Tag: বাংলা খবর

  • Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে এবার সরব ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাকর্মীরা। নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিযোগ ঘিরে এখনও উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার জাতীয় পতাকা হাতে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত জোড়া মহামিছিলের (Dharmatala Rally) আয়োজন করে ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় রাজ্যের অনেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ নয়; বরং গণতন্ত্র, শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার সামাজিক উদ্যোগ।

    পথে শিক্ষা জগৎ

    ধর্মতলার সাম্প্রতিক অশান্তির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর, পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিবাদের অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হলেও হিংসা ও নৈরাজ্য কখনওই গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। সেই কারণেই ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।

    জোড়া মহামিছিল

    মঙ্গলবার দুপুর থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক, শিক্ষাকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দুটি প্রান্ত থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে শুরু হয় পদযাত্রা (Dharmatala Rally)। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ডাকে আয়োজিত এই মহামিছিলে অংশ নেয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP), অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ইতিহাস সংকলন সমিতি-সহ সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

    সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা

    মহামিছিলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর কিংবা সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত এবং সেই স্বাধীনতার উপর আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মিছিলে (Dharmatala Rally) অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে বাম ও কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, দিল্লির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে যেমন নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছিল, কলকাতার ঘটনাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এছাড়াও কিছু বামপন্থী সংগঠন ছাত্রদের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি এবং দেশবিরোধী শক্তির মদতপুষ্ট প্রচারকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    বিদেশি শক্তির মদতের আশঙ্কাও

    দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে কলকাতার ধর্মতলা- প্রতিবাদের নামে যেখানেই হিংসা বা নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটুক, তার কড়া নিন্দা হওয়া উচিত বলেই মত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার নেপথ্যে বিদেশি শক্তির মদতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।

    গণতন্ত্রের নামে হিংসা নয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তা

    হাওড়া থেকে ধর্মতলা ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা – জাতীয় পতাকার ছায়ায় আয়োজিত এই দুই মহামিছিল থেকে উঠে আসে একটাই বার্তা। প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের শক্তি হলেও, সেই অধিকারের আড়ালে হিংসা, ভাঙচুর, সাংবাদিক নিগ্রহ কিংবা অরাজকতার কোনও স্থান নেই। মতের লড়াই হতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথ কখনওই বর্বরতার পথ হতে পারে না – এই বার্তাই রাজপথ থেকে তুলে ধরল ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চে’র এই মহামিছিল।

  • Supreme Court: ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    Supreme Court: ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল অ্যারেস্টের (Digital Arrest) নামে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ভয় দেখিয়ে তাঁদের আজীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) প্রতারণার মামলায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র অসাধারণ বা ব্যতিক্রমী কারণ প্রমাণ করতে পারলেই জামিনের আবেদন বিবেচনা করা হবে। আদালতের মতে, এই প্রতারণা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধগুলির একটি।

    জামিনের আবেদন খারিজ

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এক অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে এই মন্তব্য করে। অভিযুক্তের দাবি ছিল, তিনি শুধু মূল অভিযুক্তকে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে সাহায্য করেছিলেন এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। তবে আদালতের মতে, তিনি প্রতারণা চক্রের একজন সক্রিয় সহযোগী। তাই তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়।

    ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ’

    শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) প্রতারণা মানুষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রতারকরা ভয় দেখিয়ে প্রবীণদের সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না।

    নিম্ন আদালতগুলিকেও বার্তা

    সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) শুধু নিজের অবস্থানই স্পষ্ট করেনি, পাশাপাশি দেশের সব হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতকেও কড়া বার্তা দিয়েছে। আদালতের মতে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) সংক্রান্ত মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

    গত শুক্রবারও একই বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) ও সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন সংক্রান্ত কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। আদালতের মতে, এই ধরনের অপরাধকে ডাকাতি বা লুঠের মতোই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

