Tag: বাংলা খবর

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শোভনদেব না ঋতব্রত? বিরোধী দলনেতা বিতর্কে নজিরবিহীন বিদ্রোহ তৃণমূলে। যার জেরে ভেঙে দু’টুকরো ঘাসফুল!

    তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট

    ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কার্যত দলীয় ভাঙনের রূপ নিয়েছে। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি জমা পড়েছে, যেখানে উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হয়েছে। পরে আরও ছ’জন এসে সই করবেন বলে জানানো হল ‘নতুন’ তৃণমূলের তরফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংখ্যার বিচারে তৃণমূলের বৃহত্তর অংশ এখন ঋতব্রতর নেতৃত্বে অবস্থান করছে বলে দাবি উঠেছে। যদিও বিদ্রোহী বিধায়করা এখনও নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটেননি এবং তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের সর্বোচ্চ নেত্রী।

    কী রয়েছে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে?

    বুধবার সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় গিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের হাতে ছিল ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি। সেই চিঠিতে শুধু ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদনই নয়, বিধানসভার তৃণমূল পরিষদীয় দলের নতুন কাঠামোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে—

    • ● বিরোধী দলনেতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● উপদলনেতা: সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহা
    • ● মুখ্য সচেতক: আখরুজ্জামান

    তবে স্পিকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিঠি গ্রহণ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার চিঠি গ্রহণ করে স্বীকৃতি দিলেই ঋতব্রত আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাবেন।

    কোথা থেকে শুরু হল বিতর্ক?

    এই রাজনৈতিক নাটকের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবপত্রে বহু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আনেন তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। তাঁরা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে সহায়তা করতে নামে সিআইডিও। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সিআইডি অন্তত ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বহিষ্কারের পরই বাড়ে বিদ্রোহ

    স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দেয় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এরপর একের পর এক বিধায়ক প্রকাশ্যে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বিদ্রোহী শিবিরের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর ফলে বিধানসভার অন্দরে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে তৃণমূল।

    ‘আদি’ বনাম ‘নব’ তৃণমূল?

    বুধবারের ঘটনাপ্রবাহের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—‘আদি তৃণমূল’ ও ‘নব তৃণমূল’। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরা কোনও নতুন দল গঠন করছেন না। তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসেরই প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও দলের সভানেত্রী হিসেবে মানেন। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতেও মমতার নাম সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিধানসভার সংখ্যার হিসাব বলছে, বিদ্রোহী শিবিরে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন, অন্যদিকে শোভনদেবকে সমর্থনকারী শিবিরে রয়েছেন ২২ জন বিধায়ক। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নে ঋতব্রত শিবিরের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতীক নিয়ে জল্পনা

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে— দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কোনও আইনি লড়াই তৈরি হতে পারে কি? যদিও এখনও পর্যন্ত বিদ্রোহী বিধায়করা আলাদা দল গঠনের কোনও ঘোষণা করেননি, তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন তাঁদের দিকে থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া

    পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী বিধায়কদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
    তাঁর বক্তব্য, যারা আজ এই পদক্ষেপ করছেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে প্রচার করেছেন এবং তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন যদি তাঁরা নেত্রীকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও স্বার্থে বা প্ররোচনায় কাজ করেন, তাহলে সাধারণ তৃণমূল কর্মী ও মানুষ তার বিচার করবেন। কুণাল আরও বলেন, ‘‘কারা কী জন্য কী করেছেন, তাঁরা চিঠি দিয়েছেন। আইনি পথে যা হওয়ার হবে। কিন্তু এভাবে চোরা-গোপ্তা কাজ করার কোনও প্রয়োজন ছিল না।’’

    এখন নজর স্পিকারের সিদ্ধান্তে

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ৫৮ বিধায়কের সমর্থনপত্র গ্রহণ করে তিনি যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন, তাহলে তা হবে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা। ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার মধ্যে এধরনের বিভাজন ঘটেছিল। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো প্রস্তাবও এখনও আলোচনায় রয়েছে। ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিধানসভায় তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে। রাজ্যের রাজনীতিতে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় সাংগঠনিক ও আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে। বুধবার সকালেই বিধানসভায় পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল বিধায়কও বিধানসভায় উপস্থিত হতে শুরু করেন। সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কদের সমর্থনপত্র নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সেই চিঠিতে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি। এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন—তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন কি এবার প্রকাশ্যে আসতে চলেছে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিধানসভার অন্দরে?

    সাসপেনশনের পর থেকেই জল্পনার সূত্রপাত

    সম্প্রতি ‘সই জাল’ কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। তারপর থেকেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নানা খবর সামনে আসতে থাকে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সাসপেনশনের পর থেকেই ঋতব্রত নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে একাংশ তৃণমূল বিধায়কের যোগাযোগও তৈরি হয়েছে বলে খবর। সেই প্রক্রিয়ারই পরিণতি হিসেবে নতুন একটি গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে বলে জল্পনা।

    বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার অঙ্ক

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়েছিল। তবে সাসপেনশনের কারণে ঋতব্রত ও সন্দীপন কার্যত দলের মূল শিবিরের বাইরে অবস্থান করছেন। সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে যদি নতুন গোষ্ঠী স্পিকারের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করে, তাহলে বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে তারা। সেই কারণেই এই চিঠিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা চিঠিতে শুধু সমর্থনকারী বিধায়কদের নামই নয়, সম্ভাব্য বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সিদ্ধান্ত স্পিকারের

    বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোন দল বা গোষ্ঠী বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে এবং কে বিরোধী দলনেতা হবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই থাকে। ফলে চিঠি জমা পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও রাজনৈতিক স্বীকৃতি মিলবে কি না, তা নির্ভর করবে অধ্যক্ষের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর। বিধানসভা বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যার অঙ্কের পাশাপাশি দলত্যাগ বিরোধী আইন, বিধানসভার বিধি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রশ্নগুলিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বাংলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শাসক দলের ভাঙন বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নজির থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভিতরে এই মাত্রার সমীকরণ পরিবর্তনের ঘটনা কার্যত অভূতপূর্ব। যদি সত্যিই বিপুল সংখ্যক বিধায়ক নতুন গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে তা শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নয়, গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাপস রায়ের মন্তব্যে বেড়েছে জল্পনা

    এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিধানসভায় ঢোকার পথে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং দলের ভিতরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসছে। তাপস রায়ের কথায়, “দলীয় ফলাফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই অসন্তোষ চেপে রেখেছিলেন। এখন সেই ক্ষোভ সামনে আসছে।” তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিভিন্ন স্তরে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

    নজর আজ স্পিকারের দফতরে

    সব মিলিয়ে বুধবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে নজর এখন বিধানসভা এবং স্পিকারের দফতরের দিকে। সত্যিই কি ৬০ বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা পড়বে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে? নাকি সবটাই রাজনৈতিক জল্পনা? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে এতটুকু স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

  • Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa) আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান দাবাড়ু হিসেবে ধরা হয়। নরওয়ে চেস ২০২৬-এর অষ্টম রাউন্ডে কিংবদন্তি ম্যাগনাস কার্লসেনকে (Magnus Carlsen) হারিয়ে এক বিরল কৃতিত্বের মালিক হলেন ২০ বছরের এই ভারতীয়।

    একই প্রতিযোগিতায় কার্লসেনকে দুবার মাত!

    এর আগে, ২৭ মে টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডে সাদা ঘুঁটি নিয়ে কার্লসেনকে পরাজিত করেছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। বুধবার অষ্টম রাউন্ডে কালো ঘুঁটি নিয়েও একই কীর্তি গড়ে তিনি কার্যত ইতিহাস সৃষ্টি করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের নরওয়ে চেসেও তিনি কার্লসেনকে হারিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গত ১৯ বছরে ক্লাসিক্যাল দাবায় কোনও খেলোয়াড় একই টুর্নামেন্টে কার্লসেনকে দু’বার হারাতে পারেননি। সর্বশেষ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ভারতেরই কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ (Viswanathan Anand), যিনি ২০০৭ সালের লিনারেস আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় নরওয়েজিয়ান মহাতারকাকে দু’বার পরাজিত করেছিলেন।

    ‘কার্লসেনকে হারানো নয়, ম্যাচ জেতাটাই গুরুত্বপূর্ণ’

    বিশ্ব দাবা মহলে এই জয় নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও প্রজ্ঞানন্দ নিজে কিন্তু অত্যন্ত সংযত। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, তাঁর কাছে কার্লসেনকে হারানোর চেয়ে টুর্নামেন্টে জয় পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রজ্ঞানন্দ বলেন, “ম্যাগনাসকে হারানোর চেয়ে এই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচ জেতা এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি খুশি যে সেটা করতে পেরেছি।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে সামগ্রিক টুর্নামেন্ট ফলাফল নিয়েই বেশি ভাবছেন ভারতের এই তরুণ তারকা।

    শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন কার্লসেন

    জয়ের পরেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর মতে, পুরো ম্যাচজুড়েই অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন কার্লসেন। ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বলেন, “কার্লসেন অত্যন্ত ভালো খেলছিলেন এবং অসাধারণভাবে ডিফেন্ড করছিলেন। অনেক খেলোয়াড় এই ধরনের চাপে ছোটখাটো পজিশনাল ভুল করে বসতেন। কিন্তু তিনি বারবার সঠিক চাল খুঁজে বের করছিলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “একটা সময় আমি সত্যিই ভেবেছিলাম ম্যাচটা ড্র হতে চলেছে। এত ভালোভাবে রক্ষণ করার পর শেষ পর্যন্ত ওর এমন ভুল করা কিছুটা বিস্ময়কর ছিল।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে ম্যাচের ফলাফল যতটা না একতরফা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল মানসিক ও কৌশলগত লড়াইয়ের ফল।

    টাইম স্ক্র্যাম্বলই এখন প্রধান চিন্তা

    বর্তমান ফর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট প্রজ্ঞানন্দ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সময় ব্যবস্থাপনা এখনও তাঁর দুর্বলতার জায়গা। তিনি বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমি ভালো খেলছি। কিন্তু টাইম স্ক্র্যাম্বল পরিস্থিতিগুলো আমার পক্ষে যাচ্ছে না। তাই ঘড়িতে আরও সময় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব এবং গত কয়েক রাউন্ডে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলতে চাই।” টুর্নামেন্টের বাকি অংশের আগে বিশ্রাম নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    শেষ দুই রাউন্ডে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্রাম দিবসের পর টুর্নামেন্টের শেষ দুই রাউন্ডে নামবেন প্রজ্ঞানন্দ। নবম রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ (D Gukesh)। যদিও চলতি সপ্তাহে গুকেশ নিজের সেরা ছন্দে নেই, তবুও দুই ভারতীয় তারকার এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্তিম রাউন্ডে প্রজ্ঞানন্দের প্রতিপক্ষ জার্মানির ভিনসেন্ট কাইমার (Vincent Keymer)।

    শিরোপার দৌড়ে এখনও জোরালোভাবে রয়েছেন

    অষ্টম রাউন্ডের শেষে পয়েন্ট তালিকায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর সামনে রয়েছেন মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো (Wesley So), যার সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আলিরেজা ফিরুজা (Alireza Firouzja), যার ঝুলিতে ১৩ পয়েন্ট। শেষ দুই রাউন্ডে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারলে এখনও শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় তারকার সামনে। অন্তত পডিয়াম ফিনিশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি শেষ লড়াইয়ে নামবেন।

    ভারতীয় দাবার নতুন সোনালি অধ্যায়

    গত কয়েক বছরে বিশ্ব দাবায় ভারতের উত্থান অভূতপূর্ব। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশ, প্রজ্ঞানন্দ, অর্জুন এরিগাইসি, অরবিন্দ চিদম্বরমদের মতো তরুণরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন। তারই মধ্যে নরওয়ে চেসে ম্যাগনাস কার্লসেনকে একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারিয়ে প্রজ্ঞানন্দ যে নজির গড়লেন, তা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় দাবার ক্রমবর্ধমান শক্তিরও এক উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯ বছর আগে বিশ্বনাথন আনন্দ যে কীর্তি গড়েছিলেন, আজ সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নামও লিখিয়ে ফেললেন চেন্নাইয়ের এই বিস্ময়বালক।

