Tag: bangla news

bangla news

  • Daily Horoscope 22 January 2026: ব্যবসায় লাভের যোগ রয়েছে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 22 January 2026: ব্যবসায় লাভের যোগ রয়েছে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) কোনও কাজে সময় নষ্ট হতে পারে।

    ২) চাকরির শুভ যোগাযোগ লাভে আনন্দ।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    বৃষ

    ১) মা-বাবার সঙ্গে বিশেষ আলোচনা।

    ২) ব্যবসায় লাভের যোগ রয়েছে।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    মিথুন

    ১) ব্যবসার কাজে মাথাগরম করবেন না।

    ২) বুদ্ধির ভুলে ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াবেন না।

    কর্কট

    ১) মনের মতো স্থানে বেড়াতে যাওয়ায় আনন্দ লাভ।

    ২) মিথ্যা বদনাম থেকে সাবধান।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    সিংহ

    ১) কর্মক্ষেত্রে উন্নতি শেষ মুহূর্তে গিয়ে আটকে যাওয়ায় মনঃকষ্ট।

    ২) সকাল থেকে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    কন্যা

    ১) ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) পারিবারিক ভ্রমণে বাধা পড়তে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    তুলা

    ১) কোনও নিকটাত্মীয়ের জন্য সংসারে বিবাদ।

    ২) ব্যবসায় বিবাদের যোগ থাকলেও লাভ বাড়তে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃশ্চিক

    ১) দুর্বুদ্ধিকে প্রশ্রয় দেবেন না।

    ২) ব্যবসায় শত্রুর দ্বারা ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) ধর্মে মন দিন।

    ধনু

    ১) ব্যবসার ক্ষেত্রে তর্ক-বিতর্ক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    ২) আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

    ৩) বিবাদ থেকে সাবধান।

    মকর

    ১) কর্মক্ষেত্রে উন্নতির যোগ।

    ২) সকালের দিকে কোনও দুশ্চিন্তা মাথা খারাপ করবে।

    ৩) আরও বেশি ধৈর্য ধরতে হবে।

    কুম্ভ

    ১) বিষয়-সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে গুরুজনের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে বাড়িতে বিবাদের সম্ভাবনা।

    ২) কোনও অতিথির জন্য বাড়িতে আনন্দ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩) প্রিয়জনকে মনের কথা খুলে বলুন।

    মীন

    ১) সকালের দিকে পেটব্যথায় কষ্ট পেতে পারেন।

    ২) কেনাকাটার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ৩) বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 561: “বাগানে আম খেতে এসেছ, কত হাজার ডাল, কত লক্ষ পাতা, এ-সব খপরে কাজ কি? জন্ম-জন্মান্তরের খপর!”

    Ramakrishna 561: “বাগানে আম খেতে এসেছ, কত হাজার ডাল, কত লক্ষ পাতা, এ-সব খপরে কাজ কি? জন্ম-জন্মান্তরের খপর!”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দশম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১লা সেপ্টেম্বর

    জন্মাষ্টমীদিবসে নরেন্দ্র, রাম, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    বলরাম—তিনি বলেছেন যে, নরেন্দ্রের যেমন বুকে পা দিলে (ভাবাবেশ) হয়েছিলো, কই আমার তো তা হয় নাই।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—কি জানো, কামিনী-কাঞ্চনে মন থাকলে ছড়ান মন কুড়ান দায়। ওর সালিসী করতে হয়, বলছে (Kathamrita)। আবার বাড়ির ছেলেদের বিষয় ভাবতে হয়। নরেন্দ্রাদির মন তো ছড়ানো নয়—ওদের ভিতে এখনো কামিনী-কাঞ্চন ঢোকে নাই।

    “কিন্তু (শ্যামাপদ) খুব লোক!”

    কাটোয়ার বৈষ্ণব ঠাকুরকে প্রশ্ন করিতেছেন। বৈষ্ণবটি একটু ট্যারা।

    জন্মান্তরের খপর—ভক্তিলাভের জন্যই মানুষজন্ম

    বৈষ্ণব—মশায়, আবার জন্ম কি হয়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— গীতায় আছে, মৃত্যুসময় যে যা চিন্তা করে দেহত্যাগ করবে তার সেই ভাব লয়ে জন্মগ্রহণ করতে হয়। হরিণকে চিন্তা করে ভরত রাজার হরিণ-জন্ম হয়েছিল।

    বৈষ্ণব—এটি যে হয়, কেউ চোখে দেখে বলে তো বিশ্বাস হয়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—তা জানি না বাপু। আমি নিজের ব্যামো সারাতে পারছি না—আবার মলে কি হয়!

    “তুমি যা বলছো এ-সব হীনবুদ্ধির কথা। ঈশ্বরে কিসে ভক্তি হয়, এই চেষ্টা করো। ভক্তিলাভের জন্যই মানুষ হয়ে জন্মেছ। বাগানে আম খেতে এসেছ, কত হাজার ডাল, কত লক্ষ পাতা, এ-সব খপরে কাজ কি? জন্ম-জন্মান্তরের খপর!”

