Tag: বাংলা খবর

  • Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত। একদা যে দলনেত্রীর এক ডাকে গোটা বাংলা কেঁপে উঠত, আজ তাঁরই পায়ের তলার মাটি ক্রমশ আলগা হচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগেই সেই ফাঁটল আরও চওড়া হল। এবার দল এবং সক্রিয় রাজনীতি- উভয় ক্ষেত্র থেকেই চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী তথা দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের চেয়ারম্যান মণীশ গুপ্ত। বৃহস্পতিবারই তিনি তাঁর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র (Manish Gupta Quits TMC) পাঠিয়ে দেবেন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত (Manish Gupta Quits TMC)?

    রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার নেপথ্যে ক্ষোভ এবং বয়স- উভয় কারণকেই দায়ী করেছেন প্রাক্তন এই আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ক্ষোভপ্রকাশ করে মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) বলেছেন, ‘‘তৃণমূলে আমাকে গত পাঁচ বছর ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। দল আমাকে সেভাবে ব্যবহার করেনি। একে আক্ষেপ বলবো না, তবে এই ধরনের অনেক কারণ তো রয়েছেই। একই সঙ্গে বয়সও একটা বড় বিষয়। ৮৫ বছর বয়স হল, আর রাজনীতি করব না বলে ঠিক করেছি।’’ তবে, তিনি এও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনও রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হতে চান না। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় জীবন কাটাতেই মনস্থির করেছেন মণীশ (Manish Gupta)।

    মণীশ গুপ্তের রাজনৈতিক সফর

    মণীশ গুপ্তের রাজনীতি ছাড়ার বিষযটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যখন মহাকরণ অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে যুব কংগ্রেসের আন্দোলন চলছিল এবং পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী মারা যান, তখন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ছিলেন এই মণীশ গুপ্তই। সেই সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলিচালনার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর, মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) নাটকীয়ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। দল তাঁকে বিধায়ক করার পাশাপাশি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর (বিদ্যুৎ দপ্তর) দায়িত্বও দেয়, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক মহলে কম চর্চা হয়নি। সেই ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগেই এবার তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি।

    বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা

    তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক দক্ষতার দরাজ প্রশংসাও করেছেন মণীশ গুপ্ত। তাঁর মতে, বাংলার উন্নয়নে বর্তমান সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর মতো দক্ষ প্রশাসক পেয়েছে বাংলা। তিনি যেভাবে কাজ করছেন, তাতে বাংলার উন্নয়ন কেউ আটকাতে পারবে না। একের পর এক নিয়ম অত্যন্ত দক্ষ হাতে সামলাচ্ছেন তিনি।’’

    সঙ্কটে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)?

    কিন্তু মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) একা নন, বিগত কয়েক বছরে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন যেভাবে ধিকিধিকি জ্বলেছে, তাতে একের পর এক শীর্ষ স্তরের নেতা মমতার (Mamata Banerjee) হাত ছেড়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। একে তো একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ, তার উপর দলের অন্দরে এই ভাঙনের হিড়িক। যে দল একদা একমুখী আবেগে চলত, তা আজ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের ঠিক মুখে যখন দলনেত্রী মমতার মঞ্চ থেকে নতুন বার্তা দেওয়ার কথা, ঠিক তখনই মণীশ গুপ্তের (Manish Gupta)  মতো প্রবীণ নেতার বিদায় দলটির বুনিয়াদকেই নাড়িয়ে দিল। প্রশ্ন একটাই- দলের এই রক্তক্ষরণ থামাতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নতুন কোনও রণকৌশল নেবেন? নাকি সময়ের নিয়মে এভাবেই খালি হতে থাকবে ঘাসফুল শিবির? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

  • Self Medication Side Effects: জ্বর-কাশিতে নিজের মতো ওষুধ খাচ্ছেন? হতে পারে কিডনি-লিভারের মারাত্মক ক্ষতি! বড় সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

    Self Medication Side Effects: জ্বর-কাশিতে নিজের মতো ওষুধ খাচ্ছেন? হতে পারে কিডনি-লিভারের মারাত্মক ক্ষতি! বড় সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জ্বর-কাশির মতো সাধারণ সমস্যা হোক কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার জেরে মাথা ধরা, যেকোনো সামান্য ভোগান্তিতে অনেকেই নিজেই নিজের চিকিৎসক হয়ে ওঠেন। কেউ হঠাৎ একখানা ব্যথা কমার ওষুধ খেয়ে নেন, আবার কেউ ইচ্ছে মতো দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে নেন। আর এগুলোই বড় জটিলতা তৈরি করে। আগামী দিনে সমস্যা তৈরি হয়। যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়া এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ভারতে অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে চলেছে।

    কোন ওষুধে বিপদ বাড়াতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধ ইচ্ছে মতো, যখন তখন খেলে শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অনেক সময়েই দ্রুত প্রতিক্রিয়া বোঝা যায় না। কিন্তু পরে শরীরের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। তাই যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। বিশেষত অ্যান্টিবায়োটিক, পেইন কিলার কিংবা অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ার আগে, উপযুক্ত পরামর্শ প্রয়োজন। কতদিন ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন, কতটা মাপের ওষুধ খেতে হবে, এগুলো একমাত্র বিশেষজ্ঞরা ঠিকমতো পরামর্শ দিতে পারে। তা না হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাবে।

