Blog

  • Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। দেশের প্রথম বেসরকারি সংস্থার তৈরি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) উৎক্ষেপণ হবে ১৮ জুলাই, শনিবার, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) তাদের প্রথম অরবিটাল মিশন ‘আগমন’ (Mission Aagaman)-এর উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের (SDSC-SHAR) প্রথম লঞ্চ প্যাড থেকে এই উৎক্ষেপণ হবে। ইতিমধ্যেই ইন স্পেস (IN-SPACe)-এর অনুমোদন মিলেছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রমাণ

    ২০১৮ সালে প্রাক্তন ইসরো বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভারত দাকা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২২ সালে সংস্থাটি বিক্রম-এস (Vikram-S) সাবঅরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। এবার বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই রকেটটি হায়দরাবাদ থেকে বিভিন্ন অংশে শ্রীহরিকোটায় এনে জোড়া লাগিয়ে উৎক্ষেপণ মঞ্চে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথম কোনও ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদিত অরবিটাল রকেট শ্রীহরিকোটার লঞ্চ প্যাডে স্থাপিত হল।

    কী এই ‘বিক্রম-১’?

    হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের (Skyroot Aerospace) তৈরি চার-ধাপের রকেট ‘বিক্রম–১’-এর (Vikram-I) নাম দেওয়া হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাই-এর (Vikram Sarabhai) নামে। প্রায় ২০ মিটার লম্বা ও ১.৭ মিটার ব্যাসের এই রকেটটি মূলত ছোট স্যাটেলাইট দ্রুত ও কম খরচে বিভিন্ন কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে। রকেটের ২০ থেকে ২৪ মিটার উচ্চতার কার্বন-কম্পোজিট কাঠামো একদিকে ওজন হালকা করেছে, অন্যদিকে বাড়িয়েছে শক্তি ও স্থায়িত্ব। সংস্থার দাবি, পুরো রকেটটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমবেত করে যে কোনও লঞ্চসাইট (Launchsite) থেকে উৎক্ষেপণ সম্ভব। প্রথম তিনটি ধাপে কঠিন জ্বালানির মোটর এবং চূড়ান্ত ধাপে হাইপারগলিক তরল জ্বালানির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা কক্ষপথে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রকেটটিতে ব্যবহৃত ৩ডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিনগুলি আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ হালকা এবং উৎপাদন-সময়ে ৮০ শতাংশ সাশ্রয় করে।

    ক্ষমতা কত?

    বিক্রম–১ (Vikram-I) সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোগ্রাম পে-লোড নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit) এবং ২৬০ কিলোগ্রাম সান-সিঙ্ক্রোনাস অরবিটে তুলতে সক্ষম। নির্দিষ্ট মিশন অনুযায়ী এই ক্ষমতা বদলে যেতে পারে। সে কারণে একাধিক স্যাটেলাইট একসঙ্গে বহন করা বা আলাদা কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব।প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে রকেটটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় এবং ৬০ ডিগ্রি ইনক্লিনেশন-এ কক্ষপথে প্রবেশ করবে। বিক্রম-১-এর প্রথম তিনটি ধাপে ব্যবহার করা হয়েছে সলিড ফুয়েল ইঞ্জিন, আর সর্বোচ্চ ধাপে রয়েছে লিকুইড-ফুয়েল ‘অরবিট অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল’, যা একাধিকবার পুনরায় চালু করা যায়। ফলে ভবিষ্যতে একাধিক উপগ্রহকে ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে নির্ভুলভাবে স্থাপন করা সম্ভব হবে।

    ‘বিক্রম–১’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ

    বিক্রম–১ (Vikram-I)-এর এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের মূল লক্ষ্য হল রকেটের প্রপালশন সিস্টেম, স্টেজ সেপারেশন, গাইডেন্স, ন্যাভিগেশন ও কন্ট্রোল সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে দ্রুত ও নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উড়ান-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহও এই মিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এই অভিযান সফল হলে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসই হবে ভারতের প্রথম বেসরকারি সংস্থা, যারা নিজস্ব অরবিটাল রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, যাতে উৎক্ষেপণের সময় কোনও সমস্যা না হয়।

    ‘বিক্রম–১’-এর নানান কাজ

    বিক্রম-১ রকেটে একাধিক পেলোড বা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘মিশন এমব্রেস’ নামে একটি বিশেষ প্রযুক্তি। এটি তৈরি করেছে হায়দরাবাদের আর একটি মহাকাশ সংস্থা কসমোসার্ভ স্পেস। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো অকেজো উপগ্রহ এবং মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস নিরাপদে ধরার ব্যবস্থা তৈরি করা। এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের নরম ও নমনীয় রোবোটিক বাহু। এই বাহুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো উপগ্রহকে আলতোভাবে ধরে ভবিষ্যতে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে। বর্তমানে মহাকাশে হাজার হাজার অকেজো উপগ্রহ ও ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এগুলি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং সক্রিয় উপগ্রহগুলির জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠেছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। কসমোসার্ভের এই উদ্যোগ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী

    মিশনে একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিক পেলোডও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্কাইরুটের স্কোপ (SCOPE) উপগ্রহ, জার্মানির ডিসিইউ-বেড (DCUBED)-এর প্রযুক্তি প্রদর্শনী, গ্রাহা স্পেস (Grahaa Space)-এর সোলারাস এস-৩ (SOLARAS S3), এবং কসমোসার্ভ স্পেস (Cosmoserve Space)-এর মহাকাশের আবর্জনা সংগ্রহের জন্য তৈরি এমব্রেস (Embrace) রোবোটিক বাহু। এছাড়াও প্রতীকী পেলোড হিসেবে থাকছে বেঙ্গালুরুতে তৈরি ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের শিল্পকর্ম ‘Cosmic Bloom’ এবং শিল্পী অজয় কুমার ম্যাট্টেওয়াডার তৈরি ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষুদ্র রকেট, যা ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের পথিকৃৎ বিক্রম সারাভাই, সি. ভি. রমন এবং ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালাম-কে উৎসর্গ করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ

    ছোট স্যাটেলাইটের বাজার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে, আর ভারতীয় মহাকাশ শিল্প ২০৩০ সালে ৭৭ বিলিয়ন ডলারের আকারে পৌঁছবে বলে অনুমান। সেই বাজারে নিজেদের জায়গা পাকা করতেই স্কাইরুটের এই নতুন উদ্যোগ। শ্রীহরিকোটা থেকে এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখার জন্য এসডিএসসি-এসএইচএআর (SDSC-SHAR)-এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্যও নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে এই মিশনকে ইতিমধ্যেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফল হলে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে ভারতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

  • India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করা সত্ত্বেও, মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হারে চিনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে ভারত (India)। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, চিনের প্রবৃদ্ধি কমেছে, অন্যদিকে ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে (China Economy)।

    কী বলছে প্রতিবেদন? (India)

    সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ভারত এখনও চিনা পণ্যের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারী দেশ। তবে এর বিপরীতে ভারতে তৈরি পণ্যের রফতানি চিনে তুলনামূলকভাবে অনেকখানি কম। বুধবার প্রকাশিত চিনের জিডিপি বৃদ্ধির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশটির অর্থনীতি ৪.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এই হার ছিল ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক প্রান্তিকের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম চিনের অর্থনীতিতে এতটা ধীরগতি দেখা গেল, যা অর্থনীতিবিদদের অনেকেরই প্রত্যাশার বাইরে ছিল। অন্যদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ, যা চিনের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে।

    কেন কমছে চিনের জিডিপি?

    কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউবিএস চিনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউ সং চিনের অর্থনীতি মন্থর হওয়ার তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চিনের অর্থনীতির দুর্বলতার জন্য দায়ী নয়। বরং এই প্রযুক্তি চিনের উপকারই করেছে (China Economy)।” ইউ সংয়ের মতে, দীর্ঘদিনের আবাসন খাতের সঙ্কটই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। তাঁর দাবি, চিনের সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ সময় ধরে মন্দার মধ্যে রয়েছে। ফলে মানুষ সম্পত্তিতে বিনিয়োগের বদলে সঞ্চয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছেন (India)। তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের ব্যয়ও কমে গিয়েছে। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চিনের সাধারণ মানুষ দামি ব্র্যান্ডের পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। এ ছাড়াও কর্মসংস্থান কমে যাওয়াকেও অর্থনীতির দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ইউ সং। তাঁর কথায়, “এআই যেমন চিনকে সুবিধা দিয়েছে, তেমনই এটি (China Economy) বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলেছে এবং শ্রমিকের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে (India)।”

     

  • Railway Land Encroachment: রেলের ১,০৬৮ হেক্টর জমি জবর-দখলে! আরটিআই-তে বেরল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    Railway Land Encroachment: রেলের ১,০৬৮ হেক্টর জমি জবর-দখলে! আরটিআই-তে বেরল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি সমস্যায় জর্জরিত ভারতীয় রেল। পশ্চিমবঙ্গে রেলের জমি (Rail Land Encroachment) পুনরুদ্ধার নিয়ে টানাপড়েন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতেই দেশজুড়ে রেলের বিপুল সম্পত্তি বেদখল হয়ে থাকার খতিয়ান সামনে এল। তথ্যের অধিকার আইনের (RTI) আওতায় রেল বোর্ডের দেওয়া সাম্প্রতিক এক জবাবে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাস (২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ) পর্যন্ত দেশজুড়ে রেলের প্রায় ১০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি বেআইনিভাবে দখল হয়ে রয়েছে (এক হেক্টর প্রায় আড়াই একরের সমান)। দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি সম্পদের মধ্যে ভারতীয় রেলের জমি অন্যতম। কিন্তু সেই জমির বড় অংশই বছরের পর বছর বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে দেশের জনগণের একাংশ। তার জেরে পরিষেবা সম্প্রসারণ ক্ষেত্রে ব্যাপক অসুবিধার মুখে পড়েছে এশিয়ার বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক।

    ৪২টি নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সমান

    সম্প্রতি তথ্যের অধিকার (RTI) আইনে পাওয়া রেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতীয় রেলের ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি অবৈধ ভাবে জবরদখলকারীদের হাতে রয়েছে। রেলওয়ের বেদখল হওয়া এই জমি প্রায় ৪২টি নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সমান। গুজরাটের মোতেরায় ‘নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম’ দর্শকাসনের দিক থেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম। প্রায় ২৫.৫ হেক্টর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই ক্রীড়াক্ষেত্র। রেলের বেদখল হয়ে থাকা এই জমিতে (Railway Land Encroachment) অনায়াসেই এমন ৪২টি আস্ত মোদি স্টেডিয়াম তৈরি করে ফেলা সম্ভব!

