Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • FIFA World Cup 2026: বিতর্কের বিশ্বকাপ! ‘মার্কিন হানা’য় নিহত ১৬৮ শিশুর স্মারক নিয়ে হাজির ইরান! সেনেগাল-উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি

    FIFA World Cup 2026: বিতর্কের বিশ্বকাপ! ‘মার্কিন হানা’য় নিহত ১৬৮ শিশুর স্মারক নিয়ে হাজির ইরান! সেনেগাল-উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মুলুকে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া সেনেগাল এবং উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি করা হল আমেরিকায়। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রকাশ্যে ফুটবলারদের তল্লাশি নেন। ব্যবহার করা হয় মাদক সন্ধানী কুকুরও। এই ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্নের মুখে ফিফার ভূমিকাও। ইরানের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) খেলা নিয়েও বিস্তর টানাপোড়েন চালিয়েছে আমেরিকা। ইরানের এক ডজন ফুটবল আধিকারিকের ভিসা আটকে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে ইরানি ফুটবলাররা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

    ইরানের ক্ষোভ

    রবিবারই মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান। সে দেশে পা দেওয়া মাত্র ইরান কোচ আমির ঘালেনোই বলেন, “বারো ঘণ্টার টাইম ডিফারেন্স সামলাতে অন্তত দু’সপ্তাহ আগে এখানে আসা উচিত ছিল আমাদের। পরিবেশের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট বলেও তো একটা বিষয় থাকে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে টেকনিক্যাল ব্যাপারস্যাপার দেখার আগে প্রয়োজন মানবিক আর নৈতিক বিষয়গুলো মন দিয়ে দেখা।” তুরস্কে লম্বা সময় ট্রেনিং করার পর মেক্সিকোর সীমান্ত-নিকটবর্তী শহর তিজুয়ানাতে গতকাল এসে পৌঁছেছে ইরান দল। আর নামার পর শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করা শুধু নয়, বিতর্ক সৃষ্টি করেছে ইরানি প্লেয়ারদের পরিহিত একখানা সোনালি পিন! যা একটা সংখ্যা। ১৬৮! ইরান বনাম ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জোটের যুদ্ধ নতুন কোনও খবর নয়। যে যুদ্ধে ইরানের এক প্রাথমিক স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হানায় প্রাণ যায় ১৬৮ জনের। যাদের বেশিরভাগই শিশু ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, দক্ষিণ ইরানের মিনাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হানা হয়। যার দায় সম্পূর্ণ ভাবে গিয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর। হাঙ্গেরির ইরানীয় দূতাবাস থেকে এই ‘পিন’-এর ব্যাপারে পুরোটা বলে দেওয়া হয়েছে।

    ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ

    বিভিন্ন দেশের ফুটবলার, রেফারিদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পারদ আরও চড়ল সেনেগাল এবং উজবেকিস্তান দল পৌঁছোনোর পর। বিমান থেকে নামার পর টারম্যাকেই সেনেগালের ফুটবলারদের তল্লাশি করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তল্লাশি শেষ হওয়ার আগে তাঁদের বিমানবন্দরের ভিতরেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সেনেগালের ফুটবলারদের সব ব্যাগ খুলেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে উজবেকিস্তান দলের সঙ্গেও। অনুশীলনের জন্য নিউ ইয়র্কের আইকান স্টেডিয়ামে পৌঁছোনোর পর উজবেক ফুটবলারদের কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। শুধু নিরাপত্তাকর্মীরাই নন, মাদক সন্ধানী কুকুর দিয়েও পরীক্ষা করা হয় প্রত্যেক ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফকে।

    ফুটবল-কে অসম্মান

    এর আগে আমেরিকায় পৌঁছেই দীর্ঘ জেরার মুখে পড়তে হয়েছে ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে। ১০ ঘণ্টার বেশি জেরা করা হয়েছে ইরাকের বিশ্বকাপ দলের চিত্রগ্রাহক তালাল শাহকে। বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা রেফারি সেনেগালের ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে। বিশ্বাব ফুটবলের মহাযজ্ঞে বারবার ট্রাম্প প্রশাসনের এই আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা কর্তৃপক্ষও। আয়োজক দেশ নির্বাচন নিয়ে ফিফার উপর ক্ষোভ বাড়ছে।

  • Mangroves: ম্যানগ্রোভ নিধন, নদীচর দখল করে অবৈধ কলোনি! ক্যানিংয়ে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির হদিস, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    Mangroves: ম্যানগ্রোভ নিধন, নদীচর দখল করে অবৈধ কলোনি! ক্যানিংয়ে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির হদিস, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুন্দরবনের ‘প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ’ হিসেবে পরিচিত ম্যানগ্রোভ (Mangroves) অরণ্য ধ্বংস এবং নদীর চর বেআইনিভাবে ভরাট করে কোটি কোটি টাকার ভূমি কেলেঙ্কারির এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং (Canning) থানা এলাকার মাতলা সেতুর সন্নিকটে এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের সন্ধান মিলেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    ঘটনা ও অভিযোগের বিবরণ (Mangroves)