    গিরিশ ঘোষ ও অবতারবাদ! কে পবিত্র? যার বিশ্বাস-ভক্তি 

    শ্রীযুক্ত গিরিশ ঘোষ দুই-একটি বন্ধু সঙ্গে গাড়ি করিয়া আসিয়া উপস্থিত। কিছু পান করিয়াছেন। কাঁদিতে কাঁদিতে আসিতেছেন ও ঠাকুরের চরণে মাথা দিয়া কাঁদিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ সস্নেহে তাঁহার গা চাপড়াইতে লাগিলেন। একজন ভক্তকে ডাকিয়া বলিতেছেন — “ওরে একে তামাক খাওয়া।”

    গিরিশ মাথা তুলিয়া হাতজোড় করিয়া বলিতেছেন (Kathamrita), তুমিই পূর্ণব্রহ্ম। তা যদি না হয়, সবই মিথ্যা!

    “বড় খেদ রইল, তোমার সেবা করতে পেলুম না! (এই কথাগুলি এরূপ স্বরে বলিতেছেন যে, দু-একটি ভক্ত কাঁদিতেছেন!)

    “দাও বর ভগবন্‌, এক বৎসর তোমার সেবা করব? মুক্তি ছড়াছড়ি, প্রস্রাব করে দি। বল, তোমার সেবা এক বৎসর করব?”

    শ্রীরামকৃষ্ণ—এখানকার লোক ভাল নয়—কেউ কিছু বলবে।

    গিরিশ—তা হবে না, বলো —

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আচ্ছা, তোমার বাড়িতে যখন যাব —

    গিরিশ—না, তা নয়। এইখানে করব।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (জিদ দেখিয়া)—আচ্ছা, সে ঈশ্বরের ইচ্ছা।

    ঠাকুরের গলায় অসুখ। গিরিশ আবার কথা কহিতেছেন, “বল, আরাম হয়ে যাক!—আচ্ছা, আমি ঝাড়িয়ে দেব। কালী! কালী!”

  • Kerala Woman Arrested: হিন্দুর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে ধৃত মুসলিম মহিলা ইনফ্লুয়েন্সার

    Kerala Woman Arrested: হিন্দুর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে ধৃত মুসলিম মহিলা ইনফ্লুয়েন্সার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর বিয়াল্লিশের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার (Sexual Harassment) অভিযোগ তুলে ভাইরাল করে দেওয়া হয় ভিডিও। অভিযোগ, তার পরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই ব্যক্তি। কেরলের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। এই ঘটনায় বছর পঁয়ত্রিশের এক মুসলিম মহিলা ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেফতার (Kerala Woman Arrested) করা হয়েছে। তিনিই ওই ভিডিওটি ভাইরাল করেছিলেন।

    ভিডিও রেকর্ড (Kerala Woman Arrested)

    জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে শিমজিথা মুস্তাফা ও দীপক ইউ একই বাসে যাত্রা করছিলেন। ইনফ্লুয়েন্সার মুস্তাফা একটি ভিডিও রেকর্ড করে দাবি করেন যে দীপক তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছেন এবং সেই ভিডিও তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে আপলোড করেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ২০ লক্ষেরও বেশি ভিউ পায়। ভিডিওতে মুস্তাফা বলেন, “গতকাল আমি একটি পাবলিক বাস থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করেছি, যেখানে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার সম্মতি ছাড়াই আমায় স্পর্শ করেছে। এটি কোনও দুর্ঘটনা বা ভুল বোঝাবুঝি নয়। এটি ছিল আমার যৌন সীমা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন।”

    ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

    তিনি আরও বলেন, “আমি রেকর্ডিং শুরু করি যখন দেখি আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলা অস্বস্তিতে ছিলেন। তাঁর দুষ্কর্ম ভিডিও করা হচ্ছে জেনেও ওই ব্যক্তি আমায় স্পর্শ করতে থাকেন। এটি তাঁর ইচ্ছাকৃত আচরণ, সহমর্মিতার অভাব এবং এই বিশ্বাসের পরিচয় যে তার কোনও সাজা হবে না।” রবিবার, ভিডিওটি রেকর্ড হওয়ার দু’দিন পর, কোঝিকোড়ে নিজের বাড়িতে দীপকের বাবা-মা তাঁদের একমাত্র ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাঁদের দাবি, দীপক নির্দোষ ছিলেন এবং চরম অপমানের শিকার হয়েছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শনিবার, নিজের জন্মদিন-সহ টানা (Sexual Harassment) দু’দিন কিছুই খাননি তিনি। তার পরেই উদ্ধার হয় দীপকের ঝুলন্ত দেহ।

    দীপকের মা বলেন, “আমার সন্তান এই অপমান সহ্য করতে পারেনি। ওর বিরুদ্ধে কখনও কোনও ভুল কাজের অভিযোগ ওঠেনি (Kerala Woman Arrested)।” ঘটনার পর মুস্তাফা ভিডিওটি মুছে দেন এবং পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আরও একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেই ভিডিওটিও পরে ‘প্রাইভেট’ করে দেওয়া হয়। সোমবার পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ওই মহিলা ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। একই সঙ্গে কেরল রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং উত্তর জোনের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (ডিআইজি)-কে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলে (Kerala Woman Arrested)।

