Tag: মাধ্যম

  • WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, দ্বিতীয় দফায় (Second Phase Polling) ভোট হচ্ছে ১৪২টি আসনে। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটদান। বিভিন্ন বুথে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। নির্বাচনকে (WB Assembly Election 2026) ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হচ্ছে আজ, বুধবার ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    কতজন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করবেন?

    এই দফায় ৭টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ ও ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা ভোটার এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এর সঙ্গে জুড়বে ট্রাইবুনালে ‘পাশ’ করা আরও ১,৪৬৮ নাম। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী লড়ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। সবচেয়ে কম প্রার্থী লড়ছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) আসনে। সেখানে প্রার্থী সংখ্যা ৫।

    কতজন প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন ১৪৪৮ জন। মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি। তার মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিপিএম প্রায় ১০০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুজন রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাতে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

    বুথের সংখ্যা কোথায় কত

    দ্বিতীয় দফার ভোটে বুথের সংখ্যা বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি, বনগাঁয় ১০২৮টি, বসিরহাটে ২০৫২টি, বিধাননগরে ৮৮৩টি, ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি, বারুইপুরে ২৮২৫টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ২৪৩১টি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২০৮৭টি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ২৮৪৪টি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ২২৯২টি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৫৬৮টি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ৪০৪১টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯৫টি, কলকাতায় ৫১৭২টি।

    কোন কেন্দ্রে কতজন করে প্রার্থী?

    দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। ১৫ জন করে প্রার্থী নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে, ১৪ জন করে প্রার্থী দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, ডোমজুড়জু কেন্দ্রে। ১৩ জন করে প্রার্থী বাদুড়িয়া, হাবড়া, বিজপুর, জগদ্দল, রাজারহাট-নিউটাউন, রায়দিঘি, জয়নগর (এসসি), কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, মানিকতলা, হাওড়া উত্তর, আমতা কেন্দ্রে। ১২ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), আমডাঙা, খড়দা, রাজারহাট-গোপালপুর, বারাসত, মগরাহাট পশ্চিম, বেহালা পূর্ব, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, হাওড়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, তারকেশ্বর কেন্দ্রে। ১১ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), পানিহাটি, কামারহাটি, বসিরহাট দক্ষিণ, কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার (এসসি), বারুইপুর পূর্ব (এসসি), টালিগঞ্জ, মেটিয়াব্রুজ, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হরিপাল কেন্দ্রে। ১০ জন করে প্রার্থী বাগদা (এসসি), বরাহনগর, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, বারুইপুর পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, শিবপুর, সাঁকরাইল (এসসি), চুঁচুড়া, জাঙ্গিপাড়া, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম কেন্দ্রে। ৯ জন করে প্রার্থী করিমপুর, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, অশোকনগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, ব্যারাকপুর, দমদম উত্তর, দমদম, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি), গোসাবা (এসসি), কুলতলি (এসসি), কুলপি, রাসবিহারী, উলুবেড়িয়া উত্তর (এসসি), উদয়নারায়ণপুর, চাঁপাদানি, সিঙ্গুর, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, খানাকুল, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর (এসসি), মঙ্গলকোট কেন্দ্রে। ৮ জন করে প্রার্থী রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বাসন্তী (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব (র্বএসসি), সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (এসসি), জগৎবল্লভপুর, চণ্ডীতলা, পুরশুড়া, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর, গলসি (এসসি) কেন্দ্রে। ৭ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর উত্তর, পাথরপ্রতিমা, সাগর, বজবজ, পাঁচপাঁলা, উত্তরপাড়া, বলাগড় (এসসি), ধনেখালি (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), কালনা (এসসি), মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। ৬ জন করে প্রার্থী ফলতা, আরামবাগ (এসসি), আউশগ্রাম (এসসি) কেন্দ্রে। ৫ জন প্রার্থী গোঘাট (এসসি) কেন্দ্রে।

  • WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (WB Assembly Polls 2026 Second Phase)। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তার জন্য একাধিক কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন ৩৮ হাজার ২৯৭ রাজ্য পুলিশও। নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম।

    কোথায় কত বাহিনী…

    দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— মোট ৫০৭ কোম্পানি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকবে ১৬০ কোম্পানি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।

    আরও বাহিনী…

    হাওড়া জেলার হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ওই জেলার রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকবে ১২৭ কোম্পানি। হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ভোট-দায়িত্ব সামলাবে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব বর্ধমানে মোট ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোট বুথের সংখ্যা ১৯৫টি। বাহিনী থাকবে ১৩ কোম্পানি। কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন।

    আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ

    দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে কমিশন। প্রথম দফার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ২৬ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও। ব্যারাকপুরে নিয়ে আসা হল অতিরিক্ত ৪ জন পুলিশ অফিসারকে। অন্যদিকে, হাওড়া-কৃষ্ণনগরে ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। বারাসাত-বসিরহাট-বারুইপুরে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। পূর্ব বর্ধমান, চন্দননগর, হাওড়া গ্রামীণ, হাওড়া শহরে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসার। এছাড়াও ডায়মন্ডহারবারে অতিরিক্ত ৩ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। আর সুন্দরবন ও বনগাঁয় অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

    বাহিনীর বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর

    বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়েস্টবেঙ্গল সেক্টর ও রাজ্য ফোর্স কোঅর্ডিনেটর সিআরপিএফের আইজি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন। ভোটের দিন কোনও সমস্যা হলে বা অভিযোগ থাকলে হেল্পলাইন নম্বরে জানানো যাবে। দুটো মোবাইল ও একটি ল্যান্ড লাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নম্বর দুটি হল- ৮৪২০২৭২১০১, ৮৪২০২৭২৩৪৩ ও ল্যান্ড লাইন নম্বরটি হল- ০৩৩২৩৬৭১১১৭। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘প্রথম দফার থেকেও বেশি ভোট পড়বে দ্বিতীয় দফায়। নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ ভোটই হবে দ্বিতীয় দফাতেও।’’

  • WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা পরেই শেষ দফার নির্বাচন (WB Election 2026)। ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিন এক নজরে দুর্নীতির (West Benagl Scam) ইতিকথা। ছোটবেলায় আমরা সবাই বর্ণপরিচয় পড়েছি। ‘ক’-এ কলা, ‘খ’-এ খই। গত ১৫ বছরে বাংলার শাসকদল আমাদের এক নতুন ‘বর্ণপরিচয়’ শিখিয়েছে। এই বর্ণপরিচয় আদর্শলিপি নয়, বরং দুর্নীতির এক কলঙ্কিত ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের দেওয়ালে দেওয়ালে সেই নতুন অ-আ-ক-খ লেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি বর্ণের সাথে জড়িয়ে আছে আপনার হকের টাকা চুরির গল্প।”

