Tag: বাংলা খবর

  • BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত শুক্রবার নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় উত্তেজনা, হিংসা এবং সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার দুই প্রান্তে জাতীয় পতাকা হাতে পালটা মিছিল করল বঙ্গ বিজেপি (BJP Rally)। দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা (National Flag March) নিয়েই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা এবং গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত দুটি পৃথক মিছিলের আয়োজন করা হয়।

    দুই প্রান্তে বিজেপির মিছিল (BJP Rally)

    বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল (BJP Rally) শুরু হয়। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পণ্ডা, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ একাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মী। একই সময়ে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত আরও একটি মিছিল (BJP Rally) বের করা হয়।

    হিংসা ও সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদ

    বিজেপির অভিযোগ, গত শুক্রবার নিট আন্দোলনের নামে ধর্মতলায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হিংসা ছড়ানো, সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই জাতীয় পতাকা হাতে (National Flag March) পথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য

    মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “নিট আন্দোলনের নামে অরাজকতা বা দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে কংগ্রেস সরকারের আমলে বহুবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল।” বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের প্রশ্ন, যারা হিংসায় জড়িত, তারা কীভাবে নিজেদের ছাত্র বলে দাবি করতে পারে? তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল একসঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

    ‘পড়ুয়াদের ব্যবহার করা হচ্ছে’ 

    বিজেপি নেত্রী তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগ, দেশের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। পড়ুয়াদের সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    কড়া পদক্ষেপের দাবি

    মিছিল থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে বিজেপি পালটা স্লোগান দেয়। আন্দোলনের নামে হিংসা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় দলের নেতৃত্ব।

  • Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-সহ দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর প্রথমবার সংসদে হাজির বিজেপি (BJP) সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। আর প্রথম দিনেই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) বলেন, ‘‘আমি স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।’’

    সংসদে উষ্ণ অভ্যর্থনা

    সোমবার সংসদের মকর দ্বার প্রবেশপথে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপেক্ষায় ছিলেন এনডিএ (NDA)-র একাধিক সাংসদ। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) পৌঁছতেই তাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক টুপি পরিয়ে স্বাগত জানান দলীয় সহকর্মীরা। যা বিজেপির তরফে তাঁর প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে হাসিমুখেই সহকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে দেখা যায়।

    জয়রামের সহানুভূতি, প্রধানের পাল্টা জবাব

    এদিন সংসদে ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) কাছে পদত্যাগের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। জয়রাম রমেশ বলেন, “এমনটা হয়েই থাকে।” জবাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “কিছুই হয়নি। আমি একজন স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।” বিজেপি (BJP) নেতাদের মতে, এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মন্ত্রিসভা থেকে সরে গেলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি আসেনি।

    নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বের জল্পনা

    ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) এই মন্তব্যের পর বিজেপির (BJP) অন্দরে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। ওড়িশায় বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা হওয়ার পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও নির্বাচনী দায়িত্ব দিয়ে আসছে দল। বিজেপির অন্দরে এখন জোর জল্পনা, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সাংগঠনিক পদ দেওয়া হতে পারে। আবার আগামী দিনে যে পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে, তার মধ্যে কোনও একটির নির্বাচনী দায়িত্বও তুলে দেওয়া হতে পারে ধর্মেন্দ্র প্রধানের হাতে।

    একাধিক রাজ্যে নির্বাচনী সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। এরপর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি (BJP)। ২০২৪ সালে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এর আগেও উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং কর্ণাটকের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ওই রাজ্যগুলিতে বিজেপির জয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে দলের দাবি।

    পাশে বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব

    ২০২৬ সালের নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে পদত্যাগের পর থেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও প্রকাশ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবদানের প্রশংসা করেন। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, এই পদত্যাগ তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমার ইঙ্গিত নয়। বরং এটি “রাজনৈতিক জবাবদিহি”, “ত্যাগ” এবং “জাতীয় স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত”-এর উদাহরণ।

    বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

    একদিকে যখন বিজেপি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছিল, অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার নেতৃত্বে বিরোধী দল ছাত্র আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক ছবির মধ্যেই লোকসভায় আলোচনার জন্য তোলা হয় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬। প্রশ্নফাঁস রোধে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করার লক্ষ্যেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।

  • Viral Video: আন্দোলনের পর ‘বিজয়োৎসব’? পাঁচতারা হোটেলে ‘ককরোচ-পার্টি’র ভাইরাল ভিডিও ছড়াতেই বিতর্কে সিজেপি

    Viral Video: আন্দোলনের পর ‘বিজয়োৎসব’? পাঁচতারা হোটেলে ‘ককরোচ-পার্টি’র ভাইরাল ভিডিও ছড়াতেই বিতর্কে সিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দোলন শেষ, এবার পাঁচতারা হোটেলে ফুর্তিতে মজেছে তথাকথিত ‘ককরোচরা’। দীর্ঘ ৩৭ দিনের আন্দোলন, সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ, সাধারণ ছাত্র-যুবকদের আবেগকে সামনে রেখে ‘ন্যায়ের লড়াই’-এর দাবি। পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অজুহাতে টানা ৩৭ দিন ধরে শহরকে অচল করে রাখার পর, সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের অবসান ঘটেছিল। কিন্তু আন্দোলন মিটতেই বেরিয়ে এলো এদের মূল চরিত্র। হঠাৎই সামনে এসেছে একাধিক ভাইরাল ভিডিও (Viral Video)। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। যেখানে দেখা যাচ্ছে নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের দুঃখ-কষ্টের তোয়াক্কা না করে, দিল্লির এক অতি-বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে মদ্যপ ও উন্মাদ উদযাপনে মেতে উঠেছে সিজেপি-র তথাকথিত নেতারা। সোশাল মিডিয়ায় সেই উদ্দাম ফুর্তির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

