Tag: মাধ্যম

  • S-400 Triumphal: মে মাসেই ভারতে আসছে চতুর্থ এস-৪০০ মিসাইল স্কোয়াড্রন! পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েনের সম্ভাবনা, ঘুম উড়বে পাকিস্তানের

    S-400 Triumphal: মে মাসেই ভারতে আসছে চতুর্থ এস-৪০০ মিসাইল স্কোয়াড্রন! পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েনের সম্ভাবনা, ঘুম উড়বে পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের আকাশপথের নিরাপত্তাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে বড়সড় সুখবর। মে মাসেই ভারতের হাতে আসতে চলেছে চতুর্থ এস-৪০০ (S-400 Triumphal) এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেমের স্কোয়াড্রন। প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, অত্যাধুনিক এই যুদ্ধাস্ত্রটি দেশের পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েন করা হতে পারে, যা পাকিস্তান ও সংলগ্ন অঞ্চলের আকাশপথের ওপর কড়া নজরদারি (Air Defence System) চালাবে। এবার ঘুম উড়বে শত্রু রাষ্ট্রের।

    প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে নয়া মোড় (S-400 Triumphal)

    রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের এস-৪০০ চুক্তি অনুযায়ী, মোট পাঁচটি স্কোয়াড্রন ভারতের পাওয়ার কথা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহে কিছুটা দেরি হলেও, মে মাসের মধ্যেই চতুর্থ স্কোয়াড্রনটির (S-400 Triumphal) সমস্ত অংশ ভারতে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এর আগের তিনটি স্কোয়াড্রন উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তে মোতায়েন (Air Defence System) করা হয়েছে, যা চিন ও পাকিস্তান উভয় দিক থেকেই আসা যে কোনও আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।

    এস-৪০০-এর ক্ষমতা (S-400 Triumphal)

    • পাল্লা: এটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে পারে।
    • বহুমুখী লক্ষ্যভেদ: একই সাথে ড্রোন, যুদ্ধবিমান, ব্যালেস্টিক মিসাইল এবং ক্রুজ মিসাইল শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে এই সিস্টেম।
    • প্রযুক্তি: এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম (Air Defence System) হিসেবে পরিচিত, যা শত্রু রাডারকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম।

    পশ্চিম সীমান্তের গুরুত্ব

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চতুর্থ স্কোয়াড্রনটি (S-400 Triumphal) পশ্চিম ফ্রন্টে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কৌশলগত। এর ফলে পাঞ্জাব থেকে শুরু করে রাজস্থান এবং গুজরাট সীমান্ত দিয়ে শত্রুদেশের কোনও অনুপ্রবেশের (Air Defence System) চেষ্টা মুহূর্তে ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হবে। আকাশপথে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারি চালানোর ক্ষমতার কারণে ভারতের আকাশসীমা কার্যত দুর্ভেদ্য হয়ে উঠবে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পঞ্চম তথা শেষ এস-৪০০ স্কোয়াড্রনটি (S-400 Triumphal) ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতে আসার কথা। ভারতের এই ক্রমাগত সামরিক শক্তিশালীকরণ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ (Air Defence System) বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভারতীয় বায়ুসেনায় (IAF) এই আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক নয়া উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে।

  • Honeymoon Murder Case: ছোট্ট তথ্যের ভুল! মেঘালয়ে ‘হানিমুন মার্ডার’ মামলায় জামিন পেল মূল অভিযুক্ত সোনম

    Honeymoon Murder Case: ছোট্ট তথ্যের ভুল! মেঘালয়ে ‘হানিমুন মার্ডার’ মামলায় জামিন পেল মূল অভিযুক্ত সোনম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেঘালয়ের (Meghalaya) পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমা করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছিল রাজা রঘুবংশীর। সেই চাঞ্চল্যকর ‘হানিমুন মার্ডার’ মামলায় (Honeymoon Murder Case) মূল অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী, পেশ করা একটি ছোট তথ্যগত ভুলের (Clerical Error) সুযোগে জামিন পেয়ে গেল। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজার পরিবারের তরফে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (Honeymoon Murder Case)

    মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশী ও সোনম রঘুবংশী বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমায় (Honeymoon Murder Case) গিয়েছিলেন মেঘালয়ে (Meghalaya) । সেখানে একটি গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজার দেহ। পারিবারিক ব্যবসার প্রাক্তন কর্মী রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে মিলে হানিমুনের সময় রাজাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর পরিকল্পনা করে। সোনমের উপস্থিতিতেই তিনজন ভাড়াটে খুনি ওয়েই সাওডং জলপ্রপাতের কাছে দা দিয়ে রাজাকে আক্রমণ করে। তারপর তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয় একটি গিরিখাতে, বন্ধ করে দেওয়া হয় ফোনটি।

    কীভাবে মিলল জামিন?

