Tag: বাংলা খবর

  • Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    Love Jihad: একের পর এক অভিযোগে ফের আলোচনায় ‘লাভ জেহাদ’, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১ ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ককে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ আবারও ‘লাভ জেহাদ’ (Love Jihad) বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে উঠে এসেছে ছদ্মবেশ ধারণ, মিথ্যা পরিচয় ও বিভিন্ন কৌশলে নারীদের ফাঁদে ফেলে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন এবং ধর্মান্তরের মতো একাধিক অভিযোগ। দেশজুড়ে এমনই কিছু ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

    ইন্দোরে ‘ভুয়ো’ বজরং দল নেতা গ্রেফতার

    ১১ জুলাই গ্রেফতার করা হয় ফারহানকে। অভিযোগ, নিজেকে ‘বজরং দল’-এর স্থানীয় নেতা পরিচয় দিয়ে (Fake Identity) এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করে ফারহান। ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে ‘গোলু সোলাঙ্কি’ নাম নেয়। কিন্তু যখন ফারহানের আসল পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায়, তখন সে মেয়েটিকে জোর করে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ফারহানের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) এবং মধ্যপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

    বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেল রেলকর্মীর

    ২০২৬ সালের ৮ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হাপুড়ে এক বিবাহিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ওঠে এক রেলকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে, ওই রেলকর্মী ভুয়ো হিন্দু পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে অভিযুক্ত প্রথমে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। এরপর সেই ভিডিও দেখিয়ে প্রায় ছ’বছর ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয়। মহিলার বিয়ের পরেও তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে। মহিলার স্বামীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি ধর্মান্তরের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    তেহরিতে নাবালিকাকে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরাখণ্ডের তেহরি জেলার জিউদানা গ্রামে এক নাবালিকা হিন্দু ছাত্রীকে প্রতারণা ও শোষণের অভিযোগে মহম্মদ জাসিম আনসারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, তিনি সোশ্য়াল মিডিয়ায় নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে (Fake Identity) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা হস্তক্ষেপ করেন এবং তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    বন্দুকের মুখে ধর্মান্তরের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ পুলিশের কাছে এক হিন্দু তরুণী অভিযোগ করেন এক দম্পতি এবং এক স্থানীয় মৌলবী তাঁকে বাড়িতে ডেকে বন্দুক দেখিয়ে জোর করে ধর্মান্তরিত করেন। অভিযোগ, তাঁকে কয়েক দিন ধরে সেখানে আটকে রাখা হয়। সেই সময় তাঁকে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক হয়রানি করা হয় এবং জোর করে বিয়ে করার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয়। ঘটনার পর ওই তরুণী সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) সতপাল আন্তিলের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে এসএসপি মাজহোলা থানাকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

    সাহারানপুরে সুফিয়ান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে সুফিয়ান খান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মান্ডি থানার পুলিশ। এক হিন্দু নাবালিকাকে ক্রমাগত উত্যক্ত করা ও অত্যাচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও করছিল এই সুফিয়ান। অভিযোগ, সুফিয়ান সব সময় ওই নাবালিকার পিছু নিত। তার পরিবার প্রতিবাদ করতে গেলে পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। তদন্তে নেমে পুলিশ মেয়েটির ওপর শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ পায়। এর ভিত্তিতে পুলিশ বেআইনি ধর্মান্তরকরণ আইনের পাশাপাশি নতুন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-র অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের কঠোর ধারা যুক্ত করেছে।

    সেনা জওয়ান সেজে প্রতারণা

    ২০২৬ সালের ৭ জুলাই বিহারের মুজফ্ফরপুরে মহম্মদ আরমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন বছর একুশের এক হিন্দু তরুণী। অভিযোগ, আরমান নিজেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেন। পরে তরুণী জানতে পারেন, আরমান সেনাবাহিনীতে কর্মরত নন, তিনি একটি টায়ার মেরামতির দোকানে কাজ করেন এবং তিনি বিবাহিত। অভিযোগ এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে আরমান এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওই তরুণীকে মারধর করেন, জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন, অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।