    কোন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার ফলে শরীরে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই সামান্য মাথা ব্যথা, হাত-পায়ে ব্যথা হলে খুব শক্তিশালী পেইন কিলার বা ব্যথা কমানোর ওষুধ খাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই এই ওষুধ খাওয়া হয়। এর ফলে ডোজ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা থাকে না। রোগীর ব্যথা কমার জন্য কতখানি মাপের ব্যথা কমার ওষুধ প্রয়োজন, সেটা জানা জরুরি। নিয়মিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার ব্যথা কমার ওষুধ খেলে, কিডনিতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাছাড়া, স্নায়ুর উপরেও গভীর প্রভাব ফেলে। স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমে। তাই যথেচ্ছ পেইন কিলার খাওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনক।

    অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে ভারতে

    ভারতে মারাত্মক হারে বেড়েছে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা সাধারণ পেটের গোলমাল হলেও ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফল মারাত্মক। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। যেকোনো বড় অপারেশন কিংবা সংক্রামক রোগে চিকিৎসা করাই কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, রোগী যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শক্তি শরীরে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এর ফলে কোনো বড় অসুখ হলে, সংক্রমণ রুখতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। এর ফলে নিউমোনিয়া, লিভারের অসুখ কিংবা বড় কোনো অপারেশনের পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। সুস্থ হতে সময় লাগছে।

    অ্যালার্জির সমস্যা ভারতে বাড়ছে

    অ্যালার্জির সমস্যা ভারতে বাড়ছে। দূষণ ও নানান অভ্যাস পরিবর্তনের জেরে ভারতীয়দের মধ্যে নানান অ্যালার্জি দেখা দিচ্ছে। অনেকেই অ্যালার্জি কমাতে ইচ্ছেমতো অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ খাচ্ছেন। এর ফলে শরীরে অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। আদৌও অ্যান্টি অ্যালার্জির প্রয়োজন রয়েছে কিনা, উপসর্গগুলো অ্যালার্জির কিনা, সেটা ঠিকমতো যাচাই হচ্ছে না। তার আগেই ওষুধ খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি ওষুধে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এর ফলে শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হচ্ছে। যা পরবর্তীতে নানান রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

    কেন যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয়ের কাছেই এখন নানান তথ্য সংগ্রহ খুবই সহজ। কারণ, ইন্টারনেটের ব্যবহার সুলভ। এর ফলে অনেকেই কোনো শারীরিক সমস্যা হলে, ইন্টারনেটে উপসর্গ দেখেন।‌ সেখানে থাকা ওষুধের নাম দেখেই নিজের মতো সেগুলো খেয়ে নেন। কিন্তু এক উপসর্গে নানান রোগের হতে পারে। তথ্য কখনোই রোগ নির্ণয় করতে পারে না। বরং, রোগ সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে পারে। এই সচেতনতার অভাবের জেরেই ভারতে বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে পারে। যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমাবে। আবার অন্যান্য বড় অসুখে ভোগার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।

  • ED Raid Fake Document Hub: এনজিও-র আড়ালে মানবপাচার! নিশানায় রাজ্যের ‘নথি হাব’, বাংলাসহ দেশের ১৩ জায়গায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি

    ED Raid Fake Document Hub: এনজিও-র আড়ালে মানবপাচার! নিশানায় রাজ্যের ‘নথি হাব’, বাংলাসহ দেশের ১৩ জায়গায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (NGO) আড়ালে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের (Human trafficking) জাল! আর এই ভয়ঙ্কর কারবারের মূল ভরকেন্দ্র বা ‘করিডোর’ হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ! এমনকী সীমান্ত টপকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ভুয়ো ভারতীয় নাগরিক বানিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাচারের অভিযোগ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে এবার বিস্ফোরক তথ্য। এক মেগা সিন্ডিকেটের হদিস পেয়ে এবার পুরোদমে অ্যাকশন মোডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এই চক্রের শিকড় এবং কোটি কোটি টাকার গুপ্ত অর্থভান্ডারের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের মোট ১৩টি জায়গায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি (ED Raid Fake Document Hub) কেন্দ্রীয় সংস্থার।

    কোথায় কোথায় তল্লাশি?

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকায় জোরদার অভিযানে নামেন ইডি আধিকারিকেরা (ED Raid Fake Document Hub)। সাতসকালে কেন্দ্রীয় এজেন্সির (ED) এই আচমকা হানা ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সৃষ্টি হয় তীব্র চাঞ্চল্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকা ঘিরে রাখে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। তবে এই অভিযান শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে দিল্লি, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন ডেরাতেও তল্লাশি (ED Raid Fake Document Hub) চালান তদন্তকারী গোয়েন্দারা।

    রাজ্যের ‘জাল নথি হাব’, দেশজুড়ে মানবপাচার!

    ইডি সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের মূল নিশানায় পশ্চিমবঙ্গের একটি সংগঠিত ও শক্তিশালী জাল নথির নেটওয়ার্ক। অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকা রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিন রাজ্যে পাচার (Human trafficking) করার আগে এদেশীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করাই এই চক্রের কাজ। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেয়। এই চক্রের মাধ্যমে বেআইনিভাবে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র যেমন-ভোটার কার্ড বা এপিক, প্যান কার্ড, এবং ই-শ্রম কার্ড তৈরি করা হয়। এই সমস্ত জাল পরিচয়পত্র হাতে পাওয়ার পর, দালালের হাত ধরে অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে কর্ণাটক, পঞ্জাব, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশের মতো শিল্প ও কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোতে শ্রমিক হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