    কতগুলো ফুটবল মাঠের পরিমাণ জমি

    এছাড়াও ১,৪৯৬টি ফিফা-মানের ফুটবল মাঠ এঁটে যাবে এই জমিতে। রিপোর্টে উল্লেখ, শেষ পাঁচ বছরে রেলের জমি অবৈধ ভাবে দখলের প্রবণতা আরও বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে আগের থেকে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে জবরদখল। ফলে রেলের জমির সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    বিগত পাঁচ বছরে রেলের জমি দখলের ছবি—

    • ২০২০-২১ অর্থবর্ষ: রেলের ৮১০.৩১ হেক্টর জমি অন্যের দখলে ছিল।
    • ২০২১-২২ অর্থবর্ষ: সামান্য কমে বেদখল জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮২.৮১ হেক্টরে।
    • ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ: গ্রাফ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৮০০ হেক্টরের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।
    • ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ: মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দখলদারির হার বেনজিরভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রায় ২৬৮ হেক্টর জমি নতুন করে বেদখল হওয়ায় মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৭৮.৫৫ হেক্টরে।
    • ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ: গত মার্চ মাস পর্যন্ত জবরদখল হয়ে থাকা জমির পরিমাণ সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ১০৬৮.৫৪ হেক্টরে।

    রেলের মোট জমির পরিমাণ কত?

    সংসদে রেল মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত ভারতীয় রেলের মোট জমির (Railway Land Encroachment) পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর। তার মধ্যে ১,০৬৮ হেক্টর, অর্থাৎ মোট জমির মাত্র ০.২১ শতাংশ অবৈধ দখলের আওতায় রয়েছে। যদিও শতাংশের হিসেবে এই সংখ্যা কম, বাস্তবে জমির পরিমাণ অত্যন্ত বড়। ২০২১-২২ সালে জবরদখলের প্রবণতা সামান্য কমলেও, পরের দুই বছরে দখলের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। বিশেষ করে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এক বছরে প্রায় ২৬৮ হেক্টর জমি নতুন করে জবরদখল হয়ে যায়, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪-২৫ সালে বেদখলের প্রবণতা সামান্য হ্রাস পেলেও সামগ্রিক রিপোর্ট উদ্বেগজনক।

    মাত্র পাঁচ বছরের হিসেব

    প্রসঙ্গত, আরটিআই-তে আবেদনকারী গত ২৫ বছরের জমি দখলের তথ্য চেয়েছিলেন। কিন্তু রেল বোর্ড জানিয়েছে, তারা মাত্র পাঁচ বছরের তথ্য সংরক্ষণ করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। এ ছাড়াও, কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি রেল জমি দখল হয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্যও রেল বোর্ডের কাছে নির্দিষ্ট ভাবে নেই। বোর্ড জানিয়েছে, রাজ্য বা জ়োনভিত্তিক তথ্য সংশ্লিষ্ট জ়োনাল রেলের পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ, সারা দেশের জমি দখলের কোনও কেন্দ্রীয় ডেটাবেস বর্তমানে রেল বোর্ডের কাছে নেই।

    উদ্ধারের গুরুদায়িত্ব ও অন্তহীন চ্যালেঞ্জ

    জমি (Railway Land Encroachment) হারানোর এই দ্রুত হারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তা পুনরুদ্ধারের কাজ রেলের কাছে এখন মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। লোকালয় গড়ে ওঠা, আইনি জটিলতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণের কারণে বেদখল জমি উদ্ধার করা রীতিমতো দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ বছরে মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি উদ্ধার করতে পারার পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, হারিয়ে যাওয়া রেলভূমি ফিরে পাওয়ার লড়াই কতটা কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি। রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন রেললাইন, মালবাহী করিডর, স্টেশন পুনর্নির্মাণ এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য বিপুল জমির প্রয়োজন। সেই পরিস্থিতিতে রেলের নিজস্ব জমির উপর অবৈধ দখলদারি ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে, পুরোনো তথ্যের অভাব এবং রাজ্যভিত্তিক কেন্দ্রীয় রেকর্ড না থাকায় সমস্যার গভীরে ঢুকে প্রকৃত চিত্র মূল্যায়নকে কঠিন করে তুলছে।

  • Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত। একদা যে দলনেত্রীর এক ডাকে গোটা বাংলা কেঁপে উঠত, আজ তাঁরই পায়ের তলার মাটি ক্রমশ আলগা হচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগেই সেই ফাঁটল আরও চওড়া হল। এবার দল এবং সক্রিয় রাজনীতি- উভয় ক্ষেত্র থেকেই চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী তথা দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের চেয়ারম্যান মণীশ গুপ্ত। বৃহস্পতিবারই তিনি তাঁর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র (Manish Gupta Quits TMC) পাঠিয়ে দেবেন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত (Manish Gupta Quits TMC)?

    রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার নেপথ্যে ক্ষোভ এবং বয়স- উভয় কারণকেই দায়ী করেছেন প্রাক্তন এই আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ক্ষোভপ্রকাশ করে মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) বলেছেন, ‘‘তৃণমূলে আমাকে গত পাঁচ বছর ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। দল আমাকে সেভাবে ব্যবহার করেনি। একে আক্ষেপ বলবো না, তবে এই ধরনের অনেক কারণ তো রয়েছেই। একই সঙ্গে বয়সও একটা বড় বিষয়। ৮৫ বছর বয়স হল, আর রাজনীতি করব না বলে ঠিক করেছি।’’ তবে, তিনি এও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনও রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হতে চান না। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় জীবন কাটাতেই মনস্থির করেছেন মণীশ (Manish Gupta)।