    নীতিশিক্ষার আড়ালে চরম ‘ভণ্ডামি’

    নিট পরীক্ষার অনিয়ম আর শিক্ষা সংস্কারের বড় বড় বুলি ঝেড়ে যন্তর মন্তরে খাড়া করা হয়েছিল এই আন্দোলনের মঞ্চ। ৩৭ দিন ধরে চলা এই অবস্থান, অনশন আর সস্তা পথসভার আসল উদ্দেশ্য যে আন্দোলন ছিল না, বরং রাজনৈতিক ঘোলা জলে মাছ ধরা ছিল—তা আজ স্পষ্ট। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে (Viral Video) দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে সিজেপির (Cockroach Janta Party) শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত অশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অর্পিত শর্মা-সহ কয়েকজন একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে নাচ-গান ও উদ্‌যাপন করছেন। ভিডিওগুলির সত্যতা নিয়ে সরকারি কোনও তদন্তের কথা সামনে না এলেও, সেগুলি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যে আন্দোলনের নামে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, যেখানে বহু আন্দোলনকারী এখনও আইনি জটিলতার মুখে, সেই আন্দোলনের নেতাদের এই বিলাসী উদ্‌যাপন কি আদৌ শোভনীয়?

    রাজপথের হিংসা

    আন্দোলনের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা যায় গত ২০ জুলাই। তথাকথিত এই আন্দোলনকারীরা আন্দোলনের নামে রাজধানীজুড়ে তাণ্ডব চালায়। হাই-সিকিউরিটি জোন ভেঙে সংসদে ঢোকার চেষ্টা, পুলিশকে আক্রমণ করা, দিল্লির সরকারি বাস (DTC) ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। সাধারণ মানুষের করের টাকায় তৈরি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করাই ছিল এদের মূল উদ্দেশ্য। আজ সেই হিংসাত্মক ঘটনার জন্য একাধিক আইনি মামলা ঝুলছে সাধারণ কর্মীদের কাঁধে।

    ইস্তফার নাটকের পরই ফুর্তির বন্যা!

    এদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগপত্রে তিনি সাফ জানান, চলমান অস্থিরতাকে এমন শক্তির হাতিয়ার হতে দিতে চান না, যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করতে চাইছে। এরপর ছাত্রদের ক্ষতিপূরণ, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হয়। এরপরই সিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে। আর আন্দোলনের দাবি মেটানো ও আলোচনার আশ্বাস মিলতেই পাততাড়ি গোটায় সিজেপি (Cockroach Janta Party)। রাজপথের ধুলো ঝেড়ে ফেলতে না ফেলতেই সামনে এলো নেতাদের আসল রূপ।

    বিলাসবহুল হোটেলে ‘ককরোচ’ নেতাদের তাণ্ডব

    আর ঠিক এই সময়েই সামনে আসে বিলাসবহুল হোটেলের উদ্‌যাপনের ভিডিও (Viral Video)। দিল্লির একটি বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত প্রাইভেট পার্টিতে সিজেপি (Cockroach Janta Party)-র শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং অর্পীত শর্মাদের চরম অনৈতিক ভঙ্গিতে নাচ-গান ও হুল্লোড় করতে দেখা যাচ্ছে। যেখানে শত শত পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এবং সাধারণ ছাত্ররা আজ কোর্ট-কাছারির চক্কর কাটছে, সেখানে নিজেদের “ছাত্রনেতা” দাবি করা এই যুবকরা কোটি টাকার পাঁচতারা হোটেলে উৎসব পালন করছে! এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা প্রমাণ করে, সাধারণ পরীক্ষার্থীরা এদের কাছে কেবলই রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ঘুঁটি ছিল।

    ‘ফুর্তির টাকা কোথা থেকে এল?’ প্রশ্ন মহেশ জেঠমালানির

    সোশাল মিডিয়ায় এই ভিডিও (Viral Video) ছড়িয়ে পড়তেই কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। সিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “”সিরিয়াসলি? দিল্লিতে টানা কয়েকদিন তাণ্ডব ও সহিংসতার পর সিজেপি নেতৃত্ব পাঁচতারা হোটেলে ভিক্টরি পার্টি দিচ্ছে! তথাকথিত এই যুব নেতারা ফুল ভলিউমে গান চালিয়ে নাচতে শুরু করে দিল? পুরো আন্দোলনজুড়ে হাজার হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা, বিলাসবহুল খাবার, যাতায়াত, তাঁবু, মঞ্চ, কোটি টাকার সাউন্ড সিস্টেমের খরচ কে জোগালো? দিল্লিকে অশান্ত রাখতে আর এই নেতাদের ফুর্তি যোগাতে কে এত টাকা ঢালল?” টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী স্থগিত করে রাখার পেছনে যে অঢেল কালো টাকার লেনদেন হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব জনসমক্ষে আনতে হবে, বলেও দাবি তোলেন তিনি।

    তদন্ত চলছে

    দিল্লি পুলিশ এখনও ২০ জুলাইয়ের হিংসার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ক্লিপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। তবে ভিডিওটি তদন্তের অংশ কি না, সে সম্পর্কেও কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি।

