Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • JP Nadda: স্বাস্থ্যে আত্মনির্ভরতার বড় পদক্ষেপ, দেশীয় টিটেনাস ও অ্যাডাল্ট ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন চালু নাড্ডার

    JP Nadda: স্বাস্থ্যে আত্মনির্ভরতার বড় পদক্ষেপ, দেশীয় টিটেনাস ও অ্যাডাল্ট ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন চালু নাড্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আত্মনির্ভর ভারতের পথে আরও এক ধাপ। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে স্বনির্ভর দেশ। শনিবার হিমাচল প্রদেশের কাসৌলিতে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গবেষণগার (Central Research Institute) দেশীয়ভাবে প্রস্তুত টিটেনাস ও অ্যাডাল্ট ডিপথেরিয়া (টিডি) ভ্যাকসিনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। তিনি একে ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যখাতে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাড্ডা বলেন, “এই ভ্যাকসিনের সূচনা দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এর বাস্তব রূপ

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টিডি ভ্যাকসিনকে দেশের ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রামের (Universal Immunization Programme) আওতায় সরবরাহ করা হবে। আগামী এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে সিআরআই প্রায় ৫৫ লক্ষ ডোজ সরবরাহ করবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে, যাতে সারা দেশে টিকাকরণ কর্মসূচি জোরদার করা যায়। নাড্ডা জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ও ওষুধ উৎপাদন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য কেন্দ্র সরকার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশীয় টিডি ভ্যাকসিন সেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনারই বাস্তব রূপ। নাড্ডা বলেন, ভারত আজ বিশ্বে ‘ফার্মেসি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে পরিচিত এবং বৈশ্বিকভাবে অন্যতম প্রধান ভ্যাকসিন উৎপাদক দেশ। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিংয়ে ভারত ‘ম্যাচুরিটি লেভেল ৩’ অর্জন করেছে, যা দেশের শক্তিশালী ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার প্রমাণ।

    স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতের ডিজিটাল অগ্রগতি

    অতীতের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একসময় টিটেনাস ভ্যাকসিন তৈরি হতে বহু দশক সময় লেগেছে। এমনকি জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভ্যাকসিন আবিষ্কারেও দীর্ঘ গবেষণা প্রয়োজন হয়েছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারতের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র নয় মাসে দেশ দুটি দেশীয় টিকা তৈরি করে এবং ২২০ কোটিরও বেশি ডোজ প্রয়োগ করে, যার মধ্যে বুস্টার ডোজও ছিল। টিকাকরণ শংসাপত্র ডিজিটালভাবে প্রদান করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতের ডিজিটাল অগ্রগতির নিদর্শন। ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে নাড্ডা জানান, ভারত প্রায় ১০০টি দেশে কোভিড টিকা সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে ৪৮টি দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিআরআই-এর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

  • Congress Protest: এআই সামিটে কংগ্রেসের বিক্ষোভ “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ, বলল দিল্লি পুলিশ

    Congress Protest: এআই সামিটে কংগ্রেসের বিক্ষোভ “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ, বলল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সদস্যদের বিক্ষোভের ঘটনাকে “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালতে পেশ করা বক্তব্যে পুলিশ জানায়, এই প্রতিবাদ নেপালের তথাকথিত ‘জেন জি আন্দোলন’ থেকে অনুপ্রাণিত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কংগ্রেস কর্মীদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যা সেখানে সরকার পতনের কারণ হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    নেপালের জেন জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা

    পুলিশের আইনজীবী আদালতে বলেন, “এটি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র। নেপালের জেন জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের একে অপরের সঙ্গে এবং ডিজিটাল প্রমাণের সঙ্গে মুখোমুখি জেরা করা প্রয়োজন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।” পুলিশ আরও জানায়, বিক্ষোভের অর্থায়ন সম্পর্কেও তদন্ত চলছে। ঘটনায় প্রায় ১০ জন যুব কংগ্রেস কর্মী এআই সম্মেলনের ভেন্যুতে ঢুকে শার্ট খুলে বিক্ষোভ দেখান এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভকারীরা সাদা টি-শার্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান প্রদর্শন করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁদের আটক করে। পরে সম্মেলন বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

    “দেশবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা বিক্ষোভকে “দেশবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন। বিজেপি নেতা নিতিন নবীন অভিযোগ করেন, “আমরা প্রায়ই ‘আরবান নকশালবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করি। আগে কিছু দল এতে প্রভাবিত ছিল, এখন তারা পুরোপুরি এর অংশ হয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যখন বিশ্বমঞ্চে ভারতের আলোচনা হচ্ছে, তখন এ ধরনের লজ্জাজনক কাজ দেশের অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।” দিল্লি থেকে মুম্বই—বিভিন্ন শহরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয় বিজেপি। মুম্বইয়ে রাহুল গান্ধীকে কালো পতাকা দেখান বিজেপি কর্মীরা।

    রাহুল গান্ধীকে কালো পতাকা প্রদর্শন

    শনিবার সকালে রাহুল গান্ধী মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে ঠানে জেলার ভিওয়ান্ডিতে একটি ২০১৪ সালের মানহানির মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে যান। বিমানবন্দর চত্বরে বিজেপি সমর্থকেরা কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাজধানী দিল্লিতেও একই চিত্র দেখা যায়। বিজেপি-র নেতা-কর্মীরা আকবর রোডে কংগ্রেসের দফতরের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। দিল্লি বিজেপি সভাপতি বিরেন্দ্র সচদেবা এবং লোকসভা সাংসদ মনোজ তিওয়ারি যুব কংগ্রেসের ওই প্রতিবাদকে “দেশদ্রোহী” কর্মকাণ্ড বলে কটাক্ষ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।

  • Bharatiya GPT: এআই সামিটে উন্মোচিত ভারতীয় জিপিটি, প্রাচীন জ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেতুবন্ধন

