Tag: bangla news

bangla news

  • Ramakrishna 642: “তুমি বিচার-কর! তুমি কি দেহ, তুমি কি মন, তুমি কি বুদ্ধি; কি তুমি, বিচার কর! শুদ্ধ আত্মা নির্লিপ্ত—সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ

    Ramakrishna 642: “তুমি বিচার-কর! তুমি কি দেহ, তুমি কি মন, তুমি কি বুদ্ধি; কি তুমি, বিচার কর! শুদ্ধ আত্মা নির্লিপ্ত—সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    নবম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৫ই মার্চ

    গুহ্যকথা — ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও তাঁহার সাঙ্গোপাঙ্গ

    ভক্তেরা নিস্তব্ধ হইয়া বসিয়া আছেন। ঠাকুর ভক্তদের সস্নেহে দেখিতেছেন, নিজের হৃদয়ে হাত রাখিলেন — কি বলিবেন —

    শ্রীরামকৃষ্ণ (নরেন্দ্রাদিকে) — এর ভিতর দুটি আছেন। একটি তিনি।

    ভক্তেরা অপেক্ষা করিতেছেন আবার কি বলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— একটি তিনি — আর একটি ভক্ত হয়ে আছে। তারই হাত ভেঙে ছিল — তারই এই অসুখ করেছে। বুঝেছ?

    ভক্তেরা চুপ করিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কারেই বা বলব (Kathamrita) কেই বা বুঝবে।

    কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর আবার কথা কহিতেছেন —

    “তিনি মানুষ হয়ে — অবতার হয়ে — ভক্তদের সঙ্গে আসেন। ভক্তেরা তাঁরই সঙ্গে আবার চলে যায়।”

    রাখাল — তাই আমাদের আপনি যেন ফেলে না যান।

    ঠাকুর মৃদু মৃদু হাসিতেছেন। বলিতেছেন, “বাউলের দল হঠাৎ এল, — নাচলে, গান গাইলে; আবার হঠাৎ চলে গেল! এল — গেল, কেউ চিনলে না। (ঠাকুরের ও সকলের ঈষৎ হাস্য)

    কিয়ৎক্ষণ চুপ করিয়া ঠাকুর আবার বলিতেছেন, —

    “দেহধারণ করলে কষ্ট আছেই।

    “এক-একবার বলি, আর যেন আসতে না হয়।

    “তবে কি, — একটা কথা আছে। নিমন্ত্রণ খেয়ে খেয়ে আর বাড়ির কড়াই-এর ডাল-ভাত ভাল লাগে না।

    “আর যে দেহধারণ (Kathamrita) করা, — এটি ভক্তের জন্য।”

    ঠাকুর ভক্তের নৈবেদ্য — ভক্তের নিমন্ত্রণ — ভক্তসঙ্গে বিহার ভালবাসেন, এই কথা কি বলিতেছেন?

    নরেন্দ্রের জ্ঞান-ভক্তি — নরেন্দ্র ও সংসারত্যাগ

    ঠাকুর নরেন্দ্রকে সস্নেহে দেখিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — চণ্ডাল মাংসের ভার নিয়ে যাচ্ছিল। শঙ্করাচার্য গঙ্গা নেয়ে কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। চণ্ডাল হঠাৎ তাঁকে ছুঁয়ে ফেলেছিল। শঙ্কর বিরক্ত হয়ে বললেন, তুই আমায় ছুঁয়ে ফেললি! সে বললে, ‘ঠাকুর তুমিও আমায় ছোঁও নাই, আমিও তোমায় ছুঁই নাই! তুমি বিচার-কর! তুমি কি দেহ, তুমি কি মন, তুমি কি বুদ্ধি; কি তুমি, বিচার কর! শুদ্ধ আত্মা নির্লিপ্ত — সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ; তিনগুণ; — কোন গুণে লিপ্ত নয়।’

    “ব্রহ্ম কিরূপ জানিস। যেমন বায়ু। দুর্গন্ধ, ভাল গন্ধ — সব বায়ুতে আসছে, কিন্তু বায়ু নির্লিপ্ত।”

    নরেন্দ্র — আজ্ঞা হা।।

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (West Bengal CM) এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে চলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর হিসেবে তাঁর এই উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীকাল ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে শপথ নেবেন।

