Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Indian Army: অবসর নিচ্ছেন বর্তমান জিওসি-ইন-সি, এপ্রিল থেকে সেনা ইস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্বে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন

    Indian Army: অবসর নিচ্ছেন বর্তমান জিওসি-ইন-সি, এপ্রিল থেকে সেনা ইস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্বে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পরিবর্তন হবে। এই রদবদলের ফলে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব বদলাবে এবং নতুন করে নিয়োগ হবে ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ পদে।

    সেনা উপ-প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ

    বর্তমানে পুনে-স্থিত সেনার সাদার্ন কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ (Lt Gen Dhiraj Seth) আগামী ১ এপ্রিল থেকে নয়াদিল্লিতে ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ (VCOAS) হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এই পদটি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চিফ অফ আর্মি স্টাফের (সেনাপ্রধান) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ। ভাইস চিফের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল পরিকল্পনা, আধুনিকীকরণ, নীতি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন ফরমেশনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা। পাশাপাশি সামরিক কমান্ড ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আর্মার্ড কোরের অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেঠ আর্মার্ড কোরের অফিসার এবং তিনি ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪-এর জুলাইতে সাদার্ন কমান্ডের প্রধান হওয়ার আগে তিনি মথুরায় অবস্থিত সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক ফোর্স ২১ স্ট্রাইক কোরের কমান্ডার ছিলেন। এছাড়াও তিনি অতীতে একটি স্বতন্ত্র আর্মার্ড ব্রিগেড, একটি আর্মার্ড ডিভিশন, এবং দিল্লি এরিয়া-র কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তিনি অ্যাঙ্গোলায় রাষ্ট্রসংঘ মিশনে মিলিটারি অবজারভার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ খড়্গওয়াসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী। পাশাপাশি তিনি ওয়েলিংটনের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ, নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং অস্ট্রেলিয়ার এআইসিএসসি-তে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

    ওয়েস্টার্ন কমান্ডের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুষ্পেন্দ্র সিং

    এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওয়েস্টার্ন কমান্ডেও নতুন কমান্ডার আসছেন। বর্তমান ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুষ্পেন্দ্র সিং (Lt Gen Pushpendra Singh) আগামী ১ এপ্রিল থেকে ওয়েস্টার্ন আর্মি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। তিনি এই পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কাটিয়ারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। চণ্ডীমন্দিরে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন কমান্ড পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার সামরিক প্রস্তুতি এবং অপারেশন পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুষ্পেন্দ্র সিং এলিট প্যারাশুট রেজিমেন্ট (প্যারা) স্পেশাল ফোর্সেস থেকে উঠে আসা অফিসার। স্পেশাল ফোর্সেস থেকে খুব কম সংখ্যক অফিসারই কখনও একটি আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব পেয়েছেন। ভাইস চিফের পদ থেকে কমান্ডে যাওয়াকে পদাবনতি হিসেবে মনে হলও, আদতে তা নয়। সেনায় বিষয়টি সেভাবে দেখা হয় না। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, শীর্ষ পদে ওঠার আগে সিনিয়র অফিসারদের স্টাফ ও ফিল্ড কমান্ড—দু’ধরনের অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়।

    ইস্টার্ন কমান্ডে নতুন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে ইস্টার্ন কমান্ডে। বর্তমানে সেনা সদর দফতরে কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন (Lt Gen VMB Krishnan) আগামী ১ এপ্রিল থেকে ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (জিওসি-ইন-সি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কলকাতায় সদর দফতর থাকা ইস্টার্ন কমান্ড চিনের সঙ্গে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)-এর পূর্বাঞ্চলীয় অংশ— বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমের সামরিক পরিস্থিতি সামলায়। পাশাপাশি এই কমান্ড মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্ত এবং গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও অপারেশন তদারকি করে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল কৃষ্ণন এর আগে ১৭ কোরের কমান্ডার ছিলেন, যা চিন সীমান্তে অপারেশনের জন্য গঠিত সেনাবাহিনীর মাউন্টেন স্ট্রাইক ফরমেশন। এছাড়া তিনি সেনা সদর দফতরে ডিরেক্টর জেনারেল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাম চন্দর তিওয়ারির স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং চলতি মাসেই অবসর নিতে চলেছেন।

    সাদার্ন কমান্ডে নতুন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ সেঠ দিল্লিতে যাওয়ায় সাদার্ন কমান্ডের নতুন প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন (Lt Gen Sandeep jain)। বর্তমানে তিনি সাদার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে কর্মরত। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জৈন এতদিন পর্যন্ত কমান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলেন এবং অপারেশনাল ও প্রশাসনিক কাজকর্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁকে আর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত করা ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোর স্বাভাবিক অগ্রগতিরই প্রতিফলন। এর আগে তিনি অম্বালায় অবস্থিত ২ কোর, যা খড়্গ কোর নামেও পরিচিত, তার কমান্ডার ছিলেন। এটি পশ্চিম সীমান্তে সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক ফরমেশন। পুনে-ভিত্তিক সাদার্ন কমান্ড উপদ্বীপীয় ভারতের বিভিন্ন সামরিক গঠন ও ইউনিটের তত্ত্বাবধান করে। উত্তরাঞ্চলের কমান্ডগুলির তুলনায় এই অঞ্চলে সরাসরি সীমান্ত উত্তেজনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক অবকাঠামো, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং কৌশলগত রিজার্ভ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাদার্ন কমান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক রদবদল নয়। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই নতুন নেতৃত্ব সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • T20 World Cup 2026: “দারুণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসি ও আমার বন্ধু জয় শাহকে অভিনন্দন” বার্তা ফিফা সভাপতির

