Tag: মাধ্যম

  • ISI agent Rana Rauf: হাবড়ায় ধৃত পাকিস্তানি চর রানার নোটবুকে ৬ পাক এজেন্টের নাম! স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ছক?

    ISI agent Rana Rauf: হাবড়ায় ধৃত পাকিস্তানি চর রানার নোটবুকে ৬ পাক এজেন্টের নাম! স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ছক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে ধৃত সন্দেহভাজন পাকিস্তানি চর রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। তদন্তকারীদের দাবি, রানার নোটবুক ও ডায়েরি থেকে অন্তত ৬ জন আন্তর্জাতিক স্তরের পাক এজেন্টের নাম মিলেছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জন নেপালের এবং ১ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সেনা ছাউনি, বিএসএফ ক্যাম্প, গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন, রেলপথ এবং সামরিক পরিকাঠামোর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বিদেশে থাকা যোগাযোগকারীদের কাছে পাঠাত রানা। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে ফোর্ট উইলিয়ামের ম্যাপ, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের অভিযোগও। বিএসএফ ও ভারতীয় সেনার গতিবিধি এবং ভারতীয় রেলের নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ।

    মোবাইল ভেঙেও রক্ষা হল না

    তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের তথ্য মুছে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল রানা। নেপালে গিয়ে ব্যবহৃত মোবাইলটি ভেঙে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে। তবে তার কাছে থাকা দুটি সিমকার্ড নষ্ট করতে পারেনি সে। সেই সিমকার্ড এখন তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। এদিকে রানার নোটবুক ও ডায়েরি পরীক্ষা করতেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে। সেখানে কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি এবং হারুণ সফদার নামে পাঁচ ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে বলে এসটিএফ সূত্রে দাবি। তাঁরা নেপালে অবস্থান করছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা পাভেল নামে আরও এক সন্দেহভাজন পাক এজেন্টের নামও উঠে এসেছে।

    নেপাল হয়ে বাংলাদেশ যাওয়ার ছক

    তদন্তকারীদের দাবি, কাঠমান্ডুতে একটি গোপন বৈঠকের পর বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। হাবড়া থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সেখান থেকে নেপালের কাঠমান্ডু যাওয়ার পরিকল্পনাও তার ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের যশোরে পাভেল নামে ওই সন্দেহভাজন এজেন্ট রানার জন্য একটি নতুন মোবাইল নিয়ে অপেক্ষা করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই ফোনে পুরনো সিমকার্ড ঢুকিয়ে ফের নেপাল ও পাকিস্তানে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা ছিল বলে এসটিএফ-এর অনুমান।

    ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে ভারতীয় নথি

    মঙ্গলবার রাতে হাবড়ার চোংদা মোড় থেকে রানাকে আটক করে এসটিএফ। তপসিয়ার বাসিন্দা ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে নিজের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণের জন্য আধার ও ভোটার কার্ডও দেখিয়েছিল সে। কিন্তু তার পরিচয়, এনআরসি এবং নথিপত্র সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। দীর্ঘ জেরার পর শেষ পর্যন্ত রানা নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক বলে স্বীকার করে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তার কাছ থেকে পাকিস্তানের পাসপোর্টও উদ্ধার হয়েছে। নগদ মাত্র ৩৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    আরও এক সঙ্গী গ্রেফতার

    রানাকে সাহায্য করার অভিযোগে কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতার পূর্ব দিকের আরও দুই বাসিন্দা রানার চরবৃত্তির কাজে সহযোগিতা করত। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রানা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকার ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে নেপালে থাকা যোগাযোগকারীদের কাছে অ্যাপের মাধ্যমে পাঠাত। পরে সেই তথ্য পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কাছে পৌঁছত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার আশঙ্কা?

    রানাকে ঘিরে তদন্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ১৫ অগাস্টকে কেন্দ্র করে। বারাসত আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রসেনজিৎ রানা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের দিন নাশকতার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আদালতে সরকারি পক্ষের তরফে এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, রানার মোবাইলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার একাধিক নম্বর ছিল। ওই নম্বরগুলির সঙ্গে চ্যাটও হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে গ্রেফতারের আগে বহু চ্যাট এবং নম্বর মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর দাবি, দুই পাকিস্তানি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে ভারতে ঢুকে কলকাতায় অবস্থান করছিল বলে তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের গতিবিধির মধ্যে কলকাতা ও আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানও ছিল। মুছে দেওয়া নথি ও ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

    আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত

    রানার নোটবুক থেকে নেপাল ও বাংলাদেশের সন্দেহভাজন এজেন্টদের নাম উঠে আসায় তদন্তের পরিধি এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছেছে। নেপাল ও বাংলাদেশে থাকা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে রানার যোগাযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তাঁরা কার হয়ে কাজ করত এবং সংগৃহীত তথ্য কোথায় পাঠানো হত—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে থাকা এই সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল ও বাংলাদেশ সরকারকেও তথ্য জানানো হচ্ছে। রানাকে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। তার জেরা এবং উদ্ধার হওয়া নথি, সিমকার্ড, ডিজিটাল যোগাযোগ ও নোটবুকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চক্রের আরও সদস্য এবং তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

  • Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি নয়া দিশা দেখাচ্ছে। বাদ নেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্র! একের পর এক সাফল্যে দেশ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এখনও কয়েকটি জায়গায় হোঁচট খেতে হচ্ছে! রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভারতে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ অঙ্গদান! বিশেষত রোগীর ব্রেন ডেথ হওয়ার পরে দেহদান নিয়েই চলে নানান জটিলতা! অগাস্ট মাসে বিশ্ব জুড়ে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলে। ভারতেও পালন করা হয় ন্যাশনাল অরগ্যান ডোনেশন ডে! আর সেই উপলক্ষে একাধিক কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে প্রশাসনিক জটিলতা। বিশেষত ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদানের ক্ষেত্রে সেই জটিলতা আরও বাড়ে।

