Tag: বাংলা খবর

  • US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত ইরান-আমেরিকা সংঘাত (US-Iran War)। ক্রমশ জোরালো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। জর্ডনে ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় খেপে ছিল ওয়াশিংটন। তারই জেরে শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিমান হামলা চালাল আমেরিকা। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতেই এই অতর্কিত হামলা বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি।

    প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ওয়াশিংটন (US-Iran War)

    গত শুক্রবার জর্ডনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন, চারজন গুরুতর জখম হন। একজন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এর ঠিক পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। ফলস্বরূপ, রবিবারের এই ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলা।

    অকেজো শান্তি চুক্তি, প্রচ্ছন্ন হুমকি মোজতবা খামেনেইর!

    আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে ‘ক্ষমার অযোগ্য শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, মাত্র এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটিও ইরান বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা চুক্তি ভঙ্গ করায় ইরান আর কোনও শর্ত মানতে বাধ্য নয়।

    ইরাক- কুয়েতেও যুদ্ধের আঁচ

    আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাতের (US-Iran War) রেশ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। ইরাকের ইরবিল অঞ্চলে কুর্দিশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। অন্যদিকে, কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল শোধন প্ল্যান্ট (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) এবং তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর ফলে কুয়েতে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কুয়েত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং জর্ডন ও সৌদি আরবও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।

    বিপাকে বিশ্ব অর্থনীতি

    হরমুজ প্রণালী (Hormuz) দিয়ে সারা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই প্রণালীর দখল নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের (US-Iran War) ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা। অসামরিক পরিকাঠামো এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলির জোট (GCC) ইরানকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে দায়ী করেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এক সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে চলেছে, যা পুরো বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

  • Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি দখল, আর্থিক তছরূপ এবং বেআইনি নির্মাণ ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ১০০ পাতার এই অভিযোগপত্র শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের ইডির বিশেষ আদালতে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ১৮ মে গ্রেফতারের প্রায় দুই মাসের মধ্যেই এই চার্জশিট দাখিল করা হল।

    ইডির অভিযোগ, সোনা পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে কসবা ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রবীণ ও অসহায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে নিত। পরে সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণ করে বিপুল আর্থিক লাভ করা হতো। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এই পুরো চক্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং মাসল পাওয়ার ব্যবহার ছিল নিয়মিত কৌশল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোনা পাপ্পু। এই মামলায় প্রায় ২০০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই চক্র পরিচালনায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মদত ছিল। তদন্তে সোনা পাপ্পু, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং অপর অভিযুক্ত জয় কামদারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে ইডি জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জয় কামদারের সহযোগিতায় সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে অস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয় এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়েছিল। পরে ইডির তল্লাশিতে সেই পিস্তল উদ্ধার হয়। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র কেনার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই রবীন্দ্র সরোবরের কাকুলিয়া রোড এলাকায় সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই সোনা পাপ্পু আত্মগোপনে চলে যায়।

    ইডির অভিযোগ, পলাতক থাকার সময় একাধিকবার তলব করা হলেও সোনা পাপ্পু তদন্তে সহযোগিতা করেননি। পরে তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। চলতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জেরার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

    ইডির দাবি, জমি দখল, প্রতারণা, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চলছিল। তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলার তদন্তও চলছে।

  • Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১৮ জুলাই শনিবার, বিপত্তারিণী পুজো। প্রত্যেক বছর আষাঢ় মাসে রথযাত্রা এবং উল্টোরথের মধ্যে যে শনি এবং মঙ্গলবার পড়ে সেই দুই দিনেই পালিত হয় বিপত্তারিণী ব্রত উত্‍সব। কথিত আছে, এই ব্রত পালন করার সময় দেবীর চরণে উৎসর্গকৃত ‘লাল তাগা’ বা লাল সুতো হাতে বাঁধা থাকলে বিপদ ধারকাছেও ঘেঁষতে পারবে না। এবছর, আজ এবং ২১ জুলাই, মঙ্গলবার পালিত হবে বিপত্তারিণী ব্রত।

    যিনি বিপদকে তারণ করেন তিনিই বিপত্তারিণী

    দেবাদিদেব মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী, আদি শক্তি হলেন দেবী দুর্গা। অন্যান্য দেবী তাঁরই অবতার বা ভিন্ন রূপ। দেবী দুর্গার ১০৮ রূপের মধ্যে এক রূপ, দেবী বিপত্তারিণী। সঠিক অর্থে বিশ্লেষণ করলে ‘বিপত্তারিণী’ বা ‘সঙ্কটনাশিনী’ দেবীর নাম নয়, উপাধি। যিনি বিপদ তারণ করেন, তিনিই বিপত্তারিণী। আবার সব রকমের সঙ্কটকে বিনাশ করেন, তাই তিনিই সঙ্কটনাশিনী। আসলে, মহামায়ার আলাদা করে কোনও নাম হয় কি? ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ ইনিই। আবার ‘দশমহাবিদ্যা’ও তাঁরই রূপের প্রকাশ।

    স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় বিপত্তারিণী

    বাংলায় ঘরে ঘরে বিবাহিত মহিলারা স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় মা বিপত্তারিণী পুজো করেন। গ্রামাঞ্চলে বিপত্তারিণী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর আরাধনা করা হয়। মহিলারা গঙ্গা বা কোনও নদীতে স্নান করে দণ্ডী কাটেন। তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়। বিপত্তারিণী পুজো উপলক্ষে মেয়েরা উপবাস করেন। কিন্তু জানেন কি এই পুজোর মাহাত্ম্য? দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত রয়েছে। দেবীর বিপত্তারিণী রূপ নিয়ে ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কাহিনীটি বেশ জনপ্রিয়—

    ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কী বলা হয়েছে?