    Bharatiya GPT: এআই সামিটে উন্মোচিত ভারতীয় জিপিটি, প্রাচীন জ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেতুবন্ধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চ্যাটজিপিট-র মতো অ্যাপ নিয়ে আসছে ভারত। তৈরি হচ্ছে দেশীয় জিপিটি। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বম্বের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রোগ্রামটি তৈরি করা হচ্ছে, যার নাম ‘ভারত জিপিটি’ (Bharat GPT)। দিল্লিতে ভারত মণ্ডপমে আন্তর্জাতিক এআই সামিটে এর উন্মোচন হল। ভারতের প্রাচীন পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার থেকে নির্মিত একটি দেশীয় বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) এটি। এআই সামিটে স্পুটনিক ইন্ডিয়ার ধৈর্য মহেশ্বরী ও ভারতীয় জিপিটি (BharatiyaGPT)–এর প্রতিষ্ঠাতা আর রামকৃষ্ণনের কথোপকথনে উঠে এল ভারতের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।

    এক কোটি পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার থেকে এআই

    বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ বৃহৎ ভাষা মডেল মূলত পাশ্চাত্য তথ্যভাণ্ডারের উপর নির্ভরশীল। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় উদ্ভাবকদের প্রশ্ন—কেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভারতের সহস্রাব্দ প্রাচীন বিজ্ঞান, চিকিৎসা, গণিত, দর্শন ও জীবনবিজ্ঞানের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে শিখবে না? এই ভাবনা থেকেই গড়ে উঠেছে একটি ভারতকেন্দ্রিক ভাষা মডেলের এক ইকোসিস্টেম। যা ১ কোটিরও বেশি প্রাচীন পাণ্ডুলিপির উপর ভিত্তি করে নির্মিত। চল্লিশেরও বেশি লিপিতে লেখা এই পাণ্ডুলিপিগুলি বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিদ্যার অন্তর্গত। উদ্যোগটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়—এটি সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধারেরও প্রয়াস।

    ভারতীয় জিপিটি-র জন্ম

    কেবল পশ্চিমের ডেটাসেটের অভিযোজন ভারতের বৌদ্ধিক ঐতিহ্যকে ধারণ করতে পারবে না, এই উপলব্ধি থেকে সরাসরি ভারতীয় পাণ্ডুলিপি-সাহিত্যের আশ্রয় নেওয়া হয়। তৈরি হয় ভারতীয় জিপিটি। এর মধ্যে রয়েছে আয়ুর্বেদ নিয়ে ‘লোকস্বস্তি জিপিটি’। যেখানে অষ্টাঙ্গ হৃদয়ম, শুশ্রুত সংহিতার মতো গ্রন্থ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এই মডেল প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞান, শল্যচিকিৎসা, স্বাস্থ্যরক্ষা ও জীবনযাপন পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রদান করে। ভারতের শাস্ত্রীয় গণিতচর্চাকে নতুন রূপ দিয়েছে ‘গণিত জিপিটি’। বীজগণিত, ত্রিকোণমিতি, সংখ্যা তত্ত্বসহ প্রাচীন গণিতজ্ঞদের আবিষ্কার এখন আধুনিক ভাষায় সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। সাহায্য নেওয়া হয়েছে আর্যভট্ট, লীলাবতী, বীজগণিত-এর। অর্থনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে অর্থশাস্ত্রকে। এই গ্রন্থে রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনার যে বিশ্লেষণ রয়েছে, তা আধুনিক প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক করে তুলছে সংশ্লিষ্ট মডেল। আধ্যাত্মিক ও জীবনদর্শনের জন্য তৈরি হয়েছে ‘ভগবত গীতা জিপিটি’। এখানে ব্যবহারকারী কেবল শ্লোক নয়, তার প্রেক্ষাপট, ব্যাখ্যা ও দার্শনিক তাৎপর্যও জানতে পারবেন।

    ভারতের এআই যাত্রার নতুন পরিচয়

    উদ্যোক্তাদের মতে, ভারতের প্রাচীন গ্রন্থগুলি কেবল ধর্মীয় বা ভক্তিমূলক রচনা নয়; এগুলি ছিল সুসংগঠিত, বিশ্লেষণধর্মী ও বৈজ্ঞানিক দলিল। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই জ্ঞান এখন গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে। এআই সামিটে বার্তা ছিল স্পষ্ট—এটি শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও এক নতুন দিগন্ত। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখন আয়ুর্বেদ, গণিত, দর্শন ও রাষ্ট্রনীতির জ্ঞানকে বিচ্ছিন্ন অংশে নয়, এক জীবন্ত ডিজিটাল ভাণ্ডার হিসেবে অন্বেষণ করতে পারবে। প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনই হয়তো ভারতের এআই যাত্রার নতুন পরিচয় গড়ে তুলবে।

  • Delhi High Alert: লালকেল্লা ও মন্দির এলাকায় আইইডি হামলার ছক লস্করের! রাজধানীতে জারি হাই অ্যালার্ট

    Delhi High Alert: লালকেল্লা ও মন্দির এলাকায় আইইডি হামলার ছক লস্করের! রাজধানীতে জারি হাই অ্যালার্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় রাজধানী দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট জারি করল জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT) ওল্ড দিল্লির জনবহুল ধর্মীয় স্থান ও ঐতিহাসিক এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র হাতে আসা একটি গোয়েন্দা নোটে বলা হয়েছে, লালকেল্লা ও ঘনবসতিপূর্ণ চাঁদনি চকের মন্দির সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গিরা আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) হামলার চেষ্টা চালাতে পারে।