  • Surendranath College Scandal: ইউনিয়ন রুমে উইয়ে খাওয়া টাকার পাহাড়! সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভিতরে এসি বেডরুম, ব্যাগভর্তি নোট, অস্ত্র উদ্ধার ঘিরে তোলপাড়

    Surendranath College Scandal: ইউনিয়ন রুমে উইয়ে খাওয়া টাকার পাহাড়! সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভিতরে এসি বেডরুম, ব্যাগভর্তি নোট, অস্ত্র উদ্ধার ঘিরে তোলপাড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে একাধিক চাঞ্চল্যকর সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইউনিয়ন রুমে মশা দমনের ওষুধ স্প্রে করতে গিয়ে উদ্ধার হয়েছে দুটি ব্যাগ ভর্তি উইপোকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। পাশাপাশি কলেজের ছাদে মিলেছে দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বিলাসবহুল ঘর, যেখানে ছিল খাট, আলমারি, বালিশ, তোয়ালে-সহ নানা সামগ্রী। উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, কন্ডোম, ভর্তি সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও।

    উইয়ে খাওয়া ২ ব্যাগভর্তি টাকা!

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কলকাতা পুরসভার কর্মীরা কলেজের ইউনিয়ন রুম খুলতে বলেন। অধ্যাপকদের অনুমতি নিয়ে ঘরের তালা ভাঙার পর আলমারির ভিতর থেকে দুটি ব্যাগে রাখা বিপুল পরিমাণ ১০০ ও ৫০০ টাকার পুরনো নোট উদ্ধার হয়। নোটগুলির অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক তৃণমূল নেতার নিয়ন্ত্রণে ছিল ওই ইউনিয়ন রুম। সেখান থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বহু অ্যাডমিট কার্ড, ভর্তি ফর্ম, কন্যাশ্রী প্রকল্প সংক্রান্ত নথি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া কলেজের ছাদে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া গিয়েছে একাধিক মদের বোতল এবং কন্ডোম। এগুলি কারা ব্যবহার করত এবং কোনও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে এর যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    পাঁচতলায় জোড়া এসি ঘর!

    এদিকে কলেজের পাঁচতলায় দুটি বিলাসবহুল এসি কক্ষেরও সন্ধান মেলে। ঘরগুলিতে খাট, আলমারি, আধুনিক শৌচালয় এবং সংলগ্ন ছাদ রয়েছে। চাবি না মেলায় তালা ভেঙে ঘরগুলি খোলা হয়। উপস্থিত কলেজ কর্তৃপক্ষও এমন ব্যবস্থার অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। কলেজের টিচার-ইন-চার্জ পূর্ণেন্দু প্রকাশ পাল জানান, পরিচালন সমিতির বৈঠকে একটি রেস্ট রুম তৈরির আলোচনা হয়েছিল ঠিকই, তবে এই ধরনের দুটি পূর্ণাঙ্গ শোয়ার ঘর রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘরগুলি তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে প্রমাণিত হয়নি।

    তৃণমূলের দুর্নীতির প্রমাণ, বললেন সজল

    ঘটনার জেরে সরব হয়েছেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি চালিয়েছেন এবং সেই সূত্রেই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছিল। গত সপ্তাহেই তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। সজল ঘোষের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া অর্থ সাধারণ মানুষের টাকা এবং ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলেও দাবি তাঁর।

    দায়ী সুদীপ-নয়না, দাবি সজলের

    এছাড়াও সজল ঘোষ অভিযোগ করেন, এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়িকা নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কলেজগুলিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া অর্থ সেই চক্রেরই অংশ। তিনি ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির হাতে তুলে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে।

  • Munambam: কেরলে চার দেশক ধরে বসবাস করা হিন্দু মৎস্যজীবীদের কেনা জমিতে দখল বসাতে চায় ওয়াকফ, অন্দরের গল্পটা কেমন?

    Munambam: কেরলে চার দেশক ধরে বসবাস করা হিন্দু মৎস্যজীবীদের কেনা জমিতে দখল বসাতে চায় ওয়াকফ, অন্দরের গল্পটা কেমন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজকের সত্যটা শুনলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। আচ্ছা, আপনি যে জমিতে আজ বাড়ি বানিয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, কাল সকালে উঠে যদি শোনেন সেই জমিটা আর আপনার নয়, ওটা রাতারাতি একটা ধর্মীয় বোর্ডের সম্পত্তি হয়ে গেছে—কেমন লাগবে আপনার? ভাবছেন অবাস্তব? কাল্পনিক গল্প? একদমই নয়! দেশের বুকে এটাই এখন রূঢ় বাস্তব। কেরলের এরনাকুলাম জেলার মুনামবাম (Munambam) গ্রাম। যেখানে ৬০০-র বেশি সনাতন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার গত চার দশক ধরে নিজেদের রক্ত জল করা টাকায় কেনা জমিতে বাস করছেন, সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছেন, রেজিস্ট্রি দলিল পকেটে নিয়ে ঘুরছেন—আজ তারা নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে রাস্তায় বসে কাঁদছেন! বর্তমান ইউডিএফ (UDF) সরকার চুপ।

    গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে (Munambam)?