    চুরির “তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ 

    “কয়লা থেকে গরু, বালি থেকে চাকরি, এমনকি গরিবের হকের রেশন বা মিড-ডে মিলের চাল—কোনও কিছুই বাদ যায়নি। আমরা ভাবতাম দুর্নীতি বোধহয় দু—একটা দফতরে হয়, কিন্তু না! এরা তো রীতিমতো গবেষণার স্তরে নিয়ে গেছে বিষয়টাকে। ‘ক’ থেকে শুরু করে ‘হ’ পর্যন্ত প্রতিটি অক্ষরের পিছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি।

    ‘তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ দেখলে দেখা যাবে বর্ণমালার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে আপনার পকেট কাটা হয়েছে আর সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ চুরি করা হয়েছে। আজকের এই ভিডিও কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং খোদ বাংলার বর্তমান অবস্থার এক নগ্ন দলিল।

    ক-এ: কয়লা চুরি ও কাটমানি (WB Election 2026)

    শুরুটা করা যাক ‘ক’ দিয়ে। বাংলার খনি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার কয়লা পাচার হয়ে গেল, আর সেই কালো কারবারের ধোঁয়া গিয়ে পৌঁছাল খোদ রাঘববোয়ালদের দরজায়। শুধু কি কয়লা? যেকোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা থেকে নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘কাটমানি’ রাখা এখন এক অলিখিত নিয়ম। আপনার বাড়ির ছাদ হোক বা এলাকার রাস্তা—নেতার কাটমানি না দিলে কাজ শুরু হওয়া অসম্ভব। ভোটে (WB Election 2026) কতটা প্রভাব পরে তাই এখন দেখার।

    খ-এ: খাদ্য বা রেশন দুর্নীতি (West Benagl Scam)

    খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার, কিন্তু সেই গরিবের রেশনেও থাবা বসাতে ছাড়েনি এরা। লকডাউনের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার কুইন্টাল চাল আর গম কালোবাজারি হয়েছে। আজ রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী কেন জেল খেঁটে এসেছেন? কারণ তিনি আপনার থালার ভাতটা নিয়ে কোটি কোটি টাকার ডিল করেছেন।

    গ-এ: গরু পাচার

    বাংলার (WB Election 2026) সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার গরু পাচার হয়ে ভিনদেশে চলে গেল, আর তার বিনিময়ে ফুলে-ফেঁপে উঠল একশ্রেণীর নেতার ব্যাংক ব্যালেন্স। সীমান্তের ওপারে গরু পাঠাতে গিয়ে যারা মানুষের সুরক্ষাকে বাজি রেখেছে, তারা কি সত্যিই আপনার ভালো চাইবে? গ-এ গরু নয়, বরং ‘গ’ দিয়ে বাংলার কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক চোরাচালানের (West Benagl Scam)  গল্প লেখা হয়েছে।

    ঘ-এ: ঘাট ও বালি মাফিয়া

    বাংলার নদীগুলো আজ হাহাকার করছে। রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে নদী থেকে বালি আর পাথর তুলে নিয়ে নদীগর্ভ উজাড় করে দিচ্ছে বালি মাফিয়ারা। গ্রামের পর গ্রাম ধসে যাচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, আর এই ঘাটগুলো থেকে সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ঘ-এ ঘাট আজ মাফিয়াদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    চ-এ: চাকরি চুরি

    এটি সম্ভবত বাংলার আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। ‘চ’ দিয়ে আজ চাতক পাখির মতো হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী রাজপথে বসে আছে। কারণ তাদের যোগ্যতার চাকরিটা কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে নেতার ঘনিষ্ঠদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মেধাকে হত্যা করে টাকার জোরে অযোগ্যদের চেয়ারে বসানোই হলো এদের আসল সাফল্য।

    ছ-এ: ছাত্রভর্তিতে তোলাবাজি

    পড়াশোনার মন্দির আজ তোলাবাজির আখড়া। কলেজে ভর্তি হতে গেলেও ছাত্র পরিষদের দাদাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। গরিব মেধাবী ছাত্রটি আজ তার স্বপ্নের বিষয়ে পড়তে পারছে না, কারণ তার কাছে সেই ‘ছ’-এ ছাত্রভর্তির তোলাবাজির টাকা নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন চরম নির্লজ্জতা কি আগে কেউ দেখেছে?

    জ-এ: জব কার্ড কেলেঙ্কারি

    গরিব মানুষের একশো দিনের কাজের টাকা নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তার নাম ‘জ’ দিয়ে জব কার্ড কেলেঙ্কারি (West Benagl Scam) । মৃত মানুষের নামে জব কার্ড বানিয়ে কিংবা কাজ না করিয়েই টাকা তুলে নিয়েছে শাসকদলের নেতারা। আজ যে সাধারণ মানুষ একশো দিনের কাজের টাকা পাচ্ছেন না, তার দায় কি ওই তৃণমূলী মেম্বার আর প্রধানদের নয়, যারা দুর্নীতির পাহাড় বানিয়ে কেন্দ্রীয় টাকা আটকে যাওয়ার পথ করে দিয়েছে?

    ট-এ: টেট (TET) দুর্নীতি

    ‘ট’ দিয়ে আজ বাংলার ঘরে ঘরে কান পাতলে শোনা যায় টেট দুর্নীতির হাহাকার। ওএমআর শিট (OMR sheet) কারচুপি করে রাতারাতি ফেল করা প্রার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়েও অনেকে আজ চাকরি করছে, আর যারা দিনরাত এক করে পড়াশোনা করেছিল, তারা আজ গান্ধী মূর্তির পাদদেশে চোখের জল ফেলছে। টেট আজ নিয়োগের পরীক্ষা নয়, বরং টাকা কামানোর মেশিনে পরিণত হয়েছে।

    ঠ-এ: ঠিকাদারি ও সিন্ডিকেট

    যেকোনও সরকারি নির্মাণ মানেই তৃণমূলী সিন্ডিকেটের রমরমা। ‘ঠ’ দিয়ে ঠিকাদারি আজ আর মেধার লড়াই নয়, বরং কে কত বড় নেতার কাছের লোক তার প্রতিযোগিতা। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা বা ব্রিজ তৈরি হচ্ছে, আর সেই মুনাফার টাকা ভাগ হয়ে যাচ্ছে ভাইপো থেকে পাড়ার মেজো নেতা—সবার মধ্যে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স না দিলে বাংলায় একটা ইঁটও গাঁথা সম্ভব নয়।

