Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Assembly Election 2026: দিল্লিতে শাহ-নবীনদের সঙ্গে বৈঠকে শমীক-শুভেন্দু, সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা

    Assembly Election 2026: দিল্লিতে শাহ-নবীনদের সঙ্গে বৈঠকে শমীক-শুভেন্দু, সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে করলেন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারা (West Bengal BJP)। বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার (J P Nadda) বাসভবনে বুধবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya), রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-সহ বঙ্গ বিজেপির একাধিক শীর্ষ পদাধিকারী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই বৈঠকে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, খুব শিগগিরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। তার আগেই ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

    প্রার্থীতালিকা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা

    বুধবার সন্ধ্যায় জেপি নাড্ডার বাড়িতে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বৈঠকে বাংলার প্রতিটি আসন ধরে ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আর তারপরই জোরালো জল্পনা বিধানসভা ভোটের জন্য বাংলার ২৯৪ আসনের প্রার্থী কি চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিজেপি? শুধু মোদির অনুমোদনের অপেক্ষা। বুধবার সন্ধ্যায় জেপি নাড্ডার বাড়িতে বিজেপির বৈঠকে যোগ দিতে পৌঁছে যান বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, অমিতাভ চক্রবর্তী, অমিত মালব্য-সহ অন্যরা। বিজেপি সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল যে, প্রার্থী তালিকা নিয়েই আলোচনা হবে সেই বৈঠকে। দলীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি সংগঠনের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘পরিবর্তন যাত্রা’র রাজনৈতিক প্রভাব ও ফলাফল নিয়েও বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাজ্য নেতারা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

    আসন-ভিত্তিক কৌশল নির্ধারণ

    পাশাপাশি, বৈঠকে বাংলার প্রতিটি আসন ধরে ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বৈঠকে সংগঠনকে আরও মজবুত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বুথস্তরে দলীয় কর্মসূচি সক্রিয়ভাবে চালানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংগঠনের শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলি এবং কোথায় প্রচার আরও জোরদার করা দরকার—এই সব বিষয় নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইতে পারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এছাড়াও রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আসনভিত্তিক কৌশল নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কোন কেন্দ্রে কোন দলের প্রভাব কতটা, সেই হিসেব করেই প্রাথমিক পর্যায়ে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

    আজ বৈঠক মোদির সঙ্গে

    বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত প্রায় সাড়ে ১২টা, প্রায় ৬ ঘণ্টা বৈঠকের পর জেপি নাড্ডার বাসভবন থেকে বেরিয়ে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, বৈঠকে বাংলার প্রতিটি আসন ধরে ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের পুরনো কর্মী ও সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলেই প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত মিলেছে। এবার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটির বৈঠক। জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকেই কেরল ও পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে।

    রাজ্যে ভোট ঘোষণা শীঘ্রই!

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাই বাংলার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জোর তৎপরতা ইতিমধ্যেই শুরু করেছে বিজেপি। আগামী ১৪ তারিখ কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ওই সভা শেষ হওয়ার পর যে কোনও সময় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। তার আগেই স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক তৎপরতাও বাড়তে শুরু করেছে।

  • World Kidney Day 2026: তিরিশ পেরোলেই চিন্তা বাড়াচ্ছে কিডনি! ভারতে কেন বাড়ছে কিডনির সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা?

    World Kidney Day 2026: তিরিশ পেরোলেই চিন্তা বাড়াচ্ছে কিডনি! ভারতে কেন বাড়ছে কিডনির সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রোগ আর বয়সের সীমারেখা মানছে না। তাই প্রৌঢ় কালের একাধিক রোগ এখন কুড়ির চৌকাঠ পেরনোর পরেই জানান দিচ্ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতোই ভারতে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে কিডনির অসুখ। কম বয়সিদের মধ্যেও কিডনির কার্যকারিতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তিরিশ বছরের পরেই অনেকেই কিডনির নানান সমস্যা নিয়ে ভুগছেন। ১২ মার্চ ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে (World Kidney Day 2026)। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে কিডনির রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিডনির অসুখ রুখতে রোগ সম্পর্কে সচেতনতার পাশপাশি পরিবেশ রক্ষা নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। তবেই সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব।

    কিডনি সুস্থ রাখতে কেন পরিবেশ রক্ষার ডাক দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল?

    ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে উপলক্ষে বিশ্ব জুড়ে কিডনির অসুখ সম্পর্কে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি চলছে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন কীভাবে কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, সে সম্পর্কে সব মহলে পাঠ দেওয়া হচ্ছে। তবে, তার পাশপাশি কিডনি সুস্থ রাখতে পরিবেশ রক্ষা কতখানি জরুরি, সেটাও বোঝানো হচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ সুস্থ না থাকলে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ দূষণ নিয়ে সব মহলের সচেতনতা জরুরি। মারাত্মক দূষণ যেমন ফুসফুস, শ্বাসনালীর একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে, তেমনি দূষণের জেরে কিডনির অসুখের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে পরিবেশ রক্ষা জরুরি। জল দূষণ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিডনির অসুখের ঝুঁকি কমবে। দূষিত পরিবেশ কিডনির উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাছাড়া চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিডনির অসুখ নিরাময়ের অন্যতম উপায় হলো ডায়ালিসিস। যার জন্য প্রচুর পরিমাণ জল এবং বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। পরিবেশ থেকেই এই উপাদান পাওয়া যায়। কিডনির অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে জল ও বিদ্যুতের চাহিদাও আরও বাড়বে। তাই প্রথম থেকেই জীবন যাপন ও পরিবেশ নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। যাতে রোগের বোঝা না বাড়ে‌।

    ভারতে কিডনির সমস্যা কতখানি উদ্বেগের?