    শিক্ষা ইস্যু থেকে নজর এখন অর্থের উৎসে

    ভিডিওটি সামনে আসার পর কেবল রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, সাধারণ মানুষও এই ‘ভণ্ড’ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। নেটিজেনদের প্রশ্ন- যাদের সাধারণ কর্মী ও ছাত্ররা আজ পুলিশের মামলার মুখোমুখি, তারা কী করে এমনভাবে পার্টি করতে পারে? যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও শিক্ষাক্ষেত্রের সংস্কারের দাবিতে, সেই আন্দোলনের আলোচনা এখন অনেকটাই সরে এসেছে অন্য দিকে। ভাইরাল উদ্‌যাপনের ভিডিও সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আন্দোলনের নেতৃত্ব, অর্থের উৎস, সাংগঠনিক জবাবদিহি এবং জনআন্দোলনের নামে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন। আন্দোলনের সমর্থকদের একাংশ এখনও নেতৃত্বের পাশে থাকলেও, বিরোধীরা বলছেন- যাঁরা সাধারণ মানুষের আবেগকে সামনে রেখে আন্দোলন করেন, তাঁদের ব্যক্তিগত আচরণও জনসমক্ষে প্রশ্নের মুখে পড়ে। আর সেই কারণেই পাঁচতারা হোটেলের এই উদ্‌যাপন শুধু একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান নয়, বরং আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

  • CAG Report: স্বাস্থ্যসাথী থেকে আমফান ত্রাণ, একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

    CAG Report: স্বাস্থ্যসাথী থেকে আমফান ত্রাণ, একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্যসাথী থেকে যুবশ্রী, আমফানের ত্রাণ থেকে পিএম কেয়ার্সের অক্সিজেন প্ল্যান্ট—রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, গাফিলতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে একের পর এক প্রশ্ন ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report)। শনিবার বিধানসভায় ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রিপোর্টগুলিতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই রিপোর্টগুলো পড়লেই বোঝা যাবে কেন রাজ্যের ঋণের বোঝা এত বেড়েছে।’’

    পিএম কেয়ার্সের অক্সিজেন প্ল্যান্টের বড় অংশই চালু হয়নি

    ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) বলা হয়েছে, কোভিডের সময় কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) যে জরুরি আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত তার ৬৫৯.২৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশই খরচ হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, পিএম কেয়ার্স তহবিল এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)-এর অর্থে রাজ্যে ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৩২টি চালু ছিল। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় অর্থে তৈরি হওয়া বহু পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ব্যবহারই করা হয়নি বলে রিপোর্টে (CAG Report) উল্লেখ।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে একাধিক অনিয়ম!

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়েও একাধিক গুরুতর পর্যবেক্ষণ করেছে ক্যাগ—

    • ভুয়ো সুবিধাভোগীর আশঙ্কা- ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে রেশন কার্ডধারী পরিবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি স্বাস্থ্যসাথী সুবিধাভোগীর নাম নথিভুক্ত ছিল, যা ভুয়ো উপভোক্তার সম্ভাবনার ইঙ্গিত বলেই ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report) উল্লেখ।
    • অতিরিক্ত খরচ ও হাসপাতালের রেটিং নিয়ে প্রশ্ন- স্মার্ট কার্ড বিতরণে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। নমুনা হিসেবে পরীক্ষা করা ৫০টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৩১টিকে বিধিবহির্ভূতভাবে উচ্চতর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত (Empanel) করা হয়েছিল। এর ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
    • হাসপাতালের সংখ্যায় ঘাটতি- মোট ২ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবারের জন্য ৩,০৩৮টি হাসপাতাল প্রয়োজন হলেও বাস্তবে তালিকাভুক্ত ছিল মাত্র ২,৬০৫টি হাসপাতাল। ফলে বহু মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলে রিপোর্টে (CAG Report) ইঙ্গিত করা হয়েছে।
    • জনবল ও পরিকাঠামোর অভাব- পরিদর্শন করা হাসপাতালগুলির মধ্যে- ৩২টিতে চিকিৎসকের অভাব, ৩৬টিতে নার্সের ঘাটতি, ১৬টিতে ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি সরঞ্জামের অভাব ধরা পড়েছে।

    বাজেটের অভাবে ঋণ

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ২০২০-২২ সালে প্রায় ৭২১ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরে সেই ঋণের সুদ বাবদ সরকারকে প্রায় ১০-১১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে।

    স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ চিত্র

    ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী—

    • ● বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ৩৬ শতাংশ পদ খালি
    • ● সাধারণ চিকিৎসকের ৪৯ শতাংশ পদ শূন্য
    • ● ৮৯ শতাংশ সাব-সেন্টারে পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী নেই
    • ● কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের ৫৪ শতাংশ চিকিৎসকের পদ ফাঁকা
    • ● ৯১ শতাংশ CHC-তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই
    • ● ৮০ শতাংশের বেশি CHC-তে রক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না

    এছাড়া জেলা হাসপাতালগুলিতে—

    • ● ৬৩ শতাংশ চিকিৎসকের পদ
    • ● ৪৪ শতাংশ প্যারামেডিক্যাল কর্মীর পদ
    • ● ৮০ শতাংশ প্রশাসনিক আধিকারিকের পদ খালি ছিল

    যুবশ্রী প্রকল্পেও প্রশ্ন

    ক্যাগ (CAG Report) রিপোর্টে উল্লেখ, যুবশ্রী প্রকল্পে আবেদনকারীদের যথাযথ যাচাইয়ের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। রিপোর্টে বলা হয়েছে- একই ব্যক্তি বছরের পর বছর ভাতা পাচ্ছেন। নতুন আবেদনকারীদের সুযোগ কমে যাচ্ছে। ভুয়ো আবেদনকারী তালিকায় থেকে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    আমফান ও ইয়াসে ত্রাণে অনিয়ম!

