের মানচিত্রে উত্তরবঙ্গ একটি সরু ফালি। অথচ কৌশলগত গুরুত্বে গোটা দেশের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সেতু শিলিগুড়ি করিডর, ‘চিকেনস নেক’। শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসে সেই করিডরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিয়েই বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান ৮ রাজ্যকে যোগ করা অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা এটি। নেপাল, ভূটান এবং বাংলাদেশ সীমান্ত এর সঙ্গে জড়িত। এটা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত। তাঁর ঘোষণা, “শিলিগুড়ি করিডর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” শাহ জানান, শিলিগুড়ি করিডর ও সমগ্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি- এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ক্রিকোণীয় সুরক্ষা গ্রিড চিকেন্স নেকের সিকিউরিটির দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমেই পুরো এলাকার উপর কন্ট্রোল রাখা সম্ভব হচ্ছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহার’ এর মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

    মমতা-সরকারকে নিশানা

    নিজের বক্তব্যের সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি জানান, আগে একাধিকবার এই ধরনের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসার জন্য অনুরোধ জানান হয়েছে। পালাবদলের পরে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু এসেছেন জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘শুভেন্দুজি বলছিলেন, এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এসএসবির অনুষ্ঠানে এলেন। কিন্তু আগেও আমন্ত্রণ জানানো হতো। তিনি আসতেন না।’ সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অমিত শাহ পূর্বতন সরকারের সমালোচনা এবং বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    শুভেন্দু-সরকারের প্রশাংসা

    শাহ মনে করিয়ে দেন, অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া দরকার। কিন্তু সেই কাজটাই এত দিন আটকে ছিল জমি না পাওয়ার জন্য। তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘২০১৪ থেকে ১১২৯ একর জমি চাইছি। তাঁর হাতে-পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু জমি দেননি।’ অমিত শাহ সোজাসুজি বলে দিলেন, ‘এখন ফোন করলেই কাজ হয়ে যায়, চিঠি পরে পাঠানো হয়।’ শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রথম দিন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, ‘চিকেনস নেককে সুরক্ষিত করতে ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। শুভেন্দুজি মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সেই অনুমোদন দিয়েছলেন।’

    দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর

    তিনি আরও জানান, শুধু সেনা বা এজেন্সির মাধ্যমে কোনও জায়গার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং তার জন্য় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। তাই ২০২৬-২৭ বাজেটে দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর তৈরি করার কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার একাধিক নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গৌরব মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর অধিকর্তা মহেশ দীক্ষিত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ডঃ রাজেন্দ্র কুমার, এসএসবি-র ডিজি সঞ্জয় সিংঘল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অন্যান্য শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা।

    ‘বন্দে মাতরমের’ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের নিরাপত্তার কথা বলতে গিয়ে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরমের’ প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। অমিত শাহের কথায়, ‘স্বাধীনতার পরেও পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হতো না। আমার দুঃখ হতো। নতুন নিয়মে জাতীয় গানকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’ এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর কথা আরও ভালো ভাবে জানতে পারবে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন এসএসবি-র জওয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করে শাহ বলেন, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর মণিপুর, জম্মু-কাশ্মীর, ত্রিপুরা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসএসবি জওয়ানরা অসামান্য সেবা দিয়েছেন। কারগিল যুদ্ধের পর ‘ওয়ান বর্ডার, ওয়ান ফোর্স’ নীতি অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-নেপাল সীমান্ত এবং ২০০৪ সাল থেকে ৭০০ কিলোমিটার (প্রকৃতপক্ষে ৬৯৯ কিমি) দীর্ঘ ভারত-ভূটান সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এসএসবি। কাঁটাতারহীন উন্মুক্ত সীমান্তে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রীতি বজায় রেখে দিবারাত্রি কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, যা এসএসবি জওয়ানরা নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন।

    বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান

    অমিত শাহের পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এসএসবি-র গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে আমন্ত্রণ করার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান। অমিত শাহকে চাণক্যর সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি চাণক্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে অমিত শাহজি সীমান্ত সুরক্ষিত করেছেন।’ ২০৪৭-এ বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি অবদান থাকবে বলে আশা শুভেন্দুর।

  • Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের আসন্ন ব্রিটেন, আমেরিকা ও কানাডা সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে তাঁর বিদেশ সফর শুরু হওয়ার কথা। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন— ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশানাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)—আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।

    আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত প্রচার

    ইউএসসিআইআরএফ-এর তরফে ওয়াশিংটনের কাছে আরএসএস নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করার আর্জি জানানো হয়েছে। তাঁদের কূটনৈতিক সৌজন্যও না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ। ইউএসসিআইআরএফ-এর কমিশনার জিন মিলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-এ দেওয়া এক বার্তায় আরএসএস সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরএসএস-এর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আরএসএস নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য দেওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপনের আবহেই ড. মোহন ভাগবতের এই বিদেশ সফর। আরএসএস-এর প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর জানিয়েছেন, বিদেশের বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন ও ভারতীয় প্রবাসী সংগঠনের আমন্ত্রণে ২৫ আগস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনে সফর করবেন ভাগবত। সফরে তিনি ভারতীয় প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গিয়েছে।

    ইউএসসিআইআরএফ-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

    চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফ-এর বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল। রিপোর্টে আরএসএস-সহ কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘টার্গেটেড স্যাংশন’-এর সুপারিশ করা হয়। সেই রিপোর্ট অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইউএসসিআইআরএফ-এর রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বাছাই করা’ চিত্র তুলে ধরার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সমালোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইউএসসিআইআরএফ-এর উচিত আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও হামলা, ভারতকে লক্ষ্য করে বাছাই করা সমালোচনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও ভয় দেখানোর মতো ঘটনাগুলির দিকেও নজর দেওয়া। ভাগবতের সফরের ঠিক আগে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইউএসসিআইআরএফ-এর এই অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আগেও সংস্থাটির রিপোর্টের নিরপেক্ষতা ও তথ্যসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

  • India Japan Defence Deal: নজরে চিন! ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত, জাপানের সঙ্গে সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন চুক্তি

    India Japan Defence Deal: নজরে চিন! ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত, জাপানের সঙ্গে সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন চুক্তি

    সুশান্ত দাস

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তার সমীকরণ। আর সেই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথে হাঁটল ভারত ও জাপান। সমুদ্র নিরাপত্তা, সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক রসদ সরবরাহ— একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। ২০ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার একাধিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই ২০২৬-এ ভারত ও জাপানের শীর্ষ নেতৃত্বের যৌথ বিবৃতির পরেই দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। দুই দেশই জানিয়েছে, ভারত-জাপান বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

    সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন সমঝোতা

    বৈঠকের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হল ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে সমুদ্র নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর। এই সমঝোতার মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনী এবং জাপানের সামুদ্রিক আত্মরক্ষা বাহিনীর মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও বাড়বে। সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আদানপ্রদান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    বিশেষ করে সামুদ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতনতা বা এমডিএ-র ক্ষেত্রে তথ্য আদানপ্রদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে। পারস্পরিক নৌসফর, যৌথ সামরিক মহড়া, কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের আদানপ্রদান এবং সামরিক রসদ সহায়তার বিষয়েও সহযোগিতা হবে। প্রয়োজনে একে অপরের বন্দর এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হবে।

    জাপানি প্রযুক্তি, ভারতীয় উৎপাদন ক্ষমতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রেও বড় সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারত ও জাপান। দুই দেশ মাইন প্রতিরোধ ও মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের উৎপাদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে নৌবাহিনীর জাহাজের নকশা ও নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। মেক ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচির আওতায় জাপান কীভাবে ভারতের জাহাজ নির্মাণ পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারে, সেই বিষয়েও আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও দুই দেশের জাহাজ মেরামত কেন্দ্র পরস্পরের জন্য ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই জাহাজ মেরামত সংক্রান্ত একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে দুই দেশ।