    হারদোইতে নাবালিকাকে প্রলোভন ও অপহরণ

    ২০২৬ সালের ৬ জুলাই উত্তরপ্রদেশের হারদোইয়ে ১৪ বছর বয়সি নাবালিকা মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ ওঠে ফিরোজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ফিরোজ নাবালিকাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে তাঁকে তেনদুয়া গ্রামের একটি পেট্রল পাম্পের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। নাবালিকা পরে পুরো ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান। বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাবালিকাদের সুরক্ষা-সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইনে মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ পুলিশ দল গঠন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

    বেআইনি ধর্মান্তরের অভিযোগে মামলা

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই, উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে দারুল উলুম রহিমিয়া মাদ্রাসার প্রধান মৌলানা হাফিজুর রহমান আনসারি এবং তাঁর ছেলে জুবায়ের আনসারির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তর পরিচালনার অভিযোগে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাবা-ছেলে মিলে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও বিভ্রান্ত করে স্থানীয় হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করতেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ বেআইনি ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ আইন, ২০২১-এর অধীনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।

    ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহারের অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ব্যবহার করে এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। অভিযোগ, সাজিদ নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন এবং শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। মহিলা থানার পুলিশ প্রযুক্তিগত নজরদারি ও স্থানীয় সূত্রের সাহায্যে তদন্ত চালায়। পরে গুজরাটের কচ্ছ জেলার ভেদ গ্রাম থেকে সাজিদ আলি মাঙ্গারিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    নাবালিকা কিশোরীকে নিয়ে হোটেলে ধরা পড়ার অভিযোগ

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের খানপুর এলাকায় একটি বেসরকারি হোটেলের ঘরে আলম নামে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরীকে দেখতে পেয়ে হোটেলের কয়েকজন কর্মী পুলিশে খবর দেন। অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক নিয়ম মানেনি। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিরা হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান এবং নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেলের কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করে, নাবালিকাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় এবং আলম ও হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

    কাতারে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ধর্মান্তরকরণের গভীর ষড়যন্ত্র

    ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়ায় ১৩ বছর বয়সি এক হিন্দু নাবালিকাকে পাচার ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। নাবালিকার বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, নাবালিকাটি একটি স্থানীয় নাচের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেত। সেখানেই কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। পরে তাঁকে কাতারের দোহায় নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়। মামলায় বেআইনি ধর্মান্তরবিরোধী আইন-সহ মোট ১১টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    Assam STF: অসমে পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা, এসটিএফের জালে ৩ সন্দেহভাজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমে সক্রিয় হয়ে ওঠা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Assam STF)। পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্ক ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ (Shahzad Bhatti Network)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই জঙ্গি-অপরাধচক্রটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)-এর নির্দেশে কাজ করত এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতা, জঙ্গি কার্যকলাপ ও স্লিপার সেল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে যাচ্ছিল।

    একযোগে তিন জেলায় অভিযান

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF) জানিয়েছে, ২৪ জুলাই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটা জেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে যোগ দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশও। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ধুবড়ি জেলার বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আক্রামূল ইসলাম (২৬), চিরাং জেলার পানবাড়ির ধুপিরি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান (২২), এবং বরপেটা জেলার কালগাছিয়ার দাবান্দিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল হুসেনকে (৫৪)।

    কী কী কাজে যুক্ত ছিল এই নেটওয়ার্ক (Shahzad Bhatti Network)?

    তদন্তকারীদের (Assam STF) দাবি, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক শুধু জঙ্গি নিয়োগই নয়, অনলাইনে উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকি, অস্ত্র সংগ্রহ, লজিস্টিক সহায়তা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্লিপার সেল গড়ে তোলার কাজও করছিল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলাররা এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।

    একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

    এসটিএফের (Assam STF) দাবি, এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল একাধিক উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে। তাদের মধ্যে রয়েছে- খালিস্তান আর্মড ফোর্স, পঞ্জাব সার্বভৌমত্ব অ্যালায়েন্স, খালিস্তান লিবারেশন আর্মি, শের-ই-পাঞ্জাব ব্রিগেড, ইউনাইটেড শিখ ব্রাদারহুড, শিখ টাইগার্স অফ খালিস্তান,  তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান (টিটিএইচ)। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৪ মে পঞ্জাব পুলিশের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে হওয়া হত্যাকাণ্ডের দায়ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান স্বীকার করেছিল।

    অসমে কীভাবে সামনে এল এই চক্র?