    সূচনা ও তৃণমূল পর্ব (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরে। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু এরপর ২০২১ সালের বিধানসভার নির্বাচনের আগে নিজের মন্ত্রীসভার পদ আর দায়িত্ব ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। এরপর  নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় কাজ করেন। অবশেষে দুই বার মমতাকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন বিজেপির এই বিধায়ক (West Bengal CM)।

    সাংসদ থেকে মন্ত্রী

    আসুন এক নজরে দেখে নিই তাঁর রাজনৈতিক জীবন –

    ১৯৯৫: রাজনৈতিক সূচনা

    পারিবারিক ঐতিহ্যের হাত ধরে রাজনীতিতে অভিষেক। কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় প্রথম পদার্পণ করেন।

    ১৯৯৯: তৃণমূলের সংগঠক হিসেবে উত্থান

    কংগ্রেস ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। সে বছর লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্রে দলের জয়ের নেপথ্য কারিগরের ভূমিকা পালন করেন শুভেন্দু।

    ২০০১ – ২০০৪: প্রাথমিক চড়াই-উতরাই

    ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুগবেড়িয়া এবং ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বামফ্রন্ট প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন।

    ২০০৬: প্রথম বিধানসভা জয়

    দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

    ২০০৭ – ২০০৮: নন্দীগ্রাম আন্দোলন ও সাংগঠনিক ম্যাজিক

    ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের ভূমি রক্ষা আন্দোলনে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। এর সুফল মেলে ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে, যেখানে তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ বামমুক্ত হয়। ওই বছরই তিনি যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব পান।

    ২০০৯: লোকসভায় জয় ও দিল্লি যাত্রা

    তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে বাম দুর্গ ধসিয়ে দিয়ে বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হন। পাশাপাশি কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

    ২০১১ – ২০১৪: ক্ষমতার কেন্দ্রে পদার্পণ

    রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর মেদিনীপুর অঞ্চলে তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৪ সালে পুনরায় তমলুক থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে এই সময়েই দলের মধ্যে সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে তাঁর কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ২০১৬: মন্ত্রী হিসেবে অভিষেক

    নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। পরিবহণ এবং সেচ দফতরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার সফলভাবে সামলান।

    ২০১৯ – ২০২০: দূরত্ব ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

    দলের অভ্যন্তরীণ রদবদল এবং পর্যবেক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদান করেন।

    ২০২১: নন্দীগ্রামের যুদ্ধ ও বিরোধী দলনেতা

    বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে এক অভাবনীয় জয় হাসিল করেন। ফলস্বরূপ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে বর্তায়।

    ২০২৬: বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন।

    ২০২৬-এর ঐতিহাসিক জয়

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে (West Bengal CM) লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে তিনি হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে।

    বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে লক্ষ্য

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের সরকারের মূল মন্ত্র হবে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং সবকা বিশ্বাস’। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বাংলাকে পুনরায় সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করাই  প্রশাসনের অগ্রাধিকার হবে। বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি যারা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কমিশন গঠন করা হবে। যারা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। আগামী দিনে সংকল্পপত্রের প্রত্যেকটা সংকল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করা হবে।”

    তৃণমূল নেত্রীর একসময়ের প্রধান সহযোগী থেকে আজ তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মসনদে আসীন হওয়া— শুভেন্দু অধিকারীর এই রাজনৈতিক বিবর্তন বাংলার ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

  • Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কথা কম, কাজ বেশি’- পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি তাঁর নামে সিলমোহর দেওয়ার পরই সেই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির নব-নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পরে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য় বিজেপির সংকল্পপত্রে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পূরণ করা হবে। বন্ধ করা হবে অনুপ্রবেশ। নিশ্চিত করা হবে মহিলাদের সুরক্ষা। সেইসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট পেতে হবে বিজেপিকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর, নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব

    রাজ্যে সরকার গঠনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব। সব দুর্নীতির তদন্ত হবে।” তিনি জানান, এই সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অপরাধ বা নারী নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, প্রশাসনিক স্তরে হওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “যাঁরা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।”

    বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ

    এদিন বক্তব্যের শুরুতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য, মঙ্গল সিং সকলকে ধন্যবাদ। মোদিজি জিন্দাবাদ।” এরপরই আবেগঘন সুরে বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি স্মরণ করতে চাই ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। যাঁরা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, তাঁদের সব স্বপ্ন পূরণ হবে।” রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘পরিবর্তন’ এবং ‘ন্যায়বিচার’-এর প্রসঙ্গ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক পুরনো অভিযোগ ও মামলার তদন্তে গতি আসতে পারে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা।

    রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে

    মুখ্যমন্ত্রী যে শুভেন্দুই হচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও খুব একটা সংশয় ছিল না পদ্মশিবিরে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাঁকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, তিনি পর পর দু’বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটের লড়াইয়ে পরাস্ত করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে শুভেন্দু হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। এবার তাঁর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে বসার পালা।

  • India-Iran Relation: বাড়ছে ব্রিকসের গুরুত্ব, চলতি মাসেই ভারতে আসতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

    India-Iran Relation: বাড়ছে ব্রিকসের গুরুত্ব, চলতি মাসেই ভারতে আসতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি মাসেই ভারতে (India-Iran Relation) আসতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সূত্রের খবর, আগামী ১৪-১৫ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতেই তাঁর এই সফর। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা তীব্র সংঘাতের আবহে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান-আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের প্রেক্ষিতে ব্রিকস মঞ্চকে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় করতে চাইছে তেহরান। সূত্রের দাবি, ব্রিকসে যোগদানের পর থেকেই ইরান এই গোষ্ঠীকে “গুরুত্ব” দিয়ে এসেছে এবং বিভিন্ন বৈঠকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে।

    ভারতের প্রতি তেহরানের বার্তা, ব্রিকসের গুরুত্ব

    পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটাই হবে আব্বাস আরাঘচির প্রথম ভারত সফর। জানা গিয়েছে, ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময় ইরান চাইছে এই গোষ্ঠী আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে “গঠনমূলক ভূমিকা” নিক। এর আগেও মার্চ মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথোপকথনে ব্রিকসের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন আরাঘচি। ইরান সরকারের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মতো মঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের গঠনমূলক অবদান রাখা উচিত।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ব্রিকস গোষ্ঠীতে ভারত, রাশিয়া ও চিনের মতো শক্তিধর দেশের পাশাপাশি ইরান নিজেও রয়েছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস কাঠামোয় সংযুক্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবও—যাদের নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তেহরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে। কারণ বর্তমানে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এ বছর নয়াদিল্লিতেই আয়োজিত হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মাঝে তাই নয়াদিল্লির প্রতি তেহরানের এই বার্তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভারত-ইরান আলোচনা

    এই আবহে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সংলগ্ন এলাকায় আটকে থাকা ভারতের ১৩টি জাহাজ নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত ও ইরান কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ১১টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করে বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৩টি এখনও পারস্য উপসাগর এলাকায় রয়েছে এবং তাদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের তেল ও গ্যাস আমদানির বড় অংশ এই সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই রুটের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

  • Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অমিত শাহের বৈঠকের পরই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হল। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতাই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ভবানীপুর আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান কাঁথির ছেলে শুভেন্দু। বর্তমানে তাঁর কাছে রয়েছে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই বিধানসভা আসনই। তবে বিধায়ক হিসেবে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে।

    শুভেন্দুতেই স্বীকৃতি

    বিজেপির বাংলা জয়ে মোদী-শাহ জুটির ক্যারিশ্মা যেমন ম্যাজিক দেখিয়েছে, তেমনই কামাল করেছেন বাংলার ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীও। পরপর দু’বার দুটি বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি এখন ‘জায়ান্ট কিলার’। শুক্রবার সকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছে জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে শুভেন্দুর নামই আগে রেখেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। কলকাতায় আসার আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। এরপর এদিন পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্সম্মতিক্রমে শুভেন্দুকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

    শুভেন্দুর বিপরীতে কোনও নামই ওঠেনি

    জল্পনা ছিলই। শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’’ শুভেন্দুর নেতৃত্বেই আগামী পাঁচ বছর রাজ্য চালাবে নির্বাচিত বিজেপি সরকার। শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর তাঁর হাত পদ্মফুল তুলে দিয়েও সংবর্ধনা জানান অমিত শাহ৷