    মণীশ গুপ্তের রাজনৈতিক সফর

    মণীশ গুপ্তের রাজনীতি ছাড়ার বিষযটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যখন মহাকরণ অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে যুব কংগ্রেসের আন্দোলন চলছিল এবং পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী মারা যান, তখন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ছিলেন এই মণীশ গুপ্তই। সেই সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলিচালনার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর, মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) নাটকীয়ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। দল তাঁকে বিধায়ক করার পাশাপাশি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর (বিদ্যুৎ দপ্তর) দায়িত্বও দেয়, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক মহলে কম চর্চা হয়নি। সেই ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগেই এবার তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি।

    বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা

    তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক দক্ষতার দরাজ প্রশংসাও করেছেন মণীশ গুপ্ত। তাঁর মতে, বাংলার উন্নয়নে বর্তমান সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর মতো দক্ষ প্রশাসক পেয়েছে বাংলা। তিনি যেভাবে কাজ করছেন, তাতে বাংলার উন্নয়ন কেউ আটকাতে পারবে না। একের পর এক নিয়ম অত্যন্ত দক্ষ হাতে সামলাচ্ছেন তিনি।’’

    সঙ্কটে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)?

    কিন্তু মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) একা নন, বিগত কয়েক বছরে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন যেভাবে ধিকিধিকি জ্বলেছে, তাতে একের পর এক শীর্ষ স্তরের নেতা মমতার (Mamata Banerjee) হাত ছেড়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। একে তো একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ, তার উপর দলের অন্দরে এই ভাঙনের হিড়িক। যে দল একদা একমুখী আবেগে চলত, তা আজ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের ঠিক মুখে যখন দলনেত্রী মমতার মঞ্চ থেকে নতুন বার্তা দেওয়ার কথা, ঠিক তখনই মণীশ গুপ্তের (Manish Gupta)  মতো প্রবীণ নেতার বিদায় দলটির বুনিয়াদকেই নাড়িয়ে দিল। প্রশ্ন একটাই- দলের এই রক্তক্ষরণ থামাতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নতুন কোনও রণকৌশল নেবেন? নাকি সময়ের নিয়মে এভাবেই খালি হতে থাকবে ঘাসফুল শিবির? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

  • Self Medication Side Effects: জ্বর-কাশিতে নিজের মতো ওষুধ খাচ্ছেন? হতে পারে কিডনি-লিভারের মারাত্মক ক্ষতি! বড় সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

    Self Medication Side Effects: জ্বর-কাশিতে নিজের মতো ওষুধ খাচ্ছেন? হতে পারে কিডনি-লিভারের মারাত্মক ক্ষতি! বড় সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জ্বর-কাশির মতো সাধারণ সমস্যা হোক কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার জেরে মাথা ধরা, যেকোনো সামান্য ভোগান্তিতে অনেকেই নিজেই নিজের চিকিৎসক হয়ে ওঠেন। কেউ হঠাৎ একখানা ব্যথা কমার ওষুধ খেয়ে নেন, আবার কেউ ইচ্ছে মতো দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে নেন। আর এগুলোই বড় জটিলতা তৈরি করে। আগামী দিনে সমস্যা তৈরি হয়। যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়া এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ভারতে অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে চলেছে।

    কোন ওষুধে বিপদ বাড়াতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধ ইচ্ছে মতো, যখন তখন খেলে শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অনেক সময়েই দ্রুত প্রতিক্রিয়া বোঝা যায় না। কিন্তু পরে শরীরের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। তাই যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। বিশেষত অ্যান্টিবায়োটিক, পেইন কিলার কিংবা অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ার আগে, উপযুক্ত পরামর্শ প্রয়োজন। কতদিন ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন, কতটা মাপের ওষুধ খেতে হবে, এগুলো একমাত্র বিশেষজ্ঞরা ঠিকমতো পরামর্শ দিতে পারে। তা না হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাবে।

    কোন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার ফলে শরীরে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই সামান্য মাথা ব্যথা, হাত-পায়ে ব্যথা হলে খুব শক্তিশালী পেইন কিলার বা ব্যথা কমানোর ওষুধ খাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই এই ওষুধ খাওয়া হয়। এর ফলে ডোজ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা থাকে না। রোগীর ব্যথা কমার জন্য কতখানি মাপের ব্যথা কমার ওষুধ প্রয়োজন, সেটা জানা জরুরি। নিয়মিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার ব্যথা কমার ওষুধ খেলে, কিডনিতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাছাড়া, স্নায়ুর উপরেও গভীর প্রভাব ফেলে। স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমে। তাই যথেচ্ছ পেইন কিলার খাওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনক।

    অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে ভারতে

    ভারতে মারাত্মক হারে বেড়েছে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা সাধারণ পেটের গোলমাল হলেও ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফল মারাত্মক। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। যেকোনো বড় অপারেশন কিংবা সংক্রামক রোগে চিকিৎসা করাই কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, রোগী যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শক্তি শরীরে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এর ফলে কোনো বড় অসুখ হলে, সংক্রমণ রুখতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। এর ফলে নিউমোনিয়া, লিভারের অসুখ কিংবা বড় কোনো অপারেশনের পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। সুস্থ হতে সময় লাগছে।

    অ্যালার্জির সমস্যা ভারতে বাড়ছে

    অ্যালার্জির সমস্যা ভারতে বাড়ছে। দূষণ ও নানান অভ্যাস পরিবর্তনের জেরে ভারতীয়দের মধ্যে নানান অ্যালার্জি দেখা দিচ্ছে। অনেকেই অ্যালার্জি কমাতে ইচ্ছেমতো অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ খাচ্ছেন। এর ফলে শরীরে অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। আদৌও অ্যান্টি অ্যালার্জির প্রয়োজন রয়েছে কিনা, উপসর্গগুলো অ্যালার্জির কিনা, সেটা ঠিকমতো যাচাই হচ্ছে না। তার আগেই ওষুধ খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি ওষুধে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এর ফলে শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হচ্ছে। যা পরবর্তীতে নানান রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