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও কিডনি আক্রান্ত উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট প্রাপ্ত বয়স্কদের ১৩ শতাংশ কিডনির অসুখে আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে কিডনির রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে ভারতে ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে তেলেঙ্গানা, গোয়া এবং কেরলে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিও‌ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যের প্রায় ৫০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত।

    কেন কিডনির অসুখের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিডনির অসুখের অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। এ দেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ মারাত্মক হারে বাড়ছে। তাই কিডনির অসুখের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া, অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে কিডনির কার্যকারিতা কমছে। এ দেশের একাংশের মানুষ পরিশ্রুত পানীয় জল পান না। বিষাক্ত খনিজ সমৃদ্ধ অপরিশ্রুত জল খাওয়ার জেরে কিডনির অসুখের ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর করা কতখানি জরুরি, সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে কিডনির রোগের বোঝাও কমবে।

  • Shamik Bhattacharya: ‘‘পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে আর ফেরাতে পারবে না’’! রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    Shamik Bhattacharya: ‘‘পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে আর ফেরাতে পারবে না’’! রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। তোষণমূলক নীতির মাধ্যমে রাজ্যের সামাজিক সংহতি দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। এমনভাবেই রাজ্য সরকার ও শাসক দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার বাজারে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র শেষদিনে এক জনসভা থেকে তিনি সাফ ঘোষণা করেন, আগামী দিনে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে নয়, বরং ঐতিহ্যের রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই সরকার পরিচালনা করবেন। তৃণমূলের পরাজয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেও দাবি করেন তিনি।

    নো এসআইআর, নো ভোট

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘বিচারাধীন’ বা এসআইআর (SIR) তালিকা কোনওভাবেই সরানো যাবে না—এই দাবিতে অনড় থাকল বিজেপি। সোমবার কালীঘাটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তৃণমূলের ‘গো ব্যাক’ স্লোগান এবং কালো পতাকা দেখানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) জানালেন, “নো এসআইআর, নো ভোট— এটাই আমাদের অবস্থান।” শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, “মুখ্যমন্ত্রীর এজেন্ডা অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি চান বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা ভোটার লিস্টে থাকুক। মৃত ব্যক্তি এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দেওয়ার জন্যই এই লড়াই।” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ভাতার বা বর্ধমানের সাধারণ মানুষের জন্য লড়ছেন না, তাঁর লক্ষ্য কেবল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থরক্ষা করা।

    পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা-গোষ্ঠী হিংসা কেন

    বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, গুজরাটে গত ২০ বছরে কোনও দাঙ্গা হয়নি। উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশেও হিন্দু-মুসলিম বা শিয়া-সুন্নি বিবাদ বন্ধ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ বা উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে প্রতিনিয়ত অশান্তি ঘটছে। তাঁর অভিযোগ, “তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়া অনেক ঘটনা চেপে গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ সব দেখছেন।” সোমবারের বক্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে বিচারব্যবস্থাকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বিজেপির মতে, প্রকৃত উন্নয়ন বা ক্ষমতায়নের বদলে তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি ঘটাতে সরকার পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়নি।

    রাজ্যে মানুষ ভালো নেই

    কালীঘাটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তৃণমূলের বিক্ষোভ দেখানো প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বিদ্রুপের সুরে বলেন, “আমরা ওনাকে (জ্ঞানেশ কুমার) আসতে বলেছিলাম। আশা করি উনি ভালো সংবর্ধনা পেয়েছেন। এখানকার মানুষ কেমন আছেন এবং পরিস্থিতি কী, সেটা নিশ্চয়ই উনি বুঝতে পেরেছেন।” বিজেপির অভিযোগ, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দলের দাবি, এ বিষয়ে রাজ্য সরকার যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। বিজেপির বক্তব্য, এই সমস্ত ইস্যু এখন কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় প্রশ্ন। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য তারা রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং উন্নয়নমুখী একটি রাজ্য গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে।

    তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে না

    ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামাও বাজিয়ে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ভাতার বাজারের কামারপাড়া মোড়ে আয়োজিত সভায় শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরাতে পারবে না। ২৬-এর নির্বাচন আসলে তৃণমূলের বিসর্জন।” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাইটার্স ছেড়ে নবান্নে প্রশাসন নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এসে আবার পুরোনো কেন্দ্র থেকেই কাজ শুরু করবে। সোমবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের উদ্দেশ্যে যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তাকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘বিভাজনমূলক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন শমীক। তিনি বলেন, “পরাজয়ের হতাশা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী দাঙ্গা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। অতীতে কোনও নেতা এভাবে মঞ্চ থেকে দুই সম্প্রদায়কে আক্রমণের ভয় দেখাননি।”

    বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা

    বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, “তৃণমূলের গুন্ডাদের হামলার জেরে বহু বিজেপি কর্মীকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হচ্ছে। অপরাধী আর তৃণমূল এখন সমার্থক হয়ে গিয়েছে।” তিনি বলেন, ভীমপুর, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, তারকেশ্বর এবং উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, “জেলা জেলায় নতুন নতুন ফতোয়া জারি হচ্ছে। এই সরকারের আমলে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না বিচারপতি থেকে শিল্পপতি পর্যন্ত।” ভোটের আগে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েনের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, এটি পশ্চিমবঙ্গ ও রাজ্যের মানুষের জন্য লজ্জার। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব হল নির্বাচন। তার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আসতে হয়েছে। ২০১১ সালে গণতন্ত্র ফেরানোর স্লোগান দিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। আজ তাদের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

  • West Bengal Assembly Election: দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বঙ্গ বিজেপি, কী নিয়ে আলোচনা?