    T20 World Cup 2026: “দারুণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসি ও আমার বন্ধু জয় শাহকে অভিনন্দন” বার্তা ফিফা সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ-পাকিস্তান বোর্ডের তরফে হাজারো বিতর্ক সৃষ্টির পরেও সফল আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026)। চ্যাম্পিয়ন ভারত (Team India)। পর পর দু’বার, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। রবিবার সূর্যকুমার যাদবের দল ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ট্রফি জিতেছিল ভারত। তার পর ফের বিশ্বসেরা টিম সূর্য। ক্রীড়া জগতে আইসিসি তথা ভারতের সাফল্যকে কুর্নিশ করছেন সকলেই। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে আইসিসি পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ সফলভাবে আয়োজন করার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    ভারতীয় দলের জার্সি হাতে ছবি শেয়ার

    নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভারতীয় দলের জার্সি হাতে একটি ছবি শেয়ার করে ইনফান্তিনো আইসিসি এবং জয় শাহকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলকেও রেকর্ড তৃতীয় টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। ইনফান্তিনো লিখেছেন, “আরেকটি দারুণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসি এবং আমার বন্ধু জয় শাহকে অভিনন্দন। আরেকটি শিরোপার জন্য ভারতকে অনেক অভিনন্দন। তোমাদের অসাধারণ দেশটি পরিদর্শন করার পর আমি জানি, এটি তোমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।” উল্লেখ্য, রবিবার আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে পরাজিত করে টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ জয় করে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতে এবং টানা দু’বার (২০২৪ ও ২০২৬) শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে। এছাড়া ভারতই প্রথম দল যারা তিনবার (২০০৭, ২০২৪ ও ২০২৬) টি-২০ বিশ্বকাপ জয় করল।

    দুই জনপ্রিয় খেলার মেলবন্ধন

    এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ইতালির মিলানে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং জয় শাহের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়। বিশ্বের দুই জনপ্রিয় খেলাধুলা—ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রশাসনিক প্রধানদের এই সাক্ষাৎকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়। সেই সময় ইনফান্তিনো সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে জয় শাহের ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদানের প্রশংসা করেন এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনের জন্য শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তিনি খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্বকে একত্রিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

  • Assembly Election 2026: “ভোটের সময় বাংলায় এত হিংসা কেন?” রাজ্যকে প্রশ্ন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের

    Assembly Election 2026: “ভোটের সময় বাংলায় এত হিংসা কেন?” রাজ্যকে প্রশ্ন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (Assembly Election 2026) সময় বাংলায় এত কেন হিংসা হয়? রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে এই প্রশ্ন করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোট হবে অহিংস, শান্তিপূর্ণ! তা না হলে কারওর রেয়াত নেই। সোমবার বাংলায় এসে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ রাজ্য়ের উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের ‘ক্লাস’ নিলেন জ্ঞানেশ কুমার। আরও বেশি কড়া হাতে নির্বাচন সামাল দিতে হবে বলেই মত তাঁর। এদিন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠকে বসেছে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে।

    রাজ্য প্রশাসনকে ধমক নির্বাচন কমিশনের

    কমিশনের তরফে বেআইনি অস্ত্র, মদ ও বেআইনি অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্রুত এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সতর্ক করেছে কমিশন। জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, “অন্য রাজ্যে এত হিংসা দেখা যায় না। বাংলাতেই কেন ভোটের সময় এত অশান্তি? সব রাজনৈতিক দলগুলি আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। এবার এই সব চলবে না।” কোনও রকম বোমা-পিস্তলের খবর যেন না থাকে, বারেবারে জেলাশাসকদের সতর্ক করা হয়। পদের ‘মোহ’ ভুলে বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি আরও বলেন, “জেলাশাসক হন বা পুলিশ কমিশনার, গাফিলতি দেখলে রেয়াত নেই। কেউ পালাতে পারবেন না। নির্বাচনের পর দোষী সাব্যস্ত হলে পদক্ষেপ তাঁদের বিরুদ্ধে অনিবার্য।” এমনকি নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগ এলেও ‘শেষ দেখে ছাড়বেন’ বলে জানিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। এ দিন যখন এসপি-ডিএম ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক চলছিল, সেখানে এডিজি আইন-শৃঙ্খলা বীনিত গোয়েলকে কড়া ধমক দেন তিনি। একেবারে প্রথমের সারিতেই বসেছিলেন বিনীত গোয়েল। কথা হচ্ছিল নার্কোটিক্স অ্যাডভাইজারি বোর্ড নিয়ে। জ্ঞানেশ জানতে চান, অন্য রাজ্যের মতো বাংলায় কেন নার্কোটিক্স অ্যাডভাইজারি বোর্ড নেই? সূত্রের খবর, এই প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন বিনীত গোয়েল। আর তখনই ধমক দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

    বিজেপি’র ১৬ দফা দাবিপত্র

    সোমবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকে মোট ১৬ দফা দাবিপত্র পেশ করে বিজেপি। বাংলায় নির্বাচনকালীন হিংসা, কারচুপি-সহ নানাবিধ ইস্যুতে সুর চড়ায় তাঁরা। বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা কমিশনের কাছে ভয়মুক্ত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি।” এছাড়াও ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদ্ব্যবহার’ করতে হবে কমিশনের কাছে আর্জি করেন বিজেপি নেতা।

