Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Dhar Bhojshala Verdict: ‘আসলে সরস্বতী মন্দির’, ধার ভোজশালা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের, মান্যতা পেল হিন্দুদের দাবিই

    Dhar Bhojshala Verdict: ‘আসলে সরস্বতী মন্দির’, ধার ভোজশালা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের, মান্যতা পেল হিন্দুদের দাবিই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার বহু বিতর্কিত ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ চত্বর নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ। শুক্রবার আদালত জানিয়েছে, উপলব্ধ ঐতিহাসিক নথি, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এবং ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (ASI)-এর বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট অনুয়ায়ী, এই স্থাপনাটি আসলে দেবী সরস্বতীর মন্দির এবং সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই রায়কে ভোজশালা (Dhar Bhojshala Verdict) বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ বহু দশক ধরে হিন্দু ও মুসলিম— দুই সম্প্রদায়ই এই স্থাপনার উপর নিজ নিজ ধর্মীয় দাবি জানিয়ে এসেছে।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ কী?

    হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোজশালার মূল চরিত্র ছিল একটি সাংস্কৃতিক শিক্ষাকেন্দ্র বা মহাবিদ্যালয়। আদালতের মতে, প্রত্নতত্ত্ব একটি বিজ্ঞান এবং আদালত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, খনন রিপোর্ট ও ঐতিহাসিক উপাদানের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আদালত এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্টের উপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভোজশালা চত্বরে প্রাপ্ত ভাস্কর্য, মন্দিরসদৃশ স্থাপত্য ধ্বংসাবশেষ, স্তম্ভ, শিলালিপি এবং অন্যান্য নিদর্শন এই স্থাপনার প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্যের পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ। রায়ে আরও বলা হয়েছে, প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন ধর্মীয় স্থানগুলির সংরক্ষণ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। শুধু সংরক্ষণই নয়, দর্শনার্থী ও ভক্তদের জন্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সরকারের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

    ২০০৩ সালের এএসআই আদেশ বাতিল

    ২০০৩ সালে এএসআই জারি করা সেই আদেশ শুক্রবার বাতিল করেছে হাইকোর্ট, যেখানে হিন্দুদের উপাসনার অধিকার সীমিত করা হয়েছিল এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে শুক্রবার নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আদালতের মতে, ওই নির্দেশ হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকারকে সীমাবদ্ধ করেছিল। আদালত উল্লেখ করেছে, বিতর্কিত স্থানে হিন্দুদের পূজা-অর্চনার ধারাবাহিকতা কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে এএসআই এই সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআই-কে ভোজশালা কমপ্লেক্সের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুসলিম পক্ষকে পৃথক জমির আবেদন করার স্বাধীনতা

    রায়ে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষয়েও মন্তব্য করেছে। আদালত জানিয়েছে, মুসলিম পক্ষ চাইলে ধার জেলায় নামাজ আদায়ের জন্য পৃথক জমির আবেদন করতে পারে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত একদিকে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে।

    ভোজশালা বিতর্কের ইতিহাস

    ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ধার অঞ্চল একসময় পারমার রাজবংশের অধীনে ছিল। রাজা ভোজ, যিনি ১০০০ থেকে ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন, ছিলেন দেবী সরস্বতীর একনিষ্ঠ ভক্ত। ১০৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি এখানে একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে ভোজশালা নামে পরিচিত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, এটি শুধু শিক্ষাকেন্দ্রই নয়, দেবী সরস্বতীর মন্দিরও ছিল। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ১৩০৫ সালে আলাউদ্দিন খিলজির সময় ভোজশালার একাংশ ধ্বংস হয়। পরে ১৪০১ সালে দিলাওয়ার খান ঘোরি এবং ১৫১৪ সালে মাহমুদ শাহ খিলজি এখানে মসজিদের অংশ নির্মাণ করেন বলে দাবি করা হয়। ১৮৭৫ সালে এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য চালানো হলে দেবী সরস্বতীর একটি মূর্তি উদ্ধার হয়, যা পরবর্তীতে বিতর্ককে আরও জোরদার করে।

    এএসআই-এর রিপোর্টে কী উঠে এসেছিল?

    ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এএসআই মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে তাদের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ভিতরে মন্দিরসদৃশ ধ্বংসাবশেষ, খোদাই করা স্তম্ভ, দেবদেবীর ভাস্কর্য এবং প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনের উল্লেখ করা হয়। এই রিপোর্টই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রায়?