    West Bengal Assembly Election: দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বঙ্গ বিজেপি, কী নিয়ে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ভোটের (West Bengal Assembly Election) বাদ্যি বেজে গিয়েছে। এখন সবার মুখে শুধুই ভোট-ঘোষণা ও প্রার্থী বাছাইয়ের কথা। রাজ্য নেতৃত্বরাও তাদের ভোট প্রচারে ব্যস্ত। এই আবহে আজ, বুধবারই বঙ্গ বিজেপি (Bengal Bjp) নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি (BJP Central Committee)। দিল্লির বিজেপির সদর দফতরে এই বৈঠক বসতে চলেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ রাজ্য সংগঠনের একাধিক পদস্থ নেতৃত্ব। নির্বাচনী রণকৌশল সহ কথা হতে পারে প্রার্থী তালিকা নিয়েও।

    প্রার্থী তালিকা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা

    মঙ্গলবারই পরিবর্তন যাত্রার সমাপ্তির ঘোষণা করা হয়েছে। ১৪ তারিখ শনিবার ব্রিগেডে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারই মধ্যে বুধবার বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। দলীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনে রণকৌশল নির্ধারণই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য। দলীয় সংগঠকে আরও শক্তিশালী করতে বুথস্তরে কর্মসূচি জোরদার করা ও বিরোধী রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ-সব কিছু নিয়ে আলোচনা হবে। সেইসঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়েও প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হতে পারে। মার্চ মাসের শেষের দিকেই রাজ্যের নির্বাচনেই নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ২৯৪ জন প্রার্থী বাছাই করে মার্চের শেষ থেকেই রাজ্য জুড়ে প্রচার পর্বে ঝাঁপিয়ে পড়তে তৎপর বঙ্গ বিজেপি শিবির। তারই রূপরেখা তৈরি হয়ে যেতে পারে বুধবারের বৈঠক।

    জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংগঠনের প্রস্তুতি সম্পর্কের রিপোর্ট চাইতে পারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কোথায় প্রচার জোরদার করতে হবে, কোন আসনে কোন দল শক্তিশালী তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সেই বুঝেই প্রাথমিক ভাবে স্থির করা হতে পদ্ম শিবিরের প্রার্থীর নামও। রাজ্যে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র ফল নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সূত্রের খবর, নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে করা ‘পরিবর্তন যাত্রা’র ফল নিয়ে আলোচনা হতে পারে এই বৈঠকে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরেই বিকেল ৩টে নাগাদ এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন রাজ্য বিজেপির সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য-সহ রাজ্য সংগঠনের একাধিক পদাধিকারীরা। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কমিটির থেকে উপস্থিত থাকবেন নিতিন নবীন, অমিত শাহের মতো বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

    ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচি

    মার্চ মাসের শুরু থেকেই জেলায় জেলায় জনসংযোগে বাড়তি নজর দিয়েছিল পদ্ম শিবির। রাজ্যের শীর্ষ বিজেপি নেতারা তো ছিলেনই, বাইরের রাজ্যের বিধায়ক, মন্ত্রীদের নিয়ে এসে রাজ্য জুড়ে চলল ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচি। রাজ্যে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার আগেই পরিবর্তন যাত্রার মধ্য দিয়ে নেতারা গোটা রাজ্য একবার চষে ফেলেছেন এবং কর্মীদের সঙ্গে একদফা দেখাসাক্ষাৎ, আলাপ-আলোচনা সেরে নিয়েছেন। যা ‘ফাইনাল ম্যাচ’ শুরুর আগে ‘ওয়ার্ম-আপ’ হিসাবে কাজ করবে। প্রত্যেকটি জেলা তো বটেই, ‘যাত্রা’য় অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রও ছুঁয়ে ফেলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। জমায়েত বা কর্মসূচির চেহারা যেমনই হোক, সর্বত্র দলের কর্মীদের অন্তত রাস্তায় নামাতে পেরেছেন তাঁরা। ভোটের আগে কর্মীদের মধ্যে যে উৎসাহ জাগানো জরুরি ছিল, ‘পরিবর্তন যাত্রা’ তা পেরেছে বলে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন।

    রাজ্যে পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত

    ইতিমধ্যেই কলকাতায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করে গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। বিজেপি চাইছে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যেন তিনটির বেশি দফায় না হয়। পাশাপাশি, রাজ্যে একটি হিংসাত্মক কার্যকলাপমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজেপি একটি ১৬-দফা দাবি সনদ জমা দিয়েছে। বিজেপি প্রতিনিধি দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ ছিল রাজ্যে বর্তমানে মোতায়েন প্রায় ৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার এবং পরিচালনা নিয়ে। দলের পক্ষ থেকে এসব বাহিনীর সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের ভূমিকার সমালোচনাও করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে, তাতে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব অসন্তুষ্ট। একটি সহিংসতামুক্ত ও নির্ভীক পরিবেশ তৈরি করতে চাইলে, ভোটারদের ভোটদানে বাধাদানকারী রাজ্য পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কমিশনকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, স্পর্শকাতর এলাকার পরিবর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে তুলনামূলক শান্ত এলাকায় রুট মার্চ চালানো হচ্ছে।

    তৎপরতা বাড়াচ্ছে গেরু শিবির

    সম্প্রতি দুদিনের রাজ্য সফরে এসে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে সুষ্ঠু, অবাধ ভোট হবে বাংলায়। তার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar)। এবার শুধু নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার পালা। ভোটমুখী এই বঙ্গে আরও তৎপরতা বাড়াতে চলেছে বিজেপিও (Bjp)। বিশেষজ্ঞমহলের মতে, এখনও ভোট ঘোষণা হয়নি। সবে মাত্র একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়ে আর বাংলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দিল্লি পাড়ি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার আগে নিজেদের আরেকটু ঝালাই করে নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের এখনও কিছুটা সময় থাকলেও বিজেপি এখন থেকেই সংগঠনকে প্রস্তুত করার কৌশল নিচ্ছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে এই বৈঠককে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বার্তা বা কৌশলের ইঙ্গিত মিলতে পারে।

  • Harish Rana Case: ১৩ বছর কোমায় থাকা যুবককে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, হরিশ রানা মামলায় ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    Harish Rana Case: ১৩ বছর কোমায় থাকা যুবককে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, হরিশ রানা মামলায় ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া (Passive Euthanasia) বা নিষ্কৃতিমৃত্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা ৩২ বছর বয়সি হরিশ রানাকে (Harish Rana Case) চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে কার্যত ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যু’ (Death with Dignity) পাওয়ার পথ খুলে গেল তাঁর সামনে। আদালতের নির্দেশে এটি দেশের প্রথম প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই রায় দেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন–এর বেঞ্চ। আবেগঘন পর্যবেক্ষণে আদালত ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ের বিভিন্ন দিক আরও স্পষ্ট করে দেয়, যেখানে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়াকে (Supreme Court Passive Euthanasia) আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

    ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাবারও চিকিৎসার অংশ: আদালত

    হরিশ রানা মামলায় (Harish Rana Case) একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন ছিল—ফিডিং টিউবের মাধ্যমে দেওয়া খাবার ও পুষ্টি কি চিকিৎসার অংশ হিসেবে ধরা হবে কি না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে টিউবের মাধ্যমে দেওয়া পুষ্টি ও জলও চিকিৎসারই অংশ। ফলে যদি প্রাথমিক ও দ্বিতীয় মেডিক্যাল বোর্ড মনে করে যে এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া রোগীর স্বার্থে নয়, তাহলে তা বন্ধ করা যেতে পারে।

    জীবন ও মৃত্যু নিয়ে আদালতের আবেগঘন পর্যবেক্ষণ

    রায় ঘোষণার (Supreme Court Passive Euthanasia)  সময় বেঞ্চ জীবন ও মৃত্যুর জটিলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে। আদালত মার্কিন ধর্মপ্রচারক হেনরি ওয়ার্ড বিচারের উক্তি উদ্ধৃত করে জানায়— “ঈশ্বর মানুষকে জিজ্ঞেস করেন না সে জীবন গ্রহণ করবে কি না। জীবন গ্রহণ করতেই হয়, প্রশ্ন হল কীভাবে।” এছাড়া উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত ‘To be or not to be’ দ্বিধার কথাও উল্লেখ করেন বিচারপতিরা।

    কী ঘটেছিল হরিশ রানার সঙ্গে

    ২০১৩ সালে একটি বহুতলের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন হরিশ রানা (Harish Rana Case)। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি পারসিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেটে (Persistent Vegetative State) চলে যান এবং সম্পূর্ণ কোয়াড্রিপ্লেজিয়ায় (Quadriplegia) আক্রান্ত হন। মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর ঘুম ও জেগে ওঠার চক্র থাকলেও কোনও অর্থপূর্ণ নড়াচড়া বা প্রতিক্রিয়া নেই। দুর্ঘটনার পর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বসানো ফিডিং টিউবের সাহায্যে তাঁকে খাবার দেওয়া হচ্ছিল।

    আদালতের দ্বারস্থ হন বাবা-মা

    বছরের পর বছর কোনও উন্নতি না হওয়ায় হরিশ রানার (Harish Rana Case) বাবা-মা আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের ছেলে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে এবং এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার আর কোনও বাস্তব উপকার নেই। সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয় (Supreme Court Passive Euthanasia)।

    গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

    রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন মৃত্যু নয়, বরং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া রোগীর সর্বোত্তম স্বার্থে কি না। আদালতের মতে, যতক্ষণ চিকিৎসা রোগীর উপকারে আসে ততক্ষণ তা চালিয়ে যাওয়া চিকিৎসকদের দায়িত্ব। কিন্তু যখন চিকিৎসা কেবলমাত্র আরোগ্যের কোনও সম্ভাবনা ছাড়াই জৈবিক জীবন দীর্ঘায়িত করে, তখন সেই চিকিৎসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে ভারতে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত মামলাগুলিতে (Supreme Court Passive Euthanasia)  গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাবে। বিশেষ করে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে, যাঁরা দীর্ঘদিন ভেজিটেটিভ স্টেটে থেকে শুধুমাত্র চিকিৎসা প্রযুক্তির সাহায্যে বেঁচে আছেন, সেখানে এই রায় একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করল।

  • India Nepal Relation: “ভারত ও নেপালের সম্পর্ককে নয়া উচ্চতায় পৌঁছবে” প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন বলেন্দ্র শাহ

    India Nepal Relation: “ভারত ও নেপালের সম্পর্ককে নয়া উচ্চতায় পৌঁছবে” প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন বলেন্দ্র শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে নতুন সূর্যোদয়। এতদিন ধরে ক্ষমতার রাশ ধরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলিকে কার্যত ধুয়ে মুছে দিয়েছে নেপালের (India Nepal Relation) নয়া রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন নেপালের জেন-জি মুখ বালেন শাহ (Balen Shah To PM Modi)। নেপালের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ৩৫ বছরের বলেন্দ্র। তাঁর জয় কার্যত নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার বলেন্দ্রকে ফোন করে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টির নেতা, বলেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তার শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য শাহ ভারত ক্রিকেট দলকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ভারতকে অভিনন্দন বালেন শাহ-র

    প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিনন্দন জানিয়ে লেখা পোস্টের জবাবে শাহ লিখেছেন, “শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ। আমি আমার আস্থা প্রকাশ করছি যে আমরা আগামী দিনে নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক, ঘনিষ্ঠ এবং বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী, গভীর এবং আরও ফলাফলমুখী করার জন্য একসঙ্গে কাজ করব।” টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ভারতকে অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, টানা দুইবার সফলভাবে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের জন্য ভারত সরকার এবং ভারতীয় জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন। এর আগে, সোমবার প্রধানমন্ত্রী মোদি বালেনের পাশাপাশি আরএসপির চেয়ারম্যান রবি লামিছানের সঙ্গেও কথা বলেন। সেই ফোনালাপের কথা এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। লেখেন, “আরএসপির চেয়ারম্যান রবি লামিছানে এবং অন্যতম নেতা বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে। জয়ের জন্য দু’জনকেই অভিনন্দন জানিয়েছি। নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আমরা দুই দেশের পারস্পরিক সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং কল্যাণের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি নিশ্চিত আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা আগামী বছরগুলিতে ভারত ও নেপালের সম্পর্ককে নয়া উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।”

