Amit Shah: অনুপ্রবেশ রুখতে অনড় কেন্দ্র, সীমান্ত সুরক্ষা ও ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প খতিয়ে দেখতে জুনেই রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ

amit-shah-news-centre-firm-on-curbing-infiltration-amit-shah-to-visit-bengal-in-june-to-review-border-security-and-the-smart-border-project

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ অর্থাৎ চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার-এই নীতিতে অবিচল। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সীমান্ত (Visit Bengal Borde) এলাকাগুলির সুরক্ষাকবচ নিশ্ছিদ্র করতে সম্প্রতি কেন্দ্র যে ‘স্মার্ট বর্ডার’ (Smart Border) প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল, তার বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে দেশব্যাপী সফর শুরু করছেন তিনি। এই সফরসূচিতে পশ্চিমবঙ্গও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২৬ মে রাজাস্থান যাবেন, ৯ মে গুজরাটের ভুজ সফরে যাবেন এবং ৫ জুন ত্রিপুরা সীমান্ত সফরের যাবেন অমিত শাহ। আর ১৫ জুন বঙ্গ সফরে আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সরকার গড়তেই সীমান্ত সুরক্ষাকে প্রাথমিকতা (Amit Shah)

উল্লেখ্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটা বড় অংশে বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বিএসএফকে জমি (Visit Bengal Borde) না দেওয়ার কারণে চোরাচালান, অবৈধ পাচার এবং অনুপ্রবেশের একটা বড় অভিযোগ উঠছিল। তৃণমূল সরকার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বারবার চাওয়া সত্ত্বেও জমি ও কাটা তারের বেড়া দিতে দেয়নি বলে বিজেপি অভিযোগ করেছে। এবার রাজ্যে বিজেপির সরকার গড়তেই সীমান্ত সুরক্ষাকে প্রাথমিকতা দিয়েছে। ইতিমধ্যে কোচবিহার, মালাদা এবং মুর্শিদবাদে বিএসএফকে জমি দিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। এরপরই শাহের (Amit Shah) সফর ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।

রাজস্থান দিয়ে সফর শুরু

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই কর্মসূচির অধীনে মোট চারটি সীমান্ত রাজ্যে সফর করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah)। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে এই সফর। প্রথম দফায় তিনি রাজস্থানের বিকানের অঞ্চলের সীমান্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন। সফরকালীন সুরক্ষার রূপরেখা নির্ধারণে রাজস্থানের সীমান্ত (Visit Bengal Borde) সংলগ্ন পাঁচ জেলার জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP), রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি।

১৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ সফর তাৎপর্যপূর্ণ সীমান্ত বৈঠক

আগামী ১৫ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএফ-এর জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah) সম্ভাব্য কর্মসূচিসমূহ হল–

সীমান্ত চৌকি পরিদর্শন

ভারত-বাংলাদেশ (Visit Bengal Borde) সীমান্তের কোনও একটি অগ্রবর্তী বিএসএফ পোস্ট (Border Outpost) পরিদর্শন করবেন এবং বাহিনীর সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন।

উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক

রাজস্থানের মতোই এ রাজ্যেও সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলির জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকদের নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করবেন।

সমন্বয়ের বার্তা

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের (Visit Bengal Borde) জনবিন্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্য সফল করতে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন ও বিএসএফ-কে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সূত্রের খবর, সীমান্তে অনুপ্রবেশ, গবাদি ও মাদক পাচার, জাল নোট চক্র এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি- এসব কিছু নিয়েই বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah)। সীমান্ত বাহিনীর বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জেলা প্রশাসন ও পুলিশকর্তাদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আগামী দিনের বৈঠক

চারটি সীমান্ত (Visit Bengal Borde) রাজ্য পরিদর্শনের পর, ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের সফল রূপায়ণ ও সীমান্ত সুরক্ষার আধুনিকীকরণ নিয়ে পরবর্তী ধাপে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) একটি পৃথক ও বিশদ বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানা গেছে।

ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

উল্লেখ্য বাংলাদেশে হাসিনাকে বিতারিত করার পর থেকেই জামায়েত- ই-ইসলাম বাংলাদেশে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মহম্মদ ইউনুসের আমল থেকে ভারত বিরোধিতার গতিবিধি ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও জমায়েত এখন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল। তাঁদের নেতারা সব সময় ভারত বিরোধিতা করতেই মত্ত। সভেন সিস্টার এবং চিকেন নেক নিয়ে প্রায় প্রায় আক্রমণের উত্তেজক ভাষণ শোনা যায়। সম্প্রতি আইএসআইয়ের সঙ্গে  জামাতের গোপন চুক্তি সামনে এসেছে। একই ভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারত সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জামত এক চেটিয়া আসন লাভ করেছে। সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, রংপুর-সহ আরও এলাকায় জামাত একাধিপত্য লাভ করেছে। তাই এই অবস্থায় পাকিস্তানের ভারত বিরোধী কর্মকাণ্ডের যাতে অন্যতম হাব বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে না হয় সেই দিকেই নজর রেখে ভারত সরকার স্মার্ট বর্ডার নির্মাণের রূপরেখে ঠিক করেছে। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share