Blog

  • Rath Yatra 2026: ‘‘প্রভু অহঙ্কার সয় না, তাই উল্টে গেল মমতার সরকার’’! দিঘা মন্দির নিয়ে পুরীর প্রধান সেবায়েতের বিস্ফোরক মন্তব্য

    Rath Yatra 2026: ‘‘প্রভু অহঙ্কার সয় না, তাই উল্টে গেল মমতার সরকার’’! দিঘা মন্দির নিয়ে পুরীর প্রধান সেবায়েতের বিস্ফোরক মন্তব্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না কি কথাই শোনেননি! দিঘার পাথরের মূর্তিতে ঘটা করে ‘ধাম’ লিখেছিলেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কোনও শাস্ত্রীয় পরামর্শ শোনেননি! মহাপ্রভু কারও দম্ভ বা অহঙ্কার সহ্য করেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেদ আর অহঙ্কারের জন্যই বাংলায় সরকার টিকে থাকতে পারেনি। একদিকে রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) পুণ্য উৎসবে যখন পুরীধাম ভক্তদের ভিড়ে গমগম করছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পুরীর জগন্নাথদেবের প্রধান পানিগ্রাহী (সেবায়েত) জগন্নাথ দয়িতাপতি।

    কেন ক্ষুব্ধ সেবায়েত?

    জগন্নাথ দয়িতাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘তিনি কোনও দলীয় রাজনীতি করেন না। কেবল শাস্ত্রীয় ও আইনি সত্যটাই তুলে ধরছেন।’’ তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কোনও পরামর্শ বা শাস্ত্রীয় বিধান মানেননি।  জগন্নাথ ধাম বলতে আদি পুরী ধামকেই বোঝায়। কিন্তু দিঘার নবনির্মিত মন্দিরকে ‘ধাম’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, যা শাস্ত্রসম্মত নয়। মন্দিরে দারুব্রহ্ম বা কাঠের মূর্তির পরিবর্তে পাথরের মূর্তি তৈরি করা নিয়েও তাঁর ঘোর আপত্তি ছিল। জগন্নাথ দয়িতাপতি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আমার কথা শুনলেন না। আমার শিষ্য শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এসে সেই ভুল শুধরে দিয়েছেন, সে ধাম লেখাটি বাদ দিয়েছে। ভুল কাজের জন্যই শেষ পর্যন্ত সরকার উল্টে গেল।’’

    বৃষ্টির মাঝেই পুরীতে রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) মহাসমারোহ

    রাজনৈতিক বিতর্কের আবহেও পুরীতে রথযাত্রার আনন্দ ও ভক্তিতে কিন্তু কোনও খামতি নেই। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা সৈকত শহরে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রথের রশি ছুঁতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তের ঢল নেমেছে। এ বছরও শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য মেনে বিশেষ কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি মূল রথ- জগন্নাথদেবের ‘নন্দীঘোষ’, বলভদ্রের ‘তালধ্বজ’ এবং সুভদ্রার ‘দর্পদলন’। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) এই যাত্রাপথের একটি গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে।

    • বলরামের রথ (তালধ্বজ): বলরাম হলেন গুরুর প্রতীক, যিনি ভক্তকে সঠিক পথ দেখান।
    • সুভদ্রার রথ (দর্পদলন): সুভদ্রা হলেন ভক্তির প্রতীক।
    • জগন্নাথের রথ (নন্দীঘোষ): জগন্নাথ স্বয়ং ঈশ্বরের প্রতীক। অর্থাৎ, গুরুর হাত ধরে ভক্তির পথ পেরিয়েই ভক্ত ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারেন।

    বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলার প্রতি নিজের গভীর অনুরাগের কথাও জানিয়েছেন প্রধান সেবায়েত। তিনি বলেন, ‘‘চৈতন্য মহাপ্রভুর পুণ্যভূমি বাংলাকে হৃদয় থেকে ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি। বাংলার প্রতিটি মানুষের উপর মহাপ্রভুর আশীর্বাদ বজায় থাকুক।’’ উল্লেখ্য, প্রতিবারের মতো এবারও রথযাত্রা (Rath Yatra 2026) উপলক্ষে পুরীর সমুদ্র সৈকতে বালি দিয়ে মহাপ্রভুর এক নয়নাভিরাম প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন পদ্মশ্রী জয়ী বিশ্ববিখ্যাত বালুশিল্পী সুদর্শন পট্টনায়ক।

  • COVID-19 India: অন্ধ্রে মৃত ৩, ভারতে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! আতঙ্ক নয়, সচেতনতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    COVID-19 India: অন্ধ্রে মৃত ৩, ভারতে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! আতঙ্ক নয়, সচেতনতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ভারতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা (COVID-19 India)। কয়েক বছর কেটে গেলেও করোনা ভাইরাস যে আমাদের চারপাশ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়নি, তার প্রমাণ মিলল অন্ধ্রপ্রদেশে (Andhra Pradesh)। বাড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ইতিমধ্যেই করোনা (COVID-19 India) আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সরকারের। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতা অবলম্বন প্রতিবেশী রাজ্য তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বড় কোনও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার বার্তা দিয়েছেন তাঁরা।

    রূপ বদলাচ্ছে করোনা ভাইরাস (COVID-19 India)

    মুম্বইয়ের পালমোনোলজিস্ট ড. আভা মাশুর জানান, “SARS-CoV-2 ভাইরাসটি আসলে কখনও পুরোপুরি মিলিয়ে যায় না। এটি নতুন নতুন রূপ নিয়ে বারবার ফিরে আসে। ভাইরাসের এই মিউটেশন বা রূপ পরিবর্তন অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।” বর্তমানে ভারতে ওমিক্রনের দুটি উপ-ভেরিয়েন্ট মূলত সক্রিয় রয়েছে-

    • জেএন.১ ভেরিয়েন্ট: এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। তবে এর কারণে আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হচ্ছে না।
    • বিএ.৩.২ ভেরিয়েন্ট: ভাইরাসের এই রূপটিতে অনেক বেশি মিউটেশন দেখা গেলেও, এটিও গুরুতর কোনও রোগের কারণ হচ্ছে না। তাই এটি নিয়ে অযথা ভয়ের কিছু নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

    উপসর্গ-

    বর্তমানে এই ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে মূলত হালকা ঠান্ডা-কাশি বা গলার সমস্যার মতো মৃদু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ছে না।

    কারা বেশি ঝুঁকিতে?