    কথিত আছে, শুম্ভ-নিশুম্ভ, অসুর ভ্রাতৃদ্বয়ের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে দেবগণ একবার মহামায়ার স্তব করছেন, এমন সময় শিবজায়া পার্বতী সেখানে হাজির হয়ে শুধালেন, “তোমরা কার স্তব করছ গো?” যাঁর স্তব, তিনি স্বয়ংই এ প্রশ্ন করছেন। কিন্তু দেবতারা তাঁকে চিনতে পারলেন না। তখন পার্বতী নিজের স্বরূপ দেখিয়ে বললেন, “তোমরা আমারই স্তব করছ।” এর পরবর্তীতে দেবী শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করেন। দেবতাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন। সেই থেকে বিপত্তারিণী পুজোর উৎস।

    দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত

    এই পুজোর একটি কাহিনি রয়েছে। ব্রতকথা অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের এক রানির এক নিম্নবর্ণের সখী ছিলেন। তিনি জাতে মুচি। এই মহিলা নিয়মিত গোমাংস খেতেন। রানিও একদিন কৌতূহলী হয়ে গোমাংস খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। প্রথমে তিনি নিমরাজি হন। পরে তিনি রানির আদেশ রক্ষার্থ গোমাংস আনেন। অন্তঃপুরে গোমাংস প্রবেশ করেছে— এই খবর রাজার কাছে পৌঁছে যায়। তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে রানিকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন। রানি গোমাংস তাঁর বস্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে রেখে বিপত্তারিণী মা দুর্গাকে স্মরণ করতে থাকেন। রানিকে তল্লাশি করে রাজা দেখতে পান তাঁর বস্ত্র আড়ালে গোমাংস নয়, রয়েছে একটি লাল জবা ফুল। লাল জবা কালী পুজোর অন্যতম উপকরণ। মায়ের এই পুষ্প দেখে রাজা তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। রানিকে ক্ষমা করে দেন। মা বিপত্তারিণী দুর্গার কৃপায় রানির বিপদ কেটে গেল। এরপর থেকে রানি নিষ্ঠা-সহকারে বিপত্তারিণীর ব্রত করতে থাকলেন। সেই থেকেই বিপত্তরিণীর পুজো প্রচলিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ব্রত পালনে কী কী লাগে?

    ঘট, আম্র পল্লব, শীষ সহ ডাব, একটি নৈবেদ্য, ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো (সঙ্গে ১ত টি দূর্বা বাঁধা), ১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি দূর্বা, ১৩টি পান ও ১৩টি সুপুরি।

    এই পুজোয় তেরো সংখ্যার তাৎপর্য

    এই পুজোর একটা বিশেষ নিয়ম হল সবকিছু ১৩টা করে উৎসর্গ করতে হয় দেবীকে। ব্রতর আচার হিসেবে সব কিছু দিতে হয় তেরোটি করে। যেমন— তেরোটি নৈবেদ্য সাজাতে হয়। ব্রত পালনে লাগে তেরো রকম ফুল, তেরো রকম ফল, তেরোটি পান, তেরোটি সুপুরি, তেরোটি এলাচ। এছাড়া, বিপত্তারিণী ব্রতপালনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে হাতে বাঁধতে হয় লাল ডুরি বা ডোর বা তাগা। এই ডোর তৈরির ক্ষেত্রেও তেরো সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। তেরো গাছা লাল সুতোর সঙ্গে তেরোটি দূর্বা রেখে তেরোটি গিঁট বেঁধে তৈরি হয় এই পবিত্র তাগা বা ডোর। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে তাঁকে কোনও বিপদ স্পর্শ করতে পরে না৷

    লাল রঙের তাগা কেন বাঁধা হয়

    বিপত্তারিণীর পুজো শেষে হাতে লাল তাগা বাঁধার চল রয়েছে। মেয়েরা এই তাগা বাঁ হাতে পরেন আর ছেলেরা ডান হাতে পরেন। সেই তাগাতেও ১৩টি গিঁট বাঁধা হয়। সেই ১৩টি গিঁটে দেবী দুর্গার ১৩টি রূপে বিরাজ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ১৩টি গিঁট ছাড়াও তাতে ১৩টি দূর্বাঘাস বাঁধা হয়। এই তাগা অনেকে সারা বছর ধরে পরে থাকেন, অনেকে আবার তিন দিন পরার পর নদী বা পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে বিপদ কোনও দিন আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