    অসমে এই নেটওয়ার্কের (Shahzad Bhatti Network) কার্যকলাপ প্রথম সামনে আসে নলবাড়ি জেলার একটি তদন্তে। ওই তদন্তে গত ২২ মে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তদন্তের সূত্র ধরেই আরও তথ্য হাতে আসে এবং শেষ পর্যন্ত তিন জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কী কী উদ্ধার হয়েছে?

    ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে  ৫টি মোবাইল ফোন, ৭টি সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই ও ডেবিট কার্ড। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহজনক নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সমস্ত সামগ্রী খতিয়ে দেখে নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    নাশকতার পরিকল্পনা!

    অসম পুলিশের এসটিএফ (Assam STF)-এর পুলিশ সুপার প্রণব কুমার পেগু জানিয়েছেন, “গোয়েন্দা সূত্রে নির্দিষ্ট তথ্য মিলেছিল যে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত এই নেটওয়ার্ক দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। প্রথমে পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে স্লিপার সেল গড়ে তোলার পর চলতি বছরে অসম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতেও এই নেটওয়ার্ক নিজেদের কার্যকলাপ বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    পুলিশের দাবি, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে তদন্ত শেষ নয়। বরং উত্তর-পূর্ব ভারতে এই নেটওয়ার্কের আরও সদস্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত জঙ্গি ও অপরাধচক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অসম পুলিশ।

  • Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বর্ধিত বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে, শনিবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এক আইপিএস -সহ মোট পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড (IPS Officer Suspended) করার কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারের আমলে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে যুক্ত কাজের অভিযোগ রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য

    এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আগের সরকারের সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই সময় সনাতন ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতেও আঘাত লেগেছিল।” পাশাপাশি, বিজেপি সরকার যে কোনওভাবেই প্রশাসনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বা দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না, তাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও একই বার্তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এক আইপিএস-সহ পাঁচ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড

    সাসপেন্ড হওয়া পাঁচ পুলিশ আধিকারিকের মধ্যে রয়েছেন-  কোটেশ্বর রাও (IPS Officer Suspended)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ (Diamond Harbour Police) জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন কোটেশ্বর। সাসপেন্ড করা হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন, কলকাতা পুলিশের বড়তলা থানার প্রাক্তন অফিসার-ইন-চার্জ সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী, বড়তলা থানার প্রাক্তন সাব-ইনস্পেক্টর সাধন পাণ্ডে এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অমলেন্দু বিশ্বাস।

    ক্ষমতায় এসেই শুরু হয়েছিল কড়া পদক্ষেপ

    এটাই নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরপরই শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেন। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছিলেন। তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্ত ও তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। শুধু সাসপেন্ড করাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি মাসের শুরুতে রাজ্য সরকার ওই তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    সরকারের বার্তা

    প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন বজায় রাখাই যে বর্তমান বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায়, তা আবারও স্পষ্ট মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই পদক্ষেপে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করা বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বার্তাও আরও একবার স্পষ্ট করে দিল শনিবারের এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত।

  • Dharmendra Pradhan Resignation: নিট-ইউজি বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Dharmendra Pradhan Resignation: নিট-ইউজি বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং তা ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে লেখা দুই পাতার একটি খোলা চিঠিতে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং বিষয়টি যাতে আরও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না হয়, সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, ছাত্রজীবন, শিক্ষকতা এবং শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে তাঁর চার দশকের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণে কাজ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল।

    ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করে। তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়, পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং পুনরায় পরীক্ষার ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, আগামী বছর থেকে নিট-ইউজি সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) পদ্ধতিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি, যাতে স্বচ্ছতা আরও বাড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য পুনঃপরীক্ষা নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, কেন্দ্র, রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২১ জুন সফলভাবে পুনঃপরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

    নিজের দায়িত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনও দায় এড়ানোর চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে যাতে কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয় এবং কোনও যোগ্য পরীক্ষার্থী বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করেছে। ১৬ জুলাই প্রকাশিত নিট-ইউজি ফলাফলে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীর সাফল্যে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    তবে একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের একাধিক পদক্ষেপের পরও কিছু ‘দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি’ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং নানা বাধা তৈরি করেছেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর ইঙ্গিত, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থ থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সরে গিয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দায় নির্ধারণের দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গও চিঠিতে উল্লেখ করেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আবেদন জানান, দেশের যুবসমাজ যেন বিভ্রান্তি, দীর্ঘ আইনি লড়াই বা রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, দেশের বিরোধী শক্তিগুলিকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেওয়া উচিত নয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দিকেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য নয়, বরং দেশের যুবসমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের প্রতি নিজের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, উন্নত ভারতের প্রকৃত নির্মাতা দেশের তরুণ প্রজন্মই।চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিক এবং সকল সহকর্মীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওডিশার মানুষ এবং দেশের যুবসমাজের সেবায় যে কোনও ভূমিকায় কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

  • Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন ভারতে নিযুক্ত চিনের (China) নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে রিয়ার অ্যাডমিরাল ইউ জিয়ান (Rear Admiral You Jian)। গত বছর কেরল উপকূলে আগুনে বিধ্বস্ত একটি কার্গো জাহাজ থেকে ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধারের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’’

    ‘‘ভারত-চিন সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি’’

    নয়াদিল্লিতে ২১ জুলাই পিপলস্ লিবারেশন আর্মির (PLA) প্রতিষ্ঠার ৯৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউ জিয়ান বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় ভারত-চিন সম্পর্ক আবারও উন্নয়ন ও ইতিবাচক অগ্রগতির পথে ফিরেছে। তিনি বলেন, ‘‘চিন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ। বর্তমানে দুই দেশই উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আবার সঠিক পথে ফিরেছে।’’

    ‘‘সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না’’

    ইউ জিয়ান বিশেষভাবে ২০২৫ সালের জুন মাসে কেরল উপকূলে ঘটে যাওয়া একটি উদ্ধার অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘গত জুনে কেরল উপকূলে আগুন ও বিস্ফোরণের কবলে পড়া একটি কার্গো জাহাজ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধার করেছিল। আমরা সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না।’’

    জ্বলন্ত জাহাজ থেকে চিনা নাবিকদের উদ্ধার ভারত

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৯ জুন সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেনার জাহাজ এমভি ওয়ান হাই ৫০৩ (MV Wan Hai 503) কেরলের আজহিক্কালের (Azhikkal) উপকূল থেকে প্রায় ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। কলম্বো থেকে নাভা শেভার উদ্দেশে যাত্রারত জাহাজটিতে মোট ২২ জন নাবিক ছিলেন। বিপদের মুখে ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চারজন নিখোঁজ হন। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন চিনা নাগরিক। সে সময় চিনা দূতাবাস ভারতীয় নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর দ্রুত ও পেশাদার উদ্ধার অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেছিল। পরে ভারতীয় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বায়ুসেনা যৌথভাবে অগ্নিনির্বাপণ ও জাহাজটিকে নিরাপদে সরানোর অভিযানও চালায়।

    রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রসঙ্গ

    ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর যৌথ অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ইউ জিয়ান বলেন, রাষ্ট্রসংঘের (UN) শান্তিরক্ষা অভিযানে দুই দেশের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং বহু আত্মত্যাগও করেছে। তার কথায়, ‘‘ভারত ও চিনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ সেই পার্থক্যের তুলনায় অনেক বেশি।’’

    সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা

    ভারতের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন চিনের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চাই।’’