    নেপালের জেন-জি মুখ বালেন শাহ

    উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের জেরে ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে সে দেশের নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে। সেইমতো বৃহস্পতিবার নেপালে ১৬৫টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। লড়াইয়ে ছিল ৬৫টি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে এবারের নির্বাচনে কোনও দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সন্দেহ ছিল। কেউ ভাবতে পারেননি প্রাক্তন র‍্যাপার বালেন শাহের নেতৃত্বে নবগঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সংসদীয় নির্বাচনে প্রথম সারির প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হবে। কিন্তু সেটাই হতে চলেছে। কারণ, নেপালের জেন জি-র বড় অংশের পছন্দ ছিলেন বালেন শাহ। কমিশনের রিপোর্ট বলছে, ১৬৫ আসনের মধ্যে ১২৫ আসনে জয় পেয়েছে আরএসপি। ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল ৮টি আসন জয়ের পথে। নেপালি কংগ্রেসও দুই অঙ্ক পার করতে পারেনি।

  • Early Diabetes: কৈশোর পেরিয়েই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Early Diabetes: কৈশোর পেরিয়েই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বাড়ছে ডায়াবেটিসের বোঝা! আর গত কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। কৈশোর পার করার পরেই ভারতীয় মেয়েদের শরীরে ডায়াবেটিস হানা দিচ্ছে। আর সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকাই, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। আগামী কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের সুস্থ জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে উঠবে ডায়াবেটিস। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক অসংক্রমিত রোগের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে ডায়াবেটিস। এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটি মানুষ টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ১৫ বছরের উর্ধ্বে ভারতীয় মহিলাদের প্রায় ৫ শতাংশ ডায়াবেটিস আক্রান্ত। ভারতে মোট মহিলা মৃত্যুর ৫ শতাংশ ডায়াবেটিসের কারণে মারা যান। ভারতীয় গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। অর্থাৎ পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, এ দেশে মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। যা আগামী প্রজন্মের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তী জীবনে একাধিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। সুস্থ জীবন যাপনের পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে।

    কেন ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাসের ধরনের জেরেই ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের শারীরিক কার্যকলাপ কমছে। অর্থাৎ নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় ব্যায়াম করা, যোগাভ্যাস করা কিংবা নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস থাকছে না। এর ফলে স্থুলতা বাড়ছে। তাছাড়া চটজলদি প্যাকেটজাত খাবারে অনেকেই কম বয়স থেকেই অভ্যস্থ হয়ে উঠছে। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। হরমোন ঘটিত ভারসাম্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। এগুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    মহিলাদের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, রোগ নির্ণয় না হওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় মহিলার ডায়াবেটিস পরীক্ষা হয় না। ফলে, তিনি আক্রান্ত কিনা সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই রোগের চিকিৎসাও হয় না। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের একাংশ গর্ভবতী হওয়ার পরে জানতে পারেন, তিনি ডায়াবেটিস আক্রান্ত! এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, “অনেকক্ষেত্রে হয়তো মহিলা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে ডায়াবেটিস আক্রান্ত। কিন্তু সে রোগ সম্পর্কে জানেন না। কারণ তাঁর কোনো পরীক্ষা হয়নি। গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা হওয়ার জন্য তিনি পরীক্ষা করে রোগ সম্পর্কে জানতে পারলেন। ফলে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসাও জটিল হয়ে যায়! ” চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে একাধিক লক্ষণ ডায়াবেটিস আক্রান্ত জানান দেয়। কিন্তু সে সম্পর্কে সজাগ না থাকলে বিপদ বাড়ে!

    কীভাবে ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন‌ যাপনের জন্য নিয়মিত ডায়বেটিস পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, বয়স ২৫ পার হলেই ভারতীয় মহিলাদের বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। রোগ নির্ণয় হলে তবেই চিকিৎসা সম্ভব। তাছাড়া প্রথম থেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরতের দিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত শহুরে মেয়েদের শারীরিক কসরতের সুযোগ কমছে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে এক ঘণ্টা যোগাভ্যাস কিংবা হাঁটার মতো এমন কিছু কার্যকলাপ করা জরুরি, যাতে ক্যালোরি ক্ষয় হয়। খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রেও সুষম আহারের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পেট ভরানোর জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত বা রুটি খাওয়া নয়। ভাত-রুটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে সব্জি, ডাল, প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার। বাড়ির তৈরি খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক রোগের ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • T20 World Cup 2026: ‘যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন’ বললেন আফ্রিদি, ‘মেনে নিন ভারত এক নম্বর’, নিন্দকদের একহাত মিঁয়াদাদের

    T20 World Cup 2026: ‘যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন’ বললেন আফ্রিদি, ‘মেনে নিন ভারত এক নম্বর’, নিন্দকদের একহাত মিঁয়াদাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও ষড়যন্ত্র নয়, যোগ্য দল হিসেবেই টি-২০ বিশ্বকাপ জয় করেছে ভারত, মেনে নিল পাকিস্তান। বরাবর ভারতীয় দল নিয়ে তিক্ত মন্তব্য করেছেন তিনি। কখনও বয়কট নিয়ে, কখনও সাফল্য ঘিরে—বিসিসিআই কিংবা টিম ইন্ডিয়া—কাউকেই রেয়াত করেননি পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি। বারবার মুখ খুলেছেন৷ আলগা মন্তব্য করেছেন৷ যার জেরে কমার বদলে বিতর্ক বেড়েছে কয়েক গুণ৷ এবার অপ্রত্যাশিতভাবে অতীতের এই জের মুছে ফেললেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক। মেনে নিলেন ভারতীয় দলের কর্তৃত্ব৷

    ভারতীয় দলের প্রশংসায় আফ্রিদি

    ক্রিকেট দুনিয়ায় এক নয়া ইতিহাস কায়েম করেছে ভারতীয় দল। পরপর ২ বার তারা টি-২০ বিশ্বকাপের (ICC T20I World Cup 2026) খেতাব জয় করেছে। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর গত রবিবার (৮ মার্চ) জিতল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বে টিম ইন্ডিয়া ৯৬ রানে জয়লাভ করে। এরপরই দ্ব্যর্থহীন গলায় আফ্রিদি জানালেন, যোগ্য টিম হিসেবেই টি-২০ বিশ্বকাপ খেতাব ঘরে তুলেছে সূর্য বাহিনী। টুর্নামেন্টের আগাগোড়া নিখুঁত ক্রিকেট খেলে যারা, চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদেরই সাজে! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ‘ইতিবাচক’ ও ‘প্রশস্তিমূলক’ বক্তব্যে ভারতের গুণ গেয়েছেন আফ্রিদি। যা স্বাভাবিকভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার ইন্ধন জুগিয়েছে৷

