Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • SIR in Bengal: সুপ্রিম নির্দেশে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকেই এসআইআর শুনানিতে ডাক নির্বাচন কমিশনের

    SIR in Bengal: সুপ্রিম নির্দেশে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকেই এসআইআর শুনানিতে ডাক নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিতে গিয়ে এবার লজিক্যাল ডেসক্রিপেন্সিতে থাকা ১ কোটি ৩৬ ভোটারকেই শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নামের বানানের ছোটখাটো ভুলের ক্ষেত্রে বিএলওরাই তা ঠিক করে দেবেন। এই ধরনের কেসে শুনানিতে ডাকা হবে না। এমনকি যাদের নামে শুনানির নোটিশ তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সেই নোটিশও স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে ১ কোটি ৩৬ লক্ষকে নয়, শুনানিতে শুধুমাত্র ডাকা হবে ৯৪ লক্ষকে। এর ফলে পিছিয়ে যেতে পারে এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন। কমিশন সূত্রে খবর, ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করা সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা নাও যেতে পারে।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

    শুধু ৯৪ লক্ষকে নয়, এরই মধ্যে লজিক্যাল ডেসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের আবেদন করে আদালতে যায় রাজ্যের শাসক দল। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় লজিক্যাল ডিষ্কৃপেন্সির তালিকা প্রকাশ করার। সূত্রের খবর, সেক্ষেত্রে তালিকা প্রকাশ করার সময় ১ কোটি ৩৬ লক্ষের তালিকায় প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। ফলতো আর ৯৪ লক্ষকে নয়, এই ১ কোটি ৩৬ লক্ষকেই শুনানিতে ডাকা হবে। সুপ্রিম কোর্ট মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে এসআইআর-এর বৈধ নথি হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশনকে।

    কী কী করতে হবে ভোটারকে

    এসআইআর (SIR in Bengal) ঘিরে বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর এসেছে। সেই নিয়ে আপাতত সিইও দফতরের কাছ থেকে কোনও তথ্য চায়নি নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে জেলাশাসকরাও কোনও অভিযোগ জানাননি। শুনানি সম্ভব না হলে, কী করণীয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতো গাইডলাইন ঠিক করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে নথি যাচাইয়ের। ২০০২ সালের তালিকায় নাম রয়েছে যাঁদের, যাঁদের নাম নেই সেই তালিকায়, এবং যাঁদের তথ্য়ে অসঙ্গতি রয়েছে, এমন তিনটি গোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়েছে ভোটারদের। নথি জমা দিতে বিএলএ সহ কাউকে পাঠানো গেলেও, শুনানিতে ভোটারকে থাকতেই হবে। শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বয়সের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে লাগবে সার্টিফিকেটও। রিসিভ কপি সিল লাগিয়ে দিলেই হবে, কোন আলাদা ফরম্যাট নেই। ডমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে এখনও এরাজ্যের জন্য কোন নির্দেশিকা আসেনি।

  • India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ নির্বাচনের (Bangladesh General Elections) প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশে। প্রতিদিন হিন্দু হত্যার খবর আসছে। বাড়ছে ভারত বিদ্বেষ (India-Bangladesh Relations)। সেই আবহেই বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য কেন্দ্রে নিযুক্ত কর্মীদের পরিবারকে দেশে পাঠানোর পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটমুখী বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিচার করেই এই পরামর্শ বিদেশ মন্ত্রকের। তবে এ-ও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্যান্য কেন্দ্র খোলা থাকবে। সেখানে কাজও চলবে। শুধু বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, সেখান থেকে কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার, তাঁদের উপর নির্ভরশীল লোকজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল ভারত।

    ভোটের আগে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে। ওই দিন আবার গণভোটেরও ঘোষণা করেছে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যেখানে ভাবী প্রধানমন্ত্রীদের কার্যকালের নির্দিষ্ট মেয়াদ, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিধিতে সম্মতি জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। তার আগেই পদ্মাপার থেকে নিজের দেশের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে সরিয়ে নিচ্ছে ভারত। দিল্লি সূত্রে খবর, নির্বিঘ্নে এই ‘উদ্ধারকার্য’ চালানো হবে। বাংলাদেশে স্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্য সব মিশন থেকে কূটনীতিক এবং অন্য আধিকারিকদের পরিবার ও তাঁদের উপর নির্ভরশীলদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

    কবে ভোট বাংলাদেশে

    বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা। ১২-১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ চলেছে। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

    পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ, ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং

    সাউথ ব্লকের তরফে জানানো হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য পদে অধিষ্ঠিত যাঁরা, তাঁদের কাজকর্ম আগের মতোই চলবে। ঢাকায় হাইকমিশনের পাশাপাশি, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহি, সিলেটেও ভারতীয় কূটনীতিকরা মোতায়েন রয়েছেন। দিল্লি সূত্রে খবর, ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের জন্য বাংলাদেশকে নন-ফ্যামিলি পোস্টিং (Non-Family Destination) ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার নিয়ে গিয়ে থাকার অনুপযুক্ত বাংলাদেশ। পাকিস্তান আগে থেকেই ওই তালিকায় রয়েছে।

    কেন নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়

    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে ঠেকেছে। পদ্মাপারে কূটনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়াতেও বাধা এসেছে লাগাতার। বিশেষ করে গত বছর ডিসেম্বেরে ইসলামি যুব নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে সেখানকার কট্টরপন্থীদের ভারতবিরোধী মনোভাব আরও প্রকট হয়েছে। লাগাতার হুমকি-হুঁশিয়ারি উড়ে আসছিল। হাদির খুনিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সেই নিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর মিছিল করে ভারতীয় হাইকমিশনে যায় ‘জুলাই ঐক্য মঞ্চ’। এমতাবস্থায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ঢাকাকে বার্তাও দেয় দিল্লি। কিন্তু তার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি তেমন। ওই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ডাক দেয় সে দেশের একটি গোষ্ঠী। ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনের দফতর লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। উত্তেজনা ছড়ায় সিলেটেও। তার পরেই চট্টগ্রামের ভিসা-কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেটে ভারতের উপদূতাবাসের কাছেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।

    নির্বাচন ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা

    নির্বাচন ঘিরেও অশান্তি বাঁধতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইতিমধ্যেই। কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ দিল্লি। তাই বাংলাদেশ থেকে নিজেদের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। বাংলাদেশের নির্বাচন (Bangladesh Election) ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রধান প্রতিপক্ষ জামাত ইসলামের ও বিএনপি (BNP) জোট নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তবে জামাত ও তাদের জোর শরিকদের তরফেই জোরালো অভিযোগ করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের (Yunus) সঙ্গে দেখা করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি ইঙ্গিত করেছে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারে। অন্যদিকে, জামাতের বক্তব্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি এখনও দেশে তৈরি হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিএনপি নেতারাও। তারাও গুচ্ছ অভিযোগ করেছেন নির্বাচন নিয়ে। ‌যদিও এনসিপি এবং জামাতের সঙ্গে বিএনপির অভিযোগের ফারাক হলো তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কোনও রকম দোষারোপ করেনি। বরং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশন কে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানাচ্ছে ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই হিংসার সম্ভাবনা বাড়ছে। দেশটিতে হামলা, হত্যার ঘটনা অব্যাহত। ভোটের আগে ভারত বিরোধিতা চরমে উঠবে বলে নানা মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংখ্যালঘু হিন্দু-হত্যা চলছেই

    সম্প্রতি দফায় দফায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর হামলার খবর আসতে শুরু করে বাংলাদেশ থেকে। ময়মনসিংহে বেধড়ক মারধরের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয় দীপুচন্দ্র দাসকে। সেই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, অসম এবং ত্রিপুরাতেও প্রতিবাদ শুরু হয়। এর ফলে বাংলাদেশও সাময়িক ভাবে ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখে। তাদের তরফেও বাংলাদেশি কূটনীতিক ও আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণের বার্তা আসে।

    ইউনূসের আমলে অপরাধ বেড়েছে

    বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সে দেশে অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছ। অপহরণের অভিযোগ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭১ শতাংশ। ডাকাতির অভিযোগও বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। আসন্ন ভোটপর্বে বড়সড় জয় নিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতা ফিরতে পারে তারেক রহমানের বিএনপি। এমনই আশা করা হচ্ছে। এর আগে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভোট মিটলে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না , সেদিকেই নজর রাখছে দিল্লি।

  • Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাড় কিংবা পেশির পাশপাশি মস্তিষ্কের শক্তি (Brain Power) কতখানি রয়েছে! বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো থাকছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত চল্লিশ বছরের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বাড়তি নজরদারি জরুরি। না হলেই বাড়বে বিপদ! অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ইংল্যান্ডের একদল চিকিৎসক গবেষক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখেছেন, বিশ্বজুড়ে কমছে স্মৃতিশক্তি। বিশেষত চল্লিশ বছরের পরে মনে রাখার ক্ষমতা হ্রাস (Memory Problems After 40) পাচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। অ্যালজ্যাইমার (Alzheimer’s Disease) কিংবা ডেমেনশিয়ার (Dementia) মতো নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসের (Brain Function Slowing Down) একাধিক কারণের মধ্যে অন্যতম হলো উপযুক্ত খনিজ পদার্থের সরবরাহের অভাব। ফলে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ক্ষমতা কমতে থাকে।