    উত্তরপ্রদেশ STF-এর তদন্তে ফাঁস আন্তর্জাতিক যোগসূত্র

    এই দেশজোড়া পাচারচক্রের আন্তর্জাতিক যোগসূত্রটি প্রথম সামনে আসে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (STF) ও অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের (ATS) একটি মামলার তদন্তে। বেশ কয়েক মাস আগে উত্তরপ্রদেশ এটিএস মানবপাচার (Human trafficking) নিয়ে একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই খাস কলকাতায় বসে থাকা এই চক্রের এক মূল পান্ডার সন্ধান পান গোয়েন্দারা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্ত ও আদালতে পেশ করা তথ্যে স্পষ্ট হয় যে, কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা এবং সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল কাগজ বানানোর বড় কারখানা সক্রিয় রয়েছে। ভিন রাজ্যে সস্তা শ্রমিক সরবরাহের আড়ালে এই দালাল চক্রটি কার্যত রমরমিয়ে দেশজুড়ে মানবপাচার ও জাল নথির কারবার চালাচ্ছে।

    এনজিও-র আড়ালে ‘ভাড়ার অ্যাকাউন্ট’!

    ইডির প্রাথমিক তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, এই মানবপাচার ও জাল নথি তৈরির চক্রের (Fake Document Hub) আড়ালে ঢাল হিসেবে কাজ করছে রাজ্যের একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও (NGO)। এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির আড়ালেই কোটি কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। তদন্তকারীদের এড়াতে এবং মূল মাথাদের আড়াল করতে চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ‘ভাড়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট’ (Rented Accounts) ব্যবহার করে। সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের থেকে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে তাতে ছোট ছোট অঙ্কের টাকা লেনদেন করা হয়, যাতে তা ব্যাঙ্কের নজরদারিতে বা সন্দেহের তালিকায় না আসে। তবে ছোট ছোট অঙ্কের লেনদেন হলেও, সমস্ত অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে মোট লেনদেনের অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    পুরনো তদন্তের সূত্র-বর্তমান পরিস্থিতি

    উল্লেখ্য, এর আগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও (NIA) বাংলাদেশ থেকে নারী ও নাবালিকা পাচারের তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সেবারও তদন্তে একটি সংগঠিত জাল নথি তৈরির চক্রের অস্তিত্ব এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনা সামনে এসেছিল। আর বৃহস্পতিবারের এই দেশজোড়া ইডি হানার পর স্পষ্ট যে, এই সিন্ডিকেটের শিকড় দেশের অনেক গভীরে।এর সঙ্গে একটি বহু কোটি টাকার অবৈধ মানবপাচার ব্যবসাও চলছে। তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত হওয়া নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূল পান্ডাদের খাঁচায় পুরতে মরিয়া কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

  • IRCTC New Website: রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! খুলল আইআরসিটিসি-র নতুন ওয়েবসাইট, টিকিট বুকিং হবে রকেটের গতিতে

    IRCTC New Website: রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! খুলল আইআরসিটিসি-র নতুন ওয়েবসাইট, টিকিট বুকিং হবে রকেটের গতিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলে যেতে চলেছে প্রতিদিন ট্রেনে যাতায়াত করা কোটি কোটি যাত্রীদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা। এবার সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক ওয়েবসাইট (IRCTC New Website) চালু করল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)। সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং আকর্ষণীয় ইউজার ইন্টারফেস (UI), সাধারণ মানুষের ট্রেনের টিকিট কাটার ঝক্কি কমাতে বড় উদ্যোগ IRCTC-র।

    নতুন ওয়েবসাইটে কী কী সুবিধা?

    • রকেটের গতিতে তৎকাল বুকিং: নতুন ওয়েবসাইটের (IRCTC New Website) সার্ভার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ফলে তৎকাল টিকিট কাটার সময়ে অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে সাইট হ্যাং হওয়া বা স্লো হয়ে যাওয়ার সমস্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাবে।
    • এক ক্লিকেই পেমেন্ট (One-Click Checkout): পেমেন্ট গেটওয়েটিকে আরও উন্নত করা হয়েছে। এখন যাত্রীরা তাঁদের কার্ডের তথ্য সুরক্ষিতভাবে সেভ করে রাখতে পারবেন বা ইউপিআই (UPI) লিঙ্ক করতে পারবেন। যার ফলে মাত্র এক ক্লিকেই পেমেন্ট সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
    • সহজ ও আধুনিক ডিজাইন: পুরনো হিজিবিজি ডিজাইন বদলে সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও আধুনিক লুক দেওয়া হয়েছে ওয়েবসাইটটিকে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল- সব কিছুতেই এটি সমানভাবে ও সহজে কাজ করবে।
    • এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়া: এতে একটি নতুন সার্চ টুল যুক্ত করা হয়েছে যা যাত্রীদের ভ্রমণের ইতিহাস দেখে নিজে থেকেই স্টেশনের নাম সাজেস্ট করবে। এছাড়া ওয়েটিং লিস্টের টিকিট কনফার্ম হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তাও আগে থেকে অনুমান করে জানাবে।
    • রিফান্ডের লাইভ ট্র্যাকিং: টিকিট বাতিল করলে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া ট্র্যাক করার জন্য একটি আলাদা ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হয়েছে। টাকা কতদূর প্রসেস হলো, তা যাত্রীরা লাইভ দেখতে পাবেন।

    দালাল চক্র রুখতে কড়া নিরাপত্তা

    কেবল গতি বাড়ানোই নয়, নতুন ওয়েবসাইটে (IRCTC New Website) সাইবার নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। উন্নত ‘বট-ডিটেকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে সফটওয়্যার বা রোবট ব্যবহার করে কালোবাজারি কঠিন হবে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীরা ন্যায্যভাবে টিকিট বুকিং করার সুযোগ পাবেন।