    ভোজশালা মামলা শুধু একটি সম্পত্তি বা ধর্মীয় স্থানের বিতর্ক নয়, এটি ভারতের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্ন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠল। হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, বৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারকে উপেক্ষা করা যায় না। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংবিধানের চেতনার অংশ এবং সরকারকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এই রায় ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিতর্কিত ধর্মীয়-ঐতিহাসিক স্থাপনা সংক্রান্ত মামলাগুলিতেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।

  • Janata Darbar: মানুষের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী, এরাজ্যে ‘জনতার দরবার’ চালুর ঘোষণা শুভেন্দুর

    Janata Darbar: মানুষের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী, এরাজ্যে ‘জনতার দরবার’ চালুর ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শোনা এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক মডেলকে অনুসরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হতে চলেছেন। জনমানসে প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে তুলতেই এই ‘জনতার দরবার’-এর (Janata Darbar) পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    জনতার দরবারের উদ্দেশ্য (Janata Darbar)  

    সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন এই ‘জনতার দরবার’ (Janata Darbar)  অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রতিদিন প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলবে এই কর্মসূচি, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন এক বা দুই জন শীর্ষ আধিকারিক। সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের পথ বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য

    • ● সরাসরি জনসংযোগ: কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সাধারণ নাগরিকরা তাঁদের অভাব-অভিযোগ এবং সমস্যার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে (Suvendu Adhikari)  জানানোর সুযোগ পাবেন।
    • ● দ্রুত সমাধান: প্রতিটি সমস্যার গুরুত্ব বিচার করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • ● প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ও প্রেক্ষাপট

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরাসরি জনসংযোগের ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ থাকলে তবেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। এই ‘জনতার দরবার’ কেবল অভিযোগ জানানোর স্থান নয়, বরং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের একটি বিরাট মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।”

    প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তৃণমূল স্তরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে এই ‘সরাসরি যোগাযোগ’ (Janata Darbar)  পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে এই অভিনব উদ্যোগ রাজ্য রাজনীতিতে এবং প্রশাসনিক স্তরে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Crackdown on Helmetless Riders: পথ নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন, কলকাতা জুড়ে হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান

    Crackdown on Helmetless Riders: পথ নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন, কলকাতা জুড়ে হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সরকারের নির্দেশানুসারে পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুলিশ। হেলমেটবিহীন চালক (Helmetless Riders) এবং যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের (Illegal Parking in Kolkata) বিরুদ্ধে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি ও ধরপাকড়। একই ভাবে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেছেন, “পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। অবৈধ পার্কিং এবং জাল স্লিপের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসন কোনও আপস করবে না।”

    অভিযানের পরিসংখ্যান ও পর্যবেক্ষণ (Illegal Parking in Kolkata)

    শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের এই বিশেষ নজরদারি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। নিয়মভঙ্গকারীদের (Illegal Parking in Kolkata)  বিরুদ্ধে কোনও প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে পুলিশ নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:

    • ● হেলমেটবিহীন চালক: যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম (হেলমেট) না থাকায় মোট ৭৭৫ জন বাইক চালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইস্ট ট্রাফিক গার্ড এলাকায় সর্বাধিক ৯১ জন আইনভঙ্গকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
    • ● বেআইনি পার্কিং: শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৫২৬টি অবৈধ পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে জরিমানা বা মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাউথ ট্রাফিক গার্ড এলাকায় সর্বোচ্চ ২ শতাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়।
    • ● ভুয়া স্লিপ ও রাজস্ব চুরি রোধ: বিভিন্ন এলাকায় জাল পার্কিং স্লিপ ব্যবহার করে বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পুরমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের অসাধু উপায়ে টাকা তোলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, কারণ এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে না।
    • ● নির্দিষ্ট রেট চার্ট: পার্কিং ফি-র ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা (Rate Chart) তৈরি করা হবে। নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা আইনত দণ্ডনীয় হবে।

    মূল সমস্যা ও নজরদারি

    রাজ্যের পুর নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‘আজই নোটিস দিচ্ছি। রাস্তার দু’পাশে অবৈধভাবে পার্কিং বন্ধ হবে। যেদিকে পার্কিং করার কথা নয়, সেখানে কোনও গাড়ি থাকবে না। মানুষের সুবিধা হবে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ফেক পার্কিং স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা হয়, যে টাকা রাজস্ব দফতরে আসে না। সেই স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা যাবে না।’’

    কোথায় কোথায় বিশেষ অভিযান?

    শহরে রাজাবাজার, ফুলবাগান, ইকবালপুর, মমিনপুর, তপসিয়া, ট্যাংরা, তিলজলা, পার্কসার্কাস সহ একাধিক একালায় ট্রাফিক নিয়ম বলে কিছু নেই। হেলমেট ছাড়া বাইক, ফুটপাতে অবৈধ নির্মাণ, পার্কিংয়ের জন্য জনজীবন ব্যাপক ভাবে সঙ্কটের মুখে। বিগত সরকারের আমলে এই এলাকাগুলিতে আইনের শাসন ছিল না। শহরের পরিচয়কে বস্তুি ঘিঞ্জি করে রেখেছিল। এইবার সকল বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকার কঠোর মনোভাবের পরিচয় দিতে শুরু করেছে।

