Tag: bangla news

bangla news

  • Ramakrishna 502: “চুল কি সোজা হয়? যেমন বাঁকা, তেমনি রহিল! অহংকারও এই যায়, আবার আসে”

    Ramakrishna 502: “চুল কি সোজা হয়? যেমন বাঁকা, তেমনি রহিল! অহংকারও এই যায়, আবার আসে”

    ৪৮ শ্রীরামকৃষ্ণ কাপ্তেন, নরেন্দ্র প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে দক্ষিণেশ্বরে

    চতুর্থ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৩ই জুন

    অহংকারই বিনাশের কারণ ও ঈশ্বরলাভের বিঘ্ন

    সকলে বসিয়া আছেন। কাপ্তেন ও ভক্তদের সহিত ঠাকুর কথা কহিতেছেন। এমন সময় ব্রাহ্মসমাজের জয়গোপাল সেন ও ত্রৈলোক্য আসিয়া প্রণাম করিয়া আসন গ্রহণ করিলেন। ঠাকুর সহাস্যে ত্রৈলোক্যের দিকে তাকাইয়া কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — অহংকার আছে বলে ঈশ্বরদর্শন হয় না। ঈশ্বরের বাড়ির দরজার সামনে এই অহংকাররূপ গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে। এই গুঁড়ি উল্লঙ্ঘন না করলে তাঁর ঘরে প্রবেশ করা যায় না।

    “একজন ভূতসিদ্ধ হয়েছিল। সিদ্ধ হয়ে যাই ডেকেছে, অমনি ভূতটি এসেছে। এসে বললে, ‘কি কাজ করতে হবে বল। কাজ যাই দিতে পারবে না, অমনি তোমার ঘাড় ভাঙব।’ সে ব্যক্তি যত কাজ দরকার ছিল, সব ক্রমে ক্রমে করিয়ে নিল। তারপর আর কাজ পায় না। ভূতটি বললে, ‘এইবার তোমার ঘাড় ভাঙি?’ সে বললে (Kathamrita), ‘একটু দাঁড়াও, আমি আসছি’। এই বলে গুরুদেবের কাছে গিয়ে বললে, ‘মহাশয়! ভারী বিপদে পড়েছি, এই এই বিবরণ, এখন কি করি?’ গুরু তখন বললেন, তুই এক কর্ম কর, তাকে এই চুলগাছটি সোজা করতে বল। ভূতটি দিনরাত ওই করতে লাগল। চুল কি সোজা হয়? যেমন বাঁকা, তেমনি রহিল! অহংকারও এই যায়, আবার আসে।

    “অহংকার ত্যাগ না করলে ঈশ্বরের কৃপা হয় না।

    “কর্মের বাড়িতে যদি একজনকে ভাঁড়ারী করা যায়, যতক্ষণ ভাঁড়ারে সে থাকে ততক্ষণ কর্তা আসে না। যখন সে নিজে ইচ্ছা করে ভাঁড়ার ছেড়ে চলে যায়, তখনই কর্তা ঘরে চাবি দেয় ও নিজে ভাঁড়ারের বন্দোবস্ত করে।

    “নাবালকেরই অছি। ছেলেমানুষ নিজে বিষয় রক্ষা করতে পারে না, রাজা ভার লন। অহংকার ত্যাগ না করলে ঈশ্বর (Ramakrishna) ভার লন না।

    বৈকুণ্ঠে লক্ষ্মীনারায়ণ বসে আছেন, হঠাৎ নারায়ণ উঠে দাঁড়ালেন। লক্ষ্মী পদসেবা করছিলেন; বললেন, ‘ঠাকুর কোথা যাও?’ নারায়ণ বললেন, ‘আমার একটি ভক্ত বড় বিপদে পড়েছে তাই তাকে রক্ষা করতে যাচ্ছি!’ এই বলে নারায়ণ বেরিয়ে গেলেন। কিন্তু তৎক্ষণাৎ আবার ফিরলেন। লক্ষ্মী বললেন, ‘ঠাকুর এত শীঘ্র ফিরলে যে?’ নারায়ণ হেসে বললেন, ‘ভক্তটি প্রেমে বিহ্বল হয়ে পথে চলে যাচ্ছিল, ধোপারা কাপড় শুকাতে দিছল, ভক্তটি মাড়িয়ে যাচ্ছিল। দেখে ধোপারা লাঠি লয়ে তাকে মারতে যাচ্ছিল। তাই আমি তাকে রক্ষা করতে গিয়েছিলাম’। লক্ষ্মী আবার বললেন, ‘ফিরে এলেন কেন?’ নারায়ণ হাসতে হাসতে বললেন, ‘সে ভক্তটি নিজে ধোপাদের মারবার জন্য ইট তুলেছে দেখলাম (Kathamrita)। (সকলের হাস্য) তাই আর আমি গেলাম না’।”

  • PM Modi In Bhutan: আগামী সপ্তাহেই ভুটান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী! রেল সংযোগ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বিশদ ভাবনা

    PM Modi In Bhutan: আগামী সপ্তাহেই ভুটান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী! রেল সংযোগ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বিশদ ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুই দিনের সরকারি সফরে ভুটান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi In Bhutan)। আগামী সপ্তাহে ভুটানের বর্তমান রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের পিতা প্রাক্তন রাজা জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুকের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে ভুটানে যাওয়ার কথা রয়েছে মোদির। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরসূচি ঘোষণা করা হয়নি, তবু সূত্রমতে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হবে জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংযোগ আরও দৃঢ় করা। আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর ভুটান সফরে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। ২০১৪ সালের পর এটি হবে তাঁর চতুর্থ ভুটান সফর।

    জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন

    সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদি ভুটান (Bharat-Bhutan Relation) সফরের সময় সেখানকার পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন এবং সেখানকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেন। ভুটানের সংবাদ মাধ্যম কুয়েনসেলের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রাক্তন রাজার ৭০তম জন্মদিন উদযাপনের সময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানে পুনাতসাংছু-দ্বিতীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধনও করবেন বলেও জানা গিয়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে চালু হওয়া এই প্রকল্প ভুটানের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করবে এবং ভারতের কাছে বিদ্যুৎ রফতানিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