    কারণটা কী জানেন? কারণ, কেরলের ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ফতোয়া জারি করেছে—পুরো মুনামবাম (Munambam) গ্রামটাই নাকি তাদের সম্পত্তি! দলিল, আইন, আদালত—সব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক নিমেষে কয়েকশো পরিবারকে রিফিউজি বানানোর ছক কষা হয়েছে। আর এই গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে? কেরলের বামপন্থী আর কংগ্রেস জোটের সেই চেনা ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ (Appeasement Politics)! সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক বাঁচানোর জন্য তারা আজ নিশ্চুপ, অসহায় সাধারণ মানুষের কান্না তাদের কানে পৌঁছাচ্ছে না।

    কিন্তু পাপ তো আর চাপা থাকে না! মোদি সরকার যখনই ওয়াকফ বোর্ডের এই একনায়কতন্ত্রের ডানা ছাঁটতে ‘উমিদ’ (UMEED) পোর্টাল আনল এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং শুরু করল—অমনি কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ল! ওয়াকফ বোর্ডের ভেতরের এই বিশাল জমি দখলের খেলা আজ হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে। কী এই মুনামবাম বিতর্ক? কীভাবে ওয়াকফ আইনের অপব্যবহার করে একটি আস্ত গ্রাম গিলে খাওয়ার চেষ্টা চলছে?

    শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল

    কীভাবে একটা আস্ত গ্রামকে ওয়াকফ সম্পত্তির তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হল? ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫০ সালে থেকেই। সিদ্দীক শেঠ নামের এক মুসলিম ব্যবসায়ী কোঝিকোড়ের ফারুক কলেজকে (Farook College) শিক্ষার প্রসারের জন্য মুনামবাম (Munambam) এলাকার প্রায় ৪০৪ একর উপকূলীয় জমি দান করেন। তবে এটি ছিল ফারুক কলেজকে দেওয়া একটি সাধারণ দানপত্র বা ‘গিফট ডিড’। শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল, কোনও ধর্মীয় ওয়াকফ করার জন্য নয়।

    ১৯৮৮ সালে ফারুক কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় এই জমির কিছু অংশ তারা বিক্রি করে দেবে। এলাকার প্রায় ৬১০টি গরিব পরিবার—যাদের সিংহভাগই খ্রিস্টান এবং হিন্দু মৎস্যজীবী সম্প্রদায়—নিজেদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, আনুমানিক ৩৩ লক্ষ টাকা দিয়ে আইনি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ফারুক কলেজের থেকে এই জমি কিনে নেয়। বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে এই মানুষগুলো সেখানে ঘর বানিয়েছে, রক্ত জল করে চাষবাস করেছে, প্রতি বছর সরকারকে জমির ট্যাক্স দিয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালে ঘটল সেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড! কেরল রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দাবি করল—এই পুরো ৪০৪ একর জমি আদতে ফারুক কলেজের নয়, ওটা ওয়াকফ সম্পত্তি! অতএব, ১৯৮৮ সালে সাধারণ মানুষ যে জমি কিনেছিল, সেই কেনাবেচার কোনো আইনি মূল্যই নেই! সরকারও গোটা বিষয় (UDF) নিয়ে চুপ।

    কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়া

    আজ কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়াকান্না কাঁদছে। মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন বলছেন, “কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যখন ২০১৯ সালে ওয়াকফ বোর্ড এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন এই তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো কোথায় ছিল? ভোটব্যাংক হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তারা চুপ করে বসে ওয়াকফ বোর্ডের এই আগ্রাসনকে লাইসেন্স দিয়েছিল।”

    ইতিমধ্যে মুনামবামের হিন্দু এবং খ্রিস্টান সমাজ একজোট হয়ে রাস্তায় নেমেছে। তারা বুঝে গেছে, এই ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো তাদের রক্ষা করবে না। আজ সারা দেশের মানুষ স্পষ্ট দেখছে—কেন মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিল আনাটা কতটা জরুরি ছিল। যদি এই আইন সংশোধন না করা হয়, তবে আজ কেরলের মুনামবাম (Munambam), কাল আপনার বা আমার ঘরের জমিও এভাবে ওয়াকফ বোর্ড কেড়ে নিতে পারে!

    মুনামবাম গ্রামে আজ শত শত হিন্দু ও খ্রিস্টান পরিবার চোখের জল ফেলছে, এর আসল অপরাধী কে? এর আসল খলনায়ক হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং তাদের দশকের পর দশক ধরে চালানো নির্লজ্জ ‘মুসলিম তোষণ’ নীতি।

    আজ কংগ্রেসের নেতারা কেরলে গিয়ে বড় বড় কথা বলছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভণ্ডামি করছেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আছে, এই ওয়াকফ বোর্ডকে দেশের সংবিধান এবং আদালতের ওপরে বসিয়ে দিয়ে একটা ‘সমান্তরাল সরকার’ চালানোর লাইসেন্স কারা দিয়েছিল? উত্তরটা হল—কংগ্রেস (UDF)!

    ফিরে যান ১৯৯৫ সালে। কেন্দ্রে তখন পি. ভি. নরসিমা রাও-এর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে নিজেদের পকেটে রাখতে কংগ্রেস দেশের সংসদে এমন এক কালো আইন পাস করল, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈষম্যমূলক—’ওয়াকফ অ্যাক্ট ১৯৯৫’।

    ওয়েনাডের সাংসদ একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি?

    কেরলের (Munambam) পরিস্থিতি আরও মারাত্মক। সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (IUML)। কেরলে ক্ষমতা (UDF) টিকিয়ে রাখতে এবং মুসলিম লীগের ভোটব্যাংক নিশ্চিত করতে কংগ্রেস সেখানে সবসময় ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি অন্যায় পদক্ষেপের সামনে নতজানু হয়ে থেকেছে।

    ২০১৯ সালে যখন ওয়াকফ বোর্ড মুনামবামের গরিব মৎস্যজীবীদের জমি নিজেদের বলে কেড়ে নিল, তখন কেন কংগ্রেসের রাজপুত্র রাহুল গান্ধী—যিনি কেরলেরই ওয়েনাডের সাংসদ ছিলেন—একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি? কেন তখন ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরা এই দলগুলো নীরব ছিল? কারণ একটাই—সাধারণ হিন্দু বা খ্রিস্টান মৎস্যজীবীদের কান্নার চেয়ে তাদের কাছে মুসলিম লীগের ভোটব্যাংকের মূল্য অনেক বেশি!