    কোন খনিজের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের (Magnesium Benefits Brain) অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে ম্যাগনেশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশি এবং হাড় মজবুত রাখতে এই খনিজ পদার্থ খুব জরুরি। তবে হাড়-পেশির পাশাপাশি মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতেও এই খনিজ খুব জরুরি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমছে।

    মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে ম্যাগনেশিয়াম কীভাবে সাহায্য করে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের একাধিক জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া ঠিকমতো ভাবে চলতে সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম। এই খনিজ পদার্থের জোগান ঠিকমতো থাকলেই জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া হবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তার উপরেও এর প্রভাব পড়বে।
    ম্যাগনেশিয়াম ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম এই ক্লান্তিবোধ কমায়। ফলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
    মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে উত্তেজনা প্রশমন জরুরি। অতিরিক্ত জেলা উত্তেজিত হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুর উপরে বিশেষ প্রভাব ফেলে। এই উত্তেজনা প্রশমনে বিশেষ সাহায্য করে। তাই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকিও কমে।

    কেন চল্লিশের চৌকাঠে স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ অ্যালজাইমারের শিকার। ভারতেও এই সমস্যা বাড়ছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন‌। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স ৬০-র চৌকাঠ ছুঁলেই অনেকেই এই রোগে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু রোগের জানান পাওয়া যেতে পারে চল্লিশের পরেই। নানান উপসর্গ সম্পর্কে সতর্ক হলেই পরিস্থিতি বোঝা সহজ হয়। আর রোগের ঝুঁকি কমাতে তাই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। চল্লিশ বছরের পর থেকেই তাই স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বিশেষত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা যাতে না কমে সেদিকে নজরদারি জরুরি।

    কীভাবে সহজে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কিছু খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে। শরীরের প্রয়োজনীয়তা চাহিদা মেটাতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও বাদাম জাতীয় খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দেয়। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কাজুবাদাম যে কোনও একধরনের বাদাম নিয়মিত খেলেই ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সহজ হবে। ম্যাগনেশিয়ামের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে নিয়মিত যে কোনও ধরনের ডাল‌ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডালে প্রোটিনের পাশপাশি প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। ডালের পাশাপাশি ছোলা, মটরের মতো দানাশস্য নিয়মিত খাওয়া জরুরি। সব্জির মধ্যে পালং শাক ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সহজেই পূরণ করে‌। এছাড়া কুমড়োর বীজ, অ্যাভোকাডো, টক দই ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। এগুলো নিয়মিত খেলে ম্যাগনেশিয়াম জোগান ঠিকমতো হয়‌।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Online Gaming Act: যুবসমাজকে জুয়ার নেশা থেকে বাঁচাতে অনলাইন গেমিংয়ে কড়াকড়ি! আরও ২৪২ ওয়েবসাইট ব্লক করল কেন্দ্র

    Online Gaming Act: যুবসমাজকে জুয়ার নেশা থেকে বাঁচাতে অনলাইন গেমিংয়ে কড়াকড়ি! আরও ২৪২ ওয়েবসাইট ব্লক করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের যুবসমাজকে জুয়ার নেশা থেকে বাঁচাতে, তাদের আর্থিক দিক থেকে সর্বস্বান্ত হওয়া আটকাতে ফের ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’ কেন্দ্রের। সরকারি সূত্র অনুযায়ী খবর, বুধবার ২৪২টি বেআইনি অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ব্লক করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৮০০-র বেশি বেআইনি বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন গেমিং আইন (Online Gaming Act) কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই ক্ষেত্রে নজরদারি ও আইনের বাস্তবায়ন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে যুব সমাজ

    কেন্দ্রের দাবি, এই ধরনের অবৈধ প্ল্যাটফর্ম আর্থিক প্রতারণা, সামাজিক অবক্ষয় ও এই ধরণের জুয়ার প্রতি আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে যুব সমাজ। সেই কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ। এই সাইটগুলি মূলত, তরুণদের লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়। প্রথমে অল্প টাকা জিতিয়ে, পরে বড় অঙ্কের টাকা হারাতে বাধ্য করে এবং তাদের ঋণের জালে পুরো ফাঁসিয়ে দেয়। এইরকম একাধিক উদাহরণ রয়েছে।

    অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

    সরকারি সূত্র আরও জানাচ্ছে, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অনলাইন বেটিং-গ্যাম্বলিংয়ের মাধ্যমে হওয়া আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি রুখতেই এই অভিযান জারি থাকবে। ভবিষ্যতেও প্রযুক্তির সাহায্যে এমন বেআইনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস। এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা—অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতিতেই চলছে কেন্দ্র।