    যদিও বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ মৃদু রূপ নিচ্ছে, তাও চিকিৎসকেরা কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বয়স্ক ব্যক্তিরা, গর্ভবতী নারীরা, ক্রনিক হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা, সিওপিডি (COPD) বা ফুসফুসের জটিল রোগে (ILD) আক্রান্ত রোগী, কিডনি বা লিভারের ক্রনিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (Immunocompromised) তাঁদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

    কী করণীয়?

    গুরুগ্রামের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. নেহা রাস্তোগি এবং ড. আভা মাশুর সংক্রমণ রুখতে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। “বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যারা সংক্রামিত হচ্ছেন, তারা যেন জনসমক্ষে না গিয়ে নিজেদের আলাদা রাখেন। করোনার ভ্যাকসিন বা বুস্টার ডোজ নেওয়া না থাকলে তা দ্রুত নিন। ভিড় বা আবদ্ধ জায়গায় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। নিয়মিত হাত পরিষ্কার করা এবং সঠিক স্যানিটাইজেশন বজায় রাখা। ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচলের (Ventilation) ভালো ব্যবস্থা রাখা। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে করোনা পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া”।

  • India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের (UN Security Council Reform) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও বিস্তৃত সংস্কারের দাবি ফের জোরালোভাবে তুলল ভারত (India)। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, সাধারণ পরিষদকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ভারত বলেছে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    গোলটেবিল বৈঠকে সোচ্চার ভারত (India)

    স্থানীয় সময় ১৪ জুলাই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি। তিনি বলেন, “ভারতের কাছে ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অর্থ হল, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম করা। সেই কারণেই নিরাপত্তা পরিষদের সর্বাত্মক সংস্কার, সাধারণ পরিষদের পুনরুজ্জীবন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত— টেকসই উন্নয়নের এই তিনটি ক্ষেত্রেই তাদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।”

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে

    রাষ্ট্রসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা সংঘাত থামাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার যে মূল লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে (India)।” নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকেই এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন হরিশ। তিনি বলেন, “আশি বছর আগের বাস্তবতা মাথায় রেখে তৈরি করা কাঠামো বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আর যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রসংঘ এখনও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি। আন্তঃসরকারি আলোচনার কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রস্তুত বক্তব্যই দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ৩৯ থেকে ৪১ নম্বর পদক্ষেপও মূলত কাগজেই রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।”

    আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

    তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় আন্তঃসরকারি আলোচনার বিষয়ে যে সুপারিশগুলি রয়েছে, সেগুলি ওই আলোচনার সহ-সভাপতিরা তৈরি করেছিলেন, পরিকল্পনার সহ-সমন্বয়কারীরা নন। ওই অংশ নিয়ে ভারতের গুরুতর আপত্তি থাকলেও, গঠনমূলক মনোভাব থেকেই ভারত এই কর্মপরিকল্পনা সমর্থন করেছে (UN Security Council Reform)।” আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। বলেন, “টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে গেলে পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী এবং নিশ্চিত অর্থায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম এবং উন্নয়নমুখী হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মূল দায়িত্বও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।” বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার সংস্কারে ভারতের অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর সংস্কারের লক্ষ্যে সব আন্তরিক উদ্যোগকে ভারত (India) সমর্থন করে যাবে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্ষম ও কার্যকর করে তোলাই আমাদের যৌথ লক্ষ্য হওয়া উচিত (UN Security Council Reform)।”

     

  • FIFA World Cup: খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি! ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ ব্যানার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের হাতে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিতর্কে মেসিরা

    FIFA World Cup: খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি! ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ ব্যানার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের হাতে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিতর্কে মেসিরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই ম্যাচ শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না। এই ম্যাচ ছিল একে অপরকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার লড়াই। ৬০ বছর আগে যা শুরু হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে বাজিমাত করল আর্জেন্টিনা। দিয়েগো মারাদোনা যা করেছিলেন তা-ই করলেন লিয়োনেল মেসি। খানিকটা অন্য ভাবে। মারাদোনা জোড়া গোল করেছিলেন। মেসি জোড়া অ্যাসিস্ট করলেন। আর তাতেই ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। মাঠের উত্তাপ ছড়াল মাঠের বাইরেও। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের পর স্টেডিয়াম ও স্টেডিয়ামের বাইরে মারামারি হয়েছে দু’দলের সমর্থকদের। বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    উত্তেজনা, হাতাহাতি মাঠ ও মাঠের বাইরে

    খেলার মাঝেই উত্তপ্ত হচ্ছিল গ্যালারির পরিস্থিতি। কথা কাটাকাটি চলছিল। শেষ দিকে জোড়া গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা জেতার পর সে দেশের সমর্থকেরা উল্লাস শুরু করেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের তরফে কটূ কথা ভেসে আসে। বিবাদ আরও বাড়ে। তার পরেই শুরু হয় মারামারি। একই পরিস্থিতি স্টেডিয়ামের বাইরেও হয়। নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা পুলিশকর্মীরা প্রথমে বিবাদ থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করলেন পদক্ষেপ করেন তাঁরা। দু’দলের বহু সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু আটলান্টা নয়, নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সির মতো আমেরিকার বেশ কিছু শহরে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এমনকি, বিশ্বকাপের কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামেও হাতাহাতি হয়েছে দু’দলের সমর্থকদের।