    সুপার সাইক্লোন আমফান-এর ক্ষতিপূরণ নিয়েও একাধিক অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করেছে ক্যাগ (CAG Report)। রিপোর্ট অনুযায়ী- রাজ্য সরকার (West Bengal) কেন্দ্রের কাছে ৩৫,০১৮ কোটি টাকা দাবি করলেও নিরীক্ষায় দেখা যায়, প্রকৃত প্রাপ্য ছিল প্রায় ২,৭০৭.৭৭ কোটি টাকা। ৯,২২৬ জন উপভোক্তাকে একাধিকবার বাড়ি তৈরির অনুদান দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ১৮.০৭ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ২১৮.০৪ কোটি টাকা নির্দিষ্ট তহবিলের বাইরে রাখা হয়েছিল, ফলে ৪.৫১ কোটি টাকার সুদের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিপূরণে হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরে ১,৭৭৯ জন একই ব্যক্তি একাধিকবার আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, যার ফলে ২২.৮৩ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

    শিল্পে জমি লিজে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ক্ষতি

    ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নদিয়ার হরিণঘাটায় শিল্প পার্কের জমি ৯৯ বছরের জন্য একটি ই-কমার্স সংস্থাকে লিজ দেওয়ার সময় জলাভূমিও লিজের আওতায় চলে আসে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের প্রায় ১৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিমা সংস্থার বকেয়া বেড়ে ৩১ কোটি টাকা

    ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report) বলা হয়েছে, বিমা সংস্থাগুলির কাছে রাজ্য সরকারের প্রায় ৭ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা বকেয়া ছিল। সময়মতো সেই অর্থ পরিশোধ না করায় জরিমানা-সহ বকেয়ার পরিমাণ ৩১ কোটিরও বেশি হয়ে যায়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া বৃদ্ধি পেলেও সেই অর্থ বিমা সংস্থাগুলিকে পরিশোধ করা হয়নি।

    বাজেট বাস্তবায়নেও অসঙ্গতি

    ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের স্টেট ফিনান্সেস অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে- বরাদ্দ ছিল ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৬৩৮.০৪ কোটি টাকা। ব্যয় হয়েছে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৭৫.৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭০ হাজার ৬৬২.২৫ কোটি টাকা (১৮.০৯ শতাংশ) অব্যবহৃত থেকে গেছে। এছাড়া ১৩ হাজার ৪৮৬.৯২ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় এখনও বিধানসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও বহু হাজার কোটি টাকা অব্যবহৃত থাকার কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    রাজ্যের আর্থিক অবস্থার চিত্র

    ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী- রাজস্ব ঘাটতি: ৩৯,৭২৭ কোটি টাকা। আর্থিক (Fiscal) ঘাটতি: ৬১,৯২৪ কোটি টাকা। মোট ঋণ: প্রায় ৭.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত টানা ১০ বছর রাজস্ব ঘাটতির কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আয়ের বড় অংশ বেতন, পেনশন, সুদ এবং ভর্তুকি খাতে ব্যয় হওয়ায় পরিকাঠামো উন্নয়নে পর্যাপ্ত মূলধনী বিনিয়োগ সম্ভব হয়নি বলেও পর্যবেক্ষণ করেছে ক্যাগ।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) দাবি করেছেন, ক্যাগ রিপোর্ট পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ‘‘ভয়াবহ চিত্র’’ তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়লেও সেই অর্থ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।

    ক্যাগ রিপোর্টে যেসব প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

    স্বাস্থ্যসাথী, যুবশ্রী, পিএম কেয়ার্সে অর্থে স্থাপিত অক্সিজেন প্ল্যান্ট, আমফান ও ইয়াস ত্রাণ, জল জীবন মিশন, সমগ্র শিক্ষা মিশন, অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্প, পূর্ত দপ্তরের বিভিন্ন কাজ, শিল্পোন্নয়ন নিগমের জমি লিজ ও রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা- সব মিলিয়ে, ক্যাগের একাধিক রিপোর্টে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, অর্থ ব্যয়, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, দুর্যোগ ত্রাণ, কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই একাধিক অনিয়ম, গাফিলতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ উঠে এসেছে।

  • Punjab Police: জলন্ধরে আইইডি-সহ গ্রেফতার পাক সমর্থিত বব্বর খালসা জঙ্গি, বড় হামলা রুখে দেওয়ার দাবি পঞ্জাব পুলিশের

    Punjab Police: জলন্ধরে আইইডি-সহ গ্রেফতার পাক সমর্থিত বব্বর খালসা জঙ্গি, বড় হামলা রুখে দেওয়ার দাবি পঞ্জাব পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্জাবে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ (Punjab Police)। জলন্ধরে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার পাকিস্তান-সমর্থিত বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (বিকেআই)-এর একটি জঙ্গি মডিউলের মূল সদস্য। জলন্ধরে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই) এবং জালন্ধর গ্রামীণ পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে সৎবীর সিং নামে এক ব্যক্তি। পুলিশের (Punjab Police) দাবি, এই অভিযানের ফলে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

    কে সৎবীর সিং?

    পঞ্জাবের তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ধৃতের নাম সৎবীর সিং। তিনি জলন্ধরের আদমপুর এলাকার পাডিয়ানা গ্রামের বাসিন্দা। পঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি (DGP) গৌরব যাদব জানান, গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল যে বিদেশে বসে থাকা জঙ্গি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে সৎবীর সিং বিস্ফোরকের একটি চালান সংগ্রহ করেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ধান্দৌর গ্রামের কাছে নাকা চেকিংয়ের সময় তাকে মোটরসাইকেল-সহ আটক করা হয়।

    নাশকতার আশঙ্কা, উদ্ধার IED

    তল্লাশিতে সৎবীর সিংয়ের ব্যাগ থেকে উদ্ধার ১.৩ কেজি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক-ভর্তি একটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED)। IED-র মধ্যে শার্পনেল ও বল বেয়ারিংও ছিল, যা বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বাড়াতে পারে। এছাড়া ধৃতের ব্যবহৃত কালো রঙের একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    পুলিশের দাবি

    ডিজিপি গৌরব যাদব বলেন, “সময়মতো এই অভিযান চালানো সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”

    তদন্তে বিদেশি যোগের খোঁজ

    পুলিশ (Punjab Police) জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিদেশে থাকা হ্যান্ডলার এবং স্থানীয় সহযোগীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। গোটা জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলাই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য। ঘটনার জেরে জলন্ধর গ্রামীণ জেলার পাতারা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১১৩(১) ও ১১৩(৩) ধারা, বিস্ফোরক পদার্থ আইন এবং অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • Exam Reform Task Force: প্রশ্নফাঁস রুখতে মোদির বড় সিদ্ধান্ত, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স, প্যানেলে আর কারা?