    পড়ুয়াদের বিশেষ ভূমিকা

    সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো, এই নতুন ও আধুনিক ডিজাইনের ওয়েবসাইট তৈরির পিছনে দেশের তরুণ পড়ুয়াদের এক বড় ভূমিকা রয়েছে। IRCTC-এর এই নতুন ওয়েবসাইট তৈরির প্রজেক্টে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হয়েছিল। তাঁদেরই আধুনিক চিন্তাভাবনা ও পরামর্শ মেনে ওয়েবসাইটের নতুন রঙের থিম (Color Theme) এবং ইউজার ইন্টারফেস (UI) আকর্ষণীয় ও সহজ করে তোলা সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    বিটা ভার্সন: আরও উন্নতির আশ্বাস

    আইআরসিটিসি (IRCTC) কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে বেসরকারি ই-কমার্স সাইটের মতোই আধুনিক ও বিশ্বস্ত করে তোলাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এই ওয়েবসাইটের ‘বিটা ভার্সন’ (Beta Version) চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়ারা এটি ব্যবহার করে যে ফিডব্যাক বা মতামত দেবেন, তার উপর ভিত্তি করেই এটিকে আরও নিখুঁত ও উন্নত করা হবে। ব্যবহারকারীদের সেইসব অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই খুব শীঘ্রই সাইটটির চূড়ান্ত বা ফাইনাল সংস্করণটি (Final Version) প্রকাশ করা হবে, যা গ্রাহকদের আরও উন্নতমানের রেল পরিষেবা দেবে। নতুন এই ওয়েবসাইটটি ইতিমধ্যেই লাইভ করে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এখন থেকেই এটি ব্যবহার করতে পারছেন।

  • ISKCON Rath Yatra: কণ্ঠে গৌড়ীয় সঙ্গীত, হাতে সোনার ঝাড়ু! ইসকনের রথযাত্রায় অন্য মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী

    ISKCON Rath Yatra: কণ্ঠে গৌড়ীয় সঙ্গীত, হাতে সোনার ঝাড়ু! ইসকনের রথযাত্রায় অন্য মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথা ও ভক্তির মেলবন্ধনে সাড়ম্বরে পালিত হল কলকাতার ইসকনের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা (ISKCON Rath Yatra)। বৃহস্পতিবার ১২টা নাগাদ ইসকন মন্দিরে গিয়ে রথযাত্রার শুভ সূচনা করেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রথা মেনে সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে জগন্নাথদেবের সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণামও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সবমিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ দিন ইসকন মন্দির চত্বরে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

    ঈশ্বর বন্দনা ও হেরিটেজ ঘোষণার আর্জি

    ইসকন (ISKCON) মন্দিরে পৌঁছেই প্রথমে জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে নতমস্তকে প্রণাম করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো দিয়ে আরতিও করেন তিনি। এরপর সোজা চলে যান শ্রীল প্রভুপাদের কক্ষে। সেখানে সাষ্টাঙ্গে প্রণামের পর পুরো কক্ষটি ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘শ্রীল প্রভুপাদের এই কক্ষটিকে যাতে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন জানাবে রাজ্য সরকার।’’ শুভেন্দু মনে করেন, রাষ্ট্রবাদী ও সনাতনী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় তাঁর ইসকনের রথযাত্রায় শামিল হতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের উন্নয়নও যেমন হবে, পাশাপাশি সংস্কৃতিকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’’

    মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে গৌড়ীয় সঙ্গীত

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটিই শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম রথযাত্রা (Rath Yatra)। সনাতনী ও রাষ্ট্রবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হিসেবে এই রথযাত্রায় শামিল হতে পারা পরম সৌভাগ্যের, বললেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগ্রহে মাল্যদানের পর তিনি বলেন, ‘‘আজ ভক্তদের দিন।’’ উপস্থিত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের অনুরোধে এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে দু’কলি গৌড়ীয় সঙ্গীতও গেয়ে শোনান তিনি। এরপরই প্রথা ও রীতি মেনে সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করার প্রতীকী আচার পালন করেন এবং রথের রশিতে টান দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    ৬০ রথযাত্রা কমিটিকে আর্থিক অনুদান

    প্রসঙ্গত রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে আগেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যের মোট ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়। মোট বরাদ্দ অনুদান ৩ কোটি টাকা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন রথযাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ করতেই রাজ্যের এই উদ্যোগ।

    ইসকনের মিড-ডে মিলের প্রশংসা

    অনুষ্ঠানে ইসকনের (ISKCON) সমাজসেবামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে মিড-ডে মিলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যে মিড-ডে মিল কিচেন তৈরি হচ্ছে। ইসকনের এই কাজ নতুন নয়। ২২টি বড় বড় শহরে স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছে ইসকন। এই মিড-ডে মিল অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন।’’ একইসঙ্গে, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যে মিড-ডে মিল নিয়ে ঘটে যাওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কড়া ভাষায় সরব হন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা

    এ দিন সকালে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মহাপ্রভুর কাছে দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘রথযাত্রা উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। এই উৎসব ভারতের আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। রথযাত্রার সঙ্গে জড়িত রীতিনীতি ভারত তথা বিশ্বজুড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে।’’ সব মিলিয়ে, ভক্তি, সংস্কৃতি এবং সরকারি সহযোগিতার মেলবন্ধনে কলকাতার ইসকনের রথযাত্রা এ বছর এক নতুন মাত্রা পেল।