    ভারতে বড়সড় হামলার ছক লস্করের

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রটি ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, লস্করের জঙ্গিরা ভারতে বড়সড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে। এই গোয়েন্দা তথ্যের পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করেছে, বিশেষ করে ওল্ড দিল্লিতে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যানবাহন তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে এবং ধর্মীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্রের কাছে অ্যান্টি-সাবোটাজ চেক চালানো হচ্ছে।

    লালকেল্লা হামলার তিন মাস…

    গত বছর ঘটে যাওয়া লালকেল্লা গাড়ি বিস্ফোরণের প্রায় তিন মাস পর নতুন হামলার সতর্কতা জারি হল। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া অন্যতম প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা ছিল। লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরক বোঝাই একটি হুন্ডাই গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হন এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। পাশাপাশি আশপাশের একাধিক গাড়িতে আগুন ধরে যায়। তদন্তকারীরা পরে নিশ্চিত করেন যে, এই বিস্ফোরণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-ভিত্তিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল।

    হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল…

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানায়, গাড়ির চালক তথা আত্মঘাতী জঙ্গি উমর মহম্মদ ওরফে উমর উন নবি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত একজন চিকিৎসক ছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অংশের ডিএনএ পরীক্ষায় তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। তদন্তে উঠে আসে, উমর প্রতিবেশী হরিয়ানা থেকে পরিচালিত একটি বৃহত্তর ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’ বা চিকিৎসক-সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দিল্লি বিস্ফোরণের আগের দিনই নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ফরিদাবাদ থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করে এবং দুই চিকিৎসক-জঙ্গি মুজাম্মিল ও আদিল রাদার-সহ মূল চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লিতে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কড়া অভিযানের চাপে পড়ে উমর নাকি লালকেল্লার কাছে গাড়িটি আগেভাগেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয়।

  • Hemicrania Continua: দীর্ঘদিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছেন? হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া নয় তো! কী এই রোগ?

    Hemicrania Continua: দীর্ঘদিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছেন? হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া নয় তো! কী এই রোগ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    মাথার এক পাশে কিংবা পিছনের অংশে ব্যথা। প্রায় যন্ত্রণার তীব্রতা বাড়ে। আবার কখনো তীব্রতা কমে। কিন্তু একটানা যন্ত্রণা (Long-Term Headache) ভোগান্তি বাড়ায়। মাথার ব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা। তবে চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একটানা মাথা ব্যথার নেপথ্যে অনেক সময়েই অন্য কারণ রয়েছে। কিন্তু অবহেলার জেরে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদী মাথা ব্যথার কারণ কী হতে পারে?

    মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা না থাকলেও মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি হতে পারে। তার অন্যতম কারণ হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua)। এটি একটি স্নায়ু ঘটিত সমস্যা। যার জেরে মাথার যে কোনও একটি পাশে বা নির্দিষ্ট কোনও অংশে যন্ত্রণা হয়। অধিকাংশ সময়েই দেখা যায় এই সমস্যায় আক্রান্তের যন্ত্রণায় ভোগান্তির মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসও হতে পারে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যন্ত্রণার তীব্রতা সবসময় এক রকম থাকে না। কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে।

    হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া কী? কেন হয় এই রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) হল মস্তিষ্কের স্নায়ুঘটিত একটা সমস্যা। এই সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণে তৈরি হয় না। বরং এই সমস্যা হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে‌। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তার অন্যতম কারণ হল হরমোন। মহিলাদের শরীরে নানান হরমোনঘটিত পরিবর্তন হয়। বিশেষত ঋতুস্রাব বন্ধ পর্ব বা পোস্ট মেনোপোজ পর্বে শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন হয়। যার জেরে মহিলাদের মস্তিষ্কে এই ধরনের স্নায়বিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে হরমোন ঘটিত সমস্যার পাশপাশি মানসিক চাপ কিংবা অবসাদ এই ধরনের স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    এই সমস্যা কি আরো জটিলতা তৈরি করতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) অন্য রোগের কারণ নয়। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী মাথার যন্ত্রণা চরম ভোগান্তি তৈরি করে। স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। তাছাড়া যেকোনো সাধারণ কাজেও মনঃসংযোগ করতে দেয় না। মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি কাজ করে না। লাগাতার মাথা যন্ত্রণার ফলে খিটখিটে ভাব তৈরি হয়। সবমিলিয়ে জীবন যাপনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তাই মাথা ব্যথা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া শুধুই ব্যথা নিরাময় ওষুধ খাওয়া উচিত নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। কারণ কেন মাথা ব্যথা হচ্ছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা না থাকলে ব্যথা নিরাময় ওষুধ শুধু সাময়িক আরাম দেবে। তার বেশি কিছু নয়।

    কীভাবে এই রোগের দাপট কমবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবনযাপনের ধরন এই রোগের দাপট কমাতে সাহায্য করবে। কয়েক দিন ধরে লাগাতার মাথা যন্ত্রণার ভুগলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) মতো সমস্যা থাকলে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পাশপাশি যোগাভ্যাস জরুরি। যন্ত্রণার তীব্রতা কমাতে নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন বিশেষ সাহায্য করবে। যেমন অধোমুখ শবাসন। প্রথমে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো করে বসতে হবে। হাতের তালু মাটিতে থাকবে, পিঠ উপরের দিকে তুলতে হবে, পায়ের পাতা মাটি স্পর্শ করে থাকবে। দেখতে লাগবে অনেকটা ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষরের মতো লাগবে। মাথা যতটা ঝোঁকাতে যাবে, ততই ভাল। এই ভঙ্গিমায় ২০ সেকেন্ড থাকতে পারলে রক্তচাপ ও শরীরের স্নায়বিক জটিলতা কমবে। তাই এই ধরনের রোগের দাপট কমাতে এই আসন বিশেষ সাহায্য করে।