    Exam Reform Task Force: প্রশ্নফাঁস রুখতে মোদির বড় সিদ্ধান্ত, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স, প্যানেলে আর কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস রুখে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেছেন। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আধার প্রকল্পের অন্যতম রূপকার নন্দন নিলেকানিকে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সরকার ইতিমধ্যেই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ করেছে। তবে শুধুমাত্র শাস্তি নয়, গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাকেই আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ফেরানো যায়।

    নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের রূপরেখা

    ১৯৫৫ সালের ২ জুন কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে জন্ম নন্দন নিলেকানির। পরিবারের আদি বাড়ি কর্নাটকের সিরসিতে। বেঙ্গালুরুর বিশপ কটন বয়েজ স্কুল এবং ধারওয়াড়ের সেন্ট জোসেফস্ হাই স্কুলে পড়াশোনার পর তিনি আইআইটি বম্বে থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক সম্পন্ন করেন। ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিলেকানি আধার ডিজিটাল পরিচয় প্রকল্পের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত। এবার তাঁর নেতৃত্বে টাস্ক ফোর্স পরীক্ষা ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থীদের ডিজিটাল যাচাই এবং ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করার সুপারিশ করবে।

    মহাকাশ প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা নিয়ে এস সোমনাথ

    ১৯৬৩ সালে কেরলের আলাপ্পুঝা জেলার থুরাভুরে জন্ম এস সোমনাথের। তিনি কোল্লামের টিকেএম কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি) থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এম.টেক সম্পন্ন করেন। পরে আইআইটি মাদ্রাজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইসরোর চেয়ারম্যান ও মহাকাশ দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রায় চার দশকের অভিজ্ঞ এই মহাকাশ বিজ্ঞানী বৃহৎ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও জটিল প্রকল্প পরিচালনায় বিশেষ দক্ষ।

    নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করবেন তপন কুমার ডেকা

    অসমের বরপেটা জেলার সারথেবাড়িতে ১৯৬৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জন্ম তপন কুমার ডেকার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৮ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। হিমাচল প্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসার ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) ডিরেক্টর ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ দমন, ২৬/১১ মুম্বই হামলার তদন্ত, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা অভিযানে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

    আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটির প্রযুক্তিগত পরামর্শ

    চেন্নাইয়ে ১৯৬৮ সালে জন্ম ভি কামাকোটির। তিনি শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিই এবং আইআইটি মাদ্রাজ থেকে এমএস (রিসার্চ) ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০২২ সাল থেকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। কম্পিউটার আর্কিটেকচার, তথ্য নিরাপত্তা এবং ভিএলএসআই ডিজাইনের বিশেষজ্ঞ কামাকোটি জাতীয় স্তরের মাইক্রোপ্রসেসর উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের গঠিত এআই টাস্ক ফোর্সেরও চেয়ারম্যান ছিলেন।

    শিক্ষা নীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে অনিতা কারওয়াল

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষে ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন অনিতা কারওয়াল। গুজরাত ক্যাডারের এই আইএএস অফিসারের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ৩৬ বছরেরও বেশি। ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি সিবিএসই-র চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের সচিব হিসেবে জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০ এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে অমৃত লাল মীনা

    ১৯৬৫ সালে রাজস্থানে জন্ম অমৃত লাল মীনার। ১৯৮৯ ব্যাচের বিহার ক্যাডারের আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিহারে প্রায় ২৫ বছর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে ১১ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৪-২৫ সালে বিহারের মুখ্যসচিব এবং ২০২২-২৪ সালে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের সচিব ছিলেন। প্রশাসন, সমন্বয় এবং বৃহৎ পরিসরের লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা পরীক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগবে।

    কী করবে এই টাস্ক ফোর্স?

    কেন্দ্রের গঠিত এই বহুমুখী বিশেষজ্ঞ কমিটি দেশের সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করবে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, পরীক্ষা পরিচালনা, পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ করার সুপারিশ করবে এই টাস্ক ফোর্স। একই সঙ্গে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র কাঠামোগত সংস্কার এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী সমাধানের রূপরেখাও তৈরি করবে কমিটি। কেন্দ্রের দাবি, এই টাস্ক ফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে দেশের উচ্চঝুঁকির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একাধিক সংস্কার কার্যকর করা হবে।

  • Hepatitis in India: হেপাটাইটিস আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান ভারতের! টিকাকরণে ঘাটতিই কি বড় কারণ?

    Hepatitis in India: হেপাটাইটিস আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান ভারতের! টিকাকরণে ঘাটতিই কি বড় কারণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। সদ্যোজাত ও শিশুদের মধ্যে লিভারের রোগের দাপট বাড়ছে‌। বিশেষত দীর্ঘমেয়াদি এবং সংক্রামক লিভারের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তাই উদ্বেগ আরও বেশি। ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস ডে-তে তাই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সামাজিক সচেতনতার হার না বাড়ালে এবং স্বাস্থ্য সতর্ক না হলে আগামী দিনে আরও বড় বিপদ হতে পারে। তাঁরা আরেকটি মহামারির আশঙ্কা করছেন।
    ভারতে ক্রমশ বাড়ছে হেপাটাইটিস রোগের দাপট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, হেপাটাইটিস আক্রান্তের নিরিখে ভারত বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। গত এক দশকে ভারতে হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি রোগের প্রকোপ বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য হারে আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। হেপাটাইটিস এ এবং অন্যান্য হেপাটাইটিস সারিয়ে তোলা সহজ। কিন্তু হেপাটাইটিস বি এবং সি হলো দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অনেক বেশি।