  • Rath Yatra 2026: ‘‘প্রভু অহঙ্কার সয় না, তাই উল্টে গেল মমতার সরকার’’! দিঘা মন্দির নিয়ে পুরীর প্রধান সেবায়েতের বিস্ফোরক মন্তব্য

    Rath Yatra 2026: ‘‘প্রভু অহঙ্কার সয় না, তাই উল্টে গেল মমতার সরকার’’! দিঘা মন্দির নিয়ে পুরীর প্রধান সেবায়েতের বিস্ফোরক মন্তব্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না কি কথাই শোনেননি! দিঘার পাথরের মূর্তিতে ঘটা করে ‘ধাম’ লিখেছিলেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কোনও শাস্ত্রীয় পরামর্শ শোনেননি! মহাপ্রভু কারও দম্ভ বা অহঙ্কার সহ্য করেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেদ আর অহঙ্কারের জন্যই বাংলায় সরকার টিকে থাকতে পারেনি। একদিকে রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) পুণ্য উৎসবে যখন পুরীধাম ভক্তদের ভিড়ে গমগম করছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পুরীর জগন্নাথদেবের প্রধান পানিগ্রাহী (সেবায়েত) জগন্নাথ দয়িতাপতি।

    কেন ক্ষুব্ধ সেবায়েত?

    জগন্নাথ দয়িতাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘তিনি কোনও দলীয় রাজনীতি করেন না। কেবল শাস্ত্রীয় ও আইনি সত্যটাই তুলে ধরছেন।’’ তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কোনও পরামর্শ বা শাস্ত্রীয় বিধান মানেননি।  জগন্নাথ ধাম বলতে আদি পুরী ধামকেই বোঝায়। কিন্তু দিঘার নবনির্মিত মন্দিরকে ‘ধাম’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, যা শাস্ত্রসম্মত নয়। মন্দিরে দারুব্রহ্ম বা কাঠের মূর্তির পরিবর্তে পাথরের মূর্তি তৈরি করা নিয়েও তাঁর ঘোর আপত্তি ছিল। জগন্নাথ দয়িতাপতি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আমার কথা শুনলেন না। আমার শিষ্য শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এসে সেই ভুল শুধরে দিয়েছেন, সে ধাম লেখাটি বাদ দিয়েছে। ভুল কাজের জন্যই শেষ পর্যন্ত সরকার উল্টে গেল।’’

    বৃষ্টির মাঝেই পুরীতে রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) মহাসমারোহ

    রাজনৈতিক বিতর্কের আবহেও পুরীতে রথযাত্রার আনন্দ ও ভক্তিতে কিন্তু কোনও খামতি নেই। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা সৈকত শহরে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রথের রশি ছুঁতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তের ঢল নেমেছে। এ বছরও শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য মেনে বিশেষ কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি মূল রথ- জগন্নাথদেবের ‘নন্দীঘোষ’, বলভদ্রের ‘তালধ্বজ’ এবং সুভদ্রার ‘দর্পদলন’। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) এই যাত্রাপথের একটি গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে।

    • বলরামের রথ (তালধ্বজ): বলরাম হলেন গুরুর প্রতীক, যিনি ভক্তকে সঠিক পথ দেখান।
    • সুভদ্রার রথ (দর্পদলন): সুভদ্রা হলেন ভক্তির প্রতীক।
    • জগন্নাথের রথ (নন্দীঘোষ): জগন্নাথ স্বয়ং ঈশ্বরের প্রতীক। অর্থাৎ, গুরুর হাত ধরে ভক্তির পথ পেরিয়েই ভক্ত ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারেন।

    বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলার প্রতি নিজের গভীর অনুরাগের কথাও জানিয়েছেন প্রধান সেবায়েত। তিনি বলেন, ‘‘চৈতন্য মহাপ্রভুর পুণ্যভূমি বাংলাকে হৃদয় থেকে ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি। বাংলার প্রতিটি মানুষের উপর মহাপ্রভুর আশীর্বাদ বজায় থাকুক।’’ উল্লেখ্য, প্রতিবারের মতো এবারও রথযাত্রা (Rath Yatra 2026) উপলক্ষে পুরীর সমুদ্র সৈকতে বালি দিয়ে মহাপ্রভুর এক নয়নাভিরাম প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন পদ্মশ্রী জয়ী বিশ্ববিখ্যাত বালুশিল্পী সুদর্শন পট্টনায়ক।

  • COVID-19 India: অন্ধ্রে মৃত ৩, ভারতে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! আতঙ্ক নয়, সচেতনতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    COVID-19 India: অন্ধ্রে মৃত ৩, ভারতে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! আতঙ্ক নয়, সচেতনতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ভারতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা (COVID-19 India)। কয়েক বছর কেটে গেলেও করোনা ভাইরাস যে আমাদের চারপাশ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়নি, তার প্রমাণ মিলল অন্ধ্রপ্রদেশে (Andhra Pradesh)। বাড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ইতিমধ্যেই করোনা (COVID-19 India) আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সরকারের। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতা অবলম্বন প্রতিবেশী রাজ্য তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বড় কোনও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার বার্তা দিয়েছেন তাঁরা।

    রূপ বদলাচ্ছে করোনা ভাইরাস (COVID-19 India)

    মুম্বইয়ের পালমোনোলজিস্ট ড. আভা মাশুর জানান, “SARS-CoV-2 ভাইরাসটি আসলে কখনও পুরোপুরি মিলিয়ে যায় না। এটি নতুন নতুন রূপ নিয়ে বারবার ফিরে আসে। ভাইরাসের এই মিউটেশন বা রূপ পরিবর্তন অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।” বর্তমানে ভারতে ওমিক্রনের দুটি উপ-ভেরিয়েন্ট মূলত সক্রিয় রয়েছে-