    শহরের বিশেষ এলাকায় বাড়তি নজরদারি

    শহরের  এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে সিগন্যাল অমান্য করা এবং দ্রুতগতিতে বেপরোয়া বাইক চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রাতের দিকে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। জনসুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবার বিশেষ করে খিদিরপুর থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।নবান্নের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাইক চালক ও আরোহীর হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ কার্যকর করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এডিজি ট্রাফিককে নিয়মিত রিপোর্ট সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য কেবল দণ্ড প্রদান নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যে (Illegal Parking in Kolkata) নামিয়ে আনা।

    কলকাতা ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী পুরমন্ত্রী

    কলকাতা শহরের রাজপথ থেকে অলিগলি—সর্বত্রই অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের (Illegal Parking in Kolkata) জেরে যানজট এক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ গাড়ির কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্নঘটা এবং ভুয়া স্লিপের মাধ্যমে টাকা তোলার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এবার এই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।

    যানজট নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা

    উল্লেখ্য, গত বছর মাত্র ২ ঘণ্টার জন্য রাস্তার ধারের পার্কিং বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সকাল ৭টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত রাস্তার ধারের পার্কিং বন্ধ করার নির্দেশিকা জারি করেছিল কলকাতা পুরনিগম। আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বর্তমান সরকার (Agnimitra Paul) শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে আরও দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পথে হাঁটছে। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং পুরনিগমের যৌথ উদ্যোগে এই নতুন নিয়ম দ্রুত কার্যকর হতে চলেছে, যার মূল লক্ষ্য হল শহরবাসীকে একটি যানজটমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিষেবা উপহার দেওয়া।

  • CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে ও ধ্বনিভোটে স্পিকার পদে নির্বাচিত হন তিনি। সকালে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রথীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন, যা সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল। বিধানসভার দীর্ঘদিনের রীতি মেনে বিরোধীরা আলাদা প্রার্থী না দেওয়ায় প্রথমবারের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের আসনে বসান।

    বিধানসভায় লাইভ টেলিকাস্ট

    নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ফলে বিধায়করা কীভাবে কাজ করছেন এবং সরকার কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা মানুষ সরাসরি দেখতে পারবেন। তাঁর কথায়, বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার-সহ সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম টেলিকাস্টের আওতায় আসবে। পাশাপাশি, বর্তমান বিধানসভা ভবনের আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর মতে, এখনও ভোটিংয়ের জন্য কাগজে নির্ভর করতে হয়, যা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার সময় এসেছে। ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশনের ফলে আসন সংখ্যা বাড়লে নতুন বিধানসভা ভবনের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

    “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”

    বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী অতীতের বিধানসভা পরিচালনা নিয়ে পরোক্ষভাবে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, আগে বিরোধী দলের তরফে মন্ত্রীদের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তার উত্তর মিলত না। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি বদলাতে চায়। এখন থেকে শুধু প্রাপ্তিস্বীকার নয়, সমস্যার সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”—এই নীতিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে বিধানসভার কাজ চলবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের মত প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু আরও বলেন, বিরোধীরা চাইলে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং তাঁদের সমস্যা বা দাবি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন, যদি দলীয় অনুমতি থাকে। তিনি বিজেপি বিধায়কদেরও নির্দেশ দেন, বিরোধী দলের সদস্যরা দেখা করতে চাইলে তাঁদের সময় দিতে হবে। তাঁর দাবি, দেশের অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে সরকার পরিচালিত হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধারা বজায় থাকবে।

    বিরোধীদের বড় বার্তা শুভেন্দুর

    বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বিধানসভায় নিজের নানা অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু জানান, অতীতের তিক্ততা ভুলে তিনি নতুনভাবে এগোতে চান। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা বহুদলীয় গণতন্ত্রের মঞ্চ, তাই নিয়ম ও শালীনতা বজায় রেখেই কাজ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও বিধায়ক যাতে শারীরিক হেনস্থার শিকার না হন বা অযথা শাস্তির মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং এটি হওয়া উচিত গঠনমূলক বিতর্ক ও জবাবদিহির ক্ষেত্র। সংবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিধানসভার কাজ পরিচালনা হবে বলেও তিনি জানান। নতুন স্পিকার সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিধানসভা পরিচালনা করবেন এবং তাঁর নির্দেশ সবাই মেনে চলবেন—এমন আশ্বাসও দেন শুভেন্দু। বিরোধীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, তাঁরা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করেন এবং বিধানসভার নিয়মবিধি মেনে চলেন। একইসঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, বিরোধী দলের বিধায়করা দেখা করতে চাইলে যেন তাঁদের সময় (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন স্পিকারের কার্যকালের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই আপাত সমঝোতামূলক ও উদার বার্তা ভবিষ্যতে বিধানসভার পরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।