    কোন জটিলতায় পিছিয়ে যাচ্ছে অঙ্গদান?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর ব্রেন ডেথ হলে, অর্থাৎ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ শেষ হলে, তাকে মৃত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তারপরেও সেই রোগীর শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভারের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। কিন্তু মস্তিষ্কের মৃত্যুর কারণে রোগীর বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত তার অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা জরুরি। এক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দেরি হয়ে গেলে সেই ব্যক্তির অঙ্গ অন্য রোগীর প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় না। বিশেষত হৃদপিণ্ড, চোখের মতো অঙ্গ দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। কিন্তু উপযুক্ত যোগাযোগ ও তৎপরতার অভাবে অনেক সময়েই অঙ্গদান‌ হচ্ছে না।

    একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাব

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে, তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই সময় অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা এক সরকারি অফিস থেকে আরেক সরকারি অফিস ছুটোছুটি করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। এক ছাদের তলায় সহজে অঙ্গদানের সুযোগ ও পরিকাঠামো থাকলে তবেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। অনেকেই জানাচ্ছেন, অঙ্গদানে ইচ্ছুক থাকলেও, হাসপাতালকে জানানোর পরেও অঙ্গদান হয় না। বিশেষত ছুটির দিনে সরকারি জটিলতা আরও বাড়ে। এর ফলে অঙ্গদান সম্ভব হয় না। অনেক সময় রোগীর পরিবার দ্রুত অনুমতি দেওয়ার পরেও একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে অঙ্গদান ব্যর্থ হয়‌।

    মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় গুরুত্বপূর্ণ

    তাছাড়া মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর আগে স্বেচ্ছায় অঙ্গদানে আগ্রহী। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার অঙ্গদানে ইচ্ছুক। কিন্তু সেক্ষেত্রেও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ এগোতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত তার শরীরের একাধিক অঙ্গ সংরক্ষণ করলে পরবর্তীতে সেটা প্রতিস্থাপনের কাজে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু মরণোত্তর অঙ্গদান পর্বের প্রশাসনিক জটিলতার জেরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেহ চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ানোর কাজ ছাড়া, অন্য কোনও ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায় না।

    কেন অঙ্গদানে বাড়তি গুরুত্ব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে। সেই উন্নতিকে কাজে লাগাতে মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। একাধিক রোগীর সুস্থতার জন্য অঙ্গদান অত‌্যন্ত জরুরি। ভারতের একাধিক মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে চোখ, লিভার, কিডনি, ত্বক এমনকি হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন হয়। একজন রোগীর দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপিত করে, সে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন। কিন্তু অঙ্গদানে ঘাটতির জন্য সেই সুস্থতার পথে বাধা আসে। ঠিকমতো অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা দ্রুত প্রতিস্থাপনের বন্দোবস্ত না থাকার জেরে, প্রতি বছর এদেশে বহু রোগী মারা যান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, লিভার, কিডনি কিংবা হৃদপিণ্ডের জটিল সমস্যা নিয়ে প্রতি বছর কয়েক হাজার রোগী অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ঠিকমতো যথেষ্ট অঙ্গদাতা না থাকার জেরে রোগীর ভোগান্তি বাড়ে। এমনকি প্রাণ সংশয়ও হয়।‌ অন্যান্য দেশের নিরিখে ভারতে অঙ্গদানের হার কম। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সব মহলে এই নিয়ে আরো বেশি সচেতনা জরুরি।

    অঙ্গদানের জটিলতা কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তিনটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই অঙ্গদানের হার বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি দেশ জুড়ে সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের হার বাড়বে।

    জনসচেতনতার হার বাড়ানো দরকার!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানের প্রবণতা বাড়াতে এই নিয়ে লাগাতার সচেতনতা প্রয়োজন। ব্রেন ডেথ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, কখন একজন রোগীর ব্রেন ডেথ ঘোষণায় করা হবে, সে সম্পর্কে সচেতনতা নেই। চিকিৎসায় কোনও সাড়া না দিলে, মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ শক্তি হারালে তবেই ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। তখন তাঁর অঙ্গদান করলে, একাধিক রোগী সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন, এই সম্পর্কে জনসচেতনতা জরুরি। কিন্তু এই নিয়ে ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক হাসপাতালে এই নিয়ে আলাদা বিভাগ প্রয়োজন। রোগীর পরিবারকে এই সম্পর্কে বোঝানো প্রয়োজন। তাঁদের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেই তাঁদের এই সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। পরিবারের সম্মতি পেলে তবেই বাকি কাজ করা সম্ভব হবে। কারণ, হৃদপিণ্ড সক্রিয় থাকলেও মস্তিষ্কের মৃত্যু হতে পারে। আর মস্তিষ্কের মৃত্যু হলে আর বাঁচানো সম্ভব হয় না। এটা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের স্পষ্ট ধারণা নেই।

    হাসপাতাল ও প্রশাসনের অন্যান্য মহলে সমন্বয়!

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মূল সমস্যা সরকারি মহলে জটিলতা। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই জটিলতা কমাতেই হবে। কারণ অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হলে অঙ্গদান ব্যর্থ হবে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের যাতে সহজেই দ্রুত যোগাযোগ হয় এবং প্রয়োজনীয় রোগীরা যাতে অঙ্গ পেতে পারেন, সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষত ছুটির দিনেও যাতে কাজ আটকে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আলাদা এই বিশেষ দফতরে যাতে রুটিন মাফিক কর্মী উপস্থিত থাকেন, সেদিকেও নজরদারি জরুরি।

    অঙ্গ পরিবহণে বাড়তি জোর!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অঙ্গ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্র্যান্সপ্লান্ট সেন্টারে পৌঁছনো জরুরি। না হলে অঙ্গদান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। তাই প্রয়োজন অঙ্গ পরিবহণের পরিকাঠামো। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অঙ্গ নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে পারে না। সেদিকে স্বাস্থ্য দফতরের পাশপাশি অন্যান্য দফতরের খেয়াল রাখতে হবে। তবেই এত বড় বিষয়টি সফল হবে।

  • West Bengal STF: রেল-সেনার গতিবিধিতে নজর, বাংলাদেশে পালানোর ছক! রাজ্য এসটিএফ-এর জালে পাক নাগরিক সহ ২

    West Bengal STF: রেল-সেনার গতিবিধিতে নজর, বাংলাদেশে পালানোর ছক! রাজ্য এসটিএফ-এর জালে পাক নাগরিক সহ ২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে পশ্চিমবঙ্গে ফের পাক-যোগের সন্দেহে গ্রেফতার এক ব্যক্তি। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-হাবড়া এলাকা থেকে পাকিস্তানের নাগরিক বলে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ওয়াহাব আলম ওরফে রানা রউফ/রানা রাউত নামে ভারতে বসবাস করছিল এবং ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে তার সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর যোগাযোগের সন্দেহও সামনে এসেছে। এই ঘটনায় কলকাতার তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, রানাকে ভুয়ো নথি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল ইজাজ। সূত্রের খবর, বুধবার ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালায় এসটিএফ। সেই অভিযানে রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল সে। সেই খবর পাওয়ার পরই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে তাকে আটক করা হয়।

    পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ থেকে নেপাল হয়ে ভারতে?