    সিবিআই তদন্ত ও সমন্বয়ের নির্দেশ

    ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে গত বছর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিশেষ করে প্রবীণদের লক্ষ্য করে হওয়া প্রতারণার তদন্তে সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলারও নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। তদন্তকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৩,০০০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। তৃণমূল সরকারের আমলে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ, অর্থের অনিয়ম, কাগজে রাস্তা তৈরি দেখিয়ে ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) সামনে এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরনো প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা, অডিট এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

    হুগলিতে পর্যালোচনা বৈঠক

    সোমবার হুগলির চুঁচুড়ার রবীন্দ্রভবনে জেলার পঞ্চায়েতগুলিকে নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সচিব ড. পি. উল্গানাথন, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারা এবং দফতরের অন্যান্য আধিকারিকরা।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের সময়ের একাধিক প্রকল্পের কাজ এখন পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগের কিছু টেন্ডার ও কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সবকিছুর রিভিউ চলছে। টেন্ডার ছাড়াই অনিয়ম (Panchayat Corruption) করে কাজ হয়েছে। টাকারও গরমিল হয়েছে। কোথাও ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, অথচ রাস্তা তৈরি হয়নি- এমন অভিযোগও এসেছে। একাধিক ইঞ্জিনিয়ারকে বদলিও করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে আবাসের অভিযোগও

    আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই সংক্রান্ত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘যে সব প্রাচীন সংস্কৃতি রয়েছে, সেগুলি ফিরে আসবে। কাশী বিশ্বনাথ, মহাকালেশ্বর হলে আদিনাথ কেন হবে না? গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই এফআইআর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সাসপেন্ডও করা হয়েছে।’’

    আলুর দাম নিয়ে কী বললেন?

    আলুর মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকারের নীতির ফলে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত হয়েছিল। গত কয়েক বছর আলু বাইরে পাঠানো বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত হয়েছে। এখন সেই আলু অন্য রাজ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হিমঘর মালিক ও ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি দেওয়ার জন্য অর্থ দফতরে তিনবার ফাইল পাঠিয়েছি। কৃষি বিপণন দফতরের পক্ষ থেকেও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

    প্রকল্পগুলির সার্ভে চলছে

    তিনি আরও জানান, ‘‘বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে হওয়া প্রকল্পগুলির কাজের সার্ভে চলছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে নতুন করে উপভোক্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলার পর জেলা পর্যালোচনা বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

    খাজনা আদায়ে জোর

    নকশালবাড়িতে গত তিন মাসে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা খাজনা আদায়ের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘হুগলিতেও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগে যে রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ছিল, তার অনেকটাই আদায় হতো না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে খাজনা আদায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’’ সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিল বিজেপি সরকার। তৃণমূল আমলের বিভিন্ন প্রকল্পে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নেও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

  • India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে অসামরিক পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানালেন মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখছে। এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের সহকারী সচিব এস পল কাপুর। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুভার ইনস্টিটিউশনে ভারতকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব কন্ডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মালফোর্ড।

    ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। এই সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) শক্তিশালী করছে, যা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করছি। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী বিশ্বস্ত AI (Trusted AI) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির গ্রহণ ও উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করছি।’’

    কেন গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা?

    ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আগ্রহী। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতে এসে বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এই আগ্রহ আরও বেড়েছে, কারণ ভারত সম্প্রতি ‘শান্তি’ (SHANTI) আইন প্রণয়ন করে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতা (Liability) সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য ভারতীয় বাজারে কাজ করার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আরও অনুকূল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শক্ত ভিতের উপর

    ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব কাঠামোতে স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য স্থল, নৌ, বায়ু, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability) বৃদ্ধি করা। ২০০২ সালের পর থেকে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একাধিক অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার
    • ● চিনুক হেভি-লিফট হেলিকপ্টার
    • ● সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহণ বিমান
    • ● সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস
    • ● পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি বিমান
    • ● এম-৭৭৭ আল্ট্রা-লাইট হাউইৎজার

    এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।

    এআই ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন সমীকরণ

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি আগামী দিনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তারা ভারতের সঙ্গে বিশ্বস্ত এআই-এর মতো ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। এর লক্ষ্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর ক্ষেত্রে ভারতীয় সফটওয়্যার দক্ষতা এবং মার্কিন প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব একত্রিত হলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়ছে