    লাদাখ অচলাবস্থার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা

    ২০২০ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত এবং গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং চারজন চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেপসাং ও ডেমচক এলাকায় টহল সংক্রান্ত সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ। এর ফলে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ কিছুটা প্রশস্ত হয়। পরবর্তীতে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়। পরে ২০২৫ সালে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে তিয়ানজিনেও দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখার উপর জোর দেয়।

    সীমান্ত সংলাপ ও প্রতিরক্ষা বৈঠক অব্যাহত

    সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুনের মধ্যে এসসিও বৈঠকের ফাঁকে আলোচনা হয়। এছাড়া সীমান্ত বিষয়ক ওয়ার্কিং মেকানিজমের ৩৫তম বৈঠক বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকেও দুই দেশ সম্পর্কের ‘‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিকীকরণ’’ নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে। তবে ইউ জিয়ানের বক্তব্যে ভারত-চিন যৌথ সামরিক মহড়া পুনরায় শুরু করা বা নতুন কোনও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ব্যবস্থার ঘোষণা করা হয়নি।

  • PM Modi Video: ‘‘ধন্যবাদ বন্ধুরা’’, যুবকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা মোদির, মন্ত্রীদের দিলেন ইনস্টাগ্রাম নির্দেশ

    PM Modi Video: ‘‘ধন্যবাদ বন্ধুরা’’, যুবকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা মোদির, মন্ত্রীদের দিলেন ইনস্টাগ্রাম নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতের ভিডিও বার্তার পর দেশের যুবসমাজের কাছ থেকে যে বিপুল সাড়া পেয়েছেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তরুণদের ভালোবাসা ও ইতিবাচক পরামর্শ তাঁর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।

    ভিডিও বার্তায় কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। গত রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা যেভাবে সেই ভিডিওতে সাড়া দিয়েছেন এবং ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য প্রত্যেককে ধন্যবাদ। আপনাদের এই ভালোবাসা অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ বন্ধুরা।’’

    প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ভিডিওতে ব্যাপক সাড়া

    প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রকাশের মাত্র আট মিনিটের মধ্যে ভিডিওটি ২৫ লক্ষেরও বেশি ভিউ পায়। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে ২০ মিনিটের মধ্যেই ১০ লক্ষের বেশি লাইক পড়ে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এবং কঠোর শাস্তির বিধান আনতে একটি খসড়া আইন নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আলোচনা করবে।

    আগের রাতের ভিডিওতে কী বার্তা দিয়েছিলেন?

    প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘’’চলতি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেই প্রস্তাবিত বিলটি দ্রুত পাস করানোর জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। সেই ভিডিও প্রকাশের পর রাতারাতি ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন অনুসারীও যুক্ত হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি কোনও ছোটখাটো বিষয় নয়। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের এটি গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে।’’ তিনি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল যাতে কোনও ছাত্রছাত্রীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়।’’

    মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ

    শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সামাজিক মাধ্যমের গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশে জানতে চান, তাঁদের মধ্যে কতজন নিয়মিত ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ এখন ইনস্টাগ্রামে সময় কাটান। তাই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, সিদ্ধান্ত ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তথ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে মন্ত্রীদের আরও বেশি সক্রিয়ভাবে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত।’’ সরকারের সঙ্গে যুবসমাজের যোগাযোগ আরও জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন।

  • Rashtra Sevika Samiti: সমালখায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির তিন দিনের বৈঠক শুরু, নারী জাগরণেই জোর

    Rashtra Sevika Samiti: সমালখায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির তিন দিনের বৈঠক শুরু, নারী জাগরণেই জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরিয়ানার পানিপথ জেলার সমালখায় (Samalkha) শুরু হয়েছে রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির (Rashtra Sevika Samiti) অখিল ভারতীয় কার্যকারিণী ও প্রতিনিধি মণ্ডলের প্রথম অর্ধবার্ষিক তিন দিনের বৈঠক। সমালখার মাধব স্মৃতি পরিষরে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের ৩৮টি প্রান্ত থেকে ৪৯৬ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। আগামী তিন দিনে সংগঠনের গত এক বছরের কাজের মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, নারী জাগরণ, সমাজসেবা এবং সংগঠন সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সূচনা