    সৃজনশীল কাজে নিজেকে বরাদ্দ করুন…

    এছাড়াও রয়েছে পশ্চিমোত্তাসন। প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে দু’হাত তুলে মাথার দু’পাশে উপরের দিকে রাখতে হবে। ধীরে ধীরে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’ হাত দিয়ে জোড়া পায়ের বুড়ো আঙুল ধরতে হবে। দুই পায়ের মাঝখানে কপাল ঠেকাতে হবে। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে মোটামুটি তিরিশ সেকেন্ড থাকতে হবে। তাহলে এই ধরনের মাথার যন্ত্রণার (Hemicrania Continua) তীব্রতা কমানো সহজ হবে। এর পাশপাশি নিয়মিত গান শোনা কিংবা ছবি আঁকার মতো অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ বাড়লে। পরিবার ও কাজের মধ্যে ব্যালেন্স করাই সবচেয়ে বড় মানসিক চাপ হয়ে উঠছে। তাই রুটিন মাফিক চলা একঘেয়ে ব্যস্ত জীবনে একটু সময় সৃজনশীল কাজে বরাদ্দ করতে হবে। তবেই মানসিক চাপ কমবে। মানসিক চাপ কমলে যে কোনও ধরনের মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি কমানো সহজ হয়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • AI Impact Summit: এআই সামিটে জামা খুলে প্রতিবাদ কংগ্রেসের! বিশ্বের দরবারে দেশকে ছোট করার চেষ্টা, বলল বিজেপি

    AI Impact Summit: এআই সামিটে জামা খুলে প্রতিবাদ কংগ্রেসের! বিশ্বের দরবারে দেশকে ছোট করার চেষ্টা, বলল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনে (AI Impact Summit) অদ্ভুত আচরণ চার কংগ্রেস যুব নেতার। নিরাপত্তাবাহিনীর নজর এড়িয়ে মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে মোদি ও সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেল যুব কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের। শুক্রবার এই ঘটনায় ৪-৫ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। জানা যাচ্ছে, কংগ্রেসের ১০ জন সদস্য এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গোটা ঘটনায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি।

    কীভাবে বিক্ষোভ কংগ্রেসের

    দিল্লি পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কিউআর-কোড যুক্ত পাশ ব্যবহার করে এই সম্মেলনে (Delhi AI Summit) প্রবেশ করেছিল অভিযুক্তরা। এরপর সকলের অলক্ষে মঞ্চের সামনে গিয়ে নিজেদের জামা খুলে প্রতিবাদ দেখাতে থাকে ১০ প্রতিবাদী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয় পুলিশের তরফে। ঘটনায় ৪ থেকে ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। অভিযুক্তরা নিজেদের যুব কংগ্রেসের সদস্য বলে জানিয়েছেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইওয়াইসি-র জাতীয় সম্পাদক কৃষ্ণ হরি, বিহার প্রদেশ সম্পাদক কুন্দন যাদব, উত্তরপ্রদেশের সহ-সভাপতি অজয় কুমার এবং জাতীয় সমন্বয়ক নরসিংহ যাদব। দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত সিপি দেবেশ কুমার মহলা জানান, বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

    সামিটের কার্যক্রম ব্যাহত

    এই ঘটনায় কয়েক মিনিটের জন্য সামিটের (AI Impact Summit) কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উপস্থিত দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিরা ও শীর্ষ কর্পোরেট কর্তারাও হতচকিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কিছু দর্শকের বচসা এবং হাতাহাতিও হয়। যুব কংগ্রেসের দাবি, সম্প্রতি ঘোষিত ভারত-আমেরিকা শুল্ক চুক্তির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, ওই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। আইওয়াইসি-র জাতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব বলেন, “আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে যে কোনও জায়গায় প্রতিবাদ করতে পারি।”

    দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্য

    বিজেপি এই ঘটনার তীব্র ভাষায় নিন্দা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই বিক্ষোভ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভারতের ক্রমবর্ধমান এআই অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত হয়েই কংগ্রেস এই ধরনের কর্মকাণ্ডে নেমেছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘ভারত গর্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনের (AI Impact Summit) আয়োজন করেছে দেশে। সেখানে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও ভারতের কৃতিত্ব প্রদর্শিত হচ্ছে। এহেন একটি পদক্ষেপকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে কংগ্রেস সেখানে সমস্যা তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।’ পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে তোপ দেগে তিনি আরও লেখেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরা জামা খুলে প্রতিবাদের নামে এই অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটাতে নেমে পড়েছেন। এই ঘটনা আসলে বিশ্বমঞ্চে ভারতকে দুর্নাম করার অপচেষ্টা।’ মালব্যের আরও অভিযোগ, ‘প্রযুক্তিক্ষেত্রে শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারত। সেখানে কংগ্রেসের এই আচরণ তাঁদের জন্য আনন্দের যারা ভারতের পতন দেখতে মুখিয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদ অবশ্যই গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু তার অর্থ বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করা নয়। ভারত ভালো কিছু প্রত্যাশা করে।’

  • Rajya Sabha: একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে বিজেপি! রাজ্যসভায় ৩৭ আসনে নির্বাচনে ভালো জায়গায় এনডিএ

    Rajya Sabha: একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে বিজেপি! রাজ্যসভায় ৩৭ আসনে নির্বাচনে ভালো জায়গায় এনডিএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১৬ মার্চ ১০টি রাজ্যে রাজ্যসভার ৩৭টি (Rajya Sabha) আসনে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। প্রাথমিক সমীকরণ বলছে, ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট উচ্চকক্ষে আরও মজবুত জায়গায় যেতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে—মহারাষ্ট্র, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে নিজেদের মধ্যে টানাপোড়েন সামাল দিতে প্রায় ব্যর্থ ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বর্তমানে ২৪৫ সদস্যের রাজ্যসভায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১০৩—দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। মিত্রদল মিলিয়ে এনডিএর শক্তি প্রায় ১৩৩, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১২২) থেকে অনেকটাই বেশি। দলীয় সূত্রের দাবি, চলতি বছরে ধাপে ধাপে নির্বাচন শেষে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। অভ্যন্তরীণ হিসেবে এনডিএ অন্তত ২১টি আসন জিততে পারে বলেই আশা। সারা বছরে মোট ৭১টি আসনে ভোট হওয়ার কথা, সেখানে ৪০-এর গণ্ডি পার করাই লক্ষ্য জোটের।