    বাড়বে সামরিক মহড়ার পরিধি

    ভারত ও জাপানের সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল যৌথ মহড়া। বৈঠকে দুই দেশের সেনাবাহিনীর ‘ধর্ম গার্ডিয়ান’ এবং নৌবাহিনীর ‘জাইমেক্স’ মহড়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়াও চলতি বছর হতে চলা দুই দেশের বিমানবাহিনীর যৌথ মহড়া ‘বীর গার্ডিয়ান ২৬’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই মহড়ায় এবার বিশেষ নজর থাকবে। কারণ প্রথমবার জাপানের বিমান আত্মরক্ষা বাহিনীর যুদ্ধবিমান ভারতে এসে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। আগামী দিনে ভারত ও জাপান যৌথ সামরিক মহড়ার জটিলতা এবং পরিধি আরও বাড়াবে। মহড়ায় মানবহীন ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প সময়ের নোটিসেও যৌথ অনুশীলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের বিশেষ অভিযান বাহিনীর মধ্যেও যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ বিনিময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতের সমন্বিত থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর জাপানের সঙ্গে এই ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

    প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত

    ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জাপানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত নীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতায় জাপানের আরও বড় ভূমিকার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। দুই দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জাপানের স্টেলথ রণতরীতে ব্যবহৃত বিশেষ ইউনিকর্ন রেডোম অ্যান্টেনা ব্যবস্থা। এটিকে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে আরও আলোচনা করে ভবিষ্যতে নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়বে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও এবং জাপানের সংস্থার মধ্যে যৌথ গবেষণা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্প মঞ্চ গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে।

    ইন্দো-প্যাসিফিকে তৃতীয় দেশগুলির সঙ্গেও সহযোগিতা

    শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় ভারত ও জাপান। ফেব্রুয়ারিতে ভারত, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর মধ্যে প্রথম ত্রিদেশীয় পাসেক্স মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আগামী দিনে উচ্চপর্যায়ের সফর, সামরিক মহড়া এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে তৃতীয় দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় যৌথভাবে অবদান রাখাই এর লক্ষ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সহযোগী দেশগুলিতে দ্রুত মানুষ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে ইন্দো-প্যাসিফিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক বা আইপিএলএন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে এই ব্যবস্থার দ্বিতীয় টেবিলটপ মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

    দ্রুত হবে ভারত-জাপান ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক

    ভারত ও জাপানের মধ্যে চতুর্থ বিদেশ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, যা ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক নামে পরিচিত, দ্রুত আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। চলতি বছর টোকিওতে এই বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এর মাধ্যমে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করতে চায় নয়াদিল্লি ও টোকিও।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নজরদারির জন্য নতুন গোষ্ঠী

    ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি দ্রুত বাড়ছে। তাই বিভিন্ন উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি নতুন ওয়ার্কিং গ্রুপ বা কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিজি বা যুগ্মসচিব পর্যায়ের এই গোষ্ঠী দুই দেশের মধ্যে সামরিক কর্মসূচি, গোয়েন্দা তথ্য, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সংক্রান্ত সহযোগিতার সমন্বয় করবে। বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এবং সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পথ তৈরি করাও এই গোষ্ঠীর অন্যতম দায়িত্ব হবে। তবে দুই দেশের নিজস্ব নীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে সম্মান করেই এই সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

    জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে ভারতের জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়ে দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া ভারতীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এরপর তাঁকে তিন বাহিনীর সমন্বিত গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ভারত সফরের সময় মুম্বইয়ে গিয়ে পশ্চিম নৌ কমান্ড এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইএনএস চেন্নাই-ও পরিদর্শন করেন তিনি। সব মিলিয়ে, সমুদ্র নিরাপত্তা থেকে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, সামরিক মহড়া থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশের এই কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে দীর্ঘদিন ধরে সোশাল মিডিয়ার নীতিমালা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা মেটার (Meta) চিফ এক্সিকিউটিভ মার্ক জুকারবার্গ (Zuckerberg) এবার আমেরিকায় বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। দেশটির ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় এমন কিছু প্রতিকারের দাবি জানানো হয়েছে, যার ফলে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক দায়ের মুখে পড়তে পারে সংস্থাটি।ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে চলা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তরুণ ইউজারদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে স্ক্রলিং, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সুপারিশের মতো বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যগুলির অভিযোগ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দীর্ঘ সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতো করেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে নকশা করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় (Meta)