    কীভাবে বাছা হল পরিষদীয় দলনেতা

    যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল শাহকে। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন পড়শি রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে হবু বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম স্থির হয়েছে। বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে শুভেন্দু এ বার লোক ভবনে যাবেন এবং রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন।

    বাংলার মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ হবে না

    শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর শাহ বলেন, ‘‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সর্বত্র বিজেপি-র সরকার গঠিত হল। শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের অনুসারী সরকার তৈরি হয়েছে।’’ বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভ কামনা জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দুকে অনেকদিন চিনি, তিনি খুব লড়াকু ব্যক্তি। প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন। আশা করি তাঁর নেতৃত্বে সোনার বাংলা গঠিত হবে।’’ নয়া মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়কদের অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কমিউনিস্টরা যা পরিস্থিতি করে গিয়েছিল, মমতা আরও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছিল তার মধ্যে বিজেপি আর আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদির ওপর ভরসা করে বাংলার মানুষ যে বিপুল বিজয় দিয়েছে সেজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমরা পুরো চেষ্টা করব আপনাদের বিশ্বাস ভঙ্গ না হয়। সব বিজেপি কার্যকর্তার দায়িত্ব সোনার বাংলার লক্ষ্য নিয়ে চলুক। সমস্ত দায়িত্ব পালন করুক।’’

    সুরক্ষিত বাংলা গড়ার আশ্বাস শাহ-এর

    দেশের সুরক্ষা প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সীমানা সুরক্ষিত করে পুরো দেশকে সুরক্ষিত করব।’’ দেশে থাকা সব অনুপ্রবেশকারীদের বের করা হবে বলে দাবি করেন তিনি। এও বলেন, গণতন্ত্রে হিংসাকে জায়গা দেওয়া হবে না। পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ প্রসঙ্গে শাহের মন্তব্য,‘‘বাংলা জুড়ে মা-বোনদের অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।’’ কলিতা মাঝি বাংলার সমস্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সকলের প্রতিনিধি বলে অভিহিত করেন। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ-অসম আজ বিজেপির ছাতার তলায় এসে গেল। গুন্ডাগিরি, ভ্রষ্টাচার, দুর্নীতি বন্ধ হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার সুরক্ষিত বাংলা গড়বে। কলা-সাহিত্য-সংস্কৃতি আর শিক্ষার নেতৃত্ব করবে বাংলা। এখানে থিয়েটারে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট তৈরি হবে।

    শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা

    শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড ময়দানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন। থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশের ২০টি রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন। সমস্ত দলকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এককথায় জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান। আর আগামিকাল সেই শপথ অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তাঁর শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।

  • Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী (West Bengal Election 2026) রেশ কাটতে না কাটতেই নিউটাউনের (Newtown BJP Worker) এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপরদিকে মালাদায় বিজেপি কর্মী খুনে এবার ২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিজেপির অভিযোগ দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বিজেপি কর্মীদের।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (Newtown BJP Worker)

    ৫ মে নিউটাউন থানা এলাকায় এক বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায়।  অভিযোগ, তৃণমূল নেতা কমল মণ্ডল এবং তার অনুগামীরা ওই বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের (West Bengal Election 2026) ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত তৃণমূল নেতার নাম কমল মণ্ডল। টেকনো সিটি থানার পুলিশ বুধবার ভোরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মহিলাদের উপর মারধরও করা হয়। তবে ব্যাপক মারধরের কারণেই মধু মণ্ডলের মতো বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    রাজনৈতিক তরজা

    নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। বিজেপির (Newtown BJP Worker) অভিযোগ, জয়লাভের পর তৃণমূল কর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, এটি একটি ব্যক্তিগত বিবাদের ফল এবং আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।

    পুলিশি পদক্ষেপ

    এলাকা শান্ত রাখতে এবং আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ (West Bengal Election 2026) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে নিউটাউন (Newtown BJP Worker) থানার পুলিশ। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় থাকলেও পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী পক্ষ।

    ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা

    অন্যদিকে, মালদা জেলায় এক বিজেপি সমর্থককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওই ব্যক্তির ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়

    বুধবার গভীর রাতে ইংরেজ বাজার পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাদুয়া মোড় এলাকায় হত্যা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বুধবার রাতে কয়েকজন যুবক প্রথমে কিশানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে মহেশপুরের বাগানপাড়া এলাকা থেকে, কিশানের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহের পাশ থেকে একটি বড় ছুরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ বা উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

  • ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি বড়সড় অভিযানে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল পাকিস্তান-সমর্থিত একটি জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস করে সেটিকে ধ্বংস করেছে। অভিযোগ, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অপারেটিভদের মাধ্যমে এই মডিউলটি পরিচালনা করছিল। “গ্যাং বাস্ট অপারেশন ২.০”-এর আওতায় একাধিক রাজ্য থেকে ৯ জন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, এই জঙ্গি মডিউলটি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর) এবং উত্তরপ্রদেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় ছিল বেশ কয়েকটি হিন্দু মন্দিরও।

    দিল্লির ঐতিহাসিক মন্দিরে রেকি, ছবি যায় পাকিস্তানে…

    সূত্রের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজন অভিযুক্ত দিল্লির ওই ঐতিহাসিক মন্দির এলাকায় রেকি চালিয়েছিল। মন্দির চত্বর ও আশপাশের ছবি তুলে তা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, মন্দিরে মোতায়েন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা ছিল। শুধু মন্দির নয়, দিল্লি-সোনিপত হাইওয়ের একটি ব্যস্ত ধাবাতেও গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা থাকায় এই হামলা সফল হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, জনবহুল জায়গাকে টার্গেট করে আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।এছাড়াও হরিয়ানার হিসারের একটি সামরিক শিবিরও জঙ্গিদের নিশানায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই সেনা ছাউনির আশপাশের ভিডিও তৈরি করে সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি থানাকেও টার্গেট তালিকায় রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি।

    পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের অংশ

    বৃহস্পতিবার এই ৯ জনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। মডিউলটির সঙ্গে আইএসআই এবং হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থা। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় বা দিল্লির যে মন্দিরটিকে টার্গেট করা হয়েছিল তার সঠিক নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গোটা নেটওয়ার্কের শিকড় খুঁজে বের করতে তৎপর। ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন, চ্যাট হিস্ট্রি ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে অর্থ জোগান আসছিল, কারা স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষা করছিল এবং আর কোনও ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। জেরা যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    এপ্রিল-মে মাসে আরও জঙ্গির ধরপাকড়

    বৃহস্পতিবারই উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-ও পাকিস্তান-যোগ থাকা একটি জঙ্গি ষড়যন্ত্র ফাঁস করার দাবি করেছে। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম বরাবাঁকির বাসিন্দা দানিয়াল আশরাফ ও গোরক্ষপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণ মিশ্র। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, জীবন্ত কার্তুজ এবং একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতরা পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের নির্দেশে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ছক কষছিল। সাম্প্রতিক গ্রেফতারি ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর আগে ২৪ এপ্রিল আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশ এটিএস। ধৃতরা হল তুষার চৌহান ওরফে হিজবুল্লাহ আলি খান এবং সমীর খান। অভিযোগ, তারা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। অভিযানের সময় ওই দু’জনের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত ‘হাইব্রিড টেরর’ মডিউলের মাধ্যমে স্থানীয় অপরাধী চক্র ও গ্যাংস্টারদের ব্যবহার করে হামলার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ফলে আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • CM Oath Ceremony: থাকবেন মোদি-শাহ, তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারকা সমাবেশ

    CM Oath Ceremony: থাকবেন মোদি-শাহ, তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারকা সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রাজ্যের আসন্ন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান (Cm Oath Ceremony) হবে ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। এই অনুষ্ঠানকে এক অনন্য রূপ দিতে এবং জাতীয় স্তরে বার্তা পাঠাতে বিশাল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি (Bengal BJP) শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং এনডিএ জোটের একাধিক নেতাদের উপস্থিতি থাকবে। সভাস্থলে তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড থাকছে এলাহি আয়োজন। ২৫ শে বৈশাখ, শনিবার হবে শপথ গ্রহণ।

    রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা (Cm Oath Ceremony)

    সচরাচর রাজভবনের লন বা প্রেক্ষাগৃহে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হলেও, এবার তা জনসমক্ষে বিশাল আয়োজনে করার চিন্তাভাবনা চলছে। ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে এই বিশেষ মুহূর্তের (Cm Oath Ceremony) সাক্ষী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। বিজেপি স্বাধীনতার পর এই প্রথম সরকার গড়বে বঙ্গে। ফলে নেতা কর্মী সমর্থক এবং রাজ্যবাসীর জন্য বিশেষ চমক রেখেছে বিজেপি (Bengal BJP)। শনিবার সকাল ১০.৩০টায় কলকাতায় নামবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকার কথা বিজেপি শাসিত বা এনডিএ জোটের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।

    তারকা সমাবেশ ও ভিভিআইপি উপস্থিতি

    এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি শাসিত মুখ্যমন্ত্রীদেরও (Cm Oath Ceremony) আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। একই সঙ্গে এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং নেতারাও বঙ্গ বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণে থাকবেন বলে সূত্রের খবর।

    রাজ্যের মন্ত্রীসাভায় জায়গা পেতে পারেন বেশ কিছু বিজেপি নেতা। তাঁদের মধ্যে রিয়েছেন, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্কর ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্ত, অজিত কুমার জানা, নিশীথ প্রামাণিক, সৌরভ শিকদার, দিলীপ ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, জুয়েল মুর্মু, বঙ্কিম ঘোষ, নমন রাই, সজল ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, সুব্রত ঠাকুর।

    ব্রিগেডে প্রস্তুতি সম্পর্কে দেবজিৎ সরকার বলেন, “ব্যবস্থা আশা করি ভালোই হবে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বাঙালির সরকার, জনতার সরকার, পশ্চিমবঙ্গবাসীর সরকার। বিজেপি বিধায়করা সরকার নিশ্চয়ই চালালেও, এটা মানুষের সরকার। টাইট সিকিওরিটি। কারণ সেদিনের জন্য সারা ভারতের পাওয়ার সেন্টার এখানে।”

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    কলকাতায় ব্রিগেডের ময়দান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে শপথ গ্রহণ (Cm Oath Ceremony) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে তা যেমন শাসক শিবিরের শক্তি প্রদর্শন হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি বিশেষ প্রয়াস হিসেবেও গণ্য হবে। উল্লেখ্য এই ২৫ বৈশাখ এবং শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানকে বড় করে দেখছে বিজেপি (Bengal BJP)। রবীন্দ্রনাথের জন্ম দিনের দিনে বাঙালির আবেগকে কাজে লাগাবে বঙ্গের নতুন সরকার।

    নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি

    প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশাল জনসমাগমের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত প্রস্তুতির (Cm Oath Ceremony) রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সরকারি ঘোষণা আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে জোর চর্চা শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এই পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • Suvendu Adhikari PA: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উদ্ধার দ্বিতীয় বাইক, চিহ্নিত একটি লাল গাড়ি

    Suvendu Adhikari PA: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উদ্ধার দ্বিতীয় বাইক, চিহ্নিত একটি লাল গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari PA) আপ্তসহায়ক এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) হত্যার তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশি তদন্তে এবার একটি লাল রঙের গাড়ি এবং আরও একটি মোটরসাইকেলের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

    তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি (Suvendu Adhikari PA)

    চন্দ্রনাথ হত্যার (Chandranath Rath) তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছেন যে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় একটি লাল রঙের গাড়িকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছিল। পাশাপাশি, পুলিশ আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে, যা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বারাসতে ১১ নম্বর রেলগেটের ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ওই বাইক। চন্দ্রনাথের খুনের সঙ্গে এই বাইকের যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, এটি নিছক কোনও হত্যা নয়। এর পেছনে বড় কারণ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের (Suvendu Adhikari PA) হত্যা কোন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তাই এখন সন্ধান করছে বিশেষ তদন্তকারী দল।