    খাবারেও ১৩ সংখ্যা আবশ্যিক

    বিপত্তারিণী পুজোর শেষে সকলেই হাতে ওই ডোর বেঁধে দেওয়া হয়৷ মেয়েরা বাম হাতে ও ছেলেরা ডান হাতে এটি পরেন৷ এটি শুধু ব্রত পালন যিনি করছেন তিনিই যে বাঁধেন তা নয়, পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাঁধেন বিপন্মুক্তির জন্য৷ ব্রতপালনের পর খাবার যা খেতে হয়, সেখানেও ১৩ সংখ্যা রাখা আবশ্যিক৷ মায়েরা প্রসাদ হিসেবে খান, তেরোটি লুচি বা পরটা সঙ্গে তেরো রকমের ফল। চাল-চিঁড়ে-মুড়ি এসব খাওয়া যায় না৷ ফল বা ময়দার রান্না যাই খাওয়া হোক না কেন সেটা ১৩ সংখ্যায় গ্রহণ করার কথাই ব্রতে বলা হয়৷ তবে যদি সেটা না হয় তাহলে পুজো মিটে যাওয়ার পর বিজোড় সংখ্যাতেও খাদ্যগ্রহণ করা যায়৷

    বিশ্বাস করা হয়, বিপত্তারিণী পুজো (Bipadtarini Puja) করলে শুধু বিপদই নয় অর্থ সঙ্কট থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। এবং ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ হয়। তবে, বিপত্তারিণী পুজোর বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে, যা নিয়ম নিষ্ঠা করে পালন করতে হয়। তবে না জেনে এই বিপত্তারিণী পুজো করলেই হতে পারে চরম বিপদ।

  • BLA Attacks Pak Military Convoy: পাক সেনা কনভয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি জওয়ান! দাবি বিএলএ-র

    BLA Attacks Pak Military Convoy: পাক সেনা কনভয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি জওয়ান! দাবি বিএলএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশ আবারও যুদ্ধক্ষেত্র পরিস্থিতি। মাস্তুং জেলায় সেনা কনভয়ে অতর্কিত হামলা বালোচ লিবারেশন আর্মির (BLA Claims Attacks on Pakistani Military Convoy)। হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা জওয়ান। হামলাটির নেপথ্যে ছিল বিএলএ-এর বিশেষ কমান্ডো ইউনিট। অবশ্য এই হামলার খবরকে ভুয়ো ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাক সেনা।

    কীভাবে হামলা (BLA Claims Attacks on Pakistani Military Convoy)?

    বিএলএ-এর দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, কোয়েটা-করাচি মহাসড়কের খাদকোচা (Khadkocha) এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। বিএলএ-এর দাবি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জওয়ানদের বহনকারী বাসের একটি বড় বহরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় বালোচ সেনার বিশেষ এলিট ফোর্স ‘ফাতাহ স্কোয়াড’। প্রাথমিক হামলার পর ঘটনাস্থলে যখন অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা (Reinforcements) উদ্ধারকাজের জন্য পৌঁছয়, তখন তাদের উপরও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।

    ক্ষয়ক্ষতি

    বিএলএ-এর দাবি, হামলায় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি বাস সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা ৪৫ ছাড়িয়ে গেছে। অভিযানের তীব্রতা বিবেচনা করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি ও হাসপাতালের তৎপরতা

    হামলার পর থেকেই ওই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও থমথমে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাস্তুঙের স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে জরুরি অবস্থা (Emergency Alert) জারি করা হয়েছে। সমস্ত ডাক্তার ও চিকিৎসা কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আহত সেনাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। তবে বিএলএ-এর এই দাবিগুলো স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কেন অশান্ত বালোচিস্তান (Balochistan)?

    বালোচিস্তানে (Balochistan) এই ধরনের সংঘাত নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে এখানে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ চলছে। এর মূল কারণগুলো হল, বালোচিস্তান পাকিস্তানের আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট। এখানকার বালোচ জাতিগোষ্ঠী সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর বালোচিস্তানের কালাত রাজ্য স্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জোরপূর্বক এই অঞ্চলটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করে। বালোচদের অভিযোগ, তখন থেকেই তাদের উপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে এবং তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা হচ্ছে। নিজেদের অধিকার আদায় ও স্বাধীনতার দাবিতে বিএলএ-সহ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার এই লড়াই আর কতদূর এগোয়?

  • Murshidabad Accident: ‘গাফিলতি মানব না, কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য

    Murshidabad Accident: ‘গাফিলতি মানব না, কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারের বৃষ্টিভেজা সকাল, আর তাতেই নেমে এলো ঘন অন্ধকার। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে লেভেল ক্রসিং খোলা থাকার খেসারত দিতে হলো স্কুলপড়ুয়াদের। ট্রেনের ধাক্কায় খেলনা গাড়ির মতো দুমড়ে-মুচড়ে গেল একটি স্কুলগাড়ি। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় (Murshidabad Accident) ৪ শিশু-সহ এখনও পর্যন্ত মোট ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহতদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা। মুর্শিদাবাদের ঘটনায় সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘটনার নেপথ্যে থাকা কোনও রকম প্রশাসনিক বা রেলের গাফিলতিকে রেয়াত করা হবে না। স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Murshidabad Accident)?