    ভারত–ভুটান রেল সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতি

    প্রধানমন্ত্রী মোদি সফরের সময় ভারত–ভুটান রেল সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। ভারত-ভুটান দুটি রেলপথের মধ্যে রয়েছে— আসামের কোকরাঝাড় থেকে দক্ষিণ ভুটানের গ্যালেফু পর্যন্ত ৬৯ কিমি লাইন এবং পশ্চিমবঙ্গের বানারহাট থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ভুটানের সামতসে পর্যন্ত ২০ কিমি লাইন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষিত এই দুই প্রকল্প সীমান্তপারের যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কোকরাঝাড়–গ্যালেফু প্রকল্প, যার ব্যয় প্রায় ₹৩,৪৫৬ কোটি, এতে থাকবে ৬টি স্টেশন, ২টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, ২৯টি বড় ও ৬৫টি ছোট সেতু, ২টি পণ্যবাহী টার্মিনাল, ১টি উড়ালপুল এবং ৩৯টি আন্ডারপাস। নির্মাণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে চার বছর। অন্যদিকে বানারহাট–সামতসে প্রকল্পের ব্যয় ₹৫৭৭ কোটি, যেখানে থাকবে ২টি স্টেশন, ১টি বড় সেতু, ২৪টি ছোট সেতু, ১টি ওভারপাস এবং ৩৭টি আন্ডারপাস। এটি তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা।

    পারস্পরিক সংযোগকে আরও গভীর করবে

    বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, এই প্রকল্পগুলো ভারত ও ভুটানের পারস্পরিক সংযোগকে আরও গভীর করবে। তিনি বলেন, “গ্যালেফু হলো ‘গ্যালেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু, যা ভুটানের রাজা স্বপ্নদর্শীভাবে পরিকল্পনা করেছেন। ভারত এই প্রকল্পে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। আসামের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলবে।” সামতসে রেল প্রকল্প সম্পর্কে মিশ্রি আরও জানান, এই শহরটি শিল্পকেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হচ্ছে এবং এখান থেকে ডোলোমাইট, ফেরো-সিলিকন, কোয়ার্টজাইট ও পাথরচিপস ভারতের বাজারে রফতানি করা হতে পারে।

    ভারত-ভুটান সম্পর্কের বিকাশের উপর গুরুত্ব

    সোমবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে ভারত-ভুটান সম্পর্কের বিকাশের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘ভারত-ভুটানের সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে উঠেছে হাজার বছর আগে, যা এখনও আমরা উপভোগ করছি। কারণ ভারতের অনেক আধ্যাত্মিক গুরু ভুটানে বা কখনও কখনও হিমালয়ের অন্যান্য অংশে ভ্রমণ করেছেন। অনেকে ভুটানে বাড়িও বানিয়েছেন।’ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে আরও বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সহযোগিতায়, ভুটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটিকে বজ্রযান অনুশীলনের কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত করা হতে পারে। আগামী দিনে মোদির সহযোগিতায় গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটিকে একটি বজ্রযান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যথেষ্ট সদিচ্ছা রয়েছে এবং এই অংশগ্রহণ থেকে উপকৃত হয়েছে ভুটান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আমাদের রাজাদের এবং বর্তমান রাজার সম্পর্কও অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ।’

     

     

     

     

     

     

  • Supreme Court: স্কুল, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, স্টেশন চত্বর থেকে সরাতে হবে সব পথকুকুর, বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: স্কুল, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, স্টেশন চত্বর থেকে সরাতে হবে সব পথকুকুর, বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পথকুকুরদের নিয়ে বড় নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, খেলাধুলোর মাঠ, রেল স্টেশন থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে নিতে হবে। এই সমস্ত জায়গায় যেসব কুকুরগুলি (Stray Dogs) থাকে তাদের ডগ শেল্টারে পাঠাতে হবে। পথকুকুরদের কামড়ে দিন দিন জনবহুল এলাকায় জলাতঙ্ক রোগের একটা বিরাট প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলিতে দৈনিক রোগী ভর্তির সংখ্যাও উত্তরোত্তর বাড়ছে। বছরে শহরাঞ্চলে জলাতঙ্কে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যাও প্রচুর। তাই সামাজিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই নির্দেশ বলে মনে করছেন সমাজকর্মীদের একাংশ।

    সরানোর পর যেন ফেরত না আনা হয় (Supreme Court)

    শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালতের (Supreme Court) তরফে পথকুকুর মামলায় একটি শুনানিতে বলা হয়েছে সমস্ত জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি থেকে কুকুরদের সরিয়ে নিতে হবে। হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুত সরাতে হবে কুকুর। আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যেই এই পথকুকুরদের ব্যবস্থা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহেতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বিশেষ বেঞ্চ এই পথকুকুরদের সম্পর্কে স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি করেছেন। বিচারপতিরা সহমত হয়ে নির্দেশ দেন, যেসব জায়গা থেকে কুকুরদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সেখানে যেন আবার ফিরিয়ে না আনা হয়। কুকুরদের শেল্টার পয়েন্টে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, সরকার পক্ষকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। সমস্ত কাজের খতিয়ান নির্দেশমতো অ্যামিকাস ক্যুরির (আদালত বন্ধু) মাধ্যমে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে।

    নজরদারি রাখার বিশেষ টিম গঠন

    সম্প্রতি রাজস্থান হাইকোর্ট জাতীয় সড়ক এবং রাজ্য সড়কের এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গরু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আধিকারিক, পুরসভা, সড়ক, পরিবহণ দফতর এই নির্দেশ পালন করবে। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) এদিন রাজস্থানের নির্দেশকে দৃষ্টান্ত রেখে নির্দেশ দেয় সমস্ত কেন্দ্র শাসিত এবং রাজ্য শাসিত অঞ্চলে জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং যত্রতত্র ঘোরাঘুরি করা গরুদের দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। পশু রাখার নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে হেল্প লাইন নম্বর দিতে হবে। প্রয়োজনে হাইওয়ে নজরদারি রাখার বিশেষ টিম গঠন করতে হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিবদের প্রত্যক্ষ ভাবে নজরে রাখতে হবে।

    সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে বেঞ্চ জানিয়েছে, এলাকা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে নিয়ে অ্যানিমাল বার্থ কন্ট্রোল রুল অনুযায়ী, ভ্যাক্সিনেশন এবং স্টেরিলাইজেশন দিয়ে দূরে ডগ শেল্টারে পাঠাতে হবে। পাঠানোর সম্পূর্ণ দায় স্থানীয় প্রশাসনের৷ তবে সমস্ত এলাকা থেকে পথকুকুরগুলিকে নিয়ে যাওয়ার পরে, তাদের ওই সমস্ত জায়গায় আবার কোনও ভাবেই ফিরিয়ে নিয়ে আসা যাবে না৷ আর এমনটা করলে এই সমস্ত এলাকা থেকে পথকুকুর সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যটাই ব্যর্থ হবে৷ তাই নির্দেশ অমান্য করা যাবে না।

    র‍্যাবিসে আক্রান্ত কুকুরগুলিকে ছাড়া হবে না

    উল্লেখ্য চলতি বছরের জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) দিল্লি এবং এনসিআর লাগোয়া এলাকা থেকে সমস্ত পথকুকুরদের সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। কুকুরদের যথাস্থানে রাখার যেমন নির্দেশ দেওয়া হয়, ঠিক একই ভাবে বেশ কিছুকে হত্যার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই রায়ের পর ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। এরপর রায় পুনর্বিবেচনা করে বলা হয় পথকুকুরদের টিকাকরণ এবং নির্বীজকরণ করতে হবে এবং তাদের সরিয়ে ফেলতে হবে। তবে যে কুকুরগুলি র‍্যাবিসে আক্রান্ত বা হিংস্র তাদের ছাড়া হবে না। তাদের শেল্টারে রাখতে হবে। কুকুরকে যেখানে সেখানে খাওয়ানো যাবে না। কুকুরকে খাওয়াতে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। নিয়ম না মানলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ কড়া হবে। কুকুর নিয়ে কোনও রকম অবহেলাকে মেনে নেওয়া হবে না।

    তবে পথকুকুর (Stray Dogs), গৃহহীন পশুদের নজরদারিতে এবং যত্নে কোনও খামতি রাখা যাবে না। তাদের জন‍্য প্রয়োজনীয় সবরকম ব‍্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সব রাজ‍্য এবং কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের মুখ‍্য সচিবদের ৮ সপ্তাহের মধ‍্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে হবে। তবে এই রায়ে কুকুরপ্রমীরা কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন। অপর দিকে পরিবেশ এবং সমাজকর্মীদের মতে জনস্বাস্থ্যকে মাথায় রেখে সব দিকগুলিকে খতিয়ে দেখা ভীষণ দরকার।

  • Supreme Court: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়! সব আইনে গ্রেফতারের কারণ লিখিত আকারে জানানো বাধ্যতামূলক

    Supreme Court: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়! সব আইনে গ্রেফতারের কারণ লিখিত আকারে জানানো বাধ্যতামূলক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যে কোনও আইনের অধীনে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে তার গ্রেফতারের কারণ লিখিত আকারে অবশ্যই জানাতে হবে। শুধু তাই নয় সেই কারণটি এমন ভাষায় জানাতে হবে যা অভিযুক্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা আরও দৃঢ় করে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত বৃহস্পতিবার এমনই এক ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করেছে। মুম্বইয়ের একটি ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলার জেরে বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিআর গাভাই ও বিচারপতি এজি মাসিহের বেঞ্চ এই রায় দেয়।

    কেন এই রায়

    কোনও মামলায় কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলেও বহু ক্ষেত্রে পুলিশ গ্রেফতারির কারণ জানায় না ধৃতকে— এমন অভিযোগ ওঠে। এই নিয়ে বহু মামলা হয়েছে বিভিন্ন আদালতে। এবার তেমনই একটি মামলায় পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বিআর গভাই ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহ–র বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, এখন থেকে গ্রেফতারির দু’ঘণ্টার মধ্যে ধৃতকে তিনি যে ভাষা বুঝতে পারেন, সেই ভাষায় লিখিত ভাবে গ্রেফতারির কারণ জানাতে হবে। একইসঙ্গে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পরে আদালতের কাছে হাজির করার কমপক্ষে দু’ঘণ্টা আগে কারণ জানাতে হবে। না হলে সেই গ্রেফতারি বেআইনি বলে চিহ্নিত হবে।

    কী বলল শীর্ষ আদালত

    শুধু পিএমএলএ বা ইউএপিএ ধারায় নয়, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (পূর্বতন ভারতীয় দণ্ডবিধি) যে কোনও ধারায় গ্রেফতারির ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ প্রযোজ্য। কেন এই নির্দেশ সেই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যা, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হলে তার কারণ যদি ধৃতকে না–জানানো হয়, তা হলে তা তাঁর মৌলিক অধিকার হরণের সামিল। এই নির্দেশ দিতে গিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, গ্রেফতারির কারণ ধৃতের ভাষায় জানানো বাধ্যতামূলক। যদি কোনও ক্ষেত্রে গ্রেফতারকারী অফিসার গ্রেফতারির মুহূর্তে লিখিত কারণ জানানোর অবস্থায় না–থাকেন, তা হলে ধৃতকে ওই সময়েই মৌখিক ভাবে কারণ জানাতে হবে। তারপরে যত দ্রুত সম্ভব, তাঁকে আদালতে পেশ করার অন্তত দু’ঘণ্টা আগে লিখিত ভাবে সেই তথ্য জানাতেই হবে পুলিশকে। আর যদি আদালতে পেশের অন্তত দু’ঘণ্টা আগে লিখিত ভাবে কারণ না–জানানো হয়, তা হলে সেই গ্রেফতারি বেআইনি এবং তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।