    স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী জানা গিয়েছে, ক্যানিংয়ের (Canning) মাতলা ব্রিজে যাওয়ার পথের ডান দিকে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ (Mangroves) জঙ্গল সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর নদীর চরটি বেআইনিভাবে মাটি ও বালি দিয়ে ভরাট করে সেখানে একটি বিশাল আবাসিক কলোনি বা জনবসতি গড়ে তোলা হয়েছে।

    • নতুন জনবসতি: পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে গড়ে ওঠা এই নতুন কলোনিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেতাজি পল্লি’। বর্তমানে এখানে কয়েকশো পরিবার বসবাস করছেন।
    • দলিলের নামে জালিয়াতি: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনও বৈধ সরকারি নথি বা সরকারি ভূমি রাজস্ব দপ্তরের দলিল ব্যবহার করা হয়নি। পরিবর্তে ‘প্রান্তিক সঙ্ঘ’ নামের একটি স্থানীয় ক্লাবের লেটারহেড বা প্যাডকে ‘দলিল’ হিসেবে ক্রেতাদের দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জালিয়াতির শামিল।

    প্রভাবশালীদের যোগসূত্র ও কোটি টাকার লেনদেন

    স্থানীয় (Canning) বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য (Mangroves) ধ্বংস করে নদীর জমি বিক্রি করার নেপথ্যে এলাকার একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জড়িত রয়েছেন। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ফুসফুস বলে পরিচিত এই ম্যানগ্রোভ অরণ্য কেটে এভাবে জমি মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। মানবিকতার দোহাই দিয়ে এবং গৃহহীনদের পুনর্বাসনের আড়ালে মূলত একটি পরিকল্পিত ভূসম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেট চক্র চালানো হচ্ছিল।

    বেআইনি মেছো ভেড়িতে রূপান্তর

    ক্যানিং এবং সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলে কীভাবে নদীখাত ও ম্যানগ্রোভের (Mangroves) জমি বেআইনি মেছো ভেড়িতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, তার বাস্তব চিত্র নিয়ে পরিবেশবিদরা এখন ভীষণ ভাবে চিন্তিত। রাজনৈতিক স্বার্থ এবং আর্থিক দুর্নীতি জনজীবন এখন বিপন্ন হওয়ার মুখে। এই সুনির্দিষ্ট আর্থিক দুর্নীতি এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শাসক দল বিগত সরকারের তৃণমূল নেতাদেরদিকেই আঙুল তুলেছে। তবে তৃণমূলের তরফে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্য পরিবেশ দফতর এবং জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

  • MT Marivex: ওমান উপকূলে ডুবে গেল ক্ষেপণাস্ত্রবিদ্ধ বাণিজ্যিক জাহাজ! উদ্ধার ২৪ ভারতীয় নাবিক

    MT Marivex: ওমান উপকূলে ডুবে গেল ক্ষেপণাস্ত্রবিদ্ধ বাণিজ্যিক জাহাজ! উদ্ধার ২৪ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওমানের মাসিরাহ দ্বীপের কাছে বড়সড় সামুদ্রিক দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি মারিভেক্স’ (MT Marivex)। জাহাজটিতে আগুন লাগার পর তা ধীরে ধীরে ডুবে যায়। তবে স্বস্তির খবর, জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এর একদিন আগে জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে জাহাজের ক্রুরা জরুরি ভিত্তিতে এসওএস (SOS) বার্তা পাঠান। ভারতের ওমানে অবস্থিত দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁরা সুস্থ রয়েছেন। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ওমান প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

    কীভাবে উদ্ধার নাবিকরা

    কেন্দ্রীয় জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ এমটি মারিভেক্সে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জাহাজটি বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়। এদিকে অল ইন্ডিয়া সিফেয়ারার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, আগুন লাগার পর জাহাজের এক নাবিক নিলেশ জরুরি সাহায্যের আবেদন জানিয়ে ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই পরিস্থিতির ওপর নজরদারি শুরু করে ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখে। জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ওমানের কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA), বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করেছে।

    ভারত ও ওমান সংযোগ

    এই ঘটনায় ভারত ও ওমানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতারও প্রমাণ মিলেছে। অল ইন্ডিয়া সিফেয়ারার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত নাবিক ও তাঁদের পরিবারের পাশে তারা রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ২৪ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর জাহাজে আগুন লাগে এবং শেষ পর্যন্ত তা ডুবে যায়, সেই বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari Cabinet: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দফতর? চমকে দেওয়া দায়িত্ব বণ্টনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ

    Suvendu Adhikari Cabinet: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দফতর? চমকে দেওয়া দায়িত্ব বণ্টনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় আরও পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নেন। এরপর ১ জুন দ্বিতীয় দফায় শপথ গ্রহণ করেন রাজ্যের আরও ৩৫ জন মন্ত্রী। এই ৩৫ জনের মধ্যে— ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এবার হয়ে গেল তাঁদের দফতর বণ্টন।

    উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিশেষ গুরুত্ব

    নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১০ জন মন্ত্রী স্থান পেয়েছেন রাজ্য মন্ত্রিসভায়। একই সঙ্গে জঙ্গলমহল অঞ্চলকেও উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজ জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও চার জন মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ৭ জন মহিলা মুখ।

    দিল্লিতে বৈঠকের পর চূড়ান্ত দফতর বণ্টন

    দফতর বণ্টনের আগে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরই মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়। বুধবার নবান্ন থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের কাছেই রাখলেন শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের অধীনেই রেখেছেন। তাঁর হাতে থাকা দফতরগুলি হল—

    • ● স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক
    • ● তথ্য ও সংস্কৃতি
    • ● বিদ্যুৎ
    • ● ভূমি ও ভূমি সংস্কার
    • ● উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন

    শুভেন্দুর সরকারের নতুন টিমে কোন মন্ত্রী কোন দফতরের দায়িত্ব পেলেন

    পূর্ণ মন্ত্রী

    • ● দীপক বর্মন – স্কুলশিক্ষা এবং আবাসন দফতর এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতর
    • ● তাপস রায়- শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ
    • ● শঙ্কর ঘোষ- পর্যটন, সংসদীয় বিষয়ক
    • ● মনোজ কুমার ওঁরাও- বন ও পরিবেশ
    • ● অর্জুন সিংহ- পরিবহণ এবং শ্রম
    • ● গৌরী শঙ্কর ঘোষ-গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ
    • ● জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়- উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
    • ● স্বপন দাশগুপ্ত- অর্থ
    • ● শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-স্বাস্থ্য
    • ● কল্যাণ চক্রবর্তী- তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন
    • ● অরূপ কুমার দাস- সেচ ও জলপথ
    • ● অজয় কুমার পোদ্দার-পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি
    • ● দুধকুমার মণ্ডল- কৃষি
    • ● নিশীথ প্রামাণিক- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন
    • ● অশোক কীর্তনীয়া- খাদ্য সরবরাহ, সমবায়
    • ● ক্ষুদিরাম টুডু- অনগ্রসর, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা
    • ● দিলীপ ঘোষ- পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন
    • ● অগ্নিমিত্রা পাল- পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর

    স্বাধীন দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী

    • ● মালতি রাভা রায়- নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও কর্মসংস্থান এবং পরিসংখ্যান দফতর
    • ● রাজেশ মাহাতো- প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও মৎস্য দফতর
    • ● ইন্দ্রনীল খাঁ- ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ এবং ক্রেতা সুরক্ষা দফতর

    প্রতিমন্ত্রী

    • ● জোয়েল মুর্মু- আদিবাসী উন্নয়ন এবং সেচ ও জলপথ
    • ● হরেকৃষ্ণ বেরা- উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
    • ● আনন্দময় বর্মন- অর্থ
    • ● অশোক দিন্দা- কৃষি বিপণন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র
    • ● নাদিয়ার চাঁদ বাউরি- পূর্ত এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ
    • ● বিশাল লামা- মাদ্রাসা শিক্ষা
    • ● শান্তনু প্রামাণিক- পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, খাদ্য ও সরবরাহ
    • ● মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র- শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি
    • ● উমেশ রাই- নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক, সংসদীয় বিষয়ক
    • ● পূর্ণিমা চক্রবর্তী- পর্যটন
    • ● কৌশিক চৌধুরী- শিক্ষা এবং অগ্নিনির্বাপন ও জরুরি পরিষেবা
    • ● ভাস্কর ভট্টাচার্য- শ্রম এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি
    • ● দিবাকর ঘরামি- সমবায়, বন ও পরিবেশ
    • ● অমিয় কিস্কু- কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন
    • ● কলিতা মাজি- আবাসন
    • ● গার্গী দাস ঘোষ- বিদ্যুৎ, অপ্রচলিত এবং পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি
    • ● বিরাজ বিশ্বাস- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং আইন ও বিচার
    • ● দীপঙ্কর জানা- সুন্দরবন বিষয়ক
    • ● সুমনা সরকার- স্বাস্থ্য
  • CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এক বড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। দীর্ঘ ৮ বছর আগে তৃণমূল জমানায় প্রত্যাহার করে নেওয়া সিবিআই (CBI)-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বা সাধারণ সম্মতি পুনরায় বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। এর ফলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার তদন্তের গতি কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে ১৯৪৬ সালের ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ (DSPE) আইনের ৬ নম্বর ধারার অধীনে সিবিআই-কে পুনরায় সাধারণ সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

    সাধারণ সম্মতি বা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বিষয়টি আসলে কী (CBI)?