    প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, স্টেশন সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংটি দুর্ঘটনার সময়ে খোলা ছিল। ক্রসিং খোলা দেখেই লাইনের উপর উঠে পড়েছিল স্কুলপড়ুয়া বোঝাই গাড়ি এবং এক সাইকেল আরোহী। ঠিক সেই মুহূর্তেই তীব্র গতিতে ছুটে আসে ট্রেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক বিপর্যয়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ শিশু-সহ মোট ৫ জনের। ইতিমধ্যেই গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেল ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর। একই সঙ্গে কর্তব্যে গাফিলতি নিয়েও সুর চড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি লেখেন, “কোনও প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের পুলিশ ইতিমধ্যেই রেলওয়ের গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। আমি কথা দিচ্ছি, যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা

    দুর্ঘটনার (Murshidabad Accident) খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসার নির্দেশ দেয় নবান্ন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়ভার নিয়েছে রাজ্য। তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ও আহতদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত হাসপাতালে যান মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। আহতের পাশে থাকার আশ্বাস মন্ত্রীর। এছাড়াও সকাল থেকেই ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল চত্বরে রয়েছেন জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপার (SP)।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তদারকি

    মুর্শিদাবাদের ঘটনার (Murshidabad Accident) তদারকিতে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি নিজে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।

    সুরক্ষায় তৎপর প্রশাসন

    এই কঠিন সময়ে কোনও রকম দোষারোপের রাজনীতিতে না গিয়ে, দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে রেল ও রাজ্য সরকার। একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের দ্রুত আর্থিক সাহায্য ও নিখরচায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা বিপর্যস্ত পরিবারগুলোকে বড় ভরসা জুগিয়েছে, অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষও দ্রুত তদন্ত শুরু করে সুরক্ষার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে। প্রশাসন ও রেলের এই যৌথ সংবেদনশীলতা এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দুই পক্ষই বদ্ধপরিকর। ঘরের সন্তানকে হারানোর এই ক্ষতি হয়তো পূরণ হওয়ার নয়, তবে সরকার ও রেলের এই সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যতের জন্য কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসই এখন শোকস্তব্ধ এলাকায় সান্ত্বনার আলো দেখাচ্ছে।

  • Amit Shah WB Visit: চিকেনস নেক ও সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ জোর! ৩ দিনের মেগা সফরে বাংলায় অমিত শাহ

    Amit Shah WB Visit: চিকেনস নেক ও সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ জোর! ৩ দিনের মেগা সফরে বাংলায় অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের কৌশলগত ও ভৌগলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ (Chickens Neck Security)। এবার ‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah WB Visit)। তিন দিনের মেগা সফরে বাংলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৮ ও ১৯ জুলাই- ঠাসা প্রশাসনিক ও কৌশলগত কর্মসূচি রয়েছে শাহের। বঙ্গে নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত সুরক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক মহল।

    ‘চিকেনস নেক’ (Chickens Neck Security) বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা

    ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি করিডর, জলপাইগুড়ি ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ছাড়াও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, সুশাসন এবং একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনা ও শিলান্যাস করবেন অমিত শাহ।

    উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও জমি জট

    শিলিগুড়ি সংলগ্ন দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া এবং রাজগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক অংশে কাঁটাতারের বেড়াহীন উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। জমি জটিলতা, মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা ও স্থানীয় আপত্তির কারণে দীর্ঘদিন কাজ আটকে থাকলেও, বঙ্গে সরকার বদলের পর দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সফরসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে এই কাজের বর্তমান অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নতুন ওয়াচ টাওয়ার ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে জাতীয় সড়কসহ স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলিতে বিশেষ আধুনিক ক্যামেরা বসানোর কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করেছে পুলিশ। উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা ও শিলিগুড়ি মহকুমা ও দার্জিলিং জেলা আদালতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির আইনি অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজ নিতে পারেন শাহ।

    ‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষা ও জুম্মাগছ সীমান্ত পরিদর্শন

    উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষাকে পাখির চোখ অমিত শাহের। রাজ্য সফরের (Amit Shah WB Visit) দ্বিতীয় দিন, শনিবার সকালেই পরিদর্শন করবেন জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জুম্মাগছ ও বিএসএফ-এর ১৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি (BOP)। উল্লেখ্য, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই জুম্মাগছ এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে এই এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক রয়েছে শিলিগুড়ি করিডরের সার্বিক সুরক্ষা নিয়েও। বিএসএফ-এর পরিকাঠামো উন্নয়ন বৈঠকের পাশাপাশি, একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন শাহের। জুম্মাগছ এলাকায় বিএসএফ-সংক্রান্ত একাধিক নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন তিনি।