    আদালতে জামিনের আবেদন চলাকালীন একটি চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে আসে। পুলিশি নথিপত্রে নিম্ন আদালতের আদেশে রাজার মৃত্যুর তারিখ বা সময়ের বর্ণনায় একটি করণীয় ছোট তথ্যগত ভুল ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তের আইনজীবী সেই তথ্যগত ত্রুটিকে (Honeymoon Murder Case) হাতিয়ার করে দাবি করেন যে, পুলিশের পেশ করা তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে এবং তাঁর মক্কেলকে ভিত্তিহীনভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আদালত লক্ষ্য করে যে, মামলার নথিতে থাকা সেই নির্দিষ্ট ভুলটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্বকে কিছুটা লঘু করে দিয়েছে। এর ফলে আইনি প্রক্রিয়ার নিয়ম মেনে আদালত রাজাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

    পরিবারের ক্ষোভ

    রাজার পরিবার এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতি বা নথিপত্র তৈরির সময় অসতর্কতার কারণেই একজন খুনের আসামী (Honeymoon Murder Case) এভাবে মুক্তি পেয়ে গেল। তাঁরা এই জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে (Meghalaya) যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

    আদালতে পুলিশ জানিয়েছিল, রাজাকে খুনের পর শিলং থেকে বেশ কয়েকটি রাস্তা বদল করে ইন্দোরে পৌঁছয় সোনম। সেখানে ৩-৪ দিন সে তার প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার বাড়িতে ছিল। ৩-৪ দিন পর সোনমকে ইন্দোরের দেবাসের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় রাজ। সেখানে পৌঁছে নিজের মোবাইলের সিম খুলে রাজকে দিয়েছিল সেনম। তার জন্য নতুন একটি সিমকার্ডের ব্যবস্থা করেছিল রাজ। এত কিছুর পরেও অবশ্য বেশি দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেনি সোনম।

    আইনি মহলের প্রতিক্রিয়া

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় তদন্তকারী আধিকারিকদের তাড়াহুড়ো বা খসড়া তৈরির সময় অসাবধানতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বড় ধরণের ত্রুটি থেকে যায়। এই ‘ক্ল্যারিক্যাল এরর’ বা তথ্যগত ও করণীয় ভুলের সুযোগ নিয়ে অনেক অপরাধীই আইনি সুবিধা পেয়ে যায়, যা এই ক্ষেত্রেও ঘটেছে।

    মেঘালয় (Meghalaya) পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই ভুল সংশোধন করে জোরালো তথ্য পেশ করা হবে। আপাতত জামিনে মুক্ত হয়ে রাজা রঘুবংশী ইন্দোরে ফিরে গেলেও, তার ওপর একাধিক আইনি বিধিনিষেধ জারি (Honeymoon Murder Case) করা হয়েছে।

  • West Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকে ‘টেপ’! তৃণমূলকে বিঁধল বিজেপি, পাল্টায় ‘সিংহম’

    West Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকে ‘টেপ’! তৃণমূলকে বিঁধল বিজেপি, পাল্টায় ‘সিংহম’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) চলাকালীন ফের উত্তপ্ত ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour)। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা এলাকার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএম মেশিনে বিজেপির ‘পদ্ম’ প্রতীকের ওপর সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। উল্লেখ্য, এই এলাকার তৃণমূল বিধায়ক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আগেই ভয় দেখানোর অভিযোগে সরব হয়েছিলেন আইপিএস অজয়পাল শর্মা। এবার এই ইভিএমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন দাবাং অফিসার।

    ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ (West Bengal Elections 2026)

    অভিযোগ জানিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এবং বিজেপিকে ভোট (West Bengal Elections 2026) দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পরিকল্পিতভাবে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকের ওপর ব্রাউন টেপ সেঁটে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য টুইট করে এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলে অভিহিত করেছেন। গেরুয়া শিবিরের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এলাকায় (Diamond Harbour) নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই তৃণমূল এই ধরণের ‘নোংরা রাজনীতি’র আশ্রয় নিচ্ছে। বেশ কিছু বুথে নতুন করে ভোটের (Repolling) দাবিও তুলেছে বিজেপি।

    কমিশনের ভূমিকা

    নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) এবং ফলতার বেশ কিছু বুথ থেকে অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যেখানে ইভিএম বিকৃতির প্রমাণ মিলবে, সেখানে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশনের আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট বুথগুলির প্রিসাইডিং অফিসারদের (West Bengal Elections 2026) কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।

    উত্তেজনা তুঙ্গে

    বুধবার সকাল থেকেই ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতির খবর মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। একদিকে যেমন ইভিএম (West Bengal Elections 2026) বিকৃত করার অভিযোগ উঠছে, অন্যদিকে শাসকদলের পাল্টা দাবি— ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূলের পক্ষেই জনমত দিচ্ছেন।

    তৃণমূলের পাল্টা জবাব

    তৃণমূল কংগ্রেস টেপকাণ্ডের (West Bengal Elections 2026) অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা নিশানা করা হয়েছে বিজেপিকে। বিদ্রুপ করে বলা হয়েছে, “যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তবে ‘সিংহম’ অজয় পালের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান।” উল্লেখ্য, আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে এই দফার জন্য পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে এখন থেকেই অজুহাত খাড়া করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Diamond Harbour) ও কমিশনের কর্তাদের নাম নিচ্ছেন।

  • Church Network Conversion: খ্রিস্টান মিশনারীর বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তন করার অভিযোগ! ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি আর্থিক লেনদেন, ছত্তিশগড়ে তদন্তে ইডি 

    Church Network Conversion: খ্রিস্টান মিশনারীর বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তন করার অভিযোগ! ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি আর্থিক লেনদেন, ছত্তিশগড়ে তদন্তে ইডি 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) খ্রিস্টান চার্চ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যাপক হারে ধর্মান্তকরণ এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আতশ কাচের তলায় এখন ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ নামক একটি সংস্থা। অভিযোগ, এই সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বিদেশি তহবিল ভারতে এসেছে, যার একটি বড় অংশই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তকরণের (Church Network Conversion) কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই সংস্থার কার্যপ্রণালী অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইডি এই মামলার গভীরে গিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এগুলি হল-

    বিপুল বিদেশি তহবিল (Chhattisgarh)