  • NEET CBT Mode: আগামী বছর থেকে অনলাইনে হবে নিট পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের পর কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    NEET CBT Mode: আগামী বছর থেকে অনলাইনে হবে নিট পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের পর কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস বিতর্কে উত্তাল দেশজুড়ে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026)। এই আবহেই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। শুক্রবার তিনি জানান, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ থেকে নিট পরীক্ষা সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক (Computer-Based Test বা CBT) ফরম্যাটে নেওয়া হবে। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় কথিত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, সুরক্ষিত এবং জবাবদিহিমূলক করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকার ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে, বাতিল হওয়া নিট-ইউজি (NEET UG 2026)-এর পুনঃপরীক্ষা আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের জেরে বাতিল করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে চেয়েছে কেন্দ্র।

    আগামী বছর থেকে বদলাচ্ছে নিট-এর ফরম্যাট

    মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে ধমেন্দ্র প্রধান জানান, আগামী বছর থেকে নিট-ইউজিকে ওএমআর (OMR) ভিত্তিক পেন-পেপার মোড থেকে সরিয়ে সিবিটি ফরম্যাটে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর কথায়, “দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থাই এখন সময়ের দাবি।” যদিও ২০২৬ সালের পুনঃপরীক্ষা এখনও ওএমআর শিটের মাধ্যমেই হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ওএমআর শিট পূরণে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

    সিবিআই-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গোড়া পর্যন্ত খতিয়ে দেখা হবে

    প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিবিআই (CBI)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধমেন্দ্র প্রধান জানান, এই তদন্তে শুধু দোষীদের চিহ্নিত করাই নয়, কীভাবে প্রশ্ন বাইরে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কোনও সংঘবদ্ধ শিক্ষা মাফিয়া বা প্রতারণা চক্র সক্রিয় ছিল কি না—সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, “এই অনিয়মের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনো হবে। কোনও যোগ্য ছাত্রছাত্রী যেন প্রতারণার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাই সরকারের অগ্রাধিকার।”

    ‘গেস পেপার’ অভিযোগ থেকেই শুরু তদন্ত

    ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে বিস্তারিত জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, ৩ মে পরীক্ষা হওয়ার পর ৭ মে এনটিএ-র (NTA) কাছে একটি অভিযোগ আসে, যেখানে দাবি করা হয়, বাজারে ছড়িয়ে পড়া একটি তথাকথিত ‘গেস পেপার’ (Guess Paper)-এর কিছু প্রশ্ন হুবহু মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ধমেন্দ্র প্রধান বলেন, “৭ মে অভিযোগ পাওয়ার পরই এনটিএ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে।” পরে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হয়। ১২ মে-র মধ্যে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ‘guess paper’-এর আড়ালে আসলে পরীক্ষার প্রকৃত প্রশ্নই ফাঁস হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, “১২ মে-র মধ্যে আমরা নিশ্চিত হই যে, গেস পেপারের নামে আসল প্রশ্নপত্র বাইরে চলে গিয়েছিল।”

    কেন বাতিল করা হল পরীক্ষা?

    পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ধমেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, সৎ ও মেধাবী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা চাইনি কোনও যোগ্য ছাত্রছাত্রী ভুয়ো পরীক্ষার্থী, প্রতারণা চক্র বা শিক্ষা মাফিয়ার ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক।” এই সিদ্ধান্তের পর বহু পরীক্ষার্থী প্রথমে মানসিক চাপে পড়লেও, নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ধমেন্দ্র প্রধান জানান, অতীতে বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল। সেই রাধাকৃষ্ণন কমিটি-র সুপারিশ ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পরীক্ষায় কার্যকরও করা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, “রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করার পরেও এই ঘটনা ঘটেছে। তাই আমাদের প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল পরীক্ষা বাতিল করা।” এতে স্পষ্ট, ভবিষ্যতে পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও বাড়াতে সরকার অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে চলেছে।

    পুনঃপরীক্ষায় লাগবে না অতিরিক্ত ফি

    পুনঃপরীক্ষা নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। অর্থাৎ যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছিলেন, তাঁরাই বিনামূল্যে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে পারবেন। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার্থীদের নিজেদের পছন্দের পরীক্ষাকেন্দ্রের শহর বেছে নেওয়ার সুযোগ আবার দেওয়া হবে, এবং এই প্রক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা রাখা হয়েছে। সংশোধিত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি আজ সন্ধ্যার মধ্যেই প্রকাশ করবে এনটিএ (NTA)। পাশাপাশি, পুনঃপরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ১৪ জুন প্রকাশ করা হবে।

    উদ্বেগে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া

    নিট-ইউজি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এমবিবিএস, বিডিএস এবং অন্যান্য মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি হতে এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলে পরীক্ষা বাতিল এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন নজর ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষার দিকে। একইসঙ্গে আগামী বছর থেকে সিবিটি ফরম্যাট চালু হলে নিট পরীক্ষার ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, যা পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • NEET-UG 2026 Re-Exam: ২১ জুন ফের পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর নতুন করে নিটের দিন ঘোষণা এনটিএ-র