    প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফ জানতে পেরেছে, রানা আদতে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। প্রায় ২০১২ সাল নাগাদ নেপাল হয়ে সে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে ভারতে আসার পর কোথায় কোথায় ছিল এবং এর আগে একাধিকবার সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কলকাতার তপসিয়া এলাকায় বেশ কিছুদিন বসবাস করেছিল রানা। সেখানে ছোটখাটো কাজ করার পাশাপাশি ওয়াহাব আলম নাম ব্যবহার করে আধার কার্ড-সহ একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ। এই ভুয়ো নথি তৈরির ক্ষেত্রে তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজ তাকে সাহায্য করেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে এসটিএফ। রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইজাজের নাম সামনে আসে। এরপর তপসিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, রানা ভারতে নিজের পরিচয় গোপন রেখে থাকতে ইজাজের সাহায্য নিয়েছিল।

    পাক সেনা ও আইএসআই-যোগের সন্দেহ

    রানার সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই-এর যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, রানা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং আইএসআই-এর হ্যান্ডলার হিসেবেই নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তবে এই দাবিগুলির বিষয়ে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, ভারতে থাকার সময়ে রানা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং পাকিস্তানে বসে থাকা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সে নির্দেশ পেত কি না।

    ভারতীয় রেল ও সেনার গতিবিধিতে নজর?

    রানার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ভারতে থাকার সময়ে সে ভারতীয় রেল এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। কোন ধরনের তথ্য সে সংগ্রহ করেছিল, সেই তথ্য কোথাও পাঠানো হয়েছিল কি না এবং এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।  বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাংলাদেশের দিকে পালানোর চেষ্টা কেন করছিল রানা, বাংলাদেশে তার জন্য কেউ অপেক্ষা করছিল কি না এবং সীমান্তের ওপারে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    হামিম মণ্ডল গ্রেফতারের পরই নতুন সূত্র

    রানাকে গ্রেফতারের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। হামিমের কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভিআইপি গতিবিধি, রুট ম্যাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।তদন্তে উঠে আসে, হামিমের যোগাযোগ ছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে। তাকে পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূলচক্রী সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করেছে তদন্তকারী সূত্র। বর্ধমানে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার আগে হামিম কলকাতার নিউটাউন এলাকায় থাকত বলে তদন্তে জানা যায়। তার সূত্র ধরেই এসটিএফ পরে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিং ওরফে রাজ-কেও গ্রেফতার করে।

    অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে অর্পিতার পাকিস্তান-যোগও সামনে আসে। পাকিস্তানের বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করে নেতা, মন্ত্রী এবং আমলাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে যোগাযোগ করা হত বলে জানা গিয়েছে। তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বাস্তবে কোনও অপহরণ বা নাশকতার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণে অর্পিতার যোগাযোগ এবং পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

    একই নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খুঁজছে এসটিএফ

    রানা-ইজাজ গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। পাকিস্তান থেকে বেআইনি ভাবে ভারতে ঢোকার পর রানা কীভাবে এত বছর ধরে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিল? কে তাকে ভুয়ো নথি তৈরিতে সাহায্য করেছিল? ভারতীয় রেল ও সেনার গতিবিধি সম্পর্কে সে কী তথ্য সংগ্রহ করেছিল? সেই তথ্য কোথায় পাঠানো হত? আর বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনার পিছনে কারা ছিল? এর পাশাপাশি হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার, আদিত্য সিংহ এবং নতুন করে গ্রেফতার হওয়া রানা ও ইজাজের মধ্যে কোনও সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, একের পর এক গ্রেফতারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় সন্দেহভাজন পাক-যোগ এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য চক্রটি আরও বড় আকার নিচ্ছে। এসটিএফ এখন এই সমস্ত সূত্রকে এক জায়গায় এনে পাকিস্তান, আইএসআই, জঙ্গি সংগঠন, ভুয়ো পরিচয়পত্র, সীমান্তপথ এবং পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটাই খুঁজে দেখছে।

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ‘মেগা প্ল্যান’! ধর্মান্তর-জমি আইন নিয়েও কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ‘মেগা প্ল্যান’! ধর্মান্তর-জমি আইন নিয়েও কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে এবার জোরকদমে কাজ শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের কাজের পর্যালোচনা বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানালেন, চলতি অর্থবর্ষের বাকি আট মাসে পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মোট ১,৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,৬০০ কোটি টাকা সরাসরি উন্নয়নমূলক প্রকল্পে খরচ করা হবে। দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়নের গতি ফেরাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঁকুড়ার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমানের সাংসদ-বিধায়ক, মন্ত্রিসভার সদস্য, জেলাশাসক এবং প্রায় ৭৫ জন বিডিও। বৈঠকে রাস্তা, পানীয় জল, স্কুল, আবাসন, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান-সহ একাধিক বিষয়ে জেলাভিত্তিক অগ্রাধিকারের তালিকা তৈরি করা হয়।

    সেপ্টেম্বরেই প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, পুজোর পর মাঠে কাজ

    জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে আগামী তিন মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রকল্প চিহ্নিত করে ডিপিআর তৈরি, অক্টোবরে টেন্ডার এবং পুজোর পর শুষ্ক মরসুম শুরু হলেই বাস্তব কাজ শুরু হবে। পিছিয়ে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি এলাকায় অন্তত ৫০ লক্ষ টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আগের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই সব আসনে বিজেপি জেতার পর প্রতিশোধের রাজনীতির কারণে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরকে কার্যত অকেজো করে রেখেছিলেন। গত অর্থবর্ষে এই খাতে মাত্র ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ৬ কোটির! কিন্তু আমাদের সরকার মাত্র চার মাসের ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ ও বাকি আট মাসের হিসাবে এই অঞ্চলের জন্য মোট ১,৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা অফিসার-কর্মীদের বেতনের জন্য এবং বাকি ১,৬০০ কোটি টাকা মূল পরিকল্পনা খাতে খরচ করা হবে।” পরিষেবা মানুষের কাছে আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে ঝাড়গ্রামে পিইউপি-র নতুন কার্যালয় এবং বীরভূমের বোলপুর অফিসের পাশাপাশি সিউড়ি জেলা পরিষদে ক্যাম্প অফিস চালুর নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    স্কুল, আইসিডিএস ও পানীয় জলে বিশেষ নজর

    জঙ্গলমহলের আবহাওয়া ও পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা মাথায় রেখে স্কুল ও শিশু-কেন্দ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে ফ্যান, পানীয় জল, ডাইনিং স্পেস-সহ কিচেন এবং ছাত্রছাত্রীদের পৃথক শৌচাগার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আইসিডিএস কেন্দ্রগুলির সংস্কারেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    বিডিওদের ‘অ্যাক্টিভ’ হওয়ার বার্তা

    উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নয়াগ্রাম, বান্ধোয়ানের মতো পিছিয়ে থাকা ব্লকের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “জেলাশাসকদের পারফরম্যান্সে আমরা সন্তুষ্ট। তবে কিছু কিছু বিডিও-র লেভেলে এখনও জড়তা রয়েছে। সেই জড়তা কাটিয়ে বিডিও-দের আরও অ্যাক্টিভ হতে হবে, কারণ ইমপ্লিমেন্টেশনের দায়িত্ব তাঁদের হাতেই।”

    ৬ ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছবে প্রতিটি পরিবারে

    পশ্চিমাঞ্চলের প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

    • ১. অন্নপূর্ণা যোজনা: প্রকৃত উপভোক্তাদের খাদ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা।
    • ২. আয়ুষ্মান ভারত: যেখানে এই সুবিধা কার্যকর হবে না, সেখানে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’র মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা।
    • ৩. বিকশিত ভারত যোজনা: ১২,০০০ কোটি টাকার বাজেটে ১২৫ দিনের কাজ এবং পরিবারপিছু বছরে ৩৪,৫০০ টাকার সংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা।
    • ৪. প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা: ইতিমধ্যেই ২৫ লক্ষ কাঁচা বাড়ির নাম নথিভুক্ত হয়েছে। আরও যোগ্য পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • ৫. প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর: কেন্দ্রের ১ লক্ষ পরিবারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজ্যে ৫ লক্ষ পরিবারকে সৌর সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
    • ৬. জল জীবন মিশন: ‘নল আছে জল নাই’ পরিস্থিতি এবং অনিয়ম বন্ধ করে প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ।

    ধর্মান্তর ও মৌলবাদী তৎপরতা নিয়ে কড়া বার্তা

    বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহল এলাকায় বিদেশি অর্থের সাহায্যে দরিদ্র মানুষকে বিভ্রান্ত করে বেআইনি ধর্মান্তর এবং মৌলবাদী তৎপরতার অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) নিয়ে আসছি—‘এক দেশ, এক আইন, এক মুখ্যমন্ত্রী’। এর পরে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে জোর করে ধর্মান্তর রুখতে কঠোর আইন এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন আইনি বিধিনিষেধ জারি করা।”

    পিএসসি-এসএসসি নিয়োগে স্বচ্ছতার বার্তা

    সরকারি নিয়োগ নিয়েও এ দিন মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পিএসসি ও এসএসসিতে নতুন নেতৃত্ব এনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবি করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “পিএসসি-র মাথায় অনিল বর্মা কিংবা এসএসসি-র চেয়ারম্যান হিসেবে দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে বসিয়ে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দুর্নীতিগ্রস্তদের আর স্থান নেই। নিয়োগকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, সরকারের দায়িত্ব মূলত ক্যাবিনেটে পদের অনুমোদন, চাকরির পদ তৈরি এবং অর্থ দফতরের ছাড়পত্র দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। নিয়োগের বাকি প্রক্রিয়া স্বশাসিত বোর্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। তাঁর কথায়, “আমাদের সরকার মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করবে। সব প্রক্রিয়া শেষে স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে আমরা নির্বাচিতদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেব।”

    সিএএ, ভোটার তালিকা ও সীমান্ত নিয়ে অবস্থান

    বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের প্রসঙ্গেও এ দিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সিএএ-তে আবেদন করা শরণার্থীদের ট্রাইব্যুনালে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রেশন, অন্নপূর্ণা বা বার্ধক্য ভাতার মতো সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার জমি সংক্রান্ত জটিলতা মেটানো, ভুয়া ওবিসি তালিকা বাতিল এবং ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বন্ধ করার বিষয়েও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা জানান তিনি। সব মিলিয়ে, বাঁকুড়ার বৈঠক থেকে জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নকে নতুন করে গতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের জবাবদিহি, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং নিয়োগে স্বচ্ছতার উপরও জোর দিল রাজ্য সরকার। এখন ঘোষিত তিন মাসের রোডম্যাপ কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়, নজর থাকবে সেই দিকেই।

  • Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defense Agreement)-কে এর উদ্যোক্তারা প্যান-ইসলামিক যৌথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কৌশলগত বিশ্লেষক এই চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এটি আদৌ কোনও ঐক্যবদ্ধ ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়। বরং চুক্তিটি ইরানকে ঘিরে সুন্নি শক্তিগুলির একটি কৌশলগত জোট হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে মুসলিম বিশ্বের দীর্ঘদিনের সুন্নি-শিয়া বিভাজন কমার বদলে আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    যৌথ নিরাপত্তার আড়ালে কি সুন্নি সমীকরণ?

    রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা— তিন দেশের কর্তারা বারবার জানিয়েছেন, এই ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ‘যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই তৈরি। কিন্তু সমালোচকদের মতে, বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে ধনী সুন্নি রাজতন্ত্র সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্নি সন্ত্রাসী শক্তি পাকিস্তান এবং ন্যাটোর  সুন্নি সদস্য তুরস্ককে একই নিরাপত্তা কাঠামোয় নিয়ে আসার ফলে ইরানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র সঙ্গে তুলনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ইরান এই জোটের বাইরে। ফলে এই চুক্তিকে সর্বজনীন ইসলামি প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে দেখার যুক্তি দুর্বল বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে চুক্তিটির পেছনে রয়েছে সুন্নি-শিয়া ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয় স্বার্থের হিসাব।

    তেহরান থেকে ইসলামাবাদ—চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

    চুক্তি স্বাক্ষরের পরই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের সদস্য এব্রাহিম রেজাই সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রেজাই বলেন, ‘‘তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগজে একটি চুক্তি করলেই সৌদি আরব নিরাপত্তা পাবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন আমেরিকার উপর নির্ভর করেও সৌদি আরব যে নিরাপত্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান পায়নি, অন্য দেশের উপর নির্ভর করে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি রিয়াধকে অন্যের কাছ থেকে নিরাপত্তা ‘চেয়ে নেওয়ার’ পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন। তবে শুধু ইরান থেকেই সমালোচনা আসেনি। চুক্তির অন্যতম অংশীদার পাকিস্তানের প্রাক্তন আমেরিকা-স্থিত রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট কূটনীতিক হুসেন হাক্কানিও এই চুক্তিকে নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন। হাক্কানির মতে, সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবের তুলনায় প্রতীকী দিক থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর যুক্তি, একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রয়োজন একটি অভিন্ন শত্রু। কিন্তু তিন দেশের ক্ষেত্রে সেই অভিন্ন শত্রু কোথায়, তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, চুক্তির ফলে গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের মতো সহযোগিতা বাড়তে পারে। কিন্তু এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে দেখার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

    পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের স্বার্থ কি এক?

    সমালোচকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। তিন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এবং বৈদেশিক নীতি একে অপরের থেকে যথেষ্ট আলাদা। পাকিস্তানের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি ভারতকে ঘিরে সীমান্ত বিরোধ। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ইসলামাবাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা নীতি গভীরভাবে যুক্ত ন্যাটো এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে। ফলে আঙ্কারার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অগ্রাধিকার রিয়াধ বা ইসলামাবাদের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা, তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা।ফলে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লেও একটি অভিন্ন সামরিক কৌশল বা একক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    ‘ইসলামিক ন্যাটো’ কি শুধুই ভূ-রাজনৈতিক মিথ?

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা জোটের ধারণা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবে সুন্নি-শিয়া বিভাজন, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ভিন্ন ভিন্ন বৈদেশিক নীতি সেই সম্ভাবনাকে বারবার দুর্বল করেছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও সেই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এই চুক্তি গোয়েন্দা সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্ব এবং অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেটিকে একটি সর্বজনীন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার তুলনায় অনেকটাই অতিরঞ্জিত। বরং সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি কৌশলগত ও লেনদেনভিত্তিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবেই চুক্তিটিকে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর ঐক্যের পথ তৈরি করবে, নাকি ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণ আরও বাড়াবে— সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র স্বপ্নের চেয়ে বাস্তব ভূ-রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সমীকরণই এই জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • Khudiram Bose Death Anniversary: “হাসি হাসি পরব ফাঁসি…”! ১৮ বছর বয়সেই ফাঁসির মঞ্চে, আজ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস

    Khudiram Bose Death Anniversary: “হাসি হাসি পরব ফাঁসি…”! ১৮ বছর বয়সেই ফাঁসির মঞ্চে, আজ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “হাসি হাসি পরব ফাঁসি, দেখবে ভারতবাসী”, অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিপ্লবী আন্দোলনের সব থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্র ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস (Khudiram Bose Death Anniversary) আজ। ১৯০৮ সালের ১১ অগাস্ট মাত্র ১৮ বছর বয়সে দেশের সর্বকনিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে হাসিমুখে ফাঁসিতে চড়েছিলেন ভারতের এই বীর সন্তান। মুজফফরপুর ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসি হয় ক্ষুদিরাম বসুর (Khudiram Bose Martyrdom Day)।

    ফিরে দেখা ইতিহাস (Khudiram Bose Death Anniversary)

    ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মেদিনীপুর শহরের কাছাকাছি (বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা) কেশপুর থানার অন্তর্গত মৌবনী (হাবিবপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ক্ষুদিরাম বসু। পাঁচ বছর বয়সে তিনি তাঁর মাকে হারান এবং এর এক বছর পর তাঁর বাবা মারা যান। এরপর খুব অল্প বয়সেই তিনি কলকাতার বারিন্দ্রকুমার ঘোষের মতো বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন এবং মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজেকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রতী করেছিলেন ক্ষুদিরাম। স্থানীয়দের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী পুস্তিকা বিতরণের জন্য ইংরেজ শাসকরা তাঁকে আটক করে।

    ১৯০৮ সালের এপ্রিল মাসে ক্ষুদিরামের বয়স যখন ১৬ বছর, সে সময় প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি মুজফফরপুরে একটি গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কিংসফোর্ড সেদিন ক্লাবে আসেননি। দুই ইংরেজ মহিলা মিসেস কেনেডি ও তাঁর কন্যা একই লাল গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ফলে সেই বোমা হামলায় তাঁরা মারা গিয়েছিলেন। এরপর পুলিশ ধরার আগেই প্রফুল্ল চাকি নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

    অন্যদিকে, এই ঘটনার পর নিজের প্রাণ বাঁচাতে ক্ষুদিরাম বসু (Khudiram Bose Martyrdom Day) ২৫ মাইল পথ পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন৷ কিন্তু, একটি জায়গায় জলের খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশের মুখোমুখি হন তিনি। তাঁকে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়৷ কিন্তু, সদ্য কৈশোর পেরনো ক্ষুদিরাম পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়ে যান৷ তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি করে ব্রিটিশ পুলিশ৷ এরপর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিচারে ক্ষুদিরাম বসুকে ফাঁসির সাজা শোনায় করে ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থা৷