    ছত্তিশগড় রাজ্যে (Chhattisgarh) তদন্তে দেখা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে এই খ্রিস্টান চার্চ (Church Network Conversion) কর্তৃপক্ষের অ্যাকাউন্টে এসেছে। এফসিআরএ (FCRA) বা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের নিয়মাবলী লঙ্ঘন করে এই টাকা আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি।

    চার্চ নেটওয়ার্ক ও ‘মাল্টিপ্লিকেশন’ মডেল

    অভিযোগ, ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ (Church Network Conversion) একটি বিশেষ ‘চার্চ প্লান্টিং’ (Chhattisgarh) মডেল অনুসরণ করে। অর্থাৎ, দ্রুত হারে ছোট ছোট চার্চ তৈরি করা এবং স্থানীয় লোকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ করা। এই মডেলকে তারা ‘মাল্টিপ্লিকেশন’ বা সংখ্যাবৃদ্ধি বলে অভিহিত করে।

    টার্গেট ছত্তিশগড়ের আদিবাসী এলাকা

    বস্তার এবং সংলগ্ন আদিবাসী প্রধান জেলাগুলিতে এই সংস্থার সক্রিয়তা সব থেকে বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। দরিদ্র ও সরল আদিবাসীদের আর্থিক প্রলোভন বা অন্য কোনও উপায়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

    ইডির পরবর্তী পদক্ষেপ

    ইতিমধ্যেই ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। এই বিশাল অঙ্কের টাকার উৎস কী এবং তা কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে, সেই যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    খ্রিস্টান মিশনারির এই তদন্ত (Church Network Conversion) শুরু হতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, এই তদন্তের ফলে ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ধর্মান্তকরণ চক্রের পর্দা ফাঁস হবে। উল্লেখ্য, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনবিন্যাসের পরিবর্তনের আশঙ্কায় বিদেশি তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত এই ধরনের সংস্থাগুলির ওপর কেন্দ্রীয় সরকার গত কয়েক বছর ধরেই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

  • Kathal Shami Kebab: আমিষ স্বাদে টেক্কা দেবে কাঁঠালের কাবাব! শেফ রণবীর ব্রারের বিশেষ রেসিপিতে আনুন নতুন চমক

    Kathal Shami Kebab: আমিষ স্বাদে টেক্কা দেবে কাঁঠালের কাবাব! শেফ রণবীর ব্রারের বিশেষ রেসিপিতে আনুন নতুন চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় একটা কথা আছে গাছপাঁঠা হল এঁচোড় বা কাঁচা কাঁঠাল। এমনিতে কাবাব বলতেই সাধারণত আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে নরম তুলতুলে মাংসের কিমা দিয়ে তৈরি সুস্বাদু পদ। কিন্তু আপনি কি জানেন, নিরামিষ উপকরণ দিয়েও তৈরি করা যায় ঠিক তেমনই জিভে জল আনা শামি কাবাব? সম্প্রতি জনপ্রিয় শেফ রণবীর ব্রার (Chef Ranveer Brar) কাঁঠাল (Kathal Shami Kebab) দিয়ে তৈরি ‘শামি কাবাবে’র এক অভিনব ও সুস্বাদু রেসিপি শেয়ার করেছেন, যা স্বাদ এবং গন্ধে অনায়াসেই টেক্কা দিতে পারে আমিষ কাবাবকে। অনবদ্য স্বাদের এই খাবার সব আমিষ খাবারকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোল দিতে পারে। যাঁরা আমিষ খাবার এড়িয়ে চলেন বা কাঁঠাল পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি একটি লোভনীয় পদ। কাঁঠালকে তার আঁশযুক্ত গঠনের কারণে অনেক সময় ‘গাছপাঁঠা’ বলা হয়, যা কাবাবের কিমার মতো টেক্সচার দিতে সাহায্য করে।

    কী কী উপকরণ লাগবে (Kathal Shami Kebab)?

    শেফ রণবীর ব্রারের এই রেসিপি (Chef Ranveer Brar) অনুযায়ী আপনার প্রয়োজন:

    • কাঁচা কাঁঠাল (ছোট টুকরো করে কাটা)
    • ছোলার ডাল (ভিজিয়ে রাখা)
    • আদা-রসুন বাটা
    • গোটা গরম মশলা (এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি)
    • শুকনো লঙ্কা ও তেজপাতা
    • পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা লঙ্কা কুচি এবং ধনেপাতা কুচি
    • স্বাদমতো নুন ও ঘি/তেল

    প্রস্তুত প্রণালী

    ১. প্রথমে একটি প্রেসার কুকারে কাঁঠালের টুকরো (Chef Ranveer Brar), ছোলার ডাল, আদা-রসুন বাটা, গোটা গরম মশলা, নুন এবং সামান্য জল দিয়ে ভালো করে সেদ্ধ করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে ডাল একদম গলে না যায় আবার নরম হয়।

    ২. সেদ্ধ হয়ে গেলে জল ঝরিয়ে নিন এবং মশলাগুলো সরিয়ে রেখে কাঁঠাল ও ডালের মিশ্রণটি ভালো করে মেখে একটি মণ্ড তৈরি করুন।

    ৩. এই মিশ্রণে কুচানো পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, ধনেপাতা এবং সামান্য গরম মশলা গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। রণবীর ব্রার এতে সামান্য ঘি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন যাতে কাবাবগুলো ভেতর থেকে নরম ও মোলায়েম হয়।

    ৪. এবার হাতের তালুতে সামান্য তেল মেখে মিশ্রণটি থেকে ছোট ছোট চ্যাপ্টা কাবাবের আকার দিন।

    ৫. প্যানে সামান্য তেল বা ঘি গরম করে মাঝারি আঁচে কাবাবগুলো এপিঠ-ওপিঠ (Chef Ranveer Brar) করে লালচে করে ভেজে নিন।