    NEET-UG 2026 Re-Exam: ২১ জুন ফের পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর নতুন করে নিটের দিন ঘোষণা এনটিএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA) অবশেষে নিট-ইউজি পরীক্ষা (NEET-UG 2026) পুনরায় পরীক্ষার নতুন দিন ঘোষণা করল। প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে আগের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর দেশজুড়ে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ জুন ২০২৬, রবিবার অনুষ্ঠিত হবে নিট-এর পুনরায় পরীক্ষা। সরকারি অনুমোদন নিয়ে জারি করা এনটিএ-র সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

    প্রশ্নফাঁস বিতর্কে দেশজুড়ে ক্ষোভ

    এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লক্ষাধিক মেডিক্যাল পড়ুয়া, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষায় নিরাপত্তার এমন গাফিলতি গোটা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাস্তায় নেমেও বহু জায়গায় বিক্ষোভ দেখা যায়।

    ২১ জুন ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর জন্য

    নতুন সূচি ঘোষণার ফলে এমবিবিএস (MBBS), বিডিএস (BDS) এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পরীক্ষার্থীরা ফের একটি ন্যায্য সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর বহু পড়ুয়া মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা এবং অল্প সময়ের মধ্যে ফের প্রস্তুতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার পরীক্ষার দিকে গোটা দেশের নজর থাকবে, কারণ এই পরীক্ষা শুধু ভর্তি-পর্ব নয়, এনটিএ-র বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক শিক্ষা বিশ্লেষকের কথায়, “এই পুনঃপরীক্ষা শুধুমাত্র আরেকটি পরীক্ষা নয়, বরং পরীক্ষাব্যবস্থার উপর ছাত্রদের আস্থা ফেরানোর পরীক্ষা।”

    শুধুমাত্র সরকারি তথ্যেই ভরসা করার পরামর্শ

    এনটিএ তাদের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) সংক্রান্ত সমস্ত আপডেট শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকেই দেখতে হবে। পরীক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা অন্যান্য মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও যাচাইহীন তথ্য থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন থাকলে এনটিএ-র হেল্পলাইন নম্বর ০১১-৪০৭৫৯০০০ এবং ০১১-৬৯২২৭৭০০-এ যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়াও neet-ug@nta.ac.in আইডিতে ইমেল আইডিতে প্রশ্ন পাঠানো যাবে।

    এবার আরও কড়া নিরাপত্তা?

    প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর ২১ জুনের পুনরায় পরীক্ষায় নিরাপত্তা অনেক বেশি কড়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, পরীক্ষাকেন্দ্রে উন্নত ডিজিটাল নজরদারি, শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা, গোপন নথি পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল চালু হতে পারে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

    নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন সুযোগ

    লক্ষাধিক নিট পরীক্ষার্থীর কাছে ২১ জুন এখন শুধুই আরেকটি পরীক্ষার দিন নয়—এটি নতুন করে লড়াই শুরু করার দিন। কয়েক সপ্তাহের বিতর্ক, হতাশা এবং উদ্বেগের পর আবারও প্রস্তুতিতে ফিরতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। এখন সকলের একটাই আশা—এইবারের নিট পরীক্ষা যেন কোনও বিতর্ক ছাড়াই, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।

  • Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠে পৌঁছনোর আগেই নিঃশব্দে শরীরে প্রবেশ করছে। গড়ে প্রতি ৩ জন ভারতীয়দের মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। আবার বহু মানুষ জানতেও পারেন না, তার শরীরে নিরবে এই সমস্যা বাসা বেঁধেছে। তাই সতর্কতাও অবলম্বন করতে পারেন না। ভারতীয়দের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে উঠছে হাইপারটেনশন (High Blood Pressure)। ১৭ মে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে (World Hypertension Day)। ভারতীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাইপারটেনশনকে ভারতীয়দের ‘নিরব ঘাতক’ বলেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়স থেকেই ভারতীয়রা এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আর হৃদরোগ, স্ট্রোক সহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই হাইপারটেনশন (Hypertension) ভারতের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে।

    কোন বয়সে বিপদ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণত পঞ্চাশ বছরের পরে হাইপারটেনশনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। কিন্তু ভারতের চল্লিশের আশপাশেই এই সমস্যা বাড়ছে। ভারতীয়দের জীবন যাপনের ধরনের জন্য এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ নুন এবং তেল খাওয়া, বাড়তি ওজন এবং অনিদ্রা সমস্যা বাড়াচ্ছে। এছাড়াও হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ হলো মানসিক চাপ এবং অবসাদ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে প্রচন্ড মানসিক চাপ এবং অবসাদের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে অনিদ্রা এবং হাইপারটেনশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ কী?

    অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সবকিছুই জীবন যাপনের ধরনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ মানুষের খাদ্যাভাস অস্বাস্থ্যকর। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়। এই খাবারে একাধিক ক্ষতিকারক রাসায়নিকের পাশাপাশি থাকছে অতিরিক্ত নুন। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়রা গড়ে প্রতিদিন ৫ গ্রাম অতিরিক্ত নুন খায়। এই বাড়তি নুন হাইপারটেনশনের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ভারতীয়দের একাংশ অতিরিক্ত চটজলদি খাবার খাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শারীরিক কসরত করছে না। তাই দেহের ওজন বাড়ছে। এই অতিরিক্ত ওজনের জেরে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    অনিদ্রা, জীবনে জটিলতা, মদ্যপান এবং ধূমপান

    এছাড়া ভারতীয়দের বড় অংশ অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। তাই হাইপারটেনশনের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরে রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় থাকে না। তাই হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ অনিদ্রা। এছাড়াও পেশাগত জীবনের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা বাড়ছে। এর ফলেও হাইপারটেনশনের সমস্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ মদ্যপান এবং ধূমপানে আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্যান্সার এবং একাধিক সংক্রামক রোগের কারণ হওয়ার পাশপাশি হাইপারটেনশনে আক্রান্ত হওয়ার কারণ। তাই এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

    কেন হাইপারটেনশন উদ্বেগজনক সমস্যা? কেন একে নিরব ঘাতক বলা হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় জানেন না তিনি হাইপারটেনশন আক্রান্ত কিনা। নিয়মিত অধিকাংশ ভারতীয় রক্তচাপ মাপেন না। এর ফলে শরীরে এই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই এই রোগকে নিরব ঘাতক বলা যেতে পারে। এই সমস্যা থাকলে স্ট্রোক এবং হৃদরোগের জটিলতা বাড়তে পারে। ভারতে হঠাৎ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক। আর এই হার্ট অ্যাটাকের নেপথ্যে রয়েছে হাইপারটেনশন। রক্তচাপের ভারসাম্য না থাকলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে স্ট্রোকের দাপট দেখা দিচ্ছে। স্ট্রোকের ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। কর্ম ক্ষমতা কমছে। আবার প্রাণ সংশয় হচ্ছে। তাই এই রোগ রুখতে হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা কমানো দরকার। হাইপারটেনশন বন্ধ্যাত্ব এবং অন্যান্য হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি করে।

    কী পরামর্শ চিকিৎসকদের?

    এই বিপদ কমাতে চিকিৎসকদের পরামর্শ, অতিরিক্ত নুন খাওয়া কমানো জরুরি। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চটজলদি খাওয়া কমালেই বাড়তি নুন খাওয়ার প্রবণতা কমবে। তাছাড়া নিয়মিত শরীরিক কসরত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে। এগুলো হাইপারটেনশন রুখতে সাহায্য করে। ঘুম নিয়েও সচেতনতা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম একাধিক রোগ রুখতে সাহায্য করে। অনিদ্রা হাইপারটেনশনের নেপথ্যে কাজ করে। তাই অনিদ্রার সমস্যা কমলে হাইপারটেনশনের ঝুঁকিও কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Vaibhav Sooryavanshi: সচিনের রেকর্ড ভাঙার হাতছানি, ভারত ‘এ’ দলে সুযোগ পেলেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী

    Vaibhav Sooryavanshi: সচিনের রেকর্ড ভাঙার হাতছানি, ভারত ‘এ’ দলে সুযোগ পেলেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটের উদীয়মান নক্ষত্র বৈভব সূর্যবংশীর (Vaibhav Sooryavanshi) মুকুটে যুক্ত হল নতুন পালক। অনূর্ধ্ব-১৯ ও এমার্জিং দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার বড়দের ক্রিকেটে পা রাখলেন ১৫ বছর বয়সি এই বাঁহাতি ওপেনার। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে নজরকাড়া ব্যাটিংয়ের পুরস্কার হিসেবে তাঁকে ভারত ‘এ’ (India A Team) দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    আইপিএলের বিধ্বংসী ফর্ম ও জাতীয় দলের হাতছানি (Vaibhav Sooryavanshi)

    চলতি আইপিএলে রাজস্থানের জার্সি গায়ে বৈভবের (Vaibhav Sooryavanshi) ব্যাটে রানের বন্যা বয়ে গিয়েছে। মাত্র ১১ ম্যাচে ৪০ গড় এবং ২৩৬.৫৫-এর অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেটে তিনি ৪৪০ রান সংগ্রহ করেছেন। টুর্নামেন্টে একটি শতরান (১০৩ রান) ও দুটি অর্ধশতরান করে কমলা টুপির লড়াইয়েও প্রথম সারিতে রয়েছেন তিনি। বৈভবের (India A Team) এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলী দেখে বিশেষজ্ঞরা এখনই তাঁকে ভারতীয় জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ সম্পদ হিসেবে গণ্য করছেন।