    অর্থ পাচার, সামাজিক অবক্ষয় রোধ

    গত বছরের অগস্টে সংসদে পাশ হয়েছিল ‘দ্য প্রোমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর থেকেই এই আইন কঠোর ভাবে কার্যকর করা শুরু হয়। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত ৭,৮০০-টিরও বেশি এই ধরনের অবৈধ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনেক অ্যাপ আবার অর্থ পাচার এবং হাওয়ালা লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয় বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। গেমিং আসক্তিকে ইতিমধ্যেই একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই অ্যাপগুলি তরুণ প্রজন্মকে ফাঁদে ফেলে। যার জেরে বহু পরিবার আর্থিক সঙ্কটে পড়ছে। এমনকী বাড়ছে এর জেরে আত্মহত্যার ঘটনাও। জুয়ার আসক্তির কারণে মানসিক চাপ, আত্মহত্যার প্রবণতা এবং পারিবারিক সমস্যা প্রতিরোধ করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

    এখনও পর্যন্ত ৭৮০০-এর বেশি সাইট বন্ধ

    এটা প্রথমবার নয়। গত কয়েক বছর ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের অগস্টে সংসদে পাশ হয়েছিল ‘দ্য প্রোমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর থেকেই এই আইন কঠোর ভাবে কার্যকর করা শুরু হয়। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত ৭,৮০০-টিরও বেশি এই ধরনের অবৈধ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া বা আইন লঙ্ঘনকারী কোনো সাইটই এখন থেকে আর ছাড় দেওয়া হবেনা।

    অনলাইন গেমিং আইন, ২০২৫

    অনলাইন গেমিং আইন, ২০২৫ ( Promotion and Regulation of Online Gaming Act, 2025) ভারতের দ্রুত-বর্ধনশীল অনলাইন গেমিং খাতে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। এই আইনে বৈধ অনলাইন গেম ও নিষিদ্ধ জুয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
    নতুন আইনে অবৈধ রিয়েল-মানি বেটিং বা চ্যান্স-ভিত্তিক গেম চালালে ভারী জরিমানা ও ফৌজদারি শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আর্থিক লেনদেন ট্র্যাক করা, পেমেন্ট গেটওয়ে খতিয়ে দেখা এবং অবৈধ বেটিং অ্যাপের প্রচারে যুক্ত সেলিব্রিটি বা ইনফ্লুয়েন্সারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    কীভাবে ব্লক করা হচ্ছে ওয়েবসাইট

    অবৈধ ওয়েবসাইট ব্লক করার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৬৯এ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধারায় জনস্বার্থবিরোধী বা অবৈধ কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে ব্লকিং নির্দেশ পাঠাচ্ছে।

    পরবর্তী পদক্ষেপ কী

    সরকার একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা ‘অনলাইন গেমিং অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই সংস্থার কাছে দেওয়ানি আদালতের (Civil Court) মতো ক্ষমতা থাকবে। তারা যেকোনো অবৈধ গেম বন্ধ করা, তলব করা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখবে। অনলাইন গেমিং আইন, ২০২৫ ( Promotion and Regulation of Online Gaming Act, 2025) অনুযায়ী, অবৈধ অনলাইন জুয়া খেলালে বা সেই সুবিধা প্রদান করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এই ধরণের প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন দিলে ২ বছরের জেল এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান রয়েছে।

    ডিজিটাল ইন্ডিয়া, সুরক্ষিত ইন্ডিয়া

    “ডিজিটাল ইন্ডিয়া একটি সুরক্ষিত ইন্ডিয়াও হওয়া উচিত” – এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যে কতটা দৃঢ়, তা এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলি থেকেই আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল। সরকার স্পষ্ট করেছে, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য কেবল অবৈধ জুয়া বা বেটিং আটকানো। এর প্রভাবে যাতে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ ব্যাহত না হয়, তার জন্য ই-স্পোর্টস বা শিক্ষামূলক ও গঠনমূলক গেমগুলিকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল দুনিয়াকে নিরাপদ করার পথে এক বড় পদক্ষেপ।

     

     

     

     

     

  • Virat Kohli and Rohit Sharma: বিরাট পতন রো-কো’র! বার্ষিক চুক্তিতে বড় বদল আনতে চলেছে বিসিসিআই

    Virat Kohli and Rohit Sharma: বিরাট পতন রো-কো’র! বার্ষিক চুক্তিতে বড় বদল আনতে চলেছে বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চুক্তিতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বিসিসিআই সূত্রে খবর, বার্ষিক চুক্তির কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচক কমিটি। যার জেরে আর হয়তো থাকবে না এ+ ক্যাটেগরি। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তার প্রভাব পড়তে পারে দলের দুই সিনিয়র তারকা বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার উপর। বিসিসিআই বলেছে, অজিত আগরকরের নেতৃত্বে নির্বাচক কমিটি চার স্তরীয় চুক্তির বদলে তিনটি ক্যাটেগরি অর্থাৎ এ, বি, সি রাখার কথা চলছে।