    সবাইকে মানতে হবে এই রায়

    মামলাটি শুরু হয় মিহির রাজেশ শাহের পক্ষ থেকে, যিনি অভিযোগ করেন যে তাকে গ্রেফতারের সময় লিখিতভাবে কারণ জানানো হয়নি। বোম্বে হাইকোর্ট বিষয়টি স্বীকার করলেও অপরাধের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে গ্রেফতারকে বৈধ ঘোষণা করে। তবে সুপ্রিম কোর্ট একে বৃহত্তর সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে স্পষ্ট জানায় যে, অপরাধের গুরুত্ব কখনও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের ক্ষতি করতে পারে না। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তার রায়ের কপি সব হাইকোর্টে রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এবং সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সারা দেশে অভিন্নভাবে এই রায় কার্যকর করা হয়। বিচারপতিরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন—কোনও তদন্ত সংস্থা, যেমন পুলিশ, ইডি, সিবিআই বা অন্য কোনও সংস্থা, এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত নয়।

  • Online Betting Scam: বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারি! ধাওয়ান-রায়নার বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    Online Betting Scam: বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারি! ধাওয়ান-রায়নার বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনলাইন বেটিং অ্যাপের (Online Betting Scam) মাধ্যমে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে সুরেশ রায়না ও শিখর ধাওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল ইডি। ভারতের এই দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারের মোট ১১.১৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হল। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। যে ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক সেলেব্রিটি তথা প্রাক্তন ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি।

    কত টাকা বাজেয়াপ্ত করা হল

    অভিযোগ, দুই প্রাক্তন ক্রিকেটার সব কিছু জেনেশুনেই ‘ওয়ানএক্স বেট’ নামক ওই অনলাইন বেটিং (Online Betting Scam) অ্যাপের প্রচারে অংশ নিয়েছেন। আর্থিক দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় ধাওয়ানের সাড়ে চার কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং রায়নার ৬.৬৪ কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ‘ওয়ানএক্স বেট’ অ্যাপটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। ওই অ্যাপের প্রচারমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রথম সারির তারকারা। ওয়ানএক্স বেটের সঙ্গে তাঁদের কী চুক্তি হয়েছিল, কত টাকা নিয়েছেন তাঁরা, তা নিয়ে ইডি জবাব তলব করেছে ২০১১ সালে বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য যুবরাজ সিংকে। সেই তালিকায় রয়েছেন রবিন উথাপ্পাও।

    অভিযুক্ত একাধিক সেলেব

    কেন্দ্র অনলাইন গেমিং অ্যাপ (Online Betting Scam) নিষিদ্ধ করার আগে থেকেই বেশ কয়েকটি বেটিং অ্যাপের কার্যকলাপে নজর ছিল ইডির। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ওয়ানএক্স বেট’ নামের বেআইনি বেটিং অ্যাপটি। সব মিলিয়ে ওই অ্যাপটির মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। বলিউডের ঊর্বশী রৌতেলা আবার ওই ওয়ানএক্স বেট অ্যাপের ভারতীয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলেন। গত অগস্টে এক বার হাজিরাও দিয়েছেন তিনি। এই মামলায় ইডি ডেকেছে অভিনেতা সোনু সুদ-কেও। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, জনসাধারণকে প্রলোভন দেখিয়ে বছরের পর বছর এই সমস্ত বেআইনি বেটিং অ্যাপগুলি বিভিন্ন নামে নিজেদের ব্যবসা বিস্তার করে চলেছে। সেই সঙ্গে মানুষের বিশ্বাস জিততে প্রচারে ব্যবহার করছে সেলেবদের মুখ।

     

     

     

  • Vande Mataram: বঙ্কিমের ‘বন্দে মাতরম’ কীভাবে হয়ে উঠল ভারত স্বাধীনতার মহামন্ত্র, ফিরে দেখা ইতিহাস

    Vande Mataram: বঙ্কিমের ‘বন্দে মাতরম’ কীভাবে হয়ে উঠল ভারত স্বাধীনতার মহামন্ত্র, ফিরে দেখা ইতিহাস

    ড. সুমন চন্দ্র দাস

    পরাধীন ভারতে বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ গান এক মহামন্ত্র হয়ে উঠেছিল। আজ তার সার্ধশতবর্ষে পদার্পণ যাত্রা। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ভারত মায়ের বন্দনাগীত। এই গানেই ব্রিটিশদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল বাঙ্গালি বিপ্লবীরা। ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে ভবানন্দ অশ্রুসিক্ত নয়নে মায়ের পরিচয় দিয়েছেন এই মা হলেন দেশমাতৃকা দুর্গা মাতা। মায়ের স্বরূপ খুব স্পষ্ট-জগদ্ধাত্রী রূপে ‘মা যা ছিলেন’, কঙ্কাল মালিনী কালিকারূপিণী ‘মা যা হইয়াছেন’ আর দশভুজা ত্রম্বকে গৌরী নারায়ণী রূপে ‘মা যা হইবেন’। অষ্টমীর দুর্গা মাই হলেই বঙ্গজননী দেশমাতৃকা।

    বুকে রক্তে নাচন আনবে

    তখন শরৎ কাল, মা দুর্গা মর্তে আসবেন। আকাশে বাতাসে আগমনীর সুর। নৈহাটির কাঁঠাল পাড়ার বাড়িতে বসে বঙ্কিম চন্দ্র আব্লুস কাঠের টেবিলে বসে লিখেছিলেন এই কালজয়ী গান। পরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর গানটি বঙ্গদর্শনে প্রকাশ হয়েছিল। এই গান উপন্যাস আনন্দমঠে প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে। তবে গানের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন অনেকেই। নবীন সেন বলেছিলেন, “আধা সংস্কৃত এবং আধা বাংলায় জগাখিচুড়ি। যাত্রাগানের মতো।” স্বভাবত বঙ্কিম খুব ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন সে কথায়। বঙ্কিম বলেছিলেন, “আচ্ছা ভাই ভাল না লাগলে পড়ো না।” ১৮৯৪ সালে মৃত্যু শোকে শায়িত হয়ে বঙ্কিম নিজের কন্যাকে বলেছিলেন, “একদিন তোরা দেখে নিস আজ থেকে বিশ ত্রিশ বছর পর এই বন্দে মাতরম সারা দেশের মানুষের বুকে রক্তে নাচন আনবে।” আর ঠিক তাই হয়েছিল।