  • Pakistan: ভুয়ো পিৎজা হাটের উদ্বোধন করে বিপাকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    Pakistan: ভুয়ো পিৎজা হাটের উদ্বোধন করে বিপাকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া পিৎজা হাট রেস্তরাঁ উদ্বোধন করলেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ। বুধবার সিয়ালকোট ক্যান্টনমেন্টে তিনি ওই পিৎজা হাটের (Fake Pizza Hut) উদ্বোধন করেন বলে দাবি করা হয়েছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলিতে। কিন্তু পাকিস্তানের বহু ঘটনার মতোই এই পিৎজা হাটটিও ছিল ‘ভুয়ো’। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ব্যাপক আড়ম্বর, বড় জনসমাগম, সাজসজ্জা ও গণমাধ্যমের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে খাজা আসিফ ওই ভুয়ো পিৎজা হাটের উদ্বোধন করছেন।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী ছবি (Pakistan)

    খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই পিৎজা হাট পাকিস্তান একটি প্রকাশ্য বিবৃতি জারি করে জানায়, “সংশ্লিষ্ট আউটলেটটি ‘অননুমোদিত’ এবং তারা অন্যায়ভাবে পিৎজা হাটের নাম ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করছে।” খাজা আসিফ যে ভুয়ো রেস্তোরাঁটির উদ্বোধন করেন, সেখানে আসল পিৎজা হাটের মতোই লাল রঙের থিম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল।

    পিৎজা হাট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

    পিৎজা হাট কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ওই রেস্তরাঁটির সঙ্গে ইয়াম! ব্র্যান্ডসের কোনও সম্পর্ক নেই, তারা আন্তর্জাতিক রেসিপি, গুণমান বা নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, পাকিস্তানে পিৎজা হাটের মাত্র ১৬টি অনুমোদিত আউটলেট রয়েছে—এর মধ্যে ১৪টি লাহোরে এবং দুটি ইসলামাবাদে। সিয়ালকোটে তাদের কোনও আউটলেট নেই (Pakistan)।

    দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় মিম-নির্মাতাদের প্রিয় বিষয় হয়ে থাকা খাজা আসিফকে ঘিরে এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে মিমের বন্যা বয়ে গিয়েছে। মার্কিন এই খাবার সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, “আমাদের ট্রেডমার্কের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে” তারা (Fake Pizza Hut) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে (Pakistan)।

  • SIR: বঙ্গের ভোটার তালিকায় মেশানো হয়েছিল জল? এক ব্যক্তির সন্তান সংখ্যা ৩৮৯!

    SIR: বঙ্গের ভোটার তালিকায় মেশানো হয়েছিল জল? এক ব্যক্তির সন্তান সংখ্যা ৩৮৯!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন কলিযুগের ধৃতরাষ্ট্র! ব্যক্তি একজনই। অথচ তাঁর সন্তান-সন্ততির সংখ্যা শত শত। আজ্ঞে হ্যাঁ, এমনই আজবকাণ্ড ধরা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের (SIR) ছাঁকনিতে। জানা গিয়েছে, এ রাজ্যে গত কয়েকটি নির্বাচনে এমন একাধিক উদাহরণ সামনে এসেছে, যেখানে শত শত ভোটারের নথিতে একজন ব্যক্তিকেই তাঁদের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে (Election Commission)। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায়, বিধানসভা কেন্দ্র নম্বর ২৮৩ (আসানসোল জেলার বারাবনি), এক ব্যক্তিকে ৩৮৯ জন ভোটারের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে সোমবার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ (SIR)

    এই ধরনের ভুল তথ্যকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও জয়মাল্য বাগচির  বেঞ্চের সামনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এই তথ্য তুলে ধরেন আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী। তিনি বলেন, “এই ধরনের ভোটারদের যে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য হল নথি সংশোধন করা। সঠিকভাবে পিতা-মাতার নাম নথিভুক্ত করার জন্য প্রাসঙ্গিক নথি পেশ করার দায় সংশ্লিষ্ট ভোটারেরই।”

    নির্বাচন কমিশনের হলফনামা

    নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, বিধানসভা কেন্দ্র নম্বর ১৬৯ (হাওড়া জেলার বালি)-তেও এক ব্যক্তিকে ৩১০ জন ভোটারের বাবা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, সাতজন ব্যক্তিকে ১০০ জনের বেশি ভোটারের অভিভাবক হিসেবে দেখানো হয়েছে, ১০ জনকে ৫০ জন বা তার বেশি ভোটারের অভিভাবক হিসেবে, আরও ১০ জনকে ৪০ জন বা তার বেশি ভোটারের পিতা হিসেবে, ১৪ জনকে ৩০ জন বা তার বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ৫০ জনকে ২০ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ৮,৬৮২ জনকে ১০ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে, ২,০৬,০৫৬ জনকে ছ’জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে এবং ৪,৫৯,০৫৪ জনকে পাঁচ জনের বেশি সন্তানের পিতা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে (SIR)।