    ড-এ: ডিয়ার লটারি দুর্নীতি

    সাধারণ মানুষের (WB Election 2026) ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নাম লটারি। ‘ড’ দিয়ে এই ডিয়ার লটারি আজ কালো টাকা সাদা করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। আমরা দেখছি বারবার একই প্রভাবশালী পরিবারের লোক লটারিতে কোটি টাকা জিতছে! এটা কি নিছক ভাগ্য, নাকি আপনার ঘাম ঝরানো পয়সা পকেটস্থ করার এক পরিকল্পিত নীল নকশা? লটারির নেশায় সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, আর নেতারা কোটিপতি হচ্ছে।

    ত-এ: ত্রিপল ও ত্রাণ চুরি

    মানবিকতাও এদের কাছে ব্যবসার মাধ্যম। আমফানের সময় যখন মানুষের মাথার ছাদ উড়ে গিয়েছিল, তখন ‘ত’ দিয়ে সেই সামান্য ত্রিপলটুকুও চুরি করতে ছাড়েনি এরা। রিলিফের চাল থেকে শুরু করে ক্ষতিপূরণের টাকা—সবই চলে গেছে তৃণমূলী নেতাদের আত্মীয়স্বজনদের একাউন্টে। বিপদের দিনে যারা মানুষের হকের ত্রাণ চুরি করে, তারা মানুষের শত্রু ছাড়া আর কিছু নয়।

    ন-এ: নিয়োগ দুর্নীতি (পুরসভা)

    স্কুলের পর এবার নজর পুরসভার দিকে। ‘ন’ দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি আজ পুরসভাগুলোতেও থাবা বসিয়েছে। অযোগ্যদের চাকরি দিয়ে শহর বা মফস্বলের প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীরা আজও হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নেতার প্যাডে নাম থাকা ব্যক্তিরা সরকারি চেয়ারে বসে জনগণের টাকায় মৌজ করছে।

    প-এ: প্রাথমিকে দুর্নীতি

    শিক্ষার একদম গোড়াতেই বিষ মিশিয়ে দিয়েছে এই সরকার। ‘প’ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যে নির্লজ্জ কারচুপি আমরা দেখলাম, তা গোটা দেশের সামনে বাংলার মাথা হেঁট করে দিয়েছে। টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আগামীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব। আজ যে শিশুরা প্রাথমিক স্কুলে যাচ্ছে, তারা কী শিখবে? যখন তাদের শিক্ষকরাই মেধার বদলে টাকার জোরে চাকরি পেয়েছে!

    ব-এ: বালি পাচার

    বাংলার নদীগুলো আজ কঙ্কালসার (West Benagl Scam) । ‘ব’ দিয়ে বালি পাচার আজ এক সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। কোনো রয়্যালটি ছাড়াই রাতের অন্ধকারে শয়ে শয়ে ট্রাক নদী থেকে বালি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলা আর কয়েকশ কোটি টাকার এই পাচারকাণ্ডের পিছনে রয়েছে স্থানীয় নেতা আর প্রশাসনের এক গভীর আঁতাত। বালি চুরি করে নদীগর্ভ সাবাড় করা হচ্ছে, আর নেতাদের পকেট ভরাট হচ্ছে।

    র-এ: রেশন চুরি

    মানুষের অভাব নিয়ে ব্যবসা করাই এদের দস্তুর। ‘র’ দিয়ে রেশন চুরির জাল ছড়িয়ে আছে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত। গরিবের ডিজিটাল রেশন কার্ডের চাল-গম খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ যখন ডিলারের কাছে যাচ্ছে, তখন বলা হচ্ছে “ওপর থেকে স্টক আসেনি”। আপনার পেটের ভাত যারা কেড়ে নেয়, তাদের ক্ষমা করার জায়গা কোথায়?

    ম-এ: মিড-ডে মিল তছরূপ

    এরা এতটাই নিচে নেমেছে যে শিশুদের খাবারটুকুও ছাড়েনি। ‘ম’ দিয়ে মিড-ডে মিলের টাকায় কখনো রাজনৈতিক সভা করা হচ্ছে, কখনো আবার সেই টাকা তছরূপ করে নেতাদের পকেট গরম করা হচ্ছে। বাড়ন্ত বয়সের বাচ্চাদের পাতে ডাল-ভাতের বদলে জুটেছে চরম দুর্নীতি। শিশুদের পুষ্টি নিয়ে যারা খেলা করে, তাদের থেকে নিষ্ঠুর আর কে হতে পারে?

    স-এ: সিন্ডিকেট রাজ

    বাংলায় (WB Election 2026) আজ আইনের শাসন নয়, চলছে ‘স’ দিয়ে সিন্ডিকেট রাজ। আপনি নিজের জমিতে বাড়ি করবেন? সিন্ডিকেটের থেকে মাল নিতে হবে। আপনি ছোট ব্যবসা করবেন? সিন্ডিকেটকে তোলা দিতে হবে। এই সিন্ডিকেট আজ বাংলার অর্থনীতির গলা টিপে ধরেছে। কোনও বড় শিল্প এখানে আসতে ভয় পায় কেবল এই সিন্ডিকেট আর তোলাবাজদের ভয়ে।

    শ-এ: শিক্ষা দুর্নীতি ও সারদা

    ‘শ’ দিয়ে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের সর্বস্বান্ত হওয়ার ইতিহাস লেখা আছে। একদিকে সারদার মতো চিটফান্ডে সাধারণ মানুষের রক্তজল করা টাকা লোপাট, আর অন্যদিকে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিলামে তোলা। পর্ষদ সভাপতি থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী—সবাই আজ জেল খাটছে। মেধা আজ রাজপথে কাঁদছে, আর দুর্নীতি আজ রাজপ্রাসাদে অট্টহাসি হাসছে।

    হ-এ: হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক টাকা লুট

    সবশেষে ‘হ’—হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক বা একশো দিনের কাজের টাকা লুট। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের দাম এরা নর্দমায় ছুড়ে ফেলেছে। ভুয়া মাস্টার রোল বানিয়ে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। আজ যখন কেন্দ্র হিসাব চাইছে, তখন এরা মুখ লুকাচ্ছে আর মাশুল গুনছে বাংলার সাধারণ শ্রমিকরা। ‘হ’-এ হাহাকার আজ বাংলার গ্রামে গ্রামে।

    এটাই আজকের বাংলার বাস্তব ‘বর্ণপরিচয়’ (West Benagl Scam)। আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম ‘অজগরটি আসছে তেড়ে’, আজ বাংলার প্রতিটি প্রান্তে সেই অজগরের মতো দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে গিলে খেতে আসছে। ক-থেকে-হ, বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষর আজ কলঙ্কিত। যারা আপনার সন্তানের শিক্ষার অধিকার বিক্রি করে দেয়, যারা আপনার ঘরের চাল চুরি করে, কিংবা যারা আপনার সারা জীবনের জমানো টাকা লটারির নামে বা চিটফান্ডের নামে লুটে নেয়—তারা কি সত্যিই আপনার বন্ধু?”

    যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক

    এই অ-আ-ক-খ দিয়ে কোনো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়। এই বর্ণপরিচয় কেবল ধ্বংস আর অন্ধকারের কথা বলে। আজ বাংলার (WB Election 2026) যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক, বাংলার মেধাবীরা রাজপথে অনশনরত, আর বাংলার কোষাগার দেউলিয়া। দেড় হাজার টাকার ভাতার মুলো ঝুলিয়ে যারা আপনার এই চরম ক্ষতিকে আড়াল করতে চাইছে, তাদের চিনে নেওয়ার সময় এসেছে। মনে রাখবেন, আজ যদি আপনি এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আওয়াজ না তোলেন, তবে আপনার আগামী প্রজন্ম আপনাকে ক্ষমা করবে না। এখন এই সব কিছুর প্রভাব ভোটে কতটা পরে তাই এখন দেখার।

  • WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে কলকাতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

    বিশেষ বৈঠকে কমিশন

    শহরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার, নির্বাচন পর্যবেক্ষক-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সূত্রের খবর, বৈঠকে যোগ দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরাও। পাশাপাশি, জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO), রিটার্নিং অফিসার (RO) সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই এই সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় রেখে কীভাবে বুথে বুথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বিশেষ নজরদারি, রুট মার্চ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সেই বার্তাই স্পষ্ট।

    কলকাতায় আলাদা করে নজর

    কলকাতার পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ ভাবনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে রবিবার সমস্ত সিভিল সেক্টর অফিসার, পুলিশ সেক্টর অফিসার, জেনারেল অবজ়ার্ভার, পুলিশ অবজ়ার্ভার, স্পেশ্যাল অবজ়ার্ভার, পুলিশের সিনিয়র আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল কমিশন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। বৈঠক পর নগরপাল জানান, বুথ ধরে ধরে যে সব পরিকল্পনা রয়েছে, কোথায় কত কুইক রেসপন্স টিম, কন্ট্রোল রয়েছে, অভিযোগ জানানোর কী ব্যবস্থা আছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব কী কী, কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কী করা হবে, এই সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

    বাইকে টহল পুলিশ-আধাসেনার

    সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী বুধবার, দ্বিতীয় দফার ভোটে গোটা শহর জুড়েই টহল দেবে পুলিশ-আধাসেনার বাইক। অজয় জানান, কলকাতা জুড়ে মোট ১৬০টি বাইক টহল দেবে। এই কাজ পুলিশ এবং আধাসেনা মিলে করবে। পাশাপাশি, বুথে বুথে নজরদার ক্যামেরা থাকবে। বুথের পরিস্থিতি বুঝে আরও ক্যামেরা লাগানো হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ড্রোনের সংখ্যা বৃদ্ধি

    তবে শুধু কলকাতা নয়, সর্বত্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আনতে চাইছে কমিশন। কমিশন সূত্রেই খবর, স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি চালাতে দ্বিতীয় দফায় ড্রোনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এ ছাড়াও শুধু বুথ বা বুথ সংলগ্ন এলাকা নয়, এ বার বুথ‌মুখী সব রাস্তাতেও ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত‌ নিয়েছে কমিশন। মূলত কলকাতা এবং হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি বা ঘনবসতি এলাকায় যে সমস্ত বুথ থাকবে, সেই সমস্ত বুথের ক্ষেত্রেই তা মেনে চলা হবে। ‌

  • WB Election 2026: সারি সারি দাঁড়িয়ে সাঁজোয়া যান, শেষ দফার ভোট হিংসা মুক্ত করতে বাহিনীর বিরাট চমক

    WB Election 2026: সারি সারি দাঁড়িয়ে সাঁজোয়া যান, শেষ দফার ভোট হিংসা মুক্ত করতে বাহিনীর বিরাট চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাইনে দাঁড়িয়ে সারি সারি সাঁজোয়া গাড়ি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) শেষ দফা ভোটের আগে হিংসা রুখতে কমিশনের কড়া অবস্থান। দুষ্কৃতীদের সাবধান করতে সিআরপিএফ-এর (CRPF) অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ADG) জিপি সিং একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেন। তাঁর পোস্ট করা নিরাপত্তা প্রস্তুতির কিছু ছবি সময় সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় দাগি এক হাজারের বেশি অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ প্রশাসন। যেখানে যেখানে হিংসার ঘটনা ঘটছে জোর কদমে চলছে ধরপাকড়। ভোট লুট বন্ধ করতে কমিশন ও প্রশাসন ব্যাপক সক্রিয়।

    বিশেষ তৎপরতা গ্রহণ (WB Election 2026)

    নির্বাচনী (WB Election 2026) নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (CRPF)  জিপি সিং একটি পোস্ট করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রাক্কালে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা গ্রহণ করা হয়েছে।” সামাজিক মাধ্যমে বাহিনীর সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি ও রণকৌশলের কিছু আলোকচিত্র শেয়ার করেছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে কমিশন কতটা হিংসা মুক্ত নির্বাচন চায়।

    ভীতি ছাড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ

    অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল জিপি সিং নিজের শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁরা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই পোস্টের (CRPF)  মূল উদ্দেশ্য হল মূলত ভোটারদের মনে আস্থা জাগানোর একটি প্রয়াস মাত্র। সাধারণ মানুষ যাতে কোনও প্রকার ভীতি ছাড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন সেই বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভোটারদের সাহস যোগাবে

    একই ভাবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে (WB Election 2026) শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উচ্চপদস্থ এই আধিকারিকের (CRPF) সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী ময়দানে নতুন মাত্রার উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। তবে এই ধরনের সাঁজোয়া যান কেবলমাত্র কাশ্মীরের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই ব্যবহার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবহার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

  • Bengal Assembly Election 2026: ‘‘আধ্যাত্মিক টান অনুভব করেছি’’, বঙ্গবাসীকে খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, জনতার কাছে করলেন কোন আবেদন?