    মহারাষ্ট্র ও বিহার: এনডিএর বড় ভরসা

    মহারাষ্ট্র ও বিহার—এই দুই রাজ্যেই এনডিএর সমীকরণ খুব ভালো। মহারাষ্ট্র বিধানসভায় ২৮৮টির মধ্যে বিজেপির ১৩১ জন বিধায়ক, আর বিহারে ২৪৩ আসনের মধ্যে ৮৯ জন বিজেপি বিধায়ক। এই সংখ্যা রাজ্যসভায় বাড়তি আসনে রূপান্তরিত হতে পারে বলেই মনে করছে শিবির। মহারাষ্ট্রে শাসক জোট ‘মহাযুতি’র শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ। একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনা এবং সুনেত্রা পাওয়ার ঘনিষ্ঠ এনসিপি শিবিরের সঙ্গে আলোচনা ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। বিহারে চিরাগ পাসোয়ানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী শিবিরের জন্য মহারাষ্ট্রে লড়াই কঠিন। শারদ পাওয়ার, ফৌজিয়া খান, প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী ও রজনী পাতিলদের মতো নেতাদের নাম ঘুরছে। তবে নিশ্চিতভাবে জেতার মতো আসন মাত্র একটি—ফলে প্রতিযোগিতা তীব্র। শরদ পওয়ার আগে না লড়ার ইঙ্গিত দিলেও, নতুন করে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার জল্পনা রয়েছে। বিহারেও বিরোধীদের জন্য চিত্র কঠিন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের জেরে সেখানে দুটি আসন হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে।

    অন্য রাজ্যেও এগিয়ে এনডিএ

    আসামে তিনটি ও ওড়িশায় চারটি আসনে ভোট—দুই রাজ্যেই বিজেপির সুবিধা স্পষ্ট। এছাড়া হরিয়ানা ও ছত্তিশগড়ে দুটি করে আসনে এনডিএ এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গে অন্তত একটি আসন পেতে পারে বিজেপি। তামিলনাড়ু-তে বর্তমান শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকেই কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে বিরোধীরা। তামিলনাড়ুতে ছয়টির মধ্যে চারটি আসন, পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটির মধ্যে চারটি পেতে পারে বিরোধীরা। জাতীয় কংগ্রেস তেলেঙ্গানায় দুটি, ছত্তিশগড় ও হরিয়ানায় একটি করে এবং হিমাচল প্রদেশে একমাত্র আসন ধরে রাখতে পারে। বর্তমানে বিরোধীদের মোট ৭৯ জন সদস্য রয়েছেন উচ্চকক্ষে। সমীকরণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৪ জন ‘ইন্ডিয়া’ জোট-এর প্রার্থী জিততে পারেন।

    উচ্চকক্ষে বড় নাম ও জল্পনা

    বিজেপির অন্দরে নতুন রাজ্য সভাপতি নীতিন নবীনকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জল্পনা রয়েছে। তবে সূত্রের দাবি, আপাতত তিনি বিহার বিধানসভাতেই থাকতে পারেন—আগে নীতিন গড়কড়ী ও অমিত শাহ দলীয় সভাপতির সময় এমন নজির রয়েছে। এ বছর অবসর নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতওয়ালে ও রামনাথ ঠাকুর—দু’জনেরই পুনরাগমনের সম্ভাবনা। উপ-সভাপতি হরিবংশ নারায়নের মেয়াদও এপ্রিলেই শেষ হচ্ছে। তাঁকে পুনর্নিযুক্ত না করা হলে নতুন উপ-সভাপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। জুন, জুলাই ও নভেম্বর পর্যন্ত একাধিক ধাপে ভোট হবে। রাজনৈতিক বার্তা ও সামাজিক-আঞ্চলিক সমীকরণ মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের মাধ্যমে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বার্তা দিতে চায় বিজেপি। সব মিলিয়ে, জোট-সমীকরণ ও রাজ্যভিত্তিক অঙ্কই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে। তবে আপাতত দিকনির্দেশ স্পষ্ট—রাজ্যসভায় নিজেদের দখল আরও মজবুত করতে এগিয়ে রয়েছে এনডিএ। একই সঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকেও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে বিজেপি।

  • Board of Peace: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন দিল্লির! ‘বোর্ড অফ পিস’-এ পর্যবেক্ষক ভারত

    Board of Peace: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন দিল্লির! ‘বোর্ড অফ পিস’-এ পর্যবেক্ষক ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পিস বোর্ডের (Board of Peace) উদ্বোধনী সভায় পর্যবেক্ষক দেশ (India Attends As Observer) হিসেবে যোগ দিল ভারত। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গড়া শান্তি পরিষদ (বোর্ড অফ পিস)-এর সদস্যেরা প্রথম বৈঠক করল। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ন’টি সদস্যরাষ্ট্র— কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মরক্কো, বাহরিন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েতের তরফে বিধ্বস্ত প্যালেস্টাইনে মোট ৭০০ কোটি ডলার (প্রায় ৬৩৭৪১ কোটি টাকা) অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে। সদস্য এবং পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র মিলিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বৈঠকে মোট ৪৭টি দেশের প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন। পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন আমেরিকায় নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এনসি খাম্পা।