    সিবিআই মূলত ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ আইনের অধীনে কা জ করে। যেহেতু পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের আওতাভুক্ত বিষয়, তাই কোনও রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে সিবিআই-এর (CBI) জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হয়। প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে রাজ্যগুলো সাধারণত তদন্ত সংস্থাকে একটি ‘ব্লাঙ্কেট পারমিশন’ বা সাধারণ সম্মতি দিয়ে রাখে। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ফলে গত কয়েক বছরে নতুন কোনও মামলার তদন্ত শুরু করার আগে সিবিআই-কে প্রতিবার রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হতো অথবা আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। এবার থাকে এই নিয়মের বড় পরিবর্তন সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সিবিআই পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (CPSU) এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও পূর্ব অনুমতি ছাড়াই সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিশেষ শর্তও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা (CBI) সাধারণ সম্মতি ফিরে পেলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে কর্মরত রাজ্য সরকারি আধিকারিক বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে এখনও রাজ্য সরকারের লিখিত আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে।

    ২০১৮ সালে কেন এই সম্মতি কেড়ে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

    ২০১৮ সালের নভেম্বরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই-এর সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করে অভিযোগ করেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআই (CBI) এবং ইডি-র মতো সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। সারদা চিটফান্ড থেকে শুরু করে কয়লা পাচার, গরু পাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নাম জড়ানোয় তৎকালীন সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকদের মত। এর ফলে তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছিল এবং বহু মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

    প্রশাসনিক সংস্কারে অনড় শুভেন্দু সরকার

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূল জমানার বিভিন্ন অনিয়ম সংশোধনে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

    • নিয়োগ দুর্নীতি: গত মে মাসেই সরকার শিক্ষক নিয়োগ, পুরসভা নিয়োগ এবং সমবায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিবিআই-কে বিশেষ অনুমোদন দিয়েছিল।
    • ২০১৯-এর হিংসার তদন্ত: ২০১৯ সালে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের নামে রেলের যে ৯৩ কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছিল, তার তদন্তের দায়িত্বও সম্প্রতি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
    • তদন্ত কমিশন: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১৮ই মে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে দুটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

    রাজ্যে পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ বন্ধ করা এবং দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে ফেলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিআই-এর (CBI) সাধারণ সম্মতি পুনরুদ্ধার সেই পথে আরও একটি ইতিবাচক ধাপ।

  • Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। সেই সংকটের মাঝেই বুধবার (১০ জুন) তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই দিনে দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সুস্মিতা দেবের পদত্যাগকে অনেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে চলা বৃহত্তর বিদ্রোহের অংশ হিসেবে দেখছেন। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    কে এই সুস্মিতা দেব?

    সুস্মিতা দেব দেশের এক সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। তাঁর মা বীথিকা দেব অসমের শিলচর কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সুস্মিতা। ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে অসমের শিলচর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে শিলচর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের অন্যতম সক্রিয় সাংসদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

    ৫ বছরের মেয়াদ তৃণমূলে

    কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টেনে ২০২১ সালের অগাস্ট মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে অসম ও ত্রিপুরায় দলের বিস্তারের লক্ষ্যে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সময় তৃণমূল তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল। দলে যোগদানের পর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন সুস্মিতা?

    রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে সুস্মিতা দেব লেখেন, ‘‘আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। আমার কার্যকালের সময় সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং সচিবালয়ের সমস্ত আধিকারিককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’ তবে পদত্যাগপত্রে দলত্যাগের কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন সুস্মিতা?

    পদত্যাগের পরই দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, একসময় দু’জনেই কংগ্রেসে ছিলেন। পরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিজেপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যতে সুস্মিতা দেবের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখছে না। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি বা বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের আগে মঙ্গলবারই তৃণমূল ছেড়েছেন সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। পদত্যাগের সময় তিনি সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয় আসলে ‘‘১৫ বছরের নৈরাজ্যপূর্ণ শাসনের ফল’’। এদিকে লোকসভায় তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ পৃথক গোষ্ঠী গঠনের পথে হাঁটছেন বলে খবর। এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা আসন বরাদ্দের আবেদন করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) বলেছেন, ‘‘আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে পৃথক বসার ব্যবস্থা চেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করব।’’ এই মন্তব্য কার্যত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান বলেই মনে করা হচ্ছে।

    এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা

    বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, বিদ্রোহী গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-তে যোগ দিতে পারে। তবে ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কারণে বিষয়টি সহজ নয়। আইন অনুযায়ী কোনও দলের সংসদীয় গোষ্ঠী ভেঙে আলাদা সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা ২০ বলে দাবি করা হলেও, তা আইনি স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

    সংকট সামলাতে সক্রিয় শীর্ষ নেতৃত্ব

    দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী ঐক্য রক্ষা এবং দলের ভাঙন রোধ করাই এই বৈঠকগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।

    বিধানসভাতেও অস্থিরতা

    সংসদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বে একটি পৃথক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। পরবর্তীতে বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ শুধুমাত্র একজন সাংসদের দলত্যাগ নয়, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের বিস্তারের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত সুস্মিতা দেবের প্রস্থান তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যদি বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ সত্যিই এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে তা শুধু সংসদীয় সমীকরণ নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও নতুন মোড় দিতে পারে। এখন নজর থাকবে— সুস্মিতা দেবের পর আর কতজন সাংসদ বা নেতা তৃণমূল ছাড়েন এবং বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

  • PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি এক উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে অর্থনৈতিক, সামাজিক শাসন ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ৷ মোদির নেতৃত্বে ভারত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী এবং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিদেশনীতি প্রসঙ্গে ভারত নিজস্ব একটি ব্যাখ্যাও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ৷ এমনই দাবি বিদেশ মন্ত্রকের (MEA)। ৯ জুন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা এক পোস্টে মন্ত্রক জানায়, এই সময়কালে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-র প্রকাশ

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ শুধু “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-কে শক্তিশালী করেনি, বরং বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সোলার জোট (International Solar Alliance)-এর মতো উদ্যোগ, সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল জন পরিকাঠামো হিসেবে ইউপিআই (UPI)-এর প্রসার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা—সব মিলিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর

    বিদেশ মন্ত্রক তাদের পোস্টে উল্লেখ করেছে, “গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতি অসাধারণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করা—ভারত জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক কল্যাণকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।” পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে (James Marape) একটি ভিডিও বার্তায় মোদিকে “নেতৃত্বের আদর্শ উদাহরণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারতে কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনার সাফল্য বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়।” একইসঙ্গে তিনি ভারত ও পাপুয়া নিউ গিনির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা

    মোদি সরকার শুরু থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও চিন এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চেষ্টা করছে, ভারত তার কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ), বাণিজ্য, এবং মানবিক সহায়তা দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ত্রিনিদাদ টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ (Kamla Persad-Bissessar)-ও প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আজ ভারত বিশ্ব রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

    মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে প্রেরণা

    টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে দীর্ঘতম ধারাবাহিক মেয়াদের নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছেন। ১০ জুন তাঁর টানা ৪,৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রিত্ব পূর্ণ হয়েছে, যা ভারতের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। এই উপলক্ষে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতা ও সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনরা কুমারা দিশানায়েক (Anura Kumara Dissanayake) এক চিঠিতে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ বারবার মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেছেন, আর এই দীর্ঘ মেয়াদ সেই আস্থারই প্রতিফলন। তিনি ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী উপস্থিতি

    মোদি সরকারের আমলে ভারত জি-২০ (G20) এর মতো শীর্ষ বৈশ্বিক ফোরামের সফল সভাপতিত্ব করেছে এবং ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (ISA)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে, ভারত গণতান্ত্রিক রাজনীতির ‘ভারতীয় বৈশিষ্ট্য’ তুলে ধরার জন্য পশ্চিমের সঙ্গে তার গণতান্ত্রিক ঐক্যমত্যের উপর জোর দেওয়া থেকে সরে এসেছে । বর্তমানে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভারতীয় উৎসের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ৷ এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ভারত তার ঐতিহাসিক ঔপনিবেশিক ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে ৷ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ‘বিশ্ব পরামর্শদাতা’ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছে ভারত ।

    কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বড় শক্তিগুলোর সাথে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, ‘কোয়াড’ (Quad)-এর মতো জোটে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আত্মনির্ভর ভারত

    দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিকাশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে বিদেশনীতিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতিগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব সাপ্লাই চেইনে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করা হচ্ছে। মোদি সরকারের আমলে মেক-ইন-ইন্ডিয়া উদ্যোগ, দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের সঙ্গে ভারত আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী ও নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করতে এবং সেটার বিকাশে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ।

    সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করা এই সরকারের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় বসার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে উন্নীত করে বহু-সংখ্যাবদ্ধ কৌশলের পক্ষে কথা বলছেন ৷ ভারত সবসময় নিজেকে একটি বিশ্বশক্তি বলে মনে করে।