    মাত্র ১৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ

    বিখ্যাত অনুশীলন সমিতির সদস্য ছিলেন ক্ষুদিরাম। তাঁকে ফাঁসি দেওয়া (Khudiram Bose Death Anniversary) হয় মুজফফপুর সংশোধনাগারে। বর্তমানে সেই কারাগারের নাম বদলে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর নামেই নামকরণ করা হয়েছে। এই কারাগারেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে হাসতে হাসতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন ভারতের এই বীর সন্তান। ভারতের সর্বকনিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একজন যিনি দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর শরীরের মৃত্যু হলেও আজীবন তিনি অমর হয়ে থেকে গেলেন প্রতিটি ভারতবাসীর মনের মণিকোঠায়।

  • Suvendu Slams Mamata: ‘‘এত চুরি করেছেন…’’, মমতার গাড়িতে হামলাকে ‘জনরোষ’ বললেন শুভেন্দু, হালিশহর গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Slams Mamata: ‘‘এত চুরি করেছেন…’’, মমতার গাড়িতে হামলাকে ‘জনরোষ’ বললেন শুভেন্দু, হালিশহর গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। রবিবারের ঘটনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। পাল্টা মমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, মমতার গাড়িকে ঘিরে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, তা বিজেপির পরিকল্পিত নয়, বরং স্থানীয় মানুষের ‘স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ’।

    কী বলেছেন শুভেন্দু?

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এদিন মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “উনি জেড প্লাস ক্যাটিগরি পান। আমরা প্রত্যাহার করিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ১৫ বছর ছিলেন। বয়সও হয়েছে। ওনাকে যতটা সম্ভব পূর্ণ নিরাপত্তা এবং ওনার সম্মান রাখা উচিত। সে কাজ পুলিশ করেছে। পুলিশ খারাপ কিছু করেনি।” রবিবারের ঘটনাকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির ‘সন্ত্রাস’ চলছে। নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই পুলিশকে ব্যবহার করে ‘লুম্পেন’দের জড়ো করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার গাড়িতে কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনায় বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুভেন্দুর দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পতাকা বা পরিচিত মুখ দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, গোটা ঘটনাই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কটাক্ষের সুর আরও চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে। এরপর থেকে কানে যে ইয়ারফোনগুলো লাগায়, সেগুলো ব্যবহার করুন, তাহলে আর চোর শুনতে পাবেন না।”

    হালিশহর গেলেন শুভেন্দু

    এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সোমবার হালিশহরে মৃত কর্মী বীরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারীর। হালিশহরে গেলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহ, জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার, বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কেবল সমবেদনা জানানোই নয়, সেই সঙ্গে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট করে দিলেন, হেফাজতে মৃত্যু কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রাথমিকভাবে ওই থানার আইসি (IC)-কে ক্লোজ করার এবং তদন্তকারী অফিসারকে (IO) সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের স্ত্রীর জন্য রাজ্য সরকারের হোম মিনিস্টারের কোটায় ‘অ্যাটেনডেন্ট’ পদে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকার একটি চেক মৃতের স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, ওই টাকা যেন সন্তানদের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে তাদের পড়াশোনার খরচ চালানো হয়।

    “আপনার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ”

    সেই পরিবারের সঙ্গে মমতার যোগাযোগ এবং তাঁর সেখানে যাওয়া নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।  শুভেন্দুর দাবি, বীরজু কেওটের পরিবারের পক্ষ থেকে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, “বাড়ির লোক বলছে, না আমরা ডাকিনি৷ উনি যুক্ত হন, চাই না আমরা৷ আপনাকে ওই বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে, আপনি বলছেন না আমি দরজা ভেঙে ঢুকব৷ বাড়ির লোক বলছে পুলিশের তদন্তে আস্থা আছে, উনি এক আইনজীবী নিয়ে নাটক করতে গিয়েছেন। পুলিশকে না জানিয়ে গিয়েছেন। পরিবারের লোক আপনার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়েছে৷”

    “আজ তো অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন”

    রবিবার আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দু’বছর আগে ওই রাতেই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে। পানিহাটির বাসিন্দা ওই চিকিৎসকের স্মরণসভায় যোগ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আজ তো অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন। হাত জোড় করে বলতেন ক্ষমা করে দিন। রত্নাদি ক্ষমা করে দিতেন।”

    মমতাকে তোপ শমীকেরও

    এদিকে, মমতার গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটির সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনও বিজেপি কর্মী যুক্ত নন। একইসঙ্গে তিনি অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকেও আক্রমণ করেন। শমীক বলেন, “দূর দূর পর্যন্ত বিজেপির কোনও কর্মী এর সঙ্গে যুক্ত নন। শুভেন্দু অধিকারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল, সেই অত্যাচার বিজেপি কিন্তু তৃণমূলের ওপর করেনি। কিন্তু পাথর ছোড়া, কাদা ছোড়া এ তো তৃণমূলের শেখানো সংস্কৃতি।”

    মমতার গাড়িতে হামলা, প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি আক্রমণ এবং বিজেপি-তৃণমূলের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ল। এরই মধ্যে হালিশহরে শুভেন্দুর কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

  • Dengue Vaccine: ডেঙ্গি ভ্যাকসিন প্রস্তুত, কিন্তু চলতি বছরেই নয়! বর্ষায় রোগ ঠেকাতে কী করবেন?

    Dengue Vaccine: ডেঙ্গি ভ্যাকসিন প্রস্তুত, কিন্তু চলতি বছরেই নয়! বর্ষায় রোগ ঠেকাতে কী করবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডেঙ্গি মোকাবিলায় টিকা প্রস্তুত। কিন্তু এখনই সহজলভ্য হবে না। তাই রোগের মোকাবিলায় চলতি বছরে এখনও ডেঙ্গি ভ্যাকসিনকে হাতিয়ার করতে পারছে না স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু রাজ্য জুড়ে বর্ষার দাপট রয়েছে। তাই মশাবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। শহর থেকে জেলা, সর্বত্র ডেঙ্গি মোকাবিলা প্রয়োজন! তাই চলতি বছরেও আগাম সচেতনতা না থাকলে, ডেঙ্গি মোকাবিলা আগের মতোই কঠিন হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য মহলের একাংশ।

    ডেঙ্গি কি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে। ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় তৎপর স্বাস্থ্য দফতর। তবে, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক নয়। স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশ জুড়েই বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মুম্বাই থেকে দিল্লি, দেশের একাধিক বড় শহরে মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। কলকাতাতেও এই মরশুমে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। বিশেষত নদীয়া, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়ার মতো একাধিক জেলায় চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাদ নেই কলকাতা। কলকাতার একাধিক জায়গায় বিশেষত শোভাবাজার, বেলগাছিয়া, গিরিশ পার্ক, যাদবপুর, কসবার মতো জনবহুল এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং, সতর্ক থাকা জরুরি। যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

    ডেঙ্গি রুখতে কোন পথে হাঁটতে চায় রাজ্য?