    Bengal Assembly Election 2026: ‘‘আধ্যাত্মিক টান অনুভব করেছি’’, বঙ্গবাসীকে খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, জনতার কাছে করলেন কোন আবেদন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭ এপ্রিল, সোমবার রাজ্যের অষ্টাদশ বিধানসভার (Bengal Assembly Election 2026) শেষ প্রচার করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Rally)। প্রচারে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে দিয়েছেন বিশেষ বার্তা। তৃণমূলের জঙ্গলরাজ, লাগামছাড়া দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, শিক্ষার বেহাল দশা, জীর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সহ একাধিক সিন্ডিকেট রাজ ও কাটমানির কথা মনে করিয়ে দিয়ে ব্যাপক মাত্রায় ২৯ এপ্রিম ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। মোদির সাফ কথা— ‘দেশ তখনই এগিয়ে যাবে যখন পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে। তাই পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’ নির্বাচনী প্রচার শেষে বাংলার জনসাধারণের জন্য খোলা চিঠিও দিয়েছেন মোদি। বঙ্গভূমিকে তীর্থ ভূমি উল্লেখ করে জয় মা কালীকে ডেকেছেন। বাংলার মঙ্গল কামনায় রাজ্যবাসীকে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

    সর্বদা এক পরম প্রাপ্তি (Bengal Assembly Election 2026)  

    নির্বাচনী প্রচারে (Bengal Assembly Election 2026) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Rally) সেই খোলা চিঠিটি মার্জিত এবং প্রাঞ্জল বাংলায় বলেছেন,”

    “শ্রদ্ধেয় পরিজনগণ, জয় মা কালী,

    বাংলার পুণ্যভূমিতে পদার্পণ করা আমার কাছে সর্বদা এক পরম প্রাপ্তি। এ এক তীর্থযাত্রার সমান। আমি যখনই আপনাদের মধ্যে উপস্থিত হই, আপনাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ আমাকে অভিভূত করে। এই আশীর্বাদই আমাকে দেশসেবায় নিয়োজিত থাকার অদম্য শক্তি জোগায়।”

    মা-বোনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন

    আসন্ন নির্বাচন (Bengal Assembly Election 2026) পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ বঞ্চনা, অরাজকতা এবং দুর্নীতির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বাংলা। আমি জানি, আজ বাংলার মা-বোনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যুব সমাজ কর্মসংস্থানের অভাবে দিশেহারা এবং কৃষক ভাইবোনেরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। দুর্নীতির অন্ধকারে আজ বাংলার প্রতিভা ম্লান হয়ে পড়ছে।

    উন্নত বাংলা’ এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

    তৃণমূলের শাসনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের একাধিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনসাধারণ। নির্বাচন আবহে প্রধানমন্ত্রী (Bengal Assembly Election 2026) বলেন,  “কবিগুরুর ভাষায়— ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’— সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার সময় সমাগত। আমরা এক ‘উন্নত বাংলা’ এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে ভয় নয়, ‘ভরসা’ হবে শাসনের ভিত্তি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল যাতে বাংলার প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার

    গত ৩৪ বছর বাম শাসন আর তৃণমূলের শাসনে বাংলার সংস্কৃতিক অবক্ষয় এখন চরম সীমায়। তাই প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Rally) বলেন, “বাংলার (Bengal Assembly Election 2026) হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং এক স্বচ্ছ ও প্রগতিশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে আমি আপনাদের সমর্থন ও আশীর্বাদ প্রার্থী। আগামী নির্বাচনে নির্ভয়ে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনাদের একটি ভোটই পারে বাংলার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে। আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক নতুন বাংলা গড়ে তুলি। আপনাদের সেবায় সর্বদা নিবেদিত, নরেন্দ্র মোদি।”

    আধ্যাত্মিক টান অনুভব করেছি

    ২০২৪-এর জানুয়ারিতে অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগে তিনি যে ১১ দিনের কঠোর অনুধ্যান বা অনুষ্ঠান করেছিলেন সেই কথাই বাংলা প্রসঙ্গে মনে পড়েছে। বাংলার এই নির্বাচনী প্রচারে মোদির (PM Modi Rally) অনুভূতি ঠিক একই প্রকার । একে আধ্যাত্মিক স্পন্দনের অনুভব বলেছেন। মোদির কথায়, ‘‘বাংলার প্রতিটি জনসভা ও রোড-শো-তে আমি সেই আধ্যাত্মিক টান অনুভব করেছি, যা দেবী মন্দিরে প্রার্থনার সময় পাওয়া যায়। বাংলার অলিগলিতে প্রচারের সময় যে ভালবাসা পেয়েছি, তা আমাকে নতুন শক্তিতে ভরিয়ে দিয়েছে।’’

    ভালো অভিজ্ঞতার স্মৃতি

    আবেগঘন হয়ে মোদি (PM Modi Rally) বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এতো মেসেজ, প্রশ্ন আর ছবিতে তা স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পেরেছেন। চিঠিও অনেকে পাঠান। সেগুলিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভালো অভিজ্ঞতার স্মৃতি। মোদি তাই বলেছেন, ‘‘জনসভা বা রোড-শো-র শেষে গভীর রাতে আমি আপনাদের পাঠানো ছবি ও বার্তাগুলো নিয়ে বসি। যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণ, সব বয়সের মানুষের যে বিপুল ভালবাসা আমি পেয়েছি, তাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।”

    যথেষ্ট ভয় দেখানো হয়েছে, এবার প্রয়োজন বিশ্বাসের

    রাজ্যের (Bengal Assembly Election 2026) যুবসমাজ, নারী সমাজ, কৃষক শ্রমিক সকলেই দীর্ঘ অন্ধকার অত্যাচার আর নিপীড়নের শাসন থেকে মুক্তি চায়। পরিবর্তনের এক বড় মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে বঙ্গবাসী। যে রাজ্যে বেকারদের কাজ নেই, মেয়েরা সুরক্ষিত নন, কৃষকতার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত, সেই রাজ্যে দ্রুত নতুন সূর্য উঠবে। তৃণমূলের শাসন থেকে বাংলা মুক্ত হবে। মানুষ নিজের অধিকার ফিরে পাবে। তাই প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Rally) স্বয়ং লিখেছেন, “যথেষ্ট ভয় দেখানো হয়েছে, এবার প্রয়োজন বিশ্বাসের। আর সেই বিশ্বাসের নাম বিজেপি। বাংলার সেবা করা এবং বাংলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার পবিত্র কর্তব্য। বাংলার সামনে থাকা প্রতিটি প্রতিকূলতাকে সুযোগে রূপান্তর করা আমার দায়িত্ব এবং ভবিতব্য। এই দায়িত্ব থেকে আমি কখনও এক চুলও সরব না।”