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, এআই এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি ভাগাভাগি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

  • One Officer One Car Policy: এক অফিসার, এক গাড়ি! সরকারি খরচে লাগাম টানতে বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

    One Officer One Car Policy: এক অফিসার, এক গাড়ি! সরকারি খরচে লাগাম টানতে বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রুখতে এবং সরকারি খরচ কমাতে বড় পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদি সরকারের (Modi Government)। এবার কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ (Department of Expenditure) ‘ওয়ান অফিসার, ওয়ান অফিসিয়াল কার’ নীতি (One Officer One Car Policy) কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন অফিস মেমোর‍্যান্ডাম (Office Memorandum) অনুযায়ী, কোনও আধিকারিককে একবার সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা হলে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেও আর দ্বিতীয় সরকারি গাড়ি পাবেন না। এর অর্থ, কোনও আধিকারিক যদি নিজের মন্ত্রক বা দফতরের পাশাপাশি অন্য কোনও মন্ত্রক, বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU) বা স্বশাসিত সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্বও পান, তবুও তাঁর জন্য আলাদা সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা হবে না। প্রতিটি যোগ্য আধিকারিকের জন্য থাকবে মাত্র একটি সরকারি গাড়ি।

    সব মন্ত্রক ও দফতরকে কড়া নির্দেশ

    এই নীতি (One Officer One Car Policy) কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য কেন্দ্রের সমস্ত মন্ত্রক ও দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। পাশাপাশি, যে সরকারি গাড়িগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেগুলিকে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিতে হবে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না বলেও নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।

    কী নতুন নির্দেশ?

    নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), স্বশাসিত সংস্থা বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িও নিয়মিত ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনও আধিকারিক সরকারি কাজে ওই সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে সফরে গেলে, সেই সফরের সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করা যাবে।

    ২০২২ সালের নির্দেশিকা আরও কড়াভাবে কার্যকর

    ব্যয় বিভাগ জানিয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকাগুলিকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই নতুন অফিস মেমোর‍্যান্ডাম জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সব মন্ত্রক ও দফতরে যাতে একই নিয়মে এই নীতি কার্যকর হয়, সেই উদ্দেশ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    কেন্দ্রীয় সরকারের (Modi Government) বক্তব্য, সরকারি সম্পদের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য। একজন আধিকারিকের জন্য একাধিক সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রবণতা বন্ধ করা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই নীতির ফলে অপ্রয়োজনীয় সরকারি গাড়ির সংখ্যা কমবে, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ হ্রাস পাবে এবং সরকারি অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহি ও আর্থিক শৃঙ্খলাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

  • MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ (MMSBY Scheme)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকলেও যাঁরা আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্যই এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal)। রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর স্বাস্থ্য দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই প্রকল্পে (MMSBY Scheme) যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে।

    কী কী সুবিধা মিলবে?

    নতুন প্রকল্পে (MMSBY Scheme) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে- বছরে প্রতি পরিবার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্লোটার ভিত্তিক ক্যাশলেস চিকিৎসা পাবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নামে পৃথক স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে এবং তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। আগে থেকে থাকা (Pre-existing) রোগের চিকিৎসাও এই বিমার আওতায় থাকবে। সরকারি ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পভুক্ত তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। চিকিৎসার জন্য আধারভিত্তিক পরিচয় যাচাই এবং আয়ুষ্মান ভারত পরিচয়পত্র  (Ayushman Bharat Health Account) ব্যবহার বাধ্যতামূলক। চিকিৎসা হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী। চিকিৎসার খরচ আগে দিয়ে পরে ফেরত (রিএমবার্সমেন্ট) নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে না।

    কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?