    • জেএন.১ ভেরিয়েন্ট: এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। তবে এর কারণে আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হচ্ছে না।
    • বিএ.৩.২ ভেরিয়েন্ট: ভাইরাসের এই রূপটিতে অনেক বেশি মিউটেশন দেখা গেলেও, এটিও গুরুতর কোনও রোগের কারণ হচ্ছে না। তাই এটি নিয়ে অযথা ভয়ের কিছু নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

    উপসর্গ-

    বর্তমানে এই ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে মূলত হালকা ঠান্ডা-কাশি বা গলার সমস্যার মতো মৃদু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ছে না।

    কারা বেশি ঝুঁকিতে?

    যদিও বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ মৃদু রূপ নিচ্ছে, তাও চিকিৎসকেরা কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বয়স্ক ব্যক্তিরা, গর্ভবতী নারীরা, ক্রনিক হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা, সিওপিডি (COPD) বা ফুসফুসের জটিল রোগে (ILD) আক্রান্ত রোগী, কিডনি বা লিভারের ক্রনিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (Immunocompromised) তাঁদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

    কী করণীয়?

    গুরুগ্রামের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. নেহা রাস্তোগি এবং ড. আভা মাশুর সংক্রমণ রুখতে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। “বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যারা সংক্রামিত হচ্ছেন, তারা যেন জনসমক্ষে না গিয়ে নিজেদের আলাদা রাখেন। করোনার ভ্যাকসিন বা বুস্টার ডোজ নেওয়া না থাকলে তা দ্রুত নিন। ভিড় বা আবদ্ধ জায়গায় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। নিয়মিত হাত পরিষ্কার করা এবং সঠিক স্যানিটাইজেশন বজায় রাখা। ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচলের (Ventilation) ভালো ব্যবস্থা রাখা। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে করোনা পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া”।

  • Rath Yatra 2026: এবার দিঘার রথে পুরীর ছোঁয়া- জগন্নাথের মাথায় পুরীর ‘রাজমুকুট’, মোড় ঘোরার সুবিধার্থে রথে থাকছে স্টিয়ারিং-ব্রেক!

    Rath Yatra 2026: এবার দিঘার রথে পুরীর ছোঁয়া- জগন্নাথের মাথায় পুরীর ‘রাজমুকুট’, মোড় ঘোরার সুবিধার্থে রথে থাকছে স্টিয়ারিং-ব্রেক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৈকত শহর দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে এবার দ্বিতীয় বর্ষের রথযাত্রা উৎসব (Rath Yatra 2026)। আর রথযাত্রা উপলক্ষে থাকছে বিশেষ বিশেষ চমক। দ্বিতীয় বছরেই দিঘার রথযাত্রায় দেখা যেতে চলেছে একগুচ্ছ পরিবর্তন ও রাজকীয় ছোঁয়া। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ওড়িশা সরকারের সঙ্গে নবান্নের হৃদ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার পুরীর আদলে সেজে উঠছেন দিঘার জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। আজ, বৃহস্পতিবার, মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই বহু প্রতীক্ষিত রথযাত্রা। উৎসবের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রশাসনিক স্তরে সব রকম সাহায্য করতে তৎপর রাজ্য সরকার।

    পুরীর রাজকীয় আমেজ এবার দিঘার সৈকতে

    ২০২৫ সালে, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের (Digha Jagannath Temple) উদ্বোধন হয়েছিল। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর এবারের রথযাত্রায় (Rath Yatra 2026) যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টির সদস্য রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, এবার ওড়িশার বাইরে দিঘার সৈকতেই মিলবে পুরীর রাজকীয় আমেজ। সম্পূর্ণ রাজবেশে সাজবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। এর জন্য পুরী থেকে আনা হচ্ছে বিশেষ ‘রাজমুকুট’ এবং তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ পোশাক।এই রাজকীয় বেশে সাজিয়ে বিশেষ ‘পাহাণ্ডি বিজয়’ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহদের রথে তোলা হবে। স্নানযাত্রার পর থেকে বিগ্রহরা নিভৃতবাসে ছিলেন। বুধবার নবযৌবন রূপ নিয়ে তাঁরা ভক্তদের দর্শন দেবেন এবং তার ঠিক পরদিনই অর্থাৎ ১৬ জুলাই রথে চাপবেন।

    রথে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া

    গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রথের গঠনে আনা হয়েছে বিশেষ বদল। পুরীর রথ সোজা রাস্তায় চললেও, দিঘার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রথটিকে কিছুটা যাওয়ার পর দুবার ডানদিকে মোড় নিতে হয়। গতবার চাকা নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায়, এবার রথটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য করতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। রথে লাগানো হয়েছে ৪টি নতুন চাকা, এবং মোড় ঘোরার সুবিধার্থে যুক্ত করা হয়েছে স্টিয়ারিং ও ব্রেক। ইতিমধ্যে রথের মহড়াও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

     রাজ্য সরকারের অনুদান

    দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার রথ উৎসবের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বাবা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী। উৎসবকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট সংস্কার ও আলোকসজ্জার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে। প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাসের কথায়, “রথযাত্রার প্রস্তুতি শেষের পথে। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছি, যার জন্য ধন্যবাদ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে রথযাত্রা শুরু হবে। আশা করছি, ১৬ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলা এই উৎসবে ৯-১০ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটবে”। রথযাত্রায় (Rath Yatra 2026) লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমকে মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফ থেকেও কড়া নিরাপত্তা ও সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, যখন পুরীর রাজকীয় সাজে দিঘার রাস্তায় টান পড়বে জগন্নাথের রথের রশিতে।

  • Madan Mitra: মমতার ‘ভাঙা হাট’! ক্ষমতা টলতেই ছায়াসঙ্গীদের প্রস্থান, সঙ্গ ছাড়লেন মদনও?