    বাংলা ভাষায় মোদির লেখা চিঠি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং বাঙালির ‘আবেগের ধমনীতে’ সাড়া ফেলে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এই আবেগ ভীষণ ভাবে ভোটের অঙ্কে প্রতিফলন ঘটাবে বলে বিশ্বাস রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

  • Election Commission India: রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে সিদ্ধনাথ গুপ্তের মেয়াদ বৃদ্ধি; দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নবান্নে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত

    Election Commission India: রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে সিদ্ধনাথ গুপ্তের মেয়াদ বৃদ্ধি; দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নবান্নে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহানির্দেশক (DGP) সিদ্ধনাথ গুপ্তের (Election Commission India) চাকরির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র সরকার। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্বাচন কমিশনের সুপারিশে এবং ক্যাবিনেটের সিদ্ধনাথের (IPS Siddh Nath Gupta) নিয়োগ কমিটির (ACC) অনুমোদনে এই সিদ্ধান্তের কথা সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

    আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি (Election Commission India)

    ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস অফিসার সিদ্ধনাথ গুপ্তের (IPS Siddh Nath Gupta) আগামী ৩০ এপ্রিল অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে জনস্বার্থে এবং নির্বাচনকালীন বিশেষ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ‘অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলস’ অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছিল। ডিজিপি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দিয়ে ছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। তাঁর জায়গায় নিযুক্ত করা হয় সিদ্ধনাথ গুপ্তকে। সেই সময় তৎকালীন ডিজি-র পরিবর্তে সিদ্ধনাথ গুপ্তকে রাজ্যের পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোট পরিচালনা করবেন সিদ্ধনাথ

    ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকেও বদলি করেছিল কমিশন। মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয় তারা। তাঁর জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুষ্মন্তকে। সরানো হয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয় সংঘমিত্রা ঘোষকে। তার পরে ক্রমে একঝাঁক পুলিশ কর্তা এবং আধিকারিকদের বদলি করে কমিশন। রাজ্যের ডিজি পদে বসেন সিদ্ধনাথ। তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্বেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে কমিশন তাঁর নেতৃত্বের উপর নির্ভর করে ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোট পরিচালনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কমিশনের বক্তব্য

    গত ২৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণকে ঘিরে সিইও মনোজকুমার অগ্রবাল বলেন, ‘‘ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও গন্ডগোলের অভিযোগ নেই। সর্বত্র সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ছিল। আগে ওই সমস্ত কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যেও অশান্তি হত। বুথের বাইরে কয়েকটি অশান্তির অভিযোগ এসেছে। তবে কোথাও কোনও মৃত্যুর খবর নেই।’’

    শান্তি রক্ষা ও সমন্বয়

    দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে স্থায়িত্ব বজায় থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোট চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে সিদ্ধনাথ গুপ্তের মতো (IPS Siddh Nath Gupta)  অভিজ্ঞতার ওপরই আস্থা রাখছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) ও প্রশাসন।

    নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই চিঠির পর রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে বর্তমান কর্মপরিকল্পনা বজায় রেখেই পরবর্তী দফার নির্বাচনগুলোর প্রস্তুতি নেওয়া হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Adult Vaccination India: ভারতে বিপুল সাফল্য শিশুদের টিকাকরণে! চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা?

    Adult Vaccination India: ভারতে বিপুল সাফল্য শিশুদের টিকাকরণে! চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সুস্থ, রোগ মুক্ত জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা। সেই সতর্কতা এবং সচেতনতার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে টিকাকরণ। টিকাকরণ সম্পর্কে অবগত থাকা এবং সময় মতো টিকা করণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর ভারত গত দু’বছরে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে‌। শিশুদের টিকাকরণে দেশে বিপুল সাফল্য দেখা দিয়েছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা (Adult Vaccination India)। এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ জুড়ে চলে ইমিউনাইজেশন উইক (World Immunization Week)। অর্থাৎ, শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি অটুট রাখতে টিকা করণ জরুরি। সেই টিকা করণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে এবং সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই প্রচার কর্মসূচি চলে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চ্যালেঞ্জের দিকে নজর রেখেই ইমিউনাইজেশন উইকে দেশ জুড়ে কর্মসূচি পালন হবে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে দেশ জুড়ে শিশু টিকাকরণে বিপুল সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। দেশের ৯৪ শতাংশ শিশুর নিয়ম মাফিক টিকা করণ হয়েছে। জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি মেনেই শিশুর সমস্ত টিকা করণ হয়েছে। কোনও কোনও রাজ্যে শিশু টিকাকরণে সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশেরও বেশি। যক্ষ্মা, পোলিও, হেপাটাইটিস বি, রুবেলা, ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাফল্য উল্লেখযোগ্য। জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি মেনে জিরো ডোজ চাইল্ড অর্থাৎ একটিও টিকা পায়নি এমন শিশু ০.০৬ শতাংশ রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তারা অবশ্য জানাচ্ছেন, তাঁদের টার্গেট ১০০ শতাংশ শিশুর টিকা করণ। তাই আরও বেশি নজরদারি দেওয়া হচ্ছে।

    ভারতে সবচেয়ে বড় চ‌্যালেঞ্জ

    তবে, চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা। করোনা আবহে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণ নিয়ে সচেতনতা বেড়েছিল। যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ী তা যথেষ্ট নয়। এ দেশে শিশু টিকা করণ নিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেলেও, প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণের হার কম। প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণের হার ২ শতাংশ। দেশে নিউমোনিয়ায় বয়স্কদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়লেও, প্রাপ্তবয়স্কদের নিউমো-কক্কাল টিকাকরণের হার ০.৭ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্কদের হেপাটাইটিস বি টিকা করণের হার ২ শতাংশ। টাইফয়েড এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাকরণের হার ১.৫ শতাংশ। বয়স্কদের টিকার করণের হার এত কম হওয়ায় উদ্বিগ্ন দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স্কদের মধ্যে টিকা করণ নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। টিকা শুধুই শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। সুস্থ জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত। এ সম্পর্কে এখনও সব স্তরে ধারণা স্পষ্ট হয়নি। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ এখন ভারতে সবচেয়ে বড় চ‌্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    কোন দিকে বাড়তি গুরুত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চলতি বছরে ইমিউনাইজেশন উইকের মূল ভাবনা হলো, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখবে টিকা। অর্থাৎ, টিকা করণ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির সুরক্ষা কবচ নয়। বরং একটি রোগ নির্মূল করতে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থ জীবনযাপনের পথে নিয়ে যেতেও সাহায্য করে। হেপাটাইটিস, টাইফয়েড কিংবা নিউমোনিয়ার মতো রোগের দাপট কমাতে টিকা করণ জরুরি। পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যের এই রোগ হলে, বাকিদের মধ্যেও, রোগ সংক্রামিত হতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণ জরুরি। শৈশবে টিকা নেওয়া না হলে, চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিয়ে, পরবর্তী সময়ে টিকা করণ করা যায়। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখা জরুরি। যাতে দেশ থেকে একাধিক ভাইরাসঘটিত অসুখ নির্মূলের কাজ সহজ হয়। সেদিকে নজর রেখে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণে বাড়তি সচেতনতা প্রসার চালানো হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Election Commission India: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার আগে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, ৩৬-ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ১৫৪৩ দুষ্কৃতী গ্রেফতার