    ভারতে গড় পারিবারিক সদস্য সংখ্যা

    হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (২০১৯–২১) অনুযায়ী, ভারতে গড় পারিবারিক সদস্য সংখ্যা ৪.৪। দ্বিবেদী বলেন, “এর অর্থ, গড়ে প্রতিটি পরিবারে ২–৩ জন সন্তান রয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একজন অভিভাবকের সঙ্গে ৫০ জনেরও বেশি ভোটার যুক্ত। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া জরুরি।” নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, “যেসব ক্ষেত্রে ছ’জন বা তার বেশি ভোটার নিজেদের একজন ব্যক্তিকেই অভিভাবক হিসেবে যুক্ত করেছেন, সেসব ক্ষেত্রে ওই সম্পর্কের বৈধতা নিয়ে বাড়তি যাচাই প্রয়োজন। এই কারণে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা নোটিশ জারি করছেন, যাতে যাচাই করা যায় এই মিল সঠিকভাবে হয়েছে কি না এবং কোনও প্রতারণামূলক ম্যাপিং হয়েছে কি না, যা বাদ দেওয়া যায়।”

    ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বিভাগে আরও চারটি কারণে ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেগুলি হল, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখের ভোটার তালিকায় ভোটারের নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় থাকা নামের সঙ্গে না মেলা, ২০২৫ সালের তালিকা অনুযায়ী ভোটারের (Election Commission) বয়স ও ২০০২ সালের এসআইআর তালিকা অনুযায়ী গণনা করা অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হওয়া, ভোটারের বয়স ও অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি হওয়া, ভোটারের বয়স ও দাদু-ঠাকুমার বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম হওয়া (SIR)।

  • Udhayanidhi Stalin: সনাতন ধর্মকে অপমান, মাদ্রাজ হাইকোর্টে তিরস্কৃত তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন

    Udhayanidhi Stalin: সনাতন ধর্মকে অপমান, মাদ্রাজ হাইকোর্টে তিরস্কৃত তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সনাতন ধর্মকে অপমান করা এবং ঘৃণা-ভাষণ দেওয়ার জন্য তামিলনাড়ুর উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনকে চরম ভর্ৎসনা করল মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ।  সেই সঙ্গে বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর বাতিল করা হল। হাইকোর্ট জানিয়েছে, একটি বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া অন্যায়, বিশেষত যখন সেই বক্তব্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি। এই এফআইআরটি দায়ের করা হয়েছিল মালব্যের সোশ্যাল মিডিয়ায় করা কিছু পোস্টের কারণে, যেখানে তিনি ‘সনাতন ধর্ম’ (Sanatana Dharma) নিয়ে মন্তব্য করার জন্য উদয়নিধি স্ট্যালিনের (Udhayanidhi Stalin) কড়া সমালোচনা করেছিলেন।

    মালব্যের প্রতিক্রিয়া আইন লঙ্ঘন করেনি (Udhayanidhi Stalin)

    বিচারপতি এস শ্রীমতী বলেন, “অমিত মালব্য কেবল তামিলনাড়ুর মন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনের একটি প্রকাশ্য বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়া ভুল এবং ক্ষতিকর হবে।” বিচারপতি এও বলেন, “মালব্যের প্রতিক্রিয়া কোনও আইন লঙ্ঘন করেনি এবং মামলাটি চালু রাখলে তা আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার হবে।” লাইভ ল–এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আদালত এই প্রসঙ্গে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আদালত উল্লেখ করেছে, যে মন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি, অথচ সেই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। বিচারপতি বলেন, “এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে যাঁরা আপত্তিকর বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন, তাঁরা প্রায়ই পার পেয়ে যান, কিন্তু যাঁরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    লাইভ ল–এর প্রতিবেদনে আদালতের পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “এই আদালত অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, যাঁরা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সূচনা করেন, তাঁরা সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকেন, কিন্তু যাঁরা সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান, তাঁরা আইনের কঠোরতার মুখে পড়েন। এমনকি আদালতও প্রতিক্রিয়া জানানো ব্যক্তিদের প্রশ্ন করছে, কিন্তু যারা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে না (Udhayanidhi Stalin)।” প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ‘সনাতন বিলোপ সম্মেলন’ (Sanatana Abolition Conference) নামে একটি অনুষ্ঠানে উদয়নিধি স্ট্যালিন সনাতন ধর্মের তুলনা করেছিলেন ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের সঙ্গে (Sanatana Dharma)। একে বিলোপ করার কথাও বলেছিলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল এবং বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল।

    স্ট্যালিনের মন্তব্য

    এই বক্তব্যের পর অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ভাষণের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন এবং মন্ত্রীর বক্তব্যের অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং ভ্রান্ত তথ্য প্রচারের অভিযোগে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অনুষ্ঠানে উদয়নিধি স্ট্যালিন যে বক্তব্য দেন, তার একটি আনুমানিক অনুবাদ নীচে দেওয়া হল, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। “কিছু বিষয়ের বিরোধিতা করা যায় না, সেগুলিকে নির্মূল করতে হয়। আমরা শুধু ডেঙ্গি, মশা, ম্যালেরিয়া বা করোনার বিরোধিতা করতে পারি না, সেগুলি নির্মূল করতে হয়। সনাতনের ক্ষেত্রেও কেবল বিরোধিতা নয়, একে নির্মূল করা উচিত।”