    বিশ্বস্ত উদ্ধারকারী ও মানবিক রাষ্ট্র

    বিশ্বের কোথাও কোনো সংকট দেখা দিলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ভারত তাৎক্ষণিক সাহায্যকারী বা ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ ও আফ্রিকার সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং উন্নয়ন, প্রযুক্তি, জলবায়ু উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে বিশ্বপরিসরে দেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত এখন বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

  • India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের পরমাণু প্রতিরক্ষা নীতিতে কি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে? আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ‘সিপরি’ (SIPRI)-এর প্রকাশিত ‘ইয়ারবুক ২০২৬’-এ দাবি করা হয়েছে, ভারত সম্ভবত প্রথমবারের মতো সীমিত সংখ্যক পরমাণু ওয়ারহেডকে সক্রিয়ভাবে অপারেশনাল বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই মূল্যায়ন সঠিক হয়, তাহলে তা ভারতের দীর্ঘদিনের পরমাণু নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এসেছে, যখন সিপরি (SIPRI Report 2026) বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা পরমাণু প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ভারতের পরমাণু ভাণ্ডার বেড়ে ১৯০

    সিপরি-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের হাতে আনুমানিক ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮০। তবে সংখ্যার বৃদ্ধির চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হল সিপরি-র এই পর্যবেক্ষণ যে, ওই ১৯০টির মধ্যে প্রায় ১২টি ওয়ারহেড বর্তমানে অপারেশনাল ফোর্সের সঙ্গে মোতায়েন অবস্থায় থাকতে পারে। এতদিন পর্যন্ত ভারতের পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—ওয়ারহেড এবং ক্ষেপণাস্ত্র বা ডেলিভারি সিস্টেমকে আলাদা করে সংরক্ষণ করা। ফলে যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া দ্রুত পরমাণু হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। নতুন মূল্যায়ন সেই প্রচলিত ধারণার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?

    ভারতের পরমাণু নীতির ভিত্তি দীর্ঘদিন ধরে দুটি মূল নীতির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে—

    • ● নো ফার্স্ট ইউজ (No First Use Policy) বা প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি
    • ● ক্রেডিবল মিনিমাম ডেটারেন্স (Credible Minimum Deterrence) বা ন্যূনতম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা

    এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিপক্ষকে পরমাণু হামলা থেকে নিরুৎসাহিত করা, যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা নয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ারহেডগুলির সীমিত মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত তার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার উপযোগী করে তুলতে চাইছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সঙ্গে এই পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে।

    সমুদ্রপথে পরমাণু প্রতিরোধ শক্তিশালী করছে ভারত

    গত এক দশকে ভারত তার নিউক্লিয়ার ট্রায়াড বা ত্রিমুখী পরমাণু হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

    বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে—

    • ● স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য পরমাণু অস্ত্র
    • ● পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন

    বিশেষ করে আইএনএস অরিহন্ত (INS Arihant) শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ভবিষ্যৎ এসএসবিএন প্রকল্প ভারতের দ্বিতীয় আঘাত হানার সক্ষমতাকে (Second Strike Capability) আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে টহলরত সাবমেরিনে মোতায়েনকৃত পরমাণু ওয়ারহেডের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

    চিনের দ্রুত উত্থান ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

    সিপরি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতের বর্তমান পরমাণু আধুনিকীকরণের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হল চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও পরমাণু শক্তি। বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে নিজের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে চীন। বেইজিং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো নির্মাণ, উন্নত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোতায়েন এবং সাবমেরিন-ভিত্তিক পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নতুন প্রজন্মের অগ্নি সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে চীনের অভ্যন্তরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করা সম্ভব হয়। ফলে ভারতের পরমাণু কৌশল আর শুধুমাত্র পাকিস্তানকেন্দ্রিক নয়; বরং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখছে।

    পাকিস্তান ফ্যাক্টর এখনও গুরুত্বপূর্ণ

    চিনকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হলেও পাকিস্তান এখনও ভারতের নিরাপত্তা সমীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দুই দেশই গত এক দশকে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার সিস্টেম এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত সংঘাত পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের মোতায়েন ভারতকে সম্ভাব্য সংকটকালে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দিতে পারে।

    বিশ্বজুড়ে নতুন পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা

    সিপরি-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি পরমাণু শক্তিধর দেশের হাতে মোট প্রায় ১২,১৮৭টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে।

    এই দেশগুলি হল—

    • ● যুক্তরাষ্ট্র
    • ● রাশিয়া
    • ● চিন
    • ● ফ্রান্স
    • ● ব্রিটেন
    • ● ভারত
    • ● পাকিস্তান
    • ● উত্তর কোরিয়া
    • ● ইজরায়েল

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সব পরমাণু শক্তিধর দেশই বর্তমানে ব্যাপক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশ ক্রমশ আরও অনিশ্চিত ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।

    ভারতের পরমাণু নীতিতে কি বড় পরিবর্তন আসছে?