    কেন যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয়ের কাছেই এখন নানান তথ্য সংগ্রহ খুবই সহজ। কারণ, ইন্টারনেটের ব্যবহার সুলভ। এর ফলে অনেকেই কোনো শারীরিক সমস্যা হলে, ইন্টারনেটে উপসর্গ দেখেন।‌ সেখানে থাকা ওষুধের নাম দেখেই নিজের মতো সেগুলো খেয়ে নেন। কিন্তু এক উপসর্গে নানান রোগের হতে পারে। তথ্য কখনোই রোগ নির্ণয় করতে পারে না। বরং, রোগ সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে পারে। এই সচেতনতার অভাবের জেরেই ভারতে বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে পারে। যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমাবে। আবার অন্যান্য বড় অসুখে ভোগার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।

  • Koel Mallick: রথযাত্রার সকালে ধাক্কা তৃণমূলের! রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক

    Koel Mallick: রথযাত্রার সকালে ধাক্কা তৃণমূলের! রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক। রথের দিন (১৬ই জুলাই) বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন অভিনেত্রী কোয়েল অর্থাৎ রুক্মিনী মল্লিক (Koel Mallick)। তার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সম্প্রতি ভূপেন্দ্রের হাত ধরেই রাজ্যসভার তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। তাঁদের তিন জনকেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে বিজেপি। এ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কোয়েলের সাক্ষাতের পরেই জল্পনা, তবে কি তিনিও বিজেপি-তে যাচ্ছেন!

    ইস্তফাপত্র জমা দিলেন কোয়েল

    সূত্রের খবর, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণণের কাছে ইমেল করে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন কোয়েল। কিন্তু নিয়ম অনুসারে, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিতে হলে সাংসদকে সশরীরে হাজিরা দিতে হয়। সেই মতো বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের হাতে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দেন রুক্মিণী, যিনি কোয়েল নামেই সমধিক পরিচিত। তার পরেই তিনি দেখা করেন ভূপেন্দ্রের সঙ্গে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পরে এক বারও সংসদের কোনও অধিবেশনে যোগ দেওয়া হয়নি কোয়েলের। সোমবার থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সাংসদপদ পাওয়ার পরে সেটাই হতে পারত কোয়েলের প্রথম অধিবেশন। কিন্তু তার আগেই তিনি ইস্তফা দিলেন। তবে, মনে করা হচ্ছে বাদল অধিবেশনের আগেই তাঁকে বিজেপি থেকে ওই আসনে প্রার্থী করা হতে পারে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরেই কোয়েলের দূরত্ব বাড়ছিল। সূত্রের খবর, অভিনেত্রী বিদেশে থাকায় ইস্তফা দিতে কিছুটা সময় লেগেছে, তবে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। কোয়েল মল্লিকের এই দলবদলকে তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন অনেকে। মল্লিক পরিবারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং টলিউডের ওপর কোয়েলের প্রভাব বিজেপির পালে বাড়তি হাওয়া দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, বর্তমানে টলিউডের সঙ্গে দুর্নীতির নানা অভিযোগ জড়িয়ে পড়ার আবহে কোয়েলের মতো একজন হেভিওয়েট তারকার বিজেপিতে যোগদান পদ্মশিবিরের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

    গুঞ্জনই সত্যি হল

    রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। তার কয়েক দিন আগে তদানীন্তন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান নিয়ে মল্লিকবাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে এপ্রিল মাসে দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদপদে শপথ নিতে যান কোয়েল। সঙ্গে ছিল তাঁর গোটা পরিবার। শপথের পরে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা— এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি যে, আমার নাম মনোনীত হয়েছে এবং আমি এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় আসতে পেরেছি।” রাজ্যে পালা বদলের পর গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে গুঞ্জন ছিল, তৃণমূলের আরও এক তারকা সাংসদের সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের দূরত্ব বাড়ছে। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, সেই তিনি হলেন প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।

    রইল বাকি ৯

    গত ৬ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। তিন মাসেই পদত্যাগ! যদিও ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের রাজনৈতিক বৃত্তের ছবিটাই রাতারাতি বদলাতে শুরু করে। লোকসভার সিংহভাগ সাংসদই তৃণমূল ছেড়েছেন। এখন রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে রইলেন বাবুল সুপ্রিয়, মেনকা গুরুস্বামী, রাজীব কুমার, নাদিমুল হক, মমতাবালা ঠাকুর, সাগরিকা ঘোষ, ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম।

    ভূপেন্দ্রর প্রচ্ছন্ন ভূমিকা

    গত ৯ জুলাই বিজেপি-তে যোগ দেন সুখেন্দু, সুস্মিতা, প্রকাশ। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন জনকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী করে বিজেপি। উল্লেখ্য, সুস্মিতা, প্রকাশ চিক এবং সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগের কারণে রাজ্যসভার তিনটি আসন খালি হয়। তাঁদেরই আবার ওই আসনে প্রার্থী করে পাঠায় বিজেপি। অর্থাৎ, প্রার্থীরা একই, কেবল দল বদলে যায়। ভোট হয়নি। শুক্রবার ওই তিন জনের হাতে রাজ্যসভার সাংসদপদের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। অনুমান করা হচ্ছে, কোয়েলও সেই পথেই হাঁটবেন। এর আগে ভূপেন্দ্রের হাত ধরেই তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন। জুন মাসে ভূপেন্দ্রের দিল্লির বাড়িতেই দফায় দফায় বৈঠক করে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। নেতৃত্বে ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তার পরেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানান, তাঁদের ব্লক এনসিপিআই-এ মিশে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, বিদ্রোহীদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের নেপথ্যে অন্যতম ভূমিকা ছিল ভূপেন্দ্রের।