    স্ট্যালিনের এই প্রতিক্রিয়ায় অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন (Sanatana Dharma), “তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের পুত্র ও ডিএমকে সরকারের মন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন সনাতন ধর্মকে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গির সঙ্গে তুলনা (Udhayanidhi Stalin) করেছেন। তাঁর মতে, এর বিরোধিতা নয়, একে নির্মূল করা উচিত। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি ভারতের ৮০ শতাংশ জনসংখ্যাকে গণহত্যার আহ্বান জানাচ্ছেন, যাঁরা সনাতন ধর্ম অনুসরণ করেন।” মালব্য আদালতে জানান, তিনি কেবল প্রকাশ্যে দেওয়া একটি বক্তব্যই শেয়ার করেছিলেন এবং তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁর পোস্টগুলির অপব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (Udhayanidhi Stalin)।

     

  • Sunita Williams: দীর্ঘ ২৭ বছরের কেরিয়ারে ইতি, নাসা থেকে অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশ-কন্যা সুনীতা

    Sunita Williams: দীর্ঘ ২৭ বছরের কেরিয়ারে ইতি, নাসা থেকে অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশ-কন্যা সুনীতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশচারী হিসেবে সুদীর্ঘ কেরিয়ার। একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তাঁর বিচরণ ‘মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকালোর মাঝে’। মহাশূন্যে মোট ৬০৮ দিন কাটিয়ে নজির গড়েছেন তিনি। এবার অবসরের পালা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস দীর্ঘ ২৭ বছরের যাত্রার পর অবসর নিলেন (Sunita Williams)। মঙ্গলবার সুনীতার অবসরের কথা ঘোষণা করল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। গত ২৭ ডিসেম্বর, ৬০ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এক বিবৃতি দিয়ে নাসা তাঁর অবসরের কথা জানায়।

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন

    নাসা জানিয়েছে, বড়দিনের পর পরই, গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে সুনীতার (Sunita Williams Retires) অবসর কার্যকর হয়েছে। অবসর গ্রহণ করেছেন ৬০ বছর বয়সি সুনীতা। নাসার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানুষের মহাকাশ অভিযানে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা। ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণার রূপকার তিনি। পৃথিবীর কক্ষপথের নিম্নভাগে বাণিজ্যিক অভিযানের পথ প্রশস্ত করেছেন’। নাসা কর্তা জ্যারেড আইজ্যাকম্যান তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “মানববাহী মহাকাশ অভিযানে সুনীতা উইলিয়ামস একজন পথিকৃৎ। বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের পথ তৈরি করা থেকে শুরু করে আইএসএস-এ নেতৃত্ব, সব ক্ষেত্রেই তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে যে ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা, তাতেই চন্দ্রাভিযান আর্টেমিস এবং মঙ্গল অভিযানের ভিত্তিস্থাপন হয়েছে। আগামী প্রজন্ম ওঁর থেকে অনুপ্রেরণা পাবে, স্বপ্ন দেখতে শিখবে। অবসরকালে অভিনন্দন জানাই ওঁকে। নাসা এবং দেশের যে সেবা করেছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ”

    শিকড় ভারতেই

    ম্যাসাচুসেটসে জন্ম হলেও সুনীতার (Sunita Williams) শিকড় ভারতের গুজরাটে। সুনীতার বাবা দীপক পান্ডিয়া পেশায় নিউরোঅ্যানাটমিস্ট। জন্ম গুজরাটের মেহসানার ঝুলাসন গ্রামে। পরে তিনি কর্মসূত্রে পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় চলে যান। যদিও ভারতে কখনই নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি তিনি বা সুনীতা। স্লোভেনিয়ার বনি পান্ডিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর আমেরিকা চলে যান দীপক। সেখানেই জন্ম সুনীতার। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সুনীতা মেলবোর্নের ফ্লরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    নাসায় যোগদান

    এক সাক্ষাৎকারে সুনীতা (Sunita Williams) জানিয়েছিলেন তিনি আসলে পশুচিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষে যোগ দিয়েছিলেন মেরিল্যান্ডের ইউএস নেভাল অ্যাকাডেমিতে। সেখানে গিয়েও প্রথম আগ্রহের বিষয় ছিল ডাইভিং। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়েছিলেন একজন পাইলট অর্থাৎ বিমান চালক। সেখানেও তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল জেট বিমান। কিন্তু তাঁর বদলে সুনীতাকে ওড়াতে দেওয়া হয় হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার এবং ফিক্সড-উইং পাইলট হিসাবে ৪০টি বিমানে মোট ৪,০০০ ঘণ্টারও বেশি সময় উড়ানের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে সুনীতার জীবনের পথ বদলে দেয় জনসন স্পেস সেন্টার পরিদর্শন। স্পেস সেন্টার পরিদর্শনের সময়েই মহাকাশচারী জন ইয়ং-এর সংস্পর্শে আসেন মহাকাশ বিজ্ঞানে নজির সৃষ্টি করা এই অ্যাস্ট্রোনট। সেখান থেকেই সুনীতার স্বপ্নে হানা দেয় গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি। মহাকাশচারী প্রশিক্ষণের জন্য নাসার কাছে আবেদন পাঠালেও প্রথমবারে সফল হননি সুনীতা। কিছু যোগ্যতার অভাবে সুযোগ হারান তিনি। কিন্তু হার মানেননি মহাকাশ কন্যা। ততদিনে মহাকাশকেই নিজের মিশন বানানোর জেদ চেপে গিয়েছে তাঁর। পাইলট স্কুলে ফিরে নাসায় যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ১৮ তম মহাকাশচারী দলের অংশ হিসাবে নাসায় যোগ দেন সুনীতা উইলিয়ামস। তার পর বাকিটা ইতিহাস।