    সুশাসন ও নতুন তিন ফৌজদারি আইনের পর্যালোচনা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠকও। শনিবারই উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে দেশে কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন—’ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS), ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (BNSS) এবং ‘ভারতীয় সাক্ষ্য আইন’ (BSA)- রাজ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেও পর্যালোচনা বৈঠক করবেন শাহ। একইসঙ্গে রাজ্যের জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা নিয়েও একটি বিশেষ বৈঠকের সম্ভাবনা।

    কলকাতার সূচি (Amit Shah Kolkata Visit)

    ১৯ জুলাই, সফরের (Amit Shah WB Visit) শেষ দিনে কলকাতায় আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রবিবার সকালে কলকাতায় রাজ্যের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে নবনির্মিত ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ (Museum of Words)-এর প্রথম পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

    আমূল ডেয়ারির (Amul) শিলান্যাস

    এদিনই কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে আমূল ডেয়ারির (Amul) মেগা প্রজেক্টের শিলান্যাস করবেন অমিত শাহ। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই প্ল্যান্টটি হতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম দই প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট (Curd Processing Plant)। এর মাধ্যমে রাজ্যে নতুন লগ্নির পরিবেশ নিয়ে শিল্পপতিদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড় কোনও বার্তা দিতে পারেন বলেও মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

    বিজেপির পাখির চোখ বাংলা

    বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বুঝিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গ দিল্লির বিশেষ অগ্রাধিকারের তালিকায়। গত ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। সে সময় শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির ভিত্তি স্থাপন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ও সীমান্ত সুরক্ষার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এক সৌজন্য সাক্ষাতেও গিয়েছিলেন অমিত শাহ। যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। আর এবার চিকেনস নেকের (Chickens Neck Security) নিরাপত্তা পর্যালোচনা। সবমিলিয়ে রাজ্যের হাল ফেরাতে ডবল ইঞ্জিন সরকার কোনওকিছুতেই যে খামতি রাখতে নারাজ, তা বলাই বাহুল্য।

  • US Iran War: রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য, ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি? মার্কিন হামলায় কাঁপল ইরান, পাল্টা নিশানায় কুয়েত-বাহরাইন-কাতারের মার্কিন ঘাঁটি

    US Iran War: রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য, ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি? মার্কিন হামলায় কাঁপল ইরান, পাল্টা নিশানায় কুয়েত-বাহরাইন-কাতারের মার্কিন ঘাঁটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ছড়াচ্ছে আগুন। জর্ডান থেকে ওমান, কাঁপল একাধিক দেশ। সুইৎজারল্যান্ড বৈঠকের পরেই ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে নতুন করে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। ক্রমশ চরম আকার নিচ্ছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত। ষষ্ঠ রাতেও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন সামরিক বাহিনীর। মার্কিন হামলার পাল্টা হিসেবে বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েত, জর্ডান এবং সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। হামলা-পাল্টা (US Iran War) হামলায় পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য।

    হামলায় (US Iran War) এখনও পর্যন্ত নিহত

    গত ২২ জুন, সুইৎজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সূত্র অনুযায়ী, তারপর থেকেই মার্কিন হামলায় ইরানে (US Iran War) এখনও পর্যন্ত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতের হামলায় নিহত ৮ জন।

    ইরানে কোথায় কোথায় হামলা আমেরিকার?

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইরানের উপর সর্বশেষ বড় মাপের হামলাটি চালানো হয়। আমেরিকা নির্দিষ্ট জায়গার নাম না জানালেও ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটির অন্তত ৬টি সেতু, একটি রেল স্টেশনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের যে সেতুগুলি ধ্বংস হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, বান্দার আব্বাস থেকে খেমির ও লারা সংযোগকারী গারিভেহ সেতু। লাতিদান গ্রামের কাছের একটি সেতু। কাহুরেস্তান-লার রুটের দুটি সেতু। বন্দর আব্বাস ও খেমির সংযোগকারী একটি নির্মাণাধীন সেতু ও খেমির জেলার মারু গ্রামের একটি সেতু। এছাড়াও বিদ্যুৎ লাইনে আঘাতের জেরে বান্দার আব্বাস ও তার আশেপাশের গ্রামগুলো পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। তবে বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।

    ইরানের পাল্টায় কাঁপল কোন কোন দেশ?

    শুক্রবার সকালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (IRGC) আমেরিকার বিরুদ্ধে ১৩তম পাল্টা হামলা (US Iran War) চালায়। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে:

    • কাতার: শুক্রবার ভোরে কাতারে পরপর দুটি সতর্কতা জারি করা হয়। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো কাতারের আকাশেই ধ্বংস করে দেয় তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে দোহার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর তার ভাঙা টুকরো (Shrapnel) গায়ে পড়ে এক শিশু আহত হয়েছে।

    • বাহরাইন: এদিন সকালে বাহরাইনেও বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    • ওমান: ওমানের ঘানিম অঞ্চলে মার্কিন এয়ার কন্ট্রোল রেডার এবং হরমুজ প্রণালীতে একটি মেরিটাইম রেডার ধ্বংস করার দাবি ইরানের। এছাড়াও ওমানের খাসাব থেকে ৩৫ কিমি দূরে একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র।

    • কুয়েত: কুয়েতের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ইরানের হামলায় আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রেডার, অস্ত্রাগার এবং দুটি হিমার্স (HIMARS) মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস হয়।

    • জর্ডান ও সিরিয়া: জর্ডানের সেনাবাহিনী তাদের আকাশে তিনটি ইরানি মিসাইল গুলি করে নামিয়েছে। যদিও এতে কোনও হতাহতের খবর নেই। অন্যদিকে, সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ড সেন্টারেও হামলা ইরানের।

    আমেরিকা ও ইরানের নেতারা কী বলছেন?

    ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সরাসরি আমেরিকাকে দোষারোপ করেছেন। তাঁর দাবি, ‘‘হরমুজ প্রণালী আর কোনওদিন আগের অবস্থায় ফিরবে না।’’ অন্যদিকে, এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিস্ফোরক দাবি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের (JD Vance)। ইজরায়েল সরকারের কিছু সদস্য আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যাতে আমেরিকা ইরানের সঙ্গে কোনও শান্তি চুক্তি না করে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। দাবি ভ্যান্সের।

    কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে গত ২২ জুন সুইৎজারল্যান্ডে উভয়পক্ষ ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা পর্বে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই মুহুর্মুহু হামলা ও পাল্টা হামলার (US Iran War) জেরে সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি খাদের কিনারায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আর কেবল ওয়াশিংটন ও তেহরানের দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ক্রমশ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শান্তি চুক্তির আশা ম্লান হয়ে আসায় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চরম উদ্বেগ। এখন দেখার, আলোচনার টেবিল ফের কার্যকর হয়, নাকি ধ্বংসের এই চাকা আরও ঘূর্ণায়মান রূপ নেয়।

  • Rail Accident: লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলগাড়িতে ধাক্কা ট্রেনের! মৃত তিন পড়ুয়াসহ ৪, ‘মত্ত’ গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনা? তদন্তে রেল

    Rail Accident: লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলগাড়িতে ধাক্কা ট্রেনের! মৃত তিন পড়ুয়াসহ ৪, ‘মত্ত’ গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনা? তদন্তে রেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাতসকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মুর্শিদাবাদে (Murshidabad)। রেলগেট খোলা থাকায় লেভেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় (Rail Accident) পিষে গেল স্কুলগাড়ি। আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখার কর্ণসুবর্ণ স্টেশন এবং গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ডাউন লাইনে আসা একটি লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিন স্কুলপড়ুয়া-সহ মোট চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও চার পড়ুয়া এবং গাড়ির চালক। মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা। সিগন্যালের সমস্যা নেই, গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) বড় দুর্ঘটনা? তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ রেলের। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা রেলের।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Rail Accident)?

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার ঠিক আগেই আপ লাইন ধরে হাওড়াগামী নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যায়। সেই সময় নিয়ম মেনেই গেট ফেলা ছিল। কিন্তু ট্রেনটি পার হওয়ার পরই কর্তব্যরত গেটম্যান রেলগেটটি তুলে দেন। সেইসময় নির্দিধায় রেল লাইন পেরোচ্ছিল একটি স্কুলগাড়ি। আর তখনই আচমকাই লাইনে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। লাইনের উপর গাড়িটি চলে আসায় চালক আর গাড়ি সরানোর সুযোগ পাননি। সরাসরি স্কুলভ্যান ও এক সাইকেল আরোহীকে সজোরে ধাক্কা মারে লোকাল ট্রেনটি (Rail Accident)। কার্যত দুমড়েমুচড়ে যায় পড়ুয়াভর্তি স্কুলভ্যান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন পড়ুয়া এবং এক স্থানীয় বাসিন্দার। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িতে ছিল মোট ১০ জন পড়ুয়া। এই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় আরও চার পড়ুয়া এবং গাড়ির চালককে উদ্ধার করে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন পাঁচ জনের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    কাঠগড়ায় গেটম্যান: মদ্যপ থাকার অভিযোগ

    দুর্ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ট্রেনের সময়সূচি জানা থাকা সত্ত্বেও গেটম্যানের চরম অসতর্কতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটন। এমনকী পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই গেটম্যান মত্ত অবস্থায় ছিলেন। ইতিমধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেলের তরফে লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনার দায়ে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান এবং সুপারভাইজারকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ডও করা হয়েছে।

    রেলের অবস্থান- উচ্চপর্যায়ের তদন্ত

    পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে সিগন্যালের কোনও সমস্যা ছিল না। ট্রেন সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই আসছিল। যেহেতু এটি একটি ম্যানুয়ালি অপারেটেড ‘ইন্টারলকিং গেট’, তাই দুর্ঘটনার সময় গেটম্যানের ভূমিকা কী ছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রেল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। পূর্ব রেলের নির্দেশে ঘটনাস্থলে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য গঠন রেলের একটি মেডিক্যাল টিমও।

    শোকপ্রকাশ বিধায়কের

    মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে স্কুলগাড়িতে ট্রেনের ধাক্কার ঘটনায় (Rail Accident) তীব্র ক্ষোভ ও শোকপ্রকাশ বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্রের। তিনি বলেন, “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। এতগুলো স্কুল পড়ুয়ার এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঠিক কী কারণে? কার গাফিলতিতে এতগুলো তরতাজা প্রাণ চলে গেল? তা রেল কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা উচিত।”