    মুনামবামের ঘটনা আজ ভারতের চোখ খুলে দিয়েছে। দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কংগ্রেসের এই তোষণের রাজনীতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকারের জন্য কতটা বড় হুমকি!

    মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে

    আজ কেরলের মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। কিন্তু সুখের বিষয় এটাই যে, আজ আর ভারত আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। দিল্লিতে আজ এমন এক সরকার রয়েছে, যারা ভোটব্যাংকের তোষণ নয়, বরং ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’-এর নীতিতে বিশ্বাস করে।

    আজ নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতার কারণেই ‘উমিদ’ পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি গোপন পদক্ষেপ দেশের মানুষের সামনে চলে আসছে। আর সেই কারণেই আজ দেশের আপামর জনতা—তা সে হিন্দু হোক বা খ্রিস্টান—একজোট হয়ে মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিলের পক্ষে সওয়াল করছে। দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এই বৈষম্যমূলক আইনের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি (UDF)।

    মুনামবামের মানুষ আজ লড়াই করছেন তাদের ভিটেমাটি বাঁচানোর জন্য, আর আমাদের লড়াই করতে হবে এই তোষণের রাজনীতির ধারক-বাহকদের দেশ থেকে রাজনৈতিকভাবে উপড়ে ফেলার জন্য। যাতে ভবিষ্যতে ভারতের আর কোনো মুনামবাম গ্রামকে এভাবে চোখের জল ফেলতে না হয়।

  • Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ মিলবে, তারকেশ্বর থেকেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ মিলবে, তারকেশ্বর থেকেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের একাধিক জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়ন করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এক বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, “অন্নপূর্ণা যোজনা-র (Annapurna Yojana) আওতায় প্রতিশ্রুতি মতন অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া বুধবার (৩ জুন) থেকেই শুরু হতে চলেছে।” এই প্রসঙ্গে তিনি মঙ্গলবার তারকেশ্বর থেকে আরও বলেন, “যত দ্রুত ফর্ম ফিলআপ হবে, তত দ্রুতই চালু হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার।” এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ও পারদ চড়তে শুরু করেছে।

    ঘুষপেটিয়াকে টাকা দেওয়া হবে না (Annapurna Yojana)

    উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য এই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র (Annapurna Yojana) কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। শাসকদলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এরপর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় যে রাজ্যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। ২০২৬ সালে ঐতিহাসিক রায়ে বিধানসভায় বিজেপি সরকার গড়তেই ঠিক কথা মতো কাজ শুরু করে দিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তারকেশ্বরে বলেন, “কাল থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া শুরু হবে। যাঁরা ফর্ম পূরণ করেছেন, তাঁরা টাকা পাবেন। আমরা যা বলি, ভেবেচিন্তেই বলি। কোনও ঘুষপেটিয়াকে টাকা দেওয়া হবে না। সরকারি ভাতা যোগ্যদের পাশাপাশি অযোগ্যদের খাতায়ও ঢুকেছে। যাঁরা অন্নপূর্ণার ফর্ম এখনও পূরণ করেননি, তাঁরাও বঞ্চিত হবেন না। তাঁদের অ্যাকাউন্টেও আগের মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে।”

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠ করেছেন, ছাড়ব না

    এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আগামীকাল থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই যোজনার অর্থ সরাসরি প্রেরণের প্রক্রিয়া আরম্ভ হবে। যাঁরা ১২ পাতা, ১৬ পাতা, ১৮ পাতা করছেন, এই জনগণের দ্বারা রিজেক্টেড নেতা এবং তাঁদের দলের লোকেদের বলব যে, এই সংখ্যাটা কত হবে আমরা জানি না। তাঁদের আমলে অনুপ্রবেশকারীরা তো ভাতা পেয়েছেনই, তার সঙ্গে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, যাঁরা মহিলা নন বা এই কর্মসূচির আওতায় আসেন না, তাঁরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Annapurna Yojana) লুঠ করেছেন। আমি কাউকে ছাড়বো না।”

    দুর্নীতি নিয়ে সরব

    একই সঙ্গে, এই কর্মসূচির ঘোষণা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্যের বর্তমান শাসকদল ও রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যের বর্তমান প্রশাসন সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও কেন্দ্রীয় অনুদান সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি প্রশ্রয় পাচ্ছে। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া এবং এই রাকিবুল, মুস্তাফিজুর, তারিকুলরা মিলে অন্তত ৩০ লক্ষ ভুয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলেছে। ৩০ লক্ষ গুণিতক ১৫০০ টাকা করে যদি হিসাব করেন, জনগণের কত হাজার কোটি টাকা এরা লুঠ করেছে, এটা তার প্রমাণ। আমরা এদের একেবারে গ্রাসরুট থেকে ক্র্যাক ডাউন করব আইনের মাধ্যমে।”

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে শুভেন্দু অধিকারীর এই দ্রুত পদক্ষেপ (Annapurna Yojana) এবং পাল্টা প্রকল্প চালুর ঘোষণা আসলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে গ্রামীণ ও শহরতলীর মহিলা ভোটারদের নিজেদের পক্ষে ধরে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল।

  • Asansol TMC Councillor: ত্রাণের ত্রিপল ‘চুরি’! গ্রেফতার আসানসোলের তৃণমূল কাউন্সিলর, দুর্নীতির অবসাদে বাদুড়িয়ায় ‘আত্মঘাতী’ পঞ্চায়েত প্রধান

    Asansol TMC Councillor: ত্রাণের ত্রিপল ‘চুরি’! গ্রেফতার আসানসোলের তৃণমূল কাউন্সিলর, দুর্নীতির অবসাদে বাদুড়িয়ায় ‘আত্মঘাতী’ পঞ্চায়েত প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি ত্রাণের ত্রিপল আত্মসাৎ এবং তা কালোবাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগে আসানসোল পুরনিগমের এক তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরকে (Arrested Asansol TMC Councillor) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত জনপ্রতিনিধির নাম মোহিত শর্মা (বাপ্পা), যিনি আসানসোলের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাসকদলের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজ বাসস্থান থেকে জাহিদুল হক বৈদ্য নামে এক তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ত্রাণের ত্রিপল চুরি মামলায় অভিযুক্ত। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত দুর্নীতির চাপে অবসাদ থেকে মৃত্যু।

    গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ লোগোযুক্ত সরকারি ত্রিপল উদ্ধার (Arrested Asansol TMC Councillor)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য সরকারি তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল বরাদ্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ, কাউন্সিলর মোহিত শর্মা (Arrested Asansol TMC Councillor) সেই ত্রাণের ত্রিপল দুস্থদের মধ্যে বণ্টন না করে, নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তা একটি গুদামে লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ত্রিপলগুলি খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে এই দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার পর, পুলিশ আধিকারিকরা আসানসোলের সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালান। তল্লাশি চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ লোগোযুক্ত সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়। এই অবৈধ মজুতকরণের বিষয়ে কাউন্সিলর কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় এবং নথিপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

    আরও বড় কোনো চক্র সক্রিয়

    এদিকে এই ঘটনার পর আসানসোলের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এই রূপ দুর্নীতি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এর পেছনে আরও বড় কোনও চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দল কোনও রূপ দুর্নীতি বা অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেয় না। আইন আইনের পথেই চলবে এবং প্রশাসন এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বর্তমানে ধৃত কাউন্সিলরকে (Arrested Asansol TMC Councillor) পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারোও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

    মানসিক অবসাদেই আত্মহনন

    উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজ বাসস্থান থেকে জাহিদুল হক বৈদ্য নামে এক তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ব্যক্তি বাদুড়িয়ার যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান (Baduria TMC Panchayat Pradhan) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদের কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের বিরুদ্ধে তীব্র আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছিল। গত ৩১ মে এলাকার অধিবাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। স্থানীয়দের দাবি, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর আওতাধীন যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য বরাদ্দ ১২টি অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার সরকারি গাড়ি তিনি গোপনে বিক্রি করে দেন এবং সেই অর্থ সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেন।

    তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপে ছিলেন

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রবিবার বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা প্রধানের (Baduria TMC Panchayat Pradhan) বাসভবনের সম্মুখে সমবেত হয়ে তীব্র গণবিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। এই প্রেক্ষিতে স্থানীয় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপে ছিলেন ওই জনপ্রতিনিধি।

    বৈবাহিক জীবনেও চরম পারিবারিক অশান্তি

    মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা জানতে পারেন যে, জাহিদুল হক বৈদ্য নিজ গৃহের অভ্যন্তরে আত্মঘাতী হয়েছেন। খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঝুলন্ত অবস্থা থেকে প্রৌঢ়ের দেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল শেষে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, মৃতের পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ ছাড়াও জাহিদুল দীর্ঘদিন ধরে গভীর আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন। একই সাথে তাঁর বৈবাহিক জীবনেও চরম পারিবারিক অশান্তি চলছিল। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আকস্মিক প্রয়াণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

  • TMC MLA Debaprasad Bag: ব্যর্থ পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা! গ্রেফতার ত্রাণ দুর্নীততে অভিযুক্ত কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক

    TMC MLA Debaprasad Bag: ব্যর্থ পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা! গ্রেফতার ত্রাণ দুর্নীততে অভিযুক্ত কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব বর্ধমানের কালনায় (Kalna) সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বণ্টনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কালনা উত্তর কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগকে (TMC MLA Debaprasad Bag) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে কালনা শহরে তাঁর নিজ বাসস্থান থেকে নাদনঘাট থানার পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে হেফাজতে নেন। তবে নাটকীয় কায়দায় আত্মগোপন এবং পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ পাকড়াও করে।

    পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর করার চেষ্টা (TMC MLA Debaprasad Bag)

    তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন পূর্বে এই একই মামলায় কালনা (Kalna) ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি প্রণব রায়কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের (TMC MLA Debaprasad Bag) নাম উঠে আসে। সেই তথ্যের সূত্র ধরে সোমবার গভীর রাতে পুলিশ তাঁর বাসভবনে পৌঁছায়। অভিযোগ, পুলিশ পৌঁছানোর পরও দীর্ঘক্ষণ বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার উন্মোচন করা হয়নি এবং প্রাক্তন বিধায়ক ভেতর থেকে কোনও সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তিনি পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর করার চেষ্টা করলেও পুলিশ তা ব্যর্থ করে এবং তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    চোর চোর স্লোগান

    এই ঘটনার সূত্রপাত হয় কালনা (Kalna) ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায়ের গ্রেফতারির মধ্য দিয়ে। ত্রাণ দুর্নীতির মামলায় ধৃত প্রণব রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই দেবপ্রসাদ বাগের (TMC MLA Debaprasad Bag) নাম উঠে আসে। সোমবার গভীর রাতে কালনা থানার পুলিশ আধিকারিকরা ধৃত ব্লক সভাপতিকে সঙ্গে নিয়েই প্রাক্তন বিধায়কের বাসভবনে হানা দেন। পুলিশ যখন সেখানে পৌঁছায়, তখন বাড়িটি সম্পূর্ণ অন্ধকার এবং মূল ফটক ভেতর থেকে তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। তবে তদন্তকারীদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য ছিল যে, প্রাক্তন বিধায়ক বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছেন এবং গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী জেলা হুগলির দিকে আত্মগোপন বা পালিয়ে যাওয়ার একটি ‘ফিল্মি ধাঁচের’ পরিকল্পনা করেও ছিলেন।

    এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সারারাত বাড়িটি চতুর্দিক থেকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এদিকে গভীর রাতে এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় অধিবাসী সেখানে সমবেত হন। ক্ষুব্ধ জনতা বাড়ির বাইরে সমবেত হয়ে প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। অবশেষে ভোরের দিকে পেছনের দরজা দিয়ে কৌশলে গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করতেই সতর্ক পুলিশ বাহিনী তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করে।

    প্রণব রায় ও প্রাক্তন বিধায়ককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা

    বর্তমানে আটক দেবপ্রসাদ (TMC MLA Debaprasad Bag) বাগকে কালনা (Kalna) থানায় নিয়ে গিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি সূত্রের খবর, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দুর্নীতির জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা উদঘাটন করতে ধৃত ব্লক সভাপতি প্রণব রায় ও প্রাক্তন বিধায়ককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে বয়ান মেলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে দুর্নীতির উৎস ও নথিপত্র সন্ধানে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

    টিভি মেকানিক থেকে কোটিপতি! প্রাসাদোপম বাড়িতে মাটির নীচে গোপন কক্ষ 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক জীবন শুরুর পূর্বে দেবপ্রসাদ বাগ (TMC MLA Debaprasad Bag) পেশায় একজন সাধারণ টেলিভিশন মেকানিক বা মিস্ত্রি ছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এসে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কালনা উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হন। অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর থেকেই তাঁর আর্থিক প্রতিপত্তি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাধারণ জীবনযাত্রা থেকে উন্নীত হয়ে তিনি কালনা শহরে একটি সুবিশাল বিলাসবহুল প্রাসাদের মতো বাসভবন নির্মাণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সেই প্রাসাদের অভ্যন্তরে আকাশছোঁয়া মূল্যের আসবাবপত্র, আধুনিক অন্দরসজ্জা এবং একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ গোপন কক্ষও রয়েছে, যা নিয়ে নানা রহস্য দানা বেঁধেছে।

    দিকে দিকে তৃণমূল নেতাদের অস্বস্তি

    রাজ্যের পালা বদল হতেই তৃণমূল বিধায়কদের দুর্নীতির তথ্য সামনে উঠে আসছে রোজ। ইতিমধ্যে আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের দ্বারা বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন। রাজ্যে প্রাক্তন থেকে বর্তমান বিধায়ক, সাংসদদের দলীয় কার্যালয় থেকে উঠে আসছে দুর্নীতির সামগ্রী। কোনও কার্যালয় থেকে উদ্ধার হচ্ছে পুরসভার ময়লা ফেলার বালতি, আবার কোনও কোনও কার্যালয় থেকে উদ্ধার হচ্ছে ত্রাণের ত্রিপল। একই ভাবে বর্ধমান জেলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস আর্থিক তছরূপের বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশ থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল ফোর্স। অপরদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি জনসমক্ষে বিজেপির নেতা কর্মীদের মারার প্রকাশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। এখানেই থেমে নেই পুলিশের অ্যাকশনের পাশাপাশি আমজনতাও তৃণমূল নেতাদের প্রকাশ্যে চোর চোর স্লোগান এবং পচা ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ করছেন। সম্প্রতি পচা ডিমের শিকার হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে বেকাদায় দলের নেতা-নেত্রীরা।

  • Modi Meets Min Aung Hlaing: চিনকে টেক্কা দিতে মায়ানমারের বিরল খনিজে নজর ভারতের! মোদি-মিন অং হ্লাইং বৈঠকে বড় বার্তা

    Modi Meets Min Aung Hlaing: চিনকে টেক্কা দিতে মায়ানমারের বিরল খনিজে নজর ভারতের! মোদি-মিন অং হ্লাইং বৈঠকে বড় বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বিরল খনিজ মৌল বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements, সংক্ষেপে REE)-এর জোগান নিয়ে যখন নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তখন মায়ানমারের সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং-এর ভারত সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। পাঁচ দিনের ভারত সফরের অংশ হিসেবে সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি মায়ানমারের বিপুল বিরল খনিজ সম্পদও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মে ৩০ থেকে জুন ৩ পর্যন্ত চলা এই সফরে মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ভারতের শীর্ষ শিল্পপতিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মায়ানমারের বিরল মৃত্তিকা খনিজ সম্পদ, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ মায়ানমারের বিরল খনিজ মৌল?

    বর্তমানে মায়ানমার বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বিরল খনিজ মৌল উৎপাদনকারী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের পরেই তার অবস্থান। বিশেষ করে দেশটির কাচিন ও শান প্রদেশে বিপুল পরিমাণে মজুত রয়েছে ভারী বিরল খনিজ মৌল— ডিসপ্রোসিয়াম (Dysprosium) এবং টার্বিয়াম (Terbium)। এই খনিজগুলি আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), বায়ুচালিত বিদ্যুৎ টারবাইন, উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে এগুলির ব্যবহার অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়াম এমন এক ধরনের উপাদান যা চুম্বককে অত্যধিক তাপমাত্রাতেও কার্যকর রাখে। ফলে যুদ্ধবিমান, রেডার ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরিতে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

    ভারতের জন্য কেন কৌশলগত তাৎপর্যপূর্ণ?

    ভারত বর্তমানে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে নিজস্ব যুদ্ধবিমান, উন্নত রেডার ও সামরিক প্রযুক্তি বিকাশে জোর দিচ্ছে। সেই কারণে মায়ানমারের বিরল খনিজ সম্পদের প্রতি নয়াদিল্লির আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।

    বিশেষ করে—

    • ● যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনে ব্যবহৃত সুপারঅ্যালয় তৈরিতে ডিসপ্রোসিয়াম প্রয়োজন।
    • ● উন্নত রেডার ব্যবস্থায় বিরল মৃত্তিকা চুম্বক অপরিহার্য।
    • ● স্টেলথ প্রযুক্তি ও বিশেষ প্রতিরক্ষা আবরণ তৈরিতেও এই উপাদানের ব্যবহার রয়েছে।
    • ● ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের জন্যও এই খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্তমানে মায়ানমারের অধিকাংশ বিরল খনিজ অপরিশোধিত অবস্থায় চিনে রফতানি বা পাচার হয়ে যায়। কারণ দেশটির নিজস্ব পরিশোধন (refining) পরিকাঠামো এখনও পর্যাপ্ত নয়। ফলে চিন দীর্ঘদিন ধরে এই খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    চিনের বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিরল খনিজের সরবরাহে চিনের আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের মোট পরিশোধিত বিরল খনিজের বড় অংশই চিনের নিয়ন্ত্রণে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান এবং ভারত বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মায়ানমার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মায়ানমারের ভৌগোলিক সংযোগ এবং দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় দুই দেশের মধ্যে খনিজ সহযোগিতার সম্ভাবনাও বেশি।