    মিলিয়েনিয়াম প্রজন্মের টিকাকরণে ঘাটতি বিপদ বাড়িয়েছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগে আক্রান্তের একটা বড় অংশ শিশু এবং সদ্যোজাত। অধিকাংশ আক্রান্ত তার মায়ের শরীর থেকে এই রোগে সংক্রামিত হয়েছেন। আবার অনেকের দীর্ঘদিন পরে রোগ চিহ্নিত হয়েছে। উপসর্গ বিশেষ না থাকায়, তাঁরা স্বাস্থ্য অবহেলা করেছেন। যার ফলে পরবর্তী কালে রোগ আরও জটিল আকার নিয়েছে।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাকরণে ঘাটতি ভারতে হেপাটাইটিসের বোঝা বাড়াচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কুড়ি-পঁচিশ বছর আগে ভারতে হেপাটাইটিসের টিকাকরণের হার একদম কম ছিল। এখন যাদের পঁচিশ -তিরিশ বছর বয়স, তাঁদের অনেকেই হেপাটাইটিস বি-র টিকাকরণ হয়নি। এখন গোটা দেশ জুড়ে শিশুদের জন্মের পরে হেপাটাইটিসের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু আগের প্রজন্মের অনেকের এই টিকা দেওয়া হয়নি। এর ফলে, তাদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। আর হেপাটাইটিস বি এবং সি-র মতো রোগ সহজেই মায়ের শরীর থেকে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সংক্রামিত হয়। তাই বর্তমানে ভারতে শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিসের দাপট দেখা দিচ্ছে।
    পাশপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণের হার এ দেশে এখনো উল্লেখযোগ্য ভাবে কম। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্ত বয়স্কদের হেপাটাইটিস টিকাকরণের হার মাত্র ৩ শতাংশ। হেপাটাইটিসের প্রকোপ বাড়ার নেপথ্যে এটাও অন্যতম কারণ বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, টিকাকরণের হার না বাড়লে এই রোগের দাপট আটকানো কঠিন হয়ে যাবে।

    কীভাবে রোগ নির্ণয় হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ সম্পর্কে সজাগ থাকলেই রোগ নির্ণয় সহজ হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভারে এই রোগ সংক্রামিত হলে, বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া, পেটের ডান দিকে ব্যথা হওয়া, ক্লান্তি ভাব দেখা দেবে। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। বরং, চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নির্দিষ্ট উপায়ে রক্ত পরীক্ষা করালে হেপাটাইটিস রোগ চিহ্নিত করা যায়। এর দ্রুত চিকিৎসাও করা যায়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস রোগ দীর্ঘমেয়াদি হলে লিভারের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ চলে যেতে পারে। সিরোসিস হতে পারে। জীবন সংশয় ও দেখা দিতে পারে। তাই এই ধরনের রোগকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।

    হেপাটাইটিস বি এবং সি নিয়ে কেন বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস এ সাধারণত জলবাহিত রোগ। বর্ষার মরশুমে এই সংক্রামক রোগের দাপট বাড়ে। দূষিত জল থেকেই এই রোগ হয়। কিন্তু হেপাটাইটিস বি এবং সি আরও বেশি জটিল। এই রোগ একাধিক কারণে হতে পারে। মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে সংক্রামিত হওয়া ছাড়াও, এই রোগ রক্ত এবং যৌন সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এই রোগ কোনো উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন আক্রান্তের শরীরে থাকতে পারে। যখন রোগ নির্ণয় হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। ফলে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে যায়।

    হেপাটাইটিসের দাপট ঠেকাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ২৮ জুলাই ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস ডে! এই উপলক্ষে দেশ জুড়ে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি হেপাটাইটিসের মতো রোগ আটকানোর মূল হাতিয়ার বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর এ দেশে ৫৫ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস সি রোগে আক্রান্ত হন। ভারতে হেপাটাইটিসের দাপট ঠেকাতে মূল হাতিয়ার টিকাকরণ। এ দেশে হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগের দাপট বেড়েছে। তাই লিভারের এই সংক্রামক রোগ ঠেকাতে টিকা করণ জরুরি। শিশুদের টিকা দেওয়ার পাশপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণে জোর দিতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণ না হলে হেপাটাইটিসের এই বোঝা ভারতে বাড়তে পারে। হেপাটাইটিস বি নিঃশব্দে মহামারির আকার নিতে পারে। তাছাড়া লিভার সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসে জোর দিতে হবে। আবার মদ্যপানের অভ্যাস ছাড়তে হবে। কারণ দেশ জুড়ে মদ্যপানে আসক্তি বাড়ছে। যা লিভারের একাধিক সংক্রমণের কারণ হয়ে উঠছে।

  • Bangladesh: ঢাকার উল্টো রথযাত্রায় নাশকতার ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা, ছাতার ভেতরে মিলল শক্তিশালী IED!

    Bangladesh: ঢাকার উল্টো রথযাত্রায় নাশকতার ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা, ছাতার ভেতরে মিলল শক্তিশালী IED!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজধানী ঢাকায় উল্টো রথযাত্রাকে ঘিরে বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। শোভাযাত্রার নির্ধারিত পথের পাশে একটি ছাতার ভিতরে লুকিয়ে রাখা শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) উদ্ধার হওয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশের দাবি, হিন্দু ভক্তদের লক্ষ্য করেই এই বিস্ফোরকটি রাখা হয়েছিল।

    শোভাযাত্রা পৌঁছানোর আগেই উদ্ধার বিস্ফোরক

    শুক্রবার সন্ধ্যায় মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নীচে সন্দেহজনক একটি ছাতা পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন পথচারী। ছাতার ভেতর থেকে আলো জ্বলতে-নিভতে দেখে বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগকে জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের আধিকারিকরা। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ এসআই মির্জা মহম্মদ মুক্তার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। মেট্রোরেল স্টেশনের জেনারেটর রুমের পাশে রাখা ছাতাটি পরীক্ষা করে তার ভিতরে বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন বোমা বিশেষজ্ঞরা।