    তিলক বর্মার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা সফর

    আগামী জুন মাসে শ্রীলঙ্কার মাটিতে একটি ত্রিদেশীয় এক দিনের সিরিজ খেলতে যাবে ভারত ‘এ’ দল। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের পাশাপাশি এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে আফগানিস্তান। তিলক বর্মার নেতৃত্বাধীন ১৫ জনের এই দলে বৈভবকে (India A Team) সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া এই সিরিজ চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এরপর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুটি চার দিনের ম্যাচও খেলবে ভারত, যার দল পরে ঘোষণা করা হবে।

    সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড কি বিপন্ন?

    ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, ভারত ‘এ’ দলের হয়ে এই সফরে বৈভব (Vaibhav Sooryavanshi) যদি নিজের ফর্ম বজায় রাখতে পারেন, তবে খুব দ্রুতই জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর অভিষেক হতে পারে। আর তেমনটা হলে কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভেঙে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় ক্রিকেটার (India A Team) হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদার্পণ করবেন তিনি।

    অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক

    উল্লেখ্য, চলতি বছরে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ে বৈভবের (Vaibhav Sooryavanshi) অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে তাঁর ১৭৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে। সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এবার শ্রীলঙ্কার চ্যালেঞ্জ সামলাতে প্রস্তুত বিহারের এই তরুণ তুর্কি।

    ভারত ‘এ’ স্কোয়াড

    ভারত এ স্কোয়াড টিমে রয়েছে (India A Team) তিলক বর্মা (অধিনায়ক), রিয়ান পরাগ (সহ-অধিনায়ক), প্রিয়াংশ আর্য, বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ বদোনি, নিশান্ত সিন্ধু, হর্ষ দুবে, সূর্যাংশ শেরগে, প্রভসিমরন সিংহ (উইকেটরক্ষক), কুমার কুশাগ্র (উইকেটরক্ষক), বিপরাজ নিগম, যশ ঠাকুর, যুদ্ধবীর সিংহ, অংশুল কম্বোজ ও আরশাদ খান।

  • BJP Government: বাঙালির পাতে পাঁচ টাকায় মাছ-ভাত, নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে মাস্টারস্ট্রোক রাজ্য বিজেপির

    BJP Government: বাঙালির পাতে পাঁচ টাকায় মাছ-ভাত, নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে মাস্টারস্ট্রোক রাজ্য বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাঙালির চিরন্তন ‘মাছ-ভাত’ (Fish and Rice Meal)। তৃণমূলের মতো বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে বিজেপি-কে ‘বাঙালি সংস্কৃতি বিরোধী’ এবং ‘নিরামিষাশী দল’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর এক অভাবনীয় প্রকল্পের মাধ্যমে তার যোগ্য জবাব দিল বর্তমান রাজ্য সরকার (BJP Government)। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি, এবার মাত্র ৫ টাকায় সাধারণ মানুষের থালায় মিলবে মাছ-ভাত। সরকারের এই ঘোষণায় খুশির হাওয়া রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে।

    অপপ্রচারের অবসান ও পাল্টা কৌশল (BJP Government)

    রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “মা ক্যান্টিন প্রকল্পেও বড় বদল ঘটবে। এখন যেখানে ডিম-ভাত দেওয়া হয়, সেখানে ভবিষ্যতে মাছ-ভাতও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ৫ টাকায় খাবারের সুবিধা আগের মতোই থাকবে।”

    নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে, বিজেপি (BJP Government) ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে (Fish and Rice Meal) হস্তক্ষেপ করা হবে এবং মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে হাতিয়ার করে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি না বোঝার অভিযোগও তোলা হয়েছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্ব প্রথম থেকেই এই অভিযোগকে খণ্ডন করে আসছিল। নির্বাচনী লড়াই চলাকালীন অনুরাগ ঠাকুর থেকে শুরু করে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বা ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনের মতো নেতাদের মাছ-ভাত খাওয়ার ছবি ও ভিডিও জনমানসে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল।

    মাছ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা ও তাপস রায়ের দাবি

    খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (BJP Government) নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের মৎস্য (Fish and Rice Meal) সংকটের বিষয়ে। তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল সরকার মাছের মতো একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে এবং বাংলাকে ভিনরাজ্যের মাছের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। অন্যদিকে, তাপস রায়ের মতো নেতারা দাবি করেছিলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের পাতের মাছ ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠেছিল।