    স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না- যাঁদের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প (WBHS), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প (CGHS), ইএসআই (ESI) বা অন্যান্য কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন গ্রুপ মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স-এর আওতায় থাকা কর্মচারীরা, মেডিক্যাল অ্যালাউন্সপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, পরিবারের ৭০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যরা, SIR-এ নাম বাদ গেলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। যেমন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধাও পাওয়া যাবে না।

    এসআইআর বা সিএএ-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সিএএ বা এসআইআর-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে কোনও আবেদন বিচারাধীন থাকলে, শুধুমাত্র সেই কারণে কাউকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে না। অন্য সব যোগ্যতা পূরণ করলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে পরে SIR-এ নাম বাদ গেলে আর এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

    কারা দেখভাল করবে এই প্রকল্প (MMSBY Scheme)?

    স্বাস্থ্য দফতরই হবে এই প্রকল্পের নোডাল দফতর। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে স্টেট হেলথ এজেন্সি (State Health Agency)।

    কবে থেকে কার্যকর?

    গত ২২ জুলাই রাজ্য (West Bengal) মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। এরপর ২৫ জুলাই স্বাস্থ্য দফতর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি সোমবার প্রকাশ্যে আসে। নতুন এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকা কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধাবঞ্চিত বহু পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবে বলে রাজ্য সরকারের আশা।

  • Narendra Modi: মোদির ফেসবুক ভিডিও ব্লক! ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’, পরে ক্ষমা চাইল মেটা

    Narendra Modi: মোদির ফেসবুক ভিডিও ব্লক! ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’, পরে ক্ষমা চাইল মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুক থেকে হঠাৎ-ই উধাও প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ভিডিও বার্তা! মঙ্গলবার ভোরের দিকে ভারতে কিছু সময়ের জন্য ব্লক হয়ে যায় নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তা। এরপরেই মেটার (Meta) তরফে একটি বার্তা সামনে আসে। মেটার তরফে জানানো হয়- ‘‘আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে (Legal Request) এই অঞ্চলে ভিডিওটি আটকে রাখা হয়েছে।’’ যদিও পরে সেই ভুল সংশোধন করে নেয় মেটা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি আবার চালু করে মেটা (Meta) জানায়, কোনও আইনি নির্দেশের কারণে নয়, বরং প্রযুক্তিগত ত্রুটির (Technical Glitch) জেরে ভুলবশত এমনটা হয়েছিল। ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে সংস্থা।

    ‘ভুল করে সরানো হয়েছিল ভিডিও

    ঘটনা প্রসঙ্গে মেটার (Meta) এক মুখপাত্র জানান, ‘‘ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে সেই ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে এবং ভিডিওটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’’

    ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্র

    সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মেটার দেওয়া ব্যাখ্যা এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরানো হয়েছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মেটার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ডেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হতে পারে বলেও খবর সূত্রের।

    মেটা ও ইনস্টাগ্রামের শীর্ষ কর্তাদের তলব!

    সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ভিডিও সাময়িকভাবে ব্লক হওয়ার ঘটনায় মেটা এবং ইনস্টাগ্রামের গ্লোবাল প্রধানদের তলব কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY)। ভিডিওটি কেন ব্লক হয়েছিল? কীভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল? সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কোন ভিডিওটি ব্লক হয়েছিল?

    ২৩ জুলাই আপলোড করা ওই ভিডিওতে ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ রুখতে সরকার আরও কঠোর আইন আনতে চলেছে। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান আনা হবে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে বিশেষ আদালত এবং আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।
    সরকারের পদক্ষেপের ফলে প্রায় ২২ লক্ষ পড়ুয়ার শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়।’’

    লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখেছিলেন ভিডিওটি

    ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ তা দেখেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরের দিকে হঠাৎ-ই ফেসবুকে ভিডিওটি দেখা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ব্যবহারকারীদের জানানো হয়, আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে ভিডিওটি এই অঞ্চলে দেখানো হচ্ছে না। পরে অবশ্য মেটা জানায়, সেই বার্তাটিও প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল ছিল। ভুল বুঝতে পেরে ভিডিওটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয় এবং সংস্থা সরকারের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশও করে। এখন কেন্দ্রীয় সরকার গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজন হলে মেটার কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।

  • Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    সুশান্ত দাস

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন—দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর কি এখন কার্যত একক নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির? আর যদি তাই হয়, তাহলে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পাকিস্তানের সাংবিধানিক পরিবর্তন, সামরিক কাঠামোর রদবদল, পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থার প্রকৃতি এবং ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল—সবকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

    কী বদলেছে পাকিস্তানে?