    পরিবেশন

    তৈরি হয়ে গেল আপনার গরম গরম ‘কাঁঠাল শামি কাবাব’ (Kathal Shami Kebab)। পুদিনার চাটনি, পেঁয়াজের টুকরো এবং লেবুর স্লাইস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। বিকেলের জল খাবার কিংবা অতিথি আপ্যায়নে এটি একটি অনন্য পদ হতে পারে।

    শেফের মতে, রান্নার এই ‘হার্টি টুইস্ট’ বা আন্তরিক ছোঁয়া সাধারণ নিরামিষ রান্নাকেও অসাধারণ স্বাদের করে তুলতে পারে। তাই আর দেরি না করে আজই বাড়িতে চেষ্টা করে দেখুন এই রাজকীয় পদের স্বাদ মেলে কিনা।

  • Ganga Expressway: মিরাট থেকে প্রয়াগরাজ মাত্র ৬ ঘণ্টায়, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    Ganga Expressway: মিরাট থেকে প্রয়াগরাজ মাত্র ৬ ঘণ্টায়, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হল। আজ, ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) উদ্বোধন করলেন রাজ্যের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ‘গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে’র (Ganga Expressway)। প্রায় ৩৬,২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মিরাটকে পূর্বের প্রয়াগরাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব (Ganga Expressway)

    উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “এই এক্সপ্রেসওয়েটি (Ganga Expressway) উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে। এটি কেবল একটি রাস্তা নয়,এটি একটি শিল্প করিডর হিসেবেও কাজ করবে। রাস্তার দুপাশে বড় বড় লজিস্টিক পার্ক এবং শিল্পাঞ্চল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য এটি একটি বড় আশীর্বাদ হয়ে আসবে। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে চাষিরা তাদের ফসল কম সময়ে এবং কম খরচে বড় বাজারে পৌঁছে দিতে পারবেন। প্রয়াগরাজে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।”

    এক নজরে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে

    দ্রুত যাত্রা

    আগে মিরাট থেকে প্রয়াগরাজে পৌঁছতে যেখানে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন এই এক্সপ্রেসওয়ের (Ganga Expressway) মাধ্যমে সেই দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে মাত্র ৬ ঘণ্টায়।

    ১২টি জেলা সরাসরি যুক্ত

    নয়া এক্সপ্রেসওয়েটি (Ganga Expressway) মিরাট থেকে শুরু হয়ে হাপুড়, বুলন্দশহর, আমরোহা, সম্ভল, বদায়ু, শাহজাহানপুর, হারদোই, উন্নাও, রায়বেরেলি এবং প্রতাপগড় হয়ে প্রয়াগরাজে গিয়ে শেষ হয়েছে। এর ফলে উপকৃত হবে ৫১৯টিরও বেশি গ্রাম।

    যুদ্ধবিমানের রানওয়ে

    শাহজাহানপুরে একটি ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জরুরি বিমান অবতরণ কেন্দ্র (Air Strip) তৈরি করা হয়েছে। জরুরি অবস্থায় বা যুদ্ধের সময় এখানে ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার জেট অনায়াসেই ওঠানামা করতে পারবে।

    অত্যাধুনিক নিরাপত্তা

    এক্সপ্রেসওয়ের (Ganga Expressway) নিরাপত্তার জন্য প্রতি কিলোমিটারে সোলার-চালিত হাই-ডেফিনিশন এআই (AI) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মাল্টি-লেন ফ্রি-ফ্লো টোল সিস্টেমের কারণে যানবাহনকে টোল দেওয়ার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের (Ganga Expressway) উদ্বোধনের ফলে ভারতের মোট এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন উত্তরপ্রদেশের দখলে, যা রাজ্যটিকে দেশের অন্যতম আধুনিক পরিকাঠামো সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করেছে। উত্তরপ্রদেশের উন্নয়ন এখন দেশজুড়ে পরিণত হয়েছে বিশেষ মডেলে।

  • Gujrat: গুজরাটের গোধরা পুরসভার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন হিন্দু মহিলা, নির্দল প্রার্থী অপেক্ষাবেন নৈনেশভাই সোনির বাজিমাত

    Gujrat: গুজরাটের গোধরা পুরসভার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন হিন্দু মহিলা, নির্দল প্রার্থী অপেক্ষাবেন নৈনেশভাই সোনির বাজিমাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের (Gujrat) স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলে এক অভূতপূর্ব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র ফুটে উঠল। গোধরা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে, যেখানে ভোটারদের ১০০ শতাংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী, সেখান থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন নির্দল হিন্দু নারী প্রার্থী অপেক্ষাবেন নৈনেশভাই সোনি (Apekshaben Naineshbhai Soni)। এই জয় রাজনীতির আঙ্গিনায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।

    ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক কাঠামো (Apekshaben Naineshbhai Soni)

    গোধরায় (Gujrat) ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনের এই ফলাফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে। গোধরা শহরটি ২০০২ সালের সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে বারবার সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের জন্য সংবাদ শিরোনামে এসেছে। কিন্তু সেই শহরেই একটি সম্পূর্ণ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় একজন হিন্দু প্রার্থীর (Apekshaben Naineshbhai Soni) জয় ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক কাঠামোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে লক্ষ্য করা গিয়েছে।

    ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে আশীর্বাদ

    অপেক্ষাবেনের (Apekshaben Naineshbhai Soni) এই জয় কেবল একটি রাজনৈতিক জয় নয়, বরং গোধরার সাধারণ মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার জয়। স্থানীয় ভোটারদের মতে, কোনও রকম ভাবে ধর্মের নিরিখে নয়, বরং প্রার্থীর দক্ষতা এবং এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেখে ভোট দিয়েছেন। জয়লাভের পর উচ্ছ্বসিত অপেক্ষাবেন বলেন, “আমি এই এলাকার মানুষের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। এলাকাবাসীরা যেভাবে আমাকে আপন করে নিয়েছেন এবং ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে আশীর্বাদ করেছেন, তা আমাকে উন্নয়নের কাজ করার দ্বিগুণ উৎসাহ জোগাবে।”

    সাম্প্রদায়িক তকমা ঘুচবে?