    যদিও সিপরি-র রিপোর্টে ভারতের প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করা (No First Use) নীতি বা সরকারি পরমাণু মতাদর্শে কোনও আনুষ্ঠানিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি, তবুও সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের সম্ভাব্য মোতায়েন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। অনেকের মতে, এটি ভারতের পরমাণু নীতির মৌলিক পরিবর্তন নয়; বরং ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলার প্রচেষ্টা। তবে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সিপরি, তখন ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

  • NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026)-এর পুনর্পরীক্ষা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা এই পুনর্পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেশের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে প্রথমবারের মতো ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নিট পুনর্পরীক্ষাকে (NEET-UG Re-Exam) সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত করতে শিক্ষা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ স্তরের বৈঠকের পর একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

    একাধিক কঠোর পদক্ষেপ

    দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক এবং প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগের জেরে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। আগামী ২১ জুন এই পরীক্ষার রি-টেস্ট বা পুনর্পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরায় যে কোনও ধরণের জালিয়াতি রুখতে এবার ভারতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি আসরে নামছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। এবার যাতে কোনওভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কারচুপির অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবহণের সময় কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বা কারচুপি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সমস্ত রকম ঝুঁকি এড়াতে এবার আর সাধারণ ডাক বিভাগ বা সড়কপথের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না। বায়ুসেনার বিশেষ পরিবহন বিমান এবং শক্তিশালী ‘মি-১৭’ (Mi-17) হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রগুলি আকাশপথে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হবে।

    ১৮টি স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন চিহ্নিতকরণ

    দেশের মোট ১৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। বায়ুসেনার তত্ত্বাবধানে মূল বিতরণ কেন্দ্র থেকে এই ১৮টি লোকেশনে প্রশ্নপত্রের গোপন প্যাকেটগুলি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে প্রশ্নপত্র পৌঁছাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে।

    প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

    এছাড়াও, দেশজুড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। পরীক্ষার উপর নজরদারি চালাতে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে।

    কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি

    পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে কড়া সতর্কতা। বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। তাঁদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিকারক, মডারেটর এবং অনুবাদকদের সম্পূর্ণ গোপন একটি সুরক্ষিত আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা একপ্রকার নজরবন্দি অবস্থায় থাকবেন। তাঁদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের মতো বাহ্যিক যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

    শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সক্রিয় সরকার

    বিগত দিনে নিট পরীক্ষা নিয়ে হওয়া কেলেঙ্কারি দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) তদন্ত চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় আগামী ২১শে জুনের পুনর্পরীক্ষাকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আস্থা ফেরানোর লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের একটি শিক্ষাগত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত রাখতে সামরিক বাহিনীর সাহায্য নেওয়া যেমন নজিরবিহীন, তেমনই এটি প্রমাণ করে যে সরকার এবার পরীক্ষার শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কতটা মরিয়া ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো

    গত ২ মে ২২ লাখ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এরপরই সামনে আসে সেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বেশিরভাগই অধ্যাপক এবং তাঁরা পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ছিল ভূত। এই ঘটনায় বিতর্ক চরমে উঠতেই নিটের পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ। আগামী ২১ জুন হতে চলেছে সেই পরীক্ষা। এখানে যাতে কোনওরকম জালিয়াতির ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কেন্দ্র। নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যার প্রথম ধাপ হল, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারীদের পৃথক রাখা। প্রশ্নপত্র তৈরি ও অনুবাদ থেকে শুরু করে নিরীক্ষণ, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং তা পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়কে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। শুধু তাই নয়, প্রশ্নপত্র পরিবহণকে নিরাপদ রাখতে বায়ুসেনার বিমান এবং তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হচ্ছে।

  • Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের জলখাবারের মেনুতে কিংবা রাতে ভাত-রুটির সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে যায় ডিম! পরিবারের বড়রা তো বটেই, ছোট্ট খুদে সদস্যের ও ডিম অত্যন্ত প্রিয়। তাই নিয়মিত ডিম খেতে একেবারেই আপত্তি নেই। কিন্তু তীব্র ভ্যাপসা গরমে রোজ ডিম খাওয়া কি উচিত? অনেক মায়ের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে! নিয়মিত ডিম খেলে হজমের সমস্যা কিংবা পেটের অসুবিধা হবে না তো? এমন প্রশ্ন ও অনেকের! চিকিৎসকেরা অবশ্য জানাচ্ছেন, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। শিশু হোক বা বয়স্ক, গরমে ডিম খাওয়া নিয়ে কয়েকটি দিক খেয়াল রাখলেই, বিপদ কিছুই হবে না।

    সন্তানের পাতে এই গরমেও কি ডিম দেওয়া যেতে পারে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের বয়স সাত মাস হোক বা সাত বছর, তাকে নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব ছোটো বয়স থেকেই নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। এতে শরীরে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। গরমে হজমের সমস্যার ভয়ে অনেকেই মনে করেন ডিম খাওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ডিম খেলে আলাদা ভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বরং, কীভাবে ডিম খাওয়া হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করছে, শরীর পুষ্টি পাবে নাকি অন্য সমস্যা তৈরি হবে!