    অন্যতম সেরা বোলার বুমরা

    এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা ভিডিয়োতে আফ্রিদি (Shahid Afridi) বলেন, ‘বিশ্বকাপ শেষ। ভারত শিরোপার যোগ্য দল। কম্বিনেশন দুর্দান্ত। বেঞ্চে যারা বসে ছিল, তারাও প্রথম একাদশে খেলার উপযুক্ত। আমি এই কারণেই বলে থাকি, বেঞ্চ শক্তিশালী হওয়া খুবই জরুরি! গোটা টুর্নামেন্টটাই ভারত চ্যাম্পিয়নের মতো খেলেছে!’ আর সবার পাশাপাশি সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) আলাদা করে প্রশংসা করেছেন আফ্রিদি। বললেন, ‘সুযোগ পেয়েছে, কাজে লাগিয়েছে। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং, ইনিংস গড়ার ক্ষমতা—অসাধারণ!’ এ ছাড়া অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণেরও (Ishan Kishan) সুখ্যাতি শোনা গেল। জসপ্রীত বুমরা (Jasprit Bumrah) প্রসঙ্গে মন্তব্য, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বোলিংয়ের মেরুদণ্ড। নতুন বল, পুরনো বল, স্লোয়ার, ইয়র্কার—সব পরিস্থিতিতেই সফল। আমার মতে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার।’

    কেন হোঁচট খাচ্ছে পাকিস্তান?

    আফ্রিদির মতো প্রাক্তন পাক অধিনায়ক রশিদ লতিফও (Rashid Latif) ভারতের জয়কে ‘অপ্রত্যাশিত’ মনে করছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘বড় ইভেন্টের ফাইনালে বারবার যখন খেলতে হয়, তখন চাপ সামলানোটা অভ্যেসে পরিণত হয়। ভারতের খেলোয়াড়রা সেটাই করে দেখিয়েছেন!’ পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, টিম ইন্ডিয়ার সাফল্যের পেছনে রয়েছে ধারাবাহিকতা ও স্থিরতা। বারবার দল বদল, অধৈর্য সিদ্ধান্ত—এই ফাঁদে পা না দেওয়া। পাকিস্তান ঠিক এই জায়গাতেই বারবার হোঁচট খেয়েছে বলে মনে করেন লতিফ।

    ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো বন্ধ করা উচিত

    সূর্য-ব্রিগেডের এই সাফল্যের পর পাকিস্তানের কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটার ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেছেন, অযথা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর বদলে পাকিস্তানের উচিত ভারতের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া। কিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার মুহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, “ভারত যখন বড় টুর্নামেন্টে ভালো খেলে বা আমাদের হারায়, তখন আমরা অনেক সময় অজুহাত খুঁজি এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াই। এটা বন্ধ করা দরকার। আমাদের মেনে নিতে হবে যে ভারত খুবই শক্তিশালী দল এবং নিজেদের উন্নতির জন্য আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”

    ভারতের ক্রিকেট কাঠামোর প্রশংসা

    শুধু ওয়াসিমই নন, পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার জাভেদ মিয়াঁদাদও ভারতের ক্রিকেট কাঠামোর প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী ও প্রক্রিয়াভিত্তিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ফলই আজ পাচ্ছে ভারত। মিয়াঁদাদ বলেন, “ভারতের ক্রিকেট কাঠামো খুবই শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত। সেই কারণেই তারা নিয়মিতভাবে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরি করছে। তাদের দলে ব্যাটার, স্পিনার বা পেসারের কোনো অভাব নেই। নতুন ক্রিকেটাররা ফলাফলমুখী এবং ম্যাচ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন।” তিনি আরও বলেন, “এক সময় পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমেও এমন পরিবেশ ছিল, যার ফলে আমরা নিয়মিত জিততাম।”

    ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

    টি-২০ ক্রিকেটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করেছে ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে নেয় তারা এবং টি-২০ বিশ্বকাপে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়ে। তবে ভারতের এই সাফল্যে প্রথমে প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে দেখা দেয় হতাশা, যা ফুটে উঠেছে দুই দেশের কয়েকজন প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটারের মধ্যেও। আসলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এই দুই দেশকে ঘিরে। রাজনৈতিক কারণে ভারতে এসে খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ (Bangladesh)। অন্যদিকে পাকিস্তানের (Pakistan) তরফেও ভারত-বিরোধিতার সুর শোনা গিয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে নেমে হারের মুখই দেখতে হয় পাকিস্তানকে। আর এবার ভারতের বিশ্বজয়ের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার শোয়েব আখতার (Shoaib Akhtar)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ব্যাপারটা এমন হয়েছে, যেন পাশের বড়লোক বাড়ির ছেলে গরিব ছেলেকে ডেকে বলছে—আয় ক্রিকেট খেলবি। ভারত সেই বখাটে ছেলের মতো করছে। প্রথমে চারজনকে ডাকবে, তারপর তিনজনকে ডাকবে। সব শেষে বলবে দেখ, জিতে গেলাম। ওরা ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”

    শিয়া কাপের ট্রফি আটকে রেখেছে, বিশ্বকাপ! 