    মেসির সতীর্থকে চড় বেলিংহ্যামের

    উত্তেজনা চরমে উঠেছে মাঠের ভিতরেও। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও হেরেছে ইংল্যান্ড। সাত মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এগিয়ে গিয়েও এই হার মানতে পারেননি জুড বেলিংহ্যাম। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার বেঞ্চে থাকা ভ্যালেন্টিন বার্কোকে চড় মারেন তিনি। খেলা শেষে উল্লাস করছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। সেখানে ছিলেন ভ্যালেন্টিন বার্কোও। কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন বেলিংহ্যাম। ঠিক তখনই বেলিংহ্যাম পিছন থেকে এসে বার্কোর ঘাড়ের কাছে চড় মারেন। এই ঘটনা ভাল ভাবে নেননি আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। শুরু হয় বিবাদ। যদিও রেফারি বেলিংহ্যামকে কার্ড দেখাননি। খেলা শেষে আবার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় ইংল্যান্ডের মর্গ্যান রজার্সের। আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা রজার্সের সামনে উল্লাস করছিলেন। সেটা পছন্দ হয়নি তাঁর। তিনি গিয়ে লাউতারোকে ধাক্কা মারেন। তার পর শুরু হয় ঝামেলা।

    মেসির সঙ্গেও বিবাদ বেলিংহ্যামের

    প্রথমার্ধেই অবশ্য লিয়োনেল মেসির সঙ্গে বিবাদ হয় বেলিংহ্যামের। একটি বলের দখল নিতে গিয়ে দুই তারকা পড়ে যান। মেসির মনে হয়েছিল, বেলিংহ্যাম তাঁকে ফাউল করেছেন। তিনি রেফারিকে বলেন। ঠিক তখনই বেলিংহ্যাম তাঁকে পাল্টা কিছু বলেন। মেসিও জবাব দেন। দুই তারকা একে অপরের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। রেফারি তাঁদের সরিয়ে দেন। মেসির মুখ দেখে মনে হচ্ছিল, বেলিংহ্যামের কথায় অবাক হয়েছেন তিনি। অবশ্য সৌহার্দ্যের ছবিও দেখা গিয়েছে মাঠে। খেলা শেষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন মেসি ও হ্যারি কেন। দুই তারকা একে অপরের সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথাও বলেন।

    ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি

    গত ৬০ বছর ধরে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই অন্য রকমের উত্তাপ। ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর তা আরও বেড়েছে। এই ম্যাচেও ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি উস্কে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। ফলে লড়াই শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তা ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের বাইরেও। আর্জেন্টিনা থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের মধ্যে থাকা দ্বীপ ফকল্যান্ড। এই দ্বীপের দখল নেওয়া ঘিরে বার বার বিবাদে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৮২ সালের ২ জুলাই ইংল্যান্ডের অধিকারে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপ আক্রমণ করে আর্জেন্টিনা। ৭৪ দিন ধরে চলেছিল সেই যুদ্ধ। শেষে আত্মসমর্পণ করে আর্জেন্টিনা। সেই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ ও ইংল্যান্ডের ২৫৫ সেনা প্রাণ হারান। নিহত হয়েছিলেন ফকল্যান্ড দ্বীপের তিন বাসিন্দা।

    ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই

    এদিনও খেলার শেষে ফুটবলারদের হাতে ছিল ব্যানার। সেই একই ব্যানার ছিল সমর্থকদের হাতেও। খেলা শেষে বিশেষ ব্যানার নিয়ে উল্লাসে মাতলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেমিফাইনাল চলাকালীন আর্জেন্টিনার ফুটবলার জিয়োভানি লো সেলসোর হাতে একটি ব্যানার দেখা যায়। তাতে লেখা, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ স্প্যানিশে এই কথার বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপকে মালভিনাস বলে ডাকেন আর্জেন্টিনার বাসিন্দারা। অর্থাৎ, ম্যাচের মধ্যে তাঁরা স্লোগান তোলেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই। খেলা শেষে নিকোলাস ওটামেন্ডি ও লো সেলসো সেই ব্যানার তুলে ধরেন। আর্জেন্টিনার বাকি ফুটবলারেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতেও ছিল একই ব্যানার। অর্থাৎ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি আরও এক বার উস্কে দিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেই ব্যানার হাতেই উল্লাস করলেন তাঁরা। রাজনৈতিক স্লোগান লেখা ব্যানার দেখিয়ে আর্জেন্টিনা নিয়ম ভেঙেছে কি না, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিফা সরকারী ভাবে কিছু বলেনি। তবে খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁর সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে।

  • Shri Amarnath Yatra: মাত্র ১২ দিনেই ৩ লাখ তীর্থযাত্রীর নজির, নয়া রেকর্ড অমরনাথ যাত্রায়

    Shri Amarnath Yatra: মাত্র ১২ দিনেই ৩ লাখ তীর্থযাত্রীর নজির, নয়া রেকর্ড অমরনাথ যাত্রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের শ্রী অমরনাথ যাত্রায় (Shri Amarnath Yatra) তৈরি হল নয়া ইতিহাস। যাত্রা শুরুর মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই পবিত্র গুহা মন্দির দর্শন করেছেন ৩ লাখেরও বেশি তীর্থযাত্রী (Pilgrims)। মঙ্গলবার এই সংখ্যা পার হয়েছে ৩ লাখের গণ্ডি। ২৮ অগাস্ট শ্রাবণী পূর্ণিমা তথা রাখিবন্ধনের দিন শেষ হবে ৫৭ দিনের এই তীর্থযাত্রা। প্রশাসনের আশা, যাত্রা শেষ হওয়ার আগেই এ বছর তীর্থযাত্রীর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

    উপরাজ্যপালের বার্তা (Shri Amarnath Yatra)

    জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এই সাফল্যের জন্য প্রশাসনের আধিকারিক, বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, “শ্রী অমরনাথ যাত্রা মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই ৩ লাখ তীর্থযাত্রীর মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই পবিত্র যাত্রাকে প্রতিটি ভক্তের জন্য নির্বিঘ্ন ও স্মরণীয় করে তুলতে যাঁরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, সেই সব আধিকারিক, পরিষেবা প্রদানকারী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আমি অভিনন্দন জানাই। হর হর মহাদেব!” মঙ্গলবার দর্শনের দ্বাদশ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৬ হাজার ৩০৮ জন ভক্ত দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার ৩ হাজার ৮৮৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বাবা বরফানির পবিত্র গুহা মন্দিরে পুজো দেন। বালতাল ও পহেলগাঁও— এই দুই পথ দিয়ে তাঁরা গুহা মন্দিরে পৌঁছন।

    তুষারলিঙ্গ দর্শন

    এর ফলে ৩ জুলাই যাত্রা শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ১ হাজার ৯২৬ জন তীর্থযাত্রী ইতিমধ্যেই তুষারলিঙ্গ দর্শন করে ফেলেছেন। এঁদের সিংহভাগই নিজ নিজ রাজ্যে ফিরেও গিয়েছেন। তবে অনেকে সোনমার্গ, ক্ষীর ভবানী মন্দির, শঙ্করাচার্য মন্দির-সহ কাশ্মীরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শন শেষে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে (Shri Amarnath Yatra)। পুরো তীর্থযাত্রা জুড়েই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জম্মু ও শ্রীনগরের প্রশাসন যৌথভাবে যাত্রা পরিচালনা করছে। প্রতিদিন ভোর প্রায় ৩টা থেকে বালতাল ও পহেলগাঁও রুটের উদ্দেশে তীর্থযাত্রীদের (Pilgrims) দল রওনা দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় নির্দিষ্ট বিশ্রামস্থলে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বিনামূল্যে খাবার খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

    তীর্থযাত্রার সাত-সতের

    দর্শন শেষে ফেরার সময়ও একইভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় তীর্থযাত্রীর দল যাতায়াত করে। যাত্রার সময় জাতীয় সড়কে তীর্থযাত্রীদের দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এই কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্যবাহী গাড়ির সারিও তৈরি হয়। এ বছর আবহাওয়াও তীর্থযাত্রীদের অনুকূলে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ দিনই গুহা মন্দির এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় যাত্রায় কোনও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। সাধারণত ভারী বৃষ্টির সময় দুই পথই পিচ্ছিল হয়ে গেলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় পুণ্যযাত্রা। দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীরা শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। যাত্রাপথে একাধিক স্থানে বিনামূল্যে ভোজশালায় নানা ধরনের খাবার, চা ও জলখাবারের ব্যবস্থা রয়েছে (Shri Amarnath Yatra)।

    পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন

    শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন গত কয়েক বছরে যাত্রাপথের পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। রাস্তা চওড়া করা, যাত্রী নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ব্যবস্থা, বিভিন্ন জায়গায় ওয়েটিং রুম এবং অস্থায়ী তাঁবু নির্মাণের ফলে এখন তীর্থযাত্রা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে হচ্ছে (Pilgrims)। প্রতিদিন জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে ভোর ৩টার দিকে বালতালগামী দল এবং প্রায় এক ঘণ্টা পরে পহেলগাঁওগামী দল রওনা দেয়। পুরো জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ তীর্থযাত্রী ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত গুহা মন্দিরে দর্শন করা মোট তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্পষ্ট, বিপুল সংখ্যক ভক্ত অন্য পথ দিয়ে যাত্রায় অংশ নিয়েছেন (Shri Amarnath Yatra)।

    অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী

    যাত্রা পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চন্দেরকোট, রামবান এবং বানিহাল এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, তীর্থযাত্রীর ভিড় কিছুটা কমে যাওয়ায় জম্মুর মহাজন হলের নিবন্ধন কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাওয়ি নদী তীর কেন্দ্র, গীতা ভবন এবং পুরানি মণ্ডির রাম মন্দিরে নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছে। এই রাম মন্দিরে প্রতি বছর বহু সাধু-সাধ্বী তীর্থযাত্রার আগে অবস্থান করেন। এদিকে, কাঠুয়ার লক্ষণপুরে রাতের বেলায় পৌঁছনো তীর্থযাত্রীদের সরাসরি জম্মুর দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের স্থানীয় শিবিরে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং পরের দিন সকালে সরকারি বহরের সঙ্গে জম্মুর উদ্দেশে রওনা করানো হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত লক্ষণপুরে একসঙ্গে (Pilgrims) ২ হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে আহারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে (Shri Amarnath Yatra)।

     

  • Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সকল ভক্ত এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    রাষ্ট্রপতি কী বললেন?

    শুভেচ্ছাবার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “জনবিশ্বাস অনুযায়ী মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ, চক্ররাজ সুদর্শন, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা রথে চড়ে ভক্তদের দর্শন দিতে বেরিয়ে আসেন।” তিনি প্রার্থনা করেন, মহাপ্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদে দেশ ও দেশের মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক।উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন বলেন, “রথযাত্রা বিশ্বাস, ভক্তি, সমতা এবং সম্প্রীতির প্রতীক। এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।”

    প্রধানমন্ত্রী যা বললেন (Rath Yatra)

    রথযাত্রাকে ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “রথযাত্রা ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ।” তাঁর কথায়, “এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারত এবং বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। এই উৎসব বিনয়, সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ ধারণ করে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথ সকলকে সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দিন। আমাদের সমস্ত প্রয়াসে তিনি শক্তি দিন এবং সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা আরও দৃঢ় করুন। জয় জগন্নাথ।”

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

    অন্য একটি শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথের পবিত্র রথযাত্রার শুভক্ষণে আমি প্রার্থনা করি, তাঁর আশীর্বাদ যেন সকলের ওপর চিরকাল অটুট থাকে। তাঁর ঐশ্বরিক কৃপা দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা সঞ্চার করুক।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “বিশ্বখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রা বিশ্বাস, আস্থা ও ভক্তির এক অনন্য প্রতীক। একই সঙ্গে এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।” তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রতি বছর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম হয়। শুধু ওড়িশার পুরীতেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও একই উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয় রথযাত্রা।

     

  • Rath Yatra 2026: পুরীর রথযাত্রার ৩ রথের অজানা রহস্য! নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলনের বিশেষত্ব জানেন?