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডেঙ্গি ভ্যাকসিন তৈরি হলেও, সেই টিকাকরণ প্রক্রিয়া এখনি শুরু করা যাবে না। কারণ, এখনও কয়েকটি ধাপ রয়েছে। নিয়ম মাফিক সেগুলো পার করলে তবেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় টিকা করণ শুরু হবে। তাই চলতি বছরে সাবেকি পদ্ধতিতেই ডেঙ্গি মোকাবিলা হবে বলে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য জুড়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক বাড়িতে কেউ জ্বরে আক্রান্ত কিনা, সেটার খবর নেওয়া হচ্ছে। এলাকার কোথায় জল জমে রয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাতে সংক্রমণ দাপট বাড়াতে না পারে। পরিবারের কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে, বাকিদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তাছাড়া, ডেঙ্গি রুখতে এলাকা পরিষ্কারে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, জমা জল ডেঙ্গি মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বর্ষার মরশুমে দ্রুত সমস্ত নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, জনসচেতনতাও প্রয়োজন। বাড়ি ও এলাকার আশপাশে নোংরা ফেলা চলবে না। জল যাতে না জমে সেদিকে নজর দিতে হবে। গাছ লাগালে বাগান পরিষ্কার রাখার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। টব বা চৌবাচ্চায় যাতে জল জমে না থাকে, সেটা নজর দেওয়া জরুরি। কারণ, পরিষ্কার বদ্ধ জমা জলে ডেঙ্গির মশার দাপট বাড়ে। তাই সেদিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি‌।

    সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সুস্থ থাকতে সতর্ক থাকা জরুরি। মশার কামড় রুখতে হাত ও পা ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই মাঠে বা বাগানে খেলার সময়ে শিশুদের মশা কামড়ায়। এর থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খেলতে যাওয়ার সময় বিশেষত শরীর ভালোভাবে ঢাকা দেওয়া পোশাক পরা জরুরি। তাছাড়া নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনো প্রয়োজন। তাতে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁদের পরামর্শ, তিন দিন একটানা জ্বর থাকলে একেবারেই অবহেলা করা যাবে না। বরং, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যায়‌। এতে রোগীর শারীরিক জটিলতা কমে। আবার সংক্রমণ আটকানোও সহজ হয়। পরিবারের কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে, তাকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাহলে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি, নিজের বাড়ি এবং এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

  • World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ৯ অগাস্ট পালিত হয় বিশ্ব আদিবাসী দিবস (World Indigenous Day)। বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের জনজাতি সম্প্রদায়গুলি বহন করে চলেছে বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। ভারতের জনজাতি বা তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐতিহ্যের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস, নৃতত্ত্ব ও রাজনীতির আলোচনার বিষয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান, পারস্পরিক প্রভাব এবং বহু অভিন্ন পবিত্র ঐতিহ্য। মধ্য, পূর্ব, পশ্চিম ও হিমালয়-সংলগ্ন ভারতের বহু জনজাতি ঐতিহাসিকভাবে মহাদেব বা শিব, শক্তির স্থানীয় রূপ, গ্রামদেবতা, পূর্বপুরুষের আত্মা, পাহাড়, বন, নদী ও পবিত্র বনভূমির আরাধনা করে এসেছে।

    প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান

    ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ জনজাতি সমাজে (Janajatiya Culture) সংরক্ষিত রয়েছে। বন, পাহাড়, নদী উপত্যকা ও মালভূমিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করতে গিয়ে তাঁরা প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ ও স্থানীয় দেবতাকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ধর্মীয় পরম্পরা গড়ে তুলেছেন। সংগঠিত মন্দির সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বহু আগে থেকেই পবিত্র বন, পাহাড়, নদী, গুহা ও প্রাচীন গাছ ছিল উপাসনার স্থান। প্রকৃতি তাঁদের কাছে শুধু জীবিকার উৎস নয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসেরও কেন্দ্র।

    পবিত্র ভূদৃশ্য ও প্রকৃতির প্রতীক

    বিভিন্ন জনজাতি অঞ্চলের পাহাড়, নদী, বন ও উপত্যকার সঙ্গে স্থানীয় দেবতা, পূর্বপুরুষ এবং ধর্মীয় কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। গাছ, পশুপাখি, সূর্য, চাঁদ, মাটি ও নদীর মতো প্রাকৃতিক উপাদানও অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র প্রতীক। পবিত্র বন বা ‘সেক্রেড গ্রোভ’-কে ঘিরে উপাসনা ও নানা আচার আজও বহু জায়গায় প্রচলিত। একইসঙ্গে এই বনগুলি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    জনজাতি ঐতিহ্যে মহাদেব

    শিবকে শুধু মহাজাগতিক দেবতা নয়, বন, পাহাড়, পশু, সাধক, শিকারি ও জনজাতি মানুষের সঙ্গেও যুক্ত দেবতা হিসেবে দেখা হয়। ‘মহাদেব’, ‘পশুপতি’, ‘গিরিশ’, ‘কিরাত’ ও ‘ভূতেশ্বর’-এর মতো উপাধিতে তাঁর সঙ্গে জঙ্গল, পাহাড়, পশুজগৎ ও জনবসতির প্রান্তবর্তী জীবনের সম্পর্কের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় দেবতা ও প্রকৃতি-কেন্দ্রিক বিশ্বাসের সঙ্গে শিব-আরাধনার সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্পর্ক সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে একরকম নয়, প্রত্যেকের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।