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ওয়ার্ডে (Gujrat) কোনও বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের (Apekshaben Naineshbhai Soni) তুলনায় সাধারণ মানুষ নির্দল প্রার্থী অপেক্ষাবেনের ওপরই বেশি ভরসা দেখিয়েছেন। এই জয় গোধরার ললাট থেকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের তকমা মুছতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

    প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল জানিয়েছে, গুজরাটের এই ফলাফল প্রমাণ করে যে উন্নয়নের প্রশ্নে ধর্ম বা জাতি আজ আর বাধার সৃষ্টি করতে পারে না।

  • WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, দ্বিতীয় দফায় (Second Phase Polling) ভোট হচ্ছে ১৪২টি আসনে। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটদান। বিভিন্ন বুথে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। নির্বাচনকে (WB Assembly Election 2026) ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হচ্ছে আজ, বুধবার ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    কতজন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করবেন?

    এই দফায় ৭টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ ও ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা ভোটার এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এর সঙ্গে জুড়বে ট্রাইবুনালে ‘পাশ’ করা আরও ১,৪৬৮ নাম। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী লড়ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। সবচেয়ে কম প্রার্থী লড়ছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) আসনে। সেখানে প্রার্থী সংখ্যা ৫।

    কতজন প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন ১৪৪৮ জন। মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি। তার মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিপিএম প্রায় ১০০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুজন রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাতে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

    বুথের সংখ্যা কোথায় কত

    দ্বিতীয় দফার ভোটে বুথের সংখ্যা বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি, বনগাঁয় ১০২৮টি, বসিরহাটে ২০৫২টি, বিধাননগরে ৮৮৩টি, ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি, বারুইপুরে ২৮২৫টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ২৪৩১টি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২০৮৭টি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ২৮৪৪টি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ২২৯২টি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৫৬৮টি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ৪০৪১টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯৫টি, কলকাতায় ৫১৭২টি।

    কোন কেন্দ্রে কতজন করে প্রার্থী?

    দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। ১৫ জন করে প্রার্থী নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে, ১৪ জন করে প্রার্থী দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, ডোমজুড়জু কেন্দ্রে। ১৩ জন করে প্রার্থী বাদুড়িয়া, হাবড়া, বিজপুর, জগদ্দল, রাজারহাট-নিউটাউন, রায়দিঘি, জয়নগর (এসসি), কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, মানিকতলা, হাওড়া উত্তর, আমতা কেন্দ্রে। ১২ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), আমডাঙা, খড়দা, রাজারহাট-গোপালপুর, বারাসত, মগরাহাট পশ্চিম, বেহালা পূর্ব, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, হাওড়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, তারকেশ্বর কেন্দ্রে। ১১ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), পানিহাটি, কামারহাটি, বসিরহাট দক্ষিণ, কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার (এসসি), বারুইপুর পূর্ব (এসসি), টালিগঞ্জ, মেটিয়াব্রুজ, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হরিপাল কেন্দ্রে। ১০ জন করে প্রার্থী বাগদা (এসসি), বরাহনগর, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, বারুইপুর পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, শিবপুর, সাঁকরাইল (এসসি), চুঁচুড়া, জাঙ্গিপাড়া, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম কেন্দ্রে। ৯ জন করে প্রার্থী করিমপুর, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, অশোকনগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, ব্যারাকপুর, দমদম উত্তর, দমদম, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি), গোসাবা (এসসি), কুলতলি (এসসি), কুলপি, রাসবিহারী, উলুবেড়িয়া উত্তর (এসসি), উদয়নারায়ণপুর, চাঁপাদানি, সিঙ্গুর, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, খানাকুল, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর (এসসি), মঙ্গলকোট কেন্দ্রে। ৮ জন করে প্রার্থী রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বাসন্তী (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব (র্বএসসি), সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (এসসি), জগৎবল্লভপুর, চণ্ডীতলা, পুরশুড়া, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর, গলসি (এসসি) কেন্দ্রে। ৭ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর উত্তর, পাথরপ্রতিমা, সাগর, বজবজ, পাঁচপাঁলা, উত্তরপাড়া, বলাগড় (এসসি), ধনেখালি (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), কালনা (এসসি), মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। ৬ জন করে প্রার্থী ফলতা, আরামবাগ (এসসি), আউশগ্রাম (এসসি) কেন্দ্রে। ৫ জন প্রার্থী গোঘাট (এসসি) কেন্দ্রে।

  • WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (WB Assembly Polls 2026 Second Phase)। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তার জন্য একাধিক কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন ৩৮ হাজার ২৯৭ রাজ্য পুলিশও। নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম।

    কোথায় কত বাহিনী…

    দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— মোট ৫০৭ কোম্পানি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকবে ১৬০ কোম্পানি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।

    আরও বাহিনী…

    হাওড়া জেলার হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ওই জেলার রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকবে ১২৭ কোম্পানি। হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ভোট-দায়িত্ব সামলাবে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব বর্ধমানে মোট ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোট বুথের সংখ্যা ১৯৫টি। বাহিনী থাকবে ১৩ কোম্পানি। কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন।

    আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ

    দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে কমিশন। প্রথম দফার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ২৬ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও। ব্যারাকপুরে নিয়ে আসা হল অতিরিক্ত ৪ জন পুলিশ অফিসারকে। অন্যদিকে, হাওড়া-কৃষ্ণনগরে ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। বারাসাত-বসিরহাট-বারুইপুরে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। পূর্ব বর্ধমান, চন্দননগর, হাওড়া গ্রামীণ, হাওড়া শহরে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসার। এছাড়াও ডায়মন্ডহারবারে অতিরিক্ত ৩ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। আর সুন্দরবন ও বনগাঁয় অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

    বাহিনীর বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর

    বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়েস্টবেঙ্গল সেক্টর ও রাজ্য ফোর্স কোঅর্ডিনেটর সিআরপিএফের আইজি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন। ভোটের দিন কোনও সমস্যা হলে বা অভিযোগ থাকলে হেল্পলাইন নম্বরে জানানো যাবে। দুটো মোবাইল ও একটি ল্যান্ড লাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নম্বর দুটি হল- ৮৪২০২৭২১০১, ৮৪২০২৭২৩৪৩ ও ল্যান্ড লাইন নম্বরটি হল- ০৩৩২৩৬৭১১১৭। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘প্রথম দফার থেকেও বেশি ভোট পড়বে দ্বিতীয় দফায়। নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ ভোটই হবে দ্বিতীয় দফাতেও।’’

  • WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা পরেই শেষ দফার নির্বাচন (WB Election 2026)। ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিন এক নজরে দুর্নীতির (West Benagl Scam) ইতিকথা। ছোটবেলায় আমরা সবাই বর্ণপরিচয় পড়েছি। ‘ক’-এ কলা, ‘খ’-এ খই। গত ১৫ বছরে বাংলার শাসকদল আমাদের এক নতুন ‘বর্ণপরিচয়’ শিখিয়েছে। এই বর্ণপরিচয় আদর্শলিপি নয়, বরং দুর্নীতির এক কলঙ্কিত ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের দেওয়ালে দেওয়ালে সেই নতুন অ-আ-ক-খ লেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি বর্ণের সাথে জড়িয়ে আছে আপনার হকের টাকা চুরির গল্প।”

    চুরির “তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ 

    “কয়লা থেকে গরু, বালি থেকে চাকরি, এমনকি গরিবের হকের রেশন বা মিড-ডে মিলের চাল—কোনও কিছুই বাদ যায়নি। আমরা ভাবতাম দুর্নীতি বোধহয় দু—একটা দফতরে হয়, কিন্তু না! এরা তো রীতিমতো গবেষণার স্তরে নিয়ে গেছে বিষয়টাকে। ‘ক’ থেকে শুরু করে ‘হ’ পর্যন্ত প্রতিটি অক্ষরের পিছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি।

    ‘তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ দেখলে দেখা যাবে বর্ণমালার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে আপনার পকেট কাটা হয়েছে আর সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ চুরি করা হয়েছে। আজকের এই ভিডিও কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং খোদ বাংলার বর্তমান অবস্থার এক নগ্ন দলিল।

    ক-এ: কয়লা চুরি ও কাটমানি (WB Election 2026)

    শুরুটা করা যাক ‘ক’ দিয়ে। বাংলার খনি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার কয়লা পাচার হয়ে গেল, আর সেই কালো কারবারের ধোঁয়া গিয়ে পৌঁছাল খোদ রাঘববোয়ালদের দরজায়। শুধু কি কয়লা? যেকোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা থেকে নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘কাটমানি’ রাখা এখন এক অলিখিত নিয়ম। আপনার বাড়ির ছাদ হোক বা এলাকার রাস্তা—নেতার কাটমানি না দিলে কাজ শুরু হওয়া অসম্ভব। ভোটে (WB Election 2026) কতটা প্রভাব পরে তাই এখন দেখার।

    খ-এ: খাদ্য বা রেশন দুর্নীতি (West Benagl Scam)

    খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার, কিন্তু সেই গরিবের রেশনেও থাবা বসাতে ছাড়েনি এরা। লকডাউনের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার কুইন্টাল চাল আর গম কালোবাজারি হয়েছে। আজ রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী কেন জেল খেঁটে এসেছেন? কারণ তিনি আপনার থালার ভাতটা নিয়ে কোটি কোটি টাকার ডিল করেছেন।

    গ-এ: গরু পাচার

    বাংলার (WB Election 2026) সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার গরু পাচার হয়ে ভিনদেশে চলে গেল, আর তার বিনিময়ে ফুলে-ফেঁপে উঠল একশ্রেণীর নেতার ব্যাংক ব্যালেন্স। সীমান্তের ওপারে গরু পাঠাতে গিয়ে যারা মানুষের সুরক্ষাকে বাজি রেখেছে, তারা কি সত্যিই আপনার ভালো চাইবে? গ-এ গরু নয়, বরং ‘গ’ দিয়ে বাংলার কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক চোরাচালানের (West Benagl Scam)  গল্প লেখা হয়েছে।

    ঘ-এ: ঘাট ও বালি মাফিয়া

    বাংলার নদীগুলো আজ হাহাকার করছে। রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে নদী থেকে বালি আর পাথর তুলে নিয়ে নদীগর্ভ উজাড় করে দিচ্ছে বালি মাফিয়ারা। গ্রামের পর গ্রাম ধসে যাচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, আর এই ঘাটগুলো থেকে সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ঘ-এ ঘাট আজ মাফিয়াদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    চ-এ: চাকরি চুরি