  • ED Raid Fake Document Hub: এনজিও-র আড়ালে মানবপাচার! নিশানায় রাজ্যের ‘নথি হাব’, বাংলাসহ দেশের ১৩ জায়গায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি

    ED Raid Fake Document Hub: এনজিও-র আড়ালে মানবপাচার! নিশানায় রাজ্যের ‘নথি হাব’, বাংলাসহ দেশের ১৩ জায়গায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (NGO) আড়ালে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের (Human trafficking) জাল! আর এই ভয়ঙ্কর কারবারের মূল ভরকেন্দ্র বা ‘করিডোর’ হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ! এমনকী সীমান্ত টপকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ভুয়ো ভারতীয় নাগরিক বানিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাচারের অভিযোগ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে এবার বিস্ফোরক তথ্য। এক মেগা সিন্ডিকেটের হদিস পেয়ে এবার পুরোদমে অ্যাকশন মোডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এই চক্রের শিকড় এবং কোটি কোটি টাকার গুপ্ত অর্থভান্ডারের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের মোট ১৩টি জায়গায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি (ED Raid Fake Document Hub) কেন্দ্রীয় সংস্থার।

    কোথায় কোথায় তল্লাশি?

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকায় জোরদার অভিযানে নামেন ইডি আধিকারিকেরা (ED Raid Fake Document Hub)। সাতসকালে কেন্দ্রীয় এজেন্সির (ED) এই আচমকা হানা ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সৃষ্টি হয় তীব্র চাঞ্চল্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকা ঘিরে রাখে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। তবে এই অভিযান শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে দিল্লি, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন ডেরাতেও তল্লাশি (ED Raid Fake Document Hub) চালান তদন্তকারী গোয়েন্দারা।

    রাজ্যের ‘জাল নথি হাব’, দেশজুড়ে মানবপাচার!

    ইডি সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের মূল নিশানায় পশ্চিমবঙ্গের একটি সংগঠিত ও শক্তিশালী জাল নথির নেটওয়ার্ক। অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকা রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিন রাজ্যে পাচার (Human trafficking) করার আগে এদেশীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করাই এই চক্রের কাজ। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেয়। এই চক্রের মাধ্যমে বেআইনিভাবে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র যেমন-ভোটার কার্ড বা এপিক, প্যান কার্ড, এবং ই-শ্রম কার্ড তৈরি করা হয়। এই সমস্ত জাল পরিচয়পত্র হাতে পাওয়ার পর, দালালের হাত ধরে অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে কর্ণাটক, পঞ্জাব, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশের মতো শিল্প ও কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোতে শ্রমিক হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

    উত্তরপ্রদেশ STF-এর তদন্তে ফাঁস আন্তর্জাতিক যোগসূত্র

    এই দেশজোড়া পাচারচক্রের আন্তর্জাতিক যোগসূত্রটি প্রথম সামনে আসে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (STF) ও অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের (ATS) একটি মামলার তদন্তে। বেশ কয়েক মাস আগে উত্তরপ্রদেশ এটিএস মানবপাচার (Human trafficking) নিয়ে একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই খাস কলকাতায় বসে থাকা এই চক্রের এক মূল পান্ডার সন্ধান পান গোয়েন্দারা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্ত ও আদালতে পেশ করা তথ্যে স্পষ্ট হয় যে, কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা এবং সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল কাগজ বানানোর বড় কারখানা সক্রিয় রয়েছে। ভিন রাজ্যে সস্তা শ্রমিক সরবরাহের আড়ালে এই দালাল চক্রটি কার্যত রমরমিয়ে দেশজুড়ে মানবপাচার ও জাল নথির কারবার চালাচ্ছে।

    এনজিও-র আড়ালে ‘ভাড়ার অ্যাকাউন্ট’!

    ইডির প্রাথমিক তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, এই মানবপাচার ও জাল নথি তৈরির চক্রের (Fake Document Hub) আড়ালে ঢাল হিসেবে কাজ করছে রাজ্যের একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও (NGO)। এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির আড়ালেই কোটি কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। তদন্তকারীদের এড়াতে এবং মূল মাথাদের আড়াল করতে চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ‘ভাড়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট’ (Rented Accounts) ব্যবহার করে। সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের থেকে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে তাতে ছোট ছোট অঙ্কের টাকা লেনদেন করা হয়, যাতে তা ব্যাঙ্কের নজরদারিতে বা সন্দেহের তালিকায় না আসে। তবে ছোট ছোট অঙ্কের লেনদেন হলেও, সমস্ত অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে মোট লেনদেনের অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    পুরনো তদন্তের সূত্র-বর্তমান পরিস্থিতি