    কীসের ভিত্তিতে কোন ক্যাটেগরি

    বর্তমানে এ+ ক্যাটেগরিতে যে ক্রিকেটার থাকেন বছরে তিনি ৭ কোটি টাকা পান। এই ক্যাটেগরিই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক চুক্তি নতুন কাঠামোয় এলে খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন করা হবে তাঁদের বর্তমান ফর্মের ভিত্তিতে। কোন ফর্ম্যাটে খেলছেন এবং দলে তাঁর ভবিষ্যতের ভিত্তিতে। তারকা নাম কিনা বা অতীতে কী করেছেন, এই কৃতিত্বের উপর নির্ভর করে নয়। এই অবস্থায় শুধুমাত্র ওয়ান ডে খেলার কারণে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে গ্রেড বি-তে রাখা হতে পারে। ওই ক্যাটেগরিতে থাকা ক্রিকেটার বার্ষিক ৩ কোটি টাকা পান। নতুন বার্ষিক চুক্তিতে শুধুমাত্র আর্থিক সুরক্ষা নয়, খেলোয়াড়দের গুরুত্বও বিবেচিত হবে।

    আগামী বৈঠকে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা

    এক বিসিসিআই কর্তা বলেছেন, “এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে খেলোয়াড়দের টানা খেলার চাপ, ফর্ম্যাটের দাবি এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা যাতে যায়, সে দিকে নজর রেখে ভাবা হতে পারে।” আগামী বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেখানেই পরিষ্কার হবে আর্থিক ভাবে কোনও পরিবর্তন আসছে কি না। নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে ভারতীয় ব্যাটারদের ব্যর্থতার মাঝে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে থেকেছেন বিরাট কোহলি। প্রথম ম্যাচে ৯৩ রান করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে বড় রান না পেলেও শেষ একদিনের ম্যাচে বিরাটের ব্যাট থেকে এসেছে ১২৪ রানের লড়াকু ইনিংস। তিন ম্যাচেই ব্যর্থ হয়েছেন রোহিত। এবার বোর্ডের কোপের মুখে পড়তে পারেন দুই তারকা ক্রিকেটার। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রদবদল হলে এক ধাক্কায় ৪ কোটি টাকা বেতন কমতে পারে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিদের।

  • Kishtwar Encounter: ‘অপারেশন ত্রাশি–আই’ অব্যাহত, কিশতওয়ারে জঙ্গি ঘাঁটি ভাঙল নিরাপত্তা বাহিনী

    Kishtwar Encounter: ‘অপারেশন ত্রাশি–আই’ অব্যাহত, কিশতওয়ারে জঙ্গি ঘাঁটি ভাঙল নিরাপত্তা বাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ারে (Kishtwar Encounter) জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানা ভেঙে দিল নিরাপত্তা বাহিনী। জঙ্গিদের খোঁজে চালানো ব্যাপক তল্লাশি অভিযান মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে পড়েছে। জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। চলমান ‘অপারেশন ত্রাশি–আই’-(Operation Trashi-I) এর মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের একটি গোপন ডেরার খোঁজ পায় নিরাপত্তা বাহিনী। ওই ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী—রেশন, ঘি, বাসনপত্র, গ্যাস সিলিন্ডার ও স্টোভ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

    গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে জঙ্গিরা 

    সূত্রের খবর, আস্তানাটি শীতকালের জন্য পর্যাপ্ত রেশনে ভর্তি ছিল এবং একাধিক জঙ্গির থাকার মতো বড় ছিল। এই সাফল্য আসে তার একদিন পর, যখন কিশতওয়ারে (Kishtwar Encounter) নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে এক প্যারাট্রুপার শহিদ হন। রবিবার কিশতওয়ারের চাত্রু এলাকার সোনার গ্রাম সংলগ্ন মান্দ্রাল–সিংহপোরা অঞ্চলে অভিযান শুরু হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে এনকাউন্টার ঘটে। পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত ২–৩ জন জঙ্গি এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে ধারণা। জঙ্গিরা গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের একটি সুসজ্জিত আস্তানা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়, যেখানে বিপুল পরিমাণ শীতকালীন রসদ—খাবার, কম্বল ও বাসনপত্র—মজুত ছিল।

    জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক

    অভিযান তদারকিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন জম্মু জোনের আইজি পুলিশ ভীম সেন তুতি এবং সিআরপিএফ-এর আইজি (জম্মু) আর গোপাল কৃষ্ণ রাও। তাঁদের সঙ্গে একাধিক সেনা আধিকারিকও সেখানে শিবির গেড়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার সকালে জম্মুতে শহিদ স্পেশাল ফোর্স কমান্ডো হাবিলদার গজেন্দ্র সিংকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সাতওয়ারিতে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহিদের মরদেহ নিজ গ্রামে পাঠানো হয়। সোমবার দুপুরে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ওই জঙ্গি আস্তানা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী এখন সেই ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (OGW) শনাক্ত করার চেষ্টা করছে, যারা জঙ্গিদের জন্য বিপুল পরিমাণ রেশন, ডাল, বাসনপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ ও পরিবহণে সহায়তা করেছিল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী অন্তত চারজন জঙ্গির দীর্ঘ শীতকালীন থাকার জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেনাবাহিনীর হোয়াইট নাইট কর্পস জানিয়েছে, চাত্রু এলাকায় ‘অপারেশন ত্রাশি-আই’ (Operation Trashi-I) অব্যাহত রয়েছে। কর্পস, পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি আরও জোরদার করেছে। কঠিন ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল ও খাড়া ঢালের মধ্যেও ড্রোন ও স্নিফার ডগের সাহায্যে সেনা, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর একাধিক দল তল্লাশি চালাচ্ছে। সীমিত দৃশ্যমানতা ও চলাচলের অসুবিধা সত্ত্বেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত দুই থেকে তিনজন জঙ্গি ওই এলাকায় আটকে থাকতে পারে।

  • Anti-Stealth Radar Grid: এফ-৩৫ থেকে জে-৩৫— এখন নজরে সবাই, অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার প্রযুক্তিতে বিরাট লাফ ভারতের

    Anti-Stealth Radar Grid: এফ-৩৫ থেকে জে-৩৫— এখন নজরে সবাই, অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার প্রযুক্তিতে বিরাট লাফ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট (FGFA) মোকাবিলায় ভারত এমন এক অত্যাধুনিক অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিড (Anti-Stealth Radar Grid) উন্মোচন করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ (F-35), রাশিয়ার সু-৫৭ (Su-57) এবং চিনের জে-৩৫ (J-35) স্টেলথ যুদ্ধবিমান সনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম।

    ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ঘোষণা

    অপারেশন ‘সিন্দুর’-এর (Operation Sindoor) পর ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র (DRDO) নেতৃত্বে ভারত সরকার ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (Mission Sudarshan Chakra) ঘোষণা করেছে। এই মিশনের অধীনে ডিআরডিও-সহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সংস্থাকে পরবর্তী প্রজন্মের রেডার প্রযুক্তি উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য স্টেলথ বিমান ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন সহ আকাশ-পথে ধেয়ে আসা হুমকির মোকাবিলা করা।

    স্টেলথ-বিপদের মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি

    স্টেলথ প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানগুলির রেডার ক্রস-সেকশন (Radar Cross-Section) অত্যন্ত কম, ফলে প্রচলিত রেডার ও এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক (India Air Defence) এড়িয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে সহজ হয়। বিশ্বজুড়ে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার দৌড়ে ভারতও পিছিয়ে নেই। একদিকে যেমন অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (এএমসিএ) প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশ, তেমনই অন্যদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার-স্টেলথ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে।

    অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিডের বৈশিষ্ট্য

    ভারতের নতুন অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিডটি (Anti-Stealth Radar Grid) প্যাসিভ কোহেরেন্ট লোকেশন রেডার (PCLR) প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই প্রযুক্তিকে জাতীয় ‘লো অবজারভেবল ডিটেকশন নেটওয়ার্ক’ (LODN)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

    কীভাবে কাজ করে পিসিএলআর?

    পিসিএলআর একটি প্যাসিভ মাল্টি-স্ট্যাটিক রেডার ব্যবস্থা, যা নিজে কোনও রেডিও সিগন্যাল ছোড়ে না। প্রচলিত রেডারের মতো তরঙ্গ পাঠিয়ে প্রতিফলন শোনার পরিবর্তে, এই ব্যবস্থা পরিবেশে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান সিগন্যাল—যেমন এফএম রেডিও সম্প্রচার—ব্যবহার করে, তাদের সনাক্তকরণ করে। আকাশে কোনও বিমান চলাচল করলে ওই সিগন্যালের মধ্যে যে ব্যাঘাত ঘটে, তা বিশ্লেষণ করে বিমান সনাক্ত ও ট্র্যাক করা হয়। ফলে রেডারের অবস্থান গোপন থাকে।

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় শক্তিবৃদ্ধি

    নতুন অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিডটি আকাশ প্রতিরক্ষায় ভারতের বিদ্যমান দেশীয় ও আমদানিকৃত ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। এর মধ্যে রয়েছে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ (S-400), বারাক-৮ এবং স্পাইডার সিস্টেম। এই সমন্বয়ের মাধ্যমে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিড (Anti-Stealth Radar Grid) ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে এবং ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে দেশকে কৌশলগত বাড়তি সুবিধা দেবে।