    অধীর-রেলমন্ত্রী ফোনে কথা

    প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে যান বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সরাসরি রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধীর। এরপর ঘটনাস্থল থেকেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি জানান। এক লহমায় কয়েকটি পরিবারের সাজানো সংসার আর বুকভরা স্বপ্ন চুরমার। ভোরের আলো ফুটতেই যে তরতাজা হাসিমুখগুলো কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাদের নিথর দেহ আর রক্তভেজা বইখাতাগুলো পড়ে রইল রেললাইনের ধারে। চারপাশে কান্নার রোল আর স্বজনহারা মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের আকাশ-বাতাস। কোনও সান্ত্বনা, কোনও ক্ষতিপূরণই যে আর এই শূন্য কোলগুলিকে ভরিয়ে তুলতে পারবে না- সেই চরম ও নির্মম বাস্তবকে সঙ্গী করেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা।

  • RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    সুশান্ত দাস

    ভারত কি ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমাচ্ছে? কেন এক বছরে ২২.৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হল মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ? আবার কেনই বা বিদেশে রাখা শত শত টন সোনা দেশে ফিরিয়ে আনছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)? প্রথম নজরে এই ঘটনাগুলি আলাদা মনে হলেও, অর্থনীতিবিদদের মতে এগুলি আসলে একই কৌশলের অংশ। বিশ্বের দ্রুত বদলে যাওয়া ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ঝুঁকিমুক্ত করে তোলাই এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    কী ঘটেছে?

    ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভারতের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংসের পরিমাণ ২৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২২.৫ শতাংশ কমেছে মার্কিন সরকারি বন্ডে ভারতের বিনিয়োগ। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে ভারতের সোনার রিজার্ভ ৬৫৮ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে প্রায় ৮৮১ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে ৩৮০ টনেরও বেশি সোনা বিদেশের ভল্ট থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।এই দুটি পদক্ষেপকে একসঙ্গে দেখলেই ভারতের নতুন রিজার্ভ কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    কেন মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ কমাচ্ছে ভারত?

    এই প্রশ্নের সহজ উত্তর— ঝুঁকি কমানো। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ট্রেজারি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কারণ, মার্কিন অর্থনীতি এবং ডলারের উপর আন্তর্জাতিক আস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলেছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা দেশগুলির অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ হওয়ার নজির এবং বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা দেখিয়ে দিয়েছে, কোনও একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই কারণেই এখন অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক একই ঝুড়িতে সব ডিম না রেখে বিভিন্ন ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি নিচ্ছে।

    কেন সোনা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

    সোনা এমন একটি সম্পদ, যার মূল্য কোনও একক দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতির উপর নির্ভরশীল নয়। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রার অস্থিরতার সময়ও সোনা সাধারণত তার গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখে। তাই একে ‘সেফ হেভেন অ্যাসেট’ বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে সোনা শুধু একটি বিনিয়োগ নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রয়োজনে এটি সহজেই নগদে রূপান্তর করা যায় এবং কোনও বিদেশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর এর অস্তিত্ব নির্ভর করে না।

    বিদেশে সোনা রেখে ঝুঁকি কোথায়?

    অনেক দেশ ঐতিহাসিক কারণে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে তাদের সোনা সংরক্ষণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলি দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংঘাত বা নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতিতে বিদেশে রাখা সম্পদের উপর প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যেতে পারে। এই কারণেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ধীরে ধীরে দেশের ভল্টে সোনা ফিরিয়ে আনছে। এতে ভারতের সম্পদের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তা ব্যবহারের স্বাধীনতাও নিশ্চিত হচ্ছে।

    শুধু ভারত নয়, বিশ্বও একই পথে…

    ভারতের পাশাপাশি, চিন গত এক বছরে তাদের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংস ৭৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৬৫১.১ বিলিয়ন ডলারে এনেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আগামী বছরেও সোনার রিজার্ভ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ এটি কোনও একক দেশের সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় একটি বড় প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

    তাহলে কি ডলারের যুগ শেষ?

    এর মানে একেবারেই নয় যে, ডলারের যুগ শেষ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেল লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখনও মার্কিন ডলারই রয়েছে। ভারতও এখনও ১৮১ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি ধরে রেখেছে। অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডলার ছেড়ে দিচ্ছে না; বরং ডলারের পাশাপাশি সোনা ও অন্যান্য সম্পদের ভারসাম্য বাড়াচ্ছে। এটিকে ডি-রিস্কিং বলা যায়, ডি-ডলারাইজেশন নয়।

    ভারতের জন্য এর অর্থ কী?

    এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারে—

    • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
    • আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক সংকটের ঝুঁকি কিছুটা কমবে।
    • মূল্যস্ফীতির সময় রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বাড়বে।
    • বিদেশে রাখা সম্পদের উপর নির্ভরতা কমবে।
    • দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আরও নমনীয় হবে।

    আগামী দিনে কী নজরে রাখবেন?