    নবান্নে জরুরি বৈঠক মুখ্যসচিবের

    নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর নবান্নে জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। ওই বৈঠকে জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের বৈঠকে যে নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কমিশনের বৈঠকের পর মুখ্যসচিবকে রিপোর্ট দেওয়ার প্রথা থাকায় এই বৈঠক ডাকা হয়। জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

  • Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের রাস্তায় সাধারণ ছেলেদের মতোই কলেজ যাওয়া-আসা করছিল ২১ বছরের আয়ান শেখ (Ayan Sheikh)। কেউ ভাবেনি যে এই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের পিছনে লুকিয়ে আছে জঙ্গি সংগঠনের ছায়া। মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) কয়েকদিন আগে তাকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে।

    কীভাবে জঙ্গিদের জালে

    এটিএস-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর আসে যে মুম্বইয়ের কুর্লা, গোভান্ডি এবং শিবাজী নগর এলাকায় কয়েকজন যুবক অনলাইনে জইশ এবং ইসলামিক স্টেট-এর প্রচারমূলক উপাদান ছড়াচ্ছে। গত ২ মার্চ রাতে এই তিন জায়গায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আয়ান শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ডিভাইসগুলোয় জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। এছাড়া টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে জইশ এবং আইএসআইএস-এর প্রোপাগান্ডা শেয়ার করা হয়েছে।

    “স্লিপার সেল”-এর সক্রিয় সদস্য

    তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে সে মুম্বইয়ে জইশ-ই-মহম্মদের একটি “স্লিপার সেল” হিসেবে সক্রিয় ছিল। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যুবসমাজকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য নতুন সদস্য নিয়োগ করা। এটিএস সূত্রে জানা যায়, আয়ান তার দুই সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করেছিল। এমনকি তাদের ওপর এতটাই চাপ সৃষ্টি করেছিল যে তারা বিদেশে গিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। ওই দুই ছাত্রের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছে এটিএস, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। অভিযানের সময় আয়ান ও অন্য দুই ছাত্রের একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-সমর্থকদের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণ এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভিডিও উদ্ধার হয়েছে।

    পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের থেকে সাহায্য

    এছাড়াও তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তাও পেত আয়ান। এই অর্থ ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের প্রচার ও নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এটিএস-এর দাবি, আয়ান টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জইশ ও আইএসআইএসের প্রচারমূলক কনটেন্ট ছড়াত এবং বন্ধুদের বিভিন্ন উগ্রপন্থী গ্রুপে যুক্ত করত। এসব গ্রুপে বিদেশি নাগরিক এবং সম্ভাব্য জঙ্গি হ্যান্ডলাররাও উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও জানা গেছে, জইশ-ই-মহম্মদ ভবিষ্যতে মুম্বইয়ে সম্ভাব্য জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য আয়ানকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল। আয়ান শেখের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর ধারা ৩৮ (জঙ্গি সংগঠনের সদস্যপদ) এবং ৩৯ (জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তা) সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৫২, ১৯৬ ও ১৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র

    দুই যুবকের ভূমিকা এখনও তদন্তাধীন। এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে অনলাইন জগত কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যুবকরা সহজেই জঙ্গি প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। আয়ান একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র যার জীবনের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। কিন্তু কোনও অজানা কারণে সে জঙ্গি আদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটিএস জানিয়েছে, তাঁর ডিভাইসে মাসুদ আজহারের বক্তৃতা, জেএম-এর প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং আইএসআইএস-এর ক্যালিফেটের প্রচার ছিল। এগুলো দেখে তিনি অন্যদেরও প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। মুম্বইয়ের এই গ্রেফতারি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। অনেকে বলছেন, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে র‌্যাডিকালাইজেশনের প্রবণতা বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং অ্যাপগুলো এখন জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র। এটিএস-এর এই অভিযান সময়মতো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি না ধরা পড়ত, তাহলে হয়তো আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র জন্ম নিত।

  • India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল ভারত। আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নিল ভারতীয় দল। এর ফলে টি-২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করল ভারত। এই জয়ের নেপথ্যে ছিল ভারতের টপ অর্ডারের বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিশানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় ভারত। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ দলগত সংগ্রহ।

    টপ অর্ডারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড়

    ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দ্রুত রান তুলে নিউ জিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেন তাঁরা। পরে ইশান কিশান দ্রুতগতির ইনিংস খেলে স্কোরবোর্ডকে বিশাল উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তিন ব্যাটারের সম্মিলিত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ফলে ফাইনালে ভারত রেকর্ড গড়া রান তোলে।

    বুমরার আগুনে বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং

    ২৫৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ভারতের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেন জসপ্রীত বুমরা। তাঁর বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। বুমরার ধারালো বোলিং এবং অন্যান্য বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে নিউ জিল্যান্ড কখনও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে এবং ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।

    ফাইনালে ভারতের একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড

    এই ম্যাচে একাধিক নজির গড়েছে ভারতীয় দল। ফাইনালে ভারতের গড়া উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলির তালিকা নিচে দেওয়া হল—