    মহাকাশযাত্রার মহা কাহিনী

    সুনীতার (Nasa Astronaut Sunita Williams) মহাকাশযাত্রা শুরু ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে। ডিসকভারি শাটলে ভেসে প্রথমবার মহাকাশে পৌঁছন তিনি। এক্সপিডিশন ১৪/১৫–র ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সেই মিশনে চারটি স্পেসওয়াক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ২০১২ সালে দ্বিতীয় মিশনে ১২৭ দিনের জন্য মহাকাশে ছিলেন এবং ওই অভিযানে তাঁকে মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে তাঁর তৃতীয় ও শেষ মহাকাশযাত্রা ছিল বোয়িং স্টারলাইনারে চড়ে আইএসএস-এ পৌঁছনো। তাঁর সঙ্গী ছিলেন নভশ্চর বুচ উইলমোর। মাত্র ১০ দিনের জন্য পরিকল্পিত সেই মিশন শেষ পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১০ মাস ধরে আটকে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে ২৮৬ দিন পর পৃথিবীতে ফেরেন তাঁরা। দীর্ঘ কর্মজীবনে মোট তিনটি মহাকাশ মিশন সম্পন্ন করেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। মহাকাশে কাটিয়েছেন ৬০৮ দিন (608 days in space)-নাসার ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়। পাশাপাশি ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিটে মোট ৯টি স্পেসওয়াকের রেকর্ড রয়েছে তাঁর, যা যে কোনও মহিলা মহাকাশচারীর নিরিখে সর্বাধিক (Space Mission records)। এমনকি মহাকাশে ম্যারাথন দৌড় সম্পন্ন করা প্রথম মানুষও তিনিই।

    মহাকাশ কন্যার বিদায়ী সম্ভাষণ

    স্বামী মাইকেল এবং পোষ্যদের নিয়ে সংসার সুনীতার (Sunita Williams)। তবে সুনীতা জানিয়েছেন, মহাকাশই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। নিয়মের বেড়াজালে ৬০-এ পা দিতেই অবসরে মহাকাশ কন্যা। তবু আজও তাঁর বুকে বাসা বেঁধে রয়েছে আবারও ব্রহ্মাণ্ডে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন তা তাঁর বিদায়ী সম্ভাষণেই স্পষ্ট। সুনীতা উইলিয়ামস বলেন, ‘‘যারা আমাকে চেনেন তাঁরা জানেন, মহাকাশ আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। নাসাতে কাজ করা এবং তিনবার মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ সম্মানের। নাসায় আমার ২৭ বছরের অসাধারণ কেরিয়ারের মূল কারণ আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া অসাধারণ ভালোবাসা এবং সমর্থন।’’ এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য গবেষণার কাজকে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, আধুনিক প্রযুক্তি টেকনিক, অ্যাডভান্স সায়েন্স চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপগুলিকে সম্ভব করে তুলেছে। আমি আশা করি আমরা যে ভিত্তি স্থাপন করেছি তা এই সাহসী পদক্ষেপগুলিকে আরও সহজ করবে। নাসা-এর পরবর্তী প্রজেক্টগুলি নতুন করে ইতিহাস লিখুক। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব।’’

    ফের মহাকাশে যাওয়ার ইচ্ছা

    নিজের অবসরের প্রসঙ্গে সুনীতা হাসতে হাসতে বলেন, “আমি অবশ্যই আবার মহাকাশে যেতে চাই। কিন্তু আমার স্বামী বোধহয় আমাকে ছাড়বেন না!” ভালোবাসার টানে কিছুদিন ঘরে কাটালেও সুনীতার এই কথায় রয়েছে অন্য ইঙ্গিত? তাহলে আবার কি মহাকাশে পাড়ি জমাবেন সুনীতা? নাসা ছাড়লেও বেসরকারি সংস্থার দরজা তো খোলা। কে বলতে পারে ফের হয়ত মহাবিশ্বে পাড়ি জমাবেন মহাকাশ-কন্যা।  তাঁর রেকর্ড-বুকে হয়তো জুড়ে যাবে সবথেকে বেশি বয়সে মহাকাশে পাড়ি জমানোর নজির!

  • Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাতীয় স্বার্থ কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের একচেটিয়া বিষয় হতে পারে না। এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এদিন তিনি সৌরাষ্ট্র–কচ্ছ অঞ্চলের রাজকোটে অনুষ্ঠিত ‘প্রমুখজন বিচার গোষ্ঠী’তে ভাষণ দেন। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    সংঘের কার্যপ্রণালী (Mohan Bhagwat)

    ভাগবত বলেন, “অবহেলা, বিরোধিতা ও বারবার নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, আরএসএস যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা একমাত্র হিন্দু সমাজের আশীর্বাদেই সম্ভব হয়েছে। যাঁরা জাতির জন্য কাজ করেন, তাঁরা সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকুন বা না থাকুন, আরএসএস তাঁদের নিজেদের স্বয়ংসেবক হিসেবেই মনে করে।” সংঘের কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করে ভাগবত বলেন, “আরএসএস কাউকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা করে না। সংঘের কাজের ভিত্তি হল সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক স্নেহ ও আত্মীয়তার অনুভূতি। শাখা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূল্যবোধ সঞ্চার করা হয় এবং স্বয়ংসেবকদের প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীকালে তাঁরা নিজেদের বিবেক ও বিচক্ষণতার ভিত্তিতে সমাজকল্যাণের সিদ্ধান্ত নেন।”

    হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা

    হিন্দুত্বের ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা। সংঘ ভারতের সংবিধানের সঙ্গে একই দার্শনিক ভিত্তিতে কাজ করে। ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র, এই কারণেই এখানে সব পথ, সম্প্রদায় ও ঐতিহ্যকে স্বাগত জানানো হয় এবং সম্মান করা হয়।” সরসংঘ চালক বলেন, “‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, এই ভারতীয় নীতি সত্যিকারের বিশ্বায়নের প্রতীক। অন্য দেশগুলি বিশ্বকে বাজার হিসেবে দেখে (RSS), আর আমরা বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখি (Mohan Bhagwat)।” প্রশ্নোত্তর পর্বে সরসংঘচালক বলেন, “জেন-জেড প্রজন্মের তরুণরা ‘সাদা খাতা’র মতো এবং তারা গভীরভাবে সৎ। সমাজকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল রপ্ত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভু হতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন মানুষের প্রভু না হয়ে ওঠে, এবং তা জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে।”

    মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তির প্রয়োজন

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রতিবেশী এক দেশে হিন্দু–মুসলিম বিদ্বেষ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে, এমন বিভাজনমূলক চিন্তা ভারতে ছড়াতে দেওয়া যাবে না।” তিনি বলেন, “দুর্নীতি ব্যবস্থার চেয়ে মানুষের মনে বেশি বিদ্যমান, আর মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তি গড়ে উঠলেই দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব।” রাজকোটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে বিশেষ পরিবেশবান্ধব কলম ব্যবহার করা হয়, ব্যবহার শেষে সেগুলি টবে রোপণ করা হলে মাটিতে মিশে গিয়ে উদ্ভিদে পরিণত হয়। এই উপলক্ষে পশ্চিম ক্ষেত্র সংঘচালক জয়ন্তিভাই ভাদেশিয়া, সৌরাষ্ট্র প্রান্ত সংঘচালক মুকেশভাই মালাকান-সহ (RSS) শিল্পপতি, চিকিৎসক, আইনজীবী ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন (Mohan Bhagwat)।

  • SIR in Bengal: সুপ্রিম নির্দেশে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকেই এসআইআর শুনানিতে ডাক নির্বাচন কমিশনের

    SIR in Bengal: সুপ্রিম নির্দেশে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকেই এসআইআর শুনানিতে ডাক নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিতে গিয়ে এবার লজিক্যাল ডেসক্রিপেন্সিতে থাকা ১ কোটি ৩৬ ভোটারকেই শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নামের বানানের ছোটখাটো ভুলের ক্ষেত্রে বিএলওরাই তা ঠিক করে দেবেন। এই ধরনের কেসে শুনানিতে ডাকা হবে না। এমনকি যাদের নামে শুনানির নোটিশ তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সেই নোটিশও স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে ১ কোটি ৩৬ লক্ষকে নয়, শুনানিতে শুধুমাত্র ডাকা হবে ৯৪ লক্ষকে। এর ফলে পিছিয়ে যেতে পারে এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন। কমিশন সূত্রে খবর, ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করা সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা নাও যেতে পারে।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

    শুধু ৯৪ লক্ষকে নয়, এরই মধ্যে লজিক্যাল ডেসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের আবেদন করে আদালতে যায় রাজ্যের শাসক দল। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় লজিক্যাল ডিষ্কৃপেন্সির তালিকা প্রকাশ করার। সূত্রের খবর, সেক্ষেত্রে তালিকা প্রকাশ করার সময় ১ কোটি ৩৬ লক্ষের তালিকায় প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। ফলতো আর ৯৪ লক্ষকে নয়, এই ১ কোটি ৩৬ লক্ষকেই শুনানিতে ডাকা হবে। সুপ্রিম কোর্ট মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে এসআইআর-এর বৈধ নথি হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশনকে।