    এটি সম্ভবত বাংলার আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। ‘চ’ দিয়ে আজ চাতক পাখির মতো হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী রাজপথে বসে আছে। কারণ তাদের যোগ্যতার চাকরিটা কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে নেতার ঘনিষ্ঠদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মেধাকে হত্যা করে টাকার জোরে অযোগ্যদের চেয়ারে বসানোই হলো এদের আসল সাফল্য।

    ছ-এ: ছাত্রভর্তিতে তোলাবাজি

    পড়াশোনার মন্দির আজ তোলাবাজির আখড়া। কলেজে ভর্তি হতে গেলেও ছাত্র পরিষদের দাদাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। গরিব মেধাবী ছাত্রটি আজ তার স্বপ্নের বিষয়ে পড়তে পারছে না, কারণ তার কাছে সেই ‘ছ’-এ ছাত্রভর্তির তোলাবাজির টাকা নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন চরম নির্লজ্জতা কি আগে কেউ দেখেছে?

    জ-এ: জব কার্ড কেলেঙ্কারি

    গরিব মানুষের একশো দিনের কাজের টাকা নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তার নাম ‘জ’ দিয়ে জব কার্ড কেলেঙ্কারি (West Benagl Scam) । মৃত মানুষের নামে জব কার্ড বানিয়ে কিংবা কাজ না করিয়েই টাকা তুলে নিয়েছে শাসকদলের নেতারা। আজ যে সাধারণ মানুষ একশো দিনের কাজের টাকা পাচ্ছেন না, তার দায় কি ওই তৃণমূলী মেম্বার আর প্রধানদের নয়, যারা দুর্নীতির পাহাড় বানিয়ে কেন্দ্রীয় টাকা আটকে যাওয়ার পথ করে দিয়েছে?

    ট-এ: টেট (TET) দুর্নীতি

    ‘ট’ দিয়ে আজ বাংলার ঘরে ঘরে কান পাতলে শোনা যায় টেট দুর্নীতির হাহাকার। ওএমআর শিট (OMR sheet) কারচুপি করে রাতারাতি ফেল করা প্রার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়েও অনেকে আজ চাকরি করছে, আর যারা দিনরাত এক করে পড়াশোনা করেছিল, তারা আজ গান্ধী মূর্তির পাদদেশে চোখের জল ফেলছে। টেট আজ নিয়োগের পরীক্ষা নয়, বরং টাকা কামানোর মেশিনে পরিণত হয়েছে।

    ঠ-এ: ঠিকাদারি ও সিন্ডিকেট

    যেকোনও সরকারি নির্মাণ মানেই তৃণমূলী সিন্ডিকেটের রমরমা। ‘ঠ’ দিয়ে ঠিকাদারি আজ আর মেধার লড়াই নয়, বরং কে কত বড় নেতার কাছের লোক তার প্রতিযোগিতা। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা বা ব্রিজ তৈরি হচ্ছে, আর সেই মুনাফার টাকা ভাগ হয়ে যাচ্ছে ভাইপো থেকে পাড়ার মেজো নেতা—সবার মধ্যে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স না দিলে বাংলায় একটা ইঁটও গাঁথা সম্ভব নয়।

    ড-এ: ডিয়ার লটারি দুর্নীতি

    সাধারণ মানুষের (WB Election 2026) ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নাম লটারি। ‘ড’ দিয়ে এই ডিয়ার লটারি আজ কালো টাকা সাদা করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। আমরা দেখছি বারবার একই প্রভাবশালী পরিবারের লোক লটারিতে কোটি টাকা জিতছে! এটা কি নিছক ভাগ্য, নাকি আপনার ঘাম ঝরানো পয়সা পকেটস্থ করার এক পরিকল্পিত নীল নকশা? লটারির নেশায় সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, আর নেতারা কোটিপতি হচ্ছে।

    ত-এ: ত্রিপল ও ত্রাণ চুরি

    মানবিকতাও এদের কাছে ব্যবসার মাধ্যম। আমফানের সময় যখন মানুষের মাথার ছাদ উড়ে গিয়েছিল, তখন ‘ত’ দিয়ে সেই সামান্য ত্রিপলটুকুও চুরি করতে ছাড়েনি এরা। রিলিফের চাল থেকে শুরু করে ক্ষতিপূরণের টাকা—সবই চলে গেছে তৃণমূলী নেতাদের আত্মীয়স্বজনদের একাউন্টে। বিপদের দিনে যারা মানুষের হকের ত্রাণ চুরি করে, তারা মানুষের শত্রু ছাড়া আর কিছু নয়।

    ন-এ: নিয়োগ দুর্নীতি (পুরসভা)

    স্কুলের পর এবার নজর পুরসভার দিকে। ‘ন’ দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি আজ পুরসভাগুলোতেও থাবা বসিয়েছে। অযোগ্যদের চাকরি দিয়ে শহর বা মফস্বলের প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীরা আজও হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নেতার প্যাডে নাম থাকা ব্যক্তিরা সরকারি চেয়ারে বসে জনগণের টাকায় মৌজ করছে।

    প-এ: প্রাথমিকে দুর্নীতি

    শিক্ষার একদম গোড়াতেই বিষ মিশিয়ে দিয়েছে এই সরকার। ‘প’ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যে নির্লজ্জ কারচুপি আমরা দেখলাম, তা গোটা দেশের সামনে বাংলার মাথা হেঁট করে দিয়েছে। টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আগামীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব। আজ যে শিশুরা প্রাথমিক স্কুলে যাচ্ছে, তারা কী শিখবে? যখন তাদের শিক্ষকরাই মেধার বদলে টাকার জোরে চাকরি পেয়েছে!