    উল্লেখ্য, এর আগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও (NIA) বাংলাদেশ থেকে নারী ও নাবালিকা পাচারের তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সেবারও তদন্তে একটি সংগঠিত জাল নথি তৈরির চক্রের অস্তিত্ব এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনা সামনে এসেছিল। আর বৃহস্পতিবারের এই দেশজোড়া ইডি হানার পর স্পষ্ট যে, এই সিন্ডিকেটের শিকড় দেশের অনেক গভীরে।এর সঙ্গে একটি বহু কোটি টাকার অবৈধ মানবপাচার ব্যবসাও চলছে। তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত হওয়া নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূল পান্ডাদের খাঁচায় পুরতে মরিয়া কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

  • Modi- Shah Meet: মোদি-শাহ বৈঠকে বিজেপির বড় রদবদলের ইঙ্গিত, শীঘ্রই ঘোষণা হতে পারে নতুন সাংগঠনিক টিম

    Modi- Shah Meet: মোদি-শাহ বৈঠকে বিজেপির বড় রদবদলের ইঙ্গিত, শীঘ্রই ঘোষণা হতে পারে নতুন সাংগঠনিক টিম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে বড় রদবদলের জল্পনা আরও জোরালো হল। বুধবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, (Modi- Shah Meet) বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ এবং দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই দলের নতুন সাংগঠনিক টিম এবং সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু আগামী ২০ জুলাই থেকে। শোনা যাচ্ছে, তার আগেই মন্ত্রিসভায় রদবদল চূড়ান্ত করে ফেলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্তত ৭-৮ জন সাংসদ নতুন করে মন্ত্রী হতে পারেন।

    গভীর রাতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

    দলীয় সূত্রের দাবি, নিতিন নবীন সভাপতি হওয়ার পর ৬-৭ মাস কাটতে চলল। এখনও তাঁর নিজস্ব নতুন টিম তৈরি হয়নি। শোনা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল একসঙ্গে হবে। বিজেপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় নতুন পদাধিকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে এই বৈঠক হয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, চলতি সপ্তাহেই নীতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় টিম ঘোষণা করা হতে পারে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিজেপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা চলছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত ছিল। এবার সেই প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, নতুন সাংগঠনিক টিমে যেমন অভিজ্ঞ নেতাদের রাখা হবে, তেমনই একাধিক নতুন মুখকেও সুযোগ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে নতুন নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    মন্ত্রিসভায় রদবদল

    রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন যে সাংগঠনিক রদবদলের পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল হতে পারে। সম্প্রতি কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীকে বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ায় কিছু পদ কার্যত শূন্য হয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণে নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে খবর। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবার মহিলা, যুব নেতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিজেপি নেতৃত্বের লক্ষ্য, ২০ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলা সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রদবদলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। কারণ, ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • IRCTC New Website: রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! খুলল আইআরসিটিসি-র নতুন ওয়েবসাইট, টিকিট বুকিং হবে রকেটের গতিতে

    IRCTC New Website: রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! খুলল আইআরসিটিসি-র নতুন ওয়েবসাইট, টিকিট বুকিং হবে রকেটের গতিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলে যেতে চলেছে প্রতিদিন ট্রেনে যাতায়াত করা কোটি কোটি যাত্রীদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা। এবার সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক ওয়েবসাইট (IRCTC New Website) চালু করল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)। সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং আকর্ষণীয় ইউজার ইন্টারফেস (UI), সাধারণ মানুষের ট্রেনের টিকিট কাটার ঝক্কি কমাতে বড় উদ্যোগ IRCTC-র।

    নতুন ওয়েবসাইটে কী কী সুবিধা?

    • রকেটের গতিতে তৎকাল বুকিং: নতুন ওয়েবসাইটের (IRCTC New Website) সার্ভার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ফলে তৎকাল টিকিট কাটার সময়ে অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে সাইট হ্যাং হওয়া বা স্লো হয়ে যাওয়ার সমস্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাবে।
    • এক ক্লিকেই পেমেন্ট (One-Click Checkout): পেমেন্ট গেটওয়েটিকে আরও উন্নত করা হয়েছে। এখন যাত্রীরা তাঁদের কার্ডের তথ্য সুরক্ষিতভাবে সেভ করে রাখতে পারবেন বা ইউপিআই (UPI) লিঙ্ক করতে পারবেন। যার ফলে মাত্র এক ক্লিকেই পেমেন্ট সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
    • সহজ ও আধুনিক ডিজাইন: পুরনো হিজিবিজি ডিজাইন বদলে সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও আধুনিক লুক দেওয়া হয়েছে ওয়েবসাইটটিকে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল- সব কিছুতেই এটি সমানভাবে ও সহজে কাজ করবে।
    • এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়া: এতে একটি নতুন সার্চ টুল যুক্ত করা হয়েছে যা যাত্রীদের ভ্রমণের ইতিহাস দেখে নিজে থেকেই স্টেশনের নাম সাজেস্ট করবে। এছাড়া ওয়েটিং লিস্টের টিকিট কনফার্ম হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তাও আগে থেকে অনুমান করে জানাবে।
    • রিফান্ডের লাইভ ট্র্যাকিং: টিকিট বাতিল করলে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া ট্র্যাক করার জন্য একটি আলাদা ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হয়েছে। টাকা কতদূর প্রসেস হলো, তা যাত্রীরা লাইভ দেখতে পাবেন।

    দালাল চক্র রুখতে কড়া নিরাপত্তা

    কেবল গতি বাড়ানোই নয়, নতুন ওয়েবসাইটে (IRCTC New Website) সাইবার নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। উন্নত ‘বট-ডিটেকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে সফটওয়্যার বা রোবট ব্যবহার করে কালোবাজারি কঠিন হবে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীরা ন্যায্যভাবে টিকিট বুকিং করার সুযোগ পাবেন।