    আতঙ্ক এড়াতে কৌশলী পদক্ষেপ পুলিশের

    শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেজন্য পুলিশ জানায় ওই এলাকায় বিদ্যুতের ত্রুটি হয়েছে। এরপর রথযাত্রার পথ সামান্য পরিবর্তন করে ভক্তদের নিরাপদে স্বামীবাগ আশ্রমের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে বিস্ফোরকটির কাছাকাছি দিয়ে কাউকেই যেতে হয়নি। উল্লেখ্য, উল্টো রথযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে মতিঝিলের শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমে যাওয়ার কথা ছিল।

    নিষ্ক্রিয় করা হয় আইইডি (IED)

    শোভাযাত্রা নিরাপদে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে আইইডিটি (IED) ধ্বংস করে। তবে এই অভিযানের সময় মিরাজ আহমেদ (৬৬) নামে এক পথচারী জখম হন। তাঁর বাঁ চোখে স্প্লিন্টারের আঘাত লাগে। প্রথমে তাঁকে বাংলাদেশের (Bangladesh) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত করা হয়।

    কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল বিস্ফোরক?

    শনিবার সন্ধ্যায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মহম্মদ শামসুল হক জানান, “এটি ছিল একটি পাইপ বোমা। এর ভিতরে সালফার, প্রচুর ধারালো ধাতব টুকরো এবং কাঁটা পেরেক ভরা ছিল, যাতে বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিস্ফোরকটি একটি ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক সার্কিটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ছাতার বোতামে চাপ দিলেই বিস্ফোরণ ঘটবে, এমনভাবে সেটি তৈরি করা হয়েছিল। সময় মতো এটি উদ্ধার না হলে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত।”

    মামলা দায়ের, তদন্ত শুরু

    ঘটনার পর মতিঝিল থানার এসআই মির্জা মহম্মদ মুক্তা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছেন। কারা এই বিস্ফোরক রেখেছিল, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত নাশকতা চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

  • UPSC Recruitment: সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় খবর, ২০২৭ সালের UPSC পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    UPSC Recruitment: সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় খবর, ২০২৭ সালের UPSC পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য বড় খবর। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC Recruitment)। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের সিভিল সার্ভিস, এনডিএ, সিডিএস, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্যালেন্ডার আগেভাগেই প্রকাশ করল ইউপিএসসি। একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে কমিশন (UPSC Recruitment)। ফলে পরীক্ষার্থীরা এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির রোডম্যাপ তৈরি করার সুযোগ পাবেন।

    অনলাইনেই আবেদন

    UPSC জানিয়েছে, ২৫ জুলাই ২০২৬ থেকে ১৪ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে হবে শুধুমাত্র অনলাইন রিক্রুটমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন (ORA) পোর্টালের মাধ্যমে। অফলাইনে কোনও আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

    কোন পদে নিয়োগ (UPSC Recruitment)?

    প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র তথ্য অনুযায়ী, UPSC Advertisement No. 9/2026 এবং Special Advertisement No. 51/2026 প্রকাশ করেছে। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। প্রতিটি পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা, অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য শর্ত আলাদা। তাই আবেদন করার আগে বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে UPSC।

    পরীক্ষার সময়সূচি?

    এটি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মতো লিখিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ নয়। এখানে প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে বাছাই করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শর্টলিস্টিং, লিখিত পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। ২০২৭ সালের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ-

    • কম্বাইন্ড জিও-সায়েন্টিস্ট (প্রিলিমিনারি): ১০ জানুয়ারি, ২০২৭
    • ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস (প্রিলিমিনারি) এক্সামিনেশন: ৩১ জানুয়ারি, ২০২৭
    • সিবিআই ডিএসপি এলডিসিই: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭
    • সিআইএসএফ অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট (এক্সিকিউটিভ) এলডিসিই: ১৪ মার্চ, ২০২৭
    • এনডিএ অ্যান্ড এনএ (আই) এবং সিডিএস (আই): ১১ এপ্রিল, ২০২৭
    • সিভিল সার্ভিসেস (প্রিলিমিনারি): ২৩ মে, ২০২৭
    • ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস (মেইন): ১৮ জুন, ২০২৭
    • আইইএস/আইএসএস এক্সামিনেশন: ১৮–২০ জুন, ২০২৭
    • কম্বাইন্ড জিও-সায়েন্টিস্ট (মেইন): ১৯–২০ জুন, ২০২৭
    • সিএপিএফ (অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্টস): ৪ জুলাই, ২০২৭
    • কম্বাইন্ড মেডিক্যাল সার্ভিসেস: ১৮ জুলাই, ২০২৭
    • সিভিল সার্ভিসেস (মেইন): ২০ অগাস্ট থেকে পাঁচ দিন, ২০২৭
    • এনডিএ অ্যান্ড এনএ (আইআই) এবং সিডিএস (আইআই): ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৭
    • ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (মেইন): ২১–২৭ নভেম্বর, ২০২৭
    • এসও/স্টেনো (জিডি-বি/জিডি-আই) এলডিসিই: ১৮–১৯ ডিসেম্বর, ২০২৭

    কেন এই ক্যালেন্ডার (UPSC Exam Calendar 2027) গুরুত্বপূর্ণ?