    এখন নজর থাকবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরবর্তী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্যের দিকে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে চিন, জাপান, ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং ব্রিকস (BRICS) দেশগুলিও একই পথে এগোয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়, তাহলে আগামী দশকে বিশ্বের বৈদেশিক রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও মার্কিন ডলারের আধিপত্য রাতারাতি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি এখন আর একটিমাত্র সম্পদের উপর নির্ভর করে থাকতে চাইছে না।

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কৌশল কী?

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে শুধু মার্কিন ট্রেজারি বিক্রি বা সোনা কেনার ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। এটি এমন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, যার মূল লক্ষ্য ‘নিরাপত্তা, বৈচিত্র্য এবং সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ’। অর্থাৎ ভবিষ্যতের অনিশ্চিত বিশ্বে ভারতের বৈদেশিক রিজার্ভকে এমনভাবে সাজানো, যাতে কোনও একটি দেশের নীতি, নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধাক্কা দিতে না পারে। এই কারণেই অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন নয়, বরং আগামী দশকের বৈশ্বিক আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত প্রস্তুতি।

  • Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    Manish Gupta Quits TMC: তৃণমূল ও রাজনীতি ছাড়ছেন মণীশ গুপ্ত, একুশে জুলাইয়ের আগেই ফের বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত। একদা যে দলনেত্রীর এক ডাকে গোটা বাংলা কেঁপে উঠত, আজ তাঁরই পায়ের তলার মাটি ক্রমশ আলগা হচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগেই সেই ফাঁটল আরও চওড়া হল। এবার দল এবং সক্রিয় রাজনীতি- উভয় ক্ষেত্র থেকেই চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী তথা দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের চেয়ারম্যান মণীশ গুপ্ত। বৃহস্পতিবারই তিনি তাঁর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র (Manish Gupta Quits TMC) পাঠিয়ে দেবেন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত (Manish Gupta Quits TMC)?

    রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার নেপথ্যে ক্ষোভ এবং বয়স- উভয় কারণকেই দায়ী করেছেন প্রাক্তন এই আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ক্ষোভপ্রকাশ করে মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) বলেছেন, ‘‘তৃণমূলে আমাকে গত পাঁচ বছর ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। দল আমাকে সেভাবে ব্যবহার করেনি। একে আক্ষেপ বলবো না, তবে এই ধরনের অনেক কারণ তো রয়েছেই। একই সঙ্গে বয়সও একটা বড় বিষয়। ৮৫ বছর বয়স হল, আর রাজনীতি করব না বলে ঠিক করেছি।’’ তবে, তিনি এও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনও রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হতে চান না। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় জীবন কাটাতেই মনস্থির করেছেন মণীশ (Manish Gupta)।

    মণীশ গুপ্তের রাজনৈতিক সফর

    মণীশ গুপ্তের রাজনীতি ছাড়ার বিষযটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যখন মহাকরণ অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে যুব কংগ্রেসের আন্দোলন চলছিল এবং পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী মারা যান, তখন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ছিলেন এই মণীশ গুপ্তই। সেই সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলিচালনার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর, মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) নাটকীয়ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। দল তাঁকে বিধায়ক করার পাশাপাশি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর (বিদ্যুৎ দপ্তর) দায়িত্বও দেয়, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক মহলে কম চর্চা হয়নি। সেই ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগেই এবার তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি।

    বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা

    তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক দক্ষতার দরাজ প্রশংসাও করেছেন মণীশ গুপ্ত। তাঁর মতে, বাংলার উন্নয়নে বর্তমান সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর মতো দক্ষ প্রশাসক পেয়েছে বাংলা। তিনি যেভাবে কাজ করছেন, তাতে বাংলার উন্নয়ন কেউ আটকাতে পারবে না। একের পর এক নিয়ম অত্যন্ত দক্ষ হাতে সামলাচ্ছেন তিনি।’’

    সঙ্কটে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)?

    কিন্তু মণীশ গুপ্ত (Manish Gupta) একা নন, বিগত কয়েক বছরে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন যেভাবে ধিকিধিকি জ্বলেছে, তাতে একের পর এক শীর্ষ স্তরের নেতা মমতার (Mamata Banerjee) হাত ছেড়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। একে তো একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ, তার উপর দলের অন্দরে এই ভাঙনের হিড়িক। যে দল একদা একমুখী আবেগে চলত, তা আজ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের ঠিক মুখে যখন দলনেত্রী মমতার মঞ্চ থেকে নতুন বার্তা দেওয়ার কথা, ঠিক তখনই মণীশ গুপ্তের (Manish Gupta)  মতো প্রবীণ নেতার বিদায় দলটির বুনিয়াদকেই নাড়িয়ে দিল। প্রশ্ন একটাই- দলের এই রক্তক্ষরণ থামাতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নতুন কোনও রণকৌশল নেবেন? নাকি সময়ের নিয়মে এভাবেই খালি হতে থাকবে ঘাসফুল শিবির? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

LinkedIn
Share