Sarada Devi: আজ সারদা মায়ের ১৭২তম আবির্ভাব তিথি,জানুন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

Untitled_design(1050)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ সারদা মায়ের (Sarada Devi) ১৭২তম জন্মদিন। ১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর, বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১২৬০ সনের ৮ পৌষ, কৃষ্ণা সপ্তমী তিথিতে বাঁকুড়া জেলার জয়রামবাটী গ্রামে জন্ম হয় সারদা দেবীর। তাঁর পিতার নাম ছিল রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও মায়ের নাম ছিল শ্যামাসুন্দরী দেবী। লোককথা অনুযায়ী, সারদা দেবীর জন্মের আগে রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাসুন্দরী দেবী, উভয়েই দিব্যদর্শন পেয়েছিলেন, মহাশক্তি তাঁদের ঘরে কন্যারূপে জন্ম নিতে চলেছেন। তিনি ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের (Ramkrishna Dev) ধর্মপত্নী (Sarada Devi)। অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় ধর্ম ও দর্শনের কথা বলে গিয়েছেন সারদাদেবী। সকলের প্রতিই অপার করুণা ও দয়া ছিল সারদা মায়ের। সবাইকে তিনি নিজের সন্তানরূপে জ্ঞান করতেন। ১৮৭২ সালে দক্ষিণেশ্বরে স্বামীর নিকটে থাকতে আসেন সারদা দেবী। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁকে আধ্যাত্মিক জীবনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও পরামর্শ প্রদান করেছিলেন বলে জানা যায়। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা দেবী ও দিব্য মাতৃকাকে অভিন্ন জ্ঞান করে তাঁকে দেবীর আসনে বসিয়ে সকল উপাচার দিয়ে পুজো করেন।

সারদাদেবী (Sarada Devi) নিজেকে সবার মা বলে মনে করতেন

শ্রীরামকৃষ্ণদেব প্রয়াত হলে তাঁর ধর্ম আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান সারদা দেবী। ১৯২০ সালের ২০ জুলাই কলকাতার উদ্বোধন ভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সারদাদেবী নিজেকে সবার মা বলে মনে করতেন। মায়ের কাছে সন্তানের যেমন ভেদাভেদ থাকে না, সারদা দেবীও তেমন ভক্তদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ করতেন না। তাঁর কাছে যারাই আসত, তাদের সবাইকেই তিনি সমান চোখে দেখতেন।

সারদা মায়ের বাণী (Sarada Devi)

‘‘যদি শান্তি চাও, তাহলে কারও দোষ দেখো না। দোষ দেখবে নিজের। জগৎকে আপনার করে নাও, কেউ পর নয়, এই জগৎ তোমার।’’

‘‘আমি সত্যিকারের মা, গুরুপত্নী নই, পাতানো মা নই, কথার কথা মা নই, সত্যকারের জননী।’’

‘‘ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু হয়, জোর করে কায়দায় ফেলে কাউকে দিয়ে কিছু করানো যায় না।’’

‘‘কাজ করতে হবে সব সময়। কর্ম করতে করতেই কর্মের বন্ধন কেটে যাবে, তবেই নিষ্কাম ভাব আসবে। কাজ ছেড়ে একদণ্ডও থাকা উচিত নয়।’’

‘‘ভাঙতে সবাই পারে, কিন্তু গড়তে পারে ক-জনে? নিন্দে ঠাট্টা সবাই করতে পারে। কিন্তু কী করে যে তাকে ভালো করতে হবে, তা ক-জনে বলতে পারে?’’

‘‘এই কলি যুগে শুধু সত্যের আঁট থাকলেই ভগবানকে লাভ করা যায়। ঠাকুর বলতেন, যে সত্যকথাটি ধরে আছে সে ভগবানের কোলে শুয়ে আছে।’’

‘‘যত বড় মহাপুরুষই হোন, দেহ ধারণ করে পৃথিবীতে এলে দেহের ভোগটি সবই নিতে হবে। তবে পার্থক্য এই যে সাধারণ লোক যায় কাঁদতে কাঁদতে, আর ওঁরা যান হেসে হেসে, মৃত্যুটা যেন ওঁদের কাছে খেলা।’’

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share