    Election Commission India: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার আগে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, ৩৬-ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ১৫৪৩ দুষ্কৃতী গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (Election Commission India) নির্বিঘ্ন ও ভীতিমুক্ত করতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ৩৬ ঘণ্টায় এখনও পর্যন্ত ১৫৪৩ জন চিহ্নিত দুষ্কৃতীকে আটক করেছে পুলিশ (Bengal Assembly Election 2026)।

    ভোটারের মনে আস্থা ফেরানোই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য (Election Commission India)

    নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) সূত্রে খবর, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ ভোটারের মনে আস্থা ফেরানোই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। রবিবার সকাল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যে ১৫৪৩ জন দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করা হয়েছে। এই বিপুল ধরপাকড়ের মধ্যে জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে এগিয়ে পূর্ব বর্ধমান। সেখানে ৪৭৯ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন নাড়ুগোপাল ভকত নামে পূর্ব বর্ধমান জেলার এক তৃণমূল কাউন্সিলরও।  পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে মূলত সেই সমস্ত ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে নির্বাচনী হিংসায় (Bengal Assembly Election 2026) জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে অথবা যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ভোটে উত্তপ্ত জগদ্দল

    রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল জগদ্দল। গোলমালের সূত্রপাত হয় আটচলা বাগানে। তৃণমূলের আক্রমণের খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র‍্যাফ নামে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংকে নিয়ে উপস্থিত হন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাঁদের উপর ইটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন অর্জুন। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

    চিহ্নিতকরণ ও অভিযান

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) নির্দেশে জেলাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে গত কয়েক দিনে কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুলিশের এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক অ-জামিনযোগ্য পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) কার্যকর করা হয়েছে। জেলা ভিত্তিক গ্রেফতারের সংখ্যার পরিসংখ্যান বলছে, পূর্ব বর্ধমানে ৪৭৯ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৪৬ জন, উত্তর কলকাতায় ১০৯ জন, হুগলিতে ৪৯ জন, নদিয়া জেলায় ৩২ জন  এবং হাওড়ায় ৩২ জন।

    সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি

    ভিন রাজ্য বা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে যাতে কোনো দুষ্কৃতী রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য নাকা চেকিং এবং সীমানা সিল করার কাজও জোরদার করা হয়েছে। দুষ্কৃতী দমনের পাশাপাশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ক্ষেত্রেও জেলা পুলিশকে বিশেষ সক্রিয় হতে দেখা গেছে।

    শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি

    প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “শান্তিপূর্ণ ভোটদান (Bengal Assembly Election 2026) নিশ্চিত করতে আমরা শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করেছি। কোনও ধরণের প্ররোচনা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।”

    প্রথম দফার ভোটের আগে পুলিশের এই ব্যাপক ধরপাকড় জনমনে সুরক্ষার বার্তা দিলেও, রাজনৈতিক মহলে এর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক উৎসবকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে এই প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী ২৯ এপ্রিল কতটা শান্তিপূর্ণ ভোট হয় তাই এখন দেখার।

  • Election Commission India: বাংলার গণতন্ত্রে নারীশক্তির জয়গান, প্রথম দফায় পুরুষদের ছাপিয়ে গেল মহিলা ভোটারদের হার, শীতলকুচিতে ৯৭.৫৩ শতাংশ

    Election Commission India: বাংলার গণতন্ত্রে নারীশক্তির জয়গান, প্রথম দফায় পুরুষদের ছাপিয়ে গেল মহিলা ভোটারদের হার, শীতলকুচিতে ৯৭.৫৩ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই রাজনৈতিক সচেতনতার (Bengal Assembly Election 2026) নিরিখে অগ্রগণ্য। সম্প্রতি গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় সেই সচেতনতার এক অনন্য প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। বিশেষত জঙ্গলমহল ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে যেখানে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে এক অভূতপূর্ব ভোটদানের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে— পুরুষ ভোটারদের তুলনায় মহিলা ভোটারদের উপস্থিতির হার অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) জানিয়েছে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়েছে। তার মধ্যে ২৩টি কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় মহিলারা বেশি পরিমাণে ভোট প্রদান করেছেন। এটি কেবল একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলার গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরে নারী ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের এক বিরাট ইঙ্গিত।

    পরিসংখ্যানের দর্পণে নারী ভোটাধিকার (Election Commission India)

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার বেশ কিছু কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে যে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন। অনেক কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে, পুরুষদের ভোটের হার যেখানে ৭৯ বা ৮০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, সেখানে মহিলাদের ভোটের হার ৮৩ থেকে ৮৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলোতে এই চিত্র অত্যন্ত স্পষ্ট। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে রোদ উপেক্ষা করেও মহিলাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ (Bengal Assembly Election 2026) প্রমাণ করে যে, নীতি নির্ধারণ এবং সরকার গঠনে নিজেদের ভূমিকার গুরুত্ব তাঁরা উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

    এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কী কারণ?

    সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল মহিলা ভোটের হার বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। যা হল-

    রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রচার

    সবকটি রাজনৈতিক দলই বর্তমানে তাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রে মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রতিশ্রুতি রেখেছে। রাজনৈতিক সভাগুলোতে মহিলাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। নারীদের কেন্দ্র করে যে ধরণের প্রচার চালানো হয়েছে, তা তাঁদের মধ্যে এক ধরণের গুরুত্ববোধ তৈরি করেছে।

    নিরাপদ পরিবেশ

    নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি মহিলাদের মনে সাহস জুগিয়েছে। নির্ভয়ে ভোট (Bengal Assembly Election 2026) দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হওয়ার কারণেই ঘরের কাজ সামলেও গ্রাম বাংলার মহিলারা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছেন।

    গণতন্ত্রের সুফল ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

    ভোটার তালিকায় লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জন্য নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণ থেকে শুরু করে সচেতনতা শিবির—সবক্ষেত্রেই মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার এই পরিসংখ্যান (Election Commission India) সেই প্রচেষ্টারই সাফল্য।

    আসুন দেখে নিই কোন জেলায় ভোটের পরিমাণ কত

    ভোট পড়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ। মোট ভোটদাতার সংখ্যা ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ।

    • শীতলকুচিতে— ৯৭.৫৩ শতাংশ। ভোটদানের হারে তার পরেই রয়েছে ভগবানগোলা— ৯৬.৯৫ শতাংশ, রানিনগর— ৯৬.৯৫ শতাংশ এবং রঘুনাথগঞ্জ— ৯৬.৯ শতাংশ। প্রথম দফার মোট ৪৪টি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
    • কান্দিতে পুরুষ ও মহিলা ভোটদাতার ব্যবধান সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১৫ হাজার। সেখানে মহিলার চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা দু’হাজার কম। ভোট দিয়েছেন ৯১ হাজার পুরুষ এবং ১.০৬ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৮৪.৯৪ শতাংশ।
    • ঘাটালে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা মহিলার চেয়ে প্রায় ছ’হাজার বেশি। তবে সেখানে ভোট বেশি পড়েছে মহিলাদেরই। ১.২৩ লক্ষ মহিলা এবং ১.১৬ লক্ষ পুরুষ ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। পুরুষ ও মহিলা ভোটদাতার ব্যবধান প্রায় সাত লক্ষ।
    • দাসপুরে মহিলাদের চেয়ে প্রায় তিন হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। তবে ১.১৯ লক্ষ পুরুষ ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১.৩১ লক্ষ।
    • ডেবরায় ১.০৭ লক্ষ পুরুষ বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১.০৮ লক্ষ। তবে ভোটার হিসাবে মহিলার চেয়ে পুরুষের সংখ্যা হাজারখানেক বেশি এই কেন্দ্রে।
    • মেদিনীপুরেও মহিলারা বেশি ভোট দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে অবশ্য পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.১৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২২ লক্ষ মহিলা।
    • বাঁকুড়ায় পুরুষ এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যায় তফাত সামান্য। মহিলাদের চেয়ে সেখানে প্রায় ৫০০ জন পুরুষ বেশি রয়েছেন। তবে ভোট মহিলারাই বেশি দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে ১.১৭ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৮ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন।
    • ময়ূরেশ্বরে মহিলার চেয়ে হাজারখানেক পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ১.০৫ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৬ লক্ষ মহিলা সেখানে ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৩.৮৪ শতাংশ।
    • রামপুরহাটে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় দু’হাজার বেশি। এই কেন্দ্রে ১.১৪ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৬ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৪.৫৩ শতাংশ।
    • রামনগরে মহিলার তুলনায় পুরুষ ভোটার বেশি ছ’হাজার। তবে মহিলাদের ভোট বেশি পড়েছে। ১.২০ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২২ লক্ষ মহিলা সেখানে ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯০.০২ শতাংশ।
    • বহরমপুরে পুরুষের চেয়ে চার হাজার বেশি মহিলা ভোটার রয়েছে। ১.০৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১২ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। ভোটের হার ৯১.৭২ শতাংশ।
    • ভরতপুরে মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেশি। কিন্তু সেখানে ১.০৫ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৭ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮৯.১৭ শতাংশ।
    • বড়ঞায় মহিলার চেয়ে ন’হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৯১ হাজার পুরুষ এবং ৯৬ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৮৭.৮০ শতাংশ।
    • খড়গ্রামে মহিলাদের চেয়ে ১০ হাজার পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৯৮ হাজার পুরুষ এবং ১.০৪ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৮৮.৩২ শতাংশ।
    • নবগ্রামে পুরুষের সংখ্যা মহিলার চেয়ে ছ’হাজার বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.০৭ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১২ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯০.৭৩ শতাংশ।
    • শামসেরগঞ্জে মহিলার চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৭৪ হাজার পুরুষ এবং ৮০ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৯৬.০৪ শতাংশ।
    • মালদহের ইংলিশ বাজারে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটার দু’হাজার বেশি। সেখানে ভোট দিয়েছেন ১.১৩ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৭ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯২.৬৮ শতাংশ।
    • মালদায় মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটার বেশি তিন হাজার। ভোট দিয়েছেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৬১ জন পুরুষ এবং ১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৩৪ জন মহিলা। ভোটের হার ৯৪.৬২ শতাংশ।
    • রায়গঞ্জে মহিলার চেয়ে হাজারখানেক পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৮০ হাজার পুরুষ এবং ৮১ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৯২.৯৭ শতাংশ।
    • মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে হাজারখানেক বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.২২ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২৫ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯২.৬৯ শতাংশ।
    • কার্শিয়াঙে মহিলা ভোটারের সংখ্যা চার হাজার বেশি। সেখানে ৮৭ হাজার পুরুষ এবং ৯২ হাজার মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮৩.১৪ শতাংশ।
    • দার্জিলিঙে মহিলা ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে হাজারখানেক বেশি। সেখানে ৮৪ হাজার পুরুষ এবং ৮৬ হাজার মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮২.২৭ শতাংশ।
    • মালকেন্দ্রে মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৪০০ বেশি। সেখানে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৭৮১ জন পুরুষ, ১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৩৯ জন মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৪.১৭ শতাংশ।
    • ঝাড়গ্রামে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা দু’হাজার বেশি। সেখানে ১.০৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৯ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯২.৬৩ শতাংশ।

    মহিলাদের এই বাড়তি হার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় বার্তা। এখন আর কেবল পুরুষদের পছন্দ-অপছন্দের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন জেতা সম্ভব নয়। বরং ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’ যে কোনও দলের ভাগ্য নির্ধারণে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতি উপহার দেবে বলে আশা করা যায়।

    গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত

    প্রথম দফার এই চিত্রটি কেবল একটি নির্বাচনের (Election Commission India) খবর নয়, এটি বাংলার সমাজব্যবস্থার এক ইতিবাচক পরিবর্তনের দলিল। যখন মায়েরা, বোনেরা এবং গৃহবধূরা নিজের অধিকার প্রয়োগে ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হন, তখন সেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হয়। আগামী দফার নির্বাচনগুলোতেও (Bengal Assembly Election 2026) এই নারীশক্তির জয়যাত্রা বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা বিশেষজ্ঞ মহলের। 

LinkedIn
Share