    বোর্ডে নেই প্যালেস্টাইন

    গাজার পুনর্গঠনের জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগেই গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে বোর্ড অফ পিস-এর (Board of Peace) সূচনা হয়েছিল। আমেরিকার তরফে ভারত-সহ প্রায় ৬০টি দেশকে এই শান্তিগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও সেই আহ্বানে বেশ কিছু দেশ এখনও সাড়া দেয়নি। বোর্ডের সদস্য হিসাবে হিসেবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এই দুই রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। প্যালেস্টাইন বোর্ডে আমন্ত্রণ না পাওয়াতেও প্রশ্ন উঠেছিল। এই আবহে বৃহস্পতিবার বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ট্রাম্পের দাবি, বৃহৎ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের সূচনা হল বৃহস্পতিবার।

    প্রথমে যোগ দেয়নি ভারত

    যদিও প্রথম পর্যায়ে ভারত গাজা উপত্যকার পুনর্নির্মাণের জন্য ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত পিস বোর্ডে যোগ দেয়নি । গাজা উপত্যকায় ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে ঘোষিত বোর্ডে যোগদানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে রাষ্ট্র নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ২২ জানুয়ারি দাভোসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প গাজায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য পিস বোর্ডের উদ্বোধন করেছিলেন। যদিও সেই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হাজির ছিলেন না ৷

    পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে যোগ

    ডোনাল্ড ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিসে সদস্যদের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী । প্রায় ৫০টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবারের বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এ পর্যন্ত ২৭টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড অব পিসে যোগ দিয়েছে। তবে জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য-সহ এক ডজনেরও বেশি দেশ বোর্ডে যোগ দেয়নি কিন্তু পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছে।

    সদস্য দেশ:

    আলবেনিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বুলগেরিয়া, কম্বোডিয়া, মিশর, এল সালভাদর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।

    পর্যবেক্ষক দেশ:

    ভারত, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ওমান, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

    রাষ্ট্রসংঘকে ‘শক্তিশালী’ করার দাবি

    দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে (World Economic Forum, Davos) গত মাসে ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ‘সবাই এই সংস্থার অংশ হতে চাইছে।’ শুরুতে লক্ষ্য ছিল ইজরায়েল-হামাস (Israel-Hamas) সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, গাজা পুনর্গঠন আর প্রশাসনিক সহায়তা। কিন্তু ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্য বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প ক্ষমতাকাঠামো হিসেবেও উঠে আসতে পারে এই বোর্ড। তবে, রাষ্ট্রসংঘকে পাশ কাটিয়ে নতুন শক্তি গড়ার অভিযোগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আবার রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে কাজ করব। ওদের সম্ভাবনা আছে কিন্তু কাজে লাগানো হয়নি। বোর্ড অব পিস রাষ্ট্রসংঘকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করবে।’ তাঁর দাবি, ‘কোনও দিন আমি থাকব না। তখন রাষ্ট্রসংঘ আরও শক্তিশালী হবে, আর বোর্ড অব পিস তার সঙ্গেই কাজ করবে। রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে আমরা অর্থও দেব।’

    ৯ দেশের ৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি

    বৈঠকের সূচনায় ট্রাম্প জানান, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মরক্কো, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান এবং কুয়েত—এই ৯টি দেশ গাজা পুনর্গঠনের জন্য সম্মিলিতভাবে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে জানান তিনি। যদিও এই অর্থ বরাদ্দের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে এবং অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। ফলে ঘোষিত অর্থ মোট চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

    গাজায় নিরাপত্তা ও সেনা মোতায়েন

    আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স জানান, গাজায় বড়সড় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াও জনবল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১২ হাজার পুলিশ ও ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত রাফাহ শহরে পুনর্গঠন শুরু হবে। মিশর ও জর্ডন পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে বলেও জানানো হয়েছে।

    ভারতের বার্তা স্পষ্ট

    দিল্লির তরফে এক সপ্তাহ আগেই জানানো হয়েছিল, আমেরিকার নতুন ‘বোর্ড অব পিসে’ (Board of Peace) যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ খতিয়ে দেখছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের কাছে আমন্ত্রণ এসেছে। আমরা প্রস্তাবটা রিভিউ করছি। ভারত সবসময় পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন করে।” সেই পর্যালোচনা এখনও চলছে। কিন্তু তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম বৈঠকে অবজারভার দেশ হিসেবে হাজির রইল ভারত। প্রতিনিধিত্ব করলেন ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নামগ্যা সি খাম্পা (Namgya C Khampa)। পূর্ণ সদস্য নয় কিন্তু আলোচনার টেবিলে ভারত অংশ নিল। কূটনৈতিক মহলের মতে, “যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, কিন্তু ভারত বোর্ডটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে—এই বার্তা এখান থেকে স্পষ্ট।”

     

     

     

  • Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ভারত সফরে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্র মিলিয়ে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। তার মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত একাধিক চুক্তি হয়েছে। ভারতে এইচ১২৫ হেলিকপ্টার তৈরির জন্য এয়ারবাস ও টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন কারখানার সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মাক্রঁ। এর পাশাপাশি, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্যেই দুই দেশের সংস্থার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে ভারতেই ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার পথও প্রশস্ত করা হল। চলতি সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে রাজনাথ সিং ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁর উপস্থিতিতে এই মউ স্বাক্ষরিত হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে কথা হচ্ছে। সম্প্রতি, এই মর্মে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফেও। সূত্রের খবর, এর মধ্যে অধিকাংশ যুদ্ধবিমান তৈরি হওয়ার কথা ভারতেই। তার আগে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ, রাফাল যুদ্ধবিমানেই এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ব্যবহৃত হবে। এর আগে, এই যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের জন্য বজড পরিমাণে স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল ও মিটিয়র এয়ার-টু-এয়ার বিভিআর মিসাইল কেনার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এবার, রাফালের জন্য ‘হাতুড়ি’ ক্ষেপণাস্ত্রও ভারতে তৈরি করার চুক্তি হয়ে গেল।

