মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও জয় পেয়েছে এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)। সংগঠনের দাবি, অদিতি মহাবিদ্যালয়, শ্রী অরবিন্দ (ABVP) কলেজের প্রাতঃকালীন শাখা, ভারতী কলেজ, শিবাজি কলেজ-সহ একাধিক (DUSU Election 2026) কলেজে তাদের প্রার্থীরা সবক’টি বা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয় পেয়েছেন।
এবিভিপির দাবি, অদিতি মহাবিদ্যালয়ে সবক’টি পদেই জয় পেয়েছে তাদের প্যানেল। শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রাতঃকালীন শাখায় ৬টি পদেই জয় পেয়ে ৬-০ ফল করেছে তারা। ভারতী কলেজে ৮টি পদেই এবিভিপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। শিবাজি কলেজেও ৬-০ ব্যবধানে সবক’টি পদ দখল করেছে এবিভিপি।
ড. ভীমরাও আম্বেদকর কলেজে চারটি পদেই এবিভিপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। কেশব মহাবিদ্যালয়ে সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সম্পাদক—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় এসেছে বলে সংগঠনের দাবি। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কলেজে সভাপতি ও সম্পাদক পদে জয় পাওয়ার পাশাপাশি দুই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর পদেও এবিভিপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সেও সভাপতি, সম্পাদক এবং দুই কাউন্সিলর-সহ সবক’টি পদে এবিভিপি প্রার্থীদের জয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগেও সভাপতি, মন্ত্রী এবং দুই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর পদে এবিভিপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।
ডুসুতে চার পদেই জয়ের প্রত্যাশা (DUSU Elections 2026)
কলেজগুলির নির্বাচনে পাওয়া সমর্থনের ভিত্তিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় প্যানেলেও পড়ুয়াদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবিভিপি। সভাপতি পদে যশ ডাবাস, সহ-সভাপতি পদে ইশু মৌর্য, সম্পাদক পদে রিয়া ছাবড়ি এবং যুগ্ম সম্পাদক পদে লক্ষ্যরাজ সিংকে প্রার্থী করেছে সংগঠনটি।
এবিভিপির বক্তব্য, কলেজগুলির নির্বাচনে যেমন তাদের প্রার্থীরা সমর্থন পেয়েছেন, তেমনই ডুসুর চারটি পদেও পড়ুয়ারা তাদের প্যানেলের উপর আস্থা রাখবেন। সংগঠনটি চারটি পদেই জয়কে ৪-০ ব্যবধানে ‘ক্লিন সুইপ’ হিসেবে দেখার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে।
তবে ১৯ সেপ্টেম্বর ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর প্রাথমিক গণনায় বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। ভোটের দিন, ১৮ সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় প্যানেলের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছিল (DUSU Election 2026)।
ভুয়ো পরিচয়পত্র ও বিভ্রান্তিকর প্রচারপত্র নিয়ে অভিযোগ
নির্বাচন চলাকালীন এনএসইউআই-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, দয়াল সিং কলেজে এবিভিপির নাম ও প্যানেল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া প্রচারপত্র বিলি করার অভিযোগে দু’জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই ধরনের ঘটনায় এর আগে আরও এক ব্যক্তিকেও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের।
এলসি-২-এর প্রাতঃকালীন শাখায় ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসা এক ছাত্রীকে নিরাপত্তাকর্মীরা আটক করেন বলেও দাবি এবিভিপির। আরও দুই ছাত্রী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবিভিপি। একই সঙ্গে সংগঠনের প্রার্থীদের ও কর্মীদের দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সব নিয়ম সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশের মধ্যে বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।
এবিভিপির দিল্লি রাজ্য সম্পাদকের প্রতিক্রিয়া
এবিভিপির দিল্লি রাজ্য সম্পাদক সার্থক শর্মা বলেন, “ডুসু নির্বাচন রাহুল গান্ধীর সভাপতির আসনের নির্বাচন নয়; এটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং এখানকার পড়ুয়ারাই এর ফল নির্ধারণ করবেন। কংগ্রেসের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামো, যুব কংগ্রেস এবং এনএসইউআই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা নিজেদের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন।”
তিনি আরও বলেন, “কলেজগুলির নির্বাচনে এবিভিপি পড়ুয়াদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে এবং ডুসু নির্বাচনেও আমরা পড়ুয়াদের সমর্থন পাব। এনএসইউআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারপত্র সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষী প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা (ABVP) নেওয়া উচিত।”
দিল্লি হাইকোর্টের নির্বাচনী নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়ে সার্থক বলেন, বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করার নির্দেশ-সহ আদালতের সব নির্দেশ মেনে চলতে সংগঠনের কর্মীদের বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ডুসুতে (DUSU Election 2026) এবিভিপির চার প্রার্থীই জয়ী হয়ে ৪-০ ফল করবেন।