    হরিয়ানার পানিপথ জেলার সমালখার (Samalkha) মাধব স্মৃতি পরিষরে আয়োজিত বৈঠকের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির (Rashtra Sevika Samiti) প্রধান সঞ্চালিকা শান্তাক্কা এবং প্রধান কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রী। বৈঠকের শুরুতে সংগঠনের প্রয়াত কর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত নাগরিক, শহিদ জওয়ান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    নারীর ভূমিকার উপর জোর

    উদ্বোধনী ভাষণে প্রধান কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রী বলেন, “ভারত আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যখন উন্নত রাষ্ট্র বা বিকশিত ভারত গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, সাংস্কৃতিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা দেশের রয়েছে। তবে এই লক্ষ্য পূরণে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠাতা বন্দনীয়া লক্ষ্মীবাই মৌসিজি কেলকর যে নারী জাগরণের আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, গত ৯০ বছরে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সমিতি শতবর্ষের দিকে এগোচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী দিনেও নারী নেতৃত্ব, চরিত্রগঠন ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উপর জোর দেওয়া হবে।”

    ৯০ বছরের পথচলার মূল্যায়ন

    বৈঠকে জানানো হয়, দীর্ঘ নয় দশকের যাত্রায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি (Rashtra Sevika Samiti) শুধু সাংগঠনিক বিস্তারই ঘটায়নি, সমাজজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নিজেদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। নারীকে পরিবার, সমাজ এবং জাতি গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।

    দেশজুড়ে পরিষেবা প্রকল্প

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২,৮৬৬টি পরিষেবা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, যোগ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশ কর্মসূচি, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক প্রকল্প।

    প্রশিক্ষণ শিবিরে ১৫ হাজারের বেশি সেবিকা

    চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২৫০টি প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ১৫,২৪১ জন সেবিকা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন রাজ্যের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ

    বৈঠকে বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ কর্মকাণ্ডও তুলে ধরা হয়। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ বিরতির পর সফলভাবে পথ সঞ্চালনের আয়োজন, জম্মুতে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা, ছত্তীসগঢ়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মহিলাদের নিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির উদ্যোগ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবামূলক প্রকল্পের অভিজ্ঞতা প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

    আগামী তিন দিনের আলোচ্যসূচি

    তিন দিনের বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, পরিষেবা প্রকল্পের বিস্তার, বিভিন্ন প্রান্তের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি দেশের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিতে নারীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মতবিনিময় হবে। আগামী ২৬ জুলাই এই বৈঠক শেষ হওয়ার কথা। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Indresh Kumar: ‘নিট আন্দোলনের নেপথ্যে দেশি-বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক দাবি প্রবীণ আরএসএস নেতার

    Indresh Kumar: ‘নিট আন্দোলনের নেপথ্যে দেশি-বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক দাবি প্রবীণ আরএসএস নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: NEET ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে এবার সরব হলেন আরএসএসের (RSS) প্রবীণ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার (Indresh Kumar)। ‘‘এই আন্দোলনের পিছনে দেশীয় ও বিদেশি- উভয় ধরনের শক্তির মদত রয়েছে, এই শক্তিগুলি চায় না ভারত একটি উন্নত, শক্তিশালী ও শিক্ষিত দেশে পরিণত হোক।’’ বিস্ফোরক অভিযোগ প্রবীণ নেতার।

    নিটকে হাতিয়ার করে রাজনীতি

    আরএসএসের (RSS) প্রবীণ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার (Indresh Kumar) বলেন, ‘‘প্রথমে বিরোধী দলগুলি নিট পরীক্ষার অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলেছিল। কিন্তু পরে তারা মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা শুরু করে। দেশে ইতিবাচক রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।’’

    ‘ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা’