    • ● ১ – নিজেদের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম দল হল ভারত।
    • ● ১ – টি২০ বিশ্বকাপের শিরোপা সফলভাবে রক্ষা করার নজিরও প্রথমবার গড়ল একটি দল।
    • ● ২ – ২০২১ সালের পর দ্বিতীয়বার টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারল নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান (২০০৭, ২০২২) ও শ্রীলঙ্কার (২০০৯, ২০১২) সঙ্গে যৌথভাবে এটি সর্বাধিক ফাইনাল হারার রেকর্ড।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনটি শিরোপা জিতল ভারত। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয়েছে দুটি করে।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া তৃতীয় ভারতীয় হলেন সঞ্জু স্যামসন। এর আগে এই সম্মান পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি (২০১৪, ২০১৬) ও জসপ্রীত বুমরাহ (২০২৪)।
    • ● ৪ – জসপ্রীত বুমরার ৪/১৫ টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো পেসারের সেরা বোলিং এবং সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় সেরা।
    • ● ৭ – টি২০ বিশ্বকাপে টানা তিনটি ম্যাচে ৫০ বা তার বেশি রান করা সপ্তম ব্যাটার হলেন সঞ্জু স্যামসন।
    • ● ১৪ – ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন জসপ্রীত বুমরা ও বরুণ চক্রবর্তী।
    • ● ৮৯ – ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সঞ্জু স্যামসনের ৮৯ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর।
    • ● ৯২ – পাওয়ারপ্লেতে ভারতের ৯২ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের সর্বোচ্চ।
    • ● ৯৬ – নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯৬ রানের জয় টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়।
    • ● ৯৮ – সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষানের ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ।
    • ● ২৫৫ – টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫ উইকেটে ভারতের ২৫৫ রান সর্বোচ্চ দলগত স্কোর এবং পুরো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
    • ● ৩২১ – মাত্র পাঁচ ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের ৩২১ রান টি২০ বিশ্বকাপের এক সংস্করণে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বাধিক রান।

    ভারতের আধিপত্যের নতুন যুগ

    ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক আধিপত্যের প্রতীক। তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে তৈরি এই দল ভবিষ্যতের বিশ্ব ক্রিকেটেও বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক জয় ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।

  • T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভুবনজয়ী ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে একপেশে ম্যাচে গুঁড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সেলিব্রেশন। আসলে এই বিশ্বকাপ জয় (T20 World Cup 2026) বিশ্বক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য আবারও শক্তপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে দিল। একই সঙ্গে আর্থিকভাবেও লাভবান করল টিম ইন্ডিয়াকে। বিজয়ী দল হিসেবে ভারত পেয়েছে ২.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সমান। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মোট আর্থিক পুরস্কারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঢুকেছে টিম ইন্ডিয়ার পকেটে।

    কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি। যারা অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। যে দল যতটা এগোতে পেরেছে, তার পুরস্কারের অঙ্ক তত বেড়েছে। রবিবার আমেদাবাদের মাঠে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। ফলে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদবেরা। কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনিএ বারের বিশ্বকাপের জন্য ১২০ কোটি টাকার পুরস্কার ধার্য করেছিল আইসিসি। প্রতিটি ধাপে টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট ছিল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়া দলগুলি পেয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। যে দলগুলি সুপার এইট পর্বে বাদ গিয়েছে তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, পাকিস্তান সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার

    এ বছর টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার দিল আইসিসি। ২০২৪ বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আইসিসি। এবার সেটা ২০ শতাংশ বেড়ে ১২০ কোটি করা হয়েছে। পুরস্কার মূল্য বেড়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে চ্যাম্পিয়ন, সব দলেরই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। তারা পেয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ফাইনালে রানার্স দল নিউজিল্যান্ড পেয়েছে ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। আর বিশ্বকাপ জিতে ভারত পেয়েছে ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা।

    বিশ্বকাপের পুরস্কার মূল্য (ICC Prize Money)

    চ্যাম্পিয়ন (ভারত)
    ২৭.৪৮ কোটি

    রানার্স আপ (নিউজিল্যান্ড)
    ১৪.৬৫ কোটি

    সেমিফাইনাল
    ৭.২৪ কোটি

    সুপার এইট
    ৩.৪৮ কোটি

    গ্রুপ পর্ব
    ২.২৯ কোটি

  • T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাহুল দ্রাবিড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যখন তাঁকে কোচ করে আনা হয়েছিল, দ্রাবিড়ের সঙ্গে গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক নিয়ে মুচমুচে খবর ছড়িয়েছিল। যেভাবে দ্রাবিড়কে সরে যেতে হয়েছিল ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে, গম্ভীরকে যেভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মেন্টর পদ থেকে ভাঙিয়ে এনে বসানো হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার কোচের চেয়ারে, অনেকে যার নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগ দেখেছিলেন। কোচ হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পর গম্ভীর সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন সেই দ্রাবিড়কেই! ২০২৬ টি–২০ বিশ্বকাপ জয়ের (T20 World Cup 2026) পর যেন একরকম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন গুরু গম্ভীর (Gautam Gambhir)। গত দু’বছর ধরে তাঁর কোচিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জয় শাহের ঘনিষ্ঠ তাই কোচের পদে এমন কথাও শুনতে হয়েছিল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার, সমালোচনা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে সময়টা সহজ ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপ জিতে টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কারুর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন তিনি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারা।

    জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে

    এই বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে দিতে চান গম্ভীর। তবে তাঁরা কেউ দলের খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ নন। গম্ভীর নাম নিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, অজিত আগরকর ও জয় শাহের। ভারতীয় কোচ বলেন, “এই ট্রফি আমি উৎসর্গ করতে চাই রাহুল ভাই আর লক্ষ্মণ ভাইকে। ভারতীয় ক্রিকেটকে এই জায়গায় নিয়ে আসার নেপথ্যে রাহুল ভাই কি না করেছে। পাশাপাশি লক্ষ্মণ ভাইও চুপচাপ নিজের দায়িত্ব সামলেছে। সিওএ আছে বলেই ভারতের ক্রিকেট এত উন্নত। অজিতের কথাও বলব। এত সমালোচনার পরেও ও নিজের কাজ করে গিয়েছে।”