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার নতুন Chief of Defence Forces (CDF) পদ সৃষ্টি করে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে। এই পদে তিন বাহিনীর (স্থল, নৌ ও বিমান) সর্বোচ্চ সামরিক কর্তৃত্ব একত্রিত হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত কমান্ড ব্যবস্থার উপরও তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু সংবাদমাধ্যমে এটিকে ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’ বলে বর্ণনা করা হলেও, বাস্তব চিত্র কিছুটা বেশি জটিল।

    ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ বলতে কী বোঝায়?

    সাধারণ মানুষের কাছে ‘‘নিউক্লিয়ার বাটন’’ বলতে এমন একটি বোতামের ধারণা তৈরি হয়, যা একজন ব্যক্তি চাপলেই পারমাণবিক হামলা শুরু হয়ে যায়। বাস্তবে কোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশেই বিষয়টি এতটা সরল নয়। পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র পরিচালনা করে ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (NCA) এবং তার অধীনস্থ স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান্স ডিভিশন (SPD)। এই ব্যবস্থায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্তরের অংশগ্রহণ রয়েছে। যদিও নতুন কাঠামোতে আসিম মুনিরের প্রভাব অনেক বেড়েছে, তবুও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখনও একটি প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমেই কার্যকর হয়। অর্থাৎ, ‘‘একটাই বোতাম টিপে যুদ্ধ শুরু’’— এমন ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে।

    কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

    বিশ্লেষকদের মতে উদ্বেগের মূল কারণ কেবল সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়, বরং আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও তাঁর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। গত কয়েক মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক কড়া মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় সূত্রের দাবি, তিনি পারমাণবিক প্রতিরোধ নিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন। যদিও পাকিস্তান পরে জানায়, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা স্বাধীনভাবে ওই দাবিগুলি যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা নীতি এবং আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণে আসিম মুনিরের প্রভাব বর্তমানে অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?

    ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কিনা এই প্রশ্নে বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তরটি ‘‘হ্যাঁ, তবে আতঙ্কিত হওয়ার নয়।’’ কারণ—

    • প্রথমত, ভারত বহু বছর ধরেই পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে মাথায় রেখে নিজস্ব প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করে আসছে।
    • দ্বিতীয়ত, ভারতের রয়েছে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি, মহাকাশভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্বাসযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ (Credible Minimum Deterrence) নীতি।
    • তৃতীয়ত, ভারত এখনও ‘‘নো ফার্স্ট ইউজ’’ (NFU) বা প্রথম ব্যবহার নয় নীতির কথা বললেও, পাকিস্তান বরাবরই প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প খোলা রেখেছে। ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক-সামরিক নেতৃত্বে ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীকরণ ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব

    পাকিস্তানে বহু দশক ধরেই সেনাবাহিনী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। নতুন সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বহু পর্যবেক্ষকের মত। এর ফলে নির্বাচিত সরকারের তুলনায় সেনাবাহিনীর প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিক মহল কী দেখছে?

    পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পাকিস্তানের পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো এখন আরও বেশি সামরিককেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, চিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায়ও আসিম মুনির ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন।

    ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে…

    ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’— এমন দাবি বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিসরল করে তুলে ধরে। তবে এটাও সত্য যে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক ও সামরিক পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোয় তাঁর প্রভাব আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ভারতের জন্য এর অর্থ তাৎক্ষণিক যুদ্ধের আশঙ্কা নয়, বরং পাকিস্তানের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, পারমাণবিক নীতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির উপর আরও নিবিড় নজর রাখা। দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক প্রতিরোধের ভারসাম্য এখনও বহাল থাকলেও, যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে আরও কেন্দ্রীভূত হয়, তখন ভুল হিসাব বা সংকটের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

  • BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত শুক্রবার নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় উত্তেজনা, হিংসা এবং সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার দুই প্রান্তে জাতীয় পতাকা হাতে পালটা মিছিল করল বঙ্গ বিজেপি (BJP Rally)। দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা (National Flag March) নিয়েই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা এবং গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত দুটি পৃথক মিছিলের আয়োজন করা হয়।

    দুই প্রান্তে বিজেপির মিছিল (BJP Rally)

    বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল (BJP Rally) শুরু হয়। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পণ্ডা, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ একাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মী। একই সময়ে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত আরও একটি মিছিল (BJP Rally) বের করা হয়।

    হিংসা ও সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদ

    বিজেপির অভিযোগ, গত শুক্রবার নিট আন্দোলনের নামে ধর্মতলায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হিংসা ছড়ানো, সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই জাতীয় পতাকা হাতে (National Flag March) পথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য

    মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “নিট আন্দোলনের নামে অরাজকতা বা দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে কংগ্রেস সরকারের আমলে বহুবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল।” বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের প্রশ্ন, যারা হিংসায় জড়িত, তারা কীভাবে নিজেদের ছাত্র বলে দাবি করতে পারে? তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল একসঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

    ‘পড়ুয়াদের ব্যবহার করা হচ্ছে’ 

    বিজেপি নেত্রী তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগ, দেশের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। পড়ুয়াদের সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    কড়া পদক্ষেপের দাবি

    মিছিল থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে বিজেপি পালটা স্লোগান দেয়। আন্দোলনের নামে হিংসা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় দলের নেতৃত্ব।

  • Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-সহ দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর প্রথমবার সংসদে হাজির বিজেপি (BJP) সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। আর প্রথম দিনেই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) বলেন, ‘‘আমি স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।’’

    সংসদে উষ্ণ অভ্যর্থনা

    সোমবার সংসদের মকর দ্বার প্রবেশপথে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপেক্ষায় ছিলেন এনডিএ (NDA)-র একাধিক সাংসদ। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) পৌঁছতেই তাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক টুপি পরিয়ে স্বাগত জানান দলীয় সহকর্মীরা। যা বিজেপির তরফে তাঁর প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে হাসিমুখেই সহকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে দেখা যায়।

    জয়রামের সহানুভূতি, প্রধানের পাল্টা জবাব

    এদিন সংসদে ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) কাছে পদত্যাগের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। জয়রাম রমেশ বলেন, “এমনটা হয়েই থাকে।” জবাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “কিছুই হয়নি। আমি একজন স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।” বিজেপি (BJP) নেতাদের মতে, এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মন্ত্রিসভা থেকে সরে গেলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি আসেনি।

    নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বের জল্পনা

    ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) এই মন্তব্যের পর বিজেপির (BJP) অন্দরে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। ওড়িশায় বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা হওয়ার পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও নির্বাচনী দায়িত্ব দিয়ে আসছে দল। বিজেপির অন্দরে এখন জোর জল্পনা, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সাংগঠনিক পদ দেওয়া হতে পারে। আবার আগামী দিনে যে পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে, তার মধ্যে কোনও একটির নির্বাচনী দায়িত্বও তুলে দেওয়া হতে পারে ধর্মেন্দ্র প্রধানের হাতে।

    একাধিক রাজ্যে নির্বাচনী সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। এরপর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি (BJP)। ২০২৪ সালে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এর আগেও উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং কর্ণাটকের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ওই রাজ্যগুলিতে বিজেপির জয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে দলের দাবি।

    পাশে বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব

    ২০২৬ সালের নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে পদত্যাগের পর থেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও প্রকাশ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবদানের প্রশংসা করেন। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, এই পদত্যাগ তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমার ইঙ্গিত নয়। বরং এটি “রাজনৈতিক জবাবদিহি”, “ত্যাগ” এবং “জাতীয় স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত”-এর উদাহরণ।

    বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

    একদিকে যখন বিজেপি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছিল, অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার নেতৃত্বে বিরোধী দল ছাত্র আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক ছবির মধ্যেই লোকসভায় আলোচনার জন্য তোলা হয় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬। প্রশ্নফাঁস রোধে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করার লক্ষ্যেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।

LinkedIn
Share