    পড়ুয়াদের বিশেষ ভূমিকা

    সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো, এই নতুন ও আধুনিক ডিজাইনের ওয়েবসাইট তৈরির পিছনে দেশের তরুণ পড়ুয়াদের এক বড় ভূমিকা রয়েছে। IRCTC-এর এই নতুন ওয়েবসাইট তৈরির প্রজেক্টে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হয়েছিল। তাঁদেরই আধুনিক চিন্তাভাবনা ও পরামর্শ মেনে ওয়েবসাইটের নতুন রঙের থিম (Color Theme) এবং ইউজার ইন্টারফেস (UI) আকর্ষণীয় ও সহজ করে তোলা সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    বিটা ভার্সন: আরও উন্নতির আশ্বাস

    আইআরসিটিসি (IRCTC) কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে বেসরকারি ই-কমার্স সাইটের মতোই আধুনিক ও বিশ্বস্ত করে তোলাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এই ওয়েবসাইটের ‘বিটা ভার্সন’ (Beta Version) চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়ারা এটি ব্যবহার করে যে ফিডব্যাক বা মতামত দেবেন, তার উপর ভিত্তি করেই এটিকে আরও নিখুঁত ও উন্নত করা হবে। ব্যবহারকারীদের সেইসব অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই খুব শীঘ্রই সাইটটির চূড়ান্ত বা ফাইনাল সংস্করণটি (Final Version) প্রকাশ করা হবে, যা গ্রাহকদের আরও উন্নতমানের রেল পরিষেবা দেবে। নতুন এই ওয়েবসাইটটি ইতিমধ্যেই লাইভ করে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এখন থেকেই এটি ব্যবহার করতে পারছেন।

  • ISKCON Rath Yatra: কণ্ঠে গৌড়ীয় সঙ্গীত, হাতে সোনার ঝাড়ু! ইসকনের রথযাত্রায় অন্য মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী

    ISKCON Rath Yatra: কণ্ঠে গৌড়ীয় সঙ্গীত, হাতে সোনার ঝাড়ু! ইসকনের রথযাত্রায় অন্য মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথা ও ভক্তির মেলবন্ধনে সাড়ম্বরে পালিত হল কলকাতার ইসকনের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা (ISKCON Rath Yatra)। বৃহস্পতিবার ১২টা নাগাদ ইসকন মন্দিরে গিয়ে রথযাত্রার শুভ সূচনা করেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রথা মেনে সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে জগন্নাথদেবের সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণামও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সবমিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ দিন ইসকন মন্দির চত্বরে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    ঈশ্বর বন্দনা ও হেরিটেজ ঘোষণার আর্জি

    ইসকন (ISKCON) মন্দিরে পৌঁছেই প্রথমে জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে নতমস্তকে প্রণাম করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো দিয়ে আরতিও করেন তিনি। এরপর সোজা চলে যান শ্রীল প্রভুপাদের কক্ষে। সেখানে সাষ্টাঙ্গে প্রণামের পর পুরো কক্ষটি ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘শ্রীল প্রভুপাদের এই কক্ষটিকে যাতে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন জানাবে রাজ্য সরকার।’’ শুভেন্দু মনে করেন, রাষ্ট্রবাদী ও সনাতনী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় তাঁর ইসকনের রথযাত্রায় শামিল হতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের উন্নয়নও যেমন হবে, পাশাপাশি সংস্কৃতিকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’’

    মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে গৌড়ীয় সঙ্গীত

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটিই শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম রথযাত্রা (Rath Yatra)। সনাতনী ও রাষ্ট্রবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হিসেবে এই রথযাত্রায় শামিল হতে পারা পরম সৌভাগ্যের, বললেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগ্রহে মাল্যদানের পর তিনি বলেন, ‘‘আজ ভক্তদের দিন।’’ উপস্থিত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের অনুরোধে এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে দু’কলি গৌড়ীয় সঙ্গীতও গেয়ে শোনান তিনি। এরপরই প্রথা ও রীতি মেনে সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করার প্রতীকী আচার পালন করেন এবং রথের রশিতে টান দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    ৬০ রথযাত্রা কমিটিকে আর্থিক অনুদান

    প্রসঙ্গত রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে আগেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যের মোট ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়। মোট বরাদ্দ অনুদান ৩ কোটি টাকা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন রথযাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ করতেই রাজ্যের এই উদ্যোগ।

    ইসকনের মিড-ডে মিলের প্রশংসা

    অনুষ্ঠানে ইসকনের (ISKCON) সমাজসেবামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে মিড-ডে মিলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যে মিড-ডে মিল কিচেন তৈরি হচ্ছে। ইসকনের এই কাজ নতুন নয়। ২২টি বড় বড় শহরে স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছে ইসকন। এই মিড-ডে মিল অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন।’’ একইসঙ্গে, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যে মিড-ডে মিল নিয়ে ঘটে যাওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কড়া ভাষায় সরব হন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা

    এ দিন সকালে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মহাপ্রভুর কাছে দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘রথযাত্রা উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। এই উৎসব ভারতের আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। রথযাত্রার সঙ্গে জড়িত রীতিনীতি ভারত তথা বিশ্বজুড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে।’’ সব মিলিয়ে, ভক্তি, সংস্কৃতি এবং সরকারি সহযোগিতার মেলবন্ধনে কলকাতার ইসকনের রথযাত্রা এ বছর এক নতুন মাত্রা পেল।

LinkedIn
Share