    কী কী করতে হবে ভোটারকে

    এসআইআর (SIR in Bengal) ঘিরে বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর এসেছে। সেই নিয়ে আপাতত সিইও দফতরের কাছ থেকে কোনও তথ্য চায়নি নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে জেলাশাসকরাও কোনও অভিযোগ জানাননি। শুনানি সম্ভব না হলে, কী করণীয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতো গাইডলাইন ঠিক করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে নথি যাচাইয়ের। ২০০২ সালের তালিকায় নাম রয়েছে যাঁদের, যাঁদের নাম নেই সেই তালিকায়, এবং যাঁদের তথ্য়ে অসঙ্গতি রয়েছে, এমন তিনটি গোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়েছে ভোটারদের। নথি জমা দিতে বিএলএ সহ কাউকে পাঠানো গেলেও, শুনানিতে ভোটারকে থাকতেই হবে। শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বয়সের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে লাগবে সার্টিফিকেটও। রিসিভ কপি সিল লাগিয়ে দিলেই হবে, কোন আলাদা ফরম্যাট নেই। ডমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে এখনও এরাজ্যের জন্য কোন নির্দেশিকা আসেনি।

  • RSS Swayamsevak: ফের খবরে বীরভূমের নানুর, এবার আরএসএসের স্বয়ংসেবককে অপহরণের অভিযোগ

    RSS Swayamsevak: ফের খবরে বীরভূমের নানুর, এবার আরএসএসের স্বয়ংসেবককে অপহরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আতঙ্কের মেঘে ঢেকে গিয়েছে বীরভূমের নানুরের আকাশ। এই সেই জায়গা, যেখানে নৃশংসভাবে সিপিএমের হার্মাদদের হাতে খুন হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন কৃষক (Mamata Govt)। সেই নানুরই ফের চলে এল খবরের শিরোনামে। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বীরভূম জেলার আঙ্গোরা গ্রামের বাসিন্দা, আরএসএসের স্বয়ংসেবক রিন্টু পাল (RSS Swayamsevak)। তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সমালোচকেরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে তৃণমূল কংগ্রেসের ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    আরএসএস কর্মীদের অভিযোগ (RSS Swayamsevak)

    স্থানীয় বাসিন্দা এবং আরএসএস কর্মীদের অভিযোগ, রিন্টুকে তৃণমূল কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা অপহরণ করে জোরপূর্বক একটি দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ভয় দেখানো হয়, করা হয় অপমান। হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রিন্টুর একমাত্র ‘অপরাধ’ আরএসএসের সঙ্গে তাঁর আদর্শগত সম্পর্ক। এটি ভারতের সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত। জানা গিয়েছে, রিন্টুকে যেসব হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি স্পষ্ট ও ভয়াবহ। অভিযোগ, রিন্টুকে জনতার হাতে মারধর খাওয়ানো এবং ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, যদি তিনি আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। প্রাণভয়ের আশঙ্কায় তাঁকে জোর করে আরএসএস থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করার বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তবে (Mamata Govt) তা এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতাকে সামনে আনে—পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে এখন আদর্শগত পরিচয়ই নিপীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে (RSS Swayamsevak)।

    নানুর রয়েছে নানুরেই

    নানুরের বহু মানুষের কাছে এই ঘটনা ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বিরোধী দলের সমর্থক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন আদর্শগত সংগঠন অভিযোগ করে আসছে যে, স্থানীয় তৃণমূল ক্যাডাররা কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতার সম্প্রসারিত হাত হিসেবে কাজ করছে এবং ভয়ের মাধ্যমে আনুগত্য চাপিয়ে দিচ্ছে। সামাজিক বয়কট থেকে শুরু করে শারীরিক হুমকি পর্যন্ত, ভিন্নমতকে অভিযোগ অনুযায়ী ব্যালট বাক্সে পৌঁছানোর অনেক আগেই দমন করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ বারবার সামনে আসা সত্ত্বেও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অস্বীকার, নীরবতা বা নির্বাচনী পদক্ষেপের অভিযোগ উঠছে। সমালোচকদের মতে, এই নীরবতাই স্থানীয় দাপুটে নেতাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ তারা বিশ্বাস করে রাজনৈতিক সুরক্ষা তাদের সমস্ত পরিণতি থেকে রক্ষা করবে।

    আরএসএস নেতৃত্বের বক্তব্য

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে প্রায়ই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। কিন্তু নানুরের মতো ঘটনা কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনে দেয়। বিশ্বাসের জন্য যদি কোনও নাগরিককে অপহরণ করা হয়, তবে স্বাধীনতার অর্থ কী? আর গণতন্ত্রই বা কী, যখন রাজনৈতিক আনুগত্য নির্ধারিত হয় ভয়ের দ্বারা, পছন্দের (RSS Swayamsevak) দ্বারা নয়? জনরোষ আরও বেড়েছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। সমালোচকদের অভিযোগ, শাসক দলের স্বার্থ জড়িত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী (Mamata Govt) বাহিনী দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে চায় না। প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার এই কথিত অবক্ষয় নানুরকে শাসনব্যবস্থার এক সতর্কতামূলক উদাহরণে পরিণত করেছে, যেখানে ন্যায়বিচারের চেয়ে ক্ষমতার প্রাধান্যই বেশি। আরএসএস নেতৃত্ব জানিয়েছেন, প্রশাসনিক উদাসীনতা আর সহ্য করা হবে না। ন্যায়বিচার না মিললে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ আরও জোরদার হবে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা। গণআন্দোলনের ডাক ক্রমশ জোরালো হলেও, দায়িত্বশীল মহল মনে করছে, পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের ওপরেই বর্তায় (RSS Swayamsevak)।

LinkedIn
Share