    Rath Yatra 2026: পুরীর রথযাত্রার ৩ রথের অজানা রহস্য! নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলনের বিশেষত্ব জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, কোটি কোটি ভক্তের কাছে এটি আস্থা, ভক্তি ও পুণ্যলাভের এক মহামুহূর্ত। ওড়িশার পুরীতে অনুষ্ঠিত শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে ভিড় জমান। সংস্কৃত ভাষায় ‘রথ’ শব্দের অর্থ গাড়ি এবং ‘যাত্রা’ অর্থ শোভাযাত্রা বা মিছিল। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথে আরোহী জগন্নাথদেবের এক ঝলক দর্শন করাও বহু জন্মের পুণ্যের ফল। একইসঙ্গে রথের রশি স্পর্শ করা বা রথ টানার সুযোগকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের বলে মনে করা হয়।

    পুরীর রথযাত্রার বিশেষ ঐতিহ্য

    পুরীর রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হল শতাব্দীপ্রাচীন রাজপরম্পরা। আজ রাজতন্ত্র না থাকলেও পুরীর রাজপরিবারের উত্তরাধিকারীই প্রতি বছর এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। রথযাত্রা শুরুর আগে তিনি তিনটি রথের সামনে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের চারপাশ পরিষ্কার করার বিশেষ আচার, ‘ছেরা পহরা’, সম্পন্ন করেন। এই আচার শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় রথ টানার পর্ব।

    কেন তিনটি আলাদা রথ?

    পুরীর রথযাত্রা মূলত শ্রীজগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র (বলরাম) এবং বোন সুভদ্রার গুণ্ডিচা মন্দির যাত্রার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। এই কারণে তিন দেবতার জন্য থাকে তিনটি পৃথক রথ। যাত্রার ক্রমও নির্দিষ্ট—

    • প্রথমে বলভদ্রের রথ
    • এরপর সুভদ্রার রথ
    • সব শেষে জগন্নাথদেবের রথ

    উল্টো রথ বা বাহুদা যাত্রা শেষে প্রতিবছর নতুন করে রথ নির্মাণ করা হয়। তবে রথের পার্শ্বদেব-দেবী, সারথি ও ঘোড়ার কাঠের মূর্তিগুলি সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

    নন্দীঘোষ: জগন্নাথদেবের মহারথ

    জগন্নাথদেবের রথের নাম নন্দীঘোষ। প্রচলিত বিশ্বাস, দেবরাজ ইন্দ্র এই রথ জগন্নাথদেবকে প্রদান করেছিলেন। এই রথ নির্মাণে প্রায় ৮৩২টি কাঠের অংশ ব্যবহৃত হয়। উচ্চতা প্রায় ১৩.৫ মিটার (৪৪ ফুট ২ ইঞ্চি)। বর্তমানে এতে ১৬টি চাকা থাকে। রথটি লাল ও হলুদ কাপড়ে আবৃত। চারটি কালো ঘোড়ার নাম— শঙ্খ, বলাহক, শ্বেত ও হরিদাক্ষ। রথের ধ্বজার নাম ত্রৈলোক্যমোহিনী, রশির নাম শঙ্খচূড়, আর রক্ষক হিসেবে থাকেন গরুড়। রথের সারথি দারুক। নন্দীঘোষে বরাহ, নৃসিংহ, রাম, নারায়ণ, হনুমান, রুদ্র-সহ একাধিক পার্শ্বদেবতার পাশাপাশি নারদ, ব্যাসদেব, বিশ্বামিত্র, বশিষ্ঠ প্রমুখ ঋষিদের প্রতীকী উপস্থিতিও থাকে।

    তালধ্বজ: বলভদ্রের শক্তির প্রতীক

    বলভদ্রের রথের নাম তালধ্বজ। এটি তৈরি করতে প্রায় ৭৬৩টি কাঠের অংশ লাগে। উচ্চতা প্রায় ১৩.২ মিটার (৪৪ ফুট) এবং বর্তমানে এতে ১৪টি চাকা থাকে। সবুজ ও লাল কাপড়ে মোড়া এই রথের ধ্বজার নাম উন্মনী, আর রশির নাম বাসুকী নাগ। চারটি সাদা ঘোড়ার নাম— তীব্র, ঘোর, শ্রম (স্বর্ণনাভ) ও দীর্ঘ (দীর্ঘশর্মা)। রথের সারথি মাতলি এবং রক্ষক বাসুদেব। এই রথে গণেশ, কার্তিক, সর্বমঙ্গলা, মহেশ্বর, মৃত্যুঞ্জয়, শেষদেব-সহ ন’জন পার্শ্বদেবতার অবস্থান রয়েছে।

    দর্পদলন: সুভদ্রার রথের বিশেষত্ব

    দেবী সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন। এটি তিনটি রথের মধ্যে তুলনামূলকভাবে ছোট। নির্মাণে লাগে ৫৯৩টি কাঠের অংশ। উচ্চতা প্রায় ১২.৯ মিটার (৪২ ফুট ৩ ইঞ্চি) এবং এতে থাকে ১২টি চাকা। লাল ও কালো কাপড়ে ঢাকা এই রথের ধ্বজার নাম নাদম্বিক, আর রশির নাম স্বর্ণচূড় নাগ। চারটি লাল ঘোড়ার নাম— রচিকা, মোচিকা, জিতা ও অপরাজিতা। রথের সারথি অর্জুন এবং রক্ষক জয়দুর্গা। দর্পদলনে চণ্ডী, চামুণ্ডা, মঙ্গলা, উগ্রতারা, বনদুর্গা, শ্যামাকালী, বিমলা ও বরাহী-সহ ন’জন পার্শ্বদেবীর প্রতীকী উপস্থিতি দেখা যায়। দ্বারপালিকার দায়িত্বে থাকেন ভূদেবীশ্রীদেবী

    কেন আজও কোটি মানুষের আবেগের কেন্দ্র পুরীর রথযাত্রা?