    ব-এ: বালি পাচার

    বাংলার নদীগুলো আজ কঙ্কালসার (West Benagl Scam) । ‘ব’ দিয়ে বালি পাচার আজ এক সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। কোনো রয়্যালটি ছাড়াই রাতের অন্ধকারে শয়ে শয়ে ট্রাক নদী থেকে বালি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলা আর কয়েকশ কোটি টাকার এই পাচারকাণ্ডের পিছনে রয়েছে স্থানীয় নেতা আর প্রশাসনের এক গভীর আঁতাত। বালি চুরি করে নদীগর্ভ সাবাড় করা হচ্ছে, আর নেতাদের পকেট ভরাট হচ্ছে।

    র-এ: রেশন চুরি

    মানুষের অভাব নিয়ে ব্যবসা করাই এদের দস্তুর। ‘র’ দিয়ে রেশন চুরির জাল ছড়িয়ে আছে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত। গরিবের ডিজিটাল রেশন কার্ডের চাল-গম খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ যখন ডিলারের কাছে যাচ্ছে, তখন বলা হচ্ছে “ওপর থেকে স্টক আসেনি”। আপনার পেটের ভাত যারা কেড়ে নেয়, তাদের ক্ষমা করার জায়গা কোথায়?

    ম-এ: মিড-ডে মিল তছরূপ

    এরা এতটাই নিচে নেমেছে যে শিশুদের খাবারটুকুও ছাড়েনি। ‘ম’ দিয়ে মিড-ডে মিলের টাকায় কখনো রাজনৈতিক সভা করা হচ্ছে, কখনো আবার সেই টাকা তছরূপ করে নেতাদের পকেট গরম করা হচ্ছে। বাড়ন্ত বয়সের বাচ্চাদের পাতে ডাল-ভাতের বদলে জুটেছে চরম দুর্নীতি। শিশুদের পুষ্টি নিয়ে যারা খেলা করে, তাদের থেকে নিষ্ঠুর আর কে হতে পারে?

    স-এ: সিন্ডিকেট রাজ

    বাংলায় (WB Election 2026) আজ আইনের শাসন নয়, চলছে ‘স’ দিয়ে সিন্ডিকেট রাজ। আপনি নিজের জমিতে বাড়ি করবেন? সিন্ডিকেটের থেকে মাল নিতে হবে। আপনি ছোট ব্যবসা করবেন? সিন্ডিকেটকে তোলা দিতে হবে। এই সিন্ডিকেট আজ বাংলার অর্থনীতির গলা টিপে ধরেছে। কোনও বড় শিল্প এখানে আসতে ভয় পায় কেবল এই সিন্ডিকেট আর তোলাবাজদের ভয়ে।

    শ-এ: শিক্ষা দুর্নীতি ও সারদা

    ‘শ’ দিয়ে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের সর্বস্বান্ত হওয়ার ইতিহাস লেখা আছে। একদিকে সারদার মতো চিটফান্ডে সাধারণ মানুষের রক্তজল করা টাকা লোপাট, আর অন্যদিকে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিলামে তোলা। পর্ষদ সভাপতি থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী—সবাই আজ জেল খাটছে। মেধা আজ রাজপথে কাঁদছে, আর দুর্নীতি আজ রাজপ্রাসাদে অট্টহাসি হাসছে।

    হ-এ: হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক টাকা লুট

    সবশেষে ‘হ’—হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক বা একশো দিনের কাজের টাকা লুট। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের দাম এরা নর্দমায় ছুড়ে ফেলেছে। ভুয়া মাস্টার রোল বানিয়ে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। আজ যখন কেন্দ্র হিসাব চাইছে, তখন এরা মুখ লুকাচ্ছে আর মাশুল গুনছে বাংলার সাধারণ শ্রমিকরা। ‘হ’-এ হাহাকার আজ বাংলার গ্রামে গ্রামে।

    এটাই আজকের বাংলার বাস্তব ‘বর্ণপরিচয়’ (West Benagl Scam)। আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম ‘অজগরটি আসছে তেড়ে’, আজ বাংলার প্রতিটি প্রান্তে সেই অজগরের মতো দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে গিলে খেতে আসছে। ক-থেকে-হ, বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষর আজ কলঙ্কিত। যারা আপনার সন্তানের শিক্ষার অধিকার বিক্রি করে দেয়, যারা আপনার ঘরের চাল চুরি করে, কিংবা যারা আপনার সারা জীবনের জমানো টাকা লটারির নামে বা চিটফান্ডের নামে লুটে নেয়—তারা কি সত্যিই আপনার বন্ধু?”

    যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক

    এই অ-আ-ক-খ দিয়ে কোনো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়। এই বর্ণপরিচয় কেবল ধ্বংস আর অন্ধকারের কথা বলে। আজ বাংলার (WB Election 2026) যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক, বাংলার মেধাবীরা রাজপথে অনশনরত, আর বাংলার কোষাগার দেউলিয়া। দেড় হাজার টাকার ভাতার মুলো ঝুলিয়ে যারা আপনার এই চরম ক্ষতিকে আড়াল করতে চাইছে, তাদের চিনে নেওয়ার সময় এসেছে। মনে রাখবেন, আজ যদি আপনি এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আওয়াজ না তোলেন, তবে আপনার আগামী প্রজন্ম আপনাকে ক্ষমা করবে না। এখন এই সব কিছুর প্রভাব ভোটে কতটা পরে তাই এখন দেখার।

LinkedIn
Share