    জয় ভাই ফোন করেছিলেন

    তাঁর জীবনে জয় শাহের কতটা ভূমিকা রয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “জয় ভাই আমাকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল। এর আগে তো কোথাও কোচিং করাইনি। তার পরেও জয় ভাই ভরসা রেখেছিল। সেই ভরসা আজও আছে। নিউজিল্যান্ডের ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকামের পর একমাত্র জয় ভাই ফোন করেছে। আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাই এই সাফল্যের কৃতিত্ব ওদের।” ভারতীয় ক্রিকেটের দর্শন বদলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমরা আর ১৬০ বা ১৭০ রান করার জন্য খেলি না। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। ঝুঁকি নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে সফল হওয়া যাবে না। তাতে ১০০ রানে অল আউটও হয়ে যেতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সেটাই হয়েছে। তাতে ভয়ের কিছু নেই। চেষ্টা করতে হবে ২০০-র বেশি রান করার। সেই চেষ্টাই আমরা করছি।”

    আগে দল, পরে প্লেয়ার

    তিনি নিজে খেলোয়াড় জীবনে সবসময় দলের স্বার্থের কথা আগে ভেবেছেন। কোচ হিসাবেও সেই দর্শনেই বিশ্বাস করেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আগে দল। পরে নিজের সাফল্য। আপনি যদি ৯৬ রান থেকে ১০০ করতে চার বল খেলেন, তা হলে আপনি দলের ২০ রানের ক্ষতি করলেন। ওই চার বলে চারটে ছক্কা হতে পারত। তাই যদি কেউ ৯৬ রান থেকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয় তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই। ওই ৯৬ আমার কাছে শতরানের সমান। এই দর্শন দলের সকলকে দিয়েছি। আমি ভাগ্যবান, দলের সকলে সেটা মেনেছে। আমরা সে ভাবেই খেলি। সকলেই দলকে আগে রাখে।”

    সমাজমাধ্যমে কাউকে জবাব দেব না

    বিশ্বকাপ জেতার পর সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর দলের সাজঘরের পরিবেশ কেমন। জবাবে গম্ভীর বলেন, “আশা করছি, এ বার সাজঘর নিয়ে জল্পনা বন্ধ হবে। দেখুন, সাজঘরের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বার বার সাজঘর নিয়ে কথা হয়েছে। আমাকে নিয়ে কথা হয়েছে। লেখালিখি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। আমি অবশ্য কাউকে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাজঘরের ওই ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই।”

    খেলোয়ার ও কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ের নজির

    গৌতম গম্ভীর ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে ফেললেন। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ডাবল জিতলেন। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন গম্ভীর। আবার এই ২০২৬ সালে গম্ভীর ভারতীয় দলের হেড কোচ। কোচ ও প্লেয়ার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী আর নেই ভূভারতে। হেড কোচ হওয়ার আগে গৌতম গম্ভীর ছিলেন আইসিসি টুর্নামেন্টের সবথেকে সফল পারফরমার। ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে গম্ভীর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালে গম্ভীর ৯৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন। কোচ হয়ে আসার পরই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার পরে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রায় এক যুগের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খরা কাটিয়েছিল ভারতীয় দল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গম্ভীরের ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরের এক কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে।

    ‘‘কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে’’

    ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দলকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিন পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। তিনি ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর মুখের হাসি এই জয়ের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি। ধোনি তাঁর বার্তায় বলেন, ‘‘আমেদাবাদে ভারতীয় দল ইতিহাস তৈরি করেছে।’’ তিনি দল, কোচিং স্টাফ এবং সব সমর্থকদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নেতৃত্বে দল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা দেখতে খুবই আনন্দের। ধোনি লেখেন,“আমেদাবাদে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। দল, সহকারী কর্মী এবং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব সমর্থককে অনেক অভিনন্দন। তোমাদের সবাইকে খেলতে দেখা সত্যিই দারুণ আনন্দের। কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে। হাসির সঙ্গে সেই তীব্র মনোভাব—দুটো মিলে অসাধারণ এক সমন্বয়। দারুণ কাজ করেছেন। সবাই এই সাফল্য উপভোগ করো।”

    সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা

    তাঁকে নিয়ে কত কথা। কত আলোচনা। দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। রবি-রাতের পরে বলাই যায় ভারতের হেডস্যর গৌতম গম্ভীর একই সঙ্গে নিন্দিত ও নন্দিত ব্যক্তি। এবার তাঁর জবাব দেওয়ার পালা। গম্ভীর কোচ বা ক্রিকেটার হিসেবে কোনও ফাইনাল হারেননি । আইপিএল হোক বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ওয়ান ডে বিশ্বকাপ, টি-২০ বিশ্বকাপ – কখনও হারেননি গম্ভীর। সে ক্রিকেট কেরিয়ারে হোক বা কোচ হিসেবে। লাল বলের ক্রিকেটে না হলেও সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা তিনি।