    আরএসএসের (RSS) এই প্রবীণ নেতার (Indresh Kumar) অভিযোগ, দেশের ভিতরে ও বাইরে এমন কিছু শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যারা ভারতের অগ্রগতি চায় না। যুব সমাজের বোঝা উচিত, এই আন্দোলনের পিছনে এমন কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি রয়েছে, যারা চায় না ভারত উন্নত, শক্তিশালী ও শিক্ষিত জাতি হয়ে উঠুক। বরং তারা ভারতের ক্ষতি করতে চায়।

    যুব সমাজের প্রতি বার্তা

    আন্দোলনরত যুবকদের উদ্দেশে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান ইন্দ্রেশ কুমারের (Indresh Kumar)। তিনি বলেন, ‘‘দেশের উন্নয়নের কাজে অংশ নেওয়াই হওয়া উচিত যুব সমাজের লক্ষ্য। যদি ভালো কিছু করতে না পারেন, অন্তত ক্ষতি করবেন না। অন্য কেউ ভালো কাজ করলে তাকে নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। এ ধরনের মানসিকতা দুর্ভাগ্যজনক। আজ ভারত উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতির মাধ্যমে বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ হয়ে উঠছে। সেই অগ্রগতির পথে যুব সমাজের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।’’

    স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

    যুবকদের ভগত সিং, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিনায়ক দামোদর সাভারকর, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো জাতীয় নেতাদের আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশ গঠনের কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান আরএসএসের (RSS) প্রবীণ এই নেতা (Indresh Kumar)।

    সরকারের বার্তা: দ্রুত বিচার হবে

    এদিকে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে প্রতিদিন শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে এবং পরীক্ষার্থীরা সময়মতো ন্যায়বিচার পাবেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবও বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, অযথা রাজনৈতিক সংঘাত না বাড়িয়ে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।

  • US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল (India-Nepal Border) সীমান্তে যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। উত্তরপ্রদেশের রূপাইডিহা (Rupaidiha) সীমান্ত এলাকা থেকে এক মার্কিন নাগরিক-সহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ওয়ারিস পাঞ্জাব দে’ (Waris Punjab De)-র এক সদস্যও রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যৌথ অভিযানে বড়সড় সাফল্য

    গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (SSB) এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ বাহিনী রূপাইডিহা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা বৈধ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এড়িয়ে গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। সেই সময় একটি গাড়ি আটক করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কারা ধরা পড়েছে?

    ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিক্রমজিৎ সিং, যিনি খালিস্তানপন্থী সংগঠন ওয়ারিস পাঞ্জাব দে-র সদস্য বলে তদন্তকারীদের দাবি। এছাড়া ধরা পড়েছেন মার্কিন নাগরিক মনবীর সিং ধিলোঁ, যাঁর আদি বাড়ি পঞ্জাবের মোগা জেলায়। এ ছাড়া অভিযানে আরও তিন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের নাম—

    • ● সুরেশ কুমার পাঠক
    • ● দিলীপ উপাধ্যায়
    • ● রাহুল কুমার (গাড়ির চালক)

    তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই তিনজন সীমান্ত পারাপারের জন্য লজিস্টিক ও স্থানীয় সহায়তা দিচ্ছিলেন।

    কীভাবে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা?

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা বীরগঞ্জ-রূপাইডিহা (Birgunj-Rupaidiha) করিডর ব্যবহার করে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করেছিল। ভারত-নেপাল ১৯৫০ সালের শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই খোলা সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে চোরাচালান, মানবপাচার এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি।

    মার্কিন নাগরিক ধরা পড়ায় বাড়ল কূটনৈতিক গুরুত্ব

    ঘটনায় এক মার্কিন নাগরিকের উপস্থিতি বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটেনে বসবাসকারী কিছু খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ, প্রচার এবং সংগঠন বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খালিস্তানপন্থী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও বেড়েছে। সেই আবহেই এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

    নেপাল করিডর নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ

    ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, নেপাল বহুদিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি ও শত্রুভাবাপন্ন নেটওয়ার্কের জন্য একটি সম্ভাব্য ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাঠমান্ডুতে তুলনামূলক সহজ প্রবেশের সুযোগ এবং ভারত-নেপালের ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংগঠন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধারণা।