    প্রোটিন-ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে ডিম

    তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত জলখাবার হোক কিংবা দুপুরে ভাতের পাতে ডিম দেওয়া যেতে পারে। এই গরমে ডিম সিদ্ধ করে খেলে কোনও অসুবিধা নেই। বরং এই গরমেও শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের এনার্জির জোগান বজায় রাখতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। ডিম নিয়মিত খেলে শরীর ভালো থাকবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ডিম খেলে শিশুর শরীরে প্রোটিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে। শিশুদের পেশির গঠন মজবুত হওয়া জরুরি। নিয়মিত ডিম খেলে পেশির গঠন ভালো হয়। তাছাড়া নিয়মিত ডিম খেলে প্রোটিনের ঘাটতি হয় না। প্রোটিন শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। গরমে অতিরিক্ত ঘামের জেরে অনেকেই সহজে ক্লান্তিবোধ করছেন।‌ ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খেলে এই ক্লান্তি দূর হবে। সেই পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখা যেতেই পারে। আবার নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে একাধিক ভিটামিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হয়। তাই শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে। যে কোনও রোগের বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। গরমে নানান রোগের প্রকোপ বাড়ছে। রোগ থেকে বাঁচতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাই ডিম খাওয়া উচিত। নিয়মিত ডিম খেলে হাড় মজবুত হয়। শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটে। তাই গরমকালেও শিশুদের নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতেই পারে। এতে বাড়তি কোনো অসুবিধা নেই।

    কোন দিকে নজর দিলে তবেই গরমে ডিম খেলে অসুবিধা হবে না?

    গরমেও নিয়মিত ডিম খেলে বাড়তি অসুবিধা হবে না। তবে কয়েকটি দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম প্রাণীজ প্রোটিন। তাই ডিম হজম হতে সময় লাগে। শিশুদের দিনে একাধিক ডিম দেওয়া উচিত নয়। অনেক সময়েই তাদের অতিরিক্ত প্রোটিন হজম করতে অসুবিধা হয়। তাই পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে দিনে একটা ডিম দেওয়াই যথেষ্ট। গরমে হজমের সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। তাই শিশু ডিম বা অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিন খেলে অসুবিধা নেই। তবে হজমের গোলমাল এড়াতে শিশু পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, ডিমের মতো উপকারি প্রাণীজ প্রোটিন শিশুকে সকালে জলখাবারের সঙ্গে দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের প্রথম খাবার পুষ্টিসমৃদ্ধ হলে, তা শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারি হয়। তাছাড়া দিনভর শিশুর নানান শারীরিক কার্যকলাপ থাকে। ফলে হজম করতে সুবিধা হয়। আবার শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জিও জোগান দেয় ডিম। তাই তাঁদের পরামর্শ প্রাতঃরাশেই পাতে থাকুক ডিম।

    সিদ্ধ ডিমে সবচেয়ে বেশি উপকার

    তবে দুপুরে বা রাতের মেনুতেও ডিম রাখা যেতে পারে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, দুপুর বা রাতের মেনুতে ডিম থাকলে, তার সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি থাকা জরুরি। ডিম সিদ্ধের সঙ্গে গাজর, ব্রোকলি, বিনস কিংবা আলুর মতো সব্জি সিদ্ধ করে সামান্য পরিমাণ বাটারে নেড়ে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রাণীজ প্রোটিন সহজে হজম হবে। ভিটামিন ও প্রোটিনের ঠিকমতো ব্যালেন্স হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, শিশুদের ডিম সিদ্ধ দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন হজমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণীজ প্রোটিন অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। তাই মাছ ও মাংস খেলেও অনেকে হজমের সমস্যায় ভোগেন। ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেলে তার সম্পূর্ণ প্রোটিন শরীর পায়‌। আবার সিদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত তেল-মশলার সমস্যাও একদম থাকে না। ফলে শরীর সম্পূর্ণ পুষ্টি পাচ্ছে। ডিমের অমলেট হোক বা পোচ, অনেক সময়েই সেটা শিশুর পক্ষে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই গরমে শিশুকে নিয়মিত একটা সিদ্ধ ডিম দিলে শরীর ভালো থাকবে। উপকার পাওয়া যাবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share