    খুনের মামলা রুজু

    বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে তাঁকে পর পর গুলি করে হত্যা করে একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছিলেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ খুনের মামলা রুজু (Suvendu Adhikari PA) করে তদন্ত শুরু করে। সেদিন রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যমগ্রামে তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সঙ্কটজনক অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি গাড়ির চালক।

    তদন্তে যা পাওয়া গেছে

    • সন্দেহভাজন লাল গাড়ি: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঠিক পরেই একটি লাল রঙের গাড়িকে দ্রুতবেগে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। পুলিশ গাড়িটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ওই লাল গাড়ির কোনও হদিশ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
    • বাইক উদ্ধার: প্রথম থেকেই একটি মোটরসাইকেলের কথা জানা থাকলেও, বর্তমানে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় বাইকটি তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ওই বাইকটি কার এবং কেন সেখানে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
    • নিসান গাড়ি কারা কিনতে চেয়েছিল: ঘটনাস্থলে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মাইক্রা গাড়িটিকে বেচতে দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে, খবর পুলিশ সূত্রে। কারা যোগাযোগ করেছিল গাড়ির মালিকের সঙ্গে, তাঁদের সঙ্গে কি যোগাযোগ ছিল খুনিদের?

    তদন্তে ভিনরাজ্যে পাড়ি পুলিশের একটি দলের

    বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করা হয়। সাত সদস্যের সিট-এর মাথায় রয়েছেন সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক। সেই সঙ্গে রয়েছেন বারাসত পুলিশের সদস্যেরা। তদন্তকারী টিমে রয়েছেন এসটিএফ, সিআইডি-র আধিকারিকদেরও। তদন্তে কোনও ফাঁক না রাখতে মধ্যমগ্রাম থানার আগের আইসি সতীনাথ চট্টরাজকে এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় ইনপুট নিচ্ছেন তদন্তকারীরা, খবর পুলিশ সূত্রে। আততায়ীদের খোঁজে একটি দল ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে।

    কল রেকর্ড ও সিসিটিভি

    চন্দ্রনাথবাবুর (Chandranath Rath) মোবাইল ফোনের শেষ কয়েক ঘণ্টার কল রেকর্ড এবং রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র পেয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের (Suvendu Adhikari PA) পক্ষ থেকেও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। মূল অপরাধীদের ধরতে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।

    একমাস আগেই কি খুনের পরিকল্পনা?

    সূত্রের খবর, সুপারি কিলার নিয়োগ করেই করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে খুন। আনুমানিক এক থেকে দেড় মাস আগে এই খুনের ছক কষা হয়েছে। খুব ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে। আর তাই মাসখানেক আগে থেকেই কার কার সঙ্গে চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) বচসা হয়েছিল, এমন কোনও ঘটনা কিছু ঘটেছিল কি না, যাতে তাঁকে খুন করার প্রয়োজন হতে পারে, এই দিকগুলিও সন্ধান করে দেখা হচ্ছে। এক থেকে দেড় মাস আগে কার বা কাদের চন্দ্রনাথকে খুনের প্রয়োজন পড়ে থাকতে পারে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ভবানীপুরে হারের বদলার জেরে খুন চন্দ্রকান্ত?

    চন্দ্রনাথকে (Chandranath Rath) খুনের পর বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম থেকেই উদ্ধার করা হয় নিসান মাইক্রা গাড়ি। তাতে যে নম্বরপ্লেটটি ছিল, তা ভুয়ো। গাড়ির মালিক শিলিগুড়িতে থাকেন। বিক্রি করার জন্য গাড়ির নম্বর দিয়েছিলেন অনলাইনে। গাড়িটিতে মেলেনি কোনও ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আততায়ীরা গ্লাভস পরে ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হত্যাকারীরা বাইকের ইঞ্জিন নম্বরও ঘষে তুলে দিয়েছিল। দ্বিতীয় বাইকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে ওই নম্বরের ঘষা রয়েছে বলে খবর। এখন বাইকটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে এই হত্যাকাণ্ড ভবানীপুর হারের বদলা বলে মনে করছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই খুনের পিছনে রয়েছে বলে রাজনীতির একাংশের মানুষের দাবি।

  • India Bangladesh Relation: ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল্লির! ৩ হাজার সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে তৎপর ভারত