  • S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তান। তাদের পাশে না দাঁড়ানোর জন্য পোল্যান্ডকে বিশেষ বার্তা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। পাকিস্তানের জঙ্গিনীতি থেকে দূরে থাকাই উচিত ওয়ারশ রাজনীতির। সোমবার পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কিকে এই বার্তায় দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কি। সোমবার ছিল তার সফরের শেষদিন। আর এই সফর শেষের আগে বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে পোল্যান্ডকে সাফ বার্তা ভারতের।

    জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ, সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তা

    সূত্রের খবর, ভারত ও পোল্যান্ড দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে এসেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ। আর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরের সমস্যা মেটাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলেও জানায় ভারত। এমনকি সন্ত্রাসবাদে মদত না দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সরাসরি ইসলামাবাদের নাম না নিলেও পাকিস্তানকে তোপ দেগেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর বলেন-“আমরা আশাবাদী, পোল্যান্ড সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই চলবে।” জয়শঙ্করের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান সফরের সময় পোল্যান্ড কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর বলেন, পোল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়টি জানে। তিনি বলেন, “উপপ্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অঞ্চল সম্পর্কে অবগত এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানেন। পোল্যান্ডের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং আমাদের প্রতিবেশী সন্ত্রাসী পরিকাঠামোকে কোনওভাবেই উৎসাহ না দেওয়া।”

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের পর সিকোরস্কি সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি জানান, পোল্যান্ড নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসমূলক হামলার শিকার হয়েছে। সিকোরস্কি বলেন, “সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথে চলন্ত ট্রেনের নিচে বিস্ফোরণ ঘটে, যা কার্যত রাষ্ট্র-সন্ত্রাসের উদাহরণ।” ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসে অর্থ জোগানো এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে সতর্ক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত।

    রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক ও প্যারিসে আগেও আমি ইউক্রেন সংঘাত ও তার প্রভাব নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। একই সঙ্গে বলেছি, ভারতের বিরুদ্ধে এই নির্বাচনীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া অন্যায় ও অযৌক্তিক। আজও আমি সেই কথাই পুনরায় বলছি।” জবাবে সিকোরস্কি বলেন, “নির্বাচনী টার্গেটিং শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আরও নানা রূপ রয়েছে।”

     

     

     

     

     

  • India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সম্পর্কে আরও উষ্ণতা যোগ হল আবু ধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের (India UAE meeting) ভারত সফরে। মাত্র দুই ঘণ্টার সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট, ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক (India UAE relation) এখন শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।

    ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক

    সোমবার সুদূর সংযুক্ত আমিরশাহি থেকে ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতেই চলে বৈঠক। আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই ঝটিকা সফরের কিছু মুহূর্ত নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্য়ান্ডেলে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদি লিখেছেন, ‘আমার ভাই, প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক।’

    ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী বৈঠক

    নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষায় ভারতে এসেছিলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। ছিলেন মাত্র তিন ঘণ্টা। এর মধ্য়েই নানা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে দু’পক্ষের মধ্যে। জায়েদের সফর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগ থেকে মহাকাশ গবেষণা — নানাবিধ বিষয়ে হাত মেলাতে প্রস্তুত হয়েছে ভারত এবং আরব আমিরশাহি। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমিত এবং বর্ধিত পরিসরের আলোচনা হয়। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রের কথায়, বৈঠকের সময় কম হলেও সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট সই হয়, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। মহাকাশ ক্ষেত্রে দু’টি লঞ্চ সুবিধা এবং স্যাটেলাইট প্রস্তুত কারখানা তৈরির জন্যও চুক্তি হয়েছে, যা দু’দেশের যৌথ মহাকাশ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা

    বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। শক্তি খাতে আমিরাত প্রতি বছর ভারতের জন্য ০.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএই দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা নেবে। ভারত ও আমিরশাহি স্বাগত জানিয়েছে এইচপিসিএল (HPCL) এবং এডিএনওসি (ADNOC Gas)–এর মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি (LNG) সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরকে (India UAE energy deal)। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে ভারত বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে। এর ফলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা আরও স্থিতিশীল হবে।

    পরমাণু শক্তি ব্যবহার

    শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার দরজা খোলা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবারের মতো দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের নতুন শান্তি (SHANTI) আইন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ করবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করেছে।