    ৫০-৫০ অংশীদারিত্ব চুক্তি বেল-সাফরাঁর

    জানা গিয়েছে, ভারতে হ্যামার প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) গঠনে সম্মত হয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এবং ফ্রান্সের সাফরাঁ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর নেতৃত্বে হওয়া আলোচনার পর এই অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত হয়। এর লক্ষ্য ভারতের ঘরোয়া প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্র আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দেশের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা। এই যৌথ উদ্যোগে উভয় সংস্থার সমান অংশীদারিত্ব থাকবে। এটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি হস্তান্তর (technology transfer) সহজ করবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যৌথ উদ্যোগটির প্রাথমিক অনুমোদিত শেয়ার মূলধন হবে ১ লক্ষ টাকা, যেখানে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের ১,০০০টি ইকুইটি শেয়ার থাকবে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী এই মূলধন ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। শেয়ারহোল্ডিং সমানভাবে বিভক্ত থাকবে, অর্থাৎ বেল এবং সাফরাঁ— উভয়েরই ৫০ শতাংশ করে অংশীদারিত্ব থাকবে।

    জঙ্গি ঘাটিগুলিতে হাতুড়ির আঘাত

    ‘হ্যামার’ কোনও একক ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং একটি মডুলার কিট, যা সাধারণ আনগাইডেড বোমাকে অত্যাধুনিক প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্রে রূপান্তর করে। এতে থাকে একটি নোজ-মাউন্টেড গাইডেন্স ইউনিট, যা নেভিগেশন ও টার্গেটিংয়ের কাজ করে, এবং একটি টেল-মাউন্টেড রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট, যেখানে সলিড-ফুয়েল রকেট বুস্টার ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উইংলেট সংযুক্ত থাকে। ২০১১ সালে এর নামকরণ করা হয় হ্যমার। শব্দটি একটি অ্যাক্রোনিম, যার পূর্ণ অর্থ— ‘হাইলি এজাইল মডুলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ’। হ্যামার নামটি এসেছে “হাতুড়ির আঘাতে কোনও পৃষ্ঠ চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া”-এই ধারণা থেকে, যা লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার ক্ষমতার প্রতীক। একে মাঝারি-পাল্লার আকাশ-থেকে-ভূমি অস্ত্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। একে প্রায়ই “গ্লাইড বোমা” বলা হয়, কারণ এটি সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ২৫০ কেজি, ৫০০ কেজি ও ১,০০০ কেজি ওজনের স্ট্যান্ডার্ড বোমার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।

    কোন কোন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হবে ভারতে?

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে দুটি আধুনিক ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করা হবে—

    • হ্যামার ২৫০ এক্সএলআর (HAMMER 250 XLR) – ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি স্ট্যান্ড-অফ রেঞ্জ
    • হ্যামার ১০০০ এক্সএলআর (HAMMER 1000 XLR) – প্রায় ১৫০ কিলোমিটার রেঞ্জ

    এগুলি অত্যাধুনিক, সব ধরনের আবহাওয়ায় ব্যবহারের উপযোগী প্রিসিশন মিসাইল, যা যুদ্ধবিমান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিক্ষেপ করা যায়।

    বছরে ১০০০ ইউনিট উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগের (JV) অধীনে প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১০০০ ইউনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ কেবল অ্যাসেম্বলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এতে প্রযুক্তি হস্তান্তর (ToT) এবং দেশীয় দক্ষতা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রাফালের জন্য বড় শক্তি

    এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পার্বত্য অঞ্চলে এবং ভারীভাবে সুরক্ষিত বাঙ্কারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত অস্ত্র। বিশ্ব ইতিমধ্যেই হ্যামার সিস্টেমের কার্যকারিতা দেখেছে। সূত্রের খবর, অপারেশন সিদুঁর-এর সময় ভারতের যুদ্ধবিমানগুলো হ্যামার এবং স্ক্যাল্প মিসাইল ব্যবহার করে শত্রু ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালায়। এই অভিযানে ভারতের বায়ুসেনা নয়টি স্থানে মোট ২১টি সন্ত্রাসী শিবিরে আঘাত হানে। এই অভিযানে ব্যবহৃত নির্ভুল অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল রাফাল যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত হ্যমার সিস্টেম। ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্রটির স্বয়ংক্রিয় গাইডেন্স ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধ ক্ষমতা একে শক্তপোক্ত লক্ষ্যবস্তু—বিশেষ করে পাকিস্তানে অবস্থিত জৈশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী করে তুলেছে। একটি রাফাল একসঙ্গে ৬টি ২৫০ কেজির হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। ফলে, হ্যামার দিয়ে একসঙ্গে ৬টি পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম রাফাল।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    এই মিসাইল উৎপাদনের কৌশলগত গুরুত্ব হল, এটি ভারতের “আত্মনির্ভর ভারত” প্রতিরক্ষা অভিযানে বড় শক্তি জোগাবে। একই সঙ্গে ভারতের মতো বড় প্রতিরক্ষা বাজারে ফ্রান্সের উপস্থিতি আরও মজবুত হবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচিত হবে। ভারতে হ্যামার এক্সএলআর উৎপাদনকে দুই দেশের গভীরতর কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি বড় প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য সরবরাহের গতি বাড়বে, আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।

  • India Bangladesh Cricket: ভারতে খেলতে না আসার জন্য বাংলাদেশকে উস্কেছিলেন নকভি! বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন বিসিবি কর্তার