    প্রাক্তন পাকিস্তানি পেসার মহম্মদ আমির (Mohammad Amir) বিশ্বকাপের আগে থেকেই দাবি করে আসছিলেন, ভারত চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না। কিন্তু ভারতের জয় সেই ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করেছে। এরপর কিছুটা বিরক্ত সুরে আমির বলেন, “ওরা জিতেছে। ঠিক আছে। ট্রফি ওরাই ঘরে নিয়ে যাবে। আমার বাড়িতে তো নিয়ে আসব না।” তবে আপনাদের অনেকেরই হয়ত মনে আছে, ২০২৫ সালে এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) খেলতে নেমেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা হয়। সেই ম্য়াচে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে দুরমুশ করেছিল সূর্য অ্যান্ড কোম্পানি। কিন্তু, আজ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলের হাতে সেই ট্রফি দেওয়া হয়নি। আসলে ম্য়াচ শুরু হওয়ার আগেই টিম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) হাত থেকে তারা ট্রফি গ্রহণ করবেন না। কারণ, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানও তিনি। কিন্তু, ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেই যুক্তিকে পাত্তা দেয়নি এসিসি। চ্যাম্পিয়ন হয়েও এখনও ট্রফি পায়নি ভারত। ইতিমধ্যে আবার ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ খেতাব জয় করল টিম ইন্ডিয়া। এশিয়া কাপের তুলনায় বিশ্বকাপের মর্যাদা যে অনেকটাই বেশি, সেটা আর আলাদা করে বলে দেওয়ার দরকার পড়ে না। ফলে গোটা বিষয়টা নিয়েই ক্রিকেট বিশ্বে এখন রীতিমতো হাসাহাসি শুরু হয়েছে।

  • SIR in Bengal: বাংলার ভোটারদের আপিল শুনবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল! এসআইআর মামলায় সুপ্রিম-নির্দেশ

    SIR in Bengal: বাংলার ভোটারদের আপিল শুনবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল! এসআইআর মামলায় সুপ্রিম-নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও বৈধ ভোটার বাদ যাবে না। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মামলায় কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট ৷ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, যেসব আবেদন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাতিল হয়েছে, সেই আপিল শুনতে একটি বিশেষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে ৷ আর এই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে থাকবেন একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং কয়েকজন প্রাক্তন বিচারপতি। একই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাম পিটিশনে বিরক্তিও প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

    আগাম পিটিশন ভুল বার্তা

    মঙ্গলবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে বললেন, আগাম পিটিশন ভুল বার্তা দেবে। একইসঙ্গে আইনজীবী তথা তৃণমূলের সদ্য জয়ী রাজ্যসভার সাংসদ গুরুস্বামীকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আগাম পিটিশনের মাধ‍্যমে বার্তা যাচ্ছে, আপনারা সিস্টেমে ভরসা রাখতে পারছেন না।” পিটিশন ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যও গুরুস্বামীকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কথায়, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ১০ লক্ষ কাজ হয়ে গিয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের কোনও প্রশ্নের মুখে ফেলবেন না, আমি কড়াভাবে বলছি।” এর পরই ‘সুপ্রিম’ ভরসা দিয়ে তিনি বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন। যাঁরা জেনুইন, তাঁদের যুক্ত করা হবে।” রাজ্যের নতুন আবেদনে বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এই পিটিশন প্রিম‍্যাচিওর।” পিটিশন প্রত্যাহার করে নিতে গুরুস্বামীকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানান, ভোটের আগে এই কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এদিন অবশ্য বলে, “আমরা প্রয়োজনে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে অবমাননার নোটিস দিতে পারি। যে পরিস্থিতি এসেছে, তাতে আমরা সব পক্ষকে সন্দেহের আওতায় রাখছি।” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা অমীমাংসিতের তালিকা খতিয়ে দেখছে। এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, “রাজ‍্য ও নির্বাচন কমিশনকে সবরকমভাবে জুডিশিয়াল অফিসারদের সাহায‍্য করতে হবে। যখন জুডিশিয়াল অফিসারদের লগ-ইন আইডি লাগবে, তখনই ইসিআইকে তার ব‍্যবস্থা করে দিতে হবে।”

    একাধিক নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    রাজ্যের এসআইআর মাময়ায় একাধিক নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত ৷ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি মহাদেবনের বেঞ্চ এদিন নির্দেশে জানিয়েছেন, ১০ লক্ষের বেশি নামের নিস্পত্তি হয়ে গেলেও অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে ৷ লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সিতে নিস্পতি হওয়া ভোটারদের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের বিষয়ে কমিশন এবং রাজ্য দু’পক্ষই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাতে পারবে ৷ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে; তাঁদের বিষয়ে আপিল জানাতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা অন্যান্য বিচারপতি বা পাশ্ববর্তী রাজ্যের হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে বেঞ্চ গঠন করতে ৷ বেঞ্চ এ বিষয়ে নিস্পত্তি করবে ৷ বেঞ্চে কতজন করে সদস্য থাকবে, তা স্থির করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৷ এদের নিয়োগের সমস্ত খরচ নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে ৷ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হবে নির্বাচন কমিশন ৷

  • BrahMos Deal: দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংকে রোখাই উদ্দেশ্য! ভারত থেকে ব্রহ্মস কিনছে ইন্দোনেশিয়া, চুক্তি স্বাক্ষর

    BrahMos Deal: দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংকে রোখাই উদ্দেশ্য! ভারত থেকে ব্রহ্মস কিনছে ইন্দোনেশিয়া, চুক্তি স্বাক্ষর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে প্রায় এক দশক ধরেই কাজ করছে ভারত। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি কমিয়ে, দেশেই প্রয়োজনীয় অস্ত্র উৎপাদন হচ্ছে বলে বারবার জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। শুধু অস্ত্র তৈরিতে স্বনির্ভরতাই নয়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানিতেও মোদি সরকারের আমলে কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে ভারত। অস্ত্রের বাজারে বাড়ছে ভারতের ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা। এ বার ভারতের থেকে সেই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয় চূড়ান্ত করে ফেলল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত জানিয়েছেন, ‘ব্রহ্মস’ কেনার ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে একটা চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে ইন্দোনেশিয়া।