    Madan Mitra: মমতার ‘ভাঙা হাট’! ক্ষমতা টলতেই ছায়াসঙ্গীদের প্রস্থান, সঙ্গ ছাড়লেন মদনও?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সাল, বিশ্বস্ত সৈনিকদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতার শপথের সঙ্গেই শপথ নেন তাঁর বিশ্বস্ত সৈনিকরাও। কিন্তু আজ সেই সব সৈনিকরাই সঙ্গ নিলেন অন্য ‘রাজার’। তাসের ঘরের মতো ভাঙছে কালীঘাটের দুর্গ। ২০১১ সালে যে সমস্ত বিশ্বস্ত, লড়াকু সৈনিকদের কাঁধে ভর করে বাংলায় পরিবর্তনের ইতিহাস লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্ষমতা টলমল করতেই আজ একে একে তাঁরাই সঙ্গ ছাড়ছেন দলনেত্রীর। তৃণমূলে এখন শুধুই ভাঙা-গড়ার খেলা। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। মদনের হাত ছাড়ার সঙ্গেই এবার চূড়ান্ত রূপ নিল কালীঘাট তৃণমূলের ভাঙন। বিধানসভায় ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’ যোগ দিলেন মদন। স্পষ্ট করে দিলেন- দলের এই ভরাডুবি এবং ভাঙনের জন্য দায়ী আর কেউ নন, খোদ ভাইপো।

    ক্ষমতা যেতেই সঙ্গত্যাগ (Madan Mitra Leaves TMC)!

    যুব কংগ্রেসের আমল থেকে মমতার ছায়ার মতো পাশে থাকা মদন মিত্রও আর কালীঘাটের প্রতি আস্থা রাখতে পারলেন না। তৃণমূলের চরম সঙ্কটের দিনগুলোতেও তিনি কালীঘাটের পথ ছাড়েননি, বিশ্বস্ত সেনাপতির মতো আগলে রেখেছিলেন নেত্রীকে। কিন্তু সেই মদন মিত্রের সঙ্গত্যাগই প্রমাণ করে দিল, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এখন কতটা চওড়া। বুধবার দুপুরে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাত ছাড়লেন মদন মিত্র (Madan Mitra Leaves TMC)। সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবিরে। সম্প্রতি মদন মিত্রের (Madan Mitra) স্ত্রী ও দুই ছেলেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) তলব করে। ইডি-র তলবের পরপরই সন্দীপন সাহার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মদন মিত্র। এই দুই ঘটনার পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে, যা বুধবার দুপুরে কামারহাটির বিধায়কের সঙ্গ বদলের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হলো। মমতার সঙ্গ ছাড়ার পর মদন মিত্রের গলায় ঝরে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা। তাঁর সাফ কথা- ‘‘দল যখন ডুবছে, তখন সংগঠন টানার মতো মহাবলী কাউকে দরকার ছিল। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। অহঙ্কার, একনায়কতন্ত্র এবং ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আজ দল ও দলের কর্মীদের এই চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়েছেন অভিষেকই।’’

    মদনের অভিযোগ

    মদন মিত্রের (Madan Mitra) অভিযোগ, ‘‘আমি তো চুনোপুঁটি, অভিষেক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয় না। দল এখন চলছে হিটলারি কায়দায়। ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ যা বলবে, তা না শুনলেই পুলিশের ভয় দেখানো হয়।’’ ভোটের ভরাডুবির পুরো দায় অভিষেকের উপর চাপিয়ে মদনের দাবি, “একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩টি আসন পেয়েছিল, সর্বনাশ হয়ে গেল”। দলের ডুবন্ত সংগঠনকে টেনে তুলতে অভিষেককে সরানোর জন্য তিনি একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুনয়-বিনয় করেছিলেন, কিন্তু নেত্রী সেই পরামর্শে কান দেননি বলেও অভিযোগ উঠছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘ইডি-র চেয়ে বেশি ভয় ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞেস করবে, কিন্তু অভিষেক কখন কোথায় তাড়িয়ে দেবে কে জানে!’’

    অভিষেককে তীব্র খোঁচা মদনের

    মমতার সঙ্গ ছেড়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও রণকৌশল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। তাঁর মতে, ‘‘জনসংযোগহীন এই চটকদার রাজনীতি দিয়ে আর যাই হোক, বিজেপিকে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। এখনই হাল ধরা না গেলে, ভবিষ্যতে কখনও বিজেপি-কে হারানো যাবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে বিজেপি-কে হারানো যাবে না। হিটলারি কায়দায়, প্লেন থেকে নেমে, কোমরে হাত দিয়ে চার তারিখ দেখে নেব, হুইসল বাজবে- এসবে দল চলে না। রাজনীতি করতে গেলে মানুষের কাছে যেতে হবে।’’

    ‘আদালত তৃণমূলের সম্মান বাঁচিয়েছে’

    ভোটের ফলাফল ও আদালতের সাম্প্রতিক কিছু হস্তক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করে মদন মিত্রর দাবি, “আদালতের জন্যই অন্তত দলের সম্মানটুকু রক্ষা পেয়েছে। বাদাম-মুড়িওয়ালাই ৩-৪ হাজার লোক থাকে। সম্মানটাতো বাঁচল”।

    দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ

    উত্তর ২৪ পরগনার সাতজন মন্ত্রীর দুর্নীতি এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাকরি বিক্রির অভিযোগের প্রসঙ্গেও সরব হন মদন মিত্র। তিনি সাফ জানান, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে তিনি টাকা বা গয়না নিয়ে চাকরি দিয়েছেন, তবে মাথা পেতে নেবেন। এই বিষয়ে তিনি সরাসরি গণভোট করানোর চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন।

    কোণঠাসা কালীঘাট

    তৃণমূলে এই ভাঙা-গড়ার খেলা অবশ্য মদন মিত্রকে দিয়ে শুরু হয়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপর অনাস্থা প্রকাশ করে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর একে একে সেই বিক্ষুব্ধ শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ থেকে শুরু করে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলের মতো পুরনো ও শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে মঙ্গলবারই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘‘ক্যামাক স্ট্রিটই দলটাকে শেষ করে দিল।’’ আর আজ মদন মিত্রের সঙ্গত্যাগ। আবারও প্রমাণ করে দিল যে, পুরনো নেতাদের এই ক্ষোভ কতটা গভীর।

    বিপন্ন তৃণমূল কর্মীরা

    কালীঘাট তৃণমূলের হাত ছাড়ার পাশাপাশি দলের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার কথাও তুলে ধরে মদন মিত্র। তিনি জানান, ‘‘আজ দলের লক্ষ লক্ষ ছেলে ঘরছাড়া, মারপিট চলছে, ফুটপাতে ঘুমাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, নেতাদের মূল কাজ হবে এই অসহায় কর্মীদের জন্য লঙ্গরখানা খোলা।’’ দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা মদন মিত্রের এই সঙ্গত্যাগ ও সরাসরি বিদ্রোহ প্রকাশ কালীঘাট শিবিরের জন্য যে এক বিরাট বড় ধাক্কা, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০১১ সালের সেই সোনালী অধ্যায়ের কাণ্ডারীদের এভাবে একে একে বিদায় নেওয়া এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা বিশ্বস্ত দুর্গে ফাটল, এটাই প্রমাণ করে- কালীঘাটপন্থী তৃণমূল আজ অস্তিত্বের সঙ্কটে। আর এই ভাঙনের খেলায় লাভ কার হবে, তা সময়ই বলবে।

  • Baruipur Case: বারুইপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা পেলেন চাকরি, ‘সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    Baruipur Case: বারুইপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা পেলেন চাকরি, ‘সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Baruipur Case) গোটা রাজ্য তোলপাড়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মৃত ছাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত ছাত্রীর বাবাকে সরকারি চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।

    সরকারি চাকরি-আর্থিক সাহায্য

    রবিবার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরই মঙ্গলবার সরাসরি বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রথম থেকেই বারুইপুরের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহত ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সবরকমের সাহায্য়ের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিন, পীড়িত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহত নাবালিকা ছাত্রীর বাবাকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাকে সরকারি কারা দফতরে নিয়োগের ঘোষণা। পাশাপাশি পরিবারকে সরকারি আর্থিক সাহায্যও প্রদান করা হয়।

    কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?

    পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পরিবারকে বলে এসেছি কাস্টডি ট্রায়াল এবং কনভিকশন এক্সিকিউশন মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে হবে। একটা দৃষ্টান্তমূলক নজির এই কেসে রাখা হবে। সরকারের পক্ষ দিয়ে কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সেটা নিয়ে আমি বলব না। কিছু অ্যাসিস্ট্যান্সের বিষয় থাকে, যদি ফ্যামিলি রাজি থাকে। ফ্যামিলি রাজি ছিল। সরকার পাশে দাঁড়িয়েছে।”

    আইনি পদক্ষেপ ও এনকাউন্টার

    বারুইপুরকাণ্ডে (Baruipur Case) কড়া অ্যাকশন নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction)-এর সময় এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে এক অভিযুক্ত।

    সুরক্ষায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি, সিসিটিভি

    নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যুর পর সূর্যপুর এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছিল। পরিবারের আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন। পুরো এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর তড়িঘড়ি এই হস্তক্ষেপে স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। ভয় অনেকটাই কমেছে। এবার নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, বলছেন এলাকাবাসীরা।

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নিহতের বাবার

    মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর মৃত ছাত্রীর বাবা বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানান এবং সরকারের সহযোগিতার কথা নিশ্চিত করেন। চাকরি পাওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন,”এই মুহূর্তে তাদের মানসিক অবস্থা একদম ভাল নেই। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা থিতু হলে তবেই সরকারের দেওয়া কারা দফতরের কাজে যোগ দেবেন”। সরকারি চাকরি ও আর্থিক সাহায্য দিয়ে প্রশাসন বোঝাতে চেয়েছে যে, এই কঠিন সময়ে তারা পরিবারের অভিভাবক হিসেবে পাশে রয়েছে। নিহতের বাবার জন্য কারা দফতরের চাকরিটি পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক অনটন দূর করতে সাহায্য করবে। তবে এই মুহূর্তে কন্যাসন্তানকে হারানোর শোক এতটাই গভীর যে, নিহতের পিতা এখনই কাজে যোগ দিতে পারছেন না। মানসিকভাবে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে, স্কুলের লাইব্রেরিটি নিহত নাবালিকার স্মৃতিকে চিরকাল এলাকায় বাঁচিয়ে রাখবে।

LinkedIn
Share