    India Bangladesh Cricket: ভারতে খেলতে না আসার জন্য বাংলাদেশকে উস্কেছিলেন নকভি! বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন বিসিবি কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভির উস্কানিতেই ভারত বিরোধিতায় সরব হয়েছে বাংলাদেশ (India Bangladesh Cricket)। এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন সচিব তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রাক্তন সিইও সৈয়দ আশরাফুল হক। রেভস্পোর্টজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশরাফুল জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে না আসার বিষয়ে উস্কেছিলেন নকভি। ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে আশরাফুল দাবি করেন, বিশ্ব ক্রিকেটের ভরকেন্দ্রই হল ভারত। নিজেদের উন্নতি করতে গেলে ভারত-বিরোধিতা কাম্য নয়।

    নকভির উস্কানিতে ভুল সিদ্ধান্ত

    আশরাফুল বলেন, “ক্রিকেট প্রশাসক হিসাবে আমি সততা ও দায়বদ্ধতায় বিশ্বাসী। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বর্তমান প্রধান মহসিন নকভির কথায় বাচ্চা ছেলের মতো প্রভাবিত হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। নকভিও ওঁকে বয়কটের সিদ্ধান্ত চালিয়ে যেতে বলেছিল। শেষ পর্যন্ত কী হল? দিনের শেষে কে জিতল?” তিনি বলেন, “আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি যে, সেই সময় ক্রীড়া উপদেষ্টার কথায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা ঠিক ছিল না। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া হয়নি বলে এত বড় সিদ্ধান্তের কোনও যুক্তি নেই।

    ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বে বাংলাদেশই কি বড় ক্ষতিগ্রস্ত?

    সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন ওঠে, ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। জবাবে আশরাফুল হক বলেন, “নিশ্চয়ই। এটা দুঃখজনক এবং অপরিপক্বতার পরিচয়। তখন সরকারবিরোধী ভারতবিরোধী আবেগ ছিল প্রবল।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনও যৌক্তিক কারণ ছিল না, শুধু এক ‘অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া’ ইস্যু ছাড়া। জগমোহন ডালমিয়ার সময় আমরা সম্মানজনক অবস্থানে ছিলাম, এখন কিছু ব্যক্তি ও সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা হাসির পাত্র হয়ে উঠছি।”

    ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই মূল চাবিকাঠি

    ভারতকে বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক কেন্দ্র উল্লেখ করে আশরাফুল হক বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। না হলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। নতুন সরকার গত তিন মাসের জটিলতা মেটাতে চেষ্টা করবে বলেই আমার বিশ্বাস।” তিনি জানান, জগমোহন ডালমিয়া-র সময় তিনি আইসিসি নির্বাচনে প্রচার ব্যবস্থাপক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং ১৯৯৬ বিশ্বকাপ আয়োজনেও সক্রিয় ছিলেন।

    টি২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। আইসিসির বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও অবস্থান বদলায়নি তারা। ফলে তাদের পরিবর্তে সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। অন্যদিকে, মুস্তাফিজুর রহমান-কে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders) ৯.২০ কোটি রুপিতে দলে নিলেও পরবর্তীতে তাকে ছাড়তে বলা হয় বলে দাবি ওঠে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিবেশী দেশের কিছু মন্তব্যকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় পাকিস্তান একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

    ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট

    আশরাফুলের মতে, “বাংলাদেশ সরকার ঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ভারতের। এই সিরিজ আগেও এক বার স্থগিত হয়েছে। যদি ভারত বাংলাদেশে খেলতে না যায়, তা হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় ক্ষতি হবে বলে দাবি করেছেন আশরাফুল। ভারত যদি সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে না আসে তো বাংলাদেশের ক্রিকেট ৫-১০ বছর পিছিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব, ভারতকে রাজি করিয়ে খেলতে নিয়ে আসা। আশা করছি সেই দৃশ্যই দেখতে পাব।”

    রাজনীতি বনাম ক্রিকেট

    খেলার জগতে, শিল্পের জগতে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। তবে এটা নতুন নয়। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার ২২টি দেশ অলিম্পিক্স বয়কট করেছিল। ১৯৮০ সালে আমেরিকা বয়কট করেছিল মস্কো অলিম্পিক্স। ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্স রাশিয়া বয়কট করে। এটা চলে যে খেলা আর রাজনীতি মিলে যায়। রাজনীতিকে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখার দাবি ওঠে মাঝেমধ্যেই। তবু রাজনীতি বার বার জড়িয়ে পড়েছে ২২ গজের লড়াইয়ের সঙ্গে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট সম্পর্ক একটা সময় পর্যন্ত ছিল দাদা-ভাইয়ের মতো। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রাক্তন সভাপতি জগমোহন ডালমিয়ার উদ্যোগে ২০০০ সালে টেস্ট খেলার মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। তার পরও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতিতে পাশে থেকেছে বিসিসিআই। গত কয়েক দশক ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট আবহে মৈত্রী, সৌজন্যের অভাব হয়নি। ভারত এবং বাংলাদেশ, দু’দেশেই জনপ্রিয়তম খেলা ক্রিকেট। যে কোনও জয়েই আনন্দে ভাসেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ২২ গজের একটা জয় বহু মানুষকে কষ্ট, যন্ত্রণা, অনাহার ভুলিয়ে দেয়। কয়েক ঘণ্টা মন ভাল করে দেয় তাঁদের। কিন্তু সুযোগ বুঝে বিশ্বের যে কোনও জায়গায় ভারত-বিরোধিতার জিগির তুলে দিতে ওস্তাদ পাকিস্তান। তাই বাইশগজেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বারবার চলে আসে পিসিবি। নিজেদের ক্রিকেটের উন্নতির কথা ভুলে ভারত-বিরোধিতাই তাদের মন্ত্র। তাতে অবশ্য ভারতের কিছুই যায় আসে না। কারণ বটবৃক্ষ হাজার ঝড় সামলেও অন্যদের ছায়া দেয়। এটাই ভারত…তা সে বাইশ গজ হোক বা বিশ্ব রাজনীতি।

LinkedIn
Share