    তবে ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অঙ্কটি মেটার ওপর ইতিমধ্যেই আরোপিত কোনও জরিমানা নয়। আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লিখিত অভিযোগ ও প্রযোজ্য শাস্তির ভিত্তিতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় হিসাব করে এই অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। মেটা এই দাবিকে “অবাস্তব” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী মেগান ও’নিলের মতে, বাস্তবসম্মত অঙ্ক ১৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। বিচারক ইভন গনজালেস রজার্সও ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই হিসাবকে “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। শেষ পর্যন্ত মেটাকে কত অর্থের আর্থিক দায় বহন করতে হবে, তা আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বিচারকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

    ভারতে মেটার কার্যকলাপ নিয়েও বাড়ছে প্রশ্নের বহর

    ভারতে মেটার কার্যক্রমও ক্রমশ সরকারি ও জনপর্যায়ের নজরদারির মধ্যে পড়ছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং পরিচালনাগত ত্রুটি নিয়ে বহুদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লক করে দিয়েছিল ফেসবুক। এরপর ভারত সরকার মেটার কর্তাদের তলব করে। পরে মেটা ক্ষমা চেয়ে জানায়, ঘটনাটি ছিল পরিচালনাগত ভুলের ফল।

    বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ও প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ সালের অগাস্টে জুকারবার্গ ভারতীয় কর্তাদের কাছেও ক্ষমা চান। তাঁর প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান, কৃত্রিমভাবে তৈরি (Meta) ভুয়া ভিডিও এবং অন্যান্য পরিচালনাগত ত্রুটির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়।

    বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন সরকারি আধিকারিকরা জানান, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট ধরনের বিষয়বস্তুর প্রচার বাড়ানোর জন্য অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এর ফলে ভারতে আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—অর্থের বিনিময়ে যদি কোনও বিষয়বস্তুকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে কোটি কোটি ভারতীয় ইউজারের সামনে কোন বিষয়বস্তু দৃশ্যমান হবে, সেই সিদ্ধান্তে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলি কতটাই বা নিরপেক্ষ?

    ভারত সোশাল মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। সরকারি সংস্থা বা আদালতের নোটিশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ফলে ভারতের মতো মেটার অন্যতম বৃহৎ বাজারে সংস্থাটির জন্য নিয়ন্ত্রক পরিবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভারত সরকার সতর্ক করেছে, দেশের আইন লঙ্ঘন করলে মেটা তার দায়মুক্তির আইনি সুরক্ষাও হারাতে পারে।

    মেটার এআইয়ের কৌশলেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা

    মামলাটির প্রভাব শুধু সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। মেটার ক্রমবর্ধমান এআই-ভিত্তিক পরিকল্পনার উপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

    মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলি আদালতের কাছে এমন নির্দেশ দাবি করছে, যার ফলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পরিচালনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এর মধ্যে অল্পবয়সী ইউজারদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ, সুপারিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং স্ক্রলিংয়ের মতো সুবিধায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয় রয়েছে।

    ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার দাবিও জানানো হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ও অ্যালগরিদমের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হতে পারে।

    আদালত যদি মনে করে শিশুদের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং পরে সেই তথ্য এআইয়ের মডেল বা অ্যালগরিদম প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে মেটাকে তার এআই পরিকাঠামোর কিছু অংশ শনাক্ত, পর্যালোচনা, পরিবর্তন এমনকি প্রয়োজনে বাতিলও করতে হতে পারে (Meta)।

    সাক্ষ্য দিতে পারেন জুকারবার্গ ও মোসেরি

    পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। সেখানে মেটা কর্তা জুকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেটার বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী এবং প্রযুক্তি ও মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরাও সাক্ষ্য দিতে পারেন।