    পুরীর রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প, আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তির এক অনন্য সমন্বয়। প্রতি বছর নতুন করে রথ নির্মাণ, শতাব্দীপ্রাচীন রাজপরম্পরা, তিন দেবতার পৃথক রথ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের একসঙ্গে রথ টানার দৃশ্য এই উৎসবকে বিশ্বের অন্যতম অনন্য ধর্মীয় আয়োজনে পরিণত করেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, রথযাত্রার দিনে জগন্নাথদেবের দর্শন এবং রথের রশি স্পর্শ করার সৌভাগ্য অর্জন করলে জীবনে শুভফল ও পুণ্য লাভ হয়। সেই বিশ্বাসই প্রতিবছর পুরীর পথে লাখো মানুষের পদচারণাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

  • FIFA World Cup 2026: ৮৪ মিনিট পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তন! আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা

    FIFA World Cup 2026: ৮৪ মিনিট পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তন! আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পিছিয়ে পড়া, হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, তারপর হঠাৎই প্রত্যাবর্তন। চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য লিখে চলেছেন মেসিরা। বলা ভাল আর্জেন্টিনা। এই দল দেখিয়ে দিচ্ছে, মেসি (Lionel Messi) গোল না করলেও জিততে পারে তারা। মেসিকে যে প্রতিপক্ষ বোতলবন্দি করার চেষ্টা করবে, এ আর নতুন কী? একমাত্র আলজেরিয়া বাদে বাকি সব ম্যাচে তা দেখা গিয়েছে। ইংল্যান্ডও আটকে রেখেছিল তাঁকে। গোটা ম্যাচে বক্সে বার দু’য়েকের বেশি ঢুকতে পারেননি তিনি। তাতে কী? দলের জয় আটকায়নি। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। শেষ ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনীয় ঝড়েই হারিয়ে গেলেন হ্যারি-কেনরা।

    এই ম্যাচ অন্য সাধারণ ম্যাচের মতো নয়

    এই ম্যাচ অন্য সাধারণ ম্যাচের মতো ছিল না। একে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। তার উপর আবার প্রতিপক্ষের নাম ইংল্যান্ড। যে দেশের বিরুদ্ধে খেলা শুধুমাত্র ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা হয়ে ওঠে যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধ জিতেছে আর্জেন্টিনা। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে জিতেছে। মেসি-সহ পুরো আর্জেন্টিনা দল এই প্রথম বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলল। কিন্তু ১৯৬৬, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের লড়াইয়ের কথা তাঁদের জানা। ফকল্যান্ড যুদ্ধ তাঁদের স্মৃতিতে। তাই পিছিয়ে পড়ার পর যে লড়াইটা আর্জেন্টিনা করেছে তা ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। জয়ের পর মেসি জানালেন, এই জয় আর্জেন্টিনার প্রত্যেকের জয়। খেলা শেষে মেসি বলেন,“এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।”

    পুরোপুরি সফল স্কালোনি

    প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় আকাশ-পাতাল ফারাক। লড়াই শুধু ফুটবলারদের ছিল না, লড়াই ছিল দু’দলের কোচেরও। প্রথমার্ধে লিয়োনেল স্কালোনির পরিকল্পনা দেখে মনে হল, গোল করতে নয়, হ্যারি কেনদের থামাতে নেমেছে আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডি পলের বদলে জিউলিয়ানো সিমিয়োনেকে নামানোর কারণই ছিল তাই। নিজের কাজ করলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, বাবা দিয়েগো সিমিয়োনের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে নেমেছেন। প্রথমার্ধের ফুটবলে মন ভরেনি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলা দেখে। নিজেদের খেলা না খেলে ইংল্যান্ডের খেলা নষ্ট করতে নেমেছিল তারা। পর পর ফাউল হচ্ছিল। খেলার ছন্দ নষ্ট করছিলেন সিমিয়োনে, লিয়োনার্দো পারেদেসরা। স্কালোনি অবশ্য তাঁর পরিকল্পনায় পুরোপুরি সফল। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের ছন্দ নষ্ট করেছেন তাঁর ফুটবলারেরা। ফলে আক্রমণ করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি কেনেরা। সেটাই পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

    নিজের ভুলেই আটকে গেলেন টমাস টুখেল

    প্রথমার্ধে ১৯টি ফাউল হয়। ১২টি করে আর্জেন্টিনা। সাতটি ইংল্যান্ড। মাঝে মাঝেই খেলা থামছিল। ধাক্কাধাক্কি করছিলেন দু’দলের ফুটবলারেরা। সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন রেফারি। তিনিও হয়তো চাইছিলেন তাড়াতাড়ি বিরতি নিতে। তাই এত ফাউলের পরেও মাত্র ৩ মিনিট সংযুক্তি সময় দেওয়া হল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল খেলা। আর্জেন্টিনাকে আক্রমণে উঠতে দেখা গেল। আর তাতে জায়গা পেয়ে গেল ইংল্যান্ড। তাতেই গোল। ৫৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত ধরে উঠে রিস জেমসের ক্রসে গোল করলেন অ্যান্টনি জর্ডন। পিছিয়ে পড়়ে বেরিয়ে এল আর্জেন্টিনার আসল খেলা। খোলস ছেড়ে বেরাল তারা। কারণ, গোল করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। সেখানেই দুই কোচের দুই চালে খেলা ঘুরে গেল। যেখানে স্কালোনি একের পর এক আক্রমণ ভাগে ফুটবলার নামালেন, পারেদেস, লিসান্দ্রোদের তুলে ঝুঁকি নিলেন, সেখানেই টমাস টুখেল পার্ক দ্য বাস নীতিতে চলে গেলেন। এতটা রক্ষণাত্মক না হলেই পারতেন তিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকে মেসিদের বিপক্ষে এতটা রক্ষণাত্মক হওয়া যায় না।