    শক্তির স্থানীয় রূপ

    শক্তি বা দেবী-উপাসনাতেও জনজাতি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রয়েছে। বহু স্থানীয় দেবীকে উর্বরতা, কৃষি, বন, নদী, রোগ থেকে সুরক্ষা, মাটি ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কোথাও তাঁরা গ্রামরক্ষাকারী, কোথাও ফসলের রক্ষক, আবার কোথাও পাহাড় বা অরণ্যের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি। এই স্থানীয় দেবী-পরম্পরার সঙ্গে বৃহত্তর শক্তি-উপাসনার বিভিন্ন ধারারও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

    নিজস্ব ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র্য

    তবে জনজাতি সংস্কৃতিকে শুধুমাত্র বৃহত্তর কোনও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, দেবতা, লোককথা, আচার, উৎসব ও সামাজিক রীতি রয়েছে। কোথাও প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষের উপাসনা প্রধান, কোথাও স্থানীয় দেবতার গুরুত্ব বেশি, আবার কোথাও শিব-শক্তির সঙ্গে স্থানীয় বিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই রয়েছে ভারতের জনজাতি সংস্কৃতির নিজস্ব পরিচয়।

    ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিন্যাস ও ভিন্ন বয়ান

    ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সামাজিক ও ধর্মীয় শ্রেণিতে ভাগ করার চেষ্টা করে। বহু জটিল স্থানীয় বিশ্বাসকে তখন নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। বিভিন্ন ঔপনিবেশিক নথি ও গবেষণায় কখনও জনজাতি সমাজকে মূলধারার ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে পৃথক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে। ফলে জনজাতি পরিচয় নিয়ে একাধিক বয়ান তৈরি হয়।

    গবেষণা ও পরিচয়ের প্রশ্ন

    আধুনিক ইতিহাস ও নৃতত্ত্বের গবেষণায় জনজাতি ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ, স্থানীয় দেবতা, সামাজিক কাঠামো এবং বৃহত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। আধুনিক ভারতেও জনজাতি পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নিজস্ব ভাষা, আচার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বৃহত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রশ্নও আলোচিত।

    সংবিধানে স্বীকৃতি

    ভারতের সংবিধান তফসিলি উপজাতি (Tribal Culture India) সম্প্রদায়গুলির জন্য বিশেষ সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ব আদিবাসী দিবস তাই শুধু অধিকার ও পরিচয়ের কথা বলার দিন নয়; এটি বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন সংস্কৃতি, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং পবিত্র ঐতিহ্যকে স্মরণ করারও দিন। ভারতের জনজাতি সমাজের প্রকৃতি-কেন্দ্রিক জীবনদর্শন, পবিত্র বন, স্থানীয় দেবদেবী, পূর্বপুরুষের স্মরণ, লোকাচার ও উৎসব দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃহত্তর ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যেমন এই ইতিহাসের একটি দিক, তেমনই প্রতিটি জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন বিশ্বাস ও পবিত্র ঐতিহ্যের এই বহুস্বরই ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

  • Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন যে নেত্রীকে চোখে হারাতেন সাধারণ মানুষ, যে নেত্রীকে বসিয়েছিলেন শীর্ষ আসনে, আজ তাঁরই কনভয়ে লক্ষ্য করে ছোড়া হল জুতো-কাদা! উঠল চোর স্লোগানও। সত্যিই তো ভাবতেই অবাক লাগে। আসলে কী বলুন তো? এত বছরের দীর্ঘ তৃণমূল শাসনে যে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে, যেভাবে রাজ্যের জনগণকে দিনের পর দিন শোষণ করে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাধের নেতারা, আজ তারই পরিণাম হয়তো ভোগ করছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কতদিনই বা আর চাপা থাকতে পারে? এবার আসা যাক মূল কথায়।

    ডিমের পর এবার ‘কাদা-থেরাপি’?

    রবিবার হালিশহরে (Halisahar) পুলিশি হেফাজতে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মমতা।সেখানে ‘কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিমো’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেখা মাত্রই ধেয়ে আসে জনরোষ। বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছনো মাত্রই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল নেত্রীকে। তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা-জুতো। গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। দেওয়া হয় চোর স্লোগান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উত্তপ্ত করতেই সেখানে যান মমতা (Mamata Banerjee)।

    আমরা সবাই মরে যেতাম!

    সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের চিরাচরিত ক্ষোভ আর ধরে রাখতে পারেননি নেত্রী। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাথা ফেটে যেত, আমরা সবাই মরে যেতাম! পুলিশের সামনে এমন হামলা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। পুলিশ শুধুমাত্র বিজেপিকেই সুরক্ষা দেয়।”

    কল্যাণের অভিযোগ

    উল্লেখ্য এদিন তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে (Halisahar) উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন (Dola Sen) এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “বাইরে থেকে বিজেপির লোকজনকে জোগাড় করেছেন মূল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আইসি। আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অনবরত অশালীন গালিগালাজ করা হয়। বড় বড় ইট ছুড়ে মারা হয়। গাড়িটির অবস্থা দেখলেই বোঝা যাবে- পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতেই ধাওয়া করা হয়েছে।”

    তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু

    ঘটনার সূত্রপাত হালিশহর (Halisahar) থানার লকআপে বিরজু কেয়ট নামে এক তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। নিহত বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট নদিয়ার কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। কয়েক দিন আগে হালিশহরের এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক প্রতারণা এবং বেআইনি অস্ত্র আইনের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে ব্যারাকপুর আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এর পর শনিবার সকালে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। তড়িঘড়ি তাকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বিরজুকে। যদিও পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ বিরজুর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, থানা হেফাজতে বেধড়ক মারধরের ফলেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। যদিও মারধর ও পুলিশি নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। এদিন এই বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলে মমতা(Mamata Banerjee)।

    মমতাকে দেখতেই ক্ষোভের বন্যা

    এদিন মমতা (Mamata Banerjee) ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। নেত্রীর কনভয় আটকে চারদিক থেকে দেওয়া হয় চোর স্লোগান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। হালিশহরের (Halisahar) এই ঘটনা নিছক একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভের ছবি নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরও বহিঃপ্রকাশ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এক সময় যাঁর সভায় মানুষের ঢল নামত, সেই নেত্রীর কনভয় ঘিরেই উঠল চোর স্লোগান, ছোড়া হল কাদা-জুতো। ফলে হালিশহরের (Halisahar) এই বিক্ষোভ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

LinkedIn
Share