    বাণিজ্যিক সম্পর্কও শক্তিশালী হচ্ছে

    ভারত ও মায়ানমারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ পৌঁছেছে ২.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বর্তমানে ভারত মায়ানমারের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। মায়ানমার থেকে ভারতে রফতানিকৃত পণ্যের মধ্যে ডালশস্য (Pulses) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা মোট রফতানির প্রায় ৭৭ শতাংশ। এছাড়াও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া রুপি-কিয়াত (Rupee-Kyat) নিষ্পত্তি ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের পথ খুলে দিয়েছে। এতে ডলার নির্ভরতা কমবে এবং বাণিজ্য আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিনিয়োগেও বাড়ছে ভারতের উপস্থিতি

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ভারত ধীরে ধীরে মায়ানমারে নিজের অবস্থান শক্ত করছে। বর্তমানে ভারত মায়ানমারের একাদশ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। ভারতীয় সংস্থাগুলির অনুমোদিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৮২.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল খনিজ, জ্বালানি, অবকাঠামো ও উৎপাদন শিল্পে যৌথ উদ্যোগ গড়ে উঠলে আগামী কয়েক বছরে এই বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে।

    ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

    বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বিরল খনিজ মৌলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে মায়ানমারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চিনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে ভারত যে সক্রিয়ভাবে এগোচ্ছে, মিন অং হ্লাইংয়ের এই সফর তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মায়ানমারের খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে ওঠে, তাহলে তা ভারতের প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্প এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন খাতে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।

  • Foreigners Registration India: বিদেশিদের জন্য বড় নিয়ম বদল! ভারতে থাকার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

    Foreigners Registration India: বিদেশিদের জন্য বড় নিয়ম বদল! ভারতে থাকার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ভারতীয় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়, জরুরি পরিস্থিতিতে নিবন্ধনের অনুমতি এবং আপিল ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। রবিবার গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স (সংশোধনী) বিধি, ২০২৬ কার্যকর করেছে কেন্দ্র। এই সংশোধনীগুলি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। কেন্দ্রের দাবি, বিদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি নজরদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ।

    বিদেশিদের নিবন্ধনের সময়সীমায় বড় পরিবর্তন

    সংশোধিত বিধিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা হয়েছে রুল ‘১২-এ’। আগে কোনও বিদেশি নাগরিক ভারতে আগমনের পর ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করাতে পারতেন। নতুন নিয়মে সেই বিধান বদলে দেওয়া হয়েছে। এখন বিদেশি নাগরিকদের ১৮০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যে কোনও সময়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ নিবন্ধনের জন্য আর অতিরিক্ত ১৪ দিনের সময় পাওয়া যাবে না। সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং তথ্য হালনাগাদ রাখা সহজ হবে।

    দেরিতে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি

    সংশোধনী বিধিতে দেরিতে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নতুন শর্তও যোগ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে নিবন্ধনের অনুমতি শুধুমাত্র ‘জরুরি বা বিশেষ পরিস্থিতিতে’ (emergent circumstances) দেওয়া হবে। ফলে আগে যেখানে কিছুটা নমনীয়তা ছিল, সেখানে এখন বিলম্বিত নিবন্ধনের জন্য যথাযথ কারণ দেখাতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে।

    ভারতীয় অভিভাবকের সন্তানদের জন্য বিশেষ ছাড়

    নতুন সংশোধনীতে এমন শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাদের ভারতীয় ও বিদেশি—দুই ধরনের নাগরিকত্বের দাবি থাকতে পারে। বিধি অনুযায়ী, যদি কোনও শিশুর মা বা বাবা ভারতীয় নাগরিক হন এবং তাঁরা নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ধারা ৩ অনুযায়ী শিশুর ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখতে চান, তাহলে সেই শিশুর ক্ষেত্রে বিদেশি হিসেবে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে না। এই সিদ্ধান্ত বহু আন্তঃদেশীয় পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে হবে

    তবে একই সঙ্গে সরকার একটি নতুন বাধ্যবাধকতাও নির্ধারণ করেছে। যদি কোনও শিশু ভারতে অবস্থানকালে পরবর্তী সময়ে অন্য কোনও দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে, তাহলে শিশুর মা বা বাবা—যে কোনও একজনকে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন আধিকারিককে (Registration Officer) সেই তথ্য জানাতে হবে। এই বিধান যুক্ত করার মাধ্যমে কেন্দ্র শিশুদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড আরও নির্ভুল রাখতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    রিপোর্টিং সংক্রান্ত বিধিতে সংশোধন

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘রুল ১৮’-এর একটি ভাষাগত ত্রুটিও সংশোধন করেছে। আগের বিধিতে যেখানে লেখা ছিল “but beyond twenty-four hours”, সেখানে সংশোধন করে “but not beyond twenty-four hours” করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট বিধির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি দূর করবে।

    আপিল ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

    সংশোধনী বিধিতে আপিল প্রক্রিয়াকেও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫ অনুযায়ী কোনও সিভিল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অসন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এখন ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশনের কমিশনারের কাছে আপিল করতে পারবেন।

    তবে এই আপিল করতে হবে:

    • ● নির্দেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে
    • ● নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে

    এছাড়া কমিশনারকে আপিলকারীর বক্তব্য শোনার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হবে এবং একটি কারণ-সম্বলিত (reasoned) আদেশ দিতে হবে। নতুন বিধি অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে।

    কেন এই সংশোধনী?

    কেন্দ্র জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ধারা ৩০-এ প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করেই এই সংশোধনী বিধি জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশিদের নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও সময়োপযোগী করা, নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত জটিলতা কমানো এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করাই এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য। নতুন বিধি ইতিমধ্যেই কার্যকর হওয়ায় ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক, আন্তর্জাতিক পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে দ্রুত নতুন নিয়ম সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

LinkedIn
Share