    শেষ ৭ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড

    ডি পল, লাউতারোরা নামার পর মেসিরও সুবিধা হল। মিশর ম্যাচে যা করেছিলেন, তাই করলেন। সরে গেলেন ডান প্রান্তে। মার্কারকে এড়িয়ে গেলেন। তখন রক্ষণ করতে লোক বাড়াতে গিয়ে মেসিকে নজরে রাখতে পারলেন না স্পেন্স, গেহিরা। ফলে অনেক বেশি বল পেতে শুরু করলেন মেসি। জর্ডন পিকফোর্ড না থাকলে আরও আগেই গোল খেত ইংল্যান্ড। এঞ্জো ফের্নান্দেজের হেড দুর্দান্ত বাঁচান তিনি। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্ট লেগে ফেরে। কিন্তু বার বার আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ভাঙে তাদের রক্ষণ। ৮৫ মিনিটের মাথায় মেসির পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করেন ফের্নান্দেজ। সমতা ফিরিয়ে আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারছিল, এই ঝড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ আবার ভেঙে পড়তে পারে। হলও তাই। ম্যাক অ্যালিস্টারের আরও একটি শট পোস্টে লেগে ফেরে। পর পর আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। তাতেই কাল হল। সংযুক্তি সময়ে মেসির ক্রসে হেড করে গোল করলেন লাউতারো। আর ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড।

    এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না

    মেসি জানিয়েছেন, এই ম্যাচে হারার উপায় ছিল না। তাঁদের জিততেই হত। সেটাই করেছেন তাঁরা। মেসি বলেন, “আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না। সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।” কিন্তু ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে জয় সহজ কথা নয়। চলতি বিশ্বকাপে বারবার পিছিয়ে পরেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে জিতেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিরুদ্ধে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ০-২ পিছিয়ে থেকেও ৩ গোল করেছে তারা। কিন্তু সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মতো দলের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে জেতা সহজ ছিল না। মেসি বলেন, “এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না। হারার ভয় আমাদের নেই। খালি জানি, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করতে হবে। এই ম্যাচেও সেটাই করেছি। ওদের অর্ধেই ওদের মাটিতে ফেলে হারিয়েছি। আমরা অতিরিক্ত সময় খেলতে চাইনি। ৯০ মিনিটেই জিততে চেয়েছিলাম। সেটা করে দেখিয়েছি।”

    বিজয়ীর মুকুট কার মাথায়?

    ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে এবার স্পেন। এক নতুন চ্যালেঞ্জ, এক নতুন পরীক্ষা। ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে দুই প্রজন্মের দুই প্রতীক। একদিকে ৩৯ বছরের বৃদ্ধ সিংহ লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ১৯ বছরের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। একজন মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লিখতে চলেছেন। আরেক জন ইতিহাস তৈরি করতে চান। সময় বলবে ইতিহাস কাকে বিজয়ীর মুকুট পরাবে।

  • Rath Yatra 2026: রথযাত্রায় কেন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন ছাপ্পান্ন ভোগের নেপথ্যের পুরাণকাহিনি

    Rath Yatra 2026: রথযাত্রায় কেন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন ছাপ্পান্ন ভোগের নেপথ্যের পুরাণকাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা মানেই শুধু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মহারথ টানা নয়। এই মহোৎসবের আর এক বড় আকর্ষণ হল শ্রীজগন্নাথদেবের উদ্দেশে নিবেদন করা ছাপ্পান্ন ভোগ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য ধর্মীয় বিশ্বাস, পুরাণকথা এবং ভক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন ঠিক ৫৬টি পদই নিবেদন করা হয়? এর পেছনে কী রয়েছে পুরাণের ব্যাখ্যা?

    কৃষ্ণের সাত দিনের উপবাস থেকেই ৫৬ ভোগের সূচনা

    হিন্দু পুরাণে উল্লেখ রয়েছে, মা যশোদা বালক কৃষ্ণকে দিনে আট প্রহরে আটবার আহার করাতেন। সেই সময় দেবরাজ ইন্দ্রের ক্রোধে ব্রজভূমিতে ভয়াবহ বৃষ্টি ও প্রলয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্রজবাসীদের রক্ষা করতে কৃষ্ণ নিজের কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পর্বত তুলে ধরেন। টানা সাত দিন তিনি সেই অবস্থায় থাকায় কোনও খাবার বা জল গ্রহণ করেননি। প্রলয় থেমে যাওয়ার পর কৃষ্ণ যখন গোবর্ধন পর্বত নামিয়ে রাখেন, তখন মা যশোদা ও ব্রজবাসীরা তাঁর জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন করেন। সাত দিন × দিনে আটবার খাবার— এই হিসেবেই ৭ × ৮ = ৫৬। সেই থেকেই কৃষ্ণ তথা জগন্নাথদেবের উদ্দেশে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদনের প্রথা চালু হয়েছে বলে পুরাণে বর্ণিত রয়েছে।

    বিষ্ণুর চার ধাম যাত্রার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই বিশ্বাস

    আরও একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যে এসে চারটি পবিত্র ধামে পরিক্রমা করেন। প্রথমে বদ্রীনাথে স্নান, এরপর দ্বারিকায় বস্ত্র পরিধান, তারপর পুরীতে ভোজন এবং সবশেষে রামেশ্বরমে বিশ্রাম নেন। এই বিশ্বাস থেকেই পুরীধামে ভগবানকে রাজকীয় ভোজ নিবেদন করার রীতি প্রচলিত হয়েছে। পুরাণ মতে, জগন্নাথদেবকে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণের রূপ হিসেবেও মানা হয়। তাই তাঁর উদ্দেশে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    জগন্নাথের ৫৬ ভোগে কী কী পদ থাকে?