    UPSC আগেভাগেই ২০২৭ সালের পরীক্ষার ক্যালেন্ডার (UPSC Exam Calendar 2027) প্রকাশ করায় পরীক্ষার্থীরা অনেক আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুতির পরিকল্পনা করতে পারবেন। বিশেষ করে যাঁরা একাধিক UPSC পরীক্ষায় বসার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই সূচি অত্যন্ত সহায়ক হবে। পাশাপাশি কোচিং প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মরত চাকরিপ্রার্থীরাও নির্ধারিত পরীক্ষার তারিখ অনুযায়ী নিজেদের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের সময়সূচি সাজিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে, সরাসরি নিয়োগের এই বিজ্ঞপ্তি এমন প্রার্থীদের জন্যও বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে, যাঁদের বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিন্তু তাঁরা সিভিল সার্ভিসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

    আবেদনকারীদের সতর্কতা

    তবে আবেদনকারীদের সতর্ক করে UPSC জানিয়েছে, নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য শুধুমাত্র কমিশনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে কমিশন স্পষ্ট করেছে, প্রশাসনিক প্রয়োজন হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন কিংবা পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের নিয়মিত UPSC-র সরকারি ওয়েবসাইটে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ITR Filing 2026: ৩১ জুলাই আয়কর রিটার্ন ফাইলের শেষ তারিখ, দেরি হলেই বাড়তে পারে জরিমানা-করের বোঝা!

    ITR Filing 2026: ৩১ জুলাই আয়কর রিটার্ন ফাইলের শেষ তারিখ, দেরি হলেই বাড়তে পারে জরিমানা-করের বোঝা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেরি করলেই গুণতে হবে মাশুল। এই ভুল ভুলেও করবেন না। দ্রুত এগিয়ে আসছে আয়কর রিটার্ন (ITR Filing 2026) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। বেতনভোগী এবং কর নিরীক্ষার আওতার বাইরে থাকা অধিকাংশ করদাতার জন্য ৩১ জুলাই-ই রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে পরে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, সেক্ষেত্রে জরিমানা, বকেয়া করের ওপর সুদ এবং ভবিষ্যতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধা হারানোর আশঙ্কা থাকে। তাই অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে সময়সীমার মধ্যেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া উচিত।

    কার জন্য কোন শেষ তারিখ?

    করদাতার আয়ের ধরন ও ট্যাক্স অডিটের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার (ITR Filing 2026) শেষ তারিখ আলাদা।

    • ITR-1 ও ITR-2: বেতনভোগী ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF), যাঁরা ট্যাক্স অডিটের আওতায় নন – ৩১ জুলাই ২০২৬
    • ITR-3 (নন-অডিট): ব্যবসা বা পেশাগত আয়ের করদাতা (অডিট প্রযোজ্য নয়) – ৩১ অগাস্ট ২০২৬
    • ITR-4 (নন-অডিট): প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্সেশন ব্যবস্থার যোগ্য করদাতা (অডিট প্রযোজ্য নয়) – ৩১ অগাস্ট ২০২৬
    • ITR-3 (ট্যাক্স অডিট): ব্যবসা বা পেশাগত আয়ের করদাতা (অডিট প্রযোজ্য) – ৩১ অক্টোবর ২০২৬
    • ITR-4 (ট্যাক্স অডিট): প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্সেশন ব্যবস্থার করদাতা, যেখানে অডিট প্রযোজ্য – ৩১ অক্টোবর ২০২৬
    • ট্রান্সফার প্রাইসিং সংক্রান্ত করদাতা: ৩০ নভেম্বর ২০২৬
    • বিলম্বিত রিটার্ন (Belated Return): ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত
    • সংশোধিত রিটার্ন (Revised Return): ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত
    • আপডেটেড রিটার্ন (Updated Return): সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন বর্ষ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৮ মাস পর্যন্ত, নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে।

    সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়া কেন জরুরি?

    সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) জমা দিলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যদি কেউ শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্য কোনও মূলধনী সম্পদ বিক্রি করে ক্যাপিটাল লস করে থাকেন, তাহলে সেই ক্ষতি ভবিষ্যতের মূলধনী লাভের সঙ্গে সমন্বয় (Set-off) করার সুযোগ থাকে। এই ক্ষতি সর্বোচ্চ ৮টি মূল্যায়ন বর্ষ পর্যন্ত বহন করা যায়। তবে এই সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে ভবিষ্যতে মূলধনী লাভের ওপর কর কমানোর এই সুযোগ হারাতে হতে পারে। তবে বাড়ির সম্পত্তি (House Property) থেকে হওয়া ক্ষতির ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। আয়কর আইনের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দিলেও সেই ক্ষতি বহন করার সুযোগ থাকতে পারে।

    দেরি করলে কত জরিমানা?

    নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে আইনে নির্ধারিত জরিমানা ও সুদ দিতে হতে পারে। আয়কর আইন, ধারা ২৩৪এফ অনুযায়ী- সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বিলম্ব ফি। যদি মোট আয় ৫ লাখের বেশি না হয়, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা জরিমানা। ধারা ২৩৪এ অনুযায়ী- বকেয়া করের ওপর প্রতি মাস বা মাসের অংশের জন্য ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে এই সুদ তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন টিডিএস (TDS), অগ্রিম কর (Advance Tax) ও অন্যান্য কর-ছাড় সমন্বয়ের পরও কর বকেয়া থাকে।

    বিলম্বিত রিটার্ন ও সংশোধিত রিটার্নের পার্থক্য

    যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারেননি, তাঁরা বিলম্বিত রিটার্ন (Belated Return) জমা দিতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁরা ইতিমধ্যেই রিটার্ন জমা দিয়েছেন কিন্তু পরে কোনও ভুল বা তথ্য বাদ পড়েছে বলে বুঝতে পেরেছেন, তাঁরা সংশোধিত রিটার্ন (Revised Return) জমা দেওয়ার সুযোগ পান। তবে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা ও সুদ দিতে হতে পারে এবং ক্যাপিটাল লস বহন করার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধাও হারাতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে এবং অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

LinkedIn
Share