    ৫ টাকায় মাছ-ভাত: অবিশ্বাস্য বাস্তবায়ন

    সাধারণত বাজারে এক থালা মাছ-ভাতের (Fish and Rice Meal) দাম যেখানে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার নিচে নয়, সেখানে মাত্র ৫ টাকায় এই আহার পরিবেশন করার সিদ্ধান্তকে একটি বড় ধরনের জনকল্যাণমূলক বিপ্লব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যও একাধিকবার তাঁর বক্তব্যে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের অধিকারকে সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকারের (BJP Government) এই নয়া পরিকল্পনা সেই প্রতিশ্রুতি পালনেরই এক বাস্তব প্রতিফলন।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ টাকায় মাছ-ভাত দেওয়ার এই পদক্ষেপ কেবল একটি কল্যাণমূলক প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও। এর মাধ্যমে বিজেপি (BJP Government) প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রাকে আরও সহজলভ্য করতে বদ্ধপরিকর। মাছ-মাংস (Fish and Rice Meal) বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ভ্রান্ত ধারণাকে সমূলে বিনাশ করে এই প্রকল্প এখন রাজ্যবাসীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

    বাঙালির রসনাতৃপ্তির এই নজিরবিহীন উদ্যোগ আগামী দিনে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

  • Araghchi in India: হরমুজ থেকে চাবাহার, ব্রিকস বৈঠকে ভারতের গুরুত্ব বাড়াল ইরানের বিশেষ বার্তা

    Araghchi in India: হরমুজ থেকে চাবাহার, ব্রিকস বৈঠকে ভারতের গুরুত্ব বাড়াল ইরানের বিশেষ বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও একবার সামনে এল। ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে এসেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তাঁর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান-ইজরায়েল সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর শুধু একটি বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ নয়, বরং ভারতের প্রতি ইরানের কৌশলগত বার্তা বহন করছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও মেরুকরণের আবহেও ভারত যে তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বজায় রাখা পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, তা প্রকাশ্যেই প্রশংসা করেছে তেহরান।

    ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ঘনীভূত হওয়ার পর বহু দেশকে একপক্ষ বেছে নেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু ভারত এখনও পর্যন্ত কোনও সংঘাতে সরাসরি পক্ষ না নিয়ে কূটনৈতিক সংলাপ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার নীতিতে অটল রয়েছে। ইরান এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে অতিরিক্ত ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সামুদ্রিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমানো, পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও ভারত-ইরান কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    কেন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ করিডর হল হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহণের বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথের মাধ্যমে হয়। ভারতের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই রুট দিয়েই আসে। ফলে হরমুজে কোনও অস্থিরতা দেখা দিলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে—

    আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামে

    • ● ভারতের জ্বালানি ব্যয়ে
    • ● শিপিং খরচে
    • ● সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি স্থিতিশীলতায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই আশ্বাস ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    চাবাহার বন্দর নিয়ে ফের জোর ভারত-ইরান সম্পর্কে

    বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল চাবাহার বন্দর প্রকল্প। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই বন্দরকে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে দেখছে।

    চাবাহারের মাধ্যমে ভারত—

    • ● পাকিস্তানকে বাইপাস করে আফগানিস্তানে প্রবেশাধিকার পায়
    • ● মধ্য এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বাজারের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে পারে
    • ● আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডর শক্তিশালী করতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও চাবাহার নিয়ে ভারত-ইরান সহযোগিতা অব্যাহত থাকা প্রমাণ করে যে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী।

    একদিকে ইরান, অন্যদিকে ইউএই—ভারতের ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’ কৌশল

    ভারত বর্তমানে শুধু ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে না, একইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), সৌদি আরব-সহ উপসাগরীয় শক্তিগুলির সঙ্গেও কৌশলগত ও জ্বালানি সম্পর্ক জোরদার করছে। নয়াদিল্লি খুব সচেতনভাবে এমন এক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে কোনও এক ব্লকের উপর নির্ভরশীল না হয়ে একাধিক শক্তির সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক রক্ষা করা হচ্ছে। কূটনীতিকদের মতে, ভারতের এই বহুমুখী কৌশলের মূল লক্ষ্য—

    • ● দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
    • ● গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট সুরক্ষিত রাখা
    • ● আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়ে কৌশলগত সুবিধা ধরে রাখা
    • ● ব্রিকস মঞ্চে ভারতের বাড়তি প্রভাব

    ভারত এখন স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী কূটনৈতিক শক্তি

    বিশ্ব রাজনীতিতে যখন আমেরিকা, চিন, রাশিয়া-সহ বড় শক্তিগুলির প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, তখন ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কৌশলগত পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক স্পষ্ট করেছে যে ভারত এখন শুধু দক্ষিণ এশিয়ার শক্তি নয়, বরং পশ্চিম এশিয়া ও ইউরেশিয়ার ভূরাজনীতিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর এই সফর আরও একবার তুলে ধরল, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় ভারতকে ক্রমশ একটি স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে—যে দেশ একইসঙ্গে সংলাপ, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

LinkedIn
Share