    এনআইএ-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

    ধৃত পাঁচজনকে নিরাপত্তার কড়া নজরদারিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

    তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—

    • ● অভিযুক্তদের ডিজিটাল যোগাযোগের নেটওয়ার্ক
    • ● অর্থের উৎস ও লেনদেনের পথ
    • ● ভারতে সম্ভাব্য যোগাযোগকারী ও সহযোগীদের পরিচয়
    • ● অনুপ্রবেশের মূল উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য টার্গেট

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, এই ঘটনায় সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে সক্রিয় খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Union Cabinet: প্রশ্নফাঁসে আর রেহাই নয়! আরও কঠোর অ্যান্টি-পেপার লিক আইনে ছাড়পত্র মোদি মন্ত্রিসভার

    Union Cabinet: প্রশ্নফাঁসে আর রেহাই নয়! আরও কঠোর অ্যান্টি-পেপার লিক আইনে ছাড়পত্র মোদি মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে (Union Cabinet) নতুন অ্যান্টি-পেপার লিক বিলের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংশোধনী বিলটি পেশ করা হতে পারে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) আইন (Anti Paper Leak Bill), ২০২৪-কে আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য, প্রশ্নফাঁস, সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি এবং পরীক্ষায় অসাধু উপায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। একইসঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

    কী কী বদল হতে পারে?

    সরকারি সূত্রের দাবি, সংশোধনী বিলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রশ্নফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন। দোষীদের জন্য বর্তমানের তুলনায় আরও দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান। অন্তত ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জরিমানার ব্যবস্থা। সংগঠিত বা বৃহৎ প্রশ্নফাঁস চক্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার প্রস্তাব।

    বর্তমান আইনে কী শাস্তি রয়েছে?

    দেশে ইতিমধ্যেই ‘পাবলিক এক্সামিনেশন আইন (Anti Paper Leak Bill), ২০২৪’ কার্যকর রয়েছে। ২০২৪ সালে এই আইন কার্যকর করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির পরিচালিত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, নকল এবং অন্যান্য অসাধু উপায় রোধ করা। এই আইনের আওতায় রয়েছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC), স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC), ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA), বিভিন্ন ব্যাঙ্ক নিয়োগকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য পরীক্ষাগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ। বর্তমান আইনে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনাকারী কোনও সংস্থা অপরাধে জড়িত বা তথ্য গোপন করলে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সূত্রের খবর, সংশোধনের পর এই বিধান আরও কঠোর হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী কী বলেছিলেন?

    মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টা আগেই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছিলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি প্রশ্নফাঁসকে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ অপরাধ নয়। গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক আইনি পদক্ষেপ করেছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে জেলে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের মামলায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুত এবং মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) অনুমোদনের পর তা সংসদে আনা হবে।” সেই মতোই শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠক (Union Cabinet) ডাকা হয়, সেখানেই মেলে অনুমোদন।

    কেন আনা হচ্ছে এই সংশোধনী?

    সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আইনের ফাঁকফোকর দূর করে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের মতে, সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি দ্রুত বিচারও জরুরি।

    বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে নিট-ইউজি-সহ একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন হয়। বিরোধী দল Cockroach Janta Party (CJP)-র পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও এই আন্দোলনে সামিল হয়েছে। আন্দোলনে সামিল হয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিও। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের সমস্ত ঘটনার নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত,  শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার ও সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। পাশাপাশি নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। এই পরিস্থিতিতেই প্রশ্নফাঁস ও সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে নতুন সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সরব রাহুল গান্ধী

    অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত এক দশকে দেশে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ কোনও ক্ষেত্রেই দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত হয়নি।

    বিল পেশের অপেক্ষা

    মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) অনুমোদন মিলেছে, আগামী সপ্তাহেই সংশোধনী বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার সম্ভাবনা। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় কারচুপি এবং সংগঠিত জালিয়াতির বিরুদ্ধে দেশের আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের আশা, কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

LinkedIn
Share