    তরুণ ইউজারদের ওপর ইনস্টাগ্রামের প্রভাব নিয়ে এর আগেও জুকারবার্গকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। অন্য একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ইনস্টাগ্রামকে আসক্তি তৈরির জন্য নয়, বরং ইউজারদের উপকারে আসার মতো করে তৈরি করা হয়েছিল।

    ২৯ অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ

    ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি-সহ ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, মেটা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা সম্পর্কে ইউজারদের বিভ্রান্ত করেছে এবং এমন কিছু সুবিধা জেনেশুনে তৈরি করেছে, যা তরুণ ইউজারদের আরও বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে কাটাতে উৎসাহিত করে। এসব কার্যকলাপের মাধ্যমে মেটা অঙ্গরাজ্যগুলির ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে (Zuckerberg)।

    অন্য একটি মামলায় ২৯টি অঙ্গরাজ্যই অভিযোগ করেছে, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে মেটা শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষাসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটা অবশ্য সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে। সংস্থার দাবি, অঙ্গরাজ্যগুলির প্রধান আইন কর্তারা পর্যাপ্ত প্রমাণ হাজির করতে পারেননি এবং যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে, তা অভিযোগের তুলনায় অসমানুপাতিক। কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকারও সাফাই দিয়েছে মেটা। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের নকশা, বয়স যাচাই এবং ইউজারদের প্রতারণার অভিযোগও অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।

    বড় প্রযুক্তি সংস্থা এবং এআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

    এই মামলার রায় মেটার জন্য শুধু বিপুল আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নই নির্ধারণ করবে না, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করতে পারে (Meta)।

    এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, মামলাটি এআই শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। আদালত যদি এমন নির্দেশ দেয়, বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত এআই মডেল মুছে ফেলতে বা পরিবর্তন করতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কীভাবে এআই সিস্টেম তৈরি, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা করবে, তার ওপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জুকারবার্গের জন্য এটি নিজের দেশের মাটিতেই এক বড় আইনি পরীক্ষা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোশাল মিডিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান এখন এমন এক আদালত-লড়াইয়ের মুখোমুখি, যা শুধু মেটার আর্থিক অবস্থাকেই নয়, সংস্থাটির ভবিষ্যতের অন্যতম (Zuckerberg) প্রধান বাজি এআই -কেন্দ্রিক কৌশলেরও একটি অংশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে (Meta)।

     

  • Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর ফের জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে (Imran Khan)। শুক্রবার ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁকে জেল হেফাজতেই রাখা নিরাপদ। ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য আদিয়ালা জেল থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তাঁকে পরীক্ষা করে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো জরুরি পরিস্থিতি নেই। এরপরই তাঁকে ফের আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁর নির্ধারিত সেলে রাখা হয়।

    চিকিৎসা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন

    ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাঁর পরিবার ও দলের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা বারবার অভিযোগ করেছেন, জেলে থাকাকালীন তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যথাযথভাবে হচ্ছে না। অন্যদিকে, পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টে এমন কোনও গুরুতর পরিস্থিতির কথা বলা হয়নি যার জন্য অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক-সহ একটি মেডিক্যাল প্যানেলকে তাঁকে পরীক্ষা করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের করা আবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস আপত্তির কারণে ফেরত দিয়েছে বলে খবর। আপত্তিগুলি সংশোধন করে সরকার ফের আবেদন জানাতে পারে।

    চোখের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ

    ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে জানুয়ারির শেষ দিকে তাঁর ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন ধরা পড়ার পর। এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে একাধিকবার ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (PIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী।

    টানা ৩ বছর জেলে ইমরান

    ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি। যদিও পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। তবে ২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। ২০২৩ সালের ৯ মে তাঁর প্রথম গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ঘটে। পরে ওই বছরের ৫ আগস্ট দুর্নীতির মামলা, যার মধ্যে তোষাখানা মামলাও ছিল, সেই মামলায় তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে একাধিক মামলা ও সাজা নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান।

LinkedIn
Share