    এআই, ডেটা ও ডিজিটাল সহযোগিতা

    অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের পক্ষ থেকে গুজরাটের ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন, ডেটা সেন্টার, সুপার কম্পিউটিং এবং এআই সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। ‘ডেটা এম্বাসি’ ধারণা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে, যা সার্বভৌম ডেটা ব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে (India UAE AI cooperation)। দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে একটি সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। আমিরশাহি ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডিজিটাল এমবাসি নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। শেখ মহম্মদ ২০২৬ সালে ভারতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (AI Impact Summit) আয়োজনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    মহাকাশ গবেষণা

    একই ভাবে মহাকাশ গবেষণার স্বার্থেও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত-আরব আমিরশাহি। এর ফলে উপগ্রহ তৈরি থেকে লঞ্চিং- স্পেস সেক্টরে যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ

    খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা ভারতীয় কৃষক ও আমিরাতের খাদ্য সরবরাহ চাহিদা। উভয় দিকেই সুবিধা দেবে। এই আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০৩২ সালের মধ্য়ে ভারত-আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবি। টার্গেট ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গুজরাটে তৈরি হবে আবু ধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস। বাড়বে কর্মসংস্থান, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একমত

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রাথমিক চুক্তিপত্র (Letter of Intent) সই করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সফর ও যৌথ মহড়া দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। দুই নেতা সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন।

    ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠা

    আবুধাবিতে ৪৫ লক্ষ ভারতীয় বাসিন্দার জন্য ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য বৃদ্ধি, যুব বিনিময় কর্মসূচি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, এসব বিষয়েও দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়

    ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিও রয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবির। ২০১৯ সালের অগস্টে মোদির আবু ধাবি সফরের সময় তাঁর হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জায়েদ’ তুলে দিয়ে, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবির তৎকালীন শাসক জায়েদ ২০২২ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরশাহি ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস (BRICS) সভাপতিত্বকে সমর্থন করেছে। ভারত সমর্থন করেছে আমিরশাহির জল সম্মেলন (UN Water Conference 2026)-কে।

  • Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা হোক কিংবা অন্ত্রের সমস্যা, মানসিক অবসাদ-বিষন্নতার মতো জটিল সমস্যা, সবটাই নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে একটি হরমোন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ডোপামিন হরমোন নামে একটি হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমানো সহজ হয়। ডোপামিন হরমোনকে ‘সুখ’ হরমোন বা ‘feel good’ হরমোন বা ‘happy’ হরমোন বলা হয়ে থাকে। এই সুখ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কয়েকটি বিষয়ে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।

    কোন কোন রোগ নিয়ন্ত্রণে ডোপামিন হরমোন সাহায্য করে?

    রোগ নিরাময়ে সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও ডোপামিন হরমোন একাধিক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা স্বাভাবিক রাখে এই হরমোন। হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে হৃদপিন্ড, ফুসফুস, অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ডোপামিন হরমোন স্ট্রেস হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই জটিল অস্ত্রোপচারের পরে শরীরে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম ডোপামিন হরমোন দেওয়া হয়। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরের নিজস্ব উপায়ে এই হরমোন ক্ষরণ ঠিকমতো হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

    অন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই হরমোন বিশেষ উপকারি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই বারবার মলত্যাগ করার প্রবণতা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমের মতো উপসর্গ কমাতে এই সুখ হরমোন বিশেষ সাহায্য করে। বিপাক ক্রিয়া যাতে ঠিকমতো হয়, সেই কাজেও এই হরমোন বিশেষ উপকারি। ডোপামিন হরমোন সবচেয়ে বেশি উপকারি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে অবসাদ, বিষন্নতা, উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে কোন খাবার সাহায্য করে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখার চাবিকাঠি খাবারের মধ্যেই রয়েছে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক ভাবে হরমোন ক্ষরণ করার জন্য খাবারেই ভরসা রাখছেন তাঁরা।

    • ● পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম, চিকেন, মাছ কিংবা মাংসের পদ খেলে শরীরে এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। টাইরোসিন নামে অ‌্যামিনো অ্যাসিড এই হরমোন উৎপাদনে বিশেষ সাহায্য করে। আর প্রাণীজ প্রোটিনে এই অ্যাসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
    • ● কলা, অ্যাভোকাডো, ব্রোকলি, পালং শাকের মতো সব্জি ও ফল ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে‌। খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিনে ভরপুর এই সব্জি ও ফল বিশেষ উপকারি।
    • ● কাঠবাদাম ও কুমড়োর বীজ ম্যাগনেশিয়াম ও টাইরোসিন ভরপুর। তাই ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য রাখতে বিশেষ সাহায্য করে।
    • ● টক দই, পনীরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে টাইরোসিন থাকে। এই খাবারগুলো ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে।
    • ● তবে খাবারের পাশপাশি শরীরে ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত শারীরিক কসরত করা, ভালো গান শোনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share