    পুরীর মন্দিরে নিবেদন করা ঐতিহ্যবাহী ছাপ্পান্ন ভোগে মিষ্টি, পিঠে, ভাত, ডাল, সবজি, ক্ষীর, ফল ও নানা ধরনের বিশেষ প্রস্তুত খাবার থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল—

    • উকখুড়া (মুড়ি)
    • নাড়িয়া কোড়া (নারকেল নাড়ু)
    • খুয়া (খোয়া ক্ষীর)
    • দই
    • পাকা কলা
    • কণিকা (সুগন্ধি ভাত)
    • শুকনো খিচুড়ি
    • এন্ডুরি
    • আদা চাটনি
    • শাক ভাজা
    • করলা ভাজা
    • আরিশা
    • বুন্দিয়া
    • পাখাল (পান্তা ভাত)
    • ক্ষীর বা পায়েস
    • কাদাম্বা
    • দলমা
    • কাকারা
    • আমালু
    • খাস্তা পুরি
    • কদলি বড়া
    • মিষ্টি চাটনি
    • পদ্ম পিঠে
    • দই পাখাল
    • সুজি ক্ষীর
    • মুগ সিজা
    • মাগাজা লাড্ডু
    • পানা
    • অন্ন
    • ঘি ভাত
    • ডাল
    • বেসর
    • মাহুর (লাবরা)
    • সাগা নাড়িয়া-সহ মোট ৫৬টি ঐতিহ্যবাহী পদ

    কেন আজও এত গুরুত্বপূর্ণ ছাপ্পান্ন ভোগ?

    শুধু ধর্মীয় আচার নয়, ছাপ্পান্ন ভোগ ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা, ভক্তি এবং সমৃদ্ধির প্রতীক। কৃষ্ণের প্রতি যশোদার মাতৃস্নেহ, ব্রজবাসীদের ভালোবাসা এবং ভগবান বিষ্ণুর পুরীধামে ভোজনের পুরাণকাহিনি— এই দুই বিশ্বাস মিলিয়েই গড়ে উঠেছে এই অনন্য প্রথা। তাই রথযাত্রার সময় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন আজও কোটি কোটি ভক্তের কাছে অন্যতম পবিত্র এবং আকর্ষণীয় ধর্মীয় আচার।

  • Rath Yatra 2026: এবার দিঘার রথে পুরীর ছোঁয়া- জগন্নাথের মাথায় পুরীর ‘রাজমুকুট’, মোড় ঘোরার সুবিধার্থে রথে থাকছে স্টিয়ারিং-ব্রেক!

    Rath Yatra 2026: এবার দিঘার রথে পুরীর ছোঁয়া- জগন্নাথের মাথায় পুরীর ‘রাজমুকুট’, মোড় ঘোরার সুবিধার্থে রথে থাকছে স্টিয়ারিং-ব্রেক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৈকত শহর দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে এবার দ্বিতীয় বর্ষের রথযাত্রা উৎসব (Rath Yatra 2026)। আর রথযাত্রা উপলক্ষে থাকছে বিশেষ বিশেষ চমক। দ্বিতীয় বছরেই দিঘার রথযাত্রায় দেখা যেতে চলেছে একগুচ্ছ পরিবর্তন ও রাজকীয় ছোঁয়া। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ওড়িশা সরকারের সঙ্গে নবান্নের হৃদ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার পুরীর আদলে সেজে উঠছেন দিঘার জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। আজ, বৃহস্পতিবার, মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই বহু প্রতীক্ষিত রথযাত্রা। উৎসবের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রশাসনিক স্তরে সব রকম সাহায্য করতে তৎপর রাজ্য সরকার।

    পুরীর রাজকীয় আমেজ এবার দিঘার সৈকতে

    ২০২৫ সালে, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের (Digha Jagannath Temple) উদ্বোধন হয়েছিল। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর এবারের রথযাত্রায় (Rath Yatra 2026) যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টির সদস্য রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, এবার ওড়িশার বাইরে দিঘার সৈকতেই মিলবে পুরীর রাজকীয় আমেজ। সম্পূর্ণ রাজবেশে সাজবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। এর জন্য পুরী থেকে আনা হচ্ছে বিশেষ ‘রাজমুকুট’ এবং তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ পোশাক।এই রাজকীয় বেশে সাজিয়ে বিশেষ ‘পাহাণ্ডি বিজয়’ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহদের রথে তোলা হবে। স্নানযাত্রার পর থেকে বিগ্রহরা নিভৃতবাসে ছিলেন। বুধবার নবযৌবন রূপ নিয়ে তাঁরা ভক্তদের দর্শন দেবেন এবং তার ঠিক পরদিনই অর্থাৎ ১৬ জুলাই রথে চাপবেন।

    রথে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া

    গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রথের গঠনে আনা হয়েছে বিশেষ বদল। পুরীর রথ সোজা রাস্তায় চললেও, দিঘার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রথটিকে কিছুটা যাওয়ার পর দুবার ডানদিকে মোড় নিতে হয়। গতবার চাকা নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায়, এবার রথটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য করতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। রথে লাগানো হয়েছে ৪টি নতুন চাকা, এবং মোড় ঘোরার সুবিধার্থে যুক্ত করা হয়েছে স্টিয়ারিং ও ব্রেক। ইতিমধ্যে রথের মহড়াও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

     রাজ্য সরকারের অনুদান

    দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার রথ উৎসবের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বাবা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী। উৎসবকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট সংস্কার ও আলোকসজ্জার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে। প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাসের কথায়, “রথযাত্রার প্রস্তুতি শেষের পথে। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছি, যার জন্য ধন্যবাদ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে রথযাত্রা শুরু হবে। আশা করছি, ১৬ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলা এই উৎসবে ৯-১০ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটবে”। রথযাত্রায় (Rath Yatra 2026) লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমকে মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফ থেকেও কড়া নিরাপত্তা ও সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, যখন পুরীর রাজকীয় সাজে দিঘার রাস্তায় টান পড়বে জগন্নাথের রথের রশিতে।

LinkedIn
Share