  • T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সূর্যকুমার যাদব। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম বার বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) নেমেই চ্যাম্পিয়ন। তবে এখনই থামতে রাজি নন তিনি। এবার লক্ষ্য অলিম্পিক ক্রিকেটে প্রথম সোনাজয়। বিশ্বজয়ের রাতেই নিজের পরের দুই লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন সূর্য। বিশ্বকাপ জিতে সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতই চমক দেন সূর্য (Surya Kumar Yadav)। মহিলা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁকে আন্তর্জাতিক নারীদিবসের শুভেচ্ছা জানান। তার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পরের লক্ষ্য কী। তিনি বলেন, “সবে তো শুরু। এর পরের লক্ষ্য হল ২০২৮ সালের অলিম্পিক্সে সোনা জেতা। সেই বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেটাও জিততে নামব।” একইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানালেন ঈশ্বরের প্রতি। মাঠ থেকেই সোজা গুরু গম্ভীর ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-র সঙ্গে গেলেন স্থানীয় বজরংবলীর মন্দিরে পুজো দিতে।

    প্রথম বারই অলিম্পিকে সোনা জয়

    ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রথম বারই সোনা জেতার লক্ষ্যে নামবেন সূর্য। পাশাপাশি দু’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও হতে চান তিনি। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ২০২৮-এ। ততদিন নিজেকে ধরে রাখতে চান সূর্য। আমেদাবাদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে সূর্য বলেন, “এই গল্পটা ২০২৪ সালে শুরু হয়েছিল। জয় ভাই তখন সচিব ছিলেন। উনি আমার উপর ভরসা দেখিয়েছিলেন। রোহিত ভাইও আমার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। তার পর থেকে অনেক পরিকল্পনা করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের অভ্যাস এবারও ধরে রেখেছি।”

    গুরু গম্ভীরে আস্থা, বুমরা জাতীয় সম্পদ

    সূর্য জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক খুব ভালো। ভারত অধিনায়ক বলেন, “গৌতি ভাইয়ের অধীনে আমি চার বছর খেলেছি। ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমাদের ভাবনা মেলে। আমরা দু’জনেই দলের ভালোর কথাই ভাবি। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। গৌতি ভাইকে আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করি।” বিশ্বকাপ জিতে বুমরার কথা শোনা গিয়েছে সূর্যের মুখে। আগের দিন সঞ্জু স্যামসন জানিয়েছিলেন, এক প্রজন্মে বুমরার মতো ক্রিকেটার একজনই আসে। আরও খানিকটা এগিয়ে গেলেন সূর্য। তিনি বললেন, “সঞ্জু আগের দিন বলেছিল, বুমরার মতো বোলার এক প্রজন্মে একজনই আসে। আমি বলব, বুমরা জাতীয় সম্পদ। ও জানে ওকে কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। আমাকে কিছু বলতে হয় না।”

    সাজঘরে বাক্‌স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ

    সূর্যের মতে, দলের প্রত্যেকে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেকের কথা আলাদা ভাবে শোনেন তিনি। অধিনায়ক বলেন, “গত দু’বছর ধরে এই কাজটাই করছি। একটা ভালো সাজঘর তৈরি করেছি। কারও কোনও সমস্যা থাকলে তাকে নৈশভোজে নিয়ে যাই। কথা শুনি। আমি প্রত্যেকের কথা শুনি। কারণ আমার মতে, প্রত্যেকের যদি বাক্‌স্বাধীনতা না থাকে, তা হলে সেই দল সফল হতে পারে না। তাই সকলের কথা শোনাটা জরুরি। সেই কারণেই ওরা আমার কথাও শোনে।” ক্রিকেটারের জীবনে সাফল্যের চেয়েও ব্যর্থতা বেশি আসে বলে মনে করেন সূর্য। তবে তার মধ্যেই এগিয়ে যেতে হয়। সূর্য বলেন, “জীবনে উত্থান-পতন হবেই। গত বছর একটাও অর্ধশতরান করতে পারিনি। আমারও কঠিন সময় গিয়েছে। কিন্তু নিজের উপর ভরসা রেখেছি। পরিশ্রম করেছি। সকলকেই সেটা করতে হবে। এটাই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র।”

    ট্রফি হাতে হনুমান মন্দিরে আরাধনা

    আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে হনুমান টেকরি মন্দির। সাংবাদিক বৈঠকের পর মাঠ থেকেই মন্দিরে বজরংবলীর আশীর্বাদ নিতে যান সূর্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুরু গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিন জন মিলে পুজো দেন। সূর্যের গলায় ছিল গাঁদা ফুলের মালা। পুজো দেওয়ার পর আবার স্টেডিয়ামে ফেরেন তাঁরা। সেখান থেকে দলের সঙ্গে হোটেল যান কোচ ও অধিনায়ক। ঈশ্বরের আশীষ নিয়েই আগামী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে চান ভারতীয় ক্রিকেটের নয়া সূর্য।

  • Mojtaba Khamenei: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই, ‘‘বেশি দিন টিকতে পারবে না’’ প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের

    Mojtaba Khamenei: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই, ‘‘বেশি দিন টিকতে পারবে না’’ প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। রবিবার গভীর রাতে ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস (Assembly of Experts) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)-র উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

    সুপ্রিম লিডার মোজতবা…

    আয়াতোল্লার মেজো ছেলে ৫৬ বছর বয়সি কট্টরপন্থী ধর্মগুরু মোজতবাই যে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর পদে বসতে চলেছেন, তেমন একটা আভাস আগেই মিলেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রের একাংশ তাঁকে আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেইয়ের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছিল। মোজতবা খামেনেই একজন মধ্যমস্তরের শিয়া ধর্মগুরু এবং ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য, যৌথ মার্কিন–ইজরায়েলি হামলায় নিহত হন আলি খামেনেই। সেই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনেই এখন ইরানের রাষ্ট্রনীতি, সামরিক সিদ্ধান্ত এবং কূটনীতির ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পাবেন।