    ২০ থেকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি

    এক সূত্রের দাবি, ২০ থেকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে দু’দেশের মধ্যে। যদিও রিকো এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি। রিকার্ডো জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বিশেষত সমুদ্রপথে আধুনিকীকরণের অংশ। রিকার্ডো সিরাইত জানিয়েছেন ব্রহ্মস কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি তাঁদের সমরাস্ত্র সম্ভার ও প্রতিরক্ষা শক্তিকে সমৃদ্ধ করবে। তাঁর কথায়, এই চুক্তিটি ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর সামরিক হার্ডওয়্যার এবং প্রতিরক্ষা ক্ষমতার আধুনিকীকরণের অংশ। যদিও তিনি চুক্তির মোট মূল্য জানাতে রাজি হননি। ব্রহ্মস এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও একটি দেশ ‘ব্রহ্মস’ নিয়ে চুক্তি করে ভারতের সঙ্গে। ২০২২ সালে ফিলিপিন্সের সঙ্গে ৩৭ কোটি ৪০ লক্ষ আমেরিকার ডলারের চুক্তি হয় ভারতের। ২০২৪ সালে সেই ডেলিভারিও হয়ে যায়। যা পাওয়ার পর ফিলিপিন্স সেনার তরফে ভারত থেকে আগামী দিনে আরও এমন সমরাস্ত্র কেনার কথা জানানো হয়েছিল। এবার ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়া হল দ্বিতীয় দেশ যারা ভারত থেকে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি করল।

    প্রচণ্ড গতি সম্পন্ন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

    ব্রহ্মস একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। যা ভারতীয় সমরাস্ত্রের অন্যতম ভরসা। ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়ার যৌথ উদ্যোগে গঠিত। ব্রহ্মস নামটি দু’টি নদীর নাম থেকে তৈরি ব্রহ্মপুত্র (ভারত) এবং মস্কোভা (রাশিয়া)। এটি শব্দের প্রায় ২.৮ থেকে ৩ গুণ গতিতে ভ্রমণ করে। যার ফলে বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটিকে আটকানো প্রায় অসম্ভব। এখানে বলে রাখা দরকার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হল এমন এক ক্ষেপণাস্ত্র যা মাটির কাছাকাছি দিয়ে উড়ে যায়। প্রচণ্ড গতি সম্পন্ন। মাটির কাছ দিয়ে ওড়ায় তাকে রেডারে ধরা মুশকিল। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি নয়াদিল্লির ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তিনটি মূল শ্রেণি রয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং স্থলে থাকা লঞ্চার থেকে একে শত্রুর উপর ছুড়তে পারে সেনা। এর নির্মাণকারী সংস্থার নাম ‘ব্রহ্মস এরোস্পেস লিমিটেড’। ক্ষেপণাস্ত্রটি সাধারণ বোমা থেকে পারমাণবিক বোমা নিয়ে উড়ে যেতে পারে। এটি ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ নীতিতে কাজ করে যার সার্কুলার এরর প্রবাবিলিটি (CEP) মাত্র ১ মিটার। এর পাল্লা ২৯০ কিমি। যা ৪৫০ থেকে ৮০০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

    কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি ‘ব্রহ্মস’-এ আগ্রহী

    কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি তাদের অস্ত্রভান্ডারে ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র রাখতে চাইছে? দক্ষিণ চিন সাগরের একটি কাল্পনিক সামুদ্রিক রেখা হল বেজিংয়ের ‘নাইন-ড্যাশ লাইন’। এই রেখার মধ্যে পড়ছে একাধিক দ্বীপ এবং দেশ। কাল্পনিক রেখাটির উপরে থাকা সমস্ত এলাকাকেই নিজেদের বলে দাবি করে বেজিং। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের সঙ্গে চিনের সীমান্ত সংঘাত লেগেই থাকে। এই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্য ভারতের ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর হবে বলে মনে করছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সেনাকর্তারা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধর সময় “অপারেশন সিঁদুর”-এ ভারত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছিল বলে সূত্রের দাবি।

    অনেকদিন ধরেই চলছে পরিকল্পনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়া সম্ভবত ব্রহ্মসের নৌবাহিনীর সংস্করণে আগ্রহী। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মুহাম্মদ আলি (Muhammad Ali) ভারতে এসে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের কারখানা পরিদর্শন করেন। এর আগে ২০১৮ সালেই ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের একটি দল সুরাবায়ার শিপইয়ার্ডে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার যুদ্ধজাহাজে এই ক্ষেপণাস্ত্র বসানো সম্ভব কি না তা পরীক্ষা করে দেখেছিল। এছাড়া ভারত ইন্দোনেশিয়াকে আরও কয়েকটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে, যেমন— উপকূলীয় প্রতিরক্ষা রেডার, সামুদ্রিক যানের ইস্পাত, রুশ নির্মিত সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান সার্ভিসিং।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত

    এক সময়ে ভারত অস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানিতে প্রথম সারিতে ছিল। মূলত রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল ছিল ভারত। হেলিকপ্টার, ব্রহ্মস মিসাইল, সাবমেরিন, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রাশিয়া থেকে পেয়েছে ভারত। রাশিয়াকে বাদ দিলে ফ্রান্স থেকেও বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে ভারত। সম্প্রতি আমেরিকা থেকেও অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে ভারত। তবে গত এক দশকে আমদানির ছবিটা ক্রমশ বদলে গিয়েছে। এই সেক্টরে ক্রমশ আমদানি কমিয়েছে ভারত। গত এক দশকে অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি প্রায় ৩০ গুণ বাড়িয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্লোগানে ভর করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ভারত ক্রমশ ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে উঠছে দেশ। একসময়ে বিশ্বের উন্নত দেশগুলির অস্ত্রের জন্য মুখাপেক্ষী থাকা ভারত বর্তমানে বিশ্বের ৯০টি দেশকে অস্ত্র বিক্রি করছে। বেসরকারি অর্থানুকুল্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনও বাড়ছে দ্রুত গতিতে। মূলত আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি ভারতীয় অস্ত্রের ক্রেতা। ফিলিপিন্সের সঙ্গে সম্প্রতি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের চুক্তি করেছে ভারত।

LinkedIn
Share