    নতুন ধর্মমত

    ১৮৮৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের বাংলায় ইলবার্ট বিল নিয়ে বাংলার ছাত্র সামজ আন্দোলন করেছিল। সেই সময় সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু তখনও ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি শোনা যায়নি। ১৮৮৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশন বসে। সেখানে ‘বন্দে মাতরম’-কে সঙ্গীত হিসবে গাওয়া হয়। এই গান একই ভাবে স্বদেশ মাতৃকা মূর্তি এবং মহামন্ত্র হিসেবে প্রকাশ পায়। ঋষি অরবিন্দ এই গানকে বলেছিলেন, “বন্দে মাতরম কেবল মাত্র গান নয়, এটা হল জাতির প্রাণবায়ু দিয়ে গড়া তার জাগরণী মন্ত্র। এই মন্ত্র কেবল ভারতের নয়, পরন্তু সমগ্র এশিয়ার স্বাধীনতার উদ্বোধনী মন্ত্র। নতুন ধর্মমত।  The Religion of Partriotism.”

    লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীদের মিছিল

    ১৯০৫ সালের ৭ অগাস্ট সারা বঙ্গ জুড়ে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। ব্রিটিশর নিজেদের শাসনকে আরও সুদূর প্রসারী করতে এই কুচক্র করে। প্রতিবাদে কলকাতার কলেজ স্কোয়ার থেকে টাউন হল পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীদের মিছিল হয়। দৃপ্তে কণ্ঠে গাওয়া হয় ‘বন্দে মাতরম’। রাতারাতি এই ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি সারা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। অরবিন্দ দিয়েছিলেন গানের দেশাত্মবোধক ব্যাখ্যা। তাঁর ‘বন্দে মাতরম’ পত্রিকায় বিস্তারিত আলোচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং গানের স্বরলিপি লিখে দেন। দেশ রাগে গান গান। কলকাতার এপিসি রোডের সাধনা সরকার উদ্যানে প্রথম ত্রিবর্ণ বন্দে মাতরম ও পদ্ম চিহ্ন পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরের বছর জার্মানিতে একই পতাকা উত্তোলন করেন ভিকাজি রুস্তম কামা।

    দেশমাতৃকা মুক্তির জয় গান

    ১৯০৬ সালে ১৪ এপ্রিল বরিশালে কংগ্রেসের অধিবেশন বসে। নেতার লঞ্চে করে নদীর পারে পৌঁছালে স্থানীয় কর্মীরা ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানান। ধীরে ধীরে দেশমাতৃকা মুক্তির জয় গানে পরিণত হয় এই গান। তবে পাল্টা ব্রিটিশ সরকারও এই স্বদেশ মাতার মন্ত্রকে নস্যাৎ করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বঙ্গ প্রদেশে আইন করে ওয়ার ক্রাই ঘোষণা করে। বহুবলধারিণী মন্ত্রে উদ্ভাসিত হয় গোটা দেশের মানুষ। ব্রিটিশ পুলিশ ছোট চিত্তরঞ্জনকে ব্যাপক ভাবে লাঠির আঘাত করেছিল। চিত্তরঞ্জন যত বার আঘাত পান ততবার ‘বন্দে মাতরম’ বলে ওঠেন। এই গানের প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের তামিল কবি সুব্রাহ্মন্যভারতী ‘বন্দে মাতরম’কে তামিল ভাষায় সঙ্গীত রচনা করেন। তিনি বঙ্কিমের এই কালজয়ী গানকে বলেছিলেন, “The Great song which has become the national anthem of United India.”

    হৃদয় মাতানো আত্মোদ্দীপক গান

    ১৯০৬ সাল, ১২ সেপ্টেম্বর ড জি এ গিয়াসর্ন টাইম্‌স্‌ পত্রিকায় ‘বন্দে মাতরম’ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “হিন্দুদের কালী নামে ভয়ঙ্করী দেবতা আছে, ধ্বংস ও সংহার রূপিণী, এই কালী ‘বন্দে মাতরম’।” একই পত্রিকায় ১৩ সেপ্টেম্বর স্যার হেনরি গানের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “ ‘বন্দে মাতরম’ মাতৃভূমির বন্দনা। ইংরেজ নিধন প্রধান নয়।” আবার সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাঁর সম্পাদিত ‘ডন’ পত্রিকায় বলেছেন, “কোন বাঙ্গালির হৃদয় এই দুটি যাদুময় শব্দে দ্রুতবেগে স্পন্দিত হয় না?… হৃদয় মাতানো আত্মোদ্দীপক গান।”

    কাশীতে গান গান সরলা দেবী

    ১৯০৬ সালে কাশীতে কংগ্রেসের অধিবেশন হয়। সেখানে সভাপতিত্ব করেন গোখলে। নিবেদিতা তাঁর ভাষণ লিখে দিয়েছিলেন। চরমপন্থী এবং নরমপন্থীদের মধ্যে সমন্বয় করান। বাংলায় ‘বন্দে মাতরম’ নিষিদ্ধ হলেও কাশীতে ছিল না। গানের প্রথম দুটি স্তবক গাইলেন সরলা দেবী। কিন্তু গানের আগুনে লালায়িত হয়ে ওঠে গোটা ভারত। পরে সম্পূর্ণ গান গাইতে হয় সরলাদেবীকে। পিয়ানো বাজিয়েছিলেন জ্যোতি দাদা। রাজনৈতিক কর্মসূচি হোক বা সভা-সমিতি এই ‘বন্দে মাতরম’ ধীরে ধীরে মহামমন্ত্রে রূপ নিয়েছে। ব্রিটিশ পুলিশের লাঠির আঘাতে, বেয়নেটের মুখে, রাইফেলের গুলিতে নিরস্ত্র ভারতীরা ধ্বনি তুলেছে ‘বন্দে মাতরম’। আন্দামানের সেলুলার জেল, বার্মার মান্দালয়, হিজলি, বক্সারে বহুবলধারিণীর মন্ত্র ফুটে উঠেছে।

    জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা

    ১৯৩৭ সালের ২৮ অক্টোবর কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশনের ওয়ার্কিং কমিটিতে জাতীয় সঙ্গীত হিসেব প্রস্তাব গৃহীত হয় বঙ্কিমের গান। যে কমিটি ‘বন্দে মাতরম’-কে গ্রহণ করেছিল তাঁর মধ্যে ছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। এই ‘বন্দে মাতরম’ গেয়েই ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকি, মাস্টারদা সূর্য সেন, মাতঙ্গিনী হাজরা সহ প্রমুখ বিপ্লবীরা নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন দেশের জন্য। ‘বন্দে মাতরম’ যে মহামন্ত্র আমাদের মধ্যে দিয়ে গেছেন বঙ্কিম তা আজ দেশের শিরায় শিরায় প্রবাহিত হচ্ছে। তাই সার্ধশতবর্ষে আগামী প্রজন্মের কাছে এই মন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা একান্ত প্রয়োজন।

  • Pakistan: পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় ১২০০ বছরের পুরনো মন্দির আবিষ্কার

    Pakistan: পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় ১২০০ বছরের পুরনো মন্দির আবিষ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) সোয়াত উপত্যকায় বহু প্রাচীন একটি মন্দির আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এই বৌদ্ধ মন্দির এক হাজার বছরের বেশি পুরনো ধর্মীয় ইতিহাসকে বহন করে চলেছে। এখানে রয়েছে অসাধারণ কারুকার্যময় স্থাপত্য এবং ঐতিহ্যের শিল্পকর্ম। দেশের খাইবার পাখতুনখোয়ায় (Swat Valley) বহুদিন ধরে এই খনন কার্য চলছিল। এখানে বহু প্রাচীন সভ্যতা সংস্কৃতির চমকপ্রদ আবিষ্কার ও নিদর্শন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সোয়াত এবং তক্ষশীলার মধ্যবর্তীস্থানে মন্দির (Pakistan)

    ইতালির একটি প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থা এই এলাকায় খনন কার্য চালানোর দায়িত্ব গ্রহণ করে। খাইবার (Pakistan) পাখতুনখোয়া প্রত্নতাত্ত্বিকদের সঙ্গে ইতালির এই প্রত্নতাত্ত্বিকেরা কাজ করছেন বলে জানা গিয়েছে। সোয়াতের বারিকোটে আটটি প্রাচীন স্থানের মধ্যে এই মন্দিরটি ভীষণই প্রাচীন। এই জায়গা সোয়াত এবং তক্ষশীলার মধ্যবর্তীস্থানে অবস্থিত। ইতালির প্রত্নতাত্ত্বিক এই মিশনের পরিচালক ড. লুকা বলেছেন, “খনন কার্য চালিয়ে একটি ছোট মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। মন্দির এবং আশেপাশের প্রত্নতাত্ত্বিক স্তরগুলির চারপাশে একটি সুরক্ষা মূলক ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। পরে তাকে অবশ্য সম্প্রসারণ করা হয়েছে সোয়াত নদীর দিকেই।”

    অসংখ্য বুদ্ধ মূর্তি, স্মারক, স্তূপ উদ্ধার

    পাকিস্তনে এই খননের সঙ্গে একটি প্রকল্প রয়েছে যাকে বলা হয় খাইবার পথ প্রকল্প (Swat Valley)। আঞ্চলিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সহ প্রাচীন ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের মতো একাধিক কাজ হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিতে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। গত জুন মাস থেকে এই কাজ শুরু হয়েছে এবং চলবে আগামী তিন বছর পর্যন্ত। প্রাগৈতিহাসিক পর্ব থেকে ইসলামি শাসনের নানা উপকরণ পাওয়া গেলেও মন্দিরের স্থাপত্য সত্যই ব্যতিক্রম। এখনও পর্যন্ত মোট ৫০টি স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে উপাদান হিসেবে রয়েছে প্রস্তর যুগ, আলেকজেন্ডার, গ্রিক যুগ, বৌদ্ধ ধর্ম, হিন্দু রাজবংশ এবং ইসলামি শাসনের উপকরণ। অসংখ্য বুদ্ধ মূর্তি, স্মারক, স্তূপ এবং নানা ব্যবহার সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। তবে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন এই মন্দির একটি বিরাট বৌদ্ধ স্থাপত্যের অংশ ছিল। এখানে প্রচুর শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতেন। এখানে শিক্ষা গ্রহণ করতেন।

  • 150 Years of Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম শব্দ হাজার অনুভূতি দ্বারা আবৃত, খুব সহজে মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এই মন্ত্র’, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    150 Years of Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম শব্দ হাজার অনুভূতি দ্বারা আবৃত, খুব সহজে মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এই মন্ত্র’, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ১৮৭৬। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সংস্কৃত ও বাংলার মিশ্রণে লিখলেন ‘বন্দে মাতরম’। জাতীয়তাবোধে কেঁপে উঠল বাঙালি। উদ্বেলিত হল আসমুদ্র হিমাচল। ১৮৮২ সালে গানটি প্রকাশিত হল আনন্দমঠ উপন্যাসে। আগামী বছর সেই ‘বন্দে মাতরম’ স্তোত্রের দেড়শো বছর পূর্ণ হতে চলেছে। তাই সেই বিশেষ সময়কে আরও বিশেষ করে তুলতে উদ্যোগী হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়া দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্‌’ – এর সার্ধশতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে বর্ষব্যাপী উদযাপনের সূচনা করলেন মোদি। ৭ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে এই উদযাপন চলবে ৭ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত।

    বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা

    ভারতের জাতীয় স্তোত্র-এর দেড়শো বছর উপলক্ষে এদিন বিশেষ উদযাপনের কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনসাধারণের কাছেও আর্জি রাখলেন, ‘বন্দেমাতরম’-এর দেড়শো বছরকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য। এদিন সকাল সাড়ে নটা নাগাদ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী এই উপলক্ষ্যে একটি স্মারক ডাকটিকিট ও স্মারক মুদ্রার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। যে কালজয়ী রচনা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছিল এবং এখনও জাতীয় গর্ব ও ঐক্যবোধ’কে জাগিয়ে তোলে, তার সার্ধশতবর্ষ পূর্তি উদযাপনের সূচনা হল এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি, সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় ‘বন্দে মাতরম্‌’ – এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ সমবেতভাবে গাওয়া হয়। সমাজের সর্বস্তরের নাগরিকরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

    ভারতের ঐক্য ও আত্মসম্মানবোধের জাগ্রত চেতনা

    ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অক্ষয় নবমীর পুণ্যতিথিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই গান লিখেছিলেন বলে মনে করা হয়। তাঁর আনন্দমঠ উপন্যাস যখন বঙ্গদর্শন পত্রিকায় পর্বে পর্বে প্রকাশিত হচ্ছিল, তখন তাতে এই গানটি প্রথম দেখা যায়। পরবর্তীকালে ১৮৮২ সালে আনন্দমঠ উপন্যাসটি বই হিসেবে প্রকাশিত হয়। সেই সময়ে ভারত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলছিল এবং জাতীয় পরিচয় ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছিল। মাতৃভূমিকে শক্তি, সমৃদ্ধি ও দেবত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবে অভিবাদন জানিয়ে এই গানটি ভারতের ঐক্য ও আত্মসম্মানবোধের জাগ্রত চেতনাকে কাব্যিক রূপ দেয়। অচিরেই এটি স্বদেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

    বন্দেমাতরম সভ্যতার ভিত্তি

    অনুষ্ঠান থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের জাতীয় স্তোত্র বন্দেমাতরম সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করে। এই গানের প্রথম লাইনটাই প্রতিটি ভারতীর মনে অনুভূতির জোয়ার তৈরি করতে সক্ষম। কারণ, বন্দেমাতরম এই একটা শব্দই হাজার অনুভূতি দ্বারা আবৃত। যা খুব সহজ ভাবে মাতৃভূমির সঙ্গে আকর্ষণ তৈরি করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ১৪০ কোটি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষমতা রয়েছে বন্দেমাতরমের মধ্যে। যদি কোনও বিপদ আসে, তখন বন্দেমাতরম স্তুতি করুন। এটাই আমাদের দেশাত্মবোধকে জাগিয়ে রাখতে সক্ষম হবে।’

    কংগ্রেসকে নিশানা মোদির

    প্রধানমন্ত্রী মোদির কথায়,  বেদ ভারতীয় সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করার সময় এই অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল যে, পৃথিবী মাতা এবং আমি তার সন্তান। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দেমাতরম’ লিখে মাতৃভূমি এবং তার সন্তানদের মধ্যে সম্পর্ককে একই ভাবে আবেগের জগতের এক মন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সেই সঙ্গে কংগ্রেসকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বলেন, ‘‘ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে দেশের সুরক্ষার সঙ্গে আপস করা হয়েছে। কংগ্রেস ব্রিটিশের দাস ছিল। ওরা বন্দেমাতরমের একটি অংশ বাদ দিয়ে দিয়েছিল। এর মধ্যেই নিহিত ছিল দেশভাগের বীজ।

    বন্দে মাতরম্-এর মূল অনুভূতি হলো ভারত, মা ভারতী

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের ঐক্য, আত্মবিশ্বাস ও অবিচল দেশপ্রেমের বার্তা প্রতিধ্বনিত হয়। তাঁর মতে, বন্দে মাতরম্ কেবল একটি গান নয়, বরং এটি ভারতের আত্মা ও মাতৃভূমির প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও গৌরবের প্রতীক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতবাসীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি আরও বলেন, “বন্দে মাতরম্-এর মূল অনুভূতি হলো ভারত, মা ভারতী। ভারত এক এমন জাতি, যে অতীতের প্রতিটি আঘাত সহ্য করেও আরও উজ্জ্বল রূপে উঠে এসেছে, এবং ঐক্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে অমরত্ব অর্জন করেছে।” আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, “আমাদের এমন একটি জাতি গড়ে তুলতে হবে, যা জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষে থাকবে।”  তিনি আরও বলেন, “যখন শত্রু আমাদের নিরাপত্তা ও সম্মানে সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে আঘাত করার সাহস দেখিয়েছিল, তখন বিশ্ব দেখেছে — ভারত কীভাবে দুর্গার রূপ ধারণ করে নিজের সম্মান রক্ষা করতে জানে।” প্রধানমন্ত্রী মোদির কথায়, “‘বন্দে মাতরম্‌’ ছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কণ্ঠস্বর, এটি প্রতিটি ভারতবাসীর অনুভূতিকে প্রকাশ করেছিল। এই শব্দবন্ধ আজও আমাদের বর্তমানকে আত্মবিশ্বাসে ভরিয়ে তোলে এবং এমন সাহস দেয় যে কোনও লক্ষ্যই আমাদের নাগালের বাইরে নয়।”

  • India: ‘পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাশিয়া থেকে তেল কিনে চলেছে ভারত’, দাবি রুশ রাষ্ট্রদূতের

    India: ‘পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাশিয়া থেকে তেল কিনে চলেছে ভারত’, দাবি রুশ রাষ্ট্রদূতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর হয়েছে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা। তা সত্ত্বেও ভারত (India) এখনও রাশিয়া (Russian Oil Imports) থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের হিসেবে ভারত প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ১৭ লাখ ব্যারেল রুশ তেল কিনছে। এ মাসেও গড়ে এই পরিমাণ তেল কেনা চলছে।”