    হুঁশিয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েলের

    এদিকে এই নিয়োগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “যদি সে আমাদের অনুমোদন না পায়, তাহলে বেশি দিন টিকতে পারবে না।” ঘোষণার আগেই ইজরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা যেই হোক না কেন, তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যদিও ইরানের রাজনৈতিক মতাদর্শে পারিবারিক উত্তরাধিকারের ধারণা নিরুৎসাহিত করা হয়, তবুও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং প্রয়াত খামেনেইয়ের দফতরের একটি শক্তিশালী অংশ মোজতবার পক্ষে ছিল। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এক বিবৃতিতে জানায়, “নির্ণায়ক ভোটের মাধ্যমে আয়াতোল্লাহ্ সঈদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেইকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।” ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পরিষদের সদস্য আয়াতোল্লাহ্ মোহসেন হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রয়াত আলি খামেনেইয়ের নির্দেশ ছিল এমন একজন নেতাকে বেছে নেওয়া, যাকে শত্রুরা ঘৃণা করে। তাঁর কথায়, “মহাশয়তান (যুক্তরাষ্ট্র) পর্যন্ত তাঁর নাম উল্লেখ করেছে,”— ইঙ্গিত ছিল ট্রাম্পের সমালোচনার দিকে।

    কে এই মোজতবা খামেনেই?

    ১৯৬৯ সালে ইরানের শিয়া ধর্মীয় শহর মশদ-এ জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা খামেনেই। তিনি এমন এক সময়ে বড় হন, যখন তাঁর বাবা শাহ-বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ইরানের শিয়া ধর্মতত্ত্বের প্রধান কেন্দ্র ‘কওম’-এ ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। মোজতবা কখনও ইরানের সরকারি ব্যবস্থায় কোনো নির্বাচিত পদে ছিলেন না। তবে মার্কিন অর্থ দফতর ২০১৯ সালে তাঁর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাদের অভিযোগ ছিল, কোনও সরকারি পদে না থেকেও তিনি তাঁর বাবার প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেন। এছাড়াও ২০০৫ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কট্টরপন্থী নেতা মাহমুদ আহমেদিনেজাদ-এর উত্থানের নেপথ্যে মোজতবা খামেনেইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হয়ে আসছে।

     

  • T20 World Cup 2026: সবরমতীর তীরে শাপমোচন! প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা, ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বজয়, কোন পথে টি-২০ চ্যাম্পিয়ন ভারত?

    T20 World Cup 2026: সবরমতীর তীরে শাপমোচন! প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা, ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বজয়, কোন পথে টি-২০ চ্যাম্পিয়ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিশপ্ত আমেদাবাদেই গৌরবের রাত। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টি-২০ ক্রিকেটে ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (T20 World Cup 2026) টিম ইন্ডিয়া। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই তৈরি হল ইতিহাস। টি-২০ বিশ্বকাপে এর আগে কোনও দেশ পরপর দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়নি। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ -পরপর দুবার বিশ্বসেরার মুকুট জিতে রেকর্ডবুক নতুন করে লিখল ভারত। গ্যালারির ভিআইপি বক্সে বসে যে গৌরব তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী আগের দুই ভারত অধিনায়ক – মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মা। উপভোগ করলেন ৮৩-বিশ্বকাপজয়ী নেতা কপিল দেব। যুদ্ধ জয়ের উচ্ছ্বাস ধরা পড়ল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চোখে। স্মিত হাসি আইসিসি সভাপতি জয় শাহের মুখেও। আসলে ক্রিকেট বিশ্বে ভারত যে কেন শেষ কথা বলে তা ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন তিনি। স্টেডিয়ামের মিউজিক সিস্টেমে কখনও বাজতে থাকল ‘চক দে ইন্ডিয়া’, কখনও ‘লেহরা দো’। সঙ্গে এ আর রহমানের বিখ্যাত ‘বন্দেমাতরম’। যে গান ভারতীয় দলের থিম সং হয়ে গিয়েছে কার্যত। গলা মেলালেন স্টেডিয়ামে হাজির ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ।

    দৃঢ় সংকল্প, দলগত চেষ্টারই প্রতিফলন

    সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বাধীন ভারত কিউয়িদের হারাতেই এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স! আইসিসি মেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার জন্য ভারতীয় দলকে অনেক অনেক অভিনন্দন! এই অসাধারণ জয় অসাধারণ দক্ষতা, দৃঢ় সংকল্প এবং দলগত চেষ্টারই প্রতিফলন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের সকলে অসামান্য ধৈর্য ও সাহসের প্রদর্শন করেছে। এই জয় প্রতিটি ভারতীয়র হৃদয়কে গর্ব ও আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে। সাবাশ, টিম ইন্ডিয়া!’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বরাবরই উন্নয়নের চেষ্টা করেন। ক্রীড়াবিদদের উদ্বুদ্ধও করেন। ভারতের অ্যাথলিটরা যখন কোনও মাল্টি স্পোর্টস ইভেন্টে যান, তখনও পেপটক দেন মোদি। পাশাপাশি ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা বিশ্বমঞ্চে কোনও টুর্নামেন্টে অংশ নিলেই মোদি তাঁদের সঙ্গে দেখাও করেন। এ বার তাঁর নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল, শীঘ্রই তাঁর বাসভবনে সাক্ষাতের জন্য ডাক পড়তে পারে স্কাই ব্রিগেডের।