    India Bangladesh Relation: ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল্লির! ৩ হাজার সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে তৎপর ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী সন্দেহভাজন প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশির পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশকে (India Bangladesh Relation) ফের বার্তা দিল ভারত। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি জানায়, এই যাচাই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বাধা পেয়েছে। বাইরের দেশ থেকে এসে অবৈধ ভাবে ভারতে যাঁরা বাস করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা এবং নিজের দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই ভারতের নীতি। এতে বাংলাদেশের কাছেও সহযোগিতা চাইল বিদেশ মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরানো নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

    বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন

    বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান মঙ্গলবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, ভারত যদি জোর করে কাউকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে, তাহলে ঢাকা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে এমন একাধিক মন্তব্য আমাদের চোখে পড়েছে। অবৈধ বাংলাদেশিদের ভারত থেকে প্রত্যর্পণের মূল বিষয়টির প্রেক্ষাপটে মন্তব্যগুলিকে আমাদের বিচার করতে হবে। এতে অবশ্যই বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।’’ রণধীর জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ২৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে। তার মধ্যে অনেকগুলিই বিবেচনাধীন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ তাদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে বলে আমরা আশা করছি, যাতে ভারত থেকে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যর্পণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।’’ তিনি আরও বলেন, “ভারতের নীতি স্পষ্ট—দেশে অবৈধভাবে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আইন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

    ভারত বেআইনি পথ নেবে না

    বাংলাদেশে যা ‘পুশ ইন’, তা ভারতে ‘পুশ ব্যাক’ হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার পর্বেই বিজেপি বার বার দাবি করেছে, ক্ষমতায় এলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে। তাই পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পরে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-কে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। যদিও ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ (অবৈধবাসী সন্দেহে ফেরত পাঠানো)-এর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছে সে দেশের সরকার। তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিজিবি-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা।

    তিস্তা প্রকল্পেও নজর ভারতের

    এদিন তিস্তা নদী নিয়েও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ ওঠে। জয়সওয়াল জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং জল সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা জানায়, চিন সফরে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বেজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। বুধবার বেজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ভারত বরাবরই তিস্তা প্রকল্পে চিনের সম্পৃক্ততা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। কারণ, তিস্তা নদী একটি কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। পূর্ব হিমালয় থেকে উৎপন্ন তিস্তা নদী সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের সেচ ও জীবিকার ক্ষেত্রে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ঢাকা-বেজিং সহায়তা

    বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা প্রকল্পে চিনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা চেয়েছেন তারেক রহমান সরকারের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার বেজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দুই বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, ‘এক চিন’ নীতি ও রোহিঙ্গাদের ফেরানো-সহ নানা বিষয়ে দু’দেশ একমত হয়েছে। দু’দেশের বিদেশ মন্ত্রকের ১০ দফা ঘোষণা সংবলিত যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে খলিলুরের আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছিল বাংলাদেশে জলাভাবে রুগ্ন হয়ে পড়া তিস্তা নদীতে প্রাণ ফেরানোর প্রকল্পে চিনের সহযোগিতা এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পে সহযোগিতা। ঢাকার তরফে জানানো হয়, তিস্তার ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে চিনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দ্রুত বিনিয়োগকে বাংলাদেশ সরকার স্বাগত জানাবে।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্নতি

    চিন বহু বছর ধরে ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযোগকারী শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে তিস্তা নদী অববাহিকা অঞ্চলের উন্নয়নে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত ২০২৪ সালে তিস্তার জন্য প্রযুক্তিগত ও সংরক্ষণ সহায়তার প্রস্তাব দেয়, যা আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করার জন্য দিল্লির প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে। তবে হাসিনা পরবর্তী সময়ে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জলবণ্টন একটি প্রধান বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নয়াদিল্লি এবং ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কে এক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তারেকের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিএনপির সরকার গঠিত হওয়ার পরে দু’দেশই নিজেদের সম্পর্ক উন্নত করতে উদ্যোগী হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে দীনেশ ত্রিবেদীকে। বাংলাভাষী দীনেশ শুধু রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল সম্পর্কেই নয়, সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক অবহিত। তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করলে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share