    রাশিয়ান ফিডস্টক (India)

    আলিপভ বলেন, “অক্টোবরের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, ভারত এখনও বিপুল পরিমাণ রাশিয়ান ফিডস্টক কিনছে। সাম্প্রতিক সময়ের মতোই প্রায় প্রতিদিন ১৭.৫ লাখ ব্যারেল।” তিনি বলেন, “এই সংখ্যাটি আগেও ওঠানামা করেছে, এখনও করছে। কখনও কিছু মাসে বেশি, কখনও কম। তবে গড় প্রায় একই রয়েছে।” ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার পর পরই এমন মন্তব্য করেন আলিপভ (India)।

    নতুন করে নিষেধাজ্ঞা

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রসনেফত এবং লুকোইলের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এরাই একসঙ্গে রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৫৭ শতাংশ উৎপাদন করে। নয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে আগামী ২১ নভেম্বর থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়ান ক্রুড এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর তাদের নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ভারতের বিদেশমন্ত্রক ফের একবার জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশের জ্বালানি নীতি জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ফের বলেন, “ভারতের তেল ক্রয়–নীতি বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি এবং দামের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। দেশের ১৪০ কোটি নাগরিকের জন্য স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই শক্তি–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি জাতীয় দায়বদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নেওয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই দিব্যি রাশিয়া (Russian Oil Imports) থেকে তেল কিনে চলেছে ভারত। তার জেরে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে ভারতকে। তা সত্ত্বেও দেশবাসীর স্বার্থে রাশিয়া থেকে তেল কিনে চলেছে নয়াদিল্লি (India)।

  • 150 Years of Vande Mataram: ‘‘এই শব্দ ভারতীয়দের মধ্যে অনুরণন তৈরি করে’’ বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর উদযাপনে নানা কর্মসূচি রাজ্য বিজেপির

    150 Years of Vande Mataram: ‘‘এই শব্দ ভারতীয়দের মধ্যে অনুরণন তৈরি করে’’ বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর উদযাপনে নানা কর্মসূচি রাজ্য বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি (150 Years of Vande Mataram) উদযাপনে বছরভর নানা কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য বিজেপি। বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শুধু ব্রিটিশ ভারতেই নয়, বর্তমান যুগে দাঁড়িয়েও স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে সীমান্তে সেনা বাহিনী, রাজনৈতিক দল বন্দে মাতরমের কথা উল্লেখ করে। এই শব্দ ভারতীয়দের মধ্যে এক অনুরণন তৈরি করে।’’ শমীকের কথায়, ‘‘যে বন্দে মাতরম ধ্বনি নিয়ে বহু বিপ্লবী ফাঁসির দড়ি নিজের গলায় তুলে নিয়েছিলেন, যে বন্দে মাতরম ধ্বনির জন্য মাতঙ্গিনী হাজরারা নিজের বুকে গুলি টেনে নিয়েছিলেন সেই বন্দে মাতরমের বিরুদ্ধে কংগ্রেস পথে নেমেছিল দিল্লিতে। তারা বলেছিল এই গান মুসলিমদের পক্ষে গাওয়া সম্ভব নয়। যখন কংগ্রেস দিল্লির রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল নামালো তখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল, তিনি প্রতিবাদ করতে পারতেন কিন্তু তা তিনি করেননি।’’

    বন্দে মাতরমকে খন্ডিত করে কংগ্রেস

    শমীক বলেন, ‘‘১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির একটি সভা হয়। তারা সেদিন বন্দে মাতরমকে খন্ডিত করে দিয়েছিলেন। আমরা চাই এই প্রজন্ম সংক্ষিপ্ত বন্দে মাতরম নয়, পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম এর রূপ জানুক। আমাদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং সর্বভারতীয় নেতারা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।’’ শমীক জানান, ৬১ জায়গায় অখণ্ড বন্দে মাতরম গাওয়া হবে। আগামী এক মাস ব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে। এই কর্মসূচিতে হুগলিতে যে বন্দে মাতরম ভবন আছে সেখানে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশল উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনার কাঁঠালপাড়ায় যেখানে বঙ্কিমচন্দ্রের পৈতৃক বাসভবন রয়েছে সেখানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার উপস্থিত থাকবেন, মুর্শিদাবাদের লালগোলায় উপস্থিত থাকবেন রাহুল সিনহা, কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে উপস্থিত থাকবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, উত্তর ২৪ পরগনায় উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।

    ভারত-আত্মার প্রতীক বন্দে মাতরম

    শমীকের কথায়, ‘‘আমরা গর্বিত যে বন্দে মাতরম আমাদের বাংলার মাটিতে লেখা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে সৌগত রায় বলেছিলেন বন্দে মাতরম এর মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা আছে। তৎকালীন বাম জামানার মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন তাঁর ভাবলে আশ্চর্য লাগে কীভাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মত একজন প্রতিভাবান ঔপন্যাসিক আনন্দমঠের মতো উপন্যাস লিখেছিলেন। বন্দে মাতরম ভারতবর্ষের সমস্ত প্রান্তের, সমস্ত ভাষার ব্যবধানকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। আজ সেই বন্দে মাতরামের বিরুদ্ধে যখন রাজনৈতিক দলগুলি প্রতিবাদ জানায় তখন তা অত্যন্ত লজ্জার। তিনি বলেন, ‘‘আনন্দমঠের ইতিহাস এই প্রজন্মের জানা দরকার এবং সেই সঙ্গে বন্দে মাতরমের মধ্যে দিয়ে ভারত-আত্মা, ভারতীয় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের যে প্রতিধ্বনি হয়েছে তার সৃষ্টিকাল, যাত্রা সম্পর্কে জানা দরকার। তাই সারা বছর ব্যাপী আমরা নানাবিধ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সেটিকে উদযাপন করব।’’

LinkedIn
Share