    টসে জিতেও হেরে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড

    হওয়ার কথা ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কার্যত হয়ে দাঁড়াল একপেশে ম্যাচ। আমেদাবাদের পিচে টস জিতে যে কোনও অধিনায়ক চোখ বুজে ব্যাটিং নেবেন। ফাইনালের মতো ম্যাচে কে না রানের বোঝা বিপক্ষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চায়! মিচেল স্যান্টনার করলেন ঠিক উল্টোটা। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যুক্তি দিলেন, পিচে অল্প ঘাস রয়েছে। পেসারদের দিয়ে তিনি ভারতের টপ অর্ডারকে বিপদে ফেলতে চান। তা তো হলই না। উল্টে ভারতের ওপেনারেরা এমন ভাবে শুরু থেকে কিউয়ি বোলারদের পেটাতে লাগলেন যে কয়েক ওভার যেতে না যেতে নিশ্চিত ভাবেই হাত কামড়াতে শুরু করেছিলেন স্যান্টনার। দিনের প্রথম ৬ ওভারের শেষের ভারতের স্কোর ছিল ৯২/০। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লে-তে যুগ্ম সর্বোচ্চ। তা-ও আবার ফাইনাল ম্যাচে। সেখানে নিউ জিল্যান্ড পাওয়ার প্লে-তে তুলল ৫২ রান। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, তারা হারায় তিন-তিনটি উইকেট। সাজঘরে ফিরে যান দলের তিন সেরা অস্ত্র ফিন অ্যালেন, রাচিন রবীন্দ্র এবং গ্লেন ফিলিপস। ওখান থেকে ম্যাচ বার করা নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে কার্যত অসম্ভব ছিল। ভারতের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা।

    ওস্তাদের মার শেষ রাতে

    গোটা বিশ্বকাপ জুড়েই চর্চায় ছিল তাঁর ফর্ম। কিন্তু কথায় বলে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। তাই যেন প্রমাণ করলেন অভিষেক শর্মা। তাঁর প্রতিটি ছয়, প্রতিটি চার এবং প্রতিটি উল্লাস ছিল নিন্দকদের প্রতি এক-একটি জবাব। জেকব ডাফিকে পর পর দু’টি চার মেরে শুরু। কী অবলীলায় একের পর এক শট খেললেন! লকি ফার্গুসনের মতো বোলারকে অনায়াসে পাঠিয়ে দিলেন মাঠের বাইরে। দেখে মনেই হয়নি তিনি এত দিন খারাপ ছন্দে ছিলেন। ২০২৩-এর এক দিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেননি অক্ষর। আগের ম্যাচে রান হজম করেছিলেন। অভিষেকের মতো ফাইনালে তিনিও যেন নেমেছিলেন সব কিছুর জবাব দিতে। দর্শকাসনে তাঁর পরিবার এবং পাড়াপড়শিদের অনেকে ছিলেন। প্রথম ওভারেই তিনি ফেরালেন অ্যালেনকে, যাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা ছিল ভারতীয় শিবিরে। পরের ওভারে তিনি ফেরালেন গ্লেন ফিলিপসকে। অক্ষরের হাত থেকে বেরোল ‘স্লাইডার’, যা বাইরের দিকে ঘোরার বদলে ঢুকে এল ভেতরে। সোজা শট খেলতে গিয়েছিলেন ফিলিপস। সম্পূর্ণ বোকা বনে গেলেন কিউয়ি ব্যাটার। বল এসে ভেঙে দিল লেগ স্টাম্প। দু’টি উইকেট নেওয়ার পরেই দর্শকাসনের দিকে তাকিয়ে বিশেষ একটি উৎসব করতে দেখা গেল অক্ষরকে। তৃতীয় উইকেটটি পেলেন তৃতীয় ওভারে।

    বুম বুম বুমরা, স্বপ্নের ফর্মে সঞ্জু

    তাঁকে নিয়ে আর নতুন করে কী-ই বা বলার আছে। বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন তিনি। রবিবার তাঁর সামনে মঞ্চ তৈরিই ছিল। সেটাকে কাজে লাগালেন পুরোদমে। অহমদাবাদ বুমরাহেরও ঘরের মাঠ। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচে তাঁর বোলিং ফিগার ৪-০-১৫-৪। অর্থাৎ প্রতি ওভারে চারেরও কম রান দিয়েছেন। সঙ্গে চারটি উইকেট। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। বুমরা ছিলেন প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট। ২০২৬-ফাইনালে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ। সুপার এইট থেকে স্বপ্নের ফর্মে সঞ্জু। টানা তিন ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করলেন। স্পর্শ করলেন শাহিদ আফ্রিদি ও বিরাট কোহলির কীর্তি। আফ্রিদি ও কোহলি টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন। সঞ্জুও সেই কীর্তিতে ভাগ বসালেন। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন স্যামসন। সেটিও রেকর্ড। কোনও এক বিশ্বকাপে এত ছক্কা কেউ মারেননি। প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্টও সঞ্জু।

    ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, পরাস্ত ইতিহাস

    ২০২৬-এ এসে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হল। একই সঙ্গে ইতিহাসকেও পরাস্ত করল ভারত। কোনও দেশ এখনও পর্যন্ত তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। কোনও দলই বিশ্বকাপ ডিফেন্ড করতে পারেনি। কোনও আয়োজক দেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনটি রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল সূর্যর ভারত। বিশ্বজয়ের উল্লাসের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল গ্যালারি থেকে আমেদাবাদের রাজপথে। এই উচ্ছ্বাস-উল্লাস খুবই সংক্রামক। তা নিমেষে ছড়িয়ে পড়ল গোটা দেশ।

     

     

     

     

LinkedIn
Share